অর্থ ও বাণিজ্য

  • মিরপুরে দেয়াল ধসে দুইজন নিহত, আহত অন্তত ৬

    মিরপুরে দেয়াল ধসে দুইজন নিহত, আহত অন্তত ৬

    রাজধানীর মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পেছনের সীমানা প্রাচীর ধসে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ছয়জন। মঙ্গলবার দুপুরে লাভ রোড-মন্দির রোড এলাকায় টিসিবির পণ্য বিক্রির সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতদের একজনের নাম নাছিমা বেগম। তিনি পাশের জনতা হাউজিং এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া ৪০ বছর বয়সী এক পুরুষের মৃত্যু হয়েছে, তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টিসিবির পণ্য সংগ্রহের জন্য কলেজের দেয়ালের পাশে দীর্ঘ লাইনে সাধারণ মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই কলেজের পেছনের সীমানা প্রাচীর ধসে পড়ে। দেয়াল ধসে কয়েকজন নারী-পুরুষ চাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। নাছিমা বেগম নামের ওই নারীকে পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। পরে ঢাকা মেডিকেলে এক পুরুষকে মৃত ঘোষণা করা হয়। সেখানে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন আরেক নারী।

    পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার সমকালকে বলেন, দেয়াল ধসে ফুটপাতে পড়লে সাত থেকে আটজন চাপা পড়েন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে এক নারীসহ দুজনের মৃত্যু হয়। তবে তারা টিসিবির পণ্য নেওয়ার জন্য এসেছিলেন কিনা বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। টিসিবির পণ্য বিক্রি হচ্ছিল সড়কে। ওখানে মানুষজন ভিড় করেছিলো। আবার ফুটপাত দিয়েও মানুষজন চলাচল করছিল। দেয়াল ধসে ফুটপাতে থাকা দুইজন মারা যায়। তদন্তে এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

  • ১৮ মাসেই চালু হবে চায়না ইকোনমিক জোনের প্রথম কারখানা : বেজা চেয়ারম্যান

    ১৮ মাসেই চালু হবে চায়না ইকোনমিক জোনের প্রথম কারখানা : বেজা চেয়ারম্যান

    আগামী ১৮ মাসের মধ্যেই চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে (সিইআইজেড) প্রথম কারখানার উৎপাদন দেখতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বেজা নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই উৎপাদনে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান।

    সোমবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রামের আনোয়ারার বেলচূড়া এলাকায় বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এ কথা জানান বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান।

    অনুষ্ঠানে আশিক চৌধুরী বলেন, ‘গত মাসে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ডেভেলপার কোম্পানির চেয়ারম্যানের সাথে বৈঠক হয়। সেখানে জোনটি চালুর বিষয়ে প্রথমে তিন থেকে পাঁচ বছর সময়ের কথা বলা হলেও প্রধানমন্ত্রী ১৮ মাসের মধ্যে প্রথম কারখানা চালুর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। পরে ডেভেলপার কোম্পানির চেয়ারম্যানও এই সময়ের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।’

    চীনা বিনিয়োগকারীদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিদেশী বিনিয়োগকারীরা আমাদের অতিথি। তারা বিনিয়োগে মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি দেশের হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করবেন। এই জোন দ্রুত চালু হলে এই এলাকার চেহারা বদলে যাবে।’

    স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীকে বিনিয়োগকারীদের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    যেকোনো সমস্যা সমাধানে সম্মিলিতভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়ে বেজা নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দিতে হবে।’

    দেশের অগ্রগতির জন্য বিনিয়োগের বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

  • কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের আম ও আমজাত পণ্যের উৎসব, রপ্তানির সম্ভাবনা তুলে ধরল দূতাবাস

    কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের আম ও আমজাত পণ্যের উৎসব, রপ্তানির সম্ভাবনা তুলে ধরল দূতাবাস

    নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতের আম ও আমভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত পণ্যের প্রদর্শনী ও উৎসবের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। ‘বাংলাদেশ ম্যাঙ্গো ডেলিকেসি’ শীর্ষক এ আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের উৎকৃষ্ট মানের আম, সমৃদ্ধ কৃষি ঐতিহ্য এবং কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা হয়।

    শনিবার দূতাবাস সংলগ্ন উৎসব কুঞ্জ ব্যাংকুয়েট হলে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সার্ক সচিবালয়ের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের যুগ্মসচিব গহেন্দ্র রাজভাণ্ডারী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, নেপাল সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, আমদানিকারক, গণমাধ্যমকর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন।

    স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে আম শুধু একটি ফল নয়, এটি দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, কৃষি ও জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বলেন, উর্বর পলিমাটি ও অনুকূল জলবায়ুর কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম উৎকৃষ্ট আম উৎপাদনকারী দেশ। খিরসাপাত (হিমসাগর), হাড়িভাঙ্গা, ল্যাংড়া, ফজলি, গোপালভোগ, আম্রপালি, আশ্বিনা, কাটিমন, গৌরমতি ও বারি আমসহ বিভিন্ন জাতের আমের আন্তর্জাতিক সুনামের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

    রাষ্ট্রদূত আরও জানান, দেশের বিজ্ঞানীরা দেরিতে ফলনশীল নতুন জাতের বারি আম উদ্ভাবন এবং বিদেশি জাতের সফল অভিযোজনের মাধ্যমে আম গবেষণায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে বেসরকারি খাত আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আমের জুস, নেকটার, পাল্প, জ্যাম, আচার, চাটনি, শুকনো আম, ক্যান্ডি, ফ্রুট বার ও বিভিন্ন মূল্যসংযোজিত পণ্য উৎপাদন করছে।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সার্ক মহাসচিব মো. গোলাম সারওয়ার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আম উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও এ অঞ্চলের আম ও আমজাত পণ্যের রপ্তানি এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এ ধরনের উদ্যোগ কৃষিখাতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    বিশেষ অতিথি গহেন্দ্র রাজভাণ্ডারী বলেন, এ আয়োজন বাংলাদেশের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তার পরিচয় বহন করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও নেপালের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে। তিনি রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমানের ‘ম্যাঙ্গো ডিপ্লোমেসি’ উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন।

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সফল আমচাষি রফিকুল ইসলাম গত ১৫ বছরের আমচাষের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেস (GAP) অনুসরণ করে নিরাপদ ও মানসম্মত আম উৎপাদনের বিভিন্ন পদ্ধতি অতিথিদের সামনে উপস্থাপন করেন।

    প্রদর্শনীতে রাজশাহীর মৌসুম-পরবর্তী ফজলি, আম্রপালি, বারি-৪, কাটিমন, গৌরমতি ও আশ্বিনাসহ বিভিন্ন জাতের তাজা আম প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি আমের জুস, আচার, ফ্রুট বার, শুকনো আম, চাটনি, জ্যাম ও জেলিসহ নানা ধরনের প্রক্রিয়াজাত পণ্যও প্রদর্শিত হয়। অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় আমের কেক, ম্যাঙ্গো স্টিকি রাইস, ম্যাঙ্গো পুডিংসহ বিভিন্ন ডেজার্ট। এছাড়া বাংলাদেশে আম চাষ, দেশের সংস্কৃতি, পর্যটন ও ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

    প্রায় ২৫০ জন অতিথি এ উৎসবে অংশ নেন। আয়োজকদের মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে নেপালে বাংলাদেশের আম ও আমজাত পণ্যের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে অংশীদারত্ব গড়ে তোলা এবং কৃষি ও খাদ্যপণ্যের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। অনুষ্ঠানের শেষে অতিথিদের জন্য ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবারের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়।

  • ১৬ বছরে দেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে: আইনমন্ত্রী

    ১৬ বছরে দেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে: আইনমন্ত্রী

    আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিগত সরকার আমলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে ডকুমেন্টেড উপায়ে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে।

    রোববার সকালে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নান, মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এজিএম মনিরুল হাসান সরকার, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহাগ তালুকদার, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডহক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী।

    আইনমন্ত্রী বলেন, এটি আমার তথ্য নয়, বিশ্বখ্যাত একটি সাময়িকীর প্রকাশিত তথ্য। অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে গেছে। এই অর্থ বিভিন্ন দেশের ব্যাংক এবং সম্পদে বাংলাদেশি পরিচয়ে বিনিয়োগ করা হয়েছে।

    তিনি দুর্নীতির একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, পিরোজপুরের একটি প্রকল্পের বিগত সরকারের সময়ে শুধু অর্থ পাচারই হয়নি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার কাজ কাগজে-কলমে দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। এক ইঞ্চি রাস্তা নির্মাণ হয়নি, এক কেজি রড কিংবা একশ টাকার সিমেন্টও ব্যবহার হয়নি। অথচ কাগজে-কলমে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার কাজ দেখিয়ে সেই অর্থ লুটপাট করা হয়েছে।

    অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, এই বিপুল অর্থ পাচার দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিগত সরকারের সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে, যার সুফল দেশের মানুষ পায়নি। তখন প্রায় প্রতিটি খাতে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছিল। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট করা হয়েছে এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। এর ফলে দেশের উন্নয়ন যেমন বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি জনগণের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    বর্তমান সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। আইনজীবী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নতুন প্রজন্মের আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান, তারা যেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিজেদের মেধা, সততা ও পেশাগত দক্ষতা কাজে লাগান। অতীতের লুটপাট ও অর্থ পাচারের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। এজন্য সমাজের প্রতিটি স্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

  • এসডিজি অর্জনে ৫ বছরে বাংলাদেশের দরকার আরও ৪২১ বিলিয়ন ডলার

    এসডিজি অর্জনে ৫ বছরে বাংলাদেশের দরকার আরও ৪২১ বিলিয়ন ডলার

    টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের আরও প্রায় ৪২১ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রয়োজন হবে। সম্প্রতি হালনাগাদ করা সরকারের এসডিজি অর্থায়ন কৌশলের পর্যালোচনায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

    আজ রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স অ্যাসেসমেন্ট (ডিএফএ) ও এসডিজি অর্থায়নবিষয়ক জাতীয় ভ্যালিডেশন কর্মশালায়’ অতিরিক্ত অর্থায়নের হিসাব দেওয়া হয়।

    জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের কার্যালয়ের সহযোগিতায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ওই কর্মশালার আয়োজন করে। আজ ইআরডির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    কর্মশালার মূল উপস্থাপনা প্রদান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ও বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান। তিনি তাঁর উপস্থাপনায় বাংলাদেশের পরিবর্তিত অর্থায়ন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেন। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি উভয় উৎস থেকে অতিরিক্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করার সম্ভাব্য কৌশল তুলে ধরেন।

    সেলিম রায়হান জানান, ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশের অতিরিক্ত ৪২১ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। এ অর্থের সিংহভাগ দেশীয় সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়ন, জলবায়ু অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইআরডিসচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, ‘এসডিজি বাস্তবায়নের অবশিষ্ট সময় অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। একদিকে অর্থায়নের যেমন ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে, তেমনি হাতে সময় সীমিত এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতিও অনিশ্চিত। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থবহ অগ্রগতি অর্জন করতে সক্ষম হবে।’

    মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী আরও বলেন, ‘এখন আমাদের প্রয়োজন সুস্পষ্ট অগ্রাধিকার নির্ধারণ, সমন্বিত উদ্যোগ এবং কার্যকর বাস্তবায়ন।’

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরজনিয়াক বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

    ক্যারল ফ্লোর-স্মেরজনিয়াক বলেন, বর্তমান বিশ্বে উন্নয়ন অর্থায়নের সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিনিযোগে উৎসাহিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের নিজস্ব উৎস থেকে এসডিজি বাস্তবায়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ইআরডির অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল একটি সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক অর্থায়ন পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ইউএনডিপির উপ-আবাসিক প্রতিনিধি সোনালি দয়ারত্নে বলেন, অর্থায়নের ঘাটতি পূরণে আরও কার্যকর অর্থায়ন নীতি এবং শক্তিশালী অংশীদারত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন।

    যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) অর্থায়নে পরিচালিত ইউএনডিপি ক্লাইমেট ফাইন্যান্স নেটওয়ার্ক (সিএফএন) কর্মসূচির সহায়তায় আয়োজিত এই কর্মশালার আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, ব্যাংকিং খাতের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

  • গ্যাস সংকট, রান্নায় ভরসা এখন বৈদ্যুতিক চুলা

    গ্যাস সংকট, রান্নায় ভরসা এখন বৈদ্যুতিক চুলা

    রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকটে রান্নাঘরে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। দিনের পর দিন চুলায় আগুন না জ্বলায় বিকল্প হিসাবে বৈদ্যুতিক চুলার দিকে ঝুঁকছে হাজারো পরিবার। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে ইলেকট্রিক ও ইনডাকশন চুলার বিক্রি বেড়েছে কয়েক গুণ।

    বিক্রেতারা বলছেন, গ্যাসের অনিশ্চয়তার কথা বিবেচনা করে অনেকেই স্থায়ী বিকল্প হিসেবে আগেভাগেই বৈদ্যুতিক চুলা কিনে রাখছেন।

    একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে বৈদ্যুতিক ও ইনডাকশন চুলার বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাসের চাপ কম থাকে বা একেবারেই গ্যাস পাওয়া যায় না, সেসব এলাকার ক্রেতাদের উপস্থিতিই বেশি। অনেকেই গ্যাসের চুলার পাশাপাশি একটি বৈদ্যুতিক চুলা কিনছেন, যাতে গ্যাস না থাকলেও রান্নার কাজ ব্যাহত না হয়।

    বনশ্রীর সোহেল নামের বিক্রেতা জানান, আগে দিনে যেখানে চার থেকে পাঁচটি বৈদ্যুতিক চুলা বিক্রি হতো, এখন সেখানে ১৫ থেকে ২০টি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি চাহিদা ১ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকার ইলেকট্রিক ও ইনডাকশন চুলার। তবে উন্নত মানের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা মূল্যের চুলাও বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্রেতা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা বিবেচনা করে তুলনামূলক ভালো মানের পণ্যই বেছে নিচ্ছেন।

    কথা হয় চুলা কিনতে আসা রাজধানীর বাড্ডার গৃহবধূ আঁখি আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি আনন্দনগর এলাকায় থাকি। কয়েক বছর ধরেই আমাদের এলাকায় গ্যাসের তীব্র সমস্যা। রান্না করতে প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তাই পরিবারের প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী ইনডাকশন চুলা কিনতে এসেছি। একটি পছন্দও হয়েছে, কিনে বাড়ি ফিরব।’

    রামপুরার আরেকটি শোরুমে ইলেকট্রিক চুলা কিনতে আসা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার চেয়ে প্রয়োজনের সময় বৈদ্যুতিক চুলায় রান্না করা অনেক বেশি সুবিধাজনক। বিদ্যুতের বিল কিছুটা বাড়লেও পরিবারের স্বাভাবিক রান্নাবান্না চালিয়ে নিতে এটি কার্যকর সমাধান।’

    বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের সংকট যতদিন থাকবে ততদিন বৈদ্যুতিক ও ইনডাকশন চুলার চাহিদা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে রান্নার কাজে বিকল্প প্রযুক্তির ব্যবহারও ধীরে ধীরে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অনেক কোম্পানি বাজারে ইলেকট্রিক চুলা আনছে। বিক্রিও ভালো হচ্ছে।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলমান গ্যাস সঙ্কটের কারণে রান্নার জন্য ইলেকট্রিক চুলা-ই এখন অনেকেই ব্যবহার করছেন। সকাল দুপুর সন্ধ্যা কোন সময়েই রান্নার উপযোগী গ্যাস মিলছে না।

    উত্তরার বাসিন্দা মৌসুমী আক্তার জানান, গ্যাগের অভাবে চুলাই জ্বলে না। এখন উপায় না পেয়ে ইলেকট্রিক চুলা কিনেছি। এই চুলায় এখন আমরা রান্না করছি।

    তিনি বলেন, ‘ছোট পরিবারের জন্য ইলেকট্রিক চুলা ঠিক আছে। কিন্তু যাদের বড় পরিবার, বেশি রান্না করতে হয়; তারা কী করবেন? চরম গ্যাস সঙ্কটে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দ্রুত সমাধানেরও দাবি জানান তিনি।

    এদিকে সারা দেশে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস। শনিবার (২৫ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহেশখালীস্থ এলএনজি টার্মিনালগুলো থেকে কারিগরি ত্রুটির কারণে রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি (আরএলএনজি) সরবরাহ প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি কমে যাওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাস গ্যাসের আওতাধীন এলাকায় সব শ্রেণির গ্রাহক প্রান্তে তীব্র স্বল্পচাপ বিরাজ করবে।

    এর আগে একই দিনে চলমান গ্যাস সংকট নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে পেট্রোবাংলাও। সংস্থাটি জানায়, এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউর (এলএনজির ভাসমান টার্মিনাল) কারিগরি ত্রুটি মেরামতে দেশি-বিদেশি কারিগরি দল নিরলসভাবে কাজ করছে। যত দ্রুত সম্ভব মেরামতকাজ শেষ করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

    পেট্রোবাংলা আরও জানায়, এফএসআরইউর কারিগরি ত্রুটি মেরামতের কাজ শেষ হলেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে। এ বিষয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি হলে পরে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

  • অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব বেড়েছে ৭ হাজার

    অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব বেড়েছে ৭ হাজার

    ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের সময়ে দেশে ১ কোটি টাকা বা তার বেশি আমানত থাকা ব্যক্তি শ্রেণির ব্যাংক হিসাব উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে এমন হিসাবের সংখ্যা ৩৩ হাজার ৬২৯ থেকে বেড়ে ৪০ হাজার ৬৪৫-এ পৌঁছেছে। অর্থাৎ দেড় বছরে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ৭ হাজার ১৬টি কোটি টাকার হিসাব, যা প্রায় ২১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ‘ব্যাংকিং সেক্টর আপডেট’ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যক্তি শ্রেণির কোটি টাকার হিসাবগুলোতে মোট আমানত ছিল ৮৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯১ হাজার ৪০০ কোটি টাকায়।

    অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে স্থবিরতা, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির নিম্নগতি এবং দারিদ্র্যের চাপের মধ্যে এত অল্প সময়ে কোটি টাকার হিসাবের ২১ শতাংশ বৃদ্ধি স্বাভাবিক অর্থনৈতিক প্রবণতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই এ প্রবৃদ্ধির পেছনের কারণ নিয়ে বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন খাতে নতুন প্রভাবশালী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে। চাঁদাবাজি, দখলসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত অর্থের একটি অংশ ব্যাংকে জমা হওয়ায় কোটি টাকার হিসাব বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    তবে সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের মতে, এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে।
    তিনি বলেন, ‘দুর্বল ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের পর অনেক আমানতকারী তাদের স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ভেঙে তুলনামূলক শক্তিশালী ব্যাংকে স্থানান্তর করেছেন। একই সঙ্গে নগদ অর্থ ব্যাংকে রাখার প্রবণতা এবং নতুন ব্যবসায়ী শ্রেণির উত্থানও কোটি টাকার হিসাব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।’

    রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন ক্ষমতাকেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি দ্রুত সম্পদের মালিক হয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে যাদের হাতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ ছিল, পরিবর্তনের পর তার একটি অংশ নতুন গোষ্ঠীর হাতে যায়। এর প্রভাবও ব্যাংক হিসাব বৃদ্ধিতে পড়তে পারে।’

    অন্যদিকে, মানুষের ঘরে থাকা নগদ অর্থ ব্যাংকে জমা হওয়ার কারণেই কোটি টাকার হিসাব বেড়েছে—এমন ধারণার পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য খুব বেশি সমর্থন দেয় না। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ব্যাংকের বাইরে জনগণের হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৮৩ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৩ হাজার ১৮ কোটি টাকায়। অর্থাৎ ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থও একই সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরীর মতে, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর নতুন ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী শ্রেণির উত্থান এবং দুর্বল ব্যাংক থেকে আমানত স্থানান্তরের ঘটনাও কোটি টাকার হিসাব বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় বড় অঙ্কের অর্থ ব্যাংকে স্থায়ী আমানত হিসেবে রাখা হয়েছে বলেও তিনি মনে করেন।
    অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশের ১৬টি বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। এছাড়া আরও কয়েকটি ব্যাংকে চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়। একই সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে এবং ব্যাংকগুলো সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠে।

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর নজরদারি ও তদারকি জোরদার করেছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কোটি টাকার হিসাব বাড়তে পারে। তবে এর পেছনে অবৈধ বা অপ্রদর্শিত অর্থের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য সঠিক হলে কোটি টাকার হিসাবের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণ খুঁজে বের করতে প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন।

    ব্যাংকিং খাতের পর্যবেক্ষকদের মতে, কোটি টাকার হিসাব বৃদ্ধি একদিকে যেমন অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক, তেমনি এর পেছনে বৈধ ব্যবসা, আমানত স্থানান্তর, বিনিয়োগের ধীরগতি কিংবা অবৈধ অর্থের প্রবাহ—কোনটি কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা স্পষ্ট করতে প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ও কার্যকর নজরদারি।

  • একবছরে  খেলাপি ঋণের পরিমান দ্বিগুণ হয়েছে

    একবছরে  খেলাপি ঋণের পরিমান দ্বিগুণ হয়েছে

    দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের সংকট আরও গভীর হচ্ছে। বিশেষ করে খুচরা (রিটেইল) ঋণ গ্রাহকদের মধ্যে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত একবছরে শ্রেণিকৃত (খেলাপি) ঋণসংবলিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে চলতি বছরের মার্চমাসের শেষে প্রায় ৪৬ লাখে পৌঁছেছে। এর বেশিরভাগই ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণের হিসাব, যা সাধারণ গ্রাহক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ছোট ব্যবসায়ীদের আর্থিক চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ‘ব্যাংকিং সেক্টর আপডেট’ শীর্ষক সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত খেলাপি ঋণ রয়েছে— এমন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫ লাখ ৪৩ হাজার, যা এক বছর আগে একই সময়ে ছিল ২১ লাখ ৬৩ হাজার। অর্থাৎ মাত্র একবছরের ব্যবধানে এ ধরনের খেলাপি হিসাবের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, খুচরা ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এই অবনতি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, পারিবারিক ঋণের চাপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে স্থবিরতা এবং কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসার আয় কমে যাওয়ায় অনেক গ্রাহক ঋণের কিস্তি পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন।

    প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং খাতে তাৎক্ষণিক ঝুঁকি তৈরি করলেও বিপুল সংখ্যক ছোট ঋণ হিসাব খেলাপি হয়ে পড়া অর্থনীতির ভেতরে গভীর আর্থিক দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করে। কারণ এটি সাধারণ মানুষের আর্থিক সক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রতিফলন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মোট বকেয়া ঋণের বিপরীতে খেলাপি ঋণের অনুপাতও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে যেখানে এই হার ছিল ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ, সেখানে ২০২৬ সালের মার্চ শেষে তা বেড়ে ৩২ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে।

    প্রতিবেদনে ব্যাংকভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত ও ইসলামী ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এসব ব্যাংকে সুশাসনের ঘাটতি ও দুর্বল ঋণ ব্যবস্থাপনার প্রভাব স্পষ্ট। অন্যদিকে, বিদেশি ব্যাংকগুলোতে কঠোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ঋণ মূল্যায়ন পদ্ধতির কারণে খেলাপি ঋণের হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

    বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, ২০১৬ সালের পর প্রতিষ্ঠিত নতুন ব্যাংক এবং বিদেশি ব্যাংক বাদে অধিকাংশ রাষ্ট্রায়ত্ত, বেসরকারি ও ইসলামী ব্যাংকে গত এক বছরে খুচরা ঋণের পরিমাণও বেড়েছে। তবে সেই সঙ্গে বেড়েছে খেলাপি হিসাবের সংখ্যাও।

    খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কুটির শিল্প খাত বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এ খাতে খেলাপি ঋণের হার ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ, যা অন্যান্য খাতের তুলনায় অনেক বেশি।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ব্যবসা, কৃষি ও শিল্প— প্রায় সব খাতেই গত এক বছরে খেলাপি ঋণের হার বেড়েছে। ফলে ব্যাংকিং খাতের সম্পদের গুণগত মান, ঋণ পুনরুদ্ধার এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে শুধু বড় ঋণগ্রহীতাদের নয়, ক্ষুদ্র ও খুচরা ঋণগ্রহীতাদের আর্থিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে ঝুঁকি মূল্যায়ন আরও শক্তিশালী করা এবং নিয়মিত তদারকি বাড়ানো না গেলে ব্যাংকিং খাতে এই চাপ আরও বাড়তে পারে।

  • বাংলাদেশে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ১ কোটি ৫৩ লাখ মানুষ

    বাংলাদেশে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ১ কোটি ৫৩ লাখ মানুষ

    বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় এক কোটি ৫৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে, যা বিশ্লেষণভুক্ত মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় চার লাখ ৮৩ হাজার মানুষ জরুরি পর্যায়ের খাদ্য সঙ্কটে রয়েছে।

    অন্যদিকে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ সময় তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়ে এক কোটি ৮১ লাখে পৌঁছাতে পারে। এর মধ্যে প্রায় সাত লাখ ৮৭ হাজার মানুষ জরুরি পর্যায়ের খাদ্য সঙ্কটে পড়তে পারেন।

    খাদ্য মন্ত্রণালয়, জাতিসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গার, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশনের (গেইন) যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত ‘ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি)’- এর সর্বশেষ বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    আইপিসি হলো খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার তীব্রতা ও ব্যাপ্তি বিশ্লেষণ এবং শ্রেণিবিন্যাসের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি কাঠামো। এর বিশ্লেষণ সরকার ও উন্নয়ন অংশীদারদের মানবিক সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচি পরিকল্পনায় একটি অভিন্ন প্রমাণভিত্তিক ভিত্তি প্রদান করে।

    সম্প্রতি ঢাকায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও তদারকি ইউনিটের (এফপিএমইউ) নেতৃত্বে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের কর্মশালায় এই বিশ্লেষণের ফলাফল প্রকাশ ও পর্যালোচনা করা হয়। এতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধি, গবেষক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম, হাওরাঞ্চল, কয়েকটি উপকূলীয় জেলা এবং কক্সবাজার ও ভাসানচরে অবস্থানরত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মাত্রা সবচেয়ে বেশি।

    কর্মশালায় খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী বলেন, ‘বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের সহনশীলতা বৃদ্ধিতে প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণকে নীতি ও বিনিয়োগের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আইপিসির এই বিশ্লেষণ আমাদের সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং জলবায়ু ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে আরও কার্যকরভাবে সহায়তা করতে সাহায্য করবে।’

    খাদ্যসচিব আবু তাহের মো: মাসুদ রানা বলেন, ‘কার্যকর নীতিনির্ধারণে তথ্য ও প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি আশা করি, এই আইপিসি প্রতিবেদনের ফলাফল নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী এবং মানবিক সংস্থাগুলোর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) ড. মোহাম্মদ জকরিয়া বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এর জন্য সরকার, সমাজ, এনজিও, উন্নয়ন সহযোগী, জাতিসংঘের সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’

    প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিকূল জলবায়ু, বন্যা, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটাচ্ছে। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া না হলে কোটি মানুষের পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাদ্যে প্রবেশাধিকার আরো সীমিত হয়ে পড়বে।

    কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা জরুরি খাদ্য সহায়তা সম্প্রসারণ, দুর্যোগ-সাড়া সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি সম্প্রসারণ, জীবিকা পুনরুদ্ধারে সহায়তা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার সুপারিশ করেন।

    বাংলাদেশে এফএওর প্রতিনিধি ড. জিয়াওকুন শি বলেন, ‘বারবার বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলবায়ুজনিত দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থার সহনশীলতা বাড়ানো এখন অত্যন্ত জরুরি। জরুরি কৃষি কৌশল, জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি, টেকসই জীবিকা এবং স্থানীয় খাদ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ শুধু তাৎক্ষণিক খাদ্য সঙ্কট মোকাবিলাই নয়, ভবিষ্যৎ সঙ্কট থেকেও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেবে।’

    বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা বলেন, ‘এই আইপিসি বিশ্লেষণের সবচেয়ে বড় গুরুত্ব হলো, এটি সঙ্কট আরো গভীর হওয়ার আগেই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করতে সহায়তা করে। বিশ্লেষণে চিহ্নিত অনেক এলাকাই বর্তমানে ভারী বৃষ্টি ও বন্যার মুখে রয়েছে, বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম। সেখানে ডব্লিউএফপি আগাম পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং সরকারের দুর্যোগ-সাড়া সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমে সহায়তা দিচ্ছে। জরুরি সাড়ার পাশাপাশি আইপিসি ভবিষ্যৎ সঙ্কটের পূর্বাভাস, আরো কার্যকরভাবে সহায়তা পৌঁছে দেয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

    কর্মশালায় খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অংশীদার সংস্থাগুলো তাৎক্ষণিক খাদ্য নিরাপত্তা সঙ্কট মোকাবিলা, ভবিষ্যতের দুর্যোগে সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং সবার জন্য টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

  • রপ্তানিতে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য নির্ধারণ, ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা

    রপ্তানিতে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য নির্ধারণ, ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা রপ্তানির লক্ষ্য ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। উভয় খাতেই ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ উপস্থিত ছিলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশের রপ্তানি খাত ঘুরে দাঁড়ানোর বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, বিনিয়োগ সহজীকরণ এবং সরকারি সেবার প্রক্রিয়া সরলীকরণের মাধ্যমে রপ্তানিতে নতুন গতি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে চলতি বছরের মধ্যেই এফটিএ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। এই নির্ভরতা কমাতে সরকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফুটওয়্যার, শিপবিল্ডিং, শিপ রিসাইক্লিং, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এসব খাতের বিকাশে শিগগিরই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ওপর কার্যকর শুল্ক কাঠামোয় বাস্তবিক অর্থে নতুন কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগের ১০ শতাংশ শুল্কই নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে বহাল রয়েছে। ফলে দেশের রপ্তানিতে নতুন করে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই।

    জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গ্যাস সরবরাহের সীমাবদ্ধতার কারণে শিল্প খাতের উৎপাদন সক্ষমতার একটি অংশ এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। অতিরিক্ত এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।

    তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের নীতিগত স্থিতিশীলতা, ব্যবসাবান্ধব সংস্কার, নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধির ফলে আগামী অর্থবছরে নির্ধারিত রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের সামনে এখন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত হয়েছে। ব্যবসা সহজীকরণ, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা দেশের রপ্তানি খাতে নতুন এক ঊর্ধ্বগতির সূচনা করতে চাই।