অর্থ ও বাণিজ্য

  • নতুন অর্থবছরের ১১ দিনেই রেমিট্যান্সে ১১.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

    নতুন অর্থবছরের ১১ দিনেই রেমিট্যান্সে ১১.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

    রোববার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৯ থেকে ১১ জুলাই—এই তিন দিনেই দেশে এসেছে ১৯ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এতে মাসের প্রথম আট দিনের তুলনায় রেমিট্যান্সের গতি আরও জোরালো হয়েছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নতুন অর্থবছরের শুরুতে রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক প্রবণতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে আরও স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং টাকার বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স দীর্ঘদিন ধরেই অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার উৎস। তৈরি পোশাক রপ্তানির পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ দেশের চলতি হিসাবের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ডলারের সংকট এবং আমদানি ব্যয়ের চাপের মধ্যে রেমিট্যান্স অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে। ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পৌঁছে দেওয়া, প্রণোদনা সুবিধা, ডিজিটাল লেনদেনের সম্প্রসারণ এবং হুন্ডি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নজরদারি বৃদ্ধির ফলে প্রবাসীদের একটি বড় অংশ এখন আনুষ্ঠানিক চ্যানেল ব্যবহার করছেন।

    মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে নিয়মিত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাচ্ছেন। শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মী বিদেশে যাওয়ার প্রবণতাও দীর্ঘমেয়াদে রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়লেই হবে না; এই অর্থ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ নিশ্চিত করাও জরুরি। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ যদি শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, কৃষি এবং অবকাঠামো উন্নয়নে আরও বেশি ব্যবহৃত হয়, তাহলে তা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বহুগুণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    ব্যাংকাররা বলছেন, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ একসঙ্গে শক্তিশালী থাকলে ব্যাংকগুলোর ডলার ব্যবস্থাপনায় চাপ আরও কমবে। এতে এলসি নিষ্পত্তি, জ্বালানি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
    বিশ্লেষকদের মতে, নতুন অর্থবছরের শুরুতে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রণোদনা অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন বাজার সৃষ্টি, দক্ষ কর্মী পাঠানো এবং প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকিং সেবা আরও সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা প্রয়োজন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বরাবরই বলে আসছেন, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রেমিট্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য দ্রুত ও নিরাপদ অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জুলাই মাসের প্রথম ১১ দিনের প্রবৃদ্ধি যদি পুরো মাসজুড়ে বজায় থাকে, তাহলে মাস শেষে রেমিট্যান্স প্রবাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে পারে। এতে দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য আরও শক্তিশালী হবে এবং রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

  • ফ্যাসিস্ট আমলের  দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মসূচি থেকে বের হচ্ছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

    ফ্যাসিস্ট আমলের দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মসূচি থেকে বের হচ্ছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

    রোববার (১২ জুলাই) রাজধানীতে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। এ সময় নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে আইএমএফের ১২ সদস্যের একটি মিশন অর্থ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করছিল। চলতি সপ্তাহজুড়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করবে এ মিশন।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে হলে সব খাতেই পরিবর্তন আনতে হবে, সেই ধারাবাহিকতায় নতুন ভিসা নীতিও তৈরি করা হচ্ছে। একটি দেশের ভিসা নীতিই বলে দেয় দেশটি কতটা সহজগম্য, নাকি সেখানে ঢুকতে অনেক প্রতিকূল অবস্থা বিরাজ করছে। আধুনিক ভিসা নীতির দরকার আছে, সে কারণে রিভাইজ করা হচ্ছে। এর ফলে পর্যটন, বিনিয়োগ বাড়াতে ভিসা নীতির বড় ভূমিকা আছে।’

    আইএমএফের চলমান কর্মসূচি থেকে বের হওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আইএমএফের সাথে আওয়ামী লীগ আমলের প্রোগ্রাম দেশের স্বার্থবিরোধী ছিল, না হলে আমরা সেখান থেকে বের হলাম কেন! আগের প্রোগ্রামের অনেকগুলো শর্ত ছিল, যেগুলো একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে আমরা মনে করি দেশের জনগণের জন্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই আগের প্রোগ্রাম থেকে বেরিয়ে এসে আমরা নতুন প্রোগ্রামে যাচ্ছি।

    মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির জন্য, জনগণে স্বার্থে যে ধরনের প্রোগ্রাম প্রয়োজন সেটি নেওয়া হবে। কিস্তির টাকা নিয়ে আমাদের কোনো চিন্তা নেই, যে প্রোগ্রামে যাবো সেটিতে দেশের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে কিনা সেটিই চিন্তা। কিস্তির টাকার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রোগ্রামে যাব সেটি দেশ ও মানুষের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে কিনা সেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

