অর্থ ও বাণিজ্য

  • চীনের বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়তে পশ্চিমাদের লাগবে ২৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলার

    চীনের বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়তে পশ্চিমাদের লাগবে ২৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলার

    গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাত ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে আগামী কয়েক দশকে প্রয়োজন হবে বিপুল অংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগ। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইওয়াই-পার্থেননের বিশ্লেষণে বলা হয়, ২০৫০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোজোন ও যুক্তরাজ্যকে এ লক্ষ্য পূরণে অতিরিক্ত ২৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে হতে পারে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে চীনের সঙ্গে যুক্ত উৎপাদন, প্রযুক্তি, গবেষণা, সফটওয়্যার অবকাঠামো ও সরবরাহ শৃঙ্খলের বিকল্প গড়ে তুলতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হবে যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটির প্রয়োজন হবে প্রায় ১৩ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। ইউরোজোনের প্রয়োজন হবে ৯ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার ও যুক্তরাজ্যের প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার।

    ইওয়াই-পার্থেননের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৫ বছরে তিন অঞ্চলের গড়ে প্রতি বছর অতিরিক্ত প্রায় ৯৪০ বিলিয়ন বা ৯৪ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। এটি জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে চলমান বিনিয়োগের অতিরিক্ত।

    শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেই বছরে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি ডলার অতিরিক্ত বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। তুলনা হিসেবে বলা হয়, ২০২৫ সালে দেশটির বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ডেটা সেন্টার নির্মাণে প্রায় ৬০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছিল। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ জোটটির বর্তমান বার্ষিক বাজেটের প্রায় দ্বিগুণের সমান।

    ইওয়াই-পার্থেননের কর্মকর্তা ও যুক্তরাজ্যের সাবেক সরকারি উপদেষ্টা ম্যাটস পারসনের মতে, সরবরাহ শৃঙ্খল স্থানীয়করণ করা সহজ হবে না। কারণ এতে করদাতা ও ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয় চাপানোর ঝুঁকি রয়েছে।

    তার ভাষ্য, পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার চেয়ে আংশিকভাবে চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোই বাস্তবসম্মত পথ। শুরুতে ব্যয় তুলনামূলক কম থাকলেও সময়ের সঙ্গে তা বাড়বে।

    বিশ্লেষণে আরো বলা হয়, শুধু অর্থ ব্যয় করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ উন্নত উৎপাদন, বিদ্যুচ্চালিত যানবাহন, ব্যাটারি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহে এখনো চীনের আধিপত্য রয়েছে।

    আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্যানুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বের পরিশোধিত লিথিয়াম ও কোবাল্টের ৬০ শতাংশের বেশি এবং ব্যাটারি-গ্রেড গ্রাফাইট ও বিরল খনিজের প্রায় ৮০ শতাংশ সরবরাহ করবে চীন। ফলে এসব কাঁচামালের বিকল্প উৎস তৈরি করা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

    নির্ভরতার এ বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হয় গত বছর। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হুমকির জবাবে বেইজিং গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ রফতানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের গাড়ি শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। পরে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে সমঝোতা হলেও বিষয়টি পশ্চিমা দেশগুলোকে সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। এ কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিরল খনিজ মজুদের পরিকল্পনাও এগিয়ে নিচ্ছে।

    ফরাসি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ন্যাটিক্সিসের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যালিসিয়া গার্সিয়া-হেরেরো বলেন, ‘বড় অংকের বিনিয়োগ করলেও পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষে দ্রুত চীন থেকে সরে আসা সম্ভব নয়। কারণ বিরল খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে ওষুধ তৈরির কাঁচামাল পর্যন্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ শিল্প উপাদানের নিয়ন্ত্রণ এখনো চীনের হাতে রয়েছে।’

    ইওয়াই-পার্থেননের হিসাব বলছে, চীনে উৎপাদিত অনেক পণ্যের কারখানা পর্যায়ের খরচ অন্যান্য দেশের তুলনায় ২০-১০০ শতাংশ পর্যন্ত কম। ফলে চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ উৎপাদন ব্যয় বাড়াতে পারে। এর প্রভাব ভোক্তা মূল্যেও পড়বে। বিশেষ করে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাতে পণ্যের দাম ১ থেকে ২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

    এতে মূল্যস্ফীতি ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্য বিরোধ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা পশ্চিমা দেশগুলোকে নতুন শিল্পনীতি গ্রহণে উৎসাহিত করেছে। তবে চীনের বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে শুধু সময়ই নয়, বিপুল অর্থ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারও প্রয়োজন হবে।

  • পূবালী ব্যাংকের ১৪টি ই-বুথ উদ্বোধন

    পূবালী ব্যাংকের ১৪টি ই-বুথ উদ্বোধন

    পূবালী ব্যাংকের রাজশাহী অঞ্চল সম্প্রতি ‘ক্যাশলেস রাজশাহী’ শীর্ষক একটি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ‘লেনদেন হচ্ছে ক্যাশলেস, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।

    এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পূবালী ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘এক দেশ, এক কিউআর লেনদেন’ বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজশাহী অঞ্চলে ১৪টি ইলেকট্রনিক বুথ ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন করা হয়।

    পূবালী ব্যাংকের রাজশাহী অঞ্চল সম্প্রতি ‘ক্যাশলেস রাজশাহী’ শীর্ষক একটি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ‘লেনদেন হচ্ছে ক্যাশলেস, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।

    এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পূবালী ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘এক দেশ, এক কিউআর লেনদেন’ বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজশাহী অঞ্চলে ১৪টি ইলেকট্রনিক বুথ ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন করা হয়।

  • সবুজ কারখানায় বিশ্বমঞ্চে নতুন রেকর্ড, একশ’র মধ্যে বাংলাদেশের ৫৩

    সবুজ কারখানায় বিশ্বমঞ্চে নতুন রেকর্ড, একশ’র মধ্যে বাংলাদেশের ৫৩

    পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পোশাক শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। নতুন করে আরও চারটি তৈরি পোশাক (আরএমজি) কারখানা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত লিড (লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এভায়রনমেন্টাল ডিজাইন) সনদ অর্জন করেছে। এর ফলে দেশে লিড সনদপ্রাপ্ত পোশাক কারখানার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯০টিতে। এর মধ্যে ১২৫টি প্লাটিনাম, ১৪৫টি গোল্ড এবং বাকিগুলো সিলভার ও সার্টিফায়েড পর্যায়ের।

    সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিশ্বের সর্বোচ্চ স্কোরপ্রাপ্ত শীর্ষ ১০০টি লিড সনদধারী কারখানার মধ্যে এখন বাংলাদেশের ৫৩টি কারখানা রয়েছে। বিশ্বের অন্য কোনও দেশের তুলনায় এটি একটি অনন্য অর্জন, যা টেকসই শিল্পায়নে বাংলাদেশের নেতৃত্বেরই প্রতিফলন। বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    নতুন করে লিড সনদ পাওয়া চারটি কারখানার মধ্যে দুটি প্লাটিনাম, একটি গোল্ড এবং একটি সিলভার পর্যায়ের স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

    চট্টগ্রামের উত্তর নাসিরাবাদ শিল্প এলাকায় অবস্থিত ক্যানভাস গার্মেন্টস প্রাইভেট লিমিটেড LEED O+M: Existing Buildings v4.1 রেটিং ব্যবস্থায় ৯০ পয়েন্ট অর্জন করে প্লাটিনাম সনদ পেয়েছে। গাজীপুরের চয়দানায় অবস্থিত ম্যাট্রিক্স সোয়েটার্স লিমিটেড একই রেটিং ব্যবস্থায় ৮৮ পয়েন্ট অর্জন করে প্লাটিনাম সনদ লাভ করেছে। এদিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের করিম টেক্সটাইলস লিমিটেড ৭৩ পয়েন্ট অর্জন করে গোল্ড এবং ঢাকার ধামরাইয়ের করিম টেক্স লিমিটেড ৫৩ পয়েন্ট নিয়ে সিলভার সনদ অর্জন করেছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই স্বীকৃতি?

    লিড সনদ বিশ্বের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পরিবেশবান্ধব ভবন ও শিল্প কারখানার স্বীকৃতিগুলোর একটি। জ্বালানি সাশ্রয়, পানির দক্ষ ব্যবহার, কার্বন নিঃসরণ কমানো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের ব্যবহার, কর্মপরিবেশ এবং টেকসই অবকাঠামো— এসব সূচকে নির্ধারিত মান পূরণ করেই একটি কারখানা এই সনদ অর্জন করে।

    বর্তমানে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় বড় ফ্যাশন ব্র্যান্ড পরিবেশবান্ধব কারখানাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে লিড সনদ শুধু একটি সম্মানজনক স্বীকৃতিই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার।

    উৎপাদনের পাশাপাশি টেকসই শিল্পেও নেতৃত্ব

    বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক দেশ। গত এক দশকে শুধু রফতানির পরিমাণ বাড়ানোর দিকেই নয়, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে দেশের উদ্যোক্তারা।

    সবুজ কারখানায় বিনিয়োগের ফলে বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার কমছে, উৎপাদন ব্যয় দীর্ঘমেয়াদে হ্রাস পাচ্ছে এবং কার্বন নিঃসরণও কমানো সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থাও বাড়ছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারে টেকসই উৎপাদন আর অতিরিক্ত সুবিধা নয়; এটি ক্রেতাদের অন্যতম প্রধান শর্তে পরিণত হয়েছে। সেই বাস্তবতায় বাংলাদেশের এই অগ্রগতি ভবিষ্যতের রপ্তানি বাজার ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে

    বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘‘নতুন চারটি লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানার সংযোজন বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এখন দেশে ২৯০টি লিড সনদপ্রাপ্ত পোশাক কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে ১২৫টি প্লাটিনাম এবং ১৪৫টি গোল্ড। বিশ্বের সর্বোচ্চ স্কোরপ্রাপ্ত শীর্ষ ১০০টি লিড সনদধারী কারখানার মধ্যে বাংলাদেশের ৫৩টির অবস্থান প্রমাণ করে, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে।’’

    তিনি বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন শুধু প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য চান না, তারা উৎপাদন প্রক্রিয়াও পরিবেশবান্ধব ও দায়িত্বশীল হতে হবে— এমন প্রত্যাশা করেন। বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা সেই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের সফলভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন। সবুজ কারখানায় বিনিয়োগের ফলে জ্বালানি ও পানির দক্ষ ব্যবহার বাড়ছে, কার্বন নিঃসরণ কমছে এবং শ্রমিকদের জন্য আরও নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হচ্ছে।’’

    মহিউদ্দিন রুবেল আরও বলেন, ‘‘এই অর্জন ধরে রাখতে শুধু বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়, মাঝারি ও ছোট কারখানাগুলোকেও সবুজ রূপান্তরের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারবে এবং টেকসই উৎপাদনে বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে নিজেদের অবস্থান দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে সক্ষম হবে।’’

    বিশ্বের শীর্ষ তালিকায় বাংলাদেশের আধিপত্য

    বিশ্বের সর্বোচ্চ স্কোরপ্রাপ্ত শীর্ষ ১০০টি লিড সনদধারী কারখানার মধ্যে বাংলাদেশের ৫৩টির অবস্থান দেশের সক্ষমতার একটি বড় প্রমাণ। শুধু সংখ্যায় নয়, সর্বোচ্চ স্কোর অর্জনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের একাধিক কারখানা ধারাবাহিকভাবে বিশ্বসেরাদের তালিকায় স্থান করে নিচ্ছে। এটি প্রমাণ করে, দেশের উদ্যোক্তারা এখন শুধু কম খরচে উৎপাদনের প্রতিযোগিতায় নেই; বরং পরিবেশ সংরক্ষণ, জ্বালানি দক্ষতা এবং টেকসই শিল্প ব্যবস্থাপনাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    সামনে সুযোগ, তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়

    বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণ কমানো, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের ওপর জোর বাড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন পরিবেশগত নীতিমালা, কার্বন-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর সরবরাহ শৃঙ্খলে টেকসই উৎপাদনের বাধ্যবাধকতা বাংলাদেশের জন্য যেমন নতুন সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি প্রতিযোগিতাও বাড়াচ্ছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু লিড সনদের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনে আরও বিনিয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পোশাক কারখানাগুলোকেও সবুজ রূপান্তরের আওতায় আনতে হবে।

    বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা

    বিশ্ববাজারে পোশাক রফতানিতে প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। ভিয়েতনাম, ভারত, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোও টেকসই শিল্পে দ্রুত বিনিয়োগ করছে। এমন বাস্তবতায় নতুন চারটি লিড সনদ বাংলাদেশের জন্য শুধু আরেকটি পরিসংখ্যানগত অর্জন নয়; এটি আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের গ্রহণযোগ্যতা, ব্র্যান্ড ইমেজ এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হওয়ার একটি ইতিবাচক বার্তা।

    সবুজ শিল্পায়নে ধারাবাহিক এই অগ্রগতি ধরে রাখতে পারলে ভবিষ্যতে আরও উচ্চমূল্যের ক্রয়াদেশ আকর্ষণ, বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর আস্থা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদনে বাংলাদেশকে বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

  • শেয়ারবাজারে সূচক ঊর্ধ্বমুখী, লেনদেন ১ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা

    শেয়ারবাজারে সূচক ঊর্ধ্বমুখী, লেনদেন ১ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা

    দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ সবকটি মূল্যসূচক ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় লেনদেন শেষ হয়েছে।

    মঙ্গলবার ডিএসইতে ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৬৭টি ট্রেডের মাধ্যমে ৩৯৩টি কোম্পানির মোট ৪৬ কোটি ৫০ লাখ ১৬ হাজার ২৭৬টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের হাতবদল হয়। এতে ডিএসইতে এদিন মোট লেনেদেনের পরিমাণ দাাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৫১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৯১৩ টাকা। লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯৯টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, ১৩৭টির কমেছে এবং ৫৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

    দিন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৪৪ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৯১১ দশমিক ২৪ পয়েন্টে অবস্থান করে। ডিএস-৩০ সূচক ২৪ দশমিক ০১ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২২৭ দশমিক ১০ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) ১০ দশমিক ২৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২০৭ দশমিক ০৪ পয়েন্টে দাঁড়ায়।

    লেনদেনের পরিমাণের ভিত্তিতে ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে ছিল তৌফিকা ফুড, বিএসসিসি, মালেক স্পিনিং, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, ব্র্যাক ব্যাংক, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, বিএসআরএম স্টিলস, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট এবং ইস্টার্ন হাউজিং।

    দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে আমান ফিড, এপেক্স ট্যানারি, ফার কেমিক্যাল, জিকিউ বলপেন, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, আল-হাজ টেক্সটাইলস, বিএসআরএম স্টিলস, ফু-ওয়াং সিরামিক, সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস এবং দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স।

    অন্যদিকে দর পতনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল ইন্ট্রাকো লিজিং, পিপলস লিজিং, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এনসিসি ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড-১, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স, নাহি অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট প্যানেলস এবং কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স।

    ক্যাটাগরি ভিত্তিতে বাজারের বিভিন্ন ক্যাটাগরির মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরির ১৯৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯১টির দাম বেড়েছে, ৮৪টির কমেছে এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। ‘বি’ ক্যাটাগরির ৭৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৬টির দর বেড়েছে, ২১টির কমেছে এবং সাতটির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

    ‘জেড’ ক্যাটাগরির ১২১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬২টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৩২টির কমেছে এবং ২৭টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এদিন ‘এন’ ক্যাটাগরির কোনো প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়নি।

    এদিকে, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ৩৪টি ইউনিটের মধ্যে চারটির দর বেড়েছে, ১৬টির কমেছে এবং ১৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

    করপোরেট বন্ডের দু’টি ইস্যুর উভয়ের দর কমেছে। এছাড়া, লেনদেন হওয়া পাঁচটি সরকারি সিকিউরিটিজ (জি-সেক)-এর সবগুলোরই দর কমেছে।

  • দেশে জ্বালানি তেল মজুত আছে ৩৪ দিনের

    দেশে জ্বালানি তেল মজুত আছে ৩৪ দিনের

    হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা বাংলাদেশকেও ফেলেছে উদ্বেগে। যদিও দেশে বর্তমানে প্রায় ৩৪ দিনের জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে, তবু তেল ও এলএনজির দাম বেড়ে গেলে আমদানি ব্যয় এবং ভর্তুকির চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে সরকার।

    গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর শুধু জ্বালানি তেল এবং এলএনজি বেশি দামে আমদানি করে কম দামে বিক্রির কারণে প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা লোকসান দেয় সরকার। এর মধ্যে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত শুধু তেল আমদানিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) লোকসান দিয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা। বাকি টাকা লোকসান হয়েছে এলএনজি আমদানিতে। এখন ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে বাংলাদেশ আবারও বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকার টু সরকার (জি-টু-জি) প্রক্রিয়ায় ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল কেনার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত হয়ে আছে। এ ব্যাপারে সরবরাহকারী কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা শেষ হয়েছে। ওই সমঝোতা অনুযায়ী উন্মুক্ত দরপত্রের চেয়ে ৭০০ কোটি টাকা কম প্রিমিয়ামে (জাহাজ ভাড়া) তেল সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে ৪-৫টি কোম্পানি।

    অন্যদিকে, দীর্ঘ মেয়াদি চুক্তির আওতায় গত মার্চ মাস থেকে কোনো কোম্পানি এলএনজি সরবরাহ করছে না। পেট্রোবাংলা স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনছে। এখন আগামী দিনে স্পট মার্কেট থেকেই এলএনজি কিনতে হবে বাংলাদেশকে।

    পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) একেএম মিজানুর রহমান রোববার যুগান্তরকে বলেন, হরমুজ বন্ধ থাকলে তেল এবং এলএনজির দাম বাড়বে। এটা বাংলাদেশের জন্য চিন্তার। গত মাসে যুদ্ধবিরতির কারণে এলএনজির দাম অনেক কমে এসেছিল। এখন বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম কী হয় সেটা দেখার বিষয়।

    প্রসঙ্গত, মার্চে স্পট মার্কেটে বাংলাদেশকে প্রতি ইউনিট এলএনজি ২৮ ডলার দিয়ে কিনতে হয়েছে। যুদ্ধবিরতির কারণে গত সপ্তাহ বাংলাদেশ সেই এলএনজি কিনেছে ১৬ থেকে ১৭ ডলারে। হরমুজ বন্ধ হওয়ার পর আজ (সোমবার) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের বেচাকেনা শুরু হবে। তখন কী দামে তেল বিক্রি হয় সেটি দেখার বিষয়। গত শুক্রবার সর্বশেষ ব্র্যান্ড ক্রুড প্রতি ব্যারেল ৭৬ দশমিক ১০ ডলারে বিক্রি হয়েছে। মার্চ-এপ্রিলে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এটির দাম ১১৪ ডলারের বেশি উঠেছিল।

    জি-টু-জির আওতায় ১৬ লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল, অকটেন, ফার্নেস অয়েল এবং জেট ফুয়েল কেনার জন্য গত ২০ জুন সিঙ্গাপুরে ১০টি সরবরাহকারী কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা বৈঠক হয়েছিল। জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের নিয়ম অনুযায়ী ওই ১০ কোম্পানির সঙ্গে শুধু জাহাজ এবং অন্যান্য খরচ অর্থাৎ প্রিমিয়াম নিয়ে দরকষাকষি হয়েছে। সেই বৈঠকে ভারতের কোম্পানি আইওসিএল সর্বপ্রথম ১০ ডলারের নিচে অর্থাৎ ৯ দশমিক ৫ ডলার প্রিমিয়ামে তেল ডিজেল সরবরাহ করতে রাজি হয়। এরপর সেই দরে ইউনিপেক, পেট্রো চায়নাসহ কয়েকটি কোম্পানি তেল সরবরাহ করার নিশ্চয়তা দেয়। গত জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত সরকার উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে চারটি কোম্পানির কাছ থেকে জ্বালানি তেল কিনছে। সেখানে প্রিমিয়াম দেওয়া হয়েছে সাড়ে ১৩ ডলারের বেশি।

    ওই সমঝোতা বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, সিঙ্গাপুরের বৈঠকে ১০ কোম্পানির মধ্যে ৯ কোম্পানি ১৪ ডলারের বেশি প্রিমিয়াম দাবি করেছিল। পরে ভারতের কোম্পানি কম প্রিমিয়ামে তেল দিতে রাজি হলে বাকিরাও একই প্রিমিয়ামে তেল দিতে রাজি হয়। যুদ্ধের কারণে তেল পরিবহণে এখন অনেক খরচ। এক সেন্ট কম প্রিমিয়াম মানে দেশের ৮২ লাখ টাকা সাশ্রয়। সেই হিসাবে ১৬ লাখ টনে এবার উন্মুক্ত দরপত্রের চেয়ে ৭০০ কোটি টাকা পরিবহণ খরচ বা প্রিমিয়াম সাশ্রয় হয়েছে।

    বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত চার মাসে তেলের ভতুর্কি হিসাবে সরকার এক টাকাও বিপিসিকে দেয়নি। সংস্থাটি ইস্টার্ন রিফাইনারি-২ প্রকল্প এবং অন্যান্য প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা টাকা তেল আমদানিতে খরচ করেছে। এতে করে বিপিসির হিসাব থেকে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ২১ হাজার কোটি টাকা তেল আমদানি করতে বেশি খরচ বা লোকসান দিতে হয়েছে। এ ব্যাপারে বিপিসি বারবার সরকারকে ভর্তুকি দিতে চিঠি দিলেও এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি অর্থ বিভাগ থেকে।

    বিপিসির ট্যাংকিতে রোববার পর্যন্ত ৪ লাখ ১৪ হাজার টন ডিজেল আছে। যা দিয়ে ৩৪ দিন চলবে। অকটেনও আছে ৪০ দিনের মতো। বিপিসির আমদানি সূচি অনুযায়ী এই মাসে আরও ৮-১০টি ডিজেলবাহী জাহাজ আসার কথা। যুদ্ধের পর ৩০ হাজার টনের পরিশোধিত ডিজেল কিনতে বিপিসিকে বিল দিতে হয়েছে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের মতো। কিন্তু এখন সেই বিল ৩ কোটি ২০ লাখ ডলারে নেমে এসেছে।

    জ্বালানি বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেছেন, গত মার্চে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার আগেভাগে ডিপোগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। জ্বালানি বিভাগ মনে করে, এবার তেল নিয়ে তেমন কোনো সমস্যা হবে না।

  • বাতিল হচ্ছে ৬ মার্চেন্ট ব্যাংকের নিবন্ধন সনদ 

    বাতিল হচ্ছে ৬ মার্চেন্ট ব্যাংকের নিবন্ধন সনদ 

    নির্ধারিত নিট মূলধনের শর্ত পূরণে দীর্ঘদিন ব্যর্থ হওয়া এবং আর্থিক সক্ষমতার ঘাটতির কারণে দেশের ছয়টি মার্চেন্ট ব্যাংকের নিবন্ধন সনদ (রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট) বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংকের নিট মূলধন ঘাটতির কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত এবং ব্যাখ্যা তলবের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেসব মার্চেন্ট ব্যাংকের নিবন্ধন সনদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে, সেগুলো হলো— ফাস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড; ইম্পেরিয়াল ক্যাপিটাল লিমিটেড; এনডিবি ক্যাপিটাল লিমিটেড; রিভারস্টোন ক্যাপিটাল লিমিটেড; হাল ক্যাপিটাল লিমিটেড এবং রুটস ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

    বিএসইসির একাধিক কমিশন সভার সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কমিশনের মতে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সক্ষমতার ন্যূনতম শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি এবং অনেক ক্ষেত্রেই কার্যক্রম অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে।

    বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, ‘নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত আর্থিক সক্ষমতার শর্ত প্রতিটি মার্চেন্ট ব্যাংকের জন্য বাধ্যতামূলক। যেসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত নিট মূলধন বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দুটি প্রতিষ্ঠানের নিট মূলধন ঘাটতির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    তদন্ত ও ব্যাখ্যা তলব

    নিট মূলধন ঘাটতির কারণ অনুসন্ধানে ইউনিক্যাপ ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড এবং জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের বিরুদ্ধে পৃথক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এসব তদন্ত পরিচালনা করবে বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।

    অন্যদিকে, ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের নিট মূলধন ঘাটতির বিষয়ে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যাখ্যা ও নিট মূলধন বৃদ্ধির অগ্রগতি পরবর্তী কমিশন সভায় উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কী বলে বিধিমালা

    সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্চেন্ট ব্যাংকার ও পোর্টফোলিও ম্যানেজার) বিধিমালা, ১৯৯৬ অনুযায়ী, কোনো মার্চেন্ট ব্যাংকের নিট মূলধন পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ হতে হবে। নির্ধারিত সীমার নিচে নিট মূলধন নেমে গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কমিশন ব্যাখ্যা তলব, কার্যক্রম পর্যালোচনা কিংবা নিবন্ধন বাতিলসহ প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নিতে পারে।

    বাজারে কী বার্তা দিচ্ছে

    বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিট মূলধনের ন্যূনতম শর্ত পূরণে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বিএসইসির এই পদক্ষেপ পুঁজিবাজারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। পাশাপাশি তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থাও স্পষ্ট হবে।

    বর্তমানে দেশে বিএসইসির নিবন্ধনপ্রাপ্ত মার্চেন্ট ব্যাংকের সংখ্যা ৬৬টি। এর আগে প্রসপেক্টাসে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগে সিএপিএম অ্যাডভাইজরির নিবন্ধন সনদ বাতিলের কার্যক্রমও শুরু করেছে কমিশন।

  • আবারো কমলো স্বর্ণের দাম

    আবারো কমলো স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
    বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার সকাল ৯টায় সংগঠনটির মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্বর্ণ ও রুপার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

    নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। এর আগে, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা।

    স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৬০৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হবে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা।

  • সরকারের আর্থিক সংস্কার ও রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার প্রশংসা আইএমএফের

    সরকারের আর্থিক সংস্কার ও রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার প্রশংসা আইএমএফের

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকারের আর্থিক সংস্কার ও রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর প্রতিনিধি সম্মান জানিয়েছে। আইএমএফের সাথে বাংলাদেশের আগামী দিনের নতুন কর্মসূচির ভিত্তি ও সিকোয়েন্সিং নিয়ে এবং নীতিমালার সার্বিক দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    সোমবার মন্ত্রণালয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বাংলাদেশ ও হংকং বিষয়ক মিশন প্রধান ইভো ক্রজনার এর সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের সাথে নতুন কর্মসূচি কোন ভিত্তির ওপর পরিচালিত হবে, তা পরিষ্কার করা হয়েছে এবং প্রস্তাবিত ভিত্তিসমূহের ওপর তারা সম্পূর্ণ একমত পোষণ করেছেন। সংস্কার কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে ধাপে ধাপে পরিবর্তনগুলো আনা হবে। রাতারাতি বা ওভারনাইট কোনো বড় পরিবর্তন সম্ভব নয় এবং আইএমএফ এ বিষয়ে সহমত প্রকাশ করেছে।

    তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোন সংস্কার কখন করা প্রয়োজন, সেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ক্রমান্বয়ে পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। আইএমএফ এই সিকোয়েন্সিংয়ের নীতিতে সায় দিয়েছে। এছাড়া একটি রাজনৈতিক সরকারের জনকল্যাণমূলক দায়বদ্ধতা এবং রেসপন্সিবিলিটিকে আইএমএফ বিশেষভাবে সম্মান জানিয়েছে। দেশের মানুষের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখেই অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হবে।

    মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের চার মাসের মেয়াদে আর্থিক খাতের সংস্কার, শেয়ারবাজার ও ক্যাপিটাল মার্কেটের উন্নয়ন এবং রাজস্ব আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতিতে আইএমএফ প্রতিনিধিদল সন্তোষ প্রকাশ করেছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাত্র চার মাসে ট্যাক্স আদায়কে একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ইতিবাচক ধারা বজায় রেখে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত আরও বাড়াতে সরকারের প্রস্তাবনাসমূহ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

    ভর্তুকি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এখনই সুনির্দিষ্ট ডিটেইলস বা শর্ত নিয়ে আলোচনা হয়নি। মূলত নতুন কর্মসূচির মূল ভিত্তি তৈরি নিয়ে কথা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত আলোচনার টেবিলে সকল বিষয়গুলো আসবে।

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও জানান, এই আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের বার্ষিক সভায় এ বিষয়ে পরবর্তী আলোচনা হবে। বর্তমান সরকারের সংস্কারমুখী পারফরম্যান্সে আইএমএফ সন্তুষ্ট এবং এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই আগামী দিনের নতুন প্রোগ্রাম চূড়ান্ত করা হবে।

  • উচ্চ খেলাপি ঋণের ব্যাংক বন্ধ করা হচ্ছে না কেন

    উচ্চ খেলাপি ঋণের ব্যাংক বন্ধ করা হচ্ছে না কেন

    দেশের ব্যাংক খাত এখন উচ্চ খেলাপি ঋণের চাপে জর্জরিত। কিছু ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার ৮০ শতাংশেরও বেশি। এত উচ্চহারে খেলাপি ঋণ থাকা সত্ত্বেও এসব ব্যাংক কীভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং কেন সেগুলোকে অবসায়ন বা বন্ধের প্রক্রিয়ায় নেওয়া হচ্ছে না এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

    গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে এসব প্রশ্ন তোলে আইএমএফের প্রতিনিধিদল। নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে পাঁচ দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন সংস্থাটির প্রতিনিধিরা। সফরের প্রথম দিন সকালে গভর্নর ও তার টিমের সঙ্গে উদ্বোধনী বৈঠকের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে পৃথক বৈঠক হয় তাদের। আইএমএফের বাংলাদেশ মিশনপ্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে প্রথম দিনের বৈঠক হয়।

    বৈঠকসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, খেলাপি ঋণ কমানো, ব্যাংক রেজল্যুশন, ইসলামি ব্যাংকিং, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা এবং নতুন ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

    সূত্র জানায়, এদিন বিকাল সাড়ে ৪টায় ব্যাংক রেজল্যুশন বিভাগ এবং ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে ব্যাংকিং খাত সংস্কারের রূপরেখা, অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ (একিউআর), দুর্বল ব্যাংকের শ্রেণিবিন্যাস, রেজল্যুশন কৌশল, রেজল্যুশন ফান্ড এবং একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ব্যাংকের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ নিষ্পত্তি কাঠামো এবং ব্যাংক রেজল্যুশন আইন বাস্তবায়নের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে কেন একিউআরের আওতায় আনা হচ্ছে না, সে বিষয়ে জানতে চেয়েছে আইএমএফ। একই সঙ্গে আর্থিকভাবে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে কেন এখনো রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হয়নি, সে প্রশ্নও তোলে সংস্থাটি।

    তিনি বলেন, যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৮০ শতাংশের বেশি, সেগুলো কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং এত দুর্বল অবস্থার পরও কেন অবসায়ন বা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়নিÑএ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে আইএমএফ। তবে বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব দেওয়া হয়নি।

    দিনের দ্বিতীয়ার্ধে ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের (বিআরপিডি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ব্যাংক খাতের চলমান ও পরিকল্পিত আইনগত সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে খেলাপি ঋণ নিষ্পত্তির কাঠামো, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি) গঠন, সমস্যাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা, দেউলিয়াত্ব আইন এবং আদালতের বাইরে ঋণ পুনর্গঠনব্যবস্থার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। একই বৈঠকে ইসলামি ব্যাংকিং খাতের আইনগত সংস্কার, আইএফআরএস-৯ এবং ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮এ ধারা নিয়েও আলোচনা হয়।

    বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, আইএফআরএস-৯ বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং খেলাপি ঋণ (এনপিএল) নিষ্পত্তির জন্য প্রণয়নাধীন গাইডলাইন নিয়ে আইএমএফ বিস্তারিত জানতে চায়। বাংলাদেশ ব্যাংক আইএমএফকে জানিয়েছে, আইএফআরএস-৯ বাস্তবায়নের নির্দেশনা ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। আর এনপিএল রেজল্যুশন গাইডলাইন তৈরির কাজ চলছে, যা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

    এদিন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগের সরকারের নেওয়া আইএমএফ ঋণ কর্মসূচি ছিল ‘সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী’। দেশের মানুষের অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষা করেই আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি করা হবে।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল চিন্তা টাকা পাওয়া নয়, দেশের স্বার্থরক্ষা করা। দেশের মানুষের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে আইএমএফের সঙ্গে কোনো কর্মসূচিতে সরকার যাবে না।’

    নতুন কর্মসূচির আওতায় সরকার তিন বছর মেয়াদে ৪০০-৪৫০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার আশাবাদী। অর্থ পাওয়া গেলে তা সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ মোকাবিলায় ব্যবহার করা হবে।

    ঋণের জন্য গত ৯ জুন আইএমএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেন অর্থমন্ত্রী। সেখানে বলা হয়েছে, আগের কর্মসূচি গ্রহণের সময়কার অর্থনৈতিক ও নীতিগত বাস্তবতা এখন আর নেই। দেশীয় রাজনৈতিক অর্থনীতি, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং নতুন চ্যালেঞ্জের কারণে কিছু সংস্কার বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে সরকার সংস্কার কর্মসূচি থেকে সরে আসতে চায় না; বরং দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করতে চায়।

    ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আইএমএফের কাছ থেকে ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে চুক্তি করেছিল। পরে ২০২৫ সালের জুনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ওই কর্মসূচির আকার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়। অনুমোদিত ওই কর্মসূচির আওতায় পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ মোট ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। তবে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থছাড় নিয়ে প্রায় এক বছর আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি। পরে উভয়পক্ষের সম্মতিতে আগের ঋণ কর্মসূচিটি বাতিল করা হয়।

  • যুদ্ধের কারণে বেড়েছে তেলের দাম, কমেছে এশিয়ার শেয়ার সূচক

    যুদ্ধের কারণে বেড়েছে তেলের দাম, কমেছে এশিয়ার শেয়ার সূচক

    সপ্তাহের শুরুটা বিশ্ববাজারের জন্য স্বস্তির হলো না। উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার খবরের সঙ্গে ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ খবরে মুহূর্তেই চাঙা হয়ে ওঠে তেলের বাজার, চাপের মুখে পড়ে শেয়ারবাজার।

    আজ সোমবার সকালে এশিয়ার বেশির ভাগ শেয়ারসূচক নিম্নমুখী। সেই সঙ্গে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা।

    ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব পড়ে মুদ্রা ও বন্ডবাজারেও। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের খোঁজ করেন। ডলারের দাম বেড়ে যায়, সঙ্গে বাড়ে মার্কিন সরকারি বন্ডের সুদহার।

    বাজারে এখন ধারণা, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি নতুন করে বেড়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভকে আবারও সুদহার বাড়াতে পারে। এমন সময় ফেডের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ মঙ্গলবার এই প্রথম মার্কিন কংগ্রেসে বক্তব্য দেবেন। তাঁর বক্তব্যের দিকে তাকিয়ে আছে বিশ্ববাজার।

    এদিকে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশিত হওয়ার কথা। জ্বালানির দাম আগের কয়েক সপ্তাহে কিছুটা কমে আসায় মূল্যস্ফীতিও হয়তো সামান্য কমতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করায় সেই স্বস্তি বেশি দিন টিকবে না।

    আজ সোমবার সকালে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম একলাফে ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ১১ ডলারে উঠেছে। কয়েক দিন আগেও এর দাম ছিল ৭০ দশমিক ১৪ ডলার। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৪ দশমিক ৩৭ ডলারে উঠেছে।

    হরমুজ প্রণালি ঘিরে উদ্বেগের মধ্যেই মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২০টি জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে প্রণালি পার করানো হয়েছে। তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, এই পথে চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

    এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের বড় নজর এখন করপোরেট পরিসংখ্যানের দিকে। মঙ্গলবার থেকে বড় বড় মার্কিন ব্যাংক চলতি প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। এর পরপরই নেটফ্লিক্স ও জেনারেল ইলেকট্রিকের মতো প্রতিষ্ঠানও আয়ের তথ্য প্রকাশ করবে।

    অনেকের আশা, কোম্পানিগুলোর ভালো মুনাফার খবরে বাজারের উদ্বেগ কিছুটা হলেও কমতে পারে।

    বিনিয়োগ ব্যাংক সিটির বিশ্লেষকেরা অবশ্য এখনো প্রযুক্তি খাত নিয়ে আশাবাদী। তাঁদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) শেয়ারে অস্থিরতা থাকলেও এই খাতে ভালো মুনাফা হচ্ছে। সেই সঙ্গে এসব কোম্পানির মূল্যায়ন ভালো। এসব কারণে এই খাতের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা অক্ষুণ্ন আছে।

    তবে দিনের শুরুতে শেয়ারবাজারে সেই আশাবাদের প্রতিফলন দেখা যায়নি। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাক ফিউচার নিম্নমুখী ছিল। ইউরোপের প্রধান সূচকগুলোর ফিউচারও নিম্নমুখী। জাপানের নিক্কেই সূচক টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো বড় পতনের মুখে পড়েছে। জাপান ছাড়া এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ারবাজারের এমএসসিআই সূচকও নেমে যায়।

    তেলের দাম কত বাড়বে

    গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় নেমে এসেছিল। এরপর তেলের দাম ধীরে ধীরে বাড়ছিল। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে প্রথম দফা হামলা চালানোর আগে যে দাম ছিল, আজ সোমবার মূল্যবৃদ্ধির পর তেলের দাম সেই তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বেশি।

    অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান এক্সঅ্যানালিস্টসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান তেলবিশ্লেষক মুকেশ সহদেব মনে করেন, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় আগস্ট ও সেপ্টেম্বরজুড়ে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের ওপরে থাকবে।

    গত শনিবার গ্রাহকদের উদ্দেশে দেওয়া এক নোটে সহদেব বলেন, এ সময়ের মধ্যে তেলের দামে মাঝেমধ্যে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যেতে পারে, তবে তা এই সীমার মধ্যেই থাকবে।

    সহদেব আরও বলেন, দূরপাল্লার জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে শোধনাগারগুলোকে কয়েক সপ্তাহ আগেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সে কারণে তারা ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর তাৎক্ষণিক নির্ভরতা কিছুটা হ্রাস করেছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনায় সেই প্রবণতা আরও জোরালো হবে।

    অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান আইজির বাজার–বিশ্লেষক ফ্যাবিয়েন ইয়িপও মনে করেন, সাম্প্রতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও তেলের দাম যে আবার ১০০ ডলার চাড়িয়ে যাবে, তেমন সম্ভাবনা কম।

    আজ প্রকাশিত এক নোটে ফ্যাবিয়েন ইয়িপও বলেন, জুন মাসে তেলের দাম যে যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে গেল, তার পেছনে বাজারের ধারণা ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা যতই নাজুক হোক, তা টিকে থাকবে। তবে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় প্রমাণিত হয়েছে, সে ধারণার ভিত্তি কতটা ভঙ্গুর ছিল।

    এদিকে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বন্ডবাজারেও। যুক্তরাষ্ট্রের দুই বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ২০২৫ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ফলে ডলার আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    বন্ডের সুদহার বেড়ে যাওয়ায় সোনার আকর্ষণ কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ১ শতাংশের বেশি কমে ৪ হাজার ৭৬ ডলারে নেমে এসেছে।