আর্ন্তজাতিক

  • সাদমানকে ১রানের জন্য সেঞ্চুরির অপেক্ষায় রেখে দিন শেষ বাংলাদেশের

    সাদমানকে ১রানের জন্য সেঞ্চুরির অপেক্ষায় রেখে দিন শেষ বাংলাদেশের

    ঢাকায় মিরপুর টেস্টের প্রথমদিনের শেষদিকে সবাই অপেক্ষায় ছিলো সাদমানের সেঞ্চুরির জন্য। তিন অঙ্ক থেকে মাত্র চার রান দূরে ছিলেন তিনি। ঠিক তখনই আলোকস্বল্পতায় বন্ধ হয়ে গেল খেলা। পরে আবার শুরু হলেও ৪ ওভারের বেশি খেলা হয়নি। ফলে অপেক্ষা বেড়ে গেল ৩১ বছর বয়সী ওপেনারের শতকের।

    আলোকস্বল্পতায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে গেছে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনের খেলা। নিজের সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ৯৯ রানে অপরাজিত সাদমান। বাংলাদেশ দিনের খেলা শেষ করেছে ৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে।

    দিনের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। তবে দলীয় ৯ রানে তানজিদ হাসানকে হারিয়ে শুরুতেই ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। এরপর সাদমান ও মুমিনুল হকের ৫৯ রানের জুটি প্রাথমিক চাপ সামাল দেয়। মুমিনুল ২৮ রান করে ফিরলে সাদমানের সঙ্গে যোগ দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

    দ্বিতীয় উইকেটে সাদমান ও শান্তর জুটি বড় হয়নি। ৪২ বলে ১৯ রান করে জোমেল ওয়ারিকানের বলে এলবিডব্লিউ হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ওয়েস্ট ইন্ডিজ রিভিউ নেওয়ার পর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে যায়। এরপর সাদমানের সঙ্গে জুটি গড়েন তাওহিদ হৃদয়।

    ধীরে ধীরে ইনিংস বড় করেন সাদমান। তুলে নেন ক্যারিয়ারের দশম টেস্ট অর্ধশতক। অন্য প্রান্তে তুলনামূলক দ্রুত রান তুলছিলেন হৃদয়। তৃতীয় উইকেটে দুজনের জুটিতে আসে ৬৭ রান। চা বিরতির সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৭৭ রান। সাদমান ৭৯ ও হৃদয় ৩৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।

    চা বিরতির পরও রান বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখেন দুজন। তবে ক্র্যাম্পের কারণে বিপাকে পড়েন হৃদয়। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ব্যাটিংয়ে ফিরলেও জশুয়া বিশপের ওভারে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে আবারও ব্যথায় কাবু হয়ে পড়েন তিনি। ৮৪ বলে ৪২ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন এই ব্যাটার। পরে তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়। হৃদয়ের জায়গায় ব্যাট করতে নামেন লিটন দাস। পরে আলোকস্বল্পতার জন্য খেলা বন্ধ রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত আর খেলা মাঠে গড়ায়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ওয়ারিকান দুইটি এবং সিলস একটি উইকেট পেয়েছেন।

  • অভিষেকের ব্যাটের রেকর্ডে সিরিজ জিতল ভারত

    অভিষেকের ব্যাটের রেকর্ডে সিরিজ জিতল ভারত

    ১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে যেন নিউজিল্যান্ডের বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালালেন ভারতের অভিষেক শর্মা। মাত্র ৩৮ বলে ১১৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে একের পর এক রেকর্ড গড়লেন বাঁহাতি ওপেনার। তার সঙ্গে বৈভব সূর্যবংশীর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ৪০ বল হাতে রেখেই ৮ উইকেটের জয় পেয়েছে ভারত।

    এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে আগে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৯৮ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারত পাওয়ারপ্লেতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।

    শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন অভিষেক। চার-ছক্কার বৃষ্টিতে কিউই বোলারদের দিশেহারা করে মাত্র ৩৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৯টি চার ও ১১টি ছক্কায় ৩৮ বলে ১১৩ রান করে আউট হন এই ওপেনার। অভিষেকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলেছেন ১৯ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশীও। মাত্র ১৯ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

    ভারতের ইনিংসের শুরুটা ছিল রেকর্ডময়। মাত্র ২.২ ওভারে ৫০ রান তুলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম দলীয় অর্ধশতকের যৌথ রেকর্ড গড়ে তারা। এরপর মাত্র পাঁচ ওভারেই একশ রানের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলে ভারত। পাওয়ারপ্লে শেষে বিনা উইকেটে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১১৮ রান। যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পূর্ণ সদস্য দেশের সর্বোচ্চ পাওয়ারপ্লে সংগ্রহ।

