আর্ন্তজাতিক

  • ‘হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না’, ইসরায়েলকে জে ডি ভ্যান্স

    ‘হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না’, ইসরায়েলকে জে ডি ভ্যান্স

    ইরানের সঙ্গে সদ্য স্বাক্ষরিত মার্কিন চুক্তির বিরোধিতা করায় ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার কট্টরপন্থী সদস্যদের নজিরবিহীন ভাষায় সমালোচনা করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, কোনো দেশ কেবল সহিংসতা বা হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে তাদের সব জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করতে পারে না।

    হোয়াইট হাউসের এক ব্রিফিংয়ে এবং মার্কিন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জে ডি ভ্যান্স এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ সমালোচকদের জবাব দিয়ে ইরানের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তির পক্ষে জোরালো সাফাই গেয়েছেন।

    হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে জে ডি ভ্যান্স ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গিভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘তাঁদের বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া উচিত।’

    ইসরায়েলি মন্ত্রীদের ক্ষোভের জবাব দিতে গিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি যদি ইসরায়েল সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকতাম, তবে বিশ্বের একমাত্র শক্তিশালী মিত্রের ওপর এভাবে হামলা চালাতাম না।’

    ইসরায়েলের সামরিক নীতির সমালোচনা করে ভ্যান্স আরও যোগ করেন, ‘৯ বা ১০ মিলিয়নের (জনসংখ্যা) একটি দেশ কেবল হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে তাদের সব জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করতে পারে না।’

    তবে এই তীব্র বাদানুবাদের মধ্যেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিছুটা নমনীয় সুর বজায় রেখেছেন। তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, যুদ্ধের কঠিন সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পাশে ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ দাঁড়িয়েছিল।

    এদিকে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও লেবাননে ইসরায়েল এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

    ইসরায়েল দাবি করছে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইটি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। তবে হিজবুল্লাহও এই চুক্তির শর্তাবলি প্রত্যাখ্যান করেছে।

    এই প্রসঙ্গে জে ডি ভ্যান্স কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, বৈরুতের মতো ঘনবসতিপূর্ণ বেসামরিক এলাকায় হামলা চালিয়ে বেসামরিক নাগরিক হত্যা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েলকে অবশ্যই এই শান্তি প্রক্রিয়াকে সম্মান জানাতে হবে।

    ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধ অবসানের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে, বিশেষ করে রিপাবলিকান পার্টির কট্টরপন্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে। অনেকেই ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের বিধান নিয়ে ক্ষুব্ধ।

    রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি এই চুক্তিকে ‘গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতিগত ভুল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর মতে, ‘ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে দমন করা যায়নি, বরং তারা বুঝে গেল যে হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দিলে কাজ হয়।’

    এই সমালোচনার জবাবে জে ডি ভ্যান্স বলেন, এই চুক্তির ফলে ইরান কোনো ছাড় পাবে না যদি না তারা শর্ত পূরণ করে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করতে হবে এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে হবে। শর্ত ভঙ্গ করলে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

  • ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ

    ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ

    মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি আবারো এক গভীর পরিবর্তনের মুখে দাঁড়িয়ে। সাম্প্রতিক ইরান–যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ কেবল সামরিক সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকা আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোকে নাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ ১৯৯০ সালের ইরাকের কুয়েত আক্রমণ এবং ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধ–এর মতোই মধ্যপ্রাচ্যের শক্তি ভারসাম্য পুনর্গঠনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

    দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও আগাম সতর্কীকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজেকে নিরাপত্তার প্রধান গ্যারান্টর হিসেবে উপস্থাপন করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সংঘাত দেখিয়েছে, এই নিরাপত্তা ছাতা সত্ত্বেও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব থেকে উপসাগরীয় দেশগুলো পুরোপুরি সুরক্ষিত নয়।

    উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ইরানি হামলায় কাতারের তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে স্পষ্ট হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সবসময় অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত ঝুঁকি থেকে রক্ষা দিতে সক্ষম নয়।

    এই বাস্তবতা উপসাগরীয় দেশগুলোকে বিকল্প নিরাপত্তা কাঠামোর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর এবং পাকিস্তানের মধ্যে সমন্বয়ের প্রবণতা বাড়ছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই দেশগুলোর সক্ষমতা একে অপরকে পরিপূরক করে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তি, তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প, মিশরের ভৌগোলিক ও সামরিক অবস্থান এবং পাকিস্তানের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা মিলিয়ে একটি সম্ভাব্য নিরাপত্তা কাঠামোর ভিত্তি তৈরি হতে পারে।

    তবে এটিকে এখনই পূর্ণাঙ্গ জোট বলা যাচ্ছে না। ঐতিহাসিক বিরোধ ও আস্থার ঘাটতি এই দেশগুলোর সম্পর্ককে এখনো জটিল করে রেখেছে।

    অন্যদিকে ইসরাইল তার কৌশলগত অবস্থান পুনর্গঠনে নতুন ধরনের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে, যা বিশ শতকের মধ্যভাগে অনুসৃত ‘পেরিফেরি ডক্ট্রিনে’-এর আধুনিক সংস্করণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই কৌশলে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আরব বিশ্বের বাইরে একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হচ্ছে।

    এই নেটওয়ার্কের অন্যতম কেন্দ্রীয় শক্তি হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০২০ সালের আব্রাহাম চুক্তির পর থেকে আবুধাবি ও তেলআবিবের মধ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো ক্ষেত্রে সহযোগিতা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

    এই নতুন কাঠামোয় ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভারত–ইসরাইল–ইউএই–যুক্তরাষ্ট্র সমন্বিত আইটুইউটু গ্রুপিং এবং প্রস্তাবিত ভারত–মধ্যপ্রাচ্য–ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর এই কৌশলগত সংযোগকে আরও শক্তিশালী করছে।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০–২০২৪ সময়ে ভারত ছিল ইসরাইলের অস্ত্র রপ্তানির সবচেয়ে বড় ক্রেতা, যা মোট রপ্তানির প্রায় ৩৪ শতাংশ এ তথ্য দিয়েছে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট।

    ইউরোপীয় প্রান্তে গ্রিস ও সাইপ্রাস ইসরাইলের সঙ্গে জ্বালানি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করেছে, যা তুরস্কের প্রভাব ভারসাম্য রক্ষার কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

    দক্ষিণাঞ্চলে ইথিওপিয়া এবং সোমালিল্যান্ড নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণের অংশ হয়ে উঠছে। লোহিত সাগর ও হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে হুথি হামলার পর ইসরাইল নৌপথ নিরাপত্তা ও বাণিজ্য রুট সুরক্ষায় গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

    এই অঞ্চলে ইসরাইল, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইথিওপিয়ার স্বার্থের মিল দেখা যাচ্ছে, যা একই সঙ্গে মিশর, সৌদি আরব ও তুরস্কের জন্য নতুন কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য এখন কঠোর দুটি ব্লকে বিভক্ত হচ্ছে না। বরং অঞ্চলটি প্রবেশ করছে ‘ফ্লেক্সিবল ওভারল্যাপিং পার্টনারশিপ’-এর যুগে, যেখানে দেশগুলো এক ক্ষেত্রে সহযোগিতা করলেও অন্য ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অবস্থান করছে।

    অর্থনৈতিক নির্ভরতা ও বাস্তববাদী কূটনীতি এই সম্পর্কগুলোকে আরও জটিল করে তুলছে। উদাহরণ হিসেবে, মিশর একদিকে উপসাগরীয় বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল, অন্যদিকে ইসরাইলের সঙ্গে শান্তি বজায় রাখছে।

  • ইরানের উপর জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা সরাতে শর্ত দিল ফ্রান্স

    ইরানের উপর জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা সরাতে শর্ত দিল ফ্রান্স

    আর্ন্তাজাতিক ডেস্ক:

    ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের আসন্ন আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায় ফ্রান্স। একই সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির শর্তে সন্তুষ্ট না হলে জাতিসংঘের ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সম্মতি দেবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারো। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।

    শুক্রবার তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে আলোচনায় শুধু পারমাণবিক কর্মসূচিই নয়, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তাদের সমর্থনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

    বারো বলেন, ইরানের কাছ থেকে বড় ধরনের ছাড়ের বিনিময়েই জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও ভেটোক্ষমতাসম্পন্ন সদস্য হিসেবে ফ্রান্সের সম্মতি ছাড়া এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সম্ভব নয়।

