আর্ন্তজাতিক

  • জম্মু ও কাশ্মির কখনোই ভারতের অংশ ছিল না কখনো হবেও না জাতিসংঘে পাকিস্তান

    জম্মু ও কাশ্মির কখনোই ভারতের অংশ ছিল না কখনো হবেও না জাতিসংঘে পাকিস্তান

    ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :জম্মু ও কাশ্মীর ‘কখনোই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল না, নয় এবং কখনো হবেও না’ বলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সাফ জানিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। বিতর্কিত এ অঞ্চলটি নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নতুন করে শুরু হওয়া এক কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে নয়াদিল্লির দাবি প্রত্যাখ্যান করে ইসলামাবাদ এ মন্তব্য করেছে।জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পার্বথানেনি হরিশ কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করার পর পাকিস্তানের পক্ষে জবাব দেওয়ার অধিকার (রাইট অব রিপ্লাই) প্রয়োগ করে এ মন্তব্য করেন পাকিস্তানি কূটনীতিক গুল কায়সার সারওয়ানি।১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে সারওয়ানি বলেন, ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর যে একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিরোধপূর্ণ অঞ্চল, তা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এজেন্ডায় এখনো রয়েছে।তিনি বলেন, কোনো ধরনের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এ বিরোধের ঐতিহাসিক, আইনি ও আন্তর্জাতিক চরিত্রকে বদলে দেওয়া যাবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর কখনোই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল না, নয় এবং কখনো হবেও না।

    এর আগে জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমেদ বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের বার্ষিক প্রতিবেদনে জম্মু-কাশ্মীর ও ফিলিস্তিন—উভয় সংকটেরই ধারাবাহিক প্রাসঙ্গিকতার বিষয়টি উঠে এসেছে। জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুযায়ী এ দুই সংকটের সমাধান হওয়া জরুরি। তার এই বক্তব্যের পরই দুদেশের মধ্যে এ কূটনৈতিক বাকযুদ্ধ শুরু হয়।

    সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত আসিম উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালীন নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদনে ‘ভারত-পাকিস্তান প্রশ্ন’ সংক্রান্ত ২০টিরও বেশি চিঠি বা যোগাযোগ নিরাপত্তা পরিষদের নজরে আনা হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের মে মাসে নিরাপত্তা পরিষদ এই ইস্যুতে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকও করেছে। এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় যে, এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সাত দশকেরও বেশি সময় পরও কাশ্মীর বিরোধটি এখনো নিরাপত্তা পরিষদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

    আসিম আহমেদ বলেন, পাকিস্তান বিশ্বাস করে যে দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই শান্তি বজায় রাখতে হলে নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব এবং কাশ্মীরি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী কাশ্মীর বিরোধের একটি ন্যায়সংগত নিষ্পত্তি প্রয়োজন। কাশ্মীরি জনগণকে অবশ্যই তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতে হবে।

    পাকিস্তানি এই দূত আরও বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের বার্ষিক প্রতিবেদনে ফিলিস্তিন ও কাশ্মীর সংকটের মতো দীর্ঘস্থায়ী বিরোধগুলোর প্রাসঙ্গিকতা বারবার ফুটে উঠছে, যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত এবং এগুলোর সমাধান হওয়া আবশ্যক।

    ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে পাকিস্তানি প্রতিনিধি বলেন, ফিলিস্তিনের চলমান ট্র্যাজেডি, বিশেষ করে গাজার পরিস্থিতি নিরাপত্তা পরিষদের এজেন্ডায় শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে রয়েছে। রক্তপাত বন্ধে বারবার ব্যর্থ হওয়ার পর, নিরাপত্তা পরিষদ অবশেষে গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে সমর্থন করে ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, যা আশার আলো দেখাচ্ছে।

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবটি পুরোপুরি এবং বিশ্বস্ততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য।

    আসিম আহমেদ আরও যোগ করেন, ১৯৬৭ সালের পূর্বের সীমানার ভিত্তিতে জেরুজালেমকে (আল-কুদস আল-শরিফ) রাজধানী করে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন এবং ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের প্রতি পাকিস্তানের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে ইসলামাবাদ।

    জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং বিশেষ রাজনৈতিক মিশনগুলোর অপরিহার্য ভূমিকার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত আসিম আহমেদ। তিনি বলেন, পাকিস্তান শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে এবং এ মিশনগুলো যেন কার্যকর, পর্যাপ্ত সম্পদসমৃদ্ধ ও উদীয়মান চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলা করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো একটি অধিকতর গণতান্ত্রিক, প্রতিনিধিত্বশীল এবং জবাবদিহিমূলক বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাকে নির্দেশ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদে ‘ভেটো’ ক্ষমতার ব্যবহার সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এখনো একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।

    তাই এটি স্পষ্ট যে, নিরাপত্তা পরিষদে একক স্থায়ী সদস্য পদের সম্প্রসারণ এবং ভেটো ক্ষমতার ব্যবহার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভিন্ন লক্ষ্যের পরিপন্থি।

  • দুই দায়িত্ব একসঙ্গে পালনের নজির আছে: খলিলুর রহমান

    দুই দায়িত্ব একসঙ্গে পালনের নজির আছে: খলিলুর রহমান

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা নিয়ে কোনো জটিলতা দেখছেন না পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব একসঙ্গে পালনের নজির অতীতেও রয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, ‘চাকরি ছাড়ব কি না, ছুটি নেব কি না, এটাই তো প্রশ্ন? এত ব্যস্ত হবেন না, এটার প্রিসিডেন্স আছে।’

    চার দশক আগের একটি উদাহরণ টেনে খলিলুর রহমান বলেন, ‘আজ থেকে ৪০ বছর আগে আমাদের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। আমি তখন তাঁর ব্যক্তিগত সচিব ছিলাম। তিনি দুই দায়িত্বই সফলভাবে পালন করেছিলেন। তখন ছিল ইন্টারনেটপূর্ব যুগ। এখন প্রযুক্তির এই সময়ে দুটো কাজ একসঙ্গে করা আরও সহজ।’

    প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন খলিলুর রহমান। তবে নির্বাচনের পর থেকে আলোচনা শুরু হয়—তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে বহাল থাকবেন, নাকি সভাপতির দায়িত্ব পালনের জন্য পদত্যাগ বা ছুটিতে যাবেন।

    তবে গত ১৩ মে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভায় খলিলুর রহমান বলেছিলেন, নির্বাচিত হলে তিনি সবার জন্য নিরপেক্ষ ও পূর্ণকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রয়োজন হলে এক বছরের জন্য ছুটিতে যেতে পারেন।

    সে সময় খলিলুর রহমান বলেছিলেন, ‘আমি কি পদত্যাগ করব? না। আমার প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) আমাকে স্পষ্টভাবে বলেছেন, পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি আমাকে এক বছরের সময় দেবেন। পদত্যাগই একমাত্র পথ নয়, আমি ছুটিও নিতে পারি।’

    আজ আবারও সেই বক্তব্য উল্লেখ করে খলিলুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আগেই পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

    অনেকেই জার্মানির উদাহরণ টানছেন উল্লেখ করে খলিলুর রহমান বলেন, জার্মানির যিনি সাধারণ পরিষদের সভাপতি হয়েছেন, তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর দল নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় তিনি মন্ত্রী পদে থাকতে পারেননি। বিষয়টি ভিন্ন ছিল।

  • ইরান যুদ্ধ শেষ হয়েছে: মার্কো রুবিও

    ইরান যুদ্ধ শেষ হয়েছে: মার্কো রুবিও

    যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ‘এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে এবং এখন আর ইরানের ভেতরে ধারাবাহিক হামলা চালানো হচ্ছে না।

    মার্কিন কংগ্রেসের হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটিকে রুবিও বলেন, ‘আমরা এখন আর ইরানের ভেতরে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছি না, কারণ এপিক ফিউরি শেষ হয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযানে ‘বিজয় অর্জন করেছে’।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথ অভিযানের মাধ্যমে, যা পরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

    রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প অবকাঠামো ধ্বংস করা, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের সংখ্যা কমানো এবং ড্রোন মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো। তার দাবি, এসব লক্ষ্য পূরণ হয়েছে, পাশাপাশি ইরানের বাকি থাকা বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর সক্ষমতাও ধ্বংস করা হয়েছে।

    তবে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তাদের দাবি, সংঘাত এখনো চলমান। তাদের মতে, বুধবার কুয়েতের একটি বিমানবন্দরে ইরানের হামলায় একজন নিহত এবং ৬৩ জন আহত হয়েছে, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

    এছাড়া বাহরাইনেও রাতের বেলায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।

    ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি সারা জ্যাকবস বলেন, নাম পরিবর্তন করলেও বাস্তবতা বদলায় না। তার ভাষায়, ‘স্ট্রেইট অব হরমুজ এখনো বন্ধ, আর আমাদের সেনারা এখনো ঝুঁকির মধ্যে আছে।’

    রুবিও কংগ্রেসকে আরও জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে, বিশেষ করে দেশটির উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি হয়নি।

    যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অনুযায়ী, শান্তি চুক্তির জন্য ইরানকে তাদের প্রায় অস্ত্র-যোগ্য ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে, পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে হবে।

    অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, আলোচনায় বসার আগে তাদের ১২ বিলিয়ন ডলার অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই মন্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেছে, যেখানে বলা হয়েছিল ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত ধ্বংস করা হবে।


    আরও পড়ুন · নির্ভরযোগ্য সূত্র:

  • বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

    বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

    বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে, যা মার্কিন বাণিজ্য ও শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিকর। খবর রয়টার্সের।

    মঙ্গলবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জানায়, তাদের পরিচালিত সেকশন ৩০১ তদন্তে এ ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, কম্বোডিয়া, গুয়াতেমালা, এল সালভাদর, আর্জেন্টিনা, ইন্দোনেশিয়াসহ ১৫টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। বাকি ৪৫টি দেশের ক্ষেত্রে শুল্কের হার হবে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

    এক বিবৃতিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি বন্ধে ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে মার্কিন শ্রমিকদের বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। তবে প্রস্তাবিত শুল্ক থেকে জ্বালানি, বিরল খনিজ, কিছু ধাতু, গরুর মাংস, কফি, নির্দিষ্ট ফল ও সবজি, ওষুধ, জৈব রাসায়নিক এবং বিমানযন্ত্রাংশকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    এছাড়া পোশাক ও বস্ত্র খাতের জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হয়েছে, যার আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ আমদানি কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

    মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জানিয়েছে, প্রস্তাবিত শুল্ক নিয়ে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত জনমত গ্রহণ করা হবে এবং ৭ জুলাই একটি প্রকাশ্য শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে।

  • বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচে গোল পেল না কেউই

    বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচে গোল পেল না কেউই

    প্রথম মিনিটেই গল্পটা লিখে ফেলা যেত, কিংবা শেষ বাঁশির আগে গ্যালারিতে ছড়াতে পারত বিষাদ। মালদ্বীপে চার জাতির ডায়মন্ড জুবিলি টুর্নামেন্টে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ অলিম্পিক দলের ম্যাচটি ইতি টেনেছে নির্বিষভাবে। ফরোয়ার্ডদের সুযোগ নষ্টের মহড়া আর গোলপোস্টের নিচে মেহেদী হাসান শ্রাবণের বীরত্বের দিনে শেষ পর্যন্ত ০-০ গোলের ড্রয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে দুই দল।

    মালে স্টেডিয়ামে ম্যাচের বয়স যখন মাত্র এক মিনিট, তখনই গোল উৎসবে মাততে পারত বাংলাদেশ। নাজমুল ফয়সালের বাড়ানো ক্রসে ছোট বক্সের ভেতর সৌরভ দেওয়ানের আলতো টোকা পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়। শুরুর ধাক্কা সামলে প্রথমার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রেখেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা বারবার হতাশ করেছে। ২৮ মিনিটে ম্যাচের সহজতম সুযোগটি হাতছাড়া করেন মুরশেদ আলী। রাহুলের পাসের পর সামনে কেবল প্রতিপক্ষ কিপার থাকলেও মুরশেদ শট নেন সরাসরি তাঁর শরীর বরাবর। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বক্সে রাব্বিকে ফাউল করা হলেও রেফারির সাড়া না মেলায় পেনাল্টি-বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ।

    ম্যাচের সবচেয়ে বড় নাটকটি মঞ্চস্থ হয় ৬১ মিনিটে। বাংলাদেশ অধিনায়ক মঞ্জুরুর রহমানকে পুশ করায় পাকিস্তানি ডিফেন্ডার সৈয়দ আব্দুল্লাহ শাহকে রেফারি প্রথমে লাল কার্ড দেখালেও পরে সিদ্ধান্ত বদলে হলুদ কার্ড দেখান। ১০ জনের দলে পরিণত না হওয়ার মনস্তাত্ত্বিক স্বস্তিতে এরপর একের পর এক আক্রমণ শোনায় পাকিস্তান। ৬৬ মিনিটে আলী হায়দার শাহের দুর্দান্ত সাইড ভলি বাজপাখির মতো লাফিয়ে উঠে কর্নারের বিনিময়ে ফিস্ট করেন শ্রাবণ। শেষ মিনিটেও ফাহিম হামিদের গতিময় বুলেট শট আটকে বাংলাদেশের জাল অক্ষত রাখেন তিনি। আক্রমণভাগের ব্যর্থতার দিনে শ্রাবণের দৃঢ়তাই শেষ পর্যন্ত একটি পয়েন্ট এনে দিয়েছে বাংলাদেশকে।

  • ব্যক্তিগত বিমানে করে আর্জেন্টিনার ক্যাম্পে যোগ দিলেন মেসি

    ব্যক্তিগত বিমানে করে আর্জেন্টিনার ক্যাম্পে যোগ দিলেন মেসি

    আরেকটি বিশ্বকাপ, আরেকটি নতুন স্বপ্ন। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে নিজেদের চতুর্থ ট্রফি জয়ের মিশন শুরু করে দিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে এসে পৌঁছেছেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক লিওনেল মেসি। মায়ামি থেকে একটি ব্যক্তিগত বিমানে সতীর্থ রদ্রিগো দি পলকে সঙ্গে নিয়ে আর্জেন্টিনা দলে যোগ দেন তিনি। নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ রাঙাতে পুরোপুরি প্রস্তুত।

    মেসি ও দি পল শেষ দিকে যোগ দিলেও আর্জেন্টিনা দলের মূল বহরটি বুয়েনস আইরেস থেকে রওনা হয়ে রোববার দুপুরেই কানসাসে এসে পৌঁছায়। যে চার্টার্ড ফ্লাইটে চড়ে হুলিয়ান আলভারেস, এনসো ফার্নান্দেস, নিকোলাস ওতামেন্দিরা এসেছেন, সেটির নম্বর ছিল ‘এআর১৯৭৮’। ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের সোনালি স্মৃতিকে মনে করিয়ে দেওয়া এই নম্বরটি যেন দলের লক্ষ্যকেই পুনর্ব্যক্ত করছে। স্কোয়াডের ১৮ জন ফুটবলারের পাশাপাশি অনুশীলনে সহায়তার জন্য বেশ কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড়কেও সঙ্গে থে এনেছেন কোচ লিওনেল স্কালনি।

    এছাড়া প্রিমিয়ার লিগে খেলা লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসও ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। তবে এমিলিয়ানোর মার্তিনেসের হাতে সম্পূর্ণ ব্যান্ডেজ থাকা সত্ত্বেও তাঁর খেলা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলেই জানা গেছে। দলের সঙ্গে এখনো যোগ দিতে পারেননি এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল দেখতে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে থাকায় পরবর্তীতে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন তিনি।

    কানসাস সিটির নবনির্মিত ‘অরিজিন হোটেল’-এ অবস্থান করছে আর্জেন্টিনা দল। টুর্নামেন্ট চলাকালীন এটিই হবে তাদের ঘাঁটি। হোটেল থেকে মাত্র ২০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত ‘স্পোর্টিং কেসি ট্রেনিং সেন্টার’-এ সোমবার ভোর থেকেই শুরু হয়েছে কড়া অনুশীলন। তবে বছরের এই সময়ে কানসাসের আবহাওয়া বেশ পরিবর্তনশীল। তীব্র গরম, আর্দ্রতা আর ঝড়ের সম্ভাবনা মাথায় রেখেই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন ফুটবলাররা।

    মেসি সম্প্রতি ইন্টার মিয়ামির হয়ে খেলার সময় বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে কিছুটা চোট পেয়েছিলেন। তবে ক্রীড়া দৈনিক ‘ক্লারিন’ জানিয়েছে, আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগেই সম্পূর্ণ ফিট হয়ে উঠবেন এই জাদুকর। বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে নামার আগে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে স্কালোনির দল। ৭ জুন টেক্সাসে হন্ডুরাসের বিপক্ষে এবং ১০ জুন আলাবামায় আইসল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা।

    ১১ জুন পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের। আর ১৭ জুনকানসাস সিটিতেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে আর্জেন্টিনা।

  • আবারও ব্যালন ডি’অর জিতছেন লিও মেসি!

    আবারও ব্যালন ডি’অর জিতছেন লিও মেসি!

    বিডিটািইমস ডেস্কঃ লিওনেল মেসি আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যুগ শেষ হওয়ার পর ব্যালন ডি’অর দৌড় অনেকটাই খোলামেলা। অনেক খেলোয়াড়ই মনে করছেন সোনার বলটা তাদের হাতে আসতে পারে। তবে গোল ডট কমের ব্যালন ডি’অর পাওয়ার র‍্যাঙ্কিং বলছে ভিন্ন কথা। জানাচ্ছে, নবম ব্যালন ডি’অর জেতার সম্ভাবনা একেবারেও শেষ হয়ে যায়নি মেসির!

    যদিও এই মুহূর্তে সবার উপরে আছেন বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেইন। এই মৌসুমে তিনি ৬৫ গোল করেছেন। জিতেছেন বুন্দেসলিগা, ডিএফবি পোকাল ও ডিএফএল সুপার কাপ। ট্রফি না জেতার যে পুরোনো অপবাদ তাকে দেওয়া হতো, সেটা এখন অতীত। কেইন এখন পুরোপুরি প্রমাণ করতে চাইছেন যে তিনি ব্যক্তিগত পুরস্কারেরও যোগ্য।

    দ্বিতীয় স্থানে আছেন পিএসজির ওসমান দেম্বেলে। গত বছর ব্যালন ডি’অর জেতার পর এই মৌসুমে চোটের কারণে শুরুটা ভালো হয়নি তার। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পর থেকেই দারুণ ফর্মে ফিরেছেন। লিভারপুল ও বায়ার্নের বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স দিয়েছেন, ফাইনালেও গোল করেছেন। পিএসজি টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে। বিশ্বকাপেও ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হবেন তিনি।

    তৃতীয় স্থানে আছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। এই মৌসুমে ২৫ গোল ও ২০ অ্যাসিস্ট করেছেন। বিশ্লেষকদের চোখে মৌসুমের শুরুতে তিনিই ব্যালন ডি’অরের সবচেয়ে বড় দাবিদার ছিলেন। তবে চোটের কারণে বিশ্বকাপের শুরুর ম্যাচগুলো মিস করতে পারেন। নকআউট পর্বে ফিরে আসার সম্ভাবনা আছে, আর সেখানে ভালো খেললে পুরস্কারের দৌড়ে এগিয়ে যেতে পারেন।

    চতুর্থ স্থানে পিএসজির ভিতিনিয়া। ফাইনালে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন। ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অর পোডিয়ামে জায়গা পেয়েছিলেন, এবার আরও উপরে উঠতে পারেন।

    পঞ্চম স্থানে বায়ার্নের মাইকেল ওলিসে। ২৩ গোল ও ৩৩ অ্যাসিস্ট করে রীতিমতো চোখ ধাঁধিয়ে দিয়েছেন। রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে তার পারফরম্যান্স বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

    আর্সেনালের ডেক্লান রাইসের অবস্থান এখন নবম। প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছেন এবং আর্সেনালকে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে নিয়ে গেছেন। কিন্তু বুদাপেস্টে পিএসজির কাছে সেই ফাইনালে হারের পর তার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে।

    কিলিয়ান এমবাপ্পে আছেন ষষ্ঠ স্থানে। ৪৮ গোল করেও ট্রফি পাননি। তবে বিশ্বকাপে সেরাটা দেওয়ার রেকর্ড আছে তার, তাই শেষ পর্যন্ত রেসে থাকবেন।

    এই তালিকায় চমক হিসেবে আছেন ইন্টার মায়ামির লিওনেল মেসি। ৩৬ গোল ও ২৬ অ্যাসিস্ট করে এমএলএস কাপ জিতেছেন। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সাথে যদি ভালো করেন, তাহলে আট বারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর ফিরে আসাটাও অসম্ভব নয়।

    এবার চ্যাম্পিয়নস লিগের পাশাপাশি বিশ্বকাপ ও আফ্রিকান কাপ অফ নেশনসও ব্যালন ডি’অর নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। ২৬ অক্টোবর লন্ডনে অনুষ্ঠিত হবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

  • কানসাস সিটিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রাজকীয় পদার্পণ

    কানসাস সিটিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রাজকীয় পদার্পণ

    বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার মিশন নিয়ে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা রাখল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ১০টায় আলবিসেলেস্তেদের বহনকারী বিশেষ বিমানটি কানসাস সিটিতে অবতরণ করে। দলের অধিকাংশ ফুটবলারই এই বহরে উপস্থিত রয়েছেন।

    বিশ্বকাপের আগে কানসাস সিটিকে নিজেদের প্রধান ‘বেস ক্যাম্প’ হিসেবে বেছে নিয়েছে লিওনেল মেসির দল। এখানেই আগামী ১৭ জুন সকালে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবেন স্কালোনির শিষ্যরা। বিশ্বজয়ী এই তারকারা পৌঁছানোর সাথে সাথেই শহরজুড়ে শুরু হয়ে গেছে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা।

    কানসাস সিটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান আর্জেন্টিনার নিকো পাজ ও এনজো ফার্নান্দেজ। ছবি- এএফপি

    বিমানবন্দরে ল্যাগেজ হাতে হেঁটে যাচ্ছেন জিওভানি লো সেলসো। ছবি- এএফপি

    বিমানবন্দরে অবতরণ করেন হুলিয়ান আলভারেজ ও নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। ছবি- এএফপি

    আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলকে বহনকারী বিশেষ বিমান। ছবি- এএফপি

    বিমানবন্দরে নিকোলাস পাজ ও এনজো ফার্নান্দেজ। ছবি- এএফপি

    সতীর্থদের সঙ্গে কানসাস সিটি বিমানবন্দরে মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। ছবি- এএফপি

    লিওনার্দো বালের্দি ও হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ। ছবি- এএফপি

    আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। ছবি- এএফপি

    ছবি- এএফপি

    থিয়াগো আলমাদা ও এজেকুয়েল প্যালাসিওস। ছবি- এএফপি

  • হিজাব পরে নেটদুনিয়ায় ভাইরাল বলিউড অভিনেত্রী অঙ্কিতা

    হিজাব পরে নেটদুনিয়ায় ভাইরাল বলিউড অভিনেত্রী অঙ্কিতা

    ভারতের টিভি ও রুপালি পর্দার অভিনেত্রী অঙ্কিতা লোখান্ডে। সম্প্রতি স্বামী ভিকি জৈনের সঙ্গে দুবাই ও আবুধাবিতে ছুটি কাটানোর কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি। ছবিগুলোতে তাকে হিজাব পরা অবস্থায় দেখা যায়।

    মূলত আবুধাবির একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদ পরিদর্শনের সময় তিনি হিজাব পরেন বলে জানা যায়। ছবিগুলো পোস্ট করার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন অঙ্কিতা। নেটিজেনদের অনেকেই একে ধর্মীয় রীতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন হিসেবে উল্লেখ করে অভিনেত্রীকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন।

    তবে এর বিপরীত চিত্রও দেখা গেছে। নেটিজেনদের একটি অংশ অভিনেত্রীর কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন।

    সংযুক্ত আরব আমিরাত ভ্রমণের বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন অঙ্কিতা। যার মধ্যে আবুধাবির একটি বিখ্যাত মসজিদে যাওয়ার ছবিও ছিল। মসজিদের দর্শনার্থী নির্দেশিকা ও ধর্মীয় নিয়ম মেনে অঙ্কিতা সেখানে প্রথাগত স্কার্ফ দিয়ে নিজের মাথা ঢেকেছিলেন।

    ছবিগুলো সামনে আসার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি অংশ অঙ্কিতাকে ট্রল করা শুরু করে। নেটিজেনদের অনেকেই তার এই পোশাকের তীব্র সমালোচনা করেন এবং বিষয়টিকে কদিন আগেই তার সনাতন ধর্মীয় আচার পালনের সঙ্গে তুলনা করেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষুব্ধ ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন মন্তব্য করেন। একজন লিখেছেন, ‘এখন ওই মুসলিম নারীদের গিয়ে শাড়ি পরতে বলুন।’

    আরেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘কিছু হিন্দু সবসময় ধর্মনিরপেক্ষ সাজে, কিন্তু কোনো মুসলিম সেক্যুলার হয় না! এটাই তিক্ত সত্য… কেন হিজাব পরতে হবে?’ অন্য একজন জৈন ধর্মের প্রসঙ্গ টেনে লেখেন, ‘আপনি একজন জৈন, আর আপনি কী পোশাক পরেছেন একটু তো ভাবুন।’

    তবে তীব্র সমালোচনার বিপরীতে বহু ভক্ত ও সাধারণ মানুষ অভিনেত্রীর পাশেও দাঁড়িয়েছেন। তারা যুক্তি দেখিয়েছেন, যেকোনো ধর্মের মানুষই হোক না কেন, মসজিদে প্রবেশ করতে হলে মাথা ঢেকে রাখা সেখানকার একটি সাধারণ ও বাধ্যতামূলক নিয়ম। তারা আরও উল্লেখ করেন, অঙ্কিতা শুধু মসজিদের ভেতরেই নিয়ম মেনে স্কার্ফ পরেছিলেন, কারণ মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার পর তার বাকি ছবিগুলোতে হিজাব ছিল না।

    উল্লেখ্য, হিজাব বা মুসলিম সংস্কৃতি সংক্রান্ত পোশাক পরায় অঙ্কিতা এবারই প্রথম সমালোচনার মুখে পড়েছেন তা নয়। এর আগে ২০২৫ সালেও মুম্বাই বিমানবন্দরে হিজাব পরা এবং ফটো সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ‘আদাব’ বলে অভিবাদন জানানোর কারণে তিনি নেটদুনিয়ায় তীব্র ট্রলিংয়ের শিকার হয়েছিলেন।

    একতা কাপুরের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘পবিত্র রিশতা’র মাধ্যমে প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের বিপরীতে অভিনয় করে অঙ্কিতা লোখান্ডে তুমুল জনপ্রিয়তা পান। পরবর্তীতে ওটিটি ও বড় পর্দায় কাজ শুরু করে তিনি ‘মণিকর্ণিকা: দ্য কুইন অব ঝাঁসি’, ‘বাঘি ৩’ এবং ‘স্বাতন্ত্র্য বীর সাভারকর’ এর মতো চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন।

  • ‘ডেনাল্ড ট্রাম্পে’র জন্য চাকরি গেলো জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটরের

    ‘ডেনাল্ড ট্রাম্পে’র জন্য চাকরি গেলো জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটরের

    আলোচিত অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ ইস্যুতে জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (৩০ মে) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেনের স্বাক্ষর করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়েছে, বিসিএস (পশুপালন) ক্যাডারের কর্মকর্তা ও জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন। তবে প্রজ্ঞাপনে অভিযোগের প্রকৃতি উল্লেখ করা হয়নি।

    সম্প্রতি জাতীয় চিড়িয়াখানায় রাখা আলোচিত অ্যালবিনো মহিষটির পরিচিতি ফলকে ‘ডোনাল্ড ট্টাম্প’ লেখা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং পরে সরকারের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত গড়ায়। শুধু বানান ভুল নয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে একটি মহিষের নাম সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রদর্শনী বোর্ডে বহাল রাখা নিয়েও আপত্তি ওঠে। এ দুটি বিষয় মিলিয়েই সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে ফলক পরিবর্তন করে মহিষটির নাম ‘সাদা মহিষ’ হিসেবে প্রদর্শন করা শুরু হয়।