আর্ন্তজাতিক

  • ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে টাইগারদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

    ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে টাইগারদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

    অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট ম্যাচ জয়ের ঐতিহাসিক সাফল্যে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    আজ রোববার ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে স্মরণীয় এই জয় তুলে নেয় টাইগাররা। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেই এই সাফল্য অর্জন করল বাংলাদেশ।

    টাইগার দল যখন এই ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে, তখন কিশোরগঞ্জের পথে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন এবং ঐতিহাসিক জয়ের জন্য তাদের অভিনন্দন জানান।এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকেও দলের খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।

    তারেক রহমান বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদের মাটিতে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয় দেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। দলের খেলোয়াড়দের দৃঢ় মনোবল, আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা ও দলগত প্রচেষ্টার ফলেই এই অসাধারণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরের টেস্টেও বাংলাদেশ ভালো খেলবে এবং সিরিজ জয়ের এই সম্ভাবনাকে সাফল্যে রূপ দেবে।

    উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবার টেস্ট র‍্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ।

  • বন্যায় যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি অবস্থা জারি

    বন্যায় যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি অবস্থা জারি

    যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে টানা ভারি বৃষ্টি ও ঝড়ের পর ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। হোয়াইট রিভারের পানি বিপৎসীমার অনেক ওপরে উঠে নোবেলসভিল ও ইন্ডিয়ানাপোলিসের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কর্মকর্তারা এটিকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যাগুলোর একটি বলে বর্ণনা করেছেন।

    স্থানীয় সময় শনিবার রাতে নোবেলসভিল এলাকায় হোয়াইট রিভারের পানি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর ইন্ডিয়ানাপোলিসের উত্তরাঞ্চলেও নদীর পানি ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। প্লাবনের আশঙ্কায় নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    ইন্ডিয়ানার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও ঝড়ের ঘটনায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কোথাও গাছ ভেঙে প্রাণহানি ঘটেছে, আবার কেউ বন্যার পানির স্রোতে ভেসে গেছেন। জরুরি উদ্ধারকর্মীরা বিপদগ্রস্ত মানুষকে উদ্ধার এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    কয়েক দিনের টানা ভারি বর্ষণে ইন্ডিয়ানার বিভিন্ন এলাকায় নদী ও খালের পানি দ্রুত বাড়তে থাকে। কোথাও কোথাও মাত্র দুই দিনে ১১ ইঞ্চির বেশি বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে হোয়াইট রিভারসহ বিভিন্ন নদীর পানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যায়।

    ইন্ডিয়ানাপোলিসে অন্তত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, এটি শতবর্ষে একবার দেখা দিতে পারে এমন মাত্রার বন্যার কাছাকাছি পৌঁছেছে। বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর, সড়ক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে।

    পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইন্ডিয়ানার গভর্নর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। পরে ফেডারেল সহায়তার জন্য অনুরোধ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জরুরি দুর্যোগ ঘোষণা অনুমোদন করেন। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে বিভিন্ন জরুরি সংস্থা কাজ করছে।

    হোয়াইট রিভারের পানি ধীরে ধীরে কমার অপেক্ষায় থাকলেও নতুন বৃষ্টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ নদী ও প্লাবিত এলাকার কাছাকাছি না যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়দের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

  • অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুততম টেস্ট জয়ী দ্বিতীয় দল এখন বাংলাদেশ

    অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুততম টেস্ট জয়ী দ্বিতীয় দল এখন বাংলাদেশ

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দলটি ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে চলমান দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে।

    প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বিশাল লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৪ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ফলে জয়ের জন্য মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য পায় সফরকারীরা। প্রথম ইনিংসে শতক করা তানজিদ হাসান তামিম মাত্র পাঁচ বল খেলে শূন্য রানে ফিরে গেলেও কোনো বিপদ হয়নি। মাত্র ১৪ দশমিক ২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

    এই ঐতিহাসিক জয়ের ফলে গত ৩০ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জেতা এশিয়ার মাত্র দ্বিতীয় দল হলো বাংলাদেশ। এর আগে এই সময়ে কেবল ভারতই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিতেছিল। পাকিস্তানের সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া জয় এসেছিল ১৯৯৫ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে।

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জিততে পাকিস্তানকে সপ্তম প্রচেষ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ভারতকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল নিজেদের ১২তম টেস্ট পর্যন্ত। সেখানে বাংলাদেশ মাত্র তৃতীয় টেস্টেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয়ের কীর্তি গড়েছে।

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জিততে বাংলাদেশের চেয়ে কম ম্যাচ লেগেছে কেবল ইংল্যান্ডের।

    ডারউইনে রোববারের স্মরণীয় জয়ের আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে মাত্র দুটি টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। দুটি ম্যাচই হয়েছিল ২০০৩ সালের জুলাইয়ে। দুটিতেই ইনিংস ব্যবধানে জয় পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জিততে যে কয়টি ম্যাচ লেগেছে…

    ইংল্যান্ড — ২ ম্যাচ, ১৮৭৭ সালে ৪ উইকেটে জয়

    বাংলাদেশ — ৩ ম্যাচ, ২০২৬ সালে ৯ উইকেটে জয়

    দক্ষিণ আফ্রিকা — ৩ ম্যাচ, ১৯১১ সালে ৩৮ রানে জয়

    ওয়েস্ট ইন্ডিজ — ৫ ম্যাচ, ১৯৩১ সালে ৩০ রানে জয়

    পাকিস্তান — ৭ ম্যাচ, ১৯৭৭ সালে ৮ উইকেটে জয়

    নিউজিল্যান্ড — ৭ ম্যাচ, ১৯৮৫ সালে ইনিংস ও ৪১ রানে জয়

    ভারত — ১২ ম্যাচ, ১৯৭৭-৭৮ সালে ২২২ রানে জয়

    শ্রীলঙ্কা — এখনো জিততে পারেনি

    জিম্বাবুয়ে — এখনো জিততে পারেনি

    বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে বড় অবদান রেখেছেন পেসার হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে তিনি ৬ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়ার তিন ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান।

    অন্যদিকে দ্বিতীয় ইনিংসে স্পিন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ ৬৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন।

    তবে পাঁচ উইকেট নেওয়ার আগে ব্যাট হাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মেহেদী। সাত নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১৫৪ বলে ৬৫ রান করেন তিনি। এর আগে তানজিদ হাসান তামিম ১৯৭ বলে ১০১ এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১২৬ বলে ৮৪ রান করেন।

  • লা লিগা মাঠে গড়াচ্ছে আজ

    লা লিগা মাঠে গড়াচ্ছে আজ

    ক্লাব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় আসর ‘লা লিগা’ মাঠে গড়াচ্ছে আজ। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় দেপোর্টিভো আলভেস-গেতাফে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে দীর্ঘ এ লড়াই। তবে প্রথম সপ্তাহে লা লিগার দুই জায়ান্টের কোনো ম্যাচ নেই। ২৪ আগস্ট রাত দেড়টায় এলচের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপা মিশন শুরু করবে বার্সেলোনা। তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ লিগ শুরু করবে ২৩ আগস্ট রাত দেড়টায় এস্পানিওলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। তৃতীয় শক্তি হিসেবে খ্যাত অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ নামবে ২০ আগস্ট রাত ১টায় মালাগার বিপক্ষে।

    ২৪ আগস্ট রাত দেড়টায় এলচের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপা মিশন শুরু করবে বার্সেলোনা। তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ লিগ শুরু করবে ২৩ আগস্ট রাত দেড়টায় এস্পানিওলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। তৃতীয় শক্তি হিসেবে খ্যাত অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ নামবে ২০ আগস্ট রাত ১টায় মালাগার বিপক্ষে।

    রিয়াল-বার্সার ম্যাচ এত দেরিতে শুরু হওয়ার কারণ, এ দুই দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় বিশ্বকাপ খেলে ক্লান্ত। তাদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতেই সপ্তাহখানেক দেরিতে ফেলা হয়েছে দুই জায়ান্টের ম্যাচ। এর মধ্যে বার্সার জার্মান কোচ হ্যান্সি ফ্লিক অন্য রকম একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামছেন। একবিংশ শতাব্দীতে বার্সেলোনার চারজন কোচ তাদের প্রথম দুই মৌসুমেই টানা লা লিগে জিতেছেন। তাদের মধ্যে কেবল পেপ গার্দিওলাই লা লিগার হ্যাটট্রিক শিরোপা জিততে পেরেছিলেন। হ্যান্সি ফ্লিক কি পারবেন তাঁকে স্পর্শ করতে? তাঁর জন্য কাজটা ভীষণ কঠিন হতে চলেছে। কারণ সেন্টার ফরোয়ার্ড ছাড়াই লিগ শুরু করতে হচ্ছে বার্সাকে।

    আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার জুলিয়ান আলভারেজের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই কথা পাকা করে রেখেছিল বার্সা। কিন্তু অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ বেঁকে বসায় আলভারেজের বার্সায় আসা হচ্ছে না। এরই মধ্যে বর্ষীয়ান ফরোয়ার্ড রবাট লেভানডস্কিকে ছেড়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা ফেরান তোরেসও পিএসজিতে চলে গেছেন। তাদের অভাব পূরণে বার্সা এখন কোনো সেন্টার ফরোয়ার্ড পাচ্ছে না। হ্যান্সি ফ্লিক ও স্পোর্টিং ডিরেক্টর ডেকো এখন হন্যে হয়ে সেন্টার ফরোয়ার্ড খুঁজছেন। শেষ পর্যন্ত তারা স্পোর্টিং লিসবন থেকে কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজকে আনার চেষ্টা করছেন। বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জেতা রদ্রির ট্রান্সফার নিয়েও ম্যানসিটির সঙ্গে দর কষাকষি চলেছে। এর পরও লামিনে ইয়ামাল, রাফিনহা, পেদ্রি, গাভি, দানি ওলমো, কুবার্সিরা রয়েছেন। বরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে তরুণ জার্মান ফরোয়ার্ড করিম আদিয়েমিকে টেনেছে তারা।

    বার্সার এই হ্যাটট্রিক শিরোপা ছিনিয়ে নিতে ১৩ বছর পর আবার হোসে মরিনহোকে কোচের দায়িত্ব দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। দলবদলের বাজারেও ভীষণ সক্রিয় তারা। মরিনহোর চাওয়া মতো এরই মধ্যে চেলসি থেকে বিশ্বকাপজয়ী লেফট-ব্যাক মার্ক কুকুরেয়া, লিভারপুল থেকে ফরাসি সেন্টার ব্যাক ইব্রাহিম কোনাতে, ম্যানসিটি থেকে পর্তুগিজ মিডফিল্ডার বার্নার্দো সিলভা, ইন্টার মিলান থেকে রাইট-ব্যাক ডেনজেল ডামফ্রিসকে দলে ভিড়িয়েছে তারা। লাইপজিগ থেকে রেকর্ড ১৪০ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফি দলে টেনেছে তরুণ আইভরিয়ান প্রতিভা ইয়ান দিয়ামান্দেকে।

    আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো কিলিয়ান এমবাপ্পে-ভিনিসিয়ুস জুনিয়র জুটি ভাঙতে দেননি মরিনহো। ভিনির নতুন চুক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা দূর করায় নতুন উদ্যমে মাঠে নামবেন তারা।

    আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো কিলিয়ান এমবাপ্পে-ভিনিসিয়ুস জুনিয়র জুটি ভাঙতে দেননি মরিনহো। ভিনির নতুন চুক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা দূর করায় নতুন উদ্যমে মাঠে নামবেন তারা। টানা দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতা এমবাপ্পে যে রিয়ালের তারকাপুঞ্জে সবচেয়ে বড় তারা, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ভিনিও কম যান না, নতুন চুক্তিই প্রমাণ করে রিয়ালের কাছে ব্রাজিলিয়ান এ তারকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ডের জার্সিতে গত বিশ্বকাপে ৭ গোল করা জুড বেলিংহামও কম যান না। এই ত্রয়ীর ওপরই নির্ভর করছে রিয়ালের শিরোপা উদ্ধার মিশন।

  • পরাজয়ের শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া, ডারউইন টেস্ট কি বাংলাদেশের হতে চলেছে

    পরাজয়ের শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া, ডারউইন টেস্ট কি বাংলাদেশের হতে চলেছে

    ম্যাচটা চতুর্থ দিনে যাবে কি না সংশয় হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত গিয়েছে। তবে পঞ্চম দিনে যাওয়ার সম্ভাবনা যে খুবই কম, আজ এই বিশ্বাস নিয়েই ঘরে ফিরে গেছেন ডারউইনের দর্শকেরা।

    ‘বিশ্বাস’ বলাটা কি ঠিক হলো! অস্ট্রেলিয়ানরা তো নিশ্চিতভাবেই চাইবে টেস্টটা শেষ দিনে যাক। তাহলেই তাদের মানসম্মান কিছুটা বাঁচার সম্ভাবনা থাকবে। চতুর্থ দিনে শেষ হওয়ার যে সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে, সেটা তো আসলে বাংলাদেশের পক্ষে! কাল টেস্ট শেষ হওয়া মানে তো বাংলাদেশেরই জয় আসলে।

    ভাবতে একটু অন্য রকমই লাগছে যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে একটি টেস্ট যেন চতুর্থ দিনে শেষ হয়ে যায়, সেই পালে হাওয়া দেওয়া দলটির নাম বাংলাদেশ! আর স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া মনেপ্রাণে চাইছে যেন তা না হয়। কাল তাদের দ্বিতীয় ইনিংসটা যেন এতটাই লম্বা হয় যে শেষ দিনেও অন্তত লড়াইটা করা যায়।

    টেস্টের আয়ু নিয়ে এই আলোচনার কারণটা ডারউইন টেস্টে স্কোরকার্ডের দিকে তাকালেই পরিষ্কার হবে। আজ তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের চেয়ে এখনো পিছিয়ে ৬৭ রানে। এর আগে টেলএন্ডারদের দৃঢ়তায় ২২৮ রানের লিড নিয়ে লাঞ্চের পরপর বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৪২৬ রানে। টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। ২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টের প্রথম ইনিংসে করা ৪২৭–ই এখনো সর্বোচ্চ।

    সকালের সেশনে টেল এন্ডারদের নিয়ে দারুণ ব্যাট করেন মিরাজ

    বাংলাদেশের লিড ২০৬ অতিক্রম করার পর থেকেই ইতিহাসের পাতা চোখ রাঙাতে শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়াকে। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসেই যে কখনো ঘরের মাঠে প্রথম ইনিংসে ২০৬ রানের বেশি পিছিয়ে থাকা ম্যাচে জেতেনি তারা! অর্থাৎ ডারউইনে জিততে ঘরের মাঠে প্রথম ইনিংসে সবচেয়ে বেশি রানে পিছিয়ে থাকার ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার রেকর্ড গড়তে হবে তাদের।

    কিন্তু তৃতীয় দিনে শেষ সেশনে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া যেভাবে উইকেট হারাতে শুরু করল, তাতে রেকর্ডটা নতুন করে লিখতে একটু কষ্টই হওয়ার কথা তাদের। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ এবারও কাঁপিয়ে দিয়েছেন স্বাগতিকদের শুরুটা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বোল্ড করেছেন ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ডকে এবং ট্রাভিস হেডকে ১১তম ওভারে। হাসানকে কাট করতে গিয়েছিলেন হেড। কিন্তু শরীরের কাছাকাছি থাকা বলটা ব্যাটে লেগে ভেঙে দেয় স্টাম্প।

    ৩৭ রানে ২ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়ার ভরসা তখন মারনাস লাবুশেন আর স্টিভেন স্মিথের তৃতীয় উইকেট জুটি। ৩৬ রানের জুটিতে দুজনই মোটামুটি থিতু হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু ২০তম ওভারের শেষ বলে তাইজুল ইসলাম ৫৯ বলে ৩১ রান করা লাবুশেনেকে বোল্ড করে দিলে আরেকবার কেঁপে ওঠে স্বাগতিকেরা। স্মিথ ফিরেছেন আরেকটু এগিয়ে, ৪৪ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে। অস্ট্রেলিয়া ১২২ রানে চতুর্থ উইকেট হারানোর পর ডারউইনের প্রেসবক্সে আলোচনা—টেস্টটা চতুর্থ দিনে যাবে তো!

    আবারও হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড ট্রাভিস হেড

    ক্যামেরন গ্রিন তো বটেই, অস্ট্রেলিয়ারও সৌভাগ্য যে তাসকিন আহমেদের একটি বল তাঁর স্টাম্পে লাগলেও বেলস পড়েনি। অবিশ্বাস্যভাবে স্টাম্পে আঘাত করে বলটা ছাড়িয়ে গেছে বাউন্ডারিও! সেই সৌভাগ্য নিয়েই অস্ট্রেলিয়া দিন শেষ করেছে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে।

    ডারউইন টেস্টটা যে তৃতীয় দিন শেষে এই জায়গায় দাঁড়িয়ে, সেটির বড় কৃতিত্ব প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের টেলএন্ডের ব্যাটিংয়ের। কিন্তু সেখানে কোনটি বিশেষ? নাথান লায়নকে স্লগ সুইপে ডিপ মিড উইকেটের ওপর দিয়ে মারা ইবাদত হোসেনের বিশাল ছক্কা? নাকি হাসান মাহমুদের ১৪ রান করার ছলে ৯২টি বল খেলে যাওয়া!

    অস্ট্রেলিয়ানরা বলবে—এর কিছুই নয়। ঝামেলা তো পাকিয়েছে আমাদের ফিল্ডাররা। এক সেশনে তিনটা ক্যাচ ফেলে কেউ? তা–ও আবার এক ওভারে দুইটা। ক্যাচ ফেললে টেলএন্ডার ব্যাটসম্যান কেন, শিশুরাও রান করত পারবে।

    মিরাজের ব্যাটে ভর করে লিড দুই শ পেরিয়ে যায় বাংলাদেশের

    যে যেভাবেই দেখুক, আজ ডারউইন টেস্টের আরও একটি দিনকে শুরু থেকেই বাংলাদেশ করে নিয়েছিল নিজেদের এবং সে কৃতিত্বের প্রায় পুরোটাই টেলএন্ডারদের দারুণ ব্যাটিংয়ের। ১৫৪ বলে মিরাজের ৬৫–কে খুঁটি বানিয়ে সেটাকে চক্কর দিয়ে ব্যাটিং করে গেছেন আগের দিনের অপরাজিত হাসান, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ আর ইবাদত।

    কাল দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের লেজের দিকের ব্যাটিং শুরু হয়েছিল ৮৩.৩ ওভারে, মুশফিকুর রহিমের আউটের পর রান তখন ৬ উইকেটে ৩০৮। মিরাজের সঙ্গে এরপর কালকের শেষ সেশন আর আজকের প্রথম সেশন মিলিয়ে টেলএন্ডাররাই অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের দিয়ে বল করিয়েছেন ৫২.৩ ওভার। এই সময়ে রান যোগ হয়েছে আরও ১১৮, যার ৭৫–ই এসেছে আজ। এসব কারণেই সম্ভবত হ্যাজলউড ৬ উইকেট নিয়ে টেস্টে ৩০০ উইকেটের মাইলফলকের দেখা পেলেও অর্জনটি অস্ট্রেলিয়ানরা ঠিক উদ্‌যাপন করতে পারেনি।

    জুটিগুলোর দিকেও একটু তাকিয়ে দেখুন। মিরাজ–হাসানের সপ্তম উইকেটে ৪৬, মিরাজ–তাইজুলের অষ্টম উইকেটে ১৮, মিরাজ–তাসকিনের নবম উইকেটে ৪, এমনকি তাসকিন–ইবাদতের শেষ উইকেটে ৮ রান, যার মধ্যে ইবাদতের ওই ছক্কাটাও আছে।

    মারারা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে টেস্টের তৃতীয় দিনটাও দারুণ কাটল বাংলাদেশের সমর্থকদের

    টুপিখোলা অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য টেলএন্ডারদের এই কীর্তিতেই তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন পার করে লাঞ্চের পরও ৫ ওভার ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ। হাসান, ইবাদতের কথা তো বলাই হলো, মাঝে এক ছক্কা এক চারে তাইজুলের ২৩ বলে ১৭ আর তাসকিনের দুই বাউন্ডারি মেশানো ৩২ বলে অপরাজিত ১৪ রানের ইনিংস দুটির সময়ও মনে হয়নি অস্ট্রেলিয়ার পেস–বাউন্স খুব একটা ভোগাচ্ছে তাঁদের। হ্যাঁ, তিনটা ক্যাচ পড়েছে প্রথম সেশনে, যার দুটি আবার এক ওভারে।

    কিন্তু তাতে কী! তানজিম হাসান তো আগের দিনই বলে দিয়েছেন, ক্যাচ ধরবে–ক্যাচ পড়বে এসব খেলারই অংশ।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    অস্ট্রেলিয়া : ১৯৮ ও ৫৩ ওভারে ১৬১/৪ (স্মিথ ৪৪, গ্রিন ৪৩*, লাবুশেন ৩১, হেড ১৭, ক্যারি ৭*; হাসান ২/৩৩, তাসকিন ০/৩৮, ইবাদত ০/৩৮, তাইজুল ১/২৮, মিরাজ ১/২০)। বাংলাদেশ: ৪২৬।

  • বিজেপি সরকার না হলে আমি তৃণমূলেই থাকতাম: রচনা ব্যানার্জি

    বিজেপি সরকার না হলে আমি তৃণমূলেই থাকতাম: রচনা ব্যানার্জি

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপির বিজয়ের পর অনেকের মতো তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়েছেন টলিউড অভিনেত্রী ও ভারতের লোকসভার সংসদ সদস্য (এমপি) রচনা ব্যানার্জি। তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার বিষয়ে নানা জন নানা কারণ বললেও রচনা বললেন, বিজেপি না জিতলে তিনি তৃণমূলেই থাকতেন।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের খবরে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চুঁচুড়ার বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগের ‘ভারতমাতার পূজা’য় অংশ নেন এমপি রচনা। সেখানে দলবদলের কারণ স্পষ্ট করে হুগলি থেকে নির্বাচিত এ এমপি বলেন, ‘অনেক কাজ করেছি। আরও তিন বছর এমপি আছি। আরও কিছু কাজ করতে হবে। আমি বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম বুঝি না। মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে মিলে সেই কাজ করব।’

    ‘অনেক কাজ করেছি। আরও তিন বছর এমপি আছি। আরও কিছু কাজ করতে হবে। আমি বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম বুঝি না। মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে মিলে সেই কাজ করব।’

    রচনার দাবি এমপি হওয়ার পর প্রথম প্রথম নাকি তিনি সাধারণ মানুষের জন্য কোনো কাজ করার সুযোগ পাননি। তখন নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে কেন্দ্রের ‘আর্থিক বঞ্চনা’র কথা বলতেন। রচনা বলেন, ‘আমি অনেকের কাছে গিয়েছি। বলাগড়ের নদী ভাঙন থেকে রেল সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি।

    তিনি বলেন, কেন্দ্র-রাজ্য দড়ি টানাটানির সমস্যা থেকে রেহাই পেতে ডবল ইঞ্জিন সরকারের দরকার রয়েছে। না হলে উন্নয়ন কার্যত অসম্ভব।

    এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঢালাও প্রশংসাও করেন রচনা। তার দাবি, এই অল্প সময়ের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে যথেষ্ট ভালো কাজ করেছেন শুভেন্দু।

    চব্বিশের লোকসভা ভোটে ‘দিদি নম্বর ওয়ান’-এর সেটে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতির প্রসঙ্গও তোলেন রচনা। তিনি বলেন, ‘আমি সাধারণ মেয়ে নই। মমতা বুঝেছিলেন, তাই তিনি ‘‘দিদি নম্বর ওয়ান’’-এর সেটে গিয়েছিলেন। উনি জানতেন, আমি আসব না। লকেটের বিরুদ্ধে আমাকে কেন প্রার্থী করা হয়েছিল? তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা আছে।’

    অকপট রচনা বলেন, ‘বিজেপি সরকার না হলে আমি তৃণমূলেই থাকতাম।’

    ‘আরবানা’ বিতর্ক নিয়েও মুখ খোলেন রচনা। আফসোসের সুরে তিনি বলেন, ‘আমাকে এক এমপি আক্রমণ করেছিলেন। তাই জবাব দিয়েছি। একটা ছোট ফ্ল্যাটে থাকতাম। স্বপ্ন দেখতাম আরবানায় থাকার। মা-বাবাকে রাখার। সেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে। আগে কোনো দিন কাউকে বলিনি। আমিও গড়িয়াহাট থেকে কাপড় কিনি। আমার মা গড়িয়ায় থাকেন। আমার মন্তব্য নিয়ে বন্ধুরা কিছু বলেনি। তবে কিছু লোক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছে। এখন মনে হয়, আরবানা মন্তব্য না করলেই ভালো হতো।’

  • দেবের থেকে পিছিয়ে জিৎ!

    দেবের থেকে পিছিয়ে জিৎ!

    ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বড়পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে টালিউড মেগাস্টার জিতের বায়োপিক ধর্মী সিনেমা ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’। তবে এ সিনেমা মুক্তির ঠিক আগমুহূর্তে টালিউডের চিরপরিচিত দেব-জিৎ রেষারেষি উসকে সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করলেন প্রযোজক রানা সরকার।

    অভিনেতা জিতের নতুন সিনেমার অগ্রিম বুকিংয়ের গতিকে খোঁচা দিতেই এক বছর আগের দেব ও শুভশ্রী অভিনীত ‘ধূমকেতু’ সিনেমার হাউসফুল অগ্রিম বুকিংয়ের স্ক্রিনশট শেয়ার করে বিতর্ক তৈরি করলেন এ প্রযোজক।

    সামাজিক মাধ্যমে ‘ধূমকেতু’ সিনেমার টিকিটের চাহিদা তুলে ধরে জিতের ভক্ত-অনুরাগীদের উসকে দিয়ে রানা সরকার লিখেছেন, ‘টজিদ্দার ফ্যানদের একটু উৎসাহ দেওয়ার জন্য এ পোস্ট…। এক বছর আগে ১৪ আগস্ট (সিনেমা) রিলিজের দুদিন আগে ১২ আগস্ট এটি ছিল ধূমকেতুর আগাম বুকিং দুটি সিনেমা প্লেক্সে, কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাতের আগাম বুকিং খুলে গেছে, তাড়াতাড়ি করুন জিৎ ভক্তরা, প্রমাণ করুণ জিৎ সেরা।’

    এই পোস্টের মাধ্যমে প্রযোজক স্পষ্ট বোঝাতে চান যে, মুক্তির মুখে জিতের নতুন সিনেমার টিকিট বিক্রির গতি দেবের পুরোনো রেকর্ড ভাঙা ‘ধূমকেতু’-র অগ্রিম বুকিংয়ের তুলনায় পিছিয়ে।

    রানার এ উসকানিমূলক তুলনার কড়া সমালোচনা করেন জিতের ক্ষুব্ধ ভক্তরা। এভাবে এক তারকার সিনেমার সঙ্গে অন্য তারকার তুলনা টেনে খাটো করাকে ‘পরপীড়ক বিকৃত মানসিকতা’ বলে তোপ দাগেন জিতের এক অনুরাগী। তিনি কমেন্ট বক্সে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন— আপনি কি এসব করে খুব মজা পান? এ রকম স্য়াডিস্ট মেন্টালিটি কেন?

    তবে ট্রল বা ভক্তদের ক্ষোভের মুখেও পিছু হটেননি রানা সরকার। সেই কটাক্ষের উত্তর দিতে গিয়ে জিতের ভক্তদের উদ্দেমৈ আরও একটি বিস্ফোরক মন্তব্য ছুড়ে দেন তিনি। প্রতিবাদকারী অনুরাগী ও জিতের ফ্যান ক্লাবের উদ্দেশে প্রযোজক পাল্টা লেখেন— কী, চ্যালেঞ্জ একসেপ্ট করবে না?’ দেব বনাম জিৎ— এই দ্বৈরথ বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বরাবরের। স্বাধীনতা দিবসেও মুখোমুখি লড়াইয়ে নামবার জল্পনা তৈরি হয়েছিল দুই তারকার। তবে গত মাসেই নিজের আসন্ন সিনেমা ‘বাইক অ্য়াম্বুলেন্স দাদা’র মুক্তি অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেন দেব।

    যদিও জিৎ জানিয়েছেন— এ ব্যাপারে তার সঙ্গে দেবের কোনো কথা হয়নি। পুরোটাই নাকি দেব ও নন্দী মুভিজের সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে দেবের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্তরে তার কোনো মনোমালিন্য নেই বলেও জানান জিৎ।

    রানা সরকারের এই উত্তর যেন চলতি বক্স অফিস লড়াইয়ে নতুন আগুনে ঘি ঢেলে দিল। প্রযোজক বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন— একে সস্তা তুলনা না ভেবে সুস্থ প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করুক অনুরাগী মহল। সব মিলিয়ে স্বাধীনতা দিবসের বক্স অফিস যুদ্ধের আগে দেব-জিতের এই ভার্চুয়াল রেষারেষি এখন তুঙ্গে!

  • তানজিদ–নাজমুলের পর আবার হাসান, ডারউইনে দ্বিতীয় দিনও বাংলাদেশের

    তানজিদ–নাজমুলের পর আবার হাসান, ডারউইনে দ্বিতীয় দিনও বাংলাদেশের

    ছয় সেশনের মধ্যে কেবল একটিতেই একটু হাসি–আনন্দ করতে পারল অস্ট্রেলিয়ানরা। সেটিও আজ দিনের শেষ সেশনে। সারা দিনে বাংলাদেশের যে পাঁচটি উইকেট অস্ট্রেলিয়া নিতে পেরেছে, এই সেশনেই এসেছে তার তিনটি। এটুকু বাদ দিলে ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনের মতো আজ দ্বিতীয় দিনটাও ছিল বাংলাদেশেরই।

    একটি সেঞ্চুরি, একটি সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগানো ইনিংস, একটি শতোর্ধ্ব রানের জুটি এবং শতরানের কাছাকাছি আরেকটি জুটি মিলিয়ে বোলিংয়ের মতো প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংয়েও বাংলাদেশের জ্বলজ্বলে পারফরম্যান্স। হাসান মাহমুদের আগুনে পুড়ে গতকাল অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় ১৯৮ রানে। আজ দ্বিতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান করে বাংলাদেশ এগিয়ে ১৫৩ রানে। ডারউইনে এমন কিছুর জন্য নিশ্চয়ই প্রস্তুত ছিল না অস্ট্রেলিয়া। তবে দ্বিতীয় দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশকেই কৃতিত্ব দিয়ে গেছেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার বো ওয়েবস্টার।

    বাংলাদেশকে এমন দিন এনে দেওয়ার মূল কৃতিত্ব ওপেনার তানজিদ হাসান ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই তানজিদ করেছেন প্রথম সেঞ্চুরি। তাঁর ১৯৭ বলে ১০১ রানের ইনিংসটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই টেস্টে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম সেঞ্চুরি। নাজমুল শতরানের দেখা পাননি, তবে বাংলাদেশের আরেকটি ভালো দিনে ১২৬ বলে তাঁর ৮৪ রানের ইনিংসেরও আছে বড় ভূমিকা।

    ডারউইনে এখন শীতকাল হলেও সেই শীতের ধরনটা কেমন, তা বোঝা গেল আজ দুপুরে স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় ভেসে ওঠা এক সতর্কবার্তায়; যাতে বলা হয়েছে, তাপমাত্রা অনেক বেশি। সবাই যেন পর্যাপ্ত পানি পান করে এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার করে।

    সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে আউট হন নাজমুল

    নাজমুল যে সময়ে উইকেটে আসেন, ডারউইনের এই গা জ্বালানো রোদের ‘শীতে’ও বাংলাদেশের ইনিংসে তখন বসন্তের হাওয়া। জশ হ্যাজলউডের করা অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বলে মারতে গিয়ে প্রথম সেশনে মুমিনুল হক কট বিহাইন্ড হয়ে যান ফিফটি থেকে মাত্র ১ রান দূরে থাকতে। কিন্তু যাওয়ার আগে দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদের সঙ্গে গড়ে দিয়ে যান ১০২ রানের জুটি। বাংলাদেশের সাড়ে তিন শ পেরিয়ে যাওয়ার প্রথম ভিত গড়ে দিয়েছিল সেটাই।

    স্কোরবোর্ডে ২ উইকেটে ১৩৮ রান, উইকেট তখনো বেশ ব্যাটিং–বান্ধব। মুমিনুল ফিরে যাওয়ার পর তানজিদের সঙ্গে অধিনায়ক নাজমুলের কাজ ছিল আরেকটি বড় জুটির সঙ্গী হওয়া, নিজেও বড় ইনিংস খেলা।

    দুটিতেই সফল বলতে হবে তাঁকে। তানজিদের সেঞ্চুরির একটু আগেই নাজমুল পূর্ণ করেন নিজের ফিফটি, সেঞ্চুরির পরপর তানজিদ আউট হওয়ার আগে তৃতীয় উইকেটে দুজনের জুটি দাঁড়ায় ৯৩ রানের। নাথান লায়নের একটা বল লং অফে পাঠিয়ে ১ রান নিয়ে নাজমুল ফিফটি পেয়ে যান ৭৪ বল খেলেই।

    সেঞ্চুরি করে উদ্‌যাপন তানজিদের

    টেস্ট ক্রিকেটে এর আগে ১৫ বার ফিফটি করে ৯ বারই তিন অঙ্কে পৌঁছেছেন। নাজমুলের ফিফটি হলেই তাই সেঞ্চুরির সুবাস ছড়াতে শুরু করে। ডারউইন টেস্টেও তা হলে বাংলাদেশের স্বপ্নের পরিধিটা আরও বড় হতে পারত। কিন্তু হ্যাজলউড নতুন বল হাতে নেওয়ার পরই ছোটখাটো একটা বিপর্যয়, নাজমুলকে দিয়েই যার শুরু।

    নতুন বলে একটু বেশি বাউন্স পেয়েছিলেন হ্যাজলউড। অফ স্টাম্পের বাইরের সে বলটা ঠিকঠাক সামলাতে না পেরে স্লিপে স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে নয় নাজমুলকে। তাতে ভেঙে যায় মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে তাঁর ৯৮ বলে ৬৬ রানের জুটি।
    দলের ২৯৭ রানে নাজমুল আউট হয়েছেন ৮২তম ওভারে। এরপর ৮৫ ও ৮৬তম ওভারে কামিন্স আর মিচেল স্টার্কের বলে বাংলাদেশে হারায় আরও দুই স্বীকৃত ব্যাটসম্যান লিটন দাস আর মুশফিকুর রহিমকে। ৩ উইকেটে ২৯৭ থেকে বাংলাদেশের স্কোর মাত্র ৫ ওভারের মধ্যে হয়ে যায় ৩০৮/৬।

    দিনের তখনো অনেকটা খেলা বাকি ছিল বলে মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশ হয়তো অলআউটই হয়ে যাবে আজ। ব্যাট করার মতো আর তো ছিলেন কেবল মেহেদী হাসান মিরাজ, অন্যদের মূল পরিচয় বোলার।

    কিন্তু বল হাতে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ ব্যাট হাতেও মিরাজের সঙ্গে এমনই দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন যে বাংলাদেশকে অলআউট করতে অপেক্ষায় থেকেই দিন শেষ হলো অস্ট্রেলিয়ার।

    পাকা ব্যাটসম্যানের মতোই খেলেন হাসান মাহমুদ

    সপ্তম উইকেটে ২৪.৩ ওভার অবিচ্ছিন্ন থেকেছে মিরাজ–হাসানের সপ্তম উইকেট জুটি; এই সময়ে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে যোগ হয়েছে আরও ৪৩ রান। ৭৩ বলে ৩২ রানে অপরাজিত মিরাজের সঙ্গে হাসানের স্কোরটাই বেশি বিস্ময় জাগায়। দুটি বাউন্ডারি মেরে তিনি অপরাজিত ১৬ রানে, তবে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের চরম হতাশা উপহার দিয়ে বল খেলেছেন ৭৬টি। শেষ দিকে আর উইকেট ফেলতে না পেরে অন্য পথেও গিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা। কিন্তু তাঁদের স্লেজিং মনঃসংযোগে কোনো ব্যাঘাতই ঘটাতে পারেনি মিরাজ–হাসানের।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১১০ ওভারে ৩৫১/৬ (তানজিদ ১০১, নাজমুল ৮৪, মুমিনুল ৪৯, মুশফিক ৩৬, মিরাজ ৩২*, হাসান ১৩* ; স্টার্ক ২/৬৮, হ্যাজলউড ২/৬৮, কামিন্স ১/৫০)। অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮। —দ্বিতীয় দিন শেষে।

  • ভারতের জায়গায় ফিফা আসিয়ান কাপে খেলতে চায় বাংলাদেশ

    ভারতের জায়গায় ফিফা আসিয়ান কাপে খেলতে চায় বাংলাদেশ

    সুযোগটা হঠাৎই এসেছে বাংলাদেশের সামনে। ফিফার অর্থায়নে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় আসিয়ান কাপের অংশ হওয়ার পথে বাংলাদেশ। মূলত ভারতের সরে দাঁড়ানোতেই খুলেছে এই দরজা। শেষ মুহূর্তে পাওয়া আমন্ত্রণ গ্রহণের ব্যাপারে আজ ইতিবাচক সিদ্ধান্তের দিকেই এগিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

    আজ বিকেলে জাতীয় দল কমিটির বিশেষ সভায় টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত কমিটির সদস্যরা বাংলাদেশকে আসিয়ান কাপে পাঠানোর ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছেন। এখন ফিফার নিশ্চয়তার অপেক্ষা।

    বাংলাদেশের জন্য এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা, এ নিয়ে বাফুফেকে বাড়তি আর্থিক চাপ নিতে হচ্ছে না। আয়োজকদের পক্ষ থেকেই অংশগ্রহণকারী দলগুলোর যাতায়াত ও আবাসনের খরচ বহন করা হবে। টুর্নামেন্টের জন্য দলগুলোকে অর্থও দেওয়া হবে।

    ফিফার অর্থায়নে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় হবে টুর্নামেন্টের ডিভিশন-১। অংশগ্রহণকারী ৮ দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রুপে চারটি করে দল। ভারতের জায়গায় বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলবে।

    এই টুর্নামেন্টের ফরম্যাটেও রয়েছে ভিন্নতা। গ্রুপ পর্ব শেষে দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি খেলবে ফাইনালে। শুধু শিরোপার লড়াইয়েই শেষ নয় প্রতিযোগিতা। দুই গ্রুপের রানার্সআপ দল খেলবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। দুই গ্রুপের তৃতীয় হওয়া দলগুলো মুখোমুখি হবে পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। আর গ্রুপে চতুর্থ হওয়া দল দুটি খেলবে সপ্তম স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। তাই টুর্নামেন্টে চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ।

    ৩ অক্টোবর কলকাতায় ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলবে ভারত। সেই ম্যাচকে সামনে রেখে আসিয়ান কাপ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করেছে তারা। ফলে ফিফার নতুন এই টুর্নামেন্টে ভারতের ফাঁকা জায়গায় বাংলাদেশের জন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে।

  • অ্যান্টার্কটিকার বরফ থেকে সমুদ্রে মিশছে বিষ, বিস্মিত বিজ্ঞানীরা

    অ্যান্টার্কটিকার বরফ থেকে সমুদ্রে মিশছে বিষ, বিস্মিত বিজ্ঞানীরা

    পৃথিবীতে মানবসভ্যতা যত এগিয়েছে, তত বিপন্ন হয়েছে বরফাচ্ছাদিত মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকা। বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলছে দ্রুত গতিতে। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে এ বার পৃথিবীর সর্ব দক্ষিণের এই বিশাল মহাদেশ অন্য এক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, অ্যান্টার্কটিকা থেকে বিষাক্ত ধাতু ক্রমাগত মিশছে সমুদ্রে। শিগগিরৈই যার প্রভাব পড়তে পারে মানবসভ্যতার ওপর।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে সব রাসায়নিককে মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে, তার প্রথম ১০ টির তালিকায় রয়েছে পারদ। সামান্য মাত্রাতেও এটি বিষাক্ত। অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলে দিনের পর দিন সেই পারদই মিশছে সমুদ্রে।

    সাধারণভাবে আগ্নেয়গিরি থেকে এবং কিছু ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পারদ পরিবেশে মেশে। তবে সেই পরিমাণ তেমন উদ্বেগের নয়। বিজ্ঞানীদের দাবি, শিল্পের প্রয়োজনে আরো বেশি করে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, মাটিতে খননকার্যের ফলে পরিবেশে পারদের মাত্রা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছে। তাতেই ঘনিয়েছে বিপদ। এখানে অবশ্য আগেই মানব সভ্যতার ত্রাতা হয়ে দাঁড়িয়েছে অ্যান্টার্কটিকা। বছরের পর বছর ধরে এই মহাদেশের বরফ ‘পারদ শোষক’ হিসেবে কাজ করে আসছে। অর্থাৎ, পরিবেশ থেকে পারদ শুষে নেয় অ্যান্টার্কটিকা। তার বরফে আটকে থাকে বিপুল পরিমাণ পারদ-দূষণ!

    কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। যে সব ভারী শিল্পের কারণে পরিবেশে পারদ নির্গত হচ্ছে, সেগুলোই আবার গ্রিনহাউস গ্যাসও উৎপন্ন করছে। ফলে বায়ুমণ্ডলে এই ধরনের গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে। আর এই সব বিষাক্ত গ্যাস অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলিয়ে দিচ্ছে। অর্থাৎ, যে বরফরাশি শিল্পে উৎপন্ন পারদ শোষণ করে দূষণ আটকাচ্ছে, সেই বরফই গলে যাচ্ছে সেই শিল্প ও বায়ুদূষণের কারণে। ফলে বরফের পারদ শোষণে হিতে বিপরীত হচ্ছে। সম্প্রতি অ্যান্টার্কটিকায় এই সমীকরণই চোখে পড়েছে বিজ্ঞানীদের।

    চিনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি অ্যান্টার্কটিকার বরফ ও পারদ দূষণ নিয়ে একটি গবেষণা করেছেন। নেতৃত্বে ছিলেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিদ চেংঝেন ঝোউ। ‘প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস’-এ তারা গবেষণার ফলাফল ব্যাখ্যা করেছেন এবং অ্যান্টার্কটিকার পরিস্থিতি বর্ণনা করেছেন। গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে পিএনএএস পত্রিকায়। অ্যান্টার্কটিকার যে অংশের বরফ পরিবেশ দূষণের কারণে সবচেয়ে দ্রুত গলে যাচ্ছে, তাকে বিজ্ঞানীরা অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপ হিসেবে চিহ্নিত করেন। সেখানকার পলির নমুনা বিশ্লেষণ করতে গিয়েই উদ্বেগের কারণ ধরা পড়েছে।

    সারাবিশ্বে যেখানে যত পারদ সঞ্চিত হয়, অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপের বরফে তার দ্বিগুণ পরিমাণ পারদ জমে। বিজ্ঞানীদের দাবি, অষ্টাদশ শতকে ইউরোপে শিল্পবিপ্লব হওয়ার পর এই অংশে পারদ সঞ্চয়ের হার ১৬০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল।

    পারদ দূষণের দু’টি চক্র পরিবেশে সক্রিয়। এক, বায়ুমণ্ডল থেকে সমুদ্রের পানিতে পারদ শোষিত হতে পারে এবং সেখান থেকে আবার তা বাতাসে মিশতে পারে। দুই, অ্যান্টার্কটিকার মতো বরফসমৃদ্ধ এলাকায় পারদ বায়ুমণ্ডল থেকে হিমবাহে শোষিত হয়। সেখান থেকে স্থলভাগ হয়ে আবার সমুদ্রে মেশে। ঝোউ গবেষণাপত্রে লিখেছেন, ‘এই দুই চক্রের সংযোগের ফলে বরফ গলে স্থলভাগে পারদের নির্গমন ৫৫০ শতাংশ এবং বায়ুমণ্ডল থেকে সমুদ্রে পারদের বিনিময় ৩৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।’ এ ভাবে অ্যান্টার্কটিকার সুবিশাল পারদের ভান্ডার ধীরে ধীরে দূষণের উৎসে পরিণত হয়েছে।

    একটি পুরনো গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, অ্যান্টার্কটিকার বরফে এমন এক ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, যা পারদকে শক্তিশালী নিউরোটক্সিন মিথাইল মার্কারিতে পরিণত করতে সক্ষম। এই মৌল সামুদ্রিক প্রাণীদের দেহেও জমা হয়। সেখান থেকে তা আসতে পারে মানুষের দেহে। ঝোউ বলেন, ‘অ্যান্টার্কটিকায় পারদ দূষণের বর্তমান পরিস্থিতি সেখানকার বাস্তুতন্ত্রেক ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।’

    বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, দক্ষিণের মহাসাগরে প্রাণীদের দেহে পারদের মাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা আগের রেকর্ডকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপ থেকে স্রোতের মাধ্যমে খোলা সমুদ্রে পারদ নির্গমনের মাত্রা বেড়েছে ৪০০ শতাংশ। এই দূষণ আগামী দিনে আরো দূরের সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।