কৃষি

  • আলু পচনের দায়ে মুখোমুখি হিমাগার মালিক-চাষি

    আলু পচনের দায়ে মুখোমুখি হিমাগার মালিক-চাষি

    রাজশাহীর বিভিন্ন হিমাগারে সংরক্ষিত আলু পচে নষ্ট হওয়ায় চাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণ এবং হিমাগার ব্যবস্থাপনার ত্রুটিকেই আলু পচনের প্রধান কারণ বলে অভিযোগ করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

    অন্যদিকে হিমাগার মালিকেরা দায়ী করছেন ঘন ঘন লোডশেডিংকে। ফলে নষ্ট আলুর দায় ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখা দিয়েছে।

    চাষিদের অভিযোগ, হিমাগারগুলোর নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও জেনারেটর থাকা সত্ত্বেও মৌসুমের শুরুতে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত আলুর কারণে যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও বাতাস চলাচল না করায় পচন ধরছে।

    তবে হিমাগার মালিকেরা বলছেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে আলু পচন রোধে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এতে প্রতি ঘণ্টায় অতিরিক্ত ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা জ্বালানি খরচ হচ্ছে।

    কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৩৯টি হিমাগার রয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি সচল। এসব হিমাগারে মোট ৪ লাখ ৩৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। তবে এবার উৎপাদন বেশি হওয়ায় অনেক হিমাগারে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মৌসুমের শুরুতে রাজনৈতিক নেতাদের চাপেও কিছু হিমাগার অতিরিক্ত আলু নিতে বাধ্য হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

    তানোর উপজেলার তালন্দ এলাকায় অবস্থিত তামান্না স্পেশাল কোল্ড স্টোরেজ থেকে প্রতিদিন গাড়িভর্তি করে পচা আলু বের করা হচ্ছে। সেখানে আলু সংরক্ষণ করা ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু লোড নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে লোডশেডিংয়ের কারণে আলু ঘেমে পচে যাচ্ছে। পচে যাওয়া আলু ফেলে দিতে হচ্ছে।’

    রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী বলেন, ‘লোডশেডিংয়ে তেমন সমস্যা হচ্ছে না। হিমাগার মালিকদের অব্যবস্থাপনার কারণেই আলু পচছে। মৌসুমের শুরুতে অতিরিক্ত আলু নেওয়ায় এখন সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনায় সমস্যা তৈরি হয়েছে।’

    সংগঠনটির সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, ‘ওভারলোডিংয়ের কারণে আলু পচে যাচ্ছে। একটি হিমাগারে বছরে ২৫ থেকে ৩০ বার আলুর অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়। এ সময় আলু বের করে বাতাস দেওয়াও প্রয়োজন। এতে অতিরিক্ত খরচ হয়। কিন্তু ধারণক্ষমতার বেশি আলু থাকায় অনেক হিমাগার এবার এ প্রক্রিয়া ঠিকভাবে করতে পারছে না।’ডনি আরও বলেন, ‘রাজশাহীর আলাই বিদিরপুরে রহমান ব্রাদার্স-১ কোল্ড স্টোরেজের ধারণক্ষমতা ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেট্রিক টন। অথচ সেখানে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে।’

    এভাবে জেলার প্রায় সব হিমাগারেই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    তবে রাজশাহী কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক ফজলুর রহমান বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতে চাপের কারণে কিছু হিমাগার অতিরিক্ত আলু নিতে বাধ্য হয়েছিল। তবে হিমাগার ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না এবং এ কারণে আলু নষ্ট হওয়ার কথাও নয়।’

    লোডশেডিংয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত হিমাগার ঠাণ্ডা থাকে। এরপরও বিদ্যুৎ না এলে জেনারেটর চালাতে হয়। প্রতি ঘণ্টায় জেনারেটর চালাতে অতিরিক্ত ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। প্রতিদিন এক থেকে দুই ঘণ্টা জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি হিমাগারকে মাসে ২৫ থেকে ২৮ লাখ টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়।’

    তাই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান তিনি।

    রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার রমেন্দ্র চন্দ্র রায় বলেন, ‘গত বুধবার থেকে লোডশেডিং কমে গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি ভালো। হিমাগারগুলোতে সমস্যা হচ্ছে এমন অভিযোগ জানিয়ে কেউ ফোন করেননি।’

    কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলেও হিমাগারগুলোতে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয় বলেও জানান তিনি।

    এদিকে আলু পচে ক্ষতিগ্রস্ত চাষি ও ব্যবসায়ীরা বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নষ্ট আলুর ক্ষতিপূরণ নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

