অর্থ ও বাণিজ্য

  • প্রকল্প বাস্তবায়নে সংস্কার ও জবাবদিহিতা জোরদার করবে সরকার : জোনায়েদ সাকি

    প্রকল্প বাস্তবায়নে সংস্কার ও জবাবদিহিতা জোরদার করবে সরকার : জোনায়েদ সাকি

    পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো: জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব কমানো, জবাবদিহিতা জোরদার করা, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন, নির্মাণ খরচের রেট শিডিউল সংশোধন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তদারকি বাড়াতে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

    আজ বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক শেষে তথ্য অধিদফতরে (পিআইডি) সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    জোনায়েদ সাকি বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় রোধ এবং সরকারি বিনিয়োগকে আরো কার্যকর করার লক্ষ্যে এসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

    তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যবস্থা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে, যেখানে দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল সমন্বয়, দায়িত্বের ওভারল্যাপ এবং জবাবদিহির অভাবের কারণে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে এবং বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়েছে।

    তিনি জানান, আজকের একনেক সভায় মোট ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে আটটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

    এছাড়া ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষার একটি প্রকল্প পর্যবেক্ষণসহ ফেরত দেয়া হয়েছে। একনেকের সুপারিশ অনুযায়ী সংশোধন করে প্রকল্পটি পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করা হবে।

    সাকি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি প্রকল্প বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছেন এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং জনগণের করের অর্থের সর্বোচ্চ সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রকল্পভিত্তিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, এখন থেকে অনুমোদিত প্রতিটি প্রকল্প এই নির্দেশনা অনুসারেই বাস্তবায়ন করা হবে।

    তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা প্রকল্প প্রস্তুতি, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপ পর্যালোচনা করছেন। কোথায় অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হচ্ছে তা চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং জনগণের প্রতিটি টাকা যেন আরো দক্ষতার সাথে ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’

    প্রতিমন্ত্রী জানান, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অস্বাভাবিক দীর্ঘ সময় লাগা সরকারের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয়।

    তিনি উল্লেখ করেন, প্রচলিত নিয়মে একনেকের অনুমোদনের পরও কেবল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) পেতেই দেড় থেকে দুই বছর সময় লেগে যায়। অনেক ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কাজ দেরিতে শুরু হওয়ায় উন্নয়ন কাজের গতি কমে যায় এবং প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যায়।

    তিনি বলেন, ‘এই দীর্ঘসূত্রতা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং সরকারি বিনিয়োগের প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুফল পেতে বিলম্ব ঘটায়। উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

    সাকি জানান, সরকার তাই প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে এবং দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরি করছে।

    তিনি জানান, চলমান প্রকল্প এবং এডিপির ‘গ্রিন পেজ’-এ অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পগুলো ‘রি-স্কোপিং’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রকল্পের বিভিন্ন উপাদান সংযোজন, বিয়োজন, সম্প্রসারণ বা সংকোচন করা হবে।

    এর লক্ষ্য হলো সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার, পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত উন্নয়ন কাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অগ্রাধিকারের সাথে সরকারি বিনিয়োগকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বর্তমানে চারটি বড় সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

    প্রথমত, পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত উন্নয়ন কাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে। এর সারসংক্ষেপ প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর এটি জাতীয় নীতিপত্র হিসেবে প্রকাশ করা হবে।

    দ্বিতীয়ত, প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য একটি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড তৈরি করা হচ্ছে।

    তৃতীয়ত, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের জন্য দায়ী প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাগুলো পর্যালোচনা করে তা দূর করার সুপারিশ প্রণয়ন করা হচ্ছে।

    এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ইতোমধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যা বর্তমানে পর্যালোচনাধীন।

    সাকি জানান, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগে একটি খসড়া নীতিমালাও প্রণয়ন করা হচ্ছে।

    এই নীতিমালায় স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, যোগ্যতাভিত্তিক নির্বাচন এবং পিডিদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

    এ লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ মডিউল ও প্রাতিষ্ঠানিক কোর্স ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করার আশা করছে সরকার।

    চতুর্থত, পরিকল্পনা বিভাগ, আইএমইডি, বাংলাদেশ সরকারি ক্রয় কর্তৃপক্ষ (বিপিপিএ), বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক নাগরিক ডাটাবেজসমূহকে সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করতে ব্যাপক স্বয়ংক্রিয়করণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্মাণকাজের সংশোধিত রেট সিডিউল প্রণয়নে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি ইতোমধ্যে দুই দফা বৈঠক করেছে এবং আগামীকাল আবার বৈঠকে বসবে।

    ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও কেন ব্যয় বেড়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে সাকি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন, ভ্যাট ও করের হিসাবের পরিবর্তন, মূল ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত না থাকা ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তর এবং নতুন পাঁচটি উপাদান সংযোজনের কারণেই ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

    জবাবদিহির বিষয়ে তিনি বলেন, খুলনার রূপসা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে বিলম্বের ঘটনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদন একনেক সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

    সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সম্পন্ন হবে বলে সরকার আশা করছে।

    তিনি বলেন, নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে প্রকল্প বাস্তবায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে, সরকারি জবাবদিহি জোরদার হবে, এডিপি বাস্তবায়নের গতি বাড়বে এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

  • বেতনের টাকা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে কেন, কারণ জানলে চমকে যাবেন

    বেতনের টাকা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে কেন, কারণ জানলে চমকে যাবেন

    একসময় মাসের বেতন দিয়ে পুরো মাসের সংসার চালানো অনেক পরিবারের জন্য সম্ভব হতো। এখন সেই বাস্তবতা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বেতন হাতে পাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই অনেকের ব্যাংক হিসাব প্রায় শূন্য হয়ে যাচ্ছে। মাসের শেষ সপ্তাহ পার করতে ধার, ক্রেডিট কার্ড কিংবা আত্মীয়-স্বজনের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে অসংখ্য পরিবারকে। প্রশ্ন হচ্ছে— একই বেতন পেয়েও কেন মাসের শুরুতেই টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে?

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এর প্রধান কারণ শুধু মূল্যস্ফীতি নয়; বরং দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ ব্যবস্থার অদক্ষতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য, উচ্চ সুদহার, স্থবির বিনিয়োগ এবং মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাওয়ার সম্মিলিত প্রভাব।

    টানা চার অর্থবছরেও মূল্যস্ফীতিকে স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পারেনি সরকার। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমেছে। কিন্তু বাস্তবে বাজারে গিয়ে সাধারণ মানুষ সেই স্বস্তি পাচ্ছেন না।

    চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, সবজি— প্রায় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়। এর অর্থ হলো—দাম বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে। ফলে বাজারে মানুষ যে দামে পণ্য কিনছেন, তাতে বাস্তব স্বস্তি এখনও আসেনি।

    ১০০ টাকার বাজার এখন ১৪০ টাকারও বেশি

    মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে পরিবারের মাসিক বাজেটে।

    বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত চার অর্থবছরে ১০০ টাকার যে বাজার করা যেত, এখন সেই একই বাজার করতে খরচ হচ্ছে ১৪০ টাকারও বেশি।

    অন্যদিকে একই সময়ে বেতন বা মজুরি সেই হারে বাড়েনি। ফলে মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে। কাগজে-কলমে বেতন বাড়লেও সেই অর্থ দিয়ে আগের মতো পণ্য কেনা যাচ্ছে না।

    অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

    কৃষকের কাছ থেকে ২০ টাকা, ঢাকায় ৬০ টাকা দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির অন্যতম কারণ সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা।

    বগুড়ার মহাস্থানগড়সহ দেশের বিভিন্ন কৃষিপ্রধান এলাকা থেকে কম দামে কেনা সবজি রাজধানীতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে কয়েক হাত বদলায়। প্রতিটি ধাপে যুক্ত হয় কমিশন, পরিবহন ব্যয়, গুদাম খরচ, লাভ, কখনও অনানুষ্ঠানিক চাঁদাবাজির ব্যয়ও। ফলে কৃষক যে পণ্য ২০ টাকায় বিক্রি করেন, সেটিই ঢাকায় ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। শুধু সবজি নয়, চাল, ডিম, মাছ, মুরগি, দুধসহ অনেক পণ্যের ক্ষেত্রেই উৎপাদক ও খুচরা বাজারের দামের ব্যবধান দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত। অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি বাজার ব্যবস্থাপনার বড় ব্যর্থতা।

    কেন কমছে না বাজারের দাম?

    সরকার কয়েকটি নিত্যপণ্যে শুল্ক কমিয়েছে, আমদানিতে সুবিধা দিয়েছে এবং বাজার তদারকিও বাড়িয়েছে। তবুও কেন দাম কমছে না?

    বিশ্লেষকদের মতে, এর কয়েকটি কারণ রয়েছে। সেগুলো হলো– দীর্ঘ সরবরাহ শৃঙ্খল; অতিরিক্ত মধ্যস্বত্বভোগী; দুর্বল বাজার তদারকি; সীমিত প্রতিযোগিতা

    পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি; উচ্চ সুদহারে ব্যবসার খরচ বেড়ে যাওয়া; আগের বেশি দামে আমদানি করা পণ্যের মজুত।

    এ কারণে সরকারের দেওয়া অনেক সুবিধাই শেষ পর্যন্ত ভোক্তার কাছে পৌঁছাচ্ছে না।

    উচ্চ সুদের আরেক চাপ

    মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার বাড়িয়েছে। এতে ব্যাংক ঋণের খরচ বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঋণের সুদ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে অনেক পণ্যের দাম কমানোর সুযোগ থাকলেও ব্যবসায়ীরা তা পারছেন না।

    অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় কর্মসংস্থানও ধীর হয়ে পড়ছে।

    বেতন শেষ, ভরসা এখন ক্রেডিট কার্ড

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, দেশের ভেতরে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ২০২৬ সালের মে মাসে দেশে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা; যা এক বছরের ব্যবধানে ৩৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ডিপার্টমেন্ট স্টোরে। এটি স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে, মানুষ এখন শুধু বিলাসী কেনাকাটা নয়, দৈনন্দিন বাজার করতেও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করছেন।

    ব্যাংকারদের মতে, মাসিক আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান বাড়ায় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ধারনির্ভর জীবনযাপনের দিকে ঝুঁকছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরীর মতে, সাময়িকভাবে ক্রেডিট কার্ড স্বস্তি দিলেও আয় অনুযায়ী ঋণ পরিশোধ সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে এটি বড় আর্থিক ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।

    দক্ষিণ এশিয়ায় এখনও উচ্চ মূল্যস্ফীতি

    গত জুন মাসে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি ছিল বাংলাদেশে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে যাদের আয় নির্দিষ্ট, কিন্তু ব্যয় প্রতিদিন বাড়ছে, তাদের জন্য সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

    শুধু মুদ্রানীতি দিয়ে সমাধান নয়

    অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কার্যকর সমাধানের জন্য প্রয়োজন– কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ; অপ্রয়োজনীয় মধ্যস্বত্বভোগী কমানো; পাইকারি ও খুচরা বাজারে কার্যকর নজরদারি; ডিজিটাল কৃষি বিপণন সম্প্রসারণ; কোল্ড চেইন অবকাঠামো উন্নয়ন; বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি; চাঁদাবাজি ও কৃত্রিম সংকট কঠোরভাবে দমন; উৎপাদন ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা।

    কেন মাসের শুরুতেই বেতন শেষ হয়ে যাচ্ছে?

    অর্থনীতিবিদদের মতে, এর পেছনে কয়েকটি বড় কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। সেগুলো হলো– দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি; বেতনের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক দ্রুত বৃদ্ধি; নিত্যপণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি; কৃষক ও ভোক্তার দামের মধ্যে বিশাল ব্যবধান; বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা; উচ্চ সুদে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি; বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে স্থবিরতা এবং প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া।

    স্বস্তি ফিরবে কীভাবে?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরবে না। কৃষক যেন ন্যায্যমূল্য পান, ভোক্তা যেন যুক্তিসংগত দামে পণ্য কিনতে পারেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের অস্বাভাবিক মুনাফা কমানো যায়– এমন একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

    কারণ কাগজে-কলমে মূল্যস্ফীতি কমলেও যদি বাজারে গিয়ে মানুষ একই দামে চাল, ডিম, মাছ কিংবা সবজি কিনতে বাধ্য হন, তাহলে তাদের কাছে অর্থনীতির কোনও পরিসংখ্যানই স্বস্তির খবর হয়ে ওঠে না।

    বাস্তবতা হলো, আজ অনেক পরিবারের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন আর বেতন কত– তা নয়; বরং সেই বেতন দিয়ে মাসের কতদিন সংসার চালানো সম্ভব।

  • ব্যক্তিশ্রেণি করদাতারা আজ থেকে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন

    ব্যক্তিশ্রেণি করদাতারা আজ থেকে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন

    ২০২৬-২৭ করবর্ষের জন্য আজ থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবীব আনুষ্ঠানিকভাবে ই-রিটার্ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

    চলতি করবর্ষ থেকে আগাম রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে নতুন প্রণোদনা ঘোষণা করেছে এনবিআর। ২০২৬-২৭ করবর্ষে জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে করদাতারা নীট প্রদেয় করের ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা পাবেন। তবে নির্ধারিত সময়ের পর জমা দেওয়া রিটার্নের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া ডিসেম্বরের পর রিটার্ন দাখিল করলে অতিরিক্ত অর্থ বা জরিমানা পরিশোধ করতে হবে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রিটার্ন দাখিলের আহ্বান জানিয়েছে এনবিআর।

    এনবিআর ২০২১ সালে অনলাইন আয়কর রিটার্ন বা ই-রিটার্ন ব্যবস্থা চালু করে। পরে গত করবর্ষ থেকে এটি বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রবীণ করদাতা, সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার প্রতিনিধিরা এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরা কাগজে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

    এনবিআর জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ করবর্ষে রেকর্ড প্রায় ৪৭ লাখ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা ই-রিটার্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ফলে করদাতারা এখন ঘরে বসেই বার্ষিক আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত, দাখিল এবং প্রয়োজনীয় সনদ সংগ্রহ করতে পারছেন।

    সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদন নিয়ে কাগজে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

    এনবিআরের ই-ট্যাক্স প্ল্যাটফর্মে ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে কর পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। সঠিক তথ্য দিয়ে রিটার্ন দাখিল করলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ সংগ্রহ করা যাবে।

    অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে কোনো সমস্যা হলে সরকারি ছুটি ছাড়া অফিস চলাকালীন সময়ে এনবিআরের কল সেন্টার (০৯৬৪৩৭১৭১৭১) এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সহায়তা পাওয়া যাবে।

  • পরিচালক-এমডির অনিয়মের তথ্য গোপনে জানাতে পারবেন ব্যাংক কর্মকর্তারা

    পরিচালক-এমডির অনিয়মের তথ্য গোপনে জানাতে পারবেন ব্যাংক কর্মকর্তারা

    ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বা ইন্টারনাল অডিট ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনায় অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, কমপ্লায়েন্স ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আলাদা করা হয়েছে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ আগের চেয়ে আরো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো সব ব্যাংকে হুইসেলব্লোয়ার ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দুর্নীতি বা গুরুতর অনিয়মে জড়িত থাকলে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষকরা সেই তথ্য গোপনে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা বা পরিচালনা পর্ষদের অনুমতি লাগবে না।

    মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা (ইন্টারনাল কন্ট্রোল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম-আইসিএমএস) নির্দেশনা জারি করেছে। এর মাধ্যমে ২০১৬ সালের ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিপালন (গাইডলাইনস অন ইন্টারনাল কন্ট্রোল অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স ইন ব্যাংকস) নির্দেশনা বাতিল করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, ২০১৬ সালের নির্দেশনা তখনকার তদারকি ব্যবস্থার জন্য উপযোগী ছিল। কিন্তু এখন বাংলাদেশ ব্যাংক ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি (রিস্ক বেইজড সুপারভিশন-আরবিএস) চালু করেছে। তাই নতুন তদারকি ব্যবস্থার সঙ্গে মিল রেখে নির্দেশনা পরিবর্তন করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, নতুন নির্দেশনায় অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, কমপ্লায়েন্স ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা নির্দেশনা থাকবে, এই নির্দেশনায় মূলত অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্স কীভাবে পরিচালিত হবে, তা বলা হয়েছে।

    ওই কর্মকর্তা জানান, নতুন নির্দেশনার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্সকে আলাদা করা। আগে একজন হেড অব আইসিসি দুই বিভাগের দায়িত্ব পালন করতেন। এখন থেকে হেড অব ইন্টারনাল অডিট ও হেড অব কমপ্লায়েন্স আলাদা ব্যক্তি হবেন এবং তাদের পদমর্যাদাও সমান থাকবে। ফলে নিরীক্ষায় কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে সেটি উপেক্ষা করার সুযোগ কমে যাবে।

    তিনি আরো বলেন, হেড অব ইন্টারনাল অডিট সরাসরি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অডিট কমিটির কাছে রিপোর্ট করবেন। আগে তাকে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কাজ করতে হতো। এখন তিনি আরো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন।

    নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় পরিচালনা পর্ষদ বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ধরা পড়লে তা গোপনীয়ভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক তদারকি বিভাগে জানাতে হবে। ২০১৬ সালের নির্দেশনায় এমন বিধান ছিল না।

    এছাড়া প্রতিটি ব্যাংককে অভিযোগ গ্রহণের জন্য হটলাইন, ই-মেইল, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা সিলগালা লিখিত অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে। হুইসেলব্লোয়ারের পরিচয় গোপন রাখতে হবে এবং পর্যাপ্ত তথ্য থাকলে বেনামি অভিযোগও তদন্ত করতে হবে। অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে পদাবনতি, সাময়িক বরখাস্ত বা হয়রানির মতো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    ফরেনসিক, কনকারেন্ট ও ভার্চুয়াল অডিট

    নতুন নির্দেশনায় ফরেনসিক, কনকারেন্ট ও ভার্চুয়াল অডিট চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে জালিয়াতির তদন্ত করে আদালতে ব্যবহারযোগ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। কনকারেন্ট অডিটে লেনদেন চলার সময়ই নিয়মিত নজরদারি করা হবে। আর ভার্চুয়াল অডিটের মাধ্যমে দূর থেকে নিরাপদভাবে অডিট পরিচালনা করা যাবে।

    প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি

    ব্যাংকগুলোকে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আওতায় বাণিজ্যভিত্তিক অর্থপাচার শনাক্তকরণ, ঋণ ঝুঁকি, বাজার ঝুঁকি, কাউন্টারপার্টি ঝুঁকি, সাইবার নিরাপত্তা ও জালিয়াতি প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।

    সব তফসিলি ব্যাংককে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক পরিবর্তন সম্পন্ন করে নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

  • গাড়িভর্তি টাকা নিয়ে যেভাবে পালালেন হাসিনার ফুপাতো ভাই মেয়র খোকন

    গাড়িভর্তি টাকা নিয়ে যেভাবে পালালেন হাসিনার ফুপাতো ভাই মেয়র খোকন

    বৈষম্যবিরোধী তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রাক্কালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই সেরনিয়াবাত খোকন আব্দুল্লাহর দেশত্যাগকে ঘিরে সামনে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ রয়েছে— পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি গাড়িভর্তি করে প্রায় ১৬ কোটি টাকা সঙ্গে নিয়ে যান। পরে সেই অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর ঘুরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ছেলের কাছে পাঠানো হয়।

    ৪ আগস্ট গভীর রাতে বরিশাল ছাড়লেও ২০২৪ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত তিনি খুলনায় প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতার বাসায় অবস্থান করেন। পরে তামাবিল সীমান্ত দিয়ে প্রথমে আসাম ও পরে কলকাতা যান খোকন। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী লুনা আব্দুল্লাহ। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর আর পেট্রোল পাম্প খুলে নিজেকে বিনিয়োগকারী প্রমাণ করে সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার চেষ্টা করছেন তিনি।

    চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো-খুলনায় পালিয়ে থাকা অবস্থায় বিসিসির বেশ কয়েকজন ঠিকাদারের পাওনা প্রায় ২৭ কোটি টাকার চেকে ব্যাক ডেটে সই করেন খোকন। বরিশাল থেকে চেক খুলনায় নিয়ে সই করিয়ে আবার বরিশালে আনার কাজটি করেন খোকনের তৎকালীন এপিএস রুবেল। তাকে সহায়তা করেন বিসিসির প্রকৌশল (সিভিল) ও হিসাব শাখার দুই কর্মকর্তা। তাদের একজন বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের নেতা। আর চেক সই করার বিনিময়ে মোট বিলের শতকরা ২০ থেকে ৪০ পার্সেন্ট টাকা নেন শেখ মুজিবের ভগিনীপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের পুত্র সাবেক এই মেয়র। টাকা হাতে পাওয়ার পর চেকে সই করেন তিনি।

    আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও কেবল শেখ পরিবারের কোটায় লোকদেখানো নির্বাচন করে মেয়র বানানো হয় খোকনকে। মাত্র ৭ মাসের দায়িত্ব পালনকালে নানাভাবে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের তদন্ত করছে দুদক।

    ৪ আগস্ট সকালে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে গুলি ছুড়তে গিয়ে গণপিটুনিতে মারা যান বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা টুটুল চৌধুরী। ওই ঘটনায় ভীত হয়ে পড়েন খোকন। রাতে তার আলেকান্দা সড়কের ভাড়া বাসায় ডেকে নেন আওয়ামী লীগ নেতা তৎকালীন এক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগের দুই নেতাকে। তখনই বরিশাল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

    ওই রাতে খোকনের বাসায় থাকা ওই ৩ নেতার একজন জানান, ‘একসঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হলেও যাওয়ার সময় কাউকে কিছু না বলে চুপচাপ চলে যান খোকন। রাত ৩টা নাগাদ বিশেষ একটি বাহিনীর দুটি গাড়ি সামনে পেছনে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যায় সাবেক এই মেয়র ও তার স্ত্রীকে বহনকারী গাড়ি। তার বেড়িয়ে যাওয়ার অন্তত আধা ঘণ্টা পর আমরা জানতে পারি যে তিনি চলে গেছেন। বরিশাল থেকে সোজা খুলনায় গিয়ে ওঠেন সোনাডাঙ্গা এলাকায় শ্যালক মিঠুর বাড়িতে। সেখানে কয়েকদিন থাকার পর আশ্রয় নেন খুলনা বিএনপির প্রভাবশালী এক নেতার বাসায়। আওয়ামী শাসনামলের দীর্ঘ সময় ওই নেতাকে মোংলা বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্যে সহায়তা করেছিলেন খোকন। তিনি নিজেও ছিলেন মোংলা বন্দর স্টিভেডর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করতেন সমুদ্রগামী জাহাজে। রাতের বাকিটা সময় আমরা ওই বাসায় থেকে খুব ভোরে চলে আসি।’

    ৪ আগস্ট রাত ১২টায় বরিশাল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন খোকন আব্দুল্লাহ। ৩ ঘণ্টা চলে প্রস্তুতি। ওই রাতে তার বাসায় থাকা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘এই ৩ ঘণ্টায় ঘরে থাকা নগদ টাকা আর স্বর্ণালংকার ব্যাগে ভরেন তিনি। তাকে সহায়তা করা তৎকালীন এপিএস রুবেলের কাছে পরে শুনেছি যে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ছিল সেখানে। তবে কোনো কাপড়চোপড় সঙ্গে নেননি তিনি বা তার স্ত্রী। বিপুল অঙ্কের ওই টাকা নিয়েই তারা ওঠেন খুলনায় শ্যালক মিঠুর বাসায়। সেখান থেকে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো হয় ৫ আগস্টের পর মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়া এক যুবলীগ নেতার কাছে। মালয়েশিয়া থেকে পরে তা পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরে মেয়র খোকনপুত্র প্রত্যুষের নামে থাকা একাধিক নামসর্বস্ব কোম্পানির হিসাবে। প্রত্যুষ আগে থেকেই মার্কিন নাগরিক।

    যুক্তরাষ্ট্রে টাকা নিতে হলে যেহেতু অর্থের উৎস জানাতে হয়, তাই সিঙ্গাপুরে খোলা নামসর্বস্ব কোম্পানির মাধ্যমে সেখানে টাকা পাঠাতেন খোকন। মেয়র হওয়ার পর থেকে ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত যত টাকা হাতিয়েছেন, তার সিংহভাগ এভাবেই পাচার হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এছাড়া মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য করে আয় করা অর্থও পাচার হয়েছে সেখানে। তবে শেষ চালানের ১৬ কোটি টাকা পাঠাতে গিয়ে ৩ কোটি খোয়ান তিনি। মালয়েশিয়ায় যার কাছে হুন্ডি করে বাংলাদেশ থেকে টাকা পাঠানো হয়, সিঙ্গাপুরে পাঠানোর ক্ষেত্রে সেখান থেকে ৩ কোটি টাকা মেরে দেন তিনি। এ নিয়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে ঝগড়াও হয় খোকনের।’

    খুলনায় বিএনপি নেতার আশ্রয়ে থেকে চলে তার দেশছাড়ার চেষ্টা। প্রথমে চারবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। সবশেষ অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে সিলেটের তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ঢোকেন ভারতের আসামে। গুয়াহাটি বিমানবন্দর থেকে বিমানে পশ্চিমবঙ্গে। কলকাতার নিউ টাউন অ্যাকশন অ্যারিয়া-১-এর কাছে ভাড়া নেওয়া বাসায় ওঠেন স্ত্রীকে নিয়ে।

    কলকাতায় অবস্থানরত বরিশালের এক আ.লীগ নেতা বলেন, ‘এখানে ১ মাসের জন্য একটি গাড়ি ভাড়া নেন খোকন। গাড়ি ও ড্রাইভার তার বাসাতেই থাকত। ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর এই দম্পতিকে হাত ধরাধরি করে হাঁটতে দেখা গেছে কলকাতার এক্সেস মলে। কলকাতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে থাকা ছেলের কাছে যাওয়ার চেষ্টা শুরু করেন খোকন। ছেলে প্রত্যুষ যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেন হওয়ায় খুব একটা কষ্ট হয়নি তাদের। ডিসেম্বরের শুরুর দিকে স্ত্রীকে নিয়ে কলকাতা থেকে উড়োজাহাজে যুক্তরাষ্ট্র যান খোকন।

    বর্তমানে টেক্সাসে অবস্থানরত বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘ট্রাম্প সরকারের সর্বশেষ গোল্ডেন ভিসা সুযোগের আওতায় খোকন ও তার স্ত্রী প্রায় ১৬ কোটি টাকায় নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা। সেই সুযোগেই টেক্সাসে আছেন তারা। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে কিনেছেন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরসহ একটি পেট্রোল পাম্প। এসব বিনিয়োগ আর ব্যবসা-বাণিজ্য দেখিয়ে চলছে সেখানে তাদের দুজনের নাগরিকত্ব নেওয়ার চেষ্টা। টেক্সাসে প্রত্যুষ সেরনিয়াবাতের নামে আগে থেকেই কেনা ছিল ২টি বাড়ি। তার একটিতে থাকছেন খোকন ও লুনা।’

    কলকাতায় অবস্থানরত কার্যক্রম নিষিদ্ধ বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘খোকন আব্দুল্লাহ মেয়র হয়েছিলেন কেবল টাকা কামাইয়ের জন্য। দায়িত্ব পালনের ৭ মাস তিনি সেটাই করেছেন। হাতিয়ে নিয়েছেন শতকোটি টাকা। সেই টাকায় এখন আয়েশ করছেন যুক্তরাষ্ট্রে। আর আমরা খেয়ে-না-খেয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।’

    এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য খোকন আব্দুল্লাহর প্রচলিত সবকটি নম্বরে কল করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায়। দলের কারও সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই বলে জানিয়েছেন তার একসময়কার ঘনিষ্ঠরা।’

  • বিশ্ববাজারের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করবে বিএফটিআই: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বিশ্ববাজারের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করবে বিএফটিআই: বাণিজ্যমন্ত্রী

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বাণিজ্য আইন, অর্থনৈতিক গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটকে (বিএফটিআই) শক্তিশালী জাতীয় ‘থিঙ্কট্যাংক’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতির বাজার পরিস্থিতি, বাণিজ্যিক প্রবণতা, সম্ভাব্য ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে নিয়মিত গবেষণা করবে বিএফটিআই। এসব গবেষণা সরকারের নীতিনির্ধারণ এবং বেসরকারি খাতের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে।

    আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বিএফটিআই সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের ৬৩তম পরিচালনা পর্ষদের সভায় সভাপতির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এ কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিকে এ তথ্য জানানো হয়।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষায় বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক বাজার ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে গভীর গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই বিএফটিআইকে নতুন পরিকল্পনায় আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিয়ে আমাদের কোনো সংকট নেই, প্রয়োজন ছিল দীর্ঘমেয়াদি দিকনির্দেশনার। এখন সেই জায়গায় কাজ শুরু হয়েছে।’

    সভায় বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে মোস্তফা আবীদ খানের নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়।

    সভায় জানানো হয়, দেশের বাণিজ্যনীতি ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন একাধিক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনা, অ্যান্টি-ডাম্পিং, কাউন্টারভেইলিং ও সেফগার্ড ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ এবং বাংলাদেশের চামড়া খাতের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়ে গবেষণা।

    এ ছাড়া বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের জন্য দেশের এয়ার টিকিটিং বাজারের প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি নিয়েও গবেষণা চলমান। বাণিজ্য নীতি পর্যালোচনা, আরজেএসসি নিবন্ধন ও রিটার্ন দাখিল, কর-ভ্যাট-কাস্টমস এবং আমদানি-রপ্তানি পদ্ধতি বিষয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

    সভায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, বিএফটিআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব ) সাইফ উদ্দিন আহমেদ এবং বিএফটিআই পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • রেমিটেন্সের শীর্ষে সৌদি আরব

    রেমিটেন্সের শীর্ষে সৌদি আরব

    বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) দেশে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স তথা প্রবাসী আয় এসেছে, তার প্রায় ৬২ শতাংশেরই উৎস হলো পাঁচটি দেশ। দেশগুলো হচ্ছে—সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। মূলত এসব দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী ও প্রবাসী বসবাস করায় এগুলো থেকে প্রবাসী আয়ের বড় অংশ আসছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা মোট ৩ হাজার ২৭৭ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি দেশ থেকেই এসেছে ২ হাজার ২৫ কোটি ডলার বা প্রায় ৬২ শতাংশ।

    তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে সর্বোচ্চ ৫২৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার এসেছে সৌদি আরব থেকে, যা মোট আয়ের ১৬ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার আসে যুক্তরাজ্য থেকে। এ তালিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ৪২৭ কোটি ৮২ লাখ ডলার নিয়ে তৃতীয়, ৩২২ কোটি ডলার নিয়ে মালয়েশিয়া চতুর্থ এবং ২৭৮ কোটি ৯৬ লাখ ডলার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।

    এর বাইরে ওমান, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর ও ইতালি থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে। এ ৬ দেশ থেকে ১১ মাসে এসেছে প্রায় ৮৮৯ কোটি ডলার, যা মোট প্রবাসী আয়ের ২৭ শতাংশ। সব মিলিয়ে মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশই এসেছে ১১টি দেশ থেকে।

    শুধু মে মাসের হিসাবেও রেমিট্যান্স–প্রবাহ ছিল উল্লেখযোগ্য। ওই মাসে প্রবাসীরা মোট ৩৪৪ কোটি ২৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬৫ কোটি ৯ লাখ ডলার এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৪ কোটি ৬৫ লাখ ডলার এসেছে সৌদি আরব থেকে। আর ৪৬ কোটি ৮১ লাখ ডলার নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল ইউএই।

    গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের মধ্যে ১০ মাসই এককভাবে প্রবাসী আয়ের শীর্ষ উৎস ছিল সৌদি আরব। তবে মে মাসে সৌদিকে ছাড়িয়ে যায় যুক্তরাজ্য। অর্থবছরের শুরুতে, অর্থাৎ গত বছরের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্য থেকে ২৮ কোটি ২৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। পরে তা ধারাবাহিকভাবে বাড়তে বাড়তে মে মাসে ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৫ কোটি ডলারে পৌঁছায়। জুন মাসের রেমিট্যান্সের তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

    সরকার প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে আয় পাঠাতে উৎসাহ দিয়ে আসছে। এ জন্য ব্যাংকিং মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এতে হুন্ডির মতো অবৈধ মাধ্যম নিরুৎসাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি আগের তুলনায় ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রবাসী আয়প্রবাহে।

    তবে আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় তিন-পঞ্চমাংশ মাত্র পাঁচটি দেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়া অর্থনৈতিক নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে সংবেদনশীল। তাঁদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় অদক্ষ ও আধা দক্ষ শ্রমিক বেশি থাকায় সেখানকার রেমিট্যান্স সব সময় স্থিতিশীল থাকে না। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান তুলনামূলক শক্ত হওয়ায় সেখান থেকে আয় বেশি স্থিতিশীলভাবে আসে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধান এই পাঁচ দেশের অর্থনৈতিক নীতি, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বা শ্রমবাজারে বড় পরিবর্তন এলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। তাই নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া ও দূরপ্রাচ্যের নতুন শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

  • কাঁচা মরিচের কেজি ২০০ টাকা ছাড়াল

    কাঁচা মরিচের কেজি ২০০ টাকা ছাড়াল

    এক মাস আগে বাজারে গিয়ে ভালো মানের ১ কেজি কাঁচা মরিচ কেনা যেত ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। সেই কাঁচা মরিচের দাম এখন ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে। রাজধানীর কোনো কোনো বাজারে ১ কেজি কাঁচা মরিচ ২৮০ টাকা দামেও বিক্রি হচ্ছে।

    আজ মঙ্গলবার রাজধানীর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজারে খোঁজ নিয়ে কাঁচা মরিচের দামের এমন চিত্র দেখা গেছে। পাশাপাশি উত্তরার আশকোনা হজক্যাম্প বাজারেও কাঁচা মরিচের দাম বেশি।

    কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে মূলত টানা বৃষ্টির কারণে। সপ্তাহ দেড়েক আগে দেশে টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সবজির সরবরাহ কমেছিল। তখন অন্যান্য সবজির সঙ্গে কাঁচা মরিচের দামও এক দফা বাড়ে। অন্যদিকে বৃষ্টি-বন্যায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় সবজি খেতে পানি জমেছে। এতে অনেক সবজি নষ্ট হয়েছে। ফলে সবজি পণ্যের সরবরাহ সেভাবে আর বাড়েনি। এর মধ্যে দেশজুড়ে আবারও টানা পাঁচ দিনের বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দামই কমবেশি বেড়েছে। এর মধ্যে কাঁচা মরিচের দাম দ্বিগুণ বা তারও বেশি বেড়েছে। তবে বাজারভেদে মরিচের দাম ভিন্ন ভিন্ন হয়। যেমন মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে আজ প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। টাউন হল বাজারে মরিচ বিক্রি হয়েছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায়। কারওয়ান বাজারে দাম একটু কম, তা–ও ভালো মানের কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। আর সাধারণ মানের মরিচ হলে দাম ১৬০ টাকার আশপাশে দাম রাখছেন বিক্রেতারা।

    গতকাল রাতে রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্প এলাকার কাঁচাবাজারে সবজি কিনতে যান জাকির হোসেন। তিনি আজ ২৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচ কিনেছেন ৬০ টাকায়। অর্থাৎ কেজি ২৪০ টাকা। জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বৃষ্টির কারণে প্রতিদিনই যেন কাঁচা মরিচের দাম বাড়ছে। এক সপ্তাহ আগে ৪০ টাকায় ২৫০ গ্রাম মরিচ কিনলাম, আজ লেগেছে ৬০ টাকা।

    পেঁয়াজের দাম বেড়েছে

    এদিকে পেঁয়াজের দামও কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। আজ ধরনভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে পেঁয়াজের দাম ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।

    মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের সবজি বিক্রেতা আল-নাহিয়ান প্রথম আলোকে বলেন, বৃষ্টির কারণে পাইকারি বাজারে কাঁচা মরিচ কম আসছে, কিন্তু মরিচের ক্রেতা অনেক। এ কারণে দাম বাড়তি। শুধু মরিচই নয়, প্রায় সব সবজির দামই বেড়েছে। ১০০ টাকার নিচে হাতে গোনা তিন-চার ধরনের সবজি পাওয়া যায় এখন।

  • কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের, নতুন করে বাণিজ্যযুদ্ধের শঙ্কা

    কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের, নতুন করে বাণিজ্যযুদ্ধের শঙ্কা

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও মদের ক্ষেত্রে কানাডা ‘বৈষম্যমূলক আচরণ’ করছে—এ অভিযোগ তুলে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    নতুন শুল্কের আওতায় আছে ওয়াইন, হকিস্টিকের মতো ভোক্তাপণ্য ও সিমেন্টের মতো শিল্পপণ্য। তবে জ্বালানি, পটাশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, মাছসহ কানাডার কয়েকটি প্রধান রপ্তানিপণ্য এ শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে।

    কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা আরও জোরদার করতে তাঁরা প্রস্তুত।

    হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ৩০ দিনের মধ্যে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক ভালো নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে কানাডা। তার ওপর নতুন এই শুল্কের ফলে উত্তর আমেরিকার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা আরও বেড়ে যাবে বলেই শঙ্কা।

    যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) আওতায় এ পণ্য আছে কি না, তা এই শুল্ক আরোপের সময় বিবেচনা করা হয়নি। অর্থাৎ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় থাকুক বা না থাকুক, এ শুল্ক দিতেই হবে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে কার্নি বলেন, ‘ইউএসএমসিএর সরাসরি লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র যে একতরফা পদক্ষেপগুলো নিয়ে আসছে, এটি তার সর্বশেষ উদাহরণ।’

    এদিকে কার্নি কানাডার সার্বভৌমত্বের প্রতি ‘হুমকির’ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার কথা বলেছিলেন, সম্ভবত সে প্রেক্ষাপটে কার্নি এ কথা বলেছেন।

    আগে থেকেই ছিল পাল্টাপাল্টি শুল্ক

    গতকাল সোমবার ঘোষিত শুল্কের আগে থেকেই দুই দেশের মধ্যে নানা ধরনের বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আছে।

    বর্তমানে কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে রেখেছে। এ ছাড়া সফটউডে ৩৫ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তৈরি গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আদায় করছে ওয়াশিংটন।

    এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও যানবাহনের ওপর ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে কানাডা।

    দাবানলের ধোঁয়া নয়, পুরোনো বিরোধ

    সম্প্রতি কানাডা যে দাবানল হয়েছে, তার ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরেও ছড়িয়ে পড়ে। সে জন্যও শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। গতকাল তিনি যে নির্বাহী আদেশে সই করেছেন, সেখানে অবশ্য দাবানলের উল্লেখ নেই; বরং দেখা গেছে, এ নির্বাহী আদেশে গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও মদ নিয়ে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। এতে দুই দেশের চলমান বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাবে—এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

    গাড়ির ক্ষেত্রে ট্রাম্পের অভিযোগ, ইউএসএমসিএর আওতার বাইরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি ও যন্ত্রাংশের ওপর কানাডা কর আরোপ করে। তাঁর দাবি, এটি অযৌক্তিক ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বৈষম্যমূলক। কেননা, অন্য দেশের ক্ষেত্রে একই ধরনের কর আরোপ করা হয় না।

    উত্তর আমেরিকায় গাড়ি উৎপাদনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে নিবিড় সমন্বয় আছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক আগেই বলেছেন, এ খাতে কানাডার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।

    দুগ্ধ ও পানীয় নিয়েও দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন

    দুগ্ধজাত পণ্য নিয়ে দুই দেশের বিরোধ নতুন নয়। কানাডার সরবরাহ ব্যবস্থাপনার কারণে বিদেশি দুগ্ধপণ্য আমদানি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হয়। সেই সীমা ছাড়ালে ৩০০ শতাংশের বেশি শুল্ক দিতে হয়।

    অন্যদিকে গত বছর থেকে কানাডার অধিকাংশ প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের মদ কার্যত বর্জন করা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের যত অভিযোগ আছে, এটি তার মধ্যে অন্যতম।

    কানাডার প্রাদেশিক নেতারা বারবার বলেছেন, ধাতু ও মোটরগাড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত থেকে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক তুলে নিলে তাঁরাও মার্কিন মদ বর্জন প্রত্যাহার করবেন।

    আলোচনার চেষ্টা চলছে

    কানাডার বাণিজ্যবিষয়ক প্রতিনিধিরা সমঝোতার চেষ্টা করছেন। লক্ষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান শুল্ক কিছু হলেও যদি কমানো যায়। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বিবিসি হোয়াইট হাউস ও কানাডা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

    চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএমসিএ চুক্তি বিদ্যমান রূপে নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয়। কানাডা ও মেক্সিকো চুক্তিটি নবায়নের পক্ষে থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসন পরিবর্তন আনতে চায়। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেই এ চুক্তি হয়েছিল।

    বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এ চুক্তির আওতায় আগামী এক দশক উত্তর আমেরিকার বাণিজ্য পরিচালিত হবে। তবে এর কার্যকারিতা কতটুকু, তা প্রতিবছর পর্যালোচনা করা হবে।

    নতুন আইনের আশ্রয়

    গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপিত আন্তর্জাতিক শুল্ক বাতিল করে দেয়। আদালতের মতে, জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য প্রণীত আইনের আওতায় এই শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট সীমা লঙ্ঘন করেছিলেন।

    তখন হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, আমদানি শুল্ক আরোপে তারা অন্য আইনের দ্বারস্থ হবে।

    গতকালের নতুন শুল্ক ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্টের ৩৩৮ ধারা অনুযায়ী জারি করা হয়েছে। এ ধারা জাতীয় জরুরি অবস্থার পরিবর্তে বাণিজ্যে বৈষম্যমূলক আচরণের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়।

  • আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের বড় সাফল্য

    আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের বড় সাফল্য

    চীনের শেনঝেন শহরে অনুষ্ঠিত ৯ম আন্তর্জাতিক অর্থনীতি অলিম্পিয়াডে (আইইও) ২০২৬ এ ব্রোঞ্জ পদক, গ্লোবাল চ্যাম্পিয়নশিপ এবং বিশেষ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। অর্থনীতি, অর্থব্যবস্থা ও ব্যবসায়ভিত্তিক বিশ্বের অন্যতম বড় এ প্রতিযোগিতায় ৫৭টি দেশের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

    বাংলাদেশ দলের হয়ে ফারাবিদ বিন ফয়সাল এ ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। একই প্রতিযোগিতায় জাইফ বিন মোর্শেদ গ্লোবাল চ্যাম্পিয়ন হন। তিনি প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘আইইও ইয়ুথ টক’ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। যোগাযোগ দক্ষতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি ও নেতৃত্বের ভিত্তিতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

    এবার অর্থনীতি শিক্ষায় ধারাবাহিক অবদান, আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ এবং সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডকে (বিডিইও) ‘বিশেষ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি’ দেয় আন্তর্জাতিক অর্থনীতি অলিম্পিয়াড কর্তৃপক্ষ। এ স্বীকৃতিকে বৈশ্বিক অর্থনীতি শিক্ষায় বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    বাংলাদেশ দলের অন্য সদস্যরা হলেন মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের (গুলশান শাখা) ফারিহা তাসনিম, মাস্টারমাইন্ড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের (ধানমন্ডি শাখা) প্রান্ত ঘোষ এবং স্কলাস্টিকার দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাইয়াদ সালেহীন আহমেদ।

    ৪৮ হাজারের বেশি নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে সারা দেশে একাধিক ধাপে বাছাইয়ের মাধ্যমে জাতীয় দল গঠন করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্ব, জাতীয় ক্যাম্প এবং দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়িক নেতাদের তত্ত্বাবধানে মাসব্যাপী উচ্চতর প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

    বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন আন্তর্জাতিক অর্থনীতি অলিম্পিয়াডের নির্বাহী বোর্ডের সদস্য এবং বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডের নির্বাহী কমিটির সভাপতি মো. আল-আমিন পারভেজ। উপদলনেতার দায়িত্ব পালন করেন সংগঠনটির সম্পাদক রাফিদ আবরার।

    এছাড়া বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডের অ্যাম্বাসেডর মো. মানসুরুল হক এবং মো. আল-আমিন পারভেজ ব্যবসায়িক কেস প্রতিযোগিতার আন্তর্জাতিক বিচারক প্যানেলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    আয়োজকদের মতে, এটি আন্তর্জাতিক অর্থনীতি অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের নেতৃত্বকে আরো শক্তিশালী করেছে।

    বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, ব্র্যাকের চেয়ারম্যান এবং পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াড বর্তমানে দেশে অর্থনীতি ও আর্থিক সাক্ষরতা বাড়ানো এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করার অন্যতম প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।

    পূবালী ব্যাংক পিএলসি ও ব্র্যাক ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে এবং সিটি ব্যাংকের সহযোগিতায় আয়োজিত বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াড ২০২৬ দেশের অর্থনীতি-সচেতন ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতার সুযোগ করে দিয়েছে।

    আয়োজকদের মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনছে।

    ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক অর্থনীতি অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর এ সাফল্য বাংলাদেশের তরুণদের সম্ভাবনার প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি বিশ্বমানের অর্থনীতি শিক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যতের অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়িক নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডের অঙ্গীকারকে আরো দৃঢ় করেছে।

    আয়োজকদের মতে, এবারের অর্জন অর্থনীতি শিক্ষায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক উপস্থিতিকে আরো শক্তিশালী করেছে এবং বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় সক্ষম তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেশের অঙ্গীকারকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে।