অর্থ ও বাণিজ্য

  • কার্ড থেকে এমএফএসে ‘অ্যাড মানি’ বাস্তবায়নের সময় বাড়ল

    কার্ড থেকে এমএফএসে ‘অ্যাড মানি’ বাস্তবায়নের সময় বাড়ল

    ব্যাংকের কার্ড থেকে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে ‘অ্যাড মানি’ সুবিধাসংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নের সময়সীমা আরও পাঁচ মাস বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার (এমএফএসপি) ও তফসিলি ব্যাংকগুলো আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের সুযোগ পাচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

    নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কার্ড থেকে এমএফএস হিসাবে ‘অ্যাড মানি’ সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পরিচালনাগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হলে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্ড ব্যবহার করে এমএফএস হিসাবে ‘অ্যাড মানি’ করার সুবিধা বন্ধ করে দিতে হবে।

    বর্তমানে গ্রাহকরা ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে এমএফএস অ্যাকাউন্টে অর্থ যোগ করতে পারেন। তবে এ ধরনের লেনদেনে নিরাপত্তা জোরদার, গ্রাহকের পরিচয় যাচাই (কেওয়াইসি) এবং লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন কিছু নির্দেশনা জারি করেছিল। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং কার্যপ্রণালীতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

  • ডিএসইতে লেনদেন ১ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা

    ডিএসইতে লেনদেন ১ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা

    দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বুধবার সবকটি মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। একইসাথে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে।

    ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, আজ মোট ৩৯১টি কোম্পানির ৫০ কোটি ৫০ লাখ ৩৯ হাজার ৯৪৯টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। দিন শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৪২ কোটি ৫১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৭৮ টাকা।

    লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১১৩টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ২৩৯টির কমেছে এবং ৩৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

    দিন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২১ দশমিক ৪১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৭৮ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসই-৩০ সূচক ৮ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২১০ দশমিক ৭৩ পয়েন্টে এবং শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ৯ দশমিক ৫১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৯১ দশমিক ৯৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

    লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো—অরগান ডেনিমস, ডমিনেজ স্টিল, বেক্সিমকো, সায়হাম টেক্সটাইল, বিওটিবিসি, একমি পেস্টিসাইড, আইটিসি, সায়হাম কটন, ব্র্যাক ব্যাংক এবং ইন্দো-বাংলা ফার্মা।

    দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো—ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স, সায়হাম টেক্সটাইল, অরগান ডেনিমস, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, প্রাইম ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স, এক্সিম ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, নিটল ইন্স্যুরেন্স, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স এবং সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স।

    অন্যদিকে দরপতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো—বেক্সিমকো, ফরচুন সুজ, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, এনআরবি ব্যাংক, এমএল ডাইং, বি-লিজিং, এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড-১, এবি ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, পিএইচপি প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড এবং ট্রাস্ট ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড।

  • ইবিএলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন আনিস আহমেদ

    ইবিএলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন আনিস আহমেদ

    ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল) পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আনিস আহমেদ। গত সোমবার (২৭ জুলাই) থেকে তার নিয়োগ কার্যকর হয়েছে। এর আগে, তিনি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী কমিটি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির (আরএমসি) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    আজ বুধবার ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, আনিস আহমেদ সিঙ্গাপুরভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এমজিএইচ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। ২৬টি দেশে পরিচালিত এ গ্রুপের ব্যবসা ফাস্ট ফ্যাশন, ই-কমার্স, অটোমোটিভ ও ইলেকট্রনিকস খাতের সাপ্লাই চেইন সল্যুশন, প্রাইভেট কনটেইনার টার্মিনাল, এয়ারলাইন, গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম, লজিস্টিকস, খাদ্য ও পানীয়ের খুচরা ব্যবসা এবং আর্থিক সেবাখাতে বিস্তৃত।

    তিনি রাইড-শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘ওভাই’, ইনস্যুরটেক প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াদা’ এবং আবাসন অ্যাগ্রিগেশন প্ল্যাটফর্ম ‘যাত্রা’রও প্রতিষ্ঠাতা। গত এক দশক ধরে তিনি দেশে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করছেন।

    চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আনিস আহমেদ বলেন, ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি আরো শক্তিশালী করা, ডিজিটাল রূপান্তর এগিয়ে নেয়া এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া হবে।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তার নেতৃত্বে ইবিএল দেশের অন্যতম শীর্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে।

  • ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কারসাজির সহযোগী চুপ্পুর গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ

    ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কারসাজির সহযোগী চুপ্পুর গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ

    ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কারসাজির অন্যতম হোতা ও ব্যাংক লুটকারী এস আলমের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

    সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, এস আলম গ্রুপের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের ব্যাংকিং খাতে যে অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে, তার পেছনে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সহযোগিতা ছিল। তারা দাবি করেন, ব্যাংক খাত ধ্বংসে জড়িত ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

    বিক্ষোভকারীরা সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর গ্রেপ্তার, ব্যাংক লুটের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

    কর্মসূচি চলাকালে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ব্যাংক খাতের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান। পরে তারা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল শেষ করেন।

  • শ্রমবাজার নিয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ফলপ্রসূ আলোচনা

    শ্রমবাজার নিয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ফলপ্রসূ আলোচনা

    শ্রমবাজার নিয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আজ বুধবার ও গতকাল মঙ্গলবার-এই দুই দিনে মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি এম রামানানের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

    বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, জনশক্তি রপ্তানি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা এবং শ্রম অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আন্তরিক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

    বৈঠকে বাংলাদেশের মন্ত্রী ও উপদেষ্টা, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধি এবং শ্রমবাজার-সংশ্লিষ্ট অংশীজন উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার, শ্রমবাজারে বিদ্যমান সুযোগ সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

    বর্তমানে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

    সফর চলাকালে প্রথমদিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে টেলিফোনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ফোনালাপে বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে জ্বালানি, বিনিয়োগ, বন্দর উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়। এছাড়াও আলোচনায় বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের মাধ্যমে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে সহযোগিতা, এক্সিটা গ্রুপ বারহাডের বিনিয়োগ কার্যক্রমের অগ্রগতি, কৌশলগত অংশীদারত্বের সম্ভাবনা এবং এমএমসি করপোরেশন বারহাডের সঙ্গে বন্দর ও অবকাঠামো খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এই উচ্চপর্যায়ের সফর ও ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শ্রমবাজার, বিনিয়োগ, জ্বালানি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত হবে এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নতুন মাত্রা লাভ করবে।

  • নীতি সহায়তা পেতে মামলা প্রত্যাহার বাধ্যতামূলক

    নীতি সহায়তা পেতে মামলা প্রত্যাহার বাধ্যতামূলক

    রপ্তানিমুখী বন্ধ কল-কারখানা চালু করাসহ কৃষি, সিএমএসএমইসহ অন্যান্য খাতের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ বা নীতি সহায়তা দিচ্ছে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ঘোষিত কোনো প্রণোদনা প্যাকেজ কিংবা অন্য কোনো নীতি সহায়তা পেতে হলে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিট পিটিশনসহ সব ধরনের মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি আবেদনকারীকে হলফনামার মাধ্যমে ঘোষণা দিতে হবে যে, এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তার কোনো মামলা অসম্পন্ন নেই।

    বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়িয়ে বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন নীতি সহায়তা ও প্রণোদনা দিয়ে আসছে। এর আওতায় রপ্তানিমুখী বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, কৃষি ও সিএমএসএমই খাতসহ বিভিন্ন খাতের ঋণগ্রহীতাদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, দেখা যাচ্ছে কোনো কোনো গ্রাহক একদিকে এসব প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা গ্রহণ করছেন। অন্যদিকে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে রিট পিটিশনসহ বিভিন্ন মামলা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ধরনের পরিস্থিতি ব্যাংকিং খাতে মামলাজট সৃষ্টি করছে।

    এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত যেকোনো প্রণোদনা প্যাকেজ কিংবা নীতি সহায়তা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলা প্রত্যাহার হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রত্যাহার করা মামলার তালিকা সংযুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে আবেদনকারীকে হলফনামার মাধ্যমে ঘোষণা দিতে হবে যে, সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে তার কোনো মামলা অনিষ্পন্ন নেই।

  • একদিনের ব্যবধানে আবার কমলো স্বর্ণের দাম 

    একদিনের ব্যবধানে আবার কমলো স্বর্ণের দাম 

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের গহনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনার দাম ২ হাজার ১০০ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ হাজার ৭৫০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এর আগে সোমবার (২৭ জুলাই) একই পরিমাণে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। সে সময় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আগের বাড়ানো মূল্য পুরোপুরি প্রত্যাহার করে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

    শুধু স্বর্ণের নয়, রুপার গহনার দামও কমানো হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার গহনার দাম ৫৯ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপার গহনার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১১৬ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার গহনার দাম ১১৬ টাকা কমিয়ে ২ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করেছে বাজুস।

  • বিনিয়োগ সেবা সহজ করতে ৬৬১.৫ কোটি টাকার ‘বাংলাবিজ’ প্রকল্প সরকারের

    বিনিয়োগ সেবা সহজ করতে ৬৬১.৫ কোটি টাকার ‘বাংলাবিজ’ প্রকল্প সরকারের

    ব্যবসায়িক নিবন্ধন ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে বিদ্যমান সব ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) পোর্টালকে এক ছাতার নিচে এনে ‘বাংলাবিজ’ নামের একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

    ইতোমধ্যে ৬৬১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পপের কাজ শুরু হয়েছে।

    মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রকল্পটি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো- বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা), বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সেবাসমূহকে একত্রিত করে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।

    উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক ব্যবসা নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণমূলক অন্যান্য অনুমোদন পেতে আর দুই থেকে তিন বছর অপেক্ষা করতে হবে না। বরং মাত্র তিন কার্যদিবসের মধ্যেই এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

    প্রকল্পের আওতায় বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্মে একটি ‘সিঙ্গেল সাইন-অন’ (এসএসও) ব্যবস্থা থাকবে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা একটিমাত্র অ্যাকাউন্ট দিয়েই একাধিক সংস্থার সেবা নিতে পারবেন।

    এতে আরো থাকছে ‘নো ইউর অ্যাপ্রুভালস’ নামের একটি ড্যাশবোর্ড, যার মাধ্যমে লাইসেন্স ও পারমিটের আবেদন কোন পর্যায়ে আছে, তা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

    এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘ইউনিক বিজনেস আইডি’ (ইউবিআইডি) বা অনন্য ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর চালু করা।

    আজীবন মেয়াদি এই ইউনিক আইডি সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সহজ করবে, বারবার একই কাগজপত্র জমা দেওয়ার ঝামেলা দূর করবে এবং সেবার মান উন্নত করবে।

    প্রকল্পটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপটি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি প্রাথমিক ‘বিজনেস স্টার্টার প্যাক’ নিয়ে শুরু হয়েছে। আর আগামী ৯ থেকে ১২ মাসের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেবাসমূহকে এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সব ধরনের সেবাকে শতভাগ ডিজিটালে রূপান্তর করা।

    এই প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং এর আইনগত দিক নিয়ে কাজ করছে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ অ্যাক্ট’।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, বাংলাবিজ প্রকল্প চালু হলে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সুবিধা ব্যবস্থা নতুন রূপ পাবে। ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় সহজ পরিবেশ তৈরি ও দেশি-বিদেশি ব্যাপক বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে।

  • ১৩ দিনেই ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ ৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়াল

    ১৩ দিনেই ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ ৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়াল

    রাজস্ব আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় নতুন অর্থবছরের শুরুতেই সরকারের ঋণের চাহিদা বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১৩ দিনে সরকার ব্যাংক খাত থেকে নিট ৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। ফলে বর্তমানে ব্যাংক খাতে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা।

    খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, তা কখনোই পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয় না। ফলে সরকারকে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়। বর্তমানে প্রত্যাশা অনুযায়ী বিদেশি ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েই সরকারের অর্থায়নের চাহিদা মেটানো হচ্ছে।

    জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১৩ দিনে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৫ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারের ঋণের অবস্থান ছিল ঋণাত্মক ৪ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা। এছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে নেওয়া হয়েছিল ৬ হাজার ১১২ কোটি টাকা। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এই ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৯৫ হাজার ২১৯ কোটি টাকা।

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরেই সরকারের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে রাজস্ব আদায় প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম হয়। ফলে ব্যয় নির্বাহে সরকারকে ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিতে হচ্ছে।

    গত অর্থবছরে সরকার ব্যাংক থেকে যে পরিমাণ ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, তার চেয়ে ৩০ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও পরে সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা করা হয়। তবে পুরো অর্থবছরে সরকার ব্যাংক খাত থেকে মোট ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।

    অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

  • নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এআইভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণ ব্যবস্থার উদ্যোগ

    নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এআইভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণ ব্যবস্থার উদ্যোগ

    দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা বর্তমানে কৃষি, খাদ্য, শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের সংবেদনশীল পণ্য নিয়ে কাজ করছে। এসব পণ্যের কোনটি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত, কোনটি আমদানিনির্ভর এবং কোনটির ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানির সমন্বয় রয়েছে—তা বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

    মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ই-কমার্স বাস্তবায়ন বিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ অনেক সময় সরবরাহ সংকট। কোনো পণ্যের উৎপাদন বা আমদানি উৎসে সমস্যা তৈরি হলে যাতে হঠাৎ সরবরাহ ঘাটতি তৈরি না হয়, সেজন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। কোনো পণ্যের দাম বাড়লে সরকার ভর্তুকি দিয়ে কমাবে কি-না, সেটি ভিন্ন বিষয়। কিন্তু সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে যেন বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি না হয়, সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

    তিনি বলেন, ডাল, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে স্থানীয় উৎপাদন, মৌসুমি ঘাটতি, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি এবং রপ্তানিকারক দেশগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা নিয়মিত বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো বছর দেশে ডালের উৎপাদন কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে ফসল ঘরে ওঠার আগেই প্রস্তুতি নিতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের যেসব দেশ থেকে পণ্য আমদানি করা হয়, সেসব দেশের উৎপাদন পরিস্থিতি ও রপ্তানি সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

    তিনি বলেন, আমাদের জানতে হবে—কোন সময়ে কোন পণ্যের ঘাটতি তৈরি হতে পারে, কোন দেশ থেকে কখন আমদানি করলে ভালো হবে এবং কোন বাজারে দাম তুলনামূলক সুবিধাজনক থাকবে।

    এ লক্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্‌ম তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা ১০ বছরের বাজার তথ্য, উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।

    তিনি বলেন, বর্তমানে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সভা করতে হয় এবং সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘ সময় লাগে। কিন্তু এআইভিত্তিক ব্যবস্থা চালু হলে কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ পাওয়া সম্ভব হবে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এক সময় একটি তথ্য পেতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করতে হতো এবং আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগতো। এআই ১০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েক মিনিটের মধ্যে সম্ভাব্য পরিস্থিতি তুলে ধরতে পারবে।

    তিনি জানান, এআই ব্যবস্থা আগাম জানাতে পারবে—কোন সময়ে কোন পণ্যের ঘাটতি তৈরি হতে পারে, কোন দেশ থেকে আমদানি করা সুবিধাজনক হবে, কোন দেশের রপ্তানি সক্ষমতা কতটুকু রয়েছে এবং কখন ক্রয় করলে বাজার সুবিধা পাওয়া যাবে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে সারা বছর গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।

    তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একা এ কার্যক্রম পরিচালনা করবে না। কৃষি, খাদ্যসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে। যেসব সংস্থা এ কার্যক্রমে যুক্ত থাকবে, তারা প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

    তিনি আরও বলেন, এআই প্রযুক্তির কার্যকারিতা বাড়াতে নির্ভরযোগ্য তথ্যের উৎস নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারি তথ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ওপেন সোর্স ও সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক তথ্য উৎস ব্যবহার করে একটি সমৃদ্ধ ডেটাবেজ তৈরি করা হবে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুরুতে এ ব্যবস্থার উন্নয়নে সময় লাগলেও কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করার পর এটি মানুষের চেয়ে দ্রুত ও কার্যকরভাবে বিশ্লেষণ দিতে সক্ষম হবে।

    তিনি বলেন, দ্রুত ও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ। এর মাধ্যমে দেশের বাজার ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে।

    সভায় ই-কমার্স খাতের উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর বাজার ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।