  • সার সংকটে কৃষকের কাহিল অবস্থা, উৎপাদন ব্যাহত

    সার সংকটে কৃষকের কাহিল অবস্থা, উৎপাদন ব্যাহত

    কয়েকদিন ধরে চলা সার সংকট এখনো কাটেনি। মাঠপর্যায়ে চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না কৃষক। এতে কাহিল অবস্থা তাদের, কৃষি উৎপাদনে পদে পদে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। চলমান এ সার সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে চলতি বছরের আমন উৎপাদনে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উৎপাদন কম হলে সরকারের আমদানিনির্ভরতা বাড়বে।

    এদিকে সার সংকট পরিস্থিতি উত্তরণে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) তদারকি জোরদারের নিদের্শনা দিয়ে গত শনিবার কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। এদিন উচ্চপর্যায়ের আরেকটি তদারকি কমিটিও গঠন করেছে মন্ত্রণালয়।সূত্র জানায়, ইউরিয়ার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নন ইউরিয়ার (টিএসপি ও ডিএপি) তীব্র সংকট চলছে। রোপা আমন ও বীজতলার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য ইউরিয়ার সঙ্গে ওই দুটি সারের যেকোনো একটি মিশিয়ে কৃষিজমিতে ব্যবহার করেন কৃষক। তাদের যুক্তি—এর ফলে ফসলের উৎপাদন বাড়ে। এ কারণে টিএসপি ও ডিএপির জন্য লাইনে দাঁড়াচ্ছেন তারা। কিন্তু বাড়তি দামেও মিলছে না ওই দুটি সার। ফলে ফসল উৎপাদনে এর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন খোদ কৃষকই।

    কুড়িগ্রামের আদিতমারীর কৃষক রোকনুজ্জামান আমার দেশকে বলেন, টিএসপি ও ডিএপি সার লাইনে দাঁড়িয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলার বলছেন, তাদের সরবরাহ করা হচ্ছে না। অথচ ইউরিয়া সারের প্রতি বস্তা ১,৩৫০ টাকা (প্রতি কেজি ২৭ টাকা), টিএসপি সার ১,৩৫০ টাকা (প্রতি কেজি ২৭ টাকা) এবং ডিএপি সার ১,০৫০ টাকা (প্রতি কেজি ২১ টাকা)। কিন্তু কিনতে গেলে বলা হচ্ছে সার নেই। বস্তাপ্রতি ৫০০-৭০০ টাকা বেশি দিলেও চাহিদার চেয়ে কম দেওয়া হচ্ছে। রোপা আমনে বীজতলার জন্য ইউরিয়ার বাইরে অন্য কোনো সারের চাহিদা থাকে না।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কুড়িগ্রামের কৃষক আলম অভিযোগ করে আমার দেশকে বলেন, সার দিতে পারছে না বলেই ওই অজুহাত দাঁড় করানো হচ্ছে। ইউরিয়ার সঙ্গে নন ইউরিয়া মিশিয়ে জমিতে দেওয়া হলে মাটির উর্বরতা বাড়ে এবং স্বাভাবিকের চেয়ে ফসল বেশি উৎপাদন হয়। টিএসপি ও ডিএপির সংকট থাকায় ইউরিয়ার সঙ্গে পটাশ জাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে জমিতে ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছি।

    মেসার্স আজমেরী ট্রেডাসের মালিক (সার ডিলার) আজমীর আলম পলাশ আমার দেশকে বলেন, সরকার থেকে মাসের প্রথমদিকে সার সরবরাহ করা হয়। এটা ১৫ দিন পর্যন্ত কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী দেওয়া যায়। এরপর থেকে সারের সংকট তৈরি হয়। এখন কিছুটা ক্রাইসিস রয়েছে। বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, অনেকেই আমাদের পরিচিত। এ সম্পর্কের কারণে দৈনিক কিছু কিছু সার কেনেন। দেখা যায়, এখান থেকে সরকারি মূল্যে সার কিনে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করেন। এর দায় আমাদের না।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোপা আমন ও এর বীজতলার জন্য ইউরিয়ার প্রয়োজন হয়। এর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে, কিন্তু এ সময়ে টিএসপি ও ডিএপির দরকার নেই। কিন্তু কৃষকরা ওই দুটির জন্য চাহিদা দিচ্ছেন। এতে মাঠপর্যায়ে সার সংকট নিয়ে হইচই পড়েছে। এ হযবরল অবস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, এজন্য দায়ী ডিলাররা।

    বতর্মান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার সার ডিলার নিয়োগে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এর আলোকে ডিলার নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়ায় পুরোনো ডিলাররা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করছে। এর সঙ্গে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য রাজনৈতিক দলীয় প্রার্থীরাও যোগ দেওয়ায় সংকট প্রকট হয়েছে।

    রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, রবি মৌসুমে টিএসপি ও ডিএপির চাহিদা থাকে। এ সময়ে ইউরিয়ার চাহিদাও থাকে। সারের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে, কিন্তু কিছু ডিলার সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্তিতিশীল করে তুলেছে। এতে ভীত হয়ে কৃষক আগাম টিএসপি ও ডিএপি কিনতে ভিড় করছেন। ফলে নন ইউরিয়া সারের সরবরাহের চেয়ে চাহিদা বেশি আসায় তাদের প্রত্যাশিত সার পাচ্ছেন না কৃষক।

  • বন্ধ হ্যাচারিতে কাগজে রেণু উৎপাদন

    বন্ধ হ্যাচারিতে কাগজে রেণু উৎপাদন

    ‘কাজীর গরু কিতাবে আছে, গোয়ালে নেই’Ñপ্রবাদটির বাস্তব উদাহরণ যেন ঝিনাইদহের শৈলকূপা মিনি মৎস্য হ্যাচারি। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে হ্যাচারিটির রেণু উৎপাদন কার্যক্রম। অথচ সরকারি নথিতে চলতি বছরও সেখানে ৩৭ কেজি রেণু উৎপাদনের তথ্য দেখানো হয়েছে। এ বাবদ ব্যয় দেখানো হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। শুধু তাই নয়, গত তিন বছরে হ্যাচারিটির বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে সরেজমিনে গিয়ে হ্যাচারিটিতে কোনো উৎপাদন কার্যক্রমের দেখা মেলেনি।


    মাছের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৯৮২ সালে শৈলকূপা উপজেলা শহরের কোর্টপাড়ায় নির্মাণ করা হয় মিনি মৎস্য হ্যাচারিটি। দীর্ঘদিন অচল থাকায় বর্তমানে স্থাপনাটি অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। হ্যাচারির অফিস কক্ষেই পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন দুই বছর আগে অবসরে যাওয়া এক কর্মচারী।
    স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর ধরে হ্যাচারিটিতে কোনো রেণু উৎপাদন হয়নি। অথচ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর সেখানে ৩৭ কেজি রেণু উৎপাদন হয়েছে। এর বিপরীতে খরচ দেখানো হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। ফলে সরকারি নথিতে দেখানো উৎপাদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।


    স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে হ্যাচারিতে কোনো উৎপাদন কার্যক্রম আমরা দেখতে পাইনি। হ্যাচারিটি চালু হলে এলাকার মাছচাষিরা উপকৃত হতেন। কিন্তু এতদিন বন্ধ থাকার পরও যদি সরকারি কাগজে উৎপাদন দেখানো হয়, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করা দরকার।’


    আরেক বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘হ্যাচারিটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। নিয়মিত উৎপাদন হলে এখানে কর্মচাঞ্চল্য থাকার কথা। অথচ বাস্তবে তেমন কোনো কার্যক্রম নেই। সরকারি অর্থ কোন খাতে কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, সেটিও জনগণের সামনে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।’
    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে হ্যাচারিটির সংস্কার, শ্রমিক মজুরি, মৎস্যখাদ্য, কম্পিউটার সামগ্রীসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব অর্থ কীভাবে এবং কোথায় ব্যয় করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


    স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে উৎপাদন কার্যক্রম না থাকলেও কাগজপত্রে উৎপাদন দেখিয়ে সরকারি অর্থ ব্যয়ের ঘটনা ঘটছে। তারা হ্যাচারিটির বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
    ঝিনাইদহ সিপিবির সভাপতি স্বপন বাগচি বলেন, ‘সরকারি অর্থ জনগণের অর্থ। কোনো প্রকল্প কার্যকর না থাকলে সেখানে বছরের পর বছর অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। হ্যাচারিটির বরাদ্দ, ব্যয় এবং কাগজে দেখানো রেণু উৎপাদনের বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র বের করা প্রয়োজন।’


    এদিকে সরকারি নথিতে রেণু উৎপাদনের তথ্য থাকার বিষয়ে শৈলকুপা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, ‘হ্যাচারিটিতে নতুন করে রেণু উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ তবে গত কয়েক বছরে হ্যাচারিটির জন্য কী পরিমাণ বরাদ্দ এসেছে এবং কীভাবে তা ব্যয় হয়েছেÑএ বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।


    মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৮২ সালে নির্মাণের পর হ্যাচারিটির কার্যক্রম ১৯৮৬ সালের দিকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০১৫ সালে মৎস্য বিভাগ আবারও কিছুদিনের জন্য রেণু উৎপাদন কার্যক্রম চালু করে। কিন্তু জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার অভাবে সেই কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে কার্যত বন্ধ রয়েছে হ্যাচারিটির সব কার্যক্রম।


