আর্ন্তজাতিক

  • বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ দেখেই আয় ৫০ হাজার ডলার

    বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ দেখেই আয় ৫০ হাজার ডলার

    বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব চলাকালে প্রতিদিন একাধিক ম্যাচ হওয়ায় পুরো টুর্নামেন্ট অনুসরণ করা অনেকের কাছেই সময়সাপেক্ষ ও ক্লান্তিকর। কিন্তু কেভিন আকোতো ও অস্টিন ফ্রাঙ্কলিনের জন্য এটি শুধু বিনোদন নয়, বরং একটি পেশা। বিশ্বকাপের সব ১০৪টি ম্যাচ দেখার দায়িত্ব পালন করে তারা প্রত্যেকে পাচ্ছেন ৫০ হাজার ডলার।

    মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স ওয়ান তাদের ‘চিফ ওয়ার্ল্ড কাপ ওয়াচারস’ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তারা এই দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের অভিজ্ঞতা জানতেই সম্প্রতি তাদের সঙ্গে কথা বলে বিবিসি।

    টাইমস স্কয়ারে বিশেষ কাচের ঘরে বিশ্বকাপ দেখা

    নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ কাচঘেরা একটি কক্ষ। পথচারীরা সহজেই তাদের দেখতে পারেন, যা অনেক দর্শকের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

    এই ঘরের ভেতরে রয়েছে আরামদায়ক রিক্লাইনার চেয়ার, চামড়ার সোফা, বড় স্ক্রিনের টেলিভিশন, ফুসবল টেবিল এবং ফুটবলপ্রেমীদের পছন্দের নানা সামগ্রী। পাশাপাশি রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাকস ও ফুটবল-সংশ্লিষ্ট সংগ্রহ।

    কেভিনের ভাষায়, একজন ফুটবল ভক্ত তার স্বপ্নের ঘরে যা যা কল্পনা করতে পারেন, তার প্রায় সবকিছুই সেখানে রয়েছে।

    হাজারো আবেদনকারীর মধ্য থেকে নির্বাচন

    ফ্লোরিডায় রাঁধুনির কাজ করা কেভিন এবং ফিলাডেলফিয়ার কনটেন্ট নির্মাতা অস্টিন হাজারো প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে এই ব্যতিক্রমী সুযোগ পেয়েছেন। তাদের দায়িত্ব শুধু ম্যাচ দেখা নয়, দর্শকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের কনটেন্টও তৈরি করা।

    ‘এটা আসলে দীর্ঘ এক ম্যারাথন’

    বিশ্বকাপের দীর্ঘ সূচির কারণে কাজটি যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়। কেভিন জানিয়েছেন, টানা ম্যাচ দেখতে দেখতে তারা কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন এবং নতুন রুটিনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

    অস্টিনও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, প্রতিদিনের ঘটনাগুলো কখনো কখনো একে অন্যের সঙ্গে মিশে যায়। তার মতে, কাজটি অনেকটা ম্যারাথনের মতো—দেখতে সহজ হলেও দীর্ঘ সময় ধরে একই মনোযোগ ধরে রাখা বেশ চ্যালেঞ্জিং।

    তবে স্বস্তির বিষয় হলো, তাদের টাইমস স্কয়ারের কাচের ঘরেই রাত কাটাতে হয় না। শিফট শেষে তারা নিজেদের আবাসস্থলে ফিরে বিশ্রাম নিতে পারেন।

    ঐতিহাসিক মুহূর্ত কাছ থেকে দেখার সুযোগ

    এই দায়িত্ব পালনের সময় তারা বিশ্বকাপের বেশ কিছু স্মরণীয় ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন। একসময় আর্জেন্টাইন খাবার উপভোগ করতে করতে তারা দেখেছেন লিওনেল মেসি বিশ্বকাপের সর্বকালের গোলসংখ্যার নতুন রেকর্ড গড়ছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের ম্যাচ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারও পরিবেশন করা হয় তাদের জন্য, যা অভিজ্ঞতাকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে।

    ভক্তদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ*

    ম্যাচের বিরতিতে বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও পাচ্ছেন তারা। ব্রাজিল, নরওয়েসহ নানা দেশের সমর্থকদের সঙ্গে ফুটবল ও সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা তাদের কাজের অন্যতম আকর্ষণ।

    অস্টিনের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের গল্প শোনা এবং তাদের ফুটবল-উচ্ছ্বাস কাছ থেকে দেখা এই অভিজ্ঞতার সবচেয়ে উপভোগ্য অংশ।

    কারা জিততে পারে বিশ্বকাপ?

    শিরোপা দৌড়ে কেভিনের পছন্দ স্পেন। যদিও তিনি ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ঘানার সমর্থক।

    অন্যদিকে অস্টিনের সমর্থন নরওয়ের প্রতি। তার বিশ্বাস, আর্লিং হালান্ডের নেতৃত্বে নরওয়ে চমক দেখিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে।

    দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন ভিন্ন

    এই অদ্ভুত চাকরি নিয়ে মানুষের মতামতও একরকম নয়। কেউ মনে করছেন, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ছাড়া এতগুলো ম্যাচ দেখা অতিরিক্ত চাপের বিষয়। আবার অনেকে বলছেন, বিশ্বকাপ দেখার জন্য অর্থ পাওয়া নিঃসন্দেহে স্বপ্নের মতো একটি সুযোগ।

    কিছু দর্শকের মতে, বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে খেলা দেখার আনন্দ আলাদা। তবে অনেকেই কেভিন ও অস্টিনের এই ব্যতিক্রমী দায়িত্বকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় চাকরি হিসেবে দেখছেন।

  • এবার রাতের আঁধারে চলল যোগীর বুলডোজার, মুহূর্তেই উধাও গোটা মসজিদ!

    এবার রাতের আঁধারে চলল যোগীর বুলডোজার, মুহূর্তেই উধাও গোটা মসজিদ!

    উত্তরপ্রদেশে আবারও যোগী প্রশাসনের ‘বুলডোজার নীতি’র নিষ্ঠুর শিকার হলো মুসলিমদের একটি ধর্মীয় উপাসনালয়। এবার কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই গভীর রাতের আঁধারে বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ঐতিহাসিক এক মসজিদ। বিরোধী দলগুলোর তীব্র বাধা এবং প্রতিবাদের তোয়াক্কা না করেই মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঐতিহ্যবাহী কাঠামোটি ধূলিসাৎ করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলার নাখাসা থানা এলাকার কাসেরওয়া গ্রামে।

    হৃদয়বিদারক এই ঘটনার পর স্থানীয় মুসলিমদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। অন্যায্য এই উচ্ছেদ অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাসেরওয়া গ্রামে অবস্থিত ‘মুস্তফা কাদরি মসজিদ’ লক্ষ্য করে গভীর রাতে আচমকাই ভারী পুলিশ ফোর্স নিয়ে হানা দেয় জেলা প্রশাসন। দুটি বিশাল বুলডোজার নিয়ে মসজিদের ওপর চালানো হয় তাণ্ডব। প্রশাসনের দাবি, মসজিদটি নাকি সরকারি জমিতে ‘অবৈধভাবে’ নির্মাণ করা হয়েছিল।

    কর্মকর্তারা অজুহাত দেখিয়েছেন যে, ওই জমিটি মূলত গ্রাম সভার এবং তা কবরস্থানের জন্য সংরক্ষিত ছিল। এর আগেও মসজিদের একটি অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, আর এবার রাতের অন্ধকারে বাকি অংশটুকুও মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হলো।

    প্রশাসনের এই কাপুরুষোচিত অভিযানের টাইমিং নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার দিনই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পূর্বের ভাঙচুরের ঘটনা পরিদর্শন করতে ওই গ্রামে অবস্থান করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কংগ্রেস প্রতিনিধি দল গ্রাম থেকে বের হওয়া মাত্রই প্রশাসন পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং চিরুনি অভিযান শুরু করে।

    শুধু মসজিদ ভাঙাই নয়, ঘটনার পরপরই অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে সমস্ত ধ্বংসাবশেষ ও রাবিশ ট্রাকে করে সরিয়ে ফেলা হয়, যাতে সেখানে কোনো মসজিদের অস্তিত্ব ছিল—তার প্রমাণও না থাকে। প্রশাসনের এই অতি-তৎপরতাকে ‘প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

    প্রশাসনের এই একতরফা ও অত্যাচারী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ফেটে পড়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রভাবশালী নেতা জিয়া-উর-রেহমান বার্ক। সরকারি দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “প্রশাসন ক্ষমতার অপব্যবহার করে জঘন্য অপরাধ করেছে। যে জমিতে মসজিদ ছিল, তা কোনো সরকারি জমি নয়; বরং সেটি ওয়াকফ বোর্ডের বৈধ সম্পত্তি। আমরা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে চুপ থাকব না, বিষয়টি নিয়ে আমরা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছি।”

    কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টি যৌথভাবে অভিযোগ করেছে যে, কোনো আইনি প্রক্রিয়া বা আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশ ছাড়াই সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং মুসলিম সমাজকে উস্কানি দিতেই এই বুলডোজার অ্যাকশন চালানো হয়েছে।

    এদিকে মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার আরও একটি নতুন চক্রান্ত শুরু করেছে যোগী রাজ্যের পুলিশ। উচ্ছেদ অভিযানের সময় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে নাকি “আই লাভ মোহাম্মদ” লেখা কিছু পোস্টার উদ্ধার করা হয়েছে—এমন দাবি করে ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে প্রশাসন।

    জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) বিশেষ নির্দেশে এই পোস্টারকে কেন্দ্র করে মুসলিমদের বিরুদ্ধে একটি নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, মসজিদ ভাঙার প্রতিবাদ দমাতেই এখন নিরীহ মুসলিম যুবকদের এই মামলায় ফাঁসানোর নীল নকশা করা হচ্ছে।

    রাতের অন্ধকারে একটি পবিত্র মসজিদ উধাও করে দেওয়ার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্ভলজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুরো এলাকায় বিপুল সংখ্যক সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


  • ব্রাজিলের সিংহাসন কি আজ রাতেই জার্মানির দখলে

    ব্রাজিলের সিংহাসন কি আজ রাতেই জার্মানির দখলে

    ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে চলছে রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলা। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের মধ্যে জমে উঠেছে গোল্ডেন বুটের প্রতিযোগিতা। শুধু খেলোয়াড়দের মধ্যেই নয়, দলগুলোর মধ্যেও চলছে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বিশেষ করে ব্রাজিল-জার্মানির মধ্যে চলছে ‘টম অ্যান্ড জেরি’র মতো খেলা। কখনো এগিয়ে যাচ্ছে ব্রাজিল, কখনোবা জার্মানি।

    মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ সময় ভোরে মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড। এই ম্যাচ শুরুর আগে বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ডে যৌথভাবে শীর্ষে ছিল ব্রাজিল-জার্মানি। দুই দলেরই ছিল ২৪১ গোল। আজ স্কটিশদের ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিজের করে নিল ব্রাজিল। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ এবার তাদের গোলসংখ্যা ২৪৪। তবে এই রেকর্ড কতক্ষণ টিকে থাকে সেটাই দেখার। কারণ, বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় নিউইয়র্কে শুরু হবে জার্মানি-ইকুয়েডর ম্যাচ। বিশ্বকাপ এলেই যে জার্মানকে দেখা যায় ভয়ংকর রূপে, তাতে হয়তো রাতেই সর্বোচ্চ গোলের সিংহাসনটা ব্রাজিলের কাছ থেকে কেড়ে নেবে জার্মানরা।

    জার্মানি-ব্রাজিলের লড়াইটা শুরু ১৪ জুন থেকেই। সেদিন ভোরে নিউজার্সিতে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল ব্রাজিল। ২৩৮ গোল নিয়ে তখনো বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ব্রাজিলেরই। কিন্তু সেই রাতে এক ঝটকায় সব ওলটপালট করে দিল জার্মানরা। হিউস্টনে নবাগত কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে গোলসংখ্যা ২৩৯ করে ফেলল জার্মানি।

    ২৩৯ গোল করে রেকর্ডটা এক সপ্তাহ টিকিয়ে রাখতে পারেনি জার্মানি। ২০ জুন ভোরে হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ফের নিজের দখলে নেয় ব্রাজিল। এই তিন গোলের পর সেলেসাওদের গোলসংখ্যা হয়েছে ২৪১। কাকতালীয়ভাবে একই রাতে পড়ে যায় জার্মানদের ম্যাচ। তবে এবার আর জার্মানরা টপকে যেতে পারেনি ব্রাজিলকে। টরন্টোতে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ২-১ গোলে জেতে জার্মানি। শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তার এই জয়ে ১২ বছর পর নকআউট পর্বের টিকিট কেটেছে জার্মানরা।

    আজ সকালেই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে জার্মানিকে ছাড়িয়ে গেছে ব্রাজিল। তাতে করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে চলে এসেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তিন গোলের দুটি করেছেন ভিনি এবং মাথিয়াস কুনিয়া করেন এক গোল। ৫ গোল করে এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি। চারটি করে গোল করে যৌথভাবে দুইয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড এবং ভিনি।

    অবস্থানদলগোল
    ১ব্রাজিল২৪৪
    ২জার্মানি২৪১
    ৩আর্জেন্টিনা১৫৭
    ৪ফ্রান্স১৪২
    ৫ইতালি১২৮
  • এক ম্যাচেই মেসির ৪ গিনেস রেকর্ড

    এক ম্যাচেই মেসির ৪ গিনেস রেকর্ড

    বিশ্বকাপের মঞ্চে লিওনেল মেসি যেন প্রতিনিয়ত নতুন ইতিহাস লিখে চলেছেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করে শুধু দলকে নকআউট পর্বে তুলেই দেননি, একই সঙ্গে গড়েছেন চারটি নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডও।

    টেক্সাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক ছিলেন মেসি। তার দুই গোলের সুবাদে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল মেসির নতুন রেকর্ডগুলো।

    আর্জেন্টিনার ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্যের ভিত্তিতে জানায়, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করার মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৮-তে উন্নীত করেছেন মেসি।

    এই কীর্তির মাধ্যমে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড পেছনে ফেলে পুরুষদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে এককভাবে বসেছেন। একই সঙ্গে ব্রাজিলের নারী ফুটবল তারকা মার্তার ১৭ গোলের রেকর্ডও অতিক্রম করে নারী-পুরুষ মিলিয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।

    গোলের রেকর্ড ছাড়াও জয়সংখ্যার দিক থেকেও নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয়টি ছিল বিশ্বকাপে তার ১৮তম জয়, যা ক্লোসার ১৭ জয়ের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

    এ ছাড়া ম্যাচে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও আরও সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে তার ম্যাচসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮, যা এই আসরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    আরেকটি উল্লেখযোগ্য অর্জন এসেছে খেলার সময়ের হিসাবে। বিশ্বকাপে মোট ২,৪৮৯ মিনিট মাঠে থেকে ইতালির কিংবদন্তি পাওলো মালদিনির ২,২১৭ মিনিটের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছেন মেসি।

    এক ম্যাচেই চারটি নতুন গিনেস রেকর্ড নিজের করে নিয়ে আবারও প্রমাণ করেছেন, বিশ্বকাপের ইতিহাসে তার নামটি বিশেষ এক উচ্চতায় অবস্থান করছে।

  • বিশ্বকাপের দীর্ঘতম ম্যাচ

    বিশ্বকাপের দীর্ঘতম ম্যাচ

    বিশ্বকাপের চলতি আসরে ফ্রান্স বনাম ইরাক ম্যাচে ২ ঘণ্টা ১১ মিনিটের বিরতি! ফিলাডেলফিয়ায় বজ্রপাতের কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এত লম্বা সময় খেলা বন্ধ থাকার ঘটনা প্রথম ঘটল।

    খেলোয়াড়, সমর্থকদের নিরাপত্তা সুরক্ষার জন্য খেলা দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। যে কারলে ম্যাচ শেষ হতে প্রায় চার ঘণ্টা লেগে যায়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটাই দীর্ঘতম ম্যাচ।

    স্থানীয় সময় ৫টা ৪৯ মিনিটে বিরতি হয়। কিন্তু ১৫ মিনিটের হাফ টাইম ২ ঘণ্টা দীর্ঘায়িত হয়। রাত ৮টা পর্যন্ত খেলা শুরু হয়নি। বজ্রপাতের পাশাপাশি বৃষ্টিও শুরু হয়। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। যার ফলে খেলা শুরু করা যায়নি। শেষ পর্যন্ত খেলা শুরু হওয়ার চার ঘণ্টা পরে শেষ হয়। সেই ম্যাচে ৩-০ গোলে জয় পায় ফ্রান্স। জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে। একটি গোল করেন উসমানে ডেম্বেলে।

    ফ্রান্স এক গোলে এগিয়ে থাকাকালীন বিরতিতে সাপোর্টারদের গ্যালারি ছেড়ে কভার জায়গায় যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। জানানো হয়, ঝড় ধেয়ে আসছে। সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি। ২ ঘণ্টা ১১ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর আবার ম্যাচ শুরুর ক্লিয়ারেন্স দেয় সংগঠকরা। প্রথমে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটায় খেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত খেলা শুরু হতে ৮টা বেজে যায়।

  • বিশ্বকাপে ভালো খেলার রহস্য কী?

    বিশ্বকাপে ভালো খেলার রহস্য কী?

    বিশ্বকাপে ভালো খেলার জন্য সঙ্গিনীর সঙ্গে যৌনতায় মেতে উঠার জন্য ফুটবলারদের পরামর্শ দিচ্ছেন কুরাসাওয়ের নারী ডাক্তার সুজান হুরমান। ইকুয়েডর ম্যাচের আগে তার এমন পরামর্শে সাফল্য পেয়েছে আফ্রিকার দলটি।

    বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭ গোলে হেরে যায় কুরাসাও। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে কামব্যাক করে তারা। এই বিশ্বকাপের ডার্ক হর্স ইকুয়েডরের সঙ্গে ড্র করেছে কুরাসাও। গোলকিপার এলয় ভিক্টর রুম ১৫টি গোল সেভ করে নজির গড়েছেন। তার নেপথ্যে কি বান্ধবীর সঙ্গে কাটানো ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত?

    দলের নারী ডাক্তার হুরমানের পরামর্শ অনুয়াযী কোচ ডিক অ্যাডভোকেট প্লেয়ারদের সঙ্গে তার বান্ধবী বা স্ত্রীদের থাকার স্বাধীনতা দিয়েছেন। বিশ্বকাপের আগে অনেক দলই স্ত্রী বা বান্ধবীদের সঙ্গে সময় কাটানো নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নেয়। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে ইটালির কোচ ফাবিও কাপেলো প্লেয়ারদের উপর রীতিমতো কারফিউ জারি করেছিলেন। আবার অনেক দল ভারসাম্য রাখায় বিশ্বাসী।

    কিন্তু কুরাসাওয়ের দর্শন আলাদা। হুরমানও চান, ম্যাচের আগে ফুটবলাররা সঙ্গিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত কাটান। তাতে দলের পরিবেশ অনেক ফুরফুরে থাকবে।

    হুরমান বলেন, ‘প্লেয়াররা তাদের স্ত্রী, বান্ধবী ও তাদের সন্তানদের সঙ্গে থাকতে পারেন। যাদের পরিবার আছে, সেই ফুটবলারদের বাড়তি রুম দেওয়া হচ্ছে। সাধারণত বিশ্বকাপে কোনও দল এরকম পদক্ষেপ নেয় না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, যৌনতা সাহায্য করেছে। শারীরিক প্রভাবের থেকেও এর মানসিক প্রভাব বেশি। এত বড় টুর্নামেন্টে পরিবারের সঙ্গ পাওয়া খুব দরকার। তাতে মনখারাপের জায়গা থাকে না। কুরাসাও ছোট দেশ হতে পারে, কিন্তু তারা খুব প্রাণোচ্ছ্বল। আনন্দ-ফুর্তি করতে ভালোবাসে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চায়। ওদের দেখে আমার নিজের দেশ ব্রাজিলের কথা মনে পড়ে।’

    তবে আরেকটা কারণও আছে। কুরাসাওয়ের জনসংখ্যা মাত্র দেড় লাখ। সব প্লেয়ারই বিদেশি বংশোদ্ভূত। অনেক প্লেয়ারই বড় ক্লাবে খেলেন না। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নন। তাই নিজেদের টাকায় পরিবারকে আমেরিকায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। এই অবস্থায় এগিয়ে এসেছে কুরাসাওয়ের ফুটবল ফেডারেশন। পরিবারকে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে পুরো টাকা দিচ্ছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।

    হুরমান বলেন, ‘আমাদের প্লেয়ারদের খুব বেশি টাকা নেই। আমেরিকায় সপ্তাহের পর সপ্তাহ পরিবারকে রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই ফেডারেশন সেই খরচ বহন করছে। যেখানে প্লেয়ারদের সঙ্গী-সন্তানরা থাকতে পারবে। তাদের কোনও দুশিন্তা থাকবে না।’

    হুরমানের জন্ম ব্রাজিলে। এই বিশ্বকাপের একমাত্র মহিলা মেডিক্যাল স্টাফ তিনি। এর আগে রিয়াল মাদ্রিদ, পিএসভি আইন্দোভেন, নেদারল্যান্ডস অনূর্ধ্ব-১৬ দলের সঙ্গে কাজ করেছেন।

    বিশ্বকাপে ‘ই’ গ্রুপে আছে কুরাসাও। এই মুহূর্তে ২ ম্যাচে এক পয়েন্ট সংগ্রহ তাদের। শেষ ম্যাচ আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচ জিতলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তৃতীয় স্থানে শেষ করতে পারবে আফ্রিকার দেশটি। সেক্ষেত্রে তৃতীয় সর্বোচ্চ পয়েন্ট হিসেবে রাউন্ড অফ ১৬-এ যাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে গোলপার্থক্যে অনেকটা পিছিয়ে থাকায় তাকিয়ে থাকতে হবে বাকি গ্রুপগুলোর দিকে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি বয়কট করে সভাকক্ষ ছাড়লো ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি বয়কট করে সভাকক্ষ ছাড়লো ইরান

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে নতুন করে তীব্র হুমকি দেওয়ার পর সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা বয়কট করে সভাকক্ষ থেকে বের হয়ে গেছে ইরানের প্রতিনিধি দল।

    মঙ্গলবার (২৩ জুন) ইরানের প্রধান আলোচক ও দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আনুষ্ঠানিকভাবে এই আলোচনা বর্জনের কথা নিশ্চিত করেছেন।

    নিজের দেশের অবস্থান পরিষ্কার করে গালিবাফ বলেন, ‘আমাদের নির্দিষ্ট কিছু মূলনীতি রয়েছে এবং এ পর্যন্ত আমরা কখনোই আমেরিকানদের সঙ্গে একই টেবিলে বসে সরাসরি সংলাপে অংশ নিতে চাইনি।’ মধ্যস্থতাকারীদের বিশেষ অনুরোধে ইরান কেবল পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিতে রাজি হয়েছিল।

    গালিবাফ বলেন যে, ‘আলোচনার মাঝপথে আমি জানতে পারি যে ট্রাম্প আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, আমাদের এই প্রতিনিধি দল এবং একই সঙ্গে ইরানের মূল ভূখণ্ডে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর তীব্র হুমকি দিয়েছেন।’ এই খবর পাওয়ার পরপরই তিনি মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রধান ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানান।

    ইরানি স্পিকার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টকে স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেন যে ট্রাম্পের এই ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির শর্তগুলোকে সরাসরি লঙ্ঘন করে।

    তিনি জেডি ভ্যান্সকে উদ্দেশ্য করে সভাকক্ষে বলেন যে, ‘আমি ভ্যান্সকে বলেছিলাম যে আমরা এখানে আলোচনার টেবিলে বসে আছি এবং আমাদের স্বাক্ষরিত সমঝোতার প্রথম ধারা অনুযায়ী যেকোনো পক্ষকে হুমকি দেওয়া বা সামরিক বলপ্রয়োগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু আপনাদের প্রেসিডেন্ট আজকেই নতুন করে আমাদের হুমকি দিয়েছেন।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, ‘আপনাদের জেনে রাখা উচিত যে ইরান কখনোই কোনো ধরনের হুমকি বা চাপের মুখে নতি স্বীকার করে আলোচনা পরিচালনা করে না।’

    এই ঘটনার পরপরই ইরানের সম্পূর্ণ প্রতিনিধি দল তাৎক্ষণিকভাবে বৈঠকটি সমাপ্ত ঘোষণা করে আলোচনার টেবিল থেকে একযোগে উঠে দাঁড়ায় এবং সভাকক্ষ ত্যাগ করে। গালিবাফ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, ‘আমরা আলোচনা শেষ করে বৈঠক থেকে বের হয়ে এসেছি এবং সেখানে আর কখনোই ফিরে যাইনি।’ পরবর্তীতে মার্কিন প্রতিনিধি দল মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে আরেকটি জরুরি বৈঠক বসার জন্য জোরালো আকুতি জানালেও তেহরান ওয়াশিংটনের সেই প্রস্তাবটি সরাসরি নাকচ করে দেয়।

    আমেরিকার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর কাতার ও পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতাকারীরা ইরানি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তাদের নিজস্ব আবাসে এসে দেখা করেন। ইরানি স্পিকার মধ্যস্থতাকারীদের সাফ জানিয়ে দেন যে, ‘কাতারি ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা আমাদের কাছে এসেছিলেন এবং আমরা তাদের বলেছি যে আমরা কেবল আপনাদের সঙ্গেই কথা বলব, তবে আমেরিকানদের সঙ্গে আমরা আর কোনো ধরনের সংলাপে বসব না।’

    পরবর্তীতে দুই দেশের মধ্যকার এই অচলাবস্থা নিরসনে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা দীর্ঘ ৮০ মিনিট যাবত ইরানের সঙ্গে এক নিবিড় আলোচনা পরিচালনা করেন এবং সবশেষে একটি যৌথ কূটনৈতিক বিবৃতি প্রকাশ করেন।

    এ ছাড়া মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যরাতে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি উল্লেখ করে এক চরম হুমকি দিয়ে বসেন। তিনি বলেন যে ইরান যদি নতুন করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার কোনো চেষ্টা চালায় তবে পৃথিবীর বুকে ইরানের অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়বে।

    তিনি অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করে বলেন যে, ‘আপনারা আর নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগটুকুও পাবেন না এবং প্রয়োজনে আমরা নিজেরাই পুরো হরমুজ প্রণালির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আমাদের নিজেদের হাতে তুলে নেব।’ ওই একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার নিয়ে কথা বলা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকেও উদ্দেশ্য করে বলেন যে, ‘তার নিজের মুখ সামলে কথা বলা উচিত এবং তিনি যদি সোজা না হন তবে আমরা পুরো দেশের বাকি অংশও আমাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেব।’

    উল্লেখ্য যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর গত ১৪ জুন পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি বিশেষ ১৪ দফার শান্তি সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ১৮ জুন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ বা এমওইউ-টি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়।

    এই চুক্তির প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে ছিল লেবানন যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর আমেরিকার আরোপিত দীর্ঘদিনের নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া।

  • ১৭ বছর পর ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ

    ১৭ বছর পর ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ

    অ্যাশেজ শুরুর আগে ইংল্যান্ড নিজেদের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে। ম্যাচটি আগামী বছরের মে মাসের শেষ দিকে আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে।

    বাংলাদেশ শেষবার ২০১০ সালে ইংল্যান্ডে টেস্ট খেলেছিল। তাই প্রায় ১৭ বছর পর আবার ইংলিশ কন্ডিশনে সাদা পোশাকে মাঠে নামবে টাইগাররা। তবে এই ম্যাচটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়।

    ম্যাচের ভেন্যু এখনো নিশ্চিত হয়নি। এটি নির্ভর করছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল কোথায় হবে তার ওপর। যদি ফাইনাল লর্ডসে না হয়, তাহলে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড টেস্টটি লর্ডসে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আর যদি লর্ডসেই ফাইনাল হয়, তাহলে ম্যাচটি ওভালে আয়োজন করা হতে পারে।

    সম্প্রতি লর্ডসের উইকেট নিয়ে সমালোচনা হয়েছে, কারণ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি টেস্ট খুব কম ওভারে শেষ হয়েছিল এবং বোলারদের জন্য বেশ সহায়ক কন্ডিশন ছিল। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল লর্ডস থেকে সরিয়ে ওভালে নেওয়ার কথাও ভাবছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড।

    ২০২৭ সালের সূচিতে ইংল্যান্ড বাংলাদেশের বিপক্ষে সফর করবে এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি বিশেষ টেস্ট খেলবে। এরপর মে মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠে একমাত্র টেস্ট খেলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এই সিরিজগুলো ইংল্যান্ডের জন্য অ্যাশেজের আগে প্রস্তুতির বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, আর বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘ বিরতির পর ইংল্যান্ডে টেস্ট খেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হবে।

  • এমবাপ্পেকে ঠেকাতে ৩ গোলকিপারের ভাবনা ইরাক কোচের!

    এমবাপ্পেকে ঠেকাতে ৩ গোলকিপারের ভাবনা ইরাক কোচের!

    কিলিয়ান এমবাপ্পেকে থামানো যেন আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। বিশ্বের সেরা ডিফেন্ডার ও কোচরাও ফরাসি এই তারকাকে আটকানোর নানা কৌশল খুঁজে থাকেন। কিন্তু তাকে রুখতে ব্যতিক্রমী এক ‘সমাধান’ দিয়েছেন ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড— একসঙ্গে তিনজন গোলকিপার খেলানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে!

    বাংলাদেশ সময় আজ রাত তিনটায় গ্রুপ ‘আই’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে ইরাক। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে হাস্যরসের ছলে আর্নল্ড বলেন, আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, আমরা কি একসঙ্গে তিনজন গোলকিপার খেলাতে পারি? কিন্তু তারা সেটি অনুমোদন করেনি।

    ২০২২ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটজয়ী এমবাপ্পে ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন। বিশ্বকাপে গোলসংখ্যায় তিনি কিংবদন্তি পেলেকেও ছাড়িয়ে গেছেন এবং টুর্নামেন্টের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে ফ্রান্সের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও এখন তার দখলে।

    ইরাকের গোলরক্ষক ও অধিনায়ক জালাল হাসান সর্বশেষ নরওয়ের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে হারের ম্যাচে চারটি গোল হজম করেছিলেন। ফলে ফ্রান্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কে গোলপোস্ট সামলাবেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি আর্নল্ড।

    ইরাকি কোচ বলেন, ফ্রান্স কীভাবে খেলবে, সেটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। তবে নিজেদের পারফরম্যান্স আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। আমি চাই আমার খেলোয়াড়রা মাঠে নেমে নিজেদের সামর্থ্য বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরুক।

    অন্যদিকে ফ্রান্স শিবিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এমবাপ্পে। ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নামলেই তিনি ফ্রান্সের জার্সিতে নিজের ১০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করবেন।

    এই অর্জন নিয়ে এমবাপে বলেন, জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা সবসময়ই বিশেষ অনুভূতির। দেশের প্রতিনিধিত্ব করার চেয়ে বড় কিছু নেই। ফ্রান্সের হয়ে ১০০টি ম্যাচ খেলা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, আর সেটি যদি বিশ্বকাপের মঞ্চে হয়, তাহলে তা আরও স্মরণীয় হয়ে ওঠে।

  • শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অন্তরায়: সংসদে জিএম সিরাজ

    শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অন্তরায়: সংসদে জিএম সিরাজ

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে থামাতে ভারত সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ। তিনি বলেছেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আপনার মাধ্যমে আমি মোদি সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি—সবিনয়ে একই সঙ্গে আমি বলতে চাই, আমাদের পশ্চিমবঙ্গের যে চিফ মিনিস্টার শুভেন্দু বাবু, তাঁকে থামান। বাংলাদেশ বিরোধী যে সমস্ত বক্তব্য আসছে মাঝেমধ্যে, যে সমস্ত বক্তব্য তিনি দিচ্ছেন, এই বক্তব্য…ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বের অন্তরায় হয়ে গেছে।’

    আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ অনুরোধ জানান।

    জিএম সিরাজ বলেন, ‘আমি আহ্বান করি যে, এখানে শেখ হাসিনা অপ্রাসঙ্গিক। শেখ হাসিনা নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা নাই। বাংলাদেশে উনি নাই হয়ে গেছে। আউট অফ সিন অ্যান্ড সে কোনো দিনই বাংলাদেশে…।’

    জিএম সিরাজ বলেন, ‘আমরা সবাই চাই, ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব সম্মানজনকভাবে টিকিয়ে রাখি। কারণ আমি বিশ্বাস করি যে, ভারত আমাদের প্রতিবেশী। দুই বন্ধুর বন্ধুত্ব ক্ষণস্থায়ী হয়, আমাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও ক্ষণস্থায়ী হতে পারে। স্বামী-স্ত্রী ডিভোর্স হতে পারে। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশ প্রতিবেশী, এই প্রতিবেশীর কিন্তু সম্পর্কে ডিভোর্স হতে পারে না। প্রতিবেশীকে আমরা কখনোই অস্বীকার করতে পারি না। না ভারত পারবে, না বাংলাদেশ পারবে।’

    জিএম সিরাজ বলেন, ভারতের নতুন হাইকমিশনার ত্রিবেদী এসে বলেছেন ‘আমরা একই আকাশ, একই বাতাসের নিচে’।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কের ঝড় তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে জিএম সিরাজ বলেন, আমরা বলতে চাই—আসুন মানুষের হৃদয় জয় করুন। ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক স্থাপন করি। আমরা চাই, ভারত বিরোধিতা অথবা বাংলাদেশ বিরোধিতা যাতে না হয়। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করতে চাই। সে ক্ষেত্রে ভারতের বর্তমান সরকারের প্রতি আমার সবিনয় অনুরোধ, আপনারা দয়া করে পুশ ইন বন্ধ করুন।

    জিএম সিরাজ পুশ ইনের পাশাপাশি ভারত সীমান্তে মাদক তৈরির কারখানাগুলো বন্ধ করারও দাবি জানান।