আর্ন্তজাতিক

  • আর্জেন্টিনার ‘স্পেশাল’ অনুরোধ রাখল ফিফা

    আর্জেন্টিনার ‘স্পেশাল’ অনুরোধ রাখল ফিফা

    সমস্যা মূলত জার্সি নিয়ে। আর্জেন্টিনা ফিফার কাছে অনুরোধ করেছিল—ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তারা যেন গাঢ় নীল জার্সিটি পরতে পারে। বিশ্বকাপের ওই ম্যাচটিতে আকাশি-নীল জার্সি পরে খেলতে হতো লিওনেল মেসিদের।

    ফিফার কাছে অনুরোধ করা হলে তারা ফেরায়নি আর্জেন্টিনাকে। বিশেষ সেই অনুরোধ মঞ্জুর করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

    কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে ইংল্যান্ড। সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। এখন দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল মুখোমুখি ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে। বিজয়ী দল রোববারের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে।

    এই ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা লড়াই মানেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে বহু স্মরণীয় মুহূর্ত। ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের পর ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। আবার ১৯৯৮ বিশ্বকাপে দিয়েগো সিমিওনেকে লাথি মারায় লাল কার্ড দেখেছিলেন ইংল্যান্ডের ডেভিড বেকহ্যাম।

    মজার বিষয় হলো- ওই দুই ম্যাচেই আর্জেন্টিনা গাঢ় নীল বা নেভি রঙের জার্সি পরেছিল। বিপরীতে ১৯৬৬ ও ২০০২ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা ডোরাকাটা জার্সি পরে খেলেছিল তারা। কাকতালীয় বিষয় হচ্ছে দুবারই হেরে যায় তারা।

    এই ইতিহাসকে শুভ লক্ষণ হিসেবে ধরে সেমিফাইনালেও নীল অ্যাওয়ে জার্সি পরার অনুমতি চেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ফিফা সেই অনুরোধ অনুমোদন করেছে। ফলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তারা নীল জার্সিতেই মাঠে নামবে।

    এ নিয়ে ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল খানিকটা মজাই করেছেন, ‘ওয়ার্ম-আপের আগে পর্যন্ত আমি জানতামই না আমরা কোন জার্সি পরব। আর্জেন্টিনা নীল জার্সি পরবে, আর আমরা সাদা—এটা কি তাদের সৌভাগ্যের জার্সি বলে?’

    পরে ইংলিশদের কোচকে জানানো হয়, ইংল্যান্ড স্বাগতিক দল হিসেবে সাদা জার্সি পরবে। তখন টুখেল বলেন, ‘যদি কোনো কুসংস্কার বা বিশ্বাস থেকে তারা এটা করে থাকে, তাহলে তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। আমিও হলে হয়তো একই কাজ করতাম।’

    তবে পয়া জার্সি তো আর্জেন্টিনা পেল, এবার কি ম্যাচের রেজাল্টও তাদের পক্ষে আসবে? নীল জার্সি কতটা কাজে আসল, জানা যাবে আজ রাতের খেলা শেষে।

  • ইংল্যান্ড ম্যাচ দেখলে ‘আর্জেন্টিনার মারা যাওয়া ভাইয়েদের কথা মনে পড়ে’

    ইংল্যান্ড ম্যাচ দেখলে ‘আর্জেন্টিনার মারা যাওয়া ভাইয়েদের কথা মনে পড়ে’

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের আগে ঘুরেফিরে আসছে অতীতের অনেক স্মৃতি। বিশেষ করে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, ৪০ বছর আগের সেই কোয়ার্টার ফাইনাল—এগুলো নিয়েই চলছে চর্চা। প্রয়াত কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার ছেলে ম্যারাডোনা জুনিয়র ইংল্যান্ড ম্যাচটাকে কোনো সাধারণ ম্যাচ হিসেবে দেখছেন না।

    আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল। এই ম্যাচটি ঘিরে রাজনৈতিক বৈরিতার বিষয়টিও উত্তাপ ছড়াচ্ছে। ১৯৮২ সালের এপ্রিলে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ৭৪ দিনব্যাপী যুদ্ধে ৯০৭ মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এবার সেমিতে মুখোমুখি হওয়ার আগে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যারাডোনার ছেলে বলেন, ‘আর্জেন্টাইন এবং ম্যারাডোনা ভক্তদের জন্য এটা একটা বিশেষ ম্যাচ। ফকল্যান্ড যুদ্ধে আমাদের যেসব ভাইয়েরা মারা গেছেন, তাঁদের কথা মনে পড়ে যায়।’

    ফকল্যান্ড যুদ্ধের চার বছর পরই আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মুখোমুখি হয় কোয়ার্টার ফাইনালে। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোর আসতেকায় কোয়ার্টারে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’, ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’—দুটি আলোচিত ঘটনা ঘটেছে এই ম্যাচে। এবার আটলান্টায় সেমিফাইনালের আগে ম্যারাডোনার ছেলে মনে করিয়ে দিলেন ৪০ বছর আগের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের ঘটনা। মার্কাকে ম্যারাডোনা জুনিয়র বলেন, ‘১৯৮৬ সালে বাবার সঙ্গে যা ঘটেছিল, সেটাও মনে পড়ে যায় এই ম্যাচ (আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড) দেখে। সেবার বাবা ঐতিহাসিক ম্যাচ জিতেছিলেন।’

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচকে কেন ‘ম্যারাডোনা-ইংল্যান্ড’ ম্যাচ বলা হয়, সেটা হয়তো অনেকেই বুঝতে পেরেছেন। ম্যারাডোনা যখন খেলতে নামতেন, তখন সেটাকে কোনো সাধারণ ম্যাচ হিসেবে দেখতেন না বলে জানিয়েছেন তাঁর ছেলে ম্যারাডোনা জুনিয়র। পাশাপাশি রাজনৈতিক বৈরিতা নিয়ে আলোচনা হলেও লিওনেল স্কালোনি এটাকে স্বাভাবিক ম্যাচ হিসেবেই দেখছেন। তাঁর কথারই প্রতিধ্বনি গতকাল শোনা গেছে রদ্রিগো দি পলের কণ্ঠে।

    স্কালোনি-রদ্রিগো দি পল যা-ই বলুন না কেন, ম্যারাডোনার ছেলে মার্কাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বারবার টেনে এনেছেন ৪০ বছর আগের প্রসঙ্গ। ম্যারাডোনা জুনিয়র বলেন, ‘বাবা এটাকে (আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড) কোনো সাধারণ ম্যাচ হিসেবে দেখতেন না। অনেক কিছুই বলা যায়। তবে কোনো সাধারণ ম্যাচ হচ্ছে না।’

    কীর্তিমানের মৃত্যু নেই—ম্যারাডোনা-পেলের মতো কিংবদন্তিদের নিয়ে কথা বলতে গেলে বহুল প্রচলিত এই প্রবাদ বাক্য চলে আসবেই। ২০২০ সালে ৬০ বছর বয়সে ম্যারাডোনা চলে যান না ফেরার দেশে। কিন্তু ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে যেসব ভেন্যুতে আর্জেন্টিনার ম্যাচ হয়েছে, সব জায়গার গ্যালারিতেই দেখা গেছে তাঁর ছবি।

    ছন্দে থাকা মেসি চলতি বিশ্বকাপে এরই মধ্যে ৮ গোল করেছেন। অ্যাসিস্ট করেছেন ২ গোলে। রেকর্ডের পর রেকর্ড ভেঙে চলা মেসি ১০ অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের কীর্তি গড়েছেন। ভেঙে দিয়েছেন ম্যারাডোনার সর্বোচ্চ ৮ অ্যাসিস্টের রেকর্ড।

    আটলান্টায় আজ হতে যাওয়া আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমির টিকিটের দামও অনেক বেড়েছে। এই স্টেডিয়ামের সবচেয়ে দামি হসপিটালিটি প্যাকেজের টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৫৫ হাজার ব্রাজিলিয়ান রিয়াল থেকে। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১৩ লাখ ২১ হাজার টাকা। এর মধ্যে ভিআইপি কেবিনও অন্তর্ভুক্ত।

    আটলান্টা স্টেডিয়ামের কাছাকাছি অবস্থিত গ্যালারির টিকিটের দাম ১৯৩০০ রিয়াল (৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা)। সবচেয়ে কম যে টিকিটের দাম, সেটা মাঠ থেকে একটু দূরেই। এই টিকিট পুনরায় বিক্রি হচ্ছে ১১০০০ ব্রাজিলিয়ান রিয়ালে। বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। আর এই সেমির জয়ী দল নিউজার্সিতে ১৯ জুলাই স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে। গতকাল ডালাসে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কেটেছে স্পেন।

  • বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কোন দলের টিকিটের দাম কত

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কোন দলের টিকিটের দাম কত

    ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর চলছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের ১০০ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসর শেষ হতে আর মাত্র ৪টি ম্যাচ বাকি। আসরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সেমিফাইনালে উন্নীত সাবেক চার চ্যাম্পিয়ন-আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও স্পেন।

    বিশ্বকাপের শুরু থেকেই টিকিটের চড়া দাম। সেমিফাইনালের টিকিটের চাহিদা আকাশ চুম্বি। সেমিফাইনালের এক ম্যাচের টিকিটের দাম অন্যটির তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।

    আজ মঙ্গলবার রাত ১টায় ডালাসে প্রথম সেমিফাইনালে মাঠে নামবে ফ্রান্স ও স্পেন। টিকিট ট্র্যাকিং সেবা ‘টিকিটডেটা ডটকম’-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ১০টায় (ইস্টার্ন টাইম দুপুর ১২টা) এই ম্যাচের টিকিটের দাম ছিল ১ হাজার ৩২৫ ডলার।

    বুধবার আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। শুরুতে এই ম্যাচের টিকিটের দাম ছিল ২ হাজার ৮৪১ ডলার। ডাইনামিক প্রাইসিংয়ের কারণে গত তিনদিনে তা ৩৪ শতাংশ বেড়ে গেছে।

    শনিবার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৬৬ ডলারে উঠেছিল। তবে পরদিন সকালে কিছুটা কমে ২ হাজার ৫৩৭ ডলারে দাঁড়ায়।

    দ্বিতীয় সেমির টিকিটের দাম তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। মায়ামিতে আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের টিকিটের দাম ১ হাজার ৫৪৩ ডলার।

    আগামী রোববার নিউইয়র্কে হতে যাওয়া ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম বর্তমানে ৬ হাজার ৭৬০ ডলার। গত ৭২ ঘণ্টায় তা প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে। গত বছরের অক্টোবরে ফাইনালের আগাম টিকিটের দাম ছিল সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৬৫০ ডলার।

  • মুখ্যমন্ত্রী বাবার সঙ্গে প্রতিযোগিতা নয়, পেছাল ছেলের সিনেমা

    মুখ্যমন্ত্রী বাবার সঙ্গে প্রতিযোগিতা নয়, পেছাল ছেলের সিনেমা

    তামিল সিনেমার সুপারস্টার ও মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় অভিনীত শেষ সিনেমা ‘জনা নায়াগান’ মুক্তি পাচ্ছে আগামী ২৪ জুলাই। এই সিনেমার সঙ্গে বক্স অফিসে সংঘর্ষ এড়াতে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বিজয়ের ছেলে জেসন সঞ্জয় পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘সিগমা’ মুক্তির তারিখ।

    আগে সিনেমাটি ৩১ জুলাই মুক্তির কথা থাকলেও এখন এটি আগস্টে মুক্তি পাবে বলে জানা গেছে। পরিচালনায় অভিষেকের পাশাপাশি জেসন সঞ্জয় অভিনয়েও নাম লেখাতে চলেছেন।

    এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেসন সঞ্জয়ের প্রথম অভিনীত সিনেমা নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রযোজক জিকেএম তামিল কুমারান নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে সিনেমাটি নির্মাণের বিষয়ে জেসনের সঙ্গে আলোচনা করছেন।

    ‘সিগমা’ প্রযোজনা করছে লাইকা প্রোডাকশন্স। এটি ট্রেজার হান্ট, হাইস্ট ও কমেডির মিশেলে নির্মিত একটি অ্যাকশনধর্মী সিনেমা।

    সিনেমাটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুন্দীপ কিশান। আরও রয়েছেন ফারিয়া আবদুল্লাহ, রাজু সুন্দরম, সম্পথ রাজ, শিব পণ্ডিত, আনবু থাসান, যোগ জাপি, মহালক্ষ্মী, শীলা রাজকুমার, কমলেশ ও কিরণ কোন্ডা।

    তামিলনাড়ু ও থাইল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানে সিনেমাটির শুটিং হয়েছে। সংগীত পরিচালনা করেছেন এস থামান।

    এক বিবৃতিতে জেসন সঞ্জয় বলেন, ‘সিগমা এমন এক গল্পের সিনেমা, যে সমাজের প্রচলিত প্রত্যাশার বাইরে নিজের পথ নিজেই বেছে নেয়। ট্রেজার হান্ট, হাইস্ট আর কমেডির সমন্বয়ে এটি দর্শকদের জন্য দারুণ এক বিনোদনের অভিজ্ঞতা হবে।’

    এখন দর্শকদের অপেক্ষা—২৪ জুলাই মুক্তি পাচ্ছে বিজয়ের বিদায়ী সিনেমা ‘জনা নায়াগান’, আর তার পরেই আগস্টে বড় পর্দায় আসবে জেসন সঞ্জয়ের পরিচালনায় প্রথম সিনেমা ‘সিগমা’। সূত্র: আউটলুক ইন্ডিয়া

  • ১৩ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের টিকিট

    ১৩ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের টিকিট

    ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখতে কেবল দুই জয় দূরে। যার প্রথম ধাপ আগামীকাল আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে। আর্জেন্টিনা দলের কথা বললে যাঁর নাম আগে খোঁজা হয়, সেই লিওনেল মেসিকে এক নজর দেখতে গ্যালারিতে ভক্ত-সমর্থকদের ভিড় লেগে থাকে। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল ঘিরে টিকিটের দামও বহুগুণ বেড়েছে।

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড স্রেফ তো একটি ম্যাচ নয়। এর সঙ্গে মিশে আছে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও। যার প্রভাব পড়েছে টিকিটের দামের ওপরও। আটলান্টার সবচেয়ে দামি হসপিটালিটি প্যাকেজের টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৫৫ হাজার ব্রাজিলিয়ান রিয়াল থেকে। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১৩ লাখ ২১ হাজার টাকা। এর মধ্যে ভিআইপি কেবিনও অন্তর্ভুক্ত। মাঠের কাছাকাছি অবস্থিত গ্যালারির টিকিটের দাম ১৯৩০০ রিয়াল (৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা)। সবচেয়ে কম যে টিকিটের দাম, সেটা মাঠ থেকে একটু দূরেই। এই টিকিট পুনরায় বিক্রি হচ্ছে ১১০০০ ব্রাজিলিয়ান রিয়ালে। বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

    ডালাসে আজ ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে সেমিফাইনাল পর্ব। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মাঠে গড়াবে এই ম্যাচ। এই ম্যাচের সবচেয়ে কম দামের টিকিট হলো ৫৫০০ রিয়াল। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা। ক্যাটাগরি ১-এর টিকিট বিক্রি শুরু হয় ১১ হাজার রিয়াল থেকে (২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা)। এমনকি ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেও কিছু টিকিট পাওয়া গিয়েছিল।

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের টিকিটের চাহিদা সম্পর্কে কদিন আগে জানতে চেয়েছিল আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন। সংবাদমাধ্যমটির অনুসন্ধান অনুযায়ী ফিফার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুনরায় বিক্রি করা টিকিটগুলো এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে।

    রাজনৈতিক বৈরিতা থাকায় আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে আটলান্টা পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করেছে। আর্জেন্টিনার ফেডারেল সরকারের বরাতে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ও গ্লোবো জানিয়েছে, সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। বিশেষ করে যেসব সমর্থকের স্টেডিয়ামে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টুডো নোটিসিয়াসের (ক্লারিন গ্রুপের অংশ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচকে কেন্দ্র করে ফ্যালকন অ্যালার্ট নামের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। আগে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো নিষিদ্ধ সমর্থক আর্জেন্টিনা ছাড়লে শুধু গন্তব্য দেশের কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হতো। এখন থেকে সেই তথ্য ফ্রাঙ্কো বেরলিনকেও জানানো হবে।

    ফ্রাঙ্কো বেরলিন আর্জেন্টিনার জাতীয় ক্রীড়া ইভেন্ট নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক। বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সহযোগিতা করছেন। প্রয়োজনে তিনি নিজেও যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষকে সতর্কবার্তা দিতে পারবেন—এমনটাই বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

    সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। তাতে বিশ্বকাপ ফুটবলে ঘটল এক ইতিহাস। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের প্রথম চারে থাকা দলগুলো এবারই প্রথমবারের মতো খেলছে সেমিফাইনালে। আজ ডালাসে প্রথম সেমিতে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স-স্পেন। বর্তমান র‍্যাঙ্কিংয়ে ফ্রান্স ও স্পেন অবস্থান করছে ১ ও ৩ নম্বরে। আর আটলান্টায় আগামীকাল হবে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের অবস্থান ২ ও ৪ নম্বরে। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর যখন বিশ্বকাপের সূচি ঠিক করা হয়েছিল, তখনো র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল ছিল আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন এবং ইংল্যান্ড।

  • আমরা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন, কাউকে ভয় পাই না

    আমরা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন, কাউকে ভয় পাই না

    সোমবার ১৯ বছরে পা দিয়েছেন স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল। জন্মদিনের আবহে ডলাসে বসে তিনি যেভাবে ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগের সংবাদ সম্মেলনে কথা বললেন, তাতে বয়সের চেয়ে তার মানসিক পরিপক্কতাই বেশি ফুটে উঠল। ফ্রান্স কি স্পেনকে ভয় পাচ্ছে? এমন প্রশ্নে ইয়ামাল যেন সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন ফরাসিদের। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘আমরা ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন, আমরা কাউকে ভয় পাই না।’

    এর আগে ইয়ামাল বলেছিলেন, ফ্রান্সের স্পেনকে ভয় পাওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আবারও তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো দ্বিধা না করে বলেন, ‘আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল আমি ফ্রান্সকে ভয় পাই কি না, আমি বলেছি না। আমরা ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন। ফুটবল মাঠে আমরা কাউকে ভয় পাই না। আমার সেই মন্তব্যকে তারা কীভাবে ব্যাখ্যা করবে, তা তাদের ব্যাপার।’

    ফ্রান্সের জুলস কুন্দে অবশ্য ইয়ামালের মন্তব্যকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাননি। তিনি কিছুটা উপেক্ষা করেই বলেছেন, ‘ইয়ামাল কেমন তা আমার জানা আছে।’ কিন্তু মাঠে নামার আগে ইয়ামালের এই আত্মবিশ্বাস যে ফরাসি রক্ষণভাগের জন্য বড় চাপের কারণ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অবশ্য এবারের বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচে ইয়ামালের গোল মাত্র একটি, সৌদি আরবের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে। কোনো অ্যাসিস্ট নেই।

    সমালোচকরা অনেকেই বলছেন, বড় মঞ্চে ইয়ামাল তার সেরা ছন্দে নেই। কিন্তু এই সমালোচনাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে ইয়ামাল বলেন, ‘তারা যদি মনে করে আমি আমার সেরা ছন্দে নেই, তবে মঙ্গলবারের ম্যাচের জন্য আমার কাছ থেকে কোনো প্রত্যাশা না রাখাই ভালো। এটিই আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আমরা সবাই ২০১০ সালের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। কেন আমরা পারব না?’

    পরিসংখ্যান বলছে, বড় টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ইয়ামাল বরাবরই বিধ্বংসী। ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে ফ্রান্সের জালে গোল করেছিলেন তিনি। আবার নেশনস লিগের সেমিফাইনালেও জোড়া গোল করেছিলেন। ফ্রান্সের বিপক্ষে তার এই ধারাবাহিকতা কি এবারও অব্যাহত থাকবে? সংবাদ সম্মেলনে ইয়ামালের আত্মবিশ্বাসই বলে দিচ্ছে, নিজের জন্মদিনে নিজেকে নিশ্চয়ই আরেকটি গোল উপহার দিতে চাইবেন।

  • এমবাপ্পে-ইয়ামাল দ্বৈরথে কে সবচেয়ে সফল?

    এমবাপ্পে-ইয়ামাল দ্বৈরথে কে সবচেয়ে সফল?

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মঞ্চে মুখোমুখি ফ্রান্স ও স্পেন। একদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পের ক্ষিপ্রতা আর গোল করার অদম্য ক্ষুধা, অন্যদিকে লামিন ইয়ামালের জাদুকরী ফুটবল। ডালাসের এআইটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার যখন দুই দল মুখোমুখি হবে, তখন মাঠের লড়াই ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে এই দুই মহাতারকার ব্যক্তিগত দ্বৈরথ।

    এবারের বিশ্বকাপে প্রত্যাশিতভাবেই কিলিয়ান এমবাপ্পে গোলমেশিন রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। ৬ ম্যাচে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে এগিয়ে। রিয়াল মাদ্রিদে দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটানোর পর জাতীয় দলের জার্সিতেও তিনি অপ্রতিরোধ্য। নিজে গোল করার পাশাপাশি মোট ১১টি গোলে অবদান রেখেছেন। ফ্রান্সের আক্রমণভাগ হয়ে উঠেছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বিধ্বংসী।

    পরিসংখ্যানের চেয়েও বড় কথা, এমবাপ্পে এখন শুধু গোলই করছেন না, দলের প্রয়োজনে ডিফেন্সেও ভূমিকা রাখছেন সমানতালে। ফ্রান্সের ফুটবল বিশেষজ্ঞ জুলিয়েন লরেনসের মতে, ‘জিনেদিন জিদান বা মিশেল প্লাতিনির চেয়েও বড় খেলোয়াড় হওয়ার পথে এমবাপ্পে। এই টুর্নামেন্টের পর তিনি সম্ভবত ফ্রান্সের ইতিহাসের সেরা ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন।’

    অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছরের ইয়ামালকে অনেকেই দেখছেন ফুটবলের ভবিষ্যৎ হিসেবে। বার্সেলোনার এই বিস্ময়বালককে খোদ জাভি হার্নান্দেজ তুলনা করেছেন মেসি, ম্যারাডোনা ও পেলের সাথে। এবারের বিশ্বকাপে যদিও গোলের দেখা খুব একটা পাননি, কিন্তু তার ট্যাকটিক্যাল প্রভাব স্পেনের খেলায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। প্রতিপক্ষের ডি বক্সের সামনে বল পেলেই ইয়ামাল হয়ে ওঠেন ত্রাস। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তার লড়াকু মানসিকতা কোচ দে লা ফুয়েন্তেকে মুগ্ধ করেছে।

    এখন পর্যন্ত ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই দুই তারকা মুখোমুখি হয়েছেন মোট ১০ বার। ইয়ামাল জয়ী হয়েছেন ৮টি ম্যাচে, এমবাপ্পের জয় মাত্র ২ ম্যাচে। জয়ের হিসেবে ইয়ামাল এগিয়ে থাকলেও, গোল করার ক্ষেত্রে আধিপত্য এমবাপ্পের। এই ১০ ম্যাচে এমবাপ্পে গোল করেছেন ৯টি, আর ইয়ামাল গোল পেয়েছেন ৬টি। গত ইউরো এবং নেশনস লিগের সেমিফাইনালে স্পেন ফ্রান্সকে হারিয়েছে ইয়ামালের হাত ধরেই। এবার কি পারবে ফ্রান্স সেই হিসাব চুকিয়ে ফাইনালে যেতে? নাকি ইয়ামাল আবারও দেখাবেন তার জাদু?

  • ইতিহাস ফাইনালে পৌঁছে দিচ্ছে আর্জেন্টিনাকে!

    ইতিহাস ফাইনালে পৌঁছে দিচ্ছে আর্জেন্টিনাকে!

    সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার পর আর্জেন্টিনার সঙ্গী হয়ে গেছে বিশ্বকাপ ইতিহাস। সেই ইতিহাস বলছে, এখান থেকে কখনো তাদের পা হড়কায় না। এর আগে পাঁচবার সেমিফাইনাল খেলে পাচঁবারই জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা।

    এ নিয়ে ষষ্ঠবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলবে তিনবারের বিশ্বজয়ীরা। রবিবার সকালে অতিরিক্ত সময়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা পৌঁছে যায় সেমিফাইনালের মঞ্চে। সেখানে তারা ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বুধবার রাতে। তবে ইংলিশদের বিপক্ষে পরিসংখ্যানে মেসিরা খানিকটা পিছিয়ে আছেন। বিশ্বকাপে ৫বার মুখোমুখিতে ইংল্যান্ড জিতেছে তিনবার আর আর্জেন্টিনা দুই বার।

    ১৯৬২ সালে গ্রুপে ইংল্যান্ড ৩-১ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনাকে। চার বছর বাদে ইংল্যান্ডের একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের পথে কোয়ার্টার ফাইনালে আবার ১-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে। সর্বশেষ ২০০২ বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হারে আর্জেন্টিনা।

    তারা জিতেছে ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ জয়ের পথে কোয়ার্টার ফাইনালে, ২-১ গোলে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হলেও টাইব্রেকারে জেতে আর্জেন্টিনা।

    এবার কেইন-বেলিংহামের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে মেসির আর্জেন্টিনা ষষ্ঠবারের মতো মুখোমুখি হওয়ার আগেই ইতিহাস প্রেরণা জোগাচ্ছে আলবিসেলেস্তেদের। তাদের সেমিফাইনালে পৌঁছানো মানেই ফাইনাল খেলা!

  • এমবাপ্পে-ইয়ামাল মুখোমুখি; ফাইনালের টিকিট কার হাতে

    এমবাপ্পে-ইয়ামাল মুখোমুখি; ফাইনালের টিকিট কার হাতে

    বাইরে তীব্র দাবদাহ। ভেতরে ফুটবলীয় উত্তেজনায় রীতিমতো কাঁপছে ডালাস এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়াম। যেখানে ফরাসি বিপ্লব বনাম স্প্যানিশ আর্মাডা লড়াই। বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছেন এক ব্লকবাস্টার ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল। মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি ফ্রান্স এবং স্পেন। এটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়। প্রতিশোধ, পুনরুত্থান আর ট্যাকটিক্যাল মাস্টারমাইন্ডের বুদ্ধি এবং কৌশলের লড়াই। একদিকে, দিদিয়ের দেশমের ক্ষুরধার মস্তিষ্কশানিত এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি আক্রমণভাগ। অন্যদিকে, লুইস দে লা ফুয়েন্তের তারুণ্যদীপ্ত ও আক্রমণাত্মক স্প্যানিশ আর্মাডা। ফুটবল বিশ্ব এক শ্বাসরুদ্ধকর মহারণের জন্য প্রস্তুত। অনেকটা নাটকীয় ভাবে সেমি-ফাইনালে পৌঁছেছে দল দুটো। ফ্রান্স এবারের গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচেই সেনেগালের বিপক্ষে শুরুতে কিছুটা ছন্দহীন ছিল।

    কিন্তু বিরতির পর দেশমের জাদুকরী কৌশল পরিবর্তন খেলায় ফিরিয়ে আনে ফ্রান্সকে। মহাতারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল তরুণ উইঙ্গার ব্র্যাডলি বারকোলার দুর্দান্ত চিপ শটে ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন তারা। এরপর থেকে ফরাসিরা অপ্রতিরোধ্য। ছয় ম্যাচে সর্বমোট গোল করেছে ১৬টি। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে তারা পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে চারটিতে ক্লিনশিট জয় নিয়েছে। গড়েছে এক অনন্য ডিফেন্সিভ রেকর্ড। স্পেন টুর্নামেন্টে পা রেখেছিল কাপ বিজয়ের প্রবল দাবিদার হিসেবে। যদিও গ্রুপ পর্বের শুরুতে নবাগত কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে ফুটবল ভক্তদের হতাশায় ডুবিয়েছিল। এরপর দলটি ঘুরে দাঁড়ায় সবচেয়ে কম গোল হজম করে। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত কোনো গোল না খেয়ে অন্য এক বার্তা দেয় ফুটবল বিশ্বকে।

    কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে তাদের দুর্ভেদ্য প্রাচীরে প্রথম ফাটল ধরে। ৩০ মিনিটে ফাবিয়ান রুইজের গোলে স্পেন এগিয়ে যায়। ৪১ মিনিটে বেলজিয়ামের চার্লস ডি ক্যাটেলারের গোলে সমতা আসে। ১-১ গোলে সমতায় থাকা সেই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ৮৮ মিনিটে ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনো। বেলজিয়াম হেরে যায় ২-১ গোলে। নিশ্চিত হয় সেমিফাইনাল। বিশ্ব কী দেখবে। ট্যাকটিক্সের চরম বৈপরীত্য! আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম সফল ও বাস্তববাদী ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম। তিনি ইতিমধ্যেই দলের ডিফেন্সিভ স্ট্রাকচার ঠিক রেখে মাঝখানে মাইকেল ওলিসেকে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় এনেছেন। এতে যোগ হয়েছে নতুন এক মাত্রা। দেশম ৪-২-৩-১ ফরমেশনেও এনেছেন পরিবর্তন। তিনি আসলে ওলিসে, উইঙ্গার উসমান দেম্বেলে এবং ব্র্যাডলি বারকোলার গতিকে কাজে লাগিয়ে কাউন্টার অ্যাটাকই বেশি পছন্দ করেন। এতসবের মধ্যেও ফরাসি শিবিরে দুশ্চিন্তা রয়েছে মানু কোনকে নিয়ে। মানু কোন একজন গুরুত্বপূর্ণ ডিফেন্সিভ স্তম্ভ। তার কার্ড সমস্যা নিয়ে যথেষ্ট সংশয়ও রয়েছে। বলা হচ্ছে, এতে করে মিডফিল্ডের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

    তবে অরিলিয়ে চুয়ামিনির দলে ফেরার সম্ভাবনা ফরাসিদের বাড়তি শক্তি। স্প্যানিশরা কী করবেন। লামিন ইয়ামালের ওপরই কি নির্ভর করবেন। যদিও তাদের দলটি এখন টোটাল ফুটবল খেলার জন্য প্রস্তুত। কোচ ফুয়েন্তে অলস পাসিং ফুটবল থেকে দলকে বের করে এনে গতিময় করেছেন। পাশাপাশি দুই উইং-এ দ্রুত আক্রমণ শানানোর দিকেই তার নজর বেশি। ফরাসিদের বিপজ্জনক কাউন্টার অ্যাটাক মাঝমাঠেই নস্যাৎ করতে নতুন এক কৌশল এঁটেছেন। তাই মাঝমাঠের মূল দায়িত্ব দেবেন রদ্রি এবং পেদ্রির ওপর। আসলে ফ্রান্স-স্পেন লড়াইটা হচ্ছে দুই নক্ষত্রের লড়াই। কিলিয়ান এমবাপ্পে ফ্রান্সের আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি।

    রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান সুপারস্টার ও অধিনায়ক। এই বিশ্বকাপে ৮ গোল করে তিনি শীর্ষ গোলদাতার তালিকায়। তার অতিমানবীয় গতি এবং উইং থেকে ভেতরে কেটে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে তিনি ওস্তাদ। এজন্য স্পেনের রক্ষণভাগের মাথাব্যথার কারণ এমবাপ্পে। স্প্যানিশ রাইট ব্যাক পেদ্রো কিংবা সেন্ট্রাল ডিফেন্সের কুবার্সি এবং আইমেরিক লাপোর্তেকে নতুন অ্যাসাইনমেন্ট দিয়েছেন কোচ। আর সেটা হচ্ছে এমবাপ্পেকে বোতলবন্দি করা। ওদিকে, বার্সেলোনার তারকা লামিন ইয়ামাল স্পেনের গোলশক্তির এক বিস্ময়বালক। টুর্নামেন্ট জুড়েই তিনি আলোচনায়।

    প্রতিপক্ষের ডিফেন্সকে তছনছ করার অভাবনীয় শক্তি তার। ইয়ামালই ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখেন। এই দুই দলের লড়াইয়ের একটি রক্তক্ষয়ী ইতিহাস রয়েছে। একদিকে প্রতিশোধের আগুন, অন্যদিকে ৯ গোলের সেই মহাকাব্য। ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয়- ফ্রান্স ও স্পেনের শত্রুতা বেশ পুরনো। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের সাম্প্রতিক ইতিহাসে স্পেনের দিকেই পাল্লা ভারী। এই ম্যাচ ঘিরে তীব্র প্রতিশোধের আলামত দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালের উয়েফার সেই সেমিফাইনালে নাটকীয় ঘটনা ঘটেছিল। মিউনিখ স্টেডিয়ামে ফ্রান্সকে ২-১ গোলে বিদায় করে ফাইনালে উঠেছিল স্পেন। সবচেয়ে বড় চমকটি ছিল ২০২৫ সালের জুন মাসে। উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফানালে হয়েছিল এক মহাকাব্যিক লড়াই। ৯ গোলের সেই অবিশ্বাস্য এবং শ্বাসরুদ্ধকর থ্রিলারে ফ্রান্সকে ৫-৪ ব্যবধানে হারায় স্পেন। নিকো উইলিয়ামস, মিকেল মেরিনো, পেদ্রি এবং লামিন ইয়ামালের জোড়া গোলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় মাঠে। তাদের বিধ্বংসী আক্রমণের জবাবে কিলিয়ান এমবাপ্পে, রায়ান শেরকি এবং রান্ডাল কোলো মুয়ানিরা তীব্র লড়াই করেও পরাজয় মানতে হয় তাদের।

    তাই ডালাসের মাঠে নামার আগে এমবাপ্পেদের মনে প্রতিশোধের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলবে- এতে কোনো সন্দেহ নেই। একসময় দুই দেশের সম্পর্কে অনেক টানাপড়েন ছিল। দীর্ঘ দুই শতাব্দী ধরে চলা এই যুদ্ধ-বিগ্রহের অবসান ঘটে ১৬৫৯ সালে পিরেনিস চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে। এই চুক্তিতেই দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী সীমান্ত নির্ধারিত হয়। ১৮ এবং ১৯ শতকে তাদের সম্পর্ক এক জটিল রূপ নেয়। একদিকে, সাধারণ বুরবোঁ রাজবংশের মৈত্রী।

    অন্যদিকে, ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়নের পেনিনসুলার যুদ্ধের রক্তক্ষয়ী ধ্বংসযজ্ঞ। এখন এই বৈরী ইতিহাস সম্পূর্ণ বদলে গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর ছত্রছায়ায় এক শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক জোটে পরিণত হয়েছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে- ফ্রান্স এখন স্পেনের অন্যতম বাণিজ্যিক অংশীদার। বৃহৎ বৈদেশিক বিনিয়োগকারীও বটে। এখানে প্রতি বছর প্রায় ১০০ বিলিয়ন ইউরোর পণ্য ও সেবা আদান-প্রদান হয়ে থাকে। এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের চুক্তির মাধ্যমে। এই ঐতিহাসিক ম্যাচের চাপ এবং উন্মাদনা প্যারিস থেকে মাদ্রিদ পর্যন্ত পৌঁছেছে। সমর্থকরা আশা করছেন- এমবাপ্পের হাত ধরেই টানা তৃতীয় বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছাবে ফ্রান্স। মাদ্রিদের রাস্তায় রাস্তায় এখন ২০১০ সালের মতো আরেকটি বিশ্বজয়ের স্বপ্নে উন্মাদনায় মেতেছেন স্প্যানিশরা। ডালাসের এই ব্লকবাস্টার সেমিফাইনালের দিকেই সবার নজর। কারা জিতবে? কারা হাসবে নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সির মেগা ফাইনালে। অপেক্ষা ইংল্যান্ড বনাম মেসির আর্জেন্টিনার মধ্যে কে বিজয়ী হবেন তার। কঠিন লড়াই। কেউ কেউ বলছেন অগ্নিপরীক্ষা। ফরাসিদের ১৬ গোলের বিধ্বংসী আক্রমণভাগ। নাকি স্প্যানিশ পাথুরে রক্ষণ? এর ফয়সালা হবে ডালাসের সবুজ গালিচায়। অপেক্ষায় থাকুন।

  • ইতিহাসে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের আলোচিত যত ঘটনা

    ইতিহাসে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের আলোচিত যত ঘটনা

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম তীব্র এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাসে রয়েছে অসংখ্য নাটকীয় মুহূর্ত, বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং স্মরণীয় ঘটনা। এমন এক মহারণের আগে আর্জেন্টিনা হারিয়েছে তাদের সাবেক অধিনায়ক অ্যান্তোনিও রাত্তিনকে। কয়েক দিন আগেই ৮৯ বছর বয়সে না–ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। আর তার বিদায়ের পরই বিশ্বকাপে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।

    সবশেষ ২০০৫ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে দেখা হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের। সেই ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে দুই দলের শেষ লড়াই হয়েছিল ২০০২ বিশ্বকাপে। প্রায় ২৪ বছর পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দল দুটি। সেই উপলক্ষে ফিরে দেখা যাক এই দ্বৈরথের পাঁচটি বহুল আলোচিত অধ্যায়।

    রাত্তিনকে মাঠ ছাড়াতে নেমেছিল পুলিশ

    ১৯৬৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েম্বলিতে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেই ম্যাচে জার্মান রেফারি রুডলফ ক্রিটলিনের সিদ্ধান্তে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ পান আর্জেন্টিনার অধিনায়ক অ্যান্তোনিও রাত্তিন। ভাষাগত সমস্যার কারণে সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা জানতে দোভাষী চাইলেও তা মেলেনি। মাঠ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে প্রায় ১০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ মাঠে নেমে তাকে বাইরে নিয়ে যায়।

    তখনও ফুটবলে হলুদ বা লাল কার্ডের প্রচলন ছিল না। এই ঘটনাই পরবর্তীতে ফুটবলে কার্ড ব্যবস্থার সূচনার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

    বার্তোনির ঘুষিতে ভেঙেছিল চেরির দাঁত

    ১৯৭৭ সালে লা বোম্বোনেরায় অনুষ্ঠিত এক প্রীতি ম্যাচেও দুই দলের লড়াই উত্তপ্ত রূপ নেয়। ম্যাচের শেষ দিকে ইংল্যান্ডের ট্রেভর চেরির কঠিন ট্যাকলের জবাবে আর্জেন্টিনার ড্যানিয়েল বার্তোনি সরাসরি তার মুখে ঘুষি মারেন। এতে চেরির সামনের দুটি দাঁত ভেঙে যায়।

    পরে দুজনকেই লাল কার্ড দেখানো হয়। সেই ম্যাচে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে লাল কার্ড দেখেছিলেন ট্রেভর চেরি।

    পচেত্তিনোর ফাউল, বেকহ্যামের গোল

    ২০০২ বিশ্বকাপে দুই দলের সর্বশেষ প্রতিযোগিতামূলক লড়াইয়েও বিতর্কের জন্ম হয়। প্রথমার্ধের শেষদিকে আর্জেন্টিনার মরিসিও পচেত্তিনোর চ্যালেঞ্জে মাইকেল ওভেনকে ফাউল করা হয়েছে বলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি পিয়েরলুইজি কোলিনা। সেই সুযোগ থেকে ডেভিড বেকহ্যাম গোল করে ইংল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে জয় এনে দেন।

    বহু বছর পর টটেনহ্যামের কোচ থাকাকালে পচেত্তিনো দাবি করেছিলেন, ওভেন আসলে ডাইভ দিয়েছিলেন এবং তিনি তাকে স্পর্শই করেননি।

    বেকহ্যামের লাল কার্ড

    ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে দুই দলের আরেকটি স্মরণীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময়ে ২-২ সমতার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এর আগে দ্বিতীয়ার্ধে দিয়েগো সিমিওনের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে লাথি মেরে লাল কার্ড দেখেন ডেভিড বেকহ্যাম।

    ১০ জনের ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত ম্যাচকে টাইব্রেকারে নিয়ে গেলেও সেখানে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। সেই হার ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক স্মৃতি হয়ে আছে।

    ‘হ্যান্ড অব গড’ ও শতাব্দীর সেরা গোল

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় নিঃসন্দেহে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। গোলশূন্য অবস্থায় পিটার শিলটনের সঙ্গে লাফিয়ে উঠে হাত দিয়ে বল জালে পাঠান দিয়েগো ম্যারাডোনা। রেফারি গোলের স্বীকৃতি দিলে জন্ম নেয় ফুটবল ইতিহাসের বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ মুহূর্ত।

    এর মাত্র চার মিনিট পরই ম্যারাডোনা করেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল। নিজের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একের পর এক ইংলিশ ফুটবলারকে কাটিয়ে গোলরক্ষককেও পরাস্ত করেন তিনি। সেই গোলটি পরবর্তীতে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে স্বীকৃতি পায়।

    শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। পরে সেই আসরেই দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়ে আলবিসেলেস্তেরা।