আর্ন্তজাতিক

  • ইরান-লেবাননকে সহায়তা দেবে চীন

    ইরান-লেবাননকে সহায়তা দেবে চীন

    যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে ইরান ও লেবাননকে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তার জন্য বেইজিং মানবিক সহায়তা দেবে।

    চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান রাজধানী বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইরান ও লেবাননের যুদ্ধে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ে চীন গভীরভাবে মর্মাহত।’

    তিনি বলেন, “সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চীন ইরান ও লেবাননকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশ দুটির জনগণকে পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তা করার পাশাপাশি অর্থনীতি ও জীবিকার উন্নয়নে সহযোগিতা করা হবে।”

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর এটি দ্বিতীয়বারের মতো তেহরানকে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিল বেইজিং। এর আগে মার্চ মাসেও চীন ইরানের জন্য মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছিল।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সম্মত হয়েছে। এ চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে বলে জানা গেছে।

    চীনের এই সহায়তা ঘোষণাকে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় দেশটির সক্রিয় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • ইরান যুদ্ধে আমেরিকা মাস্কের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে

    ইরান যুদ্ধে আমেরিকা মাস্কের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে

    ইরানের ওপর মার্কিন হামলায় ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ‘গ্রক’ ব্যবহার করা হয়েছিল। মার্কিন সরকারের একটি আইনি নথির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

    বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান ‘এক্সএআই’-এর একটি বিশাল ডেটা সেন্টারে ব্যবহৃত গ্যাস টারবাইন নিয়ে পরিবেশগত মামলার জবাবে মার্কিন বিচার বিভাগ এই তথ্য ফাঁস করে।

    যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, পরিবেশবাদী মামলার কারণে এই ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা হলে তা মার্কিন জাতীয়, অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে। কারণ এই এআই উদ্ভাবনটি সরাসরি মার্কিন যুদ্ধ বিভাগের সামরিক অভিযান পরিচালনা ও সহায়তায় ব্যবহৃত হচ্ছে।

    পেন্টাগনের এআই প্রধান ক্যামেরন স্ট্যানলি আদালতে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর এআই-সহায়ক লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণী কর্মসূচি ‘প্রজেক্ট মেভেন’-এ ইতিমধ্যেই গ্রক ব্যবহার করা হচ্ছে।

    তিনি আরো জানান, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন এই প্রজেক্টের মেভেন স্মার্ট সিস্টেমের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী মাত্র ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে দুই হাজার আলাদা আলাদা লক্ষ্যবস্তুতে দুই হাজারেরও বেশি গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করতে সক্ষম হয়।

    এই অভিযানের পেছনে মাস্কের প্রযুক্তি ও বিশেষ ‘গ্রক গভ মডেল’ অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে স্বীকার করে পেন্টাগন কর্মকর্তা গ্রকের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

    অবশ্য এই প্রজেক্টটি শুরুতে অ্যানথ্রপিক কোম্পানির ‘ক্লদ’ মডেল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। কিন্তু শতভাগ স্বয়ংক্রিয় হামলা চালাতে এবং মার্কিন নাগরিকদের ওপর ব্যাপক নজরদারিতে নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহারে অস্বীকৃতি জানালে গত ফেব্রুয়ারির শেষে অ্যানথ্রপিকের সাথে চুক্তি বাতিল করে মার্কিন সরকার।

    এরপর পেন্টাগন গুগল, ওপেনএআই ও এক্সএআই-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোর দিকে হাত বাড়ায়। যদিও গুগল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শত শত কর্মী সামরিক বাহিনীর গোপন অভিযানে এআই ব্যবহারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাছাড়া মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই এআই প্রযুক্তিতে রূপান্তর পুরোপুরি সফল হতে সময় লাগছে। ফলে গত মার্চ মাসেও সরকার স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তখনো ‘ক্লদ’ মডেলের ব্যবহার করা হচ্ছিল।

    এদিকে, কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের অধিকার রক্ষা বিষয়ক সংগঠন এনএএসিপি ক্লিন এয়ার অ্যাক্ট লঙ্ঘনের দায়ে মাস্কের এক্সএআই-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, কোনো অনুমতি ছাড়াই ডজন খানেক টারবাইন চালিয়ে কৃষ্ণাঙ্গ প্রধান এলাকাগুলোতে ব্যাপক দূষণ ছড়ানো হচ্ছে । তবে এক্সএআই-এর দাবি, এই টারবাইনগুলো অস্থায়ী ও স্থানান্তরযোগ্য হওয়ায় এগুলো নীতিমালার আওতায় পড়ে না।

    উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইলন মাস্ক গত ফেব্রুয়ারিতে এক্সএআইকে তার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের সাথে যুক্ত করেন, যা গত ১২ জুন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও সম্পন্ন করেছে।

    এ/জেড

  • জিম্বাবুয়েতে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৯

    জিম্বাবুয়েতে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৯

    জিম্বাবুয়ের দক্ষিণে একটি মালবাহী ট্রেনের সাথে বাসের সংঘর্ষে দুই শিশুসহ নয়জন নিহত এবং আরো ২৫ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    ন্যাশনাল রেলওয়েজ অফ জিম্বাবুয়ের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু কানাম্বুরা সাংবাদিকদের বলেন, ‘চিরেডজি জেলার ট্রায়াঙ্গেলের এমবিজি রোডে এই সংঘর্ষটি ঘটে।

    জিম্বাবুয়ের জাতীয় পুলিশের মুখপাত্র পল নায়াথি বলেন, নিহতদের মধ্যে সাতজন প্রাপ্তবয়স্ক ও দুইজন শিশু রয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, পুলিশ এখনো তদন্ত করছে। শিগগিরই আরো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

    এর আগে, মধ্য জিম্বাবুয়েতে স্কুলছাত্র বহনকারী একটি মিনিবাসে আগুন লেগে সাতজন নিহত হয়। এর এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটল।

  • জন্মদিনে নিজেকে ‘উপহার’ দিতে পারবেন সালাহ?

    জন্মদিনে নিজেকে ‘উপহার’ দিতে পারবেন সালাহ?

    মোহাম্মদ সালাহ আজ জন্মদিনটা কীভাবে উদ্‌যাপন করবেন?

    ৩৩ বছর কেটে গেল, কেউ কি কথা রাখল?

    নিজের কাছে দেওয়া একটা কথা হয়তো সালাহ নিজেই রাখতে পারেননি। ক্লাব ক্যারিয়ারে লিভারপুলের হয়ে জিতেছেন সম্ভাব্য সবকিছুই; কিন্তু আজ যখন বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামবেন, একটা বড় অতৃপ্তি ঘোচাতে চাইবেন। বিশ্বকাপে তিনবার খেলেও এখন পর্যন্ত জয় পায়নি মিসর। সালাহর জন্য আজকের ম্যাচটা তাই বড় একটা চ্যালেঞ্জও।

    সালাহর জন্য হয়তো বিশ্বকাপে এটাই বড় কিছু করার শেষ সুযোগ। চার বছর পর বয়স হবে ৩৭। এমনিতেই ক্লাব ক্যারিয়ারে একটা পালাবদলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। লিভারপুলের হয়ে সবকিছু জেতার পর এই মৌসুমেই বিদায় বলেছেন অ্যানফিল্ডকে। এক অর্থে বেলজিয়ামের ম্যাচটা সালাহর জন্য নতুন একটা শুরুও।

    পালাবদলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আজ মিসরের প্রতিপক্ষ বেলজিয়ামও। এডেন হ্যাজার্ড, কেভিন ডি ব্রুইন, রোমেলু লুকাকুদের সোনালি প্রজন্ম অনেক আশা জাগিয়েও জিততে পারেনি কিছু। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সাফল্য বলতে ২০১৮ বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া। ২০২২ বিশ্বকাপে আলোচনায় থাকলেও সেবার বেলজিয়াম গ্রুপ পর্ব পেরোতেই পারেনি।

    মিশরের জার্সিতে সালাহ

    ডি ব্রুইন সেরা সময়টা পেছনে ফেলে এসেছেন আগেই, চোটের সংগ্রাম করতে থাকা লুকাকু এই মৌসুমে মাঠেই নেমেছেন মাত্র সাত ম্যাচে। থিবো কোর্তোয়া ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে এখনো দাপটে খেলছেন, তবে এই আসরের পর বেলজিয়ামের হয়ে বড় কিছুর সুযোগ পাবেন কি না আর বলা কঠিন। তাঁদের জন্যও এই বিশ্বকাপটা কিছু করার শেষ একটা সুযোগ।

    এক অর্থে বেলজিয়ামের ওপর কোনো চাপও নেই এবার। ফেবারিটদের তালিকায় কেউ তাদের ধরছে না, এই বিশ্বকাপে এক অর্থে নতুন একটা শুরু হচ্ছে তাদের।

    সালাহর ওপর খানিকটা চাপ তো আছেই। ২০১৮ বিশ্বকাপের আগে ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে লিভারপুলের বিপক্ষে পেলেন চোট। বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলতে পারলেন না, চোট কাটিয়ে ফিরলেও নিজেকে হারিয়ে খুঁজেছেন। এরপর ২০২২ বিশ্বকাপে সেনেগালের কাছে হেরে তো প্লে–অফ থেকেই বাদ পড়ল মিসর। এবারের বাছাইপর্বে অবশ্য মিসর সহজেই উতরে এসেছে।

    সালাহর জন্য একটু আশা হতে পারে দলের বেশ কিছু তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের উপস্থিতি। ওমর মারমুশ ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে এর মধ্যেই নিজেকে চিনিয়েছেন। আছেন ডেনমার্কের দল নরশেলানে খেলা ইব্রাহিম আদেল; আর তাঁদের কোচ হোসেম হাসান, মিসরের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড যাঁর। সালাহর গোল এখন ৬৭, হোসেমের চেয়ে দুই গোল কম। এই বিশ্বকাপে প্রাপ্তির খাতায় এখানেও কিছু যোগ করার আছে সালাহর। যে শুরুটা করতে চাইবেন বেলজিয়ামের বিপক্ষে।

  • কবে থেকে আর্জেন্টিনার ভক্ত জানালেন পারশা

    কবে থেকে আর্জেন্টিনার ভক্ত জানালেন পারশা

    এ মুহূর্তে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ফুটবল উন্মাদনায় সারা বিশ্ব। থেমে নেই বাংলাদেশের বিনোদন জগতের তারকারাও। নিজেদের প্রিয় দল নিয়ে মেতে উঠেছেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পারশা মাহজাবীন পূর্ণি আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন। প্রিয় দলকে শুভকামনা জানিয়েছেন তিনি।

    ফুটবল নিয়ে সেই চিরচেনা ভালোবাসার কথা এবার অকপটে স্বীকার করলেন জেন-জির জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পারশা মাহজাবীন পূর্ণি। ছোটবেলা থেকেই লাতিন আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনার কট্টর সমর্থক তিনি। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে নিজের ফুটবল প্রেমের কথা শোনালেন এ সংগীতশিল্পী।

    আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল মাঠ এবং মাঠের বাইরের এই চিরচেনা ফুটবল বৈরিতা বা দ্বৈরথ বেশ আনন্দ দেয় বলে জানান এ সংগীতশিল্পী। পারশার মাহজাবীন পূণি বলেন, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুদলের ম্যাচ মানেই মাঠের বাইরে ভক্ত-সমর্থকদের মাঝে কথার লড়াই, আবার কখনো তা হাতাহাতিতেও রূপ নেয়।

    তিনি বলেন, আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোলাগা প্রসঙ্গে পারশা মাহজাবীন পূর্ণি বলেন, আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করি ছোটবেলা থেকে। আমার বড় ভাই দেখতাম যে পতাকা নিয়ে আসত অনেক বড় বড়। তো বাসায় যে রকম পতাকা লাগাত, ওই জায়গা থেকে আর্জেন্টিনার প্রতি একটা আলাদা ভালোবাসা।

  • বিশ্বকাপে ইয়ামাল কেন ১০ নম্বর জার্সি পরবেন না

    বিশ্বকাপে ইয়ামাল কেন ১০ নম্বর জার্সি পরবেন না

    স্পেনের সবচেয়ে বড় তারকা কে? বেশির ভাগ মানুষই বলবেন লামিনে ইয়ামাল। তাঁকে ঘিরেই তো ২০১০ সালের পর আবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন। বড় তারকা, বড় ফুটবলার, আবার খেলেন আক্রমণভাগে—এমন ফুটবলাদের ১০ নম্বর জার্সিই পরতে দেখা যায় সাধারণত।

    তবে স্পেনের সবচেয়ে বড় ফুটবল তারকা হলেও এবারের বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সি গায়ে উঠছে না ইয়ামালের। বার্সেলোনার হয়ে ১০ নম্বর জার্সি পরলেও, জাতীয় দলে তাঁর এই বিখ্যাত নম্বরটি না পাওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে আছে স্পেন ফুটবলের বহু বছরের এক ঐতিহ্য।

    দলটির নিয়ম অনুযায়ী, যে খেলোয়াড়ের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা যত বেশি, জার্সি নম্বর বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি তত বেশি অগ্রাধিকার পাবেন। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সম্মান জানাতেই মূলত এই নিয়ম মেনে চলা।

    আর সে কারাণেই এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের ১০ নম্বর জার্সিটি থাকছে দানি ওলমোর কাছে। স্পেনের হয়ে ৫০টি ম্যাচ খেলা ওলমো ইয়ামালের অভিষেকের আগে থেকেই ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলছেন। অন্যদিকে ২০২৩ সালে অভিষেক হওয়া ইয়ামালের ঝুলিতে ২৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা।
    ওলমো অবশ্য বার্সেলোনাতে ইয়ামালের সতীর্থ, সেখানে ইয়ামালাই ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলেন। ২০২১ সালে মেসির বিদায়ের পর জার্সিটি প্রথমে আনসু ফাতিকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইনজুরি আর প্রত্যাশার চাপ মিলিয়ে তিনি বার্সাতে থিতু হতে পারেননি।

    পরে ১০ নম্বর জার্সিটি ইয়ামালকে দেওয়া হয়। ঐতিহাসিক জার্সি গায়ে জড়ানোর পর থেকে ইয়ামাল দুর্দান্ত পারফর্মও করছেন। ৪৫ ম্যাচে ২৪টি গোল এবং ১৭টি অ্যাসিস্ট করে ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম পার করেছেন এবার। তবে নিজের বিশ্বকাপ অভিষেকে ১০ নম্বর জার্সিটা পাচ্ছেন না ইয়ামাল।

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, দলের ভেতরে জার্সি নম্বর নিয়ে কোনো অসন্তোষ নেই। তরুণ ইয়ামাল দলের নিয়মকানুন খুব ভালোভাবেই বোঝেন, বার্সেলোনায় তাঁর সতীর্থ ওলমোর সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক বেশ ভালো।

    এই ছবিটি পোস্ট করেন ইয়ামালইনস্টাগ্রাম

    দলের সবচেয়ে বড় তারকার গায়ে ১০ নম্বর জার্সি থাকলে বাণিজ্যিকভাবে সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বাণিজ্যিক লাভের চেয়ে দলের অভিজ্ঞদের সম্মান জানানো এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।

    এবারের বিশ্বকাপে নতুন জার্সি নম্বর হিসেবে ইয়মাল বেছে নিয়েছেন ১৯। সম্প্রতি ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল তাঁর বিশ্বকাপ জার্সি উন্মোচন করে সবাইকে চমকে দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইয়ামাল একটি কোলাজ ছবি শেয়ার করেন, যেটিতে আছে মেসির জার্সিও।

    ছবিটির এক পাশে ২০০৬ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির বিশ্বকাপ অভিষেক জার্সির ছবি, অন্য পাশে এবারের বিশ্বকাপে ইয়ামালের জার্সির ছবি। যেহেতু ১০ নম্বর জার্সিটা পাচ্ছেন না, ইয়ামাল তাই খেলবেন তাঁর ছোটবেলার নায়কের অভিষেক বিশ্বকাপের জার্সি নম্বর পরে।

  • রূপপুরের প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে শনাক্ত ত্রুটি উদ্বেগজনক নয়, জানাল এনপিসিবিএল

    রূপপুরের প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে শনাক্ত ত্রুটি উদ্বেগজনক নয়, জানাল এনপিসিবিএল

    রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলাকালে শনাক্ত হওয়া একটি কারিগরি বিচ্যুতি নিয়ে আতঙ্কিত বা বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছে কেন্দ্রটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নিউক্লিয়ার পাওয়ার কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)।

    সংস্থাটির মতে, বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে এ ধরনের ক্ষুদ্র ত্রুটি শনাক্ত ও সংশোধন করা কমিশনিং প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক এবং বাধ্যতামূলক অংশ।

    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কার্যক্রম শুরুর আগেই গুরুতর কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে, এমন দাবি প্রচারিত হলে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। তবে এসব তথ্যকে বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতা বিবর্জিত বলে উল্লেখ করে প্রত্যাখ্যান করেছেন এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান।

    সোমবার (১৫ জুন) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। কিছু মহলের প্রচারিত বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য অযথা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে, যার সঙ্গে প্রকৃত পরিস্থিতির কোনো মিল নেই।’

    ড. জাহেদুল হাসান জানান, কেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে একাধিক নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এ সব পরীক্ষায় সামান্য বিচ্যুতি শনাক্ত হওয়া বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতারই প্রমাণ।

    তিনি বলেন, ‘সেকেন্ডারি সার্কিটে ৮ দশমিক ১ মেগাপাস্কাল (এমপিএ) চাপে পরিচালিত লিক-টাইটনেস টেস্ট একটি বাধ্যতামূলক ও নিয়মিত পরীক্ষা, যা প্রতিবার কেন্দ্র শাটডাউন অবস্থা থেকে অপারেশনাল অবস্থায় যাওয়ার সময় সম্পন্ন করা হয়। পারমাণবিক ও বিদ্যুৎ উৎপাদন শিল্পে এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি প্রচলিত প্রক্রিয়া।’

    তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার সময় নির্ধারিত গ্রহণযোগ্যতার মানদণ্ডের তুলনায় একটি কারিগরি বিচ্যুতি শনাক্ত হয়। প্রতিষ্ঠানের কঠোর নিরাপত্তা সংস্কৃতির অংশ হিসেবে ক্ষুদ্রতম বিচ্যুতিকেও গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা হয় এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তা অনুমোদন দেওয়া হয় না।

    তিনি বলেন, ‘এই বিচ্যুতি শনাক্ত হওয়াই প্রমাণ করে যে প্রকল্পের নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ব্যবস্থা যথাযথভাবে কাজ করছে।’

    বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পরমাণুবিজ্ঞানী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জ্বালানি লোডিং বা কমিশনিং পর্যায়ে এ ধরনের ক্ষুদ্র কারিগরি বিষয় শনাক্ত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কোনো বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে প্ল্যান্ট শাটডাউন করতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতি সে ধরনের নয় এবং এটিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনেরও কোনো কারণ নেই।’

    বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। রূপপুর প্রকল্পকে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে গড়ে তুলতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, প্রথম প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের ওপর ভিত্তি করে রূপপুরে আরও দুটি নতুন ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক বিদ্যুৎ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অন্যান্য অনেক জ্বালানি উৎসের তুলনায় অধিক সাশ্রয়ী হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটে গত ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে কমিশনিং কার্যক্রম চলছে। দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ ও প্রস্তুতিমূলক কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। একই বছরের জুনে দ্বিতীয় ইউনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হবে এবং সেপ্টেম্বরে দুটি ইউনিট থেকে সম্মিলিতভাবে প্রায় ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।

  • ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তিচুক্তিকে স্বাগত জানাল বিশ্বনেতারা

    ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তিচুক্তিকে স্বাগত জানাল বিশ্বনেতারা

    ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানালেন বিশ্বনেতারা

    দীর্ঘ বৈরিতা ও সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। উভয় পক্ষই এই ঐতিহাসিক সমঝোতার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। দুই দেশের এমন আকস্মিক ও ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ ও স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘসহ বিশ্বের শীর্ষ প্রভাবশালী দেশের রাষ্ট্রনেতারা।

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় উভয় পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করবে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীও নিশ্চিত করেছেন যে, আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পর শুক্রবার সুইজারল্যান্ডেই পরবর্তী করণীয় নিয়ে আরও উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

    দুই চিরবৈরী দেশের এই সমঝোতাকে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশ্বনেতারা।

    সফল এই শান্তি আলোচনার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মধ্যস্থতাকারী দেশ—পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জাতিসংঘ প্রধান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই চুক্তিকে ‘সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই চুক্তির অগ্রগতিকে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।

    চুক্তিটিকে স্বাগত জানালেও এর পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছেন ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা।

    ফরাসি প্রেসিডেন্ট এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গভাবে এর শর্তগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি লেবানন সংকটের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি।

    তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এই কাঠামোগত চুক্তিকে স্বাগত জানালেও একটি বিষয়ে গভীর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আগামী শুক্রবার চূড়ান্ত স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এমন যেকোনো বক্তব্য, উসকানি এবং সম্ভাব্য নাশকতা থেকে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

    প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দুই প্রভাবশালী দেশও এই চুক্তি নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বিশ্ব সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এই ঐতিহাসিক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই শান্তির পথে এগিয়ে যেতে হবে। তবে তাঁরা মনে করিয়ে দেন, ইরানকে অবশ্যই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বের দীর্ঘদিনের উদ্বেগগুলো দূর করতে হবে।

    অন্যদিকে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক্স-এ লিখেছেন, তিনি আশা প্রকাশ করেন এই চুক্তির মাধ্যমে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় ‘নিরাপদ ও অবাধ নৌচলাচল’ নিশ্চিত হবে এবং ইরানের পারমাণবিক ইস্যুসহ অন্যান্য অমীমাংসিত সংকটের দ্রুত সমাধান ঘটবে।

  • আলভারেজ নাকি লাওতারো, নতুন করে ভাবতে হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে

    আলভারেজ নাকি লাওতারো, নতুন করে ভাবতে হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে

    আগামী বুধবার সকাল ৭টায় বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। তার আগে আকাশি–সাদার সমর্থকদের মাথায় হয়তো একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, কে হবেন লিওনেল স্কালোনির শুরুর একাদশের নাম্বার নাইন।

    খেলাধুলাবিষয়ক আর্জেন্টাইন টিভি চ্যানেল টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, এত দিন লাওতারো মার্তিনেজই ছিলেন কোচের প্রথম পছন্দ।

    কারণ, হুলিয়ান আলভারেজ পায়ের গোড়ালির চোটে ভুগছিলেন। সে জন্য হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে লাওতারোকেই কাজে লাগিয়েছেন স্কালোনি। হন্ডুরাস ম্যাচে বল পায়ে দ্যুতিও ছড়ান লাওতারো। এক গোলের সঙ্গে সতীর্থ জুলিয়ানো সিমিওনেকে দিয়েও গোল করান তিনি।

    কিন্তু হুলিয়ান চোট কাটিয়ে ফেরায় আক্রমণভাগ নিয়ে নতুন করেই ভাবতে হচ্ছে আর্জেন্টাইন কোচকে। এরই মধ্যে দলের সঙ্গে অনুশীলনও শুরু করেছেন এই ফরোয়ার্ড।

    আর্জেন্টিনা দলের অনুশীলন

    তবে এখনি বলা যাচ্ছে না শেষ পর্যন্ত কে হবেন স্কালোনির শুরুর একাদশের নাম্বার নাইন। টিওয়াইসি স্পোর্টস অবশ্য জানিয়েছে, যদি আলভারেজ ফিটনেস পরীক্ষায় উতরে যান, তাহলে কোচের পছন্দে এগিয়ে থাকবেন তিনিই।

    যদিও দুজনই নিজ নিজ ক্লাবের হয়ে দারুণ ফর্মে। লা লিগার দল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে খেলা আলভারেজ ৪৯ ম্যাচ খেলে করেছেন ২০ গোল। অন্যদিকে ইন্টার মিলানের জার্সিতে লাওতারোর গোল ৪১ ম্যাচে ২২টি।

    বিশ্বকাপেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন আলভারেজ। কাতার বিশ্বকাপে সাত ম্যাচ খেলে করেন চার গোল, সঙ্গে এক গোলে সহায়তাও। যেখানে লাওতারোর নামের পাশে নেই কোনো গোল। একটি বিশ্বকাপ খেলেছেন তিনিও, সেটি ২০২২ কাতারে। সেই আসরে ৬ ম্যাচ খেলে কোনো গোল করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত কার ওপর স্কালোনি ভরসা রাখেন, সেটাই এখন দেখার।

  • মেসির সঙ্গে রোনালদিনহোর সম্পর্ক কেমন ছিল, পর্দায় সেই সময়ের গল্প

    মেসির সঙ্গে রোনালদিনহোর সম্পর্ক কেমন ছিল, পর্দায় সেই সময়ের গল্প

    তাঁর কথা শুনলেই পরিসংখ্যানের আগে চোখে ভেসে ওঠে আনন্দ। গোল, শিরোপা কিংবা রেকর্ড নয়, তাঁদের স্মরণ করা হয় খেলার সৌন্দর্যের জন্য। ব্রাজিলের সাবেক খেলোয়াড় রোনালদিনহো সেই তালিকার অন্যতম।

    মাঠে বল পায়ে তাঁর হাসি, প্রতিপক্ষকে বোকা বানানো ড্রিবল, অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলা পাস কিংবা দর্শকদের জন্য ফুটবলকে বিনোদনের শিল্পে পরিণত করার ক্ষমতা তাঁকে অন্য সবার থেকে আলাদা করেছে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবলপ্রেমীদের মনে একই প্রশ্ন ঘুরেফিরে এসেছে—রোনালদিনহো আসলে কে?

    সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই নতুন তথ্যচিত্র ‘রোনালদিনহো: দ্য ওয়ান অ্যান্ড অনলি’। বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে গত এপ্রিলে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় তথ্যচিত্রটি। তিন পর্বের এই তথ্যচিত্র শুধু একজন ফুটবলারের গল্প নয়; এটি এক দরিদ্র ব্রাজিলিয়ান ছেলের বিশ্বজয়ের কাহিনি, যার মুখে সব সময় হাসি ছিল, কিন্তু জীবনে ছিল সংগ্রাম, ট্র্যাজেডি, বিতর্ক এবং অবিশ্বাস্য সাফল্য।

    পোর্তো অ্যালেগ্রের ছোট্ট ছেলেটি
    রোনালদিনহোর জন্ম ১৯৮০ সালে ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলের শহর পোর্তো অ্যালেগ্রেতে। তাঁর পুরো নাম রোনালদো দে আসিস মোরেইরা। ফুটবল তাঁর পরিবারের রক্তেই ছিল। বাবা জোয়াও ছিলেন অপেশাদার ফুটবলার এবং জাহাজ নির্মাণ কারখানার কর্মী। বড় ভাই রবার্তো পেশাদার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন।

    কিন্তু রোনালদিনহোর শৈশব সুখের ছিল না। মাত্র আট বছর বয়সে বাবাকে হারান তিনি। পরিবারের ওপর নেমে আসে আর্থিক সংকট। তথ্যচিত্রে পরিবারের সদস্যরা সেই সময়ের কথা স্মরণ করেছেন। সেখানে দেখা যায়, ফুটবলই ছিল ছোট্ট রোনালদিনহোর একমাত্র আশ্রয়।

    রাস্তার ফুটবল থেকে বিশ্বমঞ্চ
    ব্রাজিলের অলিগলি, সৈকত আর ছোট ছোট মাঠে ফুটবল খেলেই বড় হয়েছেন রোনালদিনহো। তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে কীভাবে অল্প বয়সেই তাঁর অসাধারণ প্রতিভা সবার নজর কাড়ে। ১৩ বছর বয়সে এক ম্যাচে ২৩ গোল করার ঘটনাও আবার আলোচনায় এসেছে। খুব দ্রুতই তিনি ব্রাজিলিয়ান ক্লাব গ্রেমিওর নজরে আসেন। সেখান থেকেই শুরু পেশাদার ফুটবলের যাত্রা।

    তথ্যচিত্রে পুরোনো ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কিশোর রোনালদিনহোর খেলার ধরন তখনই অন্যদের থেকে আলাদা ছিল। তিনি শুধু গোল করতে চাইতেন না; দর্শকদের আনন্দ দিতে চাইতেন।

    ‘রোনালদিনহো: দ্য ওয়ান অ্যান্ড অনলি’র দৃশ্য। নেটফ্লিক্স

    ইউরোপ জয়
    ফ্রান্সের পিএসজি ক্লাবে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে ইউরোপীয় ফুটবলে প্রবেশ করেন রোনালদিনহো। কিন্তু তাঁর প্রকৃত উত্থান ঘটে স্পেনের বার্সেলোনায়।
    তথ্যচিত্রের সবচেয়ে আবেগঘন অংশগুলোর একটি হলো বার্সেলোনা অধ্যায়। ক্লাবটি তখন সংকটের মধ্যে। সমর্থকেরা হতাশ। সেই সময় রোনালদিনহো এসে শুধু দলটিকেই বদলে দেননি, বদলে দিয়েছিলেন পুরো ক্লাবের মানসিকতা।

    ২০০৫ সালে তিনি জেতেন ব্যালন ডিঅর। একই সময়ে বার্সেলোনাকে আবার ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর একটিতে পরিণত করেন। তথ্যচিত্রে সাবেক সতীর্থদের ভাষ্য থেকে জানা যায়, রোনালদিনহোর উপস্থিতি ছিল সংক্রামক। তিনি মাঠে যেমন হাসতেন, অনুশীলনেও তেমনি আনন্দ ছড়িয়ে দিতেন।

    মেসির জীবনে রোনালদিনহো
    তথ্যচিত্রের অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ হলো লিওনেল মেসির সঙ্গে রোনালদিনহোর সম্পর্ক। আজকের মেসিকে সবাই চেনে। কিন্তু ২০০৪ সালে তিনি ছিলেন লাজুক এক কিশোর। রোনালদিনহোই প্রথম তাঁকে ড্রেসিংরুমে আপন করে নিয়েছিলেন। বার্সেলোনার মূল দলে মেসির অভিষেকের সময় রোনালদিনহো ছিলেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা। মেসির প্রথম গোলটির অ্যাসিস্টও করেছিলেন রোনালদিনহো। তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে, কীভাবে তিনি তরুণ মেসিকে আগলে রেখেছিলেন এবং ড্রেসিংরুমে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিলেন। অনেক বিশ্লেষকের মতে, বার্সেলোনার ইতিহাসে মেসির উত্থানের পেছনে রোনালদিনহোর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যচিত্রে মেসিও সেই সময়ের স্মৃতি ভাগাভাগি করেছেন।

    রোনালদোর গল্পেও তাঁর ছায়া
    আরেকটি মজার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে তথ্যচিত্রে। ২০০৩ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড রোনালদিনহোকে দলে নেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি বার্সেলোনা বেছে নেন। ফলে ইউনাইটেডে একটি উইঙ্গারের জায়গা খালি থেকে যায়। সেই সুযোগেই ক্লাবে আসেন ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

    ২০০২ বিশ্বকাপের নায়ক
    ব্রাজিলের পঞ্চম বিশ্বকাপ জয়ও তথ্যচিত্রে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ২০০২ সালে রিভালদো, রোনালদো ও রোনালদিনহোকে নিয়ে গঠিত আক্রমণভাগ ছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর ত্রয়ী। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই বিখ্যাত ফ্রি-কিক গোল আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত। সেটি কি শট ছিল, নাকি ক্রস? প্রশ্নটির উত্তর এখনো পুরোপুরি মেলেনি। কিন্তু গোলটি ব্রাজিলকে সেমিফাইনালে নিয়ে যায়। পরে দলটি বিশ্বকাপও জিতে নেয়।

    ‘রোনালদিনহো: দ্য ওয়ান অ্যান্ড অনলি’র পোস্টার। নেটফ্লিক্স

    শুধু সাফল্য নয়, বিতর্কও
    তথ্যচিত্রটি রোনালদিনহোর জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়গুলোও এড়িয়ে যায়নি। ক্যারিয়ারের শেষভাগে ফিটনেস সমস্যা, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং মাঠের বাইরের নানা সমালোচনার বিষয় উঠে এসেছে। বিশেষ করে ২০২০ সালে প্যারাগুয়েতে ভুয়া পাসপোর্ট ব্যবহার করে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাটি তথ্যচিত্রে আলোচিত হয়েছে।
    নির্মাতারা দেখানোর চেষ্টা করেছেন, বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়তা কখনো কখনো একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবনকে কতটা জটিল করে তুলতে পারে।

    কেন তিনি এত প্রিয়?
    রোনালদিনহোর ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান অসাধারণ। তিনি বিশ্বকাপ জিতেছেন, চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন, ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। কিন্তু তথ্যচিত্রটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে—মানুষ তাঁকে শুধু শিরোপার জন্য মনে রাখে না। কারণ, তিনি ফুটবল খেলতেন আনন্দ নিয়ে। যে যুগে ফুটবল ক্রমেই কৌশল, অর্থনীতি এবং ব্যবসার মধ্যে বন্দী হয়ে পড়ছিল, সেই সময় রোনালদিনহো দর্শকদের মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে ফুটবল মূলত আনন্দের খেলা। তথ্যচিত্রটি দেখায়, কীভাবে তিনি শুধু ম্যাচ জিতেননি, ফুটবল খেলার ধরনও বদলে দিয়েছিলেন। তাঁর ‘নো-লুক পাস’, ‘এলাস্টিকো’ ড্রিবল, অসম্ভব ফ্রি-কিক কিংবা প্রতিপক্ষকে অপদস্থ করে দেওয়া স্কিল আজও ইউটিউব যুগের আগের ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে জীবন্ত।

    এই তথ্যচিত্রের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো, এটি রোনালদিনহোকে দেবতা বানানোর চেষ্টা করেনি। বরং একজন মানুষ হিসেবে তাঁকে দেখিয়েছে। এখানে যেমন আছে কিংবদন্তির উত্থান, তেমনি আছে ভুল সিদ্ধান্ত। যেমন আছে সাফল্যের ঝলক, তেমনি আছে ব্যর্থতার অন্ধকার। ফলে দর্শক শুধু একজন ফুটবল তারকাকে দেখেন না; একজন মানুষকেও চিনতে পারেন।