অর্থ ও বাণিজ্য

  • আইএলও মহাপরিচালকের সাথে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীর বৈঠক

    আইএলও মহাপরিচালকের সাথে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীর বৈঠক

    শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবোর এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আজ রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশের শ্রম খাতের আধুনিকায়ন, শ্রম আইন সংস্কার, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিশ্চিতকরণে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরো জোরদার করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

    বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আইএলও মহাপরিচালককে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    তিনি উল্লেখ করেন, শ্রম খাতের সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এই ধারাবাহিকতায় ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। মন্ত্রী গর্বের সাথে উল্লেখ করেন, এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আইএলও’র ১০টি মৌলিক কনভেনশনই অনুসমর্থন করেছে, যা বৈশ্বিক শ্রম পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।

    মন্ত্রী তার বক্তব্যে সরকারের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫-এর সংশোধন, একটি ত্রিপক্ষীয় ‘ন্যাশনাল সোশ্যাল ডায়ালগ ফোরাম’ গঠন এবং স্বাধীন বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার পাশাপাশি ডিজিটাল কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উভয় খাতের শ্রমিকদের জন্য একটি সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি গড়ে তুলতে ‘এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম’ জাতীয়করণ চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    তিনি আরো জানান, দেশে ও বিদেশে দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন ‘কর্মসংস্থান অধিদফতর’ প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে, যার মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালু করে আত্মকর্মসংস্থান ও কারিগরি প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।

    মন্ত্রী বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর এবং শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা সিন্ডিকেটের কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং কম খরচে কর্মী পাঠাতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান মন্ত্রী।

    প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে আইএলও’র কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। শ্রম পরিদফতরের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন শ্রম পরিদর্শক নিয়োগসহ আইএলও’র রোডম্যাপ বাস্তবায়নে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। এই ইতিবাচক পরিবর্তন ও মাইলফলকগুলোকে স্বীকৃতি দিয়ে আইএলও’র ধারা ২৬ এর অধীনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চলমান অভিযোগের মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য তিনি মহাপরিচালকের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।

    আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো বাংলাদেশের শ্রম খাতের যুগান্তকারী সংস্কার, বিশেষ করে ১০টি মৌলিক কনভেনশন অনুসমর্থন এবং ২০২৬ সালের নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    তিনি বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার সাম্প্রতিক আন্দোলন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গতিশীল নেতৃত্ব ও সংস্কারমুখী ভাবধারার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। ইপিজেডসহ সব কর্মক্ষেত্রে সংগঠনের স্বাধীনতা ও আন্তর্জাতিক শ্রমমান বজায় রাখতে, অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আইএলও বাংলাদেশের পাশে থাকবে এবং আগামী অক্টোবর মাসের প্রস্তাবিত যৌথ মিশনসহ সার্বিক ক্ষেত্রে নীতিগত ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

    বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মো: আব্দুর রহমান তরফদার, আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও আইএলওর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • জুলাইয়ের ১৮ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৮০ কোটি ডলার

    জুলাইয়ের ১৮ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৮০ কোটি ডলার

    চলতি (২০২৬-২৭) অর্থবছরের প্রথম ১৮ দিনে দেশে প্রায় ১৮০ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে প্রবাসীরা। এ সময়ে বৈধ পথে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২০ দশমিক ২ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ কোটি ২০ লাখ ডলার বেশি।

    আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ১৭৯ কোটি ৮০ লাখ (এক দশমিক ৭৯ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৪৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, শুধু ১৬ থেকে ১৮ জুলাই- এই তিন দিনেই দেশে এসেছে ১৬ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয়। এর আগে চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনে এসেছিল ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। মাসজুড়ে ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্সপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় ১৮ দিনের মাথায় মোট প্রবাসী আয় পৌঁছেছে ১৭৯ কোটি ৮০ লাখ ডলারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩০ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা ২০ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সমান।

    অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রণোদনার কারণে প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। এ প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের সম্ভাবনা বাড়ছে: ইউনিডেক্স অ্যাম্বাসেডর

    ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের সম্ভাবনা বাড়ছে: ইউনিডেক্স অ্যাম্বাসেডর

    বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য ইউরোপের বাজারে আরো বিস্তৃতভাবে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক খাদ্য আমদানিকারক ও পরিবেশক প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ডাচ এক্সপোর্টার্সের (ইউনিডেক্স) অ্যাম্বাসেডর ও অ্যাডভাইজার ফোরকান হায়দার চৌধুরী। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই বেলজিয়ান মনে করেন, আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং নিয়মিত বাজারসংযোগ বাড়াতে পারলে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা ইউরোপের বাজারে আরও বাড়বে। তিনি জানান, বর্তমানে এই বাজারের আর্থিক মূল্য বছরে শতকোটি টাকারও বেশি।

    তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৮৯ সালে রোল্যান্ড ইয়ানসেন একটি ছোট উদ্যোগ হিসেবে ইউনিডেক্স প্রতিষ্ঠা করেন। শোবার ঘরে একটি ফ্যাক্স মেশিন নিয়ে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ এথনিক ফুড ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। পারিবারিকভাবে রোল্যান্ড ইয়ানসেনের মসলা আমদানি-রপ্তানির ব্যবসার অভিজ্ঞতা ছিল। তাঁর বাবা ভারত থেকে তেজপাতা, জিরা, হলুদ, মরিচসহ বিভিন্ন মসলা আমদানি করে নেদারল্যান্ডসে এনে সুরিনাম, কুরাসাওসহ বিভিন্ন ডাচ অঞ্চলে রপ্তানি করতেন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই ইউরোপে বসবাসরত অভিবাসীদের নিজ দেশের খাদ্যপণ্যের চাহিদাকে লক্ষ্য করে ইউনিডেক্সের কার্যক্রম শুরু হয়।

    প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই দুটি খাতে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। একটি এথনিক বাজার, যেখানে বিভিন্ন দেশের গ্রোসারি ও বিশেষায়িত দোকানে পণ্য সরবরাহ করা হয়। অন্যটি মূলধারার খুচরা বাজার, যেখানে বড় সুপারমার্কেট ও রিটেইল চেইনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খাদ্যপণ্য ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

    ফোরকান হায়দার চৌধুরী জানান, নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে ইউনিডেক্স প্রতিষ্ঠাতা রোল্যান্ড ইয়ানসেনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে ২০০৭ সালের অক্টোবরে তিনি ‘কি অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার (ইউরোপ)’ হিসেবে ইউনিডেক্সে যোগ দেন। এর আগে তিনি অন্য একটি বহুজাতিক কোম্পানির সিইও হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ইউনিডেক্সের ‘ডিরেক্টর অব সেলস’ পদে দায়িত্ব পান। তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠানটির সিইও আমাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন, যা এখনও অব্যাহত আছে। পারস্পরিক বিশ্বাসের এই পরিবেশই নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”

    ইউনিডেক্স বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ড্রাই ফুড, পানীয় এবং হিমায়িত খাদ্যপণ্য সংগ্রহ করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করছে। হেলসিংকি থেকে মাল্টা পর্যন্ত বিস্তৃত বাজারে প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহ নেটওয়ার্ক রয়েছে। তিনি জানান, পশ্চিম আফ্রিকার ঘানা, নাইজেরিয়া, আইভরিকোস্ট ও সেনেগাল থেকে পাম অয়েল, পাম ক্রিম, কাসাভা ও বিভিন্ন ধরনের ফ্লাওয়ার আমদানি করা হয়। এ ছাড়া নরওয়ে থেকে সল্টেড ফিশ (বাকালাও) এবং চীন থেকে তেলাপিয়া মাছ আমদানি করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিপণন করা হয়।

    বাংলাদেশি পণ্য প্রসারে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর উদ্যোগে প্রাণ, বিডি ফুড, ইফাদ, ড্যানিশসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য ইউনিডেক্সের মাধ্যমে ইউরোপের বাজারে পৌঁছাতে শুরু করে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ফ্রোজেন মাছ, বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাকস এবং অন্যান্য খাদ্যপণ্যও নিয়মিত আমদানি করা হচ্ছে। ইউনিডেক্স বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিকারকদের মাধ্যমে এই বাজার ক্রমাগত সম্প্রসারিত করছে। এসব পণ্য এশিয়ানদের বাইরেও ইউরোপে বসবাসরত আরব, আফ্রিকান এবং ইউরোপীয়দের মধ্যে সম্প্রসারিত হচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, নতুন সরবরাহকারী খুঁজে বের করতে তিনি নিয়মিত বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক খাদ্য প্রদর্শনীতে অংশ নেন। দুবাইয়ের গালফ ফুড, জার্মানির আনুগা, ফ্রান্সের সিয়াল এবং থাইল্যান্ডের থাইফেক্স প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করে সম্ভাবনাময় বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হচ্ছে।

    সম্প্রতি ইউনিডেক্স ইউরোপভিত্তিক এশিয়ান ফুড গ্রুপের সঙ্গে একীভূত হয়ে একটি বৃহত্তর ব্যবসায়িক গ্রুপ গঠন করেছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির ক্রয়ক্ষমতা, সরবরাহব্যবস্থা এবং ইউরোপজুড়ে বাজার সম্প্রসারণের সক্ষমতা বহুগুণে বেড়েছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, এই সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের উৎপাদকদের জন্য ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    সম্প্রতি বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর এক সৌজন্য সাক্ষাতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য ও কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা এবং এ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় বাজারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, মন্ত্রীর কথায় বর্তমান নির্বাচিত সরকারের ইতিবাচক মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে।

