আর্ন্তজাতিক

  • কিউবায় সরকার বদলের ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র

    কিউবায় সরকার বদলের ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র

    ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন হন্যে হয়ে কিউবার বর্তমান বা সাবেক একজন কর্মকর্তার খোঁজ করছে, যাঁকে হাভানার সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণে রাজি করানো যেতে পারে—যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা এমন তথ্য দিয়েছেন।

    ওই মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার পুরো শাসনব্যবস্থাকে পরিবর্তন না করে বরং বিদ্যমান শাসনব্যবস্থার নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে; ভেনেজুয়েলায় ঠিক যেমনটা ঘটেছে।

    এ জন্য ট্রাম্প প্রশাসন তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে এমন একজন ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার জন্য বলছে, যিনি ভেনেজুয়েলার দেলসি রদ্রিগেজের মতো ভূমিকা পালন করতে পারবেন।

    গত জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে দেশটির সে সময়ের প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে ধরে নিয়ে যায়, আর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেওয়া হয় দেলসি রদ্রিগেজকে।

    মার্কিন কর্মকর্তারা দেলসি রদ্রিগেজকে একজন ‘বাস্তববাদী’ নেতা হিসেবে দেখেছিলেন, যিনি নির্বিঘ্নে ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন।

    ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার বিশ্বাস, কিউবাতেও একই ধরনের ‘বাস্তববাদী’ একজন নেতা খুঁজে পাওয়া সম্ভব, যিনি প্রয়োজনে সরকারের দায়িত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন।

    তবে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন হলো, কিউবার বর্তমান পরিস্থিতি ভেনেজুয়েলার চেয়ে ইরানের সঙ্গে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ।

    অর্থাৎ, তাদের ধারণা অনুযায়ী, কিউবায় এমন কোনো ‘বাস্তববাদী’ বিকল্প নেতৃত্ব সহজে খুঁজে পাওয়া বা ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ রদবদল ঘটানো ভেনেজুয়েলার তুলনায় অনেক বেশি কঠিন।

    কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো

    একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, কিউবার প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো যদি মার্কিন বাহিনীর হাতে আটক হন বা বর্তমান নেতৃত্ব যদি কোনোভাবে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়, তাহলে দেশটির ক্ষমতা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হবেন এমন কর্মকর্তা খুবই কম আছেন।

    বরং কিউবায় যাঁরা অন্তরালে অপেক্ষমাণ সম্ভাব্য উত্তরসূরি, তাঁরা ইরানের মতোই আরও কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেন।

    ট্রাম্প প্রশাসন কখনো কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছে, আবার কখনো সেই সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়েছে।

    সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় মার্কিন কর্মকর্তারা কিউবার নেতাদের কাছে কিছু দাবি উপস্থাপন করেছেন। কিউবা যদি সেসব বিষয়ে অগ্রগতি দেখাতে পারে, তাহলে কিছু প্রণোদনা বা সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

    ট্রাম্প প্রশাসন চায় কিউবা তার অর্থনীতিকে আরও উদারীকরণ করুক, মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বাজার উন্মুক্ত করুক, যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনুক এবং রাশিয়া ও চীনের গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দেশ থেকে বের করে দিক।

    যুক্তরাষ্ট্র কিউবাকে ঠিক কী ধরনের প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে, সে সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য জানা যায়নি। তবে এর মধ্যে আরও বেশি মানবিক সহায়তা প্রদান এবং কিউবার অর্থনীতির ওপর আরোপিত কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রস্তাব রয়েছে বলে জানা গেছে।

    এখন পর্যন্ত অন্তত কিউবা সরকারকে এসব ছাড় দিতে ইচ্ছুক বলে মনে হচ্ছে না। ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে বিকল্প নেতৃত্ব খুঁজে বের করার চেষ্টা তাই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    যদিও কিউবা এরই মধ্যে বেশ কিছু বড় অর্থনৈতিক সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে এবং বেসরকারি খাতের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের সুযোগ দিয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি করা পরিবর্তনের তুলনায় যথেষ্ট নয় বলেই মনে হচ্ছে।

    কিউবা সরকারের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে পাঠানো অনুরোধের কোনো জবাব দেননি।

    হোয়াইট হাউসও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কিউবার সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করতে প্রস্তুত। কিন্তু হাভানার সরকারই সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

    তবে ‘বাস্তববাদী’ নেতা খুঁজে না পেলে বিকল্প নেতা হিসেবে হোয়াইট হাউস কাকে বেশি পছন্দ করতে পারে, তা স্পষ্ট নয়।

    ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ

    কিউবা সরকার ফিদেল কাস্ত্রোর ভাইয়ের নাতি অস্কার পেরেজ-অলিভা ফ্রাগাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে এগিয়ে দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এবং সরকারি নানা ঘোষণার সময় তাঁকে আরও বেশি দেখা যাচ্ছে। এমনকি তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকেও একটি বিরল সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।

    প্রায় নিশ্চিতভাবেই অস্কার পেরেজ-অলিভা ফ্রাগা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য হবেন না। বরং ট্রাম্প প্রশাসন কাস্ত্রো পরিবারের আরেক সদস্য রাউল জি রদ্রিগেজ কাস্ত্রোকে বিবেচনা করতে আগ্রহী হতে পারে। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর নাতি।

    রাউল জি রদ্রিগেজ কাস্ত্রো দীর্ঘদিন রাউল কাস্ত্রোর ব্যক্তিগত দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করেছেন। তবে তিনি কখনো কোনো সরকারি বা নির্বাচিত পদে দায়িত্ব পালন করেননি।

    এ ছাড়া বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লাসারো আলবের্তো আলভারেজ কাসাসও মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি বছর সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ কিউবা সফরকালে রাউল জি রদ্রিগেজ কাস্ত্রো এবং লাসারো আলবের্তো আলভারেজ কাসাস—উভয়ের সঙ্গেই সাক্ষাৎ করেছিলেন।

    সিআইএ গোপনে একটি ‘কিউবা টাস্কফোর্স’ গঠন করেছে। এটা ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেই পরিবর্তনগুলো চাইছেন, তাঁর প্রশাসন সেগুলো বাস্তবায়নে কিউবা সরকারের ওপর আরও সমন্বিত ও জোরালো চাপ প্রয়োগের পরিকল্পনা কার্যকর করতে শুরু করেছে।

    পাঁচ মাসের বেশি আগে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর সামরিক অভিযান শুরু করেছিল, তখন উভয় দেশের কর্মকর্তারা ইরানে শাসন পরিবর্তনের একটি

    সে সময় ট্রাম্প ইরানে ভেনেজুয়েলার মডেল অনুসরণ করার ধারণা নিয়ে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, ইরান সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে তাদের সরিয়ে দেওয়ার পর তাঁর প্রশাসন এমন একজন নেতাকে খুঁজে বের করবে, যিনি ক্ষমতা গ্রহণ করতে সক্ষম এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক হবেন।

    ট্রাম্প প্রশাসন কাস্ত্রো পরিবারের আরেক সদস্য রাউল জি রদ্রিগেজ কাস্ত্রোর বিষয়ে আগ্রহী হতে পারে। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর নাতি

    জানা যায়, ইসরায়েলের এমন একটি পরিকল্পনা ছিল ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে ঘিরে। ইসরায়েল আহমাদিনেজাদকে আবারও ক্ষমতায় আনার চেষ্টা করার কথা বিবেচনায় নিয়েছিল। মার্কিন সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তা ইসরায়েলের এই পরিকল্পনায় সমর্থন দিয়েছিলেন।

    যদিও আহমাদিনেজাদ কোনোভাবেই মধ্যপন্থী নেতা ছিলেন না। প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি ইসরায়েলকে ধ্বংস করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার পর তিনি ধীরে ধীরে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের কড়া সমালোচক হয়ে ওঠেন। এর ফলে ইসরায়েল তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে শুরু করে এবং তাঁকে সম্ভাব্য নতুন ইরান সরকারের নেতা হিসেবে বিবেচনা করতে থাকে।

    তবে সেই পরিকল্পনা দ্রুতই ভেস্তে যায়। আহমাদিনেজাদ ইসরায়েলের পরিকল্পনা নিয়ে হতাশ ও বিরূপ হয়ে ওঠেন এবং শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাঁকে যে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে রেখেছিলেন, সেখান থেকে চলে যান।

    তাই পেছনে ফিরে তাকিয়ে বলাই যায়, ইরানে শাসন পরিবর্তনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলটি ভেনেজুয়েলায় নিকোলা মাদুরোকে আটক করে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযানের তুলনায় অনেক কম সুপরিকল্পিত ছিল।

    যুক্তরাষ্ট্র কার্যত কিউবার ওপর একধরনের অবরোধ আরোপ করে রেখেছে, যার ফলে জ্বালানি সরবরাহ প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় দ্বীপদেশটি গভীর সংকটে পড়েছে।

    এ ছাড়া নেতৃত্ব পরিবর্তন ঘটাতে ট্রাম্প প্রশাসন কত দূর পর্যন্ত যেতে পারে, সেটিও পরিষ্কার নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এরই মধ্যে রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগপত্র প্রকাশ করেছে।

    এর আগে নিকোলা মাদুরোকে আটক করার জন্য পরিচালিত বিশেষ অভিযানের যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠায়ও মার্কিন সরকার মাদুরোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগপত্রকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছিল।

  • আফগানিস্তানে সোনা উত্তোলনের হিড়ক

    আফগানিস্তানে সোনা উত্তোলনের হিড়ক

    আফগানিস্তানের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় বাদাখশান প্রদেশ। এখানে একসময় গ্রামবাসী ও তাঁদের গবাদিপশু অবাধে বিচরণ করত। এখন সেই পাহাড়গুলো থেকে সোনা উত্তোলনের জন্য ডজনখানেক খননযন্ত্র (এক্সক্যাভেটর) দিনরাত কাজ করছে।

    কয়েক হাজার খনিশ্রমিক প্রাদেশিক রাজধানী ফয়জাবাদ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তর–পূর্বের শিওয়া এলাকায় কাজ করছেন। তাঁরা দেশজুড়ে বিভিন্ন বিনিয়োগকারীর জন্য সোনা উত্তোলন করেন।

    এলাকার কিছু বাসিন্দা এই সোনা উত্তোলনের হিড়িক থেকে লাভবান হলেও পরে তা নিয়ে অনুতপ্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন কৃষক মোহাম্মদ আমিন।

    পুল–ই–জিরি বান উপত্যকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিনের বয়স ৭৪ বছর। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আগে নদীটি গভীর ছিল, আর এর পানি ছিল স্বচ্ছ। খননকাজ শুরু হওয়ার পর থেকে নদীর পানি আর পান করার উপযোগী নেই, এমনকি ওই পানি দিয়ে গোসল বা হাত–পা ধোয়ার কাজও আর করা যায় না।’

    কান্নাভেজা চোখে মোহাম্মদ আমিন আরও বলেন, ‘নদীর তীরের সব ঘাস বিলীন হয়ে গেছে। ধুলাবালু ও বাতাসের কারণে এখন আর চাষাবাদ করা সম্ভব নয়।’

    আগে যেখানে মোহাম্মদ আমিন সর্বোচ্চ ৪০টি ছাগল পালন করতে পারতেন, সেখানে এখন মাত্র ১৫টি ছাগল পালন করাও কষ্ট হয়ে যায়।

    নিজের জমি একটি খনি কোম্পানির কাছে ইজারা দিয়েছেন মোহাম্মদ আমিন। এর বিনিময়ে তাঁকে ২০ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি অর্ধেক অর্থ হাতে পেয়েছেন।

    কোম্পানিটি খননকাজ শেষ হওয়ার পর মোহাম্মদ আমিনের জমি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, খনি কোম্পানি তা পূরণ করেনি।

    রাষ্ট্রীয় আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে তালেবান সরকার আফগানিস্তানের ভূগর্ভস্থ খনিজসম্পদ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেফাইল ছবি: এএফপি

    পাঁচ বছর আগে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফিরে আসার পর তালেবান কর্তৃপক্ষ খনি খাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ করেছে। রাষ্ট্রীয় আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে তারা আফগানিস্তানের বিশাল ভূগর্ভস্থ খনিজসম্পদ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

    বাদাখশানের খনি বিভাগের প্রধান আবদুল মাতিন রহিমজাই বলেন, ৬৫০ থেকে ৭০০টি কোম্পানি নিবন্ধন করেছে। সেখানে কয়েক হাজার মানুষ হাতে খনন ও সোনা উত্তোলনের কাজ করছেন।

    বিশ্বব্যাংক তাদের মে মাসের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশটিতে ২০২১ সালের পর থেকে শত শত খনিসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এ খাতে প্রকৃত প্রবৃদ্ধি বছরে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হারে হয়েছে।

    ‘অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে ভালো’

    মোহাম্মদ আমিনের গ্রামে খননকাজ আপাতত বন্ধ। তবে তাঁর বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে গুলাক–দারা উপত্যকায় ডজনখানেক খননযন্ত্র পাহাড় কেটে খনিজ উত্তোলনের কাজ চলছে।

    আফগানিস্তানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় দেশজুড়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকেরা এখানে এসে কাজ করছেন।

    কাবুলের বাসিন্দা মোহাম্মদ আগা খাজা খাইল পাঁচ বছর ধরে খনিতে কাজ করছেন। তিনি ট্রাকে মাল বোঝাইয়ের কাজ করে মাসে ১০ হাজার আফগানি (প্রায় ১৫০ ডলার) আয় করেন।

    খননযন্ত্রের বিকট শব্দের মধ্যে কাজ করে যাওয়া ২১ বছর বয়সী ওই যুবক বলেন, ‘এটি অন্য যেকোনো কাজের চেয়ে ভালো। কাবুলে কাজের সুযোগ খুব বেশি নেই।’

    আফগানিস্তানের খনি থেকে উত্তোলিত সোনা

    পাঁচ সন্তানের জনক শফিউল্লাহ এহসাস প্রায় তিন মাস আগে জালালাবাদ থেকে তাঁর এক্সক্যাভেটরটি কয়েক শ কিলোমিটার দূরের এই এলাকায় নিয়ে আসেন।

    শফিউল্লাহ এহসাসের বয়স ৩২ বছর। তিনি এখানে মাসে ২৫ হাজার আফগানি আয় করেন। তিনি বলেন, ‘জালালাবাদে এখনো সোনা উত্তোলনের কাজ শুরু হয়নি, কিন্তু বাদাখশানে তা চলছিল। তাই আমাদের কাছে যন্ত্রপাতি এখানে নিয়ে আসা ছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না।’

    আফগান খনি ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় এ খাতটিকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার চেষ্টা করছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুমায়ুন আফগান বলেন, ‘আগের সরকারের সময় খনিজসম্পদ অনিয়মিতভাবে উত্তোলন করা হতো এবং যথাযথ তত্ত্বাবধানের অধীনে এ কাজ পরিচালিত হতো না।’

    মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র আরও বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে সোনা উত্তোলনের কার্যক্রম দ্রুত বেড়েছে। এর মধ্যে প্রতিবেশী তাখার প্রদেশেও সোনা উত্তোলনের কাজ জোরদার হয়েছে। সেখানে একটি আফগান কোম্পানি চীনা অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

    আফগানিস্তান অ্যানালিস্টস নেটওয়ার্কের গবেষক ফাব্রিজিও ফসকিনি বলেন, যুদ্ধের আগের কয়েক দশক ধরে খনি খাত থেকে মূলত তালেবানসহ সে সময়ের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো ও দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরাই লাভবান হতেন।

    বর্তমানে খনি কোম্পানিগুলোর ওপর প্রতি হেক্টর জমির জন্য প্রতি মাসে ২০ গ্রাম সোনা অথবা এর সমপরিমাণ নগদ অর্থ কর হিসেবে ধার্য করা হয়েছে। কোম্পানিগুলো লাভ করুক বা না করুক, এই কর পরিশোধ করতে হয়।

    ‘ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে’

    প্রায় এক শ শ্রমিক ও ২০টি খননযন্ত্র নিয়ে পরিচালিত একটি খনি কোম্পানির ব্যবস্থাপক মোহাম্মদুল্লাহ মোবারিজ বলেন, তাঁদের দল এক সপ্তাহে ‘২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম সোনা’ উত্তোলন করতে সক্ষম।

    কিন্তু এপ্রিলে কার্যক্রম শুরুর পর থেকে প্রাথমিক বিনিয়োগ ও অন্যান্য ব্যয়ের কারণে কোম্পানিটি এখনো লোকসানের মধ্যে রয়েছে বলে জানান মোবারিজ।

    প্রাদেশিক খনি বিভাগের প্রধান রহিমজাই জানান, গত বছর বাদাখশান থেকে সরকার ১১২ কিলোগ্রাম (২৪৭ পাউন্ড) সোনা সংগ্রহ করেছে। এএফপির সঙ্গে কথা বলা খনিশ্রমিকদের মতে, প্রতি গ্রাম সোনার বিক্রয়মূল্য ছিল প্রায় ১১৮ ডলার।

    তবে গত বছর অধিকাংশ খনি নিবন্ধিত ছিল না এবং সেগুলো থেকে ফি বা রাজস্ব আদায়ের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা ছিল না বলে জানান রহিমজাই। তিনি বলেন, পরিবেশ ও অবকাঠামোর ক্ষতি করার কারণে প্রায় ২২৫টি খনি বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে শিওয়া এলাকার কয়েকটি খনিও রয়েছে।

    সোনা উত্তোলনের কারণে স্থানীয় চারণভূমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় পশুপালকদের বিপদে পড়তে হচ্ছে

    এ বিষয়ে রহিমজাই এএফপিকে আরও বলেন, ‘সেখানে একটি সেতু ছিল, দোকানপাট ছিল এবং একটি স্কুলও ছিল। এগুলোর সবই বন্যার পানি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে গেছে। পুরো এলাকাটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।’

    প্রাদেশিক খনি বিভাগের প্রধান প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, তিনি যেকোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন এবং ‘বাদাখশানের খনিজসম্পদ যথাযথভাবে ও জনগণের কল্যাণে ব্যবহার নিশ্চিত করবেন’।

    বাদাখশান প্রদেশের কিছু এলাকায় এখনো খননকাজ শুরু হয়নি; যার মধ্যে শিওয়া থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরের একটি এলাকাও আছে। সেখানকার পশুপালক ফাজিল চান, তাঁর এলাকায় খনিশ্রমিকেরা না আসুক।

    নিরাপত্তার ঝুঁকি মনে করায় এই ব্যক্তি তাঁর পুরো নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এটি মানুষের জন্য, ভ্রমণ ও পিকনিকের জন্য এবং গবাদিপশুর চারণভূমি হিসেবে ব্যবহারের একটি জায়গা।’

    ৪৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তি শৈশব থেকেই প্রতি গ্রীষ্মে নিজেদের পশুর পাল নিয়ে এই পাহাড়ে আসেন। তিনি বলেন, ‘সোনা উত্তোলন শিল্প এখানকার স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কোনো উপকারে আসে না। এতে শুধু ক্ষমতাবান লোকেরাই লাভবান হন।’

  • পিতৃহারা মেসিকে গোল উৎসর্গ ডি পলের

    পিতৃহারা মেসিকে গোল উৎসর্গ ডি পলের

    মাঠে ছিলেন না লিওনেল মেসি, তবে তার উপস্থিতি যেন অনুভব করল পুরো স্টেডিয়াম। গোল করে জার্সি খুলতেই রদ্রিগো ডি পলের গায়ে দেখা গেল মেসির ১০ নম্বরের জার্সি। শোকাহত অধিনায়ক ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা এবং সমর্থনের এই বার্তা ছুঁয়ে গেছে ফুটবলপ্রেমীদের।

    ম্যাচ শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই আর্জেন্টিনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মেসির বাবা হোর্হে মেসি (৬৮)। বাবার শেষকৃত্যে যোগ দিতে তড়িঘড়ি করে আর্জেন্টিনায় পাড়ি জমানায় মেক্সিকান ক্লাব মন্তেরের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে নামা হয়নি তার।

    মেসির বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ম্যাচ শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করে দুই দল। গ্যালারিতেও মেসির প্রতি সমর্থন জানাতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাজির হন মায়ামির সমর্থকেরা। সেসব বার্তায় লেখা ছিল, ‘শক্ত থাকো, লিও।’ এরপর ম্যাচের ৩১তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে মেসির প্রতি নিজের শ্রদ্ধা জানান ডি পল। পেনাল্টি বক্সের বেশ বাইরে থেকে জোরালো শটে মন্তেরের গোলরক্ষক লুইস কার্দেনাসকে পরাস্ত করেন আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডার।

    গোলের পরই নিজের জার্সি খুলে ফেলেন ডি পল। আর তখনই তার পরনে থাকা গেঞ্জিতে ফুটে ওঠে মেসির ১০ নম্বরের প্রতীক। মেসির অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সতীর্থ হিসেবে পরিচিত ডি পলের এই উদযাপনকে শোকাহত বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থনের বার্তা হিসেবেই দেখছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

    ২০২৬ বিশ্বকাপের সময়ও বাবার অসুস্থতার কারণে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে সেই সময় তার পাশে ছিলেন ডি পল। এবার ক্লাব ফুটবলেও বন্ধুর সবচেয়ে কঠিন সময়ে আবেগঘন এই শ্রদ্ধা জানালেন তিনি। তবে ডি পলের গোল শেষ পর্যন্ত ইন্টার মায়ামিকে জয় এনে দিতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে হুগো কুইপার্সের গোলে সমতায় ফেরে মন্তেরে। ম্যাচের ৯০তম মিনিটে দিয়েগো রসি গোল করলে শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মেক্সিকান ক্লাবটি।

  • সিএনএনের বিশ্লেষণ

    সিএনএনের বিশ্লেষণ

    মুসলিম সামরিক হেভিওয়েটদের ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি

    ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের উত্তেজনা সৌদি আরবের দিকে এগিয়ে আসায় মুসলিম বিশ্বের দুটি শক্তিশালী সামরিক শক্তিকে পাশে টেনে নিয়েছে দেশটি। শুক্রবার মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি ন্যাটো ধাঁচের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে।

    চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর ফলে সৌদি আরবের ওপর বড় ধরনের হামলা হলে তুরস্ক ও পাকিস্তানও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো সম্মিলিত প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো এবং তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা। সৌদি আরবের জন্য এটি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা নির্ভরতার পাশাপাশি নতুন একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষাকাঠামো তৈরি করবে। তুরস্ক ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি, আর পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ।

    তবে তিন দেশই জানিয়েছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে সামরিক জোট বা ধর্মীয় বিভাজন তৈরির উদ্যোগ নয়। ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোকেও এতে যুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    ইরানের সঙ্গে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সীমান্ত থাকায় দুই দেশই যুদ্ধের বিস্তার ঠেকাতে আগ্রহী। অন্যদিকে, ইরান ও তার মিত্রদের হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরব নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে।

    চুক্তির বিষয়ে তেহরান অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির সদস্য ইব্রাহিম রেজায়ি বলেন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে কাগুজে চুক্তি সৌদি আরবকে নিরাপত্তা দেবে না; যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দীর্ঘদিনের একতরফা নির্ভরতাও সৌদিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি।

    বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই চুক্তি ইরানের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা—সৌদি আরবে বড় ধরনের হামলা হলে সংঘাত আরো বিস্তৃত হয়ে তুরস্ক ও পাকিস্তানকেও যুদ্ধে টেনে আনতে পারে।

  • যুক্তরাষ্ট্র ক্ষতিপুরণ  না দিলে কোন আলোচনা নয়: ইরান

    যুক্তরাষ্ট্র ক্ষতিপুরণ না দিলে কোন আলোচনা নয়: ইরান

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আলোচনা নয়, শুধু মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা বিনিময় হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, তাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের জন্য ওয়াশিংটন ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরু হবে না।

    আরাগচি বলেন, মধ্যস্থতাকারীরা এখনো আলোচনা পুনরায় শুরু করার উপায় খুঁজছেন। তবে সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের বিষয় সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে বলে মনে করে না তেহরান ।

    তিনি বলেন, ‘আলোচনার ক্ষেত্র তৈরির প্রচেষ্টা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র তার লঙ্ঘনগুলো সংশোধন না করা পর্যন্ত আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।’

  • রেকর্ডসংখ্যক ভারতীয়কে ফেরত পাঠাল কানাডা

    রেকর্ডসংখ্যক ভারতীয়কে ফেরত পাঠাল কানাডা

    চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসেই ৩ হাজার ৩২৩ জন ভারতীয় নাগরিককে কানাডা থেকে বহিষ্কার করেছে দেশটির সরকার। বছরের বাকি সময়ে এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে এবং এর ফলে গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভারতীয় নাগরিককে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে।

    কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৩ হাজার ৩২৩ ভারতীয়কে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে। গত পুরো বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে ৩ হাজার ৭৭৯ ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, যা তখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ছিল। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই গত বছরের মোট সংখ্যার প্রায় ৮৮ শতাংশে পৌঁছে গেছে।

    ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে কানাডা থেকে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে ভারতীয়রাই সবচেয়ে বড় জাতীয়তাগত গোষ্ঠী। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকো—দেশটির ১ হাজার ৫৭৩ নাগরিককে এ সময়ে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

    গত পাঁচ বছর ধরে কানাডা থেকে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে মেক্সিকোর নাগরিকরাই সংখ্যায় শীর্ষে ছিলেন। ভারত ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। তবে ২০২০ সালে সর্বশেষ ভারতীয়রা এই তালিকায় শীর্ষে ছিল। ওই বছর ১ হাজার ৪২৪ ভারতীয় নাগরিককে কানাডা থেকে বহিষ্কার করা হয়।

    সিবিএসএর তথ্য বলছে, ২০২১ সালে কানাডা থেকে ৬০৩ ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়। ২০২২ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৮৬-তে। ২০২৩ সালে ১ হাজার ১৩২ জন এবং ২০২৪ সালে ২ হাজার ৪ জন ভারতীয় নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা আরো বেড়ে ৩ হাজার ৭৭৯-এ পৌঁছায়।

    কানাডা বর্তমানে দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থায় বেশ কিছু কঠোরতা আরোপ করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী বিদেশি কর্মীসহ অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই ভারতীয় নাগরিকদের বহিষ্কারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

    সাধারণত অভিবাসন-সংক্রান্ত নিয়ম না মানা, আশ্রয় বা শরণার্থী আবেদনের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়া, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরো কানাডায় অবস্থান এবং ভিসা জালিয়াতির মতো কারণে ভারতীয় নাগরিকদের ফেরত পাঠানো হয়ে থাকে। তবে বহিষ্কারের কারণ নিয়ে সিবিএসএর আলাদা তথ্যভান্ডার থাকলেও সেখানে দেশভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয় না।

    এদিকে কানাডায় বর্তমানে যাদের বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলমান, সেই তালিকাতেও ভারতীয়রা সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী। সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, ৭ হাজার ৬৬৯ ভারতীয় নাগরিক বর্তমানে ‘রিমুভাল ইন প্রগ্রেস ইনভেন্টরি’তে রয়েছেন। অর্থাৎ তাদের কানাডা থেকে অপসারণের প্রক্রিয়া চলমান।

    কানাডায় বহিষ্কারের ক্ষেত্রে মূলত তিন ধরনের রিমুভাল অর্ডার রয়েছে। ‘ডিপারচার অর্ডার’-এর আওতায় কাউকে স্বেচ্ছায় ৩০ দিনের মধ্যে কানাডা ছাড়তে হয়। নির্ধারিত সময়ে না ছাড়লে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ডিপোর্টেশন অর্ডার’-এ পরিণত হয়। ‘এক্সক্লুশন অর্ডার’-এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য—সাধারণত এক থেকে পাঁচ বছর—কানাডায় পুনঃপ্রবেশ নিষিদ্ধ থাকে। আর ‘ডিপোর্টেশন অর্ডার’ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্থায়ীভাবে কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েন, যদি না কানাডা সরকারের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি পান।

    কানাডার চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ভারতীয়দের বহিষ্কারের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফেরত পাঠানো ভারতীয়দের সংখ্যার চেয়েও আড়াই গুণের বেশি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ১ হাজার ২৭৩ ভারতীয় নাগরিককে ভারতে ফেরত পাঠিয়েছে।

    চলতি বছরের শেষ নাগাদ কানাডা থেকে ভারতীয় নাগরিকদের বহিষ্কারের সংখ্যা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন আবার বন্ধুত্ব চাইবেন, দুটো বিপরীতমুখী: ভারতকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন আবার বন্ধুত্ব চাইবেন, দুটো বিপরীতমুখী: ভারতকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সম্প্রতি ভারতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলন করতে দেওয়ার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একদিকে ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন, অন্যদিকে বাংলাদেশের সাথে বন্ধুত্ব রাখতে চাইবেন, দুটো বিপরীতমুখী।

    শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আয়োজনে আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পত্রিকায় দেখলাম ভারতের মুখপাত্র বলছেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা যা বলেছেন, তা ভারত সমর্থন করে না। তো ভারত কি তাকে বারবার মিটিং করতে দেওয়াটা সমর্থন করে? এইভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকে না।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ আমরা পারস্পরিক সম্পর্ক রাখব। আমাদের এই পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যে আন্তঃনির্ভরশীলতা আছে, এটিকে আমরা শক্তি হিসেবে মনে করি। আমরা আপনাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। তবে আমরা কখনো আওয়ামী লীগ হতে পারব না।

    তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে পারস্পরিক সম্মান-মর্যাদা, সমান সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে আমরা আপনাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখব। তার মানে এই নয় আপনারা ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন আর বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইবেন। দুটো বিপরীতমুখী। আশা করি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ, ভারত সরকার বিষয়টি বুঝবেন।

    তিনি বলেন, এখন বলা হচ্ছে- তারেক রহমান লন্ডনে বসে এবং সালাহউদ্দিন সাহেব ভারতে বসে যদি রাজনীতি করতে পারে, হাসিনার দোষ কী? হ্যাঁ, হাসিনার দোষ আছে। আমরা কেউ ফ্যাসিবাদী ছিলাম না। গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে আমাদের জোরপূর্বক নির্বাসিত করা হয়েছে। এটা হচ্ছে হাসিনার সাথে আমাদের ব্যবধান।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হাসিনার সঙ্গে আমাদের আরও ব্যবধান আছে। ভারতের পার্লামেন্টে জয়শঙ্কর সাহেব বক্তৃতা দিলেন যে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তিনি যোগাযোগ করেছেন, তিনি পালিয়ে গিয়েছেন এবং এয়ারপোর্টে আপনাদেরই একজন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য তাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। এগুলো আমাদের সঙ্গে ব্যতিক্রম আছে। আমাদের বস্তাবন্দী করে হাত-পা, চোখ বেঁধে তারপর বস্তাসহকারে ওখানে ফেলে দিয়েছে। এই ব্যতিক্রমগুলো আছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা এই দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৪০০ এরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছেন, সেখানে নারী-শিশুর হার ছিল ১৩-১৪ শতাংশ এবং আসমান থেকে হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে এ দেশের জনগণকে হত্যা করেছেন। এরপরেও কি তাকে ডেমোক্রেটিক কালচারের কোনো নেতা হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দিতে পারি? এই প্রশ্ন আমার রইল।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, হিটলারের গণহত্যার পর তার দলের বিরুদ্ধে বিচার হয়েছে। আমরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সংগঠন হিসেবে বিচারের কথা বলেছি। আর্টিকেল ৪৭ অনুসারে সেই আইনটা করা হয়েছে। আইসিটি অ্যাক্টে সেটা আছে। তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি হবে না, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা স্থায়ী সময়ের জন্য স্থগিত হবে কি হবে না এই বিধানগুলো সেখানে দেওয়া আছে। তাদের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হবে কিনা সেটাও ওখানে বলা আছে সেই আইনে। তদন্ত হচ্ছে, আমরা আশা করব সে তদন্ত শেষ হবে। ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনা এবং তার দোসরদের বিচার চলমান। কিছু বিচার সমাপ্ত হয়েছে, আরও অনেকগুলো এখন ফরমাল চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারগুলো চলবে।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশে হাসিনার নামে ফাঁসির রায় আছে এবং আরও মামলা চলমান আছে। কিন্তু এই ফ্যাসিস্টের কোনো অনুশোচনা নাই। বাংলাদেশের মানুষের সামনে দুঃখপ্রকাশ করেননি। যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করেছে, গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে, তারা নাকি জঙ্গিবাদী তৎপরতার মধ্য দিয়ে তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করেছে। যদি অপতৎপরতা এবং মিথ্যা বলার কোনো বক্স অফিসে চ্যাম্পিয়ন হতো, সেটা হলো হাসিনার বাক্স।

  • মারা গেলেন মেসির বাবা হোর্হে মেসি

    মারা গেলেন মেসির বাবা হোর্হে মেসি

    আর্জেন্টাইন ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি মারা গেছেন। একাধিক আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ খবর নিশ্চিত করেছে স্প্যানিশ গণমাধ্যম গোলডটকম।

    আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম ইনফোবায়ে এবং রোসারিও৩ নেটওয়ার্ক দাবি করেছে, ৬৮ বছর বয়সে মারা গেছেন হোর্হে মেসি। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন।

    গত জুনে বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন মেসি। ম্যাচের পর নিজের কান্নার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানিয়েছিলেন, এর সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তিনি কয়েকটি কঠিন দিনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন।

    এরপর মেসির বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা খবর ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে সে সময় মেসি পরিবার এক বিবৃতিতে জানায়, হোর্হে মেসি স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে গুজব ও জল্পনা না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

    পরিবারের পক্ষ থেকে হোর্হে মেসি ও তার স্বজনদের গোপনীয়তা এবং ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মান দেখানোর অনুরোধও করা হয়েছিল। তবে এবার এখনও মেসির পরিবারের পক্ষ থেকে হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়নি।

    ছোটবেলা থেকেই ছেলের ফুটবল ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন হোর্হে মেসি। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ২০০০ সালে লিওনেল মেসির বার্সেলোনায় যাওয়ার পথ তৈরি করতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে ফুটবল খেলোয়াড়দের এজেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন হোর্হে মেসি।

  • অবশেষে আলভারেজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন সিমিওনে

    অবশেষে আলভারেজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন সিমিওনে

    আতলেতিকো মাদ্রিদের আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজের ভবিষ্যত নিয়ে চলছে তুমুল গুঞ্জন। নতুন চ্যালেঞ্জের খোঁজে বার্সেলোনায় পাড়ি জমাতে ইচ্ছুক এই তারকা ফুটবলার। তবে আতলেতিকো তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ছাড়তে নারাজ। এই টানাপোড়েন ও জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ক্লাবের কোচ দিয়েগো সিমিওনে।

    সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সফার জটিলতা ও আলভারেজের অবস্থান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সিমিওনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নিজের মন্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি একদম পরিষ্কার। ক্লাবের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা মিগেল অ্যাঞ্জেল খুব ভালোভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে ফুটবলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বললে, হুলিয়ানের মতো একজন খেলোয়াড়কে দলে পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। সে যেন ক্রমাগত আরও উন্নতি করতে পারে এবং আরও বড় হয়ে উঠতে পারে, সেজন্য আমরা তাকে সব ধরনের সহায়তা করব।’

    আলভারেজের বর্তমান দলবদল পরিস্থিতির তুলনামূলক ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদের সাবেক তারকা অঁতোয়ান গ্রিজমানের দৃষ্টান্ত স্মরণ করিয়ে দেন সিমিওনে। তিনি বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে আমরা গ্রিজমানের সঙ্গেও এমন একটি সময় পার করেছি, যখন তাকে বাধ্য হয়ে ক্লাব ছাড়তে হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তিনি আবারও ফিরে এসেছিলেন। ফিরে আসার পর নিজের মান এবং ফুটবলে নিজের মর্যাদা কী—তা তাকে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই প্রমাণ করতে হয়েছিল।’

    বার্সেলোনা এই মুহূর্তে আলভারেজকে দলে নিতে সবচেয়ে এগিয়ে থাকলেও রিয়াল মাদ্রিদ, আর্সেনাল এবং প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর মতো ইউরোপের জায়ান্ট ক্লাবগুলোও এই আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের দিকে নজর রাখছে। তবে আতলেতিকোর অনমনীয় অবস্থানের কারণে প্রস্তাব ও দরকষাকষি বেশ জটিল রূপ ধারণ করেছে।

    খেলোয়াড়ের দলবদল নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আশা প্রকাশ করে সিমিওনে সবশেষে মন্তব্য করেছেন, ‘সব বিষয়ই সময়ে সুরাহা হয়ে যাবে এবং সমাধান খুঁজে পাবে।’

  • ট্রাম্পকে যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পরামর্শ শীর্ষ মার্কিন জেনারেলের

    ট্রাম্পকে যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পরামর্শ শীর্ষ মার্কিন জেনারেলের

    ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ থেকে উত্তেজনা কমানোর পথ খুঁজতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে পরামর্শ দিয়েছেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, জেনারেল কেইন আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ আরও বাড়ালে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও আসতে পারে। বরং ইরানের পাল্টা হামলা আরও বড় আকার নিতে পারে। তিনি মনে করেন, শুধু বিমান হামলা চালিয়ে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে নিতে বাধ্য করা কঠিন হতে পারে।

    সিএনএনের তিনটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, জেনারেল কেইন বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তাদের মধ্যে সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রয়েছেন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর একটি পরিকল্পনা নিয়েও জেনারেল কেইনসহ কয়েকজন কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালাতে পারে। উপসাগরীয় কয়েকটি দেশও এমন হামলার আশঙ্কা জানালে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ওই অভিযান পিছিয়ে দেন।

    এদিকে দীর্ঘ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র ও নির্ভুল হামলার অস্ত্রের মজুত কমে আসায় দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানো কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

    তবে জেনারেল কেইন একই সঙ্গে সতর্ক করেছেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু এতে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

    সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন মার্কিন প্রশাসন এমন একটি সমাধান খুঁজছে, যেটিকে ট্রাম্প রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারেন এবং একই সঙ্গে কূটনীতির পথও খোলা থাকে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি সম্ভাব্য চুক্তিও রয়েছে।