আর্ন্তজাতিক

  • তাহলে কোন একাদশ নিয়ে নামছে আর্জেন্টিনা

    তাহলে কোন একাদশ নিয়ে নামছে আর্জেন্টিনা

    আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। ডালাস স্টেডিয়ামে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে হতে যাওয়া ম্যাচটি জিতলেই নকআউট নিশ্চিত হয়ে যাবে লা আলবিসেলেস্তেদের। তার আগে আলোচনায় তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের সম্ভাব্য একাদশ।

    আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্সের পরও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের একাদশে একটি পরিবর্তন আসবে। চোটের কারণে রাইটব্যাক গনসালো মন্তিয়েলকে বিশ্রাম দেবেন লিওনেল স্কালোনি। ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে টান অনুভব করায় তাঁকে বেঞ্চে রাখা হচ্ছে। মন্তিয়েলের অনুপস্থিতিতে শুরুর একাদশে রাখা হবে নাউয়েল মলিনাকে। এই পজিশনে স্কালোনির প্রথম পছন্দ তিনি।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শুধু রাইব্যাকই নয়, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে আরও দুটি পরিবর্তন আসতে পারে আর্জেন্টিনার একাদশে। শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে হুলিয়ান আলভারেসকে। গোড়ালির চোট কাটিয়ে আলজেরিয়ার বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। তবে আতলেতিকো মাদ্রিদ তারকা এখনো পুরোপুরি ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাননি বলে কিছুটা শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। আলজেরিয়া ম্যাচের মতো অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও লাউতারো মার্তিনেস শুরুর একাদশে নামলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

    আক্রমণভাগে আরও একটি পরিবর্তন নিয়ে ভাবছেন স্কালোনি। থিয়াগো আলমাদা একাদশে থাকবেন নাকি তাঁর জায়গায় সুযোগ পাবেন নিকোলাস গনসালেস—এখনো সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেনি টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে শুরু করা আলমাদার ওপরই আবারও আস্থা রাখার সম্ভাবনা বেশি—এমনটাই দাবি টিওয়াইসি স্পোর্টসের।

    লেফটব্যাক পজিশনে ফাকুন্দো মেদিনাকেই ধরে রাখছেন স্কালোনি। কাফের চোট কাটিয়ে নিকোলাস তালিয়াফিকো দলে ফিরলেও তাঁকে শুরু থেকেই খেলিয়ে ঝুঁকি নিতে চায় না কোচিং স্টাফ। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দেখা যেতে পারে এই ডিফেন্ডারকে। ধীরে ধীরে ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাওয়ায় লিয়ান্দ্রো পারেদেসকেও কিছুটা সময় খেলাতে পারেন স্কালোনি, বলা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ: এমিলিয়ানো মার্তিনেস, নাউয়েল মলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেস, ফাকুন্দো মেদিনা; রদ্রিগো দে পল, আলেক্সিস মাক আলিস্তার, এনসো ফার্নান্দেস, থিয়াগো আলমাদা অথবা নিকোলাস গনসালেস, লিওনেল মেসি ও লাউতারো মার্তিনেস।

  • নকআউটে উঠলে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হতে পারে যে দল

    নকআউটে উঠলে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হতে পারে যে দল

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে বড় জয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা আর্জেন্টিনার পুরো নজর এখন অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ ঘিরে। একইভাবে ‘এইচ’ গ্রুপের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে লিওনেল মেসিদের। কারণ অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু না হলে এই গ্রুপের যেকোনো এক দলের বিপক্ষেই সেরা ৩২-এ খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা।

    ‘এইচ’ গ্রুপে স্পেন ছাড়াও আছে উরুগুয়ে, কেপ ভার্দে ও সৌদি আরব। গতকাল রাতে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে স্প্যানিশরা। দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে সবার ওপরে অবস্থান করছে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা। সমান দুই পয়েন্ট করে নিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে উরুগুয়ে এবং কেপ ভার্দে। এক পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে সৌদি আরব।

    ‘জে’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে ওঠলে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের বিপক্ষে নকআউটে খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ঘিরে তাই তৈরি হয়েছে নানা সমীকরণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে উরুগুয়ে যদি স্পেনকে হারায় এবং কেপ ভার্দে জয় না পায়, তাহলে স্পেন রানার্সআপ হয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনাকে পাবে। আবার উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে উভয় দল জিতলে গোল ব্যবধান, গোলসংখ্যা কিংবা প্রয়োজন হলে ফেয়ার প্লে সূচক দিয়ে নির্ধারিত হবে গ্রুপের অবস্থান।

    অন্যদিকে কেপ ভার্দে জয় পেলে এবং উরুগুয়ে ড্র করলে আফ্রিকার দলটিই রানার্সআপ হয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে নামবে। সৌদি আরবও এখনো পুরোপুরি সমীকরণের বাইরে নয়। উরুগুয়ে জয় না পেলে এবং সৌদি আরব নিজেদের শেষ ম্যাচ জিতলে তারাও রানার্সআপ হওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

    এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব শেষে দলগুলোর পয়েন্ট সমান হলে অলিম্পিক পদ্ধতির টাইব্রেকার প্রয়োগ করা হবে। সে ক্ষেত্রে প্রথমে বিবেচনায় আসবে মুখোমুখি ম্যাচের ফল, এরপর গোল ব্যবধান, গোলসংখ্যা, সামগ্রিক গোল ব্যবধান, মোট গোল, শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ড এবং সবশেষে ফিফা র‌্যাংকিং।

  • ‘মেসি সেরাদের সেরা’

    ‘মেসি সেরাদের সেরা’

    বিশ্বকাপের শুরুতেই নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে যেন বুঝিয়েছেন, ৩৯ ছুঁইছুই বয়সেও দলের জন্য কতটা কার্যকর তিনি। এমন পারফরম্যান্সের পর চারদিক থেকে এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে প্রশংসা বাক্য শোনা যাচ্ছে। সবশেষ মেসিকে প্রশংসায় ভাসালেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।

    প্রথম ম্যাচেই দারুণ হ্যাটট্রিক করে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বড় জয়ে নেতৃত্ব দেন মেসি। গোল্ডেন বুট জেতার দৌড়ে আলোচনায় সবার আগে দশ নম্বর জার্সিধারী। মেসির সঙ্গে এই আলোচনায় আছে এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন ও আরলিং হালান্ডের নাম। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তিনজনই জোড়া গোল করেছেন। এখন পর্যন্ত গোল্ডেন বুটের আলোচনায় আছেন এই চারজন।

    এই চারজনের মধ্যে দ্বিধাহীনভাবে মেসিকে এগিয়ে রাখলেন এমবাপ্পে। দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফরাসি তারকা বলেন, ‘মেসি এই চারজনের মধ্যে সেরা। এটা পরিষ্কার। সে সেরাদেরও সেরা, ঠিক যেমন ক্রিস্টিয়ান রোনালদো।’

    মেসির প্রশংসা করে এমবাপ্পে আরও বলেন, ‘সে (মেসি) গত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে অসাধারণ মান দেখিয়ে আসছে। বাকিদের নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু সেটা সাংবাদিক ও ভক্তদের বিষয়। এটা আমার মাথায় নেই। আমি শুধু নিজের পারফরম্যান্স দেখানোর চেষ্টা করি।’

    কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যায় ফ্রান্স। দল শিরোপা জিততে না পারলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে রঙিন ছিলেন এমবাপ্পে। সে আসরের গোল্ডেন বুট উঠেছিল তাঁর হাতে। তবে এই ফরোয়ার্ড জানালেন, ব্যক্তিগত নয়, তাঁর কাছে দলগত সাফল্যই সবার আগে, ‘আমি জানতাম মেসি গোল করবে, সে সব সময়ই এটা করে। সে আমার চেয়ে এগিয়ে। কিন্তু আমি দলের জন্য গোল করে যেতে চাই। গোল করলে রেকর্ড ভাঙা যায়, কিন্তু আমার লক্ষ্য বিশ্বকাপ জয়।’

    বিশ্বকাপে ‘আই’ গ্রুপে আজ রাতে ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নামবে ফ্রান্স। যেটা হবে এমবাপ্পের শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এমন একটি ম্যাচের আগেও তাঁর ভাবনায় দল, ‘জাতীয় দলে খেলা সব সময়ই বিশেষ কিছু। ১০০তম ম্যাচ বিশ্বকাপে খেলাটা ঐতিহাসিক। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জয় তুলে নেওয়া।’

  • এই বিস্ময়বালকের হাতেই কি এবারের বিশ্বকাপ

    এই বিস্ময়বালকের হাতেই কি এবারের বিশ্বকাপ

    ফুটবল বিশ্বের নয়া পোস্টার বয় লামিনে ইয়ামাল। নিউ ইয়র্কের টাইম স্কয়ারের বিলবোর্ডে তার বিশাল ছবি। ভাবা যায়! মাত্র ১৮ বছর বয়সে টাইম স্কয়ারের মতো স্থানে ইয়ামালের এই উপস্থিতি। বলুনতো এতে কী প্রমাণ হয়। স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামাল শুধু ইউরোপেই সীমাবদ্ধ নেই। বরং বিশ্ব ফুটবলে নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। বিশ্বের তাবৎ মিডিয়া বিস্ময়বালক হিসেবেই তাকে চিহ্নিত করেছে। এই মুহূর্তে বিশ্ব ফুটবলের এক নম্বর মুকুটহীন সম্রাট। অনেকে তার মধ্যে আরেক মেসির ছায়া স্পষ্ট দেখতে পান। লামিনে ইয়ামালের গায়ে বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সি। স্পেনের হয়েই ইউরো ২০২৪ জয় করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গোল করেছেন ৫৩টি। তার ক্যারিয়ার রীতিমতো চোখ ধাঁধানো। পারিবারিক অস্থিরতার মধ্যেই বড় হন। মাত্র তিন বছর বয়সেই তার বাবা-মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। লামিনে’র দাদি এসেছিলেন মরক্কো থেকে। অবৈধ অভিবাসী হিসেবে এখানে-ওখানে থাকতেন। শেষমেশ তার ঠাঁই হয় স্পেনের মাতারো শহরে। মা আসেন ইকুয়েটোরিয়াল গিনি থেকে। মাথাগোঁজার ঠাঁই ছিল না। যাযাবরের মতো থাকতেন। দারিদ্র্যতা ছিল তার নিত্যসঙ্গী। এখন বিবেচনা করলে মনে হবে, এটা এক রোমাঞ্চকর বাস্তব জীবন। যা কিনা সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। আর্থিক কষ্টের মধ্যে মাতারো শহরের দুইজন সহৃদয় ব্যক্তি সাহায্যের হাত বাড়ান। এই মুহূর্তে ইনজুরি সমস্যায় ভুগছেন লামিনে। তবুও কোচ তাকে মাঠে নামাবেনই। কেপ ভার্দের সঙ্গে স্পেন ড্র করে। বিশ মিনিট মাঠে নামেন অবশ্য। সৌদি আরবের সঙ্গে খেলেছেন একটু বেশি সময়। গোলও পেয়ে গেছেন। গোলের পর দুই হাতের আঙ্গুল দিয়ে ৩০৪ চিহ্নটি দেখান। এর পেছনে একটা ইতিহাস রয়েছে। এটা আসলে রোকো ফন্ডা এলাকার পোস্টাল কোড। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে পিছিয়ে পড়া শ্রমজীবী মানুষের পরিচয়কে তুলে ধরতে চান। খ্যাতির চূড়ায় এখন অনেকটা শীর্ষে। এর মধ্যে লামিনের জীবনে যুক্ত হয়েছে নানা চাঞ্চল্যকর বিতর্ক। ইয়ামালের মূল অনুপ্রেরণা কিন্তু ব্যালন ডি’অর বা কোটি টাকার জাঁকজমকপূর্ণ জীবন নয়। তিনি পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চান। ইয়ামালের মা কাজ করতেন ম্যাকডোনাল্ডসে। হাড়ভাঙা খাটুনি। তারকা হয়ে ওঠার পর লামিনে তার মা’র জীবনটা বদলে দিয়েছেন। কিনে দিয়েছেন এক বিলাসবহুল বাড়ি।

    মার সঙ্গে লামিনে ইয়ামাল

    চাচা কাজ করতেন এক বেকারিতে। তার জীবনও পাল্টে গেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে- এখনও তিনি মরক্কো ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনিকে স্মরণ করেন। তার বুটে আঁকা থাকে ওই দুটি দেশের পতাকা। এতে তিনি প্রমাণ করতে চান-অতীত যত কুয়াশাছন্নই হোক না কেন- সেটা তিনি ভুলতে চান না। একদিকে মাঠের পারফরম্যান্স ধরে রাখার অবিশ্বাস্য চাপ। অন্যদিকে জীবনের নানামুখী আইনি বিতর্ক। মিডিয়ার নজর তো আছেই। বার্সেলোনার প্রধান কোচ হান্সি ফ্লিক বলেছেন, লামিনের জীবন এক অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় ভরা। তার মতে, শুধু প্রতিভা নয়, কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এসব ধরে রাখতে। অসাধারণ ড্রিবলিং ক্ষমতার পাশাপাশি বর্ণবাদের বিরুদ্ধেও তার অবস্থান স্পষ্ট। রিয়েল মাদ্রিদের সাবেক তারকা ডিফেন্ডার মিশেল সালগাডো ইয়ামালের প্রশংসা করেছেন। বলেছেন, আমাদের সামনে এক নতুন মেসিকে দেখা যাচ্ছে। জনপ্রিয় খেলার কাগজ মার্কা বলেছে, এই তরুণ তারকা তার ক্যারিয়ারের সঠিক পথটি বেছে নিয়েছেন। সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে পরাজিত করার পর বলা হচ্ছে, স্পেনকে ফাইনালে পৌঁছানো এখন আর কোনো অলীক কল্পনা নয়। একটি বাস্তব সম্ভাবনা। বিশ্বকাপের আসরে লামিনে ইয়ামালকে নিয়ে অনেকেই অংক মেলাচ্ছেন। বলছেন, এই বিস্ময়বালকের হাতেই কি এবারের বিশ্বকাপ!

  • কে হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী

    কে হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী

    যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে অবশেষে সেই অবধারিত ঘটনাই ঘটল। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনা, দলের অভ্যন্তরীণ প্রবল চাপ এবং দেশজুড়ে কমতে থাকা জনপ্রিয়তার মুখে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

    তার এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে লেবার পার্টির নেতৃত্বে এবং দেশের শাসনভারে এক বড় ধরনের পালাবদলের পথ প্রশস্ত হলো। আর এই দৌড়ে ডাউনিং স্ট্রিটের পরবর্তী বাসিন্দা হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম, যাকে এখন ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রায় নিশ্চিত ধরে নেওয়া হচ্ছে।

    স্টারমারের এই বিদায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল না। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতায় বসার পর থেকেই তার সরকারের প্রতি জনসমর্থনে ধস নামতে শুরু করে। নির্বাচনী প্রচারণায় এড়িয়ে যাওয়া অর্থনৈতিক সংকটগুলো সামনে এনে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার যখন কর বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনের মতো অজনপ্রিয় নীতি গ্রহণ করে, তখন থেকেই ভোটাররা ক্ষুব্ধ হতে শুরু করেন।

    তবে তার সরকারের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকা হয় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। জেফরি এপস্টেইনের বিতর্কিত বন্ধু পিটার ম্যান্ডেলসনকে আমেরিকায় ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে গোটা দেশে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে, যেখানে লেবার পার্টি এক ঐতিহাসিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। ফলস্বরূপ, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং-সহ দলের প্রায় ১০০ জন এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি তোলেন।

    স্টারমারের পদত্যাগের ফলে এখন লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। প্রেডিকশন মার্কেট বা বেটিং বাজারগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্ডি বার্নহামের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা এখন রেকর্ড ৯৫ শতাংশ। লেবার পার্টির ‘কিং অব দ্য নর্থ’ খ্যাত বার্নহাম সম্প্রতি তার রাজনৈতিক সক্ষমতার এক বিশাল প্রমাণ দিয়েছেন।

    গত ১৮ জুন মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে তিনি এক দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে আনেন। স্থানীয় নির্বাচনে এই আসনটিতে ডানপন্থী পপুলিস্ট দল ‘রিফর্ম ইউকে’ একচেটিয়া জয় পেলেও, উপ-নির্বাচনে বার্নহাম ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে তাদের সহজেই পরাজিত করেন। এই জয়ের মাধ্যমেই তিনি পার্লামেন্টে প্রবেশ করেন এবং দলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি যোগ্যতা অর্জন করেন।

    নেতৃত্ব নির্বাচনের এই লড়াইয়ে বার্নহামের পাশাপাশি ওয়েস স্ট্রিটিং বা সাবেক সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী আল কার্নসের মতো নেতারাও মাঠে নামতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, স্ট্রিটিংয়ের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৩ শতাংশ। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন নেতা হতে হলে প্রার্থীদের লেবার পার্টির ৪০৩ জন এমপির মধ্যে অন্তত ৮১ জনের সমর্থন নিশ্চিত করে মনোনয়ন পেতে হবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলের সাধারণ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়নগুলোর সদস্যদের সরাসরি ভোটে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপ বলছে, সাধারণ দলের সদস্যদের মাঝে বার্নহাম বিপুল ব্যবধানে জনপ্রিয় এবং তিনি অনায়াসেই এই নির্বাচনে জয়লাভ করবেন।

    তবে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের চাবি হাতে পেলেও অ্যান্ডি বার্নহামের সামনের পথ কুসুমাস্তীর্ণ হবে না। ইউগভের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মে থেকে জুনের মধ্যে সাধারণ ব্রিটিশ নাগরিকদের কাছে বার্নহামের প্রতি অনীহার হার ৩০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা তার জন্য একটি সতর্কবার্তা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তাকে এক বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

    একদিকে যেমন দেশের অভ্যন্তরে স্থবির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে চাঙ্গা করার কঠিন কাজ তার কাঁধে পড়বে, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে—বিশেষ করে একজন খামখেয়ালি আমেরিকান প্রেসিডেন্টের সাথে ব্রিটেনের কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার মতো অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতিও তাকে অত্যন্ত সাবধানে সামলাতে হবে। দেশ পরিচালনার এই নতুন অধ্যায়ে বার্নহাম কতটুকু সফল হবেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা যুক্তরাজ্য।

  • দশ বছরে সাত প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে যুক্তরাজ্য

    দশ বছরে সাত প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে যুক্তরাজ্য

    যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আজ সোমবার তার বিদায়ের সময়সূচি ঘোষণা করতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহামের কাছে সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সুগম করবেন। এর ফলে এক দশকের মধ্যে যুক্তরাজ্য তাদের সপ্তম নেতা বা প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে।

    ভূমিধস জয়ের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের বিশৃঙ্খল রাজনীতির অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন স্টারমার। কিন্তু এর দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি পদত্যাগ করবেন নাকি নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে নামবেন, তা নিয়ে গত সপ্তাহে চিন্তাভাবনা করেছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গত কয়েক মাস ধরেই চাপের মধ্যে ছিলেন। গত শুক্রবার গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম একটি সংসদীয় নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ী হওয়ার পর এই চাপ আরো তীব্র হয়। তিনি নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন ‘রিফর্ম ইউকে’ দলের প্রার্থীকে পরাজিত করেন, যে দলটি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে।

    অ্যান্ডি বার্নহামের এই বিজয় লেবার পার্টির আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দক্ষ যোগাযোগকারী হিসেবে পরিচিত বার্নহাম স্টারমারের অধীনে পিছিয়ে পড়া লেবার পার্টির ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবেন বলে দলটির সদস্যরা মনে করছেন। উল্লেখ্য, স্টারমারের জনপ্রিয়তার রেটিং বর্তমানে যেকোনো ব্রিটিশ নেতার চেয়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।

    তবে বহুল প্রত্যাশিত এই নেতৃত্ব পরিবর্তন ঝুঁকির বাইরে নয়। দেশের মৌলিক পরিবর্তন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর কথা বললেও বার্নহাম এখনও পররাষ্ট্র, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেননি। স্টারমারের মতো তিনিও বন্ড মার্কেটের বিনিয়োগকারীদের চাপে পড়তে পারেন, যারা অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার ঘোর বিরোধী। একই সাথে জনসেবার মান ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে ক্ষুব্ধ ভোটারদের মুখোমুখি হতে হবে তাকে।

    উচ্চ ঋণ ও সুদের হার, বছরের পর বছর ধরে ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কারণে জি-সেভেন ভুক্ত ধনী দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের ঋণ নেওয়ার খরচ বর্তমানে সবচেয়ে বেশি।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সাথে আলাপকালে বিনিয়োগকারীরা বার্নহামের বিষয়ে দ্বিধাবিভক্ত মত দিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বরে বার্নহাম বলেছিলেন, যুক্তরাজ্যের বন্ড মার্কেটের অধীনতা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।

    তবে পরে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। গত শুক্রবার সিটিব্যাংকের অর্থনীতিবিদেরা বলেছেন, ‘আমাদের দৃষ্টিতে বার্নহাম একটি ঝুঁকিপূর্ণ আর্থিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকারসূত্রে পাবেন, যেখানে অর্থপূর্ণ পরিবর্তন আনার মতো খুব বেশি হাতিয়ার থাকবে না।’

    গত শুক্রবার কিয়ার স্টারমার বলেছিলেন, দলের ভেতর নেতৃত্ব পরিবর্তনের যেকোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতায় তিনি লড়াই করবেন। কিন্তু সপ্তাহান্তে সেই অবস্থান বদলে গেছে বলে মনে হচ্ছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘কিয়ার বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবছেন।’ দলের ভেতরে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতা ছাড়া এভাবে নেতৃত্ব পরিবর্তন হলে তা সাধারণ ভোটারদের ক্ষুব্ধ করতে পারে। কারণ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে কে দেশ চালাবেন, তা নির্ধারণে সাধারণ মানুষের কোনো ভূমিকা থাকবে না।

    যুক্তরাজ্যের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জানিয়েছিলেন, নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামার জন্য প্রয়োজনীয় ৮১ জন লেবার আইনপ্রণেতার সমর্থন তার রয়েছে।

    তবে দলের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা মনে করেন, স্ট্রিটিং হয়তো বার্নহামের সাথে কোনো সমঝোতা বা চুক্তি করতে পারেন, যার বিনিময়ে তিনি বার্নহামের অধীনে কোনো জ্যেষ্ঠ পদের প্রতিশ্রুতি পেয়ে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন।

    স্টারমারের দল মনে করে, ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিশাল জয় ২০২৯ সাল পর্যন্ত তার ক্ষমতায় থাকার ম্যান্ডেট বা অধিকার দেয়। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল গতকাল বোরবার বলেন, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে তার রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর কথা বিবেচনা করছেন।

    আজ সোমবার ডাউনিং স্ট্রিট থেকে স্টারমার যদি তার বিদায়ের সময়সূচি ঘোষণা করেন, তবে ব্রেক্সিট ভোটের পর গত ১০ বছরের মধ্যে অ্যান্ডি বার্নহাম হবেন যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী। প্রায় দুই শতাব্দীর মধ্যে যুক্তরাজ্যে এটাই সর্বোচ্চ ঘন ঘন নেতা পরিবর্তনের রেকর্ড। জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, গণসেবার মান বাড়ানো এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে একের পর এক সরকারের ব্যর্থতায় ভোটারদের যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, এই রাজনৈতিক অস্থিরতা তারই বহিঃপ্রকাশ।

    রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘ইউরেশিয়া’ জানিয়েছে, সবচেয়ে ভালো সমাধান হতে পারে যদি স্টারমার আগামী সেপ্টেম্বরে পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন। এতে তিনি আগামী জুলাই মাসে যুক্তরাজ্য-ইউরোপীয় ইউনিয়ন শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে পারবেন এবং বার্নহামও সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবেন।

  • ইরান-মার্কিন আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন: পাক প্রধানমন্ত্রী

    ইরান-মার্কিন আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন: পাক প্রধানমন্ত্রী

    সুইজারল্যান্ডে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ইতিবাচক অগ্রগতির কথা নিশ্চিত করেন।

    প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক এবং গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠক থেকে বেশ কিছু উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

    ৬০ দিনের রোডম্যাপ: আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ।

    উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন: রাজনৈতিকভাবে এই পুরো প্রক্রিয়া তদারকি ও দেখভালের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    প্রযুক্তিগত আলোচনা: চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরবর্তী ধাপে আরও বিস্তারিত প্রযুক্তিগত আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    আলোচনায় পাকিস্তানের ভূমিকা উল্লেখ করে শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সংলাপ এবং কূটনীতিকে এগিয়ে নিতে পাকিস্তান সব সময়ই তার সৎ ও আন্তরিক ভূমিকা পালন করে যাবে।’

    দীর্ঘদিন ধরে চলা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে সুইজারল্যান্ডের এই বৈঠককে একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • দুবাইয়ে আটকে থাকা ৬ হাজার কোটি টাকা পাচ্ছে ইরান

    দুবাইয়ে আটকে থাকা ৬ হাজার কোটি টাকা পাচ্ছে ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি প্রাথমিক চুক্তির অংশ হিসেবে কাতারে আটকে থাকা ছয় বিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান। আজ রোববার পাকিস্তানের স্থানীয় পত্রিকা দ্য ডন এই খবর জানিয়েছে।

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, সমঝোতা স্মারকের সব শর্ত তাদের পক্ষেই গেছে। এই আলোচনা ও সমঝোতার বড় সাফল্য খুব দ্রুতই সবার সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

    প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সাম্প্রতিক বক্তৃতায় ইরানকে যে বিষয়গুলো করতে নিষেধ করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেগুলোকে ইরানি জনগণের অধিকার হিসেবেই স্বীকৃতি দিয়েছেন।

    তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান, কাতারে থাকা তাদের ছয় বিলিয়ন ডলার অবশ্যই ফেরত আসছে। এই চুক্তি নিয়ে সুইজারল্যান্ডে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খোঁচা দিতেও ছাড়েননি তিনি।

    পেজেশকিয়ান বলেন, এই আলোচনায় যদি কেউ সবচেয়ে বেশি অসন্তুষ্ট হয়ে থাকেন, তবে তিনি হলেন নেতানিয়াহু।

    যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবি ছিল, ইরান যেন পারমাণবিক বোমা তৈরি না করে। এই প্রসঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট তাদের শহীদ নেতার দেয়া কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আমাদের শহীদ নেতাই বারবার বলে গেছেন যে আমরা পারমাণবিক বোমা চাই না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুধু বলেছিল এটি লিখে দিয়ে সই করতে, আর আমরা তাতে সই করেছি।

  • ২০২৬ বিশ্বকাপের শীর্ষে রোনালদো, মেসি কোথায়?

    ২০২৬ বিশ্বকাপের শীর্ষে রোনালদো, মেসি কোথায়?

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ হলো ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ। প্রতি চার বছর পর পর, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়রা এই খেলার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিটি জয়ের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

    কিন্তু ২০২৬ সালে, এই প্রতিযোগিতা শুধু গোল, অ্যাসিস্ট এবং ট্রফি নিয়েই নয়। আজকের সেরা ফুটবলাররা হলেন বিশ্বব্যাপী তারকা, যাদের বিশাল অনুসারী রয়েছে। লক্ষ লক্ষ ভক্ত তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ অনুসরণ করে, গেমের সেরা মুহূর্ত ও প্রশিক্ষণ সেশনের ক্লিপ থেকে শুরু করে পারিবারিক পোস্ট এবং নেপথ্যের ছোট ছোট দৃশ্য পর্যন্ত। তাদের প্রভাব সর্বত্র বিদ্যমান।

    সোশ্যাল মিডিয়া মূলত খেলোয়াড় ও ভক্তদের মধ্যকার সম্পর্ক বদলে দিয়েছে। একটিমাত্র পোস্ট অনেক টেলিভিশন সম্প্রচার বা সংবাদ মাধ্যমের চেয়েও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে। এই ধরনের অনুরাগ ফুটবলের সবচেয়ে বড় নামগুলোকে পৃষ্ঠপোষক এবং ব্র্যান্ডগুলোর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান করে তুলেছে। আসলে, কয়েকজন খেলোয়াড়ের সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন অনুসারী রয়েছে যা পুরো দেশের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি।

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ যখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, তখন এখানে এমন ১০ জন খেলোয়াড়কে তুলে ধরা হলো, যারা মাঠের প্রতিপক্ষের মতোই সোশ্যাল মিডিয়ার জগতেও আধিপত্য বিস্তার করেন।

    ১০. হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় আনুমানিক অনুসারী: ৪৫ মিলিয়নেরও বেশি (ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, এক্স এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে)

    ইনস্টাগ্রাম অনুসারী: ১৮ মিলিয়নেরও বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ৮ মিলিয়ন – ১০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি

    হ্যারি কেইন এখন ইংল্যান্ডের অন্যতম বড় ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। যদিও কিছু তরুণ তারকার তুলনায় তার সোশ্যাল মিডিয়ার অনুসারীর সংখ্যা কম, ব্র্যান্ডগুলো তার সাথে কাজ করার মধ্যে বিশাল সম্ভাবনা দেখতে পায়। ইংল্যান্ড অধিনায়কের স্কেচার্স এবং ক্যাডবেরির মতো কোম্পানির পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বড় ব্রিটিশ ব্র্যান্ডের সাথে এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তি রয়েছে।

    ৯. লামিন ইয়ামাল (স্পেন)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ৫০ মিলিয়নের বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ৩৫ মিলিয়নের বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ৮ মিলিয়ন – ১২ মিলিয়ন ডলারের বেশি

    লামিন ইয়ামালের উত্থান এক কথায় অবিশ্বাস্য। কিশোর বয়সেই তার বিশাল ভক্তকুল তৈরি হয়েছে। বার্সেলোনা এবং স্পেনের হয়ে তার পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। ভক্তরা তার যাত্রাপথ অনুসরণ করতে আগ্রহী, এবং যদি সে তার খেলার উন্নতি অব্যাহত রাখে, তবে নিশ্চিতভাবেই পরবর্তী বিশ্বকাপের মধ্যে সে এই খেলার অন্যতম বড় বাণিজ্যিক নাম হয়ে উঠতে পারে।

    ৮. আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ৭০ মিলিয়নের বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ৪০ মিলিয়নের বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ১৫ মিলিয়নের বেশি ডলার

    নরওয়ের স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড শুধু গোল করার জন্যই নয়, তার মজাদার ব্যক্তিত্ব এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় শক্তিশালী উপস্থিতির জন্যও পরিচিত।

    তার জনপ্রিয়তা নাইকি এবং বিটস বাই ড্রে-এর মতো বড় বড় ব্র্যান্ডকে আকৃষ্ট করেছে। তিনি যেমন রেকর্ড ভাঙছেন এবং ট্রফি জয় করছেন, তেমনি বিশ্বজুড়ে তার ভক্তের সংখ্যাও বেড়েই চলেছে।

    ৭. জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় আনুমানিক অনুসারী: ৬০ মিলিয়নেরও বেশি

    ইনস্টাগ্রাম অনুসারী: ৪০ মিলিয়নেরও বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: $১০ মিলিয়ন – $১৫ মিলিয়নেরও বেশি

    ইংল্যান্ড এবং রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে জুড বেলিংহামের পারফরম্যান্স তাকে ভক্তদের মধ্যে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর থেকে তার জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। তিনি অ্যাডিডাসের সাথে এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তি করেছেন, যারা তাদের ফুটবল প্রচারাভিযানে তাকে নিয়মিত অন্তর্ভুক্ত করে।

    মাত্র ২২ বছর বয়সেই তিনি নিজের একটি পরিচিতি তৈরি করেছেন। লিভারপুলের এই ফরোয়ার্ডের অ্যাডিডাস, পেপসি এবং ভোডাফোনের মতো বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তি রয়েছে। সবাই তার বিনয়ী স্বভাবের প্রশংসা করে, যা তাকে বিশ্বজুড়ে একনিষ্ঠ ভক্তকুল তৈরি করতে সাহায্য করেছে।

    ৫. ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (ব্রাজিল)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ৮০ মিলিয়নেরও বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ৫৫ মিলিয়নেরও বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ১৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি

    ভিনিসিয়ুস জুনিয়র অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন। তার গতি, দক্ষতা এবং রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সাফল্য তাকে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ ভক্ত এনে দিয়েছে। তার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা নাইকি এবং বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল ব্র্যান্ডসহ বড় স্পনসরদের আকৃষ্ট করেছে। ক্লাব এবং দেশের হয়ে তার উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের সাথে সাথে তার ভক্তকুলও ক্রমাগত বাড়ছে।

    ৪. কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ২০০ মিলিয়নেরও বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ১২৫ মিলিয়নেরও বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ২৫ মিলিয়ন – ৩০ মিলিয়ন ডলার+

    কিলিয়ান এমবাপে তার অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স, গোল এবং ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিকের সুবাদে বিশাল ভক্তকুল তৈরি করেছেন।

    নাইকি, হাবলো এবং ওকলির মতো শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো তার সাথে অংশীদারত্ব করেছে এবং তিনি খেলাধুলার জগতের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত ক্রীড়াবিদ। তার সেরা সময়গুলো এখনও সামনে, এমবাপে যেমন উন্নতি করছেন, তেমনি তার ভক্তের সংখ্যাও বাড়ছে।

    ৩. নেইমার (ব্রাজিল)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ৪৫০ মিলিয়নেরও বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ২৩০ মিলিয়নেরও বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ৩০ মিলিয়ন ডলার+

    খুব কম ফুটবলারই নেইমারের তারকাখ্যাতির সমকক্ষ হতে পারেন। মাঝেমধ্যে চোট তার গতি কমিয়ে দিলেও, তা তার জনপ্রিয়তায় তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। এই ব্রাজিলিয়ান তারকা অনলাইনে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করে চলেছেন এবং পুমা ও রেড বুলের মতো বড় বড় ব্র্যান্ডের সাথে কাজ করেন।

    ২. লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ৮০ কোটির বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ৫০.৫ কোটি – ৫১.০ কোটি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ৫ কোটি ডলারের বেশি

    লিওনেল মেসি বিশ্বের অন্যতম প্রিয় ক্রীড়াবিদ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নশিপে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেওয়ার পর তার জনপ্রিয়তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির অ্যাডিডাস, পেপসি, অ্যাপল এবং হার্ড রকের সাথে এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তি রয়েছে, যা ফুটবলের বাইরে তার আয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। যেহেতু অনেকেই আশা করছেন ২০২৬ সালই হবে তার শেষ বিশ্বকাপ, তাই বিশ্বজুড়ে ভক্তরা তার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখবে।

    ১. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ১.১ বিলিয়ন+

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ৬৬৫+ মিলিয়ন

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: $৬০ মিলিয়ন+

    সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবের ক্ষেত্রে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো স্বাচ্ছন্দ্যে শীর্ষে অবস্থান করছেন। কোনো ক্রীড়াবিদই এর চেয়ে বড় অনলাইন ফলোয়ার তৈরি করতে পারেননি।

    ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, এক্স এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে রোনালদোর ফলোয়ার সংখ্যা ১.১ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। শুধুমাত্র তার ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারের সংখ্যাই অনেক দেশের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি।

    নাইকি, বাইন্যান্স, ক্লিয়ার এবং তার নিজস্ব সিআরসেভেন ব্যবসার সঙ্গে অংশীদারত্ব থেকে তিনি ক্রমাগত বিপুল আয় করছেন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা তার ক্যারিয়ারে, এবার তিনি বিশ্বকাপে কোনো ঝলক দেখাতে পারবেন কিনা, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবু জনপ্রিয়তায় তিনিই সবার ওপরে রয়েছেন, কে অস্বীকার করবে?

  • একাদশ সাজানো নিয়ে দোটানায় আর্জেন্টিনার কোচ

    একাদশ সাজানো নিয়ে দোটানায় আর্জেন্টিনার কোচ

    ‘জে’ গ্রুপে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে শেষ মুহূর্তের অনুশীলনে ব্যস্ত সময় পার করছে আর্জেন্টিনা। তবে পরবর্তী ম্যাচের আগে শুরুর একাদশ নিয়ে এখনো দুটি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে পারেননি লিওনেল স্কালোনি—এমনটাই জানিয়েছে টিওয়াইসি স্পোর্টস।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের একাদশ থেকে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা না থাকলেও আক্রমণভাগে কিছু রদবদল দেখা যেতে পারে। থিয়াগো আলমাদার জায়গায় নিকোলাস গনসালেসকে নামানোর কথা ভাবছেন স্কালোনি। গতি ও সরাসরি আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য পরিচিত গনসালেস প্রতিপক্ষের হাইপ্রেসিং কৌশলে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গাগুলো কাজে লাগাতে পারেন বলে এই সিদ্ধান্ত নিতে চায় কোচিং স্টাফ।

    আরেকটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে সেন্টার ফরোয়ার্ড পজিশনে। প্রথম ম্যাচে শুরুর একাদশে থাকা লাউতারো মার্তিনেসের পরিবর্তে সুযোগ পেতে পারেন হুলিয়ান আলভারেস। দলের জন্য স্বস্তির খবর হলো, চোট থেকে প্রায় সেরে উঠেছেন গনসালো মন্তিয়েল। রোববার সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন তিনি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে বেঞ্চে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর। প্রয়োজন হলে ম্যাচেও নামতে পারেন এই ডিফেন্ডার, এমনটাই দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

    রক্ষণ ও মাঝমাঠে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। গোলবারের নিচে থাকবেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রক্ষণভাগে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও ফাকুন্দো মেদিনার জায়গা প্রায় নিশ্চিত। মাঝমাঠে রদ্রিগো দে পল, এনসো ফার্নান্দেস এবং আলেক্সিস মাক অ্যালিস্তারকে নিয়েই পরিকল্পনা করছেন স্কালোনি।

    অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে না খেলা লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও নিকোলাস তালিয়াফিকোও ধীরে ধীরে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে উঠছেন। অনুশীলনে ধারাবাহিক উন্নতি হতে থাকলে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তাঁদেরও মাঠে নামাতে পারেন স্কালোনি।

    সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ডালাসে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। সে ম্যাচ জিতলে নকআউট পর্বের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।