আর্ন্তজাতিক

  • রোবট-ডুব দেবে, সাঁতার কাটবে আর উড়বে আকাশে

    রোবট-ডুব দেবে, সাঁতার কাটবে আর উড়বে আকাশে

    যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) গবেষণাগারে ৩০০ ডলার মূল্যের ডানা ঝাপটানো এমন একটি রোবট তৈরি হয়েছে, যা একই সঙ্গে আকাশে উড়তে ও পানির নিচে সাঁতার কাটতে পারে।

    হালকা ওজনের এ রোবট ভবিষ্যতে সমুদ্রের ওপর নজরদারি এবং চূড়ান্তভাবে সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় ব্যবহার করা যাবে বলে আশা করছেন এটির উদ্ভাবক।

    আকাশে ও পানিতে—উভয় মাধ্যমে চলতে সক্ষম এ রোবট তৈরিতে গবেষকেরা পেট্রেলস, পাফিনস ও অন্যান্য ডুবুরি পাখির শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা করেছেন। এসব পাখি তাদের ডানা ব্যবহার করে বাতাস ও পানি—দুই মাধ্যমেই নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যায়।

    গবেষণায় এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে যাওয়ার সময় ওই পাখিদের শরীরের জটিল গতিশীলতা কীভাবে কাজ করে, তা–ও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে গবেষক দলটি।

    এ গবেষণার প্রধান লেখক এবং এমআইটির যন্ত্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাফায়েল জুফেরি বলেন, ডুবুরি পাখিদের ডানা এবং তারা কীভাবে একই সঙ্গে ওড়ে ও সাঁতার কাটে, তা নিয়ে আগে গবেষণা হয়েছে। তবে কেউ কখনো এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ চলমান রোবটে রূপান্তর করার উপায় খুঁজে পাননি।

    রাফায়েল জুফেরি জানান, তাঁদের দল ডুবুরি পাখিদের নিয়ে করা আগের সব গবেষণাপত্র পর্যালোচনা করেছে। বিভিন্ন পাখির ডানা বাতাস ও পানিতে মিনিটে কতবার ঝাপটায় এবং ডানার বিস্তারের সঙ্গে এর কী সম্পর্ক, তা তারা একটি মানচিত্রে রূপ দেয়। পাখিদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, আকার যত বড় হয়, ডানা ঝাপটানোর গতি তত কম হয়।

    এ ধারণার ওপর ভিত্তি করেই গবেষকেরা ব্যাটারিচালিত মোটরযুক্ত ২৫০ গ্রাম (৯ আউন্স) ওজনের একটি ‘ফ্ল্যাপিং এরিয়াল-অ্যাকুয়াটিক ভেহিকেল’ (এফএএভি) বা ডানা ঝাপটানো আকাশ-জলযান তৈরি করেন। রোবটটির নাইলনের তৈরি ডানা এবং লেজে পানিপ্রতিরোধী ন্যানোকণা বা ন্যানোপার্টিকেলের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে।

    বাহ্যিকভাবে যেমনই মনে হোক না কেন, এফএএভি রোবটটি হুবহু প্রকৃতির অনুকরণে তৈরি নয় বলে জোর দিয়েছেন রাফায়েল জুফেরি। এর পেছনে কারণ হলো বাতাস ও পানির ঘনত্বের বিশাল পার্থক্য। তাপমাত্রা, চাপ ও আর্দ্রতার ওপর ভিত্তি করে পানি বাতাসের চেয়ে কয়েক শ গুণ বেশি ঘন হতে পারে।

    পানিতে ডুব দেওয়া পাখির ডানা পানির নিচে আংশিকভাবে ভাঁজ হয়ে যায়। এতে ডানা একবার ঝাপটানোর সময় কতটা ওপরে ও নিচে ওঠানামা করে, সেই বিস্তার কমে। সেই সঙ্গে পানির বাধাও কমে এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি তৈরি হয়।

    রোবটের ক্ষেত্রে একই কাজ করতে গেলে আরও অন্তত চারটি অতিরিক্ত জোড়া বা জয়েন্টের প্রয়োজন হতো। ফলে এর প্রকৌশল নকশা আরও জটিল এবং ওজন অনেক বেড়ে যেত। এ জটিলতা এড়াতে গবেষক দলটি এমন এক ধরনের ডানা তৈরি করেছে, যা পাখির ডানার মতো সংকুচিত হয় না। তবে এর নমনীয়তা ডুবুরি পাখির চেয়ে অনেক বেশি। এ নমনীয়তাই ডানা ঝাপটানোর বিস্তার কমিয়ে আনে।

    জুফেরি বলেন, রোবটটি নিজে বুঝতে পারে না যে সে পানিতে আছে, নাকি বাতাসে। এটি এমনভাবে প্রোগ্রাম করা, যাতে চারপাশের মাধ্যম যা–ই হোক, এটি প্রতি সেকেন্ডে নির্দিষ্ট গতিতে ডানা ঝাপটানোর চেষ্টা চালিয়ে যায়।

    গতি ও সক্ষমতা পরীক্ষা

    এ রোবট বাতাসে প্রতি সেকেন্ডে ৬ মিটারের কিছু বেশি (ঘণ্টায় ১৩ দশমিক ৪ মাইল) গতিতে উড়তে পারে। অন্যদিকে পানির নিচে এর সাঁতার কাটার গতি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১ মিটার (ঘণ্টায় ২ দশমিক ২ মাইল)।

    তাত্ত্বিকভাবে, একবার ব্যাটারি চার্জ করলে এটি ৬ কিলোমিটার (৩ দশমিক ৭ মাইল) উড়তে বা ২ কিলোমিটার (১ দশমিক ২ মাইল) সাঁতার কাটতে সক্ষম। তবে এই দীর্ঘ দূরত্বের বিষয়টি এখনো পরীক্ষা করে দেখা হয়নি।

    ম্যাসাচুসেটসের একটি পানির ট্যাংক এবং পরে সুইজারল্যান্ডের লেক জেনেভায় টানা এক বছর ধরে এ রোবটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছে এমআইটির গবেষণাগার। এ দীর্ঘ পরীক্ষার বড় অংশজুড়েই ছিল রোবটটি কত ডিগ্রি কোণে পানিতে ডুব দেবে এবং পানি থেকে আকাশে ডানা মেলবে, তার নিখুঁত পরিমাপ করা।

    ২০১৯ সালে ভূমধ্যসাগরের পানিতে একটি ড্রোন ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ডের (ডব্লিউডব্লিউএফ) এক বিজ্ঞানী

    গবেষকেরা দেখেছেন, পানিতে প্রবেশের জন্য ৭০ ডিগ্রি কোণ সবচেয়ে আদর্শ। জুফেরি জানান, বর্তমান সংস্করণের রোবটটি মৃদু তরঙ্গ ও হালকা বাতাসে কাজ করতে পারলেও প্রতিকূল বা উত্তাল আবহাওয়ায় কার্যকর নয়।

    যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ওশানোগ্রাফি সেন্টারের প্রকৌশলবিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক মাটেন ফারলং নতুন এ উদ্ভাবন সম্পর্কে বলেন, ‘প্রকৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সত্যিই একটি চমৎকার নকশা।’

    একই সঙ্গে ফারলংয়ের মূল্যায়ন, ‘বাতাস ও পানি—উভয় মাধ্যমে কার্যকরভাবে চলতে সক্ষম একটি যান তৈরি করা বেশ বড় ধরনের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। এ দুই মাধ্যমের সফল সমন্বয় নিশ্চিত করা নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য প্রকৌশলগত সাফল্য।’

    ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে ব্যবহারের পরিকল্পনা

    সমুদ্র বা স্থলভাগ—যেকোনো স্থান থেকেই এ রোবট উৎক্ষেপণ করা সম্ভব বলে ধারণা করছেন রাফায়েল জুফেরি। তিনি জানান, নির্দিষ্ট কোনো রুটে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওড়ার জন্য রোবটটিকে আগে থেকেই প্রোগ্রাম করে দেওয়া যাবে। এরপর সেটি উড়াল দিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে পানির নিচে ডুব দেবে এবং প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করবে।

    জুফেরি আরও বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ বা বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে এ রোবটগুলো ব্যবহার করার ধারণাটি আমার বেশ পছন্দ।’ উদাহরণ হিসেবে রোবটটির সাহায্যে ক্ষতিকর শৈবাল আক্রান্ত এলাকা, আগ্নেয়গিরির হ্রদ বা হিমশৈলের কাছাকাছি এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহের মতো কাজের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

  • কূটনীতির নামে ট্রাম্প নাটক মঞ্চস্থ করছেন: ইরান

    কূটনীতির নামে ট্রাম্প নাটক মঞ্চস্থ করছেন: ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘কূটনীতির নামে বারবার নাটক মঞ্চস্থ করছেন’ বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও দেশটির প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ইরানে হামলার নির্দেশ দিয়ে সেটি স্থগিত করেছেন—বারবার ট্রাম্পের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গালিবাফ এ অভিযোগ করেন।

    গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই অভিযোগ করেন ইরানের স্পিকার। কয়েক দিন আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির মূল কাঠামো তৈরি হয়ে গেছে। সে কারণেই তিনি ইরানের ওপর সর্বশেষ হামলার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন।

    তবে গালিবাফ এ দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার সামরিক হুমকি থেকে সরে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে অবস্থান বদলাচ্ছে। চাপ সৃষ্টি করে ইরানকে নতি স্বীকার করানোর এই কৌশল ব্যর্থ হয়েছে।

    গালিবাফ লেখেন, ‘বড় ধরনের হামলা আসছে… থাক, দরকার নেই, তারা আলোচনা করতে চায়—এই একই নাটক বারবার মঞ্চস্থ হচ্ছে।’

    গালিবাফ আরও বলেন, ‘হুমকি, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা আর ভুয়া তথ্যকে চাপ সৃষ্টির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা একটি ব্যর্থ কৌশল।’

    ইরানের স্পিকার আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবতা মেনে নিক এবং যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করুক।

    গত শনিবার ট্রাম্প ইরানে বড় ধরনের একটি সামরিক হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেন। তাঁর দাবি, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ হামলা না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে। কারণ, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা খুব ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে।

    ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সম্ভাব্য চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান ঘটবে।

    এদিকে হরমুজ প্রণালি আবার চালু করতে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। তেহরানের দাবি, উভয় পক্ষ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে এবং একটি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে।

    বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে অবাধে জাহাজ চলাচল করত। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান কার্যত প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। এখন তেহরান বলছে, প্রণালির যেসব অংশ ইরান ও ওমানের জলসীমার মধ্যে পড়েছে, সেগুলোর ওপর তাদের সার্বভৌম অধিকার রয়েছে।

    হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়েছে।

    গতকাল হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগির শেষ হবে বলে তিনি মনে করেন। যুদ্ধ শেষ হলে জ্বালানির দামও কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, খুব শিগগির যুদ্ধ শেষ হবে। তারা (ইরান) আর বেশি দিন এভাবে টিকে থাকতে পারবে বলে মনে হয় না।’ তিনি আরও বলেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় তিনি নিজেও যুক্ত আছেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমার মনে হয়, সবকিছু ভালোভাবেই এগোচ্ছে।’

    তবে ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন যুদ্ধ চালানোর জন্য তাঁদের প্রস্তুতি রয়েছে। ট্রাম্প কয়েক মাস ধরে যুদ্ধ শেষের কাছাকাছি দাবি করলেও ইরানের অবস্থান ভিন্ন।

  • থাইল্যান্ডে স্কুলে বন্দুক হামলা নিহত ৮

    থাইল্যান্ডে স্কুলে বন্দুক হামলা নিহত ৮

    থাইল্যান্ডের একটি স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে সন্দেহভাজন কিশোর হামলাকারী এবং স্কুলটির পাঁচ শিক্ষকও রয়েছেন।

    রাজধানী ব্যাংককের একেবারে পাশেই অবস্থিত ননতাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই জেলার একটি স্কুলে আজ গুলির ঘটনা ঘটে।

    রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ হামলাকারীকে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে শনাক্ত করেছে।

    স্থানীয় সময় সকাল ১০টার কিছু পরে ডেবসিরিন স্কুলে গুলির ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ বলছে, সন্দেহভাজন হামলাকারী ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর যে স্কুলে যাওয়ার আগে নিজের বাড়িতে তার দাদা-দাদিকে হত্যা করে।

    পুলিশ জানিয়েছে, সে যে নয় মিলিমিটার পিস্তল ব্যবহার করেছে সেটি তার দাদার ছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার কাছে আরো কমপক্ষে ৩৪ রাউন্ড গুলি পাওয়া গেছে।

    সন্দেহভাজন হামলাকারীর মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, তার উদ্দেশ্য কী ছিল তা তারা এখনো জানে না।

    এই ঘটনায় ৩০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নয়জনের অবস্থা ‘গুরুতর’ বলে জানিয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল।

    এ ঘটনার পর থাইল্যান্ডের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার আহ্বান নতুন করে জোরালো হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে অস্ত্রের মালিকানার হার অন্যতম উচ্চ।

  • খুলে ফেলছে মসজিদের মাইক

    খুলে ফেলছে মসজিদের মাইক

    শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের নামে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মসজিদগুলো থেকে মাইক খুলে ফেলার প্রতিবাদে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন স্থানীয় ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ার (এনসিপিআই) তিনজন বিধানসভা মুসলিম সদস্য।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিল্লিতে অমিত শাহর সাথে তাদের এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তারা দাবি করেন, শব্দদূষণ রোধে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা যেন সব ধর্মের ক্ষেত্রেই সমানভাবে কার্যকর হয়, শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে এর জন্য টার্গেট করা উচিৎ নয়

    সাক্ষাতে যাওয়া তিন সংখ্যালঘু এমপি হলেন- আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান। স্বল্প সময়ের বৈঠকে তারা রাজ্যে মসজিদ থেকে মাইক খুলে ফেলার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে উত্থাপন করেন।

    বৈঠক শেষে আবু তাহের স্পষ্ট জানান, সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন তখনই তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে, যখন তা সব ধর্মের আচার-অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। দুর্গাপূজা বা কালীপূজার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম বলবৎ হলে তাদের কোনো আপত্তি নেই।

    তিনি বলেন, কিন্তু বেছে বেছে শুধুমাত্র মুসলিমদের টার্গেট করে মসজিদ থেকে মাইক নামানোর ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং বেদনাদায়ক।

    সূত্রের খবর, সাক্ষাৎকালে অভিযোগ শোনার পর অমিত শাহ এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, রাজ্য শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের পুরনো নির্দেশিকা এবং সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো উপাসনালয়ে উচ্চস্বরে লাউডস্পিকার বাজানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই নির্দেশিকা মেনেই সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে একাধিক মসজিদ থেকে মাইক খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

    তবে পুলিশের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই ‘স্বেচ্ছাচারী’ আচরণের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে আইএসএফ এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিও এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

  • বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের প্রতিরক্ষা জোটের প্রধান কমান্ডার নিয়োগ

    বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের প্রতিরক্ষা জোটের প্রধান কমান্ডার নিয়োগ

    বাংলাদেশেসহ ১৪ দেশ নিয়ে গঠিত একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের কমান্ডার নিয়োগ দিয়েছে সৌদি আরব। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরিকে এর কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    বাব আল-মানদেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌচলাচলের নিরাপত্তা রক্ষায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আল-শেহরি যৌথ নৌ প্রতিরক্ষার তত্ত্বাবধান, সদস্য রাষ্ট্র ও অন্যান্য সামুদ্রিক জোটের সাথে সমন্বয় ও জোটের সনদের অধীনে বিভিন্ন মিশন পরিচালনা করবেন।

    বাংলাদেশ, বাহরাইন, কমোরোস, জিবুতি, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সুদান, তুরস্ক ও ইয়েমেন ৩০ জুলাই এই জোট গঠনের ঘোষণা দেয়। সৌদি বিবৃতিতে বলা হয়, আরো অনেক দেশ জোটে যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে; কিছু দেশ ইতোমধ্যে যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে এবং অন্যরা প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিক যোগদানের আগে ঘোষণাপত্র ও সনদে স্বাক্ষর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    সৌদি এই মন্ত্রণালয় জোটটিকে ‘উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক জোট’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, যেসব দেশ এর লক্ষ্য ও নীতিমালার সঙ্গে একমত, তাদের সবাইকে স্বাগত জানানো হবে। নতুন সদস্যপদের আবেদনও নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে।

    আগামী ১২ ও ১৩ আগস্ট জোটের একটি পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে এবং আরও দেশকে এতে যুক্ত করার পথ তৈরি করা হবে।

    জোট গঠনকারী ১৪ দেশ জানিয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ এবং জ্বালানি সরবরাহের রুট সুরক্ষিত রাখাই এই জোটের মূল লক্ষ্য। ভারত মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরের মধ্যে সংযোগকারী এই সামুদ্রিক করিডর বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • সামাজিকমাধ্যমে ‘কারফিউ’ মানবেনা কিশোর-কিশোরীরা

    সামাজিকমাধ্যমে ‘কারফিউ’ মানবেনা কিশোর-কিশোরীরা

    যুক্তরাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারে রাতের নিষেধাজ্ঞা মানতে চান না বেশিরভাগ কিশোর-কিশোরী। শুক্রবার প্রকাশিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    যুক্তরাজ্য সরকার জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী কিশোর কিশোরীদের জন্য রাতের বেলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে ‘কারফিউ’ চালুর পরিকল্পনা প্রকাশ করে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের সময় এ পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়।

    প্রস্তাবিত এই কারফিউ ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। গত জুনে স্টারমার ঘোষিত ওই নিষেধাজ্ঞায় স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকসহ জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে ডিফল্ট সেটিংস হিসেবে রাতের সময়সীমা চালু থাকবে। এর ফলে মধ্যরাত থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত তারা এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারবে না। তবে ব্যবহারকারীরা চাইলে এই সুবিধা বন্ধ করতে পারবেন।

    পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সেন্সাসওয়াইডের করা জরিপে দেখা গেছে, ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের ৮৫ শতাংশ এই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করার কথা জানিয়েছে।

    জরিপে অংশ নেওয়া কিশোর-কিশোরীদের প্রায় অর্ধেক জানিয়েছে, বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলার জন্য তারা এই ফিচারটি বন্ধ করে দেবে। অন্যদিকে ৩৭ শতাংশ জানিয়েছে, অনলাইন কনটেন্ট দেখার জন্য তারা কারফিউ থেকে বেরিয়ে আসবে।

    জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে অনলাইন রেসপনসিবিলিটি নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রক বিভাগের প্রধান লিয়ান প্রোক্টর বলেন, শুধু কারফিউ চালু করলেই অনলাইনের ক্ষতিকর প্রভাব ঠেকানো সম্ভব হবে— এমন সম্ভাবনা কম। অনলাইন ক্ষতি প্রতিরোধের জন্য শুধু কারফিউ যথেষ্ট হবে না।

    জরিপে অংশ নেওয়া ১ হাজার কিশোরের ২ শতাংশ বলেছে, তারা স্কুল চলাকালীন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বা স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও দেখা থেকে বিরত থাকে।

    অন্যদিকে, ১৮ শতাংশের বেশি কিশোর- কিশোরী জানিয়েছে, তারা রাত ১টা বা তার পর পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট দেখে।

    শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন বলেন, প্রস্তাবিত কারফিউ ব্যবস্থার ডিফল্ট সেটিংস যদি বিপুলসংখ্যক কিশোর বন্ধ করে দেয়, তাহলে এর ঐচ্ছিক বা স্বেচ্ছামূলক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

    যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, তাদের এই পরিকল্পনা অস্ট্রেলিয়ার ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা থেকে অনুপ্রাণিত। অস্ট্রেলিয়ায় গত ডিসেম্বরে ওই নিষেধাজ্ঞা চালু হয়, তবে সেখানে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের জন্য কোনো কারফিউ নেই।

    অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা চালু করে। তবে এখন পর্যন্ত এর ফলাফল মিশ্র বলে বিবেচিত হচ্ছে।

  • ইন্দোনেশিয়ায় আতঙ্ক ছড়ানো বন্য বানর আটক, আহত ১৭

    ইন্দোনেশিয়ায় আতঙ্ক ছড়ানো বন্য বানর আটক, আহত ১৭

    ইন্দোনেশিয়ার রিয়াউ প্রদেশে কয়েক সপ্তাহ ধরে হামলা চালিয়ে অন্তত ১৭ জনকে আহত করার অভিযোগে একটি বন্য বানর আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

    বৃহস্পতিবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন্দ্রাগিরি হিলির রিজেন্সির তেম্বিলাহান শহরে পুলিশ, সামরিক বাহিনী, দমকলকর্মী ও বন্যপ্রাণী কর্মকর্তাদের যৌথ অভিযানে বানরটিকে আটক করা হয়। এ জন্য ওই এলাকায় ফাঁদ পাতা হয়েছিল।

    ইন্দ্রাগিরি হিলির পুলিশ প্রধান দনি একো লিস্তিয়ান্তো জানান, রিয়াউয়ের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংস্থা (বিকেএসডে) বানরটির সম্ভাব্য লুকানোর জায়গায় তিনটি ফাঁদ বসায়। এর মধ্যে একটি ফাঁদে সেটি ধরা পড়ে।

    কর্তৃপক্ষের ধারণা, ২৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক হামলার জন্য আটক করা বানরটিই দায়ী। তেম্বিলাহান এলাকায় লম্বা লেজের ম্যাকাক-এর একটি দল দেখা দেওয়ার পর এসব হামলা শুরু হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন—শিশু ও বয়স্ক লোক—বানরের হামলার শিকার হয়েছেন। বড় আকৃতির একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ বানরকেই হামলাগুলোর জন্য সন্দেহ করা হচ্ছিল। সড়কে, বাড়ির বাইরে এমনকি কয়েকটি বাড়ির ভেতরেও এসব হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের কয়েকজনকে সেলাই দিতে হয়েছে।

    নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তেম্বিলাহান জেলার সব স্কুলে তিন দিনের জন্য সরাসরি ক্লাস বন্ধ করে বুধবার থেকে অনলাইনভিত্তিক পাঠদান চালুর নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

    জেপিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, আটক বানরটির আকার, আক্রমণাত্মক আচরণ এবং মুখের একটি বিশেষ দাগ—ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে মিলে গেছে। ফলে এটিকেই হামলাকারী বানর বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

  • তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই

    তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই

    তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি অনুসারে, এই প্রতিরক্ষা চুক্তির লক্ষ্য হলো একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে এই অঞ্চলে ও এর বাইরে শান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার প্রসার ঘটানো।

    এর আগে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল যে, সৌদি আরবে তিন দেশের নেতাদের দ্বারা এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরব পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। চলতি বছরের এপ্রিলে ওই চুক্তির আওতায় পাকিস্তান সৌদি আরবে যুদ্ধবিমান ও সামরিক সদস্য মোতায়েন করে। দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান সৌদি আরবকে সামরিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে, আর অর্থনৈতিক সংকটে সৌদি আরবও বারবার পাকিস্তানকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে।

  • সাফে আসছে আরও পাঁচ প্রবাসী ফুটবলার

    সাফে আসছে আরও পাঁচ প্রবাসী ফুটবলার

    হামজা চৌধুরীর আগমনের পরই বাংলাদেশের ফুটবলে যোগ হচ্ছেন একের পর এক প্রবাসী ফুটবলার। শমিত সোম, ফাহিমদুল ইসলামরা তো এখন লাল-সবুজের অন্যতম তারকা। তাদের দেখে ইউরোপ-আমেরিকাতে থাকা প্রবাসী ফুটবলাররা স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জড়ানোর। এরই মধ্যে বয়সভিত্তিক দলে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার যোগ দিয়েছেন। আগামী নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে আরও পাঁচ প্রবাসী ফুটবলার দেখা যেতে পারে বাংলাদেশ দলে।

    সেপ্টেম্বরে ফিফা উইন্ডো এবং সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে প্রবাসী ফুটবলার যোগ করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। এরই মধ্যে দুজনের খেলানোর ব্যাপারটি অনেকটাই চূড়ান্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্য প্রবাসী উইঙ্গার ফারহান আলী এবং ফরোয়ার্ড জায়ান হাকিমের ফিফা ও এএফসি থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে বাফুফে। হয়তো কিছুদিনের মধ্যে এ দুই প্রবাসীর বাংলাদেশি হওয়ার সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। আরও তিন ফুটবলারের মধ্যে দুজন ইংল্যান্ডের এবং একজন জাপানের বলে গতকাল সমকালকে জানিয়েছেন বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম। তবে কোচ তাদের ট্রায়ালে ডাকেন কিনা, সেটার অপেক্ষায় আছে ফেডারেশন। যে কারণে তিনজনের নাম এখনই প্রকাশ করতে চাইছেন না ফাহাদ করিম, ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে পাঁচ প্রবাসীর মধ্যে কোচ কয়জনকে নেবেন, সেটা তাঁর এখতিয়ার। তবে আমি বলতে পারি, এই পাঁচজন বাফুফের ক্যাম্পে থাকবেন।’

    ইউরোপ-আমেরিকার ফুটবলার নিয়ে গত বছর ঢাকায় প্রবাসী ফুটবলারদের ট্রায়াল আয়োজন করেছিল বাফুফে। এই ট্রায়ালে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ৫০ জন প্রবাসী। ট্রায়াল থেকে খুব বেশি ফুটবলার খুঁজে পায়নি বাফুফে। তাই এবার ভিন্ন পথে হাঁটতে যাচ্ছে তারা। ঢাকায় না করে ইউরোপের কোনো দেশে ট্রায়ালের আয়োজন করতে চান ফাহাদ করিম, ‘আগামী গ্রীষ্মে আমার ইচ্ছা আছে ইউরোপের কোনো দেশে ট্রায়াল করা। সভাপতির সঙ্গে আলাপ করব। এরই মধ্যে কোচের সঙ্গে এটা নিয়ে কথা বলেছি, তিনি খুবই আগ্রহী।’

    প্রবাসীরা যেন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে কারণে ইউরোপে ট্রায়াল করার চিন্তা বলে জানান বাফুফের এ সহসভাপতি, ‘আমাদের বেশির ভাগ আবেদন আসছে ইউরোপ থেকে। বাংলাদেশে ট্রায়াল দেওয়ার জন্য আমরা তো তাদের কোনো অর্থ দেব না। কে টিকে, না টিকে, তা তো আমরা বলতে পারব না। আমরা দেখেছি অনেকেই নিজ খরচে আসতে চায় না বা পারে না। অনেকে আবার নিজ খরচে আসে; কিন্তু টিকে না। তখন আমাদের বদনাম করে যে দূর থেকে এলাম নিল না। তাই ইউরোপের লন্ডন বা যেসব জায়গা থেকে বেশি প্রবাসী আসবে, ওই জায়গায় করব যেন তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।’

    সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে সেপ্টেম্বর উইন্ডো কাজে লাগাতে চায় বাফুফে। দুটো বিষয় নিয়ে চিন্তা করছে ফেডারেশন। কিরগিজস্তানে গিয়ে তিন জাতি টুর্নামেন্ট খেলবে অথবা ঢাকায় চার জাতি প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। কোচ থমাস ডুলির চাওয়া ঢাকায় ম্যাচ খেলা। চার জাতি টুর্নামেন্টের জন্য স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও কিরগিজস্তান ও মঙ্গোলিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। বাকি একটি দেশ চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে বাফুফে।

  • ফ্যাসিবাদের পাশে থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভারতকেই-শামা ওবায়েদ

    ফ্যাসিবাদের পাশে থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভারতকেই-শামা ওবায়েদ

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক উন্নত হোক, সেটিই দুই দেশের সরকার ও জনগণের প্রত্যাশা। তবে ভারতের মাটিতে অবস্থান করে একজন সাজাপ্রাপ্ত স্বৈরাচার এবং আওয়ামী লীগের নেতারা যদি ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান এবং ভারত সরকার তা বন্ধ না করে, তাহলে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তার ভাষ্য, ভারতকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করবে কি না।

    বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে এবং কূটনৈতিক ভাষায় ভারতের কাছে বাংলাদেশের উদ্বেগ জানানো হয়েছে। এর আগেও একই বার্তা একাধিকবার দেওয়া হয়েছে।

    তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, পানিবণ্টন, সীমান্তসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহযোগিতা ও সংলাপ অব্যাহত রাখতে হবে। তবে শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত ভারত সরকারকেই নিতে হবে।

    ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, সরকারে-সরকারে সম্পর্ক বহুমাত্রিক। একটি ইস্যুর কারণে অন্য সহযোগিতা থেমে থাকতে পারে না। জ্বালানি, পানিবণ্টন, সীমান্তসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চলবে।

    তবে জুলাইয়ের শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ভারতকে আরও সংবেদনশীল হতে হবে। আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক ‘জঙ্গিবাদ’ প্রসঙ্গ উত্থাপনের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, দলটি অতীতের মতো এখনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জঙ্গিবাদের ন্যারেটিভ সামনে আনার চেষ্টা করছে। ক্ষমতায় থাকাকালে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে এলে আওয়ামী লীগ জঙ্গিবাদের প্রসঙ্গ তুলে সেগুলো আড়াল করার চেষ্টা করত। বিদেশে অবস্থান করেও তারা একই কৌশল অনুসরণ করছে।

    তিনি আরও মন্তব্য করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ও বিরোধী দল রয়েছে। তাই দেশে জঙ্গিবাদ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মনোযোগ আকর্ষণের উদ্দেশ্যেই আওয়ামী লীগ এসব প্রচারণা চালাচ্ছে। মানবাধিকার নিয়ে আওয়ামী লীগের বক্তব্যের সমালোচনা করে শামা ওবায়েদ বলেন, আওয়ামী লীগের মুখে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের কথা অত্যন্ত হাস্যকর।

    তিনি ইলিয়াস আলীসহ অসংখ্য মানুষের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং জুলাই-আগস্টে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করেন, তখন মানবাধিকার কোথায় ছিল।

    তার ভাষ্য, দল-মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। গত ১৭ থেকে ১৮ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি তারা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

    ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে আগ্রহী। তবে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না, তা তার সময়সূচি ও ব্যস্ততার ওপর নির্ভর করবে।

    ভারতকে পাঠানো বাংলাদেশের কূটনৈতিক বার্তার জবাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক বার্তা পাঠিয়েছে। এখন ভারতের জবাবের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।