অর্থ ও বাণিজ্য

  • বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জে পোশাক খাত

    বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জে পোশাক খাত

    দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক। বিকেএমইএর নেতৃত্বে থাকাকালে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প, বিশেষ করে নিটওয়্যার খাতের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। দেশের রপ্তানি বাণিজ্য, শিল্পনীতি ও ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নেও দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই উদ্যোক্তা। এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসকের দায়িত্ব ও পোশাকশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, রপ্তানি সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে ‘আমার দেশ’-এর সঙ্গে কথা বলেছেন মো. ফজলুল হক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোহেল রহমান।

    আমার দেশ : এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক হিসেবে আপনার ওপর যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেটাকে কীভাবে দেখছেন?

    ফজলুল হক : ১২০ দিনের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে এফবিসিসিআইয়ের ব্যবসায়ী নেতৃত্ব ফিরিয়ে আনতে সরকার যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা যথাযথভাবে পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ফেডারেশনের সদস্য, ব্যবসায়ী সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

    আমার দেশ : আপনি যখন বিকেএমইএর সভাপতি ছিলেন, তখনকার পোশাক খাতের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির কী পার্থক্য দেখছেন?

    ফজলুল হক : প্রায় ১৬ বছর আগে দায়িত্ব ছাড়ার সময় দেশের মোট পোশাক রপ্তানি ছিল ১১ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার, এখন তা কয়েকগুণ বেড়েছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে নিটওয়্যার খাতে। শক্তিশালী ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজের কারণে অধিকাংশ ফেব্রিক দেশে তৈরি হয়। ফলে মান নিয়ন্ত্রণ সহজ এবং ওভেনের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত লিড টাইম সাশ্রয় করা সম্ভব। তবে রানা প্লাজার পর কমপ্লায়েন্স, নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের মান উন্নত হওয়ায় উদ্যোক্তাদের ব্যয়ও বেড়েছে।

    আমার দেশ : বর্তমানে পোশাকশিল্পের বড় চ্যালেঞ্জগুলো কী?

    ফজলুল হক : এটিকে শুধু সংকট নয়, বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ বলতে হবে। বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে। উন্নত দেশের ভোক্তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পোশাকের চাহিদা কমছে। দেশের ভেতরে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, উচ্চ সুদ, ডলার সংকট ও জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মন্দা ও অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সম্মিলিত প্রভাবেই রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমেছে।

    আমার দেশ : বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ও নতুন বাজার সম্প্রসারণে করণীয় কী?

    ফজলুল হক : শুধু শুল্ক নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকলে হবে না। ভারত, ভিয়েতনাম ও চীনের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো মূল্য, বিপণন ও সেবায় এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের উৎপাদনশীলতা, মান ও দ্রুত সরবরাহে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। নতুন বাজার তৈরিতেও ধারাবাহিক উদ্যোগ প্রয়োজন। বিকেএমইএর সভাপতি থাকাকালে জাপানকে লক্ষ্য করে প্রায় এক বছর সেমিনার, ব্যবসায়িক বৈঠক ও প্রতিনিধি দল বিনিময়ের পর ৬৩ জন জাপানি ক্রেতাকে বাংলাদেশে এনে বিজনেস ম্যাচমেকিং করা হয়েছিল। এর ফলে ওই বাজারে রপ্তানি বেড়েছে। তাই একসঙ্গে অনেক দেশে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ না নিয়ে প্রতি বছর একটি বা দুটি সম্ভাবনাময় বাজারকে লক্ষ্য করে নিয়মিত কাজ করা উচিত।

    আমার দেশ : উচ্চ সুদ, জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপ কীভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব?

    ফজলুল হক : প্রতিযোগী দেশগুলোর অনেক প্রতিষ্ঠান ৪ থেকে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ পেলেও বাংলাদেশে উদ্যোক্তাদের প্রায় ১৫ শতাংশ সুদ দিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে আমদানি, পরিবহন ও জ্বালানি ব্যয় যুক্ত হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ না থাকলে সময়মতো উৎপাদন ও সরবরাহ করা কঠিন হয়, যা ক্রেতাদের আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত, সুদের হার কমানো, বন্দর ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো এবং ব্যবসায়িক জটিলতা কমাতে হবে।

    আমার দেশ : পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কতটা?

    ফজলুল হক : সম্ভাবনা অবশ্যই আছে। তবে সরকার ও উদ্যোক্তা—দুই পক্ষকেই সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। উৎপাদনশীলতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চমূল্যের ও বৈচিত্র্যময় পণ্যে যেতে হবে। এলডিসি উত্তরণের পর শুল্কসুবিধা কমে আসতে পারে। তাই মুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি এখন থেকেই শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সমন্বিত প্রস্তুতি নিতে পারলে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ভবিষ্যতে আরো শক্ত অবস্থানে ফিরতে পারবে।

  • রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা, তবু স্বস্তি নেই ডলার বাজারে

    রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা, তবু স্বস্তি নেই ডলার বাজারে

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। আগের মাস এবং আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ অঙ্ক বেশি। তবে জ্বালানি ও সার আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ডলারের বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের দাম বেড়ে ১২৩ টাকা ৮২ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। আগের অর্থবছরের তুলনায় যা ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। এর আগের অর্থবছরে রেমিট্যান্স বেড়েছিল ৬৪২ কোটি ডলার বা ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

    যদিও রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক রয়েছে, তবে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্য উৎসগুলো আশানুরূপ অবস্থানে নেই। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৩৭৬ কোটি ডলার বা ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। একই সময়ে রপ্তানি আয় কমেছে ৮৩ কোটি ডলার বা ২ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জ্বালানি ও সার আমদানিতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৯০৩ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪১৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলার বেশি। এ ছাড়া সার আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে ১০৯ কোটি ডলার।

    অবশ্য ভোগ্যপণ্য, শিল্পের মধ্যবর্তী কাঁচামাল ও তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানিতে ব্যয় কমে যাওয়ায় ডলারের বাজারে চাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাস শেষে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী এই রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডলারের বাজারে সাময়িক চাপ সৃষ্টি হলেও অর্থ পাচার ও হুন্ডি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

  • ইরান যুদ্ধের জেরে তেল কোম্পানির রেকর্ড মুনাফা, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে

    ইরান যুদ্ধের জেরে তেল কোম্পানির রেকর্ড মুনাফা, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে

    ইরান যুদ্ধের কারণে তেল কোম্পানিগুলোর মুনাফা বেড়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তাদের মুনাফা বেড়েছে; যদিও তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণে বিশ্বজুড়েই নানা সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

    ওয়াশিংটন পোস্টের সংবাদে বলা হয়েছে, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের দুই বৃহৎ তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল ও শেভরনের মোট মুনাফা হয়েছে ২৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৬৫০ কোটি ডলার। তবে এই রেকর্ড আয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক বেড়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, জ্বালানির বাড়তি দামের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা।

    গত শুক্রবার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে শেভরন জানিয়েছে, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে তাদের নিট মুনাফা হয়েছে ১২ বিলিয়ন বা ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন বা ৯৬০ কোটি ডলার বেশি।

    একই সময়ে এক্সনমোবিলের মুনাফা হয়েছে ১৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৪৫০ কোটি ডলার, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা দ্বিগুণের বেশি।

    শেভরনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাইক ওয়ার্থ বলেন, নিয়ন্ত্রিত বিনিয়োগ, যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড উৎপাদন ও শোধনাগারের উচ্চ সক্ষমতার কল্যাণে এই মুনাফা হয়েছে। এক্সনমোবিলের সিইও ড্যারেন উডস বলেন, সংঘাতের মধ্যেও কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনা করতে পারাই তাদের সাফল্যের মূল কারণ।

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ জ্বালানি কোম্পানি শেল দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তারা জানায়, আগের বছরের তুলনায় মুনাফা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

    নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ কম

    গবেষণাপ্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অতিরিক্ত মুনাফা সত্ত্বেও বড় তেল কোম্পানিগুলো নতুন তেলক্ষেত্র বা খনন প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী নয়। তাদের আশঙ্কা, ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটলে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত কমে যেতে পারে। তখন নতুন বিনিয়োগের অর্থ তুলে আনা কঠিন হবে।

    প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, চলতি বছর গড়ে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ৯০ ডলার থাকলে বৈশ্বিক তেল খাতের অতিরিক্ত মুনাফা ৪২৫ বিলিয়ন বা ৪২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে উঠতে পারে।

    ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম একসময় ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে উঠেছিল। বর্তমানে তা ৯০ ডলারের কাছাকাছি। বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে হয়।

    ভোক্তার ক্ষোভ, রাজনীতিতে চাপ

    যুক্তরাষ্ট্রে এখন প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ৪ ডলারের বেশি। এতে ভোক্তাদের অসন্তোষ বাড়ছে। সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন, এ পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।

    ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও শেলডন হোয়াইটহাউস তেল কোম্পানিগুলোর কাছে জানতে চেয়েছেন, তারা যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে কীভাবে লাভবান হয়েছে। সেই সঙ্গে যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে হোয়াইট হাউসে তারা তদবির করেছে কি না, সেটাও জানতে চেয়েছেন দুই সিনেটর।

    ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ব্র্যাড শারম্যান যুদ্ধকালীন অতিরিক্ত মুনাফার ওপর বিশেষ কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ভোক্তাদের হয় কম দামে জ্বালানি দিতে হবে, নয়তো অতিরিক্ত মুনাফার কর থেকে প্রাপ্ত অর্থ জনগণকে ফেরত দিতে হবে।

    তেলশিল্পের জবাব

    তবে তেলশিল্প এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও গ্যাস খাতের সংগঠন আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডাস্টিন মেয়ার বলেন, বৈশ্বিক তেলবাজার অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও স্বচ্ছ। সেখানে মূল্য কারসাজির সুযোগ নেই।

    এক্সনমোবিলও জানিয়েছে, আগামী চার বছরে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন ও পরিশোধন সক্ষমতা বাড়াতে ৭১ বিলিয়ন বা ৭ হাজার ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা আছে।

    অতিরিক্ত মুনাফায় কর কতটা কার্যকর

    যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত মুনাফার ওপর কর আরোপের ইতিহাস খুব একটা ভালো নয়। ১৯৮০ সালে এ রকম করারোপ করা হয়েছিল, তবে তা থেকে প্রত্যাশিত রাজস্ব আসেনি। অর্থনীতিবিদেরা বলেন, এতে দেশীয় উৎপাদন নিরুৎসাহিত এবং করব্যবস্থা আরও জটিল হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নতুন করে এ ধরনের করারোপ করা হলে তেল কোম্পানির বিনিয়োগ কমতে পারে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে উৎপাদন হ্রাস ও সরবরাহ–সংকটের ঝুঁকি তৈরি হবে। তবে অন্যদের মতে, উৎপাদন কমার পেছনে আরও কিছু কারণ আছে। যেমন পুরোনো তেলক্ষেত্রের সক্ষমতা কমে যাওয়া ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে মানুষের ঝুঁকে পড়া।

    বিশ্লেষকদের ধারণা, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেশি থাকলে আগামী প্রান্তিকেও বড় তেল কোম্পানিগুলো মোটা অঙ্কের মুনাফা করবে। ফলে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, তেল কোম্পানিগুলোর ওপর রাজনৈতিক চাপও তত বাড়তে পারে।

  • বাণিজ্যমন্ত্রী–মিয়ানমার রাষ্ট্রদূত বৈঠক, বাণিজ্য বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা

    বাণিজ্যমন্ত্রী–মিয়ানমার রাষ্ট্রদূত বৈঠক, বাণিজ্য বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা

    বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোয়ের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি, সরাসরি নৌপরিবহন যোগাযোগ, এলএনজি আমদানি ও পারস্পরিক বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও জোরদারে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাণিজ্য, পরিবহন, বিনিয়োগ ও সীমান্ত যোগাযোগ–সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো প্রয়োজনীয় আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য ও বিদ্যমান সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য আরও বাড়ানো সম্ভব।

    মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত সীমান্ত বাণিজ্য আবার চালুর পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সীমান্ত বাণিজ্য চালু হলে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। প্রয়োজনে প্রাথমিকভাবে সীমিত পরিসরে এ কার্যক্রম শুরু করা যেতে পারে।

    বৈঠকে কৃষিপণ্য, মৎস্যপণ্য, চাল, ওষুধ, হিমায়িত খাদ্যসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে ব্যবসায়ী পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগ (বি-টু-বি) বৃদ্ধিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে এবং টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য দ্রুত অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে গুরুত্ব দেন। বলেন, বাংলাদেশ এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতিতে জোর দিচ্ছে।

    জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য পাওয়া তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

    এ ছাড়া দুই দেশ আরও কিছু বিষয়ে একমত হয়। সেগুলো হলো—নিয়মিত যৌথ কমিটির বৈঠক আয়োজন, পরবর্তী বৈঠক বাংলাদেশে করা ও সরাসরি নৌ ও জাহাজ যোগাযোগ চালুর লক্ষ্যে প্রস্তাবিত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করা।

    উভয় পক্ষের মতে, সরাসরি নৌ যোগাযোগ চালু হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমবে। সেই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।

    বৈঠকে বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার ও মিয়ানমার দূতাবাসের কাউন্সিলর মিয়াত লুইন উপস্থিত ছিলেন।

  • এবার লিবিয়ার তেলে ট্রাম্পের চোখ

    এবার লিবিয়ার তেলে ট্রাম্পের চোখ

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে ধরে যুক্তরাষ্ট্রে এনে কারাবন্দি করার পর দেশটির জ্বালানি তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটির তেল বিক্রি করে ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কিন্তু বিপুল এই অর্থ কোথায় বা কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর ট্রাম্পের চোখ এখন লিবিয়ার তেলের দিকে। তিনি তার প্রতিনিধি ও বেয়াইয়ের (মেয়ে টিফানির শ্বশুর) মাধ্যমে লিবিয়ার পূর্ব ও পশ্চিম অংশে ক্ষমতাসীন দুটি সরকারসহ তিনটি রাজনৈতিক পক্ষের শীর্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে দেশটির তেল সম্পদের ওপর মার্কিন ব্যবসায়ীদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন।

    লিবিয়া নিয়ে ট্রাম্পের নতুন করে আগ্রহ দেখানোর নেপথ্যে রয়েছে দেশটির জ্বালানি তেল। এতদিন লিবিয়ার ঘটনাবলিতে ট্রাম্পের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল খুবই সীমিত। কিন্তু হঠাৎ করে এখন এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো একটি হিসাব—২০৩০ সালের মধ্যে লিবিয়ার দৈনিক তেল উৎপাদন দ্বিগুণ করে ৩০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করা হলে তা কনোকোফিলিপস, শেভরনসহ যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কোম্পানিগুলোর জন্য লাভজনক হবে। এসব কোম্পানি লিবিয়ার তেল নিয়ে এরই মধ্যেই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে ধরে যুক্তরাষ্ট্রে এনে কারাবন্দি করার পর দেশটির জ্বালানি তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটির তেল বিক্রি করে ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কিন্তু বিপুল এই অর্থ কোথায় বা কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর ট্রাম্পের চোখ এখন লিবিয়ার তেলের দিকে। তিনি তার প্রতিনিধি ও বেয়াইয়ের (মেয়ে টিফানির শ্বশুর) মাধ্যমে লিবিয়ার পূর্ব ও পশ্চিম অংশে ক্ষমতাসীন দুটি সরকারসহ তিনটি রাজনৈতিক পক্ষের শীর্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে দেশটির তেল সম্পদের ওপর মার্কিন ব্যবসায়ীদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন।

    লিবিয়া নিয়ে ট্রাম্পের নতুন করে আগ্রহ দেখানোর নেপথ্যে রয়েছে দেশটির জ্বালানি তেল। এতদিন লিবিয়ার ঘটনাবলিতে ট্রাম্পের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল খুবই সীমিত। কিন্তু হঠাৎ করে এখন এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো একটি হিসাব—২০৩০ সালের মধ্যে লিবিয়ার দৈনিক তেল উৎপাদন দ্বিগুণ করে ৩০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করা হলে তা কনোকোফিলিপস, শেভরনসহ যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কোম্পানিগুলোর জন্য লাভজনক হবে। এসব কোম্পানি লিবিয়ার তেল নিয়ে এরই মধ্যেই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

    ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার আলোকে লিবিয়ার তিনটি প্রধান রাজনৈতিক গোষ্ঠী ক্ষমতার অংশীদারত্ব নিয়ে একটি চুক্তি করেছে গত ১৮ জুন। এই চুক্তির মাধ্যমে ২০২৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারির আগে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনের রূপরেখা তৈরি করা হয়। সংঘাতকবলিত লিবিয়ায় গত ১৮ বছরের মধ্যে এটি এ ধরনের প্রথম চুক্তি। এই চুক্তির কাঠামোটি গত এপ্রিল মাসে গৃহীত ৩০ বিলিয়ন ডলারের ‘একীভূত রাষ্ট্রীয় বাজেট’র ওপর ভিত্তি করে তৈরি। গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় লিবিয়ায় প্রণীত প্রথম একীভূত বাজেট এটা।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আরব ও আফ্রিকাবিষয়ক সিনিয়র উপদেষ্টা এবং মেয়ে টিফানির শ্বশুর মাসাদ বুলোস এই চুক্তি স্বাক্ষরের নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। এই চুক্তি স্বাক্ষরের আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রোমে একটি গোপন বৈঠক হয়। এরপর থেকেই এই প্রক্রিয়ার মূল ব্যক্তি হিসেবে কাজ করছেন মাসাদ বুলোস। সাধারণ লিবিয়ানদের মধ্যে এই চুক্তির সফলতা নিয়ে এরই মধ্যেই সংশয় তৈরি হয়েছে। কারণ, দেশটির সুশীল সমাজ, উপজাতি গোষ্ঠীগুলো, বিভিন্ন মিলিশিয়া বাহিনী এবং নারী ও তরুণ সমাজের কোনো প্রতিনিধি রোমের সেই বৈঠকে রাখা হয়নি।

    মাসাদ বুলোস কোনো পেশাদার কূটনীতিক নন। তিনি একজন লেবানিজ-আমেরিকান ব্যবসায়ী। লিবিয়ার জনগণের মন্তব্য হলো—তার প্রধান যোগ্যতা হলো তিনি টিফানি ট্রাম্পের শ্বশুর। লিবিয়ার ব্যাপারে ট্রাম্পের আগ্রহ মূলত দেশটির তেল নিয়ে। তার এই হিসাব-নিকাশটি ন্যাটোর লিবিয়ায় হস্তক্ষেপের সময় দেওয়া ট্রাম্পের সেই পুরোনো বক্তব্যের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিনিময়ে লিবিয়ার তেল বিক্রির আয়ের অর্ধেক যুক্তরাষ্ট্রের পাওয়া উচিত।

    আফ্রিকা মহাদেশে তেলের প্রমাণিত মজুতের সবচেয়ে বড় ভান্ডার রয়েছে লিবিয়ায়। কিন্তু দেশটিতে চলমান সংঘাত ও বিভাজনের কারণে এই তেল সম্পদ ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় স্বার্থে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশটির জাতীয় তেল কোম্পানি ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশনকে একীভূত করা এবং দলীয় বা গোষ্ঠীগত হস্তক্ষেপ থেকে এটিকে রক্ষা করা গেলে দৈনিক তেল উৎপাদন ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে রাষ্ট্রীয় আয়ও ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

    কিন্তু লিবিয়ার পূর্ব অংশে যুদ্ধবাজ নেতা জেনারেল হাফতারের সমর্থিত সরকার ও পশ্চিম অংশে ত্রিপোলিভিত্তিক জাতিসংঘ সমর্থিত ‘গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল ইউনিটি’ (জিএনইউ) ক্ষমতায় থাকায় এই তেল সম্পদ ভাগাভাগি ও লুটপাট হচ্ছে। জিএনইউয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুল্লাহ ইজ্জেদিন দ্য নিউ আরবকে বলেন, দুটি সরকার এক হলে ব্যয় অর্ধেকে নেমে আসবে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-ফিতোরি বলেন, ‘লিবিয়া এমন একটি অঞ্চলে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিটি শহর এক-একটি রাষ্ট্র হয়ে উঠেছে। তার মতে, একটি ঐক্যবদ্ধ সাংবিধানিক কাঠামোই জাতীয় নির্বাচনের একমাত্র পথ, যে নির্বাচনে একটি বৈধ ও স্থায়ী কর্তৃপক্ষ গঠিত হবে।

    ঐক্যবদ্ধ বাজেট প্রণয়নে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার জাতীয় স্বার্থে আপস-মীমাংসায় রাজিও হয়েছিল। লিবিয়ার সিরতে শহরে আফ্রিকায় মার্কিন সামরিক কমান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত ‘ফ্লিন্টলক ২০২৬’ নামের সামরিক মহড়ায়ও উভয় পক্ষের বাহিনী প্রথমবারের মতো একই কমান্ডের অধীনে অংশ নিয়েছে। তবে মূল সমস্যাটি নিহিত রয়েছে নতুন এই চুক্তির কাঠামোর মধ্যেই।

    বুলোসের মধ্যস্থতায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রোমে অনুষ্ঠিত গোপন বৈঠকে খলিফা হাফতারের বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ও তার ছেলে সাদ্দাম হাফতার এবং জিএনইউয়ের প্রধানমন্ত্রী আব্দুল হামিদ দবেইবেহর ভাতিজা ও উপদেষ্টা ইব্রাহিম দবেইবেহ প্রথমবারের মতো মুখোমুখি আলোচনায় বসেন। সেই বৈঠকের প্রস্তাবে সাদ্দাম হাফতারের নেতৃত্বে নির্বাহী ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ‘প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল’ গঠনের কথা বলা হয়। পাশাপাশি দবেইবেহ’র নেতৃত্বে একটি ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠন এবং ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী দুই পরিবারের মধ্যে সামরিক কমান্ড ভাগ করার প্রস্তাবও করা হয়।

    মূলত ক্ষমতার শক্ত অবস্থানে থাকা পক্ষগুলোর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি সমঝোতা তৈরির মাধ্যমে এই উদ্যোগটি নেওয়া হচ্ছে। তাই এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলেও লিবিয়ায় বিরাজমান মূল সমস্যাগুলোর কোনো সমাধান হবে না। লিবীয় বিশ্লেষক আব্দুলসালাম আল-রাজহি বলেছেন, এই চুক্তি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে।

    ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর চুক্তি ও লিবিয়ার তেল

    জাতিসংঘ-সমর্থিত পুনর্মিলন ও মানবাধিকারবিষয়ক ‘স্ট্রাকচার্ড ডায়ালগ’ বা কাঠামোগত আলোচনা প্রক্রিয়ার সদস্য হানিন বুশুশে বলেন, নির্বাহী ক্ষমতাকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে নেওয়া যেকোনো উদ্যোগকে শুধু ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর মধ্যকার রাজনৈতিক সমঝোতা দিয়ে বিচার করলে চলবে না, বরং সাধারণ লিবীয়দের ওপর এর প্রভাবের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি ‘দ্য নিউ আরব’কে বলেন, ‘একত্রীকরণ তখনই অর্থবহ হতে পারে, যখন তা বৈধতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হয়। যদি সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান না করে শুধু নাম পরিবর্তন বা পদ পুনর্বণ্টনের মধ্যেই এটি সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সমস্যা থেকেই যাবে।’

    রাজনৈতিক সমালোচকদের মতে, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা করা হলে তা জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন প্রক্রিয়ার বৈধতাকে দুর্বল করবে। নতুন এই চুক্তিতে বৃহত্তর জাতীয় ঐকমত্যের পরিবর্তে ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর মধ্যকার দরকষাকষিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

    রাশিয়া নতুন এই চুক্তিকে সন্দেহের চোখে দেখছে এবং ‘বুলোস উদ্যোগ’কে বার্লিন প্রক্রিয়াকে পাশ কাটানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়া বারবার বলছে যে, লিবিয়ায় যেকোনো সমাধানের ক্ষেত্রে অবশ্যই দেশটির নিজস্ব মালিকানা ও নেতৃত্ব থাকতে হবে।

    এরপর কী হতে যাচ্ছে

    ১৮ জুনের চুক্তিটি গত কয়েক বছরের মধ্যে লিবিয়ার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পথে নেওয়া সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ। একটি সমন্বিত বাজেট বাস্তব রূপ পেয়েছে। যৌথ সামরিক মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের রূপরেখাও কাগজে-কলমে তৈরি আছে। কিন্তু এই উদ্যোগগুলো শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে কি না, তা নির্ভর করছে যে বিষয়ের ওপর তা হলো—চুক্তিটি কি শুধু হাফতার ও দবেইবেহ পরিবারের মধ্যকার সমঝোতা হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এই দুই পরিবারের বাইরে লিবিয়ার সাধারণ মানুষ নিজেদের বলে মনে করবে? ২০১১ সালে পশ্চিমাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গাদ্দাফির ক্ষমতাচ্যুতি ও নিহত হওয়ার পর থেকে লিবিয়ার ইতিহাস বলে, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাওয়া সহজ নয়।

    লিবিয়ার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মূল দুর্বলতাগুলো আমলে না নিয়ে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের তেলবাণিজ্যের লক্ষ্য হাসিলে তিনটি পক্ষের মধ্যে সমঝোতা গাজা, লেবানন ও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণেরই প্রতিফলন। এসব দেশে ওয়াশিংটন সাফল্য ঘোষণা করার পরপরই প্রাথমিক চুক্তিগুলো ভেস্তে গেছে। লিবিয়ায়ও হয়তো তাই ঘটবে। এরই মধ্যে দেশটির বিভিন্ন মহল জোরালোভাবে বলছে, কয়েকটি পরিবারের মধ্যে চুক্তি লিবিয়ার জনগণের পক্ষে কোনো চুক্তি নয়।

  • বিপিসির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে জ্বালানি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল হক

    বিপিসির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে জ্বালানি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল হক

    বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জিয়াউল হককে দেওয়া হয়েছে।

    রবিবার (২ আগস্ট) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রশাসন-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরিনা আফরিন মুস্তাফা সই করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিপিসির দাফতরিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের সুবিধার্থে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জিয়াউল হককে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে বিপিসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হলো। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদক্রমে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।

  • ডিএসইতে সূচকের মিশ্র প্রবণতা, লেনদেন ১২৫৭ কোটি টাকা

    ডিএসইতে সূচকের মিশ্র প্রবণতা, লেনদেন ১২৫৭ কোটি টাকা

    সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের মিশ্র প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সামান্য বেড়েছে, তবে ডিএস-৩০ এবং ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক কমেছে। একই সাথে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৫৭ কোটি ৬২ লাখ ৩৩ হাজার টাকায়।

    ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, এদিন ৩৮৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের ৫১ কোটি ৪৩ লাখ ৩২ হাজার ২১৭টি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে।

    দিন শেষে ডিএসইএক্স সূচক আগের কার্যদিবসের তুলনায় ০ দশমিক ২০ পয়েন্ট বেড়ে ৫৮৯৫ দশমিক ৭৮ পয়েন্টে অবস্থান করে। অন্যদিকে, ডিএস-৩০ সূচক ৩ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট কমে ২২১৩ দশমিক ৩৪ পয়েন্টে এবং ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ২ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট কমে ১১৯২ দশমিক ৬১ পয়েন্টে দাঁড়ায়।

    লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯৩টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, ১৪৯টির কমেছে এবং ৪৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

    লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০টি কোম্পানি হলো মালেক স্পিনিং, এসিআই ফর্মুলেশনস, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, বেক্সিমকো, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, আইটিসি, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, আইপিডিসি ফাইন্যান্স এবং শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি।

    দর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স, কুইন্স সাউথ টেক্সটাইল, আইসিবি সোনালী ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, গোল্ডেন জুবিলী মিউচুয়াল ফান্ড, ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড, আইসিবি এমপ্লয়িজ মিউচুয়াল ফান্ড-১ (স্কিম-১), এলআর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ড-১, ইবিএল প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড এবং আইসিবি তৃতীয় এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড।

    অন্যদিকে দর পতনের শীর্ষে ছিল এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস, বিআইএফসি, সেনা ইন্স্যুরেন্স, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ওরিয়ন ইনফিউশন, জিকিউ বলপেন, এপেক্স স্পিনিং, সোনারগাঁও টেক্সটাইলস এবং আনলিমা ইয়ার্ন ডাইং।

    এদিন লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মোট বাজার মূলধন দাঁড়ায় সাত লাখ ছয় হাজার ১১৪ কোটি ৭৬ লাখ ৩৩ হাজার ২৪৮ টাকা।

  • ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্নে মিলবে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কর ছাড়

    ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্নে মিলবে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কর ছাড়

    চলতি করবর্ষের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত কর ছাড় মিলবে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এতে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতা ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার (এইচইউএফ) সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কর ছাড় পাবে।

    রোববার (২ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর এ তথ্য জানিয়েছে। করদাতাদের উৎসাহিত করতে আয়কর আইন, ২০২৩-এর নতুন বিধান অনুযায়ী এই কর প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, (চলতি বছরের) ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিলকারী স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার করদাতারা আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৭৩ অনুযায়ী রিটার্নের সাথে পরিশোধযোগ্য করের পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত কর ছাড় পাবে। তবে এই ছাড়ের সর্বোচ্চ সীমা হবে ২৫ হাজার টাকা।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে কোনো কর প্রণোদনা দেয়া হবে না।

    এদিকে, (২০২৭ সালের) ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৭৩(২) অনুযায়ী পরিশোধযোগ্য করের দুই শতাংশ অথবা তিন হাজার টাকা (যেটি বেশি, সেই পরিমাণ) অতিরিক্ত কর দিতে হবে।

    এছাড়া (২০২৭ সালের) ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুনের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে পরিশোধযোগ্য করের পাঁচ শতাংশ অথবা পাঁচ হাজার টাকা (যেটি বেশি, সেই পরিমাণ) অতিরিক্ত কর প্রযোজ্য হবে।

    এনবিআরের মতে, নির্ধারিত সময়ের শুরুতেই কর ছাড় দেয়ার ফলে অধিক সংখ্যক করদাতা সময়মতো রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত হবেন। এতে কর পরিপালনের সংস্কৃতি আরো শক্তিশালী হবে এবং কর প্রশাসনের কার্যক্রম আরো দক্ষ ও সুশৃঙ্খল হবে।

    সংস্থাটি জানায়, গত ২২ জুলাই থেকে ২০২৬-২৭ করবর্ষের জন্য ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের ই-রিটার্ন সেবা চালু করা হয়েছে। করদাতারা www.etaxnbr.gov.bd-এর মাধ্যমে ঘরে বসেই আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। একইসাথে ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে কর পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।

    সঠিক তথ্য দিয়ে রিটার্ন দাখিল করলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ পাওয়া যাবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

    অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে কোনো সমস্যা হলে সরকারি ছুটির দিন ছাড়া অফিস চলাকালে এনবিআরের কল সেন্টার (০৯৬৪৩৭১৭১৭১) ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যাবে।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর ৩০ সেপ্টেম্বরের পর দাখিল করা রিটার্নের ক্ষেত্রে কর প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না উল্লেখ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করে কর ছাড়ের সুবিধা গ্রহণের জন্য করদাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

  • কাল থেকেই কাঁচামরিচ আমদানি শুরু : কৃষিমন্ত্রী

    কাল থেকেই কাঁচামরিচ আমদানি শুরু : কৃষিমন্ত্রী

    আগামীকাল সোমবার থেকেই কাঁচামরিচ আমদানি কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। এর ফলে, আগামী দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে কাঁচামরিচের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

    আজ রোববার রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শনকালে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা বলার সময় তিনি এ আশা প্রকাশ করেন। এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো: আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।

    পরিদর্শনকালে মন্ত্রীরা বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে নিত্যপণ্যের সরবরাহ, মূল্য এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

    পরিদর্শন শেষে কৃষিমন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, কাঁচামরিচের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।

    তিনি বলেন, কাঁচামরিচ আমদানির ওপর বিদ্যমান কর (ট্যাক্স) কমানো হচ্ছে এবং কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতিও দেয়া হয়েছে। আগামীকাল থেকেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হবে। এর ফলে আগামী দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে কাঁচামরিচের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ভোক্তাদের জন্য বাজারকে সহনীয় রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

    গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা সরেজমিনে যা দেখবেন, তা বস্তুনিষ্ঠভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরবেন। এতে মানুষ সচেতন হবে, বিভ্রান্তি কমবে এবং কেউ বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি বা মূল্য কারসাজির সুযোগ পাবে না।’

    এর আগে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অত্যাবশ্যকীয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় (খাদ্য ও কৃষি) পণ্যের সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণ-সংক্রান্ত সভায় অংশ নেন বাণিজ্যমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী। পরে সেখান থেকে তারা সরেজমিন শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শনে যান।

    সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল থাকবে এবং সাধারণ ভোক্তারা স্বস্তি পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

  • এফবিসিসিআইয়ের নতুন প্রশাসক ফজলুল হক

    এফবিসিসিআইয়ের নতুন প্রশাসক ফজলুল হক

    দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-এর প্রশাসক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিয়েছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি ও প্লামি ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল হক।

    ব্যবসায়ী মহলের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মকর্তার পরিবর্তে বেসরকারি খাতের একজন উদ্যোক্তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হলো।

    রোববার সকালে রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই ভবনে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে সংগঠনটির পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেন।

    এর আগে গত ২৬ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-১ শাখার এক অফিস আদেশে বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর ১৭ ধারার আওতায় মো. ফজলুল হককে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। আদেশে সংগঠনের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের স্বার্থে তাকে এ দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের পর আগামী ১২০ দিনের মধ্যে বাণিজ্য সংগঠন আইন-২০২২, বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা-২০২৫, কোম্পানি আইন-১৯৯৪ এবং এফবিসিসিআইয়ের সংঘস্মারক ও সংঘবিধি অনুসরণ করে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের পর তাদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার নির্দেশ রয়েছে।

    দায়িত্ব গ্রহণের পর মো. ফজলুল হক বলেন, সরকারের দেওয়া দায়িত্ব অনুযায়ী ১২০ দিনের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচিত ব্যবসায়ী নেতৃত্ব ফিরিয়ে আনতে তিনি যথাযথ চেষ্টা করবেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ফেডারেশনের সদস্য, ব্যবসায়ী সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

    এর আগে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান। গত ২৭ জুন তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রায় দেড় মাস পদটি শূন্য ছিল। এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে তাকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে নির্বাচিত নেতৃত্বের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ থাকলেও আইনি জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে গত ফেব্রুয়ারিতে তার মেয়াদ আরও চার মাস বাড়ানো হয়, যা ২৬ জুন শেষ হয়।

    এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়াটি শুরু হয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর। ওই সময় সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের পদত্যাগের দাবিতে সদস্যদের একাংশ আন্দোলনে নামে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন সভাপতি মাহবুবুল আলম পদত্যাগ করেন। পরে একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য মো. হাফিজুর রহমানকে প্রশাসক নিয়োগ দেয়।

    মো. ফজলুল হক দেশের তৈরি পোশাক খাতের পরিচিত উদ্যোক্তা। নারায়ণগঞ্জভিত্তিক পরিবেশবান্ধব পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান প্লামি ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এর আগে বিকেএমইএর সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি), বাংলাদেশের সঙ্গেও সম্পৃক্ত রয়েছেন। তৈরি পোশাক শিল্প, রপ্তানি বাণিজ্য, শিল্পনীতি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন তিনি।