আর্ন্তজাতিক

  • বাবার দেশের বিপক্ষে গোল করে সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন ইয়াসিন

    বাবার দেশের বিপক্ষে গোল করে সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন ইয়াসিন

    ২২ বছর বয়সী ইয়াসিন আয়ারির জন্য বিশ্বকাপে অভিষেকটা এর চেয়ে ভালো আর হতে পারত না। সুইডেনের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নেমেই তিনি জোড়া গোল করে দলকে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ৫-১ ব্যবধানের বড় জয় এনে দেন। তবে প্রথম গোলের পর তার উদযাপনই সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে।

    মেক্সিকোর মনতেরেতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের সপ্তম মিনিটে দুর্দান্ত এক ভলিতে বল জড়িয়ে দেন তিউনিসিয়ার জালে। গোল করার পর সাধারণ কোনো তরুণ ফুটবলারের মতো উচ্ছ্বাসে ভেসে না গিয়ে দুই হাত তুলে সম্মান জানান এবং এরপর সিজদায় লুটিয়ে পড়েন।

    এর পেছনে রয়েছে তার রক্তের গভীরে থাকা তিউনিসিয়ার সম্পর্ক। আয়ারির বাবা তিউনিসিয়ান এবং মা মরক্কান বংশোদ্ভূত। যদিও তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা সুইডেনে।

    ১৮ বছর বয়সে তিনি সিদ্ধান্ত নেন বাবা-মায়ের দেশের পরিবর্তে নিজের জন্মভূমি সুইডেনের প্রতিনিধিত্ব করবেন। এই সিদ্ধান্তে পূর্ণ সমর্থন ছিল তার বাবারও।

    আয়ারির বাবা আজ্জুজ আয়ারি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম সে সুইডেনের হয়ে খেলুক। যে দেশ তাকে বড় করেছে এবং যত্ন নিয়েছে, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাই উচিত।’

    তিনি জানান, তিউনিসিয়ার পক্ষ থেকেও ইয়াসিনকে দলে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাবা ও ছেলে কেউই সেটিকে গুরুত্ব দেননি।

    শৈশবে নিজ শহরের একটি ক্লাবে ফুটবল শুরু করেন আয়ারি। পরে দেশের অন্যতম বড় ক্লাবে যোগ দিয়ে দ্রুতই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এরপর ইংল্যান্ডের একটি শীর্ষ পর্যায়ের ক্লাবে পাড়ি জমান এবং ২০২৩ সালে সুইডেন জাতীয় দলে অভিষেক হয় তার।

    সুইডেনের জার্সি বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আয়ারি জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি সুইডেনের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের হয়ে খেলেছেন। তাই সুইডেনের প্রতিনিধিত্ব করাটাই তার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়েছে।

    বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার পর যখন জানা যায় সুইডেন ও তিউনিসিয়া একই গ্রুপে পড়েছে, তখন বিষয়টি তাকে বিস্মিত করেছিল। আয়ারি বলেন, ‘এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য ছিল যে আমরা একই গ্রুপে পড়েছি।’

    ম্যাচে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে সুইডেনের বড় জয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন এই তরুণ মাঝমাঠের খেলোয়াড়। প্রথম গোলের পাশাপাশি যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে আরও একটি অসাধারণ গোল করেন তিনি।

    প্রতিপক্ষের গোলমুখের সামনে বল পেয়ে দূরের কোণে নিখুঁত শটে বল পাঠিয়ে দেন জালে। বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করার পর এবার অবশ্য উচ্ছ্বাস লুকিয়ে রাখেননি। গ্যালারিতে থাকা আনন্দে মাতোয়ারা সুইডিশ সমর্থকদের অভিনন্দন সানন্দে গ্রহণ করেন তিনি।

    বাবার জন্মভূমির বিপক্ষে গোল করেও সম্মান দেখানো এবং নিজের দেশের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স—দুইয়ের সমন্বয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে স্মরণীয় এক অভিষেক উপহার দিলেন ইয়াসিন আয়ারি।

  • স্পেন এবার কতটা ভালো

    স্পেন এবার কতটা ভালো

    সেলিব্রিটিদের অবকাশযাপনের জন্য বিখ্যাত ইবিজা স্পেনে। চোখজুড়ানো আরও অনেক সমুদ্রতট আছে এই দেশে। কিন্তু সেখানে কি হাঙর আছে?

    আচ্ছা, স্পেন-কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে হাঙরের কথা আসছে কেন? আপনার জানা না–ও থাকতে পারে, কেপ ভার্দে নামের পুঁচকে দ্বীপদেশটির ফুটবলের ডাকনাম ‘নীল হাঙর’। নিজেদের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপের ম্যাচে কি তারা কামড়ে দিতে পারবে স্পেনকে? কেপ ভার্দে হাঙর হলে স্পেন তো নীল তিমিই, তাই না?

    প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দের চেয়ে স্পেনের চিন্তাটা বোধ হয় নিজেদের নিয়েই বেশি। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ কী নিয়ে অপেক্ষা করছে, কে জানে! গত তিনটি বিশ্বকাপের কথা মনে করে দেখুন।

    ২০১৪ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের কাছে ৫-১ গোলে উড়ে যাওয়া। পরের বিশ্বকাপে পর্তুগালের সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র। ২০২২ বিশ্বকাপে আবার কোস্টারিকাকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া। শুরুর ম্যাচে অননুমেয় হলেও একটা ব্যাপার অনুমান করা যায়, স্পেনের উদ্বোধনী ম্যাচ মানেই অনেক গোল। আবার এই তিন বিশ্বকাপে একবারও স্পেন পার হতে পারেনি শেষ ষোলোর বাধা।

    সেই বাধা টপকানো তো বটেই, এবার স্পেন অনেকের চোখেই অন্যতম ফেবারিট। লুইস দে লা ফুয়েন্তে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪ ইউরো থেকে দুর্দান্ত ফুটবল খেলছে স্পেন। জোহানেসবার্গ ফুটবল সিটি স্টেডিয়ামে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা যে সোনালি ট্রফিটা এনে দিয়েছিলেন আইবেরিয়ান উপদ্বীপে, সেই ছবিটা এবার কে আঁকবেন?

    স্পেন তারকা লামিনে ইয়ামাল

    যাঁর ওপর সবচেয়ে বেশি বাজি, সেই লামিনে ইয়ামালকে নিয়েই এবার অনিশ্চয়তা। এপ্রিলে লা লিগার ম্যাচে চোট পাওয়ার পর ইয়ামাল শুরুতে ভেবেছিলেন, তাঁর বিশ্বকাপটাই বোধ হয় শেষ!

    বিশ্বকাপ খেলার তীব্র জেদ থেকেই হয়তো সেরে উঠছেন নির্ধারিত সময়ের আগে। শুরুতে গ্রুপ পর্বে তাঁকে পাওয়া নিয়ে সংশয় থাকলেও দে লা ফুয়েন্তে দুই দিন আগে জানিয়েছেন, ইয়ামাল ফিরতে পারেন প্রথম ম্যাচেই। এর মধ্যে দলের সঙ্গে অনুশীলনও শুরু করেছেন। আজ কেপ ভার্দের বিপক্ষে শুরু থেকে না হলেও কিছু সময়ের জন্য তাঁকে হয়তো দেখা যাবে।

    চোটের সমস্যা আরও আছে। ডান প্রান্তে ইয়ামাল আর বাঁ প্রান্তে নিকো উইলিয়ামসের রসায়ন ছিল ইউরোতে স্পেনের গোপন ফর্মুলা। উইলিয়ামসও সেরে উঠছেন, সেই সঙ্গে চোট কাটিয়ে ওঠার পথে আরেক ফরোয়ার্ড ভিক্টর মুনিয়োজ। এই তিনজনকে না পেলে দুই প্রান্তের জন্য বিকল্প কিছু ভাবতে হবে ফুয়েন্তেকে।

    কেপ ভার্দে এবার প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলবে

    অবশ্য স্পেনের যে দলীয় গভীরতা, তাতে খুব সমস্যা হওয়ার কথা নয়। মিডফিল্ডেই দেখুন না—রদ্রি, পেদ্রি, ফাবিয়ান রুইজদের নিয়ে বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা। যে কারণে মিকেল মেরিনো, দানি ওলমো বা মার্তিন জুবিমেন্দির মতো খেলোয়াড়দেরও বসে থাকতে হতে পারে বেঞ্চে। বিলবাওয়ের উনাই সিমন, আর্সেনালের দাভিদ রায়া আর বার্সার হোয়ান গার্সিয়া—গোলকিপার নিয়েও ফুয়েন্তের মধুর সমস্যা। রক্ষণে পাউ কুবারসি, এমেরিক লাপোর্ত, মার্ক কুকুরেয়ারা জোগাচ্ছেন নির্ভরতা।

    এই স্পেন দলের সামনে তো ‘পুঁচকে’ কেপ ভার্দের উড়ে যাওয়ার কথা। পাঁচ লাখের সামান্য বেশি জনসংখ্যার দেশটি আফ্রিকা থেকে বিশ্বকাপ বাছাই পেরিয়ে এসেছে ক্যামেরুনের মতো মহাদেশীয় পরাশক্তিকে পেছনে ফেলে। প্রবাসী ফুটবলারদের আশীর্বাদে বিশ্বকাপের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তাদের।

    পর্তুগিজ লিগে খেলা দাইলান লিভ্রামেন্তো সম্ভবত তাদের সবচেয়ে বড় তারকা। কিন্তু স্পেনের তারায় তারায় খচিত আকাশের সঙ্গে তুলনায় কেপ ভার্দে অনেক দূরে টিমটিম করে জ্বলতে থাকা কোনো তারাপুঞ্জ। র‍্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় দলের সঙ্গে ৬৭তম দলের কোনো তুলনা হয়, আপনিই বলুন!

  • অবৈধ তিন নির্বাচনের অন্যতম কারিগর ছিলেন সাবেক আইজি বেনজীর: চিফ প্রসিকিউটর

    অবৈধ তিন নির্বাচনের অন্যতম কারিগর ছিলেন সাবেক আইজি বেনজীর: চিফ প্রসিকিউটর

    আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হওয়া অবৈধ তিন নির্বাচনের অন্যতম কারিগর ছিলেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। এমনটাই জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। আজ সোমবার নিজ কার্যালয় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বেনজীর আহমেদ শুধু মতিঝিলের শাপলা চত্বরকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড নন, তিনি একসময় সরকার চালাতেন। কোনো কোনো জায়গায় শেখ হাসিনার চেয়েও বেশি প্রভাবশালী ছিলেন। এর কারণে হেন কোনো দুষ্কর্ম নেই, যেটা তিনি নিজের কর্মজীবনে করেননি। তবে আওয়ামী লীগের শেষ সময়ে তাদেরই কোনো অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তার এসব কুকীর্তি প্রকাশ পায়। গণমাধ্যমে বেনজীরের সবকিছু দেখেছিল এ জাতি। এ কারণে তার বিরুদ্ধে তখনই মামলা করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন।

    আমিনুল ইসলাম বলেন, বেনজীরের বিরুদ্ধে আমাদের ট্রাইব্যুনালে প্রায় ১০টির মতো মামলার তদন্ত চলছে। প্রত্যেকটি ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। এর মধ্যে যখন র‌্যাবের প্রধান ছিলেন, তখন গুমের ঘটনায় হওয়া একটি মামলার বিচার চলছে। তিনি শাপলা চত্বরের অন্যতম কুশীলব ছিলেন। তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন অসংখ্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে হওয়া প্রত্যেকটি নির্বাচনে বেনজীরের বিতর্কিত ভূমিকা ছিল। অবৈধ নির্বাচন করার অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। এ দেশের গণতন্ত্র নস্যাৎ করতে হাজারও মানুষকে বিনাবিচারে হত্যাসহ অসংখ্য দায় রয়েছে তার। অতএব তার বিচারের ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ নজর দেব।

  • আনচেলত্তিই ব্রাজিলকে বদলে দেবেন, বিশ্বাস কাকার

    আনচেলত্তিই ব্রাজিলকে বদলে দেবেন, বিশ্বাস কাকার

    পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল শিরোপা ছুঁয়ে দেখেনি ২৪ বছর হলো দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে ব্রাজিলকে আবারও শিরোপার দেখতে চান দেশটির কিংবদন্তি ফুটবলার কাকা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তির ওপরই আস্থা রাখছেন ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী এই মিডফিল্ডার।

    ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাকা বলেন, বর্তমান সময়ে ব্রাজিলের জন্য আনচেলত্তিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও ব্রাজিলের ঐতিহ্য ও ফুটবল সংস্কৃতি সবসময়ই দলটিকে বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার হিসেবে রাখে বলে মনে করেন তিনি।

    কাকা বলেন, ‘টুর্নামেন্ট শুরুর আগে হয়তো ব্রাজিল শীর্ষ তিন ফেভারিটের মধ্যে ছিল না। কিন্তু এটি এখনও একটি শক্তিশালী দল। আর কার্লো তো কার্লোই।’

    কাকার বিশ্বাস, অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচের নেতৃত্বে সেলেসাওরা আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে পারবে। তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এই সাবেক তারকা বলেন, ‘বিশ্বকাপের আবেগ, চাপ এবং প্রত্যাশা আনচেলত্তি খুব ভালোভাবেই বোঝেন। তাই ব্রাজিল যদি দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে একটি সফল বিশ্বকাপ উপহার দিতে পারে, সেটি পুরো দেশের জন্যই হবে বিশেষ আনন্দের বিষয়।’

    ২০০২ সালের পর আর শিরোপার দেখা পায়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই সময়ের মধ্যে মাত্র একবার সেমিফাইনালে উঠতে পেরেছে দলটি। ২০১৪ সালে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের পরাজয়ের গ্লানি এখনও দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক স্মৃতি। সেই হতাশা পেছনে ফেলে নতুন স্বপ্ন নিয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন কার্লো আনচেলত্তি। ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সফল এই কোচের হাত ধরে ব্রাজিল আবারও বিশ্বকাপ জয়ের পথে ফিরবে বলে আশা সমর্থকদের।

    তবে বিশ্বকাপ অভিযান শুরুটা খুব একটা স্বস্তিদায়ক হয়নি ব্রাজিলের। নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে তারা। ম্যাচ শেষে আনচেলত্তিও স্বীকার করেছেন, দলকে আরও উন্নতি করতে হবে এবং সামনে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    তবু দলের ওপর আশা হারাচ্ছেন না কাকা। তার মতে, আনচেলত্তির অভিজ্ঞতা, চাপ সামলানোর দক্ষতা এবং বড় মঞ্চে সাফল্যের দীর্ঘ ইতিহাস ব্রাজিলকে নতুন করে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। কিংবদন্তি এই ফুটবলারের বিশ্বাস, সঠিক দিকনির্দেশনায় সেলেসাওরা আবারও বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।

  • আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ ঘিরে কানসাসে উৎসবের আমেজ

    আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ ঘিরে কানসাসে উৎসবের আমেজ

    আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হতে আর মাত্র এক দিন বাকি আছে। ‘জে’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আগামী বুধবার ভোরে আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তেরা। সে ম্যাচকে সামনে রেখে এরই মধ্যে কানসাস সিটিতে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সমর্থকদের উচ্ছ্বাস। আলজেরিয়া ম্যাচকে সামনে রেখে শহরের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হতে শুরু করেছেন হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থক—যাদের উপস্থিতিতে নীল-সাদা রঙে রঙিন হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।

    টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরের রেস্তোরাঁপল্লীতে একটি জনপ্রিয় বিয়ার ব্র্যান্ডের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় বড় ধরনের সমর্থক সমাবেশ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত আর্জেন্টাইনদের পাশাপাশি বিশ্বকাপ উপলক্ষে আর্জেন্টিনা থেকে আসা সমর্থকরাও এতে অংশ নেন। শুধু আর্জেন্টিনার ভক্তরাই নন, লিওনেল মেসি ও দিয়েগো ম্যারাডোনার প্রতি ভালোবাসা থেকে অন্যান্য দেশের ফুটবলপ্রেমীরাও যোগ দেন এই উৎসবে।

    সমাবেশস্থলের কাছাকাছি থাকা সল মন্টেসরি স্কুলের বেড়া সাজানো হয় আকাশি-সাদা পতাকা, তিনটি বিশ্বকাপজয়ী তারকার প্রতীক, বিভিন্ন স্লোগান, আর্জেন্টাইন ক্লাবগুলোর চিহ্ন, দেশের বিভিন্ন শহরের নাম এবং মেসি-ম্যারাডোনার প্রতিকৃতি দিয়ে। এতে পুরো এলাকাজুড়েই তৈরি হয় এক উৎসবমুখর আবহ।

    বিশেষ আকর্ষণ ছিল আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি সমর্থক তুলার বিখ্যাত ঢোল। ফিফার ‘দ্য বেস্ট’ পুরস্কারে বিশ্বের সেরা সমর্থক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া তুলা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা যান। তাঁর পরিবারের অনুরোধে সেই ঐতিহাসিক ঢোলটি কানসাসে নিয়ে আসেন গিয়ের্মো। টিওয়াইসি স্পোর্টসকে তিনি বলেন, ‘১৯৭৪ সালের পর থেকে এই ঢোল প্রতিটি বিশ্বকাপে গেছে। আমরা এটি বাজাচ্ছি। সব সমর্থককে একত্র করছি।’

    আয়োজকদের প্রত্যাশা, ম্যাচ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে সমর্থকদের উপস্থিতি। ম্যাচের আগে আরও হাজার হাজার আর্জেন্টাইন কানসাসে পৌঁছাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৭৬ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার কানসাস সিটি স্টেডিয়ামেও তাদের সরব উপস্থিতি দেখা যাবে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসই জানিয়ে দিচ্ছে, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ঘিরে প্রত্যাশা ও আবেগের কমতি কতখানি।

  • পাকিস্তানে ভারতীয় মদদপুষ্ট ২১ জঙ্গি নিহত

    পাকিস্তানে ভারতীয় মদদপুষ্ট ২১ জঙ্গি নিহত

    খাইবার পাখতুনখাওয়ার (কে-পি) উত্তর ওয়াজিরিস্তান জেলার মিরান শাহ এবং এর আশেপাশের এলাকায় এক ধারাবাহিক গোয়েন্দা অভিযানে (আইবিও) আরও ২১ সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) শনিবার (১৩ জুন) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    আইএসপিআর জানিয়েছে, গত ৭২ ঘণ্টায় ওই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের তীব্র বন্দুকযুদ্ধ হয়। নিহত ২১ সন্ত্রাসীই ভারত-পৃষ্ঠপোষিত ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারেজ’ (যা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি নামে পরিচিত) গোষ্ঠীর সদস্য।

    নিহতদের মধ্যে খালিদ রেজা ওরফে সালার, মুফতুন, মুসা এবং ইমরান ওরফে আয়ান নামে চার শীর্ষ সন্ত্রাসী কমান্ডারও রয়েছে। এই চারজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও নিরীহ বেসামরিক নাগরিক হত্যার পাশাপাশি অসংখ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিল। এই সফল অভিযানের ফলে ওই অঞ্চলে সক্রিয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কটি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অত্যন্ত নিখুঁত ও সুপরিকল্পিত এই অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ৪৮ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। নিহতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনার কেন্দ্রীয় অ্যাপেক্স কমিটির অনুমোদিত ‘আজম-ই-ইস্তেকাম’ ভিশনের আওতায় এই কাউন্টার-টেররিজম অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এলাকা থেকে বাকি সন্ত্রাসীদের সম্পূর্ণরূপে নির্মূল না করা পর্যন্ত এই চিরুনি অভিযান এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টা পুরোদমে অব্যাহত থাকবে।

    এদিকে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এই বড় সাফল্যের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও প্রশংসা জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি।

  • মধ্যপ্রাচ্যে ধূলিসাৎ আমেরিকার ‘পরাশক্তি’ তকমা

    মধ্যপ্রাচ্যে ধূলিসাৎ আমেরিকার ‘পরাশক্তি’ তকমা

    কয়েক দিন আগেই হরমুজ প্রণালির কাছে আমেরিকার একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করে ইরান। এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে বিবৃতি দিয়েছেন, তাতে আগের মতো দম্ভ বা আধিপত্যের চেয়ে বরং চরম সতর্কতা ও দুর্বলতাই বেশি প্রকাশ পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বৈরুতে বোমাবর্ষণ অব্যাহত

    এর জবাবে ইরানও মার্কিন হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে ইসরাইলের পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হোয়াইট হাউসের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যেভাবে ট্রাম্পকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছেন, তাতে মার্কিন ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এখন বিশ্বমঞ্চে স্পষ্ট। আমেরিকার ইতিহাসে ট্রাম্পই প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি ইসরাইলের হয়ে সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ান। অথচ এই যুদ্ধের কারণে দেশের ভেতরে ট্রাম্প তীব্র জনরোষের মুখে পড়েছেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ অনুযায়ী, ৬০ ভাগ আমেরিকান নাগরিক এখন ইসরাইলের ওপর অসন্তুষ্ট। ফলে ট্রাম্প যুদ্ধটি দ্রুত শেষ করতে মরিয়া। কিন্তু নেতানিয়াহু তার কথা শুনছেন না। কেননা নেতানিয়াহু ভয় পাচ্ছেন যে, ট্রাম্প তেহরানকে অনেক বেশি ছাড় দিয়ে দিচ্ছেন। লেবাননে যুদ্ধবিরতি চলার কথা থাকলেও

    গত মার্চে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি বাহিনী ৩,৬০০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছে, যার বেশিরভাগই শিয়া মুসলমান। একই সঙ্গে লেবাননের এক-পঞ্চমাংশ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করে দেশের বিশাল এলাকা দখল করে নিয়েছে তারা। ইসরাইলের এই কর্মকাণ্ড মূলত আমেরিকার সঙ্গে ইরানের চুক্তিকে নসাৎ করার একটি সুনির্দিষ্ট চক্রান্ত। কিন্তু আমেরিকার রাজনীতিতে ইহুদি লবি বা ‘আইপ্যাক’-এর বিপুল অর্থায়ন এবং প্রভাবের কারণে ট্রাম্প চাইলেও নেতানিয়াহুকে দমাতে পারছেন না। ইসরাইলকে দেয়া প্রতি বছরের ৩৮০ কোটি ডলারের নিয়মিত সহায়তা ছাড়াও ট্রাম্প সম্প্রতি অতিরিক্ত ৮০০ কোটি এবং ৬৫০ কোটি ডলারের সমরাস্ত্র সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। মার্কিন এই বিপুল অস্ত্র ও অর্থ ছাড়া ইসরাইলের পক্ষে যুদ্ধ চালানো অসম্ভব হলেও, ট্রাম্প চাপ প্রয়োগের এই অস্ত্রটি ব্যবহার করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।

    ইরানের সাবেক শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির ‘কৌশলগত ধৈর্য’ নীতির দিন শেষ হয়েছে। তার মৃত্যুর পর নতুন নেতা মোজতবা খামেনির অধীনে ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এখন চরম আক্রমণাত্মক। অন্যদিকে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুসালেমে স্থানান্তর করা, খামেনিকে হত্যার নির্দেশ দেয়া এবং ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা আগেই হারিয়েছিলেন। গাজা যুদ্ধে ৭২ হাজার মানুষের মৃত্যুর পর বিশ্ব আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও ট্রাম্প তাকে সমর্থন দিয়ে গেছেন।

    কাতার চুক্তির মাধ্যমে গাজা যুদ্ধ থামানোর নাটক করা হলেও এরপরও সেখানে প্রায় ৯০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে, যা আমেরিকার দ্বিচারিতাকেই সামনে আনে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার মাদুরো সরকারের অপসারণের মাধ্যমে আমেরিকা যে আধিপত্য দেখিয়েছিল, ইরান যুদ্ধের কারণে তা এখন পুরোপুরি ম্লান হয়ে গিয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যের এক জরিপে দেখা গেছে, আরবের সাধারণ মানুষ এখন মার্কিন নেতৃত্বের চেয়ে চীন, রাশিয়া ও ইরানকে বেশি ইতিবাচকভাবে দেখছে। এই যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় রাশিয়ার অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে, যা তারা ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে আমেরিকা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেয়ায় সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছে চীন। উপসাগরীয় দেশগুলো আমেরিকার ওপর আস্থা হারিয়ে এখন চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা চুক্তি বাড়াতে আগ্রহী। ট্রাম্প এক সময় ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) স্লোগান দিলেও, মধ্যপ্রাচ্যে তার সব ভুল সিদ্ধান্তের কারণে তিনি মূলত আমেরিকাকে আরও দুর্বল ও হেয় প্রতিপন্ন করে তুলেছেন।

  • ‘আপনি আমার খেলা দেখেছেন?’ সাংবাদিককে বললেন রোনালদো

    ‘আপনি আমার খেলা দেখেছেন?’ সাংবাদিককে বললেন রোনালদো

    ফুটবলে যা কিছু জেতার আছে তার প্রায় সবই জিতেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। শুধু এক বিশ্বকাপই জেতা হয়নি। পর্তুগালের অধিনায়ক এখন ষষ্ঠ বিশ্বকাপে পা রাখছেন।

    তবে এর আগে প্রশ্ন উঠছে তার ফিটনেস নিয়ে। সবশেষ ২ ম্যাচে কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন তিনি। এরপর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের মুখোমুখি হলেন তিনি। শুক্রবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা রোনালদোর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

    তবে ৪১ বছর বয়সী এই তারকা সেই সংশয়কে পাত্তাই দেননি। চিলি ও নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে তার পারফরম্যান্সের কথা বলে নিজেই জবাব দিয়েছেন। রোনালদো বলেছেন, ‘শারীরিকভাবে? আমি ভালো আছি। আপনি কি ম্যাচগুলো দেখেননি?’

    ৪০ পেরিয়েও রোনালদোর গোল করার ধার কমেনি। ২০২৫-২৬ সৌদি প্রো লিগে আল-নাসরের হয়ে ৩০ ম্যাচে ১৬১টি শট নিয়ে ২৮ গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।

    এই সাফল্য ও গতিকে সঙ্গে নিয়ে এখন বিশ্বকাপে পর্তুগালকে এগিয়ে নিতে চান রোনালদো। দলের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি সন্তুষ্টির কথাও জানিয়েছেন।

    রোনালদো বলেছেন, ‘প্রস্তুতি ভালো হয়েছে, তবে ক্লান্তিকরও ছিল। কারণ আমরা অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছি। ম্যাচগুলোতে আমরা ভালো খেলেছি। তবে আসল বিষয় হলো ১৭ তারিখে, প্রথম ম্যাচে যখন বল মাঠে গড়াতে শুরু করবে এবং চাপ সত্যিকার অর্থে বাড়তে থাকবে, তখনই আসল চ্যাম্পিয়নরা বেরিয়ে আসবে।’

  • দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবেশের সময় জাল ভিসাসহ ৯ বাংলাদেশি আটক

    দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবেশের সময় জাল ভিসাসহ ৯ বাংলাদেশি আটক

    জাল ভ্রমণ নথি ও ভিসা ব্যবহার করে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ৯ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকার ওআর তাম্বো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁদের আটক করে দেশটির সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (বিএমএ)।

    দক্ষিণ আফ্রিকার সংবাদমাধ্যম আইউইটনেস নিউজ জানিয়েছে, বিএমএ—এর কর্মকর্তারা বলেছেন—কর্মকর্তারা ভ্রমণকারীদের নথিপত্রে অসঙ্গতি শনাক্ত করার পর তাঁদের থামিয়ে দেন। পরে যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, আটক হওয়া ৯ জনের কাছেই দক্ষিণ আফ্রিকার জাল ভিসা রয়েছে। এসব ভিসা ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকমিশন থেকে ইস্যু করা হয়েছে বলে দেখানো হয়েছিল।

    ঘটনার পর ওই নয়জনকে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    বিএমএর মুখপাত্র মেমে মোগোৎসি এক বিবৃতিতে বলেন, আটক হওয়া ৯ জনের মধ্যে তিনজন নারী। তাঁরা সাধারণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভ্রমণ করছিলেন। অন্যদিকে ছয়জন পুরুষ প্রথমে জাল ভারতীয় পাসপোর্ট উপস্থাপন করেন। তবে পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদ ও নথি যাচাইয়ের সময় ওই ছয়জন তাঁদের বাংলাদেশি পাসপোর্টও দেখান।

    বিএমএ জানিয়েছে, জাল নথিগুলোর উৎস শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের মতে, ঘটনাটি সীমান্ত নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জাল নথি চক্রের সম্ভাব্য কার্যক্রম নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে।

  • বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ৩টি লাল কার্ড দেখিয়ে বিতর্কে ব্রাজিলের রেফারি

    বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ৩টি লাল কার্ড দেখিয়ে বিতর্কে ব্রাজিলের রেফারি

    ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ থেকেই শুরু হলো বিতর্ক। আর এ বিতর্কের জন্ম দিলেন ব্রাজিলের রেফারি উইল্টন সাম্পাইয়ো। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দক্ষিণ আফ্রিকা-মেক্সিকোর মধ্যে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তিনটি লাল কার্ড দেখিয়ে বিতর্কের জন্ম দেন তিনি।

    ৪৪ বছর বয়সী উইল্টন সাম্পাইয়ো আন্তর্জাতিক ফুটবলে পরিচিত নাম। এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ফিফা রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। লাতিন আমেরিকার অন্যতম সেরা রেফারি হিসাবে বিবেচনা করা হয় তাকে। ২০০৯ সালে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ম্যাচ পরিচালনা শুরু করেন। আর ২০১৩ সালে পান ফিফা ব্যাজ।

    এবার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ পরিচালনার জন্য সাম্পাইয়োকে দায়িত্ব দিয়েছিল ফিফা। গত দুটি বিশ্বকাপেও ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। এ ছাড়া কোপা আমেরিকাসহ বেশ কিছু বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দায়িত্ব পালন করেছেন। কাতারে ইংল্যান্ড-ফ্রান্স কোয়ার্টার ফাইনালও পরিচালনা করেছেন তিনি। সেই ম্যাচে তাঁর নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। বেশি কার্ড দেখানোর অভিযোগ রয়েছে সাম্পাইয়োর বিরুদ্ধে। বিতর্ক প্রায় নিত্যসঙ্গী তার।

    গত রাতের ম্যাচে সাম্পাইয়ো প্রথম লাল কার্ড দেখান ৬৫ মিনিটে। সেটি নিয়ে যদিও প্রশ্ন ওঠেনি। মেক্সিকোর ব্রায়ান গুতিয়েরেজ প্রায় গোল করেই ফেলেছিলেন। তাকে পেছন থেকে ফাউল করেন ইয়াইয়া সিথোলে। পরে তাকে লাল কার্ড দেখানো হয়।

    এরপর ৮৫ মিনিটে একটি বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার থেম্বু জোয়ানে মেক্সিকোর আরভারাল্দোকে ধাক্কা মারেন। রেফারি প্রথমে কোনো ব্যবস্থা নেননি। এর পর ভিএআর-এর ডাকে মাঠের ধারে রিপ্লে দেখতে যান। রিপ্লে দেখার পরেই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন তিনি। থেম্বু জোয়ানেকে লাল কার্ড দেখানো হয়। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার দলের সদস্য আরও একজন কমে নয়জনে দাঁড়ায়।

    ম্যাচের শেষ লাল কার্ড দেখেন মেক্সিকোর অধিনায়ক সিজার মন্টেস। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার মুদাউকে ফেলে দেন।

    ২০০৬ বিশ্বকাপে পর্তুগাল বনাম নেদারল্যান্ডস ম্যাচের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের একটি ম্যাচে এতজন লাল কার্ড দেখলেন।

    লাল কার্ড দেখানো ছাড়াও আলোচনায় উঠে এসেছে সাম্পাইয়োর কড়া চাহনি এবং কঠিন অভিব্যক্তি। ম্যাচ কিছুটা গড়াতেই তার কিছু ছবি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তাকে নিয়ে অনেকেই মিম বানিয়েছেন, করছেন ট্রোল।