অর্থ ও বাণিজ্য

  • অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

    অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

    বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে হলে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প ও কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছাড়া জাতীয় সম্পদ বাড়ানো সম্ভব নয় এবং সম্পদ সৃষ্টি না হলে টেকসই উন্নয়নও নিশ্চিত করা যাবে না। বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য সম্পদ সৃষ্টির পাশাপাশি তার ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটস (সিএএসটি) আয়োজিত ‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষায় বাংলাদেশের অর্থনীতি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    সেমিনার শেষে সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটস থেকে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনীতির ব্যবচ্ছেদ’ এবং ‘Bangladesh Economy: A Holistic Evaluation’ শীর্ষক দুটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

    সেমিনারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার আলোকে দেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা, গত দেড় দশকের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, বৈষম্য, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়।

    ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা হলেই সবাই জিডিপি প্রবৃদ্ধির কথা বলেন। কিন্তু সেই সম্পদ কীভাবে মানুষের মধ্যে বণ্টিত হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা খুবই কম। অথচ এই দুই বিষয়কে সমান গুরুত্ব না দিলে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।

    বক্তব্যে ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে প্রথম কাজ হওয়া উচিত নতুন সম্পদ সৃষ্টি, আর তা সম্ভব কর্মসংস্থানের মাধ্যমে। তিনি বলেন, আমার চিন্তাধারা হয়ত অনেকের কাছে পুরোনো মনে হতে পারে। কিন্তু আমি এখনো বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে জব ক্রিয়েশনই একমাত্র কার্যকর পথ। ফ্যামিলি কার্ড কোনো সমাধান নয়; প্রকৃত সমাধান হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

    তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উৎপাদনশীল শিল্প ও কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। গত দেড় দশকে উৎপাদনশীল শিল্পের পরিবর্তে মেগা প্রকল্পকেন্দ্রিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, মেগা প্রকল্পে দুর্নীতির সুযোগ বেশি থাকায় উৎপাদনশীল শিল্পকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

    সরকারি অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ড. মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে ‘স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে বাস্তবতার চেয়ে উন্নয়নের চিত্র বেশি ভালো দেখানো হয়েছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি বিশ্বব্যাংক ও এডিবিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকেও লিখেছিলেন।

    বিনিয়োগ বোর্ডের সাবেক নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, উৎপাদনশীল শিল্পে প্রবৃদ্ধি অর্জন করা গেলে কর্মসংস্থানও বাড়ে। কৃষিকে শুধু জিডিপিতে অবদানের ভিত্তিতে মূল্যায়ন না করে কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, সরকারের উচিত সব অংশীজনকে নিয়ে জাতীয় সম্পদ বৃদ্ধির কৌশল নির্ধারণ করা। একই সঙ্গে উৎপাদন বাড়াতে গ্যাস-বিদ্যুৎ, অবকাঠামো ও দক্ষ মানবসম্পদ নিশ্চিত করা জরুরি। যে দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট রয়েছে, সেখানে শুধু বিনিয়োগ সম্মেলন করলেই বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না।

    সেমিনারে বক্তব্য রাখেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস অনুষদের ডিন ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম। তিনি বলেন, গত এক দশকে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, সরকারি ঋণ, খেলাপি ঋণ ও আর্থিক খাত নিয়ে তার গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

    তার উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। পুনঃতফসিল, অবলোপন ও আদালতের স্থগিতাদেশে আটকে থাকা ঋণসহ সমস্যাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকা। তিনি পুনঃতফসিল করা ঋণকে ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে সমস্যার সমাধান হয় না; বরং প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হয়।

    ড. ওয়ারেসুল করিম বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না এবং গার্মেন্টস শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ নিম্ন আয়ের মানুষের আয়ও ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বাড়েনি।

    তিনি বলেন, বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর নামে নেওয়া ২০ হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় তরুণদের জন্য গবেষণার সুযোগ ও গবেষণা তহবিল বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা, কম্পিউটার ল্যাব, বিদ্যুৎ ও স্যানিটেশন খাতে বরাদ্দ কমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

    শিক্ষাখাতে প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প গ্রহণের আগে মৌলিক অবকাঠামো নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক শিক্ষককে ট্যাবলেট দেওয়া বা প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে সিসিটিভি স্থাপনের আগে বিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, বিজ্ঞানাগার, টয়লেট ও প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করা উচিত। একই সঙ্গে শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে প্রযুক্তির পরিবর্তে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন তিনি।

    ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, কিন্তু কৃষক তার উৎপাদিত ধান, সবজি বা অন্যান্য কৃষিপণ্য আগের মতোই কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়লেও কৃষক সেই সুবিধা পাচ্ছেন না। গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। একইভাবে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বেতনও এখনো অত্যন্ত কম। একজন মুয়াজ্জিনকে সাত হাজার টাকার মতো এবং একজন ইমামকে প্রায় দশ হাজার টাকায় সংসার চালাতে হয়। একই অবস্থা পরিবহন শ্রমিক বা অন্যান্য নিম্ন আয়ের মানুষের। অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে।

    তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ অল্প অল্প করে যে অর্থ ব্যাংকে সঞ্চয় করেন, সেই অর্থ লুটপাট করে কেউ কেউ বিদেশে পাচার করে। আরও দুঃখজনক বিষয় হলো, অনেক ঋণখেলাপিকে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এবং তারা সংসদে দাঁড়িয়ে ঋণখেলাপিকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। এটি রাষ্ট্র ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক বার্তা।

    গবেষণা খাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যদি সত্যিই দেশের সমস্যার সমাধান করতে হয়, তাহলে তরুণদের গবেষণার সুযোগ তৈরি করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই। বরং গবেষণা তহবিল কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে সরকারবিরোধী বা সমালোচনামূলক গবেষণা নিরুৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. আব্দুর রবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিন্তক ও গবেষক ফরহাদ মজহার, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ, ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ, ওয়েস্টার্ন নরওয়ে ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসের অধ্যাপক ড. আব্দুল কুদ্দুস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. দ্বীন ইসলাম, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. শিব্বির আহমেদসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও বিশিষ্টজন।

  • বাংলা কিউআরসহ ডিজিটাল লেনদেনে মার্চেন্টের মাশুল তুলে দেওয়ার পরামর্শ আহসান এইচ মনসুরের

    বাংলা কিউআরসহ ডিজিটাল লেনদেনে মার্চেন্টের মাশুল তুলে দেওয়ার পরামর্শ আহসান এইচ মনসুরের

    বাংলা কিউআরসহ সব ধরনের ডিজিটাল লেনদেনে মার্চেন্টের বিদ্যমান মাশুল তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, ক্যাশলেস (নগদবিহীন) ধারণাকে জনপ্রিয় করতে এসব লেনদেন মাশুলহীন করতে হবে। পরে পর্যায়ক্রমে ১০ পয়সা করে মাশুল আরোপ করা যেতে পারে।

    আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বনানীতে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত এক কর্মশালায় আহসান এইচ মনসুর এমন আহ্বান জানান।

    তাৎক্ষণিক লেনদেনের ব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম। এতে সভাপতিত্ব করেন পিআরআই চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার।

    সভায় আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘ডিজিটাল লেনদেনে এখন ১ থেকে ১ দশমিক ১৫ শতাংশ যে মাশুল আছে, তা সরকার ভর্তুকি হিসেবেও দিতে পারে। কারণ, ভারত ও পাকিস্তানে এসব লেনদেনে কোনো মাশুল নেই। তাই আমাদের এই মাশুল শূন্য করে দেওয়া উচিত।’

    প্রবাসী আয়ের জন্য যে প্রণোদনা দেওয়া হয়, সেখানে বরাদ্দ করা টাকা থেকে ডিজিটাল লেনদেনের মাশুলের টাকা জোগান দেওয়ার পরামর্শ দেন সাবেক এই গভর্নর। তাঁর মতে, বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার মতো খরচ হয় প্রবাসী আয়ের প্রণোদনায়। সেখান থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা ডিজিটাল লেনদেনের মাশুলের ভতুকি হিসেবে দিয়ে এটি জনপ্রিয় করা যায়।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল লেনদেনে এখন ১০ টাকা বেশি দিতে হয় ১ শতাংশ মাশুল আরোপের কারণে। তাই এই মাশুল কমানোর উচিত বলে মনে করেন তিনি।

    বর্তমানে কী পরিমাণ প্রবাসী আয় অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমে আসে, তা নিয়ে একটি সমীক্ষা করবে পিআরআই। কেন প্রবাসীরা অন্য মাধ্যমে টাকা পাঠান, তা–ও সমীক্ষায় উঠে আসবে। এই সমীক্ষা সম্পর্কে আলোচনা করেন পিআরআইয়ের গবেষণা পরিচালক বজলুল হক খন্দকার ও পরিচালক এম এ রাজ্জাক।

  • গলফের উন্নয়নে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের সাথে বিপিজিএ সভাপতির বৈঠক

    গলফের উন্নয়নে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের সাথে বিপিজিএ সভাপতির বৈঠক

    বাংলাদেশের পেশাদার গলফারদের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রফেশনাল গলফার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএ) সভাপতি ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুছ বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহদ শুহাদা ওথমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।

    মঙ্গলবার (২২ জুলাই) অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পেশাদার গলফারদের সার্বিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ক্রীড়া সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে গলফকে কেন্দ্র করে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আন্তরিকতা ও আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    এ সময় বিপিজিএর সেক্রেটারি জেনারেল সিফাত আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

  • জলবায়ু বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ পাচ্ছে সাড়ে ১২ লাখ ইউরো

    জলবায়ু বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ পাচ্ছে সাড়ে ১২ লাখ ইউরো

    দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা জোরদারে বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে তিন বছর মেয়াদি এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পাবে ১ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ইউরো।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মধ্যে এ দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

    চুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো: শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং আইওএমের পক্ষে বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বনডে স্বাক্ষর করেন।

    চুক্তি অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় সাড়ে ১২ লাখ ইউরো)।

    প্রকল্পের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হবে।

    এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের জলবায়ু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত করা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

    চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল, যুগ্ম সচিব ড. কাজী শাহজাহান, সিনিয়র সহকারী সচিব ড. রাজিবুল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ফাহমিদা হক খান, আইওএমের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার আশফাকুর রহমান খান এবং ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট ড. এস এম মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।

  • কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে জিআরআই ও বিজিএমইএ

    কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে জিআরআই ও বিজিএমইএ

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে টেকসই ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা জোরদারে ‘ইমপ্রুভিং ট্র্যান্সপারেন্সি ফর সাসটেইনেবল বিজনেস’ (আইটিএসবি) উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ও গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ (জিআরআই)’র মধ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    ২০২৫ সাল থেকে শুরু হওয়া সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় এই চুক্তি বিজিএমইএ ও জিআরআই’র দীর্ঘদিনের আইটিএসবি উদ্যোগকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিল।

    কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিজিএমইএ পোশাক খাতে স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল ব্যবসা পরিচালনার নেতৃত্ব দেবে। এই অংশীদারিত্ব ‘জিআরআই স্ট্যান্ডার্ডস’ ব্যবহার করে ব্যবসার পরিবেশগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবগুলো চিহ্নিত ও প্রকাশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াবে।

    আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে যুক্ত এ খাতের জন্য বিশ্বস্ত সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখবে।

    আইটিএসবি উদ্যোগটি ছোট, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ সব অংশীদারদের নিয়ে গঠিত একটি সক্ষমতা বৃদ্ধির প্ল্যাটফর্ম। এর অধীনে প্রশিক্ষণ, ওয়েবিনার, কর্মশালা ও সংলাপ আয়োজন করা হবে।

    এছাড়াও, দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জিআরআই-এর বৈশ্বিক মানদন্ড নির্ধারণী পরিষদের কাছে পোশাক খাতের বাস্তব চিত্র ও পরামর্শ তুলে ধরার সুযোগ পাবে।

    বাংলাদেশে এ উদ্যোগের ট্রেইনিং অ্যান্ড আউটরিচ পার্টনার হিসেবে কাজ করছে ‘দ্য সাসটেইনেবিলিটি নেক্সাস’ (সাসনেক্স)।

    ইতোমধ্যেই ২০২৬ সালের মে ও জুলাই মাসে আয়োজিত কর্মসূচিগুলোতে এ উদ্যোগ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, যেখানে প্রায় ৩০০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। মে মাসের ‘মাস্টারক্লাসে’ পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে ব্যবহারিক ধারণা দেয়া হয়। এরপর জুলাইয়ের গোলটেবিল বৈঠক ও ‘মাস্টারক্লাস-২’-এ অর্থনৈতিক প্রভাব, রেগুলেটরি লিংক ও বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিকোণ থেকে রিপোর্টের মান মূল্যায়নের ওপর জোর দেয়া হয়।

    এই অংশীদারিত্ব প্রসঙ্গে জিআরআইয়ের চিফ অব স্ট্যান্ডার্ডস, বাস্তিয়ান বাক বলেন, বিজিএমইএ’র সাথে এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশে পোশাক খাতের স্বচ্ছতা ও ইমপ্যাক্ট-ভিত্তিক রিপোর্টিং জোরদার করার একটি বড় পদক্ষেপ। আইটিএসবি উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা ব্যবসায়ী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অংশীদারদের সাথে সরাসরি কাজ করে জিআরআই মানদণ্ডের ব্যবহারিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে আগ্রহী। এর ফলে দেশীয় পোশাক খাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পৌঁছাবে এবং বিশ্ববাজারে এই খাতের জবাবদিহিতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পাবে।

    বিজিএমইএ’র রেসপন্সিবল বিজনেস হাব ও সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ওয়াসিম জাকারিয়া বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প পরিবেশগত স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল উৎপাদনে ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক স্বীকৃতি পেয়েছে। এখন আমাদের লক্ষ্য হলো, এ সাফল্যকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সঠিকভাবে পরিমাপ ও প্রকাশ করা। জিআরআই’র সাথে এই যৌথ উদ্যোগ কারখানাগুলোকে আধুনিক সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিংয়ে দক্ষ করে তুলবে।

    এই স্বচ্ছতা কেবল ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাই বাড়াবে না, বরং নিজস্ব ঝুঁকি ও নতুন সম্ভাবনাকে চিহ্নিত করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।

  • থাই বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

    থাই বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

    বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদারের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি থাই বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনী ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি, রয়্যাল থাই দূতাবাসের কর্মকর্তারা, থাইল্যান্ডের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা, উদ্যোক্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দীর্ঘদিনের। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন, সংস্কৃতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে।

    তিনি বলেন, থাইল্যান্ড বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়লেও এখনো বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিপুল সুযোগ রয়েছে।

    খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ তার কৌশলগত অবস্থান, বড় ভোক্তা বাজার, দক্ষ জনশক্তি এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতির কারণে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, পর্যটন, চামড়া, তৈরি পোশাক, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, রাবার পণ্যসহ বিভিন্ন খাতে থাই বিনিয়োগকে আমরা স্বাগত জানাই।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ থাইল্যান্ডের বাজারে ওষুধ, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, পাটজাত পরিবেশবান্ধব পণ্য, চামড়াজাত পণ্য ও হালকা প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে আগ্রহী।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনী শুধু পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ নয়, বরং উৎপাদক, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, পরিবেশক, বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরির একটি কার্যকর মাধ্যম।

    তিনি বলেন, ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’-এর মতো আয়োজন দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন সম্পর্ক তৈরি করবে এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটালাইজেশন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি দায়িত্বশীল বিদেশি বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এ ধরনের বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং দেশের শিল্প উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী অংশগ্রহণকারী থাই কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, পরিবেশক ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের থাইল্যান্ডের বাজারে দেশীয় পণ্য রপ্তানির নতুন সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানান।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’ বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে।

    উল্লেখ্য, রয়্যাল থাই সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উন্নয়ন বিভাগের (ডিআইটিপি) আয়োজনে এবং ঢাকাস্থ রয়্যাল থাই দূতাবাসের বাণিজ্যিক বিষয়ক কার্যালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে থাইল্যান্ডের ৫৭টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী চলবে ২৫ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

  • ২০৩১ সাল পর্যন্ত বিশেষ সুবিধার অনুমতি পেলো ন্যাশনাল ব্যাংক

    ২০৩১ সাল পর্যন্ত বিশেষ সুবিধার অনুমতি পেলো ন্যাশনাল ব্যাংক

    বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসিকে তাদের মালিকানাধীন প্রস্তাবিত প্রধান কার্যালয় ভবন ‘এনবিএল টুইন টাওয়ার’-এর টাওয়ার-২ বাণিজ্যিক স্থাপনা হিসেবে ইজারা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর একটি বিধানের প্রয়োগ থেকে ব্যাংকটিকে ৩১ ডিসেম্বর ২০৩১ পর্যন্ত অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ (বিআরপিডি-২) এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির মালিকানাধীন ‘এনবিএল টুইন টাওয়ার’ (হোল্ডিং নম্বর: ১/সি/১, বীর উত্তম সি. আর. দত্ত রোড, পান্থপথ, ঢাকা) ভবনের টাওয়ার-২ বাণিজ্যিক স্থাপনা হিসেবে ইজারা দেওয়া যাবে।

    এ জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ (২০২৩ পর্যন্ত সংশোধিত)-এর ১০ ধারার বিধান ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির ক্ষেত্রে ৩১ ডিসেম্বর ২০৩১ পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে না।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে ন্যাশনাল ব্যাংক তাদের প্রধান কার্যালয় ভবনের অব্যবহৃত অংশ বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে ভাড়া থেকে অতিরিক্ত আয় করতে পারবে, যা ব্যাংকের সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও আয় বাড়াতে সহায়ক হবে।

  • আইসিইতে কমেছে তুলার দর

    আইসিইতে কমেছে তুলার দর

    আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) তুলার দাম কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে ঠেকেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল রফতানি প্রতিবেদন, ব্যবসায়ীদের মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা এবং ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খবর ফাইবার টু ফ্যাশন।

    বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হওয়া চলতি বছরের ডিসেম্বর মেয়াদের চুক্তিতে তুলার দাম ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমেছে। পাউন্ডপ্রতি তুলার দাম এখন ৭৯ দশমিক ৩০ সেন্টে নেমে এসেছে। গত দুই সপ্তাহের মধ্যে এটিই তুলার একদিনে সর্বোচ্চ দরপতন। এর ফলে ৬ জুলাইয়ের পর এ প্রথম তুলার দাম ৮০ সেন্টের নিচে নেমে গেল। অন্য মেয়াদের চুক্তিতেও ৫৫-২৮৭ পয়েন্ট পর্যন্ত দাম কমেছে, যা পুরো বাজারজুড়ে একটি বড় মন্দার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

    তুলার এ দরপতনের প্রধান কারণ ছিল মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) সাপ্তাহিক রফতানি প্রতিবেদন। ৯ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহের তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে তুলার নিট বিক্রি কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৪ হাজার ৩৬০ বেল-এ (প্রতি বেলে ৪৮০ পাউন্ড বা ২২০ কেজি), যা চলতি বিপণন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন সাপ্তাহিক রেকর্ড। এ ছাড়া আগামী মৌসুমের তুলার রফতানি আদেশও আশানুরূপ হয়নি। বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে একধরনের হতাশা কাজ করছে।

    রফতানি চাহিদা কমার পাশাপাশি ডলারের দরবৃদ্ধিও কৃষি পণ্যের বাজারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। ইউএস ডলার ইনডেক্স টানা চার কার্যদিবস ধরে বেড়ে প্রায় এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। ডলার শক্তিশালী হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য মার্কিন তুলা কেনা আরো ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। এতে করে বৈশ্বিক বাজারে এ তুলার প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমে গিয়েছে। এর প্রভাবে গম, ভুট্টা ও সয়াবিনের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও বাজারে প্রভাব ফেলছে। জুনে মার্কিন খুচরা বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এ ইতিবাচক তথ্য মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড বা বন্ডের মুনাফা বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার কমানোর সম্ভাবনা কমে গেছে, যা ডলারকে আরো শক্তিশালী করেছে।

    যদিও বাজারে সরবরাহ কম থাকার কারণে দাম কিছুটা বাড়তি থাকার কথা ছিল, তবে দুর্বল চাহিদার ধাক্কায় সেই প্রভাব পুরোপুরি ঢাকা পড়ে গেছে। পরবর্তী কার্যদিবসে ডিসেম্বরের চুক্তি দাম আরো কমে ৭৮ দশমিক ৩৮ সেন্টে কেনাবেচা হয়। মার্কিন আবহাওয়া ও চীনের রাষ্ট্রীয় তুলার নিলাম আগামী দিনগুলোয় বাজার স্থিতিশীল করতে পারে কিনা তাই এখন সংশ্লিষ্টরা পর্যবেক্ষণ করছেন।

  • জ্বালানি নিরাপত্তায় কাঠামোগত সংস্কার ও শুল্ক সমন্বয় জরুরি: বিশ্বব্যাংক

    জ্বালানি নিরাপত্তায় কাঠামোগত সংস্কার ও শুল্ক সমন্বয় জরুরি: বিশ্বব্যাংক

    আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় শুল্ক (ট্যারিফ) কাঠামোর বড় ব্যবধানের কারণে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব চাপে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেম। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে স্বল্পমেয়াদি স্থিতিশীলতার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কার, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং আঞ্চলিক জ্বালানি বাণিজ্যের ওপর জোর দেওয়া জরুরি।

    বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে এসব কথা বলেন তিনি। কনক্লেভটির আয়োজন করে বণিক বার্তা।

    জ্যঁ পেম বলেন, জ্বালানি কেবল একটি খাতের অগ্রাধিকার নয়; এটি বেসরকারি বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং রাজস্বের টেকসইতার অন্যতম ভিত্তি। সবার কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তবে খাতটি এখনো বড় ধরনের কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাগুলো কতটা গভীর এবং কত দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এর অন্যতম কারণ হলো আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং জ্বালানি সরবরাহের ব্যয় ও গ্রাহক পর্যায়ের শুল্কের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ব্যবধান।

    জ্বালানি আমদানির পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে গ্যাসের চাহিদার ৩০ শতাংশ, তেলের ৯৫ শতাংশ এবং কয়লার ৯০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। বৈশ্বিক বাজারে দামের ওঠানামা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন সরাসরি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে সমস্যা শুধু আমদানিনির্ভরতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়া এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন চুক্তির পুরোনো ও ব্যয়বহুল দায়বদ্ধতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। এর ফলে রাজস্বের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং আর্থিক দুর্বলতা বাড়ছে। তাই এখনই এমন পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যা খাতটিকে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে আস্থা ফিরিয়ে আনা, রাজস্ব ঝুঁকি কমানো এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পথ সুগম করবে।

    তিনি আরো বলেন, বিশ্বব্যাংক এ সংকট মোকাবেলায় চারটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে। প্রথমত, আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে জ্বালানি খাত ও শুল্ক (ট্যারিফ) সংস্কার। দ্বিতীয়ত, জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক জ্বালানি বাণিজ্য জোরদার করা। তৃতীয়ত, সবুজ অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং জ্বালানি ব্যবস্থার সহনশীলতা বৃদ্ধি। চতুর্থত, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়িয়ে গ্যাসের ভ্যালু চেইনকে আরও শক্তিশালী করা।

    জ্বালানি খাতের শুল্ক সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে জ্যঁ পেম বলেন, জ্বালানি ভর্তুকি বর্তমানে সামষ্টিক অর্থনীতি ও সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। আমাদের হিসাব অনুযায়ী, এ ভর্তুকির পরিমাণ জিডিপির প্রায় ১ দশমিক ১ শতাংশ। তাই একটি নির্ভরযোগ্য ও পর্যায়ক্রমিক শুল্ক সংস্কার রূপরেখা প্রয়োজন, যাতে শুল্ক সমন্বয়ের সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হয় এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

    নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিষয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উৎসের বৈচিত্র্য প্রয়োজন। ভুটান ও নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির মাধ্যমে তুলনামূলক কম খরচে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি সরকারি মালিকানাধীন জমিতে গিগাওয়াট-স্কেলের সোলার পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। বিশেষ করে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, গভীর সমুদ্রবন্দর, অর্থনৈতিক অঞ্চল কিংবা রেলওয়ের মালিকানাধীন জমি এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বলছে, সঠিক নীতিগত দিকনির্দেশনা, বিনিয়োগবান্ধব ট্যারিফ এবং কার্যকর বাস্তবায়ন ব্যবস্থা থাকলে খুব অল্প সময়েই বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ভিয়েতনাম একটি সফল উদাহরণ।

  • দেশীয় গ্যাস উৎপাদন না বাড়লে নতুন সংযোগ দেয়া সম্ভব নয়: তিতাসের এমডি

    দেশীয় গ্যাস উৎপাদন না বাড়লে নতুন সংযোগ দেয়া সম্ভব নয়: তিতাসের এমডি

    দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত না হলে নতুন গ্রাহকদের সংযোগ দেয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহনেওয়াজ পারভেজ। তিনি বলেন, বর্তমানে তিতাসের কাছে পাঁচ শতাধিক গ্রাহক ডিমান্ড নোট অনুযায়ী অর্থ জমা দিয়ে অপেক্ষায় থাকলেও সরবরাহ-সংকটের কারণে তাদের সংযোগ দেয়া যাচ্ছে না।

    বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে এসব কথা বলেন শাহনেওয়াজ পারভেজ। কনক্লেভটির আয়োজন করে বণিক বার্তা।

    তিতাসের এমডি বলেন, দেশের মোট গ্যাস বিতরণের প্রায় ৬০ শতাংশ তিতাসের মাধ্যমে হয়। প্রতিষ্ঠানটির আওতায় প্রায় সাড়ে চার হাজার শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানায়ও গ্যাস সরবরাহ করা হয়। তবে তিতাস নিজে কোনো গ্যাস উৎপাদন করে না; প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণভাবে পেট্রোবাংলার বরাদ্দের ওপর নির্ভরশীল। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র ও আমদানিকৃত এলএনজি থেকে যে পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যায়, পেট্রোবাংলা তা ছয়টি বিতরণ কোম্পানির মধ্যে বরাদ্দ দেয়।

    তিনি জানান, তিতাসের আওতাধীন ১২ থেকে ১৩টি জেলার শিল্প প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে চালাতে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস প্রয়োজন। অন্তত ১ হাজার ৭০০ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া গেলে পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। কিন্তু বর্তমানে তারা পাচ্ছেন মাত্র ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস।

    শাহনেওয়াজ পারভেজ বলেন, সম্প্রতি একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় গ্যাস সরবরাহের ওপর আরো চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে সংকট তীব্র। প্রতিদিনই শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ আসছে। আবাসিক গ্রাহকদের অভিযোগও নিয়মিতভাবে মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

    নতুন গ্যাস-সংযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে তিতাসের কাছে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি আবেদন রয়েছে। এর মধ্যে ৫০০টিরও বেশি গ্রাহক ডিমান্ড নোট অনুযায়ী অর্থ জমা দিয়ে গ্যাস-সংযোগের অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় তাদের সংযোগ দেয়া যাচ্ছে না।

    এমডি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত দেশীয় গ্যাস উৎপাদন না বাড়বে কিংবা পর্যাপ্ত গ্যাসের জোগান নিশ্চিত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা নতুন গ্রাহকদের গ্যাস-সংযোগ দিতে পারব না।