অর্থ ও বাণিজ্য

  • ছোট উদ্যোক্তাদের ১ শতাংশ ন্যূনতম করের বোঝা, টিকে থাকার লড়াই কঠিন হবে

    ছোট উদ্যোক্তাদের ১ শতাংশ ন্যূনতম করের বোঝা, টিকে থাকার লড়াই কঠিন হবে

    যেকোনো দেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হলেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ে চাহিদার জোগান দেওয়া—সবখানেই তাঁদের বিচরণ।

    কিন্তু সম্প্রতি পাস হওয়া অর্থ আইন, ২০২৬ দেশের এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য এক বড় ধরনের দুঃসংবাদ বয়ে এনেছে। আয়কর আইন, ২০২৩–এর ১৬৩(৬) ধারায় আনা একটি পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও ব্যক্তিগত পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের জন্য আগে বহাল থাকা চার কোটি টাকার বার্ষিক টার্নওভার পর্যন্ত কর অব্যাহতির সুবিধাটি পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে এখন থেকে তাঁদের মোট বিক্রয় বা টার্নওভারের ওপর বাধ্যতামূলকভাবে ১ শতাংশ হারে ন্যূনতম কর আরোপ করা হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে রাজস্ব বাড়ানোর একটি সাধারণ পদক্ষেপ মনে হলেও এর নেতিবাচক প্রভাব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের টিকে থাকার লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলবে।

    আগের কর ব্যবস্থায় নিয়ম ছিল, কোনো উদ্যোক্তার বার্ষিক টার্নওভার যদি চার কোটি টাকার নিচে হয়, তবে তিনি তাঁর প্রকৃত নিট মুনাফার ওপর ভিত্তি করে এবং ব্যক্তিগত করদাতার নির্ধারিত ধাপ (স্তর অনুসারে) অনুযায়ী আয়কর দেবেন। এতে সুবিধা ছিল, কোনো কারণে ব্যবসায়ে লোকসান হলে বা মুনাফা কম হলে করের বোঝাও কম হতো। কিন্তু নতুন বিধানে লাভের চেয়ে বিক্রির অঙ্ককেই বড় করে দেখা হয়েছে। এখন ব্যবসা লাভে চলুক বা লোকসানে, মোট বিক্রির ১ শতাংশ সরকারকে কর হিসেবে দিয়ে দিতে হবে। সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এই নিয়ম সহায়ক হতে পারে, কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় এটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সক্ষমতাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দেবে।

    কর বাড়বে কত

    এই নতুন আইনের প্রভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের করের ভার কতটা বেড়েছে, তা সাম্প্রতিক উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে পিলে চমকে ওঠার মতো। উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যবসায়ীর বার্ষিক বিক্রি ৫০ লাখ টাকা এবং সব খরচ বাদে করযোগ্য আয় আড়াই লাখ টাকা (নিট মুনাফা ৫ শতাংশ অনুমান করে), আগের নিয়মে তাঁকে কোনো আয়করই দিতে হতো না। কারণ, আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় ছিল করমুক্ত সীমার ভেতরে। কিন্তু এখন তাঁকে বাধ্যতামূলকভাবে ৫০ হাজার টাকা ন্যূনতম কর দিতে হবে। অর্থাৎ যে ব্যবসায়ী আগে শূন্য কর দিতেন, তাঁকে এখন শুরুতেই বড় অঙ্কের (৫০ হাজার) টাকা গুনতে হবে।

    একইভাবে এক কোটি টাকা টার্নওভার ও পাঁচ লাখ টাকা আয়ের ক্ষেত্রে আগে করের পরিমাণ ছিল মাত্র ১০ হাজার টাকা। কিন্তু নতুন নিয়মে তাঁকে দিতে হবে এক লাখ টাকা। এখানে করের বোঝা একলাফে ৯০০ শতাংশ বৃদ্ধি পে য়েছে। দুই কোটি টাকা বিক্রয় ও ১০ লাখ টাকা আয়ের ক্ষেত্রে আগে কর দিতে হতো ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ টাকায়। অর্থাৎ কর বেড়েছে প্রায় ১৯৬ শতাংশ।

    তিন কোটি টাকার ব্যবসায়ে আগে যেখানে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা কর ছিল, তা এখন দ্বিগুণ হয়ে তিন লাখ টাকা হয়েছে। এমনকি চার কোটির সামান্য নিচে অর্থাৎ ৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা টার্নওভারের ক্ষেত্রেও করের পরিমাণ প্রায় ৫৫ শতাংশ বেড়ে চার লাখ টাকা হয়েছে। এই অঙ্কগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ব্যবসার আকার যত ছোট, করের বোঝা বৃদ্ধির হার সেখানে তত বেশি।

    ঝুঁকি কী

    নীতিগতভাবে এই পরিবর্তন দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের জন্য বেশ কিছু বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। প্রথমত, এটি ব্যবসায়ীদের মূলধন ক্ষয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে যাঁরা ট্রেডিং বা কম মুনাফার ব্যবসা করেন, যেখানে লাভের হার মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ, সেখানে ১ শতাংশ টার্নওভার কর দেওয়া মানে হলো, তাঁদের মোট মুনাফার অর্ধেক বা তার বেশি সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়া।

    কোনো বছর ব্যবসা লোকসানে থাকলে করের টাকা দিতে হবে পকেট থেকে বা ব্যবসা থেকে মূলধন তুলে। এর ফলে সাধারণ উদ্যোক্তারা আয়কর রিটার্ন জমা দিতে চরম অনাগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন। তাঁরা মনে করতে পারেন, কর ব্যবস্থার ভেতরে আসার চেয়ে বাইরে থাকাই নিরাপদ।

    দ্বিতীয়ত, এই কর ব্যবস্থা ব্যবসায়ীদের মধ্যে অস্বচ্ছতা ও কর ফাঁকির প্রবণতা বাড়িয়ে দিতে পারে। করের অতিরিক্ত চাপ এড়াতে অনেক ব্যবসায়ী তাঁদের প্রকৃত বিক্রির হিসাব লুকানোর চেষ্টা করবেন। এতে বাজারে আন্ডার ইনভয়েসিং বা প্রকৃত দামের চেয়ে কম দাম দেখানোর প্রবণতা বাড়বে। স্বচ্ছ ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন করার পরিবর্তে ব্যবসায়ীরা নগদ বা ক্যাশ লেনদেন করতে বেশি আগ্রহী হবেন। এর ফলে অর্থনীতিতে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের পরিধি বাড়বে, যা দীর্ঘ মেয়াদে সরকারের ডিজিটালাইজেশন ও কর ফাঁকি রোধের লক্ষ্যকেই ব্যাহত করবে।

    সবশেষে বলা যায়, সরকার অর্থ আইন, ২০২৬–এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করতে অনেকগুলো ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ ধরনের ব্যবসায় ও স্টার্টআপ কোম্পানির বিক্রয়ের ওপর ন্যূনতম কর প্রত্যাহার করেছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

    কিন্তু চার কোটি টাকার নিচে টার্নওভার থাকা প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ওপর এই ১ শতাংশ ন্যূনতম করের বোঝা সরাসরি তাঁদের টিকে থাকার ওপর আঘাত। লোকসানে থাকা অবস্থায়ও কর পরিশোধের বিধানটি মুনাফাকেন্দ্রিক ন্যায়সংগত করনীতির মূল দর্শনের পরিপন্থী। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা যাতে কর ব্যবস্থার মূলধারায় থেকে সততার সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন, সে জন্য এ বিধানটি জরুরি ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তা না হলে করের এই বোঝা ক্ষুদ্র শিল্প বিকাশের পথকে রুদ্ধ করে দেবে, যা সামগ্রিকভাবে জাতীয় অর্থনীতির জন্যই ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াবে।

  • বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগামী সপ্তাহে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা

    বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগামী সপ্তাহে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা

    বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো গভীর করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষ শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ জন শীর্ষ নির্বাহী ও ব্যবসায়ী নেতা বাংলাদেশ সফরে আসছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

    শনিবার (১ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

    মাহদী আমিন জানান, সফররত মার্কিন প্রতিনিধিদল বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দফতরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন। তাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথেও বৈঠকের কথা রয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের কথা জানানো হয়েছে। তারা মনে করে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে এবং গত প্রায় পাঁচ মাসে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে।’

    মুখপাত্র বলেন, ‘বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বহুমাত্রিক সম্পর্ককে আরো গভীর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে কীভাবে এগিয়ে নেয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মার্কিন কোম্পানিগুলো কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে এবং এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কীভাবে নীতিগত সহায়তা দেয়া যায়, সেসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘রফতানি ও আমদানি বাড়ানোর উপায় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। একইসাথে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আরো বেশি মার্কিন বিনিয়োগ নিশ্চিত করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষ শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ জন ব্যবসায়ী নেতা বা প্রথম সারির কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফরে আসবেন।’

    মাহ্দী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভ্রমণ সতর্কতা (ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি) ইতিবাচকভাবে সংশোধিত হওয়াও বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ আরো বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।’

    তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দেশটি থেকে আরো বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের আশা করছে সরকার, যা দেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়ক হবে।’

    মাহ্দী আমিন আরো বলেন, ‘বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরও সংবাদমাধ্যমকে একই ধরনের ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র অতীতের মতোই বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হিসেবে পাশে থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি যে আস্থা প্রকাশ করেছে, তা ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করবে।

  • এবার লিবিয়ার তেলে ট্রাম্পের চোখ

    এবার লিবিয়ার তেলে ট্রাম্পের চোখ

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে ধরে যুক্তরাষ্ট্রে এনে কারাবন্দি করার পর দেশটির জ্বালানি তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটির তেল বিক্রি করে ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কিন্তু বিপুল এই অর্থ কোথায় বা কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর ট্রাম্পের চোখ এখন লিবিয়ার তেলের দিকে। তিনি তার প্রতিনিধি ও বেয়াইয়ের (মেয়ে টিফানির শ্বশুর) মাধ্যমে লিবিয়ার পূর্ব ও পশ্চিম অংশে ক্ষমতাসীন দুটি সরকারসহ তিনটি রাজনৈতিক পক্ষের শীর্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে দেশটির তেল সম্পদের ওপর মার্কিন ব্যবসায়ীদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন।

    লিবিয়া নিয়ে ট্রাম্পের নতুন করে আগ্রহ দেখানোর নেপথ্যে রয়েছে দেশটির জ্বালানি তেল। এতদিন লিবিয়ার ঘটনাবলিতে ট্রাম্পের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল খুবই সীমিত। কিন্তু হঠাৎ করে এখন এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো একটি হিসাব—২০৩০ সালের মধ্যে লিবিয়ার দৈনিক তেল উৎপাদন দ্বিগুণ করে ৩০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করা হলে তা কনোকোফিলিপস, শেভরনসহ যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কোম্পানিগুলোর জন্য লাভজনক হবে। এসব কোম্পানি লিবিয়ার তেল নিয়ে এরই মধ্যেই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

    ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার আলোকে লিবিয়ার তিনটি প্রধান রাজনৈতিক গোষ্ঠী ক্ষমতার অংশীদারত্ব নিয়ে একটি চুক্তি করেছে গত ১৮ জুন। এই চুক্তির মাধ্যমে ২০২৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারির আগে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনের রূপরেখা তৈরি করা হয়। সংঘাতকবলিত লিবিয়ায় গত ১৮ বছরের মধ্যে এটি এ ধরনের প্রথম চুক্তি। এই চুক্তির কাঠামোটি গত এপ্রিল মাসে গৃহীত ৩০ বিলিয়ন ডলারের ‘একীভূত রাষ্ট্রীয় বাজেট’র ওপর ভিত্তি করে তৈরি। গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় লিবিয়ায় প্রণীত প্রথম একীভূত বাজেট এটা।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আরব ও আফ্রিকাবিষয়ক সিনিয়র উপদেষ্টা এবং মেয়ে টিফানির শ্বশুর মাসাদ বুলোস এই চুক্তি স্বাক্ষরের নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। এই চুক্তি স্বাক্ষরের আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রোমে একটি গোপন বৈঠক হয়। এরপর থেকেই এই প্রক্রিয়ার মূল ব্যক্তি হিসেবে কাজ করছেন মাসাদ বুলোস। সাধারণ লিবিয়ানদের মধ্যে এই চুক্তির সফলতা নিয়ে এরই মধ্যেই সংশয় তৈরি হয়েছে। কারণ, দেশটির সুশীল সমাজ, উপজাতি গোষ্ঠীগুলো, বিভিন্ন মিলিশিয়া বাহিনী এবং নারী ও তরুণ সমাজের কোনো প্রতিনিধি রোমের সেই বৈঠকে রাখা হয়নি।

    মাসাদ বুলোস কোনো পেশাদার কূটনীতিক নন। তিনি একজন লেবানিজ-আমেরিকান ব্যবসায়ী। লিবিয়ার জনগণের মন্তব্য হলো—তার প্রধান যোগ্যতা হলো তিনি টিফানি ট্রাম্পের শ্বশুর। লিবিয়ার ব্যাপারে ট্রাম্পের আগ্রহ মূলত দেশটির তেল নিয়ে। তার এই হিসাব-নিকাশটি ন্যাটোর লিবিয়ায় হস্তক্ষেপের সময় দেওয়া ট্রাম্পের সেই পুরোনো বক্তব্যের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিনিময়ে লিবিয়ার তেল বিক্রির আয়ের অর্ধেক যুক্তরাষ্ট্রের পাওয়া উচিত।

    আফ্রিকা মহাদেশে তেলের প্রমাণিত মজুতের সবচেয়ে বড় ভান্ডার রয়েছে লিবিয়ায়। কিন্তু দেশটিতে চলমান সংঘাত ও বিভাজনের কারণে এই তেল সম্পদ ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় স্বার্থে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশটির জাতীয় তেল কোম্পানি ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশনকে একীভূত করা এবং দলীয় বা গোষ্ঠীগত হস্তক্ষেপ থেকে এটিকে রক্ষা করা গেলে দৈনিক তেল উৎপাদন ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে রাষ্ট্রীয় আয়ও ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

    কিন্তু লিবিয়ার পূর্ব অংশে যুদ্ধবাজ নেতা জেনারেল হাফতারের সমর্থিত সরকার ও পশ্চিম অংশে ত্রিপোলিভিত্তিক জাতিসংঘ সমর্থিত ‘গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল ইউনিটি’ (জিএনইউ) ক্ষমতায় থাকায় এই তেল সম্পদ ভাগাভাগি ও লুটপাট হচ্ছে। জিএনইউয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুল্লাহ ইজ্জেদিন দ্য নিউ আরবকে বলেন, দুটি সরকার এক হলে ব্যয় অর্ধেকে নেমে আসবে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-ফিতোরি বলেন, ‘লিবিয়া এমন একটি অঞ্চলে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিটি শহর এক-একটি রাষ্ট্র হয়ে উঠেছে। তার মতে, একটি ঐক্যবদ্ধ সাংবিধানিক কাঠামোই জাতীয় নির্বাচনের একমাত্র পথ, যে নির্বাচনে একটি বৈধ ও স্থায়ী কর্তৃপক্ষ গঠিত হবে।

    ঐক্যবদ্ধ বাজেট প্রণয়নে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার জাতীয় স্বার্থে আপস-মীমাংসায় রাজিও হয়েছিল। লিবিয়ার সিরতে শহরে আফ্রিকায় মার্কিন সামরিক কমান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত ‘ফ্লিন্টলক ২০২৬’ নামের সামরিক মহড়ায়ও উভয় পক্ষের বাহিনী প্রথমবারের মতো একই কমান্ডের অধীনে অংশ নিয়েছে। তবে মূল সমস্যাটি নিহিত রয়েছে নতুন এই চুক্তির কাঠামোর মধ্যেই।

    বুলোসের মধ্যস্থতায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রোমে অনুষ্ঠিত গোপন বৈঠকে খলিফা হাফতারের বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ও তার ছেলে সাদ্দাম হাফতার এবং জিএনইউয়ের প্রধানমন্ত্রী আব্দুল হামিদ দবেইবেহর ভাতিজা ও উপদেষ্টা ইব্রাহিম দবেইবেহ প্রথমবারের মতো মুখোমুখি আলোচনায় বসেন। সেই বৈঠকের প্রস্তাবে সাদ্দাম হাফতারের নেতৃত্বে নির্বাহী ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ‘প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল’ গঠনের কথা বলা হয়। পাশাপাশি দবেইবেহ’র নেতৃত্বে একটি ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠন এবং ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী দুই পরিবারের মধ্যে সামরিক কমান্ড ভাগ করার প্রস্তাবও করা হয়।

    মূলত ক্ষমতার শক্ত অবস্থানে থাকা পক্ষগুলোর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি সমঝোতা তৈরির মাধ্যমে এই উদ্যোগটি নেওয়া হচ্ছে। তাই এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলেও লিবিয়ায় বিরাজমান মূল সমস্যাগুলোর কোনো সমাধান হবে না। লিবীয় বিশ্লেষক আব্দুলসালাম আল-রাজহি বলেছেন, এই চুক্তি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে।

    ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর চুক্তি ও লিবিয়ার তেল

    জাতিসংঘ-সমর্থিত পুনর্মিলন ও মানবাধিকারবিষয়ক ‘স্ট্রাকচার্ড ডায়ালগ’ বা কাঠামোগত আলোচনা প্রক্রিয়ার সদস্য হানিন বুশুশে বলেন, নির্বাহী ক্ষমতাকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে নেওয়া যেকোনো উদ্যোগকে শুধু ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর মধ্যকার রাজনৈতিক সমঝোতা দিয়ে বিচার করলে চলবে না, বরং সাধারণ লিবীয়দের ওপর এর প্রভাবের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি ‘দ্য নিউ আরব’কে বলেন, ‘একত্রীকরণ তখনই অর্থবহ হতে পারে, যখন তা বৈধতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হয়। যদি সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান না করে শুধু নাম পরিবর্তন বা পদ পুনর্বণ্টনের মধ্যেই এটি সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সমস্যা থেকেই যাবে।’

    রাজনৈতিক সমালোচকদের মতে, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা করা হলে তা জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন প্রক্রিয়ার বৈধতাকে দুর্বল করবে। নতুন এই চুক্তিতে বৃহত্তর জাতীয় ঐকমত্যের পরিবর্তে ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর মধ্যকার দরকষাকষিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

    রাশিয়া নতুন এই চুক্তিকে সন্দেহের চোখে দেখছে এবং ‘বুলোস উদ্যোগ’কে বার্লিন প্রক্রিয়াকে পাশ কাটানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়া বারবার বলছে যে, লিবিয়ায় যেকোনো সমাধানের ক্ষেত্রে অবশ্যই দেশটির নিজস্ব মালিকানা ও নেতৃত্ব থাকতে হবে।

    এরপর কী হতে যাচ্ছে

    ১৮ জুনের চুক্তিটি গত কয়েক বছরের মধ্যে লিবিয়ার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পথে নেওয়া সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ। একটি সমন্বিত বাজেট বাস্তব রূপ পেয়েছে। যৌথ সামরিক মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের রূপরেখাও কাগজে-কলমে তৈরি আছে। কিন্তু এই উদ্যোগগুলো শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে কি না, তা নির্ভর করছে যে বিষয়ের ওপর তা হলো—চুক্তিটি কি শুধু হাফতার ও দবেইবেহ পরিবারের মধ্যকার সমঝোতা হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এই দুই পরিবারের বাইরে লিবিয়ার সাধারণ মানুষ নিজেদের বলে মনে করবে? ২০১১ সালে পশ্চিমাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গাদ্দাফির ক্ষমতাচ্যুতি ও নিহত হওয়ার পর থেকে লিবিয়ার ইতিহাস বলে, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাওয়া সহজ নয়।

    লিবিয়ার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মূল দুর্বলতাগুলো আমলে না নিয়ে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের তেলবাণিজ্যের লক্ষ্য হাসিলে তিনটি পক্ষের মধ্যে সমঝোতা গাজা, লেবানন ও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণেরই প্রতিফলন। এসব দেশে ওয়াশিংটন সাফল্য ঘোষণা করার পরপরই প্রাথমিক চুক্তিগুলো ভেস্তে গেছে। লিবিয়ায়ও হয়তো তাই ঘটবে। এরই মধ্যে দেশটির বিভিন্ন মহল জোরালোভাবে বলছে, কয়েকটি পরিবারের মধ্যে চুক্তি লিবিয়ার জনগণের পক্ষে কোনো চুক্তি নয়।

  • বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

    বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

    বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য দিনদিন বাড়ছে। এই বাণিজ্য চালিয়ে যেতে মুদ্রা বিনিময়ের পরিমাণও বাড়ছে।

    লেনদেনের সুবিধার্থে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার আজ শুক্রবার বিনিময় হার :

    বৈদেশিক মুদ্রা – বাংলাদেশি টাকা

    মালয়েশিয়ান ১ রিংগিত ৩০ টাকা ৩১ পয়সা

    সৌদির ১ রিয়াল ৩২ টাকা ৮৯ পয়সা

    মার্কিন ১ ডলার ১২৩ টাকা ৩৬ পয়সা

    ইউরোপীয় ১ ইউরো ১৪৪ টাকা ০৩ পয়সা

    ইতালিয়ান ১ ইউরো ১৪৪ টাকা ০৩ পয়সা

    ব্রিটেনের ১ পাউন্ড ১৬৫ টাকা ৬২ পয়সা

    সিঙ্গাপুরের ১ ডলার ৯৬ টাকা ৮০ পয়সা

    অস্ট্রেলিয়ান ১ ডলার ৮৭ টাকা ১৮ পয়সা

    নিউজিল্যান্ডের ১ ডলার ৭২ টাকা ৮১ পয়সা

    কানাডিয়ান ১ ডলার ৮৮ টাকা ১০ পয়সা

    ইউ এ ই ১ দিরহাম ৩৩ টাকা ৭২ পয়সা

    ওমানি ১ রিয়াল ৩২০ টাকা ৫০ পয়সা

    বাহরাইনি ১ দিনার ৩২৮ টাকা ৬৫ পয়সা

    কাতারি ১ রিয়াল ৩৪ টাকা ০১ পয়সা

    কুয়েতি ১ দিনার ৪০২ টাকা ৪৪ পয়সা

    সুইজারল্যান্ডের ১ ফ্রেঞ্চ ১৪৯ টাকা ৯০ পয়সা

    দক্ষিণ আফ্রিকান ১ রান্ড ৭ টাকা ৪৮ পয়সা

    জাপানি ১ ইয়েন ০.৭৮০ টাকা

    ইন্ডিয়ান ১ রুপি ১ টাকা ২৫ পয়সা

  • এস আলমের পর আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক এবার কেডিএসের হাতে

    এস আলমের পর আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক এবার কেডিএসের হাতে

    সরকারের উচ্চপর্যায়ের ইচ্ছায় আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক পরিচালনার ভার আবারও পুরোনো উদ্যোক্তাদের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও নতুন পর্ষদে স্থান পেয়েছেন। পরিচালক নিয়োগের মাত্র দুই দিনের মাথায় বাধ্য হয়ে দুজনকে পর্ষদ থেকে বাদ দিতে হয়েছে।

    নতুন করে পর্ষদ পুনর্গঠনের মাধ্যমে ব্যাংকটির মূল নিয়ন্ত্রণ চলে এসেছে চট্টগ্রামভিত্তিক কেডিএস গ্রুপের হাতে। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে কেডিএস গ্রুপ আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের পাশাপাশি ন্যাশনাল ব্যাংকের দায়িত্বেও ছিল। এই দুই ব্যাংকেই তাদের সঙ্গে যুক্ত ছিল বিতর্কিত এস আলম গ্রুপ।

    এদিকে পর্ষদ পুনর্গঠনের পরপরই নিযুক্ত পরিচালকদের কয়েকজন নানা অনিয়মে আগে চাকরিচ্যুত ও অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের ব্যাংকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। এমনকি নবগঠিত পর্ষদের প্রথম সভাতেও এসব বিতর্কিত কর্মকর্তার কয়েকজনকে দেখা গেছে। একই সঙ্গে নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকটির একজন উপব্যবস্থাপনা পরিচালককে (ডিএমডি) পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে।

    জানতে চাইলে ব্যাংকটির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বদিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর ব্যাংকে ফিরে এসেছি। এখন আমার মূল দায়িত্ব ব্যাংকটিকে পেশাদারির সঙ্গে পরিচালিত করা, যাতে নতুন করে কোনো অনিয়ম না হয়। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে যাঁদের চাকরি গেছে, তাঁদের ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই। নতুন করে অনিয়ম হলে ব্যাংকটি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে। চেয়ারম্যান হিসেবে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করাই আমার প্রধান কাজ।’

    যেভাবে গঠন হলো নতুন পর্ষদ

    আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ওই সময় ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন এস আলমের (সাইফুল আলম) ভাই আবদুস সামাদ লাবু। এস আলম গ্রুপের পাশাপাশি ব্যাংকটিতে সক্রিয় ছিল কেডিএস গ্রুপ। ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটির পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। গঠন করা হয় স্বতন্ত্র পরিচালনা পর্ষদ। তাতে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান লংকাবাংলা ফিন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাজা শাহরিয়ার। এ ছাড়া পর্ষদের অন্য স্বতন্ত্র পরিচালকদের মধ্যে ছিলেন মো. শাহীন উল ইসলাম, মো. আবদুল ওয়াদুদ, এম আবু ইউসুফ ও মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান। পর্ষদ পুনর্গঠনের আগপর্যন্ত স্বতন্ত্র পরিচালকেরা ব্যাংকটি পরিচালনা করে আসছিলেন। স্বতন্ত্র পরিচালকদের সময়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে ব্যাংকটিতে নিরীক্ষা করা হয়। এতে বিভিন্ন অনিয়ম উঠে আসে।

    গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর দুটি পক্ষ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিতে তৎপর হয়ে ওঠে। এরপর কেডিএস গ্রুপ ব্যাংকটির মালিকানা ফেরত চায়। অন্যদিকে আরেকটি পক্ষ তাদের শেয়ারের বিপরীতে পরিচালক পদ দাবি করে। এই পক্ষে ছিলেন সাবেক পরিচালক ও বর্তমান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন (কায়কোবাদ)। সরকারের একটি পর্যায় থেকে দুই পক্ষ থেকে ২ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা যাদের হাতে ছিল, তাদের হাতে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি আগের পাঁচ স্বতন্ত্র পরিচালককেও বহাল রাখা হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংক শেয়ারধারীদের মধ্য থেকে যে ১৪ জনকে পর্ষদে নিয়োগ দেয়, তাঁদের মধ্যে ৬ জনই কেডিএস গ্রুপ ও গ্রুপটির শীর্ষ নেতৃত্বের আত্মীয়স্বজন। তাঁরা হলেন কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, তাঁর ছেলে সেলিম রহমান, খলিলুর রহমানের ভাই আহমেদুল হক, কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি পরিচালক মাহবুব আহমেদ, কেডিএস টেক্সটাইলের প্রতিনিধি পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও কেওয়াই স্টিল মিলসের প্রতিনিধি মোহাম্মদ শরিফ উদ্দিন তসলিম। এ ছাড়া কেডিএস মালিকদের আত্মীয়রাও নিয়োগ পেয়েছেন।

    পর্ষদে নিয়োগ পাওয়া অন্য পরিচালকদের মধ্যে ব্যাংকটির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বদিউর রহমানও কেডিএস পরিবার–সংশ্লিষ্ট। অন্য পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন সর্বশেষ নির্বাচনে ঢাকা-৭ থেকে জামায়াতের হয়ে নির্বাচন করা মো. এনায়াত উল্লা, রফিকুল ইসলাম, ইমাদুর রহমান, নাজমুল আহসান খালেদ, আনোয়ার হোসাইন, আবদুস সালাম ও লিয়াকত আলী চৌধুরী।

    এ বিষয়ে মো. এনায়াত উল্লা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি বহুদিন পর ব্যাংকের পরিচালক পদ ফিরে পেয়েছি। নতুন করে আর কাউকে অনিয়ম করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’

    এদিকে কেডিএস গ্রুপ থেকে পাঁচ পরিচালক নিয়োগ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক ওঠায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও মোহাম্মদ শরিফ উদ্দিন তসলিম পদ গ্রহণ করেননি। কারণ, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, এক পরিবার বা গ্রুপ থেকে তিনজনের বেশি পরিচালক থাকার সুযোগ নেই। তাই কেডিএসের দুজন প্রতিনিধি বাদ যাওয়ার পর ব্যাংকটিতে নতুন করে খন্দকার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদকে পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘কয়েকটি ব্যাংক দীর্ঘদিন স্বতন্ত্র পরিচালকদের দিয়ে চলছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে এভাবেই চলছে। তাই আমরাও চেয়েছিলাম ব্যাংকগুলো ভালো ও প্রকৃত শেয়ারধারীদের হাতে ফিরুক, তবে শুরুটা ভালো হলো না। সরকারের উচ্চপর্যায়ের চাপে বাধ্য হয়ে একটি গ্রুপের হাতে আল-আরাফাহ্‌ ব্যাংকটি তুলে দিতে হয়েছে।’

    পর্ষদের সভার চিত্র

    ১৫ জুলাই আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন হয়। এর পরদিনই ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান, আর নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন কেডিএসের সেলিম রহমান।

    সভায় উপস্থিত দুজন পরিচালক প্রথম আলোকে বলেন, পর্ষদের সভায় ব্যাংকটি থেকে চাকরিচ্যুত শাহেদ সিদ্দিকীসহ আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা যোগ দেন। ১৯ পরিচালকের সভাটি সর্বোচ্চ ২৫ জনের উপস্থিতিতে হওয়ার কথা ছিল, তবে সভায় উপস্থিত ছিলেন ৪০ জনের বেশি। সভায় কেডিএসের প্রতিনিধিরা ফিরে আসায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের কেউ কেউ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এ সময় স্বতন্ত্র পরিচালকেরা চুপচাপ ছিলেন।

    ব্যাংকটির একাধিক কর্মকর্তা জানান, গত দুই বছরে বিভিন্ন কারণে ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা ব্যাংকে ফিরে আসতে নানাভাবে চাপ তৈরি করেছেন। এ ছাড়া গত দুই বছরে ব্যাংকে নতুন করে যোগ দেওয়া কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন নতুন চেয়ারম্যান, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান। তাঁদের নির্দেশে চাকরি ছেড়েছেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন।

    এ বিষয়ে ব্যাংকের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বদিউর রহমান বলেন, ‘আমি দুই পক্ষের সম্মতিতে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছি। পর্ষদ সভার দিন অনেকে দেখা করতে এসেছেন। এ জন্য পরিবেশটা ভালো ছিল না। ডিএমডি নিজের ইচ্ছাতেই পদত্যাগ করেছেন। আমরা কোনো নির্দেশনা দিইনি।’

    কেডিএস পরিবারের যত অনিয়ম

    আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক দুই চেয়ারম্যানের ব্যবহারের জন্য অনিয়ম ও নিয়মবহির্ভূতভাবে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বিলাসবহুল মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি কেনার তথ্য উঠে আসে আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান কেপিএমজি এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে। তার মধ্যে একজন হলেন কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমান, বর্তমানে তিনি ব্যাংকটির নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান। অপর সাবেক চেয়ারম্যান হলেন আবদুস সামাদ লাবু, তিনি এস আলমের ভাই।

    প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৫ জুন ব্যাংকের ৩৭৪তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় তৎকালীন চেয়ারম্যান সেলিম রহমানের জন্য এক কোটি টাকা সীমার মধ্যে একটি গাড়ি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু পর্ষদের অনুমোদন তোয়াক্কা না করে ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মার্সিডিজ বেঞ্জের একটি গাড়ি কেনা হয়, যা অনুমোদিত সীমার চেয়ে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা বেশি।

    একইভাবে ২০২৩ সালের আগস্টে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই অপর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সামাদের জন্য ৩ কোটি ২৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকায় একই মডেলের আরেকটি মার্সিডিজ কেনা হয়। হিসাব গোপন ও অর্থের গতিবিধি আড়াল করতে গাড়ি দুটি ব্যাংকের নিজস্ব নামে নিবন্ধন না করে দুটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের (এআইবিএল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড ও এআইবিএল ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসেস লিমিটেড) নামে কেনা হয়। টাকা পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যাংকের সাধারণ ‘সাসপেন্স অ্যাকাউন্ট’, ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অ্যাকাউন্ট’ এবং ‘ক্ষতিপূরণ আদায়কৃত হিসাব’ ব্যবহার করা হয়। গাড়ি দুটি কেনার পর মূল ব্যাংক কিংবা সাবসিডিয়ারি কোম্পানির ফিক্সড অ্যাসেট (স্থায়ী সম্পদ) রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং এদের কোনো অবচয়ও হিসাবভুক্ত করা হয়নি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তির কারণে গাড়ি দুটি ইতিমধ্যে ব্যাংকের হেফাজতে আনা হয়েছে। এ ছাড়া জড়িত নির্বাহী ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি এবং অননুমোদিত অর্থ পুনরুদ্ধারে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে এস আলম গ্রুপ যখন ন্যাশনাল ব্যাংক দখল করে, তখন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান। আওয়ামী লীগের পতনের পর তাঁকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন তাঁকেই আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক করা হয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের দায়িত্বে থাকাকালে বিভিন্ন অনিয়মের জন্য একাধিক মামলার আসামি হন তিনি। গত ফেব্রুয়ারিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলও খেটেছেন তিনি।

    একনজরে আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক

    ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের আমানত গত বছরের ডিসেম্বর শেষে দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। তখন ব্যাংকটির ঋণ বা বিনিয়োগ ছিল ৫০ হাজার ১২১ কোটি টাকা। ব্যাংকটির ঋণের ১৭ দশমিক ৬১ শতাংশ খেলাপি। গত বছর ব্যাংকটি নিট মুনাফা করেছে ৮৫ কোটি টাকা। উচ্চ খেলাপির কারণে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে শেয়ারধারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ব্যাংকটি। এতে ব্যাংকটি শেয়ারবাজারে জেড ক্যাটাগরিতে চলে গেছে। সারা দেশে ব্যাংকটির রয়েছে ২২৬টি শাখা। ব্যাংকটিতে কর্মরত রয়েছেন ৫ হাজার ৫৯৩ জন কর্মী।

    সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী প্রথম আলোকে বলেন, ব্যাংকগুলো শেয়ারধারী পরিচালকেরা পরিচালনা করবেন, এটা স্বাভাবিক। তবে তারা এত দিন কী করেছে, তা জাতি দেখেছে। এ জন্য অনেক আমানতকারী এখন টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। তাই নতুন করে এমন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া ঠিক হবে না, যাঁরা ব্যাংকের জন্য ন্যূনতম ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন। অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংক আবার কারও প্রভাবে ব্যবহৃত হলে সেটা হবে জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক।

  • কাচাঁ মরিচের কেজি ৪০০, বেশিরভাগ সবজি শতকের ঘরে

    কাচাঁ মরিচের কেজি ৪০০, বেশিরভাগ সবজি শতকের ঘরে

    টানা বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার প্রভাবে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে গরুর মাংসের দাম স্থিতিশীল থাকলেও মাছ, ডিম, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ ও অধিকাংশ সবজি এখন ১০০ টাকার আশেপাশে বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

    বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার কারণে কৃষিপণ্য ও মাছের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। পাশাপাশি পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং অনেক এলাকায় উৎপাদন কমে যাওয়ায় মরিচ, পেঁয়াজ, মাছ, ডিম ও সবজির দাম একসঙ্গে বেড়েছে। তাদের দাবি, তারা বেশি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হওয়ায় খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

    বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গরিবের মাছ হিসেবে পরিচিত পাঙাশের কেজি এখন ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, টেংরা ৭০০ টাকা, দেশি কৈ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি, মৃগেল, বাইম, শিং ও পোয়া মাছের দামও আগের তুলনায় বেড়েছে।

    সামুদ্রিক মাছের বাজারে দাম আরও বেশি। ধুপখোলা বাজারের মাছ বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমানে মান ও আকারভেদে প্রতিকেজি ইলিশ ১ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা, রূপচাঁদা ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, লাল কোরাল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, টুনা ৮৫০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং সামুদ্রিক সুরমা ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারভেদে এসব দামে কিছুটা তারতম্য হতে পারে।

    এদিকে কাঁচা মরিচের দাম নতুন করে বেড়ে প্রতি কেজি ৪০০ টাকায় পৌঁছেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা বেড়েছে এ পণ্যের দাম।

    নারিন্দা বাজারের সবজি বিক্রেতা লাল মিয়া বলেন, গত সপ্তাহেও কাঁচা মরিচ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন পাইকারি বাজারেই দাম অনেক বেশি, তাই খুচরায় ৪০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। বৃষ্টি কারণে অধিকাংশ সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এ কারণে সবজির সরবরাহ কম। এ জন্য অল্প কিছু সবজি বাদে সব সবজির দাম বেশি।

    পেঁয়াজের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। দেড়-দুই সপ্তাহ আগে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজ এখন মানভেদে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    রায়সাহেব বাজারের বিক্রেতা এনামুল হক বলেন, পাইকারি বাজারে হঠাৎ করেই পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। আগে যে পেঁয়াজ ৪০ টাকায় বিক্রি করেছি, এখন সেটিই ৬০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

    সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। অধিকাংশ সবজি এখন ১০০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে। লম্বা বেগুন ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, গোল বেগুন ১৮০ টাকা, সাদা বেগুন ১৪০ টাকা, করলা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, বরবটি ১১০ থেকে ১৩০ টাকা, চিচিঙ্গা ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং কচুরমুখি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ধুন্দল ও পটোলের দাম কিছুটা কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় নেমেছে।

    ডিমের দামও নতুন করে বেড়েছে। বর্তমানে ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা। তবে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়ায় দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।

    অন্যদিকে গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতিকেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    ক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টি, বন্যা ও সরবরাহ সংকটের কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। এতে সীমিত আয়ের মানুষের সংসার চালানো দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

    রিকশাচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতিদিন যা আয় করি, তার বড় একটা অংশ এখন বাজারেই চলে যায়। আগে সপ্তাহে এক-দুদিন মাছ কিনতে পারতাম, এখন ডিম আর সবজি কিনেই হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কাঁচা মরিচের মতো একটা সাধারণ জিনিসও ৪০০ টাকা কেজি হলে আমাদের মতো মানুষের জন্য খুব কষ্টকর।

    ধুপখোলা বাজারের ক্রেতা নাসরিন আক্তার বলেন, শুধু মরিচ নয়, ডিম, পেঁয়াজ আর সবজির দামও একসঙ্গে বেড়েছে। কয়েক দিন আগেও যে ডজন ডিম ১৩৫-১৪০ টাকায় কিনেছি, এখন ১৫০ টাকার কাছাকাছি দিতে হচ্ছে। বাজারে এসে প্রতিদিনই হিসাব বদলাতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জন্য এই দাম অনেক কষ্টের।

  • কমল নীতি সুদহার, কমবে ব্যাংক ঋণের সুদ

    কমল নীতি সুদহার, কমবে ব্যাংক ঋণের সুদ

    দীর্ঘ ২১ মাস পর নীতি সুদহার বা রেপো রেট কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১০ শতাংশ থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে নীতি সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আগের তুলনায় কম সুদে অর্থ ধার নিতে পারবে। এতে গ্রাহক পর্যায়েও ঋণের সুদহার কমবে।

    বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটারি পলিসি কমিটির (এমপিসি) ১৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। নতুন সুদহার আগামী ২ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, দেশীয় বিনিয়োগ, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নীতি সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, নীতি সুদহার কমানোর পাশাপাশি স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) রেট ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ শতাংশ করা হয়েছে। তবে স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) রেট ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

    নীতি সুদহার কমানোর মূল লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা।

    উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে ১১ দফা নীতি সুদহার বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করেছিল। এরপর অতিরিক্ত চাহিদা নিয়ন্ত্রণ এবং মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় ধরে এ হার অপরিবর্তিত রাখা হয়। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি কমেনি। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশের নিচে নামানোর লক্ষ্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতেও নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। ওই মুদ্রানীতিতে চলতি অর্থবছর শেষে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এমপিসির সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তফা কামাল মুজেরী, বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ফিরদৌসি নাহার, বাংলাদেশ ব্যাংকের চিফ ইকোনমিস্ট ড. মোহাম্মদ আখতার হোসেন এবং নির্বাহী পরিচালক ড. ইমাম আবু সাঈদ উপস্থিত ছিলেন।

  • বৈশ্বিক বাজারের ১২ শতাংশ দখল করতে পারে বাংলাদেশ

    বৈশ্বিক বাজারের ১২ শতাংশ দখল করতে পারে বাংলাদেশ

    নীতিগত সংস্কার, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্পের সক্ষমতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈশ্বিক ম্যান-মেড ফাইবার (এমএমএফ) পোশাক বাজারের ১২ শতাংশ দখল করতে পারে বাংলাদেশ। এতে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে তুলার ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বৈশ্বিক পোশাক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (বিএফটিআই) এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ব পোশাকশিল্প দ্রুত তুলাভিত্তিক পণ্য থেকে কৃত্রিম তন্তু বা ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাকের দিকে ঝুঁকছে। এই পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদারের একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক এমএমএফ পোশাক বাজারের আকার প্রায় ৩৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি রপ্তানি কৌশলের অংশ হিসেবে এ বাজারে উল্লেখযোগ্য অংশীদারত্ব অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

    বিএফটিআইয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের জন্য এই পরিবর্তনের সুযোগ হাতছাড়া করার সুযোগ নেই। বৈশ্বিক এমএমএফ বাজারে উল্লেখযোগ্য অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে পারলে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং দেশের পোশাকশিল্পের দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি আরো শক্তিশালী হবে।

    গবেষণায় বাংলাদেশকে এমএমএফ পোশাক উৎপাদনের একটি আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত করার রোডম্যাপও তুলে ধরা হয়েছে। এতে ধাপে ধাপে নীতিগত সংস্কার, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের বিকাশ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ খাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এমএমএফ কাঁচামালের শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করা, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুত করা, দেশে পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার ও সিনথেটিক সুতা উৎপাদন সম্প্রসারণ, সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

    এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো মূলত তুলাভিত্তিক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। অথচ বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা ক্রমেই সিনথেটিক ও মিশ্র তন্তুর পোশাকের দিকে সরে যাচ্ছে। ফলে এলডিসি-পরবর্তী বাণিজ্য পরিবেশে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে এমএমএফ খাতের সম্প্রসারণ অর্থনৈতিক প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।

    ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, শক্তিশালী নীতিগত সহায়তা এবং সমন্বিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে এমএমএফ উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারবে বাংলাদেশ।

    প্রতিবেদনে এমএমএফ উৎপাদনকারীদের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সম্প্রসারণ, বিশেষায়িত ঋণ কর্মসূচি চালু, প্রযুক্তি স্থানান্তরে উৎসাহ দেওয়া এবং অ্যাকটিভওয়্যার, স্পোর্টসওয়্যার ও টেকনিক্যাল টেক্সটাইলের মতো উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে দেশের রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য আরও বাড়বে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ আশা প্রকাশ করেন, সরকারের প্রণীত রোডম্যাপ সময়মতো বাস্তবায়ন এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে আগামী এক দশকে কৃত্রিম তন্তুর পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাজারের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।

  • ৯৫০ কোটি টাকায় সিঙ্গাপুর থেকে আনা হবে এক কার্গো এলএনজি

    ৯৫০ কোটি টাকায় সিঙ্গাপুর থেকে আনা হবে এক কার্গো এলএনজি

    দেশের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে সিঙ্গাপুর থেকে এক কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ পদ্ধতিতে কেনা এ গ্যাসের জন্য ব্যয় হবে প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এলএনজি কেনার প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

    জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১০৫-এর উপবিধি (৩)-এর দফা (ক) অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ পদ্ধতিতে আগামী ১৫ থেকে ১৬ আগস্ট সরবরাহের জন্য ৪২তম কার্গো এলএনজি কেনা হবে।

    এ লক্ষ্যে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেডকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি ২২ দশমিক ৩৫ মার্কিন ডলার দরে কেনা হবে।

    ক্রয় প্রস্তাব অনুযায়ী, এক কার্গো গ্যাস আমদানিতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ৯৪৯ কোটি ৪৩ লাখ ১২ হাজার ১৮৪ টাকা। এ অর্থের মধ্যে অগ্রিম আয়করও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশের পর বৈঠকে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। দেশের বিদ্যমান গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং শিল্প, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খাতে জ্বালানি চাহিদা পূরণে আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ অব্যাহত রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • গেল অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ৬৭.৫২ শতাংশ

    গেল অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ৬৭.৫২ শতাংশ

    সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হার দাঁড়িয়েছে ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশ, যা দেশের ইতিহাসে এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বনিম্ন। সংশোধিত এডিপিতে মোট বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এর বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭০৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ফলে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো এডিপি বাস্তবায়ন ৭০ শতাংশের নিচে থাকল।

    বৃহস্পতিবার বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত ‘জুলাই-জুন ২০২৬ পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়ন অগ্রগতি’ শীর্ষক মাসিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    আইএমইডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত পাঁচ অর্থবছর ধরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে বাস্তবায়নের হার ছিল ৯২ দশমিক ৭৪ শতাংশ। পরের বছর তা কমে ৮৫ দশমিক ১৭ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৮০ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে আসে ৬৮ দশমিক ১৮ শতাংশে। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরও কমে ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ কয়েক বছরের ব্যবধানে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হার ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে।

    অর্থবছরের শেষ মাস জুনে এডিপির আওতায় ব্যয় হয়েছে ৪০ হাজার ৩০৮ কোটি ১২ লাখ টাকা, যা সংশোধিত বরাদ্দের ১৯ দশমিক ২৯ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ৪৩ হাজার ১৮৯ কোটি ১০ লাখ টাকা বা ১৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। অর্থাৎ অর্থবছরের শেষ দিকে ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতা থাকলেও আগের বছরের তুলনায় এবার জুনে খরচের পরিমাণ কমেছে।

    প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথমার্ধে অধিকাংশ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি ছিল। পরবর্তী সময়ে অর্থ ছাড় বাড়লেও জমি অধিগ্রহণ, দরপত্র প্রক্রিয়া, প্রকল্পের নকশা পরিবর্তন, সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনে বিলম্ব এবং বৈদেশিক ঋণের অর্থ ছাড়ে ধীরগতির কারণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হয়নি। অনেক প্রকল্পে ঠিকাদারি জটিলতা ও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় বরাদ্দকৃত অর্থও পুরোপুরি ব্যয় করা যায়নি।

    আইএমইডির কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রশাসনিক অস্থিরতা এডিপি বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ওই সময় অনেক প্রকল্প পরিচালক ও ঠিকাদার চলমান উন্নয়ন প্রকল্প থেকে সরে যান। এতে বিভিন্ন উদ্যোগের কাজ ব্যাহত হয় এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাস্তবায়ন এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। এসব কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়ন আরও কমে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।