অর্থ ও বাণিজ্য

  • ইউরোপে তিন মাসে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৯ শতাংশ

    ইউরোপে তিন মাসে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৯ শতাংশ

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাজারে চলতি বছরের শুরুতেই বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে এই বাজারে দেশের পোশাক রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পর ইইউভুক্ত দেশগুলোতে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়াতে খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    ইইউর পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ২৬ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫৯ দশমিক ১৬ কোটি ইউরো, যেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ছিল ৫৬৮ দশমিক ৭ কোটি ইউরো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ১০৯ কোটি ইউরো রপ্তানি আয় কমে গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একক মাস হিসেবে চলতি বছরের মার্চে ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ২৪ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭০ কোটি ইউরো, যেখানে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ছিল ২১১ কোটি ইউরো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৪১ কোটি ইউরো রপ্তানি আয় কমে গেছে।

    সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইইউভুক্ত দেশগুলো এই তিন মাসে বিভিন্ন দেশ থেকে দুই হাজার ১০৮ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। এই আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ১১ দশমিক ৬২ শতাংশ কম। যদিও পরিমাণের দিক থেকে তৈরি পোশাক আমদানি কমেছে আট দশমিক ৩২ শতাংশ। তিন মাসে ৩৩ দশমিক ২ কোটি কেজি তৈরি পোশাক আমদানি করে ইইউভুক্ত দেশগুলো। এর বিপরীতে গত বছরের একই সময়ে আমদানি করেছিল ৩৬ দশমিক ২২ কোটি কেজি তৈরি পোশাক।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই পতনের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি হলো—রপ্তানির পরিমাণ হ্রাস এবং পণ্যের গড় মূল্য কমে যাওয়া। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। একই সময়ে প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম কমেছে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

    খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে ইইউ থেকে। তাই এই বাজারে এমন পতন দীর্ঘস্থায়ী হলে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    তারা বলছেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত রদবদল এবং বিভিন্ন বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রতিযোগী দেশগুলো এখন ইউরোপীয় বাজারে বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। চীন, ভারত, ভিয়েতনামসহ অন্যান্য রপ্তানিকারক দেশগুলো এই বাজারে অবস্থান শক্ত করতে জোরালো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যার ফলে প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হয়েছে।

    ইইউতে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চীন বরাবরের মতো শীর্ষস্থানে রয়েছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এই অঞ্চলে ৬১৪ দশমিক ৩ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক রপ্তানি করে চীন। এ রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ কম। এই সময়ে চীনের প্রতি কেজি পোশাকের দাম কমেছে ছয় দশমিক ৯৫ শতাংশ। তুরস্ক সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে, যেখানে রপ্তানি আয় কমেছে ১৮ দশমিক ৯২ শতাংশ। এছাড়া ভারত, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়াসহ বেশিরভাগ দেশই নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধির মুখে রয়েছে।

  • হরমুজ খুলে দেওয়ায় ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াবে তেলের বাজার: আইইএ

    হরমুজ খুলে দেওয়ায় ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াবে তেলের বাজার: আইইএ

    আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার পর বৈশ্বিক তেলের বাজার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বাজারে সরবরাহ বাড়তে থাকায় ২০২৭ সালে উল্লেখযোগ্য উদ্বৃত্তে পরিণত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

    আইইএর সর্বশেষ মাসিক তেলবাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের ফলে বড় ধরনের তেল সরবরাহ সংকট কাটিয়ে ওঠার পথ তৈরি হয়েছে। সংকটের সময় প্রতিদিন ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল উৎপাদন ও সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।

    প্রতিবেদনে আইইএ উল্লেখ করেছে, সমঝোতা কার্যকর থাকলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল উৎপাদন ও রপ্তানি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহারের ফলে ইরানের তেল রপ্তানি পুরোপুরি পুনরায় শুরু করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

    সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, জুনের শুরুতেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে উল্লেখযোগ্য গতি ফিরে এসেছে। ওমান উপসাগরে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তর কার্যক্রম বৃদ্ধির ফলে মে মাসে দৈনিক ৯৬ লাখ ব্যারেলে নেমে আসা তেল প্রবাহ বেড়ে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে।

    তবে আইইএ সতর্ক করে বলেছে, তেল সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছু সময় লাগবে। কারণ প্রধান নৌপথগুলো থেকে মাইন অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সরবরাহ শৃঙ্খল পুনরুদ্ধারের কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে না।

    সংস্থাটির মতে, এসব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে পারলে বৈশ্বিক তেলবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং সরবরাহ পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হবে।

  • তিন বছরের মধ্যে সুদ পরিশোধ না করলে আয় হিসেবে গণ্য হবে

    তিন বছরের মধ্যে সুদ পরিশোধ না করলে আয় হিসেবে গণ্য হবে

    আয়কর আইন অনুযায়ী কোম্পানিগুলো তাদের বার্ষিক মুনাফা থেকে ঋণের সুদকে ‘ব্যয়’ হিসেবে বাদ দিয়ে নিট মুনাফা দেখায়। এর ফলে কোম্পানিগুলোর করে হিসেবে জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে এটি উপস্থাপন করেন।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর মূল উদ্দেশ্য হলো—কোম্পানিগুলো যেন ঋণের সুদের বিপরীতে বারবার ‘ব্যয়ের’ সুবিধা নিয়ে সরকারকে কর ফাঁকি দিতে না পারে। কোম্পানি সুদের যে ব্যয় দাবি করে, তা তিন বছরের মধ্যে পরিশোধ না করলে সরকার ধরে নেবে—এটি আসলে ব্যয় ছিল না, বরং মুনাফা ছিল। তাই ওই সুদের ওপর এখন কর দিতে হবে।

    এ বিষয়ে এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, অ্যাকাউন্টিংয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অ্যাক্রুয়াল বেসিসে হিসাব করা হয়। কিন্তু আয়কর আইনে যে বিধানটি রয়েছে, সেটা করা হয়েছে কস্ট বেসিসে। এখন নতুন ধারা যুক্ত করে অ্যাকাউন্টিংয়ের ক্ষেত্রে আইএফআরএসের (ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং সিস্টেমের) সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য কোম্পানির ব্যয়ের হিসাবকেও অ্যাক্রুয়াল বেসিসে করা হয়েছে। আয়কর আইনের ইংরেজি ভার্সনে বিষয়টি ঠিকই আছে, কিন্তু বাংলায় অনুবাদ করতে গিয়ে কোনো কারণে মিসিং হয়ে গিয়েছিল। ফলে নতুন করে এ ধারাটি সংযোজন করতে হচ্ছে।

    অ্যাক্রুয়াল ও কস্ট বেসিসে হিসাবের পার্থক্যটি নিচের উদাহরণের মাধ্যমে স্পষ্ট করা যেতে পারে। ধরা যাক, একটি কোম্পানি একটি ব্যাংক থেকে এক কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যার বার্ষিক সুদ ১০ লাখ টাকা।

    অ্যাক্রুয়াল বেসিস : হিসাববিজ্ঞানের নিয়ম (আইএফআরএস) অনুযায়ী, আপনি এই বছর টাকা পরিশোধ না করলেও ওই ১০ লাখ টাকা আপনার চলতি বছরের ‘খরচ’ । কারণ, সুদটি এই বছরেরই এবং কোম্পানি এটি পরিশোধ করতে বাধ্য। তাই আর্থিক বিবরণীতে আপনি ১০ লাখ টাকাই খরচ দেখাবেন।

    কস্ট বেসিস : আয়কর আইন অনুযায়ী, এনবিআর আগে বলত—‘টাকা পকেট থেকে না গেলে (বা পরিশোধ না হলে) সেটি খরচ হিসেবে গণ্য হবে না।’ ফলে কোম্পানি ওই ১০ লাখ টাকা খরচ হিসেবে দেখালেও, ট্যাক্স রিটার্নে এনবিআর ওই খরচটি বাতিল করে দিত এবং ওই টাকার ওপর কর আরোপ করত।

    সমস্যাটি কোথায় ছিল?

    এতে কোম্পানির বইতে একটি বা সময়ের পার্থক্য তৈরি হতো। অ্যাকাউন্টিং বলছে এটা খরচ, কিন্তু ট্যাক্স ল বলছে এটা খরচ নয়। নতুন ধারার অর্থ হলো—এনবিআর এখন বলছে, ‘ঠিক আছে, তোমরা তো অ্যাক্রুয়াল বেসিসে এটাকে খরচ হিসেবে দেখাচ্ছ, আমরা সেটাকে অনুমোদন দেব। কিন্তু এই সুযোগ অনন্তকাল চলতে পারে না।’

    অর্থাৎ, যদি তিন বছর পর্যন্ত সুদ পরিশোধ না করে ওই টাকাটা ঋণের মূলধনের সঙ্গে যোগ করে বা অন্যভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়, তবে সরকার চতুর্থ বছরে এসে সেটিকে আয় হিসেবে গণ্য করে কর দাবি করবে।

  • প্রযুক্তিতে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির দ্বার উন্মোচন

    প্রযুক্তিতে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির দ্বার উন্মোচন

    একুশ শতকের অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে যাচ্ছে সেমিকন্ডাক্টর খাত বা চিপ। মোবাইল, কম্পিউটার থেকে শুরু করে প্রযুক্তি নির্ভরশীল বিশ্বে চিপ এখন কৌশলগত পণ্য। সেই দৌড়ে পা রাখতে যুগান্তকারী এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রযক্তিনির্ভর চিপ তৈরি এ খাতকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে সব ধরনের কর সুবিধা দিয়েছে। ২০৩১ সাল পর্যন্ত এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ট্রিলিয়ন ডলারের এই বৈশ্বিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হওয়ার পথ সুগম করেছে সরকার। সরকারি এই নীতি সহায়তায় পুরোপুরি রপ্তানিমুখী সেমিকন্ডাক্টর খাতের ৬ মিলিয়ন ডলারে থাকা রপ্তানি আয় আগামী ৫ বছরে বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তৈরি পোশাক খাতের পর প্রযুক্তি খাত হতে পারে আরেকটি বড় রপ্তানিমুখী শিল্প।

    আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সেমিকন্ডাক্টর খাতের জন্য আমদানিকৃত উপকরণের ওপর ১ শতাংশের ওপরে কোনো আমদানি শুল্ক, সমুদয় রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর ও আগাম কর সুবিধা স্থগিত রাখা হবে। এরপরই এই সুবিধাগুলো বাস্তবায়নে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নতুন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সরকারের এই প্রণোদনা প্যাকেজটি সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের পূর্ণাঙ্গ ভ্যালু চেইন-ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ডিজাইন, ইলেকট্রনিক ডিজাইন অটোমেশন (ইডিএ), সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলিং ও টেস্টিং (ওএসএটি) এবং প্যাকেজিং ও ফেব্রিকেশন সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে।

    ইলেকট্রনিক যন্ত্রের অত্যাবশ্যকীয় ক্ষুদ্রাংশ সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের শীর্ষে অবস্থানে রয়েছে তাইওয়ান। এ প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জাপানের ওপরে আছে তাদের নাম। তবে বাজেটে প্রযুক্তি খাতের বড় সুখবর হচ্ছে, সেই তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের নাম। বিদেশি বিনিয়োগ আর্কষণ এবং কর্মসংস্থান ও দেশীয় শিল্পের বিকাশে সরকারের এ উদ্যোগ মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেও অভিমত সংশ্লিষ্টদের। তারা বলছেন, বিশ্ববাজারে সেমিকন্ডাক্টরের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বাংলাদেশ এখনো এ খাতে তেমন উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে চিপ ডিজাইন করে বছরে প্রায় ছয় মিলিয়ন ডলার আয় করছে বাংলাদেশ। প্রাথমিক পর্যায়ে চিপ ডিজাইন ও টেস্টিং খাতে মনোনিবেশ করে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ আয় এক বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব হবে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুয়েটের ইলেট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাদিম চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিকাশে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট উন্নয়ন, ইলেকট্রনিক ডিজাইন অটোমেশন, আউটসোর্সড সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি অ্যান্ড টেস্টিং, প্যাকেজিং এবং ফ্যাব্রিকেশন খাতের জন্য ব্যাপক কর ও শুল্ক অব্যাহতি দিয়েছে। সরকারের এই নীতিগত সহায়তা বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্মার্টফোন, ডেটা সেন্টার, অটোমোবাইল, টেলিযোগাযোগ এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই সেমিকন্ডাক্টর চিপ অপরিহার্য। ফলে এই শিল্পে অংশগ্রহণ মানে কেবল প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়; বরং উচ্চমূল্যের রপ্তানি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ সৃষ্টি। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, সফটওয়্যার, পরীক্ষণ সরঞ্জাম এবং উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম আমদানির ক্ষেত্রে কাস্টমস ডিউটি কার্যত ১ শতাংশে সীমিত করা হয়েছে এবং নিয়ন্ত্রক শুল্ক, ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও অগ্রিম কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    নাদিম চৌধুরী বলেন, সরকারের এই সুবিধার মাধ্যমে শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক বিনিয়োগ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। এতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ইডিএ সফটওয়্যার যেমন ক্যাডেন্স, সিমেন্সের মতো ডিজাইন টুলসকে এ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। এতে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মানের চিপ ডিজাইন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে এবং বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ভ্যালু চেইনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। এ ছাড়া ডেভেলপমেন্ট প্ল্যাটফর্ম, হার্ডওয়্যার এমুলেশন সিস্টেম, হাইস্পিড অসিলোস্কোপ, ভেক্টর নেটওয়ার্ক অ্যানালাইজার, অটোমেটেডটেস্ট ইকুইপমেন্ট এবং অন্যান্য অত্যাধুনিক পরীক্ষণ সরঞ্জাম আমদানির সুযোগ তৈরি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প খাতের গবেষণা ও উন্নয়ন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলেও জানান বুয়েটের এই শিক্ষক।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেমিকন্ডাক্টর খাতের এই প্রণোদনা দেশের জন্য কৌশলগত কয়েকটি সুফল বয়ে আনতে পারে। প্রথমত, বাংলাদেশে ফ্যাবলেস চিপ ডিজাইন কোম্পানি গড়ে ওঠার পথ সহজ হবে। দ্বিতীয়ত, বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে গবেষণা ও ডিজাইন সেন্টার স্থাপনে আগ্রহী হবে। তৃতীয়ত, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন প্রকৌশলী ও গবেষকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। চতুর্থত, দীর্ঘমেয়াদে সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং, টেস্টিং এবং উৎপাদনভিত্তিক শিল্প বিকাশের ভিত্তি তৈরি হবে। বাংলাদেশের তরুণ প্রকৌশলী, বিশ্ববিদ্যালয় এবং উদীয়মান প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। সঠিক বাস্তবায়ন, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন এবং শিল্প একাডেমি সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে আগামী দশকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। এটি বাংলাদেশের জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনের পথে একটি কৌশলগত বিনিয়োগ এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি শিল্পের ভিত্তিপ্রস্তর বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ম্যাককিন্সির মতে, গ্লোবাল সেমিকন্ডাক্টর বাজার ২১ শতকের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় শিল্প। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ২০৩০ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারে পৌঁছাবে। এরই মধ্যে খাতটি ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হারে ২০২১ সালে ৬০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তৈরি পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর হতে পারে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বড় রপ্তানি খাত। সরকারের এই রেয়াতি সুবিধা মাইলফলক হয়ে থাকবে।

    জানা গেছে, দেশের ক্ষুদ্র পরিসরের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পটি এরই মধ্যে বিশ্বের দৃষ্টি কেড়েছে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানে উল্কাসেমি প্রায় ৩০০ প্রকৌশলী নিয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবন করছে। তারা গুগল, অ্যাপল, ফেসবুকের মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন করছে। আপাতত ডিজাইন পর্যায়ের কাজ করলেও লক্ষ্য উৎপাদনে যাওয়া। এ ছাড়া নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর, প্রাইম সিলিকন, টোটন ইলেকট্রনিকসের মতো কোম্পানি কাজ করছে। এ ছাড়া দেশীয় বড় কোম্পানিগুলো এই বাজারে প্রবেশ করার কাজ শুরু করেছে। ঘরের বাতি, টিভি, ফ্রিজ, ওভেন থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত ব্যবহারের মোবাইল হ্যান্ডসেট—যেখানে যা, তার সবকিছুই প্রযুক্তিনির্ভর।

  • এক মাসে দ্বিগুণ সোনারগাঁও টেক্সটাইলসের শেয়ারের দাম, লেনদেন স্থগিত

    এক মাসে দ্বিগুণ সোনারগাঁও টেক্সটাইলসের শেয়ারের দাম, লেনদেন স্থগিত

    সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই এক মাসে বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়ে গেছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সোনারগাঁও টেক্সটাইলসের শেয়ারের দাম। আজ সোমবারও দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। এদিন প্রতিটি শেয়ারের দাম ১০ শতাংশ বা ৮ টাকা বেড়ে হয়েছে সাড়ে ৮৭ টাকা।

    এক মাসের বেশি সময় ধরে কোনো কারণ ছাড়া কোম্পানিটির শেয়ারের একটানা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনায় আজ বাজারে এটি শেয়ারের লেনদেন তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ডিএসইর পক্ষ থেকে লেনদেন চলাকালে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ডিএসই জানিয়েছে, আজ লেনদেন শুরুর পর কোম্পানিটির শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হওয়ায় দিনের বাকি সময়ের জন্য লেনদেন স্থগিত করা হয়।

    ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ মে ঢাকার বাজারে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ৩৪ টাকা। আজ লেনদেনের শুরুতে সেই দাম বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে ৮৭ টাকায়। এই সময়ে লেনদেন হয়েছে ২৩ দিন। সেই হিসাবে এক মাসের কিছু বেশি সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম সাড়ে ৫৩ টাকা বা দেড় শ শতাংশের বেশি বেড়েছে। অর্থাৎ ২৩ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গেছে। এ অবস্থায় আজ লেনদেন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসই।

    ৪ জুন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নেতৃত্ব বদল হয়। সরকার বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেন মাসুদ খানকে। পাশাপাশি আরও তিনজন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই দিনই তাঁরা শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নিয়েই ওই দিন সাংবাদিক সম্মেলনে বিএসইসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খান ঘোষণা দিয়েছিলেন বাজারের কারসাজিকারকদের বিরুদ্ধে কমিশন রিয়েল টাইম বা প্রকৃত সময়ভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

    সংবাদ সম্মেলনে বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, কারসাজিকারকদের আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও বেশি শাস্তির মুখোমুখি হবে এবং সেটি হবে রিয়েল টাইম–ব্যবস্থা। কারসাজি নিয়ন্ত্রণে জেড শ্রেণিভুক্ত কোম্পানির ওপর শুরু থেকে বিশেষ নজরদারি করা হবে। বিএসইসির সব ধরনের কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা।

    দায়িত্ব গ্রহণের পর বিএসইসির নবনিযুক্ত কমিশন ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে। সেই বৈঠকে নির্দেশনা দেওয়া হয় দুর্বল মানের যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া অস্বাভাবিকভাবে বাড়বে, সেগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে এসব শেয়ারের লেনদেন স্থগিত করে মূল্যবৃদ্ধির কারণ দ্রুততার সঙ্গে খতিয়ে দেখতে হবে। বিএসইসির ওই নির্দেশনার পর দুর্বল মানের যেসব কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটছে, সেসব কোম্পানির শেয়ার লেনদেন তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ডিএসই। তারই অংশ হিসেবে আজ সোনারগাঁও টেক্সটাইলসের লেনদেন স্থগিত করা হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে শ্যামপুর সুগার মিলসের শেয়ারের লেনদেনও তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। অবশ্য পরবর্তী কার্যদিবসে আবার সেই স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হয়।

    বাজার–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারসাজি ছাড়া দুর্বল মানের কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। তাই এ ধরনের কোম্পানির শেয়ার থেকে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দিতে তাৎক্ষণিক কিছু ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।

    বস্ত্র খাতের কোম্পানি সোনারগাঁও টেক্সটাইলস লোকসানি একটি কোম্পানি। সর্বশেষ গত জুলাই-মার্চ প্রান্তিকে কোম্পানিটি ৫০ লাখ টাকার বেশি লোকসান করেছে। গত বছরের জুনে সমাপ্ত সর্বশেষ আর্থিক বছর কোম্পানিটির লোকসানের পরিমাণ ছিল ২ কোটি টাকার বেশি। এ কারণে গত অর্থবছর শেষে কোম্পানিটি শেয়ারধারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। বর্তমানে কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে ‘বি’ শ্রেণিভুক্ত।

    ১৯৯৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানিটি স্বল্প মূলধনি একটি কোম্পানি। এটির পরিশোধিত মূলধন ২৬ কোটি টাকা। আর শেয়ারসংখ্যা ২ কোটি ৬৪ লাখের বেশি, যার ৪০ শতাংশের বেশি রয়েছে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে। ফলে বাজারে এটির লেনদেনযোগ্য শেয়ারের পরিমাণ কম। আর এটিকেই সুযোগ হিসেবে কাজে লাগান কারসাজিকারকেরা। লেনদেনযোগ্য শেয়ার কম থাকায় অল্প কিছু শেয়ার কিনে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটান কারসাজিকারকেরা।

  • বছর শেষে ২৫৮ কোটি টাকার লভ্যাংশ ঘোষণা বার্জারের, কারা কত পাবেন

    বছর শেষে ২৫৮ কোটি টাকার লভ্যাংশ ঘোষণা বার্জারের, কারা কত পাবেন

    শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের মুনাফা এক বছরে ২৭ কোটি টাকা বা পৌনে ৮ শতাংশ বেড়েছে। গত মার্চে সমাপ্ত হিসাব বছর শেষে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭৭ কোটি টাকা। তার আগের বছর এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ৩৫০ কোটি টাকা। গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় গত এপ্রিল–মার্চ হিসাব বছরের আর্থিক বিবরণী চূড়ান্ত করা হয়। তাতে কোম্পানিটির মুনাফার এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

    শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে আজ মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন আর্থিক তথ্য জানিয়েছে কোম্পানিটি। সোমবারের একই সভায় সদ্যবিদায়ী হিসাব বছরের জন্য লভ্যাংশও ঘোষণা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি গত এপ্রিল–মার্চ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারধারীদের ৫২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঘোষিত এই লভ্যাংশ অনুযায়ী, কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে একজন শেয়ারধারী সাড়ে ৫২ টাকা করে লভ্যাংশ পাবেন। রেকর্ড তারিখে যাদের হাতে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার থাকবে তারাই এই লভ্যাংশের দাবিদার হবেন। ২০২৫ সালের হিসাব বছর শেষেও কোম্পানিটি শেয়ারধারীদের ৫২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। সেই হিসাবে মুনাফা বাড়লেও লভ্যাংশ বাড়েনি।

    এদিকে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ গত মার্চে সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য যে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে তাতে লভ্যাংশ বাবদ কোম্পানিটিকে বিতরণ করতে হবে প্রায় ২৫৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ কোম্পানিটি উল্লেখিত হিসাব বছরের যে মুনাফা (৩৭৭ কোটি টাকা) করেছে তার প্রায় ৬৮ শতাংশই লভ্যাংশ হিসেবে শেয়ারধারীদের মধ্যে বিতরণ করবে। যার বড় অংশই পাবেন কোম্পানিটির বিদেশি শেয়ারধারীরা। কারণ, তাঁদের কাছেই রয়েছে কোম্পানিটির প্রায় ৯০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা। সেই মালিকানার বিপরীতে কোম্পানিটির বিদেশি মালিকেরা পাবেন ২৩১ কোটি টাকার লভ্যাংশ। বাকি ১০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানার মধ্যে প্রায় ৮ শতাংশ রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে। সেই হিসাবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ হিসেবে পাবেন ২১ কোটি টাকা। আর ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ২ শতাংশ শেয়ার। এই শেয়ারের বিপরীতে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ হিসেবে পাবেন প্রায় সোয়া ৫ কোটি টাকা।

    ঘোষিত লভ্যাংশের আইনগত দাবিদার নির্ধারণের জন্য বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ রেকর্ড তারিখ ঘোষণা করেছে আগামী ৭ জুলাই। ওই দিন যাদের হাতে কোম্পানিটির শেয়ার থাকবে তারাই ঘোষিত লভ্যাংশ পাবেন। আর এই লভ্যাংশ বিতরণ করা হবে আগামী ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম শেষে। কারণ, এজিএমে শেয়ারধারীদের অনুমোদনের পরই তা বিতরণ করা হবে।

    লভ্যাংশের ঘোষণা ও বছর শেষে মুনাফার তথ্য প্রকাশের পর আজ শেয়ারবাজারে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের শেয়ারের দরপতন হয়েছে। ঢাকার বাজারে বেলা সোয়া ১টা পর্যন্ত কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ১৮ টাকা বা সোয়া ১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪১৫ টাকায়।

  • বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আরো গতিশীল করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আরো গতিশীল করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    নবনিযুক্ত বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বাণিজ্য সচিবকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে স্বাগত জানান। তিনি নবনিযুক্ত সচিবকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।

    মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত পরিচয়পর্বে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, উপসচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নবনিযুক্ত সচিবের শক্তিশালী একাডেমিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পূর্বে কাজ করার অভিজ্ঞতা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করবে।

    তিনি বলেন, দক্ষ নেতৃত্ব, সমন্বিত টিমওয়ার্ক এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আগামী দিনে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করবে।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের একাধিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। এসব গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় আরও দক্ষতার সঙ্গে অংশগ্রহণের জন্য এফটিএ টিমকে সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি নতুন দক্ষ জনবল ও বিশেষায়িত দক্ষতা সংযোজন করা হবে।

    আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হলে আরও বড় ও দক্ষ টিম গঠন করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়া হবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন সহযোগী সংস্থাও এ বিষয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

    মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সবার প্রতি ন্যায়সংগত আচরণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মেধাবী ও যোগ্য কর্মকর্তারা তাঁদের দক্ষতা ও সম্ভাবনা পূর্ণভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ পান। কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে যোগ্য ব্যক্তিদের উৎসাহিত করতে হবে।

    তিনি বাণিজ্য সচিবের উদ্দেশে বলেন, আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস, আপনার একাডেমিক ও কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা আপনাকে দক্ষতার সঙ্গে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা দিয়েছে। আপনার নেতৃত্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আগামী দিনে আরও গতিশীল, দক্ষ এবং ফলাফলমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

    নবনিযুক্ত বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা, আগামী অর্থবছরের পরিকল্পনা এবং পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যসমূহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এসময় তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর সংস্থা সমূহের সক্ষমতা, চলমান এগ্রিমেন্ট, পলিসি ও ট্রিটি সম্পর্কে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রণালয়ের নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

    আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কৃষি, শিল্প, শ্রম ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যেসব আন্তঃমন্ত্রণালয় বিষয় রয়েছে, সেগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

    বিদেশে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক মিশনগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এসব মিশনকে আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও ফলাফলনির্ভর হতে হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে মিশনগুলোর কর্মদক্ষতা নিয়মিত মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, উপসচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোতে বাংলাদেশের ৬ পুরস্কার অর্জন

    চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোতে বাংলাদেশের ৬ পুরস্কার অর্জন

    চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ে শেষ হওয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ইভেন্ট ‘১০ম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপো এবং ৩০তম চায়না কুনমিং আমদানি-রফতানি মেলা-২০২৬’- এ ছয়টি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করেছে বাংলাদেশ, যা দেশের জন্য একটি অন্যতম বড় সাফল্য।

    মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ‘আউটস্ট্যান্ডিং এক্সিবিশন অর্গানাইজার’ পুরস্কার লাভ করেছে।

    কুনমিংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) রিদওয়ানুর রহমানের উপস্থিতিতে ইপিবির পরিচালক মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেন এবং উপ-পরিচালক মো: রফিকুল ইসলাম এই পুরস্কার গ্রহণ করেন।

    এ বছর বাংলাদেশ চারটি ক্যাটাগরিতে মোট ছয়টি পুরস্কার অর্জন করেছে। এর মধ্যে দেশের তিনটি প্রতিষ্ঠান-আড়ং, সাসটেইনেবল বাংলাদেশ এবং ক্লে ইমেজ ‘বেস্ট এক্সিবিটর’ হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে। এছাড়া ‘বেস্ট প্যাভিলিয়ন’ ও ‘বেস্ট বুথ ডিজাইন’ ক্যাটাগরিতেও বাংলাদেশ পুরস্কার লাভ করে।

    ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের উপ-মহাপরিচালক সুন মিং সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

    উল্লেখ্য, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ব্যবস্থাপনায় এবং কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সহযোগিতায় গত ১১ জুন কুনমিংয়ের ডিয়ানচি ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে মেলা এবং থিম কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং চীনের ইউনান প্রদেশের গভর্নর ওয়াং ইউবো।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, আখতার হোসেন এমপি, মো: খালেদ হোসেন মাহবুব এমপি, সুলতানা জেসমিন এমপি, চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো: নাজমুল ইসলাম, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ, কুনমিংয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    মেলার সাইডলাইন ইভেন্ট ‘বিগ মার্কেট ফর অল: এক্সপোর্ট টু চায়না’-তে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ চীনে বাংলাদেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

    এ বছর বাংলাদেশের রেকর্ডসংখ্যক ১০১ প্রতিষ্ঠানের ১৭৫ জন প্রতিনিধি মেলায় অংশগ্রহণ করেন। বিশ্বের ৬৮টি দেশের প্রায় ২ হাজার ৩০০ প্রদর্শক এ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশ নেন। মেলার দ্বিতীয় দিনে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন করা হয়।

  • পাঁচ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

    পাঁচ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

    জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ৭ হাজার ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

    মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয় মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প তিনটি এবং সংশোধিত প্রকল্প দুটি।

    অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান; শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির; সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন; পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

    আজকের সভায় অনুমোদিত পাঁচটি প্রকল্প হলো— প্রধানমন্ত্রীর কার্যালযের একটি প্রকল্প ‘Supporting Infrastructure Project for Chinese Economic and Industrial Zone’ প্রকল্প।

    পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তিনটি প্রকল্প: ১. ফেনী জেলাধীন মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ প্রকল্প; ২. ‘করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন’ প্রকল্প; ৩. ‘পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলাধীন তালবাড়িয়া এবং কুমারখালী উপজেলাধীন শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি এলাকা রক্ষা (১ম সংশোধন)’ প্রকল্প।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়েরেএকটি প্রকল্প: ‘১০০টি উপজেলায় ১টি (এক) করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

    সভায় মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী কর্তৃক ইতিমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সংবলিত ৪টি প্রকল্প সর্ম্পকে একনেক সভায় অবহিত করা হয়।

    সেগুলো হলো— ১. বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারে বিমানসেনা ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প; ২. নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ সাভার স্থাপন প্রকল্প; ৩. বাংলাদেশ বিমান বাহিনী স্টেশন শমসেরনগর বিদ্যমান বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষাদান সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প এবং ৪. প্যাগোডাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক ও ক্রিপিটক শিক্ষা কার্যক্রম ৪র্থ পর্যায় প্রকল্প।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্বাহী পরিচালক হলেন আশিকুর রহমান

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্বাহী পরিচালক হলেন আশিকুর রহমান

    বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসের পরিচালক মোহাম্মদ আশিকুর রহমান ব্যাংকটির নির্বাহী পরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।

    রোববার (১৪ জুন) তাকে পদোন্নতি দিয়ে প্রধান কার্যালয়ের মানবসম্পদ বিভাগে সংযুক্ত করা হয়।

    আশিকুর রহমান ১৯৯৯ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মজীবন শুরু করেন। কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের ব্যাংকিং সুপারভিশন, সেন্ট্রাল ব্যাংক স্ট্রেনদেনিং প্রজেক্ট (সিবিএসপি), ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট, বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমি ও এসএমই বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

    আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এলায়েন্স ফর ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুসনের (এএফআই) জেন্ডার ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স কমিটিতে ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মেয়াদে ‘ভাইস চেয়ার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    আশিকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগত দক্ষতার অংশ হিসেবে তিনি ‘দি ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ থেকে ডিএআইবিবি এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট থেকে কম্পিউটার এপ্লিকেশন্স বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পলাশতলী গ্রামে তার জন্ম।