অর্থ ও বাণিজ্য

  • সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত নজিরবিহীন বৃদ্ধি পেয়েছে।

    সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত নজিরবিহীন বৃদ্ধি পেয়েছে।

    সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে গত বছর বাংলাদেশিদের আমানত জমার পরিমাণ নজিরবিহীন বৃদ্ধি পেয়েছে। সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর মধ্যে ২০২৫ সালেই জমা পড়ে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি)।
    এতে বলা হয়, ২০২৫ সাল নাগাদ ব্যক্তি ও ব্যাংক কর্তৃক সুইস ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশি অর্থের পরিমাণ ৪১% বৃদ্ধি পেয়ে ৮৩৪.২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ১২,৭৬৩ কোটি টাকা)-তে পৌঁছেছে, যা এযাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বাংলাদেশি ১২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে এক সুইস ফ্রাঁ বাংলাদেশি ১৫২ টাকার বেশি।

    একইসঙ্গে, এই পরিসংখ্যানটি গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং ২০২৪ সালে রেকর্ডকৃত ৫৯০ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
    এর আগে, ২০২১ সালে রেকর্ড ৮৭১.১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছে। যেটি ছিল দেশের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ।

    সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডের শতাধিক ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ৮৭১.১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছায়। ওই বছর সুইজারল্যান্ডের প্রতি ফ্রাঁ বাংলাদেশের ৯৫ টাকার সমান ছিল। সেই হিসেবে সেখানকার ব্যাংকে ওই বছর বাংলাদেশিদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা; যা দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ পরিমাণ জমা করা অর্থ। কিন্তু গত বছর আমানতের উল্লম্ফনে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি গ্রাহকদের মোট তহবিলের পরিমাণ ২০২১ সালের সর্বকালের সর্বোচ্চ ৮৭১.১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁর রেকর্ডের ঠিক নিচে অবস্থান করছে।

    এছাড়া গত বছর সুইস বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের মোট আমানতের ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশই ছিল বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর। যেখানে তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশ; যা ২০২৩ সালের ২০ শতাংশ এবং ২০২১ সালের ৩৫ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি।
    তবে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশের ব্যক্তিগত গ্রাহক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জমা রাখা আমানতের পরিমাণ ২০২৪ সালের তুলনায় কমেছে। ২০২৪ সালের ১২ দশমিক ৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ থেকে প্রায় ১০ শতাংশ কমে গত বছর বাংলাদেশি ব্যক্তিগত গ্রাহক অ্যাকাউন্টের আমানত ১১.৪ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে নেমেছে।

    অর্থনীতিবিদরা জানান, আশা করা হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশ থেকে অর্থ পাচার কমবে। কিন্তু সুইস ব্যাংকের এই হিসাব প্রমাণ করে অর্থ পাচার কমেনি। এটি অর্থনীতির জন্য মোটেও ভালো ফল বয়ে আনছে না। এখন দেখার বিষয় বর্তমান সরকার অর্থ পাচার বন্ধের পাশাপাশি পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনতে কী উদ্যোগ নেয়। তা না হলে অর্থ পাচার থামবে না।

  • কাস্টমসের হয়রানি কমলে ব্যবসার খরচ কমবে

    কাস্টমসের হয়রানি কমলে ব্যবসার খরচ কমবে

    বাজেটে শিল্পপণ্যের প্রয়োজনীয় প্যাকেজিং উপকরণ সরবরাহে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হয়েছে। এতে আমাদের মতো প্রতিষ্ঠান কিছুটা স্বস্তি পাবে। তবে যেসব উদ্যোক্তা বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করেন, তাঁদের প্রত্যেকে কাস্টমসের হয়রানির শিকার। ১ হাজার মার্কিন ডলারের কোনো পণ্য আমদানি করলে সেই পণ্যের দাম ১ হাজার ৪০০ ডলার ধরে শুল্কায়ন করছে কাস্টমস কর্মকর্তারা। উদ্যোক্তারা সবাই এই হয়রানি থেকে মুক্তি চান। বাজেট বাস্তবায়ন পর্যায়ে এই বিষয়টি থেকে মুক্তি দেওয়া হলে ব্যবসার খরচ কিছুটা কমবে।

    এ ছাড়া বাজেট সুলিখিত; সুপঠিতও মনে হয়েছে। বাজেটে দেশের অর্থনীতির মঙ্গলের জন্য কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের জন্য যা যা দরকার সেগুলোর অনেক কিছুই আছে। তবে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে গেলে যে পরিমাণ তহবিল দরকার, সেটি কোথা থেকে আসবে। সেটি সুস্পষ্ট করা হয়নি। দ্রব্যমূল্য সহনীয় করতে অনেক পণ্যে করছাড় দেওয়া হয়েছে। ফলে অর্থায়ন কোথায় থেকে আসবে, সেটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে। কারণ, রাজস্ব আদায় না বাড়লে বাজেট বাস্তবায়ন ঝুঁকিতে পড়বে।

    নির্বাচিত সরকার জনগণের সন্তুষ্টির জন্য বাজেটে ভালো ভালো কথা বলেছে। মানুষের চাহিদা পূরণে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আমরা ব্যবসায়ীরা বড় বাজেট শুনলেই আঁতকে উঠি। তার কারণ দিন শেষে বড় বাজেট বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ কর আহরণের চাপ ব্যবসায়ীদের ঘাড়ে এসে পড়ে। বিগত সরকারের আমল থেকে বড় বাজেট দেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে নেওয়া হচ্ছে। অথচ বড় বাজেট অর্জনযোগ্য কি না, সেটি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। দেশ–বিদেশের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যও অর্জিত হয়নি। তারপরও রাজস্ব আদায়ের বড় লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    বাজেটে ব্যবসা সহজ করার বেশ কিছু উদ্যোগের কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। সেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হলে ব্যবসা–বাণিজ্য সহজ হবে। তবে আমলাতন্ত্রের সংস্কার না আনা গেলে ব্যবসা সহজ করার এসব উদ্যোগ কতটা কার্যকর করা যাবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

    ঘোষিত বড় বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। সেই ঘাটতি মেটাতে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা দেশের ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করে রেখেছেন অর্থমন্ত্রী। সরকার যদি ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেয়, তাহলে ব্যবসা–বাণিজ্যে গতি ফেরানো কঠিন হবে। তখন বেসরকারি খাত প্রয়োজনীয় ঋণ পাবে না। সরকার ১১–১২ শতাংশ সুদে ঋণ নিলে ব্যাংকগুলো সেটিকে নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করে। তখন ব্যাংকগুলো শিল্পকারখানায় ঋণ দেওয়াকে বরং ঝুঁকিপূর্ণ মনে করবে। তাই সরকারকে ব্যাংক খাত থেকে বিপুল ঋণ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। তা না হলে বেসরকারি খাতে প্রবৃদ্ধি হবে না। ঋণের সুদহারও কমবে না।

  • রিমার্কের তিন মাসব্যাপী ‘ডাবল লাখপতি’ ক্যাম্পেইন শুরু

    রিমার্কের তিন মাসব্যাপী ‘ডাবল লাখপতি’ ক্যাম্পেইন শুরু

    দেশে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের স্কিনকেয়ার বা ত্বক পরিচর্যা, হোমকেয়ার ও কসমেটিকস বা প্রসাধনী পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রিমার্ক এইচবি লিমিটেড সম্প্রতি বিক্রেতাদের জন্য ‘ডাবল লাখপতি’ শীর্ষক একটি ক্যাম্পেইন চালু করেছে। ক্যাম্পেইনটির প্রথম ধাপ আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।

    এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রিমার্ক এইচবি লিমিটেড এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয় এই ক্যাম্পেইনের আওতায় রিমার্কের সারা দেশের তালিকাভুক্ত রিটেইলার বা খুচরা বিক্রেতারা ন্যূনতম ২ হাজার টাকার পণ্য কিনলেই প্রতিবার সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ উপহার জেতার সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া তাৎক্ষণিক ক্যাশব্যাক এবং ফ্রিজ ও টিভিসহ অনেক উপহার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

    রিমার্ক এইচবি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নাজমুল আলম বলেন, ব্যবসায়িক অংশীদারদের সাফল্যকে রিমার্ক সব সময় নিজের সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করে। ‘ডাবল লাখপতি’ ক্যাম্পেইন বিক্রেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান প্রকাশের একটি উদ্যোগ। তিনি বলেন, রিমার্কের প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বিক্রেতারা যেন তাঁদের পরিশ্রমের যথাযথ স্বীকৃতি ও পুরস্কার পান, সেটিই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমানে রিমার্ক নিজস্ব অত্যাধুনিক কারখানায় উন্নত প্রযুক্তি ও ফর্মুলেশন ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদন করে। এখন যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও ভারতে রিমার্কের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। ২০২৫ সালে পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেছে রিমার্ক।

    কোম্পানির ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার মাইনুল আহসান বলেন, দেশের বাজারে রিমার্কের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রায় ব্যবসায়ী ও বিক্রেতাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্যাম্পেইন তাঁদের নতুন অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং বাজারে রিমার্কের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করবে। তিনি বলেন, ডাবল লাখপতি হওয়ার সুযোগের পাশাপাশি ইনস্ট্যান্ট ক্যাশব্যাক ও মূল্যবান উপহার ক্যাম্পেইনটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

  • উত্তরা ব্যাংকের ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন

    উত্তরা ব্যাংকের ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন

    উত্তরা ব্যাংক পিএলসি ২০২৫ সালের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ বা বোনাস শেয়ার এবং ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ হিসেবে অনুমোদন করা হয়।

    সম্প্রতি উত্তরা ব্যাংকের ৪৩তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এই লভ্যাংশ অনুমোদিত হয়। বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। সভায় লভ্যাংশের পাশাপাশি ব্যাংকের লাভ–ক্ষতির হিসাবসহ ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনও অনুমোদন করা হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উত্তরা ব্যাংক এসব তথ্য জানিয়েছে।

    ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন উত্তরা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম। এতে ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ইফতেখারুল ইসলাম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী মো. আবুল হাশেমসহ পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় উপস্থিত শেয়ারহোল্ডাররা ব্যাংকের সার্বিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

    উত্তরা ব্যাংক শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত একটি কোম্পানি। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এই ব্যাংকের প্রতিটি শেয়ার ২১ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনাবেচা হয়েছে। এদিন দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি এই ব্যাংকের শেয়ারের দাম অবশ্য অপরিবর্তিত ছিল, অর্থাৎ বাড়েওনি, কমেওনি।

    ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে উত্তরা ব্যাংকের ২৫০টি পরিপূর্ণ অনলাইন সুবিধাসংবলিত শাখা এবং ৫১টি উপশাখা রয়েছে।

  • রাজশাহীর সিল্ক  দ্রুত ও নিরাপদে পৌঁছে দেবে ডাক বিভাগ

    রাজশাহীর সিল্ক দ্রুত ও নিরাপদে পৌঁছে দেবে ডাক বিভাগ

    দেশের ঐতিহ্যবাহী রেশম পণ্য গ্রাহকদের কাছে দ্রুত, নিরাপদ ও দক্ষতার সাথে পৌঁছে দিতে একসাথে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড, রেশম শিল্প মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ ডাক বিভাগ।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় রেশম শিল্পের উৎপাদন, বিপণন ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে ডাক বিভাগের আধুনিক সেবাকে কাজে লাগানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক তৌফিক আল মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তসহ আন্তর্জাতিক বাজারে সিল্ক পণ্য সহজে পৌঁছে দিতে ডাক বিভাগের নেটওয়ার্ককে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

    বক্তারা বলেন, এই উদ্যোগের ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস পাবে এবং রেশম শিল্পের বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রান্তিক উদ্যোক্তারা সরাসরি উপকৃত হবেন।

    সভায় পার্সেল বুকিংয়ের জন্য রাজশাহী জিপিও এবং গুরুত্বপূর্ণ ডাকঘরগুলোতে বিশেষ বুথ স্থাপন, ডিজিটাল ট্র্যাকিং সুবিধাসহ ডাক সেবার মাধ্যমে দ্রুত অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং রেশম পণ্যের জন্য মানসম্মত প্যাকেজিং সহায়তা প্রদানের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

    এছাড়া প্রবাসী এবং বিদেশী ক্রেতাদের কাছে রেশম পণ্য সহজে পৌঁছানোর সুবিধার্থে শুল্ক-সংক্রান্ত জটিলতা কমানোর ওপরও জোর দেন অংশগ্রহণকারীরা।

    তৌফিক আল মাহমুদ বলেন, ‘রেশম শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য একটি আধুনিক ও সহজলভ্য সরবরাহ ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।’

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডাক ও ই-কমার্স সংক্রান্ত এই সহযোগিতা রেশম পণ্যের বিপণনে নতুন সুযোগের সৃষ্টি করবে।

  • স্বর্ণের দামে বড় পতন

    স্বর্ণের দামে বড় পতন

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ সমন্বয়ে ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। টানা দুই দফা মূল্যবৃদ্ধি ও এক দফা ভ্যাট সমন্বয়ের পর এ নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।

    সোমবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এই দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।

    নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এর আগে, সবশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন প্রতি ভরিতে মূল্যবান এই ধাতুটির দামে ২ হাজার ৫০৮ টাকা ভ্যাট যুক্ত করা হয়েছে। এতে দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।

    এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

    এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৭৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩৯ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৩৭ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

  • ডিএসইতে সূচকের ঊর্ধ্বগতি, লেনদেন ১১৯৭ কোটি টাকা

    ডিএসইতে সূচকের ঊর্ধ্বগতি, লেনদেন ১১৯৭ কোটি টাকা

    সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের ঊর্ধ্বগতির মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। আজ ডিএসইতে মোট ৩৯৬টি কোম্পানির ৪৩ কোটি ৮৩ লাখ ২৮ হাজার ৩১৩টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল এক হাজার ১৯৭ কোটি ২১ লাখ ১৫ হাজার ২৬৭ টাকা।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৩৯ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৬৬১ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ৩০ দশমিক ৭ পয়েন্ট বেড়ে দুই হাজার ১৪৩ দশমিক ১২ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) ১৪ দশমিক পাঁচ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ১৫০ দশমিক ৪৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

    লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৭৬টির শেয়ারদর বেড়েছে, ১৮৫টির কমেছে এবং ৩৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

    লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো বেক্সিমকো ফার্মা, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, আইপিডিসি, রবি আজিয়াটা, এনসিসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ফিড, বিডি থাই, ব্র্যাক ব্যাংক, বিডি থাই ফুড এবং এপেক্স স্পিনিং।

    দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো ফার্স্ট জনতা মিউচুয়াল ফান্ড, ট্রাস্ট ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, এলআর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ড-১, গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, এপেক্স স্পিনিং, আইএফআইসি ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, ক্রাউন সিমেন্ট, এবিএল প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, এমবিএল প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড এবং এনসিসি ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড-১।

    অন্যদিকে দর পতনের শীর্ষে ১০ কোম্পানি হলো শ্যামপুর সুগার, বেক্সিমকো লিমিটেড, রিজেন্ট টেক্সটাইল, পিপলস লিজিং, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, বিডি থাই ফুড, আজিজ পাইপস, মেঘনা পেট, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট এবং নিউলাইন।

  • উৎপাদন বাড়িয়ে রাজস্ব আহরণে জোর দেবে সরকার

    উৎপাদন বাড়িয়ে রাজস্ব আহরণে জোর দেবে সরকার

    করের হার বৃদ্ধি না করে উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ, শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গবেষণা প্রতিষ্ঠান র‍্যাপিড আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    ড. তিতুমীর বলেন, অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদনমুখী শিল্পায়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিল্প খাতের সম্প্রসারণ ঘটলে নতুন বিনিয়োগ আসবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি ফিরবে। রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও করের বোঝা বাড়ানোর পরিবর্তে উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড বিস্তৃত করাই হওয়া উচিত মূল কৌশল।

    তিনি বলেন, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সরকার ধীরে ধীরে উৎপাদনভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পুনরুদ্ধার, পুনর্বহাল ও গতিশীলতার জন্য পুনর্গঠন—এই তিনমুখী কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে।

    অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে নীতির ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে প্রথমবারের মতো পাঁচ বছরের কর কাঠামোর রূপরেখা বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর জন্যও সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

    সরকারি কার্যক্রমের সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়ে ড. তিতুমীর বলেন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গঠনমূলক সমালোচনা প্রয়োজন। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার নীতি বাস্তবায়নে অধিক স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

    রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু করের আওতা বৃদ্ধি কিংবা হার সমন্বয় করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না। পদ্ধতিগত দুর্বলতা দূর করা এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। বর্তমানে আইবাস পদ্ধতি চালু থাকলেও কর অব্যাহতি, ফাঁকি ও জালিয়াতির মতো সমস্যা এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি। এ কারণে আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট খাতে পৃথক টাস্কফোর্স গঠন করে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

    আলোচনা সভায় র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক বলেন, সরকারের ‘থ্রি আর’—রিকভারি, রিফর্ম ও রিকনস্ট্রাকশন—ভিত্তিক উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা না গেলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে। আবার মূল্যস্ফীতি কমানোর আগেই প্রবৃদ্ধির ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দিলে মূল্যচাপ আরও বাড়তে পারে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করতে দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৮ শতাংশ নামমাত্র জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। তবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধিও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে মুদ্রার অতিরিক্ত অবমূল্যায়ন রোধেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

    তিনি আরো বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সর্বোচ্চ সক্ষমতা প্রয়োগ করলেও আগামী অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় এক লাখ কোটি টাকার ঘাটতি থেকে যেতে পারে। বিদেশি ঋণ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও সরকারকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে, কারণ বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়ন সংকুচিত হচ্ছে।

    র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাষ্ট্রীয় দায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে। ২০২৫ সালে সুদ পরিশোধে ব্যয় হওয়া অর্থ এনবিআরের মোট রাজস্ব আদায়ের প্রায় ৩৬ শতাংশের সমান ছিল। অন্যদিকে আগামী অর্থবছরে সম্ভাব্য রাজস্ব আয়ের প্রায় ৩১ শতাংশ বিদেশি ঋণের দায় পরিশোধে ব্যয় হতে পারে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ আরও বাড়বে।

    শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত নিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধির উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ থাকলেও অনেক সময় তা যথাযথভাবে ব্যয় করা যায় না। এজন্য উন্নয়ন ব্যয় বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

  • জাহাজের ভাড়া পরিশোধে নিয়ম শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক

    জাহাজের ভাড়া পরিশোধে নিয়ম শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক

    দেশীয় শিপিং খাতের সক্ষমতা বাড়াতে লিজ নেওয়া জাহাজের ভাড়া পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর নিয়ম শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো স্থানীয়ভাবে নিবন্ধিত শিপিং কোম্পানির লিজ নেওয়া জাহাজের ভাড়া বাবদ বিদেশে অর্থ পাঠাতে পারবে।

    বৃহস্পতিবার এ–সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, এত দিন এ সুবিধা শুধু স্থানীয় কোম্পানির লিজ নেওয়া উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। এখন একই ব্যবস্থা সমুদ্রগামী জাহাজের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে।

    সার্কুলার অনুযায়ী, এডি ব্যাংকগুলো নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে লিজ ভাড়ার অর্থ বিদেশে পাঠাতে পারবে। এর মধ্যে রয়েছে—লিজ নেওয়া জাহাজ পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন থাকতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে এবং জাহাজ পরিচালনা থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী দেশে আনতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশি মালিকানাধীন সমুদ্রগামী জাহাজের সংখ্যা বাড়ানো এবং দেশের শিপিং খাতের সক্ষমতা জোরদার করাই মূল উদ্দেশ্য।

    খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নতুন এ সিদ্ধান্তে স্থানীয় শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য জাহাজ লিজ নেওয়া সহজ হবে। এতে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়বে, বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধি পাবে এবং বিদেশি জাহাজের ওপর নির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়েও এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

  • বাংলাদেশের ইলেকট্রনিকস খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী দ. কোরিয়া

    বাংলাদেশের ইলেকট্রনিকস খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী দ. কোরিয়া

    বাংলাদেশের ইলেকট্রনিকস পণ্য তৈরি ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। একই সাথে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরো জোরদারের বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে।

    আজ বুধবার ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত জি-জুন কিম এ আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।

    এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের প্রশংসা করেন।

    তিনি বাংলাদেশের ইলেকট্রনিকস পণ্য তৈরি ও প্রযুক্তি খাতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, উৎপাদনশিল্প এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণেরও আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    উভয়পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদারের বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

    হুমায়ুন কবির বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন অংশীদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং শিল্প সহযোগিতা আরো জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    তিনি বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগকে স্বাগত জানান। এ ধরনের বিনিয়োগ আরো সহজ করতে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

    বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর উভয়পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। একই সাথে বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।