অর্থ ও বাণিজ্য

  • বেপরোয়াভাবে শুল্ক–কর আদায় করা হতে পারে, অ্যামচেমের বাজেট আলোচনায় বক্তারা

    বেপরোয়াভাবে শুল্ক–কর আদায় করা হতে পারে, অ্যামচেমের বাজেট আলোচনায় বক্তারা

    আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আদায়ের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। আবার ছয় লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মতও নয়। রাজস্ব লক্ষ্য অর্জনে বেপরোয়াভাবে শুল্ক-কর আদায় করা হতে পারে।

    আজ সোমবার আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত বাজেট আলোচনায় এ কথা বলেন আলোচকেরা।

    বনানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির নতুন সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল। এতে অ্যামচেম সদস্য ছাড়াও অর্থনীতিবিদেরা উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় মূল প্রবন্ধ তুলে ধরেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ। তিনি বলেন, রাজস্ব আদায়ের অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। এটা আদায় করতে গিয়ে বেপরোয়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

    ব্যয়ের বিষয়ে মাসরুর রিয়াজ বলেন, বাজেটের ৪১ শতাংশ চলে যাবে বেতন–ভাতা, পেনশন, ভর্তুকি ও সুদ পরিশোধে। আবার উন্নয়ন বরাদ্দের একটা বড় অংশ থোক হিসেবে রাখা হয়েছে। থোক বরাদ্দ খরচে স্বচ্ছতার অভাব থাকে।

    প্যানেল আলোচনায় বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেটের আকার নিয়ে কথা হচ্ছে। নতুন সরকারের জনগণের প্রতি অনেক প্রতিশ্রুতি আছে। তাই এটি সম্প্রসারণমূলক বাজেট। কিন্তু অর্থায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

    আরেক প্যানেল আলোচক ছিলেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বাজেটে ব্যবসা সহজ করার কথা ছিল। তবে তা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে আরও মনোযোগ দেওয়ার দরকার। কৃষিতে সেভাবে বরাদ্দ বাড়েনি। তবে বর্তমান সরকার আগের যেকোনো সরকার থেকে আমাদের কথা বেশি শুনেছে।’

    প্যানেল আলোচনায় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের (এসসিবি) সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাসের এজাজ বিজয় বলেন, কীভাবে রাজস্ব আদায় হবে, সেটি বাজেট কাঠামোতে নেই। ব্যাংকের একটি বড় অংশ দুর্বল অবস্থায় আছে। তারল্যসংকট রয়েছে। তাই ব্যাংকঋণনির্ভরতা বাড়লে বেসরকারি খাতে ঋণের সংকট হতে পারে।

    প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সহসভাপতি মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আলা উদ্দিন আহমদ।

    সমাপনী বক্তব্য দেন অ্যামচেমের কোষাধ্যক্ষ ফিলিপ মরিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রেজা উর রহমান মাহমুদ। তিনি জানান, এবারের বাজেটে অ্যামচেমের ১৮ প্রস্তাবের মধ্যে ৮ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।

  • ২৭ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে বাড়তি খরচ ৫৬ হাজার কোটি টাকা

    ২৭ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে বাড়তি খরচ ৫৬ হাজার কোটি টাকা

    চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ২৭টি মন্ত্রণালয় বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ বেড়েছে ৫৬ হাজার ১১৮ কোটি টাকা।

    ঋণের সুদ, ভর্তুকি, কৃষিঋণ মওকুফ ইত্যাদি খাতেই অর্ধেকের বেশি বাড়তি খরচ করতে হয়েছে। এসব খরচের জন্য বাড়তি টাকা জোগাড় করতে হয়।

    অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর তাঁর সমাপনী বক্তব্যে এ তথ্য জানান।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার গঠনের পর থেকেই আমরা জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বৈশ্বিক অস্থিরতা, অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।’

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে অপচয় কমানো, অগ্রাধিকারহীন খাতে ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক ব্যয়ে মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ভর্তুকি সমন্বয় করতে হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম, পুরোহিত, মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানীর মাধ্যমে মর্যাদাপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের জন্য আমরা সম্পূরক বাজেটে ব্যয় এবং ঘাটতি কিছুটা সমন্বয় করেছি।’

    নিট ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব

    চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে সরকারের নিট ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে—এমন তথ্য উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, মূল বাজেটে যেখানে সরকারি নিট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, সেখানে সংশোধিত হিসাবে তা কমে দাঁড়াবে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি ২ লাখ কোটি টাকা বা জিডিপির ৩ দশমিক ৩ শতাংশ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

    অর্থমন্ত্রী জানান, সংশোধিত বাজেটে ২৭টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ কমানো হয়েছে। এর পরিমাণ ৫৯ হাজার ৩৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

    জাতীয় সংসদে আজ নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) আইন, ২০২৬ উপস্থাপন করা হয়। এতে যে ২৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অতিরিক্ত ব্যয় অনুমোদন চাওয়া হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে অর্থ বিভাগ। এ বিভাগের জন্য বেশি চাওয়া হয়েছে ২৩ হাজার ৬৫৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের জন্য বেশি চাওয়া হয়েছে ১ হাজার ৬৯০ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এ ছাড়া পরিকল্পনা বিভাগের জন্য ১২ হাজার ৪০৮ কোটি এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের জন্য ২২ কোটি টাকা বাড়তি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

    বাড়তি খরচের কারণ কী

    বরাদ্দ বৃদ্ধির যুক্তি দিতে গিয়ে ব্যাখ্যামূলক স্মারকে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, অভ্যন্তরীণ দেনার সুদ, শেয়ার মূলধন, ভর্তুকি ও প্রণোদনার জন্য বাড়তি অর্থের দরকার পড়েছে। এ ছাড়া সরকারের অগ্রাধিকারমূলক ব্যয়ের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের আসল ও সুদ দিতে বাড়তি অর্থের সংস্থান করতে হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) দুটি এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বহির্ভূত চারটি প্রকল্পের জন্য বাড়তি অর্থের ব্যবস্থা করতে হয়েছে।

  • ব্যাংকিং সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে : ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসক

    ব্যাংকিং সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে : ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসক

    ‘আমরা ইসলামী ব্যাংকের জন্য একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বোর্ড গঠন করতে চাই। এ পদক্ষেপের লক্ষ্য ব্যাংকের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।’

    ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নবনিযুক্ত প্রশাসক মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেছেন, দেশের বৃহত্তম শরিয়াহ-ভিত্তিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটির প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন শক্তিশালীকরণ এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ব্যাংকটির জন্য একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বোর্ড গঠনের প্রচেষ্টা চলছে।

    তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাকে একটি সীমিত সময়ের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব দিয়েছে এবং একটি নিরপেক্ষ বোর্ড গঠন করা অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

    সোমবার (১৫ জুন) দুপুর ১টায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেন, ‘আমরা ইসলামী ব্যাংকের জন্য একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বোর্ড গঠন করতে চাই। এ পদক্ষেপের লক্ষ্য ব্যাংকের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।’

    এ সময় তিনি গ্রাহকদের কোনো দ্বিধাবোধ ছাড়াই তাদের ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং আশ্বাস দেন যে, সমস্ত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন স্বাভাবিকভাবেই চলবে।

    ‘পেছনে তাকানোর কোনো সুযোগ নেই’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় সাম্প্রতিক পরিবর্তনের কারণে আমানতকারী ও গ্রাহকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

    গত রোববার (১৪ জুন) ‘ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১’-এর বিধান অনুযায়ী ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

    এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আমানতকারী এবং সাধারণ জনগণের স্বার্থ রক্ষার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক আরো ঘোষণা করেছে যে, ‘ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১’-এর ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন বোর্ডের সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন এবং সমস্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

    ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি পৃথক পদক্ষেপ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একই দিনে ইসলামী ব্যাংকের জন্য দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ ঋণ অনুমোদন করেছে যা প্রতিষ্ঠানটিকে চলমান তারল্য সঙ্কট মোকাবেলা করতে এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

  • আরো ২৫০০ কোটি টাকা ধার পেল ইসলামী ব্যাংক

    আরো ২৫০০ কোটি টাকা ধার পেল ইসলামী ব্যাংক

    বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা হিসেবে আরো ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক। তবে পাওয়া অর্থের পুরোটা এখনো ব্যবহার করতে হয়নি বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আলতাফ হুসাইন।

    সোমবার ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, গতকালও আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পেয়েছি।

    সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটি ঘিরে গ্রাহকদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে কমে আসছে বলেও জানান আলতাফ হুসাইন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আতঙ্কে যারা আমানত তুলে নিয়েছেন, তারা আবারও ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখে ফিরে আসবেন।

    গ্রাহকদের আস্থা ফেরার ইতিবাচক লক্ষণও দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন ভারপ্রাপ্ত এমডি। তিনি জানান, দেশের একটি বড় শাখা থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, আগের তুলনায় হিসাব বন্ধের (অ্যাকাউন্ট ক্লোজড) সংখ্যা প্রায় ৭৫ শতাংশ কমে গেছে।

    আলতাফ হুসাইন বলেন, এই প্রবণতা গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসার ইঙ্গিত বহন করে। নতুন পরিস্থিতিতে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ব্যবস্থাপনা কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আলতাফ হুসাইন বলেন, ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী সাবেক চেয়ারম্যান একটি সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন। সাবেক চেয়ারম্যানকে অপসারণের চিঠি হস্তান্তরের সঙ্গে সঙ্গেই গাড়িটি ফেরত নেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, গ্রাহকদের স্বাভাবিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকের প্রতি আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ লক্ষ্যেই ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করে যাচ্ছে।

    এদিকে ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেছেন, এখন পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। আমানতকারীদের নির্বিঘ্নে লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি ব্যাংকের প্রতি আস্থা রাখার অনুরোধ করেন।

    একই সঙ্গে তিনি জানান, যোগ্য ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনে যাচাই-বাছাই চলছে।

    ইসলামী ব্যাংকের নিরপেক্ষ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রসঙ্গে মোহাম্মদ জহির হোসেন জানান, পূর্ণাঙ্গ বোর্ড হিসেবে পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন হচ্ছে। যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন আছে। আমরা এখানে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ লোক দিতে চাই, যারা এই ব্যাংকটিকে দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারবেন। আশা করি, খুব শিগগিরই আপনারা একটি সুন্দর ও নিরপেক্ষ বোর্ড পাবেন।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তিনি সীমিত সময়ের জন্য এক সদস্য বোর্ডের দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে ব্যাংকের কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।

    আমানতকারীদের উদ্দেশে মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেন, পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। নির্বিঘ্নে লেনদেন চালিয়ে যান। ব্যাংকের প্রতি আস্থা রাখুন।

  • গভর্নরের সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক

    গভর্নরের সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। রোববার বিকেল চারটায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, ইসলামী ব্যাংকের চলমান সার্বিক পরিস্থিতি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের হালনাগাদ অবস্থা গভর্নরকে অবহিত করতেই এই সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়েছে।

    বৈঠকে ইসলামী ব্যাংকের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নিয়েছে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব)। তার সঙ্গে রয়েছেন ব্যাংকের দুজন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) এবং ছয়জন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি)।

    তিনি জানিয়েছেন, প্রতিনিধিদল ব্যাংকের চলমান পরিস্থিতি গভর্নরকে অবহিত করবেন।

  • ডিজিটাল মার্কেটিং ও অনলাইন ব্র্যান্ডিং নিয়ে কাজ করছেন কাউসার আহমেদ

    ডিজিটাল মার্কেটিং ও অনলাইন ব্র্যান্ডিং নিয়ে কাজ করছেন কাউসার আহমেদ

    ডিজিটাল মার্কেটিং খাতে কাজের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় রয়েছেন কাউসার। বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক কনটেন্টের মাধ্যমে তিনি অনলাইন অডিয়েন্সের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছেন।

    দেশে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের চাহিদা। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি করছেন অনেক তরুণ। তাদের মধ্যে অন্যতম কাউসার আহমেদ, যিনি ডিজিটাল মার্কেটিং ও অনলাইন ব্র্যান্ডিং নিয়ে কাজ করছেন।

    কাউসার আহমেদ পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ‘MyAdsBD’ বিভিন্ন ব্যবসা ও ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডের ডিজিটাল প্রচারণায় সহায়তা করে থাকে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মভিত্তিক বিপণন কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর নতুন সুযোগ তৈরি করছে।

    ডিজিটাল মার্কেটিং খাতে কাজের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় রয়েছেন কাউসার। বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক কনটেন্টের মাধ্যমে তিনি অনলাইন অডিয়েন্সের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছেন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কার্যকর ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছেন।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ দেশের তরুণ প্রজন্মকে নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরিরও সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

    ভবিষ্যতে ডিজিটাল মার্কেটিং ও অনলাইন ব্যবসার পরিধি আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন ধারণা ও সেবার মাধ্যমে কাজ করে যেতে চান কাউসার আহমেদ।

  • সংকট কাটাতে ইসলামী ব্যাংককে ২৫০০ কোটি টাকা ধার দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

    সংকট কাটাতে ইসলামী ব্যাংককে ২৫০০ কোটি টাকা ধার দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

    টাকার সংকট কাটাতে ইসলামী ব্যাংককে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিশেষ ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ রোববার সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নেয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকা ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসাবে এই টাকা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকটির চেক নিষ্পত্তি আবার চালু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, নগদ টাকার চাহিদা বেশি তৈরি হয়েছে। টাকা জমা নেই বললেই চলে, সবাই টাকা তুলতে চাইছেন। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে শাখা বন্ধ রাখা ছাড়া বিকল্প থাকবে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে গ্রাহকের আস্থা ফিরে আসে।

    ইসলামী ব্যাংকে চেয়ারম্যানসহ পাঁচ পরিচালকই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা স্বতন্ত্র পরিচালক। পবিত্র ঈদুল আজহার আগে শেষ কর্মদিবস ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে রাত ৯টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ও নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পর থেকে চেয়ারম্যান অপসারণসহ সাত দফা দাবিতে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে আন্দোলন চলছে।

    জাতীয় সংসদেও ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তুমুল আলোচনা হয়। এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের মধ্যে টাকা তোলার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চায় ইসলামী ব্যাংক।

    আজও অবস্থান কর্মসূচি

    আজ সকালে চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ সাত দফা দাবিতে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে একদল গ্রাহক। চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তাঁরা।

    শেয়ারবাজার থেকে নামে–বেনামে শেয়ার কিনে ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ। অভিযোগ আছে, এতে সহায়তা করে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র–জনতার গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটি এস আলমের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়। এর পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা ব্যাংক পরিচালনা করছেন। এখন ইসলামী ব্যাংকের ৫০ শতাংশের বেশি ঋণ খেলাপি, নামে–বেনামে যার বড় অংশ নিয়েছে এস আলম গ্রুপ।

  • প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়তে নতুন রূপরেখা

    প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়তে নতুন রূপরেখা

    বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিতে এবার প্রযুক্তি খাতের ওপর সবচেয়ে বড় ভরসা রাখছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং টেলিকম খাতকে ‘থ্রাস্ট সেক্টর’ বা বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর লক্ষ্য, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণ জনগোষ্ঠীকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম মানবসম্পদে রূপান্তর করা।

    সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে জিডিপিতে আইসিটি খাতের অবদান ১ থেকে ২ শতাংশের মধ্যে থাকলেও আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তা ১০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এজন্য ডিজিটাল অবকাঠামো, উদ্ভাবন, গবেষণা, স্টার্টআপ এবং উন্নত প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ ও কর-প্রণোদনার ঘোষণা এসেছে এবারের বাজেটে।

    এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের জন্য ২ হাজার ৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ২ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের জন্য ২ হাজার ১৪১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ আইসিটি এবং টেলিযোগাযোগ খাতের জন্য সম্মিলিতভাবে মূল বাজেটে সরাসরি বরাদ্দ থাকছে ৪ হাজার ১৯০ কোটি টাকা।

    ৫জি ও দ্রুতগতির ইন্টারনেটের যুগে প্রবেশ : বাজেটে দেশের ৯০ শতাংশ মানুষের কাছে ৫জি প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সারাদেশে ১০০ এমবিপিএস ব্রডব্যান্ড গতি নিশ্চিতের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ‘ন্যাশনাল ফাইবার ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুলভ মূল্যে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণে সহায়তা করবে।

    সাধারণ মানুষের যোগাযোগ ব্যয় কমাতে প্রতিটি সিম কার্ডের ওপর বিদ্যমান ৩০০ টাকা কর প্রত্যাহারের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি টেলিকম অপারেটরদের রেভিনিউ শেয়ারিং ও লাইসেন্স ফি-সংক্রান্ত উৎস কর তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা খাতটিতে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে ভূমিকা রাখতে পারে।

    এআই, রোবোটিক্স ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রস্তুতি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এই বাস্তবতায় সরকারি সেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং নগর ব্যবস্থাপনায় এআই ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটে স্মার্ট সিটি গঠন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াতে এআইভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে এআই, সেমিকন্ডাক্টর, রোবোটিক্স, মেশিন লার্নিং এবং বিগ ডাটা অ্যানালাইসিস বিষয়ে বিশেষায়িত গবেষণাগার স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

    ডিজিটাল পরিচয় ও ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে : ডিজিটাল সেবাকে আরও সহজ ও নিরাপদ করতে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি, ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একজন নাগরিক একক ডিজিটাল পরিচয়ের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণ এবং নিরাপদ আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন।

    ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে পয়েন্ট অব সেলস (পজ) মেশিনের আমদানিতে শুল্ক ও আগাম কর কমানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

    স্টার্টআপ ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় প্রণোদনা : প্রযুক্তি উদ্যোক্তা তৈরিতে আগামী অর্থবছরে ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ তহবিল’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০৩৫ সাল পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা বহাল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

    ফ্রিল্যান্সারদের জন্যও এসেছে বড় স্বস্তি। আইটি ফ্রিল্যান্সিং থেকে অর্জিত আয়ের কর অব্যাহতি সুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    ইলেকট্রনিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে নতুন সম্ভাবনা : সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়েছে। এজন্য ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন এবং এসএসডি উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের ওপর কর-সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

    বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে চিপ ডিজাইন, টেস্টিং ও প্যাকেজিং খাতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বড় ধরনের শুল্ক ও কর অব্যাহতির ঘোষণা এসেছে।

    এ ছাড়া গবেষণাকে সরাসরি বাণিজ্যিক সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত করতে ‘রিসার্চ টু মার্কেট’ এবং ‘ইনোভেশন টু মার্কেট’ কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে ২০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে ট্রান্সমিশন ও টেলিকমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠান ফাইবার@হোম লিমিটেড-এর চিফ টেকনোলজি অফিসার প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, করছাড়, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং উদ্ভাবনে বিনিয়োগ এই চার স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে এবারের বাজেট বাংলাদেশকে প্রযুক্তিনির্ভর ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে নেবে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে দ্রুত বাস্তবায়ন, দক্ষ জনবল তৈরি এবং নীতিগত ধারাবাহিকতার ওপর।

    এই প্রযুক্তিবিদের মতে, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত করতে সহায়ক হবে। এসব সুবিধা তরুণদের উদ্যোক্তা ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে আরও উৎসাহিত করবে।

  • বছরজুড়ে চাপে থাকবে ভোক্তা ও এনবিআর

    বছরজুড়ে চাপে থাকবে ভোক্তা ও এনবিআর

    আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) রাজস্ব আহরণে বিশাল লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এনবিআরকে আগামী অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আহরণ করতে হবে। এই লক্ষ্যমাত্রা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা বেশি এবং সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা বেশি। বিশেষজ্ঞরা জানান, বাজেটের নীতিগত কাঠামো শক্তিশালী হলেও তা বাস্তবায়নের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল। সম্পদের চেয়ে বাজেটের আকার বড় করা হয়েছে। রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা অনেক বেশি। ফলে অর্থবছর শেষে বিশাল আকারে রাজস্ব আহরণে ঘাটতি থাকবে। অন্যদিকে, বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে এমনিতেই হাঁসফাঁস অবস্থা মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের। তাই বাড়তি করের জোগান দিতে গিয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে তাদের জীবনযাত্রায়। আর মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার পথনকশা না থাকায় এনবিআরের পক্ষেও লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে। সব মিলিয়ে অর্থবছরজুড়ে সাধারণ মানুষ ও রাজস্ব বোর্ড উভয়কেই চরম চাপে থাকতে হবে।

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সংস্কারের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বাড়বে। এনবিআরের নীতি বিভাগ এবং বাস্তবায়ন বিভাগ আলাদাভাবে কাজ করবে। দুর্নীতি কমিয়ে আনা হবে। এক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন করা হবে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজস্ব কৌশলই হবে এই বাজেটের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। জিডিপির ৭ শতাংশের নিচে কর-জিডিপি অনুপাত নিয়ে বাংলাদেশ আধুনিক কল্যাণরাষ্ট্র, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো, জলবায়ু সহনশীলতা এবং শিল্প রূপান্তরে অর্থায়ন করতে পারবে না বাজেট এটি স্বীকার করেছে। পাশাপাশি ডিজিটালাইজেশন, ঝুঁকিভিত্তিক অডিট, করভিত্তি সম্প্রসারণ, করছাড় পর্যালোচনা এবং করনীতি ও কর প্রশাসন পৃথক করার প্রস্তাবও দিয়েছে। এগুলো যুক্তিসংগত সংস্কার। সাফল্য নির্ভর করবে নজরদারিযোগ্য সংস্কারসূচক, স্বচ্ছ কর-ব্যয় হিসাব, প্রণোদনার সময়সীমা এবং কর-ছাড়ের সঙ্গে কর্মসংস্থান, রপ্তানি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, উৎপাদনশীলতা ও আঞ্চলিক উন্নয়নের দৃঢ় সংযোগের ওপর।

    এরই মধ্যে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, চলতি অর্থবছরে প্রকৃত রাজস্ব আদায় প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। সেখান থেকে আগামী অর্থবছরে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যপূরণ করতে হলে প্রায় ৫৪ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। সিপিডির মতে, কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর ফাঁকি রোধ, করজাল সম্প্রসারণ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া এত বড় প্রবৃদ্ধি অর্জন বাস্তবে সম্ভব নয়।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় যে দুর্বলতা রয়েছে, তা দূর না করে শুধু উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলে বছরের শেষে আবারও রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হবে এবং সরকারকে অতিরিক্ত ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে।

    বাস্তবতা হচ্ছে, অর্থনীতিতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক দুই দিক থেকেই চাপ বাড়ছে এবং পরিস্থিতির শিগগিরই পরিবর্তন হবে এমন লক্ষণও নেই। এমন পরিস্থিতিতে আগামী অর্থবছরের বিশাল এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয় বলে মনে করে অর্থনীতিবিদরা। একই সঙ্গে তারা এনবিআরকে রাজস্ব আহরণে বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা দেওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি এনবিআরের সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন তারা।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মূল্যস্ফীতির লাগাম টানা যাচ্ছে না। দেশে মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন সীমিত আয়ের মানুষেরা। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার পথনির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এই মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ নিয়ন্ত্রণে পথনকশা নেই। ফলে এনবিআরের পক্ষে লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হবে। সব মিলিয়ে অর্থবছরের পুরো সময়ই রাজস্ব আহরণে চাপে থাকবে। আগামী অর্থবছরে এনবিআরকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করতে হবে। বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এ লক্ষ্যমাত্রা অনেকটা অসম্ভবই।

    পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, প্রকৃত রাজস্ব আদায় এই লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই কম।

    বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, লক্ষ্যমাত্রা যদি বাস্তবসম্মত না হয়, তখন সেটি বাস্তবায়নও সম্ভব হয় না। আর যখনই এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করা যায় না, তখনই বাজেটের শৃঙ্খলাটা নষ্ট হয়। তখন বাজেটে কোথা থেকে আয় আসবে, কোথায় ব্যয় হবে, এমন অনেক শৃঙ্খলার অভাব দেখা দেয়। আমাদের রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থায় ঐতিহাসিকভাবে ব্যর্থতা-দুর্বলতা রয়েছে। প্রতিবছরই চাহিদা অনুযায়ী একটি উচ্চমাত্রা রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়। কিন্তু সেটি আমরা অর্জন করতে পারি না।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয়। অতীতের মতো এবারও রাজস্ব আহরণের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে; কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের বাস্তবভিত্তিক পথনকশা অনুপস্থিত। ফলে কোনোভাবেই এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। ফলে বাজেট বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

    জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআরকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করতে হবে। ফলে প্রতিদিন এনবিআরকে ১ হাজার ৬৫৪ কাটি টাকা সংগ্রহ করতে হবে। এর মধ্যে আয়কর আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চেয়ে ৩৭ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা বেশি। মূল্য সংযোজন কর আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চেয়ে ৪০ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা বেশি। এতে সব মানুষের ওপর করের চাপ বাড়বে বলে মনে করে বিশ্লেষকরা।

    এ ছাড়া সম্পূরক শুল্ক আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮২ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা, যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চেয়ে ১৪ হাজার ৩৯ কোটি টাকা বেশি। আমদানি শুল্কের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬১ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চেয়ে ১০ হাজার ৫০১ কোটি টাকা বেশি। রপ্তানি শুল্কের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৯ কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চেয়ে ২১ কোটি টাকা বেশি। আবগারি শুল্কের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চেয়ে ১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা বেশি। অন্যান্য কর আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চেয়ে ১ হাজার ১৪ কোটি টাকা বেশি।

    রাজস্ব আহরণে তিন খাতেই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। মধ্যবিত্তদের ওপর চাপটা থাকবে বেশি। তবে এ চাপ এনবিআরের জন্যও কম নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংস্কার ছাড়াই বিপুল রাজস্ব আদায় বরাবরের মতো এবারও চাপে থাকতে হবে এনবিআরকে। এ ছাড়া বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আহরণের জন্য যে ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন, নীতি সংস্কার এবং অন্যান্য সক্ষমতাÑ অনেক বেশি অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করেন তারা।

    বাংলাদেশে কর্মরত মার্কিন ব্যবসায়ীদের সংগঠন আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) মনে করে, রাজস্ব আহরণের বিষয়ে অ্যামচেম বলেছে, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কর প্রশাসনে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। করের আওতা সম্প্রসারণ এবং ঋণনির্ভরতা কমাতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে করনীতি প্রণয়ন ও কর প্রশাসনের কার্যক্রম পৃথক করার বিষয়টি পুনর্বিবেচনারও আহ্বান জানিয়েছে অ্যামচেম।

  • স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ৬ হাজার ৫৯০ টাকা

    স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ৬ হাজার ৫৯০ টাকা

    দেশের বাজারে আবারো স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ সমন্বয়ে ভরিতে ৫ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা।

    শনিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এর আগে, সবশেষ গত ১১ জুন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৮ হাজার ৪৩৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

    এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৭৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩৮ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ৩৬ দফা।