আর্ন্তজাতিক

  • কারা জিতবে বিশ্বকাপ, জানাল সুপারকম্পিউটার

    কারা জিতবে বিশ্বকাপ, জানাল সুপারকম্পিউটার

    ফাইনালসহ আর মাত্র চারটি ম্যাচের অপেক্ষা। এরপরই পর্দা নামবে বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে লম্বা আসরের। ৪৮ দলের মহারণ পেরিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে আছে আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, স্পেন ও ফ্রান্স। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই ৪টি দলেরই সেমিফাইনালে খেলার কথা বলেছিল ফুটবল পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অপটার সুপারকম্পিউটার। সেই সুপারকম্পিউটার এবার নেমেছে চ্যাম্পিয়ন দল বাছাইয়ে। নিখুঁত হিসাব-নিকাশের পর তারা জানিয়েছে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন দলের নামও।

    অপটার সুপারকম্পিউটারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে ফ্রান্সের। কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং উসমান দেম্বেলের নৈপুণ্যে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফরাসিদের টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৫৭.৭ শতাংশ এবং শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৩৪ শতাংশ।

    অন্যদিকে সেমিফাইনালের ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ স্পেনের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৪২.৩ শতাংশ, যা চার দলের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ। তবে বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের দিক থেকে তারা ২৩.৪ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

    সুপারকম্পিউটারের ধারণা অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার ডালাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সেমিফাইনালের বিজয়ী দলের হাতে শেষ পর্যন্ত শিরোপা ওঠার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

    অপটার সুপারকম্পিউটারের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড। তাদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ২১.৯ শতাংশ। তবে ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনায় তারা স্পেনের চেয়ে সামান্য এগিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে থ্রি লায়ন্সদের ফাইনালের মঞ্চে খেলার সম্ভাবনা ৫০.৯ শতাংশ।

    এদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও সুপারকম্পিউটারের হিসাবে শিরোপা জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির দলের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ২০.৬ শতাংশ, যা চার দলের মধ্যে সবচেয়ে কম।

    তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তাদের জয়ের পূর্বাভাস প্রায় সমানে সমান। ২৫ হাজার সিমুলেশনের মধ্যে ৪৯.১ শতাংশ ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠবে। অর্থাৎ, এই লড়াইয়ের ফল যেকোনো দিকেই যেতে পারে।

    প্রসঙ্গত, অপ্টার সুপারকম্পিউটার কোনো ম্যাচের সম্ভাব্য ফলাফল নির্ধারণ করার জন্য প্রায় ২৫ হাজারবার সিমুলেশন চালায়। এছাড়াও দলগুলোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, খেলোয়াড়দের পরিসংখ্যান, শক্তিমত্তা, অতীত রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে প্রতিটি দলের জয়ের সম্ভাবনা নির্ধারণ করে প্রতিষ্ঠানটি। এবারের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের সবগুলো ম্যাচের ফলাফল নিয়ে সঠিক পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হয়েছে। তাদের বেছে নেওয়া চারটি দলই কোয়ার্টারের বাধা পেরিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে।

    এর আগে শেষ ষোলোর আটটি ম্যাচের মধ্যে ৬টির ফলাফল সঠিকভাবে অনুমান করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া নকআউট পর্বের প্রথম ধাপের ১৬ ম্যাচের মধ্যে ১৪টি ম্যাচের বিজয়ীও তারা সিমুলেশনের মাধ্যমে আগেভাবেই নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছিল।

  • আর্জেন্টিনা নয়, ভিএআরের সর্বোচ্চ সুবিধা পাচ্ছে অন্য দল

    আর্জেন্টিনা নয়, ভিএআরের সর্বোচ্চ সুবিধা পাচ্ছে অন্য দল

    আর্জেন্টিনা কি রেফারিংয়ে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে? বিষয়টি নিয়ে এবারের বিশ্বকাপের বিতর্কের শেষ নেই। বিশেষ করে শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচ এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কয়েকটি সিদ্ধান্তের পর সামাজিক মাধ্যমে বিষয়ট নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে পরিসংখ্যান বলছে, বাস্তব চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন।

    শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর মিসরের কোচ ও কয়েকজন ফুটবলার প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন, শিরোপাধারীদের সুবিধা দিতেই এবারের বিশ্বকাপ সাজানো হয়েছে। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের স্ট্রাইকার ব্রিল এমবোলোকে লাল কার্ড দেখানোর ঘটনা নিয়েও কম বিতর্ক হয়নি। অনেকের মতে, ওই ঘটনায় ভিএআরের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন ছিল না।

    নর্থইস্টার্ন গ্লোবাল নিউজ ভিএআরের সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছে, গ্রুপ পর্ব থেকে শেষ ষোলো পর্যন্ত ভিএআরের সবচেয়ে বেশি সুবিধাপ্রাপ্ত দলের তালিকার দুই নম্বরে আছে আর্জেন্টিনা। শীর্ষে রয়েছে এবারের বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক মেক্সিকো।

    বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শেষ ষোলো পর্যন্ত আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ভিএআরের একটি সিদ্ধান্তও যায়নি। একই চিত্র দেখা গেছে মেক্সিকোর ক্ষেত্রেও।

    প্রতি ১০০টি ফাউলে ভিএআরের হস্তক্ষেপের হিসাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধাপ্রাপ্ত পাঁচ দল হলো—মেক্সিকো (দলের পক্ষে ৭.৮, বিপক্ষে ০.০), আর্জেন্টিনা (৬.৭, ০.০), পর্তুগাল (৪.৬, ০.০), নিউজিল্যান্ড (৪.২, ০.০) এবং সৌদি আরব (৩.৬, ০.০)।

    অন্যদিকে, ভিএআরের সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ক্রোয়েশিয়ার ওপর। ২০১৮ বিশ্বকাপের রানার্সআপ দলটি পুরো টুর্নামেন্টে নিজেদের পক্ষে একটি ভিএআর সিদ্ধান্তও পায়নি। তাদের বিপক্ষে ভিএআরের হস্তক্ষেপের হার প্রতি ১০০ ফাউলে ৬.৫।

    এই তালিকায় এরপর রয়েছে ইরান (দলের পক্ষে ০.০, বিপক্ষে ৫.৪), কাতার (০.০, ৫.১), জার্মানি (০.০, ৪.০) এবং ইংল্যান্ড (০.০, ৩.৫)।

  • যমুনার চরে ‘আর্জেন্টিনা বটগাছ’

    যমুনার চরে ‘আর্জেন্টিনা বটগাছ’

    বিশাল আকৃতির একটি বটগাছ। গাছের কাণ্ড থেকে শুরু করে ডালপালা—সবখানেই আকাশি ও সাদা রঙের ছোঁয়া। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, প্রকৃতি যেন আর্জেন্টিনার চিরচেনা পতাকার সাজে সেজেছে। যেন আর্জেন্টিনার পতাকাই আকাশ ছুঁয়ে ভক্তদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে।

    সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী আজগড়া-জামতৈল খেয়াঘাটের পূর্ব পাশে যমুনার চরে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। স্থানীয়দের চাঁদায় প্রায় ১০ হাজার টাকার রঙ কিনে যুবক, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সি ১৯ জন প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বটগাছটি রাঙিয়েছেন।

    বটগাছটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। এটি দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। কেউ সেলফি তুলছেন, আবার কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন।

    সরেজমিনে দেখা যায়, আড়াই যুগেরও বেশি পুরোনো এই বটগাছটি এতদিন যমুনার চরের ক্লান্ত পথিকদের ছায়া দিত। এখন এটি ‘আর্জেন্টিনা বটগাছ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। নীল-সাদা রঙে সজ্জিত গাছটি চার রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে যেন সমর্থকদের স্বাগত জানাচ্ছে। গাছের ওপরে বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার পতাকা উড়ছে। নিচে চায়ের দোকানে বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করছেন সমর্থকেরা।

    স্থানীয়রা জানান, বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগ করতে চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে জড়ো হন। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার ম্যাচ থাকলে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। রান্না করা খাবারের আয়োজন, সাউন্ড সিস্টেম ও আলোকসজ্জাও থাকে। এসব আয়োজনের জন্য স্থানীয়রাই চাঁদা তোলেন।

    স্থানীয় আর্জেন্টিনা সমর্থক আসাদুল ইসলাম বলেন, দ্বিতীয়বারের মতো এই বটগাছটি নীল-সাদা রঙে রাঙানো হয়েছে। প্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা এবং ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির বিদায়ী বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতেই আমাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

    তিনি আরও বলেন, ফুটবলের উন্মাদনা এখন যমুনার চরেও ছড়িয়ে পড়েছে। সারা দিনের কাজ শেষে বিকাল বা সন্ধ্যায় এখানে বসে সবাই আলোচনা করেন—২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি শেষ পর্যন্ত কোন দল জিতবে।

  • ফ্রান্স স্কোয়াডে কোনো ‘ফরাসি খেলোয়াড়’ নেই: স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

    ফ্রান্স স্কোয়াডে কোনো ‘ফরাসি খেলোয়াড়’ নেই: স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন ও ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইকে ঘিরে মাঠের উত্তেজনার পাশাপাশি শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। সেই বিতর্কে এবার জড়িয়ে পড়েছেন স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাহয়।

    ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্পেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রাহয় স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল দিবাতে-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে ফ্রান্স জাতীয় দল নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা ফ্রান্সের দলে বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে, তবে তার দাবি, দলে ‘কোনো ফরাসি খেলোয়াড় নেই’, তারপরও তারা দুর্দান্ত খেলছে।

    রাহয়ের এই মন্তব্য প্রকাশের পর ফ্রান্সে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা তার বক্তব্যকে বর্ণবাদী ও বিভাজনমূলক বলে আখ্যা দেন।

    ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ রোববার বিএফএম টিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, রাহয়ের মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষ্য, ফ্রান্স এমন একটি দেশ যেখানে বৈচিত্র্যই শক্তি, আর বিভিন্ন পটভূমির মানুষ সমানভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পায়।

    শুধু ফ্রান্সেই নয়, রাহয়ের বক্তব্যের সমালোচনা হয়েছে স্পেনেও। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে তাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, এমন মন্তব্য একজন দায়িত্বশীল রাজনীতিকের সঙ্গে মানানসই নয়। পাশাপাশি তিনি রাহয়ের নিজেকে মধ্যপন্থী হিসেবে উপস্থাপনের দাবিও প্রশ্নবিদ্ধ করেন।

    স্পেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এখনও এমন মানুষ রয়েছেন যারা কোনো দেশের নাগরিকত্বকে পদবি, জন্মস্থান বা গায়ের রঙ দিয়ে বিচার করেন। অথচ প্রকৃত পরিচয় নির্ধারিত হওয়া উচিত দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, ভালোবাসা এবং অবদানের ভিত্তিতে। তিনি রাহয়ের মন্তব্যকে বিদেশিবিদ্বেষী বলে অভিহিত করেন।

  • আবেগঘন বার্তায় যা বললেন হালান্ড

    আবেগঘন বার্তায় যা বললেন হালান্ড

    ২৮ বছর পর ফিফা বিশ্বকাপে ফিরে রূপকথার মতো এক অভিযান উপহার দিয়েছিল নরওয়ে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়লেও শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে পারেনি ভাইকিংরা। শনিবার রাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় তাদের।

    হতাশাজনক এই পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের উদ্দেশে হৃদয়স্পর্শী বার্তা দেন দলের অধিনায়ক ও তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। নিজের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে তিনি লেখেন, ‘এটি ছিল সত্যিই অসাধারণ একটি যাত্রা। আমাদের এই পথচলাকে এতটা স্মরণীয় করে তোলার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’

    হালান্ডের এই পোস্টটি প্রকাশের পরপরই ব্যাপক সাড়া ফেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

    যদিও নরওয়ের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালেই, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন ২৫ বছর বয়সি এই তারকা স্ট্রাইকার। পাঁচ ম্যাচে সাত গোল করে তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের পর তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছেন।

    বিশেষ করে শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে করা তার জোড়া গোল ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। হালান্ডের অসাধারণ নৈপুণ্যে ব্রাজিল ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আগেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়। অন্যদিকে, নরওয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শেষ আটে জায়গা করে নিয়ে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করে।

  • স্মার্টফোন থাকলে আমি খুব বাজেভাবে এতে আসক্ত হয়ে পড়তাম: ক্রিস্টোফার নোলান

    স্মার্টফোন থাকলে আমি খুব বাজেভাবে এতে আসক্ত হয়ে পড়তাম: ক্রিস্টোফার নোলান

    জুলাইয়ের এক মেঘলা সকাল। চরম বৈরী স্কটল্যান্ডের উপকূলের আবহাওয়া। চারদিকে সিসা রঙের আকাশ, উত্তাল সমুদ্র আর আনুভূমিকভাবে পড়তে থাকা বৃষ্টি। ঝড়ের মধ্যেই নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান তাঁর উপদেষ্টার খোঁজে জেটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। মনে মনে ভাবছিলেন, তাঁর নতুন চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’-র ছয় মাসের শুটিং শিডিউলের প্রথম দিনটি হয়তো আজ বাতিল করতে হবে।

    কিন্তু ১১৫ ফুট দীর্ঘ যে জাহাজটিতে তাঁরা শুটিং করছিলেন, সেটি ঠিক এই ধরনের প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছিল। উপদেষ্টা নোলানকে আশ্বস্ত করলেন, অভিজ্ঞতা কিছুটা ভয়ানক হলেও কাজ করা পুরোপুরি নিরাপদ হবে। এক ঘণ্টার মধ্যে পরিচালক, অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা উত্তাল ঢেউয়ের বুকে ভেসে পড়লেন। ঢেউয়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, বেশ কয়েকজন সহ-অভিনেতা জাহাজের রেলিং ধরে বমি করতে শুরু করেন।

    ঝড়ের গর্জনকে ছাপিয়ে নোলান চিৎকার করে তাঁর চিত্রগ্রাহক হোয়াইটে ভ্যান হোয়াইটেমাকে ডেকে বললেন, ‘কিছু মনে না করলে বমি করার এই দৃশ্যগুলো কি আমরা ক্যামেরায় ধারণ করতে পারি?’ দীর্ঘ এক বছর পর, লন্ডনের করিন্থিয়া হোটেলের শান্ত পরিবেশে বসে ৫৫ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ-আমেরিকান পরিচালক সেই দিনের স্মৃতিচারণ করছিলেন।

    নোলান হাসিমুখে বলেন, ‘অভিনেতাদের কৃতিত্ব দিতেই হয়, তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে রাজি হয়ে চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করেছিলেন। দিনটি একই সঙ্গে যেমন কষ্টের ছিল, তেমনি দারুণ কিছু শট এনে দিয়েছিল। সেগুলোই পরবর্তীতে এই সিনেমায় আমার অন্যতম প্রিয় দৃশ্য হয়ে ওঠে।’

    হোমার রচিত প্রাচীন গ্রিক মহাকাব্যের ওপর ভিত্তি করে নোলানের এই নতুন সিনেমাটিকে (দ্য ওডিসি) ইতিমধ্যে ২০২৬ সালের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। সিনেমার প্রিমিয়ারের ঠিক আগের রাতে ফুটবল ম্যাচ দেখার কারণে ভোর ৪টা পর্যন্ত জেগে থাকা নোলান চা পান করছিলেন আর তাঁর সিনেমা নির্মাণের নানা অভিজ্ঞতা শোনাচ্ছিলেন।

    ১৯৭০ সালে লন্ডনে জন্ম নেওয়া এবং যুক্তরাজ্য ও শিকাগোয় বেড়ে ওঠা নোলান ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্ন দেখতেন। ১৯৯৮ সালে তিনি তাঁর প্রথম স্বল্প বাজেটের ব্ল্যাক-অ্যান্ড-হোয়াইট ক্রাইম থ্রিলার ‘ফলোয়িং’ দিয়ে বাজিমাত করেন। এরপর ভাই জোনাথনের ছোটগল্প অবলম্বনে তৈরি করেন ‘মেমেন্টো’। মাত্র ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের সেই সাইকোলজিক্যাল মিস্ট্রি সিনেমাটি তাঁকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দেয়। এরপর একে একে ইনসোমনিয়া, ব্যাটম্যান ট্রিলজি, ইনসেপশন, ইন্টারস্টেলার এবং ২০২৩ সালে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যবসা করা ও সাতটি অস্কার জেতা ওপেনহাইমার-এর মতো কালজয়ী সিনেমা উপহার দেন তিনি।

    হলিউডের স্টুডিও ও নির্মাতারা তাঁর ওপর চোখ বন্ধ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে, কারণ দর্শনের জটিল মনস্তত্ত্ব বা সময়কে উল্টো করে দেখানোর মতো দুরূহ বিষয়কেও নোলান অবলীলায় বক্স অফিস হিটে রূপান্তর করতে পারেন। নোলান জানান, অনেকে ভাবছেন ‘দ্য ওডিসি’ তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমা। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ২০১২ সালের ‘দ্য ডার্ক নাইট রাইজেস’ এখনো তাঁর সবচেয়ে বেশি বাজেটের ছবি।

    এই সিনেমাটি মুক্তির আগেই ইন্টারনেটে তীব্র সংস্কৃতি যুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছিল। গত মে মাসে যখন জানা যায়, জিউসের পৌরাণিক কন্যা ‘হেলেন অব ট্রয়’ চরিত্রে অভিনয় করবেন কেনিয়ান-মেক্সিকান কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেত্রী লুপিটা ইয়ংও, তখন ইলন মাস্কসহ একদল ইউটিউবার নোলানকে হলিউডের ‘ওক এজেন্ডা’-র কাছে আত্মসমর্পণ করার দায়ে অভিযুক্ত করেন। এ ছাড়া ট্রিলজির অন্য একটি চরিত্রে ট্রান্সজেন্ডার অভিনেতা এলিয়ট পেজের কাস্টিং নিয়েও অনেকে আপত্তি তোলেন, যার ফলে ইউটিউবে সিনেমার ট্রেইলারে প্রায় ৬ লাখ ডিসলাইক পড়ে।

    এই বিষয়ে জানতে চাইলে নোলান শান্তভাবে চায়ে চুমুক দিয়ে হেসে বলেন, ‘এগুলো আসলে এই পেশারই অংশ। মানুষ সিনেমাটি দেখার আগেই যেসব বিতর্ক করে তা পুরোপুরি অর্থহীন। কারণ তারা জানেই না পর্দায় আসলে কী আসতে চলেছে। আমি ব্যাটম্যান নির্মাণের সময় ১০ বছর এই ধরনের ভক্তদের উন্মাদনা সামলেছি। হিথ লেজারকে যখন জোকার চরিত্রে নেওয়া হয়েছিল, তখনো অনেকে আকাশ থেকে পড়েছিলেন। আমার কাজ হলো মূল টেক্সটের প্রতি সৎ থেকে নিজের সেরা কাজটা পর্দায় ফুটিয়ে তোলা।’

    বর্তমান যুগের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের মধ্যেও নোলান প্রথাগত প্র্যাক্টিক্যাল ইফেক্টস এবং অ্যানিমেট্রনিক্সের ওপর ভরসা করেন। সিনেমার দৃশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের যত্রতত্র ব্যবহারের বিরোধিতা করেন। তিনি তাঁর নিজের চার সন্তানের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘নতুন প্রজন্ম এআইয়ের তৈরি কৃত্রিম জিনিসগুলো খুব দ্রুত ধরে ফেলে এবং তা প্রত্যাখ্যান করে। চলচ্চিত্রে এখন আবার বাস্তব ও স্পর্শকাতর গল্প বলার ধারা ফিরে আসছে।’

    নোলানের নিজের প্রযুক্তিবিমুখতাও চলচ্চিত্র পাড়ায় বেশ কিংবদন্তিতুল্য। তিনি আজ পর্যন্ত কোনো স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না। এ বিষয়ে হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘আপনারা সবাই এখন পড পিপল বা ফোনের দাস হয়ে গেছেন। আমি যদি একটা স্মার্টফোন কিনতাম, তবে আমি খুব বাজেভাবে এতে আসক্ত হয়ে পড়তাম এবং সারাক্ষণ ইন্টারনেটে তথ্য খুঁজতাম। আমি আমার সিনেমার নতুন নতুন আইডিয়াগুলো মূলত সেই সময়গুলোতেই মাথায় আনি যখন সাধারণ মানুষ পকেট থেকে ফোন বের করে স্ক্রিনে ডুবে যায়—যেমন ট্রেনে বা এয়ারপোর্টে অপেক্ষার সময় কিংবা রেস্তোরাঁয় কারও জন্য বসে থাকার মুহূর্তগুলোতেই আমি আমার পরবর্তী কাজের রূপরেখা তৈরি করি।’

    স্মার্টফোন না থাকার কারণে তিনি ইন্টারনেটের কোনো গুজবে কান দেন না এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রল থেকেও দূরে থাকেন। কোয়েন্টিন ট্যারান্টিনোর মতো ‘১০টি সিনেমা বানিয়ে অবসরে যাওয়া’-র নিয়মে তিনি বিশ্বাসী নন। নোলান মনে করেন, প্রতিটি সিনেমাই এমনভাবে বানানো উচিত যেন এটিই তাঁর জীবনের শেষ কাজ। সিনেমা হলের ভেতরে ফোন ব্যবহারেরও বিরোধী নোলান। আগামী ১৭ জুলাই শুক্রবার থেকে বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে তাঁর নতুন সিনেমা ‘দ্য ওডিসি’ উপভোগ করার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দর্শকদের।

  • কোন নিয়মে লাল কার্ড দেখলেন সুইজারল্যান্ডের ফুটবলার

    কোন নিয়মে লাল কার্ড দেখলেন সুইজারল্যান্ডের ফুটবলার

    সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোর লাল কার্ড বিশ্বকাপে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সুইসদের সমতাসূচক গোলের পরপরই পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনেইরোর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। তবে ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়েছে, এটি ছিল বিশ্বকাপে চালু হওয়া ভিএআরের নতুন একটি নিয়মের প্রয়োগ।

    কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৭২ মিনিটের ঘটনা। এমবোলোকে ফাউলের অভিযোগে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে ম্যাচ পরিচালকের কাছে গিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন পারেদেস। এরপর ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ড রেফারি (ভিএআর) দেখতে যান পিনেইরো। ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, এমবোলোকে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার কোনো ফাউলই করেননি। বরং এম্বোলো ফাউলের ভান করেছিলেন।

    এই অবস্থায় ভিএআরের মিস্টেকেন আইডেন্টিটি বা ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়ার প্রোটোকল কার্যকর হয়। যেহেতু রেফারি প্রথমে ভুল খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন, তাই ভিডিও রিপ্লে দেখে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ফাউলের ভান করে রেফারিকে বিভ্রান্ত করার কারণে এমবোলোকেই হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। সেটা ছিল ম্যাচে তাঁর দেখা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় সুইস এই ফরোয়ার্ডকে।

    এ ধরনের ঘটনা অবশ্য এই প্রথম নয়। এবারের বিশ্বকাপে ‘ডি’ গ্রুপে যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের ম্যাচেও একই নিয়ম প্রয়োগ করা হয়েছিল। সেবার রেফারি প্রথমে আলমিরনের ওপর ফাউলের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের এক খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখান। পরে ভিএআর পর্যালোচনায় পর দেখা যায়, প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়ই ফাউলের ভান করেছিলেন। এরপর রেফারি আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে প্যারাগুয়ের ওই খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখান।

    বিশ্বকাপে ভিএআরের নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়া হলে ভিডিও পর্যালোচনার মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত সংশোধন করা যাবে। একই সঙ্গে ফাউলের ভান বা প্রতারণার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ও শাস্তি পাবেন। এমবোলোর বিতর্কিত লাল কার্ড সেই নিয়মেরই সর্বশেষ উদাহরণ।

  • সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, কিছু যায় আসে না: আর্জেন্টিনার কোচ

    সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, কিছু যায় আসে না: আর্জেন্টিনার কোচ

    কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পেরিয়ে এখন সেমিফাইনালের দিকে তাকিয়ে আর্জেন্টিনা। শেষ চারে আলবিসেলেস্তেদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। তবে প্রতিপক্ষ নিয়ে ভাবছেন না দলটির প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। বরং দলকে সেরা ফুটবল খেলার তাগিদ দিলেন তিনি।

    কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ দল হিসেবে সেমিফাইনালে পা রেখেছে আর্জেন্টিনা। তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের আগেই শেষ চারের টিকিট কেটেছে ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে টমাস টুখেলের দলের জয় ২-১ ব্যবধানে।

    ফাইনালে ওঠার মিশনে আগামী ১৫ জুলাই বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় আটালান্টা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। সে ম্যাচ সম্পর্কে স্কালোনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড হোক বা নরওয়ে, তাতে কিছু যায় আসে না। আমরা এমন একটি দলের (ইংল্যান্ড) মুখোমুখি হব যারা খুব ভালো ফুটবল খেলে এবং তাদের একজন দারুণ কোচ আছেন। এখন আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন শক্তি ফিরে পাওয়া। সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

    কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। মাক আলিস্তারের গোলে ৬৬ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে ছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। ডান এনদয়ে সুইজারল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরানোর পর নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল হয়নি। এরপর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে বাজিমাত করে আর্জেন্টিনা। একটি করে গোল করেন হুলিয়ান আলভারেস ও লাউতারো মার্তিনেস।

    সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, ‘আমাদের ভুগেতে হয়েছে। জানতাম তারা (সুইজারল্যান্ড) খুবই শারীরিক শক্তিনির্ভর দল। আমাদের কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছিল এবং কিছু মুহূর্তে আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি। ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল, কারণ তাদের একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেছিল। তখনই আমরা আক্রমণে যেতে পেরেছি। বাস্তববাদী হতে হবে, আমাদের উন্নতির জায়গা আছে। তবে জিততে পারা সব সময়ই ভালো।’

    কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে না পারলেও শেষ চারে ওঠার আনন্দ লুকাননি স্কালোনি, ‘হয়তো আমরা আরও ভালো খেলতে পারতাম। কিন্তু এই দল যা অর্জন করেছে, তা ইতিহাস। আবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা সত্যিই ঐতিহাসিক।’

  • সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি পেলে মেসিই কি নেবেন?

    সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি পেলে মেসিই কি নেবেন?

    লিওনেল মেসিকে নিয়ে সংশয়! এ তো রীতিমতো দুঃসাহস! তবু ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্নটা করতে হচ্ছে। আগামীকাল কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি পেলে মেসিই কি নেবেন? প্রশ্নটা করতে হচ্ছে মেসির কারণেই। কারণটা হয়তো জানেনই—এবারের বিশ্বকাপে দুটি পেনাল্টি নিয়ে দুটিতেই গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন মেসি।

    একবার ভাবুন তো, ওই দুটি পেনাল্টি থেকে মেসি গোল পেলে কী হতো? মিসর ম্যাচে হয়তো আর্জেন্টিনা খাদের কিনারায় পড়ত না। কিছু সময়ের জন্য দল চাপে পড়ত না অস্ট্রিয়া ম্যাচেও। সঙ্গে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় তিনি এখন একাই রাজত্ব করতেন। ৮ গোল করে কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে সিংহাসন ভাগাভাগি করতে হতো না।

    ধরুন, আগামীকাল সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা আবার পেনাল্টি পেল, তখন কি সেটা মেসিই নেবেন? নাকি অন্য কেউ? অন্য কাউকে আলোচনায় আনাটা সহজ নয়। কারণ, এই দলে সবকিছুই তো মেসিনির্ভর! একটা পরিসংখ্যান দেওয়া যাক।

    মিসরের বিপক্ষে গোলের পর মেসির উদ্‌যাপন রয়টার্স

    সর্বশেষ যে ম্যাচটিতে মেসি পেনাল্টি মিস করেছেন, সেই ম্যাচেই মেসি গোল করেছেন, আবার করিয়েছেনও। বিশ্বকাপে পঞ্চমবারের মতো এই কীর্তি গড়েছেন, যেখানে ১৯৬৬ সালের পর থেকে অন্য কোনো খেলোয়াড় তিনবারের বেশি এটি করতে পারেননি। সেই ম্যাচেই মেসি গড়েন বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্যাচ আর নকআউট ম্যাচে টানা ৬ ম্যাচে গোলের রেকর্ড।

    তো এত সব করা মেসিকে পেনাল্টি নিতে বারণ করাও তো বিপদ! আর্জেন্টিনা দলে অন্যরা কেমন পেনাল্টি নেন, সেটাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। মেসি ছাড়া আর কে আছেন পেনাল্টি নেওয়ার মতো? মেসি ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে পেনাল্টি নিয়েছেন ১৪৮টি। এর মধ্যে ১১৪টি শটে গোল করেছেন, সাফল্যের হার ৭৭ শতাংশ। মেসির চেয়ে কেউ কি ভালো আছেন এই দলে?

    শতাংশের বিচারে বললে বলতে হবে, আছেন। তা–ও একজন নয়। এই হিসাবে পেনাল্টিতে মেসির চেয়ে ভালো আছেন পাঁচজন। আর্জেন্টিনা দলে পেনাল্টি সফলতায় সবচেয়ে এগিয়ে লিয়ান্দ্রো পারদেস, তাঁর সফলতার হার ৯২.৯ শতাংশ।

    তালিকায় এর পরে আছেন ম্যাক অ্যালিস্টার, তিনি ৯১.৭ শতাংশ পেনাল্টিকে গোলে পরিণত করেছেন। সমান শতাংশ সফলতা আছে এনজো ফার্নান্দেজেরও। হুলিয়ান আলভারেজের সফলতার হার ৮৯.৪ শতাংশ। এমনকি নিকো গঞ্জালেজের পেনাল্টি সফলতার হারও মেসির চেয়ে ভালো—৮২.০৪ শতাংশ।

    তাহলে এরা সবাই কি মেসির চেয়ে ভালো পেনাল্টি নেন? এর আসলে সরাসরি কোনো উত্তর নেই। কারণ, ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে ১০টি পেনাল্টি গোল করা কোনো আর্জেন্টাইন মেসির ৫ শতাংশের ভাগের এক শতাংশ পেনাল্টিও নেননি। এ তালিকায় মেসির পর সর্বোচ্চ পেনাল্টি নিয়েছেন মার্তিনেজ, তা–ও মাত্র ২৭টি। পেনাল্টি যিনি বেশি নেন, মিস তো তিনিই বেশি করবেন!

  • কেইন না হলান্ড—গোল করায় কে বেশি দক্ষ

    কেইন না হলান্ড—গোল করায় কে বেশি দক্ষ

    ম্যাচে আপনার দল পিছিয়ে, গোল দরকার যেকোনো মূল্যে, আপনি কার দিকে আশাভরে তাকিয়ে থাকবেন?

    এই মুহূর্তে আপনাকে প্রশ্ন করা হলে মেসি-এমবাপ্পের সঙ্গে আপনার মাথায় আসতে পারে আরও দুটি নাম। হ্যারি কেইন ও আর্লিং হলান্ড। আর আজ রাতে ইংল্যান্ড-নরওয়ে ম্যাচটা এই সময়ের দুই সেরা স্ট্রাইকারকে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে প্রতিপক্ষ হিসেবে।

    এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে যা পারফরম্যান্স, তাতে তাঁদের খুব বেশি আলাদা করা কঠিন। হলান্ড এর মধ্যে করে ফেলেছেন ৭ গোল, কেইনের গোল ৬টি। হলান্ড অবশ্য একটি ম্যাচ কম খেলেছেন, পরের রাউন্ড নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় ফ্রান্সের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। যে কারণে কেইনের প্রতি ৯০ মিনিটে ১.২ গোল গড়ের চেয়ে হলান্ডের রেকর্ডটা বেশ ভালো, ১.৮।

    দুজনের পার্থক্য আছে আরও একটা জায়গায়। কেইন দুটি গোল পেয়েছেন পেনাল্টি থেকে, হলান্ডের কোনোটিই পেনাল্টি থেকে নয়। হলান্ডের ৭ গোলের মধ্যে ব্রাজিলের বিপক্ষে দ্বিতীয় গোলটি ছিল বক্সের বাইরে থেকে, কেইনের আবার বক্সের বাইরে থেকে একটি গোলও নেই।

    ক্লাব ফুটবলেও দুজন গোলের পর গোল করে গেছেন গত বেশ কিছু মৌসুম ধরেই। ৩২ বছর বয়সী কেইন সবচেয়ে সোনালি সময় কাটাচ্ছেন, এই মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে করে ফেলেছেন ৭৩ গোল। এক মৌসুমে এর চেয়ে বেশি গোলের কীর্তি আছে শুধু ২০১১-১২ মৌসুমে লিওনেল মেসির (৮২)। হলান্ড একটু পিছিয়ে, ম্যান সিটি ও নরওয়ের হয়ে এই মৌসুমে তাঁর মোট গোলসংখ্যা ৫৮।

    হ্যারি কেইন আছে দারুণ ছন্দেএএফপি

    দুজনের তুলনায় কেউ বলতেই পারেন, কেইন হয়তো হলান্ডের চেয়ে আরেকটু বেশি পূর্ণাঙ্গ ফুটবলার। দুজনই নাম্বার নাইন হলেও হলান্ড যেখানে বক্সের আশপাশে গোলের জন্য ওত পেতে থাকেন পাকা শিকারির মতো, সেখানে কেইনকে অনেক সময় নিজেদের ডি বক্সে এসেও রক্ষণ করতে দেখা যায়।

    এই বিশ্বকাপে কেইন একটি অ্যাসিস্ট করেছেন, হলান্ডের একটিও না। আবার হলান্ড বিশ্বকাপে সতীর্থদের জন্য ৬টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন—কেইনের চেয়ে যা দুটি বেশি। গত তিন মৌসুমে বায়ার্নের হয়ে কেইনের অ্যাসিস্ট ২৬টি, ২৪টি অ্যাসিস্ট নিয়ে হলান্ডও খুব বেশি পিছিয়ে নেই।

    ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা কেইন ইংলান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড গড়ে ফেলেছেন। তিন বিশ্বকাপে তাঁর গোল এখন ১৪টি। ওদিকে হলান্ডের এটাই প্রথম বিশ্বকাপ।

    আর্লিং হলান্ড খেলছেন প্রথম বিশ্বকাপএএফপি

    তবে দেশের হয়ে তাঁর ফর্মটা প্রায় অবিশ্বাস্য, ৫৪ ম্যাচে ৬২ গোল। যার মানে প্রতি ৭১ মিনিটে নরওয়ের হয়ে একটি গোল করেছেন, যেখানে তিনি কেইন-মেসি-এমবাপ্পেদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে।

    জাতীয় দলে দুজন দুজনের বিপরীতে এখনো না খেললেও ক্লাব ফুটবলে সেই অভিজ্ঞতা হয়েছে। টটেনহামে থাকার সময় দুবার কেইন হলান্ডের সিটির মুখোমুখি হয়েছিলেন। ২০২৩ সালে প্রথম দেখায় ইতিহাদে টটেনহামের বিপক্ষে গোল পেয়েছিলেন হলান্ড। কেইন অবশ্য পরের দেখায় টটেনহামের হয়ে জয়সূচক গোল করে শেষ হাসিটা হেসেছেন।

    সেই হাসিটা আজ কার মুখে থাকবে?