অর্থ ও বাণিজ্য

  • আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

    আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

    বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। এই বর্ধিত বাণিজ্যিক লেনদেনকে সচল রাখতে ওঠানামা করছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার।

    দেশীয় বাজারে মার্কিন ডলারসহ আন্তর্জাতিক প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ওঠানামা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী আজকের (১১ জুলাই ২০২৬) মুদ্রা বিনিময় হারের একটি সার্বিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—

    মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা

    ইউএস ডলার : ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা
    ইউরো : ১৪০ টাকা ২২ পয়সা
    পাউন্ড : ১৬৪ টাকা ৪৪ পয়সা
    কানাডিয়ান ডলার : ৮৬ টাকা ৬৭ পয়সা
    অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৫ টাকা ১১ পয়সা
    চাইনিজ ইয়েন : ১৮ টাকা ০৪ পয়সা
    সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৪ টাকা ৯২ পয়সা
    ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ২৮ পয়সা

    মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ৩০ টাকা ২৯ পয়সা
    সৌদি রিয়াল : ৩২ টাকা ৮৬ পয়সা
    কাতারি রিয়াল : ৩৩ টাকা ৮৪ পয়সা
    কুয়েতি দিনার : ৩৯৮ টাকা ১৬ পয়সা
    আরব আমিরাতের দিরহাম : ৩৩ টাকা ৫৭ পয়সা

    *মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।

    আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় খোলাবাজার ও অফিশিয়াল রেটের মধ্যকার ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। বিগত এক মাসে ডলারের গড় বিনিময় হার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে, যা আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক।

  • বস্ত্র খাতে বেড়েছে প্রণোদনা

    বস্ত্র খাতে বেড়েছে প্রণোদনা

    বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের জোরালো দাবি ও দেনদরবারের মুখে অবশেষে বড় ধরনের সুখবর দিল সরকার। দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত তৈরি পোশাকশিল্পের প্রতি বিশেষ নজর দিয়ে এবার নগদ সহায়তার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হচ্ছে।

    রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পে দেশি সুতা বা কাপড় ব্যবহারে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তার হার বর্তমানের ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

    বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও অভ্যন্তরীণ নানান চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা বস্ত্র খাতের জন্য সরকারের এ সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োপযোগী একটি বড় প্রণোদনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা। সরকারের এ নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দেশি বস্ত্রকলগুলো যেমন চাঙা হবে, তেমন তৈরি পোশাক রপ্তানিতেও নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চূড়ান্ত নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রপ্তানিকারকদের এ নতুন সুযোগ ও বাড়তি প্রণোদনা নেওয়ার আগে অবশ্যই দেশি উৎস থেকে সুতা বা কাপড় সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। নতুন এ বর্ধিত সুবিধা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। এর আগে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে জরুরি সাক্ষাৎ করে।

    বৈঠকে বিটিএমএ নেতারা দেশি সুতা ও কাপড়ের ব্যবহার উৎসাহিত করতে এবং এ খাত টিকিয়ে রাখতে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য নগদ সহায়তা বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করাসহ মোট ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। ব্যবসায়ীদের যুক্তি ছিল, দেশি সুতা ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্প আরও শক্তিশালী এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

    বস্ত্র খাতের অতীত পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আড়াই বছর আগেও স্থানীয় সুতা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানির বিপরীতে ৪ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেওয়া হতো। তবে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এবং আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এ সহায়তার হার কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছিল। এর মাত্র ছয় মাস পর সেই সহায়তা আরও কমিয়ে মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।

    ফলে দেশি সুতা ও কাপড়ের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।

  • প্রতি ডিমে ৪ টাকা লোকসান, দাবি খামারিদের

    প্রতি ডিমে ৪ টাকা লোকসান, দাবি খামারিদের

    খামার পর্যায়ে প্রতিটি ডিমের উৎপাদন খরচ ১০ টাকা হলেও বিক্রয়মূল্য ৬ টাকা। ফলে প্রতিটি ডিমে ৪ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে দাবি করেছেন খামারিরা। যদিও ভোক্তা পর্যায়ে ডিমের দাম ১০ টাকার বেশি।

    এ পরিস্থিতিতে খামারিদের জন্য ডিমের লাভজনক বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ, দেশের সব পোলট্রি খামারিদের নিয়ে ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি এবং প্রান্তিক খামারিদের সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিআইএ)।

    আজ শনিবার রাজধানীর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মোশারফ হোসেন চৌধুরী এ দাবি তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মহাসচিব মো. সাফির রহমান ও বিপিআইএয়ের যুগ্ম মহাসচিব অঞ্জন মজুমদার বক্তব্য দেন। এর আগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খামারিদের নিয়ে মানববন্ধন আয়োজন করা হয়। এতে খামারিরা তাঁদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।

    সংবাদ সম্মেলনে মোশারফ হোসেন চৌধুরী বলেনে, উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও খামারিরা দীর্ঘদিন ধরে তার চেয়ে কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তাঁরা প্রতিদিন লোকসান গুনছেন এবং ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে অনেকে খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন। প্রতিটি ডিমে ৪ টাকা হিসাবে মাসে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে বলে জানান তিনি। আবার এই খাতে করপোরেট কর ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, যদিও প্রতিযোগী দেশগুলোতে তা আরও কম বলা জানান এ উদ্যোক্তা।

    বিপিআইএর সভাপতি মোশারফ হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশে মাছ, মুরগির বাচ্চা, ওষুধ, টিকা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহনসহ প্রায় সব ধরনের উৎপাদন উপকরণের দাম বেড়েছে। তবে সেই অনুপাতে খামার পর্যায়ে ডিমের দাম সমন্বয় করা হয়নি। ফলে পোলট্রি–শিল্পের মূল চালিকা শক্তি প্রান্তিক খামারিরাই সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন। গত ৫ বছরে ৬৪ হাজার খামারি এ খাত থেকে ঝরে পড়েছেন বলে জানান তিনি।

    তাই সংগঠনটির পক্ষ থেকে ধান ও আখের মতো ডিমের ক্ষেত্রেও ন্যায্যমূল্য বা ‘ফেয়ার প্রাইস’–ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানানো হয়। তাদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে এমন মূল্য নির্ধারণ করা, যাতে খামারিরা ন্যূনতম মুনাফা পেয়ে উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারেন।

    জাতীয় পর্যায়ে ডিজিটাল পোলট্রি ডেটাবেজ তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে। বিপিআইএর দাবি, এর মাধ্যমে প্রকৃত খামারির সংখ্যা, উৎপাদন, চাহিদা ও বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে বাস্তবসম্মত তথ্য পাওয়া যাবে। পাশাপাশি প্রকৃত খামারিদের কাছে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও স্বল্পসুদে ঋণ পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।

    সংগঠনটির মহাসচিব মো. সাফির রহমান বলেন, ‘খামারিদের ৭০-৮০ শতাংশ ব্যয় চলে যায় খাদ্যের পেছনে। তার সঙ্গে খাদ্যের উপকরণ আমদানিতে আছে ৪ শতাংশ অগ্রিম আয়কর; আমরা এটা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছি।’ প্রতিবেশী দেশগুলোতে কাঁচামালে এমন কর নেই বলে জানান তিনি।

    বিপিআইএর দাবি, প্রত্যেক নিবন্ধিত খামারির জন্য ফার্মার আইডি চালু করা হোক। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, সমবায়ভিত্তিক উৎপাদন ও বিপণনব্যবস্থা, স্বল্পসুদে ঋণ, টিকা, খাদ্যসহায়তা এবং বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমাতে কার্যকর নজরদারির আহ্বান জানানো হয়।

  • দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি, কেন বেশি

    দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি, কেন বেশি

    চলতি অর্থবছরেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি গড় মূল্যস্ফীতি থাকবে। এমন পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এডিবি বলছে, এ বছর বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

    এডিবির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক জুলাই সংস্করণে মূল্যস্ফীতির এই পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি। সেখানে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের জন্য ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর গড় মূল্যস্ফীতির যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তাতে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি হবে।

    এডিবি বলছে, দেশে পেট্রোলিয়াম, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের প্রভাব পরিবহন, পরিষেবা ও অন্যান্য ভোক্তাপণ্যের দামে পড়তে থাকবে, যা মূল্যস্ফীতি কমার গতি ধীর করবে।

    বাংলাদেশে টানা তিন মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি আছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সবশেষ হিসাবে, গত জুনে মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। গত মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পরে অর্থাৎ আগের ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি।

    এমন পরিস্থিতিতে এডিবির পূর্বাভাস হলো চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৮ শতাংশ।

    ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। এসব দেশ পরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও বাংলাদেশ সেভাবে পারেনি। টানা চার বছর ধরে বাংলাদেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে।

    প্রতি মাসে মূল্যস্ফীতি হিসাব করা হয়। ১২ মাসের মূল্যস্ফীতি দিয়ে পুরো বছরের গড় চিত্র দেখানো হয়। এতে ওই বছরের মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি কেমন ছিল, তা জানা যায়।

    মূল্যস্ফীতি জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলে

    মূল্যস্ফীতি বাড়লে সীমিত ও মধ্য আয়ের মানুষের কষ্ট বাড়ে। আয় না বাড়লে তাদের সংসার চালানের খরচ বেড়ে যায়। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়েছে। ফলে বাজারে শাকসবজি, মাছ ও মাংসের দাম বেড়েছে। তবে চালের দামও বাড়তি।

    গত জুনে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৬ ও জাতীয় গড় মজুরি হার ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। এর মানে হলো, যত মূল্যস্ফীতি হয়েছে, এর চেয়ে মজুরি কম বেড়েছে। ফলে বাজার থেকে পণ্য কিনতে ভোগান্তি বাড়ছে।

    মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধি বা আয় বৃদ্ধি কম হলে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ে। প্রকৃত আয় কমে যায়। মূল্যস্ফীতির তুলনায় আয় না বাড়লে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয় কিংবা খাবার, কাপড়চোপড়, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে কাটছাঁট করতে হয়।

    অন্য দেশে মূল্যস্ফীতি কত

    এডিবির পূর্বাভাস অনুসারে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের পরে পাকিস্তানে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি হতে পারে। ওই দেশে মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। আফগানিস্তানের মূল্যস্ফীতি হতে পারে সাড়ে ৫ শতাংশ। আর শ্রীলঙ্কার মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। ভারত, ভুটান ও মালদ্বীপের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস হলো ৪ শতাংশ। আর নেপালের জন্য পূর্বাভাস হলো ৫ শতাংশ।

    ২০২৩ সালের দিকে শ্রীলঙ্কার ৭৩ শতাংশ ও পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি ৫১ শতাংশ পর্যন্ত ওঠেছিল। তখন ওই দুটি দেশ নানা ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সফল হয়।

    বাংলাদেশে কেন বেশি

    বাংলাদেশে কেন গড় মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে, এর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি দেশে পেট্রোলিয়াম, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের প্রভাব পরিবহন, পরিষেবা ও অন্যান্য ভোক্তাপণ্যের দামে পড়তে থাকবে। কারণ, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির দ্বিতীয় দফার প্রভাব, বিনিময় হার সমন্বয়ের প্রভাব এবং খাদ্য ও সেবা খাতে অব্যাহত মূল্যস্ফীতি কমার গতি ধীর করবে।

    এডিবি বলছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং ব্যক্তিগত ভোগব্যয় সীমিত করছে। দুর্বল রপ্তানি ও আমদানির মাঝারি প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক চাহিদার দুর্বলতা ও বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরবরাহের দিক থেকে রপ্তানিমুখী উৎপাদন খাত উচ্চ জ্বালানি মূল্য, বৈদেশিক বাজারে দুর্বল চাহিদা ও কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতার কারণে চাপে থাকবে। অন্যদিকে সারের ঘাটতির কারণে কৃষি খাত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তবে রেমিট্যান্সনির্ভর পারিবারিক আয়ের কারণে সেবা খাত প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা সহায়তা করবে।

  • বৃষ্টির প্রভাব সবজির বাজারে, কাঁচা মরিচের কেজি ১৬০ টাকা

    বৃষ্টির প্রভাব সবজির বাজারে, কাঁচা মরিচের কেজি ১৬০ টাকা

    সরবরাহ কমে যাওয়ায় সপ্তাহ ব্যবধানে প্রায় সব সবজির দাম বেড়েছে। বিশেষ করে কাঁচামরিচের দাম একলাফে ৪০ টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া ডিমের দামেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। তবে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে মুরগি।

    বিক্রেতারা বলছেন, দেশজুড়ে টানা বৃষ্টির ফলে ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। সেই সঙ্গে যাতায়াত ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় ঢাকায় সবজি সরবরাহ কমেছে। ফলে বাজার কিছুটা অস্থির। ক্রেতাদের বলছেন, বৃষ্টির অজুহাতে সরবরাহ কমার কথা বলা হলেও বাজারে কোনো সবজির ঘাটতি নেই।

    সব দোকানেই ভরপুর সবজি তবু বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে।

    শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

    বাজার ঘুরে দেখা গেছে, করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল প্রকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন প্রকারান্তরে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১২০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, সজনে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা এবং ধুন্দল হাইব্রিড ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    টমেটো প্রকারভেদে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, মুলা ৭০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা এবং লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে কাঁচামরিচ কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এ ছাড়া পেঁপে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা এবং হাইব্রিড ৬০ টাকা, আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

    এক হালি লেবু ১৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ধনে পাতা ২৫০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ১৮০ কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া ৬০ টাকা পিস এবং ক্যাপসিকাম ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল শাকের আঁটি প্রতি ১৫ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    এসব বাজারে এক ডজন মুরগির লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, হাঁসের ডিম এক ডজন ১৮০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকা।

    মুরগির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের মতোই সোনালি কক মুরগি ৩৩০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড মুরগি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ৩৪০ টাকা, ব্রয়লার ১৬৫ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ টাকা কেজি দরে।

    মাছের বাজারে ইলিশ ৩০০ গ্রাম ওজনের এক কেজি মাছ ১১০০ টাকা থেকে ১২০০ এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশের কেজি ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা। এক কেজি শিং মাছ চাষ (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায়, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৯০০ থেকে ১২০০ টাকায়, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২০০ টাকায়, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৪০০ টাকায় এবং পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

  • বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

    বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে দেরি হচ্ছে। এতে জ্বালানি তেলের সরবরাহে সংকট অব্যাহত থাকলেও ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক উদ্বেগের কারণে বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর জেরে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে গেছে।

    যুদ্ধের আগে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশই এই প্রণালি দিয়ে যেত।

    ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৭২ ডলার বা ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৭৬ দশমিক ৩০ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪৪ ডলার বা ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ০৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

    এর আগে বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গত ১৯ জুনের পর এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২২ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল।

    ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বৃহস্পতিবার উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। এতে তিন সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধবিরতি চুক্তি নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে।

    ম্যাকোয়ারি গ্রুপের গ্লোবাল এনার্জি স্ট্র্যাটেজিস্ট বিকাশ দ্বিবেদী এক নোটে বলেছেন, আমরা আশা করছি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে তৈরি হওয়া এই উত্তেজনা খুব বেশি দিন স্থায়ী হবে না। কারণ, উভয় দেশই এখন বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে সীমাবদ্ধ।

    তেহরানসহ অন্যান্য প্রতিপক্ষের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত কাতার বাণিজ্যিক জাহাজে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং আবারও কূটনীতির পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। তুরস্ক ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা এড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।

    মার্কিন ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস-এর বিশ্লেষকেরা এক প্রতিবেদনে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পর প্রথম ১০ দিনের মধ্যে পারস্য উপসাগর থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ প্রাক-যুদ্ধকালীন সময়ের ৮০ শতাংশের ওপরে পৌঁছেছিল। আটকে থাকা ট্যাংকারগুলো তড়িঘড়ি করে পারস্য উপসাগর ছাড়ার কারণেই এমনটা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি ট্যাংকারগুলোতে নতুন করে হামলার কারণে তা স্বাভাবিক সময়ের ৭০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে।

  • চাল নিয়ে প্রতারণা

    চাল নিয়ে প্রতারণা

    আমাদের প্রধান খাদ্য চাল নিয়ে দেশে বছরের পর বছর ধরে যে সুসংগঠিত ও জঘন্য প্রতারণা চলছে, শনিবার যুগান্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এর এক ভয়ংকর চিত্র উন্মোচিত হয়েছে। কৃষিবিজ্ঞানী থেকে শুরু করে নীতিপ্রণেতারা একবাক্যে স্বীকার করেছেন, দেশে মিনিকেট নামে ধানের কোনো জাত নেই, নেই কোনো সরকারি স্বীকৃতি। অথচ এক অদ্ভুত মায়াজালের মতো দেশের প্রতিটি ছোট-বড় বাজারে বছরের পর বছর ধরে দাপটের সঙ্গে বিক্রি হচ্ছে এই তথাকথিত সরু চাল। জানা যায়, মূলত স্বর্ণা, পাইজাম ও বিআর-২৮-এর মতো মোটা ও মাঝারি জাতের ধান কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে কিনে মজুত করে একশ্রেণির অসাধু মিলার। এরপর আধুনিক অটো রাইস মিলে সেগুলোকে অতিরিক্ত ছাঁটাই, ঘর্ষণ এবং কেমিক্যালের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে পলিশ করে চকচকে ও সরু আকার দেওয়া হয়, যার নতুন নাম হয় মিনিকেট। এই কারসাজির মাধ্যমে শুধু যে ভোক্তার পকেট থেকে বছরে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা লুটে নেওয়া হচ্ছে তা-ই নয়, গোটা জাতিকে এক দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, অতিরিক্ত ছাঁটাই ও পলিশ করার কারণে চালের গায়ে থাকা প্রাকৃতিক ও অতি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান যেমন-ভিটামিন বি-১, বি-৬, আয়রন ও ফাইবার সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আর এই অতি-পরিশোধিত চাল খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যা দেশে ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও হৃদরোগের মতো মারাত্মক অসংক্রামক রোগ বাড়িয়ে তুলছে। উল্লেখ্য, এই প্রতারণা রুখতে ২০২৩ সালে একটি সুনির্দিষ্ট আইনও প্রণয়ন করা হয়েছিল। সেই আইনে চালের বস্তার গায়ে অবৈজ্ঞানিক বা কাল্পনিক নাম লিখলে ২ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার কঠোর বিধান রাখা হয়। পরিতাপের বিষয়, তদারকি সংস্থাগুলোর শৈথিল্য ও নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যেই এই নিষিদ্ধ চালের রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

    এই জনবিরোধী খাদ্য প্রতারণা থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে হলে সরকারকে অবিলম্বে কঠোর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে ২০২৩ সালের আইনের শতভাগ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে একদিকে দেশব্যাপী সমন্বিত ও চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অন্যদিকে, মিল পর্যায় থেকে চালের বস্তার গায়ে ধানের আসল জাত এবং মিলিংয়ের তারিখ লেখা বাধ্যতামূলক করতে হবে। কোনো বস্তায় ‘মিনিকেট’ শব্দটির ব্যবহার পেলেই তা বাজেয়াপ্ত করতে হবে। একইসঙ্গে, ভোক্তাদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়াতে হবে। বাহ্যিক সৌন্দর্য বা চকচকে সাদা চাল মানেই যে পুষ্টিকর নয়, বরং তা একপ্রকার বিষ, এ তথ্যটি প্রয়োজনে সরকারি উদ্যোগে গণমাধ্যমে প্রচার চালিয়ে মোটা ও লাল চালের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে। আমরা আশা করব, নীতিনির্ধারকরা এই সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার লুণ্ঠন ও স্বাস্থ্যবিধ্বংসী বাণিজ্য বন্ধে মিলারদের সিন্ডিকেট ভেঙে দেবেন। দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির অধিকার নিশ্চিতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

  • কৃষকের কষ্টের ধানে মিলারের চড়া মুনাফা

    কৃষকের কষ্টের ধানে মিলারের চড়া মুনাফা

    দেশে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। সরকারি গুদামেও গড়ে তোলা হয়েছে পর্যাপ্ত মজুত। মূল্য সহনীয় রাখতে বাজেটে চালের শুল্ক-কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবু বাজারে কমছে না চালের দাম। বছরের পর বছর দৃশ্যমান মিলার সিন্ডিকেটে এক প্রকার অস্বস্তিকর অবস্থা বিরাজ করছে।পরিস্থিতি এমন-হাড়ভাঙা পরিশ্রম ও ঘাম ঝরিয়েও ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না কৃষক। অথচ সেই ধান থেকেই চাল বিক্রিতে মোটা অঙ্কের মুনাফা করছেন অসাধু চক্র। মিলগেট থেকে পাইকারি হয়ে খুচরা বাজারে চালে দামের ব্যবধান করা হচ্ছে দ্বিগুণ। এতে দেশের মানুষ চড়ামূল্যে চাল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ সেই অর্থের ভাগ মিলছে না কৃষকের কপালে। যুগান্তরের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমন চিত্র।

    বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ধান থেকে উৎপাদিত চালের পাশাপাশি কুঁড়া, তুষ, খুদ ও ভাঙা চাল বিক্রি করেও বিপুল পরিমাণে অর্থ আয় করছেন মিলাররা। অথচ বাজারে চালের দামে তার কোনো প্রভাব নেই। এতে মাঠে কৃষক ও বাজারে ঠকছেন ভোক্তা। মাঝখানে ফুলেফেঁপে উঠছে সেই অতিমুনাফালোভী চক্র। এসবের অভিযোগ থাকলেও যেন কার্যকর কোনো পদক্ষেপে নেই।

    খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য মতে (৫ জুলাই), বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারিভাবে দেশে ধান, চাল ও গমের নিরাপদ মজুত গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারি গুদামে মোট মজুত ২২ লাখ ৫২ হাজার ৮১৫ টন খাদ্যশস্য। এর মধ্যে ফ্লোটিং চাল ৪ হাজার ৭৭২ টনসহ মোট চালের মজুত গড়ে তোলা হয়েছে ১৭ লাখ ৯৫ হাজার ৯৬৯ টন। পাশাপাশি ধানের মজুত ৩ লাখ ৩১ হাজার ১৮৩ টন। সঙ্গে গম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩২৭ টন মজুত রাখা হয়েছে। এর পরও দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে মিলাররা।

    সিরাজগঞ্জের তাড়াশ অঞ্চলের কৃষক আব্দুল আলিম যুগান্তরকে বলেন, এক বিঘা জমিতে ধান আবাদে বর্গাসহ ২৫ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। সেখানে বর্গা খরচই দিতে হয় বছরে ১৫ হাজার টাকা। কীটনাশক কিনতে ব্যয় হয় ৩-৪ হাজার টাকা।

    দিনমজুরদের দিতে হয় ৫০০০ টাকা। সেচে খরচ পড়ে ৩ হাজার টাকা। সবমিলে এক বিঘা জমিতে ধান আবাদে খরচ পড়ে যায় ২৫-২৭ হাজার টাকা। তবে বর্তমান বাজারে এক মন ধানে ২০০-৩০০ টাকা লোকসান দিয়ে ১১০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। মিলাররা সিন্ডিকেট করে ধানের বাজারে নৈরাজ্য করছে। আমরা কৃষকরা কষ্ট করে ঘাম ঝরিয়ে ধান আবাদ করলেও লাভ হচ্ছে না। আর সেখানে মিলাররা ধান নিয়ে চাল তৈরি করে অতিমুনাফা করছে।

    কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) তথ্য মতে, কৃষকরা এক মন ধান বিক্রি করছে ১০০০-১১০০ টাকা। এই এক মন ধান দিয়ে ২৫ কেজি চাল হয়। ৫০ কেজির ধানের মূল্য দাঁড়ায় ২২০০ টাকা। সেক্ষেত্রে মিল পর্যায়ে মিনিকেট নামের অবৈধ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ কেজির বস্তা ৩৩০০ টাকা। দেখা যায় মিলাররা আনুসাঙ্গিক খরচ ও লাভ রেখে ৫০ কেজির বস্তায় ১১০০ টাকা বেশি দরে বিক্রি করছে। আর মিল পর্যায়ে ৩৩০০ টাকা বস্তা মিনিকেট পাইকারিতে ৩৪০০ ও খুচরায় ৪০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেক্ষেত্রে কৃষক পর্যায়ের ধান থেকে মিলের চাল পাইকারি ও খুচরা পর্যায় হয়ে ক্রেতার কাছে প্রায় দ্বিগুণ দাম হয়ে যাচ্ছে।

    কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, কৃষক থেকে শুরু করে মিল, পাইকারি ও খুচরা মোট ৪ হাত ঘুরে ক্রেতার কাছে চাল পৌঁছায়। সেখানে ধান থেকে চাল উৎপাদন খরচ, পরিবহণ খরচ মিলে ২২০০ টাকার চাল সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা বিক্রি করলে ক্রেতার ভোগান্তি পোহাতে হয় না। তবে মিল থেকেই বড় ব্যবধানে চাল বিক্রি হচ্ছে, আর পাইকারি ও খুচরায় এই দাম আরও বেড়ে যাচ্ছে। আর এই বাড়তি ব্যয়ের বোঝা ভোক্তাকেই বহন করতে হচ্ছে। যা নজরদারি করা দরকার।

    তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে চালসহ ৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর কমানো হলেও তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব বাজারে দেখা যায়নি। বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর কার্যকর নজরদারির অভাবে নিত্যপণ্যের বাজারে চালসহ অন্য পণ্যের মূল্য সহনীয় করা যাচ্ছে না। তাই অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

    নওগাঁ, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মিল পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিল পর্যায়ে নাজিরশাইল ২৫ কেজির বস্তা মাসের ব্যবধানে ২০০ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা পাইকারি পর্যায়ে ২১০০ টাকা ও খুচরায় ২৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিআর ২৮ জাতের চাল মিল পর্যায়ে ৫০ কেজির বস্তায় ১০০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে ২৬০০ টাকায়। পাইকারি পর্যায় এই চাল ২৭০০ ও খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৩২০০ টাকা।

    কাওরান বাজারের আল্লাহর দান রাইস এজেন্সির মালিক সিদ্দিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, মিল পর্যায়ে সব ধরনের চালের দাম বেশি। মিল মালিক সিন্ডিকেট করে চালের দাম বাড়িয়ে রেখেছে। কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনলেও মিলাররা বাড়তি মুনাফা করে। মিল থেকে সেই চাল পাইকারি ও খুচরা পর্যায় যেতে প্রায় দ্বিগুণ দাম হয়ে যায়। যা দেশের সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হচ্ছে।

    তিনি জানান, হঠাৎ করেই মিল মালিকরা এক মাস ধরে পোলাও চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়েছে। ৫০ কেজির বস্তা পোলাও চাল মিলে বিক্রি হচ্ছে ৮ হাজার ৩০০ টাকা। যা এক মাস আগেও মিলে ৬৬০০ টাকা ছিল। যার ফলে এই চাল খুচরা পর্যায়ে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা আগে ১৫০ টাকা ছিল। দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৪০ টাকা।

    জানতে চাইলে তদারকি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক পর্যায়ের এক ডজন কমকর্তা যুগান্তরকে বলেন, চালের বাজারে মূল্য সহনীয় রাখতে তদারকি অব্যাহত আছে। আমরা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় রেখেও অভিযান পরিচালনা করি। সব মিলে মিল থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে। অনিয়ম পেলে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ইন্দোনেশিয়ায় ডি-৮ হালাল এক্সপোতে বাংলাদেশের ২২ প্রতিষ্ঠান

    ইন্দোনেশিয়ায় ডি-৮ হালাল এক্সপোতে বাংলাদেশের ২২ প্রতিষ্ঠান

    ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬-এ বাংলাদেশ থেকে ২২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এ উপলক্ষে প্রায় ৪০ সদস্যের একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলও এক্সপোতে অংশগ্রহণ করছে।

    এর মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া ও ডি-৮ভুক্ত অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের আগ্রহের প্রতিফলন ঘটেছে।

    আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় ইন্দোনেশিয়া দূতাবাস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকায় ইন্দোনেশিয়া দূতাবাস এবং ইন্দোনেশিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (আইবিসিসিআই) যৌথভাবে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের এ এক্সপোতে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করে। বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ২২টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় ৪০ জন ব্যবসায়িক প্রতিনিধির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।

    এবারের এক্সপোতে আইবিসিসিআই বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন স্থাপনে সহায়তা করে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর সহযোগিতায় সেখানে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করা হয়। এই প্যাভিলিয়ন বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনা তুলে ধরা এবং ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।

    বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিসতিওয়াতি এবং আইবিসিসিআইর সভাপতি মোহাম্মদ রিয়াদ আলী।

    এক্সপো চলাকালে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশি প্রদর্শক ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে বিজনেস ম্যাচমেকিং কার্যক্রমে সহায়তা করেন।

    এ সময় আইবিসিসিআইর স্টল পরিদর্শন করেন ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী পুরবায়া ইউধি সাদেওয়া এবং দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ আনিস মাত্তা।

    এক্সপোতে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রদর্শক হিসেবে অংশ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজেস এবং ইলিয়েন। এসব প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের মাধ্যমে হালাল শিল্প, খাদ্য ও পানীয়, ফ্যাশন, উৎপাদন ও ভোক্তাপণ্য খাতে আঞ্চলিক ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণে বাংলাদেশের আগ্রহ তুলে ধরা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ইন্দোনেশিয়া বর্তমানে ডি-৮ অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার (ডি-৮) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছে এবং বাংলাদেশ এ জোটের সদস্য। ইন্দোনেশিয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত অন্যতম প্রধান কর্মসূচি হিসেবে ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর লক্ষ্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যে হালাল শিল্পের প্রসার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা।

    ইন্দোনেশিয়া দূতাবাস জানায়, ভবিষ্যতেও দুই দেশের সরকার, ব্যবসায়িক সংগঠন ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রেখে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণে কাজ করবে তারা। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের এ অংশগ্রহণ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, নতুন ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়ার টেকসই অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

  • ডিএসইতে সূচকের উত্থান, লেনদেন ১ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা

    ডিএসইতে সূচকের উত্থান, লেনদেন ১ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা

    সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস আজ (বৃহস্পতিবার) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সবকটিতে মূল্যসূচক বেড়েছে। একইসাথে বেড়েছে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারদরও।

    ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, আজ বাজারে ৩৯২টি কোম্পানির মোট ৪২ কোটি ৮৩ লাখ ৪২ হাজার ৪৬০টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪২৮ কোটি ৪৬ লাখ ৮৩ হাজার ৮৩১ টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২১৪টির শেয়ারদর বেড়েছে, ১১৬টির কমেছে এবং ৬২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

    দিন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৩৩ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৮০৪ দশমিক ৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই-৩০ সূচক ৮ দশমিক ৫২ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৭৭ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে এবং শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ২ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৮৯ দশমিক ১১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

    টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০টি কোম্পানি হলো ইস্টার্ন হাউজিং, মালেক স্পিনিং, বিএসসিসি, জেনেক্স ইনফোসিস, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স, ফারইস্ট নিটিং, আইটিসি, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, বেক্সিমকো এবং সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স।

    অন্যদিকে দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা ১০টি কোম্পানি হলো দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন কেবলস, সোনালী পেপার, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, ফারইস্ট নিটিং, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স, ফার কেমিক্যাল এবং ন্যাশনাল টিউবস।

    দরপতনের শীর্ষে থাকা ১০টি কোম্পানি হলো এফএএস ফাইন্যান্স, ইনটেক লিমিটেড, বিআইএফসি, সিঙ্গার বিডি, এনসিসি ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড-১, জেনারেশন নেক্সট, সাফকো স্পিনিং, প্রাইম ফাইন্যান্স, আইসিবি এমপ্লয়িজ মিউচুয়াল ফান্ড-১ এবং এমএল ডাইং।