আর্ন্তজাতিক

  • বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন মার্টিনেজ

    বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন মার্টিনেজ

    আর্জেন্টিনার কাতার বিশ্বকাপজয়ী নায়ক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ আবারও আলোচনায়। এবার মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং আগেভাগেই ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে তার করা এক সাহসী ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে তৈরি হয়েছে রোমাঞ্চ। অ্যাস্টন ভিলার এই ৩৩ বছর বয়সি গোলরক্ষকের দাবি, এই বিশ্বকাপেও শিরোপা যাবে আর্জেন্টিনার ঘরেই, আর ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা যাবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে।

    সম্প্রতি ক্লাবের এক স্পন্সর ইভেন্টে অংশ নিয়ে মার্টিনেজ পুরো টুর্নামেন্টের একটি সম্ভাব্য নকআউট চিত্রও দাঁড় করান। তার অনুমান অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে আলাদা থাকলেও ধাপে ধাপে এগিয়ে দুই লাতিন জায়ান্ট ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা পৌঁছে যাবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে। সেই ম্যাচটি হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের, যা শেষ পর্যন্ত গড়াবে টাইব্রেকারে—আর সেখানেই নাকি জয় ছিনিয়ে নেবে লিওনেল মেসির দল।

    কাতার বিশ্বকাপের আগেও এমনই আত্মবিশ্বাসী ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন মার্টিনেজ, যা পরে বাস্তব রূপ নেয়। আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ে তার অবদানও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তাই এবার তার নতুন পূর্বাভাসও ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছে।

    ৪৮ দলের আসন্ন বিশ্বকাপে এখনো খুব অল্প কিছু ম্যাচই শেষ হয়েছে। তবে মার্টিনেজ আগেভাগেই নিজের ‘কাল্পনিক কোয়ার্টার ফাইনাল’ লাইনআপ সাজিয়ে ফেলেছেন। তার তালিকায় শেষ আটে জায়গা পেয়েছে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, পর্তুগাল, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও মেক্সিকো।

    তবে তার পূর্বাভাসে সবচেয়ে চমক জাগানো দিক হলো স্পেনের অনুপস্থিতি। অনেকের মতে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হলেও মার্টিনেজ মনে করেন, স্পেন শেষ ষোলোতেই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হেরে বিদায় নেবে।

    তার করা ম্যাচ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফ্রান্স জয় পাবে নরওয়ের বিপক্ষে, জার্মানি হারাবে তুরস্ককে, নেদারল্যান্ডস জিতবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে, ব্রাজিল এগিয়ে যাবে জাপানকে হারিয়ে এবং মেক্সিকো পরাজিত করবে দক্ষিণ কোরিয়াকে। অন্যদিকে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড হারাবে কলম্বিয়াকে। এরপর আর্জেন্টিনা হারাবে ফ্রান্সকে, জার্মানি জিতবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এবং ব্রাজিল বিদায় করবে মেক্সিকোকে।

    সেমিফাইনালে গিয়ে আবারও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেখছেন মার্টিনেজ। তার ধারণা, ১৯৮৬ সালের স্মৃতির মতো এবারও আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে হারাবে, তবে ম্যাচটি নিষ্পত্তি হবে টাইব্রেকারে। অন্য সেমিফাইনালে ব্রাজিল হারাবে জার্মানিকে।

    সবশেষে তার ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে হারিয়ে আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে আর্জেন্টিনা—যেমনটা হয়েছিল কোপা আমেরিকার সেই স্মরণীয় ফাইনালে।

  • বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগে এমবাপ্পেদের দাবি মেনে নিল ফ্রান্স

    বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগে এমবাপ্পেদের দাবি মেনে নিল ফ্রান্স

    বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগে খেলোয়াড়দের বোনাস ও পরিবারের সদস্যদের জন্য টিকিট বরাদ্দ নিয়ে ফ্রান্স এবং ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফএফ) মধ্যে চলমান বিরোধের অবসান হয়েছে। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বে খেলোয়াড়রা শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে ফেডারেশনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছেন।

