অর্থ ও বাণিজ্য

  • শেয়ারবাজারে বড় উত্থান : ১,৩৭১ কোটি টাকার লেনদেন

    শেয়ারবাজারে বড় উত্থান : ১,৩৭১ কোটি টাকার লেনদেন

    সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক ও লেনদেন- উভয় ক্ষেত্রেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

    ডিএসইর বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, রোববার মোট ৩৯৪টি কোম্পানির ৪৪ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার ৭৮২টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট হাতবদল হয়েছে। এতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭১ কোটি ৩ লাখ ৮২ হাজার ৬৩৮ টাকা।

    দিন শেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৬৬ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭১৯ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে অবস্থান করে। ডিএসই-৩০ সূচক ৩১ দশমিক ৪১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ১৬২ দশমিক ৫৭ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ১৩ দশমিক ৩১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৫৬ দশমিক ৯৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

    লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২১৩টির শেয়ারদর বেড়েছে, ১৩৩টির কমেছে এবং ৪৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

    লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো বেক্সিমকো ফার্মা, এনসিসি ব্যাংক, আইটিসি, ডমিনেজ স্টিল, আইপিডিসি, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, বিডি থাই, স্কয়ার ফার্মা এবং আরো একটি বেক্সিমকো ফার্মা সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটি।

    দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো- বেক্সিমকো ফার্মা, দেশ গার্মেন্টস, ইন্দো-বাংলা ফার্মা, ফারইস্ট নিটিং, ক্রাউন সিমেন্ট, মিনেজ স্টিল, ইন্ট্রা লিজিং, আইটিসি, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, মিডল্যান্ড ব্যাংক।

    দর কমার ক্ষেত্রে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো- ড্যাফোডিল কম্পিউটারস, সিএপিএম আইবিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, ন্যাশনাল ফিডস, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, এসকে ট্রিমস, তুংহাই ইন্ডাস্ট্রিজ, জেনারেশন নেক্সট, রিজেন্ট টেক্সটাইল।

  • বাংলাদেশে ৯.২১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব চীনা ১২ প্রতিষ্ঠানের

    বাংলাদেশে ৯.২১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব চীনা ১২ প্রতিষ্ঠানের

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরকালে তার সাথে বৈঠকের পর জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, উৎপাদন ও শিক্ষা খাতে বাংলাদেশে ৯.২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে চীনা ১২টি কোম্পানি।

    গত ২৫ জুন বেইজিংয়ে ১২টি কোম্পানির প্রধান নির্বাহী এবং ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎকালে এই বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলো পেশ করেন।

    বৈঠকে উপস্থিত থাকা বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী পরিচালক আশিক চৌধুরী শনিবার জানান, নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে, যা বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে।

    তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ এবারই প্রথম পাঁচ বছরের একটি ট্যাক্স আউটলুক (কর রূপরেখা) উপস্থাপন করেছে। যা সম্ভাব্য বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসকে তুলে ধরেছে।

    বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুযায়ী, সাংহাই এসইউএস এনভায়রনমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ (ডব্লিউটিই) প্ল্যান্ট উন্নয়নে ৮৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব করেছে।

    চীন ফিউচার অ্যানার্জি গ্রুপ হোল্ডিং লিমিটেড গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উন্নয়নের জন্য ২৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে। চীন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) মোংলা পোর্ট ইকোনমিক জোন উন্নয়ন ও পরিচালনার জন্য ৬৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে বন্ডেড ওয়ারহাউস সুবিধা এবং লজিস্টিকস অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি প্রায় ৫০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    এ ছাড়া, শেনজেন কাইফা টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড বৈদ্যুতিক স্মার্ট মিটার তৈরিতে ২৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব করেছে। এসএফ এক্সপ্রেস ই-কমার্স এবং রফতানি শিল্পকে সহায়তা করতে মোংলায় কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস এবং বন্ডেড ওয়ারহাউস সুবিধার জন্য ১৮০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। হুয়াক্সিন টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি কো. লিমিটেড রিসাইকেলড তুলা ও সুতা উৎপাদন সম্প্রসারণ, সিলিন্ড্রিক্যাল লিথিয়াম ব্যাটারি তৈরি এবং পায়রা বন্দর শিল্পাঞ্চলে একটি ২০০ মেগাওয়াট ক্যাপটিভ সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য ১৯০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে।

    ঝংক্সিন এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন গ্রুপ পায়রা বন্দর শিল্পাঞ্চলে ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং নিষ্কাশন শিল্প প্রকল্প স্থাপনের জন্য একক বৃহত্তম পরিবেশগত বিনিয়োগ হিসেবে ১.৬৫ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব করেছে।

    সিআরআরসি জিয়ান কো. লিমিটেড বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) সাথে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে একটি রোলিং স্টক অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্টে ১৯০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব করেছে। সিচুয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ গ্রুপ কো. লিমিটেড ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্পে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।

    চীন কেপাই এডুকেশন গ্রুপ ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একটি আধুনিক জীবনমুখী বিশ্ববিদ্যালয় এবং কারিগরি শিক্ষা শিল্প পার্ক প্রতিষ্ঠার জন্য ২৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব করেছে। চীন শানডং ঝংক্সিন ফার্মাসিউটিক্যাল কো. লিমিটেড বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরে চীনা ভেষজ চাষ শিল্প গড়ে তুলতে ১৯০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে।

  • ব্যাংকগুলোর ক্যামেলস রেটিং বন্ধ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

    ব্যাংকগুলোর ক্যামেলস রেটিং বন্ধ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

    দেশের ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্বাস্থ্য ও সক্ষমতা মূল্যায়ন পদ্ধতি ক্যামেলস রেটিং ব্যবস্থা বন্ধ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। এখন থেকে ব্যাংকগুলোর সার্বিক ঝুঁকি ও ব্যবস্থাপনা মূল্যায়ন করতে কম্পোজিট রিস্ক রেটিং (সিআরআর) ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিস্ক বেসড সুপারভিশন (আরবিএস) বা ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি কাঠামোর অংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    এতদিন ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততা, সম্পদের গুণগত মান, ব্যবস্থাপনা, আয়, তারল্য এবং বাজার ঝুঁকির সংবেদনশীলতা—এ ছয়টি সূচকে একটি ব্যাংকের অতীত ও বর্তমান আর্থিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ক্যামেলস রেটিং করা হতো। ব্যাংকের সামগ্রিক আর্থিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের অন্যতম মানদণ্ড ছিল এই পদ্ধতি।

    ক্যামেলস রেটিংয়ে ব্যাংকগুলোকে এক থেকে পাঁচ পর্যন্ত স্কোর দেওয়া হতো। এর মধ্যে এক মানে সবচেয়ে ভালো এবং পাঁচ মানে সবচেয়ে দুর্বল বা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংক। এই রেটিং পুরোপুরি গোপন রাখা হতো। কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছেই তা জানানো হতো।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ক্যামেলস পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল—এটি মূলত ব্যাকওয়ার্ড লুকিং বা অতীতভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা। অর্থাৎ, কোনো ব্যাংক গত তিন বা ছয় মাসে কী ধরনের ব্যবসা করেছে কিংবা তাদের আর্থিক প্রতিবেদনের অবস্থা কেমন ছিল, তার ভিত্তিতেই রেটিং নির্ধারণ করা হতো। ফলে ভবিষ্যতে কোনো ব্যাংক সংকটে পড়ার ঝুঁকি থাকলেও তা এই রেটিংয়ে আগেভাগে ধরা পড়ত না।

    এর পরিবর্তে চালু হওয়া কম্পোজিট রিস্ক রেটিং (সিআরআর) হবে ফরওয়ার্ড লুকিং বা ভবিষ্যৎমুখী মূল্যায়ন পদ্ধতি। এটি শুধু ব্যাংকের বর্তমান আর্থিক অবস্থাই মূল্যায়ন করবে না, বরং ভবিষ্যতে কী ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে এবং সেই ঝুঁকি মোকাবিলার মতো আর্থিক সক্ষমতা ব্যাংকটির আছে কি না, তাও আগাম মূল্যায়ন করবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নথিতে বলা হয়েছে, ক্যামেলস ও অন্যান্য সমান্তরাল রেটিং ব্যবস্থা চালু থাকলে কাজের পুনরাবৃত্তি হয়, তদারকি কর্মকর্তাদের সময় নষ্ট হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে দুই পদ্ধতির ফলাফলে অমিল দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই পুরো তদারকি প্রক্রিয়াকে আরো সমন্বিত ও কার্যকর করতে ক্যামেলস রেটিং বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নতুন তদারকি ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরেও বড় ধরনের প্রশাসনিক পুনর্গঠন করা হয়েছে। তদারকি ও অভিযোগ-সংক্রান্ত কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস করে ১৭টি নতুন ব্যাংক সুপারভিশন বিভাগ গঠন করা হয়েছে এবং আগের কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

    অভ্যন্তরীণ নথিতে আরো বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যেমন—ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক, পাকিস্তানের স্টেট ব্যাংক এবং ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে ক্যামেলস পদ্ধতির পরিবর্তে ভবিষ্যৎমুখী ঝুঁকিভিত্তিক রেটিং ব্যবস্থা চালু করেছে।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন সিআরআর ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো ব্যাংকে বড় ধরনের সংকট তৈরির আগেই সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য আগাম সতর্কবার্তা বা আর্লি ওয়ার্নিং সিগন্যাল হিসেবে কাজ করবে। ফলে ব্যাংকিং খাতের তদারকি আরো কার্যকর হবে এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

    নতুন এই কাঠামোকে দূরদর্শী বলে মনে হলেও ব্যাংকিং বিশ্লেষকদের মতে, এর সাফল্য কাঠামোর ডিজাইনের চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করার সদিচ্ছার ওপর বেশি নির্ভর করবে।

    ক্যামেলস রেটিং মূলত তার নির্ভরযোগ্যতা হারিয়েছিল। কারণ অনেক ব্যাংক খেলাপি ঋণ লুকিয়ে, খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) না রেখে এবং মূলধন ঘাটতি বজায় রেখেও তদারকি সূচকগুলোয় কৃত্রিমভাবে ভালো ফলাফল দেখাত। আর বাংলাদেশ ব্যাংক ক্যামেলস রেটিং মূল্যায়ন করত এবং তারা এসব কারসাজির বিষয় জেনেও চুপ ছিল। পাশাপাশি এসব কারসাজির বিষয়ে কোনো অর্থপূর্ণ শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়নি।

    বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেই বারবার ব্যাংকগুলোকে প্রভিশন ও মূলধন সংরক্ষণের শর্ত শিথিল করে দিয়েছে। নামমাত্র ডাউন পেমেন্টে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করার সুযোগ দিয়ে এবং পরিদর্শনে গুরুতর অনিয়ম চিহ্নিত হওয়ার পরও বড় কোনো জরিমানা না করে নীতিগত ছাড় দিয়ে আসছিল। এসব ছাড়ের কারণে আর্থিকভাবে সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোও তাদের প্রকৃত অবস্থার চেয়ে নিজেদের অনেক বেশি ভালো হিসেবে জাহির করার সুযোগ পেত, যা তদারকি রেটিংয়ের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রশ্ন তুলত।

    ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই দুর্বলতাগুলো আরো স্পষ্টভাবে সামনে আসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তথ্যেই দেখা যায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ ব্যাংকগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট ঋণের ৬০ শতাংশের সমান।

  • এডিপি বাস্তবায়ন ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

    এডিপি বাস্তবায়ন ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

    চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন নেমে এসেছে ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। এ সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে বরাদ্দের মাত্র ৪৮ দশমিক ২৩ শতাংশ। ফলে অর্থবছর শেষ হতে চললেও অর্ধেক অর্থও খরচ করতে পারেনি মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো।

    গতকাল বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এক হাজার ৩৫৯টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সংশোধিত এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ আট হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিলও রয়েছে। জুলাই-মে সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে এক লাখ ৭৬৩ কোটি টাকার কিছু বেশি।

    গত অর্থবছরের একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের পরিমাণ ছিল এক লাখ ১১ হাজার ৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। সেই হিসাবে এবার ব্যয় কমেছে প্রায় ১০ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ ছিল এক লাখ ৪৬ হাজার ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তার আগের ২০২২-২৩ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে ব্যয় ছিল যথাক্রমে এক লাখ ৪৬ হাজার ২১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ও এক লাখ ৩৮৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

    আইএমইডির হিসাব অনুযায়ী, গত দেড় দশকে জুলাই-মে সময়ে গড়ে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে। এবার সেই হার নেমে এসেছে ৫০ শতাংশের নিচে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অগ্রগতি। এমনকি করোনাকালে লম্বা সময় লকডাউনে থাকার বছরও এর চেয়ে বেশি হারে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

    মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক বাস্তবায়ন চিত্রও হতাশাজনক। সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, যার বাস্তবায়ন হার মাত্র ১২ দশমিক ২৩ শতাংশ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন হয়েছে ১৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ২০ দশমিক ৪৫ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতের অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ বাস্তবায়ন করেছে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ২৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এছাড়া সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রাপ্ত ১৫ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বাস্তবায়ন হারে আরো পিছিয়ে আছে। এর মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৩৫ দশমিক ১৮ শতাংশ, রেলপথ মন্ত্রণালয় ৪২ দশমিক ৪৬ শতাংশ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ৪৬ দশমিক ২৩ শতাংশ।

    অন্যদিকে উন্নয়ন ব্যয়ে শীর্ষে রয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। মূলত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের অগ্রগতির কারণে মন্ত্রণালয়টির বাস্তবায়ন হার দাঁড়িয়েছে ৮৩ দশমিক ৩৩ শতাংশে। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ৮২ দশমিক ৫৩ শতাংশ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ৭৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৭২ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয় ৬৮ দশমিক ৪১ শতাংশ বরাদ্দ ব্যয় করেছে।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, ক্রয়প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, বৈদেশিক সহায়তা ছাড়ে জটিলতা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার পাশাপাশি প্রকল্প পরিচালনায় দক্ষ জনবলের ঘাটতি এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। বিপুল বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও অনেক সংস্থা নির্ধারিত সময়ে অর্থ ব্যয় করতে পারছে না।

    তাদের মতে, এডিপি বাস্তবায়নের নিম্ন হার শুধু উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ধীর করে না, বরং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামো সম্প্রসারণেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই প্রকল্প অনুমোদন, অর্থ ছাড় ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থায় দক্ষতা এবং জবাবদিহি বাড়াতে হবে।

    অর্থবছরের শেষ মাসে ব্যয় বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হলেও সামগ্রিক বাস্তবায়ন হার খুব বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে টানা কয়েক বছর ধরে এডিপি বাস্তবায়নে দুর্বলতার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

  • পে স্কেলের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে সচিব কমিটির পাঁচ সিদ্ধান্ত

    পে স্কেলের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে সচিব কমিটির পাঁচ সিদ্ধান্ত

    দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছেন। জনপ্রশাসন-সংক্রান্ত পে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার পর নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে নতুন এ বেতনকাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

    নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি মাথায় রেখে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও বেতনবৈষম্য দূরীকরণকে এ বৈঠকের মূল এজেন্ডা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রশাসন খাতের সুপারিশগুলো নিয়ে চূড়ান্ত মতৈক্যে পৌঁছানো গেলেও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এ দুটি খাতের সুপারিশ নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে বেতন কত শতাংশ বাড়বে কিংবা নতুন পে স্কেল কত ধাপে কার্যকর করা হবে—এসব বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বৈঠকে অংশ নেওয়া সদস্যরা।

    অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অবসরোত্তর ছুটিতে (এলপিআর) থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নবম পে স্কেলের সুবিধার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবেন।

    সূত্রে জানা গেছে, সরকার আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকর করার চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির কারণে কর্মচারীদের হাতে বর্ধিত বেতন পৌঁছাতে দুই-তিন মাস সময় লাগলেও ১ জুলাই থেকেই তা কার্যকর হবে এবং পরবর্তী সময়ে বকেয়া বা অ্যারিয়ার্স হিসেবে সেই অর্থ প্রদান করা হবে।

    প্রাথমিক পরিকল্পনায় তিন ধাপে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এখন মাত্র দুই ধাপে পুরো পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর্থিক চাপ বিবেচনায় ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রথম ধাপেই ৬০ শতাংশ সুবিধা প্রদানের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য প্রথম ধাপে ৪০ শতাংশ বর্ধিত বেতন প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।

    এছাড়া ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য দূর করতে একটি বিশেষ রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। মূল বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতি রেখে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসাভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে জোর দেওয়া হয়েছে।

    পে স্কেল ঘোষণার পর যেন কোনো আইনি বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা না দেয়, সেজন্য আইনি ভেটিং এবং বিধিমালা সংশোধনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সচিব কমিটির সভায় পে কমিশনের জনপ্রশাসন-সংক্রান্ত সুপারিশ চূড়ান্ত হলেও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর সুপারিশ নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা যায়নি। তবে এ দুই সংস্থার ব্যাপারে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। শিগগির বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তাবনাও চূড়ান্ত করা হবে। এজন্য আরো একটি সভা হতে পারে।

    বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এখন প্রশাসনিক ও আইনি ধাপগুলো সম্পন্ন করে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষায় সংশ্লিষ্টরা।

  • ডিএসইতে লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে

    ডিএসইতে লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে

    সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রবিবার পুঁজিবাজারে সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন কমেছে। তবে ডিএসইতে লেনদেন এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

    ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, রবিবার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৬৩৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে যথাক্রমে ১ হাজার ১৪৮ ও ২ হাজার ১৪৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

    এদিন ডিএসইতে ১ হাজার ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে প্রায় ১৯৫ কোটি টাকা কম। আগের দিন ডিএসইতে ১ হাজার ১৯৭ কোটি ২১ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছিল।

    রবিবার ডিএসইতে ৩৯৬টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৭১টি কোম্পানির, কমেছে ২৯৮টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর।

    অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১০৪ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৩৫৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

    এদিন সিএসইতে হাত বদল হওয়া ২২৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৬৯টির, কমেছে ১৩৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর।

    রবিবার সিএসইতে ৩০ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৫৩ কোটি টাকা কম। আগের দিন সিএসইতে ৮৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছিল।

  • আলিবাবা ডটকমের যাত্রা এবার চট্টগ্রামে

    আলিবাবা ডটকমের যাত্রা এবার চট্টগ্রামে

    বাংলাদেশে আলিবাবা ডটকমের অনুমোদিত চ্যানেল পার্টনার স্প্রিংফিল্ড করপোরেশন চট্টগ্রামে তাদের নতুন অফিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের রপ্তানিকারক, উৎপাদক, সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীদের জন্য ডিজিটাল বাণিজ্যের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলিবাবা ডটকমের পাকিস্তান ও বাংলাদেশের জেনারেল ম্যানেজার সামার, গ্লোবাল বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সিনিয়র স্পেশালিস্ট (চ্যানেল অপারেশন) ভানিয়া, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার ব্রাইস, সার্ভিস ও অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার টিনা, বাংলাদেশ চ্যানেল ম্যানেজার সনোবার মায়রা। এছাড়া স্প্রিংফিল্ড করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফয়েজুল আলম, নির্বাহী পরিচালক শান শাহেদ, পরামর্শক সাজিদ বিন সুলাইমান, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রেজবী করিম, অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার উম্মা রোকেয়া নিশাসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে স্প্রিংফিল্ড করপোরেশন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের আলিবাবা ডটকমের বৈশ্বিক বিজনেস-টু-বিজনেস (B2B) প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে সহায়তা করবে। বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশ ও অঞ্চলের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সংযুক্তকারী এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের পণ্য ও সেবা আরও কার্যকরভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন।

    প্রাথমিকভাবে টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল খাতকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম পরিচালিত হলেও পর্যায়ক্রমে পাট, চামড়া, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হস্তশিল্পসহ অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পখাতে এ সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

    বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম অফিস চালুর ফলে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে আরও সহজে প্রবেশের সুযোগ পাবে। এটি দেশের রপ্তানি খাতের বিকাশ, বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে ডিজিটাল ট্রেড বৈশ্বিক ব্যবসার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। তাই বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে হবে।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্প্রিংফিল্ড করপোরেশনের চট্টগ্রাম অফিস উদ্বোধন দেশের রপ্তানি ইকোসিস্টেমকে আরো শক্তিশালী করা, ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে তালিকাচ্যুত হতে পারে বেক্সিমকো ফার্মা

    লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে তালিকাচ্যুত হতে পারে বেক্সিমকো ফার্মা

    বাংলাদেশের একমাত্র কোম্পানি হিসাবে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটে (এআইএম) তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো ফার্মাসিটিউক্যালস। ২০০৫ সালে কোম্পানিটি তালিকাভুক্ত হয়। তালিকাভুক্তির দুই দশক পর তালিকাচ্যুতির বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে বাংলাদেশের অন্যতম ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি। নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাব বিবরণী প্রকাশে ব্যর্থতার কারণে আগামী জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই এআইএম থেকে তালিকাচ্যুত হতে পারে কোম্পানিটি।

    এআইএম বিধি ১৯ অনুযায়ী, কোনো কোম্পানির আর্থিক বছর শেষ হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাব বিবরণী প্রকাশ করতে হয়। কিন্তু বেক্সিমকো ফার্মা ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে কোম্পানিটির গ্লোবাল ডিপোজিটরি রিসিপ্ট (জিডিআর) লেনদেন চলতি বছরের ২ জানুয়ারি থেকে স্থগিত রয়েছে।

    এআইএমের বিধি ৪১ ধারায় বলা হয়েছে, ছয় মাস জিডিআর লেনদেন স্থগিত থাকলে কোম্পানিটির তালিকাভুক্তি বাতিল করা হতে পারে। সে হিসাবে আগামী ২ জুলাই জিডিআর লেনদেনের ছয় মাস পূর্ণ হতে চলছে। ফলে বেক্সিমকো ফার্মা তালিকাচ্যুতির বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

    এদিকে তালিকাচ্যুতির ঝুঁকি এড়াতে লন্ডনে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো ফার্মার ছয়জন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে গত সপ্তাহে বৈঠক করে বিষয়টির সম্মানজনক সমাধানের উদ্যোগ নিতে চিঠি দিয়েছে। বিষয়টি স্বীকার করে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখপাত্র আবুল কালাম আমার দেশকে বলেন, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং দেশের ভাবমূর্তি বিবেচনায় নিয়ে বিএসইসি বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে দেখছে। এ জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেক্সিমকো ফার্মার সাধারণ শেয়ার লেনদেন স্বাভাবিক রয়েছে। অবশ্য বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে কোম্পানিটির সাধারণ শেয়ার লেনদেন হলেও লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে সাধারণ শেয়ারের পরিবর্তে জিডিআর লেনদেন হয়ে থাকে।

    প্রসঙ্গত, জিডিআর হলো এমন একটি আর্থিক দলিল, যার মাধ্যমে একটি দেশের কোম্পানির শেয়ার অন্য দেশের শেয়ারবাজারে কেনাবেচা করা যায়। তখন কোম্পানিটির শেয়ার একটি আন্তর্জাতিক ব্যাংকের কাছে জমা রাখা হয়। সেই ব্যাংক শেয়ারের বিপরীতে জিডিআর ইস্যু করে। এরপর বিদেশি বিনিয়োগকারীরা জিডিআর কিনে কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে পারেন, সরাসরি বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে না গিয়েও। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে (এলএসই) বেক্সিমকোর জিডিআর ইস্যু ও পরিচালনার ক্ষেত্রে মূল ট্রাস্টি বা ডিপোজিটরি ব্যাংক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে সিটিব্যাংক এনএ।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি বেক্সিমকো গ্রুপের তিন কোম্পানিতে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এর মধ্যে বেক্সিমকো ফার্মাও ছিল। অপর কোম্পানি দুটি হলো বেক্সিমকো লিমিটেড ও শাইনপুকুর সিরামিকস। কিন্তু বিএসইসির এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট করে কোম্পানিটি। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বিএসইসির সিদ্ধান্তের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ফলে বিএসইসির সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা স্থগিত হয়ে যায়। আপিল বিভাগ নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করায় চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি বিএসইসির তৎকালীন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন সভায় বেক্সিমকো ফার্মাসহ তিন কোম্পানিকে ১২ দিনের মধ্যে পর্ষদ সভা বাস্তবায়নে কোম্পানিগুলোর এমডি, সিএফও এবং কোম্পানির সচিবকে নির্দেশ দেয়। কিন্তু নির্দেশ দেওয়া হলেও সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাব বিবরণী প্রকাশ নিয়ে জটিলতার অবসান ঘটেনি।

    বিষয়টি জানতে বেক্সিমকো ফার্মার সচিব মোহাম্মদ আসাদ উল্লাহর মতামত জানতে চেয়ে ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

    বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলে গা-ঢাকা দেন সালমান এফ রহমান। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ওই বছরের ১৩ আগস্ট আটক হয়ে বর্তমানে জেলহাজতে আছেন। কারসাজিসহ নানা কারণে বহুল আলোচিত সালমান এফ রহমানকে আজীবনের জন্য পুঁজিবাজারে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইএফআইসি ব্যাংক গ্যারান্টেড শ্রীপুর টাউনশিপ গ্রিন জিরো কুপন বন্ড ও বেক্সিমকো গ্রিন সুকুকের অর্থ উত্তোলন-সংক্রান্ত নানা অনিয়মের জন্য ১০০ কোটি টাকা জরিমানাও করেছিল রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন বিএসইসি।

    ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত ও অনুমোদনের জন্য কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভা এবং বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু পর্ষদ গঠন নিয়ে আইনি জটিলতার কারণে বেক্সিমকোর পর্ষদের সভা হচ্ছে না। ফলে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় চলতি বছরের ২ জানুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বেক্সিমকো ফার্মার জিডিআর লেনদেন স্থগিত রয়েছে।

    উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত আসার পর বোর্ড মিটিংয়ের মাধ্যমে আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদিত ও প্রকাশিত হলেই কেবল লন্ডনে আবার লেনদেন চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিএসইসির শীর্ষ এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘এজন্য আগে আদালতের মামলার নিষ্পত্তি দরকার।’

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে কোম্পানিটির মোট ৪৪ কোটি ৬১ লাখ ১২ হাজার ৮৯টি (৪৪৬.১১ মিলিয়ন) শেয়ার বা জিডিআর রয়েছে। লন্ডন এক্সচেঞ্জের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এর মার্কেট ক্যাপিটাল প্রায় ১৮ কোটি ৯৬ লাখ পাউন্ড বা ১৮৯.৬০ মিলিয়ন পাউন্ড। টাকার হিসাবে প্রায় তিন হাজার ১২৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

  • বিনিয়োগকারীদের জন্য অনলাইন  সেবা চালু করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বিনিয়োগকারীদের জন্য অনলাইন সেবা চালু করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার লাইসেন্সিং ও অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের যাতে এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরতে না হয়, সে জন্য একটি কেন্দ্রীয় অনলাইনভিত্তিক ‘ওয়ান-স্টপ উইন্ডো’ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।

    রোববার সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই)-এর এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জেবিসিসিআই সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো ভৌত স্থাপনা বা শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুমোদন প্রক্রিয়া বাস্তব অবকাঠামোগত কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় তা ১৫ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে শেষ করা সব ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। কারণ এ ধরনের স্থাপনায় নিরাপত্তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা, পরিবেশগত বিষয়সহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থাপনা পরিদর্শন করে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করবে।

    তবে বিনিয়োগ কার্যক্রম যাতে বিলম্বিত না হয়, সে জন্য সরকার অস্থায়ী বা প্রভিশনাল লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থা করবে বলে জানান তিনি। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন।

    তিনি আরও বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে অনুমোদন প্রক্রিয়ার সময় কমিয়ে আনার একটি রূপরেখা নির্ধারণ করেছি। এখন খাতভিত্তিক লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ চলছে। কারণ একেক খাতের জন্য একেক ধরনের অনুমোদন ও নথিপত্র প্রয়োজন হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন প্রক্রিয়া যেমন টেক্সটাইল কারখানা স্থাপনের প্রক্রিয়া থেকে ভিন্ন।”

    কারখানা পরিদর্শন ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত করার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পরিদর্শন কার্যক্রম সমন্বয় করা হবে। বিডা পরিদর্শনের তারিখ নির্ধারণ করবে, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একত্র করবে এবং একটি সমন্বিত ব্যবস্থার অধীনে একবারেই পরিদর্শন সম্পন্ন করা হবে। এতে বিনিয়োগকারীদের বারবার বিভিন্ন সংস্থার কাছে যেতে হবে না।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বৈদ্যুতিক যানবাহন বা ইভি প্রসঙ্গেও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানিনির্ভরতা কমিয়ে আরও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হতে চায়। সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট দেখিয়ে দিয়েছে, ডিজেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল এবং সংকটকালে সরবরাহ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    তিনি বলেন, দেশের যানবাহন ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড প্রযুক্তির দিকে নিতে সরকার আগ্রহী। মন্ত্রিসভায় এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। তবে বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য প্রস্তুত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার আপাতত প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির আমদানি ও ব্যবহারে বেশি গুরুত্ব দেবে।

    জেবিসিসিআই প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্প স্থাপন, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী জাপানকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে বিনিয়োগকারী অনলাইনে এক প্ল্যাটফর্মে ক্লিক করেই প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন। আমাদের লক্ষ্য হলো সময়, ব্যয় ও জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করা।’

    সভায় বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রশংসা করে জেবিসিসিআই নেতৃবৃন্দ বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে দুদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

  • ব্যাংক খাতে  খেলাপি ঋণ ৪৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা

    ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৪৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা

    মার্চ মাস শেষে ব্যাংক খাতে ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    ২০২৫ সালে ব্যাংক খাতের নিট লোকসান এক লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। ২০২৪ সালেও নিট মুনাফা ছিল ১২ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা। এর আগের বছরগুলোতে সব সময়ই পুরো খাতে মুনাফা ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যাংক খাতের নিট সুদ আয় ঋণাত্মক ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা। এর মানে আমানতকারীদের যে পরিমাণ সুদ দেয়া হয়েছে, সে তুলনায় ঋণ থেকে আয়ে পরিমাণ কম হয়েছে। আগের বছর ২৯ হাজার ৩৯১ কোটি টাকার নিট সুদ আয় হয়েছিল। অবশ্য সুদ বহির্ভূত আয় ২০২৪ সালের ৬৩ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৮৩ হাজার ১৭১ কোটি টাকা হয়েছে। গত বছর বেতন-ভাতাসহ পরিচালন ব্যয় হয়েছে ৫১ হাজার ৬৩ কোটি টাকা, যা আগের বছর ৪৮ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা ছিল। সব মিলিয়ে ব্যাংক খাতের কর-পূর্ববর্তী লোকসান ছিল এক লাখ ২৪ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। আর নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা।