আর্ন্তজাতিক

  • ‘মেসি আবারও পেনাল্টি নেবে’, বললেন ইংলিশ গোলরক্ষক

    ‘মেসি আবারও পেনাল্টি নেবে’, বললেন ইংলিশ গোলরক্ষক

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ মানেই ফুটবল মাঠের বাইরেও বাড়তি উত্তেজনা। ইতিহাস, রাজনীতি ও দীর্ঘদিনের বৈরিতা ঘিরে এই লড়াইকে ঘিরে থাকে আলাদা আবহ। তবে বুধবার আটলান্টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে সেই উত্তাপ কমানোরই চেষ্টা করলেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির মতো তিনিও বললেন, এটি তাদের কাছে ‘স্রেফ আরেকটি ফুটবল ম্যাচ’।

    ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে পিকফোর্ড বলেন, ‘আমরা জানি মেসি কতটা অসাধারণ ফুটবলার। একই সঙ্গে জানি আর্জেন্টিনা দল হিসেবেও কতটা শক্তিশালী। তবে এটি শুধু আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচ নয়, বিশ্বকাপের সেরা চার দলের একটি সেমিফাইনাল। দুই দলেরই আবেগপ্রবণ সমর্থক রয়েছে।’

    আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজের প্রশংসাও করেন ইংলিশ এই গোলরক্ষক। তিনি বলেন, ‘ডিবুর বিপক্ষে আমি খেলেছি, যখন সে ওলভারহ্যাম্পটনে লোনে ছিল আর আমি প্রেস্টন নর্থ এন্ডে খেলতাম। জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে সে নিজেকে দারুণভাবে প্রমাণ করেছে। সে একজন টপ-ক্লাস গোলরক্ষক।’

    বিশ্বকাপে দুটি পেনাল্টি মিস করা লিওনেল মেসি আবার পেনাল্টি নিতে ভয় পাবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পিকফোর্ড বলেন, ‘আমার মনে হয় না মেসি আবার পেনাল্টি নিতে বিন্দুমাত্র ভয় পাবে। সবাই মেসিকে নিয়েই কথা বলে, কারণ সে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার। তবে আমাদের নিজেদের দল ও খেলোয়াড়দের দিকেও মনোযোগ দিতে হবে।’

    দুই দলের অতীত বৈরিতা, ২০০৫ সালের প্রীতি ম্যাচ কিংবা ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যাম-দিয়েগো সিমিওনের বহুল আলোচিত ঘটনার প্রসঙ্গও ওঠে সংবাদ সম্মেলনে। তবে এসব বিতর্কে না গিয়ে পিকফোর্ড বলেন, ‘আমরা শেষ কবে খেলেছিলাম? ২০০৫ সালে? অনেক আগের কথা। পুরো টুর্নামেন্টে আমরা যেভাবে খেলেছি, সেটাই সবাই দেখেছে। আমরা শুধু জিততে চাই এবং কোনো ধরনের ঝামেলা এড়িয়ে চলতে চাই। প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান রেখেই খেলাই আমাদের লক্ষ্য।’

  • আমির খানের বিয়ে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক, বিজেপির পর কটাক্ষ শিবসেনা মন্ত্রীর

    আমির খানের বিয়ে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক, বিজেপির পর কটাক্ষ শিবসেনা মন্ত্রীর

    বলিউড সুপারস্টার আমির খান ৫ জুলাই দীর্ঘদিনের সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করেছেন। মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাসভবনে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে নিবন্ধনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় তাঁদের বিয়ে। এটি আমির খানের তৃতীয় বিয়ে, তবে ব্যক্তিগত এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে এবার মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে বিতর্ক। প্রথমে বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী নীতেশ রাণে আমিরের বিয়ে নিয়ে মন্তব্য করেন। এরপর একই ইস্যুতে কটাক্ষ করেছেন শিবসেনা নেতা ও মহারাষ্ট্র সরকারের মন্ত্রী সঞ্জয় শিরসাট।

    গতকাল সোমবার সম্ভাজীনগরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সঞ্জয় শিরসাট বলেন, জনপ্রিয় ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তও সমাজে প্রভাব ফেলে। এ সময় তিনি নীতেশ রাণের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘নীতেশ রাণে কিছুটা হলেও ঠিক বলেছেন। মানুষ যখন একজন অভিনেতাকে অনুসরণ করেন, তখন তাঁকে শুধু শিল্পী হিসেবে নয়, একজন আদর্শ হিসেবেও দেখেন।’

    এরপর আমিরের তৃতীয় বিয়ে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোনো তারকা যদি এমন কাজ করেন এবং একবার নয়, তিনবার বিয়ে করেন, তাহলে মানুষ তাঁর কাছ থেকে কী শিক্ষা নেবেন? তিনি “লাভ জিহাদ”-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হতে পারেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারবেন না।’

    দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করেছেন ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খানএক্স থেকে

    এর আগে বিজেপি নেতা ও মহারাষ্ট্র সরকারের মন্ত্রী নীতেশ রাণেও আমির খানের বিয়ে নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, জনপ্রিয় ব্যক্তিদের এমন ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সমাজ কীভাবে দেখবে।

    একই সঙ্গে তিনি আমিরের সাম্প্রতিক বিয়েকে ‘লাভ জিহাদ’-এর উদাহরণ হিসেবে দেখা উচিত কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, এ ধরনের বিষয় নিয়ে হিন্দু সমাজের ভাবা প্রয়োজন।

    নীতেশ রাণের ওই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর শিবসেনা নেতা সঞ্জয় শিরসাটের মন্তব্যে সেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

    ৫ জুলাই মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাসভবনে একান্ত ব্যক্তিগত আয়োজনে গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করেন আমির খান। পরিবারের সদস্য, সন্তান ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে নিবন্ধনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। পরে সাংবাদিকদের উদ্দেশে আমির বলেন, ‘দিনটি আমাদের জন্য খুবই বিশেষ। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন আমরা সুখে থাকতে পারি এবং জীবনের নতুন পথচলা সুন্দর হয়।’

    এটি আমির খানের তৃতীয় বিয়ে। ১৯৮৬ সালে রীনা দত্তকে বিয়ে করেন তিনি। সেই সংসারে তাঁদের দুই সন্তান—জুনায়েদ খান ও ইরা খান। ২০০২ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। পরে ২০০৫ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির। তাঁদের একমাত্র ছেলে আজাদ রাও খান। ২০২১ সালে আমির ও কিরণ বিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেও সন্তানের সহ–অভিভাবক হিসেবে এখনো একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
    তবে নীতেশ রাণে ও সঞ্জয় শিরসাটের মন্তব্যের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি আমির খান বা তাঁর টিম।

  • এবারের বিশ্বকাপে ১০০ ম্যাচে যত রেকর্ড

    এবারের বিশ্বকাপে ১০০ ম্যাচে যত রেকর্ড

    বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে আয়োজিত হচ্ছে ২৩তম টুর্নামেন্ট। চলতি আসরে রেকর্ড ৪৮টি দেশ অংশ নিচ্ছে। ইতোমধ্যে ১০০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাকি আছে- দুই সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ ফাইনালসহ ৪টি ম্যাচ।

    আগামী ১৯ জুলাই দিবাগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের মেগা ফাইনাল। বিশ্বসেরার মুকুট জয়ের স্বপ্ন নিয়ে এখনও টিকে আছে- ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, সাবেক তিন চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও স্পেন।

    ইতোমধ্যে বিদায় নিয়েছে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোসহ মোট ৪৪টি দল। হেভিওয়েট ব্রাজিল, জার্মানি, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী দলগুলোরও বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে।

    টুর্নামেন্টের ১০০ ম্যাচে যেসব রেকর্ড হয়েছে-

    ১০০ ম্যাচ শেষে এবারের বিশ্বকাপে মোট গোল হয়েছে ২৯২টি। ৪৮ দলের বিশ্বকাপে গোলের সংখ্যা বাড়বে এমন প্রত্যাশা ছিলই। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ৬৪ ম্যাচে মোট গোল হয়েছিল ১৭২টি। সেখানে ২০২৬ বিশ্বকাপে মাত্র ১০০ ম্যাচেই গোলসংখ্যা পৌঁছে গেছে ২৯২ তে।

    দলগতভাবে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৭টি গোলের মালিক আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফ্রান্সের গোল ১৬টি। ইংল্যান্ড করেছে ১৩টি এবং স্পেনের গোলসংখ্যা ১১টি। অন্যদিকে, এ টুর্নামেন্টে একমাত্র গোলশূন্য দল পানামা। গ্রুপ পর্বে তিনটি ম্যাচ খেলেও তারা কোনো গোলের দেখা পায়নি।

    অ্যাসিস্টে এগিয়ে ফ্রান্স

    দলগত অ্যাসিস্টের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে ফ্রান্স। তারা করেছে ১৪টি অ্যাসিস্ট। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড সমান ১০টি করে অ্যাসিস্ট করেছে। স্পেনের অ্যাসিস্ট ৮টি।

    আক্রমণে সবচেয়ে ভয়ংকর বেলজিয়াম

    প্রতিপক্ষের গোলমুখে সবচেয়ে বেশি শট নেওয়া দলের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বেলজিয়াম। তারা মোট ১১২টি নিশ্চিত শট নিয়েছে। স্পেন ও ফ্রান্স নিয়েছে ১১০টি করে শট। আর্জেন্টিনার শটের সংখ্যা ৯৮টি।

    পাসিংয়ে আধিপত্য আর্জেন্টিনার

    বল দখল ও ছোট ছোট পাসের খেলায় এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে সফল দল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে এ আসরে শততম ম্যাচ শেষে তারা দিয়েছে ৪ হাজার ১৬২টি পাস, যার সফলতার হার ৯১ শতাংশ। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্পেন, তাদের সফল পাসের সংখ্যা ৪ হাজার ৭৫টি।

    রক্ষণে সবচেয়ে দৃঢ় স্পেন

    এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম গোল হজম করেছে স্পেন। মাত্র একটি গোল হজম করেছে তারা। ফ্রান্স গোল হজম করেছে ২টি। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড প্রত্যেকেই হজম করেছে ৬টি করে গোল। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ১২টি করে গোল হজম করেছে ইরাক ও তিউনিশিয়া।

    আত্মঘাতী গোলের নতুন বিশ্বরেকর্ড

    ২০২৬ বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই আত্মঘাতী গোলের নতুন রেকর্ড গড়েছে। ১০০ ম্যাচ শেষে আত্মঘাতী গোলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪টি, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১২টি আত্মঘাতী গোল হয়েছিল। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস লিখেছে উত্তর আমেরিকার এবারের আসরটি। সবচেয়ে বেশি দুটি করে আত্মঘাতী গোল করেছে কাতার ও মিশরের ফুটবলাররা।

    ফাউলে এগিয়ে সুইজারল্যান্ড

    টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ৮৯টি ফাউল করেছে সুইজারল্যান্ড। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মরক্কোর ফাউল ৮৮টি। ইংল্যান্ড করেছে ৮৭টি ফাউল, আর আর্জেন্টিনা করেছে ৬৮টি।

    লাল কার্ডেও রেকর্ড

    ২০২২ সালের পুরো বিশ্বকাপে মাত্র চারটি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। অথচ ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই তিনজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেন। ১০০ ম্যাচ শেষে এবারের বিশ্বকাপে মোট ১৪টি লাল কার্ড দেখানো হয়েছে, যা ২০১৮ ও ২০২২ এই দুই বিশ্বকাপ মিলিয়ে প্রদর্শিত মোট ৮টি লাল কার্ডেরও বেশি। দক্ষিণ আফ্রিকা ও কাতারের ফুটবলাররা সবচেয়ে বেশি দুটি করে লাল কার্ড দেখেছেন।

    হলুদ কার্ড ও অফসাইড

    এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ২৫৭ জন ফুটবলার হলুদ কার্ড দেখেছেন। দলগতভাবে সবচেয়ে বেশি ১২টি হলুদ কার্ড পেয়েছেন মিশরের খেলোয়াড়রা। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ১৯ বার অফসাইডে ধরা পড়েছে কলম্বিয়া। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আর্জেন্টিনা, যারা অফসাইড হয়েছেন ১৮ বার।

    গোলরক্ষকদের মধ্যে সেরা সেভ

    এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সেভ করেছেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। তিনি করেছেন ২৮টি সেভ, যা চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ।

  • কী আছে ভারতের নিষিদ্ধ এই সিনেমায়

    কী আছে ভারতের নিষিদ্ধ এই সিনেমায়

    ১৯৯৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। পাঞ্জাবের অমৃতসরে নিজের বাড়ির সামনে থেকে অপহৃত হন মানবাধিকারকর্মী জসওয়ন্ত সিং খালরা। এরপর তাঁকে আর কখনো জীবিত বা মৃত—কোনো অবস্থাতেই দেখা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী ছিল, জনমতও ক্রমেই তীব্র হচ্ছিল। তবু প্রায় এক বছর কেটে গেলেও ঘটনার কোনো অগ্রগতি হয়নি। আসলে কী হয়েছিল খালরার? তিনি কি হঠাৎ করেই পৃথিবী থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিলেন? নাকি পুলিশের দাবি অনুযায়ী ইউরোপ কিংবা আমেরিকায় দিনমজুরের কাজ করতে চলে গিয়েছিলেন? নাকি তিনিও সেই হাজারো তরুণের একজন, যাঁদের ‘নিখোঁজ’ দেখিয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার করা হয়েছিল—যাঁদের ন্যায়বিচারের জন্যই নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন খালরা?

    একনজরে
    সিনেমা: ‘সাতলুজ’
    ধরন: ড্রামা
    পরিচালনা: হানি ত্রেহান
    অভিনয়: দিলজিৎ দোসাঞ্জ, সুবিন্দর ভিকি, গীতিকা বিদ্যা ওহলিয়ান, কানওয়ালজিৎ সিং, জগজিৎ সান্ধু, এস এম জহির
    ভাষা: হিন্দি ও পাঞ্জাবি
    স্ট্রিমিং: জি৫
    দৈর্ঘ্য: ২ ঘণ্টা ৪৪ মিনিট

    খালরার আত্মা যে অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়ে যেন ভেসে বেড়াচ্ছিল, হানি ত্রেহানের ছবির যাত্রাপথও যেন তেমনই। প্রথমে ছবিটির নাম ছিল ‘পাঞ্জাব ৯৫’। ২০২৩ সালে এটি টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ভারতের সার্টিফিকেশন বোর্ডে (সিবিএফসি) টানা তিন বছর আটকে থাকে ছবিটি। কারণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নাগরিক আন্দোলনের মূল্য নিয়ে নির্মিত ছবিটিতে বোর্ড প্রায় ১২০টি কাটের নির্দেশ দিয়েছিল। কাস্টিং পরিচালক হানি ত্রেহান এ সময় ব্যক্তিগত প্রদর্শনীর আয়োজন করেন, সাক্ষাৎকার দেন এবং সেন্সর বোর্ডের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ লড়াইয়ের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

    সন্ধ্যা সুরির ‘সন্তোষ’ ছবির মতোই—যেখানে উত্তর ভারতের পুলিশি রাষ্ট্রব্যবস্থার কঠিন বাস্তবতা উঠে এসেছে—নতুন নাম পাওয়া ‘সাতলুজ’ও ভারতে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির সুযোগ পায়নি। বরং নীরবে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। হয়তো এটিই সবচেয়ে দুঃখজনক পরিণতি নয়। বরং জি৫–এর ‘বার্লিন’, ‘কেনেডি’ এবং ‘সাতলুজ’—তিনটি ছবিই উদ্বিগ্ন নাগরিকদের জন্য একসঙ্গে দেখার মতো অসাধারণ একটি ত্রয়ী। কিন্তু মুক্তির পরও শেষ রক্ষা হয়নি। ৪ জুলাই মুক্তির ৪৮ ঘণ্টা পরেই সরকারি চাপে সিনেমাটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় প্ল্যাটফর্মটি। এত আলোচিত, প্রশংসিত আর নিষিদ্ধ এই সিনেমায় কী আছে?

    ‘সাতলুজ’ এমন এক শক্তিশালী রাজনৈতিক চলচ্চিত্র, যা কোনো ধরনের আপস করে না। রাষ্ট্র এবং তার পুলিশ বাহিনী যখন জনগণের অধিকার রক্ষার বদলে সেই অধিকারই পদদলিত করে, তখন কী ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়—ছবিটি নির্ভীকভাবে সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে আসে। ফলাফল, এটি হয়ে ওঠে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেওয়া এক সিনেমা। এটি সহজে দেখার মতো ছবি নয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের হলেও ‘সাতলুজ’ কখনো দর্শককে চোখ ফেরানোর সুযোগ দেয় না। ছবিটি দর্শকের পূর্ণ মনোযোগ দাবি করে এবং নির্মাতার বক্তব্যের ভার বহন করতেও যে প্রস্তুত থাকতে বলে, সে কথা বলাই বাহুল্য। হানি ত্রেহান আমাদের নিয়ে যান আশি ও নব্বইয়ের দশকের সেই পাঞ্জাবে, যেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের রক্তাক্ত অধ্যায় সমাজকে গ্রাস করেছিল। রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং পুলিশের লাগামহীন ক্ষমতার যে নির্মম চিত্র তিনি এঁকেছেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং শিহরণ জাগানো।

    ‘সাতলুজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিব

    যদিও গল্পটি ভারতের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল এবং নির্দিষ্ট সময়কে ঘিরে, ‘সাতলুজ’ আসলে সন্ত্রাস, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের এমন এক সর্বজনীন দলিল, যা যেকোনো সমাজের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে উঠতে পারে। আইনহীনতা যখন ক্ষমতাসীনদের স্বার্থ রক্ষা করে, তখন তার পরিণতি কেমন হয়—ছবিটি সেটিই দেখায়। ছবির শুরুতে একটি বাধ্যতামূলক ঘোষণা জানিয়ে দেওয়া হয়—এটি তথ্যচিত্র নয়; মানবাধিকারকর্মী জসওয়ন্ত সিং খালরার জীবনের ঘটনাগুলো অবলম্বনে নির্মিত সিনেমা।

    নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি পাঞ্জাবে নিখোঁজ হওয়া মানুষ, বিচারবহির্ভূত আটক এবং গণদাহের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে জসওয়ন্ত সিং খালরাকে যে চরম মূল্য দিতে হয়েছিল, ছবিটি সেই ইতিহাসকে ভিত্তি করে নির্মিত। আরএসভিপি এবং ম্যাকগাফিন পিকচার্স প্রযোজিত এই ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন হানি ত্রেহান, নিরেন ভাট ও উৎসব মৈত্র। বাস্তব ঘটনা থেকে ছবির বিচ্যুতি বলতে মূলত কয়েকটি চরিত্রের নাম পরিবর্তন করা।

    ডিজিপি আইপিএস বিট্টা (কানওয়ালজিৎ সিং) কিংবা মুখ্যমন্ত্রী অনন্ত সিং—যিনি আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন, তার এক সপ্তাহ পর অমৃতসরে নিজের বাড়ির সামনে থেকে অপহৃত হন জসওয়ন্ত সিং—এসব চরিত্রের বাস্তব প্রেরণা সহজেই অনুমান করা যায়। ব্যাংক কর্মকর্তা জসওয়ন্ত সিং খালরা (দিলজিৎ দোসাঞ্জ) প্রথম সন্দেহ করেন, যখন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং বন্ধুর মা নিখোঁজ হয়ে যান। তিনি থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে চাইলে পদোন্নতির চিন্তায় ব্যস্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা (বংশ ভরদ্বাজ) অভিযোগ নিতেই অস্বীকৃতি জানান।

    ইন্সপেক্টর পদে উন্নীত হয়ে বিয়ে করার স্বপ্নেই তিনি মশগুল। এরপর খালরা মর্গে যান। দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক (গীতা আগরওয়াল শর্মা) তাঁকে এমন তথ্য দেন, যা তাঁকে স্তম্ভিত করে। কিন্তু আরও বড় ধাক্কা অপেক্ষা করছিল শ্মশানে। সেখানে তিনি এমন একটি রেজিস্টার খুঁজে পান, যেখানে শত শত অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের তালিকা সংরক্ষিত। এরপর গল্প ক্রমে আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

    হুমকি ও সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে খালরা সত্য অনুসন্ধান চালিয়ে যান। স্থানীয় এক বিধায়ক তাঁকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি তুলে ধরার জন্য তিরস্কার করেন। কিন্তু তিনি দমে যান না। স্ত্রী পরমজিৎ (গীতিকা বিদ্যা ওহলিয়ান) জানেন, এই পথ তাঁদের দুই স্কুলপড়ুয়া সন্তানসহ পুরো পরিবারকে বিপদের মুখে ফেলছে। তবু তিনি স্বামীর পাশে থাকেন। স্থানীয় থানায় জসওয়ন্তের শৈশবের বন্ধু কনস্টেবল সতনাম সিং (সৌরভ সচদেবা) কর্মরত। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার সুবাদে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিজের ঝুঁকি নিয়েই জসওয়ন্তকে জানাতে থাকেন তিনি। এই সাহসের মূল্যও তাঁকে দিতে হয়।

    ‘সাতলুজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিবি

    সতনাম একসময় বলেন, ‘কালো পাতায় লেখা কালো সত্য, যা দেখা যায় না, পড়াও যায় না।’ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তিনি খালরাকে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেন।
    ছবির প্রায় এক ঘণ্টা পর সতনামের বাড়িতে ঘটে যাওয়া একটি দৃশ্য পুরো চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। এই দৃশ্যে সুবিন্দর ভিকি (এসএসপি সুরজিৎ সিং সুগ্গা) এবং সৌরভ সচদেবা অভিনয়ের অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দেন। ক্ষমতা ও অহংকারে উন্মত্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা একটি পরিবারকে কার্যত জিম্মি করে রাখে। অন্যদিকে নিচের সারির এক অসহায় পুলিশ সদস্য অপরাধবোধ আর ভয়ে কাঁপতে থাকেন। ক্ষমতা কীভাবে কাজ করে এবং সেই ক্ষমতার সামনে সাধারণ মানুষ কতটা অসহায় হয়ে পড়ে—কে ইউ মোহাননের ক্যামেরা আর এ শ্রীকর প্রসাদের সম্পাদনা মিলিয়ে দৃশ্যটি অসাধারণভাবে ফুটে উঠেছে।

    ‘সাতলুজ’ মূলত পুলিশ ও জঙ্গিদের সংঘাতের গল্প হলেও ছবিটি দেখায়, শেষ পর্যন্ত পুলিশই কীভাবে সবচেয়ে ভয়ংকর সহিংস শক্তিতে পরিণত হয় এবং সম্পূর্ণ দায়মুক্তি নিয়ে আইন ভঙ্গ করতে থাকে। এটি গণতন্ত্রের অবক্ষয় এবং ক্ষমতার নগ্ন অপব্যবহারকে স্বাভাবিক করে তোলার ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে নির্মিত এক সতর্কবার্তা।

    খালরা নিখোঁজ হওয়ার পর দিল্লি থেকে পাঞ্জাবে আসেন সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের অতিরিক্ত পরিচালক সমুদ্র সিং (অর্জুন রামপাল)। চরিত্রটি ছবির বর্ণনাকারীর ভূমিকাও পালন করে। অন্যদিকে একজন আইনজীবী (বরুণ বাদোলা) অবৈধভাবে হত্যা করা নারী-পুরুষদের পরিবারের পক্ষে আদালতে মামলা করেন। ছবির কিছু অংশ হয়তো একটু দীর্ঘ মনে হতে পারে। তবে বিষয়টির গুরুত্ব এবং গল্প বলার ধারালো ভঙ্গির কারণে ‘সাতলুজ’ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দর্শককে ধরে রাখে। এটি একই সঙ্গে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয় এবং অস্বস্তিতে ফেলে।

    অভিনয়ের দিক থেকেও ছবিটি অসাধারণ। সবার আগে বলতে হয় দিলজিৎ দোসাঞ্জের কথা। অতিরঞ্জন ছাড়াই তিনি ক্ষোভ, দৃঢ়তা এবং অদৃশ্য বিপদের আশঙ্কা দারুণভাবে প্রকাশ করেছেন। চরিত্রটির গুরুত্ব এবং ছবির উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি যে পুরোপুরি সচেতন ছিলেন, তা অভিনয়ের প্রতিটি মুহূর্তে স্পষ্ট। তারকাসুলভ উপস্থিতিকে সামনে না এনে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে চরিত্র ও সময়ের ভেতর মিশিয়ে দিয়েছেন।

    ছবিতে দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত খালরা চরিত্রটিকে প্রথমে দেখা যায় একেবারেই সাধারণ একজন মানুষ হিসেবে। তিনি একটি ব্যাংকের কর্মী, শান্ত স্বভাবের পারিবারিক মানুষ। ছয় মাস আগে তাঁর বন্ধু কিরপালকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় মৃত পাওয়া গিয়েছিল। এবার নিখোঁজ হয়ে যান শোকে পাগল হয়ে যাওয়া কিরপালের মা। তাঁকে খুঁজতে জসওয়ন্ত ছুটে বেড়ান হাসপাতাল, মর্গ ও শ্মশানে। ব্যাংকার হিসেবে সংখ্যার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কই হয়তো তাঁকে একটি অসংগতি ধরতে সাহায্য করে। সরকারি নথিতে ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ হিসেবে নিবন্ধিত মৃতদেহগুলোর তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করা হয়েছে।

    মুক্তির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সরিয়ে নেওয়া ‘সাতলুজ’। কোলাজ

    হানি ত্রেহান দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশিব্যবস্থার নৃশংসতা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে কখনোই ক্যামেরা সরিয়ে নেন না। তবে তিনি এটাও দেখান, এই পচন পুরো ব্যবস্থার নয়; বরং কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ও তাঁদের ঊর্ধ্বতনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, ত্রেহান এই ভয়াবহ গল্পটি বলেছেন অসাধারণ সংযম ও স্থিরতার সঙ্গে। খালরা কোনো আবেগপ্রবণ বিপ্লবী নন। তিনি এই মাটিরই মানুষ। নিজের সমাজকে রক্ষা করার দায় থেকেই তিনি সত্যের খোঁজে নামেন।

    শুরু থেকেই কে ইউ মোহাননের রাতের দৃশ্যের চিত্রগ্রহণ দৃষ্টিনন্দন ও পরিশীলিত। মাঝেমধ্যে কিছু নান্দনিক দৃশ্য—যেমন ওপর থেকে ধারণ করা সাদা-কালো মুদ্রা ছোড়ার দৃশ্য—পাঞ্জাব নোয়ার ঘরানার বাস্তবতাকে ভেঙে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। ছবির মাঝামাঝি এসে এটি রহস্য–থ্রিলারে রূপ নেয়। আর সেখানে অর্জুন রামপালকে নতুনভাবে আবিষ্কার করা যায়। ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এ সুবিন্দর ভিকির চরিত্রের কাছে যিনি কার্যত হার মেনেছিলেন, এখানে যেন তিনি পাল্টা জবাব দেওয়ার সুযোগ পান। সুবিন্দর ভিকি অভিনয় করেছেন এসএসপি সুগ্গা চরিত্রে। দুর্নীতিগ্রস্ত, ঘৃণ্য ও নির্মম এই পুলিশ কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদ দীর্ঘায়িত করে মানসিক নির্যাতন চালাতে ভালোবাসে। চরিত্রটি অনেকটা ‘ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডস’–এর হান্স লান্ডার কথা মনে করিয়ে দেয়।

    ‘সাতলুজ’ দেখিয়ে দেয়, বিশ্বের বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে সত্য উদ্‌ঘাটনকারীদের অপদস্থ করে এবং প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করে। এটি শুধু ভুলে যাওয়া মানুষদের স্মৃতির দলিল নয়; এটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রযন্ত্রের সামনে ধরা এক জরুরি আয়না। তাই ছবিটি শুধু সিনেমা হিসেবে নয়, সময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবেও মনোযোগ পাওয়ার দাবি রাখে।

    সিনেমার কিছু সংলাপ শেষ হওয়ার পরও মনে থাকে। খালরা বলেন, ‘আমরা পুলিশবিরোধী নই, সরকারবিরোধীও নই।’ ছবির শেষ হয় খালরার আরেকটি বিখ্যাত উক্তি দিয়ে, ‘আমি অন্ধকারকে চ্যালেঞ্জ জানাই।’ তবে সবচেয়ে বেশি মনে থাকবে খালরার বলা সবচেয়ে সহজ কথাটিই—‘কাউকে না কাউকে তো সামনে আসতেই হবে।’

  • ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনাল; পরিসংখ্যানে এগিয়ে কারা?

    ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনাল; পরিসংখ্যানে এগিয়ে কারা?

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাংলাদেশ সময় আজ (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত ১টায় মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই শক্তিধর দল ফ্রান্স ও স্পেন। টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচকে অনেকেই ‘ফাইনালের আগেই ফাইনাল’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

    পুরো বিশ্বকাপজুড়ে দাপুটে ফুটবল খেলেছে ফ্রান্স। তাই শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে, কেপভার্দের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হোঁচট খাওয়ার পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে স্পেন। ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এবার বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগকে সামলানোর কঠিন পরীক্ষায় নামছে।

    দুই দলের খেলার ধরনেও রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। ফ্রান্স দ্রুতগতির পালটা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পছন্দ করে, আর স্পেন বলের দখল ধরে রেখে ধৈর্যের সঙ্গে আক্রমণ গড়ে তুলতে অভ্যস্ত।

    সেমিফাইনালে ওঠার পথে ফ্রান্সকে তেমন কোনো কঠিন বাধার মুখে পড়তে হয়নি। দলের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছয় ম্যাচে আট গোল করে তিনি গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে শীর্ষ সারিতেই রয়েছেন। তার সঙ্গে আক্রমণে রয়েছেন মাইকেল ওলিসে, ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলে এবং পিএসজির তরুণ জুটি ব্র্যাডলি বারকোলা ও ডিজায়ার দুয়ে।

    অন্যদিকে, লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন বল দখলভিত্তিক ফুটবল, পরিকল্পিত আক্রমণ এবং ভারসাম্যপূর্ণ দলগত পারফরম্যান্সে ভর করে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে। রক্ষণ থেকে আক্রমণ—প্রতিটি বিভাগেই তারা দেখিয়েছে পরিপক্বতার ছাপ।

    সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে ফ্রান্সের বিপক্ষে এগিয়ে রয়েছে স্পেন। গত বছরের উয়েফা নেশনস লিগে ৫-৪ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ের আগে ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালেও ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল ফরাসিদের। তবে বিশ্বকাপে টানা তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে উঠে নতুন ইতিহাস গড়েছে ফ্রান্স। এর আগে এই কীর্তি গড়তে পেরেছিল শুধু জার্মানি ও ব্রাজিল।

    মুখোমুখি পরিসংখ্যান

    এখন পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৮ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স ও স্পেন। এর মধ্যে ১৮টি ম্যাচে জয় পেয়েছে স্পেন, আর ফ্রান্স জিতেছে ১৩টিতে। বাকি সাতটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

    ২০১৮ বিশ্বকাপের পর বড় টুর্নামেন্টে স্পেনের ধারাবাহিকতাও ঈর্ষণীয়। ২৭ ম্যাচের মধ্যে তারা হেরেছে মাত্র একটিতে, জিতেছে ১৬টি এবং ড্র করেছে ১০টি। ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে হারের পর টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে স্প্যানিশরা। এই সময়ে তারা মাত্র পাঁচটি গোল হজম করেছে এবং কোনো ম্যাচেই একটির বেশি গোল খায়নি। নয়টি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোলের সুযোগই দেয়নি তারা।

    তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুই দলের একমাত্র আগের দেখায় জয় পেয়েছিল ফ্রান্স। ২০০৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পিছিয়ে থেকেও শেষ ১০ মিনিটে দুটি গোল করে ৩-১ ব্যবধানে স্পেনকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল লে ব্লুরা। তাই এবার বিশ্বকাপের দ্বিতীয় মুখোমুখি লড়াইয়ে ইতিহাস বদলাবে, নাকি পুরোনো স্মৃতি ফিরবে—সেই উত্তর মিলবে ডালাসের মাঠেই।

  • প্রথমবার যে ইতিহাসের সাক্ষী হলো ফিফা বিশ্বকাপ

    প্রথমবার যে ইতিহাসের সাক্ষী হলো ফিফা বিশ্বকাপ

    এবারের বিশ্বকাপ একের পর এক নতুন ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত প্রথম বিশ্বকাপ হওয়ার পাশাপাশি টুর্নামেন্টে দেখা গেছে দল ও খেলোয়াড়দের নানা অনন্য অর্জন।

    সেমিফাইনালের চার দল নিশ্চিত হওয়ার পর সামনে এসেছে আরেকটি বিরল রেকর্ড। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো ফিফা র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ চারটি দল একই আসরের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। ১৯৯২ সালে র‌্যাংকিং চালু হওয়ার পর এর আগে এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি।

    ইতিহাসের এই নতুন অধ্যায়ের অংশ হওয়া চার দল হলো আর্জেন্টিনা, স্পেন, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। মজার বিষয় হলো, সেমিফাইনালে ওঠা এই চার দলের প্রত্যেকেরই রয়েছে বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতা।

    এর আগে মাত্র দুইবার বিশ্বকাপে এমন দেখা গিয়েছিল, যখন সেমিফাইনালে জায়গা পাওয়া চারটি দলই ছিল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ১৯৭০ ও ১৯৯০ সালের আসরে এই নজির তৈরি হয়েছিল।

    ১৯৭০ বিশ্বকাপের শেষ চারে উঠেছিল চার সাবেক চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, ইতালি, উরুগুয়ে ও পশ্চিম জার্মানি। আর ১৯৯০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট চার দল ছিল পশ্চিম জার্মানি, আর্জেন্টিনা, ইতালি ও ইংল্যান্ড।

  • কষ্ট আর্জেন্টিনার ডিএনএতে মিশে আছে: স্কালোনি

    কষ্ট আর্জেন্টিনার ডিএনএতে মিশে আছে: স্কালোনি

    গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচে দাপুটে জয় নিয়েই নকআউটে পা রেখেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু নকআউট পেরিয়ে সেমিফাইনালের পথটা মোটেও সহজ ছিল না। শেষ বত্রিশে কেপ ভার্দে, শেষ ষোলোতে মিসর এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে রীতিমতো ঘাম ঝরিয়ে জিততে হয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। প্রতিপক্ষ যে-ই হোক আর্জেন্টিনাকে কঠিন পরীক্ষা দিয়েই জিততে হবে- এমনটাই যেন মেনে নিয়েছেন দলটির কোচ লিওনেল স্কালোনি। দেশটির বিশ্বকাপজয়ী কোচ বলেন, তীব্র চাপ উপেক্ষা করে লড়াই করে জয় পাওয়াটাই তাদের পরিচয়।

    কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারানোর পর স্কালোনি বলেন, ‘আমরা জানতাম, আমাদের কষ্ট করে জিততে হবে। এটা আমাদের রক্তে মিশে গেছে, আমাদের ডিএনএতেই আছে। এটাই আমাদের মানসিক শান্তি দেয়।’

    বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার প্রত্যেকটি ম্যাচই ছিল নাটকীয়তায় ভরা। কেপ ভার্দের মতো নবাগত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলের জয়। এরপর মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পরেও ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। সর্বশেষ কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডও আর্জেন্টাইনদের কঠিন পরীক্ষা নিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতায় থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে জয় নিয়ে সেমিফাইনের টিকিট নিশ্চিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

    স্কালোনির বিশ্বাস, ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতাই কঠিন মুহূর্তগুলো সামলে তার দলকে জয় পেতে সাহায্য করছে। তিনি বলেন, ‘কাতারে আমরা এতটা অভিজ্ঞ ছিলাম না, আমিও ছিলাম না। তখন এমন পরিস্থিতি সামলানো কঠিন ছিল। কিন্তু এখন আমরা জানি প্রতিপক্ষের চাপে পড়া কেমন, সমতা ফিরিয়ে আনার চাপ কেমন। তাই আজ আমরা শান্ত থাকতে পেরেছি। এই দল কখনো হাল ছাড়ে না।’

    সুইজারল্যান্ডের প্রশংসাও করে আর্জেন্টিনা কোচ বলেন, ‘ওরা খুব কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল। একের বিপক্ষে এক লড়াইয়ে ওরা দারুণ শক্তিশালী ছিল। টানা পাঁচ-ছয়টি পাস খেলাও আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। সত্যিই অনেক ভুগতে হয়েছে।’

    খেলোয়াড়দের প্রশংসা করে স্কালোনি বলেছেন, ‘সব কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের। তারা পুরো প্রক্রিয়ার ওপর বিশ্বাস রেখেছে। আমরা একটি দল, আমরা ঐক্যবদ্ধ। আর এটাই প্রমাণ করে ফুটবল কতটা কঠিন খেলা।’

  • ২০৩০ সাল থেকেই কি ৬৪ দলের বিশ্বকাপ শুরু হবে?

    ২০৩০ সাল থেকেই কি ৬৪ দলের বিশ্বকাপ শুরু হবে?

    ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর বিশ্বকাপের দলসংখ্যা ৬৪-তে উন্নীত করার সম্ভাবনা নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে। তার মতে, বিশ্বকাপ শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি অঞ্চলের জন্য নয়, বরং বিশ্বের সব দেশের জন্য উন্মুক্ত একটি স্বপ্নের মঞ্চ হওয়া উচিত।

    সুইজারল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ব্লু স্পোর্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেন, বিশ্বকাপ আয়োজনের ক্ষেত্রে শুধু ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বিষয় বিবেচনা করলে হবে না। এই প্রতিযোগিতা পুরো বিশ্বের প্রতিনিধিত্ব করে এবং প্রতিটি দেশেরই এখানে অংশ নেওয়ার স্বপ্ন দেখার সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

    তিনি জানান, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর দল বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তার মতে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ফুটবলের মান আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে। ছোট দেশগুলোকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিলে তাদের ফুটবল উন্নয়নের প্রেরণাও বাড়বে।

    ইনফান্তিনো মনে করেন, প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত ২০২৬ বিশ্বকাপ সফল হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি আফ্রিকার দলগুলোর পারফরম্যান্সের কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, এবারের আসরে আফ্রিকার ১০ দলের মধ্যে ৯টি দল নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে, যেখানে আগের বিশ্বকাপে মহাদেশটি থেকে মাত্র পাঁচটি দল অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল।

    ফিফা ২০১৭ সালে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ২০২৫ সালের এপ্রিলে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল ২০৩০ সাল থেকে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাব দেয়। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

    ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের প্রধান আয়োজক হিসেবে থাকছে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে উদ্বোধনী ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতে। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল উরুগুয়ে।

    তবে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের ধারণার বিরোধিতাও রয়েছে। উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন এই প্রস্তাবকে ‘খারাপ ধারণা’ বলে মন্তব্য করেছেন। এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফার আশঙ্কা, দল বাড়ালে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। একইভাবে কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানি মনে করেন, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ ফুটবলের সামগ্রিক কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ২০৩৮ বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য আগ্রহী হতে পারে এবং ৬৪ দলের আসর হলেও সেটি সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব।

    ফিফার বর্তমান অবস্থান হলো, সদস্যদের কাছ থেকে আসা যেকোনো প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালানো হবে। তবে আপাতত ৬৪ দলের বিশ্বকাপ চালুর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে শেষ সিদ্ধান্ত নেবে ফিফা কাউন্সিল।

  • আর্জেন্টিনার প্রতি এখনও ক্ষোভ কমেনি মিশরের

    আর্জেন্টিনার প্রতি এখনও ক্ষোভ কমেনি মিশরের

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় হারের কয়েক দিন পরও ক্ষোভ কমেনি মিশর শিবিরে। দলের কোচিং স্টাফ আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে তোপ দেগে দাবি করেছে, বিতর্কিত রেফারিংয়ের কারণেই তাদের ঐতিহাসিক জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেছে।

    মিশরের অভিযোগ, ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল তাদের একটি বৈধ গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত। সেই মুহূর্ত থেকেই পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা নাটকীয়ভাবে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।

    বিতর্কের মধ্যেও এবারের বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়েছে মিশর। প্রথমবারের মতো তারা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছিল।

    কিন্তু শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলে আর্জেন্টিনা ম্যাচ জিতে নিলে মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    মিশরের কিংবদন্তি যমজ হোসাম হাসান ও ইব্রাহিম হাসান দেশটির একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আচরণেরও তীব্র সমালোচনা করেন।

    হোসাম হাসান বলেন, ‘ওরা ভীষণ উসকানিমূলক আচরণ করেছে। শুরু থেকেই পরিবেশ উত্তপ্ত করে তোলার চেষ্টা করেছে। খেলোয়াড়দের মুখোমুখি গিয়ে বারবার উসকানি দিয়েছে। এমনকি একজন লাল কার্ডও দেখেছে। তার একমাত্র উদ্দেশ্যই ছিল প্রতিপক্ষকে উত্তেজিত করা।’

    মিশরের কোচের মতে, এই পরাজয়ের জন্য শুধু নিজেদের দায়ী করা যায় না; ম্যাচ পরিচালনায় রেফারির ভূমিকাই ছিল সবচেয়ে বড় কারণ।

    তিনি বলেন, ‘কিছু বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। রেফারি পুরো ম্যাচের ছন্দ নষ্ট করে দিয়েছেন। প্রতি দুই মিনিট পরপর খেলোয়াড়দের সঙ্গে তর্ক, একের পর এক হলুদ কার্ড এবং প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই আমাদের বিপক্ষে গেছে। এতে পুরো ম্যাচ বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছিল।’

    মিশরের জন্য এই বিদায় তাই অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ইতিহাস গড়ার সুযোগ তাদের হাতের নাগালেই ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার দৃঢ়তা ও অভিজ্ঞতা তাদের টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে দেয়। সেই নাটকীয় ম্যাচ এবং রেফারিং বিতর্ক দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকবে বলেই মনে করছে ফুটবল অঙ্গন।

  • রাম মন্দিরে চুরিকে ‘সামান্য বিষয়’ বললেন অনুপম খের

    রাম মন্দিরে চুরিকে ‘সামান্য বিষয়’ বললেন অনুপম খের

    অযোধ্যার রাম মন্দিরে দানের অর্থ চুরির ঘটনা নিয়ে অভিনেতা অনুপম খেরের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের জেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দীন শাহের একটি পুরোনো ভিডিও। ২০২০ সালের ওই সাক্ষাৎকারে অনুপম খেরের রাজনৈতিক মতাদর্শের তীব্র সমালোচনা করে তাঁকে ‘জোকার’ বলে সম্বোধন করেছিলেন নাসিরুদ্দীন শাহ।

    সম্প্রতি ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনুপম খের রাম মন্দিরের অর্থ চুরির ঘটনাকে মোগল আমলের কথিত মন্দির ধ্বংস ও লুণ্ঠনের সঙ্গে তুলনা করেন। চুরির এই ঘটনাকে তিনি একটি ‘খুবই সামান্য বিষয়’ বলে অভিহিত করার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে নাসিরুদ্দীন শাহের পুরোনো মন্তব্যটি ব্যাপকভাবে শেয়ার হতে শুরু করে।

    নাসিরুদ্দীন শাহ আসলে কী বলেছিলেন?

    ২০২০ সালের ওই সাক্ষাৎকারে নাসিরুদ্দীন শাহকে চলচ্চিত্র জগতের এমন ব্যক্তিদের নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যারা সরকারের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

    জবাবে নাসিরুদ্দীন শাহ বলেছিলেন, ‘যারা প্রতিবাদ করছেন, তাদের সংখ্যা সরকারের সমর্থকদের চেয়ে কম।’

    অনুপম খেরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সেসময় যোগ করেন, ‘অনুপম খেরের মতো মানুষ অত্যন্ত সোচ্চার। আমার মনে হয় না তাঁকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়ার কোনো প্রয়োজন আছে। তিনি একজন জোকার। এনএসডি (ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা) এবং এফটিআইআই (ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া)-তে তাঁর সমসাময়িক যে কেউ তাঁর এই চাটুকারিতার স্বভাবের কথা নিশ্চিত করতে পারবেন। এটি তাঁর রক্তে, তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।’

    অনুপম খেরের তৎকালীন প্রতিক্রিয়া

    সেসময় নাসিরুদ্দীন শাহের এই মন্তব্যের জবাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেছিলেন অনুপম খের। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, নাসিরুদ্দীন শাহের চলচ্চিত্র জগতের সহকর্মীদের সমালোচনা করার একটি দীর্ঘ অভ্যাস রয়েছে।

    ভিডিও বার্তায় অনুপম খের বলেন, ‘আমি আপনার সম্পর্কে কখনো কোনো খারাপ কথা বলিনি, তবে আজ বলব। এত কিছু অর্জন করার পরও আপনি আপনার সারা জীবন হতাশায় কাটিয়ে দিয়েছেন। আপনি যদি দিলীপ কুমার সাহেব, অমিতাভ বচ্চন, রাজেশ খান্না, শাহরুখ খান এবং বিরাট কোহলির মতো মানুষদের সমালোচনা করতে পারেন, তবে আমি নিশ্চিত যে আমি খুব সঠিক পথেই আছি।’

    নাসিরুদ্দীন শাহের ব্যক্তিগত জীবনকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘তাঁদের কেউ আপনার বক্তব্যকে কখনো গুরুত্ব সহকারে নেননি। কারণ আমরা সবাই জানি যে বছরের পর বছর ধরে আপনি যে ধরনের মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করছেন, তার কারণে আপনি কোনটি সঠিক আর কোনটি ভুল তা বুঝতে পারেন না।’

    রাম মন্দিরের চুরি নিয়ে কী মন্তব্য করেছিলেন অনুপম খের?

    সম্প্রতি ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অনুপম খেরকে যখন অযোধ্যা রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে টাকা চুরির ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এটিকে নগণ্য বলে দাবি করেন।

    তিনি বলেন, ‘মোগলরা যখন আমাদের মন্দির ধ্বংস করেছিল, তখন মন্দির লুণ্ঠন করা হয়েছিল। যখন ব্রাহ্মণদের হত্যা করা হয়েছিল, মন্দিরের ধনসম্পদ লুট করা হয়েছিল এবং মন্দিরের ভেতরে নারীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল, সেটি ছিল অনেক বড় ট্র্যাজেডি। আমরা যদি সেই বেদনা কাটিয়ে উঠতে পারি, তবে এই চুরির ঘটনাটি অত্যন্ত সামান্য বিষয়।’

    চলতি সমালোচনাকে লক্ষ্য করে তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ এটিকে অনেক বড় ইস্যু বানাচ্ছে। তারা বলছে মন্দিরে লুণ্ঠন হয়েছে…এমন সব শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে। লুণ্ঠন তো তখন হয়েছিল যখন মোগল শাসকেরা আমাদের মন্দির ধ্বংস করেছিল, ব্রাহ্মণদের হত্যা করে তাঁদের পৈতা ওজন করেছিল। আমরা যদি তা কাটিয়ে উঠতে পারি, তবে এই সাধারণ চুরির ঘটনাটি খুবই তুচ্ছ বিষয়।’

    উল্লেখ্য, অনুপম খেরকে আগামীতে ‘শ্রী রাম ভূমি’ চলচ্চিত্রে দেখা যাবে। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করছেন কামাখ্যা নারায়ণ সিং, যিনি সম্প্রতি ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ পরিচালনা করে আলোচনায় এসেছেন। চলচ্চিত্রটিতে অনুপম খেরের পাশাপাশি অভিনয় করছেন ঋত্বিক ভৌমিক এবং অমৃতা খানভিলকর। এ ছাড়া মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তাঁর অভিনীত ‘খোসলা কা খোসলা ২’ সিনেমাটি।