    উত্তর আমেরিকায় চলমান বিশ্বকাপ প্রস্তুতির শুরু থেকেই পারফরম্যান্স বোনাস এবং খেলোয়াড়প্রতি টিকিট বরাদ্দ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। প্রথম দফার আলোচনায় কোনো সমাধান না হওয়ায় এমবাপ্পে ও আরও তিনজন খেলোয়াড়ের প্রতিনিধিত্বে ফ্রান্স দলের পক্ষ থেকে এফএফএফ সভাপতি ফিলিপ দিয়ালোর কাছে একটি পাল্টা প্রস্তাব দেওয়া হয়।

    ফরাসি দৈনিক লে’কিপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খেলোয়াড়দের বোনাস সংক্রান্ত সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন দিয়ালো। যদিও বোনাসের নির্দিষ্ট অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে তা গত বিশ্বকাপের তুলনায় কম হবে। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়ায় ফ্রান্সের প্রতিটি খেলোয়াড় ৫ লাখ ইউরো করে বোনাস পেয়েছিলেন। এর আগে ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ৪ লাখ ইউরো করে পুরস্কার দেয় এফএফএফ।

    লে’কিপ আরও জানিয়েছে, ২৬ সদস্যের দলে থাকা অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের অনেকেই তাঁদের প্রাপ্ত বোনাসের পুরোটা বা একটি অংশ বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে কিংবা কোচিং স্টাফের সদস্যদের মধ্যে দান করে থাকেন।

    টিকিট বরাদ্দের বিষয়েও সমাধান এসেছে। শুরুতে ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে ফেডারেশন ঘোষণা দিয়েছিল, প্রতিটি খেলোয়াড় প্রতি ম্যাচে পরিবারের সদস্যদের জন্য দুটি করে বিনামূল্যের টিকিট পাবেন। পাশাপাশি নির্ধারিত মূল্যে আরও ছয়টি টিকিট কেনার সুযোগ থাকবে। গ্রুপ পর্বে এসব টিকিটের মূল্য ৫০০ ইউরো থেকে শুরু হয়ে ফাইনালের ক্ষেত্রে ৭ হাজার ইউরোরও বেশি নির্ধারণ করা হয়েছিল।

    ফেডারেশনের এই প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট ছিলেন খেলোয়াড়রা। পরে আলোচনার পর সভাপতি দিয়ালো প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য চারটি করে বিনামূল্যের টিকিট বরাদ্দে সম্মত হন। অতিরিক্ত টিকিট কেনার সুযোগও বহাল থাকছে। তবে এই সুবিধা ২০২২ বিশ্বকাপের তুলনায় কিছুটা কম। আগামী ১৭ জুন নিউজার্সি স্টেডিয়ামে সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ফ্রান্স। ‘আই’ গ্রুপে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ নরওয়ে ও ইরাক।

  • বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক

    বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক

    বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হলেন শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। তার মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির (আইপিও) মাধ্যমে রেকর্ড ৭৫ বিলিয়ন বা ৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে। যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    স্পেসএক্স প্রতি শেয়ার ১৩৫ ডলার দরে ৫৫ কোটি ৫৬ লাখ ক্লাস-এ শেয়ার বিক্রি করে এই অর্থ সংগ্রহ করেছে। এই মূল্য নির্ধারণের ফলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার।

    ‘এসপিসিএক্স’ প্রতীকে নাসডাকে লেনদেন শুরু হলে স্পেসএক্স বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর একটি হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইপিও-সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, তালিকাভুক্তির পর মাস্কের কাছে প্রায় ৮৪ কোটি ৯৫ লাখ ক্লাস-এ শেয়ার এবং ৫৫৭ কোটি ক্লাস-বি শেয়ার থাকবে। এর মাধ্যমে তিনি কোম্পানির মোট ভোটিং ক্ষমতার ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করবেন। আইপিও মূল্যে, কাগজে-কলমে মাস্কের ঘোষিত স্পেসএক্স হোল্ডিংয়ের মূল্য প্রায় ৮৬৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

  • দাপুটে জয়ে বিশ্বকাপ শুরু মেক্সিকোর

    দাপুটে জয়ে বিশ্বকাপ শুরু মেক্সিকোর

    পর্দা উঠেছে ২০২৬ বিশ্বকাপের। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা—যৌথভাবে আয়োজন করছে বিশ্বকাপ। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত এ আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে ‘এ’ গ্রুপে মুখোমুখি হয় সহ-আয়োজক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। যেখানে ম্যাচে দাপট দেখিয়ে ৯ জনের দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় তুলে নিয়েছে মেক্সিকো।

    মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে প্রায় ৮০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ৩৯ দিনের এই মহাযজ্ঞ।

    ম্যাচ শুরুর ৯০ মিনিট আগে অনুষ্ঠিত হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সেখানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশ্বখ্যাত কলম্বিয়ান শিল্পী শাকিরা ও বার্না বয়। এছাড়া জে বালভিন ও দক্ষিণ আফ্রিকার গায়িকা টাইলাও অংশ নেন।

    এদিন টুর্নামেন্টের প্রথম গোলটি আসে মেক্সিকোর হুলিয়ান কিনিয়োনেসের পা থেকে। এই ফরোয়ার্ড ৯ মিনিটে গোলটি করেছেন। এই গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।

    বিরতির পর ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম লাল কার্ড দেখেন দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার স্ফেফেলো সিথোলে। ৫০ মিনিটে পেনাল্টি বক্সের মাথায় মেক্সিকোর এক খেলোয়াড়কে আটকাতে গিয়ে ফাউল করার শাস্তি পেলেন সিথোলে।

    খেলার ৬৬ মিনিটে মাঠে নেমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে মেক্সিকোর সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ইতিহাস গড়েন গিলবার্তো মোরা। পরের মিনিটেই মেক্সিকোকে ২–০ গোলে এগিয়ে দিলেন রাউল হিমিনেজ।

    ম্যাচের ৮৪ মিনিটে আরেকটি লাল কার্ড দেখে ৯ জনের দলে পরিণত হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার আক্রমণ করতে গিয়ে মেক্সিকোর খেলোয়াড়কে ফেলে দিয়ে লাল কার্ড দেখেন মিডফিল্ডার থেম্বা জেওয়ানে।

    ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে পর মেক্সিকোর সেসার মন্তেস লাল কার্ড দেখেন। তবে জয় পেতে কোনো সমস্যা হয়নি স্বাগতিকদের।

  • চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু দক্ষিণ কোরিয়ার

    চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু দক্ষিণ কোরিয়ার

    ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে ফেরার দুর্দান্ত গল্প লিখেছে দক্ষিণ কোরিয়া। মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের প্রথম দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে এক গোলে পিছিয়ে পড়েও চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করেছে এশিয়ার দলটি।

    ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয়। প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলই উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। তবে বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। দর্শকদের সামনে রোমাঞ্চকর লড়াই উপহার দেয় দুই দল।

    ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে প্রথম গোল করে এগিয়ে যায় চেক প্রজাতন্ত্র। লম্বা থ্রো থেকে আসা বলকে দারুণ এক হেডে জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন লাডিস্লাভ ক্রেইচি। এই গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইউরোপের দলটি।

    তবে বেশিক্ষণ সেই আনন্দ ধরে রাখতে পারেনি চেক প্রজাতন্ত্র। মাত্র আট মিনিট পর সমতায় ফেরে দক্ষিণ কোরিয়া। অসাধারণ স্থিরতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেদ করে বল জালে পাঠান কোরিয়ার মিডফিল্ডার হোয়াং ইন-বিওম। গোলরক্ষককে পরাস্ত করে তার নেওয়া শট গোললাইন অতিক্রম করলে ম্যাচে ফিরে আসে দক্ষিণ কোরিয়া।

    ৭৭তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল চেক প্রজাতন্ত্র। ফ্রি-কিক থেকে টমাস সউচেক বল জালে জড়ান এবং সতীর্থরা উদযাপনও শুরু করেন। কিন্তু সহকারী রেফারি অফসাইডের সংকেত দিলে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীতে পুনঃপ্রদর্শনীতে দেখা যায় সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল।

    এই স্বস্তির সুযোগ কাজে লাগায় দক্ষিণ কোরিয়া। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত আক্রমণ গড়ে তোলেন হোয়াং। তার নিখুঁত ক্রস থেকে হিউন-গিউ ওহ কাছ থেকে জোরালো শটে বল জালে পাঠান। গোলরক্ষকের হাতে লেগেও বল দূরের কোণে ঢুকে পড়ে এবং ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়া।

    শেষ মুহূর্তে ছয় মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করা হলেও সমতাসূচক গোল আদায় করতে পারেনি চেক প্রজাতন্ত্র। দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণভাগ দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে।

    এই জয়ের ফলে ‘এ’ গ্রুপে স্বাগতিক মেক্সিকোর সঙ্গে সমানতালে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল দক্ষিণ কোরিয়া।

  • দ্বিতীয় রাউন্ডে জাপানের কাছে হারবে ব্রাজিল!

    দ্বিতীয় রাউন্ডে জাপানের কাছে হারবে ব্রাজিল!

    তিনটি বিশ্বকাপে সঠিক বলা জার্মান অর্থনীতিবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট এবারের বিশ্বকাপ নিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন।

    ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা ফিফা বিশ্বকাপে জার্মানির সব ম্যাচের ফলাফল সঠিকভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল পল দ্য অক্টোপাস।বিশ্বজুড়ে তখন তিনি ভবিষ্যৎ বক্তা হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিলেন।

    এরপর জোয়াকিম ক্লেমেন্ট একটি জটিল পূর্বাভাস মডেলের মাধ্যমে পলকেও ছাড়িয়ে গেছেন, যা ২০১৪ সাল থেকে শতভাগ ক্ষেত্রে বিশ্বকাপের বিজয়ী সঠিকভাবে পূর্বাভাস দিয়েছে।

    এই মডেল অনুসারে, এবারের বিশ্বকাপে ট্রফি জিততে পারলে নেদারল্যান্ডস হবে ক্লেমেন্টের পরিসংখ্যানভিত্তিক ভবিষ্যদ্বাণীর চতুর্থ সাফল্য।

    শুধু বিজয়ী দল নয়, ৪৮ দলের পুরো বিশ্বকাপের গতিপথও তার মডেল বর্ণনা করছে।

    এতে দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে জাপানের একটি চমকপ্রদ জয় এবং একই পর্যায়ে স্কটল্যান্ডের দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে বিদায়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়াও, তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে পৌঁছাবে এবং ২০০৬ সালের দুই দশক পর পর্তুগাল আবারও ইংল্যান্ডকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দেবে।

    ক্লেমেন্ট, যিনি নিজেকে একজন নিরাশাবাদী’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং এক দশক ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন, তার কাজের উদ্দেশ্য কখনোই হতাশা এড়ানো বা জুয়া খেলে অর্থ উপার্জন করা ছিল না।

    বরং, তিনি তুলে ধরতে চেয়েছিলেন যে, ফলাফল ভবিষ্যদ্বাণী করার চেষ্টা করাটা কতটা অযৌক্তিক হতে পারে।

    তার প্রথম ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হওয়ার পর, যখন তার নিজ দেশ জার্মানি ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ জিতেছিল, ক্লেমেন্ট ভেবেছিলেন, ২০১৮ সালে হিসাবটি পুনরাবৃত্তি করলে প্রমাণিত হবে যে পুরোটাই ছিল নিছক কাকতালীয়।

    কিন্তু ২০১৮ সালে ফ্রান্সের ক্ষেত্রে এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রেও তিনি আবারও সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছিলেন।

  • গত তিন বিশ্বকাপে সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী

    গত তিন বিশ্বকাপে সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী

    সেই অর্থনীতিবিদ জানালেন এবারে বিজয়ী নেদারল্যান্ডস!

    গত তিনটি বিশ্বকাপে সঠিক চ্যাম্পিয়ন ভবিষ্যদ্বাণী করে আলোচনায় আসা এক জার্মান অর্থনীতিবিদ এবারও তার নতুন পূর্বাভাস জানিয়েছেন। তার দাবি, ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে পারে নেদারল্যান্ডস।

    তিন বিশ্বকাপে টানা সঠিক পূর্বাভাস

    প্যানমিউর লিবারিয়াম ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট ২০১৪ সালে একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক মডেল তৈরি করেন, মূলত অর্থনীতিবিদদের ভবিষ্যদ্বাণী করার প্রবণতা নিয়ে ব্যঙ্গ করার জন্য।

    কিন্তু সেই মডেলই পরে বিস্ময়করভাবে সঠিক প্রমাণিত হয়—

    ২০১৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হয় জার্মানি, ২০১৮ সালে ফ্রান্স এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনা।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শুরুটা ছিল মজা করে, কিন্তু টানা তিনবার সঠিক হওয়া সত্যিই অপ্রত্যাশিত।

    কীভাবে কাজ করে তার মডেল

    তার বিশ্লেষণ মডেলে কয়েকটি মূল ফ্যাক্টর ধরা হয়—

    জনসংখ্যা ও খেলোয়াড় তৈরির সম্ভাবনা

    ফুটবলের জনপ্রিয়তা

    গড় আবহাওয়া (প্রায় ১৪° সেলসিয়াস আদর্শ)

    মাথাপিছু জিডিপি

    ফিফা র‍্যাঙ্কিং ও সাম্প্রতিক ফর্ম

    তার মতে, এগুলোই দলগুলোর পারফরম্যান্সকে বড়ভাবে প্রভাবিত করে।

    কেন এবার এগিয়ে নেদারল্যান্ডস

    তার বিশ্লেষণে নেদারল্যান্ডস বেশ কয়েকটি কারণে এগিয়ে আছে—

    জনসংখ্যা: প্রায় ১ কোটি ৮৪ লাখ

    ফুটবল: অত্যন্ত জনপ্রিয় খেলা

    গড় তাপমাত্রা: ১০.৫° সেলসিয়াস

    মাথাপিছু জিডিপি: প্রায় ৭৭ হাজার ডলার

    ফিফা র‍্যাঙ্কিং: ৭

    সাম্প্রতিক ফর্ম: ২০২৫ সালের মার্চ থেকে অপরাজিত

    এই ভিত্তিতেই তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের প্রতিপক্ষ হতে পারে পর্তুগাল।

    ভাগ্যই নির্ধারক

    ক্লেমেন্টের মতে, বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে ভাগ্যের ভূমিকা অনেক বড়। তার হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪৫ শতাংশ ফলই নির্ভর করে ভাগ্যের ওপর।

    তিনি বলেন, শক্তির পার্থক্য খুব কম হলে সামান্য ভাগ্যই ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে।

    বাজির বাজারে ভিন্ন চিত্র

    যদিও তার মডেলে নেদারল্যান্ডস শীর্ষে, বাজিকরদের তালিকায় তারা এখনো অনেক পিছিয়ে। সম্ভাব্য ফেভারিট হিসেবে এগিয়ে রয়েছে—

    স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা এবং পর্তুগাল।

    পলিমার্কেটের পূর্বাভাসেও নেদারল্যান্ডসের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৩ শতাংশের মতো।

    নেদারল্যান্ডসের গ্রুপ সূচি

    গ্রুপ ‘এফ’-এ নেদারল্যান্ডস খেলবে জাপান, সুইডেন ও তিউনিশিয়ার বিপক্ষে।

    ম্যাচ সূচি—

    ১৪ জুন: নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান

    ২০ জুন: নেদারল্যান্ডস বনাম সুইডেন

    ২৫ জুন: তিউনিসিয়া বনাম নেদারল্যান্ডস

  • বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ বাতিল করল অস্ট্রেলিয়া

    বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ বাতিল করল অস্ট্রেলিয়া

    নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০২৭ পুনঃনির্ধারণ হওয়ায় অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ নারী দলের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ বাতিল করতে হয়েছে। ওই সময়সীমায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলবে নিউজিল্যান্ড, এরপর মার্চে ক্যানবেরা ও মেলবোর্নে আরও তিনটি একদিনের ম্যাচ খেলতে আবারও অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে তারা।

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৭ সালের উদ্বোধনী নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, যা শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, জুন–জুলাই থেকে সরিয়ে ফেব্রুয়ারিতে দুই সপ্তাহের মধ্যে আয়োজিত হবে। এই পরিবর্তনের কারণে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাদের নারী দলের ঘরোয়া সূচি পুনর্বিন্যাস করেছে।

    বাংলাদেশ নারী দল আগে অক্টোবরের ৯ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত ব্রিসবেন ও সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনটি একদিনের ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার কথা ছিল। তবে একদিনের ম্যাচগুলো বহাল থাকলেও টি-টোয়েন্টি সিরিজটি বাতিল করা হয়েছে।

    অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড নারী দলের অস্ট্রেলিয়া সফরও নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। আগে ফেব্রুয়ারি–মার্চে সিরিজ হওয়ার কথা থাকলেও এখন তারা অক্টোবরের ১৮, ২০ ও ২২ তারিখে সিডনিতে তিনটি টি–টোয়েন্টি খেলবে—যে তারিখগুলো আগে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ছিল। এরপর তারা মার্চের ৬, ৮ ও ১০ তারিখে ক্যানবেরা ও মেলবোর্নে তিনটি একদিনের ম্যাচ খেলবে।

    মার্চের ৮ তারিখের ম্যাচটি হবে জাংশন ওভালে আলোতে খেলা প্রথম আন্তর্জাতিক নারী ম্যাচ, যেখানে সম্প্রতি ফ্লাডলাইট স্থাপন করা হয়েছে। একই দিনটি মেলবোর্নে সরকারি ছুটির দিন এবং আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবেও পালিত হবে। এই দুই ম্যাচ ১১ থেকে ১৫ মার্চ মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য পুরুষদের দেড়শতম বার্ষিক টেস্টের আগে অনুষ্ঠিত হবে।

    একদিনের ম্যাচগুলোর আগের সূচি (১, ৫ ও ৭ মার্চ) পরিবর্তন করে নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে শ্রীলঙ্কা থেকে ফেরার পর দলগুলো পর্যাপ্ত সময় পায়। আগের পরিকল্পনায় ম্যাচগুলো অ্যাডিলেড ও মেলবোর্নে হওয়ার কথা ছিল।

    ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সূচি ও ক্রিকেট কার্যক্রম বিভাগের প্রধান পিটার রোচ বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সাম্প্রতিক সূচি পরিবর্তনের পর তারা নতুন পরিকল্পনা করেছে, যা খেলোয়াড় ও দর্শকদের জন্য সর্বোত্তম হবে। তিনি আরও জানান, নারীদের ক্রিকেট দেড়শতম বার্ষিক টেস্টের আগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং জাংশন ওভালে আলোতে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হবে।

    তিনি বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বিশেষভাবে নিউজিল্যান্ডকে দুইবার অস্ট্রেলিয়া সফরে সম্মতি দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    নারী বিগ ব্যাশ লিগ অক্টোবরের শেষ থেকে ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত চলার কারণে এবং ভারতীয় নারী প্রিমিয়ার লিগ জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি দখল করে রাখায় অস্ট্রেলিয়ার নারী দল এখন ঘরের মাঠে মূলত গ্রীষ্মের শুরু ও শেষ অংশে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে।

  • মমতাকে ত্যাগ করে শতাব্দী বললেন, ‘দিদি’র পাশে না থাকায় অপরাধবোধ হচ্ছে

    মমতাকে ত্যাগ করে শতাব্দী বললেন, ‘দিদি’র পাশে না থাকায় অপরাধবোধ হচ্ছে

    তৃণমূল কংগ্রেস থেকে জিতে লোকসভার সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন টলিউডের এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শতাব্দী রায়। তবে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচনে তৃণমূল হারার পর দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তিনিসহ কয়েকজন তৃণমূল এমপির নেতৃত্বে আলাদা বলয় তৈরি হয়েছে। তবে এসব নিয়ে কোনো অপরাধবোধ নেই শতাব্দীর, তবে খারাপ সময়ে দিদির (তৃণমূল প্রধান মমতা বন্দোপাধ্যায়) পাশে না থাকায় তার অপরাবোধ হচ্ছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শতাব্দী রায় বলেন,‘আমার একটাই অপরাধবোধ কাজ করছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খারাপ সময়ে তাকে ছাড়তে হচ্ছে। কিন্তু দিদিই সেই জায়গায় নিয়ে গেল আমাদের!’

    ভারতের এ এমপি বলেন. তিনি এখনও মমতার সঙ্গে মানসিকভাবে জড়িয়ে আছেন। এই মুহূর্তে তিনি মমতার পাশে নেই, তাতে তার কষ্টও হচ্ছে। তবে তিনি বলেন, ‘আমার দুঃখটা যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগে কেয়ার করতেন, তা হলে এটা হতো না।’

    কোন পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত, তাও জানিয়েছেন শতাব্দী। তিনি বলেন, ‘ভোটের ফলের পরে যখন কালীঘাটের বাড়িতে বৈঠক ডাকা হলো, আমরা গিয়েছিলাম, কিন্তু সেখানেও হার নিয়ে কোনো বিশ্লেষণ নেই। দিদির মনে হচ্ছে, উনি হারেননি, কিন্তু দলের ভেতরে হার নিয়ে কথা বলতেই হবে, সেখানে তো উনি জিজ্ঞেস করবেন, ‘‘তোমার এলাকার কেন এ রকম ফল হলো?’’ সে রকম কোনো আলোচনা নেই। শুধু বলছেন, ‘‘চিঠি লেখ’’। দু-একজন বলতে গেল। থামিয়ে দেওয়া হলো। চ্যানেলে-ইন্টারভিউতে দিদি যা বলছেন, সেগুলোই ওখানে বলা হচ্ছে। এভাবে দল চলতে পারে না। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই দলের সঙ্গে আর থাকা যায় না।’

    মমতাকে নিয়ে শতাব্দী বলেন, ‘দিদি অনেক দিন ধরেই কথা শোনা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময়ে শেষ দিনেও দিদিকে হোয়াটসঅ্যাপ করেছিলাম। বীরভূমে কোথায় কী ভুল হচ্ছে প্রার্থীচয়নে, জানিয়েছিলাম। তখনও এক লাইনে উত্তর এসেছিল। কোনো এক ব্যক্তির নাম করে বলছেন, ওর বদমায়েশি। মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আমার নেই। কিন্তু একটা এলাকায় ১৭ বছর ধরে রয়েছি। এলাকার কোন লোকটা ভালো, কে খারাপ-দুর্নীতিবাজ, এটা বোঝার তো ক্ষমতা ছিল। কিন্তু উনি শোনেননি।’

    তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা মমতার ভাতিজা অভিষেকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অভিষেক তার কথা শুনেছেন। তার থেকে নানা সময়ে মতামতও নিয়েছেন। শতাব্দী বলেন, ‘অভিষেক কিন্তু শুনত। অন্যের কথা বলতে পারব না। আমার ক্ষেত্রে শুনেছে। অনেকেরই মতামত জানতে চাইত। এই গুণটা ছিল। স্টেপও নিয়েছে।’

    সংসদে বিদ্রোহীরা মিলে যে নতুন ‘ব্লক’ তৈরি করেছেন, তা আদতে তাদের প্রতীকী প্রতিবাদ বলেই জানিয়েছেন শতাব্দী। তিনি বলেন, ‘আমরা এই দলের সঙ্গে থাকতে চাইছি না। যেভাবে দলের অহঙ্কার-ঔদ্ধত্য বেড়ে গিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। যত দিন মুকুল রায় ছিলেন, তত দিন উনি শুনতেন। দলে বলার জায়গায় ছিল। সব সমাধান হতো না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উনি শুনতেন। উনি চলে যাওয়ার পর থেকে আর শোনার কেউ ছিলেন না। দলে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। অভিষেকপন্থী আর মমতাপন্থী। কর্মীরা আরও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন।’

    তবে তৃণমূলের এ এমপি বলেন. তাদের এই মুহূর্তে বিজেপিতে যোগদানের কোনো পরিকল্পনা নেই। তাঁর কথায়, ‘আমরা আলাদা ব্লক। আলাদা বসব। আলাদা আলোচনা করব।’

  • বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবে না ইরান, ম্যাচের আগের দিন প্রবেশের অনুমতি

    বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবে না ইরান, ম্যাচের আগের দিন প্রবেশের অনুমতি

    ইরানের জাতীয় ফুটবল দল আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য এরই মধ্যে মেক্সিকো পৌঁছেছে। বর্তমানে ইরানি দলটি মেক্সিকোর তিজুয়ানায় অনুশীলনরত। ইরানের তিনটি ম্যাচের সবগুলোই যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তারা এখন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবে না। বরং, প্রতিটি ম্যাচের আগের দিন ইরানি দল যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে বলে জানিয়েছে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহান্তে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইরানের মেক্সিকোতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসানদিদেহর উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করা হয়েছিল, ইরান দলকে কেবল ম্যাচের দিনেই যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে হবে এবং একই দিনে আবার দেশটি ত্যাগ করতে হবে। এতে দলটির লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা, যাতায়াত পরিকল্পনা এবং মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।

    তবে ডিএইচএসের এক মুখপাত্র সেই দাবি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ইরানকে ম্যাচের দিনই এসে আবার একই দিনে চলে যেতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এক বিবৃতিতে মুখপাত্র বলেন, ‘এই বক্তব্যগুলো সঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের (ডোনাল্ড ট্রাম্প) উদারতার কারণে ইরানের দল তাদের ম্যাচের আগের দিনই পৌঁছাতে পারবে।’

    অন্যদিকে, রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসানদিদেহ গত সোমবার তিজুয়ানায় রয়টার্সকে দোভাষীর মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেন। তিনি জানান, ইরান ফুটবল ফেডারেশনের কিছু স্টাফের ভিসা দেওয়া হয়নি। তবে যেসব ভিসা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো রাতভর অবস্থানে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না। তিনি বলেন, ‘তাদের ভিসায় নির্দিষ্ট করে কোনো সময় উল্লেখ নেই যে তাদের কখন বেরিয়ে যেতে হবে।’

    দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ইরান দলের সব খেলোয়াড়কে ভিসা প্রদান করে। প্রথম ম্যাচ শুরুর মাত্র ১০ দিন আগে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের তথ্যমতে, দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ভিসা পাননি। এর মধ্যে আছেন ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সদস্যরা।’ ইরানের মেক্সিকো দূতাবাস জানিয়েছে, এই তালিকায় রয়েছেন দলের ম্যানেজার, দুজন বিশ্লেষক, মিডিয়া পরিচালক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিনিধি।

    ইরান বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ২১ জুন আবার লস অ্যাঞ্জেলেসেই বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। তৃতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২৬ জুন সিয়াটলে, যেখানে প্রতিপক্ষ মিসর।

    প্রাথমিকভাবে ইরান দলের অনুশীলন ক্যাম্প অ্যারিজোনায় নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়। এর আগে মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিতে স্বাগত জানাই। তবে তিনি একই সঙ্গে মন্তব্য করেন, ইরান দলের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান তাদের ‘নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য উপযুক্ত নয়।’