আর্ন্তজাতিক

  • র‍্যাবের বদলে আসছে এসআরবি

    র‍্যাবের বদলে আসছে এসআরবি

    দুই দশকের বেশি সময় ধরে আলোচিত-সমালোচিত এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন নামে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাহিনীর মূল দায়িত্বে বড় কোনো পরিবর্তন না আনলেও নতুন আইনে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যুক্ত করা হয়েছে একাধিক নতুন বিধান। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—এসআরবির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অন্যায় আচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার বা হয়রানির অভিযোগ করতে পারবেন সাধারণ নাগরিক। এসব অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তির জন্য গঠন করা হবে একটি অভিযোগ প্রতিকার কমিটি।

    এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া জনমত নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। খসড়ায় বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এসআরবি গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বাহিনীর দায়িত্ব, অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা, মামলা তদন্ত, সদস্যদের শৃঙ্খলা ও নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, প্রকাশিত খসড়ার ওপর যেসব মতামত আসবে, সেগুলো পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন শেষে খসড়াটি চূড়ান্ত করে পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হবে।

    র‍্যাবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিচারবহির্ভূত হত্যা, ক্রসফায়ার, গুম, হেফাজতে নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাব ও এর কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পরে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও বাহিনীটি বিলুপ্ত করার সুপারিশ করে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খসড়া আইন চূড়ান্ত হওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নিয়ে তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। আইনটি কার্যকর হলে র‍্যাবের বিদ্যমান আইনি ভিত্তি বিলুপ্ত হবে। তবে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে র‍্যাবের বিদ্যমান বিধান কার্যকর থাকবে।

    খসড়া অনুযায়ী, এসআরবি হবে বাংলাদেশ পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট। এর প্রধান থাকবেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠন করা যাবে। সদর দপ্তর থাকবে ঢাকায়, তবে দেশের যেকোনো স্থানে ইউনিট স্থাপনের সুযোগ থাকবে। পুলিশ ছাড়াও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে সদস্যদের প্রেষণে এনে বাহিনীটি গঠন করা যাবে। প্রেষণে নিয়োগের ন্যূনতম মেয়াদ দুই বছর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    খসড়া আইন পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাহিনীর নাম পরিবর্তন হলেও দায়িত্বের পরিধিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদক, সন্ত্রাসবাদ, মানব পাচার, সংঘবদ্ধ ও সাইবার অপরাধ দমন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করা এসআরবির দায়িত্ব হিসেবে রাখা হয়েছে। আদালত, সরকার কিংবা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে মামলা দায়ের ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাও থাকবে বাহিনীটির।

    খসড়া আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো অভিযোগ প্রতিকার কমিটি। কমিটির সভাপতি হবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। সদস্য হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা ও পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এবং মানবাধিকার, আইন বা বিচার প্রশাসনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকার মনোনীত একজন ব্যক্তি।

    এই কমিটি সাধারণ নাগরিকের অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে। প্রয়োজনে পৃথক অনুসন্ধান দল গঠন করা হবে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে কমিটি। বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, হয়রানি, অনিয়ম, অবৈধ প্রভাব বিস্তার, পদোন্নতি বা পদায়নসংক্রান্ত অভিযোগও পর্যালোচনা করতে পারবে তারা।

    খসড়া আইনে সদস্যদের জন্য বিস্তারিত শৃঙ্খলাবিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে মাদকাসক্ত থাকা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য, দায়িত্বে অবহেলা, বেআইনি অর্থ আদায়, সরকারি অস্ত্র বা সরঞ্জামের অপব্যবহার, অপরাধীকে পালাতে সহায়তা কিংবা জুয়া এবং অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। কোনো সদস্য পলাতক হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের আবেদনের ভিত্তিতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাঁকে গ্রেপ্তার করে এসআরবির কাছে হস্তান্তর করবেন।

  • বিমানবন্দরে ভিআইপি-সিআইপিসহ সবাইকে তল্লাশির নির্দেশ

    বিমানবন্দরে ভিআইপি-সিআইপিসহ সবাইকে তল্লাশির নির্দেশ

    ভিআইপি ও সিআইপি ব্যক্তিসহ সবার ক্ষেত্রে বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিধি সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি থেকে কাউকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে না।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (ক্যাব) সদর দপ্তরে পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএসসি) প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।

    মন্ত্রী বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিষয়ক দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ও সমন্বয়কারী সংস্থা এনসিএসসির ১৩তম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

    বাংলাদেশের আসন্ন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) নিরাপত্তা নিরীক্ষার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ নিরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। যেসব ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ আসতে পারে, সেসব বিষয়ে আইসিএও’র মানদণ্ড শতভাগ অনুসরণ নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নির্দেশ দেন।

    আফরোজা খানম আরও বলেন, যাত্রীদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি যাত্রীদের সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

    সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন প্রতিরোধে সরকার অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপন করবে।

    তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর পর এনসিএসসির সভা হয়েছে। তাই এর সিদ্ধান্তগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আন্তরিক হতে হবে।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তার চেয়ে বেশি সংখ্যায় স্ক্যানারসহ নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি বিমান চলাচল নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

    সভায় বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে ছিল বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করা, জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, আইসিএওর নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ।

    কমিটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা, আন্ডার ভেহিকল স্ক্যানিং সিস্টেম (ইউভিএসএস)-এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং দেশের সব বেসামরিক বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সংকট ব্যবস্থাপনা জোরদারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করে।

    এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অননুমোদিত জনসমাগম, ভিক্ষাবৃত্তি এবং অবৈধ লাগেজ মোড়ানোর কার্যক্রম প্রতিরোধে ক্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার, বিমানবন্দর ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের সুপারিশ করা হয়।

    যাত্রীসেবা উন্নত করা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিমানবন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করে কমিটি।

  • হাসিনাকে ভারত এই সুযোগ কেন দিল, প্রশ্ন বিএনপির

    হাসিনাকে ভারত এই সুযোগ কেন দিল, প্রশ্ন বিএনপির

    বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের অনেকে।

    দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ কেন দিল—এটি আমাদের প্রশ্ন।’

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়ে আছেন। সেই প্রসঙ্গে টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত তাকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু সেখানে আশ্রয়ে থেকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন; তাকে সরাসরি গণমাধ্যমে কথা বলা সুযোগ দেওয়া হলো।’

    ‘বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে থাকা শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার কেন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর এই সুযোগ দিলে’—এই প্রশ্নও রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    পাঁচই আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। সেই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন।

    এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। সরকারি দল বিএনপির নেতৃত্বের মাঝেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলে দলটির নেতাদের অনেকে বলছেন।

    বাংলাদেশে জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের জন্য শেখ হাসিনা দুঃখপ্রকাশ বা ক্ষমা চাইবেন কি না, নয়াদিল্লির সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সেই প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন তিনি।

    ওই সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকা তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে একপক্ষকে ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে; একপক্ষ দায়মুক্তি পেলে অন্যপক্ষেরও সে অধিকার আছে।

    দুই বছর আগে গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত দলটির নেতাদের কোনো অনুশোচনা না থাকায় বাংলাদেশে বর্তমানে সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে আসছে।

    বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) গণহত্যা চালিয়েছে। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেনি বা ক্ষমা চায়নি। এমনকি তাদের কোনো অনুশোচনা নেই।’

    ‘বরং তারা ভারতে আশ্রয় নিয়ে থেকে বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালাচ্ছে। জনগণ তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ,’ মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    দুই বছর আগে শেখ হাসিনার শাসনের পতন হলে সে সময় গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত কোনো সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান এনে ওই অধ্যাদেশ যুক্ত করা হয়েছিল।

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর এই সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী প্রস্তাব সংসদে পাস করে। ফলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থেকে যায়।

    নয়া দিল্লির সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা তাদের দলের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান।


    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির ব্যাপারে বিচার হবে। সংশ্লিষ্ট আইনে সেই বিধান যুক্ত করা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘বিএনপি নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে চায় না। কিন্তু আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়। তারা তো (আওয়ামী লীগ) আদালতে যায়নি। আদালত থেকেই যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেভাবেই সরকার কাজ করবে।’

    একইসাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য হচ্ছে, ‘জনগণও বিচার করবে। জুলাই আন্দোলনে তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) গণহত্যা চালিয়েছে। তাদের দীর্ঘ শাসনে বিরোধী দল ও মতের মানষকে দমন-পীড়ণ চালিয়েছে; গুম, খুন করেছে। ফলে তাদের প্রতি জনগণের কোনো আস্থা নেই এবং তাদের ব্যাপারে জনগণও বিচার করবে।’

    এদিকে, ভারতের নয়া দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হতে পারেন, এমন খবর যখন আলোচনায় আসে, তখনই বাংলাদেশের বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

    গত সোমবার ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা দিল্লিতে শেখ হাসিনা যাতে রাজনৈতিক কার্যক্রম না চালায়, সেজন্য ভারত সরকারের সহযোগিতা চান।

    একই দিনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ভারত সরকারকে এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করতে আহ্বান জানান।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিকে ঘিরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন, দুই দেশের সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার চেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

    এছাড়া এরপর মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশনা তুলে ধরে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য বিবরণীতে শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রচার না করতে অনুরোধ করা হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছিলেন।

    যদিও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংবাদ সম্মেলনটি বেসরকারিভাবে আয়োজন করা হচ্ছে। এরসাথে ভারত সরকারের সম্পর্ক নেই। এবং সেখানে যে বক্তব্য আসবে, তা ভারত সরকার সমর্থন করে না।

    কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে প্রতিক্রিয়া দেখানোর পরও নয়া দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে এবং তাতে শেখ হাসিনা সরাসরি বক্তব্য ও প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন।

    বিএনপি সরকারের একাধিক সূত্র বলছে, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যে বক্তব্যই দেওয়া হোক না কেন, তাদের সমর্থন ছাড়া নয়া দিল্লিতে এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন করা সম্ভব নয় বলে তারা মনে করেন।

    আর সেকারণে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে ও দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্য থেকেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া এসেছে।

  • হাতিকে শর্তসাপেক্ষ জামিন দিল ভারতের আদালত

    হাতিকে শর্তসাপেক্ষ জামিন দিল ভারতের আদালত

    হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন ভারতের ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর রাজ্যের অটোচালক বিজয় হোলকার। পরবর্তীতে হত্যার কারণে হাতিটিকে কারাগারে পাঠানো হয়। অবশেষে শর্ত সাপেক্ষে হাতিটিকে জামিন দিয়েছে ভারতের আদালত।

    সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, অটোচালক বিজয় হোলকারের মৃত্যুর পর ঘাতক হাতিটিকে শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। জেলা ও দায়রা আদালতের আদেশ অনুযায়ী, হাতিটিকে আপাতত শহরেই নজরবন্দি করে রাখা হ

    তবে চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত গজরাজকে ইনদওর ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। আদালত হাতিটির বিষয়ে বেশ কিছু শর্তও আরোপ করেছে। এটিকে শহর জুড়ে ঘোরানো, ধর্মীয় শোভাযাত্রা বা কোনও জনসমাবেশে উপস্থিত থাকার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যে কোনও অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে বন বিভাগ এর গতিবিধির উপর সর্বক্ষণ নজর রাখবে।

    এই মামলায় হাতিটির মাহুত (হাতির চালক) উমেশ গোস্বামী এবং মালিক সন্দীপ নির্মোহীর জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছে। ফলস্বরূপ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে হাজতে পাঠানো হয়েছে। এই মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে আরও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে খবর। বন বিভাগ শুধু ঘটনার পরিস্থিতিই নয়, হাতিটির মালিকানা সম্পর্কিত নথিপত্রও খতিয়ে দেখছে। হাতিটিকে নিয়ম মেনে পরিবহণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছিল কি না, তা নির্ধারণ করতে স্থানান্তকরণের নথি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তদন্ত চলাকালীন উঠে এসেছে, হায়দরাবাদ থেকে ফেরার পথে নান্দেদের কাছে হাতিটির আচরণে পরিবর্তন লক্ষ করা গিয়েছিল। যে ট্রাকে করে আনা হচ্ছিল, সেটির টায়ার ফুটো হয়ে যায়। এর পর হাতিটি ট্রাকে উঠতে অস্বীকার করে এবং আক্রমণাত্মক আচরণ করতে শুরু করে। হাতিটি ট্রাকে উঠতে রাজি না হওয়ায় প্রায় ১৫ দিন ধরে হাঁটিয়ে সেটিকে উজ্জৈনে আনা হয়েছিল। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে এই দীর্ঘ ও কঠিন যাত্রা হাতিটির আচরণে প্রভাব ফেলেছিল এবং সে আগের চেয়ে বেশি খিটখিটে হয়ে উঠেছিল।

    গত মাসের ২৫ তারিখে হাতিটিকে তার মাহুত রাস্তায় ঘোরাতে নিয়ে বেরোয়। হাতিটিকে গুড় খাওয়াতে গিয়েছিলেন ৪৯ বছরের বিজয়। হঠাৎ হাতিটি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বিজয়কে শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে। সজোরে মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেয়। বিজয়কে ছুড়ে ফেলার পর হাতিটি তাঁর বুকের উপর পা তুলে দেয়। গুরুতর আহত হন প্রৌঢ়। আশপাশে থাকা লোকজন তাকে হাতির কবল থেকে মুক্ত করে দ্রুত জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিজয়ের পরিবার তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

  • লেবাননে সাংবাদিক হত্যা করে যুদ্ধাপরাধ করেছে ইসরাইল: এইচআরডব্লিউ

    লেবাননে সাংবাদিক হত্যা করে যুদ্ধাপরাধ করেছে ইসরাইল: এইচআরডব্লিউ

    চলতি বছরের শুরুতে লেবাননের সাংবাদিক আমাল খলিলকে হত্যা এবং তার ক্যামেরাম্যান জয়নাব ফারাজকে আহত করা ইসরাইলি বিমান হামলা ছিল ‘পরিকল্পিত’ এবং তাই এটি ‘যুদ্ধাপরাধকে বলছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। খবর আলজাজিরার।

    লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল আখবারের সাংবাদিক খলিল ২২শে এপ্রিল দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিষয়ে প্রতিবেদন করার সময় দক্ষিণের শহর আত-তিরিতে নিহত হন।

    এইচআরডব্লিউ বলেছে, লেবাননে জাতিসংঘ মিশন এবং রেড ক্রসের অনুরোধসহ বিভিন্ন প্রমাণে দেখা গেছে যে, ইসরাইলি বাহিনী জানত সাংবাদিকরা সেই ভবনে ছিলেন যেখানে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছিল।

    মানবাধিকার সংস্থাটি আরও প্রকাশ করেছে যে, ইসরাইলি বাহিনী যখন উদ্ধারকারী দলগুলোকে সাংবাদিকদের অবস্থানে পৌঁছাতে বাধা দেয়, খুব সম্ভবত খলিল তখনও জীবিত ছিলেন।

    এইচআরডব্লিউ-এর রামজি কাইস এক বিবৃতিতে বলেন, সংগৃীত তথ্য থেকে এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানত, অথবা তাদের এটি জানা স্বাভাবিক ছিল, যে ফারাজ ও খলিল বেসামরিক নাগরিক ছিলেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা তাদের ওপর হামলা চালায় এবং এরপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্যারামেডিকদের তাদের উদ্ধার করতে বাধা দেয়।

  • ২ কারণে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বারবার ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ভ্যান্স

    ২ কারণে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বারবার ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ভ্যান্স

    ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের ‘সঠিক অবসান’ ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা সব ধরনের হাতিয়ার ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

    বুধবার (৫ আগস্ট) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এই সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক—সব ধরনের কৌশলই কাজে লাগাবে।

    ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কেন বারবার হোঁচট খেতে হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স দুটি কারণ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রথমত, ইরানিরা চরম একগুঁয়ে জাতি। দ্বিতীয়ত, তাদের শাসনব্যবস্থা বেশ বিভক্ত।

    তিনি আরও বলেন, তাদের শাসনকাঠামোর ভেতরে এমন অনেকেই আছেন, যারা চান যুদ্ধটা শেষ হোক। আবার এমন অনেক উন্মাদ ও কট্টরপন্থি আছেন, যারা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চান।

    ভ্যান্স বলেন, আমাদের কাজ হলো এসব বাধা পেরিয়ে মার্কিন জনগণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জন্য সেরা ফলাফলটি বের করে আনা।

    এই সংঘাতের একটি সমাধান আসবে বলে আশাপ্রকাশ করলেও ভ্যান্স সতর্ক করে বলেন, প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল হবে এবং লক্ষ্যে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগবে—তবে আমরা সফল হব। এ সময় তিনি আরও জানান যে, তেলের দাম কমে আসবে এবং তা স্থিতিশীল থাকবে।

    মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র আরও শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। তবে এই সংকটকে একটি সঠিক সমাধানে রূপ দিতে আমরা সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক—আমাদের হাতে থাকা সব হাতিয়ারই ব্যবহার করব।

    এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বুধবার লাস ভেগাসের এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, সামরিক পদক্ষেপে যাওয়ার চেয়ে তিনি ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। তিনি বলেন, আমি বরং একটি চুক্তি করতে চাই, কারণ আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না। তবে কূটনীতি ব্যর্থ হলে বলপ্রয়োগের পথও যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খোলা রয়েছে, সেই হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন তিনি।

    গত ১৮ জুন ওয়াশিংটন এবং তেহরান একটি রূপরেখা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল এবং চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনাও শুরু করেছিল। তবে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে নৌ চলাচলের নিশ্চয়তা নিয়ে মতবিরোধের জেরে শেষ পর্যন্ত সেই আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে।

    গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের অভ্যন্তরে হামলা চালানো হলে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জবাবে জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতসহ বেশ কয়েকটি আরব দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করে তেহরান।

  • কার্টার থেকে ট্রাম্প কেউই বুঝতে পারেনি ইরানকে ?

    কার্টার থেকে ট্রাম্প কেউই বুঝতে পারেনি ইরানকে ?

    সোমবার ট্রাম্প ক্ষোভের সঙ্গে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে ইরান অবিশ্বাস্য রকম প্রতারণাপূর্ণ আচরণ করছে। তেহরানের প্রতিপক্ষকে বুঝতে তার যে কতটা বেগ পেতে হচ্ছে, এটি তারই সর্বশেষ প্রমাণ।

    ট্রাম্প নিজেকে প্রতিপক্ষকে মূল্যায়ন করতে এবং তাদের দুর্বলতার সুযোগ নিতে ওস্তাদ মনে করেন। কিন্তু ইরানের নেতারা তাকে রীতিমতো বোকা বানিয়ে ছেড়েছেন। গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তারা (ইরান) কেবল আমাকে রাগিয়েই দেয়।

    মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য সামনে হয়তো আরও হতাশা অপেক্ষা করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি নতুন চুক্তি হয়তো কাছাকাছি, কিন্তু ইরান সেখানে টোল আদায়ের দাবিতে অনড়, যা ট্রাম্প অগ্রহণযোগ্য বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

    ইরানের সঙ্গে একটি অনুকূল চুক্তিতে পৌঁছাতে ট্রাম্পের ব্যর্থতা কেবল যুদ্ধক্লান্ত ভোটারদের কাছে তার রাজনৈতিক ক্ষতিই করেনি, বরং এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ঘিরে চলমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতি এবং মার্কিন ভোক্তাদের ক্ষতির মুখে ফেলে তেলের বাজারকেও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

    ট্রাম্পই যে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইরানকে বুঝতে হিমশিম খাচ্ছেন, তা নয়। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে তার পূর্বসূরিদের প্রায় প্রত্যেকেই ইরানের রহস্যময় ক্ষমতার কাঠামো এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের মানসিকতা বোঝার চেষ্টা করেছেন।

    তাদের বেশিরভাগই ব্যর্থ হয়েছেন; কেউ কেউ তো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর এক বিরল ব্যতিক্রম ছিলেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, যার ২০ মাসের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফসল ছিল ২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তি। ওবামা এটিকে বড় অর্জন মনে করলেও, রিপাবলিকান ও কিছু ডেমোক্র্যাট নেতার সমালোচনা ছিল যে, ইরান মধ্যপন্থার ভান করে তাকে একটি ত্রুটিপূর্ণ চুক্তির ফাঁদে ফেলেছে।

    তবে কয়েক দশক ধরে ইরানকে নিয়ে কাজ করা সিআইএ-এর সাবেক বিশ্লেষক ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কর্মকর্তা কেনেথ পোলক বলেন, ট্রাম্প হয়তো সেই প্রেসিডেন্ট যিনি ইরানের নেতৃত্বকে সবচেয়ে কম বুঝেছেন।

    পোলক আরও বলেন, অনেক দিক থেকেই ইরানকে নিয়ে আমেরিকার হতাশার চূড়ান্ত রূপ হলেন ট্রাম্প। তিনি যেমন ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ছিলেন, তেমনি তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শক্তিও প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু তিনি দেখেছেন, এর কোনোটিই তাকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য এনে দেয়নি।

    ট্রাম্প প্রায়ই এমনভাবে কথা বলেন যেন ব্যাপক শক্তি প্রয়োগ করলেই দ্রুত চুক্তি হয়ে যাবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক বিমান হামলায় প্রায় ৪০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, ট্রাম্প ইরানের জনগণকে তাদের সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি তখন এমনও বলেছিলেন যে, এরপর তিনি নিজেই ইরানের পরবর্তী নেতা বেছে নেবেন।

    বিমান হামলায় আরও অনেক ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তাও নিহত হন। কিন্তু সেখানে কোনো গণঅভ্যুত্থান ঘটেনি। উলটো ইরানের কট্টরপন্থি সরকার আরও কঠোর অবস্থান নেয়। মার্চ মাসে তারা খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেয়। মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন, তিনি তার বাবার চেয়েও বেশি অনমনীয় এবং পারমাণবিক বোমা অর্জনের বিষয়ে আরও বেশি আগ্রহী।

    ছোট খামেনি অগ্রহণযোগ্য পছন্দ হবেন বলে ট্রাম্প যে প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছিলেন, ইরান তা স্রেফ উপেক্ষা করেছে। এমনকি ট্রাম্পের সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাবেও সাড়া দেননি নতুন খামেনি।

    এরপরও ট্রাম্প বড় পরিবর্তনের আশা ছাড়েননি। এপ্রিলের শেষের দিকে তিনি বলেন, ইরান যদি একটি চুক্তি করে, তবে তারা খুব ভালো অবস্থানে যেতে পারে। ইরান মৃত্যু ও আতঙ্কের ওপর নির্ভরশীল কোনো দেশ না হয়ে একটি বৈধ দেশে পরিণত হতে পারে।

    ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, হরমুজ প্রণালি এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো বিষয় নিয়ে তারা ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন, যদিও তারা তার মূল দাবিগুলোর অনেকগুলোই প্রত্যাখ্যান করেছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-বিদ্বেষের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থায়, কেউই আমেরিকার সঙ্গে বৃহত্তর কোনো সমঝোতার প্রতি আগ্রহ দেখায় না।

    ট্রাম্প কয়েক মাস ধরে ইরানের সঙ্গে যেভাবে দেনদরবার করছেন, তাতে তিনি যে দেশটির সরকার ব্যবস্থাকে খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন, তার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সংঘাত চলাকালে ট্রাম্প প্রতিনিয়তই খামেনি এবং তার মন্ত্রীদের সম্পর্কে নিজের মূল্যায়ন পরিবর্তন করেছেন। তিনি কখনো তাদের পাগল, কখনো যুক্তিবাদী, কখনো খুব চালাক আবার কখনো পুরোপুরি উন্মাদ বলে আখ্যায়িত করেছেন। ট্রাম্প এক অর্থে সেই একই হতাশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, যা তার পূর্বসূরিদেরও ভুগিয়েছে।

    ওয়াশিংটনের ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক পরিচালক সুজান ম্যালোনি বলেন, কয়েক দশক ধরেই মার্কিন নীতিনির্ধারকরা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের আদর্শিক প্রতিশ্রুতি এবং গভীরভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়া ক্ষমতার কাঠামোকে ধারাবাহিকভাবে অবমূল্যায়ন করে আসছেন।

    ম্যালোনি জানান, একটি বড় সমস্যা হলো শীর্ষ ইরানি নেতাদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগাযোগের চরম অভাব। কোনো মার্কিন কর্মকর্তা কখনোই ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি, সদ্য প্রয়াত আলী খামেনি বা তার ছেলের সঙ্গে দেখা করেননি।

    ম্যালোনি আরও বলেন, যুদ্ধ সম্ভবত ইরানের ধর্মীয় ও সামরিক নেতৃত্বের ক্ষমতাকে আরও সুসংহত করেছে, যার ফলে কোনো কার্যকর বিকল্প ক্ষমতার কেন্দ্র অবশিষ্ট নেই।

    ইরানের আধা-গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় (যেখানে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট সর্বোচ্চ নেতার নিরঙ্কুশ ধর্মীয় কর্তৃত্বের অধীনে থাকে) মাঝে মাঝে এমন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এসেছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পক্ষপাতী ছিলেন। কিন্তু ওয়াশিংটন যখনই ওই নেতাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে, তার ফল বেশিরভাগ সময়ই হতাশার হয়েছে।

    উভয় দলের প্রেসিডেন্টদের আমলেই কাজ করা মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতির অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব ডেনিস রস বলেন, মনে হয় আমরা তাদের যতটা বুঝি, ইরানিরা আমাদের তার চেয়ে অনেক ভালো বোঝে।

    ১৯৮০ সালে প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার তেহরানের মার্কিন দূতাবাস থেকে জিম্মি হওয়া ৫২ জন আমেরিকানকে মুক্ত করার লক্ষ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে গোপন আলোচনার অনুমোদন দেন।

    কার্টারের ডায়েরি থেকে দেখা যায়, বর্তমান ট্রাম্পের মতোই তিনিও ইরানের রাজনৈতিক কলকাঠি নাড়ানো এবং শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের খুঁটিনাটি নিয়ে মেতে থাকতেন। ১৯৮০ সালের শুরুর দিকে কার্টার ভেবেছিলেন জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে তিনি একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পেরেছেন (যার বিনিময়ে ইরানের বাজেয়াপ্ত কোটি কোটি ডলার ফেরত দেওয়া এবং তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার মার্কিন প্রতিশ্রুতি ছিল)।

    কিন্তু কার্টার যাকে একটি তিক্ত হতাশা বলে অভিহিত করেছিলেন, সেই ঘটনা ঘটে যখন খোমেনি এই প্রস্তাব বাতিল করে দেন। এতে মার্কিন কর্মকর্তা এবং খোমেনির নিজের অধস্তনরাও অবাক হয়েছিলেন। কার্টার শেষ পর্যন্ত একটি জিম্মি উদ্ধার অভিযানের নির্দেশ দেন যা ব্যর্থ হয়। পরে তিনি ক্ষমতা ছাড়ার শেষ দিন একটি চুক্তির মাধ্যমে আমেরিকানদের মুক্ত করেন।

    পাঁচ বছর পর, প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান তার সহকারীদের এক ইরানি অস্ত্র ব্যবসায়ীর বার্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। ওই বার্তায় দাবি করা হয়েছিল, বয়োবৃদ্ধ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের মধ্যপন্থি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী হবেন।

    পরে রিগ্যান যাকে কৌশলগত উন্মোচন বলে আখ্যা দিয়েছিলেন, তার অংশ হিসেবে তিনি লেবাননে বন্দি আমেরিকান জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ইরানের কাছে গোপনে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেন। এটি পরে ইরান-কন্ট্রা কেলেঙ্কারি নামে পরিচিতি পায়, কারণ অস্ত্র বিক্রির এই টাকা কংগ্রেসের অগোচরে নিকারাগুয়ার একটি কট্টর কমিউনিস্ট-বিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর (কন্ট্রা) কাছে পাঠানো হয়েছিল।

    এই ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে রিগ্যানের প্রেসিডেন্সি ব্যাপক কেলেঙ্কারির মুখে পড়ে। বেশ কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা দোষ স্বীকার করেন বা অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হন; রিগ্যানের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আত্মহত্যারও চেষ্টা করেন।

    ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের এই চেষ্টা আসলে একটি মরীচিকা ছাড়া আর কিছুই ছিল না। তেহরানে কোনো বন্ধুত্বপূর্ণ ও উদারপন্থি নেতার দেখা মেলেনি এবং সিআইএ বিশ্বাস করত যে অস্ত্র ব্যবসায়ী এই সবকিছুর সূত্রপাত করেছিল, সে একজন প্রতারক ছিল। রিগ্যান মূল ঘটনাগুলো জানার কথা অস্বীকার করে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ক্ষমা চান, তবে ইরানি মধ্যপন্থিদের আকৃষ্ট করার তার মূল লক্ষ্যকে তিনি সমর্থন করেছিলেন।

    ১৯৯৭ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সামনে একটি বড় সুযোগ আসে, যখন সংস্কারপন্থি প্রার্থী মোহাম্মদ খাতামি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। খাতামি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্কের আহ্বান জানান এবং এমনকি জিম্মি সংকটের জন্য দুঃখও প্রকাশ করেন। এটি ছিল সত্যিই একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

    ক্লিনটনও এর ইতিবাচক সাড়া দেন। তিনি ইরানি পেস্তা ও কার্পেট আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন এবং ইরানের ঐতিহাসিক কিছু ক্ষোভকে স্বীকৃতি দিয়ে সুর নরম করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেডেলিন অলব্রাইট এমনকি ১৯৫৩ সালে ইরানের প্রধানমন্ত্রীকে (যিনি পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত তেল শিল্প জাতীয়করণ করেছিলেন) উৎখাতে সিআইএ-এর সমর্থনের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমাও চান।

    কিন্তু শক্তিশালী কট্টরপন্থিরা খাতামির উদার দৃষ্টিভঙ্গির বিরোধিতা করেন, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই পুনর্মিলন তাদের পশ্চিমাবিরোধী আদর্শের ভিত্তির জন্য বড় হুমকি ছিল। অলব্রাইটের ওই ভাষণের কয়েকদিন পরই আলী খামেনি (যিনি ১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর সর্বোচ্চ নেতা হন) তার কথাগুলো পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেন এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপের যেকোনো সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।

    কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের ইরান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ করিম সাজাদপুরের মতে, খাতামি পরে ব্যক্তিগতভাবে বলেছিলেন যে খামেনি বিশ্বাস করতেন ইরান কখনই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি স্থাপন করতে পারবে না।

    কেবলমাত্র ওবামাই ইরানের সঙ্গে একটি বড় কূটনৈতিক চুক্তি (২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি) করতে সক্ষম হয়েছিলেন। যেখানে অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহারের বিনিময়ে ১৫ বছরের জন্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়।

    ওবামা প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা আশা করেছিলেন যে, আরেকজন মধ্যপন্থি ইরানি নেতা হাসান রুহানির সঙ্গে হওয়া এই চুক্তি হয়তো সম্পর্ক উন্নয়নের প্রথম ধাপ হবে। কিন্তু তা হয়নি। খামেনি চুক্তিতে অনুমোদন দিলেও বিষয়টিকে আর এগিয়ে নেওয়ার কোনো ইচ্ছা দেখাননি; সমালোচকরা তখন বলেছিলেন, এর মাধ্যমে তাদের সেই সতর্কবার্তাই প্রমাণিত হলো যে রুহানি আসলে খাতামিরই আরেক রূপ হবেন।

    যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করা যায় না বলে ইরান যে সন্দেহ করতো, তা শিগগিরই সত্যি প্রমাণিত হয়। ২০১৮ সালে ট্রাম্প পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসেন এবং চুক্তির আগের চেয়েও কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেন।

    এর জবাবে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি আরও ত্বরান্বিত করে, যা শেষ পর্যন্ত গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের শুরু করা যুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এক ভয়াবহ সংঘাতের দিকে নিয়ে যায়।

    ডেনিস রস বলেন, এরপর থেকে ইরান প্রতিনিয়ত ওয়াশিংটনকে পাশ কাটিয়ে তাদের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকছে। ট্রাম্পের যুদ্ধ শেষ করার স্পষ্ট তাড়াহুড়ো তাদের কাজকে আরও সহজ করে দিয়েছে।

    রস বলেন, তারা আমাদের এই তাড়াহুড়োকে নিজেদের দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। আমাদের দেখে সবসময় মনে হয় আমরা যেন দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য তাগিদে ভুগছি। তারা এই নীতির ওপর কাজ করে যে, সময় আমাদের চেয়ে তাদের স্বার্থেই বেশি কাজে লাগে।

  • কালান্দিয়া শরণার্থী শিবিরে  ৬০ ফিলিস্তিনি গ্রেফতার

    কালান্দিয়া শরণার্থী শিবিরে ৬০ ফিলিস্তিনি গ্রেফতার

    ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটি জানিয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের কালান্দিয়া শরণার্থী শিবিরে চলমান অভিযানের দ্বিতীয় দিনে আজ ৬০ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করেছে ইসরাইলি বাহিনী। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের শিকার হওয়া এসব ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

    সংস্থাটির বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, চলমান এই অভিযানের সময় ফিলিস্তিনিদের চরম মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে বেঁধে রাখার ঘটনা ঘটেছে।

    এছাড়াও ইসরাইলি বাহিনী সাধারণ মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করেছে এবং বসতবাড়ি ও জিনিসপত্র ব্যাপক মাত্রায় ধ্বংস করেছে।

    ফিলিস্তিনের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, গত দুই দিন ধরে ওই শিবিরে চলা অভিযানে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর হামলার কারণে অন্তত ১৬ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।

  • ওমানের সঙ্গে চুক্তি

    ওমানের সঙ্গে চুক্তি

    হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকছে

    ইরান ও ওমানের মধ্যে প্রস্তাবিত একটি চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করা জাহাজগুলোর ওপর চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে তেহরান।

    বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে তা ইরানের জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য বয়ে আনবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটানোর বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ চুক্তির আলোচনা চলছে। তবে সম্ভাব্য এ চুক্তি নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি ওয়াশিংটন।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে খুব দ্রুতই সমঝোতা হতে যাচ্ছে। কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, বিশ্বের অতি গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে দেওয়ার বিষয়ে তাঁরা কখনোই রাজি হবেন না।

    প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে ধরা হবে। যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব জাহাজ অবাধে চলাচল করত এবং কোনো ধরনের ফি দিতে হতো না।

    বৃহত্তর কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে। প্রণালিটির উত্তর অংশ ইরান এবং দক্ষিণ অংশ ওমানের নিয়ন্ত্রণে। ইরান জানিয়েছে, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, উপসাগরে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য জাহাজগুলোকে ইরানের জলসীমা দিয়েই চলাচল করতে হবেউপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্কবার্তা

    এদিকে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে জানিয়েছে, তার ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে পুরো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানো হবে।

    বিষয়টি সম্পর্কে অবগত পাঁচটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে সামরিক হামলা থেকে বিরত রাখতেই ইরান এমন বার্তা দিচ্ছে।

    একটি উপসাগরীয় দেশের এক সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, ‘ইরানের বার্তা ছিল একেবারে স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবকাঠামোয় হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হানবে তারা।’

    বর্তমানে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে তেহরানের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে।

    হরমুজ প্রণালির কাছে আটকে থাকা কিছু জাহাজ।

    এদিকে লাস ভেগাসে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এখনো কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিতে চান। তিনি বলেন, ‘আমি চুক্তি করতে চাই। কারণ, আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না। কিন্তু একটা সময় হয়তো সেটি করতেই হবে।’

    ইরানের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করার পর ইরানে ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, যুদ্ধে তাদের ১৮ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।এখনো অমীমাংসিত কয়েকটি বিষয়

    রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা ইরানি ও আঞ্চলিক সূত্রগুলো বলেছে, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। একই সঙ্গে তারা ট্রাম্পের এ দাবির সঙ্গে একমত নয় যে শিগগিরই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার চুক্তি হবে।

    আঞ্চলিক একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কোনো না কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়ার বিষয়ে ইতিমধ্যে ছাড় দেওয়া হয়েছে।’

    আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘তবে নিয়ন্ত্রণ বলতে ঠিক কী বোঝানো হবে, সেটি এখনো নির্ধারিত হয়নি। উপসাগরীয় দেশগুলো চাইছে, জাহাজ তল্লাশির দায়িত্ব আঞ্চলিক দেশগুলোর হাতে থাকুক এবং কোনো ফি আদায় করা হলে তা যেন বাধ্যতামূলক না হয়।’

    ইরানের জ্যেষ্ঠ একজন কর্মকর্তা জানান, তেহরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে পণ্যের মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ফি আদায় করতে চায়। ওমান প্রায় ৩ শতাংশ ফি প্রস্তাব করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের ফি আরোপের বিরোধিতা করছে।

    ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকবে। তবে উপসাগর থেকে বের হওয়া জাহাজের ক্ষেত্রে ইরানের ভূমিকা কী হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত বিষয়।

    ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে বলেন, ‘এ ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে বাণিজ্যিক জাহাজ উপসাগরে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় ইরানের জলসীমা ব্যবহার করে।’ তিনি আরও বলেন, ওমানের সঙ্গে আলোচনায় মৌলিক সমঝোতা হয়েছে এবং তা এখন চূড়ান্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে।

    ঘারিবাবাদি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কাছে বার্তা পাঠিয়েছে যে জুনের মাঝামাঝি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতিতে তারা পুরোপুরি ফিরে যেতে প্রস্তুত। ওই সমঝোতায় সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার কথা ছিল।

    ঘারিবাবাদি বলেন, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার জন্য এটিই অন্যতম শর্ত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান তিনি।

    যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মাধ্যমে এ যুদ্ধ শেষ হবে এবং দেশটির নেতৃত্ব কে দেবেন, সেটিও যুক্তরাষ্ট্র ঠিক করবে।

    কিন্তু নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনমতের বিরোধিতার মুখে এখন ট্রাম্পের ওপর সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার চাপ বাড়ছে।

    জুলাই মাসে টানা দুই সপ্তাহের বিমান হামলাসহ যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক অভিযান হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করতে পারেনি। এদিকে মার্কিন সেনা কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, দূরপাল্লার কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসছে।

    গত মঙ্গলবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় পুরো মজুতই ব্যবহার করে ফেলেছে।

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে

    কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’-এর দ্বিতীয় বার্ষিকী। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বুধবার দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন। দিনের শুরুতে হাইকমিশন প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করেছেন বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মো: খালেদ।

    হাইকমিশনের বাংলাদেশ গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, এর তাৎপর্য এবং দেশ গঠনে এর প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছেন। আলোচনা পর্বে স্বাগত বক্তব্য দিয়েছেন কনস্যুলার (রাজনৈতিক) ও দূতালয় প্রধান মিস আয়েশা আক্তার।

    অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। পরে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক কয়েকটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। এদিনের আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন প্রথম সচিব (কনস্যুলার) মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান এবং সোনালী ব্যাংকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. রাশেদুজ্জামান রঞ্জু।