আর্ন্তজাতিক

  • টেস্ট বিশ্বকাপের ফাইনালের দৌড়ে বাংলাদেশ, বাদ পাকিস্তান

    টেস্ট বিশ্বকাপের ফাইনালের দৌড়ে বাংলাদেশ, বাদ পাকিস্তান

    বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার লড়াই থেকে ছিটকে গেছে পাকিস্তান আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আছে বাংলাদেশসহ ৭টি দল। তবে প্রত্যেকের সামনে আলাদা সমীকরণ।

    পয়েন্টের শতাংশ অনুযায়ী শীর্ষে থাকা দুটি দল টেস্ট বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলে। কার সামনে কী অঙ্ক তা দেখে নেওয়া যাক।

    ১) অস্ট্রেলিয়া (পয়েন্ট ৮৪, পয়েন্টের শতাংশ ৭৭.৭৮)

    সবচেয়ে ভাল জায়গায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের বাকি আর ন’টি ম্যাচ। তার মধ্যে পাঁচটি জিতলেই ফাইনালে ওঠার পাকা প্যাট কামিন্সদের।

    ২) দক্ষিণ আফ্রিকা (পয়েন্ট ৩৬, পয়েন্টের শতাংশ ৭৫.০০)

    দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকারও বাকি রয়েছে ন’টি টেস্ট। তার মধ্যে ছ’টি জিততে হবে টেম্বা বাভুমাদের।

    ৩) নিউজিল্যান্ড (পয়েন্ট ৫২, পয়েন্টের শতাংশ ৭২.২২)

    প্রথম বার চ্যাম্পিয়ন নিউ জ়িল্যান্ডের সামনে রয়েছে আটটি ম্যাচ। তার মধ্যে পাঁচটি জিতলে আরও এক বার ফাইনালে উঠবে তারা।

    বাংলাদেশ (পয়েন্ট ৪০, পয়েন্টের শতাংশ ৬৬.৬৭)

    অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম টেস্টে হারিয়ে নিজেদের সুযোগ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। বাকি ন’টি টেস্টের মধ্যে সাতটি জিততে হবে তাদের।

    ৪) বাংলাদেশ (পয়েন্ট ৪০, পয়েন্টের শতাংশ ৬৬.৬৭)

    অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম টেস্টে হারিয়ে নিজেদের সুযোগ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। বাকি ন’টি টেস্টের মধ্যে সাতটি জিততে হবে তাদের।

    ৫) ভারত (পয়েন্ট ৫২, পয়েন্টের শতাংশ ৪৮.১৫)

    শুভমন গিলদের বাকি রয়েছে ন’টি টেস্ট। তাঁদেরও অন্তত সাতটি টেস্ট জিততে হবে। নইলে আরও এক বার ব্যর্থ হতে হবে ভারতকে।

    ৬) শ্রীলংকা (পয়েন্ট ২০, পয়েন্টের শতাংশ ৪১.৬৭)

    বাকি আটটি ম্যাচের মধ্যে পাঁচটি জিততে হবে তাদের। ড্র করতে হবে দু’টি। একটির বেশি টেস্ট হারলেই শ্রীলঙ্কার সুযোগ শেষ।

    ৭) ইংল্যান্ড (পয়েন্ট ৩৮, পয়েন্টের শতাংশ ২৪.৩৬)

    বাকি সব টেস্ট জিততে হবে ইংল্যান্ডকে। তবেই তাদের ফাইনাল খেলার সুযোগ থাকবে।

    এই সাত দেশের নিজেদের মধ্যে খেলা রয়েছে। ফলে এক দল জিতলে অপর দল হারবে। তাই পরিসংখ্যান প্রতি ম্যাচের পরেই বদলে যাবে।

  • প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ জানালেন ক্রাউন প্রিন্স সালমান

    প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ জানালেন ক্রাউন প্রিন্স সালমান

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের এইচ. বিন আবিয়াহ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এই আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন এ তথ্য জানিয়েছেন।

  • সার্কভুক্ত দেশগুলোর শিশু ক্যানসার রোগীর ৭০ শতাংশই ভারতে

    সার্কভুক্ত দেশগুলোর শিশু ক্যানসার রোগীর ৭০ শতাংশই ভারতে

    দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) ৮টি সদস্য দেশের মধ্যে রেকর্ড হওয়া মোট শিশু ক্যানসার রোগীর প্রায় ৭০ শতাংশই ভারতের। চিকিৎসা বিষয়ক বিখ্যাত সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ – সাউথইস্ট এশিয়া’-তে প্রকাশিত এক নতুন জনসংখ্যা ভিত্তিক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর এনডিটিভির।

    গবেষণায় ২০২২ সালের ‘গ্লোবোক্যান’-এর তথ্যের ভিত্তিতে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভূটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় শিশুদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুর হার বিশ্লেষণ করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে সার্ক অঞ্চলে আনুমানিক মোট ৩৭,৭১৬টি শিশু নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে কেবল ভারতেই শনাক্ত হয়েছে ২৫,৯৩৯টি শিশু, যা পুরো অঞ্চলের মোট আক্রান্তের ৬৮.৮ শতাংশ।

    দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থানে থাকা পাকিস্তানে আক্রান্তের সংখ্যা ৭,৮৪১ জন (২০.৮ শতাংশ)।

    তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, কেবল বিপুল জনসংখ্যার কারণেই ভারতের এই আধিপত্য নয়। বয়সভিত্তিক ক্যানসারের হার এবং মৃত্যুহারের মধ্যে দেশভেদে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে, যা মূলত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতা, দ্রুত ক্যানসার শনাক্তকরণ ও সঠিক চিকিৎসার সুযোগের বৈষম্যকে নির্দেশ করে।

    সার্কভুক্ত দেশগুলোতে শিশু ক্যানসারের চিত্র (২০২২):

    গবেষণার প্রাক্কলন অনুযায়ী সার্ক অঞ্চলে ২০২২ সালে ৩৭,৭১৬ জন নতুন আক্রান্তের পাশাপাশি প্রায় ১৭,৬৯৮ জন শিশু মৃত্যুবরণ করেছে।

    আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা-র মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় ক্যানসার নজরদারি ব্যবস্থা এখনো সব জায়গায় সমান নয়। তবে ভারতে এটি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ভারতের চেন্নাইভিত্তিক প্রথম ডেডিকেটেড শিশু ক্যানসার রেজিস্ট্রি জানিয়েছে, ২০২২-২৩ সালে প্রতি ১০ লাখ শিশুর মধ্যে ১৩৬ জন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছে এবং চিকিৎসা গ্রহণে দুই বছর বেঁচে থাকার হার ছিল ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ।

    সার্ক অঞ্চলের ৮টি দেশেই শিশুদের ক্ষেত্রে ‘লিউকেমিয়া’ (রক্তের ক্যানসার) সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে, যা মোট আক্রান্তের ৩৫ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ‘সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম’ বা স্নায়ুতন্ত্রের টিউমার, যা প্রায় ১২ শতাংশ কেসের জন্য দায়ী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈশ্বিক তথ্যের সঙ্গেও এই বিন্যাস হুবহু মিলে যায়।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শিশুদের ক্যানসার প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যানসারের থেকে বেশ আলাদা।

    জীবনযাত্রার ধরণ বা অসচেতনতার কারণে শিশুদের ক্যানসার হয় না এবং সাধারণ স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে এটি আগেভাগে প্রতিরোধ করাও সম্ভব নয়। ফলে কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই এর মূল প্রতিষেধক।

    মৃত্যুহারে এত বড় ব্যবধানের কারণ কী?

    গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ‘মর্টালিটি-টু-ইনসিডেন্স রেশিও’ বা আক্রান্তের বিপরীতে মৃত্যুর হারের ব্যবধান।

    সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে এই অনুপাত শ্রীলঙ্কায় সবচেয়ে কম (০.৩০), আর আফগানিস্তানে সবচেয়ে বেশি (০.৫৭)। অর্থাৎ শ্রীলঙ্কায় শনাক্ত হওয়া শিশুদের মধ্যে মৃত্যুর হার অনেক কম, কিন্তু আফগানিস্তানে অনেক বেশি। বিশেষ করে স্নায়ুতন্ত্রের টিউমারের ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার মারাত্মক। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যবধানই প্রমাণ করে যে দেশগুলোর চিকিৎসা অবকাঠামো এবং বিশেষায়িত সেবার ক্ষেত্রে কতটা বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, উন্নত দেশগুলোতে ক্যানসারে আক্রান্ত ৮০ শতাংশের বেশি শিশু পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলেও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই হার এখনো ৩০ শতাংশের নিচে। দেরিতে শনাক্তকরণ, ভুল চিকিৎসা, আর্থিক অসচ্ছলতা, চিকিৎসা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেই মৃত্যুর ঘটনা বেশি ঘটছে।

    গবেষকরা ভারতের জন্য দুটি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন—প্রথমত সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং দ্বিতীয়ত প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা পৌঁছানো।

    প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে গবেষকরা সার্ক অঞ্চলে আন্তঃদেশীয় সহযোগিতা বাড়ানো, দেশভিত্তিক শক্তিশালী ক্যানসার রেজিস্ট্রি স্থাপন করা এবং লিউকেমিয়াসহ বিভিন্ন ক্যানসারের ক্ষেত্রে একটি মানসম্মত ও সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করার ওপর জোর দিয়েছেন।

    শিশুদের ক্যানসার কি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য?

    হ্যাঁ, সময়মতো শনাক্ত করা গেলে এবং সঠিকভাবে চিকিৎসা দিলে শিশুদের অধিকাংশ ক্যানসারই পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কেমোথেরাপি, অস্ত্রোপচার, রেডিয়েশন ও আধুনিক থেরাপির মাধ্যমে শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যায়।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী শিশু ক্যানসারে বেঁচে থাকার হার অন্তত ৬০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সাউথ এশিয়ায় বর্তমান চ্যালেঞ্জ হলো—একটি শিশুর বেঁচে থাকা যেন কেবল সে কোন দেশে জন্মেছে বা পরিবার চিকিৎসা খরচ চালাতে পারছে কিনা, তার ওপর নির্ভর না করে। ভৌগোলিক ও আর্থিক বাধা পেরিয়ে সবার জন্য উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।

  • ভারতের স্বাধীনতা উদযাপনে জয়া আহসান, কটাক্ষ শ্রীলেখার

    ভারতের স্বাধীনতা উদযাপনে জয়া আহসান, কটাক্ষ শ্রীলেখার

    নারীদের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং সমমর্যাদার বার্তা দিতে কলকাতায় আয়োজিত হয় ‘ফ্রিডম বিয়ন্ড মিডনাইট’ শীর্ষক পদযাত্রা। ভারতের স্বাধীনতা দিবস ছিল গতকাল শনিবার। এ উপলক্ষে ১৪ আগস্ট রাতে অনুষ্ঠিত নারীদের এই আয়োজনে টালিউডের নারী শিল্পীদের সঙ্গে অংশ নেন বাংলাদেশের অভিনেত্রী জয়া আহসান।

    পশ্চিমবঙ্গের সংবাদ দ্য ওয়াল-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই পদযাত্রায় অংশ নেন প্রায় ৫ হাজার নারী। উপস্থিত ছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, চৈতি ঘোষাল, ইন্দ্রাণী হালদার, ইমন চক্রবর্তী, পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায়, লাজবন্তী রায়, ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়, মৌবনী সরকার, মুমতাজ সরকার, রিচা শর্মার মতো তারকারাও।

    এ পদযাত্রায় জয়াকে হাঁটতে দেখে অনেকেই ভ্রু কুঁচকেছেন। অনেকেই আবার করছেন সমালোচনা। টালিপাড়ার অন্যতম ঠোঁটকাটা অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র তাদেরই একজন। জয়া আহসানকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন তিনি। নবমিতা বসুর একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন তিনি। সেখানে লেখা আছে, ‘জয়া আহসান কবে থেকে ভারতীয় হয়ে উঠল, প্লিজ জানাবেন। আজন্ম আমি জেনে এসেছি- ১৫ আগস্ট ভারতবর্ষ স্বাধীন হয়েছিল? আর কদিন আগে অবধি “দিপু দাস হত্যাকাণ্ড” নিয়ে ভারতবর্ষ তোলপাড় হয়েছিল। রিসেন্টলি দিলীপ ঘোষ মহাশয় ভারতীয় মুসলমান গোষ্ঠীকে নামাজ পড়তে হলে পাকিস্তান চলে যাওয়ার সাজেশন অবধি দিয়েছেন। জয়া আহসান হচ্ছেন সনাতনী, পিউর, আদি ও আসল ভারতীয়। নেতাজির পূর্বপুরুষ। আমার উত্তর চাই কেন? জয়া আহসান থেকে তাসলিমা নাসরিন, তা হলো- তাদের জন্মভূমির কাছে দেশদ্রোহী।’

    আর পোস্টটি শেয়ার করে শ্রীলেখা লিখেছেন, ‘ধর্ম… ধান্দা… ও দেশপ্রেম…। বাকিরা দেশদ্রোহী…। হিংটিংছট।’

  • উ. কোরিয়া-রাশিয়ার সম্পর্ক আরো দূড় হচ্ছে- কিম ও পুতিন

    উ. কোরিয়া-রাশিয়ার সম্পর্ক আরো দূড় হচ্ছে- কিম ও পুতিন

    উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। জাপানি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির বার্ষিকী উপলক্ষে পরস্পরকে পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তায় তারা এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

    রোববার (১৬ আগস্ট) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের ৮১তম বার্ষিকী উপলক্ষে পুতিনের পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তার জবাব দেন কিম জং উন।

    পুতিন তার বার্তায় বলেন, সোভিয়েত সেনাদের জাপানের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে উঠেছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ভবিষ্যতেও আরও বিস্তৃত হবে।

    জবাবে কিম জং উন দুই দেশের যৌথ সংগ্রামের ইতিহাস ও দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে সম্পর্ক আরও উন্নয়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    সামরিক সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পিয়ংইয়ং ও মস্কোর সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সমর্থন দিতে উত্তর কোরিয়া সেনা ও অস্ত্র সরবরাহ শুরু করার পর দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা আরও বেড়েছে।

    কোরীয় যুদ্ধের পর এটি কোনো বিদেশি সংঘাতে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় সম্পৃক্ততা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা সম্প্রসারণে দক্ষিণ কোরিয়া এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগও বৃদ্ধি পেয়েছে।

    এদিকে মুক্তি দিবসের বার্ষিকী উপলক্ষে রাশিয়ার নৌবাহিনীর জাহাজ পালাদা শনিবার উত্তর কোরিয়ার ওনসান বন্দরে সৌহার্দ্য সফরে পৌঁছায়। কেসিএনএ জানায়, উত্তর কোরিয়ার স্থানীয় কর্মকর্তারা এবং রুশ দূতাবাসের প্রতিনিধিরা জাহাজটিকে স্বাগত জানান।

    সংলাপের আহ্বান দক্ষিণ কোরিয়ার

    অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং মুক্তি দিবসের অনুষ্ঠানে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নতুন করে সংলাপ শুরুর আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, দুই কোরিয়ার মধ্যে সংঘাত এড়াতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরিবর্তে একটি স্থায়ী শান্তি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

    উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধ যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে শেষ হলেও কোনো শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। ফলে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।

    লি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ আলোচনায় উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সিউলের সংলাপের প্রস্তাবগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে পিয়ংইয়ং। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে তারা বারবার ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড’ বলে সমালোচনা করে আসছে।

  • দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রতীক ইয়াসুকুনি মন্দিরে যাননি জাপানের প্রধানমন্ত্রী

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রতীক ইয়াসুকুনি মন্দিরে যাননি জাপানের প্রধানমন্ত্রী

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের ৮১ তম বার্ষিকীতে বিতর্কিত ইয়াসুকুনি মন্দিরে যাননি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তবে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমির মন্দিরটি পরিদর্শন ঘিরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। দক্ষিণ কোরিয়াও ইতিহাসের বেদনাদায়ক অধ্যায় স্মরণ করে জাপানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সতর্কতার বার্তা দিয়েছে।

    টোকিওর ইয়াসুকুনি মন্দিরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত প্রায় ২৪ লাখ জাপানিকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। তাঁদের মধ্যে ১৪ জন যুদ্ধাপরাধীও রয়েছেন। এ কারণে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে মন্দিরটি জাপানি সামরিকতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চীন, কোরিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল দখল করে নিয়েছিল জাপান।

    রোববার (১৬ আগস্ট) যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি আগে আত্মসমর্পণ দিবসে মন্দিরটি পরিদর্শনের প্রতিশ্রুতি দিলেও এবার সেখানে যাননি। তাঁর এই পদক্ষেপ চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইঙ্গিত দেখছেন বিশ্লেষকেরা। তবে গতকাল শনিবারের (১৫ আগস্ট) ভাষণে তিনি এশিয়ায় জাপানের যুদ্ধকালীন আগ্রাসন ও নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেননি এবং এর জন্য অনুশোচনাও প্রকাশ করেননি।

    অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কোইজুমি মন্দিরে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তাঁর সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের আরও তিন নেতা সেখানে শ্রদ্ধাঞ্জলিও রাখেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাপানি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই সফরের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযোগ করেছে, এর উদ্দেশ্য যুদ্ধাপরাধীদের দায় পুনর্বিবেচনা করা, জাপানের যুদ্ধাপরাধ আড়াল করা এবং ইতিহাস বিকৃত করে দেশটির সামরিকীকরণ ত্বরান্বিত করা।

    বেইজিং জাপানকে ‘গভীর আত্মসমালোচনা’ করার এবং সামরিকতন্ত্র থেকে দূরে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

    দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বলেন, দুই দেশের অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাসের যন্ত্রণায় এখনো যারা ভুগছেন, তাঁদের প্রতি সম্মান রেখেই নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

    এদিকে সম্রাট নারুহিতো যুদ্ধের ভয়াবহতা আর কখনো ফিরে না আসার আশা প্রকাশ করেছেন। অতীতের দিকে গভীর অনুশোচনা নিয়ে তাকিয়ে যুদ্ধের সময়কার দুর্ভোগের স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

  • আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য সতর্কবার্তা

    আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য সতর্কবার্তা

    বিশ্বজুড়ে ১১০টি দেশের আইফোন ব্যবহারকারীদের ফোনে অত্যন্ত বিপজ্জনক নজরদারি সফটওয়্যার বা ‘মার্সেনারি স্পাইওয়্যার’ হামলার আশঙ্কায় বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে অ্যাপল।

    এই সতর্কতাবার্তা মূলত সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে পাঠানো হয়, যাদের ফোনে রাষ্ট্রের মদদপুষ্ট সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি থাকে। সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিকদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিশানা করতে হামলাকারীরা কোটি কোটি ডলার খরচ করে এসব জটিল স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে। বহুল আলোচিত ‘পেগাসাস’ এ ধরনের নজরদারি সফটওয়্যারের একটি উদাহরণ।

    স্বল্প সময়ের জন্য সক্রিয় থাকায় এসব হামলা সাধারণ অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে সহজে শনাক্ত করা যায় না। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের এই ধরনের হামলার শিকার হওয়ার ঝুঁকি খুবই কম।

    যদি কোনো ব্যবহারকারী অ্যাপলের কাছ থেকে এ ধরনের সতর্কবার্তা পান, তবে দ্রুত ফোনের ‘লকডাউন মোড’ চালু করা এবং ‘অ্যাক্সেস নাও’-এর মতো সাইবার নিরাপত্তা সহায়তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    সাধারণ ব্যবহারকারীদের সাইবার ঝুঁকি থেকে নিরাপদে থাকতে কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিভাইসের সফটওয়্যার সবসময় আপডেট রাখা, শক্তিশালী পাসকোড ও ফেস বা টাচ আইডি ব্যবহার করা এবং অ্যাপল আইডিতে দ্বি-স্তরীয় প্রমাণীকরণ (টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন) চালু রাখা। এছাড়া শুধু অনুমোদিত অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করা এবং অচেনা কোনো লিংকে ক্লিক করা বা ফাইল নামানো থেকে বিরত থাকা উচিত।

  • এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়…

    এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়…

    সেই কবে ১৮৮২ সালের ওভালে গিয়ে প্রথমবার ব্রিটিশ সিংহকে খাঁচায় পুরেছিল অসিরা, আর বুক চাপড়ে দ্য স্পোর্টিং টাইমস লিখেছিল ইংরেজ ক্রিকেটের ‘মৃত্যুসংবাদ’। কল্পনায় সেই মৃতদেহ দাহ করে ছাই অস্ট্রেলিয়া নিয়ে গিয়েছে বলেও ব্যঙ্গ করেছিলেন সাংবাদিক রেজিনাল্ড শার্লি ব্রুকস। সেই থেকেই তো ছাই-ভস্মের সেই অ্যাশেজ সিরিজ। দেড় শতাব্দী পর ডারউইনের বাইশ গজে আজ কি তবে ক্যাঙারু-বধের পর অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়াও নিজেদের ক্রিকেটের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করবে?

    ডেভিড হুকস (ইনি সেই ভদ্রলোক, যিনি কিনা ২০০৩ সালে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে গেলে সিডনি মর্নিং হেরাল্ডে লিখেছিলেন– এক দিনের টেস্টের জন্য সবাই প্রস্তুত হও) বেঁচে থাকলে আজ হয়তো ঠিক এই হাহাকারটাই করতেন। অথচ কী আশ্চর্য, মাররা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কোনো শোরগোল হলো না, কোনো আগাম দামামা বাজল না; অথচ টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ মহাকাব্যে ঘটে গেল এক নিঃশব্দ রূপান্তর-পর্ব!

    কোনো সমঝদার বাংলাদেশি চাইলে ডারউইনের এই পুণ্যমাটি মুঠোভরে দেশে নিয়ে আসতেই পারেন। দলের সঙ্গে থাকা নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের কাছে সেই প্রত্যাশার কথা রাখতেই হাসিতে সম্মতি দিয়েছেন। এই শতাব্দীর পাকিস্তান যা পারেনি, আধুনিক ক্রিকেটের কোনো শ্রীলঙ্কান মায়াজাল যা করতে পারেনি, দীর্ঘ ২৩ বছর পর অসি মুলুকে ব্রাত্য ও উপেক্ষিত থাকার পর মাত্র এক সপ্তাহের আমন্ত্রণে এসে নাজমুল হোসেন শান্তর বাংলাদেশ সেটাই করে দেখাল! অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে অস্ট্রেলিয়াকেই টেস্টে হারাল। পরাশক্তির অহংকার চূর্ণ করে বাঘেদের এই জিগীষা দেখে আজ ডারউইনের গ্যালারি ছাড়িয়ে গোটা ক্রিকেটবিশ্ব থমকে দাঁড়িয়েছে।

    সুকান্তের সেই লাইনগুলো খুব মনে পড়ছে– ‘সাবাস বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়: জ্বলে-পুড়ে মর ছারখার, তবু মাথা নোয়াবার নয়।’ ডারউইনের সবুজগালিচায় আজ লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা যেন সেই অবিনাশী স্পর্ধার এক মহিমান্বিত উপাখ্যানই লিখে গেল!

    কোথায় টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের মগজে বসে থাকা ক্রিকেটের এক নম্বর রাজাধিরাজ অস্ট্রেলিয়া, আর কোথায় তলানির নবমতম স্থানে ধুঁকতে থাকা এক লড়াকু বাংলাদেশ! বোদ্ধাদের ক্রিকেটীয় খেরোখাতায় এই ম্যাচের ফলাফল তো টসের আগেই একতরফা লিখে রাখা হয়েছিল। অসম, অসমঞ্জস্য এবং অসমাপ্ত এক দ্বৈরথ। হয়েছেও অবশ্য তাই– অসম লড়াইয়েই জিতেছে বাংলাদেশ, প্রথমে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে; অসমঞ্জস্যও হয়েছে– সেখানে তানজিদ তামিমের সেঞ্চুরি আর মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের ইনিংসে ভর দিয়ে চার শতাধিক(৪২৬) রান তুলেছে বাংলাদেশ। এবং শেষ পর্যন্ত সাড়ে তিন দিনের অসমাপ্ত এক দ্বৈরথ– অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসেও ২৮৪ রানে গুটিয়ে দিয়েছে হাসান মাহমুদ-মেহেদী হাসানরা। যদিও এই জয়টিকে কেউ কেউ ‘আপসেট’ বলছেন। কিন্তু যেভাবে পুরো টেস্টের এগারো সেশনে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছেন শান্তরা, তাতে আপসেট বলাটা অসম্মানের মতোই।

    টেস্টটি শুরু হওয়ার আগেও অসি মিডিয়া দুদিন, না তিন দিনে তা শেষ হবে– প্যাট কামিন্সের কাছে জানতে চেয়েছিল। অতিথিদের নিয়ে একটা অবজ্ঞা ছিল তাদের মধ্যে। সেই জেদেই কিনা ট্রাভিস হেড-স্টিভ স্মিথদের অস্ট্রেলিয়াকেই কিনা সাড়ে তিন দিনে স্রেফ মুড়ি-মুড়কির মতো শাসন করল শান্তর বাংলাদেশ! হাসান মাহমুদের সেই সুইং আর মিরাজের ঘূর্ণিজালে যখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ক্যাঙারুদের দর্প, ডারউইনের আকাশ-বাতাস তখন সাক্ষী থাকল এক নতুন মহাজাগরণের। কোনো অলৌকিক মোজেজা বা ফ্লুক নয়; সাড়ে তিন দিন ধরে ক্রিকেটের কুলীন রাজাদের এভাবে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়া– তা তো আসলে বাঘেদের এক পঞ্জরীভূত লড়াকু মানসিকতা এবং ক্রিকেট ইতিহাসের তীব্রতম এক বৈপ্লবিক বিবর্তনের নাম! তা ছাড়া এটি অস্ট্রেলিয়ার ‘এ’, ‘বি’ কিংবা ‘সি’ দল খেলেছে বলেও জয়ের মাহাত্ম্য হালকা করা যাবে না। ট্রাভিস হেড, লাবুশেন, স্মিথ, গ্রিন, ক্যারি, কামিন্স, স্টার্ক, হ্যাজেলউড, লায়ন– রীতিমতো অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ জয়ী দল এটা।

    ম্যাচের মাঝে অসি পেসার হ্যাজেলউড অসহায়ের মতো স্বিকারক্তি দিয়েছিলেন এই বলে যে বাংলাদেশের এই দলের অনেক ক্রিকেটারের ভিডিও তাদের কাছে ছিল না। তারা অনেকটা অচেনা ছিল ! টেস্টের এক নম্বর দলের কেউ যখন এই কথা বলে তখন তার পেশাদারিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তোলা যায়। নয়তো তারা যে বাংলাদেশকে নিয়ে উদাসীন ছিলেন সেটা বোঝা যায়। তাদের নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচ ছিল এটি। অথচ তারা ডারউইনে এসেই ছিল দুই দিন আগে। ব্রিজবেনে দলের কেউ কেউ একসঙ্গে হলেও ক্যাম্পটি বেশি দিনের ছিল না। হয়ত তারা বাংলাদেশের নাম ভেবেই ধরে নিয়েছিল অত পড়ালেখার দরকার নেই। এমনও হতে পারে তারা পড়ে এসেছিল মুশফিক, তাসকিনদের মতো ক্রিকেটারদের, কিন্তু টেস্টের পরীক্ষায় এসেগেছে হাসান মাহমুদ, তানজিদ তামিম, মেহেদী হাসান মিরাজরা। যারা কিনা প্রায় দুই বছর ধরে এই সিরিজের জন্যই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। হাসান মাহমুদ ইংল্যান্ডের কেন্টে গিয়ে ট্রায়াল দিয়ে তাদের দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন। কাউন্ট খেলার সেই অভিজ্ঞতাটা তিনি কাজে লাগিয়েছেন এই ম্যাচে।

    ১৯৯৭ সালের কুয়াশাচ্ছন্ন কুয়ালালামপুরে আইসিসি ট্রফি জিতে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়ার সেই যে বাঁধভাঙা কান্না, কিংবা ২০০৭-এর ত্রিনিদাদে তারুণ্যের ঔদ্ধত্যে পরাক্রমশালী ভারতকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেওয়ার সেই অবিশ্বাস্য কীর্তি—বাঙালির আবেগের মণিকোঠায় এদের স্থান চিরন্তন। এর ঠিক দুই বছর পর, ২০০৯ সালে খোদ ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে গিয়ে উইন্ডিজদের হোয়াইটওয়াশ করার সেই মহাকাব্য, কিংবা ঘরের মাঠে ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ডের অহংকার গুঁড়িয়ে দেওয়ার সেই রোমাঞ্চকর টেস্ট জয়—সময়ের নিক্তিতে মেপে দেখুন, সেগুলোর কোনটির মূল্য কিন্তু এক রত্তি কম নয়! প্রতিটি জয়ই ছিল তৎকালীন প্রেক্ষাপটে, তখনকার চড়াই-উতরাইয়ের বাস্তবতায় আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসের একেকটি ‘সেরা’ বিজ্ঞাপন।

    মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের ২০২২ সালে সেই বিখ্যাত টেস্ট জয় কিংবা ২০২৪ রাওয়ালপিন্ডির বুক চিরে ইতিহাস ছিনিয়ে আনা—সবকিছুকে এক লহমায় ম্লান করে দিল ডারউইনের এই ৯ উইকেটের জয়। একে স্রেফ একটা ক্রিকেট ম্যাচ জেতা বললে ক্রিকেটের ব্যাকরণকে অপমান করা হয়; এটি আসলে বাইশ গজের এক নিঃশব্দ, নির্মম সাম্রাজ্য-খর্বতার উপাখ্যান! দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে যে ক্রিকেটীয় অস্পৃশ্যতার দেয়াল তুলে লাল-সবুজকে নিজেদের আঙিনায় ঢুকতে দেয়নি অজিরা, সিডনি–মেলবোর্নের মতো স্টেডিয়ামে আমন্ত্রন না জানিয়ে ডারউইনের মতো পার্কে খেলতে ডাকার মতো অবজ্ঞাকে পায়ে মারিয়ে এই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে শান্তরা।

    ডারউইনের এই মহাকাব্যিক বিজয়ের পর বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্রে বাংলাদেশের দিকে তাকানোর দৃষ্টিভঙ্গিটাই চিরতরে বদলে গেল; এখন থেকে লাল-সবুজের এই দলটিকে সবাই সমীহ আর পরম সম্মানের চোখে দেখবে। এতকাল যারা বাংলাদেশকে কেবলই ‘কন্ডিশনের সুবিধা নেওয়া’ হোম-টিম কিংবা অঘটন ঘটানো কোনো ক্ষণস্থায়ী দল হিসেবে ভাবত, তাদের সেই পুরনো চশমাটা আজ ভেঙে চুরমার। বিশ্ব ক্রিকেটের কুলীন প্রধানদের ডেরায় গিয়ে, তাদেরই পাতা ফাঁদে তাদের ধুলিসাৎ করে শান্তর দল প্রমাণ করল—বাংলাদেশ এখন আর কোনো ব্রাত্য বা করুণাপ্রার্থী দল নয়, বরং বাইশ গজের এক নতুন পরাশক্তি। ডারউইনের সবুজ গালিচায় আজ যে সম্মানের রাজমুকুট বাঘেরা মাথায় পরল, তা ক্রিকেট বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে এনে দিল এক পরম স্বীকৃতি ও চিরস্থায়ী কৌলিন্য।

  • ‘তোমরা আমাদের অবাক করে দিয়েছ’, মিরাজকে গিলক্রিস্ট

    ‘তোমরা আমাদের অবাক করে দিয়েছ’, মিরাজকে গিলক্রিস্ট

    ঐতিহাসিক জয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটারদের কাছ থেকে প্রশংসা পাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে কিংবদন্তি অ্যাডাম গিলক্রিস্টের প্রশংসা আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

    মিরাজ বলেন, ‘যেটা আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে, এখানে সব কিংবদন্তি খেলোয়াড়কে দেখেছি। আজ আমি পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর অ্যাডাম গিলক্রিস্ট আমার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, বিষয়টি আমার খুব ভালো লেগেছে।’

    গিলক্রিস্ট বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশংসা করেছেন বলেও জানান মিরাজ। ‘তিনি আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং বলেছেন, বাংলাদেশ খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে।’

    গিলক্রিস্ট বলেন, ‘তোমরা আমাদের অবাক করে দিয়েছ। আমরা কখনো ভাবিনি তোমরা এভাবে ক্রিকেট খেলতে পারো।’

    মিরাজের মত গিলক্রিস্টের এমন মন্তব্য বাংলাদেশের জন্য বিশেষ। ‘এমন একজন কিংবদন্তি যখন আমাদের দল সম্পর্কে এত ভালো কথা বলেন, তখন নিজের কাছেও খুব ভালো লাগে।’

  • মানসিক অসুস্থতায় থাকা ৫ হাজার সেনা নিয়ে ফিরে যাচ্ছে আব্রাহাম

    মানসিক অসুস্থতায় থাকা ৫ হাজার সেনা নিয়ে ফিরে যাচ্ছে আব্রাহাম

    যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২৬৬ দিন অভিযানে থাকার পর দেশে ফিরতে যাচ্ছে। এর মধ্যে অন্তত ২০০ দিন এটি সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হাং কাও এ কথা জানিয়েছেন।

    দীর্ঘ সময় ধরে রণতরিটির মোতায়েন থাকা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর নাবিকদের মধ্যে মনোবল কমে যাওয়া ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সমস্যার খবর প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য ও জাহাজটিতে কর্মরত নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা।

    হাং কাও বলেন, পরিকল্পিত পালাবদলের অংশ হিসেবে রণতরিটি শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাহাজের নাবিকদের কল্যাণ ও নিরাপত্তাই অগ্রাধিকার।

    হাং কাও বলেন, মিশনের প্রয়োজনেই লিংকনের মোতায়েনের সময় বাড়ানো হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের মোতায়েন কঠিন। আর যুদ্ধ অভিযান সেটিকে আরও কঠিন করে তোলে।

    দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনে উদ্বেগ

    সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের মধ্যে মার্কিন অভিযানকে সহায়তা করতে আব্রাহাম লিংকনকে পশ্চিম এশিয়ায় (মধ্যপ্রাচ্য) পাঠানো হয়। যুদ্ধটি এখন ষষ্ঠ মাসে পড়েছে। রণতরিটি ২৫০ দিনের বেশি সময় ধরে মোতায়েন রয়েছে।

    গত ২০০ দিনের বেশি সময়ে রণতরিটি কোনো বন্দরে নোঙর করেনি।

    হাং কাও বলেন, মোতায়েনের সময় জাহাজের নাবিকদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তাজা খাবারের সরবরাহ না থাকায় খাবারের তালিকায় পরিবর্তন আনতে হয়েছে। আবার অভিযান নিয়ে হুমকি বেড়ে গেলে বাড়িতে ফোন করার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

    নৌ সেক্রেটারি বলেন, মোতায়েনের সময় অল্পসংখ্যক নাবিক মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার জন্য চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।

    সিএনএন জানিয়েছে, গত মাসে রণতরিটি থেকে এক নাবিক পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করা হয় এবং চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন। ওই নাবিক পরে দায়িত্বে ফিরেছেন, নাকি তাঁকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

    মার্কিন নৌবাহিনীর নাবিকেরা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরির ফ্লাইট ডেকে ইলেকট্রনিক অ্যাটাক স্কোয়াড্রন ১৩৩–এর একটি ইএ–১৮জি গ্রোলার যুদ্ধবিমান টেনে নিচ্ছেন। ছবিটি ৩০ জুলাই ২০২৬–এ তোলা

    হাজারো অভিযান পরিচালনা

    আব্রাহাম লিংকন গত বছরের নভেম্বরে সান ডিয়েগোতে অবস্থিত নিজ ঘাঁটি থেকে যাত্রা শুরু করে। পরে এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করা হয়।

    হাং কাও বলেন, মোতায়েনের সময় রণতরিটি ১০ হাজারের বেশি উড্ডয়ন অভিযান পরিচালনা করেছে এবং ১৫ লাখ পাউন্ডের গোলাবারুদ নিক্ষেপ করেছে। তিনি আরও বলেন, মার্কিন বিমানবাহী রণতরিগুলোর মধ্যে এই জাহাজের নাবিকদের মোতায়েন রাখার হার অন্যতম সর্বোচ্চ।

    হাং কাও বলেন, ‘এতে কোনো সন্দেহ নেই যে আমাদের তরুণ নারী–পুরুষদের সক্ষমতার শেষ সীমা পর্যন্ত ঠেলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁরা কখনো ভেঙে পড়েননি।’

    তবে এই শীর্ষ কর্মকর্তা স্বীকার করেন, দীর্ঘ সময়ের যুদ্ধ অভিযান অনিশ্চয়তা ও নানা ধরনের বিঘ্ন তৈরি করে। সামরিক নেতৃত্বকে তাই অভিযানের প্রয়োজন ও সেনাসদস্যদের কল্যাণের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হয়।

    তবে যুদ্ধজাহাজটির নাবিক ও মেরিন সেনাদের ‘ভুক্তভোগী’ হিসেবে বর্ণনা করতেও আপত্তি জানান হাং কাও। তিনি বলেন, অভিযানজুড়ে তাঁরা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন।

    হাং কাও বলেন, ‘তাঁদের (মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্য) নিরাপত্তা ও সুরক্ষাই সব সময় প্রথম অগ্রাধিকার। রণতরিটি দেশে ফেরার পর এর নাবিকদের জন্য “বীরোচিত অভ্যর্থনা”র আয়োজন করা উচিত।’

    প্রসঙ্গত, সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমস, এনবিসি নিউজসহ বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর দায়িত্ব পালন শেষে কবে নাগাদ দেশে ফেরা যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে থাকা যুদ্ধজাহাজটির নাবিক ও সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটেছে। সেই সঙ্গে তাঁদের মধ্যে আত্মহত্যার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাবিকদের পরিবার ও সহকর্মীরা।

    এই উদ্বেগের কথা সরাসরি মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরেছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। সান ডিয়েগোতে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এক উত্তপ্ত টাউন হল সভায় হাং কাও ও অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সামনে পরিবারের সদস্যরা এ ক্ষোভ উগরে দেন। কর্মকর্তারা তাঁদের বক্তব্যের কোনো সরাসরি জবাব দেননি।

    সভায় নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মহত্যার ঝুঁকি নিয়ে পরিবারের সদস্যরা যে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, সে বিষয়ে নৌবাহিনী ঠিক কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা–ও সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি।

    তবে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, রণতরিটিতে পরামর্শক, চ্যাপলিন (ধর্মীয় শিক্ষক), বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, অন্যান্য জরুরি সহায়তাসহ মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক বা ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

    মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। ছবিটি ১০ মার্চ ২০২৬–এ তোলা

    পরিবারের সদস্য ও নাবিকদের অভিযোগ, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে থাকা প্রায় পাঁচ হাজার সেনাসদস্য চরম খাদ্য ও পানিসংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চিঠি বা ডাক যোগাযোগে বিঘ্ন এবং একটানা দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, যেখানে বিশ্রামের সুযোগ মেলাই ভার।

    বর্তমানে নাবিক ও ক্রুদের মনোবল এতটাই ভেঙে পড়েছে যে তাঁরা সামনে কোনো বন্দরে বিশ্রামের সুযোগও চান না; বরং যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরতে চান। এক নাবিকের আকুতি, ‘এ মুহূর্তে আসলে আমাদের আর কোনো প্রত্যাশা নেই। আমরা শুধু বাড়ি ফেরার একটি সুনির্দিষ্ট তারিখ চাই।’