    অভিষেকের সেঞ্চুরিও রেকর্ডের তালিকায় নতুন সংযোজন। ৩৫ বলে শতক পূর্ণ করে ভারতের হয়ে দ্রুততম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেন তিনি। এর আগে গত মাসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৩০ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ভারতের হয়ে দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরির তালিকায়ও রোহিত শর্মার সঙ্গে যৌথভাবে আছেন তিনি।

    আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি অভিষেকের চতুর্থ সেঞ্চুরি। এই সংস্করণে তার চেয়ে বেশি শতক আছে শুধু রোহিত শর্মা ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের, দুজনেরই পাঁচটি করে। আর সব ধরনের স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে অভিষেকের সেঞ্চুরি এখন ১১টি। এ তালিকায় তার ওপরে আছেন বাবর আজমের ১৩টি ও ক্রিস গেইলের ২২টি সেঞ্চুরি।

    এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ডকে বড় সংগ্রহ এনে দেন ড্যারিল মিচেল। ৫২ বলে ৮৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ফিন অ্যালেন ১৯ বলে ৪০ এবং বেভন জ্যাকবস ২৩ বলে ৩৯ রান করেন। তবে তাদের গড়া ১৯৮ রানের পুঁজি ভারতের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ের সামনে যথেষ্ট হয়নি।

  • অক্সফোর্ডের বৃত্তি পেলেন নাজিফা

    অক্সফোর্ডের বৃত্তি পেলেন নাজিফা

    প্রতিবছর বিশ্বের হাজারো শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখেন। তাদের মধ্যে অল্পসংখ্যকই পান সম্পূর্ণ অর্থায়নে পড়াশোনার সুযোগ। ১৪১টি দেশের যোগ্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে প্রতিবছর মাত্র একজনকে নির্বাচিত করা হয়—এমন একটি বৃত্তি অর্জন করেছেন বাংলাদেশের নাজিফা বিনতে হারুন। বর্তমানে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টে উন্নয়ন অধ্যয়নে এমফিল করছেন। তার পড়াশোনার সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওডিআইডি ডিএসি স্কলারশিপ।

    আন্তর্জাতিক উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার নিয়ে আগ্রহ নাজিফার শিক্ষাজীবন ও পেশাগত অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করেছে। ভালো একাডেমিক ফলাফল, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন খাতে কাজ এবং সুস্পষ্ট লক্ষ্য আবেদনপত্রে তুলে ধরার সক্ষমতা তাকে এই প্রতিযোগিতামূলক বৃত্তি অর্জনে সহায়তা করেছে।

    বিজ্ঞান থেকে উন্নয়ন অধ্যয়নে

    বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী সামাজিক পরিবেশে বেড়ে উঠলেও পরিবার থেকে স্বাধীনভাবে চিন্তা করা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন নাজিফা। ছোটবেলা থেকেই সমাজ, বৈষম্য, ক্ষমতার কাঠামো ও মানুষের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন করার আগ্রহ তৈরি হয় তার। শিক্ষাজীবনের শুরুতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়লেও পরবর্তী সময়ে রাজনীতি, বিশ্বব্যবস্থা ও মানবসমাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। সেই আগ্রহ থেকে তিনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে (এইউডব্লিউ) রাজনীতি, দর্শন ও অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ইতালির ইউনিভার্সিটি অব ত্রেন্তোতে এক সেমিস্টার অধ্যয়নের জন্য পূর্ণাঙ্গ ইরাসমাস প্লাস আইসিএম বৃত্তিও পান। ইতালিতে অবস্থানকালে সীমিত বাজেটে ইউরোপের ২১টি দেশ ভ্রমণ করেন নাজিফা। ভিন্ন সংস্কৃতি, সমাজ ও মানুষের জীবনযাপনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি আরো প্রসারিত হয়।

    স্নাতক শেষে তিনি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকে কাজ করেন। পরে মাই সোলি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত হন। বাল্যবিয়ের ঝুঁকিতে থাকা কিশোরীদের নিয়ে কাজ করা একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার কার্যক্রমের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। পাশাপাশি সামাজিক সমস্যা নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এসব অভিজ্ঞতা উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে তার একাডেমিক আগ্রহকে বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করেছে।

    ভালো ফলের পাশাপাশি নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা

    এইউডব্লিউ থেকে ৩ দশমিক ৯-এর বেশি সিজিপিএ নিয়ে সুমা কাম লডে সম্মান অর্জন করেন নাজিফা। তবে তার শিক্ষাজীবনে সব সেমিস্টারের ফল সমান ছিল না। কয়েকটি কোর্সে প্রত্যাশিত ফল না হওয়ায় সুযোগ নিয়ে সেগুলো আবার সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তী সময়ে ফলের উন্নতি ঘটান। অক্সফোর্ডে আবেদনের সময় উন্নয়ন অধ্যয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত স্নাতক পর্যায়ের কোর্সগুলোও জীবনবৃত্তান্তে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন তিনি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লাবের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি প্রথম বর্ষেই একটি একাডেমিক দলের দায়িত্ব পালন করেন। সহপাঠীদের পড়াশোনায় সহায়তা করতে পিয়ার টিউটর হিসেবেও কাজ করেন। এসব অভিজ্ঞতা তার নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা তুলে ধরেছে। তবে আবেদনপত্রে শুধু পদবি বা দায়িত্বের তালিকা দেওয়ার পরিবর্তে প্রতিটি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে কী কাজ করেছেন এবং কী প্রভাব তৈরি করেছেন, তা ব্যাখ্যা করেন তিনি।

    উদ্দেশ্যপত্রে স্পষ্ট লক্ষ্য

    অক্সফোর্ডে আবেদনের সবচেয়ে কঠিন অংশ ছিল স্টেটমেন্ট অব পারপাস বা উদ্দেশ্যপত্র লেখা। নিজের জীবনের সব ঘটনা তুলে ধরার পরিবর্তে কেন উন্নয়ন অধ্যয়ন করতে চান, কোন গবেষণার প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন এবং অক্সফোর্ডের নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম কীভাবে সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে—এসব বিষয় স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন নাজিফা। নিজের গবেষণার মূল প্রশ্নকে চারটি উপপ্রশ্নে ভাগ করে সেগুলোর সঙ্গে প্রাসঙ্গিক কোর্সের সম্পর্ক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তার অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি সহপাঠী এবং একাডেমিক পরিবেশে কী অবদান রাখতে পারে, সেটিও ব্যাখ্যা করেন।

    নাজিফার মতে, আবেদনপত্রে চমকপ্রদ শোনানোর চেয়ে নির্ভুল ও সুনির্দিষ্ট হওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করলেও যদি উদ্দেশ্যপত্রটি একইভাবে প্রাসঙ্গিক থাকে, তাহলে সেটি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম সম্পর্কে যথেষ্ট নির্দিষ্ট না হওয়ার লক্ষণ হতে পারে।

    সুপারিশপত্রের প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ

    আবেদনের প্রায় চার মাস আগে সম্ভাব্য সুপারিশকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন নাজিফা। নিজের জীবনবৃত্তান্ত, উল্লেখযোগ্য কাজ ও অর্জনের তালিকা এবং কেন নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে পড়তে চান, তা তাদের জানান। স্নাতক পর্যায় থেকেই শিক্ষকদের সঙ্গে একাডেমিক আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করায় এ প্রস্তুতি সহজ হয়।

    তার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, অক্সফোর্ডে ভর্তির পর যোগ্য প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট বৃত্তির জন্য বিবেচনা করা হতে পারে। তবে বৃত্তিভেদে আবেদনপ্রক্রিয়া ও শর্ত আলাদা হওয়ায় নির্দিষ্ট নিয়ম এবং সময়সীমা যাচাই করা জরুরি। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নাজিফার পরামর্শ, আবেদন করার আগেই নিজের যোগ্যতা নিয়ে হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। নিজের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাকে দুর্বলতা না ভেবে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি একটি বৃত্তির ওপর নির্ভর না করে বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগ, কলেজ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নের সুযোগ খোঁজার পরামর্শ দেন তিনি। নাজিফার অক্সফোর্ডযাত্রা দেখায়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেতে ভালো ফলের পাশাপাশি প্রয়োজন সুস্পষ্ট লক্ষ্য, বাস্তব অভিজ্ঞতা, দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি এবং নিজের সক্ষমতা যথাযথভাবে তুলে ধরার দক্ষতা।

  • ঘূর্ণিঝড় অর্ণব পায়রা বন্দর থেকে ৭৫৫ কিমি দূরে , কখন ও কোথায় আঘাত হানতে পারে

    ঘূর্ণিঝড় অর্ণব পায়রা বন্দর থেকে ৭৫৫ কিমি দূরে , কখন ও কোথায় আঘাত হানতে পারে

    বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় অর্ণব শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এটি আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার দুপুরে ঘূর্ণিঝড়টি পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

    আজ সোমবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে (ক্রমিক-৭) এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় অর্ণব পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। সোমবার দুপুর ১২টায় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র ছিল ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।

    ওই সময় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার মধ্যরাত নাগাদ পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগরে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পরে আরও ঘনীভূত হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়ে বুধবার ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।Advertisement

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

    ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    এ ছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাইকা প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাইকা প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো ।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জাইকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হারা শোহেই এবং সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী জাইকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে তার বাংলাদেশ সফরের সময় ঢাকায় অনুষ্ঠিত ফলপ্রসূ বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। তিনি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা এবং জাইকার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, আর্থসামাজিক অগ্রগতি এবং উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জাপানের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

    এ সময় জাপানের সহায়তায় চলমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি, অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর অনুমোদন ও বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

    বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন অগ্রাধিকার বিবেচনায় জাপানের কাছ থেকে সহজ শর্তে ঋণসহায়তা অব্যাহত রাখা এবং কারিগরি সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশ।

    সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ–জাপান দক্ষতা উন্নয়ন অংশীদারত্ব (Bangladesh–Japan Skills Partnership), একটি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নগরী (Technological Village and Innovation City) প্রতিষ্ঠা এবং কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

    এ ছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গত বছরের মতো দেশের জ্বালানি চাহিদা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজেট সহায়তা প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়।

    জাইকার প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সমৃদ্ধি অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

    প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি উভয় দেশের অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দীকী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • কুরাণ থেকে উদ্ধৃতি দিলেন বিল ক্লিনটন

    কুরাণ থেকে উদ্ধৃতি দিলেন বিল ক্লিনটন

    যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া মুসলিমবিদ্বেষ ও বৈষম্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। ইসলাম ধর্মের কারণে মানুষকে খাটো বা হেয় করার সংস্কৃতিতে তিনি অত্যন্ত বিরক্ত ও পরিশ্রান্ত বলে মন্তব্য করেছেন।

    ফ্লোরিডার কোইনোনিয়া ওরশিপ সেন্টারে আয়োজিত ‘মাল্টিপল ফেইথস, ওয়ান ফ্লোরিডা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্য চলাকালে ক্লিনটন পবিত্র কুরআনের একটি বার্তা উদ্ধৃত করেন, যেখানে বিভিন্ন পটভূমির মানুষকে একে অপরকে জানার এবং শেখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

    সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘মুসলিম হওয়ার কারণে মানুষ তাদের হেয় প্রতিপন্ন করছে—এ বিষয়টিতে আমি মারাত্মকভাবে বিরক্ত।’

    বক্তব্যে নিজের কন্যার ইসলাম সম্পর্কিত আগ্রহের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, তার মেয়ে ১৫ বছর বয়সে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো কুরআন শরীফ পড়েছিল এবং পরবর্তীকালে তাকেও কুরআন পড়ার জন্য উৎসাহিত করেছিল।

    অনুষ্ঠানে বিল ক্লিনটন সূরা আল-হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করেন। উক্ত আয়াতে উল্লেখ রয়েছে—‘মানবজাতিকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করে সৃষ্টি করা হয়েছে যেন তারা একে অপরকে চিনতে ও জানতে পারে।’

    বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতার বদলে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সৌহার্দ্য গড়ে তোলার গুরুত্ব বোঝাতে তিনি কুরআনের এই বাণীর অবতারণা করেন। ক্লিনটন আরও বলেন, ‘আমরা সবাই ভুলত্রুটিপূর্ণ মানুষ, তাই প্রতিটি ধর্মেই কিছু খারাপ লোক বা অপশক্তি থাকে।’

    মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেটিক পার্টির মুসলিম সিনেট প্রার্থী আল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক বিতর্কিত মন্তব্যের পর বিল ক্লিনটনের এই বক্তব্য সামনে এলো।

    আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার দৌড়ে থাকা প্রাক্তন জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা আল-সাইয়েদকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা চরমপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করে আসছে। একাধিক প্রতিবেদনে জানা যায়, ট্রাম্প তাকে ‘জিহাদি’ বলে অভিহিত করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার চেষ্টা করেছেন।

  • বিশ্বের শীর্ষ ঋণগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ৪৫তম

    বিশ্বের শীর্ষ ঋণগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ৪৫তম

    জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি, আবাসনসংকট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাজেট–ঘাটতির প্রতিবাদে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভে নেমেছে লাখো মানুষ। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালে ছড়িয়ে পড়া এসব বিক্ষোভে কোথাও কোথাও সংঘর্ষ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

    এই অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দু এখন ফ্রান্স। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত শনিবার দেশজুড়ে ৫ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভ করেছে।