  • ‘পেশাজীবী প্যাকেজ’ আনল টেলিটক

    ‘পেশাজীবী প্যাকেজ’ আনল টেলিটক

    টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী সম্প্রতি চাকরীজীবীদের জন্য বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন ‘পেশাজীবী প্যাকেজ’ উদ্বোধন করেছেন।

    এ বিশেষ প্যাকেজের আওতাভুক্ত থাকবেন শিক্ষক, প্রকৌশলী, ডাক্তার, সরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবী, সাংবাদিক, মিডিয়াকর্মী ছাড়াও আরো অনেকে। উক্ত প্যাকেজের সুবিধাভোগীরা কথা বলতে পারবেন মাত্র ৪৫ পয়সায়, ১০ সেকেন্ড পালস্ সুবিধা নিয়ে।

    এছাড়া গ্রাহকরা ৩০ দিন মেয়াদে বোনাস ডাটা ভলিউমসহ মাত্র ২০১ টাকায় ১৫ জিবি, ৩৬২ টাকায় ৩৫ জিবি এবং ৪৪৯ টাকায় ৬৫ জিবি পাবেন।

    প্যাকেজে আরো থাকছে আকর্ষণীয় বান্ডল অফারে। ৩০ দিন মেয়াদে থাকছে মাত্র ২৪৯ টাকায় ৩০০ মিনিট সঙ্গে ২০০ এসএমএস ও ৫ জিবি ডাটা, ৩৯৯ টাকায় ৫০০ মিনিট সঙ্গে ২৫০ এসএমএস ও ১০ জিবি ডাটা, ৫৯৯ টাকায় ৮০০ মিনিট সঙ্গে ৩০০ এসএমএস ও ৩০ জিবি ডাটা এবং ৬৯৯ টাকায় ১০০০ মিনিট সঙ্গে ১০০ এসএমএস ও ৫০ জিবি ডাটা।

    প্যাকেজটি গ্রহণ করতে হলে গ্রাহককে অবশ্যই আইডি কার্ড বা পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। টেলিটকের করপোরেট অনুবিভাগ এবং গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে পাওয়া যাবে প্যাকেজটি।

  • হরমুজ প্রণালিতে ‘সেবা ফি’ দিতে সম্মত ইউরোপ

    হরমুজ প্রণালিতে ‘সেবা ফি’ দিতে সম্মত ইউরোপ

    বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে টোল আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা। টোল বাধ্যতামূলক নাকি স্বেচ্ছাধীন হবে, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন কী বলে এবং প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এসব প্রশ্নে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, ওমানসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে। তবে ইউরোপের দেশগুলো ‘নেভিগেশন ফি’ অর্থাৎ জাহাজ চলাচলে পরিষেবার বিনিময়ে ‘ফি’ দেওয়ার একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে।

    ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে নির্দিষ্ট ‘ফি’ দিতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানকে অবিলম্বে এই প্রণালি উন্মুক্ত করে দিতে হবে। সেই সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে, এই পথে চলাচলকারী কোনো জাহাজে তারা হামলা চালাবে না। এদিকে ইউরোপ বলছে, টোল আরোপ হতে পারে, তবে তা বাধ্যতামূলক হবে না। অন্যদিকে ইরান একতরফাভাবে টোল আরোপ করুক, তা চায় না ওমান।

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এই প্রণালি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে আগ্রাসন শুরুর পর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তেহরান খুবই কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে সক্ষম হয়। কার্যত এখনো কৌশলগত এই বৈশ্বিক জলপথের নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতেই রয়ে গেছে।

    যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের লক্ষ্যে গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়। এর লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা এবং সব ধরনের সংঘাতের অবসান ঘটানো। চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও নৌ পরিষেবা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নির্ধারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে ইরান ও ওমানের আলোচনার কথা রয়েছে।

    কে কী বলছে

    হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ‘নেভিগেশন ফি’ আদায়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন কয়েকটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইউরোপের দেশগুলো। তবে তাদের শর্ত হলো হরমুজ প্রণালিতে এ ধরনের টোল কোনোভাবেই বাধ্যতামূলক হতে পারবে না। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘের সমুদ্র পরিবহনবিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) সমর্থন থাকতে হবে।

    যুক্তরাজ্যের উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি গতকাল শনিবার বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে টোল বাধ্যতামূলক করা হলে তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য বিপর্যয়কর হবে। তবে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য বলেছেন, মালাক্কা প্রণালি, ইংলিশ চ্যানেলসহ বিশ্বের অনেক প্রাকৃতিক জলপথে জাহাজ চলাচলে নির্দিষ্ট সেবার বিনিময়ে অর্থ আদায় করা হয়। এ ধরনের ব্যবস্থা আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত।

    প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু সেবা দেওয়া হলে তার জন্য স্বেচ্ছাধীন অর্থ আদায় ব্যবস্থার পক্ষে ওমান। এর মাধ্যমে ইরানও কিছু অর্থ পেতে পারে, তবে সেটি একতরফা বাধ্যতামূলক টোল হিসেবে নয়। ওমানের লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালিকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় রেখে পরিচালনা করা, যেখানে জাহাজ চলাচল অবাধ থাকবে। এ লক্ষ্যে তেহরানকে একটি প্রস্তাবও দিয়েছে তারা।

    যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, হরমুজ প্রণালি খোলা আছে বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিক ইরান। পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের অঙ্গীকার করতে হবে দেশটিকে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের নেতৃত্বের কাছে একটি বার্তা পাঠানোর কথাও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে তেহরানকে প্রকাশ্যে এই ঘোষণা দিতে বলা হয়েছে যে হরমুজ প্রণালি খোলা আছে এবং তারা আর বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালাবে না।

    হরমুজ প্রণালি কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে আলোচনা করতে শনিবার ওমান সফরে গেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, যুদ্ধ বন্ধে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে চলা আলোচনার অংশ এটি। ইরান বলছে, ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালি পরিচালনা করবে তারা। আর চলাচলকারী জাহাজগুলোকে দিতে হবে ‘সার্ভিস ফি’।

    ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের সমুদ্রবিষয়ক নিরাপত্তাবিশেষজ্ঞ জেনিফার পার্কার মনে করেন, হরমুজে চলাচলকারী জাহাজ থেকে কেবল ‘ফি’ আদায় নয়, বরং এর মাধ্যমে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখাই তেহরানের মূল লক্ষ্য। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে তিনি বলেন, কিছু ছাড় পেলে ইরান হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেবে—যুক্তরাষ্ট্রের এ ভাবনা থেকে সরে এসে বিষয়টি নতুন করে ভাবতে হবে। কোনো প্রতিশ্রুতি, অর্থনৈতিক ছাড়, এমনকি সামরিক অভিযান চালালেও হরমুজ প্রণালি নিয়ে তেহরানের অবস্থান বদলানো যাবে না।

  • আইএমএফের সঙ্গে আগের ঋণ কর্মসূচি ‘জনস্বার্থবিরোধী’: অর্থমন্ত্রী

    আইএমএফের সঙ্গে আগের ঋণ কর্মসূচি ‘জনস্বার্থবিরোধী’: অর্থমন্ত্রী

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আগের সরকারের নেওয়া ঋণ কর্মসূচিকে ‘সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী’ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করেই আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি করা হবে।

    আজ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ কথাগুলো বলেন অর্থমন্ত্রী। এ সময় নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে আইএমএফের ১২ সদস্যের একটি মিশন অর্থ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করছিল। চলতি সপ্তাহজুড়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করবে এ মিশন।

    দিনভর আজ মিশনটির আটটি নির্ধারিত বৈঠক ছিল। এর মধ্যে বেলা ১টায় একটি ছিল অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে। তবে জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের জানাজায় অংশ নিতে যাওয়ায় ওই বৈঠক বাতিল করা হয় বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

    আইএমএফের বাংলাদেশ মিশনপ্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে আজ দিনের প্রথম বৈঠকটি হয় অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে। এরপর অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদের কাছে নিজেদের নীতি পরিকল্পনা উপস্থাপন করে আইএমএফ মিশন।

    অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বের হওয়ার সময় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আরও বলেন, ‘আমাদের মূল চিন্তা টাকাপাওয়া নয়, দেশের স্বার্থ রক্ষা করা। দেশের মানুষের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে আইএমএফের সঙ্গে কোনো কর্মসূচিতে সরকার যাবে না।’

    আগের সরকারের নেওয়া আইএমএফের ঋণ কর্মসূচিকে ‘সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী’ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের এবং দেশের অর্থনীতির স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। জনগণের অর্থনৈতিক স্বার্থ নিশ্চিত করে আইএমএফের সঙ্গে এমন একটি নতুন কর্মসূচিতে আমরা যাচ্ছি। যে কর্মসূচিতেই যা–ই না কেন, সেখানে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ শতভাগ সংরক্ষিত থাকবে।’

    নতুন কর্মসূচির আওতায় সরকার তিন বছর মেয়াদে ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ পাওয়ার আশাবাদী। অর্থ পাওয়া গেলে তা সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ মোকাবিলায় ব্যবহার করবে বাংলাদেশ। ঋণের জন্য গত ৯ জুন আইএমএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এতে বলা হয়, আগের কর্মসূচি গ্রহণের সময়ের অর্থনৈতিক ও নীতিগত বাস্তবতা এখন আর নেই। দেশীয় রাজনৈতিক অর্থনীতি, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং নতুন চ্যালেঞ্জের কারণে কিছু সংস্কার বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে সরকার সংস্কার কর্মসূচি থেকে সরে আসতে চায় না, বরং দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করতে চায়।

    ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আইএমএফের কাছ থেকে ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণের চুক্তি করেছিল। ২০২৫ সালের জুনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই ঋণের আকার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়। অনুমোদিত ওই ঋণ কর্মসূচির আওতায় পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ মোট ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। তবে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থছাড় নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে উভয় পক্ষ মিলে কর্মসূচিই বাতিল করে দিয়েছে।

    নতুন ভিসা নীতির কাজ চলছে

    আজ অর্থমন্ত্রী নতুন ভিসা নীতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে বিদ্যমান ভিসা নীতি আধুনিক করা হবে। এটি নিয়ে কাজ চলছে। এতে বিদেশি পর্যটক, বিনিয়োগকারী ও দক্ষ জনশক্তির বাংলাদেশে আসা সহজ হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে।

    নতুন ভিসা নীতির ঘোষণা অবশ্য আসে ২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে। ওই বৈঠকে ২০০৬ সালের ভিসা নীতি সংশোধন করে নতুন নীতিমালার খসড়া উপস্থাপন করা হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ওই দিন জানিয়েছিলেন, খসড়াটি পরিমার্জনের জন্য অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    নতুন ভিসা নীতির লক্ষ্য হচ্ছে বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থান সহজ করা, বিদেশি বিনিয়োগ ও ব্যবসা উৎসাহিত করা, পর্যটন খাতের বিকাশ, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর নিশ্চিত করা, জাতীয় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং আধুনিক ও সেবামুখী অভিবাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা।

    আজ যেসব বিষয়ে আলোচনা

    আজকের বৈঠকগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সম্ভাব্য দ্বিতীয় সহনশীলতা ও টেকসই সুবিধা (আরএসএফ) কর্মসূচি। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ কর্মসূচির প্রস্তুতি, সম্ভাব্য কাঠামো ও শর্ত নিয়ে বেলা ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আগের সরকারের সময়ে নেওয়া প্রথম আরএসএফ কর্মসূচির আওতায় সংস্কার বাস্তবায়নের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়েছে।

    বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বৈঠকগুলোয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ও মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য, রাজস্ব আহরণের পরিকল্পনা, ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), বড় উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এবং অর্থায়নের উৎস নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

    এ ছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছর ও মধ্য মেয়াদে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো একীভূত করার পরিকল্পনা, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, নতুন নিয়োগ, জনবলকাঠামো এবং বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির সূত্র হচ্ছে আইএমএফের সঙ্গে আলোচ্য বিষয়।

  • ২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ এফডিআই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের : আঙ্কটাড

    ২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ এফডিআই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের : আঙ্কটাড

    ২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবৃদ্ধিতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এ সময় দেশে এফডিআই প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়ে ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলারে (১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন) পৌঁছেছে।

    জাতিসঙ্ঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬’-এ এ তথ্য উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে এফডিআই প্রবাহ ছিল ১২৩ কোটি মার্কিন ডলার (১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন), যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলারে (১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন)। বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জপূর্ণ থাকা সত্ত্বেও এ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন।

    প্রতিবেদনটি এমন এক সময় প্রকাশিত হয়েছে, যখন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্য অনিশ্চয়তা এবং উচ্চ অর্থ ব্যয়ের কারণে বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রবাহ অসম অবস্থায় রয়েছে।

    এ প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের শক্তিশালী এফডিআই প্রবৃদ্ধি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    যদিও মোট স্থায়ী মূলধন গঠনে এফডিআইয়ের অংশ তুলনামূলকভাবে কম, তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির মডেলের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে দেশীয় বিনিয়োগ এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

    আঙ্কটাড জানিয়েছে, উন্নয়নশীল অঞ্চলগুলোর মধ্যে ২০২৫ সালেও উন্নয়নশীল এশিয়া বিশ্বের প্রধান বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। এ অঞ্চলে এ সময় মোট ৬৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এফডিআই এসেছে।

    বাংলাদেশের এ সাফল্য এশিয়ার অর্থনীতিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক আগ্রহের বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রবণতারই প্রতিফলন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা দুই বছর পতনের পর ২০২৫ সালে বৈশ্বিক এফডিআই ৬ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

    এ পুনরুদ্ধারের পেছনে ডিজিটাল অবকাঠামো, উৎপাদন শিল্প, জ্বালানি রূপান্তর প্রযুক্তি এবং অন্যান্য কৌশলগত খাতে বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদনশিল্প, সেবা, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আরো ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার, প্রতিযোগিতামূলক কর্মশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার ভবিষ্যতে এফডিআই প্রবৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে।

    অর্ধ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি জিডিপি, শিল্পায়ন ও সংযোগ ব্যবস্থায় ধারাবাহিক অগ্রগতির ফলে বাংলাদেশ ক্রমেই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পাচ্ছে।

  • ব্যাংকিংয়ের ১৪ সেবায় নতুন ফি আদায়ের প্রস্তাব

    ব্যাংকিংয়ের ১৪ সেবায় নতুন ফি আদায়ের প্রস্তাব

    দেশের ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে ১৪টি নতুন খাতে ফি বা চার্জ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। বর্তমানে যেসব সেবা বিনামূল্যে দেওয়া হয় বা কোনো ধরনের চার্জ নেই, সেসব সেবাতেও ফি আরোপ করতে চায় ব্যাংকগুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। একই সঙ্গে বিভিন্ন সেবায় বিদ্যমান চার্জও বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এবিবি এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন হলে আমানতকারী, ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও ঋণগ্রহীতাদের ব্যাংকিং ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাবে।

    এবিবির প্রস্তাবে দেখা গেছে, বর্তমানে ১৪টি সেবায় কোনো ধরনের চার্জ নেই, সেসব সেবায় নতুন করে ফি আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ, ঋণ প্রক্রিয়াকরণ, ঋণপত্র (এলসি), ব্যাংক গ্যারান্টি, ডিমান্ড ড্রাফট, পে-অর্ডার, সলভেন্সি সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন সেবার বিদ্যমান চার্জও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

    ১৪ খাতে চার্জ আরোপের প্রস্তাব

    প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে নিষ্ক্রিয় (ডরম্যান্ট) ব্যাংক হিসাব পুনরায় চালু করতে কোনো ফি নেওয়া হয় না। এ সেবার জন্য ৫০০ টাকা ফি নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে এবিবি। চলমান ঋণের ক্ষেত্রে প্রতি বছর বকেয়া ঋণের সর্বোচ্চ ১ শতাংশ, তবে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ ব্যবস্থাপনা বা মনিটরিং ফি নেওয়ার সুযোগ চাওয়া হয়েছে। আমদানিকারকদের জন্য বায়ার্স ক্রেডিটের ব্যবস্থা করে দেওয়ার বিপরীতে ১ শতাংশ ফি, বড় করপোরেট ঋণ ও ট্রেড ফাইন্যান্সে ডিল স্ট্রাকচারিং ফি হিসেবে ১ শতাংশ এবং ঋণের সুদের বাইরে অতিরিক্ত ঝুঁকি প্রিমিয়াম বাবদ আরো ১ শতাংশ ফি নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি নগদ বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রির ক্ষেত্রে ২ শতাংশ কমিশন আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।

    বর্তমানে ব্যাংক কাউন্টার থেকে যতবার ইচ্ছা নগদ অর্থ উত্তোলনে কোনো চার্জ নেই। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, মাসে তিনবার পর্যন্ত উত্তোলন বিনামূল্যে করা যাবে। চতুর্থ থেকে দশমবার পর্যন্ত প্রতিবার ১০০ টাকা এবং দশমবারের বেশি উত্তোলনে প্রতিবার ৩০০ টাকা ফি প্রস্তাব করা হয়। ব্যবসায়িক হিসাব থেকেও বর্তমানে নগদ উত্তোলনে কোনো সীমা বা চার্জ নেই। এবিবির প্রস্তাব অনুযায়ী, মাসে ২০ বার পর্যন্ত উত্তোলন বিনামূল্যে করা যাবে। ২১ থেকে ৫০ বার পর্যন্ত প্রতিবার ১০০ টাকা এবং ৫০ বারের বেশি উত্তোলনে প্রতিবার ১৫০ টাকা ফি প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে ব্যবসায়ীদের লেনদেন ব্যয় বাড়বে।

    এছাড়া ঋণপত্র (এলসি) খোলার আবেদন গ্রহণে ১০০ টাকা, বিদেশি ঋণপত্রের নথি প্রক্রিয়াকরণে সর্বোচ্চ ২০ মার্কিন ডলার এবং স্থানীয় ঋণপত্রে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা চার্জ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। নথি অনুমোদন বা সত্যায়নের জন্য সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা এবং সক্রিয় ঋণপত্র বাতিল করতে ৫০০ টাকা ফি নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে বছরে একটি ও ছয় মাসে একটি ব্যালেন্স কনফারমেশন সার্টিফিকেট বিনামূল্যে দেওয়া হয়। নতুন প্রস্তাবে এ সেবার জন্য ৩০০ টাকা ফি নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে ডিমান্ড লোন ও কন্টিনিউয়াস লোন মেয়াদপূর্তির আগেই পরিশোধ করলে কোনো চার্জ দিতে হয় না। এবিবি এ ক্ষেত্রে অবশিষ্ট ঋণের ১ শতাংশ হারে আগাম নিষ্পত্তি ফি আরোপের প্রস্তাব করেছে।

    এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোনো গ্রাহকের অনুকূলে ফাইল অনুমোদনের ক্ষেত্রে খরচ আদায়ের সুযোগও চাওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, রিটেইল গ্রাহকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ দেড় হাজার টাকা এবং করপোরেট গ্রাহকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চার্জ নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

    যেসব খাতে বিদ্যমান চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব

    নতুন চার্জ আরোপের পাশাপাশি বর্তমানে যেসব সেবায় ফি রয়েছে, সেগুলোর হারও বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে এবিবি। বর্তমানে সঞ্চয়ী হিসাবে গড় স্থিতি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে কোনো হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ফি দিতে হয় না। এবিবি এ সীমা কমিয়ে ৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করেছে। একই সঙ্গে ৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত গড় স্থিতির ক্ষেত্রে মাসে ১৫০ টাকা এবং ২৫ হাজার টাকার বেশি হলে ৩০০ টাকা ফি নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

    ঋণ খাতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঋণ প্রক্রিয়াকরণ ফি সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ। তা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। একইভাবে ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের ফি বর্তমান শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে সিএমএসএমই ও কৃষি ঋণকে এ সীমার বাইরে রাখার সুপারিশ রয়েছে। ঋণ আগাম পরিশোধের ক্ষেত্রেও চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে অবশিষ্ট ঋণের শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ হারে চার্জ নেওয়া হলেও তা বাড়িয়ে ২ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

    এছাড়া ঋণপত্র (এলসি) সংশোধন ফি সর্বোচ্চ ৭৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা, ব্যাংক গ্যারান্টি কমিশনের সর্বোচ্চ হার শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং ন্যূনতম কমিশন ১ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তাছাড়া সলভেন্সি সার্টিফিকেটের ফি ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা, চেক রিটার্ন ফি ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা, স্টপ পেমেন্ট ফি ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা এবং পে-অর্ডার ইস্যু ফি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। ব্যালেন্স কনফারমেশন সার্টিফিকেটের জন্যও ৩০০ টাকা ফি নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    যা বলছে এবিবি

    বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো চিঠিতে এবিবি বলেছে, ব্যাংকিং সেবার পরিধি বৃদ্ধি, পরিচালন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি, প্রযুক্তিনির্ভর সেবার সম্প্রসারণ এবং গ্রাহকসেবা বজায় রাখার ক্রমবর্ধমান ব্যয় বিবেচনায় বর্তমান চার্জ কাঠামো পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। তাই প্রস্তাবিত ‘শিডিউল অব চার্জেস’ দেশের সব ব্যাংকের জন্য সর্বোচ্চ চার্জসীমা হিসেবে অনুমোদনের অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয়, প্রযুক্তি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি বছর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সমন্বয়ের সুযোগ রাখার প্রস্তাবও দিয়েছে এবিবি।

  • সরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৮৮ হাজার কোটি

    সরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৮৮ হাজার কোটি

    রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। খেলাপি ঋণ কমিয়ে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার।

    রবিবার (১২ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৩তম কার্যদিবসে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।

    স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত ৩১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডাটাবেইজে রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি ব্যাংকের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব প্রস্তুত করা হয়েছে।

    ব্যাংকগুলো হলো—অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, জনতা ব্যাংক পিএলসি, রূপালী ব্যাংক পিএলসি, সোনালী ব্যাংক পিএলসি, বেসিক ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে খেলাপি ঋণের উচ্চ হার কমানো জরুরি। এ লক্ষ্য বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

    তিনি জানান, স্বল্পমেয়াদে খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকগুলোর জন্য শ্রেণিকৃত ঋণ রেজল্যুশন স্ট্র্যাটেজি সংক্রান্ত গাইডলাইন প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন হালনাগাদের কাজ চলছে।

    মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ব্যাংকিং খাতে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড (আইএফআরএস-৯) বাস্তবায়ন, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণের জামানত মূল্যায়ন, কৃষিঋণ পুনঃতফসিল নীতিমালা হালনাগাদ, খেলাপি ঋণ আদায়ে কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা এবং নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারীদের জন্য বিদ্যমান প্রণোদনা নীতিমালা উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একজন ঋণগ্রহীতার জন্য পুরো ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, অর্থঋণ আদালতের বিচারক প্যানেলে অভিজ্ঞ ব্যাংকার অন্তর্ভুক্তি, রিটের মাধ্যমে ঋণ আদায় কার্যক্রম দীর্ঘসূত্রতা ঠেকানো এবং বেসরকারি খাতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠনে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

    অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকগুলোর কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সংশোধনী আইন প্রণয়ন এবং নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট আইন সংশোধনের মাধ্যমে চেক জালিয়াতি ও চেক ডিজঅনার মামলার বিচার আরও কার্যকর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    তার ভাষ্য, শক্তিশালী আইনি কাঠামো, স্বচ্ছ রেজল্যুশন প্রক্রিয়া এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার মাধ্যমে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।

  • ঢাকায় আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রদর্শনী শুরু ৩ সেপ্টেম্বর

    ঢাকায় আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রদর্শনী শুরু ৩ সেপ্টেম্বর

    দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রাভেল ট্রেড মার্কেটপ্লেস বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্টের (বিটিএম) আয়োজন হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (বোটোয়া) উদ্যোগে ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় এই ট্রাভেল মার্ট অনুষ্ঠিত হবে।

    এতে বাংলাদেশসহ ২০টি দেশের ১৩০টির বেশি প্রদর্শক, শতাধিক পর্যটন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় ১৫ হাজার দর্শনার্থীর অংশগ্রহণের আশা করছেন আয়োজকরা।

    শনিবার (১১ জুলাই) হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বোটোয়ার সভাপতি সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বর্তমানে সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে প্রবেশ করেছে। সরকারের নীতিগত সহায়তা, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

    সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ জানান, দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য ও আন্তরিক আতিথেয়তা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশকে ক্রমেই আরো আকর্ষণীয় করে তুলছে। এই সম্ভাবনাকে বৈশ্বিক পর্যায়ে আরো সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপন এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন শিল্পের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ জোরদার করার লক্ষ্যে বোটোয়া প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট আয়োজন করছে। ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের এ আয়োজন দেশের পর্যটন, ভ্রমণ ও এভিয়েশন শিল্পের বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

    বোটোয়ার সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ বলেন, সংগঠনটি মূলত দেশের আউটবাউন্ড পর্যটন শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করলেও একই সঙ্গে ইনবাউন্ড পর্যটনের সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণ, পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক ব্র্যান্ডিংয়ে কাজ করছে।

    ট্রাভেল মার্টের চিফ কো-অর্ডিনেটর মহসিন ইকবাল জানান, বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট-২০২৬ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটন বোর্ড, এয়ারলাইন্স, হোটেল, ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (ডিএমসি), ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতা-বিক্রেতাদের এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসবে, যা বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে আরো কার্যকরভাবে যুক্ত করবে।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্টে প্রথমবারের মতো বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) এবং বিজনেস-টু-কনজ্যুমার (বিটুসি) কার্যক্রম পৃথক দুটি প্রদর্শনী হলে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দেশের ট্রাভেল ফেয়ারের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক হোস্টেড বায়ার প্রোগ্রাম আয়োজন করা হবে, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও প্রদর্শকদের মধ্যে নির্ধারিত ব্যবসায়িক বৈঠকের ব্যবস্থা থাকবে।

    আয়োজকদের মতে, বিটুবি কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক বায়ার-সেলার মিটিং, বিজনেস নেটওয়ার্কিং ও অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হবে। এর মাধ্যমে পর্যটন, হসপিটালিটি ও এভিয়েশন খাতে নতুন বিনিয়োগ, বাজার সম্প্রসারণ, সীমান্ত-অতিক্রমী পর্যটন সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হবে।

    অন্যদিকে, বিটুসি প্ল্যাটফর্মে দর্শনার্থীরা দেশি-বিদেশি ভ্রমণ প্যাকেজ, বিমান টিকিট, হোটেল বুকিং, ভিসা সেবা, বিভিন্ন গন্তব্য-সংক্রান্ত তথ্য ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের বিশেষ ভ্রমণ অফার সম্পর্কে সরাসরি জানতে ও সেবা নিতে পারবেন।

    সংবাদ সম্মেলনে বোটোয়ার সিনিয়র সহসভাপতি মো. মহসিন ইকবাল, সহসভাপতি এ কে এম কামরুজ্জামানসহ সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর সরকার

    আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর সরকার

    অনিয়ম-দুর্নীতি, অপচয় ও দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থাপনার লাগাম টানতে কঠোর সরকার। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ব্যয় এবং কেনাকাটায় যাচাইবাছাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উন্নয়ন-অনুন্নয়ন ব্যয় এবং কেনাকাটা তদারকি করতে বলা হয়েছে। গুরুতর অভিযোগ পেলে প্রকল্প পরিচালকদের তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিউরম্যান্ট অ্যাক্ট কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অর্থবিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। নীতিনির্ধারকদের মতে, শুধু ব্যয় কমানো নয়-দুর্নীতির সুযোগ সংকুচিত করা, অপচয় বন্ধ করা এবং আর্থিক খাতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। দুর্নীতি ও অপচয় রোধ করলে মূল্যস্ফীতির চাপ কমবে বলে মনে করে সরকার।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অতীতে প্রকৃত প্রয়োজন যাচাই ছাড়াই ব্যয় অনুমোদন, অতিমূল্যে পণ্য ও সেবা ক্রয়, প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় প্রতিটি ব্যয়ের আগে প্রয়োজনীয়তা, ব্যয়ের যৌক্তিকতা, বাজারদর, বিকল্প ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য ফলাফল মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বড় অঙ্কের ব্যয়ে একাধিক স্তরে পর্যালোচনা ও অনুমোদনের ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করলে দুর্নীতির বড় ক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ জন্য দরপত্র মূল্যায়ন, সরবরাহকারীর সক্ষমতা যাচাই, বাজারমূল্য বিশ্লেষণ এবং নির্ধারিত আর্থিক বিধি অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, আর্থিক তদারকি এবং ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কৃচ্ছ্রসাধনের চেয়ে বড় বিষয় আর্থিক খাতের শাসনব্যবস্থা বা আর্থিক খাতের সুশাসন শক্তিশালী করা। অর্থনীতিবিদ ড. জাহির হোসেন বলেন, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, জবাবদিহি এবং কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করলে সরকারি অর্থের অপচয় কমবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা বাড়বে এবং জনসাধারণের করের অর্থ আরও সঠিকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। আর্থিক খাতের সংস্কার তখনই সফল হবে, যখন একই নিয়ম সব প্রতিষ্ঠানে সমানভাবে কার্যকর হবে এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী করতে শুধু রাজস্ব বাড়ালেই হবে না; ব্যয় ব্যবস্থাপনাও শৃঙ্খলায় আনতে হবে। সেই লক্ষ্যেই সরকারি অর্থ ব্যবহারের প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, দুর্নীতির সুযোগ সীমিত করা এবং দক্ষ আর্থিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    অর্থবিভাগ মনে কওে এ উদ্যোগ কেবল সাময়িক কৃচ্ছ্রসাধন কর্মসূচি হয়ে থাকবে না; বরং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় নতুন সংস্কৃতির সূচনা করবে। প্রতিটি ব্যয় হবে প্রয়োজনভিত্তিক। প্রতিটি কেনাকাটা হবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। প্রতিটি সিদ্ধান্ত হবে জনগণের অর্থের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। এতে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সরকারের সংস্কার কর্মসূচিও গতিশীল হবে। গত ৮ জুলাই অর্থ বিভাগের জারি করা পরিপত্রে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য একাধিক কৃচ্ছ্রসাধনমূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সীমিত করার পাশাপাশি সরকারি ক্রয় ও উন্নয়ন ব্যয়ে আরও কঠোর আর্থিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

    নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনা আপাতত স্থগিত থাকবে। সরকারি অর্থায়নে বিদেশ সফর সীমিত করা হয়েছে। পরিচালন বাজেট থেকে নতুন ভবন নির্মাণও বন্ধ রাখা হয়েছে। যেসব প্রকল্পের কাজ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, সেগুলো বিশেষ অনুমোদনের ভিত্তিতে সম্পন্ন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য-এসব সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য উন্নয়ন থামিয়ে দেওয়া নয়; বরং অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা।