আর্ন্তজাতিক

  • বিশ্বকাপ ফাইনালে যে ১১ রেকর্ডের অপেক্ষায় মেসি

    বিশ্বকাপ ফাইনালে যে ১১ রেকর্ডের অপেক্ষায় মেসি

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ১৯ জুলাই বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবেন লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। তবে এই ম্যাচটি শুধু শিরোপা নির্ধারণের লড়াই নয়। বরং লিওনেল মেসির জন্য অপেক্ষা করছে অনন্য ১১টি ব্যক্তিগত রেকর্ডের হাতছানি। ফাইনালে মাঠে নামা থেকে শুরু করে গোল করা কিংবা ট্রফি জেতা, সবকিছু মিলিয়ে মেসি ছুঁতে পারেন একাধিক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

    এক নজরে ফাইনালে মেসির সামনে থাকা ১১টি সম্ভাব্য রেকর্ড

    ১. গোলরক্ষক ছাড়া সবচেয়ে বয়স্ক ফাইনালিস্ট: ফাইনালের দিন মেসির বয়স হবে ৩৯ বছর ২৫ দিন। ফুটবল ইতিহাসে গোলরক্ষক বাদে কোনো খেলোয়াড় এত বেশি বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনালে মাঠে নামেননি। রেকর্ডটি এখনও ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক দিনো জফেরের দখলে আছে। ৪০ বছর ১৩৩ দিনে তিনি পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ১৯৮২ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছিলেন। মেসি এবারের বিশ্বকাপে ফাইনালে নামলে, আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে তিনিই হবেন ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক ফাইনালিস্ট।

    ২. দ্বিতীয় অধিনায়ক হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল: ২০১৪ ও ২০২২ সালের পর মেসির এটি তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। এর আগে ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফু ১৯৯৪, ১৯৯৮ এবং ২০০২ সালে টানা তিনটি ফাইনালে খেলেছিলেন। সেই অভিজাত তালিকায় মেসি দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে নিজের নাম লেখাতে চলেছেন।

    ৩. প্রথম অধিনায়ক হিসেবে তিন ফাইনাল নেতৃত্ব: ফুটবল ইতিহাসে অনেক কিংবদন্তি অধিনায়কের নাম রয়েছে, যারা দুবার দলকে ফাইনালে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু মেসিই হবেন প্রথম খেলোয়াড়, যিনি তিনবার বিশ্বকাপ ফাইনালে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামবেন।

    ৪. অধিনায়ক হিসেবে জোড়া বিশ্বকাপ শিরোপা: ফুটবলে দুবার বিশ্বকাপ জেতা খেলোয়াড় অনেক আছেন, কিন্তু দুইবারই ‘অধিনায়ক’ হিসেবে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার নজির নেই। ইতালি ও ব্রাজিলের অনেক তারকা দুবার বিশ্বজয়ী হলেও তাদের কেউ অধিনায়ক হিসেবে দ্বিতীয়বার ট্রফি ধরেননি। আর্জেন্টিনা জিতলে মেসি হবেন ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক যিনি দুবার বিশ্বকাপ শিরোপা নিজের হাতে নেওয়ার অনন্য রেকর্ডের মালিক হবেন।

    ৫. ফাইনালের সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতা: ফাইনালে গোল করা যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্যই বড় প্রাপ্তি। স্পেনের বিপক্ষে মেসি গোল পেলে তিনি ১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করা সুইডেনের নিলস লিডহোমের (৩৫ বছর ২৬৪ দিন) রেকর্ডটি ভেঙে দেবেন। এটি তাকে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতা হিসেবে অমর করে রাখবে।

    ৬. আর্জেন্টিনার হয়ে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল: ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে গিয়ের্মো স্তাবিল ৮টি গোল করেছিলেন। ৯৬ বছর ধরে এটিই ছিল আর্জেন্টিনার হয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ গোল। এবারের বিশ্বকাপে মেসি ইতোমধ্যে ৮টি গোল করে ফেলেছেন। ফাইনালে একটি গোল করলেই তিনি স্তাবিলকে টপকে এককভাবে নতুন রেকর্ড গড়ে ফেলবেন।

    ৭. ১০ গোলের মাইলফলক: এক আসরে ১০ গোল করা মানেই ফুটবলারদের একটি বিশেষ অভিজাত ক্লাবে জায়গা পাওয়া। যদি মেসি ফাইনালে জোড়া গোল করতে পারেন, তবে তিনি জাস্ট ফনটেইন (১৩ গোল), স্যান্ডর কোসিস (১১ গোল) এবং গার্ড মুলারের (১০ গোল) তালিকায় নাম লেখাবেন। ইউরোপের বাইরে জন্ম নেওয়া কোনো ফুটবলারের জন্য এটি হবে এক অবিশ্বাস্য অর্জন।