    একদিকে দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে কোনো উৎপাদন কার্যক্রম নেই, অন্যদিকে সরকারি নথিতে রেণু উৎপাদনের তথ্য এবং বিভিন্ন খাতে বরাদ্দÑএমন পরিস্থিতিতে সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হ্যাচারিটির গত কয়েক বছরের বরাদ্দ, ব্যয় ও কাগজে দেখানো রেণু উৎপাদনের তথ্য তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

  • মণপ্রতি পাটের দাম কমেছে হাজার টাকা

    মণপ্রতি পাটের দাম কমেছে হাজার টাকা

    মাঠজুড়ে পাট কাটা ও জাগ দেওয়ার ব্যস্ততা। কোথাও আঁশ ছাড়ানো হচ্ছে, কোথাও হাটে উঠছে নতুন পাট। চলতি মৌসুমে নড়াইলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে, আবহাওয়াও ছিল অনুকূলে। ফলে ফলন ভালো হওয়ার আশা করছেন কৃষকেরা। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার সময়ই বাজারদর কমে যাওয়ায় সেই আশায় ভাটা পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হিসাবে, মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাটের দাম মণপ্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকা কমেছে। বর্তমানে মাঝারি মানের পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা মণ দরে।

    নড়াইল কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ২৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আবাদ হয়েছে ২৩ হাজার ৫১৭ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭ হেক্টর বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে।
    উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পাটের আবাদ হয়েছে লোহাগড়ায়। সেখানে ১২ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। নড়াইল সদরে ৬ হাজার ৯৪২ হেক্টর এবং কালিয়ায় ৪ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।

    জেলার বিভিন্ন বিল ও মাঠে এখন পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজ চলছে। একই সঙ্গে নলদী বাজার, শিয়ারব হাট, মিঠাপুর, লাহুড়িয়া, বড়দিয়া, মাইজপাড়া, লোহাগড়া, কালিয়া ও তুলারামপুরসহ বিভিন্ন হাটে নতুন পাটের কেনাবেচা শুরু হয়েছে।
    কৃষকেরা বলছেন, পাট চাষে জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, শ্রমিক, নিড়ানি, কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর পেছনে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়। ভালো ফলন হলেও বাজারদর কমে যাওয়ায় সেই খরচ তুলে আনা নিয়ে এখন শঙ্কায় তাঁরা।

    এড়েন্দা মোকামের ফড়িয়া সুজন ও মিরাজ ফকিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই সপ্তাহ আগে যে দরে পাট কেনাবেচা হয়েছে, বর্তমানে তা মণপ্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকা কমেছে। এখন মাঝারি মানের পাট ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।
    নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া গ্রামের কৃষক দীপক রায় বলেন, ‘এ বছর পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। যদি পাটের বাজারদর ঠিক না থাকে, তাহলে আমাদের বাঁচার আর কোনো পথ নেই। সরকারের কাছে আবেদন, পাটের দাম সরকারিভাবে নির্ধারণ করা হোক।’

    পাটের আঁশের দাম কমলেও পাটকাঠি বিক্রি করে কৃষকেরা কিছুটা বাড়তি আয় করছেন। জেলার বিভিন্ন হাটে পাটকাঠিরও কেনাবেচা চলছে।
    কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা নড়াইলে পাটকাঠি কিনতে আসছেন। এসব পাটকাঠি পানবরজে ব্যবহার করা হয়।
    ফলে পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিও কৃষকের জন্য বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। তবে পাটের প্রধান উৎপাদিত পণ্য আঁশের দাম কমে যাওয়ায় সামগ্রিক হিসাবে কৃষকের প্রত্যাশিত আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
    নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আরিফুর রহমান বলেন, ‘এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সময়মতো উন্নতমানের বীজ, সার ও কারিগরি পরামর্শ দেওয়ায় জেলায় পাটের আবাদ ও ফলন ভালো হয়েছে।’
    তিনি জানান, পাটের গুণগত মানোন্নয়নে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

  • বগুড়ায় হাঁস পালন করে লাখপতি

    বগুড়ায় হাঁস পালন করে লাখপতি

    প্রায় ১২ বছর আগে হাঁস খাওয়ার জন্য গ্রামের এক প্রতিবেশীর কাছে হাঁস কিনতে গিয়েছিলেন ফজলুর রহমান। কিন্তু প্রতিবেশী হাঁসটি বিক্রি করতে রাজি হননি। সেই না-পাওয়ার রাগ ও ক্ষোভ থেকেই সিদ্ধান্ত নেন, নিজেই হাঁস পালন করবেন। একদিনের সেই জেদই বদলে দিয়েছে তার জীবন।

    বর্তমানে মাত্র ২৪ শতাংশ জমিতে প্রায় ৩ হাজার হাঁস পালন করছেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের দারুগ্রাম এলাকার মফিজ উদ্দিনের ছেলে ফজলুর রহমান। তার খামারে প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার ডিম। ডিম বিক্রিসহ হাঁসের বিভিন্ন প্রকল্প থেকে তিনি ভালো আয় করছেন।

    সরেজমিনে রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে দারুগ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে ফজলুর রহমানের হাঁসের খামার। ২৪ শতাংশ জমির একাংশে রয়েছে পুকুর, অন্য অংশে তৈরি করা হয়েছে হাঁস পালনের ঘর। সীমিত জায়গার মধ্যেই চলছে প্রায় ৩ হাজার হাঁসের পরিচর্যা।

    ফজলুর রহমান জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি নিজেই হাঁসগুলোকে ধান, শামুক ও ফিড খাওয়ান। ধান কাটা ও মাড়াই শেষ হয়ে জমি ফাঁকা থাকলে হাঁসগুলো সেখানে ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে বাড়তি খাবারের খরচ কিছুটা কমে যায়। তবে হাঁসগুলো মাঠে ছেড়ে দিলে দেখভালের জন্য একজন সহযোগী রাখতে হয়।

    তিনি বলেন, তার খামার থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার ডিম উৎপাদন হয়। প্রতিদিনের ডিম বিক্রি করে প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ টাকা পাওয়া যায়। এ হিসাবে মাসে ডিম বিক্রি থেকেই প্রায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা আয় হয়। এ ছাড়া প্রতি ছয় মাসে একটি প্রকল্প শেষ হলে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা আয় হয়।

    একসময় ফজলুর রহমানের সংসারে অভাব-অনটন ছিল। হাঁস পালন শুরু করার পর সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে হাঁস পালন করে এখন তিনি স্বাবলম্বী।

    ফজলুর রহমান জানান, হাঁস পালনের জন্য দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাই তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসা। এখন পর্যন্ত প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সহায়তা ছাড়াই নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে হাঁসের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করে আসছেন তিনি।

    তার এই দক্ষতার কথা আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখন হাঁসের চিকিৎসা ও পরামর্শ নিতে তার কাছে আসেন। তার সফলতা দেখে এলাকার বেকার যুবকদের মধ্যেও হাঁস পালনে আগ্রহ বাড়ছে।

    শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নিয়াজ কাযমীর রহমান বলেন, “এই উপজেলায় প্রায় ৫০ জন হাঁসের খামারি রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে এ সংখ্যা কম-বেশি হয়। খামারিদের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে রোগবালাইয়ের কারণে কোনো খামারি ক্ষতিগ্রস্ত না হন।”

  • পানের জমিতে চুইঝাল চাষের নতুন সম্ভাবনা

    পানের জমিতে চুইঝাল চাষের নতুন সম্ভাবনা

    একসময় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী রান্নার মসলা হিসেবে পরিচিত ছিল চুইঝাল। এখন সেই চুইঝাল ঢুকে পড়ছে রাজশাহীর কৃষকের মাঠেও। পরীক্ষামূলক চাষের ধাপ পেরিয়ে রাজশাহী ও নাটোরে শুরু হয়েছে বাণিজ্যিক চাষ। দাম ভালো, বাড়তি জমির প্রয়োজন নেই এবং পানের মতোই চাষপদ্ধতি হওয়ায় ফসলটি নিয়ে আশাবাদী কৃষি বিভাগ।

    রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের চান্দোপাড়ায় ইতিমধ্যে বাণিজ্যিকভাবে চুইঝাল চাষ করছেন কৃষক আব্দুর রশিদ মোল্লা। বাড়ির পাশে আমগাছের নিচে প্রায় ১০ শতক জমিতে চুইঝালের গাছ লাগিয়েছেন। জমিতে গাছগুলো বেশ সতেজ ও সবল হয়ে বেড়ে উঠছে।

    কৃষক আব্দুর রশিদ মোল্লা বলেন, ‘মোহনপুর কৃষি অফিস ও রাজশাহী হর্টিকালচার সেন্টারের সহযোগিতায় চুইঝাল চাষের উদ্যোগ নিয়েছি। পানের চাষের অভিজ্ঞতা থাকায় চুইঝালের পরিচর্যা তুলনামূলক সহজ মনে হয়েছে। এখন পর্যন্ত গাছে কোনো রোগবালাই দেখা যায়নি। স্থানীয়ভাবে চারা উৎপাদন করে গ্রামের অন্য কৃষকদের মধ্যেও তা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘চুইঝালের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আছে। বাজারে দামও ভালো। আমাদের এলাকায় এখনো বড় বাজার তৈরি হয়নি। তবে হর্টিকালচার সেন্টার বাজারদরে চুইঝাল কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে।’

    কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মোহনপুরে পানের চাষ ভালো হওয়ায় চুইঝালের জন্য এলাকাটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। চুইঝালের চাষপদ্ধতিও অনেকটা পানের মতো। ২০২৪ সালের শেষ দিকে এখানে পরীক্ষামূলকভাবে চুইঝালের চাষ শুরু করা হয়। প্রায় দুই বছর পর এর ফলন ও গাছের বৃদ্ধি সন্তোষজনক হওয়ায় এখন চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    চুইঝাল মূলত লতাজাতীয় সপুষ্পক উদ্ভিদ। এর কাণ্ড, শিকড় ও ডাল রান্নায় মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে গরু, খাসি, হাঁস ও মুরগির মাংসে চুইঝালের ব্যবহার দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। রান্নায় এটি যোগ করলে খাবারে ঝাঁঝালো স্বাদ ও আলাদা ঘ্রাণ তৈরি হয়।

    দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে চুইঝাল দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী মসলা। বাজারেও এর চাহিদা বাড়ছে। মানভেদে শুকনা চুইঝাল প্রতি কেজি ১ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। কাঁচা ও শুকনা দুই অবস্থাতেই বাজার রয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার রেস্তোরাঁয় চুইঝাল দিয়ে রান্না করা মাংস এখন বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আগে চুইঝালের সঙ্গে তেমন পরিচয় ছিল না। স্থানীয়ভাবে চাষ হচ্ছে জানতে পেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোঁজ নিয়ে এর জনপ্রিয়তার কথা জানতে পারি। আমাদের এলাকায় যখন চুইঝাল হচ্ছে, আমরাও এখন মাংসে দিয়ে খেয়ে দেখব।’

    শুধু উৎপাদন নয়, চারা নিয়েও তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। নাটোর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক শামীম ইকবাল জানান, সেখানে চুইঝালের চাষে ভালো ফল পাওয়ার পর উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি চুইঝালের কাটিং চারা ২৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

    তবে চুইঝাল চাষের জন্য তুলনামূলক উঁচু জমি প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

    রাজশাহী হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ ছাইয়্যেদা দিল ছালিন বলেন, ‘মোহনপুরে পরীক্ষামূলকভাবে চুইঝাল দেওয়ার পর ফলন ও বৃদ্ধি ভালো পাওয়া গেছে। নাটোরেও চাষ হচ্ছে। পান ও চুইঝালের চাষপদ্ধতিতে মিল থাকায় মোহনপুরকে চাষ সম্প্রসারণের জন্য উপযোগী মনে করা হয়েছে।’

  • ড্রেজিংয়ে  তোলা হচ্ছে শত শত মণ শামুক

    ড্রেজিংয়ে  তোলা হচ্ছে শত শত মণ শামুক

    সুন্দরবনসংলগ্ন কয়রার নদ-নদীতে একশ্রেণীর অসাধু চক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিন-রাত নদী ও চরের তলদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ শামুক আহরণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সহায়তায় কপোতাক্ষ নদ, শাকবাড়িয়া নদীসহ আশপাশের বিভিন্ন নদ-নদী থেকে প্রতিদিন ট্রাকে ট্রাকে পাচার হচ্ছে এসব শামুক। ফলে সুন্দরবনসংলগ্ন নদ-নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য, প্রজনন ব্যবস্থা ও জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

    সরেজমিনে কয়রা সদরের কপোতাক্ষ নদের গোবরা ও মদিনাবাদ পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, দুটি বোটে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে তোলা হচ্ছে শামুক। আহরণকারীরা জানান, মাত্র ৪-৫ ঘণ্টার ব্যবধানে এক একটি বোট থেকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার শামুক তোলা সম্ভব। সংগ্রহ করা এই শামুক সন্ধ্যায় গোবরা-মদিনাবাদ সড়ক দিয়ে গোপন আড়তের মাধ্যমে ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে চালান করা হয়।
    স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, শুধু কয়রা নয়, পাশ্ববর্তী শ্যামনগর উপজেলার পশুরতলা, কৈখালী, জয়াখালী ও শাকবাড়িয়া নদীর মতো বিস্তীর্ণ অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে এই অবৈধ শামুক শিকার। স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিলেও চক্রটির দৌরাত্ম্য থামানো যাচ্ছে না।
    এতে শামুক নদীর পানি পরিষ্কার ও চুন-ক্যালসিয়ামের ভারসাম্য রক্ষা করে। অনিয়ন্ত্রিত আহরণে নদীর স্বাচ্ছন্দ্য নষ্ট হচ্ছে। নদীর তলদেশের মাটির উর্বরতা ও জলজ প্রাণীর খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ছে। সংকট নিরসনে কেবল মাইকিং বা সাময়িক অভিযানে কাজ হচ্ছে না; পরিবহন ও বাজারজাতকরণের পুরো পথ বন্ধের দাবি এলাকাবাসীর।
    বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, নদী থেকে শামুক আহরণ আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সম্প্রতি বন বিভাগের অভিযানে বেশ কিছু শামুক উদ্ধার ও জব্দ করে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে এবং শামুকবোঝাই ট্রাক আটক করা হয়েছে।
    বন কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন ও নির্মল কুমার পাল জানান, জলজ পরিবেশ রক্ষায় এই অবৈধ অপতৎপরতা বন্ধে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে শিগগিরই নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও অভিযান জোরদার করা হবে।

