আর্ন্তজাতিক

  • যুক্তরাষ্ট্রে হামের প্রকোপ : টিকা কমাচ্ছেন ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রে হামের প্রকোপ : টিকা কমাচ্ছেন ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্দেশে স্বাক্ষর করেছেন, যেখানে শিশুদের জন্য কম টিকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং মাম্পস, হাম ও রুবেলা (এমএমআর) টিকাগুলো আলাদা করে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

    সোমবার (১০ আগস্ট) ট্রাম্প বলেন, আজ যেসব টিকা দিতে হয়, কয়েক দশক আগে এর মাত্র একটি ক্ষুদ্র অংশ দেওয়া হতো শিশুদের। সেই সময় মানুষ অনেক বেশি সুস্থ ছিল এবং অবশ্যই বর্তমানে যে উচ্চ হারে অটিজম দেখা যাচ্ছে, তা ছিল না।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এমএমআর টিকার নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছেন। তবে একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই টিকা এবং অটিজমের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই।

    এই নির্দেশে আরও সুপারিশ করা হয়েছে যে, শিশুদের জন্য টিকার সংখ্যা আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস বা এএপি-এর বর্তমান সুপারিশকৃত ১৮টি থেকে কমিয়ে ১১টি করা হোক।

    ট্রাম্পের এই আদেশটি একটি নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করে, কোনো বাধ্যতামূলক নির্দেশ হিসেবে নয়। কারণ স্কুলে উপস্থিতির জন্য প্রয়োজনীয় টিকার বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবর্তে রাজ্য পর্যায়ে নির্ধারণ করা হয়।

    ওভাল অফিসে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসন শিশুদের জন্য ‘সবচেয়ে গুরুতর ও বিপজ্জনক রোগের বিরুদ্ধে মাত্র ১১টি মূল টিকাদান’ সুপারিশকে স্বীকৃতি দিচ্ছে।

    এই নির্দেশ অনুযায়ী সব শিশুর জন্য সুপারিশকৃত টিকাগুলো হলোÑ হাম, মাম্পস, রুবেলা, ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, হুপিং কাশি, পোলিও, হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি, নিউমোকক্কাল রোগ, হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস এবং ভ্যারিসেলা বা চিকেন পক্স।

    ট্রাম্প বলেন, আমরা সেগুলো কমাচ্ছি। বিষয়টি শুধু এই নয় যে আপনি কম টিকা, অথবা যেমন বলা হয়, কম ‘সুঁইয়ের খোঁচা’ দিচ্ছেন; বরং সেগুলো চিকিৎসকের কাছে বার বার গিয়েই দেওয়া হচ্ছে।

    প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দেন যে এমএমআর টিকা একসঙ্গে দেওয়া হলে তা ‘বেশ প্রাণঘাতী’ হতে পারে। তিনি এটিকে একটি শিশুর শরীরে এক বোতল সোডা ঢেলে দেওয়ার সঙ্গে তুলনা করেন।

    একজন সাংবাদিক ‘প্রাণঘাতী’ দাবির প্রমাণ জানতে চাইলে ট্রাম্প বললেন, আমি যা শুনেছি, কিছু লোক বলে যে বিষয়টি সেরকমই।

    সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশান (সিডিসি)-এর মতে, ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এমএমআর টিকার কারণে জ্বরজনিত খিঁচুনির খুব সামান্য ঝুঁকি থাকে। যাদের গুরুতর অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার মতো স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে, তাদের টিকা নেওয়ার আগে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে পরামর্শ করার উপদেশ দেওয়া হয়।

    সংস্থাটি জানায়, যারা এমএমআর টিকা নেন, তাদের বেশিরভাগেরই এতে কোনো গুরুতর সমস্যা হয় না এবং এই টিকা গ্রহণ করা হাম, মাম্পস বা রুবেলা হওয়ার চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকার মধ্যে বেশি সময়ের ব্যবধান রাখলে শিশুরা সেই সময়ের মধ্যে রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে, অথবা একাধিকবার টিকা নিতে যাওয়ার প্রয়োজন হওয়ায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট মিস করার আশঙ্কা বাড়ে।

    সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসির মতে, সমন্বিত এমএমআর টিকাকে তিনটি পৃথক টিকায় ভাগ করার কোনো উপকারিতা আছে, এমন কোনো প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

    ট্রাম্পের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের (এইচএইচএস) সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র বলেছেন, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের লক্ষ্য অভিভাবকদের পছন্দের সুযোগ দেওয়া, শিশুদের টিকার প্রাপ্যতা বন্ধ করা নয়। ২০২৫ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কেনেডি টিকা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ পরিবর্তন ও শিথিল করার চেষ্টা করে আসছেন।

    গত সপ্তাহে সিএনএনের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন অনুষ্ঠানে ডানা ব্যাশের সঙ্গে ২০ মিনিটের এক উত্তেজনাপূর্ণ সাক্ষাৎকারে কেনেডি বলেন, তিনি কখনোই এমএমআর টিকার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি।

    ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেছেন, এই নির্দেশ কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের শিশুরা আগের টিকাদান সূচির অধীনে সুপারিশকৃত ৭২টি ডোজের তুলনায় অনেক কম টিকা পাবে।

    তবে টিকা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংখ্যা অতিরঞ্জিত। কারণ এতে এমএমআর-এর মতো সমন্বিত টিকাকে একাধিক ইনজেকশন হিসেবে গণনা করা হয়েছে এবং বার্ষিক ফ্লু ও কোভিড-১৯ টিকাও ধরে নেওয়া হয়েছে।

    ফেডারেল সরকারের এই নতুন সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষমতা নেই। বিদ্যালয়ে উপস্থিতির জন্য যেসব টিকা বাধ্যতামূলক, সেগুলো রাজ্য পর্যায়ে নির্ধারিত হয়।

    আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের প্রেসিডেন্ট ডা. অ্যান্ড্রু রেসিন ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশকে ‘বিপজ্জনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এমন এক সময়ে এটি এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্রে হামের সংক্রমণ ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বজুড়েও হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। টিকা দিতে দেরি করা বা বাদ দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে যখন হামের বিস্তার অব্যাহত রয়েছে এবং শিশুরা স্কুলে ফিরে যাচ্ছে।

    রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডিও সোমবার ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের সমালোচনা করে একে ‘ভুল’ বলে আখ্যা দেন। চিকিৎসক ক্যাসিডি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, এই পরিবর্তনগুলো করার মতো প্রয়োজনীয় দক্ষতা প্রেসিডেন্টের নেই। টিকা অত্যন্ত নিরাপদ। টিকা কার্যকর। টিকা অটিজমের কারণ নয়।

    এই আইনপ্রণেতা অভিভাবকদের আহ্বান জানান, ভুল তথ্যসম্বলিত একটি নির্বাহী আদেশের বদলে টিকার বিষয়ে আপনার সন্তানের শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ শুনুন।

    বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি অটিজমের সঙ্গে শিশুদের টিকার সম্পর্ক রয়েছে এমন অগ্রাহ্য করা ধারণার কারণে অভিভাবকেরা সন্তানদের টিকা না দেন, তাহলে হামের মতো রোগ আবার ফিরে আসার ঝুঁকি তৈরি হবে। একাধিক গবেষণায় এমএমআর টিকা এবং অটিজমের মধ্যে কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

    ডেনমার্কে ২০১৯ সালে একটি উচ্চমানের গবেষণা পরিচালিত হয় ছয় লাখ ৫৭ হাজার ৪৬১ শিশুর ওপর। এতে বলা হয়, তথ্য-উপাত্ত এমএমআর টিকা অটিজম সৃষ্টি করে বা অটিজমের কারণ হতে পারে এমন ধারণা এই গবেষণা সমর্থন করে না।

    নিজেদের ওয়েবসাইটে যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি সুপারিশ করেছে যে শিশুদের এমএমআর সমন্বিত টিকার দুটি ডোজ দেওয়া উচিত। প্রথম ডোজ ১২ থেকে ১৫ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ চার থেকে ছয় বছর বয়সের মধ্যে।

    এএপি’র মতে, যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের কত ঘন ঘন এবং কতগুলো টিকা দেওয়া হবে, তা নির্ভর করে—কোন সময়ে টিকাগুলো তাদের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সবচেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারবে এবং কোন সময়ে তারা নির্দিষ্ট কিছু রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি থাকে।

    এএপি বলছে, সুপারিশকৃত টিকাদান বিলম্বিত করা বা বাদ দেওয়ার কোনো চিকিৎসাগত কারণ নেই।

    ট্রাম্পের নির্দেশে টিকায় ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়ামের বিকল্প খোঁজার এবং সেসব বিকল্প আরও নিরাপদ ও কার্যকর কি না তা পরীক্ষা করার কথাও বলা হয়েছে।

    এটি এমন দাবির পর এসেছে যে টিকায় থাকা অ্যালুমিনিয়াম লবণ অটিজম, অন্যান্য স্নায়বিক বিকাশজনিত অবস্থা বা শিশুদের গুরুতর স্বাস্থ্যসমস্যার কারণ হয়। এএপি এসব দাবিকে ‘দীর্ঘদিনের একটি গুজব’ বলে উল্লেখ করেছে এবং বলেছে, গবেষণায় টিকায় থাকা অতি অল্প পরিমাণ অ্যালুমিনিয়াম লবণের সঙ্গে কোনো উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

    মাটি, পানি ও খাদ্যে স্বাভাবিকভাবেই পাওয়া যায় এমন অল্প পরিমাণ অ্যালুমিনিয়াম লবণ বহু দশক ধরে কিছু টিকায় ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

    এএপি-এর মতে, এর ফলে টিকার কম পরিমাণ এবং কম সংখ্যক ডোজ প্রয়োজন হয়।

  • বন্যাবিধ্বস্ত বিপর্যস্ত মানুষের পাশে ভূমি, নিলেন বিশেষ উদ্যোগ

    বন্যাবিধ্বস্ত বিপর্যস্ত মানুষের পাশে ভূমি, নিলেন বিশেষ উদ্যোগ

    চারদিকে শুধু পানি। যেখানে ছিল রাস্তা, সেখানেও এখন বন্যার স্রোত। রাত গভীর হলে সেই পানির ওপরে নেমে আসে ঘন অন্ধকার। বিদ্যুৎহীন সেই রাতগুলোতে দুর্গত মানুষের ভরসা হয়ে উঠেছে ছোট্ট এক টুকরো আলো। সেই আলো পৌঁছে দিতে এবার বন্যাবিধ্বস্ত আসামের মানুষের কাছে ছুটে গেলেন বলিউড অভিনেত্রী ভূমি পেডনেকর।

    ‘ভারত ডিজাস্টার রিলিফ ফাউন্ডেশন’-এর সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে দুর্গত পরিবারগুলোর হাতে খাবার, প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও সৌরবাতি তুলে দিয়েছেন অভিনেত্রী। শুধু ত্রাণসামগ্রী বিতরণেই থেমে থাকেননি, কথা বলেছেন দুর্গত মানুষের সঙ্গে, কাছ থেকে দেখেছেন তাদের দুর্ভোগ ও কঠিন বাস্তবতা। সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে সেই অভিজ্ঞতার একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন ভূমি।

    রাতের অন্ধকারে গাড়িতে করে বন্যাবিধ্বস্ত এলাকায় ঢুকতে দেখা যায় তাঁকে। চারপাশে তখন শুধু পানি। গুগল ম্যাপে রাস্তা দেখালেও বাস্তবে সেখানে রাস্তার কোনো অস্তিত্ব নেই। পরিস্থিতি দেখে বিস্মিত ভূমিকে বলতে শোনা যায়, ‘গুগল ম্যাপে দেখাচ্ছে এখানে রাস্তা রয়েছে, কিন্তু চারদিকে শুধু পানি।’ এরপর বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছে তাদের হাতে তুলে দেন খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী, পাশাপাশি বিতরণ করেন সৌরবাতি।

    রাত তখন প্রায় ১১টা, অথচ চারপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানিতে ডুবে। ভূমি জানান, গত তিন সপ্তাহ ধরে পানির স্তরে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি, বিদ্যুতের সংকটও কাটেনি। ফলে অন্ধকারে বসবাস করা পরিবারগুলোর জন্য সৌরবাতি হয়ে উঠেছে অত্যন্ত জরুরি। শুধু আলো নয়, এই সৌরবাতি দুর্গত মানুষের নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত বলে মনে করেন ভূমি। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারে সাপসহ বিভিন্ন সরীসৃপের ভয় থাকে। তাই ঘরবাড়ি কিংবা অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকা মানুষদের জন্য সামান্য আলোও হয়ে উঠছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ভূমির কথায়, ‘পরিস্থিতি খুবই কঠিন। এই পরিস্থিতি বুঝতে হলে আপনাদের এখানে সশরীরে আসতে হবে, নিজের চোখে দেখতে হবে।’ ভিডিওটি প্রকাশ করে ভূমি লিখেছেন, স্বেচ্ছাসেবকরা দুর্গত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন।

    এটাই অবশ্য আসামে ভূমির প্রথম ত্রাণকাজ নয়। এর আগেও বন্যাকবলিত এলাকায় হাঁটুজলে নেমে দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে দেখা গেছে তাঁকে।

    তারকার ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা সময় বের করে বিপর্যস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে ভূমি পেডনেকর যেন মনে করিয়ে দিলেন– দুর্যোগের সময় সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই সবচেয়ে বড় মানবিকতা। ক্যামেরার সামনে অভিনয়ের পাশাপাশি বাস্তব জীবনে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ, তাই আলাদা করে নজর কেড়েছে।

  • বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী

    বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)-এর একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান।

    অ্যামচেম বাংলাদেশের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি ও মাস্টারকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল আট সদস্যের এই প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন।

    অ্যামচেম প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, প্রায় দুই মাস আগে সংগঠনটির নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নতুন কমিটি বাংলাদেশে আরও মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ করছে।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত।

    সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

  • শেখ হাসিনার ছায়া পেরিয়ে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক কি নতুন পথে?

    শেখ হাসিনার ছায়া পেরিয়ে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক কি নতুন পথে?

    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে আবারও অস্বস্তির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক। গত সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে হাসিনার দেওয়া বক্তব্য দুদেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

    শেখ হাসিনা, তার ছেলে এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা সংবাদ সম্মেলনে ২০২৪ সালের আগস্টে হওয়া গণঅভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। উল্লেখ্য যে, ওই গণঅভ্যুত্থানেই হাসিনা ও আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হয়।

    তারা দাবি করেন, একটি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক গোষ্ঠী নিজেদের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ইসলামপন্থি উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসীরা অবাধে কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ পাচ্ছে।

    প্রত্যাশিতভাবেই, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের এসব বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের নয়াদিল্লিতে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ভারত সরকারেরও সমালোচনা করেছে ঢাকা।

    বাংলাদেশ সরকার ভারতকে শেখ হাসিনাকে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোরও আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। তার প্রত্যর্পণের দাবি সোমবার ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকেও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

    এদিকে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসার ইঙ্গিত দেওয়ার পর নয়াদিল্লির জন্য বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। ভারতের নীতিতে এখন একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। একদিকে পুরোনো মিত্রকে পরিত্যাগ করা যাবে না, অন্যদিকে শেখ হাসিনাকেও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর কোনো ধরনের ভেটো দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

    এই ভারসাম্য বজায় রাখা ভারতের জন্য সহজ হবে না। তবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এমন স্পর্শকাতর সময়ে আরও সতর্ক ও কৌশলী কূটনীতি প্রয়োজন।

    শেখ হাসিনার সবচেয়ে কট্টর সমালোচকদের অনেকেই আবার ভারতবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত। তাদের অভিযোগ, শেখ হাসিনার শাসনামলে সংঘটিত নানা অনিয়ম ও দমন-পীড়নের পেছনে ভারত এবং শেখ হাসিনার প্রতি ভারতের দীর্ঘদিনের সমর্থন দায়ী।

    তাই শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবিতে যারা সোচ্চার, তাদের অনেকেই তাকে ভারতের ঘনিষ্ঠ বা ভারতের ‘প্রক্সি’ হিসেবে দেখেন—এ বিষয়টি নয়াদিল্লি ভালোভাবেই জানে। ফলে ভারত তাদের সঙ্গে আপস করতে পারে না। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তাদের সহজেই ভারতের অংশীদারে পরিণত করা সম্ভব হবে—এমন কোনো ধারণাও ভারতের থাকা উচিত নয়।

    তবে একই সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কও কোনোভাবেই নষ্ট করার সুযোগ নেই।

    আশার বিষয় হলো, গত কয়েক মাসের ঘটনাপ্রবাহ দেখিয়েছে যে সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি পথ রয়েছে। তারেক রহমানের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুদেশের সম্পর্ককে নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। এরপর উভয় দেশের সরকারই সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে।

    তবে এখন সেই অগ্রগতি অনেকটাই নির্ভর করছে ঢাকা ও নয়াদিল্লি শেখ হাসিনার দীর্ঘ ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও ভবিষ্যতমুখী করতে পারে কি না, তার ওপর।

    দুদেশ যদি এভাবে এগোতে পারে, তাহলে সীমান্তের দুই পাশের উত্তেজনাও কমতে পারে। এই মুহূর্তে কূটনৈতিক জটিলতা এড়াতে স্পষ্ট অবস্থান, সংযম এবং শান্তিপূর্ণ আলোচনাই সবচেয়ে জরুরি।

  • ১৭০০ ফিলিস্তিনির লাশ আটকে রেখেছে ইসরাইল

    ১৭০০ ফিলিস্তিনির লাশ আটকে রেখেছে ইসরাইল

    ভবিষ্যতে বন্দিবিনিময়ের সম্ভাবনা বিবেচনায় প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনির লাশ ইসরাইল ধরে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইসরাইলের দৈনিক সংবাদপত্র ‘হারেৎস’ মঙ্গলবার দুই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি ইসরাইলের নিরাপত্তাকাঠামোর অভ্যন্তরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনি ভবিষ্যতে কোনো ইসরাইলি নাগরিক আটক বা নিখোঁজ হলে সম্ভাব্য বন্দিবিনিময়ের জন্য ফিলিস্তিনিদের মরদেহ আটকে রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীও এই অবস্থানকে সমর্থন করছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি ফিলিস্তিনি অধিকার সংগঠন জানিয়েছিল, ইসরাইল গাজায় নিহত প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ সেদে তেইমান সামরিক স্থাপনায় আটকে রেখেছে।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে অন্তত ১ হাজার ২৫৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে।

    ফিলিস্তিনিদের মরদেহ আটকে রাখার বিষয়টি নিহতদের পরিবারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে গভীর মানবিক ও মানসিক সংকটের কারণ হয়ে আছে। স্বজনদের মরদেহ ফেরত দেওয়া এবং যথাযথ ধর্মীয় ও পারিবারিক রীতিতে দাফনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে বিভিন্ন ফিলিস্তিনি অধিকার সংগঠন।

  • কনটেইনারে লুকিয়ে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প!

    কনটেইনারে লুকিয়ে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প!

    গত ৮ জুলাই তুরস্কের আংকারায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠেন। কিন্তু পরে তাকে ক্যাটারিং কনটেইনারের ভেতরে করে ছোট একটি সি-৩২এ উড়োজাহাজে তুলে নেওয়া হয়।

    ওই ছোট উড়োজাহাজটি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে তুরস্ক থেকে তাকে নিয়ে ব্রিটেনে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে এসব তথ্য জানান।

    কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে কাতার থেকে পাওয়া নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানে করে আংকারায় গিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু প্রাণনাশের হুমকির কারণে ছোট একটি সামরিক পরিবহন বিমানে করে তুরস্ক ছাড়েন তিনি।

    মূলত ইরানি সমর্থক গোষ্ঠীর হুমকির কারণেই শেষ মুহূর্তে তাকে উড়োজাহাজ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। আংকারা থেকে ফেরা সেই পুরোনো উড়োজাহাজে থাকা সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

    ওয়াশিংটন পোস্টের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাম্প উড়োজাহাজে ওঠার ঠিক কয়েক মিনিট পর পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে একটি ক্যাটারিং ট্রাক নামানো হচ্ছে। ট্রাকটি সেখান থেকে দূরে থাকা ছোট সি-৩২এ উড়োজাহাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

    উড়োজাহাজ দুটি যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাম্প বড় উড়োজাহাজ থেকে নেমে নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানের দিকে যাচ্ছেন। তবে তিনি কীভাবে পুনরায় বড় উড়োজাহাজে ফিরে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানের মতো এই নতুন উড়োজাহাজে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা, এমনকি ‘ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা’ও নেই।

    তবে হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর স্টিভেন চুং নতুন উড়োজাহাজের নিরাপত্তার সপক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান একটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তির উড়োজাহাজ। এটি উচ্চমানের নিরাপত্তাব্যবস্থায় সজ্জিত, যা প্রেসিডেন্ট ও তার কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

  • ইরানকে চাপে ফেলতে নতুন কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের

    ইরানকে চাপে ফেলতে নতুন কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের

    ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ও কূটনৈতিক উদ্যোগে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার পর ফের কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশলে ফিরছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর পরিবর্তে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা এবং নৌ অবরোধের মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতিকে চাপে রাখার পথ বেছে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

    ইরানের অর্থনীতিতে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কতটা গভীর হয়েছে—এমন পরিসংখ্যান ও তথ্য ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তাদের ধারণা, নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার মাধ্যমে।

    তেহরানকে পরমাণু কর্মসূচি ও অন্যান্য ইস্যুতে ছাড় দিতে বাধ্য করা সম্ভব না হওয়ায় সামরিক হামলার পথ বেছে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তাতেও প্রত্যাশিত রাজনৈতিক ফল না আসায় কূটনৈতিক আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতার চেষ্টা হলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্য কাটেনি।

    সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। নতুন করে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে আমি এখনই আগ্রহী নই।’ ইরানও জানিয়ে দিয়েছে, শুধু অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মার্কিন কৌশলকে ব্যর্থতার লক্ষণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

    হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ আরও জটিল হয়েছে। জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই পথটির ওপর দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

    প্রণালিটি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি করেছে ইরান। ট্রাম্প এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে এবং তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

    অন্যদিকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতার ব্যয়, জ্বালানির দাম এবং মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের ওপর চাপ—সবকিছু মিলিয়ে ওয়াশিংটনের জন্য পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারে ঘাটতি তৈরি হওয়ার বিষয়েও সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান অর্থনৈতিক চাপের কৌশল মূলত সামরিক সংঘাতের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ ইরানকে আলোচনায় বসাতে না পারলে ওয়াশিংটনের সামনে আবার সামরিক পদক্ষেপের প্রশ্নটি ফিরে আসতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।

  • ‘র’ প্রধান পরাগ জৈন ঢাকায়

    ‘র’ প্রধান পরাগ জৈন ঢাকায়

    দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে সরকারি সফরে বাংলাদেশে এসেছেন ভারতের বহিঃগোয়েন্দা গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈন। এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে গতকাল দুপুরে তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

    একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে এই সফরে চার সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পরাগ জৈন। তবে এই সফরের বিষয়ে কোনো দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

    পরাগ জৈন ‘র’ বা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজির স্পেশাল সেক্রেটারির দায়িত্বে আছেন। ঢাকা সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন অশ্বীন মুকুন্দ কোটনিস, রাহুল নেগি এবং শৈবাল রায় চৌধুরী।

    বাংলাদেশে আসার আগে পরাগ জৈন চীন সফর করেছেন বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।

  • আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের জন্মদিন আজ

    আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের জন্মদিন আজ

    বাবা-মায়ের আদরের ‘লাল মিয়া’ই এস এম সুলতান

    নড়াইল প্রতিনিধি

    আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মদিন আজ। ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন এসএম সুলতান। বাবা মেছের আলী পেশায় ছিলেন রাজমিস্ত্রী। দরিদ্র সংসারে জীবনযুদ্ধ করে বড় হয়েছেন সুলতান। বাবা-মা তাকে আদর করে ডাকতেন ‘লাল মিয়া’ নামে।

    অসুস্থ অবস্থায় ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ‘মাটি ও মানুষের চিত্রশিল্পী’ এসএম সুলতানকে জন্মভূমি নড়াইল শহরের কুড়িগ্রাম এলাকায় সংগ্রহশালা চত্বরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

    চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে এস এম সুলতান ১৯৮২ সালে পেয়েছেন একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক, ১৯৮৪ সালে রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননাসহ ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ সম্মাননাসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

    চিত্রা নদীর পাড়ের ‘লাল মিয়া’র রঙ তুলিতে দারিদ্র-ক্লিষ্ট ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো ভিন্ন রকম মর্যাদা পেয়েছেন। শ্রমজীবী মানুষগুলোকে এঁকেছেন পেশিবহুল করে। শক্তিশালী ও দৃঢ় মনোবলের অধিকারী হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছেন তারা।

    আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান ছবি আঁকার পাশাপাশি বাঁশি বাজাতে পটু ছিলেন। পুষতেন বিষধর সাপ, বেজি, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণি।

    বরেণ্য এই শিল্পীর মৃত্যুর পর তার বাসভবন ঘিরে গড়ে উঠেছে সুলতান স্মৃতিসংগ্রহশালা, শিশুস্বর্গ, আর্ট কলেজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড। সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার হরেক রকম ফুলসহ প্রকৃতিঘেরা পরিবেশ সুলতানপ্রেমীদের মুগ্ধ করে সব সময়। এছাড়া শান্ত-স্বচ্ছ প্রকৃতিঘেরা চিত্রা নদীর পাড়ে সুলতানের ভ্রাম্যমাণ শিশুস্বর্গ তথা দ্বিতলা নৌকাটি দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।

    এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জি জানান, বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মদিন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনে নড়াইলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-কোরআন খতম, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন উৎসব, সুলতানের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি, আর্টক্যাম্প ও শিশু-কিশোরদের চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন, আলোচনা সভা এবং চিত্রশিল্পী অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তারকে ‘এস এম সুলতান সম্মাননা পদক’ প্রদানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগ অনুষ্ঠানের এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

    এদিকে, সুলতান সংগ্রহশালার উন্নয়নসহ এলাকাটি পর্যটনবান্ধব করতে বিভিন্ন কাজের প্রস্তাবনা জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার এই কর্মকর্তা।

  • রিজার্ভ চুরি: ৯৭ বার পেছাল মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ

    রিজার্ভ চুরি: ৯৭ বার পেছাল মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন ধার্য করেন। এই নিয়ে মোট ৯৭ বার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছানো হলো।

    আজ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত নতুন তারিখ ধার্য করেন। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

    ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করা হয়। পরে ওই টাকা ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। দেশের অভ্যন্তরে কোনো একটি চক্রের সহায়তায় হ্যাকার গ্রুপ রিজার্ভের অর্থ পাচার করে বলে ধারণা করেন সংশ্লিষ্টরা।

    ওই ঘটনায় একই বছরের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা অজ্ঞাতানামা ব্যক্তিদের আসামি করে মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ (সংশোধনী ২০১৫)-এর ৪-সহ তথ্য ও প্রযুক্তি আইন-২০০৬-এর ৫৪ ও দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় একটি মামলা করেন। কিন্তু নয় বছরেও রিজার্ভ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।