অর্থ ও বাণিজ্য

  • হাসিনা  ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ

    হাসিনা ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ

    গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর পরিবার এবং ১০টি শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীর দেশে-বিদেশে থাকা মোট ৭৬ হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ আদালতের আদেশের মাধ্যমে অবরুদ্ধ বা জব্দ করা হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    অনুষ্ঠানে তিনি জানান, জব্দ করা সম্পদের মধ্যে দেশে থাকা প্রায় ৫৭ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশে থাকা প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।

    চুরি হয়ে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে বিএফআইইউ প্রধান বলেন, বছরের শেষ নাগাদ সম্পদ উদ্ধারের বিষয়ে সুখবর দিতে পারব বলে আশা করছি।

    তিনি আরও বলেন, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয় না।

    ‘আমরা দল-মতের দিকে তাকাই না। সন্দেহজনক কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের কেউ জড়িত থাকলেও সেটিও তদন্তে উঠে আসবে,’ বলেন তিনি।

    বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে অর্থপাচার প্রতিরোধ, সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তকরণ এবং বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে বিএফআইইউর চলমান কার্যক্রম ও অগ্রগতির বিভিন্ন দিকও তুলে ধরা হয়।

  • ইসলামী ব্যাংক গাজীপুর  শাখার গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    ইসলামী ব্যাংক গাজীপুর শাখার গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, গাজীপুর সদর শাখার উদ্যোগে গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা, ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করা এবং গ্রাহকদের মতামত গ্রহণের লক্ষ্যে এক গ্রাহক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার (১৫ জুলাই) গাজীপুর সদর শাখা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শাখার ব্যবস্থাপক ও শাখা প্রধান মামুনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং শাখা অপারেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র ঢাকা ইস্ট জোন প্রধান ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ সোলাইমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা ইস্ট জোনের এফএভিপি হুমায়ূন কবীর এবং ইসলামী ব্যাংক গাজীপুর চৌরাস্তা শাখার ব্যবস্থাপক ও শাখা প্রধান মোসলেহ উদ্দিন।

    গ্রাহকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মো. ছাদেকুজ্জামান খান, আব্দুল খালেক সরকার, গেলমান হোসেন, আব্দুস সালাম, কণিকা দাসসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গ্রাহক।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, গ্রাহকরাই ইসলামী ব্যাংকের সবচেয়ে বড় শক্তি ও আস্থার জায়গা। তাদের বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং সহযোগিতার কারণেই নানা প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ইসলামী ব্যাংক আজও দেশের ব্যাংকিং খাতে একটি শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে।

    তিনি বলেন, বিশ্বের এক হাজার শীর্ষ ব্যাংকের তালিকায় স্থান পাওয়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা, শিল্পায়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং হালাল বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের তৈরি পোশাক শিল্প, বিভিন্ন উৎপাদনমুখী খাত এবং বৈধ বিনিয়োগে ইসলামী ব্যাংকের অবদান উল্লেখযোগ্য। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স আহরণেও ব্যাংকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অতীতে কিছু সংকটের সময় অনেক প্রবাসী গ্রাহক সাময়িকভাবে রেমিট্যান্স পাঠানো কমিয়ে দিলেও বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে তারা আবারও ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানো শুরু করেছেন, যা ব্যাংকের প্রতি আস্থারই বহিঃপ্রকাশ।

    ড. মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে অতীতেও নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে, তবে গ্রাহকদের অকুণ্ঠ সমর্থন ও ভালোবাসার কারণে কোনো অপচেষ্টাই সফল হয়নি। ভবিষ্যতেও গ্রাহকদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই ইসলামী ব্যাংকের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে পারবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তিনি গ্রাহকদের উদ্দেশে আরও ঘোষণা দেন, সম্প্রতি যারা বিভিন্ন কারণে তাদের আমানত উত্তোলন করেছেন, তারা যদি আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পুনরায় সেই অর্থ ইসলামী ব্যাংকে জমা রাখেন, তাহলে ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী তাদের পূর্ণ মুনাফা (প্রফিট) প্রদান করা হবে।

