আর্ন্তজাতিক

  • বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসির মুখোমুখি হওয়া নিয়ে যা বলেছিলেন ইয়ামাল

    বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসির মুখোমুখি হওয়া নিয়ে যা বলেছিলেন ইয়ামাল

    আগামী ১৯ জুলাই ফুটবল বিশ্ব দেখতে যাচ্ছে এক রূপকথার ফাইনাল। একদিকে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন, অন্যদিকে কোপা আমেরিকার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা—বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই পরাশক্তি।

    তবে এই ব্লকবাস্টার ফাইনালের মূল আকর্ষণ কেবল ট্রফি জয় নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম অবিশ্বাস্য এক নিয়তি। ফুটবল ভক্তদের সব আলো এখন কেড়ে নিচ্ছেন দুই মহাতারকা: লিওনেল মেসি এবং লামিন ইয়ামাল।

    আর্জেন্টিনার এই জীবন্ত কিংবদন্তির সঙ্গে ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামার স্বপ্ন দেখতেন ইয়ামাল। অবশেষে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে সেই স্বপ্ন।

    সম্প্রতি মেসির মুখোমুখি হওয়া প্রসঙ্গে জনপ্রিয় স্পোর্টস প্ল্যাটফর্ম ডেজন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল হাসিমুখে বলেছিলেন, ‘আমি একটু বড় হয়েছি, আর লিও-ও (অভিজ্ঞতায়) বেড়েছে। আশা করি আমি একটি ফাইনালে তার মুখোমুখি হতে পারব, বিশেষ করে যেহেতু আমাদের মধ্যে ফিনালিসিমা ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ায়নি।’

    অবশেষে ইয়ামালের সেই স্বপ্নই সত্যি হতে যাচ্ছে। ফুটবল অমরত্বের লড়াইয়ে মেসিরই মুখোমুখি দাঁড়াতে যাচ্ছেন এই স্প্যানিশ পোস্টারবয়।

    আগামী রোববার (১৯ জুলাই) ফাইনালের মহারণে এই দুজন মুখোমুখি হবেন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে। একদিকে মেসির সামনে তার সোনালী ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার হাতছানি, অন্যদিকে তরুণ ইয়ামালের সামনে বিশ্বজয়ের মঞ্চে নিজেকে নতুন রাজা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ। ফুটবলের এই মহাকাব্যিক লড়াইয়ের অপেক্ষায় এখন পুরো বিশ্ব।

  • মেসির রেটি ৯, স্কালোনির কেন ১০?

    মেসির রেটি ৯, স্কালোনির কেন ১০?

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াই উপহার দিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বুধবার রাতে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলের জয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা উঠে গেল ফাইনালে। শিরোপা লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন। কোচ লিওনেল স্কালোনির অসাধারণ ট্যাকটিকস আর লিওনেল মেসির জাদুকরীয় ফুটবলে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে বিশ্লেষকদের দেওয়া রেটিংয়ে স্কালোনি পেয়েছেন পূর্ণ ১০ এবং মেসি পেয়েছেন ৯। কিন্তু কেন?

    শুরুতেই দেখে নেওয়া যাক ইএসপিএনের বিশ্লেষকেরা আর্জেন্টিনা দলকে কেমন রেটিং দিয়েছেন:

    এমিলিয়ানো মার্তিনেস (৬/১০): খুব বেশি পরীক্ষা দিতে হয়নি, তবে দায়িত্বশীল ছিলেন।

    নিকোলাস তাগলিয়াফিকো (৬/১০): রক্ষণে নিজের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আক্রমণেও সহায়তা করেছেন।

    লিসান্দ্রো মার্তিনেস (৬/১০): বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকল করেছেন।

    ক্রিস্টিয়ান রোমেরো (৬/১০): রক্ষণভাগে ছিলেন বেশ সতর্ক।

    নাহুয়েল মলিনা (৩/১০): ইংল্যান্ডের গোলটির সময় তার ভুলই কাল হয়ে দাঁড়ায়।

    এনজো ফার্নান্দেস (৮/১০): দলের প্রয়োজনে দুর্দান্ত এক গোল করে ম্যাচে ফেরান আর্জেন্টিনাকে।

    আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (৭/১০): মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ছিল তার হাতে।

    লেয়ান্দ্রো পারেদেস (৫/১০): মাঝমাঠে শারীরিক শক্তিতে ভূমিকা রেখেছেন।

    জুলিয়ানো সিমিওনে (৫/১০): প্রেস করার কাজটা ভালো করলেও প্রথমার্ধের পরেই বদলি হন।

    হুলিয়ান আলভারেস (৬/১০): দলের হয়ে সুযোগ তৈরি করেছিলেন, তবে গোল পাননি।

    লিওনেল মেসি (৯/১০): ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বকাপের মঞ্চে তিনি যেন অজেয়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তার বাঁ পায়ের জাদুকরী ক্রস থেকেই জয়সূচক গোলটি আসে। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি যেভাবে পুরো দলকে এক সুঁতায় গেঁথেছেন, তা এক কথায় বিস্ময়কর। ম্যাচের প্রথমার্ধে যখন আর্জেন্টিনা ধুঁকছিল, তখন মেসি নিজেই নিচে নেমে আসেন। ইংল্যান্ডের শক্তিশালী ডিফেন্সিভ ব্লকের ফাঁকফোকর খুঁজে বের করার কাজটি তিনিই করেছেন। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তার সেই অসাধারণ ক্রস থেকে লাউতারো মার্টিনেসের জয়সূচক গোল। এটিই প্রমাণ করে, বড় মঞ্চে মেসি কেন এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী। গোল না পেলেও খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া অ্যাসিস্ট ও তার উপস্থিতি আর্জেন্টিনার জন্য ছিল মহাগুরুত্বপূর্ণ।

    লিওনেল স্কালোনি (১০/১০): আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনিকে দশে দশ দিয়েছেন ইএসপিএনের বিশ্লেষকেরা। এর মূল কারণ তার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। ইংল্যান্ড যখন এগিয়ে গিয়েছিল, তখন স্কালোনি ঘাবড়ে যাননি। তার সাবস্টিটিউশনগুলো ছিল নিখুঁত। ৭২ মিনিটে মলিনা ও পারেদেসকে তুলে নিয়ে রদ্রিগো ডি পল ও গঞ্জালো মনতিয়েলকে নামানো ছিল টার্নিং পয়েন্ট। এই পরিবর্তনের ফলেই আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ আরও ধাঁরালো হয়ে ওঠে এবং ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ চাপে পড়ে যায়। তাছাড়া সঠিক সময়ে লাউতারোকে নামিয়ে ম্যাচ বের করে আনেন। কোচ হিসেবে স্কালোনি দেখিয়েছেন পরিস্থিতি বুঝে কীভাবে ছক পরিবর্তন করে জয় ছিনিয়ে আনতে হয়।

    প্রশ্ন আসতে পারে, স্কালোনিকে কেন মেসির চেয়েও বেশি রেটিং দেওয়া হলো? বিশ্লেষকরা বলছেন, স্কালোনির ১০ পাওয়ার কারণ তার নির্ভুল গেম প্ল্যান ও প্লেয়ার পরিবর্তন। অন্যদিকে মেসির ৯ পাওয়ার কারণ তার একক ম্যাজিক। ফুটবল ইতিহাসে এমন অনেক ম্যাচ দেখা গেছে যেখানে দুর্দান্ত কৌশল থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে খেলোয়াড়দের ব্যর্থতায় জয় আসে না। আবার অনেক সময় খেলোয়াড়রা ভালো খেললেও ভুল কৌশলের কারণে দল হারে। আটলান্টায় এই দুইয়ের মহামিলন ঘটেছে। স্কালোনি ছক এঁকেছেন, আর মেসি সেই ছক অনুযায়ী দলের জয় নিশ্চিত করেছেন। নিজে গোল না পেলেও রেখেছেন গোল অবদান।

    ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনা কোচ ও অধিনায়ক যে ফর্মে আছেন, তাতে আর্জেন্টাইন সমর্থকরা স্বপ্ন দেখছেন আরও একটি বিশ্ব জয়ের। মেসি কি পারবেন ফাইনালে নিজের রেটিং ১০-এ নিয়ে যেতে? উত্তর মিলবে ১৯ জুলাই।

  • ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ কে? জানাল সুপারকম্পিউটার

    ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ কে? জানাল সুপারকম্পিউটার

    ডালাসের মাঠে ফরাসিদের দাপটের সাথে বিদায় করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রেখেছে স্পেন। গত রাতে প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। ফাইনালে স্প্যানিশ আর্মাডাদের প্রতিপক্ষ কে হচ্ছে, তা জানতে ফুটবল বিশ্বকে অপেক্ষা করতে হবে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা।

    আজ বুধবার দিবাগত রাত ১টায় আটলান্টায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচের জয়ী দলই আগামী রোববার নিউ ইয়র্কের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই বিশ্বখ্যাত ডাটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান ‘অপটা’র সুপারকম্পিউটার হিসাব কষে জানিয়েছে, ফাইনালে স্পেনের সঙ্গী হওয়ার দৌড়ে আসলে কারা এগিয়ে। প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ফেভারিট ঘোষণা করলেও সুপার কম্পিউটারের সেই পূর্বাভাস মাঠে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ফরাসিদের বিদায় দিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে স্পেন।

    ফরাসি জুজু কাটার পর এবার আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে পূর্বাভাস দিল অপটা’র সুপারকম্পিউটার। অপটার ২৫,০০০ প্রাক-ম্যাচ সিমুলেশনের গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার চেয়ে ফাইনালে ওঠার দৌড়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে থমাস টুহেলের ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা ৫২.৫৩ শতাংশ, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৪৭.৪৭ শতাংশ।

    পরিসংখ্যান বলছে, থ্রি লায়ন্সদের লড়াকু ফুটবল আর ট্যাকটিক্যাল শক্তির কারণে লিওনেল মেসির দলের টানা দ্বিতীয়বার ফাইনাল খেলার স্বপ্ন আজ রাতে বড় বাধার মুখে পড়তে পারে।

    প্রথম দল হিসেবে ফাইনালে পা রাখার পর ট্রফি জয়ের দৌড়েও পরিবর্তন এসেছে। সুপার কম্পিউটারের সর্বশেষ অ্যালগরিদম অনুযায়ী, তিন সিংহের দল কিংবা আলবিসেলেস্তেরা যারাই ফাইনালে উঠুক না কেন, শিরোপা জয়ের জন্য এখন সবচেয়ে বড় ফেভারিট স্পেন। অপটার হিসাব মতে, স্পেনের দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা এখন ৫৬.১৫ শতাংশ।

  • বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ফ্রান্সে উত্তেজনা, গ্রেফতার কমপক্ষে ১৬০

    বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ফ্রান্সে উত্তেজনা, গ্রেফতার কমপক্ষে ১৬০

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ফ্রান্সের একাধিক শহরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ম্যাচ শেষে প্যারিস ও লিওঁসহ কয়েকটি এলাকায় সমর্থকদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযান চালিয়ে দুই শহর মিলিয়ে ১৬০ জনের বেশি ব্যক্তিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘বিএফএমটিভি’ জানিয়েছে, শুধু রাজধানী প্যারিস থেকেই ১৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ প্রিফেকচারের তথ্যমতে, বেশির ভাগ গ্রেফতারের কারণ ছিল পুলিশ সদস্য ও জরুরি সেবাকর্মীদের লক্ষ্য করে আতশবাজির মর্টার ছোড়া।

    অন্যদিকে, লিওঁর প্লাস বেলকুর চত্বরে বড় পর্দায় শত শত সমর্থক সেমিফাইনাল উপভোগ করেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও সেখানে অনেকেই অবস্থান করছিলেন। পরে কয়েকটি ছোট দল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু, বিশেষ করে আতশবাজি নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ইউনিট সিআরএস ৮৩-এর সহায়তা নেয় পুলিশ। পরে যৌথ অভিযানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয় এবং প্রায় ২০ জনকে আটক করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ২০০২ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া তরুণ।

    তবে পুরো ঘটনায় স্বস্তির খবরও রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘর্ষের সময় কোনো গুরুতর আহতের ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি সরকারি বা বেসরকারি সম্পদের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবরও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

  • আজ কেন নীল জার্সিতে খেলবে আর্জেন্টিনা

    আজ কেন নীল জার্সিতে খেলবে আর্জেন্টিনা

    কিছু ম্যাচ থাকে, যার গল্প পরিসংখ্যানের খাতায় নয়, লেখা থাকে মানুষের স্মৃতিতে। পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যা দেখায়, স্মৃতিতে বেঁচে থাকে ইতিহাস। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ, ১৯৮৬ সালের সেই আজতেকার বিকেল, ‘হ্যান্ড অব গড’, শতাব্দীর সেরা গোল আর বেকহাম-সিমিওনের দ্বন্দ্ব। সেই সুখস্মৃতি মনে রাখতেই যেন আর্জেন্টিনার আরজি, নীল জার্সি পরতে দিতে হবে তাদের।

    সেমিফাইনালে ওঠার পরই ফিফার কাছে নীল জার্সি পরে খেলার অনুমতি নিয়েছে তারা। যে রঙের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ’৮৬–এর ম্যারাডোনার সেই দুই গোল। একটিতে ‘ঈশ্বরের হাত’, আরেকটি পায়ের অলৌকিক এক কারুকার্য। এক যুগ পর ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে একই জার্সিতে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড।

    সেদিন ডেভিড বেকহাম লাথি মেরেছিলেন দিয়েগো সিমিওনেকে, দেখেছিলেন লাল কার্ড। মূল খেলা ২-২ গোলে ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। নীল কেন আর্জেন্টিনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল, সেটি বোঝা যাবে দুই দলের সর্বশেষ লড়াইয়ে তাকালেও। ২০০২ আসরের সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডের লালের বিপক্ষে সাদা-আকাশি জার্সিতে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। সেদিন নীল ছিল না, আর্জেন্টিনাও বেকহামের একমাত্র গোলে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে পড়েছিল।

    নিয়ম অনুযায়ী, সেমিতে আগে ওঠায় ম্যাচে ইংল্যান্ডের পোশাকি নাম টিম ‘এ’। আর টিম ‘এ’ জার্সি বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়। ইংল্যান্ড নিজেদের জন্য সাদা জার্সি বেছে নিলে টিম ‘বি’ হিসেবে আর্জেন্টিনাকে ‘অ্যাওয়ে’ মানে নীল জার্সিতে খেলতে হতো। আর ইংল্যান্ড যদি অ্যাওয়ে, অর্থাৎ লাল জার্সি বেছে নিত, তবে আর্জেন্টিনাকে সাদা-আকাশি জার্সি পরে খেলতে হতো।

    ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, এমনভাবে জার্সি বেছে নিতে হয়, যাতে সাদা-কালো পর্দায় দুই দলকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। এ ছাড়া বর্ণান্ধ ব্যক্তিরা যাতে দুই দলকে গুলিয়ে না ফেলেন, সেটাও খেয়াল রাখা হয়। এ জন্য ব্যবহার করা হয় ‘স্পেক্ট্রোফটোমিটার’ নামের একধরনের প্রযুক্তি। ইংল্যান্ড যাতে কোনোভাবেই আর্জেন্টিনার নীল জার্সি পরা থামাতে না পারে, তাই আগেভাগেই নীল জার্সি পরার অনুমতি চেয়ে বসেছিল আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

    অবশ্য এত কিছু করার প্রয়োজনও তেমন ছিল না। কারণ, টিম ‘এ’ হিসেবে ইংল্যান্ড নিজেদের হোম জার্সি, অর্থাৎ সাদা জার্সিই বেছে নিয়েছে। সঙ্গে সাদা শর্টস আর সাদা মোজা। যে কারণে আর্জেন্টিনার জন্য নীল জার্সি, নীল শর্টস আর নীল মোজাই পড়েছে।

  • ১৮ কোটি রুপি খরচে প্রতারক স্ত্রীকে খুঁজে বের করলেন চীনা নাগরিক

    ১৮ কোটি রুপি খরচে প্রতারক স্ত্রীকে খুঁজে বের করলেন চীনা নাগরিক

    প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া, ভুয়া সন্তান জন্ম দেওয়া এবং স্বামীকে গাড়ি দুর্ঘটনায় হত্যার ষড়যন্ত্র করে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান স্ত্রী। এটি কোনো রোমাঞ্চকর সিনেমার গল্প নয়, চীনা বিনিয়োগকারী ৫২ বছর বয়সি লি পিং-এর বাস্তব জীবনের এক অবিশ্বাস্য লড়াই।

    দীর্ঘ ৯ বছর ধরে প্রায় ১৮ কোটি রুপি (১৩ মিলিয়ন ইউয়ান বা ১.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) খরচ করে অবশেষে নিজের প্রতারক সাবেক স্ত্রীকে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে লি পিং-এর শেয়ার করা ১৫ মিনিটের একটি ভিডিও এ মুহূর্তে চীনজুড়ে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে প্রায় ৭ কোটি ইউয়ান (১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) আয় করেন লি পিং। ২০১৪ সালে একটি ব্যবসায়িক ফোরামে তার সঙ্গে পরিচয় হয় ঝাং শুদান নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তার।

    ঝাং নিজেকে অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা এক লড়াকু নারী হিসেবে লির কাছে উপস্থাপন করেন। লির দাবি, ঝাং মূলত তার আর্থিক প্রতিপত্তি দেখেই সুপরিকল্পিতভাবে তার জীবনে প্রবেশ করেছিলেন।

    ঝাংয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তার ব্যাংকে ২ কোটি ইউয়ান জমা রাখেন লি এবং ঝাংয়ের পালক বাবা-মায়ের চিকিৎসার নাম করে বিভিন্ন সময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ সাহায্য করতে শুরু করেন। ২০১৫ সালের শুরুতে ঝাং বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং মার্চ মাসে জানান যে তিনি গর্ভবতী। খুশিতে লি তার জন্য শেনঝেনে ৭৫ লাখ ইউয়ানের একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কিনে দেন এবং ওই বছরের এপ্রিলেই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

    কিন্তু বিয়ের ঠিক পরের দিনই ঘটে প্রথম রহস্যজনক ঘটনা। লি সড়কপথে শেনঝেন ফেরার সময় তার গাড়ির ব্রেক হঠাৎ বিকল হয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে। অল্পের জন্য বেঁচে যান লি।

    এর কয়েক দিন পর, ব্যাংকের পারফরম্যান্স ভালো দেখানোর অজুহাতে ঝাং স্বামীর কাছ থেকে প্রায় ২৭ লাখ ইউয়ান হাতিয়ে নেন। এর পরপরই নিজের সমস্ত নথিপত্র এবং লির কেনা ৪টি সম্পত্তির মালিকানা দলিল নিয়ে উধাও হয়ে যান ঝাং।

    পরবর্তীতে পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, ঝাং হংকং হয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে পালিয়ে গেছেন।

    পরবর্তী তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। পুলিশ জানতে পারে, বিয়ের পর দিন লির গাড়ির ব্রেক বিকল হওয়ার পেছনে ঝাং এবং তার এক সহযোগীর হাত ছিল। লি বলেন, ‘সে কেবল টাকা চুরি করলেই আমি হয়তো এতটা পেছনে লাগতাম না। কিন্তু সে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার চক্রান্ত করেছিল, যাতে স্ত্রী হিসেবে আমার সমস্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারে।’

    প্রতারক স্ত্রীকে খুঁজে বের করতে ১০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দেন লি। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশেই ব্যক্তিগত গোয়েন্দা ও আইনজীবী নিয়োগ করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের গির্জা, চীনা কমিউনিটি সেন্টার এবং প্রসূতি কেন্দ্রগুলোতেও তল্লাশি চালানো হয়। দীর্ঘ ৯ বছরের অনুসন্ধান এবং প্রায় ১৮ কোটি রুপি ব্যয়ের পর লস অ্যাঞ্জেলেসে সন্ধান মেলে ঝাং ও তার সন্তানের। ডিএনএ টেস্টে প্রমাণিত হয়, ওই সন্তান লির নয়।

    অবশ্য আইনি লড়াইয়ের শুরুটা সহজ ছিল না। ঝাং তখনো লির আইনি স্ত্রী থাকায় প্রথম দিকে প্রতারণার মামলাটি থমকে যায়। তবে ২০২০ সালে শেনঝেনের একটি আদালত তাদের বিয়ে বাতিল ঘোষণা করে এবং ৪টি সম্পত্তি লি-এর নামে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

    অবশেষে ২০২৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত ঝাং শুদানকে জালিয়াতি, অবৈধ অনুপ্রবেশ, ভিসা জালিয়াতি, শিশু অপহরণ এবং মানবপাচারসহ ২৩টি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ৬৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে।

    ঝাংকে দেশ থেকে পালাতে সাহায্য করা তার সহযোগীদের বিরুদ্ধেও চীনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন লি পিং।

  • ইংলিশদের বিপক্ষে একাদশে যে পরিবর্তন আনতে পারে আর্জেন্টিনা

    ইংলিশদের বিপক্ষে একাদশে যে পরিবর্তন আনতে পারে আর্জেন্টিনা

    দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচের আগে শুরুর একাদশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, প্রতিপক্ষের শক্তি বিবেচনায় দলে এক-দুটি পরিবর্তন আনতে পারেন এই আর্জেন্টাইন কোচ।

    ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষের শক্তির কথা মাথায় রেখে আমরা একাদশে কিছু পরিবর্তন আনতে পারি। আমাদের লক্ষ্য সম্ভাব্য সেরা দলটিকে মাঠে নামানো। তবে সবাই ভালো অবস্থায় আছে।’

    যদিও সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি তিনি। ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের সঙ্গে শেষবারের মতো আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারানো দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই একাদশে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।

    টিওয়াইসি স্পোর্টসের দাবি, পরিবর্তন এলে সেটি মূলত মাঝমাঠেই দেখা যেতে পারে। গুঞ্জন রয়েছে, নিয়মিত একাদশের মিডফিল্ডার রদ্রিগো দি পলকে বেঞ্চে রাখা হতে পারে। মিসরের বিপক্ষেও তার জায়গা নিয়ে আলোচনা ছিল। এছাড়া জাতীয় দলের সর্বশেষ দুই ম্যাচেই নির্ধারিত সময়ের আগেই তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে।

    দি পল না খেললে তার জায়গায় নিকোলাস গনসালেস কিংবা জুলিয়ানো সিমিওনেকে দেখা যেতে পারে। চলতি বিশ্বকাপে বদলি হিসেবে নেমে একাধিকবার কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন সিমিওনে। তিনি একাদশে সুযোগ পেলে বাম প্রান্তে খেলতে পারেন। সে ক্ষেত্রে স্কালোনি আক্রমণভাগ ও মাঝমাঠের বিন্যাসেও কিছু পরিবর্তন আনতে পারেন।

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, নাহুয়েল মোলিনা/গঞ্জালো মন্তিয়েল, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো দে পল/জুলিয়ানো সিমিওনে/নিকোলাস গনসালেস, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ।

  • যে অভিশাপে বিশ্বকাপ জেতা হলো না দেম্বেলের!

    যে অভিশাপে বিশ্বকাপ জেতা হলো না দেম্বেলের!

    বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে ফ্রান্স। সেই সঙ্গে ভেঙে গেছে বর্তমান ব্যালন ডি’অর জয়ী ওসমান দেম্বেলেরও একটি ঐতিহাসিক কীর্তি গড়ার স্বপ্ন। তিনি পারেননি বিশ্বকাপের তথাকথিত ‘ব্যালন ডি’অর অভিশাপ’ ভাঙতে।

    ইতিহাস বলছে, যে ফুটবলার বিশ্বকাপের আগের বছর ব্যালন ডি‘’অর জেতেন, তিনি পরের বছর অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে কখনোই শিরোপা জিততে পারেননি। দেম্বেলে ছিলেন সেই দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটানোর অন্যতম বড় দাবিদার। কিন্তু সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে তার সেই স্বপ্নও শেষ হয়ে যায়।

    এর আগে ১৯৯৭ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী রোনালদো ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে ফাইনালে তুলেছিলেন। তবে ফ্রান্সের কাছে ৩-০ গোলে হেরে শিরোপা জিততে পারেননি। দেম্বেলের পরও সেই অভিশাপ অটুটই রইল।

    এছাড়া দেম্বেলে এখন ইতিহাসের তৃতীয় বর্তমান ব্যালন ডি’অরজয়ী, যিনি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালেই বিদায় নিলেন। এর আগে একই পরিণতি হয়েছিল ১৯৬৬ সালে ইউসেবিও এবং ১৯৮৬ সালে মিশেল প্লাতিনির।

  • চিত্রনাট্য লিখতে চেয়েছিলেন এমবাপ্পে, লিখলেন ইয়ামাল

    চিত্রনাট্য লিখতে চেয়েছিলেন এমবাপ্পে, লিখলেন ইয়ামাল

    কিলিয়ান এমবাপ্পে মাথা নোয়ালেন। ঘাসের দিকে তাকিয়ে ছিলেন অন্তত এক মিনিট। শরীর দিয়ে ঘাম ঝরছে। সতীর্থ আরও কয়েকজন মাঠ ছাড়তে চাচ্ছিলেন না। সান্ত্বনা দেয়ার মতো কেউ নেই। পুরো টিমই বিধ্বস্ত। ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামের চিত্র এটাই। খেলার খবর সবাই জানেন। ফরাসিদের বিশ্বকাপের স্বপ্ন ছিনিয়ে নিয়েছে স্পেন। চারদিকে আলাপ ছিল- এই অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্সকে কে থামাবে। কিন্তু স্পেন থামিয়েই দিলো। নাটকীয় ফলাফল। ভাষ্যকাররা বলছিলেন, বল ফ্রান্সের জাল চিনে ফেলেছে। একের পর এক গোল যেভাবে হচ্ছিল তাতে এটা মনে হওয়ারই কথা। মাঝ মাঠেই খেলা হয় প্রথমার্ধে। পেনাল্টি ছাড়া এমন কোনো অ্যাকশন ছিল না। ফরাসিদের ভয় ছিল ইয়ামালকে নিয়ে। সেই ইয়ামালই তাদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন। ইয়ামাল কখন যে ডি বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েছেন তা টেরই পাননি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ে। বল নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ইয়ামালের শরীরে টাচ লাগে। এরপর যা হওয়ার তাই হলো। নির্ভেজাল পেনাল্টি। এই নিখুঁত পেনাল্টি শট নিলেন মিকেল ওইয়ারজাবাল। এ নিয়ে বিশ্বকাপে তার গোল সংখ্যা হলো ৫। খেলার নিয়ন্ত্রণ চলে যায় স্পেনের হাতে। খেলা দেখে মনে হচ্ছিল- ফ্রান্সকে ফুটবলের প্রথম পাঠ শেখাচ্ছে স্পেন। সেমিফাইনালের মতো খেলা নয়। যদিও এই খেলা ঘিরে অনেক হিসেব-নিকেশ ছিল। ফ্রান্সের সাবেক অধিনায়ক প্যাট্রিক ভিয়েরা আইটিভিকে বলেছেন, পুরো টিমে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। জানি না তারা এই স্প্যানিশ দলটিকে নিয়ে অতিরিক্ত ভয় পেয়েছিল কিনা। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার মতো ব্যক্তিত্ব ও চরিত্রের অভাব ছিল তাদের মধ্যে। কিলিয়ান এমবাপ্পে বলের জন্য হা-হুতাশ করছিলেন। এক পর্যায়ে মনে হলো তিনি সেন্ট্রাল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলছেন না। তিনি ডানে-বামে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বল খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছেন। খেলায় আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে চাচ্ছেন। কিন্তু সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে যায়। স্পেনের খেলাটা সত্যি অসাধারণ ছিল। তারা এমনভাবে বল ঘুরাচ্ছিল তখন ফরাসিদের চরম অসহায়ত্ব দেখে কে! কিন্তু পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে অত্যন্ত উজ্জ্বল ছিল ফরাসিদের আক্রমণভাগ। তবে ওলিসে এবং দেম্বেলের পারফরম্যান্স ছিল বেশ হতাশাজনক। নির্মম সত্য হলো- ফরাসি শিবিরে আর কোনো আলোর ঝলকানি দেখা যায়নি। স্পেন আসলেই এক অসমান্য ম্যাচ খেলেছে। বিখ্যাত ফরাসি দৈনিক লেকিপ বলেছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে ফ্রান্স সম্পূর্ণ কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। স্পেনের কাছে হারাটা অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত। ২০২৪ ইউরোর পর ফরাসিদের বিপক্ষে আরও একবার নিজেদের আধিপত্যের পুনরাবৃত্তি ঘটালো স্প্যানিশরা। ফরাসি বাস্তিল দিবসে এই পরাজয়ে সবকিছু ম্লান হয়ে গেল। তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছা হলো না তাদের।
    ম্যাচের কিছু অংশে স্পেনের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণের সামনে ফ্রান্সের কোনো প্রতিরোধ গড়ে না ওঠায় তৈরি হয়েছিল অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। পেনাল্টির আট মিনিট পর ফরাসি শিবিরে দুঃস্বপ্ন নেমে আসে। পিঠের ব্যথার কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা। এরপর ফ্রান্স কেমন যেন খেলার গতি হারিয়ে ফেলে। চূড়ান্ত পর্যায়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে স্পেন। আর গোলের জন্য সব প্রশংসা পাচ্ছেন পেদ্রো পোরো। স্পেনের গোটা টিমের বিল্ডআপও ছিল চমৎকার। কুকুরেয়ার নাম উল্লেখ করতেই হয়। পোরোর পাস দেয়া এবং সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে যাওয়াটাও ছিল দারুণ। যদিও ফ্রান্স কয়েকবার চেষ্টা করেছিল স্পেনের জালে বল পাঠাতে। কিন্তু সবই ছিল এলোমেলো, নিয়ন্ত্রণহীন। এমবাপ্পেকে যেমন খুঁজে পাওয়া যায়নি, পুরো টিমটার অবস্থাও ছিল নাজুক। ম্যাচটি শেষ হয় গ্যালারিতে উপস্থিত স্প্যানিশ সমর্থকদের বিপুল আনন্দধ্বনি আর ওলে ওলে স্লোগানের মধ্য দিয়ে। ফরাসি শিবিরে তখন কান্না।

  • তৃতীয় বিয়ের পর ‘লাভ জিহাদ’ বিতর্ক, ব্যাখ্যা দিলেন আমির খান

    তৃতীয় বিয়ের পর ‘লাভ জিহাদ’ বিতর্ক, ব্যাখ্যা দিলেন আমির খান

    তৃতীয় বিয়ে নিয়ে নতুন করে শুরু হওয়া ‘লাভ জিহাদ’ বিতর্কের জবাব দিয়েছেন বলিউড অভিনেতা আমির খান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তার কোনো স্ত্রী বা বর্তমান সঙ্গী কখনো ধর্ম পরিবর্তন করেননি। তাদের বিয়ে হয়েছে সিভিল ম্যারেজের মাধ্যমে, যেখানে ধর্মান্তরের কোনো প্রশ্নই ছিল না।

    সম্প্রতি রেডিফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমির বলেন, ‘গৌরী, কিরণ রাও কিংবা রিনা দত্ত—কেউ তাদের ধর্ম পরিবর্তন করেনি। আমাদের সিভিল ম্যারেজ হয়েছে। গৌরী হিন্দুও নন, তিনি খ্রিস্টান। তবে তিনি নিয়মিত ধর্মচর্চাও করেন না। সময়ের সঙ্গে জীবন যেন আরও হাস্যকর হয়ে উঠছে।’

    দীর্ঘদিন ধরেই ভিন্ন ধর্মের নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক ও বিয়ের কারণে ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগের মুখে পড়তে হয়েছে আমির খানকে। বিশেষ করে সম্প্রতি গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করার পর সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিনেতা। তিনি বলেন, তার পরিবার বরাবরই বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতিকে সম্মান করে এসেছে।

    আমিরের ভাষায়, ‘আমাদের পরিবার খুবই অন্তর্ভুক্তিমূলক। আমার দুই বোন হিন্দু পরিবারে বিয়ে করেছেন। আমার মেয়ে ইরা খানের স্বামীও হিন্দু। আমার চাচাতো ভাই মনসুর খান একজন খ্রিস্টান নারীকে বিয়ে করেছেন।’

    আমির বলেন, তার সব সম্পর্কই পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার ওপর দাঁড়িয়ে ছিল, ধর্মের ওপর নয়। তাই তার ব্যক্তিগত জীবনকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

    গত ৫ জুলাই মুম্বাইয়ের নিজ বাসভবনে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তৃতীয়বারের মতো বিয়ে করেন আমির খান। তার বর্তমান স্ত্রী গৌরী স্প্র্যাট।

    এর আগে রিনা দত্ত ও কিরণ রাও–এর সঙ্গে তার দুটি বিয়ে হয়েছিল। বিচ্ছেদের পরও দুই সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন বলে বিভিন্ন সময় জানিয়েছেন এই অভিনেতা। সহ-অভিভাবকত্ব (কো-প্যারেন্টিং) এবং পারিবারিক বন্ধন বজায় রাখার বিষয়েও তিনি বরাবরই ইতিবাচক অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন। সূত্র: ইন ইন্ডিয়া