অর্থ ও বাণিজ্য

  • দেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য সুখবর

    দেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য সুখবর

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকাল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে বাজেট উপস্থাপন শুরু হয়।

    বাজেট অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবীক্রম)। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট।

    দেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের জন্যও সুখবর রয়েছে। রপ্তানি আয় থেকে প্রাপ্ত নগদ প্রণোদনার ওপর উৎসে করের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে তা ৫ শতাংশ করা হতে পারে।

    এতে রপ্তানি খাতে অর্থের প্রবাহ বাড়বে। তবে সরকার প্রায় ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে। তৈরি পোশাক খাতসহ প্রায় ৪৩টি খাতে বর্তমানে রপ্তানি প্রণোদনা দেওয়া হয়। এসব খাতে প্রণোদনার হার ০ দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত। অবশ্য রপ্তানি আয়ের বিপরীতে উৎসে কর আগের মতোই এক শতাংশ রাখা হয়েছে।

  • দাম বাড়তে পারে, কমতে পারে যেসব পণ্য ও সেবার

    দাম বাড়তে পারে, কমতে পারে যেসব পণ্য ও সেবার

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করছেন।

    আজ বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে তিনি বাজেট প্রস্তাব পেশ করা শুরু করেন। এটা বিএনপি সরকারের এই মেয়াদের প্রথম বাজেট। এই বাজেটে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ককর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

    আবার কিছু কিছু পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ককর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বাজেটের শুল্ককর প্রস্তাব ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়ে যায়।

    সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুল্ককর কমানোর পণ্যসংখ্যাই বেশি।

    দাম বাড়তে পারে

    সিগারেট

    সিগারেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্য নিম্নস্তরের ক্ষেত্রে প্রতি ১০ শলাকা ৬২ টাকা, মধ্যম স্তর ৯২ টাকা, উচ্চ স্তর ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তর ২১০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এতে সিগারেটের দাম বাড়বে।

    নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচকে জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী এর ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করছেন।

    তেলচালিত গাড়ি

    পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ডিজেল, অকটেন বা পেট্রলচালিত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা কমিয়ে আনতে মধ্যম সারির ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসির (ইঞ্জিনক্ষমতা) ইন্টারনাল কম্বাশন ইঞ্জিনবিশিষ্ট আমদানি করা গাড়ির ওপর করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১৫৬ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব গাড়ির দাম বাড়বে।

    বিদেশি কাজুবাদাম

    দেশীয় চাষ ও উৎপাদনকে উৎসাহিত করার জন্য অপ্রক্রিয়াজাত ও প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক যথাক্রমে ১ শতাংশ ও ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। তবে দেশে উৎপাদকদের জন্য অপ্রক্রিয়াজাত কাজুবাদাম আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিদেশি কাজুবাদামের দাম বাড়বে।

    বিদেশি পাঙাশের ফিলে

    দেশীয় মৎস্য প্রক্রিয়াকরণশিল্পকে সুরক্ষা দিতে আমদানি করা পাঙাশ মাছের ফিলের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ হয়েছে।

    বিদেশি গ্যাস সিলিন্ডার

    কম্পোজিট এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডার আমদানিতে আমদানি পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) আরোপ করা হয়েছে। এতে এর দাম বাড়তে পারে।

    বিদেশি মধু

    বিদেশ থেকে প্রাকৃতিক মধু আমদানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য ইউনিটপ্রতি ২ ডলার বাড়িয়ে ৭ ডলার করা হয়েছে। এতে এই মধু আমদানিতে শুল্ককর বেশি দিতে হবে, যা দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।

    বিদেশি সুপারি

    বিদেশ থেকে সুপারি আমদানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য ইউনিটপ্রতি দশমিক ২৫ ডলার বাড়ানো হয়েছে। এতে এই সুপারি আমদানিতে শুল্ককর বেশি দিতে হবে।

    বিদেশি খাদ্য

    সুগার কনফেকশনারি, কফি, তৈরি খাবার ইত্যাদি আমদানিতে বিভিন্ন হারে শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানো হয়েছে। এতে এসব খাদ্য আমদানিতে শুল্ককরের চাপ বাড়বে।

    বিদেশি লিপ লাইনার ও জেল

    লিপ লাইনার, লিপ জেল ও সমজাতীয় পণ্য আমদানির শুল্কায়নমূল্য বাড়ানো হয়েছে।

    রড

    রড তৈরির বিভিন্ন উপকরণের ওপর ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে। এতে রডের দাম বাড়তে পারে।

    অন্যান্য

    শুল্ককর ও শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানোর কারণে বিদেশি টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার ও বেসিন, বিদেশি ফোম, বিদেশি মাইক্রোওয়েভ ওভেন, সাইকেল ও যন্ত্রাংশ, খেলনা ইত্যাদির দাম বাড়তে পারে।

    দাম কমতে পারে

    ৬০টি নিত্যপণ্য

    ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ, ১ শতাংশ হতে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, বিগত বছরগুলোয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনে যে নাভিশ্বাস উঠেছিল, তার বিপরীতে গণতান্ত্রিক সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই পদক্ষেপ জনজীবনে স্বস্তি আনবে।

    শিশুখাদ্য

    আমদানি করা শিশুখাদ্য প্রস্তুতিমূলক সামগ্রীর ওপর আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে (শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে)। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এতে বাজারে শিশুখাদ্যের দাম কমবে।

    জিরা, দারুচিনি

    জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ, গোলমরিচ, ধনিয়া ইত্যাদি মসলায় ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    খেজুর

    খেজুর আমদানিতে ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে দাম কমতে পারে।

    সোনার গয়না

    সোনা সরবরাহে উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ভ্যাট ছিল আগে ৫ শতাংশ। ফলে আড়াই লাখ টাকার সোনায় ভ্যাট দাঁড়াত সাড়ে ১২ হাজার টাকা। এখন তা কমিয়ে ভরিপ্রতি আড়াই হাজার টাকা করা হয়েছে।

    বৈদ্যুতিক গাড়ি

    বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইলেকট্রিক ভেহিকেলে (ইভি) নানা ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এতে এসব গাড়ির দাম অনেকটা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ দেওয়ার স্টেশন বসাতে ব্যাটারি ও অন্যান্য সরঞ্জামে বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। যেমন বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে করভার ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের ক্ষেত্রে ৬৪ শতাংশ এবং ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকেলের ক্ষেত্রে করছাড় দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষে (বিআরটিএ) নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন ও নবায়নের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক গাড়ির অগ্রিম আয়করের পরিমাণ কমানো হয়েছে।

    ল্যাপটপ ও কম্পিউটার

    ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, কম্পিউটার প্রিন্টার ও কম্পিউটার মনিটর আমদানির ক্ষেত্রে সমুদয় আমদানি শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা

    ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এর ফলে কিডনি রোগীর প্রতিবার ডায়ালাইসিস সেবায় ব্যয় প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমবে।

    ওষুধ

    ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে নানা ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ক্যানসারের ওষুধ তৈরির নতুন ৯টি কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি–সুবিধা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

    বাদ্যযন্ত্র

    গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিন ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্র এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক পুরো প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা এবং সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা ও প্রজেক্টরের খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

    অন্যান্য

    শুল্ককর কমানো এবং শুল্কায়ন মূল্যে পরিবর্তনের কারণে বিদেশী মাংস, প্রাণিখাদ্য, পয়েন্ট অব সেলস বা পিওস যন্ত্র, সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জাম, লিপস্টিক, ফেসওয়াশসহ বিভিন্ন প্রসাধন এবং আরও নানা পণ্যের দাম কমতে পারে।

  • তামাকপণ্য আরও সহজলভ্য হবে, সরকার হারাবে অতিরিক্ত রাজস্ব

    তামাকপণ্য আরও সহজলভ্য হবে, সরকার হারাবে অতিরিক্ত রাজস্ব

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম খুবই সামান্য বাড়ানো হয়েছে এবং বিড়ি, গুল ও জর্দার দাম ও করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির হিসাব করলে এসব তামাকপণ্যের প্রকৃত দাম কমে যাবে। সিগারেটের মূল্যস্তরের সংখ্যা কমানো, সুনির্দিষ্ট শুল্কের প্রচলনসহ কর কাঠামোয় কোনো ধরনের সংস্কার আনা হয়নি। প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে তামাকের ব্যবহার, তামাক ব্যবহারজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ হাতছাড়া হবে বলে মনে করে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা)।

    প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্নস্তরের প্রতি প্যাকেট ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ২ টাকা বৃদ্ধি করে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজেট কার্যকর হলে এই স্তরে সিগারেটের দাম বাড়বে মাত্র ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ, যা ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম। ফলে নিম্নস্তরের সিগারেটের প্রকৃত দাম ব্যাপকভাবে কমবে এবং তরুণ ও নিম্ন আয়ের জনগণের মধ্যে কমদামি সিগারেটের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বাড়বে। উল্লেখ্য, বর্তমানে সিগারেট বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশই নিম্নস্তরের দখলে, যার প্রধান ভোক্তা মূলত দরিদ্র ও তরুণ জনগোষ্ঠী।

    প্রস্তাবিত বাজেটে মধ্যম স্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২ টাকা (১৫ শতাংশ), উচ্চ স্তরে ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা (১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ) এবং প্রিমিয়াম বা অতি উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার দাম ১৮৫ টাকা থেকে ২১০ টাকা (১৩ দশমিক ৫১ শতাংশ) নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দামবৃদ্ধি নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির তুলনায় খুবই সামান্য। তাছাড়া, সিগারেটের করকাঠামোয় কোনো সংস্কার না করায় বর্ধিত দামের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কোম্পানির পকেটে চলে যাবে এবং বাড়তি মুনাফা তামাক ব্যবসা প্রসারে ব্যবহৃত হবে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।

    প্রজ্ঞা-আত্মার মতে, তামাকবিরোধীদের প্রস্তাব অনুযায়ী সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ, সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি প্রবর্তন অর্থাৎ বিদ্যমান ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের সঙ্গে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ এবং সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম বাড়ানো হলে চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে প্রায় চার লাখ অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে।

    প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বিড়ি, জর্দা ও গুলের দাম এবং করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে এসব পণ্য আরও এক দফা সস্তা ও সহজলভ্য হবে এবং নারী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে। বাজেটে ১০ গ্রাম নিকোটিন পাউচের খুচরা মূল্য ৫০০ টাকা ও ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ১০ শলাকা হিটেড টোব্যাকোর খুচরা মূল্য ২১০ টাকা ও ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব পণ্য নিষিদ্ধের প্রস্তাব করা হলেও সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে তা বিবেচনা করা হয়নি। ফলে জনগণ বাড়তি স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়বে। অন্যান্য পদক্ষেপের মধ্যে, নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচ আমদানিতে ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং তামাকপণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ মনিটর করার জন্য ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস’ পদ্ধতি প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    বাংলাদেশে ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন এবং তামাক ব্যবহারজনিত রোগে বছরে প্রায় ২ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। তামাক ব্যবহারজনিত স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ বছরে ৮৭ হাজার কোটি টাকা। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত বাজেটে তামাকবিরোধীদের সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে প্রজ্ঞা ও আত্মা।

  • জনপ্রশাসনে বাড়তি বরাদ্দ ৫৫হাজার কোটি টাকা, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

    জনপ্রশাসনে বাড়তি বরাদ্দ ৫৫হাজার কোটি টাকা, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

    সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে এবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নবম বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের কথা বললেন তিনি।

    আজ বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর যাবৎ একই বেতনকাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ইতিমধ্যে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিচ্ছি।’

    অষ্টম বেতনকাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা; আর সর্বোচ্চ বেতনকাঠামো ৭৮ হাজার টাকা (নির্ধারিত)। নবম বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।

    নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি তিন ধাপে বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে। আগামী অর্থবছর থেকে এ সুপারিশই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

    নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ জমা দেওয়ার সময় কমিশনপ্রধান জাকির আহমেদ খান জানিয়েছিলেন, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে বাড়তি ১ লাখ ৬০০০ কোটি টাকার দরকার পড়বে।

    কত বরাদ্দ

    প্রতিবছরের ‘বাজেট সংক্ষিপ্ত-সারে বিবরণী-২খ’ নামে একটি অংশ থাকে, যা আছে এবারও। এতে দেখানো হয় ‘পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ’। এ বিশ্লেষণে অফিসারদের বেতন, কর্মচারীদের বেতন ও ভাতাদি—এই তিন ভাগে বরাদ্দের হিসাব দেওয়া হয়। আগামী অর্থবছরের জন্য তিন ভাগে এ হিসাব দেওয়া আছে ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ হিসাব মোট ৮৫ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা। সেই হিসাবে বাড়ল ৪ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা।

    এদিকে বিবরণী-৪–এ আছে ‘পরিচালন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ’। এতেও একইভাবে হিসাব দেওয়া আছে তিন ভাগে। এ বিবরণী অনুযায়ী আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বেতন-ভাতা বাবদ বরাদ্দ দেখানো আছে আরেকটু কম অর্থাৎ ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এ বিবরণীতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এর মোট পরিমাণ ৮৪ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকা।

    তাহলে অর্থমন্ত্রী যে আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলেন, সেই টাকা তাহলে কোথায় বরাদ্দ দেখানো আছে? অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে। এটা আছে মূলত বাজেট সংক্ষিপ্ত-সারের বিবরণী ২ ক-এর মধ্যে। এ অংশে পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের সম্পদের ব্যবহার দেখানো আছে।

    সম্পদের ব্যবহার অংশে ‘জনপ্রশাসন-নিট’ বাবদ আগামী অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ রাখা আছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। অথচ চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ বরাদ্দ ৮৬ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। সে হিসাবে বরাদ্দ বাড়ল ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা।

    অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এই ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা থেকে অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা থাকছে সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনধারী ব্যক্তিদের জন্য নতুন বেতনকাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নে।

  • বাংলাদেশ ও এআইআইবির মধ্যে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তা ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত

    বাংলাদেশ ও এআইআইবির মধ্যে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তা ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত

    বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব মো: আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকী এবং এআইআইবির পক্ষে পাবলিক সেক্টর ক্লায়েন্টস ডিপার্টমেন্ট রিজিয়ন-১-এর মহাপরিচালক রজত মিশ্র চুক্তিতে সাক্ষর করেন।

    বাংলাদেশ সরকার ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) মধ্যে স্ট্রেনদেনিং ইকোনমিক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড গভর্ন্যান্স প্রোগ্রাম (এসইএমজিপি)-সাবপ্রোগ্রাম ২-এর আওতায় ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজেট সহায়তা ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    গতকাল এ ঋণচুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব মো: আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকী এবং এআইআইবির পক্ষে পাবলিক সেক্টর ক্লায়েন্টস ডিপার্টমেন্ট রিজিয়ন-১-এর মহাপরিচালক রজত মিশ্র চুক্তিতে সাক্ষর করেন।

    বুধবার (১০ জুন) ইআরডি’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ অর্থায়ন এআইআইবির ইমার্জেন্সি রেসপন্স সাপোর্ট ফেসিলিটির আওতায় বিবেচিত ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পলিসি-বেজড লেনডিং (পিবিএল) প্যাকেজের একটি অংশ। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সঙ্ঘাতের কারণে সৃষ্ট বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা এবং জরুরি সরকারি ব্যয় ও বৈদেশিক অর্থায়নের চাহিদা পূরণে এ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

    ইআরডি জানায়, এআইআইবির এ অর্থায়ন সহায়তা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। এর মধ্যে রয়েছে সামাজিক খাতে স্থিতিশীলতা ও ব্যয় বজায় রাখতে সহায়তা, চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার ও রাজস্ব সংগ্রহের প্রচেষ্টা এগিয়ে নেয়া, জনগণের জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সামাজিক ও অবকাঠামোগত ব্যয় নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে উদ্ভূত বাহ্যিক অভিঘাত মোকাবেলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে শক্তিশালী সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে স্ট্রেনদেনিং ইকোনমিক ম্যানেজমন্টে অ্যান্ড গভর্ন্যান্স প্রোগ্রাম (এসইএমজিপি)-সাবপ্রোগ্রাম ২-এর আওতায় এ অর্থায়ন প্রদান করা হয়েছে।

    এ কর্মসূচিতে এআইআইবির পাশাপাশি এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) যৌথ অর্থায়ন করছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

  • ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

    ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

    ‘প্রতি কেজি ৮২ টাকা ৫৪ পয়সা দরে মসুর ডাল কেনা হবে। সংরক্ষণ ও বিতরণ সুবিধার্থে ৫০ কেজির বস্তায় এ ডাল সরবরাহ করা হবে।’

    বাজার দর স্থিতিশীল রাখতে এবং সারাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে মোট ৮২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল সংগ্রহের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

    বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৬তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

    কর্মকর্তারা জানান, প্রতি কেজি ৮২ টাকা ৫৪ পয়সা দরে মসুর ডাল কেনা হবে। সংরক্ষণ ও বিতরণ সুবিধার্থে ৫০ কেজির বস্তায় এ ডাল সরবরাহ করা হবে।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। একটি উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে রাজশাহীর পবা উপজেলার দাউকান্দির ভেড়াপোড়া বাজারে নাবিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে অবস্থিত নাবিল নাবা ফুডস লিমিটেডকে এ কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে।

    কর্মকর্তারা আরো বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখা, অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে সরকারের চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ ডাল সংগ্রহ করা হচ্ছে।

  • পাট গবেষণা ইনসটিটিউটের ‘জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫’ অর্জন

    পাট গবেষণা ইনসটিটিউটের ‘জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫’ অর্জন

    পরিবেশ সংরক্ষণ, দূষণ রোধ, গবেষণা এবং পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচারে যারা/যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে, তা মূল্যায়ন করতেই সরকার প্রতিবছর ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে এই সম্মানজনক পদক প্রদান করে থাকে।

    পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে অসাধারণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনসটিটিউট ‘জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫’ অর্জন করেছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত ৭ জুন এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

    ‘জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫’ অর্জন করায় বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনসটিটিউটের (বিজেআরআই) মহাপরিচালক ড. নার্গীস আক্তার কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।

    সেইসাথে তিনি বিজেআরআইয়ের সকল স্তরের বিজ্ঞানী/কর্মকর্তা এবং কর্মচারীগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই অর্জনে বিজেআরআই পরিবার গর্বিত।

    ‘জাতীয় পরিবেশ পদক নীতিমালা-২০১২ (সংশোধিত ২০১৯)’ অনুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ‘পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন’ শ্রেণিতে স্থান পেয়েছে বিজেআরআই। পুরস্কার হিসেবে বিজেআরআই পাবে ২২ ক্যারেট মানের দুই তোলা ওজনের স্বর্ণের বাজার মূল্য, ৫০ হাজার টাকার চেক, একটি সম্মানসূচক ক্রেস্ট এবং সনদপত্র।

    বিজেআরআই’র প্রকাশনা কর্মকর্তা মো: মুবতাসিম ফুয়াদ জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ, দূষণ রোধ, গবেষণা এবং পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচারে যারা/যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে, তা মূল্যায়ন করতেই সরকার প্রতিবছর ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে এই সম্মানজনক পদক প্রদান করে থাকে।

  • সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি ও চেয়ারম্যান নিয়োগ

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি ও চেয়ারম্যান নিয়োগ

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এমডি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার, কাজি শায়রুল হাসানকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

    সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার ও চেয়ারম্যান কাজি শায়রুল হাসানকে যোগদানের তারিখ থেকে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হলো।

    চিঠিতে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী আবেদুর রহমান সিকদারকে নিয়োগের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য ব্যাংকের পর্ষদ চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করা হয়েছে।

  • বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য রফতানি হয় : বাণিজ্যমন্ত্রী

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য রফতানি হয় : বাণিজ্যমন্ত্রী

    কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্যের রফতানি আরো সম্প্রসারিত হবে এবং বৈশ্বিক বাজারে দেশের অবস্থান আরো সুদৃঢ় হবে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশসমূহসহ বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে রফতানি করা হচ্ছে। বৈদেশিক বাজারে এসব পণ্যের চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের রফতানি খাতকে আরো শক্তিশালী করছে।

    আজ সোমবার সংসদে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সরকারি দলের সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের বিকাশের ফলে বাংলাদেশে উৎপাদিত নানা ধরণের খাদ্যপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে স্থান করে নিয়েছে। বর্তমানে এসব পণ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কানাডা, ভারত, নেদারল্যান্ডস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে নিয়মিত রফতানি করা হচ্ছে।

    মন্ত্রী জানান, রফতানিযোগ্য খাদ্যপণ্যের তালিকায় রয়েছে চা, বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, ফলমূল, পান পাতা, তৈলবীজ, চিনি, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ভোজ্য তেল, বিভিন্ন ধরনের কোমল পানীয় এবং সাদা ও হিমায়িত মাছ।

    তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কারণে বাংলাদেশের খাদ্য পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বিদেশী বাজারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে রফতানি বাজার বহুমুখীকরণ এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানের উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, খাদ্য ও কৃষিভিত্তিক পণ্যের রফতানি বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। সরকার রফতানিকারকদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান, পণ্যের মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্যের রফতানি আরো সম্প্রসারিত হবে এবং বৈশ্বিক বাজারে দেশের অবস্থান আরো সুদৃঢ় হবে।

  • প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা কমল স্বর্ণের দাম

    প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা কমল স্বর্ণের দাম

    ঈদের আমেজ কাটতে না কাটতেই দেশের বাজারে আবারও কমল স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৪৮২ টাকা পর্যন্ত কমানোর ঘোষণা দিয়েছে।

    শনিবার সকাল ১০টা থেকে এই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে বাজুস। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের বা পিওর গোল্ডের মূল্য হ্রাস পাওয়ার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন থেকে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ কিনতে খরচ পড়বে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা।

    এছাড়া অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও বেশ কমেছে। এখন থেকে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকায় বিক্রি হবে। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা।

    এর আগে গত ২ জুন ঈদের পর প্রথম দফায় স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। সেই সময় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা।

    চলতি বছরে এই নিয়ে মোট ৭১ বারের মতো স্বর্ণের দাম ওঠানামা করল। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৩৭ বার এবং কমানো হলো ৩৪ বার।