    অনুষ্ঠানে গ্রাহকরা ব্যাংকের বিভিন্ন সেবা, বিনিয়োগ, আমানত, ডিজিটাল ব্যাংকিং এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গ্রাহকদের প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর দেন এবং ভবিষ্যতেও উন্নত, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

    সভাপতির বক্তব্যে শাখা প্রধান মামুনুল ইসলাম বলেন, গ্রাহকদের আস্থা ও সন্তুষ্টিই ইসলামী ব্যাংকের মূল শক্তি। গ্রাহকদের প্রত্যাশা পূরণে আধুনিক, নিরাপদ ও শরিয়াহসম্মত ব্যাংকিং সেবা প্রদানে গাজীপুর সদর শাখা সর্বদা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবে।

    অনুষ্ঠান শেষে ব্যাংকের অগ্রযাত্রায় গ্রাহকদের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

  • বিশ্ববাজারে দাম কমেছে অ্যালুমিনিয়ামের

    বিশ্ববাজারে দাম কমেছে অ্যালুমিনিয়ামের

    আন্তর্জাতিক বাজারে অ্যালুমিনিয়ামের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)-এর একটি বড় পরিশোধনাগার পুনরায় চালু হওয়ার খবরে এ দরপতন হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এমিরেটস গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়াম (ইজিএ) জানিয়েছে, সাড়ে তিন মাস বন্ধ থাকার পর অ্যালুমিনা রিফাইনারিটি আবার উৎপাদনে ফিরেছে। এ ঘটনাকে উপসাগরীয় অঞ্চলে ধাতুটির উৎপাদন আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসার একটি বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

    লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) তিন মাস মেয়াদি অ্যালুমিনিয়ামের বাজার আদর্শ মূল্য ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি টন ৩ হাজার ১৪৩ ডলার ৫০ সেন্টে নেমে এসেছে। গত সপ্তাহের শেষ লেনদেনের শুরুর দিকে ধাতুটির দাম প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছিল। তবে এ বড় পতনের পরও সপ্তাহের ব্যবধানে অ্যালুমিনিয়ামের সামগ্রিক দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। এর মাধ্যমে টানা পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলতে থাকা দরপতনের অবসান ঘটল। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমে আসা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার আশায় দাম কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।

    বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে দাম বাড়ার সুযোগে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ধাতু বিক্রি করে দিতে বেশি আগ্রহী ছিলেন। কারণ তারা ধারণা করেছেন, বিশ্ববাজারে অ্যালুমিনিয়ামের সরবরাহ আগামীতে আরো বাড়বে। মধ্যপ্রাচ্যে উৎপাদন শুরু হওয়ার পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার নতুন পরিশোধনাগারগুলো থেকেও উৎপাদন ও সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ দেশের একটি নতুন শোধনাগার গত মাস থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে অ্যালুমিনিয়াম রফতানি শুরু করেছে।

    ইজিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আল তাউইলাহ পরিশোধনাগারের উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ শতাংশে উন্নীত হবে। অ্যালুমিনিয়াম তৈরির মূল কাঁচামাল হলো এ অ্যালুমিনা। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ পরিশোধনাগারের উৎপাদন পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক বাজারে এ পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে এখনো বড় ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পণ্য পরিবহনের বিষয়টি এখনো বেশ অনিশ্চিত।

    এদিকে লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জের নিবন্ধিত গুদামগুলোয় অ্যালুমিনিয়ামের মজুদ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের পর এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। মজুদের এ ঘাটতি বিশ্ববাজারে বর্তমানে ধাতুটির তাৎক্ষণিক সরবরাহ সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    অন্য শিল্প ধাতুর বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। তামার দাম দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ১৩ হাজার ৪৯৫ ডলার ৫০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে, যা সপ্তাহ শেষে ১ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি নিশ্চিত করেছে। একই সময় সাংহাই ফিউচার এক্সচেঞ্জে তামার মজুদ ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ কমে গত ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এর বাইরে সিসার দাম দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৯৬ ডলার এবং নিকেলের দাম দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১৬ হাজার ৭৩৫ ডলারে পৌঁছেছে। প্রধান উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়ায় সালফারের ঘাটতির কারণে নিকেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। অন্যদিকে টিনের দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৫৩ হাজার ৪০৫ ডলার এবং দস্তার দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৬১৪ ডলার ৫০ সেন্টে নেমেছে।

  • মাসে তিনবারের বেশি কাউন্টার থেকে টাকা তুললেই অতিরিক্ত ফি?

    মাসে তিনবারের বেশি কাউন্টার থেকে টাকা তুললেই অতিরিক্ত ফি?

    দেশের ব্যাংকিং খাতে গ্রাহকদের সেবা মাশুলে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনও গ্রাহক মাসে তিনবারের বেশি ব্যাংকের কাউন্টার থেকে নগদ টাকা উত্তোলন করলে তাকে অতিরিক্ত ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত ফি দিতে হতে পারে। পাশাপাশি আরও ১৪ ধরনের ব্যাংকিং সেবায় নতুন ফি আরোপ বা বিদ্যমান মাশুল বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

    তবে এই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, গ্রাহকদের ওপর অযৌক্তিক আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়— এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্য, যেকোনও প্রস্তাব অনুমোদনের আগে এর প্রভাব গভীরভাবে বিবেচনা করা হবে।

    এবিবির প্রস্তাব অনুযায়ী— মাসে তিনবারের বেশি কাউন্টার থেকে নগদ অর্থ উত্তোলনে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত ফি; দীর্ঘদিন অচল থাকা ব্যাংক হিসাব পুনরায় সচল করতে ৫০০ টাকা ফি; ঋণ প্রক্রিয়াকরণ (লোন প্রসেসিং) ফি কয়েক গুণ বাড়ানোর প্রস্তাব; বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবায় নতুন ফি সংযোজন এবং বিদ্যমান চার্জ বৃদ্ধি।

    ব্যাংকারদের দাবি, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে শাখাভিত্তিক সেবার ওপর চাপ কমবে এবং গ্রাহকরা ডিজিটাল ব্যাংকিং, এটিএম ও বিকল্প চ্যানেল ব্যবহারে আরও উৎসাহিত হবেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থান

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, “গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত ফি বা চার্জ আরোপ করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাংকিং সেবার প্রতি অনীহা তৈরি হতে পারে। তাই এই ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব দিক বিবেচনা করবে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে সেবা মাশুলের ওপর নির্ভর না করে ঋণ বিতরণ ও অন্যান্য স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে আয় বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    গ্রাহকদের উদ্বেগ

    প্রস্তাবটি সামনে আসার পর সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকিং সেবার খরচও বাড়ানো হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ছোট আমানতকারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যেসব গ্রাহক এখনও ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে পুরোপুরি অভ্যস্ত নন।

    বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও অনেক শহরতলিতে কাউন্টার থেকেই অধিকাংশ মানুষ নিয়মিত লেনদেন করেন। তাদের জন্য অতিরিক্ত ফি নতুন আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে উৎসাহ নাকি বাড়তি চাপ?

    অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং বিশ্লেষকদের মতে, কাউন্টারে লেনদেন নিরুৎসাহিত করে ডিজিটাল ব্যাংকিং সম্প্রসারণের লক্ষ্য ইতিবাচক হলেও, বিকল্প সেবাগুলো সবার জন্য সহজলভ্য, নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ না হলে শুধু ফি বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে।

    তাদের মতে, এটিএম বুথের সংখ্যা বৃদ্ধি, মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের নিরাপত্তা জোরদার এবং গ্রাহকদের ডিজিটাল সেবায় অভ্যস্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার পরই এ ধরনের নীতি কার্যকর করা উচিত। অন্যথায় এটি ব্যাংকিং সেবার ব্যয় বাড়িয়ে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।

    সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি

    এবিবির প্রস্তাবটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া নতুন কোনও ফি বা চার্জ কার্যকর হবে না। তাই গ্রাহকদের আপাতত অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের প্রয়োজন নেই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানাবে।

  • পূর্বের মালিকদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলো আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক

    পূর্বের মালিকদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলো আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক

    আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পূর্বের মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে ১৪ জন উদ্যোক্তা পরিচালক যুক্ত করা হয়েছে।

    বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা পাঁচজন স্বতন্ত্র পরিচালক পর্ষদে বহাল থাকবেন।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতি হওয়ার কারণে আগের উদ্যোক্তাদের কাছে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য যেসব ব্যাংকের বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে, তাদের উদ্যোক্তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু এ ব্যাংকের ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। তাই তাদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    ১৪ জন উদ্যোক্তা পরিচালক হলেন- বদিউর রহমান, সেলিম রহমান, আহামেদুল হক, রফিকুল ইসলাম, ইমাদুর রহমান, নাজমুল আহসান খালেদ, খলিলুর রহমান, আনোয়ার হোসাইন, আবদুস সালাম, লিয়াকত আলী চৌধুরী, এনায়েত উল্লা, কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি পরিচালক মাহবুব আহমেদ, কেডিএস টেক্সটাইলের পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং কে, ওয়াই স্টীল মিলের পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক শরিফ উদ্দিন তসলিম।

  • বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার শর্ত শিথিল

    বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার শর্ত শিথিল

    সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার শর্ত শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে এসব প্রতিষ্ঠান তাদের মূল কোম্পানি (প্যারেন্ট কোম্পানি), সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে বিদেশি ঋণ নিতে পারবে।

    বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড), অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইজেড) ও হাইটেক পার্কসহ বিশেষায়িত অঞ্চল এবং এসব অঞ্চলের বাইরে পরিচালিত উৎপাদন ও সেবাখাতের সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ নিতে পারবে।

    শর্ত অনুযায়ী, এক বছরের কম মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে বিশেষায়িত অঞ্চলের বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই চলতি মূলধনের জন্য সুদমুক্ত ঋণ নিতে পারবে। এছাড়া কাঁচামাল সংগ্রহসহ ব্যবসায়িক প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ বার্ষিক অল-ইন-কস্টে সুদযুক্ত ঋণও নেওয়া যাবে। এসব ঋণ মেয়াদ শেষে এককালীন পরিশোধ করতে হবে এবং সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত রোলওভার করা যাবে।

    এছাড়া এক থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে মূলধনী ব্যয়, যেমন- যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম ও নির্মাণকাজের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ এবং সর্বোচ্চ ৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সুদযুক্ত ঋণ নিতে পারবে। পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদি ঋণও নেওয়া যাবে, সেখানে সুদ প্রযোজ্য হলে তার বার্ষিক হার হবে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ। তাছাড়া বকেয়া বৈদেশিক ঋণ ইকুইটিতে রূপান্তরের সুযোগও রাখা হয়েছে।

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলেন, নতুন এ উদ্যোগ বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য স্বল্প ব্যয়ে বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত করবে এবং বাংলাদেশে আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে।

  • উত্তরাঞ্চলের ২ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের ২২৬ কোটি টাকা ঋণ মওকুফ

    উত্তরাঞ্চলের ২ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের ২২৬ কোটি টাকা ঋণ মওকুফ

    বিএনপি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী উত্তরাঞ্চলের ২ লাখ ২৯ হাজার ৯৩৩ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ঋণের সুদ ও আসল মওকুফ করা হয়েছে।

    বুধবার (১৫ জুলাই) রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) জনসংযোগ কর্মকর্তা ইফতেখার জাহিদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

    দেশের প্রথম বিশেষায়িত ব্যাংক হিসেবে রাকাব সরকার গঠনের ছয় মাসের এই ঋণ মওকুফ করল। এই বিপুল সংখ্যক কৃষকের কাছে আসল ও সুদ বাবদ পাওনা ছিল ২২৫ কোটি ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। মন্দ ঋণ হিসেবে এসব ঋণ অনেকদিন ধরে পরিশোধ করতে পারছিলেন না কৃষকরা।

    ঘোষণা অনুযায়ী, এসব কৃষকের ১০ হাজার টাকা আসল এবং বকেয়া সুদ মওকুফ করেছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)। ঘোষণা অনুযায়ী ১০ হাজার টাকার বেশি ঋণ এ কর্মসূচির আওতায় আসেনি।

    রাকাবের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইফতেখার জাহিদ জানান, উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের আট জেলার ১ লাখ ৭৯ হাজার ২৭৮ জন প্রান্তিক কৃষকের ১৭৮ কোটি ৯২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা এবং রাজশাহী বিভাগের আট জেলার ৫০ হাজার ৬৩৭ জন কৃষকের ৪৬ কোটি ৮১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ঋণ মওকুফ হয়েছে।

    উত্তরাঞ্চলের এই দুই বিভাগের ২ লাখ ২৯ হাজার ৯৩৩ জন কৃষকের বকেয়া বাবদ ২২৫ কোটি ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা সম্প্রতি সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে রাকাবকে পরিশোধ করা হয়েছে। এরপরই রাকাব ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক এসব কৃষকের ঋণের আসল ১০ হাজার টাকা ও ঋণের সমুদয় সুদ মওকুফ করেছে।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিনের ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হওয়ায় উপকৃত কৃষকরা কৃষিকাজে নতুন করে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের আর্থিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং উত্তরাঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন।

    এদিকে ঋণগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বকেয়া ঋণ ও সুদ মওকুফ করায় রাকাবের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কৃষকদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে রাকাব নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুততম সময়ে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। ভবিষ্যতেও কৃষিবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাকাব কৃষকদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

    জানা গেছে, রাকাব ছাড়াও অন্যান্য রাষ্ট্রায়াত্ত্ব বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলি ঋণগ্রস্ত কৃষকদের বকেয়া ঋণ ও সুদ মওকুফ প্রক্রিয়া শুরু করবেন।

  • দেশে আরও কমল স্বর্ণের দাম

    দেশে আরও কমল স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরেক দফা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়েছে সংগঠনটি। এতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা নির্ধারণ হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বাজুস আরও জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই দাম বহাল থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। এছাড়া স্বর্ণ ও রৌপ্য অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

    চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৯১ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪ বার দাম বেড়েছে, ৪৬ বার কমেছে এবং ১ বার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।

  • আজকের মুদ্রার রেট: ১৪ জুলাই ২০২৬

    আজকের মুদ্রার রেট: ১৪ জুলাই ২০২৬

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন এক কোটির বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন। প্রবাসী আয় দেশে পাঠানো ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সুবিধার্থে প্রতিদিনই বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার জানা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার নিচে তুলে ধরা হলো-

    দেশ ও বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশি টাকা – ৳ (BDT)

    মালয়েশিয়ান ১ রিংগিত ৩০ টাকা ২৫ পয়সা

    সৌদির ১ রিয়াল ৩২ টাকা ৮৯ পয়সা

    মার্কিন ১ ডলার ১২২ টাকা ৯৪ পয়সা

    ইউরোপীয় ১ ইউরো ১৪৩ টাকা ৪৬ পয়সা

    ইতালিয়ান ১ ইউরো ১৪৩ টাকা ৪৬ পয়সা

    ব্রিটেনের ১ পাউন্ড ১৬৫ টাকা ৪০ পয়সা

    সিঙ্গাপুরের ১ ডলার ৯৫ টাকা ৪৬ পয়সা

    অস্ট্রেলিয়ান ১ ডলার ৮৫ টাকা ৭৩ পয়সা

    নিউজিল্যান্ডের ১ ডলার ৭১ টাকা ১২ পয়সা

    কানাডিয়ান ১ ডলার ৮৭ টাকা ০২ পয়সা

    ইউ এ ই ১ দিরহাম ৩৩ টাকা ৬২ পয়সা

    ওমানি ১ রিয়াল ৩১৯ টাকা ০৫ পয়সা

    বাহরাইনি ১ দিনার ৩২৭ টাকা ৮৫ পয়সা

    কাতারি ১ রিয়াল ৩৩ টাকা ৯৩ পয়সা

    কুয়েতি ১ দিনার ৪০১ টাকা ৫১ পয়সা

    সুইজারল্যান্ডের ১ ফ্রেঞ্চ ১৪৮ টাকা ০৬ পয়সা

    দক্ষিণ আফ্রিকান ১ রান্ড ৭ টাকা ৪৮ পয়সা

    জাপানি ১ ইয়েন ০.৭৫৯ টাকা

    দক্ষিণ কোরিয়ান ১ ওন ০.০৮২০৬২৬০ টাকা

    ইন্ডিয়ান ১ রুপি ১ টাকা ২৫ পয়সা

    উল্লেখ্য, যে কোনো সময় মুদ্রা বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।

  • ভোমরা স্থলবন্দরে ৯৫০ কো‌টি টাকার বেশি রাজস্ব ঘাট‌তি

    ভোমরা স্থলবন্দরে ৯৫০ কো‌টি টাকার বেশি রাজস্ব ঘাট‌তি

    সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছ‌রে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দ‌রে ৯৫০ কো‌টি টাকার বেশি রাজস্ব ঘাট‌তি হ‌য়ে‌ছে।

    ২ হাজার ৬৪ কো‌টি টাকা ল‌ক্ষ্যমাত্রার বিপ‌রী‌তে এ সময়ে সংগ্রহ হয়েছে ১ হাজার ১১৪ কো‌টি। তবে সং‌শ্লিষ্টরা বল‌ছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছ‌রের তুলনায় ১৩৪ কো‌টি টাকা বে‌শি রাজস্ব সংগ্রহ হ‌য়ে‌ছে বিদায়ী অর্থবছরে। ভোমরা স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীদের দাবি, চা‌হিদা অনুযায়ী পণ্য আমদা‌নিতে বাধা ও অবকাঠা‌মোগত উন্নয়নের অভাবে কা‌ঙ্ক্ষিত রাজস্ব পা‌চ্ছে না সরকার।

    ভোমরা কাস্টম হাউজের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা যায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এন‌বিআর) ২০২৫-২৬ অর্থবছ‌রে এ বন্দরের জন্য রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ক‌রে ২ হাজার ৬৪ কো‌টি ৮৯ লাখ টাকা। এর বিপরীতে সংগ্রহ হ‌য়ে‌ছে ১ হাজার ১১৪ কো‌টি ১৬ লাখ টাকা, যা লক্ষ‌্যমাত্রার তুলনায় ৯৫০ কো‌টি ৭৩ লাখ টাকা কম।

    অন‌্যদি‌কে ২০২৪-২৫ অর্থবছ‌রে রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছি‌ল ৯৪৬ কো‌টি ২৩ লাখ টাকা। এর বিপ‌রী‌তে সংগ্রহ হয় ৯৭৯ কো‌টি ৩৫ লাখ টাকা, যা ল‌ক্ষ্যমাত্রার চে‌য়ে ৩৩ কো‌টি ১২ লাখ টাকা বে‌শি।

    বিদায়ী অর্থবছরে ভোমরা স্থলবন্দরের ব্যবসা-বা‌ণিজ্যে মন্দা গে‌ছে বলে জানান বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজে‌ন্ট অ্যা‌সো‌সিয়েশ‌নের সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা। তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ ব্যবসায়ী লোকসা‌নের ম‌ধ্যে র‌য়ে‌ছেন। এছাড়া ভোমরা বন্দ‌রে পণ্য আমদা‌নি‌তে বৈষম‌্য র‌য়ে‌ছে। এখা‌নে অনু‌মোদন থাকার পরও অনেক পণ্য আমদা‌নি কর‌তে পা‌রেন না ব্যবসায়ী। অথচ পার্শ্ববর্তী বন্দ‌রে সব ধরনের পণ্য আনা যায়। এতে ব্যবসায়ীরা এ বন্দর ব‌্যবহা‌রে আগ্রহ হারা‌চ্ছেন। ফলে ভোমরা স্থলবন্দ‌রের ব্যবসা-বা‌ণিজ্যে ভা‌লো যা‌চ্ছে না, সরকারও কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব অর্জন কর‌তে পার‌ছে না।’

    সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপ‌তি না‌সিম ফারুক খান ব‌ণিক বার্তা‌কে জানান, বন্দ‌রে রাজস্ব ঘাট‌তির পেছনে অন‌্যতম কারণ ভোমরা বন্দ‌রের ব‌্যবসায়ীরা অসম প্রতি‌যো‌গিতার ম‌ধ্যে প‌ড়ে‌ছেন। তি‌নি ব‌লেন, ‘ভার‌তের অধিকাংশ কৃ‌ষিপণ্য আমদা‌নি ক‌রে লোকসা‌নে পড়‌ছেন ব্যবসায়ীদের, এর মূল কারণ দরপতন। ভার‌তের মোকা‌মের মূল‌্য বা দ‌রের তুলনায় বাংলা‌দেশে কম দা‌মে পণ্য বি‌ক্রি হ‌চ্ছে। ফ‌লে ব্যবসায়ীদের লোকসান এড়া‌তে আমদা‌নি বন্ধ কর‌ছেন।’ তবে বন্দরের অবকাঠা‌মোগত উন্নয়ন এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ভা‌রী ক্রেন, ইয়ার্ড ও ওয়্যারহাউজসহ অন্যান্য উন্নত প্রযু‌ক্তি স্থাপন করা গে‌লে সরকা‌রের রাজস্ব আহরণ আরো ক‌য়েক গুণ বাড়বে বলে জানান সাতক্ষীরা চেম্বারের সভাপতি।

    ভোমরা কাস্টম হাউজের দা‌য়িত্বরত ক‌মিশনার মুশ‌ফিকুর রহমান ব‌ণিক বার্তা‌কে ব‌লেন, ‌‘২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ বন্দ‌র দিয়ে আমদা‌নি হ‌য়ে‌ছি‌ল ২০ লাখ ৮২ হাজার ৭২২ টন পণ্য। আর বিদায়ী অর্থবছর হ‌য়ে‌ছে ১৯ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭ টন, যা তার আগের অর্থবছ‌রের তুলনায় ১ লাখ ৯ হাজার ৬৭৫ টন কম। কম প‌ণ্য আমদা‌নি ক‌রেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৩৪ কো‌টি টাকা বে‌শি রাজস্ব সংগ্রহ হয়ে‌ছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘যেকো‌নো বন্দ‌রে রাজস্ব আহরণ মূলত পণ্য আমদা‌নি-রফতা‌নির ওপর নির্ভর ক‌রে। এখা‌নে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের সেবার মানোন্নয়‌নে কাজ কর‌ছেন। ব্যবসায়ীদের যেন হয়রা‌নি বা ক্ষ‌তিগ্রস্ত না হন সে‌দিকে স‌র্বোচ্চ খেয়াল রাখা হয়। একই সঙ্গে স‌ঠিক রাজস্বও যা‌তে পাওয়া যায় সে‌দি‌কেও নজরদারি করা হয়।