আর্ন্তজাতিক

  • মেসি যত দিন চাইবে, তত দিনই সেরা থাকবে: স্কালোনি

    মেসি যত দিন চাইবে, তত দিনই সেরা থাকবে: স্কালোনি

    ৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি যেন বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এগিয়ে চলেছেন! ফুটবলের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী এই বয়সে একজন খেলোয়াড়ের গতি ও কার্যকারিতা কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু আর্জেন্টাইন মহাতারকা যেন এখনও একইভাবে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা ধরে রেখেছেন। আর সেই কারণেই আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির বিশ্বাস, মেসি যত দিন মাঠে নামবেন, তত দিনই তিনি বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের একজন হয়ে থাকবেন।

    বাংলাদেশ সময় রোববার (১১ জুলাই) সকাল ৭টায় কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটির আগে সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি তার অধিনায়কের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন।

    চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অগ্রযাত্রায় মেসির অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে শেষ ষোলোয় মিসরের বিপক্ষে নাটকীয় জয়টি ছিল তার নেতৃত্ব ও প্রভাবের বড় উদাহরণ। ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা দল শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। সেই ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি আরেকটি গোলে সহায়তা করেছিলেন মেসি।

    বিশ্বকাপ শুরুর আগে অবশ্য তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। পেশির চোট কাটিয়ে টুর্নামেন্টে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তবে মাঠে নামার পর সেই সংশয়ের কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং ম্যাচের পর ম্যাচ নিজের সেরাটাই তুলে ধরছেন ইন্টার মায়ামির এই ফরোয়ার্ড।

    মেসির ফিটনেস প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, তিনি প্রতিটি ম্যাচেই প্রায় একই মাত্রার পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের কঠোর অনুশীলন ও নিজের শরীরের প্রতি বিশেষ যত্ন। কোচের মতে, মেসি যখন অনুভব করেন যে তিনি দলের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারছেন, তখন তার মধ্যে এক ধরনের অতিরিক্ত শক্তি কাজ করে এবং তিনি আরও কার্যকর হয়ে ওঠেন।

    বয়সের কারণে মেসির পারফরম্যান্স কমে যাবে—এমন ধারণার সঙ্গে একমত নন স্কালোনি। তার ভাষায়, যারা মেসিকে কাছ থেকে চেনে না, তারাই হয়তো এমনটা ভাবতে পারে। তবে তিনি বরাবরই বিশ্বাস করেন, মেসি যত দিন খেলার সিদ্ধান্ত নেবেন, তত দিন সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সামর্থ্য রাখবেন।

    সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি মেসির জন্যও বিশেষ একটি উপলক্ষ। কারণ, অ্যারোহেড স্টেডিয়ামেই এবারের বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলের জয় পেয়েছিল।

    বর্তমানে টুর্নামেন্টে ৮ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন মেসি। পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসে ২১ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও নিজের করে নিয়েছেন তিনি।

    স্কালোনি জানান, প্রতিদিনের অনুশীলনে মেসির নিবেদন এখনো তাকে মুগ্ধ করে। তার মতে, আজকের মেসিকে যারা দেখছে, তারা হয়তো কল্পনাও করতে পারবে না তরুণ বয়সে বার্সেলোনায় পেপ গার্দিওলার অধীনে খেলার সময় তিনি কতটা বিস্ময়কর ছিলেন।

  • একটি ভুল একটি স্বপ্নের মৃত্যু

    একটি ভুল একটি স্বপ্নের মৃত্যু

    খুদে বিস্ময় লামিন ইয়ামালের কপাল মন্দ। শত চেষ্টা করেও গোল পেলেন না। তবে তার স্পেন জয়ের মালা পরেছে। বেলজিয়াম হেরে গেছে। অথচ ফুটবল ইতিহাস বলছে, ম্যাচটা ছিল বদলা নেয়ার। ৪০ বছর আগে বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের কাছে স্পেন হেরেছিল শেষ আটের লড়াইয়ে। সে কারণে এই ম্যাচ ঘিরে জল্পনা-কল্পনা ছিল বিশ্ব ফুটবলমঞ্চে। একদিকে ইয়ামাল। অন্যদিকে জেরেমি ডকু। এক অনবদ্য ফুটবল লড়াই। মাঠ জুড়েই ইয়ামাল। ম্যানচেস্টার সিটির লেফট উইঙ্গার, বেলজিয়ামের গোলশক্তি ডকুও গোল পাননি। অথচ তিনি মাঠ মাতিয়েছেন। খেলার শেষ মুহূর্তে স্পেন একটা চমকই দেখায় বটে। শেষ বাঁশি বাজার কয়েক মিনিট আগে বদলি নামা মিকেল মেরিনো গোল করে বসেন। ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেলজিয়ামের বিদায় নিশ্চিত করেন। এই মেরিনোই বদলি নেমে রোনালদোকে গুডবাই জানান । তিনিই হলেন এই ম্যাচের স্প্যানিশ তারকা। বিজয়ের নায়ক। পাসিং ও বল নিয়ন্ত্রণে দারুণভাবে দক্ষ। একইসঙ্গে রক্ষণ ও আক্রমণেও বেশ পারদর্শী। জানিয়ে রাখা ভালো- তার বাবা আনহেল মেরিনোও একজন পেশাদার ফুটবলার ছিলেন। স্পেনের ইউরো ২০২৪ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন এই ম্যাচের ত্রাতা মিকেল মেরিনো। এর আগে বেলজিয়ামের কপাল পুড়ে গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়লে। পরিবর্তে নামেন সেনে লামেন্স। কিন্তু তিনি আর কোনো দেয়াল তৈরি করতে পারেননি। কোর্তোয়া অনেকগুলো বল রুখে দিলেও লামেন্স তেমন সুযোগ আর পেলেন না। তার হাতছাড়া হয়ে ফিরে আসা বলেই স্পেনের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলেন আর্সেনালের মেরিনো। এর মধ্য দিয়েই বেলজিয়ামের এক সোনালী প্রজন্মের বিদায় নিশ্চিত হয়। বলা হয়ে থাকে, এই প্রজন্মের ফুটবলাররাই বেলজিয়ামকে অনেকদূর নিয়ে গিয়েছিলেন। তাদের স্বপ্ন ছিল বিশ্বকাপ ফুটবলে বেলজিয়াম যে একটি শক্তি তা প্রমাণের। কিন্তু সে স্বপ্নের মৃত্যু হয় লামেন্সের হাতেই। ফুটবলে অনেক কিছুই ঘটে। তবে রূপকথার মতো বিদায় সাধারণতো হয় না। যেটা হয়েছে সোফি স্টেডিয়ামে। যাইহোক, দুই খেলায় দুই গোল করেই স্পেনের ভাগ্য নির্ধারণ করেন মেরিনো। লামিন ইয়ামাল শুরু থেকেই বেলজিয়ামের দুর্গে আঘাত হানতে থাকেন। কিন্তু চমৎকারভাবে বেলজিয়াম তার সাজানো ছক ভেঙে দেয়। অনেকগুলো শট নিলেও বেলজিয়ামের গোলরক্ষককে পরাভূত করতে পারেননি। শুধু শটই নয়, ফ্রি কিক থেকেও ইয়ামাল গোল করতে ব্যর্থ হন। এরপর সুযোগ আসে আরেকটি। কিন্তু সেটাও তিনি কাজে লাগাতে পারলেননা। ইয়ামালের কপাল এমনই খারাপ গোল্ডেন বুটের কাফেলায় তিনি নাম লেখাতে পারেননি। তবে স্পেন যেভাবে খেলছে এবং ভাগ্য যেভাবে তাদেরকে সাহায্য করছে- তাতে মনে হয়, তারা অনেকদূর যাবে। এর প্রমাণ পূর্বেই দেখিয়েছে। কাতার বিশ্বকাপে জাপানের কাছে গোল হজম করার পর টানা ৬৪৯ মিনিট তাদের জালে কেউ বল পাঠাতে পারেননি। যদিও এই ম্যাচে ৪১ মিনিটে তাদের দীর্ঘসময় গোল না খাওয়ার অবস্থান ভেঙে দেয় বেলজিয়াম। লস অ্যাঞ্জেলেসের স্টেডিয়ামের ৭০ হাজার দর্শক এই জমজমাট ফুটবল লড়াই উপভোগ করেন। এখন কী হবে? এমবাপ্পের মুখোমুখি হতে হবে স্পেনকে। এমবাপ্পে আর ইয়ামালের লড়াইটা কেমন হবে- তা দেখার জন্য মুখিয়ে রইলো ফুটবল দুনিয়া।

  • মরক্কোর বিদায়ে অঝোরে কাঁদলেন নোরা ফাতেহি

    মরক্কোর বিদায়ে অঝোরে কাঁদলেন নোরা ফাতেহি

    চলছে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই। এর মধ্যেই ফ্রান্স ও স্পেন সেমিফাইনালে চলে গেছে। এ লড়াইয়ে ফ্রান্সের কাছে হেরেছে আশরাফ হাকিমির দল মরক্কো। আর সেই পরাজয়ে ভীষণ মন খারাপ করেছেন বলিউড মডেল-অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি।

    এমনকি মাঠেই অঝোরে কেঁদে ফেলেন তিনি। ফ্রান্সের বিপক্ষে মরক্কোর বিদায়ের পর নিজের আবেগকে ধরে রাখতে পারেননি। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে কান্না শুরু করে দেন নোরা ফাতেহি।

    এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। সেখানে দেখা গেছে, ‘চোখের পানি মুছছেন অভিনেত্রী। পাশে থাকা এক বন্ধু তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন।’

    ফুটবল মাঠে আফ্রিকান দেশটির প্রতিটি ম্যাচেই স্টেডিয়ামে বসে খেলা উপভোগ করেছেন নোরা ফাতেহি। স্টেডিয়ামে পৌঁছাতেও তাকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। বোস্টনের পথে তীব্র যানজটে আটকে গেলে শেষ পর্যন্ত গাড়ি থেকে নেমে বেশ কিছুটা পথ হেঁটেই স্টেডিয়ামে পৌঁছান। তবু খেলা শুরুর আগেই গ্যালারিতে নিজের আসনে বসতে সক্ষম হন। মরক্কোর প্রতিটি ম্যাচ জয়ে হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছেন তিনি। কিন্তু ফ্রান্সের বিপক্ষে মরক্কোর পরাজয়ে ভীষণ কষ্ট পান অভিনেত্রী।

    শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা দলটি শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের বিপক্ষে আর চমক দেখাতে পারেনি। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের গোলে ২-০ ব্যবধানে হেরে শেষ হয় তাদের স্বপ্নযাত্রা।

    এ পরাজয়ের পরও মরক্কো দলের প্রতি নিজের গর্বের কথা প্রকাশ করেন নোরা ফাতেহি। বিশেষ করে অধিনায়ক আশরাফ হাকিমিসহ পুরো দলের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেন তিনি।

    কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে— দক্ষিণ আফ্রিকা মহাদেশের এ দলটির পরাজয়ে ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি কেন কাঁদলেন? কারণ একটাই— নোরা ফাতেহির কথিত প্রেমিক মরক্কো দলের অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি। আর গত এক বছর ধরে আশরাফ হাকিমি ও নোরা ফাতেহির সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে চলছে গুঞ্জন। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ-ই প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

  • অমুসলিম রাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হলো ইসরাইলি পণ্য

    অমুসলিম রাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হলো ইসরাইলি পণ্য

    আয়ারল্যান্ডের পার্লামেন্ট ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমের অবৈধ ইহুদি বসতি এলাকায় উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার একটি বিল অনুমোদন করেছে। টাইমস অব ইসরাইলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

    এই বিল পাসের মাধ্যমে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর বিষয়ে কঠোর বাণিজ্যিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল ডাবলিন। বিলটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আয়ারল্যান্ডের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে পাঠানো হবে।

    ‘ইসরাইলি বসতি’ শীর্ষক এই বিলের আওতায় ইসরাইলের স্বীকৃত সীমানার বাইরের আবাসিক, কৃষি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে উৎপাদিত পণ্য আয়ারল্যান্ডে প্রবেশ করতে পারবে না। আয়ারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম দেশ হিসেবে এমন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করলেও গত অক্টোবরে স্পেন এ ধরনের আমদানি বিধিনিষেধের একটি প্যাকেজ বাস্তবায়ন করেছে।

    অর্থনৈতিক দিক থেকে আয়ারল্যান্ডের এই আমদানি নিষেধাজ্ঞা মূলত প্রতীকী এবং এর প্রভাব খুবই সামান্য। কারণ, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ওই সব অঞ্চল থেকে আয়ারল্যান্ডে আমদানিকৃত ফল, শাকসবজি ও কাঠের মতো পণ্যের মোট বাণিজ্য মূল্য এক মিলিয়ন ইউরোর (১১ লাখ ডলার) চেয়েও কম ছিল।

    তবে ডাবলিনের বিরোধী রাজনীতিকরা বিলটির সমালোচনা করে বলেছেন, এতে সেবাক্ষেত্রের বাণিজ্যকে অন্তর্ভুক্ত না করে শুধু পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় এটি যথেষ্ট কার্যকর হবে না। এর জবাবে সরকার যুক্তি দিয়েছে যে, সেবাক্ষেত্রে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আইনি দিক থেকে পণ্যের চেয়ে বেশি জটিল, তাই আইনটি কার্যকর করার আগে এটিকে পুরোপুরি নিশ্ছিদ্র করা প্রয়োজন।

    ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলার পর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের অন্যতম কট্টর সমালোচক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে আয়ারল্যান্ড। ২০২৪ সালে তারা একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। এর পরপরই ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার আয়ারল্যান্ডের ‘চরম ইসরাইলিবিরোধী নীতির’ অভিযোগ তুলে ডাবলিনে ইসরাইলের দূতাবাস বন্ধের নির্দেশ দেন।

  • কলকাতায় ১৩৬ বছরের মসজিদ সরানো হচ্ছে

    কলকাতায় ১৩৬ বছরের মসজিদ সরানো হচ্ছে

    কলকাতা বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ের পাশে অবস্থান করা শতাব্দী প্রাচীন গৌরীপুর মসজিদ স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া। মসজিদ কমিটি, এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্বজনমতের ভিত্তিতে একটি বিশেষ পরিদর্শক দল ও নিরাপত্তা কমিটির বৈঠকের পর এই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

    মনে করা হচ্ছে শনিবার (১১ জুলাই) থেকেই এই মসজিদ স্থানান্তরের কাজ শুরু হতে পারে। কারণ বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করে শনিবার থেকেই মসজিদটিতে নামাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। এর আগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন সময় মসজিদ ভাঙচুরের ঘটনা সামনে এসেছে। তবে গৌরীপুর মসজিদ স্থানান্তরের বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন।

    ১৩৬ বছরের পুরোনো গৌরীপুর জামে মসজিদ যা অনেকের কাছে ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামেও পরিচিত। এই ঐতিহাসিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বর্তমানে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা হয়। এর কারণ মসজিদটির অবস্থান।

    কলকাতা বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ের একেবারে গা ঘেঁষে থাকায় প্রবল বর্ষণ বা ঘন কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার সময় পাইলটের পক্ষে রানওয়ে থেকে সামান্য দূরত্বে এই মসজিদ ভিজ্যুয়াল ইলিউশন তৈরি করে। এতে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কড়া কিছু সেফটি নর্মস বা সুরক্ষাবিধি রয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র বলছে, বাঁকড়া মসজিদটি বিমানবন্দরের সেকেন্ডারি বা সহকারী রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার দূরত্বে অবস্থিত। অথচ আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সুরক্ষাবিধি স্পষ্ট বলছে, রানওয়ে থেকে যে কোনো কাঠামোর ন্যূনতম দূরত্ব অন্তত ২৪০ মিটার হওয়া বাধ্যতামূলক। স্বাভাবিকভাবেই এই আন্তর্জাতিক নিয়মের চেয়ে বেশ কিছুটা কম দূরত্বে রয়েছে মসজিদটি।

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রানওয়ের এত কাছাকাছি এই কাঠামোটি থাকার কারণে সেখানে আধুনিক ‘ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম’ (আইএলএস) বসানো যাচ্ছিল না। আর এর ফলেই বিমানবন্দরের উড়ান পরিচালনার সামগ্রিক ক্ষমতা অনেকটাই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

    বর্তমান এই কাঠামোগত বিন্যাসের কারণে আরেকটি বড় সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। মসজিদটির অবস্থানের দরুন সেকেন্ডারি রানওয়ের ‘টাচডাউন পয়েন্ট’ বা বিমান ছোঁয়ার নির্দিষ্ট স্থানটিকে বাধ্য হয়ে কিছুটা এগিয়ে এনে ছোট করতে হয়েছিল। আর রানওয়ের এই সীমাবদ্ধতার কারণে বড় বিমানগুলো এই রানওয়েটি ব্যবহার করতে পারছিল না। মসজিদটি অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে গেলে এই সমস্ত বাধা-বিপত্তি এক ঝটকায় দূর হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে পরিকাঠামোগত আধুনিকীকরণের রাস্তা সাফ হওয়ায় বিমান চলাচল ব্যবস্থাও অনেক উন্নত হবে।

    কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছে, চলতি হজের মৌসুম শেষ হওয়ার পরেই ২০১৩ সালের আগে কলকাতা বিমানবন্দর যে পুরোনো টার্মিনাল ভবনটি ব্যবহার করত, সেটিও এবার ভেঙে ফেলা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরোনো টার্মিনাল ভবনটি ভেঙে ফেলার পর নতুন টার্মিনাল তৈরি এবং মসজিদ স্থানান্তরের পর দ্বিতীয় রানওয়ে পুরোদমে চালু করা গেলে কলকাতা বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী পরিবহন করার ক্ষমতা এক ধাক্কায় বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৪ কোটি (৪০ মিলিয়ন)।

    এই মসজিদের কারণে বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজও থমকে আছে প্রায় ৩০ বছর। সূত্র বলছে, ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই মসজিদ স্থানান্তরের বিষয়টি বারবার আলোচনায় উঠে এসেছে। কিন্তু কখনও স্থানীয় বাধা, কখনও পূর্বতন বাম ও তৃণমূল সরকারের ঢিলেমিতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়নি।

    তবে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হওয়ায় ফের মসজিদ সরানো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু ঈদের নামাজ ওই মসজিদে পড়েন বহু মানুষ। তাদের ভাবাবেগকেও প্রাধান্য দিতে চেয়েছিল রাজ্য সরকার এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ঠিক হয়েছিল, ঈদের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। মনে করা হচ্ছে শনিবার থেকেই এই স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে স্থানীয় স্তরে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কায় গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয় রাখা হয়েছে। ব্যাপক নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকা।

    মসজিদ কমিটির তরফে আগেই এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা চাই না আমাদের কারণে বিমানবন্দরের কোনো ক্ষতি হোক বা সুরক্ষায় বিঘ্ন ঘটুক। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আমাদের বিমানবন্দরের বাইরে আরও বড় একটি মসজিদ তৈরি করে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে স্থানান্তর করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো অবস্থায় আমরা এই মুহূর্তে নেই।’

    স্থানীয় বিধায়ক সৌরভ শিকদার বলেন ‘যারা নামাজ পড়তে যান তাদের কোনো পাশ ইস্যু করা হয় না। শুধুমাত্র আধার কার্ড জমা রেখে তাদের রানওযের পাশে থাকা ওই মসজিদে নিয়ে যাওয়া হয়। আপনারা জানেন আগের সরকারের আমলে কত জাল আধার কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। নিরাপত্তার একটা সংকট তৈরি হয়। একইসঙ্গে যারা নামাজ পড়তে যান তাদের জন্য সিআইএসএফ জওয়ান মোতায়েন রাখতে হয়। একটা বাস সবসময় যাতায়াতের জন্য রাখতে হয়। মসজিদটির জন্য রানওয়ে সম্প্রসারণ করা যাচ্ছে না। এজন্য বড় বিমান আসতে পারে না। বিমানবন্দরের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। কর্মসংস্থান হচ্ছে না। এক কথায় বিমানবন্দরের উন্নয়ন কিছুই হচ্ছে না। আবার নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে। আমরা মসজিদ কমিটিকে বলেছি রানওয়ের বাইরে এয়ারপোর্ট অথরিটির অন্য জমি আপনারা চিহ্নিত করুন, আমরা দিয়ে দেবো।’

    ১৯২৪ সালে চালু হয় কলকাতা বিমানবন্দর। জমিটি প্রাচীন ওয়াকফ সম্পত্তি। পরে ১৯৬২ সালে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য জমিটি অধিগ্রহণ করে এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া। তখন মসজিদের পাশেই ছিল যশোর রোড। বিমানবন্দরের জন্য যশোর রোড ঘুরিয়ে দেয়া হয়। মসজিদটি থেকে যায় বিমানবন্দরের পাঁচিলের ভেতর, রানওয়ের পাশেই।

    ১৯৬২ সালের জমি অধিগ্রহণের অন্যতম শর্ত হিসেবে গৌরীপুর কালীমন্দিরের (যশোহর রোডের ওপর) বিপরীতে একটি ছোট্ট লোহার গেট করা আছে। তার ওপর রয়েছে সিআইএসএফের ওয়াচ টাওয়ার। গেটের কলিং বেল বাজালে নামাজ পাঠ করতে ইচ্ছুক মানুষের জন্য গেট খোলা হয়। তাদের আধার কার্ড যাচাইয়ের পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের বিশেষ বাসে করে মসজিদ পর্যন্ত নিয়ে যান। দৈনিক তিনটি শিফটে এরকম ৪টি করে বাসের ব্যবস্থা থাকে। এই বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়া সাধারণ মানুষের পক্ষে ওই মসজিদ পর্যন্ত যাওয়া কার্যত অসম্ভব।

    শনিবার সালামপুরের কারণে যদি মসজিদটি ভাঙার কাজ শুরু হয় বাইরের জগতের মানুষ সেটা ঘুণাক্ষরেও টের পাবেন না। কারণ ভাঙার যন্ত্রপাতি বিমানবন্দরের নিজস্ব। সেগুলো পুরাতন টার্মিনাস কার্গো বিভাগ থেকে সরাসরি রানওয়ে হয়ে মসজিদ পর্যন্ত যাতায়াত করবে। যশোহর রোড থেকে মসজিদের দূরত্ব কমবেশি প্রায় ৩ কিলোমিটার।

  • মেসির কাছ থেকে উপহারও পাবেন ক্লোসা

    মেসির কাছ থেকে উপহারও পাবেন ক্লোসা

    এ বিশ্বকাপেই মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড ভেঙেছেন লিওনেল মেসি। দীর্ঘদিন বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটা ছিল ক্লোসার দখলে। এ বিশ্বকাপে ক্লোসার ১৬ গোল ছাড়িয়ে গেছেন মেসি, এখন তাঁর গোল ২১টি।

    সর্বোচ্চ গোলের এ রেকর্ড ভিনদেশি কারও কাছে হাতছাড়া হলে একটু খারাপ লাগা থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেই আফসোস ক্লোসার নেই। এমনকি রেকর্ড ভাঙার পর নাকি আর্জেন্টাইন তারকার সঙ্গে কথাও হয়েছে তাঁর।

    ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্লোসা বলেছেন, ‘মেসি এক অবিশ্বাস্য বিস্ময়কর প্রতিভা!’ এরপর মেসির সঙ্গে কথোপকথনের বর্ণনা দেন জার্মানির সাবেক এই তারকা ফুটবলার।
    ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইতালিয়ান ক্লাব লাৎসিওতে লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে একই দলে খেলেছিলেন ক্লোসা। ওই বন্ধুত্বটা তাঁদের রয়ে গেছে এখনো। স্কালোনি এখন আর্জেন্টিনার কোচ। তাঁর সূত্রেই ক্লোসার কথা হয়েছে মেসির সঙ্গে।

    পুরো গল্পটা ক্লোসার মুখেই শুনুন, ‘স্কালোনি আমার সতীর্থ ছিল। আমাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ আছে। মেসি আমার বিশ্বকাপের গোল করার রেকর্ড স্পর্শ করার পর স্কালোনিই আমাদের মধ্যে এই ফোনালাপের ব্যবস্থা করে দেয়। খুবই আবেগঘন মুহূর্ত ছিল এটা।’

    এখানেই শেষ নয়, কথোপকথনের সময় আর্জেন্টাইন অধিনায়ক তাঁকে একটি উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। হাসিমুখে ক্লোসা জানান, ‘সে (মেসি) আমাকে বলেছে যে সে আমাকে নিজের সই করা একটি জার্সি পাঠাবে।’

    ২০১৪ সালে ব্রাজিলের মাটিতে জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন ক্লোসা। ওই বিশ্বকাপের ফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ ছিল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। এ ছাড়া একাধিকবার তাঁর মুখোমুখি হয়েছেন।

    বর্তমানে জার্মানির দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব এফসি নুরেমবার্গের কোচের দায়িত্বে থাকা ক্লোসা জানিয়েছেন, মেসির সঙ্গে নাকি কখনো এত লম্বা আলাপ হয়নি তাঁর, ‘মেসির সঙ্গে মাঝেমধ্যে দেখা হয়েছে, যা সব সময়ই খুব আনন্দদায়ক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল। কিন্তু ফুটবলের বাইরে এবারই প্রথম আমরা দীর্ঘ সময় ধরে কথা বললাম।’

    মেসি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভাঙার পর প্রকাশ্যেই আর্জেন্টিনার এই অধিনায়কের প্রতি নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়েছিলেন ক্লোসা। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মেসি ১৮তম গোল করে ছাড়িয়ে যাওয়ার পর তখন জার্মানির সাবেক এই স্ট্রাইকার বলেছিলেন, ‘আমার কাছে লিওনেল মেসি সর্বকালের সেরা ফুটবলার। অভিনন্দন, চ্যাম্পিয়ন!’

    এবার তো কথা হয়ে গেল খোদ মেসির সঙ্গেই।

  • ট্রাম্পের যৌন নিপীড়নের শিকার ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার দিতে আদালতের নির্দেশ

    ট্রাম্পের যৌন নিপীড়নের শিকার ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার দিতে আদালতের নির্দেশ

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কলামিস্ট এলিজাবেথ জ্যঁ ক্যারলের মধ্যকার বহুল আলোচিত আইনি লড়াইয়ে বড় সিদ্ধান্ত দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। ট্রাম্পের সব আপত্তি উড়িয়ে দিয়ে মামলার ক্ষতিপূরণ বাবদ তাঁর জমা রাখা ৫০ লাখের বেশি ডলার অবিলম্বে ক্যারলকে হস্তান্তরের আদেশ দিয়েছেন নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক লুই কাপলান। গতকাল বুধবার দেওয়া এই আদেশের ফলে ট্রাম্পের এই অর্থ পরিশোধ পিছিয়ে দেওয়ার শেষ চেষ্টাও ব্যর্থ হলো।

    এই মামলা দীর্ঘ তিন দশকের পুরোনো। সাময়িকীর সাবেক কলামিস্ট জ্যঁ ক্যারলের অভিযোগ, ১৯৯৬ সালে নিউইয়র্কের একটি বিলাসবহুল ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের চেঞ্জিং রুমে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালে ক্যারল বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলে ট্রাম্প এটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দেন।

    ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন ক্যারল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের মে মাসে আদালতের একটি জুরিবোর্ড ক্যারলের যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলায় ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণের রায় দিয়েছিলেন।

    জুরিবোর্ডের সেই রায়ের পর থেকেই ট্রাম্প নিজেকে নির্দোষ দাবি করে উচ্চ আদালতে আপিল করে আসছিলেন এবং সম্প্রতি বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।

    আদালতের এই নতুন আদেশ এমন এক সময়ে এল, যখন ট্রাম্পের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের দোহাই দিয়ে এই অর্থ আটকে রাখার আবেদন করেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের করা পুনর্বিবেচনার আবেদনটি ঝুলে থাকা পর্যন্ত যেন ক্যারলকে কোনো অর্থ না দেওয়া হয়। তবে বিচারক কাপলান সেই যুক্তি কানে তোলেননি।আদালতের এই নতুন সিদ্ধান্তের পর জ্যঁ ক্যারলের আইনজীবীদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ট্রাম্পের আইনজীবীরা বলেছেন, তাঁরা এই আদেশের বিরুদ্ধে আবার উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

    ট্রাম্প শিবিরের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশেই আছেন। ডেমোক্র্যাটদের পয়সায় ক্যারল যে বানোয়াট নাটক সাজিয়েছেন, তার অবসান হওয়া দরকার। এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধের দাবি জানাচ্ছি আমরা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব আইনি নোংরামি রুখে দেবেন এবং দেশকে আবার মহান করার মিশনে মনোযোগ দেবেন।’

    এর আগে ট্রাম্পের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দিয়েছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগপর্যন্ত এই অর্থ আটকে রাখলে ক্যারলের কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু প্রেসিডেন্টের জন্য তা অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনবে।

    ট্রাম্পের আইনজীবীরা আদালতে লিখিত আবেদনে বলেন, ‘এখনই ক্যারলকে অর্থ দেওয়া হলে পরে ট্রাম্প আপিলে জিতলেও সেই অর্থ আর ফেরত পাওয়া যাবে না। কারণ, ক্যারল নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন, এই অর্থ তিনি বিভিন্ন সংস্থায় দান করে দেবেন। একবার এই অর্থ তৃতীয় পক্ষের হাতে চলে গেলে তা আর উদ্ধার করা সম্ভব নয়।’

    আইনজীবীরা আরও দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় আসার আগে অর্থ আটকে রাখলে ক্যারলের কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ, দেরি হওয়ার কারণে যে ক্ষতি হবে, তা পরবর্তী সময়ে সুদের মাধ্যমেই মিটিয়ে দেওয়া যাবে।

    গত সপ্তাহে ফেডারেল আদালতের রায় বাতিল করতে ট্রাম্পের করা আপিলটি খারিজ করে দেন সুপ্রিম কোর্ট। এর পরপরই ক্যারলের আইনজীবীরা নিম্ন আদালতের বিচারকের কাছে ট্রাম্পের জমা দেওয়া টাকা ছাড় করার অনুরোধ জানান। এ খবর পেয়ে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে তড়িঘড়ি করে সুপ্রিম কোর্টে আবার একটি পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয়।

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জ্যঁ ক্যারলের করা দুটি মামলার মধ্যে এটি ছিল প্রথমটি। ২০২২ সালে করা দ্বিতীয় মানহানির মামলায় জুরিবোর্ড ট্রাম্পকে আরও ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার জরিমানা করেছিল। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওই রায়ের বিরুদ্ধেও তিনি চলতি মাসের শেষ নাগাদ সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন।

  • মেসি পেনাল্টিতে ভালো নাকি খারাপ

    মেসি পেনাল্টিতে ভালো নাকি খারাপ

    মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলটি করেই খ্যাপাটে উদ্‌যাপন করেছিলেন লিওনেল মেসি। গ্যালারির দিকে ছুটে আনন্দে লাফিয়েও উঠতে দেখা যায় তাঁকে। আর্জেন্টাইন তারকাকে সাধারণত গোল করে এতটা উদ্‌যাপন করতে দেখা যায় না।

    তাহলে সেদিন কী হলো? দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফেরার উচ্ছ্বাস তো ছিলই। ম্যাচের পর মেসি জানিয়েছেন, গোলটা করে একটু স্বস্তিও পেয়েছিলেন। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করার পর মেসি নাকি ভেবেছিলেন, দলকে বোধ হয় একাই ডুবিয়ে দিলেন!

    পেনাল্টিতে তাঁর শটটা ঝাঁপিয়ে থামিয়ে দেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের। তাঁর জন্য এমন ঘটনা বিশ্বকাপে অবশ্য প্রথম নয়। এই বিশ্বকাপেই অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি। এখন তাই অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে, মেসি কি সত্যিই পেনাল্টিতে অনেক খারাপ?

    এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়া একটু কঠিন। তবে পরিসংখ্যানে তাকালে কিছুটা আঁচ করা যায়। পরপর দুটি পেনাল্টি মিস করা কিন্তু মেসির জন্য এবারই প্রথম নয়। দুই দশকের লম্বা ক্যারিয়ারে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো টানা দুটি পেনাল্টি মিস করেছেন আর্জেন্টাইন তারকা।

    মেসির পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন মিসরের গোলকিপার রয়টার্স

    তবে এবারের ঘটনা বেশি চোখে লেগেছে সময়ের কারণে। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে দুটি পেনাল্টি মিস করেছেন এবার। পরপর দুটি পেনাল্টি মিসের আগের ঘটনাগুলোর কোনোটিই এত দ্রুত সময়ে হয়নি।

    মেসি তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম বড় পেনাল্টি–খরায় পড়েছিলেন ২০১৪ সালে। সে বছর টানা তিনটি পেনাল্টি মিস করেন। ওই বছরের ৫ এপ্রিল লা লিগায় বেটিসের বিপক্ষে বার্সেলোনার জয়ের ম্যাচে আন্তোনিও আদান তাঁর শট রুখে দেন।

    কয়েক মাস পর ২১ সেপ্টেম্বর লেভান্তের বিপক্ষে বড় জয়ের ম্যাচে আবারও পেনাল্টি মিস করেন। এরপর ১১ অক্টোবর আর্জেন্টিনার ম্যাচে ব্রাজিলের গোলরক্ষক জেফারসন তাঁর শট ঠেকিয়ে দিলে টানা তিন পেনাল্টি মিস হয় মেসির।

    এর মধ্যেও অবশ্য ‘পেনাল্টি’ থেকে গোল করেছিলেন মেসি। তবে সেটি ছিল টাইব্রেকারে। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ঠিকই বল জালে জড়ান তিনি। পরে আর্জেন্টিনা ফাইনালে গেলেও হেরে যায় জার্মানির কাছে।

    ২০২১ সালে এসে আবার পেনাল্টি–খরায় পড়েন মেসি। ওই বছরের ১০ মার্চ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনার হয়ে পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচে কেইলর নাভাস তাঁর পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন। এর ৫৩ দিন পর লা লিগায় ভ্যালেন্সিয়ার জ্যাসপার সিলেসেন আরেকটি পেনাল্টি আটকে দেন, যদিও সেবার ফিরতি শটে মেসি গোল করতে সক্ষম হন।

    তৃতীয় ঘটনাটি তো এবারের বিশ্বকাপেই। ১৫ দিনের ব্যবধানে এবার অস্ট্রিয়া ও মিসরের বিপক্ষে দুটি পেনাল্টি মিস করলেও দুর্দান্ত ফর্মেই আছেন মেসি। বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচে ৮ গোল করে তিনি এখনো সর্বোচ্চ গোলদাতা, টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২১ গোলও তাঁর।

    পেনাল্টি মিসের পর হতাশ মেসি রয়টার্স

    বিশ্বকাপে পেনাল্টির রেকর্ড এমনিতে খুব একটা সুখকর নয় আর্জেন্টিনার জন্য। বিশ্বকাপে পাওয়া ৮ পেনাল্টির মধ্যে চারটিই মিস করেছেন। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিসের রেকর্ডও মেসির। এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ দুটি পেনাল্টি মিসের রেকর্ডও তাঁর।

    বিশ্বকাপে ব্যর্থতা থাকলেও সব মিলিয়ে কিন্তু মেসির পেনাল্টি রেকর্ডটা মন্দ নয়। মেসি ক্যারিয়ারে মোট ১৬১টি পেনাল্টি নিয়েছেন, এর মধ্যে ১২৫টিতে গোল করেছেন, ২৭টি সেভ হয়েছে আর ৯টি মেরেছেন গোলপোস্টের বাইরে। সব মিলিয়ে ৭৭.৬৪% পেনাল্টি থেকেই গোল করেছেন মেসি।

    বার্সেলোনায় থাকার সময় ১০৭টি পেনাল্টি থেকে ৮২টি গোল করেছেন মেসি। পিএসজিতে ৪টি পেনাল্টির মধ্যে ৩টিতে গোল করেন, ইন্টার মায়ামিতে ৯ পেনাল্টির মধ্যে ৮টিতেই গোল করেন। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে নির্ধারিত সময়ে ৩২টি পেনাল্টির মধ্যে ২৫টি গোল এসেছে তাঁর পা থেকে। এই বিশ্বকাপে নিশ্চয়ই আর পেনাল্টি মিস করতে চাইবেন না মেসি!

  • বিশ্বকাপে কোন দল কতটি হলুদ কার্ড দেখেছে

    বিশ্বকাপে কোন দল কতটি হলুদ কার্ড দেখেছে

    বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৯৬টি খেলা হয়েছে। ৪৮ দল লড়াই করেছে। এখন রয়েছে ৮ দল। আজ বৃহস্পদতবার রাতে শুরু হচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ। দলগুলো চিন্তায় আছে হলুদ কার্ড নিয়ে। এ জায়গায় অন্যদের চেয়ে বেশি স্বস্তিতে আছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার আগে দলটি শুধু গনসালো মন্তিয়েলের নামের পাশেই হলুদ কার্ড আছে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে হলুদ কার্ড দেখলে তিনি সেমিফাইনালে খেলতে পারবেন না।

    কোয়ার্টার ফাইনাল টিকে থাকা দলগুলোর ফাউল ও হলুদ কার্ডের পরিসংখ্যান হলো—

    আর্জেন্টিনা মোট ফাউল করেছে ৫৯টি, এজন্য ৩টি হলুদ কার্ড দেখেছে। ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ১৯.৭ শতাংশ। বেলজিয়াম মোট ফাউল করেছে ৬০টি, এজন্য ৪টি হলুদ কার্ড দেখেছে। ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ১৫.০ শতাংশ। ইংল্যান্ড মোট ফাউল করেছে ৫৪টি, এজন্য ৭টি হলুদ কার্ড দেখেছে। ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ৭.৭ শতাংশ। ফ্রান্স মোট ফাউল করেছে ৪৯টি, এজন্য ৪টি হলুদ কার্ড দেখেছে।ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ১২.৩ শতাংশ।

    মরক্কো মোট ফাউল করেছে ৬১টি, এজন্য ৬টি হলুদ কার্ড দেখেছে। ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ১০.২ শতাংশ। নরওয়ে মোট ফাউল করেছে ৪৮টি, এজন্য ২টি হলুদ কার্ড দেখেছে। ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ২৪.০ শতাংশ। স্পেন মোট ফাউল করেছে ৫৫টি, এজন্য ৩টি হলুদ কার্ড দেখেছে। ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ১৮.৩ শতাংশ। সুইজারল্যান্ড মোট ফাউল করেছে ৬৯টি, এজন্য ৬টি হলুদ কার্ড দেখেছে। ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ১১.৫ শতাংশ।

  • খামেনির দাফনে হাজির হচ্ছেন মোজতবা?

    খামেনির দাফনে হাজির হচ্ছেন মোজতবা?

    ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তেহরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। এ ঘোষণার পর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আসা নিয়ে জল্পনা তীব্র হয়েছে।

    সিএনএনের লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিতার মৃত্যুর পর সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই হতে পারে মোজতবার প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
    গত এক সপ্তাহ ধরে চলা খামেনির শোকানুষ্ঠান ও শেষযাত্রার কোনো পর্বেই মোজতবাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এ ছাড়া খামেনির দাফনে কারা উপস্থিত থাকবেন, সেই বিষয়ে নির্দিষ্ট কারও নাম প্রকাশ করা হয়নি।
    গত সপ্তাহজুড়ে খামেনি পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তার অন্য তিন ছেলে- মোস্তফা, মাসউদ ও মেইসাম খামেনি।

    এদিকে এরই মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। টানা দুইদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। এনিয়ে ইরানজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগও বেড়েছে।

    গত সপ্তাহে ইসরাইল জানায়, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা তাদের “টার্গেট” বা হত্যার লক্ষ্যবস্তু। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে ইসরাইলি বাহিনীর চালানো হামলায় আলি খামেনিসহ দেশটির কয়েক ডজন শীর্ষ নেতা ও সামরিক কমান্ডার নিহত হন। তবে সেইদিন অল্পের জন্য হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যান মোজতবা।

    এরপর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও এখন পর্যন্ত মোজতবা আত্মগোপনে রয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর তিনি কখনো জনসমক্ষে আসেননি বা নিজের কণ্ঠে কোনো বক্তব্য দেননি। সমর্থকদের উদ্দেশে শুধুমাত্র লিখিত বার্তা পাঠিয়েছেন তিনি।
    তার এমন আড়ালে থাকা নিয়েও নতুন করে জল্পনা ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে।