অর্থ ও বাণিজ্য

  • গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, চালকদের ক্ষোভ

    গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, চালকদের ক্ষোভ

    রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি পাচ্ছেন না চালকরা। কোথাও কোথাও দিনের বেশিরভাগ সময়ই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে ট্রিপ কমে যাওয়ায় আয় কমেছে, বেড়েছে যাত্রীভোগান্তিও। একই সঙ্গে বাসাবাড়িতেও তীব্র গ্যাস সংকটে রান্না করতে না পেরে অনেক পরিবার বাধ্য হচ্ছে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করতে।

    রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন ও বাসাবাড়িতে খোঁজ নিয়ে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

    রাজধানীর হাতিরঝিল-বাড্ডা সংলগ্ন জামান সিএনজি স্টেশনে গত কয়েক দিনের মতো শনিবারও গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধ ছিল। মাঝে মধ্যে গ্যাস এলে অপেক্ষমাণ কয়েকটি গাড়িতে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। বাকি সময় কখন গ্যাস আসবে, সেই অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে চালকদের।

    মূল সড়কের পাশে হওয়ায় স্টেশনের সামনে গাড়ি রাখতে দিচ্ছে না ট্রাফিক পুলিশ। ফলে চালকদের হাতিরঝিলের ভেতরে কিংবা আশপাশের গলিতে গাড়ি রাখতে হচ্ছে। গ্যাস না থাকায় গাড়ি চালিয়ে অন্যত্রও যেতে পারছেন না তারা। বাধ্য হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনেই অপেক্ষা করছেন। স্টেশনটির সামনে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যাই বেশি।

    কাওসার নামের এক সিএনজিচালক বলেন, ‘শনিবার ভোর থেকে অপেক্ষা করছি। এখন সকাল সাড়ে ১০টা বাজে, গ্যাস পাওয়ার কোনও খবর নেই। কখন আসবে সেটাও কেউ বলতে পারছে না। গাড়িতে গ্যাস নেই, তাই অন্য কোথাও যেতে পারছি না। যতক্ষণই লাগুক, এখান থেকেই গ্যাস নিতে হবে।’

    মধ্য বাড্ডার মা সিএনজি স্টেশনেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে চালকরা গ্যাসের অপেক্ষা করছেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর প্রায় সব সিএনজি স্টেশনেই একই অবস্থা। গ্যাস এলে সর্বোচ্চ এক থেকে দেড় ঘণ্টা সরবরাহ থাকে, এরপর আবার বন্ধ হয়ে যায়।

    ভাড়ায় চালিত সিএনজি ও প্রাইভেট গাড়ির চালকরা বলছেন, গ্যাস সংকটের কারণে তাদের পরিবারে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। পর্যাপ্ত ট্রিপ দিতে না পারায় আয় কমে গেছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধানের দাবি জানান তারা।

    গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে যাত্রী পরিবহনেও। রাস্তায় সিএনজির সংখ্যা কমে যাওয়ায় বেড়েছে ভাড়া।

    বনশ্রী থেকে পান্থপথগামী এক যাত্রী বলেন, বনশ্রী থেকে আগে সিএনজিতে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা ভাড়া লাগলেও এখন ৩০০ টাকা দিতে হচ্ছে। কখনও কখনও ৩৫০ টাকাও চাওয়া হচ্ছে। চালকদের ভাষ্য, গ্যাস পেতে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবার গ্যাসের চাপ কম থাকায় অল্প পরিমাণ গ্যাস ওঠে, যা এক-দুইটি ট্রিপের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়।

    অন্যদিকে সিএনজি স্টেশনের মতো বাসাবাড়িতেও চলছে গ্যাসের সংকট। গ্যাস না থাকায় রান্না করতে পারছেন না গৃহিণীরা। অনেকেই বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করছেন। আবার কেউ কেউ গ্যাসের চাপ বাড়ানোর মেশিন কিনছেন।

    রাজধানীর বনশ্রীর বাসিন্দা কানিজ ফাতিমা বলেন, ‘দিন-রাত কোনও সময়ই ঠিকমতো গ্যাস পাওয়া যায় না। যে পরিমাণ গ্যাস আসে, তা দিয়ে কিছু গরম করাও অসম্ভব।’

    তিনি বলেন, বাধ্য হয়ে তারা ইলেকট্রিক চুলা কিনেছেন। এখন সেই চুলাতেই রান্না করতে হচ্ছে। তবে ইলেকট্রিক চুলায় সব ধরনের রান্না করা যায় না।

    একই এলাকার আফরোজা বেগম বলেন, ‘গ্যাসের ভয়াবহ পরিস্থিতি চলছে। কোনও রান্নাবান্নাই করা যাচ্ছে না। সকালের নাস্তা হোটেল থেকে আনতে হচ্ছে। দুপুরে ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করতে হয়। গ্যাস দিয়ে বাসায় রান্না করার কোনও উপায় নেই।’

    সোহেল নামের এক ব্যবসায়ী জানান, গ্যাস সংকটের কারণে ইলেকট্রিক চুলা ও গ্যাসের প্রেসার বাড়ানোর মেশিনের চাহিদা বেড়েছে।

    তিনি বলেন, ‘সঠিকভাবে গ্যাস না পাওয়ায় ক্রেতারা এগুলো কিনছেন।’

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাড্ডা, উত্তরা, মিরপুর, ধানমন্ডি থেকে শুরু করে পুরান ঢাকা; রাজধানীর প্রায় সব এলাকাতেই বাসাবাড়িতে গ্যাসের জন্য হাহাকার চলছে।

    এদিকে এলএনজির ভাসমান টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি। সিএনজি স্টেশনের সংকট খুবই সাময়িক, এটি থাকবে না।’

    মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, একটি এফএসআরইউতে (এলএনজির ভাসমান টার্মিনাল) যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। এ কারণেই সিএনজি স্টেশনগুলোতে কিছুটা লাইন দেখা গেছে।

    তিনি বলেন, দেশে প্রতিদিন প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে প্রতিদিন সরবরাহ করা যায় ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই কিছুটা ঘাটতি রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, গ্যাস অনুসন্ধানে দীর্ঘদিন কাজ হয়নি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

  • ৩০০ ছাড়ালো কাঁচামরিচের কেজি

    ৩০০ ছাড়ালো কাঁচামরিচের কেজি

    টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় শাক-সবজির পাশাপাশি হুহু করে বাড়ছে কাঁচামরিচের দাম। বেশ কিছুদিন ধরে ২০০ টাকার ওপরে থাকলেও তা এখন ৩০০ টাকা ছাড়িয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কোথাও ৩২০ টাকা, কোথাও ৩১০ কিংবা ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে কাঁচামরিচ। বিক্রেতাদের দাবি, বৃষ্টির কারণে মরিচ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া অন্যান্য সবজির সরবরাহ অনেক কম। এতে করে বেকায়দায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

    শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে।

    বিক্রেতাদের মতে, বাজারে নতুন কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজি, আর পুরোনো কাঁচামরিচের দাম উঠেছে ৩২০ টাকা পর্যন্ত কেজিতে।

    তারা বলেন, এক সপ্তাহ আগেও কাঁচামরিচের দাম ছিল ১২০-১৩০ টাকা। টানা বৃষ্টিতে মরিচের দাম বেড়ে গেছে বলে তারা দাবি করেন।

    শুক্রবাদ বাজারের সবজি বিক্রেতা আনোয়ার জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে শুধু সবজি না অনেক কিছুরই দাম ঊর্ধ্বমুখী। ক্রেতাদের সঙ্গে দাম দিয়ে মাঝেমধ্যে বিবাদে জড়াতে হচ্ছে।

    তিনি বলেন, আমাদের কিনে আনতে হচ্ছে বেশি দামে, কমে কীভাবে বিক্রি করবো। বৃষ্টি কমলে হয়তো দাম কমে আসতে পারে।

    বাজার করতে আসা একজন গৃহিণী তামান্না বলেন, দাম আসলে নাকালের বাইরে। কাঁচামরিচের দাম ক্রমাগত বাড়ছে, এখন রান্নাতে তো প্রয়োজনীয় জিনিস এটা। কাঁচামরিচ ছাড়া রান্না করবো কীভাবে। অন্যান্য সবজির দামও বেশি। দুই-তিন রকমের সবজি অল্প করে কিনতে গিয়েও ২০০ টাকার মতো চলে যাচ্ছে।

  • ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির আধুনিক ডিজিটাল আর্কাইভ চালু

    ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির আধুনিক ডিজিটাল আর্কাইভ চালু

    উচ্চশিক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও গবেষণাকে আরো সমৃদ্ধ করতে আধুনিক ডিজিটাল আর্কাইভ চালু করেছে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ডব্লিউইউবি)। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য উন্মুক্ত এ ডিজিটাল আর্কাইভে একাডেমিক তথ্য ও গবেষণাসামগ্রীর সমৃদ্ধ সংগ্রহ রাখা হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডিজিটাল আর্কাইভে ৩ হাজারের বেশি ই-বুকের পাশাপাশি দেশী-বিদেশী বিভিন্ন একাডেমিক জার্নাল, গবেষণাপত্র, প্রবন্ধ ও ডিজিটাল প্রকাশনা সংযোজন করা হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা একই প্ল্যাটফর্ম থেকে সহজেই নির্ভরযোগ্য একাডেমিক তথ্য ব্যবহার করতে পারবেন।

    ডিজিটাল আর্কাইভের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো পৃথক ইউজার প্রোফাইল ও লগইন সুবিধা। শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা অ্যাকাউন্টের ব্যবস্থা থাকায় প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ ও সহজভাবে এই সেবা ব্যবহার করতে পারবেন।

    বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীরা পাঠ্যক্রম, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন, প্রকল্প ও গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও রেফারেন্স সংগ্রহ করতে পারবে এ প্ল্যাটফর্ম থেকে। একই সাথে আন্তর্জাতিক মানের জার্নাল ও গবেষণা প্রকাশনার মাধ্যমে শিক্ষকদের পাঠদান, কোর্স পরিকল্পনা, গবেষণা ও একাডেমিক তত্ত্বাবধানে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

    এ ছাড়া প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্ব, দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত জ্ঞানসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকাশনা ব্যবহার করে নিজেদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ পাবেন।

    ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে আধুনিক ডেস্কটপ কম্পিউটারসমৃদ্ধ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত একটি ডিজিটাল আর্কাইভ রুমও স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে নিরিবিলি পরিবেশে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা গবেষণা, তথ্য অনুসন্ধান এবং অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

    বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, ডিজিটাল আর্কাইভ কেবল একটি তথ্যভাণ্ডার নয়; এটি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চা সম্প্রসারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষাকে আরও সহজলভ্য, গবেষণাকে আরও গতিশীল এবং জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

  • কাঁচামরিচের কেজি ৩০০ ছাড়াল

    কাঁচামরিচের কেজি ৩০০ ছাড়াল

    রাজধানীতে বাজারে শাক-সবজির পাশাপাশি হুহু করে বাড়ছে কাঁচামরিচের দাম। বেশ কিছুদিন ধরে ২০০ টাকার ওপরে থাকলেও টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় এখন ৩০০ টাকা ছাড়িয়েছে। কাঁচামরিচ রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কোথাও কেজি ৩২০ টাকা, কোথাও ৩১০ কিংবা ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে মরিচ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া অন্যান্য সবজির সরবরাহ অনেক কম। এ কারণে দাম বাড়ছে। এতে বেকায়দায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

    শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

    বিক্রেতারা বলেন, বাজারে নতুন কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজি, আর পুরোনো কাঁচামরিচ ৩২০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন তারা, যা এক সপ্তাহ আগেও দাম ছিল ১২০-১৩০ টাকা।

    এক সবজি বিক্রেতা জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে শুধু সবজি না অনেক কিছুরই দাম বেড়েছে। এ নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে ঝগড়াও হচ্ছে।

    ওই বিক্রেতার দাবি, তাদের বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে। এখন কীভাবে কমে বিক্রি করবেন- এ প্রশ্ন রেখেছেন তিনি।

    বাজার করতে আসা অনেক ক্রেতা জানান, কাঁচামরিচ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস। কিন্তু এটার দাম এখন নাগালের বাইরে। দাম বেড়েই চলছে। কাঁচামরিচ ছাড়া রান্না করব কীভাবে।এছাড়া শাক-সবজির দামও বেশি। দুই-তিন রকমের সবজি অল্প করে কিনলেও ২০০-২৫০ টাকা লাগে। এভাবে তো চলা যায় না।

  • জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার নিরলস কাজ করছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার নিরলস কাজ করছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি বলেছেন, জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেট শহরের যানজট নিরসনে আম্বরখানা থেকে লাক্কাতুরা পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা সিলেটবাসীর জন্য আশীর্বাদস্বরূপ হবে।

    তিনি শনিবার সিলেট সার্কিট হাউসে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

    সড়ক নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হয়ে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রধান সড়কগুলোর নির্মাণকাজ এবং চলমান প্রকল্পসমূহ পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

    মন্ত্রী বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওতায় ৪২টি ওয়ার্ড রয়েছে। এসব ওয়ার্ডের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একাধিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেট শহর আরও আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল নগরীতে পরিণত হবে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সড়ক অবকাঠামোসংক্রান্ত প্রধান সমস্যাগুলোরও সমাধান হবে।

    তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে শহরের ছড়াগুলো সংরক্ষণ করতে হবে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং বর্ষাকালে বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। পানির উৎস থেকে নদী পর্যন্ত প্রাকৃতিক প্রবাহের সুষ্ঠু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
    সভায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    সভা শেষে সাংবাদিকদের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেটের সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ হয়ে মৌলভীবাজারগামী সড়কটি আরও প্রশস্ত করা হবে। একইভাবে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লাক্কাতুরা এবং লাক্কাতুরা থেকে টিবি গেট পর্যন্ত একটি বিকল্প সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

  • সোনার দাম ভরিতে কমল ৩,৩২৪ টাকা

    সোনার দাম ভরিতে কমল ৩,৩২৪ টাকা

    দুই দিনের ব্যবধানে সোনার দাম ভরিতে কমল সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩২৪ টাকা। একই সঙ্গে রুপার দামও কমেছে সামান্য। নতুন দাম আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় কার্যকর হয়েছে।

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আজ সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে দাম কমলেও বরাবরের মতো সোনার দাম সমন্বয়ের কারণ হিসেবে সমিতি বলেছে, দেশের বাজারে তেজাবি (খাঁটি) সোনার দাম কমেছে। সর্বশেষ গত বুধবার সোনার দাম বেড়েছিল ভরিতে ২ হাজার ৭৪১ টাকা।

    চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি সোনার দাম দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। সেদিন সকালে একলাফে ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় দাঁড়ায়। তবে বর্তমানে সেই দামের তুলনায় ৬৫ হাজার টাকা কম সোনার দাম।

    নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম কমে হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা, ২১ ক্যারেটের সোনার দাম ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা।

    গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২২ ক্যারেটের ভরি ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ২১ ক্যারেটের ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা। তার মানে আজ ২১ ক্যারেটের সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ১৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ২ হাজার ৬৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনায় কমেছে ২ হাজার ২১৬ টাকা।

    সোনার দামের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় সোনার গয়নার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদা করে ভ্যাট আদায় করবে না জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান। চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রতি ভরি সোনার গয়নার ওপর ২ হাজার ৫০০ টাকা ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে। তার আগে ভ্যাট ছিল গয়নার মোট দামের ওপর ৫ শতাংশ।

    গোল্ড প্রাইস ডট অর্গের তথ্যানুসারে, বিশ্ববাজারে স্পটমার্কেটে সোনার দাম আজ কিছুটা কমেছে। আজ দুপুর পৌনে ১২টায় প্রতি আউন্স (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম) সোনার দাম ছিল ৪ হাজার ২৪ ডলার, যা গতকালের চেয়ে দশমিক ৫৫ শতাংশ কম।

    এদিকে সোনার পাশাপাশি রুপার দামও কিছুটা কমেছে। আজকে ২২ ক্যারেট রুপার দাম ভরিতে ১৭৫ টাকা কমে হয়েছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা। অন্যদিকে ২১ ক্যারেট রুপার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা।

  • পেঁয়াজ, মুরগি, ডিম, সবজির দাম বেড়েছে

    পেঁয়াজ, মুরগি, ডিম, সবজির দাম বেড়েছে

    বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। তাতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা। রাজধানীর কোনো কোনো বাজারে পেঁয়াজের কেজি ৬০ টাকা। সপ্তাহখানেক আগেও খুচরা পর্যায়ে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায় এক কেজি পেঁয়াজ কেনা যেত।

    পেঁয়াজের পাশাপাশি বাজারে আগের তুলনায় বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে মুরগি, ডিম, সবজি ও বিভিন্ন ধরনের মাছ। মূলত বৃষ্টির কারণে অনেক পণ্য নষ্ট হওয়ায় এবং চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমায় এসব পণ্যের দাম বেড়েছে।

    গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, আগারগাঁও তালতলা বাজার ও হাতিরপুল বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

    পেঁয়াজের পাইকারি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বর্তমানে কৃষকেরা পাট কাটা, পরিবহন ও বিক্রির কাজে ব্যস্ত থাকছেন। বিভিন্ন উৎপাদনস্থলের পাইকারি হাটে কৃষকেরা তুলনামূলক কম পেঁয়াজ আনছেন। এতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পণ্যটির দাম কিছুটা বেড়েছে।

    এদিকে পেঁয়াজের অন্যতম উৎপাদনস্থল পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় দুই সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। গতকাল উপজেলার বিভিন্ন পাইকারি হাটে প্রতি মণ পেঁয়াজ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তাতে কেজিপ্রতি দাম হয় ৩৫ থেকে সাড়ে ৪২ টাকা। ঢাকার পাইকারি বাজারে এসে এ দাম আরও বাড়ে। যেমন ঢাকার শ্যামবাজারের পাইকারিতে ৪৫-৪৭ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।

    পেঁয়াজের দাম বাড়ায় কৃষকেরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। সাঁথিয়ার বোয়ালমারী হাটের পেঁয়াজচাষি ও আড়তদার রাজা হোসেন জানান, দুই সপ্তাহ আগেও প্রতি মণ পেঁয়াজ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। ওই দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে কৃষকদের উৎপাদন খরচও উঠছিল না। কৃষকেরা পাট কাটায় ব্যস্ত থাকায় কম সরবরাহ থেকে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। তবে দাম বাড়লেও কৃষকদের ঘরে এখনো প্রচুর পেঁয়াজ মজুত রয়েছে বলে জানান তিনি।

    বাজারে এখন ডিমের দাম চড়া। ফার্মের মুরগির বাদামি রঙের এক ডজন ডিম ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাড়া-মহল্লার দোকানে আরও বেশি দাম রাখা হচ্ছে। বাড়তি রয়েছে মুরগির দামও। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকা এবং ধরনভেদে সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। তিন সপ্তাহ আগে এ দাম কেজিতে আরও ৩০-৪০ টাকা কম ছিল। রুই, তেলাপিয়া, পাঙাশ মাছের দামও এক মাস আগের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে রুই মাছের দাম কেজিতে ৫০ টাকার মতো বাড়তি রয়েছে।

    এ মাসে কয়েক দফায় টানা বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতি প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। বাজারে গেলে ৮০ টাকার নিচে তেমন কোনো সবজি কেনা যায় না। বেশ কিছু সবজির দাম ১০০ টাকার ওপরে। এক মাসের ব্যবধানে সবজিভেদে কেজিতে ২০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

    যেমন গতকাল বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ২৪০ থেকে ২৮০ টাকায়। এক মাস আগে মরিচ কেনা যেত ১২০-১৪০ টাকার মধ্যে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। অন্যান্য সবজির মধ্যে গতকাল প্রতি কেজি বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা; বরবটি, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, ঢ্যাঁড়স, করলা প্রভৃতি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

  • ৮০০ কোটি টাকায় জমি ও বহুতল ভবন কিনবে পূবালী ব্যাংক

    ৮০০ কোটি টাকায় জমি ও বহুতল ভবন কিনবে পূবালী ব্যাংক

    ২২ জুলাই অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    তথ্যানুযায়ী, ব্যাংকটি ৯৫ দশমিক ১০ শতাংশ বা ৫৭ দশমিক ৬৪ কাঠা আয়তনের জমির সঙ্গে ‘সুইস টাওয়ার’ নামে ২৬ তলাবিশিষ্ট নির্মাণাধীন ভবন অধিগ্রহণ করবে, যেখানে তিনটি বেজমেন্ট ফ্লোর রয়েছে। ভবনটি রাজধানীর ২০৮, বীর উত্তম মীর শওকত সড়কে (তেজগাঁও লিংক রোড) অবস্থিত।

    এ সম্পদ অধিগ্রহণে ব্যাংকটির মোট ব্যয় হবে ৮০০ কোটি টাকা। এ ব্যয়ের মধ্যে আয়কর অন্তর্ভুক্ত থাকলেও ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত নয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে জমি ও নির্মাণাধীন ভবনটি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে পূবালী ব্যাংক।

    সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ব্যাংকটি। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮ টাকা ৩৮ পয়সা। আগের হিসাব বছরে ইপিএস ছিল ৫ টাকা ৯৯ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫৪ টাকা ৩২ পয়সায়।

    ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটির পর্ষদ। এর মধ্যে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ ও ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে পূবালী ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৬ টাকা ৭৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬ টাকা ১ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৬ টাকা ৮ পয়সায়।

    ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটির পর্ষদ। এর মধ্যে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ ও ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে পূবালী ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৬ টাকা ৭৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ৪৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৬ টাকা ৩৩ পয়সায়।

    ২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে পূবালী ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ৪৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ টাকা ২৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪১ টাকা ৯৬ পয়সায়।

    পূবালী ব্যাংকের সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘এএএ’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ২০২৬ হিসাব বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস পিএলসি (সিআরআইএসএল)।

    ১৯৮৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পূবালী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৫৬১ কোটি ৭২ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৫ হাজার ৫০৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৫৬ কোটি ১৭ লাখ ২১ হাজার ৮৪২। এর ৩১ দশমিক ৮৭ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৪ দশমিক ৫৭, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক শূন্য ৫ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৪৩ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

  • বাংলাদেশসহ ৬০ বাণিজ্য অংশীদারের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের

    বাংলাদেশসহ ৬০ বাণিজ্য অংশীদারের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-সহ ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদারের পণ্যের ওপর ১০ ও ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে নতুন শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্পের প্রশাসন। আজ থেকে কার্যকর হওয়া এ শুল্কের আওতায় বাংলাদেশও রয়েছে। জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে শিথিলতার অভিযোগ এনে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সময়ে বিশ্বব্যাপী আরোপ করা অস্থায়ী ১০ শতাংশ মার্কিন শুল্কের মেয়াদও শেষ হচ্ছে। খবর রয়টার্স।

    হোয়াইট হাউজের এ পদক্ষেপকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বৈশ্বিক শুল্কব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সর্বশেষ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় জরুরি অবস্থা আইনের আওতায় গত বছর আরোপ করা ট্রাম্পের ১০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত তথাকথিত রেসিপ্রোকাল শুল্ক বাতিল করে দেয় মার্কিন উচ্চ আদালত। ওই শুল্কের উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো।

    গতকাল ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া মোট পণ্যের ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশের ওপর প্রযোজ্য হবে। তবে জ্বালানি তেল-গ্যাস, সার এবং কিছু খাদ্যপণ্যসহ বেশ কিছু পণ্য এর বাইরে থাকবে।

    ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় এ শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। এর ফলে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও যুক্তরাষ্ট্র কার্যত প্রায় সব আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ন্যূনতম শুল্ক বজায় রাখতে পারবে। এছাড়া সেকশন ৩০১ অতীতে আদালতে টিকে যাওয়ায় নতুন শুল্কের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জের ঝুঁকিও তুলনামূলক কম বলে মনে করা হচ্ছে।

    মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রায় এক শতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্রে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং আমরা তা কঠোরভাবে কার্যকর করি। এখন সময় এসেছে আমাদের বাণিজ্যিক অংশীদাররাও একইভাবে ব্যবস্থা নেবে। আজকের পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিকৃত বাণিজ্যচর্চা সংশোধনের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।

    এর আগে গ্রিয়ার জানিয়েছিলেন, যেসব দেশের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বাণিজ্য চুক্তিতে মার্কিন শুল্কের সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ করা হয়েছে, নতুন ‘জোরপূর্বক শ্রম’ শুল্ক সেই সীমার ওপরে যাবে না।

    বাংলাদেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক

    চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, ব্রিটেন, কম্বোডিয়া, কানাডা, একুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ হবে।

    অন্যদিকে ইইউ, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘মোস্ট-ফেভার্ড-নেশন’ শুল্কের সঙ্গে মিলিয়ে মোট শুল্কহার ১০ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হবে।

    বাকি ৩৮টি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে। এর মধ্যে রয়েছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, দেশটি উইঘুর সংখ্যালঘুদের শ্রমশিবিরে আটক রেখে কাজ করায়। যদিও বেইজিং এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

    ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা চীনা কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, গত নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য যুদ্ধবিরতিতে যে ২০ শতাংশ শুল্কহারে সম্মতি হয়েছিল, সেটিই পুনর্বহাল করা হবে। এর বেশি বাড়ানো হবে না। শুক্রবারের নতুন ব্যবস্থা কার্যকরের আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে শিল্পপণ্যের ওপর আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্ক বাদ দিলে চীনা পণ্যের ওপর কার্যকর শুল্ক ছিল ১০ শতাংশ।

    ইউএসটিআরের নথিতে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ-সংক্রান্ত তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিবেচনা করা হয়েছে এআরটি (এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড)-এর অধীনে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বাধ্যবাধকতা। একইসঙ্গে জনমত, সাক্ষ্য, সেকশন ৩০১ কমিটি এবং উপদেষ্টা কমিটিগুলোর পরামর্শও বিবেচনা করা হয়েছে। এর পর প্রেসিডেন্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী নোটিশের অ্যানেক্স-১ এবং অ্যানেক্স-২, পার্ট এ ও জে অংশে উল্লিখিত ব্যতিক্রম ছাড়া বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিনিধি ।

    আরো বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী বাণিজ্য প্রতিনিধি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, তদন্তে ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত কার্যকলাপ, নীতি ও চর্চা দূর করার লক্ষ্যে নির্ধারিত শুল্কহার, শুল্কের আওতা এবং অব্যাহতিগুলো উপযুক্ত।

    উল্লেখ্য যে নোটিশের অ্যানেক্স-১ এবং অ্যানেক্স-২, পার্ট এ ও জে অংশে কোনো দেশের জন্য আলাদা করে কিছু লেখা নেই। বরং সেখানে যেসব পণ্য ১০ শতাংশ শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে, সেগুলোর তালিকা (এইচটিএসইউএস কোড অনুযায়ী) দেয়া হয়েছে।

    বিভিন্ন দেশের প্রতিবাদ

    নতুন শুল্ক ঘোষণার পরপরই কয়েকটি দেশ এর প্রতিবাদ জানিয়েছে।

    নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইদে বলেন, নরওয়ের বিরুদ্ধে এ শুল্ক আরোপের কোনো ভিত্তি নেই। কারণ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য ঠেকাতে আমাদের আগে থেকেই সুস্পষ্ট নিয়ম রয়েছে।

    অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিল এ শুল্ককে অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানায়। চলতি সপ্তাহে ২ হাজার কোটি ডলারের পণ্যের ওপর নতুন ট্রাম্প শুল্কের মুখে পড়া কানাডা তুলনামূলক সংযত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একে ‘একতরফা’ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করে।

    ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট গভর্নর মওরা হিলিও এ শুল্কের সমালোচনা করে বলেন, ‘এতে ব্যয় বাড়বে, ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা দুর্বল হবে। এর বোঝা বহন করার সামর্থ্য কারো নেই।’

    একই হার, ভিন্ন আইনি ভিত্তি

    ওয়াশিংটনের আইন প্রতিষ্ঠান উইলি রেইনের বাণিজ্য আইনজীবী টিম ব্রাইটবিল বলেন, প্রত্যাশিতভাবেই জোরপূর্বক শ্রমভিত্তিক শুল্ক বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তিতে নির্ধারিত বর্তমান শুল্কহারই মূলত বহাল রাখছে এবং শুক্রবার শেষ হওয়া সেকশন ১২২-এর ১০ শতাংশ শুল্কের জায়গা নিচ্ছে।

    তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ ধারণা নাকচ করে বলেন, সময়, হার ও প্রায় সব আমদানিপণ্যের ওপর প্রযোজ্য হওয়ার কারণে এটি আগের শুল্কের সরাসরি বিকল্প— এমন ধারণা সঠিক নয়।

    তার ভাষ্য, জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় কঠোরভাবে কার্যকর হয়। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো যথাযথ ব্যবস্থা না নিয়ে অন্যায্য বাণিজ্যিক সুবিধা পেয়ে থাকে।

    সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও বর্তমানে বাণিজ্য আইনজীবী রায়ান মেজেরাস বলেন, সেকশন ৩০১ অতীতে আদালতে টিকে থাকায় নতুন শুল্ককে আইনি চ্যালেঞ্জে বাতিল করা আরো কঠিন হতে পারে।

    যেসব পণ্য শুল্কমুক্ত থাকবে

    প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা জানান, জ্বালানি তেল ও গ্যাস, সার, কিছু খাদ্যপণ্য এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সেকশন ২৩২-এর আওতায় আগে থেকেই শুল্কের মুখে থাকা গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার মতো পণ্য নতুন শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে।

    এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) শর্ত পূরণকারী পণ্যও শুল্কমুক্ত থাকবে। কারণ উত্তর আমেরিকার সমন্বিত সরবরাহ ব্যবস্থা এবং এসব পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চমাত্রার উপাদান ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।

  • কমেছে সামগ্রিক পোশাক রপ্তানি

    কমেছে সামগ্রিক পোশাক রপ্তানি

    চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি আয় সামান্য কমেছে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পোশাক রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৯৩৩ কোটি ৫৭ লাখ ডলারের, যা গত বছরের একই সময়ের এক হাজার ৯৪৫ কোটি ৯৩ লাখ ডলারের তুলনায় শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ কম। এর মধ্যে ওভেন পোশাক রপ্তানি কিছুটা বাড়লেও নিট পণ্যে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির কারণে সামগ্রিক রপ্তানি কমেছে।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ওভেন পোশাক থেকে রপ্তানি আয় এসেছে ৯১৯ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৯১৩ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। ফলে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে শূন্য দশমিক ৬৮ শতাংশ।

    অন্যদিকে, নিট পোশাক রপ্তানি আয় কমেছে এক দশমিক ৮০ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন সময়ে নিট পণ্য রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ১৩ কোটি ৫৮ লাখ ডলারের। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ আয় ছিল এক হাজার ৩২ কোটি ১৭ লাখ ডলার।

    মাসভিত্তিক হিসাবে বছরের শুরুতেই পোশাক রপ্তানিতে ধাক্কা দেখা যায়। জানুয়ারিতে মোট আরএমজি রপ্তানি হয়েছে ৩৬১ কোটি ৪৮ লাখ ডলারের, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় এক দশমিক ৩৫ শতাংশ কম। ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি কমেছে ১৩ দশমিক ২১ শতাংশ এবং মার্চে ১৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এ সময় ওভেন ও নিট–দুই ধরনের পোশাকেই রপ্তানি কমেছে।

    তবে এপ্রিল মাসে ঘুরে দাঁড়ায় খাতটি। ওই মাসে মোট পোশাক রপ্তানি ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে ৩১৪ কোটি ৯ লাখ ডলারে উন্নীত হয়। ওভেন রপ্তানি ৩২ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং নিট পোশাক ৩০ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ে।

    এর পরের মাস মে-তে আবার রপ্তানি কমে যায়। এ মাসে মোট আয় হয়েছে ৩৫৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় আট দশমিক ২৯ শতাংশ কম। জুনে অবশ্য প্রবৃদ্ধির ধারায় ফেরে পোশাক রপ্তানি। শেষ মাসে ৩৩৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা এক বছরের ব্যবধানে ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি। জুনে ওভেন পোশাকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৪ দশমিক ২ শতাংশ, আর নিটে ১৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

    বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আমার দেশকে বলেন, চলতি বছরের প্রথমার্ধে তৈরি পোশাক রপ্তানির সামগ্রিক চিত্রে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। তবে প্রথম ছয় মাসের এই প্রবৃদ্ধি বছর শেষে থাকবে কি না সন্দেহ আছে।

    তিনি বলেন, বিএনপির আগের আমলে ২০০৫ ও ২০০৬ সালের দিকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য তখন বিকেএমইএর সদস্য সংখ্যা ছিল আড়াই হাজার। এরপর দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়ায় শিল্প মালিকদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়, বর্তমানে বিকেএমইএর সদস্য সংখ্যা ৮০০-তে নেমে এসেছে।

    খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরের শুরুতে রপ্তানি কমলেও জুনে এসে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। একই সঙ্গে ওভেন পোশাকে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা বাংলাদেশের সক্ষমতার একটি ইতিবাচক দিক। মাত্র শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ রপ্তানি কমা থেকে বোঝা যায়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নানা অনিশ্চয়তা ও বাজার সংকটের মধ্যেও দেশের পোশাক খাত মোটামুটি স্থিতিশীল অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। সময়মতো পণ্য সরবরাহ, উৎপাদন সক্ষমতা এবং পরিবেশবান্ধব কারখানার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতাও এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

    তাদের মতে, সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক। বিশ্ব অর্থনীতির মন্থর গতি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে চাহিদার দুর্বলতা, বাড়তি উৎপাদন ব্যয় ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি ক্রেতাদের কাছ থেকে কম দামে পণ্য সরবরাহের চাপ–রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে বাধা তৈরি করতে পারে। এর সঙ্গে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর শুল্ক সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকে নতুন প্রতিযোগিতার মুখে ফেলবে। এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে প্রচলিত পণ্যনির্ভর ব্যবসা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চমূল্যের পোশাক, বৈচিত্র্যময় পণ্য এবং নতুন বাজার তৈরিতে জোর দিতে হবে। এতে একদিকে উৎপাদন দক্ষতা বাড়বে, অন্যদিকে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাও আরো শক্তিশালী হবে।