  • সালথায় পেঁয়াজচাষিদের নীরব   কান্না

    সালথায় পেঁয়াজচাষিদের নীরব কান্না

    ‘পাট-পেঁয়াজের রাজধানী’খ্যাত ফরিদপুরের সালথায় এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর কম থাকায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক। মনপ্রতি উৎপাদন খরচ ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা, অন্যদিকে বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা পর্যন্ত দরে। তার ওপর সংরক্ষণ করা পেঁয়াজের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মাচায় পচে যাচ্ছে। এতে লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা কৃষকেরা।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে মোট চাষির সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার এবং মোট আবাদি জমি প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর। পেঁয়াজ মৌসুমে উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজারের বেশি কৃষক মোট জমির ৯০/৯৫ ভাগ জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করে। এই মৌসুমে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১১২৫০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে প্রায় ১১৫০০ হেক্টর। মুড়িকাটা ২০০ ও পেঁয়াজের বীজ ৫০ হেক্টর চাষ হচ্ছে। সব মিলিয়ে এই মৌসুমে উপজেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে দাম নিয়ে কৃষকদের মাঝে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

    উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের সালথা সদর বাজার, নকুলহাটি, ঠেনঠেনিয়া, মোন্তারমোড়, ফুলবাড়িয়া, মাঝারদিয়া, সোনাপুর, বালিয়া বাজার ঘুরে দেখা যায় পেঁয়াজের দাম মন প্রতি ৮০০ থেকে ১৩০০ টাকা পর্যন্ত। কোথাও কোথাও পেঁয়াজের ন্যায্য দাম না পেয়ে পানিতে ফেলে দিচ্ছেন কৃষক। অনেকেই মৌসুমের শুরুতে পেঁয়াজ বিক্রি না করে তা মজুদ করে রেখে দেয় মৌসুমের শেষে বিক্রি করতে। তবে এবছর আর তা সম্ভব হয়নি, প্রায় ৪০/৫০ ভাগ পেঁয়াজ নষ্ট হচ্ছে মাচায়। এমতাবস্থায় পেঁয়াজ চাষে কৃষি প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে পেয়াজের দাম বাড়ানোর কথা বলেন সবাই। অনেকেই আবার পেয়াজ আমদানি না করার কথা বলেন।

    সালথা সদর বাজারের পেঁয়াজের ব্যাপারী মো. মাসুম সরদার জানান, বাজারে পেঁয়াজের আমদানি বেশি এবং মোকামে চাহিদা কম থাকায় আজকে পেঁয়াজের বাজার নিচের দিকে। আজ ৭০০ টাকা থেকে ১২৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়েছে। চিকন বা ছোট পেয়াজ ১৬০০ থেকে শুরু করে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে। হয়তো আগামী মাসের প্রথম দিকে দাম বাড়তে পারে।

    উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আহসানুল হাবিব আল আজাদ জনি জানান, এ বছর কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৮০০ জন কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে পেঁয়াজ বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। পেঁয়াজের দাম নিয়ে চাষিদের মাঝে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে। আশা করছি কৃষক পেঁয়াজের ন্যায্য মূল্য পাবে। প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি পেঁয়াজ সংরক্ষণাগারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

  • আখের নতুন জাত ও জৈব সার উৎপাদনে সাফল্য

    আখের নতুন জাত ও জৈব সার উৎপাদনে সাফল্য

    ঐতিহ্যবাহী কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের চিনি কারখানার ক্ষতি হ্রাস, কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির নানা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাব্বিক হাসান। শনিবার বেলা ১১টার দিকে জীবননগর উথলী ইউনিটে স্থানীয় আখ চাষী শামীমের প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য প্রকাশ করেন।

    পরিদর্শনকালে এমডি রাব্বিক হাসান বলেন, কেরু অ্যান্ড কোম্পানির অন্যতম প্রধান অঙ্গ চিনি কারখানার লোকসান বিগত সময়ের তুলনায় অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। মূল কাঁচামাল আখের সরবরাহ ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে চাষীদের সর্বাত্মক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, সরকার প্রতি কুইন্টাল আখের দাম ৬২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫১ টাকা নির্ধারণ করেছে। আসন্ন মাড়াই মৌসুমে কৃষকরা এই বর্ধিত মূল্য পাবেন। এছাড়া ফলন বাড়াতে ৮২টি প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে নতুন জাতের আখের পরীক্ষামূলক উদ্ভাবন কার্যক্রম চলছে।

    প্রতিষ্ঠানের সার্বিক আর্থিক চিত্র তুলে ধরে এমডি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। চিনি কারখানা ব্যতিত অন্য সবকটি ইউনিটই লাভে রয়েছে—যার মধ্যে ডিস্টিলারি ইউনিট থেকে ২২৩ কোটি টাকা, বাণিজ্যিক খামার থেকে ৫ লাখ টাকা এবং পরীক্ষামূলক খামার থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা লাভ অর্জিত হয়েছে।

    বিশেষ করে জৈব সার ‘সোনার দানা’ বিক্রিতে রেকর্ড গড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই সার বিক্রি থেকে এবার ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা লাভ হয়েছে। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকরী হওয়ায় চুয়াডাঙ্গাসহ আশপাশের কৃষকরা এটি ব্যবহারে উৎসাহিত হচ্ছেন।

    কৃষকদের দেশের ‘প্রাণ’ আখ্যা দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও ন্যায্য মূল্যের সমন্বয়ে কৃষক ও প্রতিষ্ঠান—উভয়েই সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।
    অনুষ্ঠানে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির কৃষি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আশরাফুল আলম ভূঁইয়া, ডিজিএম (সম্প্রসারণ) মাহবুবুর রহমান, ডিএম (সম্প্রসারণ) মাহাফুজুল আলম, সিডিএ সাকী মাহমুদ ও স্থানীয় আখ চাষী শামীম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

  • সালথায় পেঁয়াজচাষিদের নীরব কান্না

    সালথায় পেঁয়াজচাষিদের নীরব কান্না

    পাট-পেঁয়াজের রাজধানী’খ্যাত ফরিদপুরের সালথায় এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর কম থাকায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক। মনপ্রতি উৎপাদন খরচ ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা, অন্যদিকে বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা পর্যন্ত দরে। তার ওপর সংরক্ষণ করা পেঁয়াজের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মাচায় পচে যাচ্ছে। এতে লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা কৃষকেরা।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে মোট চাষির সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার এবং মোট আবাদি জমি প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর। পেঁয়াজ মৌসুমে উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজারের বেশি কৃষক মোট জমির ৯০/৯৫ ভাগ জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করে। এই মৌসুমে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১১২৫০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে প্রায় ১১৫০০ হেক্টর। মুড়িকাটা ২০০ ও পেঁয়াজের বীজ ৫০ হেক্টর চাষ হচ্ছে। সব মিলিয়ে এই মৌসুমে উপজেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে দাম নিয়ে কৃষকদের মাঝে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

    উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের সালথা সদর বাজার, নকুলহাটি, ঠেনঠেনিয়া, মোন্তারমোড়, ফুলবাড়িয়া, মাঝারদিয়া, সোনাপুর, বালিয়া বাজার ঘুরে দেখা যায় পেঁয়াজের দাম মন প্রতি ৮০০ থেকে ১৩০০ টাকা পর্যন্ত। কোথাও কোথাও পেঁয়াজের ন্যায্য দাম না পেয়ে পানিতে ফেলে দিচ্ছেন কৃষক। অনেকেই মৌসুমের শুরুতে পেঁয়াজ বিক্রি না করে তা মজুদ করে রেখে দেয় মৌসুমের শেষে বিক্রি করতে। তবে এবছর আর তা সম্ভব হয়নি, প্রায় ৪০/৫০ ভাগ পেঁয়াজ নষ্ট হচ্ছে মাচায়। এমতাবস্থায় পেঁয়াজ চাষে কৃষি প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে পেয়াজের দাম বাড়ানোর কথা বলেন সবাই। অনেকেই আবার পেয়াজ আমদানি না করার কথা বলেন।

    সালথা সদর বাজারের পেঁয়াজের ব্যাপারী মো. মাসুম সরদার জানান, বাজারে পেঁয়াজের আমদানি বেশি এবং মোকামে চাহিদা কম থাকায় আজকে পেঁয়াজের বাজার নিচের দিকে। আজ ৭০০ টাকা থেকে ১২৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়েছে। চিকন বা ছোট পেয়াজ ১৬০০ থেকে শুরু করে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে। হয়তো আগামী মাসের প্রথম দিকে দাম বাড়তে পারে।

    উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আহসানুল হাবিব আল আজাদ জনি জানান, এ বছর কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৮০০ জন কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে পেঁয়াজ বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। পেঁয়াজের দাম নিয়ে চাষিদের মাঝে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে। আশা করছি কৃষক পেঁয়াজের ন্যায্য মূল্য পাবে। প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি পেঁয়াজ সংরক্ষণাগারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।