আর্ন্তজাতিক

  • কেপ ভার্দের রূপকথার নেপথ্য কারিগর ‘বুবিস্তা’

    কেপ ভার্দের রূপকথার নেপথ্য কারিগর ‘বুবিস্তা’

    বোয়া ভিস্তা দ্বীপের পোভোয়াসাও ভেলহা গ্রাম। পুরো গ্রামে ছিল মাত্র একটি টেলিভিশন। বিশ্বকাপের রাতে সেই টিভির সামনে ভিড় করতেন গ্রামের মানুষ। সবার পেছনে দাঁড়িয়ে এক ছোট্ট ছেলে মুগ্ধ চোখে দেখত ডিয়েগো ম্যারাডোনা আর লোথার ম্যাথাউসের ফুটবল জাদু। ঘরে ফিরে মা তার জন্য মোজা দিয়ে বানিয়ে দিতেন একটি বল। সেই মোজার বল নিয়েই শুরু হয়েছিল তার ফুটবল-যাত্রা।

    বহু বছর পর সেই ছেলেটিই টানা ১১ বছর কেপ ভার্দে জাতীয় দলের অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরেছেন। ফুটবল বিশ্ব এখন তাকে চেনে ‘বুবিস্তা’ নামে। যদিও তার আসল নাম পেদ্রো লেইতাও ব্রিতো। জন্ম বোয়া ভিস্তা দ্বীপে বলেই শৈশবের ডাকনাম ‘বুবিস্তা’ আজ তার পরিচয় হয়ে গেছে। আর শনিবার সকালে হিউস্টনের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে ৫৬ বছর বয়সী সেই মানুষটিই লিখলেন দেশের ফুটবলের সবচেয়ে বড় ইতিহাস। তার হাত ধরেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে।

    বিশ্বকাপে জায়গা পেতে নানা বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে হয়েছে কেপ ভার্দেকে। টানা সাতবার ব্যর্থ হওয়ার পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে আফ্রিকান ব্লু শার্কসরা। আর প্রথমবার সুযোগ পেয়েই চমকে দিয়েছে তারা। স্পেন ও উরুগুয়ের মতো দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নের গ্রুপ থেকে অপরাজিত রানার্সআপ হয়ে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নিয়েছে দলটি। বাইরে থেকে এটি রূপকথা মনে হলেও, এর পেছনে রয়েছে প্রায় দুই দশকের পরিকল্পনা, ধৈর্য আর কঠোর পরিশ্রম।

    কেপ ভার্দের এই সাফল্যের অন্যতম বড় ভিত্তি সেন্টার-ব্যাক লোগান কস্তা। ভিয়ারিয়ালের এই ডিফেন্ডার গত বছরের জুলাইয়ে এসিএল ইনজুরিতে পড়ে প্রায় ১০ মাস মাঠের বাইরে ছিলেন। বিশ্বকাপের আগে গত ১৭ মে লা লিগায় মাত্র ১৩ মিনিট খেলেছিলেন। এমন একজন ফুটবলারকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু বুবিস্তা বিশ্বাস হারাননি। সেটার ফলও মিলেছে হাতেনাতে। স্পেন, উরুগুয়ে কিংবা সৌদি আরব- কেউই সহজে ভাঙতে পারেনি কস্তাদের রক্ষণপ্রাচীর। পুরো গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাদের সংগঠিত রক্ষণভাগ।

    কেপ ভার্দের জনসংখ্যা মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ। কিন্তু দেশের মানুষের চেয়ে প্রবাসী কেপ ভার্দিয়ানের সংখ্যা আরও বেশি। সেই ছড়িয়ে থাকা মানুষদেরই এক সুতোয় গেঁথেছেন বুবিস্তা। এই যেমন মিডফিল্ডার জামিরো মন্তেইরোর জন্ম নেদারল্যান্ডসের রটারডামে। অভিবাসী পরিবারে বেড়ে ওঠা এই ছেলেটি পাড়ার রাস্তায় ফুটবল শেখা শিখেছেন। পরে নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার ঘুরে জাতীয় দলে জায়গা করে নেন। বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে এসওয়াতিনির বিপক্ষে নিজের ৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেই নিশ্চিত করেছিলেন কেপ ভার্দের বিশ্বকাপের টিকিট।

    কেভিন পিনার গল্পও কম অবাক করার মতো নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের ব্রকটনের রাস্তায় খেলতে খেলতেই সাবেক অধিনায়ক কার্লোস মোরাইসের চোখে পড়েছিলেন তিনি। সেখান থেকেই পেশাদার ফুটবলে যাত্রা। এখন রাশিয়ার ক্রাসনোদারে খেলেন। বিশ্বকাপে উরুগুয়ের বিপক্ষে তার ফ্রিকিক গোল এখনও টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।

    আবার উরুগুয়ের বিপক্ষে বদলি নেমে সমতাসূচক গোল করা হেলিও ভারেলা খেলেন ইসরায়েলের ক্লাবে। ম্যাচের আগে হয়তো খুব কম মানুষই তার নাম জানত, কিন্তু একটি গোলই তাকে কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসে জায়গা করে দিয়েছে।

    ডিফেন্ডার পিকো লোপেসের গল্প আরও মজার। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার প্রথমে ভেবেছিলেন, লিংকডইনে পর্তুগিজ ভাষায় আসা কেপ ভার্দে কোচের বার্তাটি বুঝি স্প্যাম! পরে বুঝতে পারেন, সেটিই ছিল জাতীয় দলের ডাক। সেই বার্তা উপেক্ষা করলে হয়তো ইতিহাসের অংশ হওয়াই হতো না।

    আর গোলরক্ষক ভোজিনহা তো এখন পুরো দেশের নায়ক। স্পেনের বিপক্ষে একাই সাতটি সেভ করে ম্যাচসেরা হয়ে ওঠেন তিনি। শেষ বাঁশির পর চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। কারণ সেই মুহূর্তে তার সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছিল প্রয়াত দাদা-দাদিকে- যাদের হাত ধরেই ফুটবলে তার প্রথম পথচলা।

    ৩৬ বছর বয়সী অধিনায়ক রায়ান মেন্ডেস এই দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ মুখ। গত ১৬ বছরে ৯৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে তিনি ছিলেন কেপ ভার্দের প্রতিটি উত্থান-পতনের সাক্ষী। আর ২৫ বছর বয়সী ডেইলন লিভ্রামেন্তো বাছাইপর্বে ক্যামেরুন ও এসওয়াতিনির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে বিশ্বকাপের পথটাই খুলে দিয়েছিলেন। বিশ্বকাপ শুরুর আগে সেই গোলগুলোর কথা খুব বেশি মানুষ মনে রাখেনি, কিন্তু ইতিহাসের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল সেখানেই।

    কেপ ভার্দের জন্য বিশ্বকাপ শুধু স্বপ্ন নয়, ভবিষ্যতের বিনিয়োগও। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব খেলেই কেপ ভার্দে ফিফার কাছ থেকে পাচ্ছে এক কোটি পাঁচ লাখ মার্কিন ডলার। ফেডারেশনের পরিকল্পনা, এই অর্থের পুরোটা ব্যয় হবে দেশের ফুটবল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা কেপ ভার্দিয়ান প্রতিভাদের খুঁজে বের করতে। ১৪ বছর বয়সী একাডেমি ফুটবলার ইউরি মার্লে ফার্নান্দেসদের প্রজন্মকে তাই আর কল্পনা করতে হয় না। তারা বড় হয়েছে এমন একটি জাতীয় দলকে দেখে, যারা আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে, ক্যামেরুনের মতো দলকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপে উঠেছে। তাদের কাছে বিশ্বমঞ্চ আর অসম্ভব কোনো স্বপ্ন নয়।

    সৌদি আরব ম্যাচের আগে বুবিস্তা বলেছিলেন, ‘সবারই স্বপ্ন দেখার অধিকার আছে। অসম্ভব বলে কিছু নেই।’ মোজার ফুটবল দিয়ে খেলা শুরু করা এই মানুষটি ভালো করেই জানেন, বিশ্ব ফুটবলের সমীহ আদায় করতে ঠিক কতটা রক্ত-ঘাম ঝরাতে হয়।

    আগামী ৪ জুলাই নকআউট পর্বে তাদের সামনে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষে থাকবেন লিওনেল মেসি। পোভোয়াসাও ভেলহা গ্রামের সেই ছোট্ট ছেলেটি ধার করা টেলিভিশনে এর চেয়েও বড় বড় ম্যাজিক দেখে বড় হয়েছে। এবার বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজের গল্প লেখার পালা তার।

  • প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউটে আইভরি কোস্ট

    প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউটে আইভরি কোস্ট

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখল আইভরি কোস্ট। কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার দেশটি। ম্যাচের দুই গোলই করেছেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড নিকোলাস পেপে।

    ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘ই’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে ড্র করলেই শেষ ৩২ নিশ্চিত হতো আইভরি কোস্টের। তবে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে তারা। তারই ফল হিসেবে সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় আফ্রিকান দলটি।

    প্রথম গোলটির সূচনা করেন ১৯ বছর বয়সী ইয়ান দিয়োমান্দে। কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে বল কেড়ে পেপের কাছে বাড়িয়ে দেন তিনি। সুযোগ নষ্ট করেননি পেপে। সহজ ফিনিশিংয়ে গোলরক্ষক এলয় রুমকে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।

    প্রথমার্ধে লিড ধরে রাখার পর দ্বিতীয়ার্ধেও আধিপত্য বজায় রাখে আইভরি কোস্ট। ৬৪তম মিনিটে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন পেপে। এরপর তিন মিনিট পরই তাকে তুলে নেন কোচ, যাতে ৩০ জুনের নকআউট ম্যাচের আগে বিশ্রাম পান এই ফরোয়ার্ড।এই জয়ে গ্রুপের রানারআপ হয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে আইভরি কোস্ট। আগামী ৩০ জুন নকআউট পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ‘আই’ গ্রুপের রানারআপ—ফ্রান্স অথবা নরওয়ে।

    আইভরি কোস্টের জন্য এটি এক ঐতিহাসিক অর্জন। এর আগে ২০০৬, ২০১০ ও ২০১৪—টানা তিন বিশ্বকাপ খেলেও কখনো গ্রুপপর্বের বাধা পেরোতে পারেনি তারা। দুই আসর পর বিশ্বকাপে ফিরে এবার সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে ইতিহাস গড়ল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

    অন্যদিকে, বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কুরাসাও শেষ ম্যাচে জিতলে নকআউটে ওঠার সম্ভাবনা ছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ড্র করে চমক দেখানো ক্যারিবীয় দেশটি শেষ পর্যন্ত আইভরি কোস্টের কাছে হেরে বিদায় নেয়। ফলে বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠা সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হওয়ার সুযোগও হাতছাড়া হলো তাদের।গ্রুপপর্বে আইভরি কোস্ট প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে লড়াই করেও ২-১ গোলে হারে। তবে শেষ ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে কোনো ভুল করেনি আফ্রিকার দলটি।

  • পয়েন্ট ভাগাভাগিতে নকআউটে জাপান-সুইডেন

    পয়েন্ট ভাগাভাগিতে নকআউটে জাপান-সুইডেন

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের শেষ দিনে নিজেদের লক্ষ্য পূরণ করেছে জাপান ও সুইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আর্লিংটনে ১-১ গোলে ড্র করে দুই দলই নিশ্চিত করেছে নকআউট পর্বের টিকিট। একই সঙ্গে চূড়ান্ত হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের শেষ ৩২-এর প্রতিপক্ষও। গ্রুপ ‘সি’ চ্যাম্পিয়ন সেলেসাওরা আগামী ২৯ জুন মুখোমুখি হবে জাপানের।

    অন্য ম্যাচে নেদারল্যান্ডস ৩-১ গোলে হারিয়েছে তিউনিসিয়াকে। তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এফ’-এর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ডাচরা। সমান পয়েন্ট হলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে রানারআপ হয়েছে জাপান। আর সুইডেন সেরা আট তৃতীয়-স্থানধারী দলের একটি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে নকআউটে। ফলে শেষ ৩২-এ নেদারল্যান্ডসের প্রতিপক্ষ হবে ‘সি’ গ্রুপের রানারআপ মরক্কো।ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে যায় জাপান। ৫৬তম মিনিটে রিতসু দোয়ানের নিখুঁত পাস পেনাল্টি বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ের শটে সুইডিশ গোলরক্ষক জ্যাকব উইডেল জেত্তারস্ট্রমকে পরাস্ত করেন ডাইজেন মায়েদা।

    তবে জাপানের সেই আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র ছয় মিনিট। ৬২তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত বাঁ পায়ের শটে সমতা ফেরান অ্যান্থনি এলাঙ্গা। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার দ্বিতীয় গোল।

    এই ম্যাচে গোল করে জাপান নতুন এক কীর্তিও গড়েছে। এবারের আসরে তাদের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতে, যা এক বিশ্বকাপে দেশটির সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে ছয় গোল ছিল জাপানের সর্বোচ্চ অর্জন।এ নিয়ে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে নকআউটে উঠল জাপান। সব মিলিয়ে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব পেরোল তারা। ২০০২ সালে যৌথ আয়োজক হিসেবে প্রথমবার শেষ ষোলোতে খেলেছিল এশিয়ার দলটি।

    অন্যদিকে ১৯৯৪ সালের পর থেকে নিয়মিত বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সুইডেনও টানা তৃতীয়বারের মতো নকআউট নিশ্চিত করেছে। প্রথমবার অংশ নিয়েই তারা সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল।

    ম্যাচের শেষ দিকে জয়ের সুযোগ পেয়েছিল সুইডেন। ইনজুরি সময়ে এলাঙ্গার শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন জাপানি গোলরক্ষক জিওন সুজুকি। পরের কর্নার থেকে আলেক্সান্ডার আইজাকের হেডও রুখে দেন তিনি। ফলে ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি। এখন নকআউট পর্বে ব্রাজিল-জাপান এবং নেদারল্যান্ডস-মরক্কো লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।

  • গ্রুপসেরা হয়ে নকআউটে নেদারল্যান্ডস, প্রতিপক্ষ মরক্কো

    গ্রুপসেরা হয়ে নকআউটে নেদারল্যান্ডস, প্রতিপক্ষ মরক্কো

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    তিন গোলের দাপুটে জয়ে গ্রুপপর্ব শেষ করল নেদারল্যান্ডস। তিউনিসিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ‘এফ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ডাচরা। একই সময়ে জাপান ও সুইডেনের ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে নেদারল্যান্ডস। ফলে নকআউট পর্বে সম্ভাব্য কঠিন প্রতিপক্ষ ব্রাজিলকে এড়িয়ে তারা মুখোমুখি হবে ‘সি’ গ্রুপের রানারআপ মরক্কোর।

    কানসাস সিটির ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় নেদারল্যান্ডস। ম্যাচের শুরুতেই তিউনিসিয়ার অধিনায়ক এলিস শিকিরি আত্মঘাতী গোল করে ডাচদের এগিয়ে দেন। এরপর সপ্তম মিনিটে ব্রায়ান ব্রবি নিজের বিশ্বকাপের তৃতীয় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ভার্জিল ফন ডাইকের হেড থেকে পাওয়া বল জালে জড়িয়ে দলকে স্বস্তি এনে দেন তিনি।

    দ্বিতীয়ার্ধে তিউনিসিয়া একবার ম্যাচে ফেরার আভাস দেয়। ৫৪তম মিনিটে কর্নার থেকে হাজেম মাসতুরি গোল করে ব্যবধান কমান। তবে সেই আনন্দ বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। ৬২তম মিনিটে জ্যান পল ফন হেকের হেড আনিস স্লিমানের গায়ে লেগে আত্মঘাতী গোলে পরিণত হলে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে নেদারল্যান্ডস।

    ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের আশঙ্কায় কিছু সময়ের জন্য খেলা বন্ধও রাখতে হয়। বিরতির পরও অবশ্য বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে সহজেই ম্যাচ শেষ করে ডাচরা।এই জয়ে তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নেদারল্যান্ডস। সমান ৫ পয়েন্ট নিয়ে রানারআপ হয়েছে জাপান, যারা নকআউটে খেলবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে। আর চার পয়েন্ট নিয়ে সেরা তৃতীয় দলগুলোর একটি হিসেবে পরের রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে সুইডেন।

    অন্যদিকে, বিশ্বকাপের শুরু থেকেই হতাশাজনক পারফরম্যান্স করেছে তিউনিসিয়া। প্রথম ম্যাচে হারের পর কোচ পরিবর্তন করেও ভাগ্য বদলায়নি। জাপানের কাছে বড় ব্যবধানে হারার পর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও পরাজিত হয়ে কোনো জয় ছাড়াই বিশ্বকাপ শেষ করল উত্তর আফ্রিকার দলটি।

    নকআউটে ওঠার আগে টানা দুই জয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে নামবে নেদারল্যান্ডস, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে চমক দেখিয়ে নকআউটে ওঠা মরক্কো।

  • বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

    বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের উপস্থিতিতে চীনের সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি ও চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি)-এর প্রধানদের সঙ্গে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সমঝোতা স্মারকগুলোতে স্বাক্ষর করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

    স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলোর আওতায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সংবাদ ও তথ্য বিনিময়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, গণমাধ্যম খাতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব, গ্লোবাল সাউথভুক্ত গণমাধ্যম বিষয়ে যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সম্প্রচার ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।

    এ সমঝোতা স্মারকগুলো দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করবে এবং গণমাধ্যম ও তথ্য খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    উল্লেখ, প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্ত হতে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গত ২৩ জুন চীনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে প্রতিনিধি দলসহ দেশে ফিরবেন।

  • ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

    ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

    বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর প্রতিদ্বন্দ্বিতার নাম ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই বহুল প্রতীক্ষিত মহারণের সম্ভাবনা জাগতে শুরু করেছে। নিজ নিজ গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে দুই লাতিন পরাশক্তি। ফলে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

    গ্রুপ ‘জে’ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ৩২-এ উঠেছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে গ্রুপ ‘সি’-তে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। বর্তমান নকআউট সূচি অনুযায়ী দুই দল রয়েছে টুর্নামেন্টের ভিন্ন অংশে। তাই ফাইনালের আগে তাদের দেখা হওয়ার সম্ভাব্য মঞ্চ হতে পারে সেমিফাইনাল।

    তবে সেই স্বপ্নের লড়াই দেখতে হলে দুই দলকেই পেরোতে হবে নকআউট পর্বের একাধিক কঠিন ধাপ। শেষ ৩২, শেষ ১৬ ও কোয়ার্টার ফাইনালে জয় পেলে তবেই সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল।

    গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ছন্দে আছে আর্জেন্টিনা। প্রথম দুই ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ এবং অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপ ‘এইচ’-এর রানার্সআপ দল।

    অন্যদিকে ব্রাজিল শুরুটা করেছিল মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র দিয়ে। তবে পরবর্তী দুই ম্যাচে হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে একই ব্যবধানে ৩-০ গোলে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় কার্লো আনচেলত্তির দল। গোল ব্যবধানে মরক্কোকে পেছনে ফেলে গ্রুপসেরা হয়ে নকআউট নিশ্চিত করে সেলেসাওরা। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্সআপ—নেদারল্যান্ডস, সুইডেন কিংবা জাপানের মধ্যে কোনো একটি দল।

    ফুটবল ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ১০৬টি অফিসিয়াল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। পরিসংখ্যানে সামান্য এগিয়ে আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেরা জিতেছে ৪১টি ম্যাচ, ব্রাজিলের জয় ৩৯টি, আর ২৬টি ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে। সাম্প্রতিক সময়েও এই ঐতিহ্যবাহী লড়াইয়ে কিছুটা আধিপত্য ধরে রেখেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    এখন ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা, নকআউটের বাধা পেরিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকটি স্মরণীয় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মহারণ উপহার দিতে পারে কি না দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।

  • পেলের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের পাতায় নেইমার

    পেলের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের পাতায় নেইমার

    ফুটবল ইতিহাসে এমন কিছু খেলোয়াড় আছেন, যাদের প্রভাব শুধুমাত্র গোল, ট্রফি কিংবা পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিজেদের সৃজনশীলতা, নৈপুণ্য ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে তারা হয়ে ওঠেন একটি প্রজন্মের অনুপ্রেরণা। ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র তেমনই একজন ফুটবলার, যিনি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।

    মাঠে তার অসাধারণ ড্রিবলিং, ক্ষিপ্র গতি এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে, তেমনি ক্যারিয়াজুড়ে গড়া অসংখ্য রেকর্ড তাকে এনে দিয়েছে বিশেষ মর্যাদা। চোট, বিতর্ক কিংবা সমালোচনা- সবকিছুর মাঝেও নিজের প্রতিভার ছাপ রেখে গেছেন তিনি।

    ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা

    নেইমারের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি হলো ব্রাজিল জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া। দীর্ঘদিন ধরে এই রেকর্ডটি ছিল কিংবদন্তি পেলের দখলে। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে পেলের ৭৭ গোলের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখান নেইমার।

    ব্রাজিলের মতো ফুটবল সমৃদ্ধ দেশের হয়ে এমন একটি রেকর্ড গড়া নিঃসন্দেহে বিরাট কৃতিত্ব। কারণ দেশটির জার্সি গায়ে খেলেছেন পেলে, রোনালদো, রোমারিও, রিভালদো, রোনালদিনহোসহ অসংখ্য কিংবদন্তি তারকা।

    অলিম্পিক স্বর্ণ জয়ের নায়ক

    ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে ব্রাজিলকে ফুটবলে প্রথমবারের মতো স্বর্ণপদক জেতানোর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল নেইমারের। স্বাগতিকদের সেই ঐতিহাসিক অভিযানে ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়সূচক শটটি নেন তিনিই।

    একই আসরে হন্ডুরাসের বিপক্ষে সেমিফাইনালে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মাথায় গোল করে অলিম্পিক ফুটবলের অন্যতম দ্রুততম গোলের রেকর্ডও গড়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা।

    ইউরোপ জয় ও এমএসএন ত্রয়ী

    এফসি বার্সেলোনার হয়ে খেলার সময়ই ইউরোপিয়ান ফুটবলে নিজের সেরা সময় কাটান নেইমার। লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজকে নিয়ে গড়ে ওঠা বিখ্যাত ‘এমএসএন’ ত্রয়ী ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগ হিসেবে বিবেচিত।

    ২০১৪-১৫ মৌসুমে বার্সেলোনার ট্রেবল জয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল নেইমারের। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্ব ও ফাইনালে তার গোল দলকে শিরোপা জয়ে বড় অবদান রাখে।

    বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার

    ২০১৭ সালে ফুটবল বিশ্বকে নাড়িয়ে দেন নেইমার। বার্সেলোনা ছেড়ে ২২২ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফিতে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনে (পিএসজি) যোগ দেন তিনি।

    এটি এখনো ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দলবদল। প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও কোনো ফুটবলার এই রেকর্ড ভাঙতে পারেননি।

    মাঠের বাইরে জনপ্রিয়তার শিখরে

    শুধু মাঠেই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদ নেইমার। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে তার অনুসারীর সংখ্যা কয়েকশ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে।

    বিশ্বজুড়ে এই বিপুল জনপ্রিয়তা তাকে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের সর্বাধিক পরিচিত ও সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদদের তালিকায় স্থান করে দিয়েছে।

    গিনেস রেকর্ডেও স্বীকৃতি

    ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ট্রান্সফার এবং বৈশ্বিক জনপ্রিয়তার মতো নানা অর্জনের কারণে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের বিভিন্ন তালিকায়ও জায়গা করে নিয়েছেন নেইমার। এছাড়া বার্সেলোনার ঐতিহাসিক আক্রমণভাগের অংশ হিসেবেও তার নাম উঠে এসেছে একাধিক পরিসংখ্যানভিত্তিক রেকর্ডে।

    শুধু রেকর্ড নয়, এক প্রজন্মের প্রতীক

    নেইমারের ক্যারিয়ারকে শুধুমাত্র গোল কিংবা ট্রফির সংখ্যায় মূল্যায়ন করা কঠিন। তিনি এমন এক ফুটবলার, যিনি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্য, সৃজনশীলতা ও বিনোদনমূলক ধারা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

    তার ড্রিবল, ফ্লেয়ার ও সাহসী খেলার ধরন বিশ্বজুড়ে অসংখ্য তরুণকে ফুটবলের প্রেমে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছে।

    আবেগঘন প্রত্যাবর্তনে উচ্ছ্বসিত ব্রাজিল

    এরই প্রমাণ মিলেছে ২৫ জুন ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচে। দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে ফেরেন নেইমার। ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে মাতেউস কুনহার পরিবর্তে মাঠে নামতেই করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। প্রিয় তারকাকে আবারও সেলেসাওদের হয়ে খেলতে দেখে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন সমর্থকেরা।

    ম্যাচ শেষে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। শেষ বাঁশি বাজার পর চোখের জল মুছতে দেখা যায় তাকে। সেই দৃশ্য যেন মনে করিয়ে দেয়—নেইমার কেবল একজন ফুটবলার নন, তিনি একটি আবেগ, একটি প্রজন্মের স্মৃতি এবং আধুনিক ফুটবলের অন্যতম স্মরণীয় আইকন।

  • ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে কী ভাবছেন মেসি, জানালেন নিজেই

    ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে কী ভাবছেন মেসি, জানালেন নিজেই

    আড়েবেড়ে বয়স তো অনেক হলো, সব পাওয়াও হলো—কিন্তু ফুটবলকে কবে বিদায় বলবেন লিওনেল মেসি? কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে শুরু হওয়া এ প্রশ্ন এবারও ঘুরে-ফিরে আসছে। মেসি জানিয়েছেন, সব পেয়েছেন। এবার শরীর ঠিক থাকলেই খেলা চালিয়ে যাবেন।

    আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ও ফুটবল কিংবদন্তি বলছেন, ‘আমি আরও কিছুদিন খেলব। যতক্ষণ দলের জন্য কিছু করতে পারব, শারীরিকভাবে ভালো অনুভব করব এবং সতীর্থদের সাহায্য করতে পারব, ততক্ষণ খেলে যাব।’

    তবে ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাননি ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি এখন সেটা নিয়ে ভাবছি না। ২০৩০ এখনও অনেক দূরের ব্যাপার। আমি বর্তমান নিয়েই ভাবছি এবং একদিন করে এগোচ্ছি।’

    বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে। গ্রুপ ‘জে’-তে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে তারা আগেভাগেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে। প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করেন মেসি। এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়েও জোড়া গোল করেন।

    গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ইতোমধ্যেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হওয়ায় ওই ম্যাচে দলকে আরও ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে কোচিং স্টাফ। মেসিদের আরেকটি বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগে গা গরমের ম্যাচও বলা যায় সেটিকে!

  • মেসির পরামর্শে বার্সেলোনায় যেতে বেশি আগ্রহী আলভারেজ

    মেসির পরামর্শে বার্সেলোনায় যেতে বেশি আগ্রহী আলভারেজ

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উত্তাপের মধ্যেই ইউরোপের ট্রান্সফার বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজ। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম জিজান্তেস এফসির তথ্য অনুযায়ী, বার্সেলোনায় খেলাকে নিজের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন এই বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড।

    বর্তমানে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন আলভারেজ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিওনেল মেসির কাছ থেকে বার্সেলোনা শহর ও ক্লাবের ঐতিহ্য সম্পর্কে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা শোনার পর কাতালান ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ আরও বেড়েছে তার।

    ইউরোপের কয়েকটি শীর্ষ ক্লাব—রিয়াল মাদ্রিদ, পিএসজি এবং আর্সেনাল—আলভারেজকে দলে ভেড়াতে আগ্রহ দেখালেও তিনি নাকি বার্সেলোনাকেই নিজের প্রথম পছন্দ হিসেবে বিবেচনা করছেন। ফলে সম্ভাব্য এই দলবদল নিয়ে বার্সেলোনা তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

    জানা গেছে, কাতালান ক্লাবের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে আলভারেজকে দলে আনার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। তবে চলমান বিশ্বকাপের কারণে তারা আপাতত কোনো তাড়াহুড়া করতে চাইছে না।

    বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর আলভারেজের জন্য প্রায় ১৩০ মিলিয়ন ইউরোর একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বার্সেলোনা। যদিও এই ট্রান্সফার সহজ হবে না, কারণ আতলেতিকো মাদ্রিদ তাদের অন্যতম সেরা তারকাকে ছাড়ার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে।

    স্প্যানিশ ক্লাবটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আলভারেজকে দলে নিতে চাইলে তার চুক্তিতে উল্লেখ থাকা ৫০০ মিলিয়ন ইউরোর রিলিজ ক্লজ পূরণ করতে হবে। ফলে বার্সেলোনার আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও এই সম্ভাব্য দলবদল শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তব রূপ পায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

  • জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন আনছেন স্কালোনি!

    জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন আনছেন স্কালোনি!

    গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের আগেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ফলে শনিবার জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে নিয়মিত একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। বেশ কয়েকজন তরুণ ও মাঠে কম নামা ফুটবলারকে সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    তবে দল ঘুরিয়ে খেলানোর পরিকল্পনা থাকলেও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ এবং অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে মাঠে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, ডান হাতের অনামিকার চোট কাটিয়ে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠা মার্তিনেজ নিজেই জর্ডানের বিপক্ষে খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে গোল হজম না করা এই গোলরক্ষকের শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

    মেসিকেও এই ম্যাচে কিছু সময়ের জন্য মাঠে নামানোর চিন্তা রয়েছে। তবে তিনি শুরু থেকেই খেলবেন নাকি দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামবেন, সে বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবু সমর্থকদের জন্য স্বস্তির খবর হলো, আর্জেন্টাইন অধিনায়কের খেলা দেখার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

    স্কালোনি মূল একাদশে একাধিক পরিবর্তন আনার কথা ভাবছেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে নিকো পাজ, ভ্যালেন্টিন বার্কো এবং জুলিয়ানো সিমিওনেকে।

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে চোটের কারণে খেলতে না পারা গঞ্জালো মন্তিয়েল এবার রাইট-ব্যাক পজিশনে ফিরতে পারেন। সেন্টার-ব্যাক হিসেবে অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দির সঙ্গে মার্কোস সেনেসি অথবা ফাকুন্দো মেদিনার একজনকে দেখা যেতে পারে। বাম প্রান্তে খেলবেন নিকোলাস তালিয়াফিকো।

    মিডফিল্ডে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের পাশে সুযোগ পেতে পারেন ভ্যালেন্টিন বার্কো। এছাড়া আক্রমণাত্মক মিডফিল্ড ও উইংয়ে জুলিয়ানো সিমিওনে এবং জিওভানি লো সেলসোকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    আক্রমণভাগে লাউতারো মার্তিনেজের পরিবর্তে খেলতে পারেন হুলিয়ান আলভারেজ। এছাড়া প্রয়োজন হলে লোপেসকেও মাঠে নামানো হতে পারে। মেসি যদি শুরুর একাদশে না থাকেন, তাহলে তার জায়গায় নিকো পাজকে দেখা যেতে পারে। আর মেসি শুরু করলেও ম্যাচের কোনো এক পর্যায়ে তরুণ এই মিডফিল্ডারকে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে কোচিং স্টাফের।