অর্থ ও বাণিজ্য

  • প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রথম বছরে ক্রিপ্টো থেকে ট্রাম্পের আয় ১০০ কোটি ডলারের বেশি

    প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রথম বছরে ক্রিপ্টো থেকে ট্রাম্পের আয় ১০০ কোটি ডলারের বেশি

    ২০২৫ সালে ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক লেনদেন থেকে ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টদের প্রতিবছর যে বাধ্যতামূলক বার্ষিক আর্থিক বিবরণী দিতে হয়, সেই বিবরণীতে ট্রাম্প এই তথ্য দিয়েছেন।

    ৯২৭ পৃষ্ঠার এই আর্থিক বিবরণীতে ট্রাম্প জানান, দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক দিন আগে চালু করা ট্রাম্প মিম কয়েন থেকে রয়্যালটি বাবদ ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় হয়েছে। তবে চালুর পর থেকে ওই কয়েনের মূল্য অনেকটাই কমে গেছে।

    ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল থেকে তাঁর আয় হয়েছে ৫০ কোটি ডলারের বেশি। এই ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছেন ট্রাম্পের পুত্র ও ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সন্তানেরা।

    এ ছাড়া রিয়েল এস্টেট ও ট্রাম্প-ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পণ্য থেকেও ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও কয়েক লাখ ডলার আয় করেছেন। তবে তিনি প্রেসিডেন্ট পদ থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, হোয়াইট হাউস তা অস্বীকার করেছে।

    ট্রাম্পের সর্বশেষ আর্থিক বিবরণীতে উল্লেখিত আয়ের পরিমাণ ২০২৪ সালের আগের বিবরণীর তুলনায় অনেক বেশি। ২০২৪ সালে তিনি ৬০ কোটি ডলারের বেশি আয়ের তথ্য দিয়েছিলেন।

    তবে হোয়াইট হাউস বারবার জোর দিয়ে বলছে, ট্রাম্প তাঁর ব্যবসাগুলো ছেলেদের পরিচালিত ট্রাস্টে রেখেছেন। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত হচ্ছে না।

    হোয়াইট হাউসের উপপ্রেস সচিব আনা কেলি বলেন, প্রেসিডেন্ট গর্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তুলছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট কিংবা তাঁর পরিবার কখনো স্বার্থের সংঘাতে জড়ায়নি—এবং ভবিষ্যতেও জড়াবে না।’

    আনা আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের সব পদক্ষেপই আমেরিকান জনগণের সর্বোচ্চ স্বার্থ সংরক্ষণে নেওয়া হয়। এর উল্টোটা দাবি করা তথাকথিত সাংবাদিকেরা ডেমোক্র্যাট ও পুরোনো ধারার গণমাধ্যমের বহুদিনের পুরোনো ও মিথ্যা বক্তব্যই পুনরাবৃত্তি করছে।’

    ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, তিনি ফেডারেল স্বার্থসংঘাত আইনের আওতায় পড়েন না। একসময় ট্রাম্প ক্রিপ্টোকারেন্সির সমালোচনা করতেন। তিনি বিটকয়েনকে ‘প্রতারণা’ ও দুর্যোগপ্রবণ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

    মঙ্গলবার প্রকাশিত বিবরণীতে দেখা যায়, ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে ট্রাম্পের যে আয়, সেটা তাঁর রিয়েল এস্টেট ব্যবসার আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। এই রিয়েল এস্টেট ব্যবসা থেকেই তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।

    এ ছাড়া ট্রাম্প মার–ই–লোগো ক্লাব থেকে প্রায় ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং ট্রাম্প ন্যাশনাল ডোরাল মিয়ামি গলফ ক্লাব থেকে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করেছেন। নিউ জার্সির ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাব বেডমিনস্টার, ফ্লোরিডার জুপিটার ও স্কটল্যান্ডের ট্রাম্প টার্নবেরি গলফ ক্লাব থেকেও তিনি ৩ কোটি ডলারের বেশি করে আয় করেছেন।

    আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, অন্যান্য ব্যবসা থেকেও ট্রাম্প কয়েক মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। এর মধ্যে আছে ট্রাম্প-ব্র্যান্ডের ঘড়ি থেকে ৪৭ লাখ ডলার রয়্যালটি। এ ছাড়া ট্রাম্প-ব্র্যান্ডের বাইবেল, জুতা, সুগন্ধি ও গিটার থেকেও আয় এসেছে।

    এদিকে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও ২০২৫ সালের আয় বিবরণীতে নিজের আয় উল্লেখ করেছেন। গত বছর মুক্তি পাওয়া তাঁকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রের ‘লাইসেন্স চুক্তি’ থেকে তিনি ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার আয় করেছেন।

    এ ছাড়া এনএফটি বিক্রি থেকে মেলানিয়া আরও ৬০ লাখ ডলার আয় করেছেন। এনএফটি হলো অনলাইনে বিক্রি হওয়া ডিজিটাল ছবি।

    বিভিন্ন আইনি মামলার নিষ্পত্তি থেকে মোট ৮ কোটি ৬৫ লাখ ডলার আয়ের কথাও জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্যে রয়েছে এবিসির বিরুদ্ধে মামলা থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার, সিবিএস ও সিবিএস ইন্টারঅ্যাকটিভ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার, মেটা থেকে ২ কোটি ৪৫ লাখ ডলার, ইউটিউব থেকে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার ও এক্স থেকে ৮০ লাখ ডলার।

    হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ওই অর্থের বেশির ভাগই ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি অথবা ওয়াশিংটন ডিসি এলাকার পার্ক রক্ষণাবেক্ষণে নিবেদিত অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে যাবে।

    ফোর্বস ম্যাগাজিনের তালিকা অনুযায়ী, ট্রাম্পের মোট সম্পদের পরিমাণ এখন প্রায় ৬০০ কোটি ডলার, ২০২৪ সালে যা ছিল ২৩৩ কোটি ডলার। অন্যদিকে ব্লুমবার্গের বিলিয়নিয়ার সূচকে তাঁর সম্পদের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৭৬০ কোটি ডলার।

    হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর ট্রাম্প ক্রিপ্টোশিল্পের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থান নিয়েছেন, যদিও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল টোকেন ইস্যু করছে।

    ক্রিপ্টোর বিকাশে ট্রাম্প এই খাতবান্ধব বেশ কিছু ব্যক্তিকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়েছেন। আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউএস সিকিউরিটিস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের প্রধানকেও ক্রিপ্টোশিল্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পর পল অ্যাটকিন্স তাঁর পূর্বসূরির কঠোর নিয়ন্ত্রণনীতি থেকে সরে এসে সংস্থাটির অবস্থান শিথিল করেছেন। গত জুলাইয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প জিনিয়াস অ্যাক্ট আইনে স্বাক্ষর করেন, যার লক্ষ্য ‘ডিজিটাল সম্পদের বাজারে আমেরিকাকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

    ৯০০ পৃষ্ঠার বেশি ট্রাম্পের বার্ষিক এই আর্থিক বিবরণী তাঁর পূর্বসূরিদের তুলনায় অনেক বড়। জো বাইডেন তাঁর মেয়াদের শেষ বছর আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন মাত্র ১১ পৃষ্ঠার।

  • ডলার বেচে সোনা কিনতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো

    ডলার বেচে সোনা কিনতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো

    আগামী এক দশকে ডলারভিত্তিক রিজার্ভ কমানোর পরিকল্পনা করছে বিশ্বের অনেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেখা যাচ্ছে, ডলার রিজার্ভ বাড়ানোর চেয়ে কমানোর বিষয়ে আগ্রহী বেশির ভাগ কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারা এখন সোনাসহ অন্যান্য মুদ্রায় রিজার্ভ বাড়াতে চায়।

    এমন প্রবণতা এই প্রথম দেখা গেল বলে জানিয়েছে লন্ডনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান অফিশিয়াল মনিটারি অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস ফোরাম (ওএমএফআইএফ)।

    এমন সময় এই জরিপের ফল প্রকাশিত হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে শুল্ক আরোপের নানা পথ খুঁজছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছেই।

    গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত এই জরিপ চলতি বছরের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে পরিচালিত হয়। এতে বিশ্বের ৭৪টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক অংশ নেয়। ২০২৩ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম ডলার রিজার্ভ কমানোর প্রবণতা বাড়ানোর প্রবণতা ছাড়িয়ে গেল।

    বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ‘ডি-ডলারাইজেশন’ বা ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর যে প্রবণতা শুরু হয়েছে, এটি তার আরেকটি বড় ইঙ্গিত। এর অর্থ হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনে ডলারের ব্যবহার কমে যাওয়া। ফলে মুদ্রাটির চাহিদা ও মূল্য—উভয়ের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।

    মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান চেজের তথ্যানুসারে, গত বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ডলারের হিস্যা দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

    ওএমএফআইএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর ডলারে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশের চেয়ে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিই বেশি প্রভাব ফেলেছে। বিশ্বব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্রের যে ভূমিকা, তা–ও বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ পোর্টফোলিওতে এখনো ডলারের আধিপত্য আছে, নিকট ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। গত ৫ বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মোট বরাদ্দের প্রায় ৫৮ শতাংশই ডলারে রয়েছে।

    তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ধীরে ধীরে ডলারনির্ভরতা কমিয়ে ইউরো ও চীনের রেনমিনবির দিকে ঝুঁকছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় সব কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে, রেনমিনবি রিজার্ভে বৈচিত্র্য আনতে সহায়ক।

    অন্যদিকে দুই-তৃতীয়াংশ ব্যাংক বলেছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইউরোর ব্যবহার আগের চেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। গত বছর যেখানে এই হার ছিল ৪৩ শতাংশ, এবার তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৬৭ শতাংশ। দীর্ঘমেয়াদে ইউরো রিজার্ভ বাড়াতে চায় ২৯ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক, গত বছর যা ছিল ২২ শতাংশ।

    ডয়েচে বুন্দেস ব্যাংকের বাজারবিষয়ক মহাপরিচালক কারস্টেন স্ট্রোবর্ন প্রতিবেদনে বলেছেন, ২০২৫ সালে ইউরোভিত্তিক আন্তর্জাতিক ঋণের পরিমাণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এ ছাড়া গ্রিন বন্ডের (এমন একধরনের ঋণপত্র, যার মাধ্যমে তোলা অর্থ পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়।) প্রধান মুদ্রা এখন ইউরো।

    এ ছাড়া বিকল্প মুদ্রা হিসেবে সিঙ্গাপুরি ডলার, দক্ষিণ কোরিয়ার ওন ও দক্ষিণ আফ্রিকার রান্ডের প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে।

    সোনার চাহিদা বাড়ছে

    ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সোনার চাহিদা বেড়েছে। রেকর্ডসংখ্যক কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, তারা সোনায় বিনিয়োগ বাড়াতে চায়, যদিও গত ১ বছরে সোনার দাম ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

    বাস্তবতা হলো বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভে এখন সোনার হিস্যা সবচেয়ে বেশি। টানা কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বিপুল পরিমাণে সোনা কেনা এবং গত দুই বছরে দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার ফলে রিজার্ভ সম্পদ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডকে (ট্রেজারি) ছাড়িয়ে গেছে সোনা।

    ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মোট রিজার্ভ সম্পদের ২৭ শতাংশ ছিল সোনা, ১ বছর আগে ছিল যা ছিল ২০ শতাংশ। এই সময়ে রিজার্ভ হিসেবে মার্কিন ট্রেজারির হিস্যা ২৫ থেকে কমে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে রিজার্ভ হিসেবে ইউরোর হিস্যা ১৫ শতাংশে স্থির আছে।

    ওএমএফআইএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক মুদ্রাব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিয়ে সংশয় বেড়ে যাওয়ায় এই পরিবর্তন ঘটছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সম্পদ ব্যবস্থাপনার কৌশলের মূল ভূমিকায় এখন সোনা।

    জরিপে ৫১ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোনায় বিনিয়োগ বাড়ানোর কারণ হিসেবে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করেছে, ২০২৪ সালের তুলনায় যা ১১ শতাংশ বেশি।

  • আজ বন্ধ থাকবে ব্যাংকের লেনদেন

    আজ বন্ধ থাকবে ব্যাংকের লেনদেন

    ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে বুধবার (১ জুলাই) দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে গ্রাহক পর্যায়ের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে বন্ধ থাকবে শেয়ারবাজারের লেনদেনও।

    তবে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব তফশিলি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাখা সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। এসব কার্যালয়ে শুধু প্রশাসনিক ও হিসাবসংক্রান্ত কাজ পরিচালিত হবে। গ্রাহকদের কোনো ধরনের ব্যাংকিং সেবা দেওয়া হবে না।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধান অনুযায়ী প্রতি বছর ১ জুলাই এবং ৩১ ডিসেম্বর ‘ব্যাংক হলিডে’ পালন করা হয়। এ দুই দিনে গ্রাহক পর্যায়ের লেনদেন বন্ধ রেখে ব্যাংকগুলো অভ্যন্তরীণ হিসাব-নিকাশ, আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে।

  • গ্রাহকদের জন্য স্মার্টফোন সাশ্রয়ী করতে বাংলালিংকের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

    গ্রাহকদের জন্য স্মার্টফোন সাশ্রয়ী করতে বাংলালিংকের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

    ধানমন্ত্রী তারেক রহমান গ্রাহকদের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে বাংলালিংক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আজ সোমবার বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভেয়নের চেয়ারম্যান অগি ফাবেলা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই আহ্বান জানান।

    জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়ে ডিজিটাল সেবাকে আরও সহজলভ্য করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

    এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বাংলালিংক কর্তৃপক্ষকে আরও সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান, যেন সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছে যায়। একই সঙ্গে ইন্টারনেটের মূল্য আরও কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করারও আহ্বান জানান তিনি।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ভেয়নের বোর্ড সদস্য মিশেল সোয়েটিং এবং বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইওহান হেনড্রিক মার্টিনাস বুসে।

  • যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

    যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

    যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যানকে জাতীয় অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষিকে সহায়তা দেওয়া এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে যেকোনো মূল্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।’

    আজ সোমবার দুপুরে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, ‘নদী, খাল ও সেচ অবকাঠামোয় বড় ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘদিনের পানি ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের মানুষের অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয় পানি। সংসদ সদস্যরা নিয়মিত পদ্মা ও তিস্তা নদী নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। আমরা এসব সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছি।’

    সারা বছর কৃষির জন্য পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিসহ অন্যান্য খাতে তা ব্যবহার করা হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা হবে। যেন পুরো শুষ্ক মৌসুম এবং বছরের অন্যান্য সময় কৃষি ও প্রয়োজনীয় খাতে সেই পানি সরবরাহ করা যায়।’

    ‘দীর্ঘদিন ধরে সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তঃনদী সংযোগের অভাবে বাংলাদেশ ভুগছে। এর ফলে অনেক নদীর নাব্যতা হারিয়ে গেছে এবং বিভিন্ন এলাকায় সেচ ও পানির সংকট তৈরি হয়েছে’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘আমি এমন এলাকা পরিদর্শন করেছি, যেখানে বর্ষায় চারদিকে পানি থাকলেও অল্প দূরের কৃষকরা পানির অভাবে জমিতে সেচ দিতে পারেন না।তবে এই সমস্যা সমাধানে দেশব্যাপী নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

    আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘পানি প্রবাহ, সেচ ব্যবস্থা এবং বন্যা ব্যবস্থাপনা যাতে উন্নত করা যায় এ লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি চলছে। গত তিন মাসে প্রায় ৯শ’ কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখনন করা হয়েছে।’

    কৃষকদের জন্য সরকারের সহায়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের অন্যতম প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ এবং তার সুদ মওকুফ করা। এতে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।’

    কৃষকদের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকার বিশেষ কৃষক কার্ড চালু করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪৩ লাখ কৃষক এই কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা এবং অন্তত ১০টি অতিরিক্ত সেবা পাবেন। আমরা কৃষকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছি।’

    যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানো এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সেবার পরিধি বাড়াতে সরকার কাজ করছে।’

    এর অংশ হিসেবে প্রবাসীদের বিভিন্ন সেবা সহজলভ্য করতে এবং বিদেশে তাঁদের ভোগান্তি কমাতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য নয়, জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

    দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, দুর্বল পরিকল্পনা ও অবহেলার কারণে দেশের জ্বালানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানকে অবহেলা করে বিদেশি কোম্পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি করা হয়েছে।তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার এখন জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে আমদানি নির্ভরতা কমানো যায়।’

    মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকটের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ পরিস্থিতি আবারও প্রমাণ করেছে যে আমদানি নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। সরকারের বৃহত্তর লক্ষ্য হলো এমন একটি শক্তিশালী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।’

    শিক্ষা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, শিক্ষিত ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন জনগোষ্ঠীই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তবে আগের শাসনামলে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করা হয়েছিল। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।

    এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। বাজেট এ অধিবেশনে প্রথমে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং পরে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন।

  • আবার কমলো স্বর্ণের দাম

    আবার কমলো স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছে।

    সোমবার সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।

    সংস্থাটি জানায়, সোমবার সকালে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে এ দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণালঙ্কারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। এর আগে, এর দাম ছিল ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা।

    এছাড়া ভ্যাটসহ ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা।

    স্বর্ণের দাম কমানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা।

  • কমছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর

    কমছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অনুযায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, ডেন্টাল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর করপোরেট করহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তন অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের করহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, শিক্ষার মান উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি শিক্ষা খাতকে সহায়তা করার লক্ষ্যেই এই কর ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    নতুন করহার: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও তথ্যপ্রযুক্তি-ভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের করহার কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

    শর্ত সহজ হচ্ছে: নতুন অর্থবছরে কর কমানোর ক্ষেত্রে আগের তুলনায় শর্ত শিথিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠান: ইউজিসি অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এই সুবিধার আওতায় আসবে।

    খাতের দাবি: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে কর কমানো বা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিল।

  • করমুক্ত আয়সীমা হচ্ছে ৪ লাখ টাকা

    করমুক্ত আয়সীমা হচ্ছে ৪ লাখ টাকা

    মূল্যস্ফীতির দীর্ঘস্থায়ী চাপের মধ্যে সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এর ফলে যাদের বার্ষিক বেতনভিত্তিক আয় ছয় লাখ টাকার কম (বেতনের এক-তৃতীয়াংশ করমুক্ত সুবিধাসহ), তাদের আয়কর দিতে হবে না।

    একই সঙ্গে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ট্যাক্সপেয়ার্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) জমা দেওয়ার বিধানও প্রত্যাহারের চিন্তাভাবনা হচ্ছে। অর্থ বিল-২০২৬ পাসের আগে শেষ সময়ে এসে বিভিন্ন অংশীজন ও ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখে প্রস্তাবিত বাজেটে এসব সংশোধনী আনার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার।

    নিয়মিত কর দিয়ে জমি-ফ্ল্যাটের প্রকৃত মূল্য প্রদর্শনের নতুন বিধানও বাতিল করা হচ্ছে। পাশাপাশি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় লভ্যাংশ আয়ের ওপর আগের মতোই ২০ শতাংশ করহার বহাল রাখা হচ্ছে।

    একই সঙ্গে খুচরা ব্যবসায়ী পর্যায়ে একক ভ্যাট হার বসানোর চিন্তা থেকেও আপাতত সরে আসছে সরকার। এ ছাড়া বাজেটে আরো কিছু পরিবর্তন আসছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র। পরিবর্তনগুলো হবে অর্থবিল পাসের মাধ্যমে।

    জাতীয় সংসদে মঙ্গলবার অর্থবিল-২০২৬ পাসের আগে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) শেষ মুহূর্তে এসব সংশোধনী আনছে বলে দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

    অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছিল। এবার মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান করমুক্ত আয়সীমা আরো ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। অর্থাৎ এক বছরে করমুক্ত সীমা বেড়েছে মোট ৫০ হাজার টাকা।

  • ‘প্যাকেজ ভ্যাটে ভ্যাট আরোপ থেকে সরে আসছে সরকার

    ‘প্যাকেজ ভ্যাটে ভ্যাট আরোপ থেকে সরে আসছে সরকার

    ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর নির্দিষ্ট হারে ভ্যাট বহুল আলোচিত ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ আরোপের প্রস্তাব থেকে সরে আসছে সরকার। তবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চলতি হিসাব খোলা, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন বা বিকাশ-নগদের মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে ব্যবসা শনাক্তকরণ নাম্বারের (বিআইএন) বাধ্যবাধকতা বহাল থাকছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    বর্তমানে বছরে ৫০ লাখ টাকা বা তার বেশি টার্নওভার থাকা খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধন নিতে হয় এবং এর নিচের প্রতিষ্ঠানগুলো ভ্যাটের আওতার বাইরে রয়েছে। তবে নতুন বাজেট প্রস্তাবে আগামী ১ জুলাই থেকে টার্নওভারের পরিমাণ নির্বিশেষে সব খুচরা ব্যবসাকে ভ্যাটের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছিল।

    এই প্রস্তাবের পর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তারা আশঙ্কা করেন, এতে পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং ভ্যাট কর্মকর্তাদের হয়রানির ঝুঁকি বাড়বে।

    সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অর্থ বিলটি আজ অর্থ আইন হিসেবে পাস হওয়ার আগেই অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংশ্লিষ্ট বিধান বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

    একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি অনেক মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাধারণ ভ্যাটব্যবস্থার পরিবর্তে প্যাকেজ ভ্যাটের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। এসব বিবেচনাতেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।

  • আহসান হাবিব এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান

    আহসান হাবিব এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আহসান হাবিব। এর আগে তিনি এনবিআরের সদস্য এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।

    ১৫তম বিসিএস (ট্যাক্সেশন) ক্যাডারের কর্মকর্তা আহসান হাবিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। এছাড়া বিসিএস পরীক্ষায়ও তিনি তার ব্যাচে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

    কর্মজীবনে তিনি কর অঞ্চল-১৫-এর কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সিআইসির মহাপরিচালক থাকাকালে কর ফাঁকি ও আর্থিক অনিয়মসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি আলোচিত অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করেন। অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম ‘উল্কাগেমস’ থেকে বকেয়া কর আদায়ের উদ্যোগেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।