আর্ন্তজাতিক

  • বিশ্বনেতারা ঘুমের জন্য কতটা সময় পান?

    বিশ্বনেতারা ঘুমের জন্য কতটা সময় পান?

    একটি দেশ পরিচালনার কাজ নিশ্চিতভাবেই ৯-৫টার চাকরি নয়। গভীর রাতের দীর্ঘ আলোচনা, সাতসকালের ব্রিফিং, টাইমজোনের পরোয়া না করে আসা জরুরি পরিস্থিতি কিংবা বৈঠক, ভাষণ ও সফরের দীর্ঘ তালিকা তো আছেই। এ অবস্থায় কোনো বিশ্বনেতা আসলে ঘুমানোর জন্য কতটা সময় পান?

    বিশ্বনেতাদের ঘুমানোর এই প্রসঙ্গ সামনে এসেছে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির এক স্বীকারোক্তির পর। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এমন কিছু রাত গেছে, যখন একেবারেই ঘুম হয়নি।

    গত মাসে এক সরকারি ছুটির দিন তাকাইচি এক্সে দেওয়া পোস্টে লিখেন, ‘অবশেষে টানা পাঁচ ঘণ্টা ঘুমানোর সুযোগ পেয়েছি।’ এটিকে বিরল হিসেবে উল্লেখ করে তাকাইচি জানান, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে প্রতি রাতে তাঁর স্বাভাবিক ঘুমের পরিমাণ শূন্য থেকে বড়জোর তিন ঘণ্টায় দাঁড়িয়েছে।

    তাকাইচি এই তথ্য প্রকাশের পর জাপানের দীর্ঘদিনের এক উদ্বেগ আবার সামনে এসেছে। দেশটিতে বাড়তি কর্মঘণ্টা এবং অতিরিক্ত কাজের চাপে মৃত্যুর ঘটনা, কয়েক দশক ধরে জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা কি সত্যিই রাজনৈতিক নেতাদের মনোবল ও নিষ্ঠার প্রমাণ? নাগরিকদের জীবনকে প্রভাবিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারপ্রধানদের অপর্যাপ্ত ঘুম কি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে?

    কোন দেশের সরকারপ্রধানরা কত ঘণ্টা ঘুমান, সে তথ্য তাদের সাক্ষাৎকার ও প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া যায়। এতে দেখা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা ঘুমানোর সময় পান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে কম ঘুমানো একজন মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করে আসছেন।

    ২০১৭ সালে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি সাধারণত রাতে চার বা পাঁচ ঘণ্টা ঘুমান। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) সে সময় জানায়, ট্রাম্প মাঝরাত বা রাত ১টা পর্যন্ত কাজ করতেন। আবার ভোর ৫টার দিকে জাগতেন।

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্দেশিত সময়ের চেয়ে অনেকটাই কম ঘুমান। ২০১৯ সালে বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারের উপস্থাপনায় এক অনুষ্ঠানে মোদি জানান, তিনি ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ঘুমান। তবে এই সময়ে তাঁর গভীর ঘুম হয়।

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ রাতে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ঘুমান। এই তথ্যটি তাঁর প্রেসিডেন্ট হওয়ার শুরুর দিকে প্রকাশ করেছিল ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। ওই সময়কার অন্য প্রতিবেদনগুলোতে মাখোঁর সম্পর্কে বলা হয়, তিনি গভীর রাত পর্যন্ত কাজ এবং সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতেন।

    সাবেক বিশ্বনেতাদের মধ্যে কয়েকজনের ঘুমের তথ্য জানা গেছে। ২০১৬ সালের এক প্রতিবেদনে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছিল, বারাক ওবামা সাধারণত ৫ ঘণ্টা ঘুমান। রাতে পরিবারের সঙ্গে খাবার খাওয়ার পর তিনি আরও কয়েক ঘণ্টা একাকী কাজ করতেন। এ সময় তিনি ব্রিফিংয়ের কাগজপত্র পড়া, লেখা ও পরবর্তী দিনের প্রস্তুতি নিতেন।

    ঘুমের বিষয়ে জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের একটি উক্তি বেশ আলোচিত। স্বল্প ঘুমের কারণে তিনি নিজেকে উটের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কেল বলেছিলেন, ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকলে তিনি টানা কাজ করতেন। এরপর ঘুমাতেন। অর্থাৎ, অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে ঘুমের যে ঘাটতি হতো তা তিনি পরে পুষিয়ে নিতেন।

    দুই যুগের বেশি সময় আগে যখন স্মার্টফোনের আধিপত্য, ২৪ ঘণ্টার খবর এবং রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার প্রবণতা ছিল না, তখনও নিজেকে কম ঘুমানো মানুষের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন মার্গারেট থ্যাচার। ১৯৮৯ সালে ‘দ্য সান’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘সত্যি বলতে আজকাল ৪ ঘণ্টার বেশি ঘুমানোটা আমার কাছে খুব কঠিন মনে হয়।’

  • ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর :আগামী সপ্তাহেই দিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী

    ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর :আগামী সপ্তাহেই দিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর ঘিরে বেশ আশাবাদী ভারত। এই ইস্যুতে ঢাকার সঙ্গে জোর আলোচনা চালাচ্ছে নয়াদিল্লি। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে আগামী সপ্তাহের শেষ ভাগে বা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নয়াদিল্লি যেতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    তার এই সফরকে সামনে রেখে ঢাকা ও নয়াদিল্লি উভয় রাজধানীতেই জোর প্রস্তুতি চলছে বলে দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। কর্মকর্তারাও নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি।

    তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো আজ তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

    এনডিটিভি লিখেছে, সম্ভাব্য এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দুদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা গুরুত্ব পেতে পারে।

    সব ঠিক থাকলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটাই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এ সফর তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করা হয়।

    সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুদিনের এই সফরটি একটি দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচি হিসেবে সাজানো হচ্ছে। তবে সফরের চূড়ান্ত সময়সূচি এখনও নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস আউটরিচ সেশনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।

    মোদি-তারেক প্রথম বৈঠক ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ

    প্রতিবেদন বরাতে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, দিল্লি ও ঢাকা—উভয় পক্ষই নরেন্দ্র মোদি ও তারেক রহমানের মধ্যকার সম্ভাব্য এই প্রথম বৈঠকের দিকে গভীর নজর রাখছে।

    বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতের পক্ষ থেকেও ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কৌশলগত সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দেয়। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। এরপর থেকে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক দাবিসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে দুদেশের মধ্যে মতভিন্নতা তৈরি হয়েছিল।

    তবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ভারতের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনেরও কিছু লক্ষণ দেখা গেছে। এর অংশ হিসেবে গত এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া গত ১০ আগস্ট ঢাকায় তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, যেখানে দুদেশের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

    প্রধান ইস্যু: শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যান এবং এরপর থেকেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের একটি ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে দিল্লির কাছে তাকে হস্তান্তরের দাবি জানায়। ভারত অবশ্য জানিয়েছে, এই অনুরোধটি যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    চলতি মাসের শুরুর দিকে শেখ হাসিনা দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি মতবিনিময় করলে এ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয়। তবে ভারত সরকার ওই অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

    সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বৈঠকেও প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গটি উঠে আসে। সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি ব্যাহত না করে কীভাবে এই বিরোধপূর্ণ ইস্যুটির সমাধান করা যায়, তা নিয়ে উভয় পক্ষকেই পথ খুঁজতে হবে।

    উভয় দেশের মধ্যে সমাধানের অপেক্ষায় থাকা দীর্ঘদিনের বেশ কিছু বাস্তবভিত্তিক সমস্যাও রয়েছে। আসন্ন আলোচনায় মূলত বাণিজ্য ও ট্রানজিট, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘ অভিন্ন সীমান্ত এবং জোরালো অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায়, রাজনৈতিক সমঝোতা তৈরি হলে তা দ্রুত এই খাতগুলোতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

    আরেকটি বড় ইস্যু হতে পারে অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। ফলে সময় ঘনিয়ে আসায় চুক্তি নবায়নের আলোচনাটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এছাড়া অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়েও ভারতের কাছ থেকে আরও সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা।

    অন্যদিকে, শুধু দীর্ঘ সীমান্তের কারণেই নয়, বরং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ এবং কৌশলগত অবস্থানের কারণেও বাংলাদেশের সঙ্গে একটি স্থিতিশীল ও সুদৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখা নয়াদিল্লির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সম্পর্কের নতুন দিগন্তের পরীক্ষা

    সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দুই দেশই যখন তাদের সম্পর্ককে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী, ঠিক তখনই এই সফরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

    যদিও বিশ্লেষকদের মতে, এই একটি মাত্র সফরেই অমীমাংসিত সব সংকটের সমাধান হয়ে যাবে এমনটি ভাবা ঠিক হবে না। শেখ হাসিনার ইস্যু, পানিবণ্টন, বাণিজ্য ও সীমান্ত নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনার প্রয়োজন পড়বে। তবে নরেন্দ্র মোদি ও তারেক রহমানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা দুই দেশের মতপার্থক্য নিরসনে একটি কার্যকর রাজনৈতিক পথ উন্মোচন করতে পারে।

    ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদি এই সফর হয় তাহলে এর মাধ্যমে তারেক রহমান ঢাকার অবস্থান সরাসরি ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্যও এটি বাংলাদেশের নতুন সরকারের কাছ থেকে দিল্লির প্রত্যাশাগুলো তুলে ধরার একটি সুযোগ হবে।

    প্রতিবেদন বরাত বলছে, সফরের চূড়ান্ত তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে, আগামী সপ্তাহে তারেক রহমানের এই দিল্লি সফর হতে পারে ভারত-বাংলাদেশ নতুন রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রথম বড় পরীক্ষা। আপাতত উভয় পক্ষের মূল লক্ষ্য—পরস্পরের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা আবার শুরু করা এবং জটিল সংকটগুলো যেন সার্বিক সম্পর্ককে আটকে না ফেলে, সেই পথ তৈরি করা।

  • ট্রাম্পের সেই গোপন ফ্লাইটে কারা ছিলেন?

    ট্রাম্পের সেই গোপন ফ্লাইটে কারা ছিলেন?

    কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এয়ার ফোর্স ওয়ানকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে- এমন হুমকির মুখে গত মাসে তুরস্ক থেকে ফেরার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে গোপনে ছোট একটি সরকারি বিমানে তুলে দেয়া হয়। সেই গোপন ফ্লাইটে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্ররা সঙ্গী হয়েছিলেন বলে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    সিএনএন বলছে, গোপনে ছোট বিমানে ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা তুরস্ক ছাড়লেও এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্পের মন্ত্রীপরিষদের বেশ কয়েকজন সদস্য ছিলেন।
    সেদিন সেই ছোট বিমানটিতে ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা সহকারীদের মধ্যে ছিলেন ন্যাটালি হার্প। তিনি একজন নির্বাহী সহকারী, যিনি ট্রাম্পের ভ্রমণের সময় নিয়মিত তার সঙ্গী হন।

    এ ছাড়া হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ, ড্যান স্ক্যাভিনো, ওভাল অফিস অপারেশন্সের পরিচাল্ ওয়াল্ট নটা ট্রাম্পের ছোট বিমানের সঙ্গী ছিলেন। এরা সবাই ট্রাম্পের প্রায় সফরে সঙ্গী হিসেবে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেন।
    সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সি-৩২এ বিমানে সেদিন ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথও ছিলেন।
    তবে সম্ভাব্য হামলার হুমকি থাকা সত্ত্বেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে করেই তুরস্ক ছেড়েছেন।

    সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত ৮ জুলাই তুরস্ক থেকে উড্ডয়নের আগে ট্রাম্প ও তার অল্প কয়েকজন সহযোগী একটি ক্যাটারিং ট্রাকের আড়ালে গোপনে বড় নীল-সাদা প্রেসিডেন্টের বিমান থেকে অপেক্ষাকৃত ছোট ও সাধারণ দেখতে সি-৩২এ বিমানে চলে যান।
    একই সময়ে এয়ার ফোর্স ওয়ান আলাদাভাবে উড্ডয়ন করে। ওই বিমানে ছিলেন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা, হোয়াইট হাউসের কর্মীরা এবং সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের দল।


  • মক্কার সামরিক জোট কি ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হয়ে উঠবে?

    মক্কার সামরিক জোট কি ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হয়ে উঠবে?

    সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক চুক্তি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা রাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। তিন দেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা একে অন্যের থেকে আলাদা। ফলে তাদের এই জোটকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

    চুক্তিটির প্রতীকী গুরুত্বও রয়েছে। মুসলিমদের পবিত্র শহর মক্কায় এটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ফলে অনেকের কাছে এটি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে নতুন নিরাপত্তা সহযোগিতার বার্তা বহন করছে।

    তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে চুক্তির একটি শর্ত নিয়ে। এতে বলা হয়েছে, কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে সব দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ন্যাটোর গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৫-এর সঙ্গে এই শর্তের মিল রয়েছে।

    তাই কেউ কেউ এই জোটকে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ বলছেন। তবে এই জোট বাস্তবে ন্যাটোর মতো কার্যকর সামরিক কাঠামো হয়ে উঠবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে।

    তিন দেশের শক্তি এক জায়গায়

    সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে তুরস্ক এই জোটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেশটির শক্তিশালী সেনাবাহিনী রয়েছে। তাদের যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিও উন্নত।

    অন্যদিকে সৌদি আরবের রয়েছে বিপুল অর্থনৈতিক সক্ষমতা। দেশটি মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়ে থাকে। তুরস্ক থেকেও তারা ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম কিনছে।

    পাকিস্তান আবার পরমাণু শক্তিধর দেশ। দেশটির সেনাবাহিনী চীনা সামরিক সরঞ্জামও ব্যবহার করে।

    এই তিন ধরনের সক্ষমতার সমন্বয়ই নতুন জোটটিকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে। সামরিক প্রশিক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ব্যয় এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে কে কীভাবে অবদান রাখবে, তা নিয়েও দেশগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    ইরান ও ইসরাইলকে ঠেকানোর হিসাব?

    নতুন জোটটি কি একই সঙ্গে ইরান ও ইসরাইলকে প্রতিরোধের একটি উদ্যোগ—এ প্রশ্নও উঠেছে।

    গাজায় সংঘাত শুরুর পর ইসরাইলের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে সৌদি আরবের উদ্বেগ রয়েছে।

    ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের সময় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি ও তেল স্থাপনায় হামলা হয়েছে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র হামলার শিকার দেশগুলোকে কার্যকর নিরাপত্তা দিতে পারেনি বলে সমালোচনা রয়েছে।

    এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক নিজেদের মধ্যে নিরাপত্তার একটি অতিরিক্ত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন। তবে জোটের নেতারা বলছেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। এর লক্ষ্য সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

    পাকিস্তান ও সৌদি আরব গত বছর যে সামরিক চুক্তি করেছিল, এবারের চুক্তিকে তারই বিস্তৃত রূপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সৌদি আরবের কৌশল

    সৌদি আরব এই জোটের কেন্দ্রে রয়েছে। দেশটির ভৌগোলিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে আরব উপসাগর, অন্যদিকে লোহিত সাগর। দীর্ঘ সমুদ্রসীমা দেশটিকে কৌশলগত সুবিধা দিয়েছে।

    অর্থনৈতিক শক্তির কারণে সৌদি আরব তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুই দেশকে নিজেদের নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করতে পারছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

    তবে ন্যাটোর মতো কার্যকর সামরিক জোট তৈরি করতে সময় লাগবে। শুধু চুক্তি করলেই একটি সমন্বিত সামরিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে না।

    সৌদিতে হামলা হলে কী করবে পাকিস্তান-তুরস্ক?

    এই প্রশ্নটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    চুক্তির শর্ত অনুযায়ী একটি দেশে হামলা হলে অন্য দুই দেশ সরাসরি সামরিক সহায়তা দিতে গেলে নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে। কারণ তিন দেশই আগে থেকে ভিন্ন ভিন্ন সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত।

    তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য। পাকিস্তান চীনের সামরিক সরঞ্জামের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।

    অতীতে সৌদি আরবের ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের অবস্থান ছিল সতর্ক। হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের যুদ্ধে পাকিস্তান সেনা ও বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দিলেও সরাসরি পূর্ণাঙ্গ সামরিক সহায়তা দেয়নি।

    ইরান যখন সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছিল, তখনও পাকিস্তান সৌদির পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে যায়নি। এর একটি কারণ ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সীমান্ত রয়েছে।

    এ কারণে নতুন জোটের কার্যকারিতা কাগজে-কলমে নয়, বরং বাস্তব কোনো হামলার পর দেশগুলোর পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।

    আগেও ‘ইসলামিক ন্যাটো’ গড়ার চেষ্টা হয়েছিল

    সৌদি আরব এর আগেও এমন একটি জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিল।

    বিবিসির নিরাপত্তাবিষয়ক সংবাদদাতা ফ্র্যাঙ্ক গার্ডনারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে সৌদি আরবের উদ্যোগে ৩০টির বেশি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশকে নিয়ে ‘ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেররিজম কোয়ালিশন’ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

    এর লক্ষ্য ছিল আন্তদেশীয় সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করা। সৌদি আরবে সদস্যদেশগুলোর অংশগ্রহণে ‘নর্থ থান্ডার’ নামে বড় সামরিক মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

    তখন মধ্যপ্রাচ্যের গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকেরা এই জোটকে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নামে অভিহিত করেছিলেন। কিন্তু পরে এর কার্যক্রম তেমন দৃশ্যমান হয়নি।

    এবারের উদ্যোগের পার্থক্য হলো, এতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত শক্তি—সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক—একসঙ্গে রয়েছে।

    তবে মক্কায় স্বাক্ষরিত চুক্তিতে এমন কোনো স্পষ্ট শর্ত নেই যে সৌদি আরবে হামলা হলে পাকিস্তান ও তুরস্ককে অবশ্যই সেনা পাঠাতে হবে।

    ফলে জোটটি কতটা কার্যকর, তা বোঝার জন্য ভবিষ্যতের কোনো সংকটের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

    পাকিস্তানের জন্য ভারসাম্যের পরীক্ষা

    এই জোটে পাকিস্তানের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    একদিকে পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ইরানের সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারে—এমন একটি সামরিক জোটে যোগ দিয়েছে।

    ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কও রয়েছে। এ কারণে ইরানের কাছে পাকিস্তানের একটি কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা আছে।

    আবার মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গেও পাকিস্তানের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দেশটি ওই অঞ্চল থেকে জ্বালানি আমদানি করে। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি কাজ করেন। তাদের পাঠানো অর্থ পাকিস্তানের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    তাই ইসলামাবাদকে একই সঙ্গে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে হচ্ছে।

    এই কারণে জোটের নেতারা বারবার বলছেন, এটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে গঠিত হয়নি। তবে পরিস্থিতি বদলালে পাকিস্তানের জন্য ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

    ভারত, চীন ও ইরানের নজরও থাকবে

    নতুন জোটের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এশিয়ার কয়েকটি দেশও এর দিকে নজর রাখছে।

    পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে গত কয়েক মাসে একাধিকবার সীমান্তে সংঘর্ষ হয়েছে। ভবিষ্যতে পাকিস্তানে হামলা হলে সৌদি আরব ও তুরস্ক কী করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

    ভারতের সঙ্গেও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। ভবিষ্যতে আবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে নতুন জোটের সদস্যরা কী ভূমিকা নেবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

    সৌদি আরব ও তুরস্ক সরাসরি ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে না গেলেও পাকিস্তানকে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি বা অর্থনৈতিক সহায়তা দিতে পারে। এতে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও প্রভাব পড়তে পারে।

    এর সঙ্গে ভারতের ইসরাইলের সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কের বিষয়টিও যুক্ত হচ্ছে। একই সময়ে ভারত সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার চুক্তির প্রাথমিক রূপরেখায় স্বাক্ষর করেছে।

    অন্যদিকে পাকিস্তান চীনের কাছ থেকেও যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও নজরদারি প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন সামরিক সহায়তা পেয়ে থাকে।

    ফলে নতুন জোটকে ঘিরে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

    পাকিস্তানের জোটে থাকা যেমন ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে, তেমনি সৌদি আরবের অংশগ্রহণ ইরানের জন্য এবং তুরস্কের অংশগ্রহণ গ্রিসের জন্য উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।

    ন্যাটোর মতো জোট হতে কতটা সময় লাগবে?

    সব মিলিয়ে মক্কায় স্বাক্ষরিত সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোয় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

    তবে এর প্রকৃত শক্তি নির্ভর করবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। তিন দেশের সামরিক বাহিনী কতটা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক প্রযুক্তি কীভাবে ভাগ করে নেয় এবং কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্যরা বাস্তবে কী পদক্ষেপ নেয়—এসবই হবে মূল পরীক্ষা।

    ভবিষ্যতে মিসর বা কাতারের মতো দেশ এই কাঠামোয় যুক্ত হলে জোটটির পরিসর আরো বাড়তে পারে। তখন ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নামটি আরো জোরালোভাবে আলোচনায় আসবে।

    কিন্তু আপাতত এটি একটি সম্ভাবনাময় আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্যোগ। ন্যাটোর মতো কার্যকর সামরিক জোটে পরিণত হতে হলে এর সামনে এখনো অনেক পথ বাকি।

  • শিশু সিটবেল্ট না বাঁধায় ফ্লাইট বাতিল

    শিশু সিটবেল্ট না বাঁধায় ফ্লাইট বাতিল

    কানাডায় এক শিশু উড়োজাহাজে সিটবেল্ট বাঁধতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এ ঘটনা উড়োজাহাজে শিশুদের ভ্রমণসংক্রান্ত শিষ্টাচার ও নিরাপত্তা বিধি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

    ৬ আগস্ট কানাডার পোর্টার এয়ারলাইনসের ভিক্টোরিয়া থেকে টরন্টোগামী একটি ফ্লাইট উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু উড়াল দেওয়া বাতিল করে সেটিকে আবার টার্মিনালে ফিরে যেতে হয়। এয়ারলাইনসের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোট একটি শিশু নিজের আসনে দাঁড়িয়ে ছিল এবং উড্ডয়নের প্রস্তুতি হিসেবে সিটবেল্ট বাঁধতে রাজি হচ্ছিল না। তাই তারা টার্মিনালে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

    এই বিলম্বের ফলে মধ্যরাতের পর রানওয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে ফ্লাইটটি আর উড্ডয়ন করতে পারেনি। যাত্রীদের পরদিনের একটি ফ্লাইটে গন্তব্যে পাঠানো হয়।

    এ ঘটনার পর এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা উচিত এবং এয়ারলাইনসগুলো কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে, তা নিয়ে জনমতে বিভক্তি উঠে এসেছে।

    শিশুটির আচরণ সম্পর্কে পোর্টার এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুটির সঙ্গে থাকা অভিভাবক এবং ক্রুদের পক্ষ থেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। ‘অনিরাপদ অবস্থায় উড়োজাহাজের উড্ডয়ন সম্ভব ছিল না। তাই ক্রুরা সেটিকে টার্মিনালে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং ওই দুই যাত্রীকে উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।’

    শিশুদের উড়োজাহাজে চলাচলে নিরাপত্তা–বিষয়ক বিশেষজ্ঞ লিয়া তুসো বিবিসিকে বলেন, ফ্লাইটটি থামানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে পোর্টার এয়ারলাইনসের ক্রুরা শুধু ওই শিশুটির নয়, বরং উড়োজাহাজে থাকা অন্যান্য সব যাত্রীর নিরাপত্তাও নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন।

    লিয়া তুসো আরও বলেন, সিটবেল্ট না বাঁধলে শিশুদের আসন থেকে ছিটকে পড়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। এটি সিটবেল্টবিহীন লাগেজের মতোই ঝুঁকিপূর্ণ টার্বুলেন্সের সময়—বিশেষ করে উড্ডয়ন ও অবতরণের সময়—ছিটকে গিয়ে যাত্রীদের আঘাত করতে পারে।

    ঘটনাটি অনলাইনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। উড়োজাহাজে ভ্রমণরত পরিবারগুলোর প্রতি এয়ারলাইনসগুলোর কতটা সহনশীল হওয়া উচিত এবং অভিভাবকদের উড়োজাহাজযাত্রার নিয়মকানুন কতটা কঠোরভাবে অনুসরণ করা উচিত, তা নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে।

    কেউ কেউ বলেছেন, এটি এমন একটি উদাহরণ, যেখানে অভিভাবকেরা সন্তানদের প্রতি অতিরিক্ত ‘নরম’ আচরণ করার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

  • রাশিয়া থেকে ভারত পর্যন্ত রেলপথ: নিরাপত্তা দেবে আফগানিস্তান

    রাশিয়া থেকে ভারত পর্যন্ত রেলপথ: নিরাপত্তা দেবে আফগানিস্তান

    রাশিয়া থেকে ভারত পর্যন্ত প্রস্তাবিত রেলপথের সুরক্ষায় শতভাগ নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। এই রেলপথ চালু হলে সরাসরি ভারত মহাসাগরে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে মস্কো।

    আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আরটি বুধবার (১২ আগস্ট) এক খবরে এই তথ্য জানিয়েছে।

    আরটি ইন্ডিয়ার সংবাদ প্রধান রুনঝুন শর্মাকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আফগানিস্তানের অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল রহমান হাবিব বলেন, ‘হাঁ, আফগানিস্তান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানে রয়েছে। এই প্রকল্প চালু হলে আফগানিস্তানে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হবে। আমরা এই ধরনের যেকোনো প্রকল্পকে সব সময়ই সমর্থন করি।’

    তিনি স্পষ্ট করেন যে, তাদের ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে ট্রেন যাওয়ার সময় নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি হবে না।

    আরটি ইন্ডিয়ার সংবাদ প্রধান রুনঝুন শর্মাকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন আফগানিস্তানের অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল রহমান হাবিব |

    কেন এই নতুন রেলপথ?

    রাশিয়া থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত নতুন এই রেললাইনের ধারণাটি প্রথম সামনে আনেন রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী মারাত খুসনুলিন। গত সপ্তাহে তিনি জানান, হরমুজ প্রণালী বা সমুদ্রপথে যেকোনো জটিলতা ও ঝুঁকি এড়াতেই এই বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবছে মস্কো।

    খুসনুলিন জানান, ভারতের সাথে সংযোগ তৈরি করে এমন যেকোনো প্রস্তাবই রাশিয়ার জন্য গ্রহণযোগ্য। এর জন্য তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে সম্ভাব্য সব রুট বা পথ খতিয়ে দেখা যেতে পারে।

    আফগানিস্তান প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও এটি একটি চারপাশ স্থলবেষ্টিত দেশ, অর্থাৎ এর নিজস্ব কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। ভারত মহাসাগর ও ভারতের সাথে সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ চালু হলে কাবুলের বাণিজ্যিক আয় অনেকটাই বেড়ে যাবে।

    ২০ বছরের যুদ্ধের পর ২০২১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথা যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য প্রত্যাহারের পর কাবুলের ক্ষমতায় বসে তালেবান। তারা আসার পর থেকে দেশটিতে সার্বিক শান্তি অনেকটাই ফিরে এসেছে।

    রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণও এখানে বেশ স্পষ্ট। মধ্য এশিয়ায় নিজেদের প্রভাব আরও বাড়াতে গত মে মাসে তালেবান সরকারের সাথে একটি সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে মস্কো।

    অন্যান্য দিক থেকেও এই প্রকল্প বেশ অর্থবহ। ভারত হলো রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা। বর্তমানে এই তেলবাহী জাহাজগুলোকে লোহিত সাগরের বিপজ্জনক ‘বাব-এল-মানদেব’ নৌপথ এবং হরমুজ প্রণালী ও ওমানের সংঘাতপূর্ণ এলাকা পার হয়ে যাতায়াত করতে হয়।

    এর বাইরেও নয়া দিল্লি ও মস্কোর সম্পর্ক বহুদিনের পুরনো বন্ধুত্বের। দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী সামরিক ও প্রতিরক্ষা যোগাযোগ রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে নিজেদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ভারত ও রাশিয়া। নতুন এই সুরক্ষিত রেল যোগাযোগ চালু হলে সেই লক্ষ্য পূরণ অনেক সহজ হবে।

  • জিম্বাবুয়েতে ফেরি ডুবে নিহত অন্তত ১৫, নিখোঁজ ২৭

    জিম্বাবুয়েতে ফেরি ডুবে নিহত অন্তত ১৫, নিখোঁজ ২৭

    জিম্বাবুয়ের লেক কারিবায় অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ফেরি উল্টে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির সিভিল প্রোটেকশন ইউনিট এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আলজাজিরার।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে ফেরিটি উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর অন্তত ৭৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

    কারিবা শহর থেকে লেকের বিভিন্ন দ্বীপ ও মাছ ধরার ক্যাম্পে যাত্রী পরিবহন করত ফেরিটি। এর ধারণক্ষমতা ছিল ৯০ জন। তবে দুর্ঘটনার সময় ফেরিটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষ ছিলেন।

    সিভিল প্রোটেকশন ইউনিট জানিয়েছে, টিকিট বিক্রির নিবন্ধিত তথ্য অনুযায়ী ফেরিটিতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু সদস্য ছিলেন। তবে টিকিট কাটার বয়স হয়নি—এমন কতজন শিশু ফেরিটিতে ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    জিম্বাবুয়ের জাতীয় পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান চলছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডবিসি প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, হ্রদের উল্টে যাওয়া ফেরিটির দিকে কয়েকটি স্পিডবোট এগিয়ে যাচ্ছে এবং ওপর দিয়ে একটি হেলিকপ্টার উড়ছে। উদ্ধার অভিযানে হ্রদের পানির নিচে অনুসন্ধানকারী একটি দলও মোতায়েন করা হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ম্যাক্সটন কানহেমা এএফপিকে বলেন, খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেই ফেরিটি যাত্রা শুরু করেছিল। একপর্যায়ে একটি বড় ঢেউ ফেরিটিতে আঘাত করলে এর ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে তিনি ধারণা করেন।

    তিনি বলেন, ‘আমরা যখন পানির মধ্যে ছিলাম, তখন বিপদের সংকেত দেখতে পাই। কাছাকাছি থাকা নৌকাগুলো সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে আসে।’

    কানহেমা জানান, উদ্ধার অভিযানে মাতুসাডোনা ন্যাশনাল পার্কের একটি হেলিকপ্টার, স্থানীয় বড় নৌযান, ডুবুরি এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।

    তিনি বলেন, ‘মানুষজন বিপদে পড়েছিল। পানিতে লাশ ভাসতে দেখা গেছে। দৃশ্যটি অত্যন্ত দুঃখজনক ছিল। যাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তাদের উদ্ধার করা হয়েছে।’

    খারাপ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা দেরি করে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, ‘ফেরিটির কাছে পৌঁছাতে সময় লেগেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এর মধ্যে অনেক প্রাণহানি ঘটেছে।’

    জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়ার সীমান্তে অবস্থিত লেক কারিবা রাজধানী হারারে থেকে ৩০০ কিলোমিটারের বেশি উত্তর-পূর্বে। আয়তনের দিক থেকে এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম হ্রদ। ১৯৫০-এর দশকের শেষভাগ থেকে ১৯৬০-এর দশকের শুরুর দিকে জাম্বেজি নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে হ্রদটি তৈরি করা হয়। বর্তমানে হ্রদটি ২০০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এবং কিছু এলাকায় এর প্রস্থ প্রায় ৪০ কিলোমিটার।

  • দীর্ঘদিনের প্রেমের পর বিয়ে করলেন রোনালদো-জর্জিনা

    দীর্ঘদিনের প্রেমের পর বিয়ে করলেন রোনালদো-জর্জিনা

    দীর্ঘ এক দশকের প্রেমের পর অবশেষে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হলেন পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজ। মঙ্গলবার পর্তুগালের সৈকত শহর কাসকাইসে ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ে করেন তাঁরা।

    রোনালদোর প্রতিনিধিরা বিয়ের খবর নিশ্চিত করেছেন। তাঁর জনসংযোগের দায়িত্বে থাকা ব্রান্সউইক গ্রুপ বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, একান্ত পারিবারিক এই অনুষ্ঠানে দম্পতির পাঁচ সন্তান উপস্থিত ছিল।

    বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসে রোনালদোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টের মাধ্যমে। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাতে তিনি জর্জিনার হাতের ওপর নিজের হাত রাখা একটি ছবি প্রকাশ করেন। দুজনের অনামিকায় দেখা যায় আংটি। ছবির ক্যাপশনে ভালোবাসার ইমোজির সঙ্গে ছিল ‘সি’ ও ‘জি’ অক্ষর। এর পরই ভক্তদের মধ্যে তাঁদের বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে যায়।

    এর ঠিক এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট বাগ্‌দানের ঘোষণা দিয়েছিলেন জর্জিনা। সেদিনও রোনালদোর হাতের ওপর নিজের হাত রেখে অনামিকায় বড় একটি আংটি পরা ছবি প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এক বছর পর সেই হাত বদলে গেছে বিয়ের বন্ধনে।

    রোনালদো ও জর্জিনার বিয়ের সম্ভাব্য স্থান নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছিল। লিসবনের বাইরে সিনত্রা কিংবা রোনালদোর জন্মস্থান মাদেইরায় বিয়ের গুঞ্জনও ছড়িয়েছিল। এমনকি মাদেইরার ফুনশালের একটি গির্জায় তাঁদের বিয়ে হচ্ছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে ভিড় করেন শত শত মানুষ। পরে অবশ্য জানা যায়, সেখানে রোনালদো-জর্জিনার কোনো অনুষ্ঠান নির্ধারিত ছিল না।

    শেষ পর্যন্ত লিসবন থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে কাসকাইসকে বিয়ের স্থান হিসেবে বেছে নেন তাঁরা। এই শহরে দম্পতির একটি ভিলাও রয়েছে।

    রোনালদো ও জর্জিনার পরিচয় ২০১৬ সালে। তখন মাদ্রিদের একটি গুচি শোরুমে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করতেন জর্জিনা। সেখান থেকেই দুজনের সম্পর্কের শুরু। জর্জিনার ভাষায়, সেটি ছিল ‘প্রথম দেখাতেই প্রেম’। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ফিফার বর্ষসেরা পুরস্কার অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো তাঁদের একসঙ্গে প্রকাশ্যে দেখা যায়। একই বছরের মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জর্জিনার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন রোনালদো।

    এরপর থেকে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত তারকা জুটি হয়ে ওঠেন তাঁরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজনের অনুসারীর সংখ্যা ৭৫ কোটির বেশি। ফুটবলের বাইরে ফ্যাশন, হোটেল ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতেও তাঁদের বিনিয়োগ রয়েছে।

    রোনালদোর বড় ছেলে ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়রের জন্ম ২০১০ সালে। তাঁর মায়ের পরিচয় কখনো প্রকাশ করেননি রোনালদো। ২০১৭ সালে সারোগেসির মাধ্যমে যমজ সন্তান ইভা মারিয়া ও মাতেওর বাবা হন তিনি। একই বছরের শেষ দিকে জর্জিনার গর্ভে জন্ম নেয় তাঁদের মেয়ে অ্যালানা মার্টিনা। ২০২২ সালে জর্জিনার গর্ভে যমজ সন্তান জন্ম নিলেও ছেলে অ্যাঞ্জেল জন্মের কিছুক্ষণ পর মারা যায়। তাঁদের মেয়ে বেলা বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে রয়েছে।

    দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, সন্তান ও পারিবারিক জীবনের পর এবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বামী-স্ত্রী হলেন রোনালদো ও জর্জিনা।

  • কাকা, তুমি খালি বাইরে বাইরে থাকলে কেন: পরশকে কাদের

    কাকা, তুমি খালি বাইরে বাইরে থাকলে কেন: পরশকে কাদের

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় ট্রাইব্যুনালে একটি ফোনালাপ শোনানো হয়। সেখানে যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, কাকা, তুমি খালি বাইরে বাইরে থাকলে কেন?

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ উপস্থাপিত ফোনালাপটিতে এরপর ওবায়দুল কাদেরকে শেখ পরশ বলেন, না, আমি আছি তো। আমি বাইরে থাকলেও সার্বক্ষণিক প্রতিটা ঘণ্টায় আমি আপনাদের সঙ্গে আছি।

    এরপর ওবায়দুল কাদের পরশের বাইরে থাকা নিয়ে ইতস্তত করলে পরশ বলেন, আপনি জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন। আমি তো অনেক আগে গেছি। আমি গেছি ২৫ তারিখ। কিন্তু তারপরে প্রত্যেকটা দিন আমি আপনাদের সঙ্গে ছিলাম।

    এরপর ওবায়দুল কাদের তাকে মিছিলে অধিকসংখ্যক উপস্থিতির জন্য বলেন, ফিজিক্যালি থাকাটা…..কালকের র‍্যালিতে ম্যাক্সিমাম যেন প্রেজেন্স থাকে।

    এর উত্তরে পরশ বলেন, হ্যাঁ। আমরা এটা প্রস্তুতি নিচ্ছি। জি, অবশ্যই। এর জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, সে জন্য তোমাকে ফোন করি।

    শেষে শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, না, না। থ্যাংক ইউ। ঠিক আছে। জি, আমি ফোন দিচ্ছি সব জায়গায়। জি, জি, জি, চাচা। আসসালামু আলাইকুম।

    ওবায়দুল কাদের ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

  • ইতিহাস গড়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে ফর্টিস

    ইতিহাস গড়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে ফর্টিস

    ঘরের মাঠে কিরগিজস্তানের মুরাস ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ফর্টিস এফসি। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ফর্টিসের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন মো. ইব্রাহীম।

    এএফসি মঞ্চে অভিষেক ম্যাচেই এমন সাফল্য পেল বাংলাদেশ ফুটবল লিগের সর্বশেষ মৌসুমের তৃতীয় হওয়া দলটি। ফলে প্রথমবার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলতে নেমেই ইতিহাস গড়ল ফর্টিস।

    ২০২৫-২৬ মৌসুমে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের শিরোপা জেতে বসুন্ধরা কিংস। রানার্সআপ হয় ঢাকা আবাহনী। তবে দুই ক্লাবের ওপর ফিফার নিষেধাজ্ঞা থাকায় এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে খেলার সুযোগ পায় তৃতীয় হওয়া ফর্টিস ও পুলিশ এফসি।

    এরই মধ্যে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে ফর্টিস। রাতে প্রিলিমিনারি রাউন্ডে সিরিয়ার আল ইত্তিহাদের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা রয়েছে তাদের।

    গত মৌসুমের এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্রিলিমিনারি রাউন্ডেও মুরাস ইউনাইটেডের প্রতিপক্ষ ছিল ঢাকা আবাহনী। সেবার ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে মারুফুল হকের দলকে ২-০ গোলে হারিয়ে পরের ধাপে উঠেছিল কিরগিজ ক্লাবটি। এবার অবশ্য বাংলাদেশে এসে জয়ের হাসি নিয়ে ফিরতে পারেনি তারা। ফর্টিসের কাছে হেরে মূল পর্বের টিকিটও হাতছাড়া হয়েছে মুরাসের।

    ম্যাচের ২২ মিনিটে ফর্টিস এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি করে। বক্সের বাঁ দিক দিয়ে একক প্রচেষ্টায় আক্রমণে উঠে গোলকিপারকে একা পেয়ে যান পা ওমর বাবু। বাঁ পায়ের শটে মুরাসের গোলরক্ষক কস্তিককে পরাস্ত করলেও বল সাইড পোস্টে লেগে বাইরে চলে যায়।

    বিরতির পর অবশ্য মুরাসই তুলনামূলক বেশি চাপ তৈরি করে। তবে ফর্টিসের শ্রীলঙ্কান গোলরক্ষক সুজন পেরেরা দুই দফায় প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকিয়ে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন।

    এরপর ৫২ মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে। পা ওমর বাবুর বাড়ানো থ্রু থেকে বল পেয়ে যান ইব্রাহিম। ডান পায়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের নিচু শটে মুরাসের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। বল গোলরক্ষকের শরীরের নিচ দিয়ে পোস্টে জড়িয়ে গেলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফর্টিস।

    ৫৬ মিনিটে ফর্টিস ব্যবধান দ্বিগুণ করার কাছাকাছি চলে যায়। তবে মুরাসের গোলরক্ষক ওরেস্ট কস্তিক পরপর দুটি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে রাখেন।

    ৭৪ মিনিটে ম্যাচে সমতা ফেরানোর বড় সুযোগ পায় মুরাস। মাদানভ ইসমইলোভিচের শট বক্সের ভেতরে এরিক বিস্তার হাতে লাগায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু স্পটকিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন আতাবায়েভ এরবল। তার ডান পায়ের শট সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

    শেষ পর্যন্ত মুরাসের সব আক্রমণ সামলে ১-০ গোলের জয় ধরে রাখে ফর্টিস। এই জয়ের মাধ্যমে প্রথমবার এএফসি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েই চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়ল দলটি।