আর্ন্তজাতিক

  • সুখবর পেল আর্জেন্টিনা

    সুখবর পেল আর্জেন্টিনা

    বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব শুরুর আগে স্বস্তির খবর পেয়েছে আর্জেন্টিনা। চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন দলের নির্ভরযোগ্য সেন্টারব্যাক ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। সবকিছু ঠিক থাকলে কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচেই তাঁকে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে।

    আগামী ৪ জুলাই ভোরে মায়ামি স্টেডিয়ামে কেপ ভার্দের বিপক্ষে খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, তার আগে দলীয় অনুশীলনে অংশ নেন রোমেরো। সব ধরনের শারীরিক পরীক্ষায় পাস করেছেন তিনি। তবে এই ডিফেন্ডারকে নিয়ে শেষ অনুশীলনের আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি লিওনেল স্কালোনি। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, কেপ ভার্দের বিপক্ষে নিকোলাস ওতামেন্দির পরিবর্তে রোমেরোকে শুরুর একাদশে ফেরাতে চান স্কালোনি।

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে ডান হাঁটুতে চোট পান রোমেরো। সতর্কতার অংশ হিসেবে জর্ডানের বিপক্ষে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টটেনহাম হটস্পারের হয়ে খেলার সময় একই হাঁটুর ল্যাটারাল লিগামেন্টে মচকানোর চোটেও ভুগেছিলেন তিনি।

    রোমেরোর ফেরা নিশ্চিত হলেও আক্রমণভাগ নিয়ে এখনো ভাবতে হচ্ছে স্কালোনিকে। লিওনেল মেসির সঙ্গী হিসেবে কে খেলবেন, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন আর্জেন্টিনার কোচের জন্য। লাউতারো মার্তিনেস কিছুটা এগিয়ে থাকলেও হুলিয়ান আলভারেসও সমানভাবে কোচের বিবেচনায় আছেন। কোচিং স্টাফ এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

    বাম প্রান্তের রক্ষণেও থাকতে পারে চমক। নিকোলাস তালিয়াফিকো কাফের চোট কাটিয়ে জর্ডানের বিপক্ষে খেলেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ের ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের কারণে শুরুর একাদশে জায়গা পেতে পারেন ফাকুন্দো মেদিনা, দাবি টিওয়াইসি স্পোর্টসের।

    অন্যদিকে মাঝমাঠ নিয়ে স্কালোনির ভাবনা অনেকটাই পরিষ্কার। রদ্রিগো দে পল, আলেক্সিস মাক আলিস্তার, এনসো ফার্নান্দেস ও থিয়াগো আলমাদাকে নিয়েই মাঝমাঠ সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে এই কোচের।

  • বিশ্ব ফুটবলমঞ্চে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের গল্প

    বিশ্ব ফুটবলমঞ্চে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের গল্প

    বিশ্ব ফুটবল মঞ্চে একটি খেলাকে ঘিরে এতো আলোচনা আর কখনও হয়েছে—এমনটা জানা নেই। এটা এমনই এক লড়াই যা ডেভিড বনাম গোলিয়াথ বা রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। একদিকে তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, ফুটবলের অবিসংবাদিত পরাশক্তি আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে আটলান্টিক মহাসাগরের ছোট্ট দীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। যারা এই প্রথমবার বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে পা রেখে ইতিহাস গড়েছে। ফুটবল পণ্ডিতরা বলছেন, এটি শুধু ফুটবল ম্যাচ নয়। এটি হলো অভিজ্ঞতা আর এক নতুন স্বপ্নের রোমাঞ্চকর লড়াই। অভিজ্ঞতার দিক থেকে এটি আকাশ-পাতাল তফাৎ। দুই দলের অভিজ্ঞতা যোগ করলে মনে হবে—একপাশে রয়েছে হিমালয় পর্বত, আর অন্যপাশে ছোট মাটির ঢিবি। আর্জেন্টিনার এটা ১৮তম বিশ্বকাপ। মোট তিনবার তারা বিশ্বসেরার মুকুট মাথায় পরেছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে একশটিরও বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা তাদের। অনেকেই কেপ ভার্দেকে পুঁচকে বলে বর্ণনা করছেন। তারাই এখন বলছেন, এই লড়াই হতে যাচ্ছে মহাশক্তি বনাম এক রূপকথার। মায়ামি স্টেডিয়ামে কী হবে তা নিয়েই যত হিসেব-নিকেশ। পাঁচ লাখ ৩০ হাজার জনসংখ্যার এই দ্বীপ রাষ্ট্র কেপ ভার্দের জন্য এটিই প্রথম বিশ্বকাপ। এর আগে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে তারা কয়েকবার চমক দেখিয়েছে বটে। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো মেগা টুর্নামেন্টের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা তাদের একেবারেই নেই। পরিসংখ্যানের এই বিশাল ব্যবধান আর্জেন্টিনাকে অনেক এগিয়ে রেখেছে। তাই মাঠের লড়াইয়ে নামার আগেই মানসিক দিক থেকে তারা বেশ চাঙ্গা। আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দের এই লড়াইয়ের পেছনে রয়েছে এক অদ্ভুত ভৌগোলিক ও ফুটবলীয় ইতিহাস।

    আর্জেন্টিনা ফুটবলকে ধর্ম মনে করে। ম্যারাডোনা ও মেসির মতো কিংবদন্তির জন্ম দিয়েছে। কেপ ভার্দের ফুটবল মূলত পর্তুগালের ঔপনিবেশিক ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত। একসময় কেপ ভার্দের সেরা ফুটবলাররা পর্তুগালের হয়ে খেলতেন। পর্তুগালের কিংবদন্তি ফুটবলার নানির (Nani) জন্ম এই কেপ ভার্দেতেই। তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একজন সেরা ফরওয়ার্ড ছিলেন। গত এক দশকে নিজেদের ফুটবলকে নতুন করে সাজিয়েছে দ্বীপ রাষ্ট্রটি। প্রবাসে থাকা প্রতিভাদের একত্র করেছে। কেটেছে বিশ্বকাপের টিকিট। আর্জেন্টিনার আভিজাত্যের বিপরীতে কেপ ভার্দের এই উঠে আসার গল্প ফুটবল ভক্তদের চোখে পানি এনে দেয়। কেপ ভার্দে- আর্জেন্টিনার সঙ্গে কোনো হিসেবেই মিল নেই। আর্জেন্টাইন শিবিরের মোট বাজার মূল্য বিলিয়ন ডলারের ওপরে। অন্যদিকে কেপ ভার্দের পুরো দলের মূল্য যে কোনো একজন বেঞ্চের খেলোয়াড়ের মূল্যের চেয়েও কম। আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে রয়েছেন বিশ্বসেরা তারকারা। যারা ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেন। সেখানে কেপ ভার্দের ভরসা তাদের অধিনায়ক রেকর্ড গোলদাতা রায়ান মেন্দেসের মতো সৈনিক। এছাড়া ইউরোপের মাঝারি সারির ক্লাবে খেলা কিছু লড়াকু ফুটবলার।

    গোলরক্ষক ভোজিনিয়া বাড়তি শক্তি কেপ ভার্দের। ভোজিনিয়াকে চীনের গ্রেটওয়ালের সঙ্গে তুলনা করা হয়। চল্লিশ বছর বয়সি এই গোলরক্ষক মেসিদের গোলার মতো শটগুলো কীভাবে রুখে দেন, তাই দেখার বিষয়। তাদের অবশ্য হারাবার কিছু নেই। জয়ের আকাঙ্ক্ষা আছে। রয়েছে লড়াইয়ের প্রস্তুতি। আমরা সবাই জানি, ফুটবলের নিষ্ঠুর সত্য হচ্ছে—আবেগ দিয়ে জয় পাওয়া যায় না। আর্জেন্টিনার মতো দলের রক্ষণভাগ তছনছ করা প্রায় অসম্ভব। আর সেখানে যদি মেসির পায়ে বল থাকে—তাহলে তো কথাই নেই। আর্জেন্টিনা এই ম্যাচে পরিষ্কার হট ফেভারিট। কেপ ভার্দেকে নিয়ে আবার অনেকেই আত্মবিশ্বাসী। মঙ্গলবার ডালাস এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সে ভিয়েতনামী সাংবাদিক ত্রুং-এর সঙ্গে কথা হয়। যিনি ছয়টি বিশ্বকাপ কাভার করেছেন। তার মতে, কেপ ভার্দে যদি প্রথম ২০ মিনিট গোল না খেয়ে টিকে থাকতে পারে, তাতেই একটি মহাকাব্যিক লড়াইয়ের সাক্ষী হবে বিশ্ব ফুটবল। এতে কোনো সন্দেহ নেই।

  • নরওয়েকে হারালে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কারা

    নরওয়েকে হারালে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কারা

    সহজ ছিল না পথটা, তবে বেশ লড়াই করেই ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন শহরের এনআরজি স্টেডিয়ামে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে সেলেসাওরা।

    দলের জয়ে গোল করে ত্রাণকর্তা হন ক্যাসেমিরো ও মার্তিনেল্লি। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে এবার তাদের মুখোমুখি হতে হবে ‘ডার্ক হর্স’ নরওয়ের।অন্যদিকে, শেষ ষোলোর লড়াইয়ে টুর্নামেন্টের অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড।

    বুধবার (১ জুলাই) আটলান্টা স্টেডিয়ামে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ইংলিশরা। দলের জয়ে জোড়া গোল করে ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন অধিনায়ক হ্যারি কেইন।

    এই জয়ের মাধ্যমে শুধু পরের রাউন্ডেই পা রাখেনি ইংল্যান্ড, বরং ঘুচেছে দীর্ঘদিনের এক অস্বস্তিকর রেকর্ডও। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতল ইংল্যান্ড। ১৯৯০ সালের সেই আসরে ক্যামেরুনকে অতিরিক্ত সময়ের ম্যাচে হারিয়েছিল তারা।

    আর মঙ্গলবার (৩০ জুন) মেক্সিকো ২-০ ব্যবধানে ইকুয়েডরকে বিদায় করে নিজেদের রাউন্ড অব ১৬ নিশ্চিত করেছে।

    আগামী রোববার (৫ জুলাই) রাউন্ড অব ১৬-র খেলায় নরওয়ের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এই ম্যাচে নরওয়েকে হারাতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড বনাম মেক্সিকো ম্যাচের জয়ী দলের।

  • বিরোধ তুঙ্গে, সৌদি থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    বিরোধ তুঙ্গে, সৌদি থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে। ওয়াশিংটনের যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তে রিয়াদ ক্ষুব্ধ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরব থেকে মার্কিন সেনা কমিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যের একটি গোয়েন্দা সূত্র টাইমস অব ইসরাইলকে জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আগের তুলনায় অনেক বেশি শীতল হয়ে পড়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে একই ধরনের তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলো নিরাপদে বের করে এনে ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছিল। এ অভিযানে সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের প্রয়োজন ছিল। তবে সৌদি সরকার এতে অনুমতি না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পনাটি বাতিল করতে বাধ্য হয়।

    সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় দুই দিনেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সৌদি আরবের এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে হোয়াইট হাউস রিয়াদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ স্থগিত রাখার হুমকি দেয়। সৌদি আরব এসব ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করছিল।

    মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এখন সৌদি আরবে তাদের সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

    গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপসাগরীয় অঞ্চল সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইন গেলেও সৌদি আরব সফর করেননি। রিয়াদ এটিকে কূটনৈতিক অবজ্ঞা হিসেবে দেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    এর এক সপ্তাহ আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন। ওই সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় ওয়াশিংটনের ভূমিকার প্রতি সৌদি অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    প্রতিবেদন বলছে, যুদ্ধ শুরুর আগে সৌদি আরব ট্রাম্প প্রশাসনকে সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিল। রিয়াদের আশঙ্কা ছিল, ইরানের সরকার উৎখাতের চেষ্টা সফল না হলে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।

    তবে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ শুরু করলে সৌদি নেতৃত্বের মধ্যে এ ধারণা তৈরি হয় যে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার পরও মার্কিন নীতিনির্ধারণে তাদের প্রভাব খুবই সীমিত।

    যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমে অনীহা থাকলেও সৌদি আরবসহ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়। কারণ, ইরানের পাল্টা হামলার বড় চাপ তাদেরই মোকাবিলা করতে হচ্ছিল।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবও ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে কয়েকটি হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর যুদ্ধের উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয় রিয়াদ।

    বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ধারাবাহিক হামলা নিয়ে সৌদি আরব উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের আশঙ্কা ছিল, এতে আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে। রিয়াদ চেয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র যেন আমিরাতকে হামলা বন্ধ করে কূটনৈতিক উদ্যোগে যোগ দিতে চাপ দেয়।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত এক বছরে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে, ইরান ইস্যু তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গত এপ্রিলে আমিরাত সৌদি নেতৃত্বাধীন ওপেক জোট থেকে সরে যায়।

    যুদ্ধ চলার সময় সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দর অবরোধ তুলে নেওয়ারও অনুরোধ জানায়। তবে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতে রাজি হননি।

    পরে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য একটি সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। যদিও সাম্প্রতিক গোলাগুলির ঘটনায় ওই সমঝোতা নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সহযোগীদের বলেছেন, এই সময়সীমা প্রয়োজনে পরিবর্তন করা যেতে পারে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সমঝোতা আলোচনায় ইসরাইলের কোনো ভূমিকা ছিল না। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এ থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। তবে সমঝোতার শর্তে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্রদের জন্য যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ রয়েছে।

    এদিকে ইসরাইলের কর্মকর্তারা এই সমঝোতার বিরোধিতা করছেন। তাদের মতে, এতে যুদ্ধের মূল লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা এবং দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি- কোনোটিই অর্জিত হয়নি।

  • রোনালদো না মদ্রিচ, শেষ হাসি  কার

    রোনালদো না মদ্রিচ, শেষ হাসি কার

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ব্লকবাস্টার ম্যাচে পরস্পরের মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া। বাংলাদেশ সময় আগামীকাল শুক্রবার ভোর ৫টায় টরন্টো স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে। বিশ্বমঞ্চে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কিংবা লুকা মদ্রিচের জন্য শেষ ম্যাচ এটি। শুধু দুই কিংবদন্তির একজনের ‘শেষ নৃত্য’ বলে নয়, পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার জন্য বিশ্বকাপে টিকে থাকারও মহারণ। সব দিক বিবেচনায় নকআউট পর্বের এ ম্যাচটি উত্তাপ-উত্তেজনায় বারুদ ছড়াবে বলেই আশা। পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া দুদলের জন্যই ম্যাচটি হবে বাড়তি স্নায়ুচাপের, আর প্রত্যাশা থাকবে আকাশচুম্বী। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না। শেষ মিনিট পর্যন্ত সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করবে দুদল। এমন হাইভোল্টেজ ম্যাচে রোনালদোর পর্তুগাল, নাকি মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়া জয়ের হাসি হাসবেÑসেটি দেখার অপেক্ষা।
    শেষ ষোলোতে ওঠার ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বেশি প্রত্যাশার চাপ থাকবে পর্তুগালের। বিশ্বকাপে শিরোপা লক্ষ্য নিয়ে খেলছে তারা। যদিও গ্রুপ পর্বে পর্তুগাল পর্তুগালের মতো খেলেনি। কঙ্গোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু তাদের। অবশ্য পরের ম্যাচে নবীন দল উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বড় জয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। তবে শেষ বত্রিশের লড়াইয়ের আগে কলম্বিয়ার বিপক্ষে অনুজ্জ্বল ছিল পর্তুগাল। দলের মতোই শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামা মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও ছিলেন ‘সুপার ফ্লপ’। বলা হচ্ছে, গত দুই দশকের মধ্যে সেরা দল নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে পর্তুগাল। রোনালদোকে ঘিরে আক্রমণভাগ এবং মিডফিল্ডই তাদের শক্তির জায়গা। কিন্তু পর্তুগালের সেরা পারফরম্যান্সটা এখনো দেখা যায়নি। ফিনিশিং দুর্বলতায় গোল না পাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে ম্যাচে। অধারাবাহিক আর ছন্দহীন দলটিকে ক্রোয়েশিয়ার সামনে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হতে পারে। তবে মিডফিল্ড ও উইংয়ের গতি কাজে লাগিয়ে নিখুঁত আক্রমণ করতে পারে পর্তুগাল, তাহলে ক্রোয়েশিয়ার জন্য তাদের আটকানো সহজ হবে না। বিশেষ করে রোনালদো সবচেয়ে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারেন। স্বরূপে ফিরলে মুহূর্তেই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন রোনালদো। তার দিকেই তাকিয়ে থাকবে পর্তুগাল।অপরদিকে ২০১৮ বিশ্বকাপে রানার্সআপ হয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। তবে আগের সোনালি প্রজন্মের দল নেই তাদের। ইংল্যান্ডের কাছে হার দিয়ে বিশ্বকাপযাত্রা শুরু হয় ক্রোয়েশিয়ার। তবে পানামা ও ঘানার বিপক্ষে দুটি জয়ে নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে তারা। পর্তুগালের বিপক্ষে এই ছন্দ ধরে রাখতে চাইবে দলটি। টুর্নামেন্টে থাকার জন্য সর্বশক্তি দিয়েই লড়াইয়ে নামবে ক্রোয়েশিয়া। গ্রুপ পর্বে পরপর দুই ম্যাচ জিতে নকআউটে ওঠার পর ক্রোয়েশিয়ার কোচ দালিচ বলেছেন, ‘কৌশলগত দিক দিয়ে ক্রোয়েশিয়া দুর্দান্ত খেলেছে এবং মাঠে নিজেদের সংগঠিত রাখতে পেরেছে। আমার মনে হয়, আমরা ঠিক আট বছর আগের সেই জায়গায় ফিরে এসেছি। তবে এটা কেবল প্রথম লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি পদক্ষেপ, আর তা হলো নকআউট পর্বে ওঠা।’ দালিচের কথাতেই বোঝা যাচ্ছে কতটা আত্মবিশ্বাসী ক্রোয়েশিয়া। এবার পর্তুগালের বিপক্ষে নকআউটেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখানোর প্রত্যাশায় তারা। এ পর্যন্ত পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া পরস্পরের বিপক্ষে মোট ১০টি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে সাতটি জিতেছে পর্তুগাল। আর একটিতে জয় ক্রোয়েশিয়ার; বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

  • বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ঘণ্টা বাজার পরেই শুনলেন বাবাও বেঁচে নেই

    বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ঘণ্টা বাজার পরেই শুনলেন বাবাও বেঁচে নেই

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের হতাশা কাটিয়ে ওঠার আগেই আরও বড় দুঃসংবাদের মুখোমুখি হলেন ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় হারের পর সংবাদ সম্মেলনের মাঝপথেই তিনি জানতে পারেন, তার বাবা আর বেঁচে নেই।

    বুধবার (১ জুলাই) রাতে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত শেষ ৩২-এর ম্যাচে দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হ্যারি কেনের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ডিআর কঙ্গো। ম্যাচ শেষে স্বাভাবিকভাবেই সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন ফরাসি কোচ দেসাব্রে। দলীয় পারফরম্যান্স, ম্যাচের বিশ্লেষণ ও বিশ্বকাপ যাত্রা নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন। কিন্তু আলোচনার এক পর্যায়ে হঠাৎ করেই সংবাদ সম্মেলন কক্ষের পরিবেশ বদলে যায়। দলের এক মিডিয়া অফিসার ফরাসি ভাষায় উপস্থিত সবাইকে জানান, কোচের বাবা মারা গেছেন। খবরটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই স্তব্ধ হয়ে যান দেসাব্রে। কয়েক মুহূর্তের জন্য তিনি নীরব হয়ে থাকেন, যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যা শুনেছেন। এরপর ধীরস্বরে ‘মার্সি’ বলে চেয়ার ছেড়ে উঠে যান তিনি। মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় সংবাদ সম্মেলন। ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়ায় দ্রুতই তা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমীরা কোচের প্রতি সমবেদনা জানান। অনেকেই এই কঠিন সময়ে তার পাশে থাকার বার্তা দেন।

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে কঙ্গো শুরু থেকেই দারুণ লড়াই করে। মাত্র সাত মিনিটে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি। দীর্ঘ সময় তারা সেই লিড ধরে রাখলেও শেষ দিকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন। ৭৫ মিনিটের পরপরই সমতা ফেরান তিনি এবং ৮৬ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে দলকে জয় এনে দেন। ফলে প্রথমবার নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় ডিআর কঙ্গোর।

    তবে ফলের হতাশার মধ্যেও নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন দেসাব্রে। তিনি বলেন, তার দল বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে সাহসী ফুটবল খেলেছে এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছে। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কঙ্গোর ফুটবলকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    বিশ্বকাপে এই প্রথম নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া কঙ্গো ইতিহাস গড়লেও শেষ পর্যন্ত আবেগঘন এক অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে তাদের যাত্রা শেষ হলো। একই সঙ্গে ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন ব্যক্তিগত মুহূর্তও বয়ে আনল কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রের জন্য।

  • বসনিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্র

    বসনিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্র

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখল যুক্তরাষ্ট্র। একদিকে ফোলারিন বালোগানের গোল, অন্যদিকে তার লাল কার্ড, নাটকীয়তায় ভরা লড়াইয়ে ১০ জন নিয়েও দারুণ লড়াই করে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে হারিয়েছে মার্কিনরা।

    সানফ্রানসিসকোর বে অ্যারিয়া স্টেডিয়ামে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মরিসিও পচেত্তিনোর দল। নিজেদের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় তুলে নিয়েছে দলটি। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী সোমবার সিয়াটলে তাদের প্রতিপক্ষ হবে বেলজিয়াম।

    ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ও প্রাণবন্ত ফুটবল খেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিপক্ষ বসনিয়া পুরো ম্যাচেই ছিল অনেকটাই রক্ষণাত্মক, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রেখেছিল মার্কিনরা।

    গ্যালারিভর্তি সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মাঝেই ম্যাচের ৪৫তম মিনিটে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। বসনিয়ার গোলকিক মাঝমাঠে পাস দেন অধিনায়ক টিম রিম। সেখান থেকে মালিক টিলম্যানের বাড়ানো বল প্রতিপক্ষের পায়ে লেগে পৌঁছে যায় ফোলারিন বালোগানের সামনে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।

    এর আগে অবশ্য কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেও গোল পায়নি যুক্তরাষ্ট্র। বালোগানের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়, আর পেনাল্টির দাবিও নাকচ করে দেন রেফারি।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বসনিয়া আক্রমণের গতি বাড়ালেও ৬৪তম মিনিটে নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচ। তারিক মুহারেমোভিচের পায়ের ওপর স্টাড লাগানোর ঘটনায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয় বালোগানকে। ফলে শেষ প্রায় আধা ঘণ্টা ১০ জন নিয়েই খেলতে হয় যুক্তরাষ্ট্রকে।

    একজন কম নিয়ে খেললেও দমে যায়নি স্বাগতিকরা। বরং ৮২তম মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি নিজেদের দিকে টেনে নেয় তারা। বক্সের ঠিক বাইরে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে দারুণ বাঁকানো শটে গোল করেন মালিক টিলম্যান। বসনিয়ার গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিল বল ছুঁয়েও রুখতে পারেননি।শেষ দিকে বসনিয়া মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালালেও যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণ ছিল দৃঢ়। যোগ করা সময়েও কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও কোনোটি কাজে লাগাতে পারেনি তারা।

  • পেলেকে পেছনে ফেলে নতুন মাইলফলকে কেইন

    পেলেকে পেছনে ফেলে নতুন মাইলফলকে কেইন

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের মঞ্চে আরও এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের জন্ম দিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে জোড়া গোল করে ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের ১২ গোলের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতাদের কাতারে উঠে গেলেন তিনি।

    ম্যাচের আগে কেইনের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা ছিল ১১। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে প্রথমে ৭৫ মিনিটে সমতাসূচক গোল করে তিনি পেলের ১২ গোল স্পর্শ করেন। এরপর ৮৬ মিনিটে দুর্দান্ত এক শটে জয়সূচক গোল করে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা দাঁড় করান ১৩-তে। এর মধ্য দিয়ে তিনি পেছনে ফেলেন পেলে (১২) এবং স্পর্শ করেন ফ্রান্সের কিংবদন্তি জাস্ট ফঁতেনের ১৩ গোলের কীর্তি।বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় এখন কেইনের অবস্থান আরও উঁচুতে। শীর্ষে রয়েছেন লিওনেল মেসি (১৯), এরপর কিলিয়ান এমবাপ্পে (১৮), মিরোস্লাভ ক্লোসে (১৬), রোনালদো নাজারিও (১৫), গার্ড মুলার (১৪)। ১৩ গোল নিয়ে এখন জাস্ট ফঁতেনের সঙ্গে যৌথভাবে অবস্থান করছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।

    ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে এই জোড়া গোল শুধু ব্যক্তিগত রেকর্ডই এনে দেয়নি, বরং ইংল্যান্ডকে নিশ্চিত পরাজয়ের মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছে। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা থ্রি লায়ন্স দ্বিতীয়ার্ধে কেইনের নেতৃত্বে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে।চলতি বিশ্বকাপেও দারুণ ছন্দে রয়েছেন ৩২ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। এখন পর্যন্ত পাঁচ গোল করে তিনি গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের ঠিক পেছনেই অবস্থান করছেন। ইংল্যান্ডের যাত্রা যত দীর্ঘ হবে, বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় আরও ওপরে ওঠার সুযোগও তত বাড়বে কেইনের সামনে।

  • শুভেন্দু ও মানিক সাহাকে আম উপহার বাংলাদেশের   

    শুভেন্দু ও মানিক সাহাকে আম উপহার বাংলাদেশের   

    শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার কাছে আম পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। দুই মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য দুটির স্বনামধন্য ব্যক্তি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য পাঠানো হয়েছে ১১০০ কেজি আম।

    মঙ্গলবার বিকেলে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আমগুলো ভারতের কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ উপদূতাবাস ও আগরতলায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী দূতাবাসের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আম্রপালি ও হাঁড়িভাঙ্গা আম পাঠানো হয়। সবমিলিয়ে কলকাতা উপদূতাবাসে ১০০টি কার্টনে পাঁচ কেজি করে ৫০০ কেজি এবং ত্রিপুরার সহকারী দূতাবাসে ১২০টি কার্টনে পাঁচ কেজি করে ৬০০ কেজি আম পাঠানো হয়েছে।

    বেনাপোল বন্দরের মাধ্যমে পাঠানো আম কলকাতায় অবস্থিত উপদূতাবাসের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। বেনাপোল বন্দর দিয়ে আম পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কোয়ারেন্টাইন বিভাগের উপ-পরিচালক আবু তালহা।

    অন্যদিকে, ত্রিপুরার জন্য পাঠানো আম আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের আগরতলায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    আমগুলোর মধ্যে শুভেন্দু অধিকারী ও মানিক সাহা দুই মুখ্যমন্ত্রীর জন্য পাঠানো হয়েছে ১০০ কেজি করে আম। বাকি আম রাজ্য দুটির স্বনামধন্য ব্যক্তি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে বণ্টন করা হবে।

  • আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে ধর্ষণের অভিযোগ কেপভার্দে অধিনায়কের বিরুদ্ধে

    আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে ধর্ষণের অভিযোগ কেপভার্দে অধিনায়কের বিরুদ্ধে

    বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের আগে বড় সমস্যায় কেপ ভার্দে। দলটির অধিনায়কের বিরুদ্ধেই উঠেছে ধর্ষণের অভিযোগ। ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রমাণিত হলে কড়া শাস্তি হতে পারে।

    ব্রাজিলের সংবামাধ্যম ‘গ্লোবো’ এই খবর জানিয়েছে। চলতি বছর মার্চে নিউজিল্যান্ডে ফিফা সিরিজ চলাকালীন কেপ ভার্দে দলের সঙ্গে যুক্ত এক তরুণী রায়ানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগ করেছেন। তিনি কেপ ভার্দে দলে দোভাষীর কাজ করছিলেন।

    ওই তরুণীর অভিযোগ- হোটেলে তার ঘরে জোর করে ঢুকে তাকে ধর্ষণ ও মারধর করেছেন রায়ান। এই ঘটনার পর তিনি কেপ ভার্দে দলের তিন কর্তাকে বিষয়টি জানান। কিন্তু কেউ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। তারপর পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন তিনি।

    ‘গ্লোবো’ জানিয়েছে, তরুণীর শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে। তার যৌনাঙ্গ, গলা ও মুখে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে রায়ানের বিরুদ্ধে কী কী ধারায় অভিযোগ হয়েছে তা জানা যায়নি।

    ‘ইউএসএ টুডে’ জানিয়েছে, এই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নিউজিল্যান্ডের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ফিফা। তবে এর বাইরে এখনই কিছু বলতে চায়নি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণক সংস্থা।

    এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক কেপ ভার্দে। গ্রুপ পর্বে স্পেন, উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলকে আটকে দিয়েছে তারা। তিনটি ম্যাচ ড্র করে রাউন্ড অফ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে কেপ ভার্দে। নকআউটে কেপ ভার্দের সামনে বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কঠিন লড়াইয়ের আগে বিপাকে কেপ ভার্দে।