    তার ভাষায়, “ইরানের অবস্থানে মৌলিক পরিবর্তন আনাই আমাদের লক্ষ্য। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হিসেবে এই সংকটের সমাধানে ফ্রান্সের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

    চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে এবং চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আলোচনার বাইরে থাকা ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি এবার পরবর্তী দফার আলোচনার কাঠামো নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী।

  • কলকাতাজুড়ে পচা ডিমের নজিরবিহীন চাহিদা

    কলকাতাজুড়ে পচা ডিমের নজিরবিহীন চাহিদা

    পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভোট-পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের লক্ষ্য করে এক অভিনব উপায়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু হয়েছে, যেখানে ‘পচা ডিম’ হয়ে উঠেছে প্রধান হাতিয়ার। কলকাতার আশেপাশের বাজারগুলিতে হঠাৎ করেই পচা ডিমের চাহিদা ও বিক্রি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় পচা ডিমের খোঁজ করছেন।

    অতীতে যে পচা ডিম সাধারণত মাছের খাবার, শ্যাম্পু কিংবা নিউরোথেরাপির কাজে ব্যবহৃত হতো, তা এখন রাজনৈতিক প্রতিবাদের এক অহিংস অথচ তীব্র অপমানজনক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন যে, এখন কেউ এক ক্রেট ডিম কিনতে এলেই তারা ঠাট্টা করে জিজ্ঞেস করছেন যে এগুলি খাওয়ার জন্য নাকি ছোঁড়ার জন্য নেওয়া হচ্ছে। কিছুদিন আগেই এক ক্রেতা পুরো এক ক্রেট পচা ডিম কিনে নিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন, যাদবপুরের ‘শম্ভু এগ শপ’-এর এক ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

    এই পচা ডিম ছোঁড়ার রাজনীতির শুরু হয়েছিল তৃণমূলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে, তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে একটি বিক্ষোভের মুখে পড়েন হন এবং তখন তাকে লক্ষ্য করে প্রথম পচা ডিম ছোঁড়া হয়। এরপর থেকেই তৃণমূলের একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে এই ডিম হামলা চালানো হচ্ছে। বলা যায় ্এটি এখন রাজ্য রাজনীতির একটি প্রধান উপাদান হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী সহিংসতা ও হেনস্তায় বিজেপি সরকার সরাসরি মদদ দিয়ে যাচ্ছে। তৃণমূলের দাবি, পুলিশের সামনেই দলটির নেতাদের একের পর এক ডিম মারা হচ্ছে, অথচ পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এছাড়াও তৃণমূলের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার করে জেলে ভরেছে পুলিশ। পরে আদালতে নেয়ার সময়ই সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে থাকা বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে তাদের লক্ষ্য করে পচা ডিম ছুঁড়ছে।

  • ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেয়াসহ কী আছে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ দফা চুক্তিতে

    ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেয়াসহ কী আছে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ দফা চুক্তিতে

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং তা কার্যকর হয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ-এ অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে অংশ নেয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির ফলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

    ১৪ দফার এই চুক্তিকে মূলত সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ বলা হচ্ছে। এতে বলা হয়েছে যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করবে না।

    এছাড়া দেশটির ‘পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের’ জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে, যদিও এতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বাধ্যতামূলক নয়।

    যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং ইসরাইলের মধ্যে সঙ্ঘাত শুরু হওয়ার চার মাস পর এই চুক্তি হলো।ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তিকে ‘কর্মসম্পাদন’ বা পারফর্ম্যান্সভিত্তিক হিসেবে বর্ণনা করেছে। অর্থাৎ, ইরান নিজ প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করলেই কেবল চুক্তির সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

    যদিও চুক্তির মধ্যে অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েরও সমাধান হয়নি, তবু এর যেসব মূল দিক সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়েছে, সেগুলো তুলে ধরা হলো।

    প্রথম দফা : ‘সব ফ্রন্টে’ সঙ্ঘাতের অবসান

    চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ ‘সব ফ্রন্টে’ সামরিক অভিযান অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা দেবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছিলেন যে লেবাননের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক অভিযান ইরানের সাথে হওয়া এই চুক্তিকে ভেস্তে দিতে পারে।

    অন্যদিকে, তেহরান বারবার আশা জানিয়েছে যে যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বুধবার বলেন, লেবাননে ইসরাইলের যেকোনো সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে তা হবে ‘এই সমঝোতার লঙ্ঘন’, আর এর প্রতিক্রিয়ায় ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে’।

    চুক্তিতে আরো বলা হয়েছে, ‘এখন থেকে’ কোনো পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করবে না বা হুমকি দেবে না এবং লেবাননের ‘ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব’ নিশ্চিত করবে।

    নথি অনুযায়ী, চূড়ান্ত এই চুক্তি সঙ্ঘাতের স্থায়ী ‘অবসান’ ঘটাবে।তবে এই দফার নিয়ে ইসরাইল কী প্রতিক্রিয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

    দ্বিতীয় দফা : ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে’ পারস্পরিক সম্মান

    যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সাথে এক টেলিফোন ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের কাছে হুবহু পড়ে শোনানো চুক্তিটিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে’ এবং একে অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপে বিরত থাকবে।

    এই ধারা ইরানের ভিন্নমতাবলম্বী গোষ্ঠীগুলো নেতিবাচকভাবে নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে, ইরানের বিভিন্ন শহরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘সহায়তা আসছে’।

    তৃতীয় দফা : ৬০ দিনের সময়সীমা

    চুক্তির তৃতীয় দফা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতায় পৌঁছানোর অঙ্গীকার করেছে। তবে উভয়পক্ষের সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।

    দু’দেশের নেতারা সমঝোতা স্মারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করার পর থেকেই ৬০ দিনের এই সময় গণনা শুরু হয়েছে।

    হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বুধবার রাতে ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে জি৭ সম্মেলন পরবর্তী এক নৈশভোজে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান-সংক্রান্ত এই নথিতে স্বাক্ষর করেন।

    হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও এতে স্বাক্ষর করেছেন।

    এর আগে ট্রাম্প এবং ইরানি কর্মকর্তারা এ সপ্তাহের শেষ দিকে জেনেভায় আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে এখন সেটি হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

    চতুর্থ দফা : যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার করবে

    চতুর্থ দফায় বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে আরোপিত নৌ অবরোধ এবং ‘যেকোনো বিঘ্ন বা প্রতিবন্ধকতা’ অপসারণ শুরু করবে।

    চুক্তি এবং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে এই অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে। এ সময়ে ইরানের বন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে, তা হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নৌ চলাচলের হারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

    চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ‘ইরানের নিকটবর্তী অঞ্চল’ থেকে নিজেদের সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    বাস্তবে এর অর্থ হলো, ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর আগে মার্কিন বাহিনীর যে অবস্থান ছিল, দেশটি আবার সেই অবস্থায় ফিরে যাবে।

    পঞ্চম দফা : হরমুজ প্রণালী

    চুক্তির একটি অংশে বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ইরান ‘সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা’ চালিয়ে কোনো ধরনের ফি ছাড়াই হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করবে।

    যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম তীব্রভাবে বেড়ে যায়। তাই প্রণালীটি পুনরায় চালু করা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল।

    নথিতে বলা হয়েছে, কারিগরি ও সামরিক ‘প্রতিবন্ধকতা’ দূর করা এবং মাইন অপসারণ কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়ে জাহাজ চলাচল ‘অবিলম্বে’ শুরু হবে।

    এর আগে এক ব্রিফিংয়ে কর্মকর্তারা বারবার স্পষ্ট করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে চলাচলের জন্য কোনো ধরনের ফি নেয়া হবে না।

    দীর্ঘমেয়াদে, ইরান ওমান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সাথে মিলে হরমুজ প্রণালী পরিচালনায় আরো বিস্তৃত একটি কাঠামোগত চুক্তির জন্য কাজ করবে বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে ইরান নিজেদের অধিকার দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে।

    তবে ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালী ব্যবহারের জন্য টোল বা শুল্ক ব্যবস্থা চালু থাকার মতো সিদ্ধান্ত উপসাগরীয় দেশগুলো কখনোই মেনে নেবে না।

    ষষ্ঠ দফা : ইরানের পুনর্গঠনের জন্য অর্থায়ন

    সমঝোতা স্মারকের ষষ্ঠ দফায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক অংশীদাররা ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন (৩০ হাজার কোটি) ডলারের একটি ‘চূড়ান্ত ও পারস্পরিকভাবে সম্মত পরিকল্পনা’ প্রণয়ন করবে।

    চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এই তহবিলের কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সব লাইসেন্স, ছাড়পত্র ও অনুমোদন দেবে।

    তবে তার মানে এটা না যে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অর্থায়ন করবে।

    এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানকে কিংবা তহবিলে ‘এক পয়সাও’ দিতে হবে না।

    উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, যদি ইরান ‘ভালো আচরণ’ করে, তাহলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন নিয়ে ইরানে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে পারে।

    ট্রাম্প ও প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানকে অর্থ দেবে না। তাদের দাবি, ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের সাথে ইরানের পারমাণবিক চুক্তির তুলনায় এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

    সপ্তম দফা : নিষেধাজ্ঞার অবসান

    চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। এর মধ্যে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের আওতায় থাকা নিষেধাজ্ঞা এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলোও অন্তর্ভুক্ত।

    তবে এই প্রক্রিয়ার সময়সূচি এখনো স্পষ্ট নয়।

    নথিতে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে এ বিষয়ে একটি সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। তবে উভয়পক্ষই বিষয়টি ‘অবিলম্বে’ অগ্রাধিকার দিয়ে পরবর্তী আলোচনায় বিবেচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

    নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’ কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল তেহরানকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে ফেলা।

    অষ্টম দফা : পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার প্রতিশ্রুতি

    ইরান পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ বা অর্জন না করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি উভয় পক্ষ তেহরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে একমত হয়েছে।

    এই পদার্থ ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি এখনো স্পষ্ট নয়। নথিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী আলোচনায় একটি প্রক্রিয়া ‘পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে’ হবে। তবে ন্যূনতম হিসেবে এটি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-এর তত্ত্বাবধানে ‘ডাউনব্লেন্ড’, অর্থাৎ ইউরেনিয়ামের মান বা তীব্রতা হ্রাস করার ব্যবস্থা করা হবে।

    জ্যেষ্ঠ এক মার্কিন কর্মকর্তা একে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘ন্যূনতম মান’ এবং ‘বড় সাফল্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    ট্রাম্প বলেছেন, এই বছরের শুরুতে চালু করা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর ৯৯ শতাংশ লক্ষ্যই ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে বিরত রাখা।

    যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তিকে পারফরম্যান্সভিত্তিক হিসেবে বর্ণনা করেছে, তাই সপ্তম দফায় উল্লেখিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ইরানের অষ্টম দফা মেনে চলার ওপর নির্ভর করবে।

    নবম ও দশম দফা : ‘স্থিতাবস্থা’

    এই দু’টি দফায় বলা হয়েছে, পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবস্থাপনা না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখবে।

    বাস্তবে এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না। একই সময়ে তারা তেল, পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি এবং সংশ্লিষ্ট সেবাসমূহ- যেমন ব্যাংকিং লেনদেন ও পরিবহনের জন্য ওয়েভার বা ছাড়পত্র জারি করবে।

    একাদশ দফা : জব্দকৃত অর্থ

    এই দফাটি আলোচনায় একটি বড় বাধা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

    ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে তাদের জব্দকৃত সম্পদ ফিরিয়ে দিতে হবে, যা দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।

    নথির একাদশ দফায় বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র ‘জব্দ বা আটকানো সব অর্থ সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে’, আর এর প্রক্রিয়া পরবর্তী আলোচনায় নির্ধারণ করা হবে।

    এক মার্কিন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কিছু সম্পদ এমওইউ-পরবর্তী আলোচনার সময় মুক্ত করা হবে, যাতে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবস্থাপনা শুরুর মতো শর্তগুলো মানলে ইরানকে উৎসাহ দেয়া যায়।

    দ্বাদশ থেকে চতুর্দশ দফা : নজরদারি ও চূড়ান্ত আলোচনা

    চুক্তির শেষ কয়েকটি দফায় চুক্তি বাস্তবায়নের কাঠামো ও প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এমন একটি ‘ব্যবস্থা’ গঠন করবে, যা এমওইউ বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ চুক্তির শর্ত মানা হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করবে। তবে বাস্তবে এটি কিভাবে কাজ করবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

    এমওইউ স্বাক্ষরের পর এবং বাস্তবায়ন শুরু হলে উভয় দেশ চূড়ান্ত একটি চুক্তির জন্য আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করবে।

    সবশেষে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে।

  • ইরানকে ঘুষ দিয়েছিলেন ওবামা: ট্রাম্প

    ইরানকে ঘুষ দিয়েছিলেন ওবামা: ট্রাম্প

    ২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) ঘিরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, ওই চুক্তির অংশ হিসেবে ওবামা প্রশাসন ইরানকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে কার্যত ‘ঘুষ’ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

    ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ওবামার করা জেসিপিওএ চুক্তিতে ইরানকে ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছিল। ব্যাংক থেকে আনা এই অর্থ একটি বোয়িং ৭৫৭ উড়োজাহাজে করে ইরানে পাঠানো হয়।

    ট্রাম্প দাবি করেন, অর্থবাহী বিমানটি তেহরানে পৌঁছানোর পর ইরানিরা সেটিকে স্বাগত জানায় এবং ওই অর্থ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। তার ভাষায়, ওবামা এভাবে অর্থ দিয়ে সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিলেন। আমি সে পথ অনুসরণ করিনি।

    ইরানের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গেও ট্রাম্প কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, ইরানিরা ওবামাকে নিয়ে হাসাহাসি করেছিল এবং তাকে দুর্বল মনে করেছিল।

    উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইরান ও বিশ্বশক্তিগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) বা পরমাণু চুক্তির মাধ্যমে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা আরোপের বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। চুক্তিটি নিয়ে শুরু থেকেই সমালোচনামুখর ছিলেন ট্রাম্প এবং ক্ষমতায় এসে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেন।

  • এক ম্যাচেই বিশ্বকাপের যত রেকর্ড ভাঙলেন মেসি

    এক ম্যাচেই বিশ্বকাপের যত রেকর্ড ভাঙলেন মেসি

    ২০ বছর আগে ঠিক এই দিনটিতেই সার্বিয়া ও মন্টিনিগ্রোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিষেক হয়েছিল লিওনেল মেসির। দুই দশক পর সেই একই দিনে, কানসাস সিটিতে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মহাকাব্য লিখলেন ৩৯ ছুঁইছুঁই লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে কেবল আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযানই দুর্দান্তভাবে শুরু করেননি, একই সাথে ছুঁয়ে ফেলেছেন বিশ্বকাপের সর্বাধিক গোলদাতার রেকর্ডও।

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই এক ম্যাচেই লিওনেল মেসি যেসব বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছেন এবং গড়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:

    ১. বিশ্বকাপের ইতিহাসে বয়োবৃদ্ধ হ্যাটট্রিকম্যান: আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসি যখন তার প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিকটি পূর্ণ করলেন, তখন তার বয়স ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন। এর মাধ্যমে তিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দীর্ঘ আট বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিক করার বিশ্বরেকর্ড নিজের করে নিলেন। ২০১৮ সালে স্পেনের বিপক্ষে ৩৩ বছর ১৩০ দিন বয়সে হ্যাটট্রিক করেছিলেন রোনালদো।

    ২. আর্জেন্টিনার ইতিহাসের কনিষ্ঠ ও বয়োবৃদ্ধ গোলদাতা: এই হ্যাটট্রিকের পর মেসি এখন একই সাথে বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী এবং সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতা! ২০০৬ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে সার্বিয়ার বিপক্ষে প্রথম গোল করেছিলেন তিনি, আর আজ ৩৯ ছুঁইছুঁই বয়সে করলেন হ্যাটট্রিক।

    ৩. বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (ক্লোসাকে ছোঁয়া): আলজেরিয়ার জালে ৩ বার বল পাঠিয়ে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গেছেন মেসি। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বমঞ্চের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতা জার্মানির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ডে ভাগ বসালেন। আর ১টি গোল করলেই তিনি এককভাবে চূড়ায় উঠবেন।

    ৪. ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৬টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: মাঠে নামার সাথে সাথেই ফুটবল ইতিহাসের প্রথম এবং একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৬টি ভিন্ন বিশ্বকাপ আসরে (২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬) খেলার অনন্য এক কীর্তি গড়লেন এলএমটেন।

    ৫. ৫টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার নজির: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর বিশ্বের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ৫টি ভিন্ন বিশ্বকাপ আসরে গোল করার গৌরব অর্জন করলেন মেসি। ২০১০ বিশ্বকাপ বাদে ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬ সালের আসরে গোল করার নজির গড়লেন তিনি।

    ৬. আন্তর্জাতিক ফুটবলে ম্যাচের ‘ডাবল সেঞ্চুরি’: আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচটি ছিল আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সিতে মেসির ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে আন্তর্জাতিক ম্যাচের এই অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। তার সামনে আছেন কেবল কুয়েতের বাদের আল-মুতাওয়া (২০২ ম্যাচ) এবং পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (২২৮ ম্যাচ)।

  • অযোধ্যায় রাম মন্দির ট্রাস্টের  ২০০ কোটি রুপি তছরুপ

    অযোধ্যায় রাম মন্দির ট্রাস্টের ২০০ কোটি রুপি তছরুপ

    অযোধ্যার রাম মন্দিরকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। মন্দির ট্রাস্টের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ কোটি রুপি আত্মসাতের অভিযোগ এনে গতকাল মঙ্গলবার একটি অভিযোগপত্র দায়ের করেছেন ‘ধর্ম সেনা ভারত’-এর প্রধান ও সাবেক করসেবক সন্তোষ দুবে।

    ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রবীণ নেতা এল কে আদভানির সঙ্গে সন্তোষ দুবেও ছিলেন ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার অন্যতম প্রধান আসামি।

    হিন্দি ভাষায় জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে দুবে উল্লেখ করেন, ‘আবেদনকারী (সন্তোষ দুবে নিজে) প্রায়ই দর্শনের জন্য রাম জন্মভূমি মন্দিরে যান। তিনি প্রায়ই দেখেছেন, ভক্তরা দানবাক্সে সোনা ও রুপার গয়না, সোনা ও রুপার মুদ্রা এবং নগদ অর্থ দান করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ভক্তদের কাছ থেকে প্রতিদিন দানবাক্সগুলোতে নগদ টাকা, মুদ্রা ও গয়না মিলিয়ে ১ কোটি রুপির বেশি মূল্যের অনুদান জমা পড়ছে।’

    সন্তোষ দুবে বলেন, এই অনুদান সংরক্ষণ ও সুরক্ষার দায়িত্ব রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের ট্রাস্টিদের ওপর ন্যস্ত। কিন্তু তাঁরা এ অর্থ নিরাপদে রাখার বদলে আত্মসাৎ করেছেন। দুবে তাঁর এ অভিযোগে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই বানসাল ও অন্য কর্মচারীদের নাম উল্লেখ করেছেন।

    অভিযোগ তদন্তে পলিগ্রাফ পরীক্ষার দাবি

    অভিযোগপত্রে সন্তোষ দুবে দাবি করেছেন, ‘আবেদনকারীর অভিযোগ হলো, ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই বানসাল, অনিল মিশ্র, গোপাল রাও এবং রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নুসহ (চম্পত রাইয়ের গাড়িচালক হিসেবে পরিচিত) ট্রাস্টের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজশে বড় অঙ্কের অর্থ, সোনা ও রুপার গয়না এবং মুদ্রা দানবাক্স থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আত্মসাৎ করা এ অর্থ ও সম্পদের মূল্য ২০০ কোটি রুপির বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

    মন্দিরের তহবিল আত্মসাৎ করার জন্য ট্রাস্টের কর্মকর্তারা হিসাবের খাতায় ভুয়া তথ্য ও জাল সংখ্যা বসিয়েছেন বলেও অভিযোগ তোলেন সন্তোষ দুবে। তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে যে মন্দিরে অনুদান হিসেবে পাওয়া রত্নখচিত গয়না বিক্রি ও কোটি কোটি রুপি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এর মধ্যে কিছু মালামাল সাধারণ চোরদের কাছ থেকে উদ্ধারও করা হয়েছে।’

    এ ঘটনায় উত্তর প্রদেশ পুলিশকে একটি এজাহার বা এফআইআর দায়েরের অনুরোধ জানিয়েছেন সন্তোষ দুবে। তিনি বলেন, ‘ভক্তদের দান করা কোটি কোটি রুপি, সোনা ও রুপার গয়না, মুদ্রা ও মূল্যবান রত্নসামগ্রী উদ্ধার করতে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ন্যায়বিচার ও ধর্মের স্বার্থেই আইনের উপযুক্ত ধারা অনুযায়ী একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা উচিত। সেই সঙ্গে তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পলিগ্রাফ পরীক্ষা (মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষা) করা দরকার।’

    মন্দিরের তহবিল তছরুপের এ অভিযোগগুলো সামনে আসার পর বিরোধী দলগুলো উত্তর প্রদেশের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে নিশানা করতে শুরু করেছে। বিশেষ করে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) এ দুর্নীতির অভিযোগটি ব্যাপকভাবে তুলে ধরছে।

    গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে উত্তর প্রদেশে বিজেপির শাসন দুর্নীতিতে ডুবে গেছে। তা না হলে এখানে এসআইটি (বিশেষ তদন্ত দল) গঠনের বদলে আইআইটি (ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি) গড়ে উঠত।’

  • ইসরাইল ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্ব নেই: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    ইসরাইল ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্ব নেই: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    আর্ন্তজাতকি ডেস্ক

    ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার অস্তিত্বের জন্য ইসরাইলের কাছে ঋণী। তার এই দাবি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। এর আগে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি না থাকলে ইসরাইলের কোনো অস্তিত্বই থাকত না। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন না থাকলে ইসরাইল টিকে থাকতে পারত না।’

    ইসরাইলে দেওয়া এক ভাষণে হাকাবি বলেন, ‘ইহুদি ভিত্তি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্ব থাকত না। যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য এই ভূমির ইতিহাস গূরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’

    হাকাবির এই দাবি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত বার্ষিক জি-৭ সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প ইসরাইলি নেতৃত্বের তীব্র প্রকাশ্য সমালোচনা করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরাইল থাকত না। আমি ছাড়া ইসরাইল থাকত না, কারণ আমি যা করেছি তা করতে অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট ইচ্ছুক ছিলেন না।’

  • লেবাননে যুদ্ধাপরাধ করছে ইসরাইল: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

    লেবাননে যুদ্ধাপরাধ করছে ইসরাইল: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

    যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করে বলেছে, লেবাননে গণহারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির আদেশ দিচ্ছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। সংস্থাটির মতে, এটা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ‘যুদ্ধাপরাধের’ শামিল।

    এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ‘দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশে বেসামরিক নাগরিকদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং তাদের প্রত্যাবর্তনে বাধা দেওয়া অবৈধ স্থানান্তরের শামিল, যা একটি যুদ্ধাপরাধ।’

    বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইসরাইলি সেনাবাহিনী এ ধরনের আদেশের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। ফলে লেবাননজুড়ে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

    অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক ক্রিস্টিন বেকারলে বলেন, ‘সম্প্রদায়কে উচ্ছেদ করা এবং লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকাকে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য নিষিদ্ধ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা না করে, ইসরাইলি বাহিনীকে অবশ্যই লেবাননের ভূখণ্ড থেকে অবিলম্বে সরে যেতে হবে।’

    সংস্থাটির বিবৃতি অনুসারে, আগের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার একদিন পর, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর ইসরাইলি সামরিক বাহিনী লেবাননের প্রায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এলাকাকে প্রবেশ-নিষিদ্ধ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে।

    এতে আরো বলা হয়, ২০২৬ সালের ১৭ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র তিন দিন পর, এই সীমাবদ্ধ এলাকাটি দেশের প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয় এবং একে ‘ফরওয়ার্ড ডিফেন্স’ জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এছাড়া, পূর্বে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিকের আবাসস্থল একাধিক গ্রামে বাসিন্দাদের ফিরে না আসার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    লেবাননের কর্মকর্তারা বলেন, ২ মার্চ থেকে লেবাননের ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইল। এরপর থেকে ইসরাইলি হামলায় দেশটিকে তিন হাজার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০লাখের বেশি মানুষ ।