    ৮. দুটি আলাদা বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল: ২০২২ সালের ফাইনালে মেসি গোল করেছিলেন। যদি ১৯ জুলাই স্পেনের বিপক্ষে তিনি গোল করতে পারেন, তবে তিনি ভাভা, পেলে, পল ব্রেইটনার, জিনেদিন জিদান ও কিলিয়ান এমবাপ্পেদের মত ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার রেকর্ড গড়বেন।

    ৯. বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের হয়ে সর্বোচ্চ গোল: ২০০২ সালে চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের হয়ে রোনালদো ৮টি গোল করেছিলেন। আর্জেন্টিনা যদি এবার চ্যাম্পিয়ন হয় এবং মেসি কমপক্ষে একটি গোল করেন, তবে তিনি ৯ গোল নিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন কোনো দলের খেলোয়াড় হিসেবে এক আসরে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ডটি নিজের করে নেবেন।

    ১০. ফাইনালের সর্বোচ্চ গোলদাতা: বিশ্বকাপ ফাইনালে এককভাবে সর্বোচ্চ ৪টি গোলের মালিক কিলিয়ান এমবাপ্পে। মেসি যদি ফাইনালে দুটি গোল করতে পারেন, তবে তিনি এমবাপ্পের সেই রেকর্ড স্পর্শ করবেন। আর যদি হ্যাটট্রিক করতে পারেন, তবে ৫ গোল নিয়ে তিনি এককভাবে এই তালিকার শীর্ষে উঠে আসবেন এবং জিওফ হার্স্টের পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ফাইনালে হ্যাটট্রিকের অনন্য কীর্তি গড়বেন।

    ১১. সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়: টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয় করা বিরল ঘটনা। এর আগে ইতালি (১৯৩৪, ১৯৩৮) এবং ব্রাজিল (১৯৫৮, ১৯৬২) এই নজির গড়েছিল। আর্জেন্টিনা এবার জিতলে মেসি হবেন ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার যিনি টানা দুবার বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য। ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের নীল্টন সান্তোস ৩৭ বছর বয়সে এই রেকর্ড গড়েছিলেন, মেসি সেটি অতিক্রম করবেন।

  • গোল্ডেন বুট ও বলের লড়াইয়ে এগিয়ে মেসি

    গোল্ডেন বুট ও বলের লড়াইয়ে এগিয়ে মেসি

    বয়স তার ৩৯। কিন্তু মাঠে লিওনেল মেসি যা করছেন, তাতে বয়সটাকে মনে হচ্ছে শুধুই সংখ্যা! এই আসরে যেন আরও বেশি জয়ের ক্ষুধা নিয়ে নেমেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর এক সেমিফাইনালে মেসির জোড়া অ্যাসিস্টেই ফিরে আসার রূপকথার গল্প রচনা করেছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের ৭ ম্যাচ শেষে গোল্ডেন বল ও বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন মেসিই।

    মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে, এখন পর্যন্ত দুজনেরই গোল ৮টি করে। দুজনেই আরও একটি করে ম্যাচ খেলবেন এই আসরে।

    বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে এখন এগিয়ে মেসিই। কারণ, গোল সমান হলে অ্যাসিস্ট সংখ্যা হিসাব করা হয়। মেসি সেখানে এমবাপ্পের চেয়ে এক অ্যাসিস্টে এগিয়ে আছেন।

    এখন পর্যন্ত মেসির অ্যাসিস্ট ৪ টি, এমবাপ্পের ৩টি। গোল্ডেন বুটের মূল লড়াইটা হবে এই দুইজনের মধ্যেই। এছাড়াও এই দৌড়ে আছেন ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইন। দুজনের গোলসংখ্যা ৬টি, অ্যাসিস্ট একটি। উসমান দেম্বেলের গোল ৫টি, অ্যাসিস্ট ২টি। স্পেনের মিকেল ওয়ারসাবালের গোল ৫টি, অ্যাসিস্ট ১টি। তারা সবাই খেলবেন আরও একটি ম্যাচ।

    গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসির প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও সেরা ফুটবলার বা গোল্ডেন বলের লড়াইয়ে মেসিই সবচেয়ে এগিয়ে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলে তো বটেই, রানার্সআপ হলেও টুর্নামেন্টে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের কারণে রেকর্ড তৃতীয়বারের মতো টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার উঠতে পারে তার হাতেই। এর আগে ২০১৪ ও ২০২২ বিশ্বকাপে সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছিলেন মেসি।

  • ১৯ গোলে ১৯৭০ বিশ্বকাপের ব্রাজিলের পাশে আর্জেন্টিনা

    ১৯ গোলে ১৯৭০ বিশ্বকাপের ব্রাজিলের পাশে আর্জেন্টিনা

    পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে এক যুগের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে লিওনেল মেসির দল। এই বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে আর্জেন্টিনার গোল ১৯টি। এতেই তারা স্পর্শ করল ১৯৭০ সালের বিখ্যাত সেই ব্রাজিল দলকে।

    এই আসরে গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা তিন ম্যাচে করেছে ৮ গোল। আলজেরিয়ার সঙ্গে ৩টি, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুটি ও জর্ডানের বিপক্ষে তিনটি।

    নকআউটের চার ম্যাচে এখন পর্যন্ত তাদের গোল ১১টি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ৩২ এর ম্যাচে তারা জিতেছে ৩-২ গোলে। শেষ ১৬ এর ম্যাচে মিসরকে আর্জেন্টিনা হারিয়েছে ৩-২ ব্যবধানে। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মেসিদের জয় ৩-১ ব্যবধানে।

    সেমিতে ইংলিশদের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা জিতল ২-১ গোলে। আর এতেই গোলের রেকর্ডে ১৯৭০ সালের ব্রাজিলকে ছুঁয়ে ফেলল স্কালোনির দল। সেবার পুরো আসরে ১৯ গোল করেছিল পেলের দল। এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার গোলও ১৯।

    আর্জেন্টিনা ও ১৯৭০ এর ব্রাজিল এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের দিক দিয়ে আছে ৫ম স্থানে। ১৯৫০ সালে ২২ গোল করে চতুর্থ স্থানে আছে ব্রাজিল। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ২৩ গোল করা ফ্রান্স আছে তৃতীয় স্থানে।

    ১৯৫৪ সালে ২৫ গোল করে পশ্চিম জার্মানি আছে দ্বিতীয় স্থানে। এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড হাঙ্গেরির। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে ২৭ গোল করে এই তালিকার সবার ওপরে আছে তারা।

  • সেমিফাইনালে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রাখল আর্জেন্টিনা

    সেমিফাইনালে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রাখল আর্জেন্টিনা

    বিশ্ব ফুটবলে ধারাবাহিকতার আরেকটি অনন্য নজির গড়েছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত যতবার সেমিফাইনাল খেলেছে আলবিসেলেস্তেরা, প্রতিবারই নিশ্চিত করেছে ফাইনালের টিকিট। অর্থাৎ ৭টি সেমিফাইনাল খেলে ৭ বারই উঠেছে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে।

    চলমান বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে এই অনন্য রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেছে লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে জয় তুলে নেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

    আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ইতিহাসে সেমিফাইনাল মানেই ফাইনালের নিশ্চয়তা। ১৯৩০, ১৯৮৬, ১৯৯০, ২০১৪, ২০২২ এবং ২০২৬—প্রতিবারই শেষ চারের বাধা পেরিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছে তারা। এই ধারাবাহিকতা বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা নকআউট রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    আরও পড়ুন

    উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলেও ওই টুর্নামেন্টে বর্তমান ফরম্যাটের মতো আলাদা সেমিফাইনাল ছিল না। সে সময় দ্বিতীয় রাউন্ডের গ্রুপ পর্ব থেকে সরাসরি ফাইনালিস্ট নির্ধারিত হয়েছিল।

    ২০২৬ এর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। গোল না করলেও দুইটি অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। এই জয়ে আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল নিশ্চিত করেছে এবং শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নও বাঁচিয়ে রেখেছে।

  • নিঃসন্দেহে মেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়: হ্যারি কেইন

    নিঃসন্দেহে মেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়: হ্যারি কেইন

    ৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসির ফুটবল জাদু যেন একটুও ম্লান হয়নি। মাঠে তার নেতৃত্ব, ক্ষিপ্রতা ও ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা এখনো আগের মতোই কার্যকর। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা, আর এই সাফল্যের অন্যতম নায়ক ছিলেন মেসি। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও অকপটে স্বীকার করেছেন, মেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার।

    আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দেন মেসি। ম্যাচের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। তবে শেষ মুহূর্তে অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডের দুই অসাধারণ অ্যাসিস্ট বদলে দেয় পুরো দৃশ্যপট। তার তৈরি করা সুযোগ থেকেই গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ।

    ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে হারের হতাশা নিয়েও মেসির প্রশংসা করতে কার্পণ্য করেননি ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এমনটাই হয়। যখন তারা ফাইনাল থার্ডে (প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সের কাছাকাছি এলাকা) বল পায়, তখন যেকোনো মুহূর্তে জাদু দেখাতে পারে। মেসি আজ আবার সেটাই করেছে। নিঃসন্দেহে সে সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। এর পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে।’

    প্রথমার্ধে দুই দলই ছিল বেশ রক্ষণাত্মক। আক্রমণের চেয়ে মাঝমাঠের লড়াই, শারীরিক দ্বৈরথ এবং ফাউলই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড।

    দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। দীর্ঘ সময় সেই ব্যবধান ধরে রাখলেও শেষ দিকে মেসির অনবদ্য নেতৃত্বে ম্যাচে ফিরে আসে আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিটে তার নিখুঁত পাস থেকে সমতাসূচক গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির দারুণ ক্রসে হেড করে জয়সূচক গোলটি করেন লাউতারো মার্তিনেজ।

    জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। রক্ষণভাগের কিছু ভুলের সুযোগ নিয়ে আর্জেন্টিনা ম্যাচ নিজেদের করে নেয়। আর সেই নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মেসি। বয়স ৩৯ হলেও তার প্রভাব, সৃজনশীলতা ও ম্যাচ নির্ধারণী ভূমিকা আবারও প্রমাণ করেছে—ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তিনি এখনো সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং ভয়ংকর।

  • এই জয় ম্যারাডোনার জন্য উপহার: মেসি

    এই জয় ম্যারাডোনার জন্য উপহার: মেসি

    লিওনেল মেসির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি ওঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবলের কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা। কিন্তু সেই দৃশ্য দেখার আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যান তিনি। পরে কাতার বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার সেই স্বপ্ন পূরণ করেন মেসি। ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ জয়ের ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনাকে আবারও শিরোপা এনে দেন তিনি।

    ২০২২ সালে কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে যে ট্রফিতে চুম্বন করেছিলেন মেসি, চার বছর পর নিউইয়র্কে আবারও সেই স্বপ্ন ছোঁয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজরা। দুই গোলের পেছনেই ছিল মেসির অবদান, দুটি অ্যাসিস্টই এসেছে তার পা থেকে। আর এই স্মরণীয় জয়টি তিনি উৎসর্গ করেছেন প্রয়াত কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে।

    ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসের এক প্রতিবেদক মেসির হাতে তুলে দেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার পরা আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক জার্সি। আবেগঘন সেই মুহূর্তে মেসি জানান, এই জয় ম্যারাডোনার জন্যও বিশেষ এক উপহার।

    মেসি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, দিয়েগো ওপর থেকে এই ম্যাচ উপভোগ করছেন। আজ তার জন্য খুবই বিশেষ একটি দিন। তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, তাকে এই আনন্দ দিতে পেরেছি। এটাও তার জন্য একটি উপহার।’

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার এই জয় অনেকের মনেই ফিরিয়ে এনেছে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের স্মৃতি। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যারাডোনা ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ খ্যাত দুটি গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিলেন। পরে তার নেতৃত্বেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় আর্জেন্টিনা।

    চার দশক পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে একই প্রতিপক্ষকে একই ব্যবধানে হারাল আলবিসেলেস্তেরা। আর সেই জয়ের কেন্দ্রে ছিলেন লিওনেল মেসি। ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও তিনি ছিলেন শান্ত ও ধৈর্যশীল। মাঝমাঠে নেমে খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তৈরি করেছেন দুই গোলের সুযোগ।

    প্রথমে এনজো ফার্নান্দেজকে নিখুঁত পাস দিয়ে সমতাসূচক গোলের পথ খুলে দেন। পরে লাউতারো মার্তিনেজের উদ্দেশে ভাসানো ক্রস থেকে আসে জয়সূচক হেড। এখন শিরোপার পথে আর্জেন্টিনার সামনে শেষ বাধা স্পেন।

    আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। সেই ম্যাচে জয় পেলে ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে আর্জেন্টিনা।

    তবে ফাইনালের আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক জয়কে ম্যারাডোনার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবেই দেখছেন মেসি। তার বিশ্বাস, আর্জেন্টিনার প্রতিটি বড় অর্জনের সঙ্গে ম্যারাডোনার স্মৃতি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে থাকবে।

  • ‘কেউ আমাদের সুবিধা দেয়নি, আমরা সেরা বলেই ফাইনালে’

    ‘কেউ আমাদের সুবিধা দেয়নি, আমরা সেরা বলেই ফাইনালে’

    ফুটবল বিশ্বকাপ কি পুরোটাই সাজানো? ফিফা কি আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছে লিওনেল মেসির হাতে ট্রফি তুলে দেবে? রেফারিদের পক্ষপাতিত্ব থেকে শুরু করে ভিএআর এর সুবিধা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। বিশ্বকাপ যত এগিয়েছে, আর্জেন্টিনাকে নিয়ে এমন অভিযোগের তালিকা ততই দীর্ঘ হয়েছে। তবে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর সমালোচকদের সব ধোঁয়াশা দূর করে দিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

    মাঠের পারফরম্যান্সে সব অভিযোগের দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে মেসি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ থেকে মাঠের লড়াইয়ে তারাই বিশ্বের সেরা দল, আর এটাই চূড়ান্ত প্রমাণিত সত্য।

    সমালোচকদের উদ্দেশে ক্ষোভ ঝেড়ে মেসি বলেন, ‘এই কথাগুলো খুব কষ্ট দেয়। গত চার বছর ধরে আমরাই বিশ্বের সেরা দল। সেটা কারও পছন্দ হোক বা না হোক। পরপর দুটো বিশ্বকাপে আমরা দেখালাম, আমরা কাকতালীয়ভাবে জিতিনি। কেউ আমাদের বাড়তি সুবিধা দেয়নি। পরপর দুটো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা সহজ নয়। এই দলটা সেটা করে দেখিয়েছে।’

    চলতি বিশ্বকাপে একের পর এক কঠিন পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ বের করে এনেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু তারপরও সমালোচনা থেমে থাকেনি। মেসি মনে করেন, ইংল্যান্ডের কাছে হেরে গেলে হয়তো এই নিন্দুকরা আরও অর্বাচীনের মতো কথা বলার সুযোগ পেত। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা ইংল্যান্ডের কাছে হেরে যেতাম, তাহলে অনেকে অর্বাচীনের মতো কথা বলত। ওদের সেই সুযোগটাই দিইনি। আমরা জানি আমরা কতটা ভালো খেলি। তাই কে কী বলল, তাতে কিছু যায়-আসে না। কিন্তু আমার মনে হয়, কিছু বলার আগে ভাবা উচিত। এমন কিছু বলা উচিত নয়, যাতে পরে আফসোস করতে হয়।’

    বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াইয়ের ঐতিহাসিক গুরুত্ব মেসির অজানা নয়। তাই ইংল্যান্ডকে হারানোর আনন্দটা অন্যসব জয়ের চেয়ে কিছুটা বেশিই। মেসি বলেন, ‘এটা বিশ্বকাপের আরও একটা ম্যাচ হলেও বাকি ম্যাচের থেকে আলাদা। সমর্থকেরা এই জয়টা চেয়েছিল। কারণ, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার মতো আনন্দ আর কিছুতে নেই। সেটা আমরা সমর্থকদের দিতে পেরেছি।’

    মেসি আরও জানান, এই ম্যাচে তাদের হারার কোনো উপায় ছিল না। আর্জেন্টাইনদের কাছে এই হার হজম করা অসম্ভব ছিল। মেসির কথায়, ‘আর্জেন্টিনার কেউ এই ম্যাচটা হারতে চায়নি। এই হার হজম করতে পারতাম না, সেটা সকলেই জানে। তাই হয়তো আনন্দ কিছুটা বেশিই হচ্ছে। আমি জানি, গোটা আর্জেন্টিনা এখন আনন্দে লাফাচ্ছে।’

  • যেভাবে ইংল্যান্ডকে এলোমেলো করে দিলেন মেসি

    যেভাবে ইংল্যান্ডকে এলোমেলো করে দিলেন মেসি

    আর্জেন্টিনা গোল করেছে দুটি। একটি এনজো ফার্নান্দেজ, অন্যটি লাওতারো মার্তিনেজ। গোলদাতার তালিকায় তাঁর নাম নেই। তবু সবাই জানেন, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক লিওনেল মেসিই।

    ম্যাচের ৫৫ মিনিট পর্যন্ত তাঁকে প্রায় আটকেই রেখেছিল ইংল্যান্ড। এরপর যা হলো, তা যেন এক খেলোয়াড়ের হাতে পুরো ম্যাচের চিত্রনাট্য বদলে যাওয়ার গল্প।

    টমাস টুখেলের দল হয়তো ম্যাচ শেষে স্কোরলাইন দেখেছে ২–১। কিন্তু মাঠের ভেতরে তারা আসলে হেরেছে একজন মেসির কাছেই।

    ক্যারিয়ারে এর আগে কখনো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হননি মেসি। তাঁর অভিষেকের পর আর্জেন্টিনা যে একবার (২০০৫ সালে) ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল, সেদিন তিনি লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞায় মাঠে ছিলেন না। অবশেষে ৩৯ বছর বয়সী মেসিকে প্রথম দেখায় ইংলিশদের যে অভিজ্ঞতা হলো, এমন কিছু নিশ্চয়ই ভুলে যেতে চাইবে তারা।

    প্রথমার্ধে মেসিকে মাঝমাঠেই আটকে রেখেছিল ইংল্যান্ড। বল পেলে কয়েকটি চমৎকার টাচ দেখিয়েছেন, কিন্তু ম্যাচে তাঁর প্রভাব চোখে পড়ার মতো ছিল না। ইংল্যান্ডও খেলছিল পরিকল্পনামাফিকই। ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়েও যায় তারা। এরপরই আসলে দিক বদলাতে শুরু করে ম্যাচের স্রোতোধারা।

    দ্বিতীয়ার্ধে মাঠের মেসির অবস্থান বদলে ফেলা হয় এএফপি

    গোল হজম করার পর আর্জেন্টিনা কোচের কৌশল না পাল্টে উপায় ছিল না। সেই কৌশলে ঝুঁকিও ছিল। লিওনেল স্কালোনি মেসিকে মাঠের ডান দিকে সরিয়ে দেন। স্কালোনির এই একটি সিদ্ধান্তই ইংল্যান্ডের পুরো রক্ষণ-পরিকল্পনা ভেঙে দেয়। ম্যাচ শেষে এমিলিয়ানো মার্তিনেজও স্বীকার করেছেন, ‘মেসিকে উইংয়ে নিয়ে আসাটাই ছিল আমাদের জন্য টার্নিং পয়েন্ট।’

    ওদিকে ইংল্যান্ড কোচ টুখেল তখন রক্ষণ আরও শক্ত করতে ডিফেন্ডার নামাতে শুরু করেন। উদ্দেশ্য ছিল এগিয়ে থাকা স্কোরলাইন ধরে রাখা। কিন্তু সেটিই বুমেরাং হয়। ইংল্যান্ড ক্রমেই নিজেদের অর্ধে গুটিয়ে যায়, আর বলে দখল বাড়ে আর্জেন্টিনার।

    এতটাই যে ৫৫ থেকে ৯২ মিনিটের মধ্যে ৮৮ শতাংশ বলই ছিল আর্জেন্টিনার দখলে। এর মধ্যে ম্যাচের ৬৬ থেকে ৮৪ মিনিট—এই ১৮ মিনিটে ইংল্যান্ডের সঠিক পাস ছিল মাত্র ২টি। দুটিই গোলকিপার জর্ডান ও পিকফোর্ড সেন্টারব্যাক জন স্টোনসের একে অপরকে দেওয়া ফিরতি পাস।

    মূলত এ সময়টাতেই ম্যাচের নাটাই নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন মেসি। বল পেলেই একজন, দুজন, কখনো তিনজন ইংলিশ ফুটবলারকে নিজের দিকে টেনে নিয়েছেন। ডান প্রান্ত থেকে কখনো ভেতরে ঢুকেছেন, কখনো বক্সের সামনে এসে জায়গা তৈরি করেছেন, আবার কখনো এমন পাস দিয়েছেন, যা পুরো ইংলিশ রক্ষণকে এলোমেলো করে দিয়েছে।

    ইংল্যান্ডের প্রথম গোলের পর মেসিই ম্যাচের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন এএফপি

    পরিসংখ্যানই বলে দেয়, ইংল্যান্ড আসলে কতটা অসহায় ছিল। ম্যাচে মেসির সফল ড্রিবল ছিল ৯টি। পুরো ইংল্যান্ড দল মিলে করেছে মাত্র ৭টি। অর্থাৎ, একাই পুরো ইংল্যান্ড দলের চেয়েও বেশি ডিফেন্ডার কাটিয়েছেন তিনি।

    ইংল্যান্ডের বক্সে মেসির টাচ ছিল ৭টি, যা পুরো ইংল্যান্ড দলের সমান। গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন ৪টি, এটিও পুরো ইংলিশ দলের সমান। ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ৯টি ক্রসও এসেছে তাঁর পা থেকেই।

    আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, আর্জেন্টিনার দুটি গোলের পেছনেই ছিল তাঁর সরাসরি অবদান। ৮৫ মিনিটে কর্নার থেকে তাঁর পাস পেয়ে দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরান এনজো। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে তাঁর ক্রস থেকেই হেডে জয়সূচক গোল করেন লাওতারো মার্তিনেজ।

    ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার মিকা রিচার্ডস তাই বলছিলেন, ‘সে মাঠের মধ্যে হেঁটে বেড়ায়, কিন্তু বল পায়ে আসামাত্রই জ্বলে ওঠে। এখানেই তার প্রতিভা। আর এটা প্রায়ই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়।’

    মেসির এই ‘হেঁটে বেড়ানো’ নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। হাঁটতে হাঁটতেই তিনি প্রতিপক্ষের অবস্থান পড়েন, শক্তি সঞ্চয় করেন, তারপর ঠিক মুহূর্তে আঘাত করেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেটিই আবার দেখা গেল।

    আরও একবার আর্জেন্টিনার জয়োৎসবের কেন্দ্রবিন্দু লিওনেল মেসিরয়টার্স

    ইংল্যান্ডের সাবেক গোলকিপার জো হার্টের বিশ্লেষণও একই রকম, ‘আমরা মেক্সিকো আর নরওয়ের বিপক্ষে যেভাবে রক্ষণ লক করে রেখেছিলাম, সে রকমই করতে চেয়েছি। কিন্তু তাতে করে মেসি পুরোপুরি স্বাধীন হয়ে যায়। আর সেই তালা খোলার চাবি তো তাঁর কাছেই ছিল। শেষ ১৫ মিনিট সে একাই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে।’

    ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও স্বীকার করেছেন, মেসির কারণেই দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়েছে তাঁর দল, ‘আমরা দীর্ঘ সময় ওকে ভালোভাবেই আটকে রেখেছিলাম। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে যা হয়, বল পেলেই তারা নতুন কিছু তৈরি করতে পারে। এমনি এমনি তো তিনি ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হননি।’

    সম্ভবত এটাই মেসির সবচেয়ে বড় পরিচয়।

  • চমক দিতে তার খুব বেশি আয়োজনের প্রয়োজন হয় না

    চমক দিতে তার খুব বেশি আয়োজনের প্রয়োজন হয় না

    বিয়ন্সে, পুরো নাম বিয়ন্সে গিসেল নোলস-কার্টার। তিনি আবারও প্রমাণ করলেন, চমক দিতে তাঁর খুব বেশি আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন তাঁর নতুন সিঙ্গেল ‘মর্নিং ডিউ (ডঙ্ক)’। তাতেই বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে উন্মাদনা। তবে এটি কেবল একটি নতুন গান নয়; এর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল অ্যালবাম ‘বি-ডে’র ২০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপনের আনুষ্ঠানিক কাউন্টডাউন।

    ২০২৪ সালে ‘কাউবয় কার্টার’ অ্যালবাম দিয়ে সংগীতাঙ্গনে আলোড়ন তৈরির পর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার শ্রোতার সামনে হাজির হলেন এই গান নিয়ে। মুক্তির পর থেকেই ‘মর্নিং ডিউ’ স্পটিফাই, অ্যাপল মিউজিকসহ বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। ভক্তদের কাছে এটি যেন একই সঙ্গে নতুন গান ও পুরোনো স্মৃতির এক আবেগঘন ফিরে দেখা।

    ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত হয়েছিল ‘বি-ডে’ শিরোনামে বিয়ন্সের অ্যালবাম। এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় একক স্টুডিও অ্যালবাম। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই অ্যালবামটির প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ কপি বিক্রি হয়েছিল। ‘ডেজা ভু’, ‘ইররিপ্লেসেবল’, ‘বিউটিফুল লায়ার’ কিংবা ‘গেট মি বডিড’-এর মতো একের পর এক জনপ্রিয় গান এই অ্যালবামকে পপসংগীতের ইতিহাসে একটি বিশেষ জায়গা করে দেয়। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে অ্যালবামটির ২০ বছর পূর্ণ হবে। পাশাপাশি আগামী ৪ সেপ্টেম্বর, বিয়ন্সের ৪৬তম জন্মদিনে প্রকাশ করা হবে ‘বি-ডে’র বিশেষ সংস্করণ। সেই বিশেষ সংস্করণেই যুক্ত হয়েছে ‘মর্নিং ডিউ’।

    নতুন এই গানের গল্পও বেশ ব্যতিক্রমী। গানটি নতুন হলেও এর জন্ম হয়েছিল ২০১৩ সালে প্রকাশিত স্বনামের ‘বিয়ন্সে’ অ্যালবামের জন্য। শেষ পর্যন্ত গানটি অ্যালবামে স্থান পায়নি। এরপর দীর্ঘ নীরবতা। ২০২৩ সালে গানটির একটি ডেমো সংস্করণ অনলাইনে ফাঁস হয়ে যায়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি টিকটকে ভাইরাল হয়ে পড়ে। হাজার হাজার ব্যবহারকারী সেই ডেমো ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করেন। ভক্তদের দীর্ঘদিনের আগ্রহ ও অনুরোধের পর অবশেষে বিয়ন্সের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘পার্কউড এন্টারটেইনমেন্ট’ গানটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়।

    গানটির গীতরচনায় বিয়ন্সের সঙ্গে কাজ করেছেন ফারেল উইলিয়ামস, অ্যাঞ্জেলা শেরি উডস, ড্যারিয়াস ডিকসন এবং দ্য ড্রিম। সংগীত প্রযোজনার দায়িত্বও ভাগাভাগি করেছেন বিয়ন্সে ও ফারেল উইলিয়ামস। ফারেলের সঙ্গে বিয়ন্সের রসায়ন নতুন নয়। অতীতেও তাঁদের একাধিক সফল সহযোগিতা শ্রোতার প্রশংসা কুড়িয়েছে। ‘মর্নিং ডিউ’-এ সেই পরিচিত ঘরানার সঙ্গে আধুনিক আরঅ্যান্ডবি ও পপের মিশেল তৈরি হয়েছে, যা গানটিকে দিয়েছে আলাদা আবেদন। গানের পাশাপাশি প্রকাশ করা হয়েছে একটি সাদাকালো ভিজ্যুয়াল ভিডিও, যা ইতোমধ্যে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওটি নির্মাণ করেছেন বিয়ন্সের দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও খ্যাতিমান ফটোগ্রাফার ক্লিফ ওয়াটস।

    ভিডিওটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, এতে ব্যবহার করা হয়েছে ২০০৭ সালে ‘স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড’ ইস্যুর ফটোশুট চলাকালীন ধারণ করা বিয়ন্সের অপ্রকাশিত আর্কাইভ ফুটেজ। নতুন গানের সঙ্গে পুরোনো সেই মুহূর্তগুলোর সংমিশ্রণ দর্শককে যেন এক লহমায় ফিরিয়ে নিয়ে যায় দুই দশক আগের বিয়ন্সের সোনালি সময়ে। ভিডিওটি শুধুই একটি মিউজিক ভিডিও নয়, বরং তাঁর ক্যারিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মৃতিচারণ।
    পপসংগীতের ইতিহাসে বিয়ন্সে এমন একজন শিল্পী, যিনি প্রতিটি অ্যালবামের মাধ্যমে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন। ‘ডেঞ্জারাসলি ইন লাভ’ থেকে ‘লেমনেড’, ‘রেনেসাঁ’ কিংবা ‘কাউবয় কার্টার’ প্রতিটি অধ্যায়ে তিনি ভেঙেছেন প্রচলিত ধারা। ‘মর্নিং ডিউ’ সেই ধারাবাহিকতায় এক ভিন্ন সংযোজন। এটি যেমন অতীতের অপ্রকাশিত একটি গানকে নতুন জীবন দিয়েছে, তেমনি ‘বি-ডে’র বিশ বছর পূর্তিকে ঘিরে ভক্তদের আবেগও নতুন করে দিয়েছে।

    বিশ্বজুড়ে সংগীতপ্রেমীরা এখন অপেক্ষায় আছেন সেপ্টেম্বরের বিশেষ সংস্করণের জন্য। কারণ, ‘মর্নিং ডিউ’ শুধু একটি নতুন সিঙ্গেল নয়; এটি বিয়ন্সের দীর্ঘ সংগীতযাত্রার এক নস্টালজিক অধ্যায়ের দরজা খুলে দিয়েছে, যেখানে অতীতের স্মৃতি আর বর্তমানের সাফল্য এক হয়ে তৈরি করেছে নতুন এক উদযাপনের গল্প।

  • আবারও সেই স্টেডিয়াম, কান্নার সেই মাঠে আরেক ফাইনালে মেসি

    আবারও সেই স্টেডিয়াম, কান্নার সেই মাঠে আরেক ফাইনালে মেসি

    এক সময় এই মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন লিওনেল মেসি। কণ্ঠে ছিল হতাশা। ম্যাচ শেষে ঘোষণা দিয়েছিলেন, আর্জেন্টিনার জার্সিতে আর খেলবেন না। সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই প্রায় এক দশক পর আবার ফিরছেন—তবে এবার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে।

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম ফুটবল ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিওর ফাইনালের জন্য। চিলির বিপক্ষে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। টাইব্রেকারে নিজের শটও মিস করেছিলেন মেসি।

    অবসরের কথাও বলেছিলেন। তবে সেই সিদ্ধান্ত বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। সমর্থকদের ভালোবাসা আর দেশের প্রতি দায়বদ্ধতায় কয়েক সপ্তাহ পরই জাতীয় দলে ফিরে আসেন। এরপর শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়।

    ২০২১ সালে আর্জেন্টিনাকে ২৮ বছরের শিরোপাখরা কাটিয়ে কোপা আমেরিকা জেতান মেসি। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে পূরণ করেন আজীবনের স্বপ্ন, জেতেন বিশ্বকাপ। ২০২৪ সালে আরও একটি কোপা আমেরিকা শিরোপা যোগ হয় তার ক্যারিয়ারে। এবার আরেকটি বিশ্বকাপ।

    ভাগ্য যেন আবারও মেসিকে ফিরিয়ে এনেছে সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। তবে এবার দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। যে মাঠ একদিন ছিল কান্না আর হতাশার প্রতীক, সেই মাঠই এখন হতে পারে তার ক্যারিয়ারের আরেকটি সোনালি অধ্যায়ের সাক্ষী।

    বিশ্বকাপের ফাইনালে এই মাঠেই স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। যে মাঠে একদিন বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি, সেই মাঠেই কি এবার আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরবেন?