আর্ন্তজাতিক

  • পর্তুগিজ গণমাধ্যমে রোনালদোর তীব্র সমালোচনা

    পর্তুগিজ গণমাধ্যমে রোনালদোর তীব্র সমালোচনা

    বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও, কাঙ্ক্ষিত পারফর্ম করতে ব্যর্থ পর্তুগাল। গ্রুপপর্বে কঙ্গোর বিপক্ষে টেনেটুনে ড্র দিয়ে শুরু, এরপর উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে হারিয়ে দেওয়ার পর শেষ ম্যাচে ফের কলম্বিয়ার সঙ্গে ড্র।

    কলম্বিয়া ম্যাচে নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে পর্তুগাল ফুটবল দল। এমনকি দেশটির ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্র ‘আ বোলা’ মাঠের সবচেয়ে খারাপ খেলোয়াড় হিসেবে বেছে নিয়েছে রোনালদোকে। তারা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে প্রধান তারকাকে ১০ এর মধ্যে ৪ রেটিং দিয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোনালদোর শটগুলো তেমন বিপজ্জনক ছিল না এবং কলম্বিয়া গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাসের মুখোমুখি হয়ে পাওয়া বড় সুযোগটিও কাজে লাগাতে পারেননি। যদিও পরে সেই আক্রমণ অফসাইড হিসেবে বাতিল হয়। ম্যাচটিতে রোনালদো পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন। টুর্নামেন্টে যা ছিল দ্বিতীয়বার রোনালদোর কাছে পাওয়া প্রত্যাশার চেয়ে কম পারফরম্যান্স।

    এর আগে প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচেও ম্লান ছিলেন সিআরসেভেন। তার সেরা পারফরম্যান্স ছিল উজবেকিস্তানের বিপক্ষে, যেখানে তিনি দুটি গোল করেছিলেন। রোনালদোর সমালোচনা করার পাশাপাশি কলম্বিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের সেরা খেলোয়াড় হিসবে গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তার কথা উল্লেখ করেছে ‘আ বোলা’। তাদের মতে, কস্তা ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় এবং ৮ রেটিং পেয়েছেন।

    কলম্বিয়ার একের পর এক আক্রমণ সামলে ক্লিনশিট ধরে রেখেছেন দিয়োগো কস্তা। তিনি ‘সবকিছুই আটকে দিয়েছেন’ এবং ‘দুর্দান্ত পারফরম্যান্স’ করার কথা উল্লেখ করে গণমাধ্যমটি। কস্তার সেরা সেভের একটি ছিল দ্বিতীয়ার্ধের ৪৩ মিনিটে। হুয়ান কুইন্তেরোর ক্রস থেকে লুইস সুয়ারেজের কাছে বল পৌঁছানোর আগেই তিনি পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন।

    এ নিয়ে গ্রুপপর্বের দুটি ম্যাচে ড্র করেছে পর্তুগাল। ম্যাচের ফল তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির হলেও পুরো লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল কলম্বিয়া এবং বেশি সুযোগও তারাই তৈরি করে। অতিরিক্ত সময়ে ডেভিনসন সানচেজ গোল করলেও মিলিমিটার অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। শেষ ৩২–এ রোনালদোর পর্তুগাল ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে লড়বে।

  • গ্রাহকদের জন্য স্মার্টফোন সাশ্রয়ী করতে বাংলালিংকের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

    গ্রাহকদের জন্য স্মার্টফোন সাশ্রয়ী করতে বাংলালিংকের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

    ধানমন্ত্রী তারেক রহমান গ্রাহকদের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে বাংলালিংক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আজ সোমবার বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভেয়নের চেয়ারম্যান অগি ফাবেলা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই আহ্বান জানান।

    জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়ে ডিজিটাল সেবাকে আরও সহজলভ্য করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

    এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বাংলালিংক কর্তৃপক্ষকে আরও সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান, যেন সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছে যায়। একই সঙ্গে ইন্টারনেটের মূল্য আরও কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করারও আহ্বান জানান তিনি।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ভেয়নের বোর্ড সদস্য মিশেল সোয়েটিং এবং বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইওহান হেনড্রিক মার্টিনাস বুসে।

  • যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

    যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

    যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যানকে জাতীয় অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষিকে সহায়তা দেওয়া এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে যেকোনো মূল্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।’