    চলমান অস্থিরতা ইউরোপের দেশগুলোর সরকারের আর্থিক সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সরকারগুলো। বছরের পর বছর বিপুল ঋণ নেওয়ায় ইউরোপের অনেক দেশই এখন গভীর ঋণসংকটে পড়েছে। সেই সঙ্গে ঋণের খরচও বেড়ে যাচ্ছে।

    ফ্রান্সে ঋণ নেওয়ার খরচ ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ঋণের সুদ মেটাতে সরকারের বাড়তি ব্যয় হওয়ায় স্কুল, হাসপাতাল ও পেনশনের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ কমছে—এমন দাবি করছে বিক্ষোভকারীরা।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার এই প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, সরকারগুলো কীভাবে ঋণ নেয়, শীর্ষ ঋণগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সের অবস্থান কোথায় এবং ঋণের সুদ পরিশোধে সরকারগুলোকে কত ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে।

    শীর্ষ ঋণগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ৪৫তম

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে সরকারি ঋণের পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি

    দেশটির ঋণের পরিমাণ ৪১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১২৭ শতাংশ।

    বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা মার্কিন ডলারে ঋণ নেওয়ার সুবিধা পায় যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বজুড়ে ডলারের ব্যাপক চাহিদা থাকায় দেশটির ঋণের প্রতিও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ থাকে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সীমাহীন ঋণ নেওয়ার সুযোগ নেই।

    সরকারি ঋণের পরিমাণের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন। দেশটির ঋণ ২২ দশমিক ৫০ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ১০৪ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাপানের সরকারি ঋণের পরিমাণ ৮ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে জাপানের ঋণ-জিডিপি অনুপাত সবচেয়ে বেশি, ১৯৯ শতাংশ।

    বিশ্বে সরকারি ঋণের পরিমাণের দিক থেকে যুক্তরাজ্য চতুর্থ। দেশটির ঋণের পরিমাণ ৪ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন, যা দেশটির জিডিপির ১০২ শতাংশ। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা ফ্রান্সের ঋণের পরিমাণ ৪ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার। এই ঋণ দেশটির জিডিপির ১১৮ শতাংশ।

    এ ছাড়া ইতালির সরকারি ঋণ ৩ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। দেশটির অর্থনীতির তুলনায় ঋণের বোঝা অনেকটাই বেশি, যা জিডিপির ১৩৮ শতাংশ। আর জার্মানির সরকারি ঋণ ৩ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশটির জিডিপির ৬৫ শতাংশ।
    বিশ্বে সরকারি ঋণের পরিমাণে ভারত সপ্তম। দেশটির ঋণের পরিমাণ ৩ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন, যা দেশটির জিডিপির ৮৩ শতাংশ।

    বৈশ্বিক ঋণের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম। বর্তমানে দেশটির মোট ঋণের পরিমাণ ২০৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই ঋণ জিডিপির ৪০ শতাংশ। ২০১০ সালে বাংলাদেশের ঋণের পরিমাণ ছিল ৪০ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। তার মানে গত দেড় দশকে বাংলাদেশের ঋণ বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। যদিও উন্নত বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশের ঋণ ও জিডিপির অনুপাত এখনো তুলনামূলক কম।

    আইএমএফ পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০৩০ সাল নাগাদ ফ্রান্সের সরকারি ঋণ জিডিপির ১২১ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এতে দেশটির সরকারি অর্থব্যবস্থাকে টেকসই অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

    সরকার কীভাবে ঋণ নেয়

    সরকারগুলো সাধারণ মানুষের মতোই ঋণ নেয়। তবে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে তারা বন্ড বিক্রি করে। বন্ড কেনার বিনিময়ে সরকার ক্রেতাদের সুদ দেয় এবং নির্দিষ্ট তারিখে ঋণের পুরো অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

    যেমন—১০ বছর মেয়াদি বন্ড হলো এমন একটি ঋণ, যা সরকারকে ১০ বছর পর পরিশোধ করতে হয়। এই বন্ডের ইল্ড বা সুদের হার হলো ঋণ দিয়ে বিনিয়োগকারীরা যে মুনাফা পান। একটি দেশ তার ঋণ ব্যবস্থাপনা কতটা দক্ষতার সঙ্গে করতে পারবে, সে বিষয়ে আর্থিক বাজারের আস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক এটি।

    ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়লে কী হয়

    বন্ডের দাম কমলে এর ‘ইল্ড’ বা মুনাফার হার বাড়ে। ফলে সরকারের জন্য নতুন ঋণ নেওয়া ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। কোনো পরিবারের গৃহঋণের সুদ বাড়লে যেমন সংসার খরচে টান পড়ে, সরকারের ক্ষেত্রেও তা–ই হয়। সুদ পরিশোধে খরচ বেড়ে গেলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতে টান পড়ে।

    বর্তমানে ইউরোজোনে ফ্রান্সকে ১০ বছর মেয়াদি ঋণের জন্য প্রায় ৫ শতাংশ সুদ দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে জার্মানির ক্ষেত্রে এই হার ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। এমনকি ইতালি ও গ্রিসের চেয়েও ফ্রান্সকে এখন বেশি সুদ গুনতে হচ্ছে। ইউরোজোনের বাইরে শুধু যুক্তরাজ্যই বর্তমানে ফ্রান্সের চেয়ে বেশি সুদে ঋণ নিচ্ছে।

    উল্লেখ্য, ২০১০ থেকে ২০১২ সালের ইউরোজোনের ঋণসংকটের সময় শুধু গ্রিস, ইতালি ও স্পেনের মতো সংকটে থাকা দেশগুলোকে ৫ শতাংশ বা তার বেশি সুদ দিতে হয়েছিল। সুদের হার ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় আয়ারল্যান্ড ও পর্তুগালকে আন্তর্জাতিক সহায়তা নিতে হয়েছিল।

    সুদ পরিশোধেই ব্যয় ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলার

    সরকার, পরিবার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান—সব মিলিয়ে বিশ্বে মোট ঋণের পরিমাণ ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ১০ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়েছে।

    ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের (আইআইএফ) তথ্য অনুযায়ী, গত জুনের শেষে বৈশ্বিক ঋণের পরিমাণ ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এতে করে মাথাপিছু হিসাবে বিশ্বের প্রত্যেক মানুষের ওপর ঋণের বোঝা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৪ হাজার ডলার। আর ঋণ বৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো থেকে।

    ঋণের এই বিপুল বোঝার সঙ্গে বাড়ছে সুদ পরিশোধের খরচও। গত এক বছরে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো সরকারি বন্ডের সুদ পরিশোধে ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। এই অর্থ বিশ্বের সামরিক খাতে ব্যয় হওয়া ৩ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে ব্যয় হওয়া ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে ব্যয় হওয়া ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়েও বেশি।

    সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় বাড়লে জনসেবামূলক খাতে অর্থ বরাদ্দের সুযোগ কমে যায়। বাড়তি সুদের খরচ মেটাতে সরকারকে কর বাড়ানো বা অন্যান্য খাতে ব্যয় কমানোর পথও বেছে নিতে হতে পারে। এর প্রভাব শুধু সরকারের বাজেটেই সীমাবদ্ধ থাকে না, সাধারণ মানুষের ওপরও পড়ে। সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়লে বন্ধকি ঋণ, গাড়ি কেনার ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের সুদের হারও বেড়ে যেতে পারে। সূত্র: আল–জাজিরা

  • লাইপজিগকে ৪-১ গোলে হারালো রিয়াল

    লাইপজিগকে ৪-১ গোলে হারালো রিয়াল

    সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলে হারিয়ে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে জোসে মরিনহোর দল। মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোয় বার্সেলোনার মুখোমুখি হওয়ার আগে এই জয় রিয়ালের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে।

    নিজেদের মাঠে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে স্বাগতিকেরা। রিয়ালের হয়ে গোল করেন বার্নার্দো সিলভা, আরদা গুলের, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ইয়ান দিওমান্দে। অন্যদিকে লাইপজিগের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন তিদিয়াম গোমিস।

    ম্যাচের প্রথমার্ধে কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল লাইপজিগ। তবে রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার দৃঢ়তায় সেসব সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি সফরকারীরা। ২৮ মিনিটে রোমুলোর শট এবং ৪১ মিনিটে ক্রিস্টোফার এনকুনকুর গোলের সম্ভাবনা দারুণ দক্ষতায় নস্যাৎ করে দেন বেলজিয়ামের এই গোলরক্ষক।

    প্রথমার্ধের শেষ দিকে এগিয়ে যায় রিয়াল। ৪৩ মিনিটে আরদা গুলেরের শট ফিরিয়ে দেন লাইপজিগের গোলরক্ষক। ফিরতি বল পেয়ে জালে পাঠান পর্তুগিজ মিডফিল্ডার বার্নার্দো সিলভা। রিয়ালের জার্সিতে এটিই তার প্রথম গোল। এক গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্বাগতিক দল।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়ায় রিয়াল। ৫২ মিনিটে জুড বেলিংহামের ক্রস থেকে এমবাপ্পের হেডে বল পান আরদা গুলের। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জাল খুঁজে নেন তুরস্কের এই তরুণ ফুটবলার।

    ম্যাচের ৮৩ মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইয়ান দিওমান্দের পাস ধরে বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। চলতি মৌসুমে ১২ ম্যাচে এটি তার ১২তম গোল।

    এর দুই মিনিট পর, ৮৫ মিনিটে লাইপজিগের হয়ে ব্যবধান কমান বদলি খেলোয়াড় তিদিয়াম গোমিস। তবে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা শেষ করে দেয় রিয়াল। ৮৭ মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের নিখুঁত ক্রস থেকে দৃষ্টিনন্দন ভলিতে দলের চতুর্থ গোলটি করেন ইয়ান দিওমান্দে। তাতেই ৪-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের।

    এই জয়ের মধ্য দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা তিন ম্যাচে জয়ের রেকর্ড গড়ল রিয়াল মাদ্রিদ। গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা। অন্যদিকে, দুই ম্যাচে ১০ গোল হজম করে তালিকার ২৯ নম্বরে নেমে গেছে লাইপজিগ।

    চ্যাম্পিয়নস লিগের এই জয়ের পর এবার রিয়ালের নজর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার দিকে। আগামী রোববার রাতে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোয় মুখোমুখি হবে দুই স্প্যানিশ পরাশক্তি।

  • মেসির সঙ্গে তু্লনা; থামালেন পিএসজি কোচ, যা বললেন ইয়ামালকে নিয়ে

    মেসির সঙ্গে তু্লনা; থামালেন পিএসজি কোচ, যা বললেন ইয়ামালকে নিয়ে

    পিএসজির কোচ লুইস এনরিকে একটি বিষয়ে পরিষ্কার কথা বলেছেন। তিনি লামিন ইয়ামালকে লিওনেল মেসির সঙ্গে তুলনা করতে রাজি নন। বার্সেলোনার এই ১৮ বছর বয়সী তারকাকে নিয়ে এই তুলনা এখন প্রায় রোজই শোনা যায়।

    ১৯ বছর বয়স মাত্র। এই বয়সেই লামিন ইয়ামাল ব্যালন ডি’অরের অন্যতম ফেভারিট। বার্সেলোনায় খেলছেন, তার পছন্দের জায়গা রাইট উইংয়ে, বাম পায়ের খেলোয়াড়… এমন সব সাদৃশ্যের কারণে তার সঙ্গে তুলনা চলছে লিওনেল মেসিরও। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচের আগে এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ধেয়ে গেছে পিএসজির কোচ লুইস এনরিকের কাছেও। সে বিষয়ে তিনি তার অভিমত দিয়েছেন।

    এনরিকে নিজে বার্সেলোনায় মেসির কোচ ছিলেন। তার অধীনে দল ট্রেবল জিতেছিল। তখন মেসি, নেইমার ও লুইস সুয়ারেজ মিলে দারুণ আক্রমণভাগ গড়েছিলেন।

    এই মৌসুমেও ইয়ামাল ভালো খেলছেন। গত মৌসুমের ভালো ফর্মটা তিনি ধরে রেখেছেন এবারও। ১১ ম্যাচে তিনি ৯টি গোল করেছেন। গোল করিয়েছেন আরও ১০টি। বুধবার রাতে তার দল বার্সেলোনা মুখোমুখি হবে পিএসজির। সেই ম্যাচেও তিনি বার্সেলোনার মূল ভরসা হবেন বলে ধরা হচ্ছে।

    এনরিকে মনে করেন, ইয়ামালের উচিত নিজের পরিচয় গড়া। মেসির ছায়ায় থাকা তার জন্য ঠিক নয়। এই কোচ তরুণ খেলোয়াড়ের উন্নতির প্রশংসা করেছেন। কিন্তু মেসিকে তিনি সর্বকালের সেরা মানেন। তাই অন্য কারও সঙ্গে তার তুলনা অন্যায়, এমনটাই এনরিকের মত।

    সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় লামিন একটা কাজ খুব ভালো করছে। সে লামিন ইয়ামালই হতে চায়। সে খেলার নানা দিকে উন্নতি করছে। সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় মেসির সঙ্গে অন্য কাউকে তুলনা করলে কেউই জিতবে না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘লামিন নিজের সেরা রূপটা হতে চায়। অন্যের সঙ্গে নিজেকে না মেলানোই ভালো। সে খুব বুদ্ধিমান।’ নিজের পুরনো ক্লাব বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে তিনি এসব কথা বলেন।

    এনরিকে মানেন, ইয়ামাল পিএসজির জন্য বড় হুমকি। তার মতে, ইয়ামালকে থামানোর সেরা পথ হলো বার্সেলোনার হাতে বল কম দেওয়া। হ্যান্সি ফ্লিকের দলের বিপক্ষে এটা করা কঠিন, তা তিনি স্বীকার করেছেন। তাই তিনি নিজের খেলোয়াড়দের বলেছেন, নিজেদের শক্তির ওপর ভরসা রাখতে। সবাইকে একসঙ্গে খেলতে হবে।

    তিনি বলেন, ‘খুব সহজ। ওকে বল পেতে দেওয়া যাবে না। কারণ বল পেলেই বিপদ। লামিনকে আটকানোর সেরা উপায় হলো বার্সেলোনাকে বলই না পেতে দেওয়া। আমাদের জন্য এটাই আদর্শ অবস্থা। কিন্তু তা হবে না। কারণ বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলা কতটা কঠিন, আমরা জানি।’

    ৫৬ বছর বয়সী এই কোচ আরেকটি কথাও বলেছেন। শুধু ইয়ামালকে নিয়ে ভাবলে পিএসজির চলবে না। কারণ বার্সেলোনার পুরো দলেই মান আছে। তাই পিএসজিকে সতর্ক থাকতে হবে। সবাই মিলে রক্ষণ সামলাতে হবে।

    শেষে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি ওদের দলে অসাধারণ মানের খেলোয়াড় আছে। শুধু লামিন নয়। রাফিনিয়া, পেদ্রি, কুবার্সি, হোয়ান গার্সিয়া… অনেকেই আছে। আমরা মনোযোগী ও সতর্ক থাকব। ওকে আমাদের দল হিসেবেই হারাতে হবে।’

  • বড় জয় পেল সিটি, ২ বছর পর ফোডেনের হ্যাটট্রিক

    বড় জয় পেল সিটি, ২ বছর পর ফোডেনের হ্যাটট্রিক

    চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বড় জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ঙ্গলবার রাতে এইকে এথেন্সকে ৫-১ গোলে হারিয়েছে তারা। জয়ের নায়ক ফিল ফোডেন। তিনি একাই করেছেন তিনটি গোল।

    গত দুই মৌসুম ভালো কাটেনি ফোডেনের। ২৬ বছর বয়সী এই ইংলিশ মিডফিল্ডার নিজেই মানসিক সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। এই বছরের শুরুতে বিশ্বকাপের দল থেকেও তিনি বাদ পড়েন। শনিবার ইপসউইচের বিপক্ষে গোল করার আগে প্রায় ১০ মাস তিনি কোনো গোল পাননি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর তার গোল ছিল না। তাই এই রাত তার জন্য বড় স্বস্তির।

    খেলার ১২ মিনিটেই সিটি এগিয়ে যায়। এনজো ফার্নান্দেজের ফ্রি কিক বারে লেগে ফিরে আসে, এলিয়ট অ্যান্ডারসন সুযোগ নিয়ে ১০ গজ দূর থেকে ফাঁকা জালে বল পাঠান। নটিংহাম ফরেস্ট থেকে এসে এটিই তার সিটির হয়ে প্রথম গোল।

    ৩৪ মিনিটে ফোডেন ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। রিকো লুইসের সঙ্গে দ্রুত পাস খেলে তিনি এইকের রক্ষণ ভেঙে দেন। এরপর দুরূহ কোণ থেকে বল জালের ছাদে পাঠান।

    বিরতির পর সিটি মনোযোগ হারায়। ৫২ মিনিটে স্তাভরোস পিলিওস এইকের হয়ে এক গোল শোধ করেন। এটাই ছিল তাদের প্রথম লক্ষ্যে নেওয়া শট। তবে ৫৭ মিনিটে সিটি আবার দুই গোলে এগিয়ে যায়। ফোডেন প্রতিপক্ষ বিপদসীমার কাছে বল বাড়ান। রায়ান শেরকি ঘুরে গিয়ে দারুণ এক শটে গোল করেন।

    ৬৫ মিনিটে রিকো লুইসের পাস থেকে বল পেয়ে ফোডেন ১৮ গজ দূর থেকে গোল করে বসেন। ৭৬ মিনিটে রায়ান মাকাইদুর ক্রস থেকে তিনি বল জালে ঠেলে দিয়ে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন। দুই বছর পর প্রথমবারের মতো হ্যাটট্রিকের দেখা পেলেন তিনি।

    লিগ পর্বে এটি সিটির দ্বিতীয় জয়। প্রথম ম্যাচে তারা পোর্তোকে হারায়। গত সপ্তাহে শিরোপাধারী প্যারিস সাঁ-জার্মেইনের কাছে হেরে যায়। চলতি মৌসুমে ১১ ম্যাচের ১০টিতেই তারা জিতেছে।