অর্থ ও বাণিজ্য

  • বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক গভীর ও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার

    বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক গভীর ও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার

    বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক সরকার বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সার্বভৌম, সমতা এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির অংশীদারিত্বকে আরও গভীর ও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    শুক্রবার চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং এর স্থানীয় একটি হোটেলে চীন-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপোর দ্বিতীয় দিনে ‘বাংলাদেশ ডে’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী একথা বলেন।

    খন্দকার মুক্তাদির বলেন, উভয় দেশের জনগণ যাতে বাস্তব ও প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হতে পারে, সে রকম টেকসই সম্পর্ক গড়তে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তারই প্রতিফলন এবারের মেলায় বাংলাদেশের রেকর্ডসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ।

    তিনি বলেন, আজ আমাদের জন্য একটি বিশেষ দিন, কারণ আমরা আতিথেয়তাপূর্ণ ও উষ্ণ শহর কুনমিংয়ে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন করছি। চীনের মাটিতে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন করতে পারা আমাদের দুই দেশের মধ্যকার গভীর বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আস্থার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা বছরের পর বছর ধরে লালিত ও বিকশিত হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, আমরা গর্বের সঙ্গে আমাদের দেশকে ‘ডেস্টিনেশন বাংলাদেশ – সম্ভাবনার এক অনন্য ভূমি’ হিসেবে অভিহিত করি। এটি কেবল একটি স্লোগান নয়; বরং একটি উন্মুক্ত আমন্ত্রণ। এ সময় তিনি ইউনানের ব্যবসায়ী সমাজের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাংলাদেশ থেকে অধিক পণ্য আমদানির আহ্বান জানান।

    মেলার দ্বিতীয় দিনেও মন্ত্রী মেলার বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের স্টলসহ সকল দেশের উল্লেখযোগ্য স্টল পরিদর্শন করেন।

    ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপনের অংশ হিসেবে শুক্রবার একই ভেন্যুতে ‘বাংলাদেশ-সোর্সিং উইথ কোয়ালিটি এন্ড কম্পিটিটিবনেস’বিষয়ের উপর সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এত রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ কী নোট স্পীকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন চীনে নিযুক্ত কমার্শিয়াল কাউন্সেলর, ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ-চীন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ ফুটওয়্যার এন্ড লেদার গুডস এসোসিয়েশনের প্রতিনিধি। সেমিনারে বাংলাদেশ, চায়নার ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রতিনিধি এবং দুই দেশের সরকারি – বেসরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ, ‘১০ম চায়না–সাউথ এশিয়া এক্সপো এবং ৩০তম চায়না কুনমিং আমদানি-রপ্তানি মেলা–২০২৬’ গত ১১ জুন শুরু হয়েছে, যা আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত চলবে। এই আন্তর্জাতিক মেলায় বিশ্বের ৬৮টি দেশের প্রায় দুই হাজার ৩০০ প্রদর্শক অংশগ্রহণ করছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ব্যবস্থাপনায় এবং কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সহযোগিতায় এবারের মেলায় বাংলাদেশের রেকর্ডসংখ্যক ১০১টি প্রতিষ্ঠানের ১৭৫ জন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছে। বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে দেশের প্রধান রপ্তানি খাতসমূহের পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইলস, ওষুধশিল্প, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী, প্লাস্টিক পণ্য এবং হস্তশিল্প।

    অনুষ্ঠানে আরোও বক্তব্য প্রদান করেন চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম, ইউনান প্রদেশের ভাইস গভর্নর লিউ ইয়াং, ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল লী ঈ, বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ, চীনের কাউন্সিল ফর দ্যা প্রোমোশন ইন্টারন্যাশনাল এর প্রেসিডেন্ট লিউ কী লিন।

    এ সময় কুনমিং এ নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল, বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বাণিজ্যমন্ত্রীর সফরসঙ্গী বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশ ও চায়নার ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • উত্তরাঞ্চলে শিল্পায়নের সম্ভাবনা যাচাইয়ে আসছে চীনা প্রতিনিধিদল: এলজিআরডি মন্ত্রী

    উত্তরাঞ্চলে শিল্পায়নের সম্ভাবনা যাচাইয়ে আসছে চীনা প্রতিনিধিদল: এলজিআরডি মন্ত্রী

    দেশের উত্তরাঞ্চলের শিল্পায়নের সম্ভাবনা যাচাইয়ে আগামী দু-এক মাসের মধ্যেই একটি চীনা প্রতিনিধিদল আসছে বলে বলে জানালেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    আজ শুক্রবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের শহিদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

    এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য শিল্পায়নের কোনো বিকল্প নেই। সরকার বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। আমরা দেশে শিল্পকারখানা তৈরি করতে চাই। ঠাকুরগাঁওসহ এ অঞ্চলে শিল্পায়নের সুযোগ রয়েছে। এ সম্ভাবনা মূল্যায়নে আগামী দু-এক মাসের মধ্যেই চীনের একটি প্রতিনিধিদল আসবে।’

    তিনি বলেন, ‘একটি জাতির উন্নয়ন কেবল বাইরের সহায়তায় সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিক্ষা বিস্তার এবং কঠোর পরিশ্রম।’

    চীনের উন্নয়নের উদাহরণ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দেশটি নিজস্ব প্রচেষ্টা, দক্ষ জনশক্তি এবং উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আজ বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। আমাদেরও আত্মনির্ভরশীল হতে হবে এবং নিজেদের শক্তির ওপর ভর করে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাবে।’

    শিশুদের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন প্রজন্মকে আরও শিক্ষিত, দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উন্নত শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে যাবে।

    তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, চলতি বছরের জুলাই অথবা আগস্ট মাসের মধ্যেই একটি চীনা প্রতিনিধিদল এখানে আসবে এবং সম্ভাব্য সহযোগিতা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলো পরিদর্শন করবে।

    অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা ঠাকুরগাঁও পৌর এলাকার ৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬ হাজার ৩০৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেনে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী প্রমুখ।

  • আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো কমল স্বর্ণের দাম

    আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো কমল স্বর্ণের দাম

    মূল্যস্ফীতির চাপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদহার বৃদ্ধির আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে।

    শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ১০মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম শূণ্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮২ দশমিক ৪৭ ডলারে নেমে আসে। এতে সপ্তাহজুড়ে স্বর্ণের দাম প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমার পথে রয়েছে। তবে আগস্ট ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০৩ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছেছে।

    বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দাম ছয় মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেলেও পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪ হাজার ২১৯ দশমিক ৬৯ ডলারে লেনদেন শেষ করে। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক হামলা বাতিল এবং শিগগিরই শান্তি চুক্তি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়ার বিষয়টি ভূমিকা রাখে।

    বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান মেরেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেইর বলেন, বর্তমানে স্বর্ণের বাজার পুরোপুরি ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির খবরে পরিচালিত হচ্ছে।

    তার ভাষায়, ‘বাজার এখন ফেডের যেকোনো বার্তার দিকে নজর রাখবে। যদি তারা সুদহার বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়, তাহলে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ডলারের নিচেও নেমে যেতে পারে।’

    ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে স্বর্ণের দাম প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, জ্বালানি পণ্যের দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদহার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে বাধ্য হতে পারে। এতে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধরে রাখার আকর্ষণ কমে যায়।

    এদিকে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদক পর্যায়ের মূল্যসূচক প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি পণ্যের ব্যয় বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধি সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাজারে ডিসেম্বর মাসে ফেডের সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৬০ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চলতি সপ্তাহান্তেই একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে, যার ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবার স্বাভাবিক হবে। তবে ইরান জানিয়েছে, কোনো চুক্তির বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

    স্বর্ণভিত্তিক বিশ্বের বৃহত্তম এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড নিউইয়র্কভিত্তিক এসপিডিআর গোল্ড ট্রাস্টের স্বর্ণ মজুতও কমেছে। বুধবার তহবিলটির ধারণকৃত স্বর্ণের পরিমাণ প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৯২৩ দশমিক ৮৯ মেট্রিক টনে নেমে আসে।

    বাজারের অস্থিরতার কথা বিবেচনায় নিয়ে এএনজেড ব্যাংক চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্বর্ণের মূল্য লক্ষ্যমাত্রা ৪০০ ডলার কমিয়ে ৫ হাজার ২০০ ডলার নির্ধারণ করেছে।

    অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ৭৮ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭২৫ দশমিক ৯৯ ডলারে উঠলেও সপ্তাহজুড়ে লোকসানের দিকেই রয়েছে। অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৯০ দশমিক ১৫ ডলারে পৌঁছেছে এবং সপ্তাহজুড়ে ধাতুটির দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে।

  • ইসলামী ব্যাংকের  আমানতকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান- গভর্নর

    ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান- গভর্নর

    ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে কিছু নিয়মকানুন ও টুলস আছে, যা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে প্রয়োগ করা হবে। আমানতকারীদের কোনো অসুবিধা হবে না, তারা যেকোনো সময় টাকা তুলতে পারবেন।’

    শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আগামী অর্থবছরের বাজেট পেশ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘অবৈধ হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ অস্বীকার করে গভর্নর বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকে অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত পাঁচ সদস্যের বোর্ডের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গত ১৬ই মার্চ তাকে পরিবর্তন করা হয়। এর বাইরে আমরা কোনো বদলি বা প্রমোশনের বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করিনি।’

    তিনি আরও জানান, ঈদের আগের দিন ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান পদত্যাগ করার পর আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিতে হয়েছে। এরপর থেকেই ব্যাংকের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার একটি চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

    তবে ব্যাংকটির বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ইসলামী ব্যাংকের ইনভেস্টমেন্ট রেশিও ছিল ৯৩ শতাংশের মতো, যা মার্চে এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৭ দশমিক ৯ শতাংশে। নিয়ম অনুযায়ী এটি সর্বোচ্চ ৯২ শতাংশ হওয়া উচিত। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রয়োজনে সহায়তা দেওয়া হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

    ব্যাংক খাতের সামগ্রিক সংস্কারের বিষয়ে মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘ওয়ান থার্ড ডিপোজিট চুরি হয়ে গেছে। এই রকম একটা ব্যাংকিং সিস্টেমকে স্থিতিশীল করতে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যাগুলো আমরা পর্যায়ক্রমে সমাধান করছি।’

    দীর্ঘ ১২ বছর ধরে টাকা না পাওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের জন্য সুখবর দিয়ে গভর্নর জানান, আগামী এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে সমস্যাগ্রস্ত কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) বিষয়ে বিশেষ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, যার মাধ্যমে ভুক্তভোগী আমানতকারীরা তাঁদের টাকা ফেরত পাবেন।

  • ১৫০ সিসির ঊর্ধ্বে মোটরসাইকেল নিবন্ধনে লাগবে টিআইএন

    ১৫০ সিসির ঊর্ধ্বে মোটরসাইকেল নিবন্ধনে লাগবে টিআইএন

    আগামী অর্থবছরে মোট উন্নয়ন ব্যয় বাড়িয়ে এবং পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি ব্যয়ের কাঠামোয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরো বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১৫০ সিসির ঊর্ধ্বে মোটরসাইকেল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেন।

    ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভূক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে নয় লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩.৭ শতাংশ। এটি চলতি অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় এক লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।

    আগামী অর্থবছরে মোট উন্নয়ন ব্যয় বাড়িয়ে এবং পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি ব্যয়ের কাঠামোয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরো বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে।

    প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য তিন লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে তিন লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে পরিচালন ব্যয়সহ অন্যান্য খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ছয় লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।

    সরকার ধীরে ধীরে বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করছে। সে অনুযায়ী আগামী অর্থবছরে উন্নয়ন ব্যয় ৩৩.৭০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ২৭.২৭ শতাংশ। একইসাথে পরিচালন ব্যয়ের অংশ কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে মোট ব্যয়ের ৭২.৭৩ শতাংশ পরিচালন খাতে ব্যয় হলেও আগামী অর্থবছরে তা কমিয়ে ৬৬.৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ৫ হাজার টাকা করে বাড়ানোর প্রস্তাব

    খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ৫ হাজার টাকা করে বাড়ানোর প্রস্তাব

    ‘সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নিশ্চিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪,৭৩০টি বীর নিবাস নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।’

    আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা যেমন বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক এর পরিবারকে প্রদেয় ভাতার হার পাঁচ হাজার টাকা করে বৃদ্ধি করে যথাক্রমে ৪০ হাজার, ৩০ হাজার, ও ২৫ হাজার করার প্রস্তাব করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ বরাদ্দের প্রস্তাব করেন তিনি। এ সময় তিনি সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতা ২০ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখারও প্রস্তাব করেন।

    বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নিশ্চিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪,৭৩০টি বীর নিবাস নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।

    তিনি বলেন, সরকার মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করছে।

    মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য উৎসব ভাতা, বাংলা নববর্ষ ভাতা, চিকিৎসা সেবা ও দাফন অনুদানসহ বিভিন্ন সুবিধা প্রদান অব্যাহত রয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।

    তিনি জানান, এমআইএস পদ্ধতিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বিত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং জিটুপি প্রক্রিয়ায় সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। যুদ্ধাহত, খেতাবপ্রাপ্ত ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা ইএফটি প্রক্রিয়ায় প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ঋণ সুবিধা দেয়া হচ্ছে।

  • মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৭৫১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

    মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৭৫১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

    প্রস্তাবিত বাজেটে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পরিচালন খাতে ছয় হাজার ৫২৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৯৮৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য সাত হাজার ৫১৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় এ প্রস্তাব করেন।

    এর আগে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট ছিল সাত হাজার ৩৩০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এই বরাদ্দ দাঁড়ায় সাত হাজার ৪৫২ কোটি ১৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা।

    এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পরিচালন খাতে ছয় হাজার ৫২৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৯৮৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    আগামী অর্থবছরের বাজেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদফতরের জন্য ৬১৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

  • রেমিট্যান্সে ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা থাকছে, আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’

    রেমিট্যান্সে ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা থাকছে, আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’

    বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে এসব ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা সহজেই প্রবাসী কল্যাণসেবা, বীমা সুবিধা, ব্যাংকিং সেবা এবং জরুরি সহায়তা গ্রহণ করতে পারবেন।

    একইসাথে বৈধ পথে দেশে অর্থ পাঠাতে উৎসাহ দিতে বিদ্যমান ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা বহাল রাখার কথাও জানিয়েছে সরকার।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে এসব ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    বাজেটে প্রবাসীদের অগ্রাধিকার তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ ও প্রবাসী বাংলাদেশী জনশক্তির সুরক্ষা ও কল্যাণে আমাদের সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রবাসী কর্মীদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার একটি বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ প্রবর্তন করছে। প্রবাসী কল্যাণ সেবা, বীমা, ব্যাংকিং সুবিধা এবং জরুরি সহায়তার সাথে কার্ডটি সংযুক্ত করা হবে।’

    তিনি বলেন, ‘বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে আমরা রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়ার মতো দেশগুলোর সাথে ইতোমধ্যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এছাড়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আমরা আবারো মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের শ্রমবাজার খোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।’

    আমির খসরু বলেন, ‘আমাদের সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরের মাসেই প্রবাসীদের পাঠানো মাসিক রেমিট্যান্স ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশীদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। আমরা আশা করছি এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

    তিনি আরো বলেন, ‘সরকার প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণের ক্ষেত্রে ২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রাখছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক শ্রম বাজারের চাহিদার ভিত্তিতে অকুপেশনভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।’

    অর্থমন্ত্রীর ভাষ্যে, বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে—এমন খাতগুলোর জন্য খাতভিত্তিক কোর্স ও পাঠ্যক্রম চালুর কাজ শুরু করেছে সরকার। এছাড়াও বাজারভিত্তিক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম উন্নয়ন, সার্টিফিকেশন, অ্যাক্রেডিটেশন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হয়েছে।

  • ফ্যামিলি কার্ড পাবে ৪১ লাখ নারী

    ফ্যামিলি কার্ড পাবে ৪১ লাখ নারী

    নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরে ১৪,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।

    বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।

    তিনি জানান, সামাজিক নিরাপত্তা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের নারীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে।

    প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। কার্ডধারী প্রতিটি পরিবারের প্রধান নারী মাসে ২,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাস, বৈষম্য কমানো এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও জানান, কর্মসূচিটি ইতোমধ্যে পাইলট পর্যায়ে চালু হয়েছে এবং দ্রুত সম্প্রসারণের প্রস্তুতি চলছে।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কর্মসূচি নারীদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবার পর্যায়ে দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিতব্য বাজেটে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। এটি মোট জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। আর মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

    বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ১২ দশমিক ৬ শতাংশ)। সংশোধিত বাজেটে আকার প্রাক্কলন করা হয় ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে এবারের বাজেটের আকার বাড়ছে ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা।

    সাধারণত বাজেট ঘোষণার পরে দেখা যায় কিছু পণ্য ও সেবার দামে পরিবর্তন আসে। গত বছরের চেয়ে এ বছর বাজেটের আকার বাড়লেও বেশ কিছু পণ্যে উৎস কর, শুল্ক, ভ্যাট ও সারচার্জ বাড়ানো হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে। আবার কিছু কিছু খাতে করছাড় ও ভর্তুকির ফলে দাম কমবে পণ্যের।

    এবারের বাজেট বক্তৃতায় কোন খাতে কর বাড়ছে, কোথায় করছাড় দেওয়া হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে এর কী প্রভাব পড়তে পারে- সেদিকে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের নজর থাকবে।

  • স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বছর; ইসির জন্য বরাদ্দ ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বছর; ইসির জন্য বরাদ্দ ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা

    আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জন্য ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এই বরাদ্দের সিংহভাগ ব্যয় করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেন। যেখানে অন্যান্য খাতের মতো নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জন্যও বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ইসি এর আগে সরকারের কাছে ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছিল। তবে বাজেটে প্রাথমিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। যার মধ্যে পরিচালন ব্যয় ৩ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ৭৫৭ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। আর ইসির অনুরোধের বিপরীতে বাজেট বরাদ্দ ঘাটতি রয়েছে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

    বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জন্য প্রাথমিকভাবে ২ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। যা সংশোধিত বাজেটে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা। এবার সাংবিধানিক এই সংস্থার জন্য প্রাথমিক বরাদ্দ ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় প্রাথমিক বরাদ্দ বৃদ্ধির এই হার ৪৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

    সরকারের নির্দেশনায় ইসি আগামী অক্টোবরে ইউনিয়ন পরিষদের ভোট দিয়ে প্রথম দফার স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪ হাজার ৫৮১ ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১ জেলা পরিষদ, ৪৯৫ উপজেলা পরিষদ, ৩৩০ পৌরসভা এবং ১৩ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদ নির্বাচন উপযোগী রয়েছে। আগামী অর্থবছরজুড়েই এসব নির্বাচন আয়োজনের বিপুল ব্যয় মেটাতেই এবারের বাজেটে প্রস্তাবিত বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    অবশ্য বিদায়ী অর্থবছরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের জন্য বরাদ্দ হওয়া ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকার মধ্যে ২ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থবছর শেষে কমিশন রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ৮৯৪ কোটি টাকা ফেরত দেবে।

    নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ প্রস্তাবিত বাজেট বরাদ্দের বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, স্বাভাবিকভাবেই আসন্ন অর্থবছরের এই বরাদ্দ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনের সাথে সম্পর্কিত। কমিশন বরাদ্দকৃত তহবিলের সর্বোত্তম ব্যবহার করবে।