    আজ সোমবার দুপুরে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, ‘নদী, খাল ও সেচ অবকাঠামোয় বড় ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘদিনের পানি ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের মানুষের অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয় পানি। সংসদ সদস্যরা নিয়মিত পদ্মা ও তিস্তা নদী নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। আমরা এসব সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছি।’

    সারা বছর কৃষির জন্য পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিসহ অন্যান্য খাতে তা ব্যবহার করা হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা হবে। যেন পুরো শুষ্ক মৌসুম এবং বছরের অন্যান্য সময় কৃষি ও প্রয়োজনীয় খাতে সেই পানি সরবরাহ করা যায়।’

    ‘দীর্ঘদিন ধরে সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তঃনদী সংযোগের অভাবে বাংলাদেশ ভুগছে। এর ফলে অনেক নদীর নাব্যতা হারিয়ে গেছে এবং বিভিন্ন এলাকায় সেচ ও পানির সংকট তৈরি হয়েছে’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘আমি এমন এলাকা পরিদর্শন করেছি, যেখানে বর্ষায় চারদিকে পানি থাকলেও অল্প দূরের কৃষকরা পানির অভাবে জমিতে সেচ দিতে পারেন না।তবে এই সমস্যা সমাধানে দেশব্যাপী নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

    আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘পানি প্রবাহ, সেচ ব্যবস্থা এবং বন্যা ব্যবস্থাপনা যাতে উন্নত করা যায় এ লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি চলছে। গত তিন মাসে প্রায় ৯শ’ কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখনন করা হয়েছে।’

    কৃষকদের জন্য সরকারের সহায়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের অন্যতম প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ এবং তার সুদ মওকুফ করা। এতে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।’

    কৃষকদের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকার বিশেষ কৃষক কার্ড চালু করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪৩ লাখ কৃষক এই কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা এবং অন্তত ১০টি অতিরিক্ত সেবা পাবেন। আমরা কৃষকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছি।’

    যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানো এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সেবার পরিধি বাড়াতে সরকার কাজ করছে।’

    এর অংশ হিসেবে প্রবাসীদের বিভিন্ন সেবা সহজলভ্য করতে এবং বিদেশে তাঁদের ভোগান্তি কমাতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য নয়, জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

    দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, দুর্বল পরিকল্পনা ও অবহেলার কারণে দেশের জ্বালানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানকে অবহেলা করে বিদেশি কোম্পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি করা হয়েছে।তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার এখন জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে আমদানি নির্ভরতা কমানো যায়।’

    মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকটের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ পরিস্থিতি আবারও প্রমাণ করেছে যে আমদানি নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। সরকারের বৃহত্তর লক্ষ্য হলো এমন একটি শক্তিশালী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।’

    শিক্ষা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, শিক্ষিত ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন জনগোষ্ঠীই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তবে আগের শাসনামলে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করা হয়েছিল। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।

    এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। বাজেট এ অধিবেশনে প্রথমে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং পরে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন।

  • তৃতীয় হয়েও নকআউটের টিকিট পেল যে ৮ দল

    তৃতীয় হয়েও নকআউটের টিকিট পেল যে ৮ দল

    প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। ফলে নকআউট পর্বও সম্প্রসারিত হয়েছে ৩২ দলে। নতুন ফরম্যাটের কারণে বদলে গেছে নকআউট পর্বে ওঠার হিসাব-নিকাশও। এবার শুধু প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দলই নয়; তৃতীয় অবস্থানে থেকেও ১২টি গ্রুপ থেকে ৮টি দল শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে।

    গ্রুপপর্ব শেষে তৃতীয় অবস্থানে থাকা দলগুলোর মধ্যে নকআউটের টিকিট পেয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, প্যারাগুয়ে, সুইডেন, ইকুয়েডর, ঘানা, সেনেগাল, আলজেরিয়া এবং ডিআর কঙ্গো।

    এর মধ্যে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, প্যারাগুয়ে, সুইডেন, ইকুয়েডর, ঘানা, আলজেরিয়া ও ডিআর কঙ্গো ৪ পয়েন্ট নিয়ে এবং সেনেগাল ৩ পয়েন্ট নিয়েও সেরা আটে জায়গা করে নিয়েছে।

    ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপে তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে পয়েন্টের ভিত্তিতে ৮টি দলকে নির্ধাবিচত করা হয়েছে। সমান পয়েন্ট হলে টাইব্রেকার হিসেবে গোল ব্যবধান বিবেচনা করা হয়েছে।

    এ কারণে তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও ভাগ্য সহায় হয়নি ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, স্কটল্যান্ড ও উরুগুয়ের। গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকার কারণে ৪টি দলকে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছে।

    তৃতীয় অবস্থানে থেকে নকআউট নিশ্চিত হলেও সেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন সব পরীক্ষা। শেষ বত্রিশে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার প্রতিপক্ষ স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র, প্যারাগুয়ের প্রতিপক্ষ জার্মানি, সুইডেন লড়াই করবে ফ্রান্সের বিপক্ষে, ইকুয়েডর মুখোমুখি হবে মেক্সিকোর, ঘানার প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া, সেনেগাল খেলবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে, আলজেরিয়ার সামনে সুইজারল্যান্ড আর ডিআর কঙ্গোর প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।

    আজ রাতেই স্বাগতিক কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে সিঙ্গেল-এলিমিনেশন ভিত্তিক নকআউট পর্বের খেলা। এই পর্বের ১৬ ম্যাচের বিজয়ীরাই রাউন্ড সিক্সটিনে জায়গা করে নেবে। আর হেরে যাওয়া দলগুলোর ধরতে হবে দেশে ফেরার ফ্লাইট।

  • গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সবার ওপরে মেসি

    গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সবার ওপরে মেসি

    বয়স যতই বাড়ুক, গোল করার ক্ষুধায় যে এতটুকুও ভাটা পড়েনি, তা আবারও প্রমাণ করলেন লিওনেল মেসি। চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা আর্জেন্টাইন অধিনায়ক সোমবার জর্ডানের বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই নিজের জাত চিনিয়েছেন। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে দৃষ্টিনন্দন এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করে টুর্নামেন্টে নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে করেছেন ৬।

    এই গোলের সুবাদে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এককভাবে শীর্ষে উঠে গেছেন ৩৯ বছর বয়সি এই মহাতারকা। কিলিয়ান এমবাপ্পে, এরলিং হালান্ড ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো সময়ের সেরা তরুণ ফরোয়ার্ডদের পেছনে ফেলে মাত্র তিন ম্যাচে ছয় গোল করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন মেসিই। গ্রুপ পর্বে তার এই দুর্দান্ত গোল-পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, বয়স কেবলই একটি সংখ্যা।

    বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম দুই ম্যাচেও দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন মেসি। জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে ৬০তম মিনিটে তিনি মাঠে নামেন, যখন আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও প্রতিপক্ষ চাপ সৃষ্টি করছিল। মাঠে নেমেই আক্রমণে গতি এনে শেষ পর্যন্ত ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত গোল করে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন তিনি।

    ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সাত গোল করে সিলভার বুট জিতেছিলেন মেসি। এবার গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই ছয় গোল করে তিনি গোল্ডেন বুট জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদারে পরিণত হয়েছেন। বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারলে ক্যারিয়ারে আরও একটি বিশ্বকাপ গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে তার।

    আগামী ৩ জুলাই রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। নকআউট পর্বেও যদি মেসি একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন, তাহলে গোল্ডেন বুট জয়ের পাশাপাশি শিরোপা ধরে রাখার আর্জেন্টিনার স্বপ্নও আরও শক্ত ভিত পাবে।

  • যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইরান ফিরছে মাথা উঁচু করে

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইরান ফিরছে মাথা উঁচু করে

    ‘যদি কোনো কিছুকে তুমি পুরোটা হৃদয় দিয়ে চাইতে পারো, তাহলে পুরো মহাবিশ্ব তোমাকে সেটা পাইয়ে দিতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়’ — পাউলো কোয়েলহোর আলকেমিস্টের এই উক্তি জগদ্বিখ্যাত বললেও কম হয়।

    তবে ব্রাজিলিয়ান এই কথাসাহিত্যিকের এই উক্তিটাকে আজ চাইলে ইরান প্রশ্নবিদ্ধ করলেও পারে। তারাও তো চেয়েছিল নকআউটের চৌকাঠ ছুঁতে, মনপ্রাণ দিয়েই চেয়েছিল; তাহলে কেন তাদের ক্ষেত্রে হলো তার ঠিক ১৮০ ডিগ্রি উল্টো বিষয়টা! গোটা মহাবিশ্ব ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলো বটে, কিন্তু এই ষড়যন্ত্র গেল তাদের বিপক্ষে।

    ইরান চাইলে প্রশ্ন করতেই পারে, ‘এভাবেও স্বপ্ন ভেঙে যায়?’ একবার হলে হতো, দুবারও মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু তাই বলে তিন বার? ইরানের সামনে হিসেবটা ছিল পরিষ্কার। শেষ ম্যাচে মিশরকে হারাতে পারলেই শেষ ৩২-এ পৌঁছে যেত পশ্চিম এশিয়ার এই দেশ। গড়া হয়ে যেত ইতিহাসও, কখনোই যে নকআউটে খেলা হয়নি তাদের!

    সোজা খালিলজাদেহর পায়ে ভর করে সে স্বপ্ন দেখতে শুরুও করেছিল তারা। যোগ করা সময়ে মিশরের জালে বল জড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তবে বাঁধ সাধল ভিএআর, আর এমন এক নিয়ম, যার দেখা মেলে কালেভদ্রে। সাধারণত মনে করা হয় পাস রিসিভ করার সময় একজন ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিতে পারলেই বুঝি অফসাইডকে ফাঁকি দেওয়া যায়। সে ধারণা যে ভুল, আসল নিয়মে যে অন্য কিছু বলা আছে, সেটা জানানোর জন্যই যেন এমন দৃশ্যের অবতারণা ঘটে।

    খালিলজাদেহ যখন বলটা পায়ে পেলেন, তখন তার সামনে গোলমুখে দাঁড়িয়ে মিশরের এক ডিফেন্ডার, তার অনেক পেছনে মিশরের গোলরক্ষক, আর ভগ্নাংশের ব্যবধানে পেছনে ফরোয়ার্ড হামজা আবদেলকারিম। সামনে এক ডিফেন্ডার দাঁড়িয়ে, তাহলে তো অফসাইডের কোনো ঝামেলা নেই, তাহলে আর কী, তার শট যখন আছড়ে পড়ল জালে, তখন উদযাপন শুরু হয়ে গেছে সিয়াটল থেকে তেহরান পর্যন্ত। হবেই তো, প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট নিশ্চিত বলে কথা।

    ঠিক তখন বাঁধ সাধল ভিএআর। অফসাইড! কারণ? অফসাইডের নিয়ম হচ্ছে, সামনে দুইজন ডিফেন্ডার থাকতে হয়, গোলকিপার সবসময় সামনে থাকেন বলেই সে সংখ্যাটা প্রায় সময় নেমে আসে ১-এ। ভুলটা সেখানেই হয়। ইরানও কি সে ফাঁদেই পা দিয়েছিল? সে যাই হোক, ভুলটা হয়েছে জায়গামতোই। যার ফল, ভাগ্যটা গেল ঝুলে। অনেকগুলো সুযোগ ছিল তাদের সামনে, তার কোনো একটার ফল পক্ষে এলেই কেল্লাফতে!

    তাই তাদের অপেক্ষা ছিল আজ সকালের। ক্রোয়েশিয়াকে হারতে হতো, ক্রোয়েশিয়া জিতল; জেতারই কথা ছিল অবশ্য। এরপর উজবেকিস্তান যখন ডিআর কঙ্গোকে চমকে দিয়ে প্রথম গোলটা করে বসল, তখন আশায় বুক বেধে বসেছিল ইরান। এরপর তিনটি গোল করে কঙ্গো চলে গেল শেষ ৩২-এ, ইরানের অপেক্ষাটা গিয়ে ঠেকল অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়া ম্যাচে, এই ম্যাচে কোনো এক দল হেরে গেলেই ৩ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম দল হিসেবে নকআউটে চলে যেত ইরান।

    তাদেরকে প্রথমে আশা দিলেন অস্ট্রিয়ার মার্কো আর্নাতোভিচ, তার গোলে অস্ট্রিয়ানরা এগিয়ে গিয়েছিল। এরপর আলজেরিয়াকে সমতায় ফেরালেন রাফিক বেলঘালি। ৫৫ মিনিটে মার্সেল সাবিতজার গোল করলেন, ইরান একটু আশা দেখল, সেটাও উবে গেল ৫ মিনিট পর রিয়াদ মাহরেজ গোল করলে।

    ডেডলকটা গিয়ে ভাঙল যোগ করা সময়েরও চতুর্থ মিনিটে। রিয়াদ মাহরেজ আবারও গোল করে এগিয়ে দিলেন আলজেরিয়াকে। যেখানে চতুর্থ অফিসিয়াল অতিরিক্ত সময় দিয়েছেনই মোটে ৫ মিনিট, সেখানে ৯৪ মিনিটের গোলের জবাব আসে কী করে! ইরান শিবির থেকে শুরু করে তেহরানে বোধ হয় উৎসবটা শুরু হয়েই গিয়েছিল চূড়ান্তভাবে।

    সেটাতেও বাধ সাধল ভাগ্য। ৯৬ মিনিটে সাশা কালাইজিচের গোলে সমতা ফেরাল অস্ট্রিয়া। আলজেরিয়ারও ক্ষতিবৃদ্ধি হয়নি, দুই দলই চলে গেছে শেষ ৩২-এ। মাঝে কপাল পুড়ল ইরানের, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ নকআউট ধরা দিতে দিতেও শেষমেশ গিয়ে ধরা দিল না।

    তবে ইরান চাইলে চোয়াল শক্ত করে নিজেদের অর্জনের দিকে তাকাতেই পারে। তিন ম্যাচ খেলেছে দলটি; নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম, আর মিশরের মতো দলের বিপক্ষে ম্যাচ হারেনি একটিও। এই ড্রকে আপনি জয়ের সমান করেই দেখবেন, যখন আপনার মনে পড়বে প্রেক্ষাপটটা।

    যুক্তরাষ্ট্র আর ইরানের যুদ্ধের জেরে ইরান ফুটবল দলও বেশ ঝক্কিতে পড়েছে। একগাদা অফিসিয়ালকে ভিসা দেওয়া হয়নি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা মিললেও থাকার অনুমতি পায়নি পুরো দল। তিনটি ম্যাচেই ইরান খেলেছে ভিন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে। ম্যাচের আগের দিন প্রত্যেক দলের জন্য স্টেডিয়ামে যাওয়ার অনুমতি থাকে। ইরান সেটাও পায়নি, পাবে কী করে, ম্যাচের আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ারই তো অনুমতি পায়নি তারা! দিনে দিনে গিয়ে খেলে দিনে দিনে ফিরতে হয়েছে মেক্সিকোতে। ম্যাচ শেষে রিকভারি খেলোয়াড়দের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজটা ইরানকে সারতে হয়েছে আরও এক বিমানযাত্রার ধকল সামলে এর পর!

    একে তো ‘শত্রু’র দেশে খেলার মানসিক চাপ, তার ওপর এমন বিমানযাত্রার শারীরিক চাপ… সব মিলিয়ে এতো প্রতিকূলতা ছিল সামনে। তা সামলে ইরান পারফর্ম করেছে। চলে গিয়েছিল নকআউটের হাতছোঁয়া দূরত্বেও। একে কি আপনি অর্জন বলবেন না?

    ইরানের এই যাত্রা তাই ব্যর্থ নয় কোনোভাবেই। কারণ তারা যে দেশে ফিরছে যুক্তরাষ্ট্রের মাটি থেকে অপরাজিত থেকে, সবচেয়ে বড় কথা, মাথা উঁচু করে!

  • ফিফার বিরুদ্ধে ক্ষোভ  ইরানি অধিনায়কের, কেউ আমাদের সাহায্য করছে না

    ফিফার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ইরানি অধিনায়কের, কেউ আমাদের সাহায্য করছে না

    ইরানের অধিনায়ক মেহদি তারেমি তার দেশের বিশ্বকাপ অভিযানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ফিফা এবং সংস্থাটির সভাপতি গিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কঠোর সমালোচনা করেছেন। গ্রুপ পর্বে টানা তৃতীয় ড্রয়ের পরও ইরানকে এখন শেষ ৩২-এ ওঠার জন্য অন্য ম্যাচগুলোর ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। ম্যাচ শেষে তারেমি বিশ্বকাপের ভ্রমণ ও লজিস্টিক ব্যবস্থাকে একটি বিপর্যয় বলে অভিহিত করেন। শুক্রবারের ম্যাচ শেষে তারেমি ও তার সতীর্থদের যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল থেকে উড়ে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। প্রথমে টুর্নামেন্ট চলাকালে দলটির বেস ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনাঅঙ্গরাজ্যের টুকসনে হওয়ার কথা থাকলেও, মে মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের কারণে তারা বেস ক্যাম্প মেক্সিকোতে সরিয়ে নেয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য আটলান্টিক।

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ সামরিক হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করে। এর জবাবে ইরান পাল্টা হামলা চালায়। ইরান দল এবং তাদের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ খেলতে যাওয়া ও সেখান থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে বারবার জটিলতার মুখে পড়েছেন। তারেমির অভিযোগ, পরিস্থিতির উন্নতির যে প্রতিশ্রুতি ইনফান্তিনো দিয়েছিলেন, তা তিনি বাস্তবায়ন করতে পারেননি।

    তারেমি সাংবাদিকদের বলেন, এটি একটি বিপর্যয়কর বিশ্বকাপ; পুরোপুরি একটি বিপর্যয়। ফিফার এখানে প্রতিটি সমস্যার সমাধান করা উচিত ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা শুরু থেকেই কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর মি. ইনফান্তিনো আমাদের ড্রেসিংরুমে এসে বলেছিলেন, ‘এটা তো কেবল শুরু…’।

    তারেমি আরও বলেন, আমাদের লজিস্টিক কর্মীরা এখানে নেই। তারা ভিসা পাননি। এটা কীভাবে সম্ভব যে আমাদের প্রতিবার তিহুয়ানা থেকে যাতায়াত করতে হচ্ছে? আমরা তিহুয়ানার মানুষকে ভালোবাসি। আমরা মেক্সিকোকে ভালোবাসি। তারা অত্যন্ত বিনয়ী মানুষ। কিন্তু একজন পেশাদার ফুটবলার হিসেবে, একটি পেশাদার প্রতিযোগিতায় এভাবে খেলাটা ঠিক নয়। তিনি বলেন, এটা ন্যায়সংগত নয়। আমাদের মতে, এটা মোটেও ন্যায়সংগত নয়। ফিফার কাছে যদি এটা ন্যায়সংগত মনে হয়, সেটা তাদের ব্যাপার। কিন্তু আমাদের কাছে নয়। আসলে আমাদেরকে কে সাহায্য করতে চায়? যদি তারা চায় আমরা টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিই, তাহলে ঠিক আছে, আমরা বিদায় নেব। কিন্তু এটা ন্যায়সংগত নয়। আমাদের পুনর্বাসন (রিকভারি) বিশেষজ্ঞ নেই, লজিস্টিক কর্মীও নেই, যারা আমাদের সাহায্য করবে। আমরা সব সময় এসব বিষয়ে অভিযোগ করি, কিন্তু কেউ আমাদের সাহায্য করে না, কেউই না।

    বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেক্সিকো সিটিতে দেয়া বক্তব্যে গিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, প্রয়োজন হলে তিনি ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে নিজেই বাস চালিয়ে দলটিকে বিশ্বকাপে নিয়ে আসতেন। মিশরের বিপক্ষে ড্র হওয়া ম্যাচের প্রথমার্ধে একটি পেনাল্টি মিস করা তারেমিকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তার কি মনে হয় ইরানকে এই টুর্নামেন্টে স্বাগত জানানো হয়নি? জবাবে তিনি বলেন, এখানে আমাদের সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মানুষ আসলে কী চায়, আমি জানি না। কিন্তু আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে মনে হয়, তারা সম্ভবত এটাই চায়। ৯০ মিনিট খেলার পর আবার তিহুয়ানায় ফিরে যেতে হবে, এটা কীভাবে সম্ভব?

    মিশরের বিপক্ষে শুক্রবারের ড্রয়ের ফলে ইরান গ্রুপ জি’তে তৃতীয় স্থানে শেষ করেছে। শেষ ৩২-এ ওঠার জন্য শনিবারের গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোর ফল তাদের অনুকূলে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল। যদি গ্রুপ জে’তে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া ড্র করে। গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো হারিয়েছে উজবেকিস্তানকে। ক্রোয়েশিয়া হারিয়েছে ঘানা’কে। ফলে ইরানকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে।

  • হাবিবুরসহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে রায় রোববার, সরাসরি দেখাবে বিটিভি

    হাবিবুরসহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে রায় রোববার, সরাসরি দেখাবে বিটিভি

    জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি করাসহ দুইজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পুলিশের পাঁচজনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা হবে আগামীকাল রোববার। রায়ের এ কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

    আজ শনিবার দুপুরে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি বলেন, ‘পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পঞ্চম রায় ঘোষণা হবে ২৮ জুন। পাঁচজনের বিরুদ্ধে এ রায় দেবেন ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ের পুরো কার্যক্রম বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ১৩ জন।’

    এ মামলায় অভিযুক্ত মোট পাঁচ আসামির মধ্যে শুধুমাত্র রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার গ্রেপ্তার রয়েছেন। বাকি চারজন হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

    এর আগে, গত ১৫ জুন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। ওই দিন প্রথমেই রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। এ ঘটনার সঙ্গে তার মক্কেলের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। তবে মামলার পাঁচ আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছিলেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৮ জুন দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

    গত ১০ জুন পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। জবানবন্দিতে এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে অভিযোগও আনেন তিনি। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি প্রথম ধাপে সাক্ষ্য দেন এই আসামি। এ মামলায় চঞ্চল ছাড়া অন্যরা পলাতক রয়েছেন।

    গত ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু নতুন করে ডিজিটাল অ্যাভিডেন্স জমা দেওয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন। এরপর প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া আমির হোসেনকে পুনরায় সাক্ষ্য দিতে হয়।

    গত বছরের ৭ অগাস্ট প্রসিকিউশন এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১।

  • ‘কোনো কিছুই অসম্ভব নয়’ – আর্জেন্টিনাকে পেয়ে বলল কেপ ভার্দে

    ‘কোনো কিছুই অসম্ভব নয়’ – আর্জেন্টিনাকে পেয়ে বলল কেপ ভার্দে

    বিশ্বকাপে অভিষেকেই ইতিহাস গড়ল কেপ ভার্দে। হিউস্টনে সৌদি আরবের সঙ্গে ০-০ ড্র করে গ্রুপ এইচ-এ দ্বিতীয় হয়ে রাউন্ড অব ৩২-এ উঠেছে তারা। এই অর্জনে তারা হয়েছে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠা সবচেয়ে ছোট দেশ এবং ২০১০ সালের পর প্রথমবার অভিষেকেই নকআউটে যাওয়া দল।

    স্পেন ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে একই গ্রুপে থেকেও তিনটি ড্র করে এই অসাধারণ কীর্তি গড়েছে কেপ ভার্দে।

    সংবাদ সম্মেলনে দেশের পতাকা গায়ে জড়িয়ে কথা বললেন কোচ বুবিস্তা। রেকর্ডের কথা জানার পর তিনি বললেন, ‘আমরা? আমি জানতামই না। তাহলে আমরা একটা উদাহরণ হয়ে গেলাম যে যদি মনোযোগ, দৃঢ়তা এবং সংগঠিত থাকে তাহলে ছোট দেশগুলোও বড় লক্ষ্য রাখতে পারে। আমরা দেখিয়েছি কিছুই অসম্ভব নয়। আমরা শুধু আমাদের দেশকে নয়, আফ্রিকাকে এবং সারা বিশ্বের ছোট দেশগুলোকে প্রতিনিধিত্ব করেছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি সবসময় বলেছি, দেরিতে হলেও কেপ ভার্দে একদিন এই মঞ্চে আসবে। কঠিন ছিল, কিন্তু আমরা একের পর এক ধাপ পেরিয়েছি। বিশ্বকে দেখিয়েছি, কঠিনকে ভয় পেতে নেই। এখন আমরা নকআউটে, এটা আমাদের মানুষের জন্য, আমাদের দলের সঙ্গে পরিচয় রাখা সবার জন্য এবং বিশেষ করে খেলোয়াড়দের জন্য অসাধারণ একটা মুহূর্ত।’

    এরপর শুক্রবার মিয়ামিতে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে কেপ ভার্দে। মেসির দল নিয়ে বুবিস্তা বললেন, ‘আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে পেরে আমরা গর্বিত। এই দেশের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘ সম্পর্ক আছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা, প্রতিপক্ষ যেই হোক আমরা আমাদের নিজেদের পরিচয়েই খেলব। আমরা জানি আর্জেন্টিনায় বিশ্বের সেরা কিছু খেলোয়াড় আছেন, আর আছেন মেসি, যাকে অনেকে সর্বকালের সেরা মনে করেন।’

    ম্যাচের সময় ড্রেসিং রুম থেকে কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের উৎসব করার শব্দ ভেসে আসছিল। সংবাদ সম্মেলন কক্ষ থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে চলছিল সেই আনন্দ।

  • শেষ ম্যাচে জিতলেই বিপাকে পড়বে এই ২ দল

    শেষ ম্যাচে জিতলেই বিপাকে পড়বে এই ২ দল

    শনিবার গ্রুপ জে-র শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া। দুই দলই তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে। ড্র করলেও দুটি দলেরই নকআউটে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত। তবু দুই কোচই বলছেন, জয়ের জন্যই মাঠে নামবেন তারা।

    ম্যাচ শুরুর আগেই দুই দল জেনে যাবে নকআউটের বাকি ব্র্যাকেট কেমন। গ্রুপ জে-তে দ্বিতীয় হলে মুখোমুখি হতে হবে গ্রুপ এইচ-এর শীর্ষ দলের, যেটি হতে পারে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। আর তৃতীয় হলে সামনে পড়বে গ্রুপ বি-র শীর্ষ দল সুইজারল্যান্ড, যাকে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ বলা যায়। সুইজারল্যান্ডের চেয়ে স্পেন নিশ্চয়ই ধারে-ভারে কঠিন দল, সে কারণে ম্যাচটা জিতলেই বুঝি বেশি কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে দলকে। তাই অনেকেই ভাবছিলেন, দুই দল হয়তো ইচ্ছে করে ড্র খুঁজবে।

    কিন্তু অস্ট্রিয়া কোচ রাল্ফ রাংনিক তা সরাসরি নাকচ করলেন। তিনি বললেন, ‘না, একদমই না। ম্যাচ শুরুর পর আমরা পরিস্থিতি বুঝব, কিন্তু সেটা আমাদের খেলাকে প্রভাবিত করবে না। ড্র করলে হয়তো এগিয়ে যাওয়া যাবে, কিন্তু ড্রয়ের জন্য মাঠে নামা যায় না।’

    আলজেরিয়া কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচও একই সুরে বললেন, ‘ফুটবলে কোনো যদি বা কিন্তু নেই। আমাদের সবসময় প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হয় একই মনোভাব নিয়ে, পারফর্ম করার ইচ্ছা আর জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। ম্যাচের পর কী হবে দেখা যাবে, কিন্তু আগে জেতার চেষ্টা করতে হবে।’

    এই ম্যাচটি নিয়ে ১৯৮২ সালের স্মৃতিও উঠে আসছে বারবার। সেবার স্পেনের গিহনে পশ্চিম জার্মানি ও অস্ট্রিয়া এমনভাবে খেলেছিল যে আলজেরিয়া বাদ পড়ে গিয়েছিল। প্রথম গোলের পর দুই দলই যেন চেষ্টা ছেড়ে দিয়েছিল। ইতিহাসে এটি ‘গিহনের কলঙ্ক’ নামে পরিচিত। সেই ঘটনার পরই ফিফা গ্রুপের শেষ দুই ম্যাচ একই সময়ে আয়োজনের নিয়ম চালু করে।

    সেই প্রসঙ্গে রানগনিক বলেন, ‘আমার খেলোয়াড়রা হয়তো গত কয়েক দিনে খবরের কাগজে এটা পড়েছে। কিন্তু আমি মনে করি না এটা আগামীকালের ম্যাচে কোনো প্রভাব ফেলবে।’

    অস্ট্রিয়া মিডফিল্ডার কনরাড লাইমার বলেন, ‘আমরা মাঠে নামব জেতার জন্য। প্রতিপক্ষ কে সেটা কোনো ব্যাপার না।’

    দুই দলই আগে আর্জেন্টিনার কাছে হেরেছে এবং জর্ডানকে হারিয়েছে। জর্ডান ইতোমধ্যে বাদ পড়ে গেছে।