অর্থ ও বাণিজ্য

  • ১১ ব্যাংক ও এক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পিকেএসএফর চুক্তি

    ১১ ব্যাংক ও এক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পিকেএসএফর চুক্তি

    দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোগ অর্থায়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকিং খাতের অর্থ পৌঁছে দিতে ১১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ১টি আর্থিক কোম্পানির সঙ্গে ক্রেডিট গ্যারান্টি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। প্রতিষ্ঠানটির বাস্তবায়নাধীন ‘ক্রেডিট এনহ্যাঞ্চমেন্ট স্কিমস’-এর আওতায় পৃথক বারোটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পিকেএসএফ ভবনে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    চুক্তি স্বাক্ষরকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলো- ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, কমার্সিয়াল ব্যাংক অব সিলন, ঢাকা ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক এবং দ্য ইউএই-বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইউবিকো)। এই চুক্তির ফলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পিকেএসএফ-এর বিভিন্ন সহযোগী সংস্থাসমূহকে তাদের ক্ষুদ্র উদ্যোগ অর্থায়ন কার্যক্রমে সর্বমোট ২ হাজর ৮০০ কোটি টাকা গ্যারান্টিযুক্ত ঋণ প্রদান করতে পারবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক কোম্পানিগুলো।

    অনুষ্ঠানে পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের বলেন, দেশের স্বল্প আয়ের মানুষদের উদ্যোক্তায় রূপান্তরের যে উদ্যোগ পিকেএসএফ গ্রহণ করেছে, তার সফল বাস্তবায়নে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পৃক্ত করতেই এ স্কিম চালু করা হয়েছে। এই স্কিমের আওতায় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পিকেএসএফ-এর সহযোগী সংস্থাগুলো তা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করবে এবং ঋণের গ্যারান্টি প্রদান করবে পিকেএসএফ।

    পিকেএসএফ-এর নিবিড় তদারকির ফলে ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও যোগ করেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়সংগত প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং খাতের অর্থ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে পিকেএসএফ-এর এই স্কিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অনুষ্ঠানে পিকেএসএফ-এর পক্ষে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহম্মদ হাসান খালেদ এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকবৃন্দ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্রেডিট এনহ্যান্সমেন্ট স্কিমের কার্যক্রম শুরু হয়। বাস্তবায়নের প্রথম বছরে পিকেএসএফ-এর সঙ্গে ১০টি ব্যাংক ও ১টি আর্থিক কোম্পানি চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। এর মধ্যে ৬টি ব্যাংক ও ১টি আর্থিক কোম্পানি ইতোমধ্যে ২৬টি সহযোগী সংস্থার ক্ষুদ্র উদ্যোগ অর্থায়ন কার্যক্রমে মোট ১,০৮২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ সম্পন্ন করেছে।

  • মার্জিন বিধিমালার খসড়া সংশোধনে ‘মতামত’ চেয়েছে বিএসইসি

    মার্জিন বিধিমালার খসড়া সংশোধনে ‘মতামত’ চেয়েছে বিএসইসি

    বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’-এর খসড়া সংশোধনী বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত, পরামর্শ ও আপত্তি আহ্বান করেছে।

    বিএসইসির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, খসড়া সংশোধনীর ওপর মতামত গ্রহণের লক্ষ্যে সোমবার (২০ জুলাই) বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। একইসাথে কমিশনের ওয়েবসাইটেও খসড়া সংশোধনী প্রকাশ করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে কমিশনে লিখিতভাবে মতামত, পরামর্শ বা আপত্তি পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    বিএসইসি জানায়, সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ অনুযায়ী কোনো বিধিমালা প্রণয়ন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত গ্রহণ একটি স্বাভাবিক ও আইনসম্মত প্রক্রিয়া। সেই ধারাবাহিকতায় খসড়া সংশোধনী জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।

    সংস্থাটি আরো জানায়, প্রাপ্ত মতামত, পরামর্শ ও আপত্তি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন বা পরিমার্জন শেষে বিধিমালাটি চূড়ান্ত করে সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হবে।

    বর্তমানে প্রকাশিত খসড়া সংশোধনী কেবল একটি প্রস্তাবনা, এটি কোনো চূড়ান্ত সংশোধনী নয়। তাই অসম্পূর্ণ তথ্য বা ভুল ব্যাখ্যার ভিত্তিতে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো কারণ নেই বলেও বিএসইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    কমিশনের মতে, প্রস্তাবিত সংশোধনীর উদ্দেশ্য হলো- বিদ্যমান বিধিমালাকে আরো সহজ, বাস্তবসম্মত, ব্যবহারবান্ধব ও কার্যকর করা। অংশীজনদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে এমন একটি বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে, যা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের পাশাপাশি পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

    বিএসইসি সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে গঠনমূলক মতামত দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে যথাযথ ধারণা নিয়ে খসড়া সংশোধনী পর্যালোচনা করা হলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি বা উদ্বেগের সৃষ্টি হবে না।

  • আবার ও বাড়লো  স্বর্ণের দাম

    আবার ও বাড়লো স্বর্ণের দাম

    টানা দুই দফা মূল্যহ্রাসের পর দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে বাজুসের চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন মূল্যতালিকা একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।

    সংশোধিত মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৪৬৮ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৬৬ টাকা প্রতি ভরি।

    সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য কার্যকর থাকবে। তবে অলংকারের নকশা ও মানভেদে মজুরিতে পার্থক্য হতে পারে। পাশাপাশি, স্বর্ণালংকারের বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

    এর আগে, গত ১৪ জুলাই বাজুস সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে। সে সময় ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

    চলতি বছরে এ পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৯২ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪ বার দাম বেড়েছে, ৪৭ বার কমেছে এবং একবার ভ্যাটে সমন্বয় আনা হয়েছে।

  • ভোলা রক্ষায় ৬৮৫ কোটি টাকার প্রকল্প

    ভোলা রক্ষায় ৬৮৫ কোটি টাকার প্রকল্প

    মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের কবল থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া এবং মেদুয়া এলাকা রক্ষায় ৬৮৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকার একটি নতুন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য আগামীকাল বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উঠছে। পুরো অর্থই সরকারি তহবিল (জিওবি) থেকে ব্যয় করা হবে। নদীতীর সংরক্ষণ, উপকূলীয় বাঁধ পুনর্বাসন, বাঁধের ঢাল সুরক্ষা এবং পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমানোই প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য।

    তবে মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলাধীন শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষা প্রকল্পটি একনেকে যাওয়ার আগে পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) একাধিক বিষয়ে আপত্তি জানায়। বিশেষ করে মাত্র চার কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণে ৫০৫ কোটি টাকার বেশি ব্যয়কে অত্যধিক বলে মন্তব্য করে ব্যয় পুনঃযাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়।

    পরে কয়েকটি খাত বাদ দিয়ে নামমাত্র কিছু ব্যয় কমিয়ে ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা করা হয়। একই সঙ্গে বাঁধ পুনর্বাসন, ঢাল সংরক্ষণ, পানি নিষ্কাশন কাঠামো নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ও ক্রয় পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংশোধন এনে পুনর্গঠিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়।

    পরিকল্পনা কমিশনের একনেকের জন্য প্রস্তুত করা সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। চলতি বছরের মার্চ থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।

    কেন প্রয়োজন এই প্রকল্প

    সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, মেঘনা নদীর ভাঙনে প্রতি বছর ভোলা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নদীতে বিলীন হচ্ছে। বর্তমানে ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ও ধনিয়া ইউনিয়ন এবং দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের প্রায় চার কিলোমিটার অরক্ষিত অংশে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

    অন্যদিকে অতিজোয়ার ও ঘূর্ণিঝড়জনিত জলোচ্ছ্বাসে প্রায় ছয় কিলোমিটার মাটির বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পোল্ডারের ভেতরে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করছে। এতে কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাজার, বসতভিটাসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতাও তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নদীতীর সংরক্ষণ, উপকূলীয় বাঁধ পুনর্বাসন, ঢাল সুরক্ষা এবং দুটি পানি নিষ্কাশন কাঠামো নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    কী কী কাজ হবে

    প্রকল্পের আওতায় চার কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ছয় কিলোমিটার উপকূলীয় বাঁধ পুনর্বাসন, ৫ দশমিক ২০ কিলোমিটার বাঁধের ঢাল সংরক্ষণ এবং দুটি নিষ্কাশন কাঠামো নির্মাণ করা হবে। সরকারের দাবি, এসব কাজ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৩ হাজার ৮০৪ কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা পাবে। পাশাপাশি প্রায় ২ হাজার ২০০ হেক্টর কৃষিজমি জলাবদ্ধতার হাত থেকে সুরক্ষিত হবে। এছাড়া প্রায় ৬৫ হাজার ৪৭২ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

    ব্যয়ের বড় অংশ নদীতীর সংরক্ষণে

    প্রকল্পের সবচেয়ে বড় ব্যয় ধরা হয়েছে নদীতীর সংরক্ষণ কাজে। মোট ব্যয়ের প্রায় ৭৩ শতাংশই এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পিইসি সভায় এ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সভায় বলা হয়, চার কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণে ৫০৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকার প্রাক্কলন অত্যধিক মনে হচ্ছে। তাই ব্যয় পুনর্বিবেচনা করে কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

    জবাবে পাউবো জানায়, প্রকল্প এলাকায় নদীর স্কাওয়ার গভীরতা মাইনাস ৩৩ মিটার এবং পানির প্রবাহের গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩ দশমিক ০৬ মিটার। এ কারণে স্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ৫০ থেকে ৭০ মিটার অ্যাপ্রন এবং প্রতি মিটারে ৯৫ ঘনমিটার ডাম্পিং ভলিউম প্রয়োজন। এর মধ্যে অর্ধেক জিওব্যাগ এবং বাকি অর্ধেক কংক্রিট ব্লক ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। সংস্থাটির মতে, এর চেয়ে কম উপকরণ ব্যবহার করলে স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না।

    আরো যেসব আপত্তি তোলা হয়

    পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পিইসি সভায় শুধু নদীতীর সংরক্ষণ নয়, আরো কয়েকটি বিষয়ে সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়। দৌলতখানের মেদুয়া ইউনিয়নের ৮০০ মিটার বাঁধে কংক্রিট ব্লক ব্যবহার না করে কেবল টার্ফিংসহ মাটির বাঁধ নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়। বাঁধ পুনর্বাসন ও ঢাল সুরক্ষা কাজের ব্যয় পৃথকভাবে দেখাতে বলা হয়। প্রতি ২০০ থেকে ২৫০ মিটার অন্তর প্রয়োজনীয় মাটির পরিমাণ ছক আকারে উপস্থাপনের নির্দেশও দেওয়া হয়।

    এছাড়া পানি নিষ্কাশন কাঠামো নির্মাণের ব্যয় ৩১ কোটি টাকার মধ্যে সীমিত রাখা, মূল্য ও ভৌত কন্টিনজেন্সি মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ, প্রকল্প-পরবর্তী বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৩ কোটি ৬১ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা এবং ক্রয় পরিকল্পনায় পদ্ধতি ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক দাবি

    প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ২০২৩ সালের মে মাসে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) সম্পন্ন করে। ওই সমীক্ষার সুপারিশের ভিত্তিতেই প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে ১২ শতাংশ ডিসকাউন্ট রেট ধরে প্রকল্পটির নেট প্রেজেন্ট ভ্যালু (এনপিভি) ২২০ কোটি ৫০ লাখ টাকা, বেনিফিট-কস্ট রেশিও (বিসিআর) ১ দশমিক ৫৬ এবং অভ্যন্তরীণ মুনাফার হার (আইআরআর) ১৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ পাওয়া গেছে। তাই পরিকল্পনা কমিশনের মতে, প্রকল্পটি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। তবে এটি থেকে সরাসরি কোনো আর্থিক আয় হবে না বলে পৃথক আর্থিক বিশ্লেষণ করা হয়নি।

    পরিকল্পনা কমিশনের মত

    পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো মেঘনার ভাঙন থেকে সুরক্ষা পাবে। একই সঙ্গে উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালী হওয়ায় বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়বে। এসব বিবেচনায় কমিশন প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করেছে।

  • নকল ওয়েবসাইট ও ফেসবুক খুলে ঋণ প্রতারণা, সতর্ক করল এডিবি

    নকল ওয়েবসাইট ও ফেসবুক খুলে ঋণ প্রতারণা, সতর্ক করল এডিবি

    এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) নাম, লোগো এবং কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায়ের প্রতারণা সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রতারকেরা এডিবি ও এর কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে নকল ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, ভুয়া পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য প্রতারণামূলক উপকরণ তৈরি করছে।

    এসব তথ্য জানিয়ে আজ সোমবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন প্রতারণা নিয়ে সতর্ক করেছে এডিবির ঢাকা কার্যালয়।

    কিছুদিন আগে বিশ্বব্যাংকের নাম ব্যবহার করে প্রায় একই ধরনের ঋণ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছিল। তখন বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সতর্ক করেছিল।

    ব্যক্তিকে ঋণ ও অনুদান দেয় না এডিবি

    আজ পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এডিবি বলেছে, এডিবি কখনো কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি ঋণ, অনুদান, তহবিল বা অন্য কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে না। একইভাবে এডিবি কোনো ব্যক্তির কাছে আর্থিক সহায়তার বিনিময়ে ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য চায় না এবং মোবাইল ব্যাংকিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে অর্থ জমা দেওয়ারও অনুরোধ করে না।

    এডিবি আরও বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, প্রতারকেরা এডিবি ও এর কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে নকল ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, ভুয়া পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য প্রতারণামূলক উপকরণ তৈরি করছে। এসবের মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এডিবির কোনো সম্পর্ক বা সম্পৃক্ততা নেই।

    জনসাধারণকে এ ধরনের ভুয়া ঋণের প্রস্তাব সম্পর্কে সতর্ক থাকার এবং এ ধরনের যোগাযোগে কোনো ধরনের সাড়া না দেওয়ার জন্য জোরালোভাবে পরামর্শ দিয়েছে এডিবি। এ ছাড়া এডিবির ঋণ বা আর্থিক সহায়তার নামে কেউ যোগাযোগ করলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করেছে সংস্থাটি।

    এডিবি বলেছে, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে এডিবি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার এবং বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে। তাই এডিবির প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে কেউ যদি সরাসরি ব্যক্তিপর্যায়ে ঋণ বা আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেয়, তবে সেটি প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হবে।

  • টেকসই উৎপাদনে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল ইভিটেক্স ড্রেস শার্ট লিমিটেড

    টেকসই উৎপাদনে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল ইভিটেক্স ড্রেস শার্ট লিমিটেড

    টেকসই উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব শিল্পচর্চা এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ইভিন্স গ্রুপের ইভিটেক্স ড্রেস শার্ট লিমিটেড আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬ এ ‘বছরের সবচেয়ে টেকসই তৈরি পোশাক কারখানা’ সম্মাননা অর্জন করেছে।

    ইভিন্স গ্রুপের লিড সংস্করণ ৪.১ প্লাটিনাম সনদপ্রাপ্ত সবুজ কারখানা ইভিটেক্স ড্রেস শার্ট লিমিটেড এ সম্মাননা অর্জন করে।

    গত ১৮ জুলাই রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে মার্কটেল বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. শরিফুল দুলু ইভিন্স গ্রুপের পরিচালক সানজানা শেহনাজ চৌধুরীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা তুলে দেন।

    টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল উৎপাদন ব্যবস্থা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জ্বালানি ও সম্পদের দক্ষ ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক মানের সবুজ শিল্পচর্চায় ধারাবাহিক অঙ্গীকারের স্বীকৃতি হিসেবে ইভিটেক্স ড্রেস শার্ট লিমিটেড এ সম্মাননা অর্জন করেছে।

  • ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা আয়ে রেকর্ড ফিফার

    ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা আয়ে রেকর্ড ফিফার

    দীর্ঘ লড়াই শেষে স্পেনের জয়ের মাধ্যমে পর্দা উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়াপ্রতিযোগিতা আসরের। জমজমাট এই আয়োজন থেকে রেকর্ড পরিমাণ আয় করেছে এর আয়োজক ফিফা। রেকর্ড ১,৫০০ কোটি মার্কিন ডলার আয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে যাচ্ছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান। বিশ্ব ফুটবলের এই মেগা ইভেন্ট থেকে ধারণার চেয়েও অনেক বেশি অর্থ আয় হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ফিফা ১১ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। তবে সব হিসাব ছাড়িয়ে আয় বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি শনিবার সদস্য দেশগুলোর অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে নিশ্চিত করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সংবাদের তথ্য অনুযায়ী, আজকের ডলারের বিনিময় হার (১ ডলার = ১২৩.১২ টাকা হিসাবে) অনুযায়ী ফিফার এই মোট আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা।

    আয়ের মূল উৎস টিকিট বিক্রি:

    ফিফা সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিপুল পরিমাণ আয় বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বিশেষ হসপিটালিটি প্যাকেজ এবং টিকিটের বিশাল চাহিদা। বিশেষ করে চড়া দামের ‘সেকেন্ডারি টিকিট মার্কেট’ থেকে আয়ের বড় অংশ এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, সেকেন্ডারি মার্কেটে টিকিট কেনাবেচার সময় ক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ এবং বিক্রেতার কাছ থেকে আরও ১৫ শতাংশ মোট ৩০ শতাংশ কমিশন আদায় করে ফিফা। ফাইনাল ম্যাচের আগের দিন শনিবারও নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনালের ভিআইপি ও হসপিটালিটি প্যাকেজ ফিফার টিকিট পোর্টালে ট্রফি লাউঞ্জ প্যাকেজ হিসেবে ব্যক্তিপ্রতি সর্বোচ্চ ৩৪,৫০০ ডলারে (প্রায় ৪২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা) বিক্রি হতে দেখা গেছে।

    সদস্য দেশগুলোর লাভ ও ইনফান্তিনোর অবস্থান:

    বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত এই বাম্পার রেভিনিউ বা রেকর্ড রাজস্বের সুবিধা ফিফার সদস্যভুক্ত ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোও পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও তাদের মধ্যে অতিরিক্ত অর্থ কীভাবে বণ্টন করা হবে সেই সম্পর্কিত চূড়ান্ত বিবরণী এখনো তৈরি হয়নি। তবে এই বিশাল আর্থিক সাফল্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে মাসব্যাপী আয়োজিত বিতর্কের পর জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর অবস্থানকে ফুটবল অঙ্গনে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি শেষ ৩২-এর ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে আমেরিকার স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড স্থগিতের বিষয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের কাছে ফিফা নতিস্বীকার করেছে এমন অভিযোগে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর (এফএ) মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও ২০২৭ সালের মার্চে হতে যাওয়া পরবর্তী ফিফা নির্বাচনে ইনফান্তিনোর পক্ষে এরই মধ্যে ২০০টিরও বেশি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের সমর্থন নিশ্চিত হয়েছে। বিশ্বকাপের অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের সুবাদে অসন্তুষ্ট দেশগুলোও হয়তো প্রকাশ্যে কোনো প্রতিবাদ জানাবে না।

    এই নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সাফল্যের ফলে অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ফের বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পেতে পারে। পরবর্তী খালি থাকা ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের জন্য যুক্তরাষ্ট্র আবারও বিড করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একটি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে, তার দেশ আবারও এটি আয়োজন করতে ইচ্ছুক এবং এবার তারা কানাডা ও মেক্সিকোকে ছাড়া এককভাবে আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়েও ফিফার সাথে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

  • এডিবি’র নামে ভুয়া ঋণের ফাঁদ, সতর্কবার্তা জারি

    এডিবি’র নামে ভুয়া ঋণের ফাঁদ, সতর্কবার্তা জারি

    এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) নাম, লোগো এবং কর্মকর্তাদের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে ঋণ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে একদল প্রতারক চক্র। এমন পরিস্থিতিতে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক এই দাতা সংস্থা।

    আজ সোমবার ঢাকাস্থ এডিবি’র কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে এডিবি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা কখনোই কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি ঋণ, অনুদান, তহবিল বা অন্য কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে না। একইভাবে, কোনো ব্যক্তির কাছে আর্থিক সহায়তার বিনিময়ে ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য চায় না এবং মোবাইল ব্যাংকিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে কোনো টাকা জমা দেয়ারও অনুরোধ করে না।

    সাম্প্রতিক সময়ে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, প্রতারকরা এডিবি ও এর কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে নকল ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, ভুয়া পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য প্রতারণামূলক উপকরণ তৈরি করছে। এসবের মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সাথে এডিবির কোনো সম্পর্ক বা সম্পৃক্ততা নেই।

    জনসাধারণকে এ ধরনের ভুয়া ঋণের প্রস্তাব সম্পর্কে সতর্ক থাকার এবং কোনো ধরনের লেনদেন বা যোগাযোগ না করার জন্য জোরালোভাবে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এডিবি’র ঋণ বা আর্থিক সহায়তার নামে কেউ যোগাযোগ করলে বিষয়টি অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করেছে সংস্থাটি।

    বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে এডিবি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার এবং বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে। তাই এডিবির প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে কেউ যদি সরাসরি ব্যক্তি পর্যায়ে ঋণ বা আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেয়, তবে সেটি নিশ্চিতভাবেই প্রতারণা। এ ধরনের প্রতারণা এড়িয়ে চলার প্রাতিষ্ঠানিক পরামর্শ ও বিস্তারিত তথ্য এডিবির অফিসিয়াল মাধ্যমে চোখ রাখতে বলা হয়েছে।

  • একনেকে উঠছে ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প

    একনেকে উঠছে ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প

    ছয় মাস অনিশ্চয়তায় থাকার পর অবশেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উঠছে দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো উদ্যোগ ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব। একনেক সভায় এটিসহ আরো আট প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে।

    আগামী বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠেয় একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি উপস্থাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে পরিকল্পনা বিভাগ।

    পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, এক্সপ্রেসওয়ে সংশোধনী অনুমোদিত হলে প্রকল্পটির নকশায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ অন্তর্ভুক্ত হবে। এগুলো হলো—বাইপাইল ইন্টারচেঞ্জ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে প্রবেশ ও বহির্গমন সুবিধা এবং নির্মাণাধীন এমআরটি লাইন-১ (পাতাল মেট্রোরেল)-এর সঙ্গে সমন্বিত যোগাযোগ। এসব সংযোজনের ফলে রাজধানী ও আশপাশের সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে এক্সপ্রেসওয়ের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    একইসঙ্গে প্রকল্পটির ব্যয়ও বড় পরিসরে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। শুরুতে ১৬ হাজার ৯০১ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হলেও পরে প্রথম সংশোধনীতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। এবার দ্বিতীয় সংশোধনীতে আরো ৯ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা যোগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অনুমোদন মিললে মোট ব্যয় হবে ২৬ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা, যা মূল প্রাক্কলনের তুলনায় প্রায় ৫৫ দশমিক ১৫ শতাংশ বেশি।

    প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, ভ্যাট ও আয়কর কাঠামোর পরিবর্তন, কাস্টমস শুল্ক বৃদ্ধি, ইউটিলিটি স্থানান্তর, অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ, পরামর্শক সেবার ব্যয় এবং নতুন অবকাঠামো সংযোজনের কারণে ব্যয় পুনঃনির্ধারণের প্রয়োজন হয়েছে। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থায় চীনের অর্থায়নে। প্রকল্পের অর্থায়নের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে পাঁচ হাজার ৯৫১ কোটি ৪১ লাখ এবং চীনের ঋণ থেকে ১০ হাজার ৯৪৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

    প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর কাওলা থেকে আব্দুল্লাহপুর, কামারপাড়া, ধউর, আশুলিয়া, জিরাবো, বাইপাইল ও সাভার ইপিজেড হয়ে শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ওঠানামার সুবিধার জন্য একাধিক সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজও চলছে। এটি চালু হলে উত্তরাঞ্চলগামী যানবাহনের রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একইসঙ্গে বিমানবন্দর এলাকা, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, এশিয়ান হাইওয়ে এবং দেশের বিভিন্ন জাতীয় মহাসড়কের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত হবে।

    প্রকল্পটির অগ্রগতি বিবেচনায় সময়সীমাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়ে ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঋণচুক্তি সম্পন্ন হতে দীর্ঘ বিলম্ব হওয়ায় মাঠ পর্যায়ের কাজ পিছিয়ে যায়। পরে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। বর্তমানে অবশিষ্ট নির্মাণ শেষ করতে আরো চার বছর সময় চেয়ে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত নতুন সময়সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    সরকারি নথি অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১১ হাজার ৭৩৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এতে আর্থিক অগ্রগতি ৬৬ দশমিক ৮৬ শতাংশে পৌঁছেছে। ভৌত কাজের অগ্রগতি ৫২ শতাংশ অতিক্রম করেছে। তবে বাস্তবায়নকারী সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৫৮ দশমিক পাঁচ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।

    এদিকে একই বৈঠকে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পাশাপাশি আরো আটটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ভোলা জেলার নদীভাঙন প্রতিরোধ, বৃহত্তর দিনাজপুরে সমন্বিত উন্নয়ন ও পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন, দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও সংস্কার, বেগমগঞ্জ ও সুনেত্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন, সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারণ-সংক্রান্ত প্রকল্প।

  • বিশ্বকাপের ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি ১৭ হাজার কোটি

    বিশ্বকাপের ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি ১৭ হাজার কোটি

    ফিফা বিশ্বকাপ মানে শুধু মাঠের লড়াই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বৈশ্বিক অর্থনীতি। গতকাল শেষ হওয়া বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পেদের মতো তারকাদের খেলা দেখতে ব্যস্ত থাকায় বিশ্বব্যাপী উৎপাদনশীলতায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ইউকেজি’র এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

    বিশ্বকাপের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রায় ১৭ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের উৎপাদনশীলতা নষ্ট হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দুই লাখ কোটি টাকার সমান। তবে এই ক্ষতির ধাক্কা সবচেয়ে বেশি সইতে হয়েছে টুর্নামেন্টের অন্যতম স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে। দেশটিতে কেবল উৎপাদনশীলতা হ্রাসের মাধ্যমেই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৭০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা।

    গত ৬ জুলাই শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে হেরে যুক্তরাষ্ট্র টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পরদিন দেশটির অফিসগুলোতে হঠাৎ করেই কর্মীদের উপস্থিতি ২৬ শতাংশ কমে যায়। অফিসে এই অনুপস্থিতির হার ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসব ‘সুপার বোল’ ফাইনালের পরের দিনের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি। ওইদিন করপোরেট দুনিয়ায় ক্লায়েন্ট মিটিং, চাকরির সাক্ষাৎকার এবং ব্যবসায়িক বৈঠকের সংখ্যা কমে যায় প্রায় ৩২ শতাংশ।

    অস্বাভাবিক এই কর্মদিবসটির নাম দেওয়া হয় ‘নকআউট টিউসডে’। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচগুলোর দিনেই অফিস পাড়ায় এই অনুপস্থিতি ছিল সবচেয়ে প্রকট। বিশ্বকাপের এই কর্মঘণ্টা ক্ষতি ও অতিরিক্ত যানজট এড়াতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। জেপি মরগান চেস, গোল্ডম্যান স্যাকস এবং এসঅ্যান্ডপির মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ম্যাচের দিনগুলোতে কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজের সুযোগ করে দেয়।

    এদিকে, আর্জেন্টিনা ও স্পেনের রোমাঞ্চকর ফাইনালের পরদিনও যুক্তরাষ্ট্রের অফিসগুলোতে উপস্থিতি ১.৮৭ শতাংশ কম ছিল। ব্লুমবার্গের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বড় কোনো বৈশ্বিক ক্রীড়া বা বিনোদনমূলক আয়োজনের সময় কর্মক্ষেত্রে এমন প্রভাব পড়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। এর আগে অলিম্পিক গেমস কিংবা ২০২৩ সালে আলোচিত ‘বার্বি’ ও ‘ওপেনহাইমার’ সিনেমা মুক্তির সময়ও বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারে একই ধরনের পতন দেখা গিয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ যেভাবে মার্কিন অর্থনীতি ও করপোরেট উৎপাদনশীলতায় প্রভাব ফেলেছে, তা সাম্প্রতিককালের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।