আর্ন্তজাতিক

  • ফিলিস্তিনপন্থি মার্কিনিদের ইসরায়েলে প্রবেশের অনুমতি বাতিল

    ফিলিস্তিনপন্থি মার্কিনিদের ইসরায়েলে প্রবেশের অনুমতি বাতিল

    অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা ও তাদের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন মার্কিন ইহুদি অধিকারকর্মীর ইসরায়েলে প্রবেশের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার মার্কিন ইহুদি সংবাদমাধ্যম দ্য ফরওয়ার্ডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন অধিকারকর্মী স্যাম শেরম্যান অধিকৃত পশ্চিম তীরের মাসাফের ইয়াত্তা এলাকায় সাত সপ্তাহের একটি স্বেচ্ছাসেবী কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছিলেন। সেখানে তিনি ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় কাজ করছিলেন। ওই সময় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তার ভ্রমণ অনুমতি বাতিলের একটি ই-মেইল পান তিনি।

    শেরম্যান জানান, একই সময়ে তার দলের আরও কয়েকজন কর্মীও একই ধরনের ই-মেইল পেয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ইসরায়েলি সেনা, পুলিশ ও সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীরা তার পাসপোর্টের ছবি তুলেছিলেন।

    তিনি বলেন, তারা মূলত স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন এবং তাদের সহায়তা করছিলেন। কিন্তু তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে, যেন সেখানে উপস্থিত থাকাই প্রায় অপরাধ।

    শেরম্যান আরও জানান, অভিজ্ঞ কয়েকজন ইহুদি অধিকারকর্মী তাকে বলেছেন, স্থায়ীভাবে ইসরায়েলে অভিবাসন না করলে ভবিষ্যতে তাকে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া নাও হতে পারে।

    তবে মার্কিন ইহুদি কর্মীদের ভ্রমণ অনুমতি বাতিলের বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ প্রকাশ করেনি।

    এদিকে, ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ফিলিস্তিনি নাগরিক ও তাদের সম্পত্তির বিরুদ্ধে ৩ হাজার ৪৮৮টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    এসব ঘটনার মধ্যে ব্যক্তিদের ওপর হামলা, সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি, নতুন অবৈধ বসতি স্থাপনের ফাঁড়ি তৈরি এবং ফিলিস্তিনি কৃষকদের নিজ জমিতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

  • মক্কা চুক্তিকে স্বাগত জানাল ওআইসি

    মক্কা চুক্তিকে স্বাগত জানাল ওআইসি

    সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সই হওয়া ঐতিহাসিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’কে স্বাগত জানিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। শুক্রবার মক্কার আল-সাফা প্রাসাদে আয়োজিত এক শীর্ষ সম্মেলনে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই চুক্তিতে সই করেন।

    তুরস্কের বার্তা সংস্থা ( ৮ আগস্ট) উল্লেখ করা হয়েছে, এই চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। বরং এ চুক্তি মূলত আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি, স্থায়িত্ব এবং সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার একটি যৌথ নিরাপত্তা উদ্যোগ। চুক্তিটির মূল শর্ত, তিন দেশের কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সে হামলাকে বাকি দেশগুলোর ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। অর্থাৎ, এক দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলোও তার সুরক্ষায় এক হয়ে লড়বে।

    ওআইসির মহাসচিব হিসেইন ইব্রাহিম ত্বাহা চুক্তিটিকে ‘ঐতিহাসিক’ ও ‘গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করে নিজের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘এই চুক্তি আঞ্চলিক এবং পুরো মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার একটি মূল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করবে।’

    তিনি আরো যোগ করেন, নিত্যনতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ওআইসি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সংহতি ও দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব জোরদার করতেই এই উদ্যোগ। তিন দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রশংসার পাশাপাশি ত্বাহা আশা প্রকাশ করেন, এই চুক্তি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বড় ভূমিকা রাখবে।

  • আসাদের কুখ্যাত গোয়েন্দা প্রধানের খোঁজ মিলল মস্কোয়

    আসাদের কুখ্যাত গোয়েন্দা প্রধানের খোঁজ মিলল মস্কোয়

    ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের পতনের পর দামেস্কে সিরিয়ার কুখ্যাত গোয়েন্দাপ্রধান এবং জেনারেল সিকিউরিটি ডিরেক্টরেটের প্রধান হিসসাম লুকিয়ার (যিনি দ্য স্পাইডার নামে পরিচিত) পরিত্যক্ত একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছে বিবিসি নিউজ।

    ওই অ্যাপার্টমেন্টে দামি পোশাক, স্বর্ণপদক এবং আসাদের সঙ্গে লুকিয়ার বিভিন্ন ছবি ও করমর্দনের দৃশ্য পাওয়া যায়। এর মাঝেই একটি সাদামাটা নোটবুকে ১৫৫টি হাতের লেখা নাম ও ফোন নম্বর খুঁজে পান সাংবাদিকরা।

    যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা পাওয়া এই গোয়েন্দাপ্রধান সিরিয়ায় ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন এবং ২০১৫ সালে হোমসে শিশুদের প্রাণ কেড়ে নেওয়া তথাকথিত ঈদ গণহত্যার মতো নৃশংসতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

    আসাদের পতনের পর তিনি রাতারাতি উধাও হয়ে যান, যার ফলে সিরিয়ার সাধারণ মানুষ ও নিখোঁজদের পরিবার বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে এবং সিরিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

    লুকিয়াকে খুঁজে বের করতে লন্ডনে ফিরে নোটবুকের নম্বরগুলো যাচাই করা শুরু করেন সাংবাদিকরা। সামরিক কমান্ডার ও আত্মীয়দের কাছে ফোন করে সাড়া না পেয়ে একজন রিপোর্টার সিরিয়ায় গিয়ে নোটবুকে থাকা চিকিৎসকদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের মাধ্যমে খোঁজ নিতে শুরু করেন। এরপর এক অ্যাপার্টমেন্টের প্রহরীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুকিয়ার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী মাহমুদের সন্ধান মেলে।

    মাহমুদ জানান, সরকার পতনের আগের রাতে ক্যাপিটাল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে পালিয়ে গেছেন লুকিয়া। পরবর্তীতে লেবাননের সূত্র ও অ্যাপার্টমেন্টে রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার পুরস্কার এবং নববর্ষের কার্ডের সূত্র ধরে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, লুকিয়া ভিন্ন নামে রাশিয়ান পাসপোর্টে লেবানন হয়ে মস্কোয় পালিয়ে গেছেন।

    তদন্তকারীরা অবশেষে লুকিয়ার একটি রাশিয়ান ফোন নম্বর সংগ্রহ করেন এবং তার পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে কল করে নিশ্চিত হন যে লাইনটিতে লুকিয়াই কথা বলছেন। পরবর্তীতে বিবিসি সরাসরি ওই নম্বরে কল করলে লুকিয়া ফোন ধরে ভয়ের সুরে জানান যে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে কথা বলার মতো ঝুঁকিতে নেই এবং কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারবেন না। পরবর্তীতে দ্বিতীয় আরেকটি সিরিয়ান নম্বর এবং মেসেজিং অ্যাপের সূত্র ধরে বিবিসি নিশ্চিত হয় যে হিসসাম লুকিয়া বর্তমানে মস্কোর উপকণ্ঠে দুটি ভিন্ন উপশহরে লুকিয়ে রয়েছেন।

    রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাকে প্রত্যার্পণ বা কোনো মন্তব্য না পাওয়ায়, হোমস শহরের নিহত শিশু ওয়ায়েলের বাবা মোহাম্মদের মতো যারা ন্যায়বিচারের আশায় আছেন, তাদের জন্য এই আবিষ্কার নতুন হতাশার জন্ম দিয়েছে।

  • ভারত কি সত্যিই স্বাধীন!

    ভারত কি সত্যিই স্বাধীন!

    রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বিল পাস করেছে মার্কিন সিনেট। এই বিল আইনে পরিণত হলে ভারত ও চীনসহ শীর্ষ রাশিয়ার তেলের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতার ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে পারবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    এই প্রেক্ষাপটে মোদি সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস সংসদ সদস্য ও নেতা পবন খেরা। তিনি প্রয়াগরাজে গণমাধ্যমের কাছে প্রশ্ন তোলেন, ‘ভারত কি সত্যিই স্বাধীন?’

    তিনি বলেন, বিদেশ থেকে এসে যে কেউ ভারতকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করছে; কোন্ দেশ থেকে তেল কেনা যাবে বা কতটুকু কেনা যাবে-সে বিষয়ে নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে।

    পবন খেরা বলেন, ‘দেশের যারা নিজেদের ‘বিশ্বগুরু’ বলে দাবি করে বেড়ায়, তাদের উচিত এই বিষয়ে জবাব দেওয়া। কিন্তু সংসদে এসে এসব প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার সাহস তাদের নেই, কারণ তারা সবকিছু নিয়ে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে ভয় পায়।’

    রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনার সঙ্গে জড়িত শীর্ষ দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে বিল পাস করেছে মার্কিন সিনেট। এই আন্তর্জাতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে ভারতের স্বাধীন বৈদেশিক নীতি ও সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস দেশটির কেন্দ্র সরকারকে সমালোচনার কাঠগড়ায় দাঁড় করেছে।

  • হরমুজ অবরোধে তেল রপ্তানি কমেছে ৭৫ শতাংশ

    হরমুজ অবরোধে তেল রপ্তানি কমেছে ৭৫ শতাংশ

    হরমুজ প্রণালি অবরোধের কারণে ইরাকের তেল রপ্তানি ৭৫ শতাংশ কমে গেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির তেলমন্ত্রী বাসেম মোহাম্মদ খুদাইর। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রপ্তানিতে এই বড় ধরনের ধস নেমেছে বলে জানান তিনি।

    এক সংবাদ সম্মেলনে ইরাকের তেলমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরাক প্রতিদিন প্রায় ৩৪ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটির তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

    খুদাইর জানান, বর্তমানে ইরাকে প্রতিদিন প্রায় ২৭ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে রপ্তানি করা হচ্ছে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ লাখ ব্যারেল।

    তিনি বলেন, তেল রপ্তানির জন্য ভবিষ্যতে বিকল্প পথ তৈরি করা জরুরি। এ জন্য রপ্তানি অবকাঠামো ও বিকল্প রুট বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

    ইরাকি তেলমন্ত্রী আরো জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরাকি তেল রপ্তানির সুযোগ তৈরি করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ শুরু হয়নি।

    এদিকে ইরাকে তেল কোম্পানিগুলোর ওপর যেকোনো ধরনের হামলার বিরোধিতা করেছে দেশটির সরকার। খুদাইর বলেন, তেল কোম্পানিগুলো হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে সরকার।

    বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথে অবরোধ বা নিরাপত্তা সংকট তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

  • ইরানের শর্ত মানলেই খুলবে হরমুজ: আইআরজিসি

    ইরানের শর্ত মানলেই খুলবে হরমুজ: আইআরজিসি

    ইরানের শর্ত যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি মেনে নিলেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটির মুখপাত্র সারদার মোহেবি বলেছেন, প্রণালিটি পুনরায় চালুর বিষয়টি ওমানের সঙ্গে চলমান আলোচনার সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পর্কিত নয়।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের নির্ধারিত ‘নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও শর্ত’ রয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হলেই কেবল গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুনরায় খুলবে।

    সারদার মোহেবি বলেন, আমাদের কাছে হরমুজ প্রণালি শুধু একটি অর্থনৈতিক নৌপথ নয়; এটি ভৌগোলিক ও কৌশলগত শক্তিরও একটি উপাদান।

    তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের শর্তগুলো ‘পুরোপুরি মেনে নিতে হবে’ এবং আঞ্চলিক আলোচনায় হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

    মোহেবির ভাষায়, যখনই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে নেবে, তখনই হরমুজ প্রণালি অবশ্যই খুলে দেওয়া হবে।

    তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট করেছে যে, হরমুজ প্রণালি চালুর সিদ্ধান্তকে ওমানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনা বা সম্ভাব্য কোনো সমঝোতার সঙ্গে এক করে দেখছে না। বরং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইরানের নিজস্ব শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে।

  • রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বিল পাস

    রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বিল পাস

    আন্তর্জাতকি ডেস্ক:

    রাশিয়া থেকে তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি দেশের ওপর শতভাগ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দিয়ে একটি বিল অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। এই মার্কিন পদক্ষেপের ফলে ভারত, চীনসহ রাশিয়ার তেল–গ্যাসের প্রধান ক্রেতা দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের শুল্ক আরোপের ঝুঁকি তৈরি হলো।

    গত ১১ জুলাই মারা যাওয়া ইউক্রেনের কট্টর সমর্থক ও রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের স্মরণে এই বিলের নামকরণ করা হয়েছে। সিনেটে বিলটি ৮৬–১১ ভোটে পাস হয়।

    লিন্ডসে গ্রাহাম মূলত ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য জোরালো লবিং করে আসছিলেন। উল্লেখ্য, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে পদার্পণ করেছে।

    সিনেটে লিন্ডসে গ্রাহামের স্থলাভিষিক্ত হওয়া তাঁর বোন ডার্লিন গ্রাহাম বলেন, বিলটি ‘রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঠিক দুর্বল জায়গায় আঘাত করবে।’

    সিনেটে ডেমোক্র্যাট সদস্য রিচার্ড ব্লুমেনথাল গ্রাহামের সঙ্গে এক বছরের বেশি সময় ধরে এই বিল পাসের জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের মানুষ ‘একা নন।’

    ভোটের পর এই সিনেটর বলেন, ‘আজ প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউক্রেন থেকে এবং পুতিন মস্কো থেকে এটি দেখছেন। আমি ভাবতে পছন্দ করি যে লিন্ডসে গ্রাহামও ওপর থেকে এটি দেখছেন।’

    নিজের বক্তব্য আরও স্পষ্ট করে ব্লুমেনথাল বলেন, ‘আজ আমরা ইউক্রেনের মানুষকে বলছি, আপনারা একা নন। আর ভ্লাদিমির পুতিনকে বলছি, আপনি ইউক্রেন জয় করতে পারবেন না।’

    বিলটি এখন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদনের জন্য যাবে। ৩১ আগস্ট প্রতিনিধি পরিষদের অধিবেশন আবার শুরু হলে বিলটি নিয়ে সেখানে আলোচনা হবে।

    রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক দলের সমর্থন পাওয়া এই বিলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে রাশিয়ার তেল বা গ্যাস কেনে, বিশ্বের এমন শীর্ষ পাঁচটি দেশের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় ভারত ও চীন রয়েছে।

    ভারত ও চীনের পাশাপাশি বর্তমানে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস আমদানির শীর্ষ পাঁচটি দেশের তালিকায় রয়েছে আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া।

    তবে যেসব দেশ রাশিয়া থেকে তাদের মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের ১৫ শতাংশের কম আমদানি করে এবং সেই আমদানি কমানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে এই বিলের আওতায় ছাড়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।

    বিলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, দেশটির জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও জ্বালানি প্রকল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

    মস্কো যেসব পুরোনো তেলবাহী জাহাজ পতাকা পাল্টে ব্যবহার করছে, সেগুলোও বিলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব জাহাজ ব্যবহার করে রাশিয়া তেল ও জ্বালানি থেকে আয় করা অর্থের ওপর বিদ্যমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

    জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন হলে নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের ক্ষমতাও হোয়াইট হাউসকে দেওয়া হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসকে নিশ্চিত করতে হবে যে এমন পদক্ষেপ জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন।

    বিলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ১৯৯৬ সালের ইরান নিষেধাজ্ঞা আইনের মেয়াদও ২০৩১ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। ইরানের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারী কোম্পানিগুলোর ওপর আইনটির আওতায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

  • থাইল্যান্ডে প্রকাশ্যে অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ

    থাইল্যান্ডে প্রকাশ্যে অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ

    থাইল্যান্ডে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন করার অঙ্গীকার করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল। গতকাল শুক্রবার ব্যাংককের উপকণ্ঠে একটি স্কুলে এক কিশোরের গুলিতে আটজন নিহত ও ২২ জন আহত হওয়ার পর তিনি এমন প্রতিশ্রুতি দেন।

    ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোর প্রথমে তার বাড়িতে থাকা দাদা-দাদিকে হত্যা করে। এরপর সে ননথাবুরি এলাকার দেবসিরিন স্কুলে যায়। সেখানে সে পাঁচ শিক্ষককে হত্যা করার পর আত্মহত্যা করে। সে ওই স্কুলেরই শিক্ষার্থী ছিল। পরে থাই সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, গুলিতে আহত এক শিক্ষার্থীরও মৃত্যু হয়েছে।

    এ হামলার ঘটনার পর থাই প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল বলেন, তিনি জনসমক্ষে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে নতুন আইন করতে চান। প্রস্তাবিত আইনে দায়িত্বপালনরত সরকারি কর্মকর্তারাই শুধু বন্দুক বহন করতে পারবেন।

    পুলিশ কর্মকর্তা থাদসাকর্ন কোনথং বলেন, হামলায় ব্যবহৃত বন্দুক ও গুলি ওই কিশোরের দাদার। প্রাথমিক তদন্তে ওই কিশোরের দাদার শোবার ঘরে বন্দুকটি থাকার আলামত পাওয়া গেছে।

    আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বন্দুকটি আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত ছিল এবং সেটির বৈধ অনুমতিপত্রও ছিল।

    দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের যেসব দেশের সাধারণ মানুষদের কাছে বন্দুক থাকার হার বেশি, তার মধ্যে থাইল্যান্ড অন্যতম। দেশটিতে সাধারণ মানুষের কাছে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ আগ্নেয়াস্ত্র আছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ বন্দুক অবৈধভাবে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

    থাইল্যান্ডে বন্দুক রাখার বিষয়ে বর্তমানে কঠোর আইন চালু আছে। সে আইন অনুযায়ী, অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে এসব আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে সমস্যা থেকে গেছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে আনুতিন বন্দুক নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েকটি আইন করেছিলেন। এর মধ্যে নতুন বন্দুকের লাইসেন্স দেওয়ার ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এবং বন্দুক আমদানিতে বিধিনিষেধও ছিল। গতকাল আনুতিন বলেন, ‘এমন ঘটনা কখনোই ঘটার কথা ছিল না।’

    আনুতিন আরও বলেন, ‘আমি শুধু নিহত ব্যক্তিদের জন্যই দুঃখিত নই, এ ঘটনা ঘটেছে বলেও আমি দুঃখিত। আমাদের দেশে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটতে পারে?’

    ধারণা করা হচ্ছে, গতকাল স্থানীয় সময় ভোর ৫টার দিকে ওই কিশোর তার ৭৩ বছর বয়সী দাদা ও ৭৪ বছর বয়সী দাদিকে গুলি করে হত্যা করে। তারা দুজন একটি দোতলা ফ্ল্যাটে থাকতেন।

    থাই পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, দুজনের মাথায় একটি করে গুলি লাগে এবং ঘটনাস্থলেই তাঁরা নিহত হন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাদা-দাদিকে হত্যার পর ওই কিশোর একটি স্কুলবাসে ওঠে। তার সঙ্গে ছিল বন্দুক ও বেশ কয়েকটি গুলি।

    এরপর সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে সে প্রথম ক্লাসে এবং ৯টা ২০ মিনিটে দ্বিতীয় ক্লাসে অংশ নেয়। দ্বিতীয় ক্লাসের প্রায় ৩০ মিনিটের মাথায় সে বন্দুক ব্যবহার করে গুলি চালাতে থাকে।

    থাইল্যান্ডের জাতীয় পুলিশের প্রধান কিত্তিরাত ফানফেত সাংবাদিকদের বলেন, ফরেনসিক কর্মকর্তারা তদন্ত করে দেখেছেন, হামলাকারীর নিশানা করার সক্ষমতা বেশ ভালো ছিল। তার ছোড়া কয়েকটি গুলি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশে গিয়ে লাগে।

    প্রধানমন্ত্রী আনুতিন বলেন, হামলাটি ‘সুপরিকল্পিত’ ছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পুলিশ ওই কিশোরের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস তল্লাশি করে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলে গুলির ঘটনা নিয়ে তৈরি বেশ কয়েকটি ভিডিও পেয়েছে।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পরিবারের সদস্যরা কিশোরটিকে শান্ত ও ভালো আচরণের ছেলে হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    কিশোরটির চাচা থাই সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সে বেশির ভাগ সময় ঘরের ভেতর থেকে সহিংস ভিডিও গেম খেলত এবং খুব কমই বাইরে বের হতো। তবে সে যে এমন হামলার পরিকল্পনা করছে, এমন কোনো লক্ষণ তার মধ্যে দেখা যায়নি। ওই কিশোর তার দাদা-দাদির সঙ্গে থাকত। তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল।

    ১৮৮৫ সালে ব্যাংককে প্রতিষ্ঠিত দেবসিরিন স্কুলটি থাইল্যান্ডের অন্যতম নামকরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। দেশজুড়ে স্কুলটির বিভিন্ন শাখা আছে। কূটনীতিক, ক্রীড়াবিদ এবং বেশ কয়েকজন প্রধানমন্ত্রীসহ থাইল্যান্ডের অনেক পরিচিত ব্যক্তি ওই স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী।

  • দিল্লিতে হাসিনার সংবাদ সম্মেলন, বক্তব্য সমর্থন করে না ভারত: জয়সওয়াল

    দিল্লিতে হাসিনার সংবাদ সম্মেলন, বক্তব্য সমর্থন করে না ভারত: জয়সওয়াল

    সম্প্রতি ভারতের নয়াদিল্লিতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি ভার্চুয়ালি কথা বলেছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ঘটনায় ঢাকা গভীর ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানালেও দিল্লির দাবি, ওই সংবাদ সম্মেলনে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না। এমনকি সেখানে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সরকার সম্পর্কে যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, তার কোনোটিই ভারত সরকার সমর্থন করে না।
    শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এসব মন্তব্য করেছেন দেশটির মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

    শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘শেখ হাসিনার ওই সংবাদ সম্মেলনের ক্ষেত্রে সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না। এটি সম্পূর্ণ একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের আয়োজিত অনুষ্ঠান ছিল।’
    তিনি আরও বলেন, ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকার সম্পর্কে শেখ হাসিনা যেসব মন্তব্য করেছেন, সেগুলোর কোনো বক্তব্যই ভারত সরকার সমর্থন করে না।

    এর আগে শেখ হাসিনা যাতে ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে বা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে না পারেন, সে বিষয়ে দিল্লিকে সতর্ক করেছিল ঢাকা।
    বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আগাম অনুরোধ জানানো হয়েছিল যেন শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ভারত সতর্ক থাকে।

    তবে সেই অনুরোধের পরও নয়াদিল্লিতে সরাসরি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেয়ার ঘটনায় গভীর দুঃখ ও তীব্র প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ।

  • দিল্লিতে হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে কী বলছেন বিশ্লেষকেরা

    দিল্লিতে হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে কী বলছেন বিশ্লেষকেরা

    ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বুধবার ভারতের নয়াদিল্লিতে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তাঁকে নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করতে দেওয়ায় ভারত সরকারের কাছে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

    ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমনের চেষ্টার সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তিনি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত পলাতক আসামি। দেশে তাঁর দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    দুই বছর ধরে দিল্লিতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অডিও বার্তা দিয়ে আসছেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ই–মেইলের মাধ্যমে সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন। এই প্রথম দিল্লির কোনো অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে সরাসরি বক্তব্য দিয়েছেন।

    মাইকেল কুগেলম্যান, দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশ্লেষক

    শেখ হাসিনার ঘোষণা নিয়ে বিশ্লেষকদের মত

    সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা চলতি বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন। দেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার দুই বছর পর তিনি এমন ঘোষণা দেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা রাজনৈতিকভাবে নিজের গুরুত্ব বজায় রাখা, সমর্থকদের ধরে রাখা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে আবার সক্রিয় করার মরিয়া চেষ্টা হিসেবে এমনটা বলছেন।

    গতকাল বৃহস্পতিবার জাপানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়ার পেছনে তিনটি সম্ভাব্য কারণ তুলে ধরেছেন মাইকেল কুগেলম্যান। তিনি মার্কিন চিন্তক প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশ্লেষক। তাঁর তুলে ধরা কারণগুলো হচ্ছে—

    প্রথমত, তাঁর (শেখ হাসিনার) ধারণা হতে পারে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীন বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় তাঁর জন্য বেশি অনুকূল। কারণ, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। যে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড হয়, সেই রায়ও ওই সরকারের আমলেই হয়েছিল।

    দ্বিতীয়ত, শেখ হাসিনা আদালতে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তাই তিনি আদালতে নিজের অবস্থান তুলে ধরে নিজের নাম কলঙ্কমুক্ত করতে চাইতে পারেন।

    কুগেলম্যানের মতে, সবচেয়ে সহজ ব্যাখ্যাটি হলো তিনি (হাসিনা) রাজনীতি ছেড়ে শুধু বাংলাদেশে ফিরে অবসর জীবন কাটাতে এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করতে চান।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন শেখ হাসিনা সত্যিই দেশে ফিরতে চান।

    ওই নেতার মতে, দলের প্রতি নেতা-কর্মীদের আনুগত্যের প্রতিদান দেওয়ার একটি উপায় হলো তাঁর দেশে ফিরে আসা।

    আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ নেতা এবং বর্তমানে শেখ হাসিনার কড়া সমালোচক মাহমুদুর রহমান মান্না তাঁর (হাসিনা) দেশে ফেরার ঘোষণাকে নিজের স্বার্থ–সংশ্লিষ্ট হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মধ্যে এমন কিছু নেতা আছেন, যাঁদের জনসমর্থন ও গ্রহণযোগ্যতা আছে। দল নিষিদ্ধ হওয়ার পর সেটিকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করার জন্য শেখ হাসিনা তাঁদের কিছুটা সুযোগ দিতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি।’

    মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, ‘তিনি (হাসিনা) দলের স্বার্থে দেশে ফিরবেন, এমন ধারণা অমূলক।’

    ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন সিকদারের মতে, দেশে ফেরার হুমকি দিয়ে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপরও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে চান।

    হাসিনা দেশে ফিরলে কী হতে পারে

    বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ খুব সীমিত থাকবে। তবে তাঁর উপস্থিতি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

    কুগেলম্যান নিক্কেই এশিয়াকে বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে প্রায় নিশ্চিতভাবেই বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করা হবে। একই সঙ্গে তাঁর প্রত্যাবর্তন সমর্থক ও বিরোধী উভয় পক্ষকেই সক্রিয় করে তুলতে পারে। এতে সহিংস সংঘর্ষের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে এবং তাঁর বিচারপ্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে সরকারের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।

    কুগেলম্যানের মতে, ‘তাঁর শুধু দেশে ফিরে আসাটাই রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করার জন্য যথেষ্ট হবে।’

    অধ্যাপক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন সিকদার এএফপিকে বলেন, ‘ভারত থেকে ফেরার পর সরাসরি কারাগারে নেওয়া হলেও বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনাকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয়। তাঁর ফিরে আসাটা রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করবে।’

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারকে চিঠি দিয়েছে। সরকার তাঁর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রস্তুত আছে।

    জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, ‘যে মানুষটিকে আমরা ফিরিয়ে আনতে চাইছি, তিনি নিজেই দেশে ফেরার কথা বলছেন। আমরা প্রস্তুত আছি। তাঁকে আসতে দিন, আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব।’

    শেখ হাসিনা

    শেখ হাসিনা এমন সময়ে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন, যখন বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের মধ্যকার টানাপোড়েনের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। তবে শেখ হাসিনার বিষয়টি এখনো দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় বিতর্কের কারণ হয়ে আছে।

    বাংলাদেশ সরকার বারবার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। অন্যদিকে ভারত বলেছে, এ অনুরোধ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বিএনপির নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য ভারত তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

    হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল দাবি করেছিলেন, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে নয়াদিল্লির কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

    জয়সোয়াল বলেন, ‘এর সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ওই অনুষ্ঠানে প্রকাশিত কোনো মতামতকে সরকার সমর্থন করে না।’

    বাংলাদেশের কড়া প্রতিক্রিয়া

    শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো ব্যক্তি যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, সে বিষয়ে ৩ আগস্ট ভারত সরকারের সহযোগিতা চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এ ধরনের কার্যক্রম বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি। ওই দিন ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এ কথা বলেছিলেন।

    শেখ হাসিনা বক্তব্য দেওয়ার পর বুধবার রাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে ভারত সরকারের প্রতি কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। এতে বলা হয়, ‘পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ। সেখানে তিনি এবং তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও এর জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গার করেছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ।’

    সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানটি আয়োজনের ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন যাত্রার প্রচেষ্টায় সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কথা ভারত সরকারকে আগেই জানানো হয়েছিল। এরপরও ভারতের মাটিতে এ আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীর হতাশা প্রকাশ করছে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এমন একটি দিন, যখন বাংলাদেশের জনগণ জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদ্‌যাপন করছে, সে সময় ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই মতবিনিময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান।

    প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাতে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ৩ আগস্ট, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে

    ‘ভারত চাইলে সংবাদ সম্মেলন ঠেকানো যেত’

    মাইকেল কুগেলম্যান নিক্কেই এশিয়াকে বলেন, ‘এই সংবাদ সম্মেলনের ক্ষেত্রে ভারত মাঝামাঝি অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমার মনে হয় না, এই ব্যাখ্যা ঢাকার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।’

    কুগেলম্যানের মতে, ভারত চাইলে এই সংবাদ সম্মেলন ঠেকাতে পারত। তাই বাংলাদেশ সম্ভবত এ ঘটনাকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লির আরেকবার প্রশ্রয় দেওয়ার উদাহরণ হিসেবেই দেখবে।

    ওপি জিন্দাল গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত নিক্কেই এশিয়াকে বলেন, এমন একসময়ে এই ঘটনা ঘটেছে, যখন প্রায় দুই বছর ধরে টানাপোড়েনের পর বাংলাদেশ ও ভারত ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।

    শ্রীরাধা দত্ত আরও বলেন, ‘পর্যটক ভিসা চালু হলেও দুই দেশের সম্পর্ক এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সম্পর্কের উন্নতি খুব ধীরগতিতে এগোচ্ছে।’

    তবে শ্রীরাধা দত্ত এটিকে দীর্ঘমেয়াদি ধাক্কা হিসেবে না দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, ‘ভারত ও বাংলাদেশ—দুই দেশই পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে লাভবান হতে পারে।’

    বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কোন দিকে

    দ্য ডিপ্লোম্যাটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের পক্ষে শেখ হাসিনাকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়াটা বাস্তবসম্মত কোনো বিকল্প নয়। তবে তিনি যদি নিজ ইচ্ছায় দেশে ফেরেন, তাহলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান উত্তেজনা কিছুটা কমতে পারে। এমনও গুঞ্জন আছে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত নেপথ্যে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তবে এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।

    দ্য ডিপ্লোম্যাটের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ছিল উষ্ণ। কিন্তু তিনি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সেই পরিস্থিতি বদলে যায়। বিশেষ করে, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার চীনের দিকে বেশি ঝুঁকেছে এবং ভারতের উদ্বেগের বিষয়গুলোকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি বলে নয়াদিল্লির দাবি।

    গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে গড়ে ওঠার আশা তৈরি হয়। এ প্রেক্ষাপটে গত এপ্রিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের নয়াদিল্লি সফরকে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হয়।

    বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখা ভারতের জন্য জরুরি। কারণ, দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এ ছাড়া স্থলবেষ্টিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা আরও জোরদার করা এবং ওই অঞ্চলের বিদ্রোহ দমনে ভারত ঢাকার সহযোগিতাও চায়।

    এসব কৌশলগত প্রয়োজনের কথা বিবেচনায় নিয়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত বাংলাদেশের প্রতি বেশ কয়েকটি ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে দেশটি পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি ও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে পাঠায়।

    চলতি বছরের এপ্রিলে জ্বালানিসংকটের সময় বাংলাদেশে ৪৫ হাজার টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করেছে ভারত। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে তুলতে ঢাকায় নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ সহজ করতে তাঁকে মন্ত্রীর মর্যাদাও দেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য (বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে) ভারতের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এখনো সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেননি।

    ডিপ্লোম্যাটের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ৩০ বছর মেয়াদি ওই চুক্তি চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। চুক্তি নবায়নের সময় বর্তমানে গঙ্গায় পানিপ্রবাহের পরিমাণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দুই দেশের ওপর পড়া প্রভাব বিবেচনায় নিতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত চুক্তিটি নবায়ন করা গেলে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারে।

    ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ—দুই জায়গায় এখন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় থাকায় তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি করার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন।

    ডিপ্লোম্যাটের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন করে স্বাভাবিক করা এখন জরুরি। তবে তার আগে শেখ হাসিনার অনলাইন সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে যে কূটনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, তা সামাল দিতে নয়াদিল্লিকে পদক্ষেপ নিতে হবে।