    ব্যবসায়িক সাফল্যের মূল ভিত্তি হিসেবে তিনি মানবিক সম্পর্ককে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “ব্যবসা শুধু চুক্তি বা আর্থিক লেনদেনের বিষয় নয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সততা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতেই দীর্ঘস্থায়ী ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।”

    তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি আস্থার সম্পর্ক তৈরি করতে পারলে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের জন্য ইউরোপের বাজারে আরও বড় সম্ভাবনা তৈরি হবে।

  • বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

    বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

    বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য দিনদিন বাড়ছে। এই বাণিজ্য চালিয়ে যেতে মুদ্রা বিনিময়ের পরিমাণও বাড়ছে।

    লেনদেনের সুবিধার্থে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার আজ শনিবার বিনিময় হার

    বৈদেশিক মুদ্রা – বাংলাদেশি টাকা

    মালয়েশিয়ান ১ রিংগিত ৩০ টাকা ২২ পয়সা

    সৌদির রিয়াল – ৩২ টাকা ৮৯ পয়সা

    মার্কিন ডলার – ১২৩ টাকা ১৬ পয়সা

    ইউরোপীয় ইউরো – ১৪৩ টাকা ৫৫ পয়সা

    ইতালিয়ান ইউরো – ১৪৩ টাকা ৫৫ পয়সা

    ব্রিটেনের পাউন্ড – ১৬৬ টাকা ৩৪ পয়সা

    সিঙ্গাপুরের ডলার – ৯৫ টাকা ৭৩ পয়সা

    অস্ট্রেলিয়ান ডলার – ৮৬ টাকা ৭৪ পয়সা

    নিউজিল্যান্ডের ডলার – ৭২ টাকা ৩১ পয়সা

    কানাডিয়ান ডলার – ৮৭ টাকা ৯১ পয়সা

    ইউ এ ই দিরহাম – ৩৩ টাকা ৬৪ পয়সা

    ওমানি রিয়াল – ৩১৯ টাকা ০৫ পয়সা

    বাহরাইনি দিনার – ৩২৭ টাকা ৮৫ পয়সা

    কাতারি রিয়াল – ৩৩ টাকা ৯৩ পয়সা

    কুয়েতি দিনার – ৪০২ টাকা ০৬ পয়সা

    ইন্ডিয়ান রুপি – ১ টাকা ২৪ পয়সা

    ।

  • চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে মানবিক সহায়তায় বিজিএমইএ

    চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে মানবিক সহায়তায় বিজিএমইএ

    চট্টগ্রামে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমানের উদ্যোগে এবং ভারপ্রাপ্ত সহ-সভাপতি এনামুল আজিজ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য এ ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

    কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ১৪ ও ১৬ জুলাই যথাক্রমে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, বিপিএম-এর নিকট বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে ২০০ বস্তা করে ত্রাণসামগ্রী আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়, যাতে সেগুলো দ্রুত বন্যাকবলিত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।

    ত্রাণসামগ্রী হস্তান্তর করেন বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সহ-সভাপতি এনামুল আজিজ চৌধুরী, পরিচালক ও প্রাক্তন প্রথম সহ-সভাপতি এস. এম. আবু তৈয়ব, পরিচালক এমডি. এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী, প্রাক্তন পরিচালক খন্দকার বেলায়েত হোসেন এবং বিজিএমইএ’র বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ওদুদ মোহাম্মদ চৌধুরী, কাজী শফিকুল ইসলাম (টিটু), আরশাদ-উর-রহমান, রিয়াজ ওয়ায়েজ ও বশির উদ্দিন আহমেদ। এ সময় সিএমপি, জেলা পুলিশ এবং বিজিএমইএ’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ত্রাণ গ্রহণকালে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, বিপিএম বিজিএমইএ’র এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, ত্রাণসামগ্রী দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে।

    এর আগে, গত ১৫ জুলাই বিজিএমইএ’র বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরেজমিনে চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলার বন্যাকবলিত বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সহস্রাধিক পরিবারের মাঝে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

    বিজিএমইএ’র নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের যে কোনো দুর্যোগ ও সংকটময় পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। তারা বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সমন্বিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    বিজিএমইএ তৈরি পোশাক শিল্পের উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব পালনে সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ভবিষ্যতেও দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

  • পাট রপ্তানি তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

    পাট রপ্তানি তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

    দেশে পাটের সোনালি সময় এখন অতীত। তবু রপ্তানি বাণিজ্যে পাট ও পাটপণ্যের গুরুত্ব কমেনি। টানা চার বছর পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি কমার পর আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫–২৬ অর্থবছরে গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি হয়েছে। যদিও করোনাকালের রেকর্ড রপ্তানি থেকে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে খাতটি।

    এক দশক পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের কাছাকাছি থাকলেও করোনাকালে অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরে একলাফে তা ১ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়, যা ১৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তারপর টানা চার বছর খাতটির রপ্তানি কমেছে। তবে সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি পৌনে ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৮ কোটি মার্কিন ডলার। এই রপ্তানি গত তিন অর্থবছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

    পাটপণ্যের রপ্তানিকারকেরা বলছেন, বন্যার কারণে গত বছর পাট উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে কারণে কাঁচা পাটের দাম বেড়ে যায়। উচ্চ মূল্যের কারণেই অর্থের হিসাবে পাটপণ্যের রপ্তানি বেড়েছে। তবে পরিমাণের দিক থেকে রপ্তানি বাড়েনি। যদিও পরিমাণের দিক থেকেও রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে। সে জন্য কাঁচা পাটের সরবরাহব্যবস্থা মসৃণ করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। গবেষণা ও পণ্যের মান উন্নয়নের পাশাপাশি যৌথভাবে হলেও এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

    বিশ্বে পাট উৎপাদনে বাংলাদেশ দ্বিতীয়। বছরে দেশে ৯০ লাখ বেল পাট উৎপাদিত হয়। পাটপণ্যের রপ্তানি ৫০০ কোটি ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যদিও রপ্তানি বাড়াতে করণীয় বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ সরকারের দিক থেকে দেখা যায়নি।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে কাঁচা পাটের পাশাপাশি পাটের সুতা, বস্তা ও বহুমুখী পাটপণ্য রপ্তানি হয়। এসব পণ্য তুরস্ক, চীন, ভারত, মিসর, উজবেকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), জর্ডান, পাকিস্তান, রাশিয়া ও ইরানসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। বিদায়ী অর্থবছর কাঁচা পাটের রপ্তানি ১১ শতাংশ কমে ১৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। যদিও পরিমাণের দিক থেকে কাঁচা পাটের রপ্তানি কমেছে প্রায় ৭৭ শতাংশ। বিদায়ী অর্থবছরে ৩৮ হাজার টন কাঁচা পাট রপ্তানি হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কাঁচা পাট রপ্তানি হয়েছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার টন।

    বিদায়ী অর্থবছরে পাটের বস্তার রপ্তানি ৫ শতাংশ বেড়ে ১৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে; আর পাটের সুতার রপ্তানি ১৮ শতাংশ বেড়ে ৪৯ কোটি ডলার হয়েছে। যদিও পরিমাণের দিক থেকে পাটের সুতার রপ্তানি কমেছে ২ শতাংশ। বিদায়ী অর্থবছরে ৪ লাখ ২৮ হাজার টন পাটের সুতা রপ্তানি হয়। তার আগের অর্থবছর রপ্তানি হয়েছিল ৪ লাখ ৩৮ হাজার টন।

    জানতে চাইলে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) সভাপতি তাপস প্রামাণিক প্রথম আলোকে বলেন, বিদায়ী অর্থবছর প্রতি মণ কাঁচা পাট ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকায় কিনতে হয়েছে। তার আগের বছরও এর দাম তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা ছিল। মূল্যবৃদ্ধির কারণে ১ হাজার ডলারের পণ্যের দাম বেড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ ডলার হয়েছে। সে কারণে অর্থের হিসাবে রপ্তানি বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, পাটপণ্যের রপ্তানি অনায়াসে দুই-তিন বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তার জন্য কাঁচামালের সরবরাহব্যবস্থা মসৃণ করতে হবে। সেই সঙ্গে নতুন বাজারে রপ্তানির জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে।

    বহুমুখী পাটপণ্যে বড় সম্ভাবনা

    বিশ্বজুড়ে পাটজাত পণ্য, বিশেষ করে বহুমুখী পাটপণ্যের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা থাকলেও সেই রপ্তানি কম বাংলাদেশের। বিদায়ী অর্থবছর ৭ কোটি ৪৪ লাখ ডলারের বহুমুখী পাটপণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই রপ্তানি তার আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ কম।

    উদ্যোক্তারা বলছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে বহুমুখী পাটপণ্যের বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ক্রয়াদেশ কমেছে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। মূলত জ্বালানির উচ্চ মূল্যের কারণে নিত্যপণ্যের বাইরে অন্যান্য পণ্যের বিক্রি কমে গেছে। তা ছাড়া কাঁচা পাটের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনে ব্যয় বেড়েছে। সে জন্যও ক্রয়াদেশ কিছুটা কমেছে।

    জানা যায়, বৈশ্বিক বাজারে পাটের তৈরি গৃহসজ্জার পণ্যের চাহিদার পাশাপাশি পাটের তৈরি শপিং ব্যাগ, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, গার্ডেনিং বা বাগান, অটোমোবাইল ও প্যাকেজিংয়ে পাটপণ্যের চাহিদাও বাড়ছে। এ ছাড়া পাটকাঠির তৈরি চারকোলের চাহিদাও রয়েছে চীনসহ বিভিন্ন দেশে।

    জানতে চাইলে বহুমুখী পাটপণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েশনের এমডি মো. রাশেদুল করিম বলেন, ‘পাটের সুতা ও বস্তায় প্রতি টনে খুবই কম মুনাফা করেন আমাদের ব্যবসায়ীরা। ফলে কাঁচা পাটের দাম বেড়ে গেলে মুনাফা ধরে রাখতে হিমশিম খান তাঁরা। পাট খাতের রপ্তানি বাড়াতে হলে বহুমুখী পণ্য উৎপাদন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে চীন, ভারতের মতো কয়েকটি দেশ এগিয়ে গেছে। তাই বহুমুখী পাটপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে হলে নতুন নতুন পণ্য উন্নয়নে গবেষণার পাশাপাশি এই খাতে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসতে হবে। তাহলে দেশীয় উদ্যোক্তারা নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে পারবেন।’

  • ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজার না বুঝে, বিনিয়োগ করেন’

    ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজার না বুঝে, বিনিয়োগ করেন’

    পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছেন, বিগত চার দশকে পুঁজিবাজারের প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। কিন্তু, তাদের অধিকাংশের পুঁজিবাজার নিয়ে জ্ঞান নেই। অথচ, তারা মনে করেন যে, তারা শেয়ারবাজার বোঝেন।

    তিনি বলেন, এসব বিনিয়োগকারী শুনে শুনে বিনিয়োগ করেন। তারা গেম্বলারদের পেছনে ছোটেন। তারা যখন কোনো শেয়ার কেনেন, তারা সবাই একটি শেয়ারই কেনেন। এতে তারা বারবার মার্কেট ম্যানুপুলেটারদের মাধ্যমে প্রতারিত হন।

    শনিবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট নিরসনে করণীয়’ শীর্ষক ছায়া সংসদে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী।

    বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের বিনিয়োগকারীরা দ্রুত বড়লোক হতে চান। তারা সেজন্য ভালো শেয়ারে না গিয়ে দুর্বল শেয়ারে বিনিয়োগ করেন। আমাদের দেশে তো বিনিয়োগকারীদের শেয়ারবাজার নিয়ে জ্ঞান নেই। এখানে কী করতে হবে? বিনিয়োগকারীদের গাইড করার লোক থাকতে হবে। এজন্য মিউচুয়াল ফান্ডের গুরুত্ব বাড়াতে হবে।

    তিনি বলেন, আমরা যে পদক্ষেপগুলো নিচ্ছি, তাতে বাজার ঘুরে দাঁড়াবেই। ভবিষ্যতে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ওপর তদারকিও অনেক বাড়িয়ে দেব। ফলে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর হাতে সিগনেচার প্রক্রিয়া রাখবো না। এটিকে ডিজিটালাইজড করা হবে। এতে ব্রোকারেজ হাউজগুলো যে প্রক্রিয়ার দুর্নীতি করে থাকে, সেটির আর সুযোগ থাকবে না।

    শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই প্রধান আরো বলেন, রেগুলেটর ও মার্কেট— দুটো দিকই দেখতে হবে। একটা দেখলে হবে না। গতবছর যে মার্জিন রুলস হলো, সেটি বাজারে বিনিয়োগকারীদের অনেকটা নিরাশ করেছে। তাই, আমরা এটিকে পুনরায় সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি।

    শীর্ষক ছায়া সংসদে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের পরাজিত করে প্রাইম ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন- অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক ফারুক মেহেদী, সাংবাদিক ইকবাল আহসান ও সাংবাদিক হোসাইন শাহাদাত।

  • ডিএসই’র সব সূচক নিম্নমুখী, লেনদেন ১,১১৮ কোটি টাকা

    ডিএসই’র সব সূচক নিম্নমুখী, লেনদেন ১,১১৮ কোটি টাকা

    সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দরপতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন প্রধান মূল্যসূচকসহ সব সূচক কমেছে।

    ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, আজ মোট ৪৯৫টি কোম্পানির ৩৩ কোটি ৪৮ লাখ ৭৬ হাজার ৪৪৫টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৮ কোটি ২৪ লাখ ৭৩ হাজার ৭৬২ টাকা।

    দিন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২৫ দশমিক ৯২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৯০০ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে নেমে আসে। ডিএসই-৩০ সূচক ১৫ দশমিক ২৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২২৭ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) ২ দশমিক ০৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২০৬ দশমিক ৮৬ পয়েন্টে অবস্থান করে।

    লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১০৩টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, ২৪০টির কমেছে এবং ৫২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

    লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০টি কোম্পানি হলো— টেকনো ড্রাগ, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, মালেক স্পিনিং, ফারইস্ট নিটিং, তৌফিকা ফুড, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, ব্র্যাক ব্যাংক, বিএসসি, সিটি ব্যাংক ও নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস।

    দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো— টেকনো ড্রাগ, ফার কেমিক্যাল, এআইবিবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, অগ্নি সিস্টেমস, অ্যাম্বি ফার্মা, এমএল ডাইং, সিলকো ফার্মা, এপেক্স ট্যানারি, আমান ফিড ও মীর আখতার।

    অন্যদিকে দর পতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো— উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি, বিআইএফসি, জিলবাংলা সুগার, জিকিউ বলপেন, সেনা ইন্স্যুরেন্স, জেনারেশন নেক্সট, সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, বিএসআরএম লিমিটেড ও সিএনএ টেক্সটাইলস।

  • চলতি মাসেই শুরু হতে পারে দাখিল কার্যক্রম

    চলতি মাসেই শুরু হতে পারে দাখিল কার্যক্রম

    অর্থবছর শুরু হলেও এখনো করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের কার্যক্রম শুরু হয়নি। বিদায়ি অর্থবছরে পাঁচ শ্রেণি ছাড়া ব্যক্তি করদাতার অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চলতি অর্থবছর থেকে ব্যক্তি করদাতার পাশাপাশি করপোরেট প্রতিষ্ঠানেরও অনলাইনে রিটার্ন দাখিল চালু করার কথা রয়েছে। প্রথমবারের মতো অনলাইনে করপোরেট রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম শুরুতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তবে চলতি জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহের দিকে ব্যক্তি করদাতাদার অনলাইনে রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, অনলাইনে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম শুরুর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে এ বছর আগাম রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে প্রণোদনা চালু করায় যত দ্রুত সম্ভব আমরা এটি শুরু করতে চাই। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে চলতি জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

    অনলাইন রিটার্ন দাখিল কার্যক্রমে সফটওয়্যার সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সিনোসিস আইটির চিফ সলিউশন অফিসার (সিএসও) আমার দেশকে বলেন, আয়কর আইনে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে, তার আলোকে সফটওয়্যারেও আপগ্রেডেশন করতে হচ্ছে। আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে আপগ্রেডেশনসহ এনবিআরকে হস্তান্তর করা হবে। এরপর এনবিআর এটি পর্যালোচনা করবে।

    অপরদিকে করপোরেট রিটার্নের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এনবিআরের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় চাহিদা দেওয়া হচ্ছে। সে অনুযায়ী সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের কাজ করতে হবে। যেহেতু এটি নতুন ডেভেলপমেন্ট, সেজন্য কিছুটা সময় লাগবে। কবে নাগাদ এটি সম্পন্ন হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দিনক্ষণ সম্পর্কে এখনই স্পষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে দুই থেকে তিন মাস সময় লেগে যেতে পারে।

    এদিকে, চলতি করবর্ষ থেকে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে করদাতারা যাতে ব্যাংকের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিটার্নে যুক্ত করতে পারেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করছে এনবিআর। এটি বাস্তবায়ন হলে করদাতাকে আলাদাভাবে ব্যাংকের তথ্য রিটার্নে উল্লেখ করতে হবে না। তবে এটি বাধ্যতামূলক করা হবে না বলে এনবিআর কর্মকর্তারা জানান।

    তারা বলেন, করদাতা যদি স্বেচ্ছায় ব্যাংকের তথ্য রিটার্নে দিতে চান, দিতে পারবেন। আবার না দিতে চাইলে ম্যানুয়ালি সেটি রিটার্নে দিতে পারবেন। কোনো কারদাতা যদি তার সব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে না দিয়ে কয়েকটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টের তথ্য দিতে চান সেটিও করতে পারবেন। তবে যেসব করদাতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য দিতে চাইবেন না, তারা নিরীক্ষা ঝুঁকির মধ্যে থাকবেন।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংকের চারটি তথ্য রিটার্নে উল্লেখ করতে হয়। এগুলো হচ্ছে—২০২৬ সালের ৩০ জুন অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স, সুদ থেকে আয়, সুদের আয় থেকে কর্তিত উৎসে কর এবং সার্ভিস চার্জ বাবদ কর্তিত অর্থ।

    এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এনবিআরের সঙ্গে জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অ্যাপ্লিকেশন প্রোগামিং ইন্টারফেস (এপিআই) রয়েছে। এর ফলে কোনো করদাতার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করে থাকলে কিংবা গাড়ির মালিকানা থাকলে, তার তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিটার্নে যুক্ত হয়। তবে আগামীতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঙ্গে এপিআই করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

    এনবিআরের প্রথম সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা বলেন, সব ধরনের আর্থিক লেনদেনের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিটার্নে যুক্ত করা গেলে কর ফাঁকির পরিমাণ কমবে এবং সরকারের রাজস্ব আহরণ বাড়বে।

    চলতি করবর্ষে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার রিটার্ন দাখিলে ব্যক্তি করদাতা ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের আয়কর রিটার্ন দাখিলে পুরো করবর্ষকে চারটি ভাগে বিভক্ত করেছে এনবিআর। নতুন বিধান অনুযায়ী, ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা যদি ২০২৫-২৬ আয়বর্ষের রিটার্ন চলতি করবর্ষের ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাখিল করেন তাহলে তিনি করছাড় সুবিধা পাবেন। এ সময়ে যিনি আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন তিনি আদায়যোগ্য করের ৫ শতাংশ কিংবা ২৫ হাজার মধ্যে যেটি কম; সেটি পাবেন।

    ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যেসব ব্যক্তি করদাতা আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন তারা নিয়মিত করদাতা হিসাবে বিবেচিত হবেন। এ সময়ে যারা রিটার্ন দাখিল করবেন তারা করছাড় সুবিধা যেমন পাবেন না, তেমনি জরিমানাও গুনতে হবে না। তবে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ সময়ে যেসব করদাতা রিটার্ন দাখিল করবেন, তাদেরকে জরিমানা গুনতে হবে। জরিমানার পরিমাণ হবে আদায়যোগ্য করের ২ শতাংশ কিংবা তিন হাজার টাকার মধ্যে যেটি সর্বোচ্চ।

    সবশেষ ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলকারীকে আদায়যোগ্য করের ৫ শতাংশ কিংবা ৫ হাজার টাকার মধ্যে যেটি সর্বোচ্চ তা পরিশোধ করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ ব্যক্তি খাত করদাতাদের জন্য আগেও জরিমানার বিধান ছিল। বিলম্বের জন্য ১ হাজার টাকা এবং প্রতিদিনের জন্য ৫০ টাকা হারে জরিমানা ধার্য করা ছিল।

    এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বিদায়ী অর্থবছরে ৪০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেছেন। অনলাইন রিটার্ন দাখিলকারীর বড় অংশই শূন্য রিটার্ন দাখিল করেছেন। অর্থাৎ তারা রিটার্ন দাখিল করলেও কোনো কর দেননি। তারা তাদের আয়কে করমুক্ত সীমার নিচে দেখিয়েছেন। বিগত করবর্ষে করমুক্ত আয়সীমা ছিল সাড়ে তিন লাখ। চলতি করবর্ষে ৫০ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৪ লাখ করা হয়েছে।

    ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ব্যতীত সব ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করে এনবিআর।

  • বিল গেটসের ফাউন্ডেশনে অনুদান দেবেন না বাফেট, এপস্টিন-কাণ্ডের জের

    বিল গেটসের ফাউন্ডেশনে অনুদান দেবেন না বাফেট, এপস্টিন-কাণ্ডের জের

    বিশ্বখ্যাত ধনকুবের ও বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট বিল গেটসের দাতব্য সংস্থায় আর অনুদান দেবেন না। সম্প্রতি মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের সঙ্গে যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এর জেরে বাফেট এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    ২০০৬ সালে বাফেট অঙ্গীকার করেছিলেন, জীবদ্দশায় প্রতিবছর বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের শেয়ার তৎকালীন বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনকে দান করবেন। তবে মঙ্গলবার তিনি যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের জন্য কয়েক শ কোটি ডলার মূল্যের শেয়ার দানের ঘোষণা দেন, সেখানে গেটস ফাউন্ডেশনের নাম নেই।

    এর পরিবর্তে ওই শেয়ার বাফেট পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি ফাউন্ডেশনের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। ৯৫ বছর বয়সী বাফেট জানিয়েছেন, আগামী ৮ বছরের মধ্যে তাঁর হাতে থাকা বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের বাকি সব শেয়ারও দান করে দেবেন।

    বাফেট বলেন, ‘মানুষের কবে মৃত্যু হবে, তার নিশ্চয়তা নেই। যেভাবেই হোক, ২০৩৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আমার বাকি সব শেয়ার ওই চার ফাউন্ডেশনকে দান করে যাব।’

    গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) এপস্টিন–সংক্রান্ত নথি প্রকাশ করলে বিল গেটসের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের বিষয়টি সামনে আসে। এর ছয় মাস পর বাফেট এ সিদ্ধান্ত নিলেন।

    দানসংক্রান্ত বিবৃতিতে বাফেট বিল গেটস বা জেফরি এপস্টিনের নাম উল্লেখ করেননি। তবে মার্চে সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘পুরো বিষয় প্রকাশিত হওয়ার পর বিল গেটসের সঙ্গে আমার আর কথা হয়নি।’

    বাফেট আরও বলেন, ‘আমি এমন পরিস্থিতিতে পড়তে চাই না। ধরুন, আমি অনেক কিছু জানি এবং সে জন্য আমাকে সাক্ষী হিসেবে ডাকা হবে।’

    গত ২০ বছরে বাফেট গেটস ফাউন্ডেশনকে মোট ৪৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন। এ বিষয়ে গেটস ফাউন্ডেশন বিবিসিকে জানায়, ওয়ারেন বাফেট গত কয়েক দশক ফাউন্ডেশনের কাজে সহায়তা করেছেন, সে জন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা।

    ফাউন্ডেশন আরও জানায়, বিল গেটস ২০০ বিলিয়ন বা ২০ হাজার কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতির দিয়েছেন, তার কল্যাণে ফাউন্ডেশন আর্থিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে আছে। এ বাস্তবতায় ফাউন্ডেশন ২০৪৫ সাল পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

    জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে কী সম্পর্ক—সে বিষয়ে জবাব দেওয়া জন্য জুন মাসে বিল গেটসকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির সামনে ডাকা হয়। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে নারী পাচারের অভিযোগে বিচার শুরুর অপেক্ষায় ছিলেন জেফরি এপস্টিন। তখন কারাগারেই তাঁর মৃত্যু হয়।

    জবানবন্দিতে গেটস বলেন, ২০১১ সালে এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। যাঁরা তাঁর সঙ্গে এপস্টিনের পরিচয় করিয়ে দেন, তাঁরা ধারণা দিয়েছিলেন, গেটস ফাউন্ডেশন যে স্বাস্থ্য খাতে অনুদান দিয়ে থাকে, এপস্টিন সেই কাজে সহায়তা করতে পারেন। অর্থাৎ তিনি কয়েক শ কোটি ডলারের অনুদান সংগ্রহে সহায়তা করতে পারেন।

    গেটস বলেন, ‘আমি জানতাম, এপস্টিনের বিরুদ্ধে আগে কিছু আইনি অভিযোগ ছিল। কিন্তু তিনি যে এমন ভয়াবহ অপরাধ করেছেন, তা বুঝতে পারিনি।’ ২০০৮ সালে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক নারীকে যৌনকর্মে প্রলুব্ধ করা এবং ১৮ বছরের কম বয়সী আরেকজনকে যৌনকর্মে যুক্ত করার অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন এপস্টিন।

    গেটস কমিটিকে বলেন, ‘প্রথম থেকেই আমার এপস্টিনের সঙ্গে দেখা করা উচিত হয়নি। এখন যা জানি, তাতে বুঝতে পারছি—তিনি প্রতিশ্রুত অনুদানদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিলেও তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক রাখা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।’

    একসময় বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের বড় সমর্থক ছিলেন ওয়ারেন বাফেট। ২০০৬ সালে তিনি বলেছিলেন, সংস্থাটির কার্যক্রম প্রকৃত অর্থেই প্রশংসনীয়। সে কারণে বাফেট প্রতিবছর অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

    ২০১০ সালে বাফেট, বিল গেটস ও মেলিন্ডা গেটস মিলে গিভিং প্লেজ উদ্যোগ চালু করেন। লক্ষ্য ছিল বিশ্বের অতিধনীদের জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর পর সম্পদের অধিকাংশ দান করতে উৎসাহিত করা।

    ২০২১ সালে ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানেন বিল ও মেলিন্ডা গেটস। এরপর ২০২৪ সালে মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন থেকে সরে দাঁড়ান। তবে দাতব্য কার্যক্রম থেকে সরে আসেননি তিনি। ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্রে নারীর অধিকার উন্নয়নে ১০০ কোটি ডলার অনুদান দেবেন তিনি।