অর্থ ও বাণিজ্য

  • বিশ্বকাপ ফুটবল দেখাতে এবার খরচ হবে ৭৩ কোটি টাকা

    বিশ্বকাপ ফুটবল দেখাতে এবার খরচ হবে ৭৩ কোটি টাকা

    ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা থেকে এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখানোর সম্প্রচারস্বত্ব কিনছে সরকার। ফিফা থেকে কোনো দরপত্র ছাড়া অর্থাৎ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জন্য এ স্বত্ব কেনা হচ্ছে। এতে মোট খরচ হচ্ছে ৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আগেরবারের চেয়ে এবার খরচ কমল ২৫ কোটি টাকা।

    আজ রোববার জাতীয় সংসদের মন্ত্রিসভা কক্ষে অর্থনৈতিক বিষয়–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রথমে বিষয়টির নীতিগত অনুমোদন হয়। এরপর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ফিফা থেকে সরাসরি সম্প্রচারস্বত্ব কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। উভয় বৈঠকেই সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    বৈঠক শেষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপন করা এ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ১১ জুন শুরু হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে জমজমাট এ আসর। এটি বিশ্বকাপের ২৩তম আসর, যা ২০২৬ সালের ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে। উত্তর আমেরিকার কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র—এ তিন দেশের ১৬টি শহরে যৌথভাবে এ আয়োজন করা হচ্ছে।

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সূত্র জানা গেছে, বিটিভিতে বিশ্বকাপের সব খেলা দেখানোর জন্য সব ধরনের স্বত্ব কেনা হচ্ছে ৩৮ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারে। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৭ পয়সা দরে হিসাব করে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ঠিক করেছে ৪৭ কোটি ২৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), করসহ এতে মোট খরচ হবে ৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ফলে কোনো ধরনের কেব্‌ল নেটওয়ার্ক বা স্যাটেলাইট সংযোগ ছাড়াই বিটিভিতে এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    আগের বারের অর্থাৎ ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রচারস্বত্ব কিনতে বিটিভি অনেক জটিল প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছিল। সেবার এ স্বত্ব কেনা হয়েছিল ৯৮ কোটি টাকায়। বিটিভির কাছে তা বিক্রি করেছিল তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি।

  • চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৭.৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে

    চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৭.৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৬ জুন পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ৩৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২৮ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার।

    চলতি অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৬ জুন পর্যন্ত প্রবাসী বাংলাদেশিরা ৩৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন (৩ হাজার ৩৪৪ কোটি) মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি।

    আজ রোববার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৬ জুন পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ৩৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২৮ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার।

    ২০২৬ সালের ৪ থেকে ৬ জুনের মধ্যে প্রবাসীরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ২০ কোটি ৩২ লাখ মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে প্রবাসী কর্মীদের অব্যাহত অবদানের প্রতিফলন।

    জুন মাসের প্রথম ছয় দিনে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৬৮ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। যদিও আগের বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৮৬ কোটি ২৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার, তবু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সারা অর্থবছরজুড়ে রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির কারণে সামগ্রিক চিত্র অত্যন্ত ইতিবাচক।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। এটি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে, আমদানি ব্যয় মেটাতে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে।

    সর্বশেষ এ পরিসংখ্যান আবারো প্রমাণ করেছে যে, রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এটি লাখো পরিবারের জীবনযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিচ্ছে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

  • টার্নওভার ভিত্তির পরিবর্তে আসছে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট

    টার্নওভার ভিত্তির পরিবর্তে আসছে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট

    বার্ষিক টার্নওভার ৩০ থেকে ৫০ লাখ টাকা হলে সে প্রতিষ্ঠানের জন্য ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের পরিবর্তে ‘তালিকাভুক্তির সনদ’ নিতে হয় এবং টার্নওভারের ওপর ৪ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করতে হয়। কিন্তু ৩০ লাখের নিচে টার্নওভারের প্রতিষ্ঠানের জন্য ভ্যাট নিবন্ধন বা ‘তালিকাভুক্তির সনদ’ কোনোটাই নিতে হয় না। এর ফলে ৩০ লাখের নিচে টার্নওভারের কোনো প্রতিষ্ঠানকে কোনো ধরনের ভ্যাট দিতে হয় না। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে টার্নওভারের এ সীমা তুলে দিয়ে প্রায় সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টার্নওভারের ৪ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপ করা হবে। ভ্যাটের পরিমাণ মাসিক এক হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে বছরে ভ্যাট বাবদ ১২ হাজার থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, আমাদের দেশে দোকানদাররা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যে (এমআরপি) পণ্য বিক্রি করে থাকেন। এসব খুচরা মূল্যের সঙ্গে ব্যবসায় কমিশনের পাশাপাশি ভ্যাটও যুক্ত থাকে। ফলে ক্রেতাদের কাছ থেকে তারা ভ্যাট নিচ্ছেন। কিন্তু সব দোকানদার সে ভ্যাট সরকারের কোষাগারে দিচ্ছেন না। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আমরা এখনই সে ভ্যাট নিতে চাচ্ছি না। কিন্তু যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ‘তালিকাভুক্তির সনদ’ প্রয়োজন হয়, সেসব প্রতিষ্ঠানকে আমরা ভ্যাটের আওতায় আনতে চাচ্ছি। এজন্য বর্তমানে ৩০ থেকে ৫০ লাখ টাকার নিচে টার্নওভারের সীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব থাকবে। টার্নওভার যাই থাকুক না কেন, তালিকাভুক্তির সনদ নেওয়া প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট দিতে হবে। ৪ শতাংশ টার্নওভার ভ্যাটের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট প্রদান করবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

    এনবিআর সূত্র জানায়, কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে যদি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় কিংবা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস দিয়ে থাকে কিংবা ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয় কিংবা কোনো ট্রেড বডির সদস্য হতে হয়, তাহলে তার জন্য তালিকাভুক্তির সনদ নিতে হবে। আর এসব সনদ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার ৩০ লাখের নিচে হলেও তাকে ভ্যাট দিতে হবে।

    এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে ভাড়ার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। সুনির্দিষ্ট ভ্যাট পরিশোধ করলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ভাড়ার ওপর এ ভ্যাট আর পরিশোধ করতে হবে না। অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট ভ্যাটের সঙ্গে ভাড়ার ভ্যাটও যুক্ত থাকবে।

    যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার ৫০ লাখ টাকার বেশি, সেসব

    প্রতিষ্ঠানের জন্য ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক ও টার্নওভারের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট পরিশোধ করতে হয়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট চালু হওয়ার পর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কিন্তু ৩৫ বছরে মাত্র আট লাখের মতো প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় এসেছে। এর মধ্যে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠান ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করে থাকে। আগামী অর্থবছরে ২০ লাখ প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে এনবিআর।

  • খুরশীদ আলমকে অপসারণের দাবিতে গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ

    খুরশীদ আলমকে অপসারণের দাবিতে গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ

    ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমকে অপসারণের দাবিতে রাজধানীতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন গ্রাহকেরা। সচেতন গ্রাহক ফোরামে ব্যানের এ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভ মিছিল ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।

    বুধবার বেলা ১১টায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ শুরু হয়।

    গ্রাহক ফোরামের সভাপতি নুরুন নবি মানিক বলেন, ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদে খুরশীদ আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাকে জুলাই আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মীরা তাড়িয়ে দিয়েছিল। কারণ তিনি আগের সরকারের সময় আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত ছিলেন। তাই এমন একজন ব্যক্তিকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান করলে তিনি ব্যাংকের জন্য হুমকি তৈরি করবেন।

    তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় ব্যাংক। ব্যাংকটি ধ্বংস হয়ে গেলে দেশের অর্থনীতিও ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই সরকারকে পরামর্শ দিতে চাই যে, ব্যাংকটি যেন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, এজন্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করা হচ্ছে। এই ব্যাংক যাদের মাধ্যমে সমৃদ্ধ লাভ করেছিল, ব্যাংকের ম্যানেজমেন্টে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হোক।

    তিনি আরও বলেন, এই ব্যাংকে আগেও যাকে চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তিনিও গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা করেননি।

    এর আগে গত সোমবার ও গতকাল একই দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

    সোমবার দিনের বেলায় আন্দোলনের মুখে ইসলামী ব্যাংকের পূর্বনির্ধারিত পর্ষদ সভা সশরীরে অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। পরে রাতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় পর্ষদের পাঁচজন সদস্য অংশ নেন। সেখানে এমডি ওমর ফারুক খানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।

    গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করার পর রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    এর পর থেকেই তার নিয়োগের বিরোধিতা করে বিভিন্ন ব্যানারে কর্মসূচি পালন করে আসছেন একদল গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার। সেই ধারাবাহিকতায় টানা তৃতীয় দিনের মতো আজও ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

  • তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকা

    তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকা

    অর্থনীতি ডেস্কঃ

    আবারও খেলাপি ঋণ বেড়েছে। গত তিন মাসে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৩১ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকা, যা ওই সময়ের বিতরণ করা ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ।

    চলতি বছরের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। বর্তমানে ব্যাংক খাতে মোট ঋণ স্থিতি ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা।

  • মে মাসে রেমিট্যান্স এসেছে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার

    মে মাসে রেমিট্যান্স এসেছে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার

    চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩২ হাজার ৭৫৬ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে প্রাপ্ত ২৭ হাজার ৫০৬ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৯.০৯ শতাংশ বেশি।

    ২০২৬ সালের মে মাসে প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রায় সাড়ে তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    সোমবার (১ জুন) প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে মোট রেমিট্যান্স এসেছে তিন হাজার ৪২৫ দশমিক ০৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে প্রাপ্ত দুই হাজার ৯৬৯ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৫.৩৪ শতাংশ বেশি।

    রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে এবং সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.৭৭ বিলিয়ন ডলার

    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.৭৭ বিলিয়ন ডলার

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম-৬) পদ্ধতি অনুসারে, বাংলাদেশের নিট রিজার্ভ বর্তমানে ৩০.১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    সোমবার (১ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বাসস

  • দেড় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

    দেড় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

    ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানি তেলের মূল্য ফের বাড়িয়েছে সরকার। জুন মাসের জন্য পেট্রল-অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর আগে গত ১৮ এপ্রিলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

    রোববার এক বার্তায় এ তথ্য জানায় বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস/বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তাপর্যায়ে বিক্রয়মূল্য ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা,পেট্রল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকায় পুনর্নির্ধারণ করা হলো। যা আগামীকাল (১ জুন) থেকে কার্যকর হবে।

    সবশেষ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের গত ১৮ এপ্রিলের প্রজ্ঞাপন অনুসারে ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেলের দাম বাড়িয়ে প্রতি লিটার ১১৫ টাকা ও অকটেন ১৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া প্রতি লিটার পেট্রল ১৩৫ টাকা ও কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

  • আজ সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা

    আজ সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা

    পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৫ থেকে ৩১ মে টানা সাত দিনের ছুটিতে দেশের ব্যাংকগুলো বন্ধ থাকলেও বিশেষ প্রয়োজনে আজ মঙ্গলবার সীমিত পরিসরে কিছু ব্যাংকের শাখা খোলা থাকছে। তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং আমদানি-রফতানি কার্যক্রম সচল রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    এই শাখাগুলোতে অফিস কার্যক্রম চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। আর গ্রাহক লেনদেন করা যাবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত।

    গত ১৮ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এনালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) এই বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে।

    এতে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত ছুটির ধারাবাহিকতায় ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তবে টানা ছুটির মধ্যেও পোশাক শিল্প খাতের শ্রমিকদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধে ব্যাংকিং কার্যক্রম সচল রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

    সার্কুলার অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পোশাক শিল্পসংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলো ২৫ ও ২৬ মে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

    এ ছাড়া দেশের সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংক শাখা, উপশাখা ও বুথগুলোতে আগের মতোই সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা সেবা চালু থাকবে। ঈদের ছুটির সময়ও (ঈদের দিন ছাড়া) আমদানি-রফতানি সংশ্লিষ্ট সীমিত ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, ছুটির দিনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ভাতা পাবেন।

  • সম্ভাবনা থাকলেও পিছিয়ে বাংলাদেশের চামড়াশিল্প

    সম্ভাবনা থাকলেও পিছিয়ে বাংলাদেশের চামড়াশিল্প

    বিশ্ববাজারে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা বাড়লেও সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ। কাঁচামালের সহজলভ্যতা, তুলনামূলক কম শ্রম ব্যয় ও দীর্ঘদিনের শিল্পভিত্তি থাকা সত্ত্বেও দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় এই রপ্তানি খাত কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি।

    পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থতা, সাভারের ট্যানারি শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) অকার্যকারিতা, অর্থায়ন সংকট ও নীতিগত দুর্বলতায় শিল্পটি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা হারাচ্ছে।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে চামড়া, চামড়াজাত পণ্য ও ফুটওয়্যার রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৯৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আয় ছিল ৯৩ কোটি ২৫ লাখ ডলার। যদিও প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়েছে, বিশ্লেষকদের মতে সম্ভাবনার তুলনায় তা অত্যন্ত কম।

    বিশ্বে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি ডলারের চামড়ার বাজার রয়েছে। সেই হিসাবে বাংলাদেশ মাত্র এক শতাংশ বাজার ধরতে পারলেও বছরে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি রপ্তানি আয় সম্ভব ছিল।

    ইউরোপ-আমেরিকার বাজার হাতছাড়া

    সাভারের ট্যানারি শিল্পনগরীতে এখনো আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশ ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। ফলে অধিকাংশ ট্যানারি লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ পাচ্ছে না। এই সনদ ছাড়া ইউরোপ, আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার বড় ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশি চামড়া কিনতে আগ্রহ দেখায় না।

    বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ আমার দেশকে বলেন, আগে ইউরোপ, আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়া ছিল বাংলাদেশের বড় ক্রেতা। এখন চীন ছাড়া বড় বাজার নেই। অথচ চীনা ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ থেকে কম দামে চামড়া কিনে এলডব্লিউজি সনদের সুবিধা নিয়ে বেশি দামে ইউরোপ-আমেরিকায় বিক্রি করছে। এতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

    তিনি বলেন, আমাদের সিইটিপি পুরোপুরি কার্যকর না থাকায় এলডব্লিউজি সনদ মিলছে না। এর কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ক্ষতি হচ্ছে। সময়োপযোগী পরিকল্পনা না থাকায় সংকট দীর্ঘ হয়েছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজার দখলে চীন, পাকিস্তান, ভারতসহ অন্যান্য দেশ আমাদের ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

    বিডার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও আন্তর্জাতিক সনদের অভাবে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের সম্ভাব্য রপ্তানি আয় হারাচ্ছে। বর্তমানে দেশের মাত্র চারটি ট্যানারি এলডব্লিউজি সনদ পেয়েছে, যার কোনোটিই সাভার শিল্পনগরীর ভেতরে নয়।

    এক যুগেও কার্যকর হয়নি সিইটিপি

    পরিবেশ দূষণ কমাতে ২০০৩ সালে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরিয়ে সাভারে স্থানান্তর প্রকল্প নেওয়া হয়। দুই বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পটি শেষ হতে প্রায় দুই দশক লেগে যায়। এ সময় ব্যয় ১৭৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ১৫ কোটি টাকায়।

    তবে এত বড় বিনিয়োগের পরও সাভারের শিল্পনগরী এখনো পুরোপুরি পরিবেশসম্মত হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, সিইটিপির নকশাগত ত্রুটি শুরু থেকেই ছিল। প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য শোধনের সক্ষমতা থাকলেও উৎপাদিত বর্জ্যের পরিমাণ প্রায় ২৮ হাজার ঘনমিটার। কোরবানির মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার ঘনমিটারে।

    সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়, ক্রোমিয়াম পৃথকীকরণ ইউনিট পুরোপুরি কার্যকর নয়। ফলে অপরিশোধিত বর্জ্য ধলেশ্বরী নদীতে গিয়ে পড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করছে।

    শিল্প মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, গত দুই বছরে সিইটিপিতে কিছু সংস্কার করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ইতালীয় প্রতিষ্ঠান এখন কারিগরি মূল্যায়ন করছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে স্থায়ী সমাধানের রূপরেখা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    কোরবানির চামড়া বিক্রি হচ্ছে পানির দরে

    প্রতি বছর ঈদুল আজহায় দেশে প্রায় এক কোটি পশুর চামড়া সংগ্রহ হয়। অথচ এই বিপুল কাঁচামালের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না মৌসুমি ব্যবসায়ী ও এতিমখানা-মাদরাসাগুলো। এক সময় যে গরুর চামড়া এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা অনেক এলাকায় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় নেমে এসেছে।

    ব্যবসায়ীরা বলছেন, চামড়ার প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যয় ও লবণের খরচ অনেক সময় বিক্রয়মূল্যের চেয়েও বেশি হয়ে যাচ্ছে। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে সংগ্রহকারীদের। ফলে অনেক সময় ক্ষোভে চামড়া ফেলে দিচ্ছেন সংগ্রহকারীরা।

    লবণের দাম বাড়ায় নতুন সংকট

    একটি বড় গরুর চামড়া সংরক্ষণে ৭ থেকে ১০ কেজি লবণ লাগে। কিন্তু সম্প্রতি লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংরক্ষণ ব্যয়ও বেড়েছে। ৭৪ কেজির প্রতি বস্তা লবণ এখন বিক্রি হচ্ছে ৯৩০ থেকে ৯৫০ টাকায়, যা কয়েক মাস আগেও ছিল ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকা।

    চামড়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারে লবণের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্যানারিগুলোর বকেয়া পরিশোধে বিলম্বও ব্যবসায়ীদের সংকটে ফেলছে।

    চামড়ার আড়তদারদের দাবি, লবণ ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। প্রতিটি চামড়ার পেছনে শুধু পরিবহন খরচই ৪০০ টাকার বেশি পড়ে। তার সঙ্গে বাড়তি লবণ খরচ যুক্ত হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে। ট্যানারিগুলো বকেয়া টাকা সময়মতো দেয় না। আবার লবণের দামও বাড়ছে। ফলে ছোট ব্যবসায়ীরা টিকে থাকতে পারছেন না।

    ঋণ কমছে, বিনিয়োগও থমকে

    বাংলাদেশ ব্যাংক চামড়া ব্যবসায়ীদের দ্রুত ঋণ বিতরণের নির্দেশ দিলেও বাস্তবে ব্যাংকগুলো আগের মতো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। খেলাপি ঋণের হার বাড়ায় অর্থায়ন কমে গেছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে চামড়া খাতে এক হাজার ৮০০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ হলেও গত বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১২৫ কোটি টাকায়। ব্যবসায়ীদের মতে, সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ছাড়া এই খাতে নতুন বিনিয়োগ সম্ভব নয়।

    আলাদা বোর্ড গঠনের দাবি

    চামড়া শিল্পের উন্নয়নে একটি স্বতন্ত্র ‘জাতীয় চামড়া বোর্ড’ গঠনের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, নীতিগত সমন্বয়, আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ, পরিবেশগত সনদ অর্জন, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও অর্থায়ন ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নেতৃত্বের অভাবে খাতটি পিছিয়ে পড়ছে।

    এ ছাড়া এলডব্লিউজি সনদ জটিলতা কাটাতে ট্যানারিগুলোতে পৃথক ইটিপি স্থাপন, দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সুবিধা এবং স্থানীয় বাজার সম্প্রসারণে স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য চামড়ার জুতা ও ব্যাগ ব্যবহারের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

    ব্যবসায়ীদের সংশয়

    সরকার চামড়া শিল্পকে অগ্রাধিকার রপ্তানি খাত হিসেবে দেখার কথা বললেও ব্যবসায়ীদের মতে, শুধু মৌসুমি উদ্যোগে সংকট কাটবে না। সাভারের সিইটিপিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, এলডব্লিউজি সনদ নিশ্চিত করা, কেমিক্যাল আমদানিতে শুল্ক কমানো, সহজ অর্থায়ন ও রপ্তানি প্রণোদনা বাড়ানো ছাড়া শিল্পটিকে ঘুরে দাঁড় করানো সম্ভব নয়।

    তাদের মতে, তৈরি পোশাক খাতের পর দ্বিতীয় বৃহৎ রপ্তানি খাত হওয়ার সক্ষমতা থাকলেও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত সংকটে সম্ভাবনাময় এই শিল্প আজ দিশাহারা।

    সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ বিষয়ে বলেছেন, চামড়া শিল্পকে সরকার অগ্রাধিকার রপ্তানি খাত হিসেবে দেখছে। কোরবানির সময় চামড়া সংরক্ষণে লবণ সরবরাহ, প্রশিক্ষণ ও দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছ