অর্থ ও বাণিজ্য

  • টানা পঞ্চমবার পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ

    টানা পঞ্চমবার পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ

    বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। ডব্লিউটিওর ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিভিউ ২০২৫ অনুযায়ী, বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানি কিছুটা কমলেও শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে চীন। তালিকায় তৃতীয় স্থানে ভিয়েতনাম, চতুর্থ স্থানে ভারত এবং পঞ্চম স্থানে তুরস্ক রয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর বাংলাদেশ ৩৮ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের তুলনায় এ রপ্তানি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বেশি।

    ২০২০ সালে অতিমারি করোনাকালে বাংলাদেশকে টপকে দ্বিতীয় স্থানটি দখল করে নিয়েছিল ভিয়েতনাম। পরের বছর ২০২১ সালে ভিয়েতনামকে পেছনে ফেলে হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধার করে বাংলাদেশ। তৃতীয় অবস্থানে চলে যায় ভিয়েতনাম। ২০২৪ সালেও পোশাক রপ্তানিতে তৃতীয় ছিল ভিয়েতনাম। ২০২৫ সালেও একই অবস্থানে রইল দেশটি। পোশাক রপ্তানিতে বরাবরের মতো এবারও প্রথম স্থানে আছে চীন।

    আগের বছরের হিস্যা ছিল ৭ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশে নেমেছে। এ নিয়ে টানা দুই বছর বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের হিস্যা কমল। ২০২৩ সালে হিস্যা ছিল ৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ২০২২ সালে ছিল ৭ দশমিক ৯১ শতাংশ, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

    বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী ভিয়েতনামের হিস্যা গত বছর আরও বেড়েছে। ডব্লিউটিওর তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, গত বছর ভিয়েতনামের হিস্যা দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে ছিল ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ। গত তিন বছরের মধ্যে ২০২৩ সালে দেশটির হিস্যা ছিল ৫ দশমিক ৮১ শতাংশ। অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে তিন বছর ধরে ভিয়েতনামের হিস্যা বাড়ছে। বিপরীতে হিস্যা কমছে বাংলাদেশের।

  • পর্ষদবিহীন ইসলামী ব্যাংকে সিদ্ধান্তে ধীরগতি

    পর্ষদবিহীন ইসলামী ব্যাংকে সিদ্ধান্তে ধীরগতি

    বিতর্কের মুখে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর বর্তমানে ব্যাংকটির পর্ষদের দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন। তবে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ, চেয়ারম্যান ও নিয়মিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) না থাকায় বড় ধরনের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন করপোরেট গ্রাহকেরা। এর প্রভাবে অনেক প্রতিষ্ঠানের আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলা, ঋণ নবায়ন এবং চলতি মূলধনের (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) অনুমোদন বিলম্বিত হচ্ছে। যদিও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, সংকট কাটিয়ে উঠতে সতর্কতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ গঠিত হলে কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে এখনো কয়েকশ পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এলসি খোলা এবং চলতি মূলধনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থায়ন পাচ্ছে না। কেউ কেউ এলসি খুলতে গিয়ে বিলম্বের মুখে পড়ছেন। এতে ব্যাংকটির দীর্ঘদিনের ভালো গ্রাহকদের একটি অংশও ব্যবসায়িক ঝুঁকিতে পড়েছেন।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বড় শিল্প উদ্যোক্তা বলেন, ‘আমার চারটি গার্মেন্টস কারখানার বেতন-ভাতা পরিশোধ ও এলসি ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে চার হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছি না। দীর্ঘদিন ধরে যেসব কর্মকর্তা আমার ফাইল দেখতেন, তারাও নিজেদের অসহায় বলে জানাচ্ছেন।’

    তিনি বলেন, ‘এমনিতেই গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ওপর ব্যাংকের সহযোগিতা না পাওয়ায় চাপ আরো বেড়েছে। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে যাবে। বেতন না পেলে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামতে পারেন, যা সরকারের জন্যও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করবে।’

    ব্যাংকটির একাধিক বড় করপোরেট গ্রাহক জানান, বড় অঙ্কের ঋণ, এলসি অনুমোদন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্তের জন্য কার্যকর পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ নির্বাহীর প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে এসব পদে পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব না থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফলে রপ্তানিমুখী ও শিল্প খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা পরিচালনায় সমস্যায় পড়ছে। আবার পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ ও নিয়মিত এমডি না থাকায় অনেক উদ্যোক্তাও বড় ধরনের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় রয়েছেন।

    ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেন, ‘ব্যাংকের পরিস্থিতি এখন আগের তুলনায় অনেক ভালো। আমানত (ডিপোজিট) আবার ফিরতে শুরু করেছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য (ক্যাশ লিকুইডিটি) সহায়তা নিতে হচ্ছে না।’

    করপোরেট গ্রাহকদের এলসি ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে জটিলতার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এসব কথা ঠিক নয়। প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হচ্ছে। বড় যেসব বিষয় রয়েছে, সেগুলোও আমরা সমাধান করছি। তবে অতিরিক্ত চাহিদা বা সুদ মওকুফের মতো সিদ্ধান্ত এখন নেওয়া সম্ভব নয়। যৌক্তিক যেসব আবেদন আসছে, সেগুলো অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। অযৌক্তিক কোনো দাবি পূরণ করা হবে না। আমার বোর্ডে অযৌক্তিক কিছু হবে না।’

    ইসলামী ব্যাংকের একজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাংকের তারল্য সংকট অনেকটাই কেটে গেছে। পরিচালনা পর্ষদ পূর্ণাঙ্গ না থাকলেও নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সব সিদ্ধান্ত এক সদস্যবিশিষ্ট বোর্ডই অনুমোদন দিচ্ছে। এ জন্য তাকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি নিয়মিত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।’

    তিনি বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ না থাকায় বাইরে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক। কারণ সাধারণভাবে বোর্ড বলতে একাধিক সদস্যকে বোঝানো হয়। ফলে একজন সদস্য দায়িত্ব পালন করায় কিছু গ্রাহক ও ব্যবসায়িক অংশীদার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দ্বিধায় পড়তে পারেন।’

    ব্যাংকটির একটি শাখার প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে তারল্য সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে, তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। ওই টাকা দিয়ে নতুন বিনিয়োগ বা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দেওয়া যায় না। ফলে ইচ্ছা করলেই এ অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত শর্ত মেনেই এ অর্থ ব্যবহার করতে হচ্ছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এগোতে হচ্ছে। একসঙ্গে কয়েকজনকে বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে দিলে হাতে থাকা তারল্য দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে। এরপর যদি কাউন্টারে হঠাৎ গ্রাহকদের চাপ বেড়ে যায়, তখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।’

    অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ সময় শীর্ষ নেতৃত্বের শূন্যতা থাকলে একটি ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে করপোরেট গ্রাহকরা দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সেবা প্রত্যাশা করেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা থাকলে তারা বিকল্প ব্যাংকের দিকে ঝুঁকতে পারেন, যা ইসলামী ব্যাংকের ব্যবসার জন্য দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে. মুজেরী বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকে এখনো নিয়মিত বোর্ড ও এমডি নিয়োগ হয়নি। ব্যাংকের স্বার্থে যত দ্রুত সম্ভব পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং একজন নিয়মিত ও দক্ষ এমডি নিয়োগ দিয়ে ব্যাংকটিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। এতে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের আস্থা আরো শক্তিশালী হবে এবং ব্যাংকের কার্যক্রমও স্বাভাবিক গতি ফিরে পাবে। দীর্ঘ সময় পূর্ণাঙ্গ বোর্ড ও নিয়মিত এমডি না থাকলে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছুটা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’

    নতুন পর্ষদ গঠন কতদূর

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত এলেই প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ ঘোষণা করা হবে।’

    কেন সংকট

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে জালিয়াতির মাধ্যমে নামে-বেনামে ব্যাংকটি থেকে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব অনিয়মের তথ্য প্রকাশের পর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ থেকে ব্যাংকটিকে মুক্ত করা হয়। এরপর নানা সংকটের মধ্যেও ব্যাংকটি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।

    তবে গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এম. জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। একই দিন রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে স্বতন্ত্র পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে তাকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হলে তার অপসারণসহ সাত দফা দাবিতে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে একদল গ্রাহক আন্দোলন শুরু করেন। জাতীয় সংসদেও বিষয়টি নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তুমুল আলোচনা হয়। পাশাপাশি রাজধানীর দিলকুশায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে টানা বিক্ষোভ চলতে থাকে। এর প্রভাবে ব্যাংকটিতে আমানত উত্তোলনের চাপ বেড়ে যায় এবং তারল্য সংকট তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক তারল্য সহায়তা দেয়। পরে পুরো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালককে পর্ষদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

  • দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ‘সেপা’ চুক্তি সই, ৯৭% বাংলাদেশি পণ্যে শুল্ক সুবিধা

    দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ‘সেপা’ চুক্তি সই, ৯৭% বাংলাদেশি পণ্যে শুল্ক সুবিধা

    দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট—সেপা) সই করেছে বাংলাদেশ। এ চুক্তির আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা পাবে। বিপরীতে বাংলাদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার ৮৭ শতাংশ পণ্য একই সুবিধার আওতায় আসবে।

    মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দুই দেশের মধ্যে সেপা চুক্তি সই হয়। পরে ‘সেপা নেগোসিয়েশন কনক্লুশন সেরেমনি’ শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির একটি দেশের সঙ্গে এ চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ মাসের মধ্যে এটি প্রথম সেপা চুক্তি। এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যে শুল্কমুক্ত ও সুবিধা পাওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় দুই ট্রিলিয়ন (২ লাখ কোটি) ডলারের অর্থনীতির দেশ। দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের সম্ভাবনা তৈরি করবে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক ও খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ সুবিধা পাবে।’

    খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন, যার জন্য বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ জরুরি। সেপার মতো দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে বিনিয়োগের ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হবে বলে মনে করেন তিনি।

    দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু বলেন,‘বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ৫৬ বছর আগে টেক্সটাইল খাতের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল। তবে বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতি পণ্য বহুমুখীকরণের দিকে এগোচ্ছে। তাই উভয় দেশকেই আরও বৈচিত্র্যময় পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে যুক্ত হতে হবে।’

    তিনি আরও আশা প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাদেশের নতুন সরকার দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। প্রযুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা (সাপ্লাই চেইন) খাতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে। এ চুক্তির ফলে কোরীয় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে আরও সহজ ও অনুকূল পরিবেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে।”

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৩৯ কোটি (১.৩৯ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে রপ্তানি হয় প্রায় ৪৯ কোটি ১৭ লাখ (৪৯১.৭৩ মিলিয়ন) ডলারের পণ্য। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় প্রায় ৯০ কোটি ২৯ লাখ (৯০২.৯০ মিলিয়ন) ডলারের পণ্য। ফলে দুই দেশের বাণিজ্যিক লেনদেনে বাংলাদেশের ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৪১ কোটি (৪১১ মিলিয়ন) ডলার।

    উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য এবং সিরামিক। অন্যদিকে, দেশটি থেকে বাংলাদেশে প্রধানত লোহা ও ইস্পাত, শিল্প যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্য, রাসায়নিক পদার্থ এবং কাগজ ও কাগজজাত পণ্য আমদানি করা হয়।

  • জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এল ৩৫ হাজার কোটি টাকা

    জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এল ৩৫ হাজার কোটি টাকা

    চলতি অর্থবছরের গত জুলাই মাসে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৫ হাজার ২১০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ১১ পয়সা ধরে)। এক বছরের ব্যবধানে এই প্রবাহ বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ।আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৮৫ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের ২৪৭ দশমিক ৮০ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। এর আগে বিদায়ী অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৮২ মিলিয়ন ডলার।

    সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৈধ পথে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৯ মিলিয়ন ডলার, যা এর আগের অর্থবছরের ৩ হাজার ৩২ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলারের চেয়ে ৫২৬ মিলিয়ন ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির পেছনে হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা বৃদ্ধি এবং বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর সম্প্রসারিত সুযোগকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

  • জ্বালানি সংকট নিরসনে ৩ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

    জ্বালানি সংকট নিরসনে ৩ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

    দেশের জালানি সংকট মোকাবিলায় সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোসহ তিন নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    সোমবার সচিবালয়ে সৌর বিদ্যুৎসংক্রান্ত সভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে এসব নির্দেশনা আসার কথা জানান তার উপ প্রেস সচিব হাসান শিপুল।

    তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। এগুলো হচ্ছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে; সোলার ইনভার্টার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য সৌর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও লাভজনক করে তুলতে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    উপ প্রেস সচিব বলেন, বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন, পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারি ভবনে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ বাড়বে। এ কারণে তিনি বিভিন্ন সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেন।

    সভায় আরও বলা হয়, ভোক্তাদের মধ্যে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহ বাড়াতে এর অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক সুবিধাগুলো ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে হবে।

    এ প্রযুক্তির মাধ্যমে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান, লিফটসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো সম্ভব বলে উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয় বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

    সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • টিকিট সিন্ডিকেট দমনে আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা চায় সরকার

    টিকিট সিন্ডিকেট দমনে আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা চায় সরকার

    বিমানের টিকিট সিন্ডিকেট দমন, বিমান পরিবহন খাতের আধুনিকায়ন ও পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) কারিগরি সহযোগিতা চেয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বাংলাদেশ এয়ারলাইনস টেকনিক্যাল সেন্টারকে (বিএটিসি) আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে আইএটিএ।

    আজ সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে আইএটিএর আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট শেজডন হির সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে আইএটিএর আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের উন্নয়নে আইএটিএ সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। বিশেষ করে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বাংলাদেশ এয়ারলাইনস টেকনিক্যাল সেন্টারকে (বিএটিসি) আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও আধুনিক প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী সংস্থাটি।

    বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বিমানের টিকিট সিন্ডিকেট দমনে সরকার ইতিমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার বিমান খাতে যেকোনো ধরনের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

    প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, পরিবেশবান্ধব বিমান পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে বেসামরিক বিমান চলাচল অধ্যাদেশে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে পৃথক ধারা সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি টেকসই এভিয়েশন ফুয়েল (এসএএফ) ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আকাশপথে অপরাধ দমনে মন্ট্রিল প্রটোকল-২০১৪ গ্রহণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

    বৈঠকে দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক আকাশপথে সংযোগ সম্প্রসারণ, বিমান পরিবহন খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে সরকার ও আইএটিএর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিভিন্ন বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

  • বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ কেন স্থগিত করল পোল্যান্ডের ব্র্যান্ড এলপিপি

    বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ কেন স্থগিত করল পোল্যান্ডের ব্র্যান্ড এলপিপি

    বাংলাদেশে নতুন ক্রয়াদেশ দেওয়া স্থগিত করেছে পোল্যান্ডের পোশাক ব্র্যান্ড এলপিপি। একই সঙ্গে নতুন পণ্য উন্নয়নের কাজও আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। রাশিয়ার ক্রেতা এফইএস রিটেইলের কাছে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক কারখানা ও বায়িং হাউসগুলোর বকেয়া পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে পোলিশ ব্র্যান্ডটি এমন সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা গেছে।

    দেশের সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারকদের ভাষ্য, রুশ ক্রেতা এফইএস রিটেইলের কাছে বাংলাদেশের কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানা ও বায়িং হাউসের প্রায় চার কোটি মার্কিন ডলার পাওনা রয়েছে। পোলিশ ব্র্যান্ড এলপিপির নিশ্চয়তায় করা বিক্রয় চুক্তির আওতায় তাঁরা রাশিয়ার প্রতিষ্ঠানটির জন্য পণ্য সরবরাহ করেছিলেন।

    জানা গেছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ায় নিজেদের বিক্রয়কেন্দ্র পরিচালনায় জটিলতায় পড়ে এলপিপি। তখন তাদের ঢাকা কার্যালয় রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান এফইএস রিটেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশের কারখানাগুলোকে ক্রয়াদেশ দিতে শুরু করে। এ ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধের গ্যারান্টিও দেয় এলপিপি। শুরুতে অর্থ পরিশোধে সমস্যা না হলেও গত বছর থেকে এফইএস রিটেইলের কাছে পণ্য সরবরাহের পরও অর্থ পাচ্ছে না বাংলাদেশের কারখানা ও বায়িং হাউসগুলো। এ বিষয়ে কোনো দায় নিতে এলপিপিও অস্বীকৃতি জানায়।

    বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও পাওনা অর্থ না পেয়ে কয়েকজন তৈরি পোশাক কারখানা ও বায়িং হাউসের মালিক আদালতের দ্বারস্থ হন। এরপর গত মাসে অনলাইনে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ ও গার্মেন্ট বায়িং হাউস মালিকদের সংগঠন বিজিবিএর সঙ্গে এলপিপির কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। তবে সমঝোতার আগে মামলা প্রত্যাহারের শর্ত দিলে বিকেএমইএ ও বিজিবিএর নেতারা তাতে রাজি হননি। ফলে বৈঠকে কোনো সমাধান হয়নি।

    এরপর গত ২১ জুলাই বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিজিবিএকে পাঠানো এক চিঠিতে এলপিপি জানায়, কয়েক মাস ধরে কিছু বাংলাদেশি কারখানার অর্থ পরিশোধ-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে বিতর্ক চলছে। এসব অর্থ পরিশোধের জন্য তারা চুক্তিভিত্তিক দায়ী পক্ষ নয়। যদিও তারা বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নিয়েছে এবং মধ্যস্থতায় আগ্রহ দেখিয়েছে। এ অবস্থায় ধীরে ধীরে বাংলাদেশে তাদের ক্রয়াদেশ কমানো হবে। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতি হলে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিতও দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

    ৩০ জুলাই বাংলাদেশের সরবরাহকারীদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এলপিপি জানায়, বাংলাদেশে তাদের ভবিষ্যৎ সোর্সিং কৌশল পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন ক্রয়াদেশ এবং নতুন পণ্য উন্নয়নের কাজ স্থগিত থাকবে। এ সময়ে তারা অন্যান্য দেশের সোর্সিংয়ের সুযোগ ও উৎপাদন সক্ষমতাও মূল্যায়ন করবে।

    বিজিবিএর সভাপতি আবদুল হামিদ প্রথম আলোকে জানান, তাঁদের সংগঠনের ৯টি প্রতিষ্ঠানের ৪৫ লাখ ডলার পাওনা রয়েছে। সব মিলিয়ে বকেয়ার পরিমাণ প্রায় চার কোটি ডলার। তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ায় ব্যবসা পরিচালনায় সমস্যায় পড়ে এলপিপি সহযোগী হিসেবে এফইএস রিটেইলকে নিয়োগ দেয়। বাংলাদেশের সরবরাহকারীদের সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ও করিয়ে দেন এলপিপির কর্মকর্তারা। এলপিপির কার্যালয় থেকেই এফইএস রিটেইলের নামে ক্রয়াদেশ দেওয়া হতো এবং অর্থ পরিশোধের গ্যারান্টিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন এলপিপি দাবি করছে, এফইএস রিটেইলের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

    আবদুল হামিদ আরও বলেন, এলপিপি বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় ৮০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক কেনে। তারা ব্যবসা করুক, সেটিই চান তাঁরা। তবে বিভিন্ন পোশাক কারখানা ও বায়িং হাউসের বকেয়া পরিশোধ না করতে প্রতিষ্ঠানটি একধরনের ধূর্ততার আশ্রয় নিয়েছে।

    বিজিবিএর সভাপতি আরও বলেন, এলপিপি এফইএস রিটেইলের মাধ্যমে ৫০ শতাংশ ছাড়ে বকেয়া পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছিল। ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মূল্যছাড় হলেও আলোচনা হতে পারত। কারণ, ব্যাংকেই তো দেনা রয়েছে ৭৫ শতাংশ অর্থ।

    এনসা ক্লোথিং নামের একটি বায়িং হাউস গত বছরের এপ্রিলে এফইএস রিটেইলের ক্রয়াদেশের বিপরীতে ৫২ হাজার মার্কিন ডলারের ট্রাউজার রপ্তানি করে। দুই মাস পর পণ্যটি রাশিয়ার বন্দরে পৌঁছায়। কিন্তু এফইএস রিটেইল অর্থ পরিশোধ করে পণ্য ছাড় না করায় সেটি এখনো বন্দরে পড়ে আছে। এলপিপির সঙ্গে দেনদরবার করেও বকেয়া না পেয়ে প্রতিষ্ঠানটি গত মাসে বাংলাদেশের হাইকোর্টে মামলা করেছে।

    এনসা ক্লোথিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এনামুল কবির প্রথম আলোকে বলেন, এলপিপি দাবি করছে, গত বছরের এপ্রিলের পর থেকে এফইএস রিটেইলের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ গত বছরের এপ্রিল ও মে মাসে এফইএস রিটেইলের জন্য রপ্তানি করা তৈরি পোশাকের অর্থ পরিশোধ করেছে এলপিপি। তিনি আরও বলেন, যে কারখানাটি এনসা ক্লোথিংয়ের জন্য তৈরি পোশাক সরবরাহ করেছে, সেটি এখন বিপদে আছে। দ্রুত অর্থ না পেলে কারখানাটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

    গত শনিবার বিকেএমইএর বোর্ড সভায়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এলপিপি বাংলাদেশের পোশাক কারখানা ও বায়িং হাউসগুলোর বকেয়া পরিশোধ না করলে ব্র্যান্ডটিকে কালোতালিকাভুক্ত করা হবে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, এলপিপি ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কথা বলে একধরনের হুমকি দিয়েছে। তারা যদি বকেয়া পরিশোধ না করে, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ (ইইউ) অন্যান্য সব ফোরামে তাদের এই অনৈতিক চর্চার বিষয়ে অভিযোগ জানানো হবে। শুধু এফইএস রিটেইল নয়, এলপিপিও সরাসরি পণ্য নিয়ে অর্থ দিচ্ছে না—এমন অভিযোগও আছে।

  • টিসিবিতে ভুট্টার তেল বেচে বিপাকে পড়েছে ময়মনসিংহের এমআরটি অ্যাগ্রো, ভ্যাট নিয়ে জটিলতা

    টিসিবিতে ভুট্টার তেল বেচে বিপাকে পড়েছে ময়মনসিংহের এমআরটি অ্যাগ্রো, ভ্যাট নিয়ে জটিলতা

    ভুট্টা থেকে তেল উৎপাদন করছে ময়মনসিংহের প্রতিষ্ঠান এমআরটি অ্যাগ্রো। দেশে ভুট্টার মতো নতুন উৎস থেকে তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কাছে তেল সরবরাহের কাজ পেয়েছে।

    টিসিবিতে ২০ লাখ লিটার তেল বিক্রি করবে তারা। কিন্তু ১০ শতাংশ ভ্যাট নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। লিটারে সাড়ে ১৭ টাকা ভ্যাট দিতে হবে। এতে লোকসানে পড়ছে প্রতিষ্ঠানটি। দুই মাস ধরে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ। পুরোপুরি বন্ধের উপক্রম হয়েছে, তাই ভ্যাট প্রত্যাহার চায় এমআরটি অ্যাগ্রো।

    প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, তেলের উৎপাদন খরচ ১৭০ টাকা। এখন সব খরচ মিলিয়ে লিটারে ২০ টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এভাবে টিকে থাকা সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে মোট চুক্তির প্রায় ১৫ শতাংশ বা ৩ লাখ লিটার তেল সরবরাহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

    জানতে চাইলে এমআরটি অ্যাগ্রোর পরিচালক রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বাজারে ভুট্টার তেলের দাম লিটারে ১৯০ টাকা। সেখানে এখন প্রতি লিটারে ভর্তুকি দিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। সমস্যার সমাধান না হলে দুই মাস পর প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে। স্থানীয় উৎপাদনকারী হিসেবে ভ্যাট দেওয়ার কথা নয়, এমনটাই বলছেন তিনি। কিন্তু এসআরওতে এ তেলের নাম উল্লেখ নেই, তাই ভ্যাটমুক্ত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ

    শুধু এমআরটি অ্যাগ্রো নয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও টিসিবির পক্ষ থেকেও ভ্যাট প্রত্যাহারের সুপারিশ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) গত ২০ জুলাই (এনবিআর) চিঠি দেওয়া হয়েছে। আর তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয় গত ৯ জুন।

    চিঠিতে বলা হয়, তেল সরবরাহে প্রতি লিটারের মূল্য ধরা হয়েছে ১৭৫ টাকা। সে হিসাবে ১৫ শতাংশ তেল সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু বিল তুলতে গেলে জানা যায়, প্রতি লিটারে ১০ শতাংশ হারে ভ্যাট কাটা হবে। এতে প্রতি লিটারের দাম পড়বে ১৫৭ টাকা। কিন্তু এতে লোকসানে পড়বে হবে।

    প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্যমতে, পামওয়েলের দাম লিটারে ১৮৫ টাকা। সেখানে ভুট্টার তেল ১৫৭ টাকায় দেওয়া সম্ভব নয়। তাই রাইস ব্রান ও শর্ষে তেলের মতো ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এতে দেশি প্রতিষ্ঠানের তেল উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমবে বলেও দাবি করছে এমআরটি অ্যাগ্রো। অনেক নতুন প্রতিষ্ঠানও ভুট্টার তেল উৎপাদনে এগিয়ে আসবে বলে মনে করছে তারা।

    কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারাও ভুট্টার তেলের সম্ভাবনা দেখছেন। দেশে ভুট্টার উৎপাদন বাড়তে থাকায় এ উপাদান থেকে উৎপাদিত তেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে বলছেন তাঁরা।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষিবিদ কামরুল ইসলাম বলেন, ভুট্টার তেলের পুষ্টিগুণ অন্যান্য তেলের মতোই। ভুট্টা তেলের সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড ও অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলের সমপরিমাণ। এটার বিপণন ব্যবস্থা ঠিক করা গেলে, পণ্যটির ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।

    টিসিবি-মন্ত্রণালয়ও ভ্যাট প্রত্যাহার চায়

    এমআরটি অ্যাগ্রো ছাড়াও সরকারি প্রতিষ্ঠান টিসিবি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ভ্যাট প্রত্যাহারের সুপারিশ করে এনবিআরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

    টিসিবির চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, দেশি শিল্পের বিকাশে ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টিতে ভ্যাট প্রত্যাহার করা যায়। এতে আমদানিনির্ভরতা হ্রাস এবং অনেকের কাজের সুযোগ তৈরি হবে। এ ছাড়া ভ্যাট না থাকলে ভুট্টার তেল রাইস ব্রান তেলের চেয়ে সাশ্রয়ী হবে। তবে এ বিষয়ে টিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশে উৎপাদিত তেলের উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহারে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। প্রতি মাসে টিসিবির প্রায় ১২ কোটি লিটার তেলের প্রয়োজন হয়। গত অর্থবছরে প্রথমবারের মতো ২০ লাখ লিটার ভুট্টার তেল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত হয়।

    তবে বাজেট শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন এমন ছাড় দেওয়া কঠিন বলছে এনবিআর। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, বাজেটের সময় এমন অনেক সুপারিশ আমলা নেওয়া হয়। কিন্তু এখন এমন প্রস্তাব গ্রহণ করা কঠিন। তবে বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখার পর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

  • বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও বেড়েছে সোনার দাম

    বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও বেড়েছে সোনার দাম

    আজ সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। তবে সপ্তাহের প্রথম দিনে (পশ্চিমা ও এশিয়ার অনেক দেশে সপ্তাহের প্রথম দিন সোমবার) সোনার দাম বেড়েছে। এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে ইরানের ওপর হামলা থেকে আপাতত বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর আশা, দ্রুতই সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। এই বাস্তবতায় আজ তেলের দাম কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫ শতাংশের বেশি কমে ৮৩ দশমিক ৩৩ ডলার হয়েছে।

    ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। এর প্রভাবে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দাম বেড়েছে।

    গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ৩৭ মিনিটে স্পটমার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬৮ দশমিক ৫৪ ডলার। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সোনার ফিউচার শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৬৬ দশমিক ৬০ ডলারে ওঠে।

    এদিকে জাপানের ইয়েনকে সমর্থন দিতে দেশটির কর্তৃপক্ষ বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করায় মার্কিন ডলারের ওপর চাপ তৈরি হয়। ফলে ডলারে মূল্য নির্ধারিত সোনা বিদেশি ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে। এটাও সোনার দাম বাড়ার অন্যতম কারণ।

    কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার–বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, সপ্তাহের শুরুতে সোনার বাজার ইতিবাচক অবস্থানে আছে। তবে তেলের বাজার ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় দাম যে খুব একটা বাড়বে, তা নয়। অর্থাৎ সোনার বাজারে ইতিবাচক সূচনা হলেও সতর্কতা আছে।

    ট্রাম্প জানিয়েছেন, সোমবার ইরানের সঙ্গে আলোচনা হবে। তবে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য তিনি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেননি। তাঁর এ বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমেছে।

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকে সোনার বাজার চাপে ছিল। যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়লে বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা আছে। যদিও মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে সোনা ঐতিহ্যগতভাবে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত, সুদের হার বেশি থাকলে সোনার আকর্ষণ কমে যায়। সোনা থেকে সুদ বা নিয়মিত আয় পাওয়া যায় না।

    এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার-সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এর মধ্যে আছে চাকরির শূন্য পদের তথ্য, এডিপির বেসরকারি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন, সাপ্তাহিক বেকারত্ব ভাতার আবেদন ও বহুল প্রত্যাশিত অকৃষি খাতের কর্মসংস্থান–সংক্রান্ত প্রতিবেদন। এসব তথ্যের দিকে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে।

    টিম ওয়াটারার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়ে তেলের দাম আবার বাড়লে অথবা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী হলে সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সোনার দাম তেমন একটা বাড়বে না।

    গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে ভিন্নমত দেওয়া তিন কর্মকর্তা গত শুক্রবার বলেন, স্বল্পমেয়াদি ঋণের সুদের হার দ্রুত না বাড়ালে মূল্যস্ফীতি ফেডের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে আটকে থাকতে পারে।

    স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের বিশ্লেষকেরা গবেষণা নোটে বলেছেন, মৌসুমি চাহিদা বাড়ার আগে স্বল্প মেয়াদে সোনার দাম কিছুটা বাড়বে।

    অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পটমার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫৮ দশমিক ৪৬ ডলার হয়েছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৫০ দশমিক ৬৩ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৯৩ দশমিক ৫০ ডলারে উঠেছে।

  • ইয়েনের পতন ঠেকাতে জাপান-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হস্তক্ষেপ

    ইয়েনের পতন ঠেকাতে জাপান-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হস্তক্ষেপ

    ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময়হার ৪০ বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে সম্প্রতি। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে যৌথভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করে ইয়েন কিনেছে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র। প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না তারা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়। খবর রয়টার্স।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েন ও জাপানের সরকারি বন্ড (জেজিবি) ব্যাপক বিক্রির ফলে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারত। বিশেষ করে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড আরো বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল। এ পরিস্থিতি এড়াতেই দুই দেশ একযোগে পদক্ষেপটি নিয়েছে।

    ২০১১ সালে পূর্ব জাপানে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ইয়েন দুর্বল করতে যৌথ হস্তক্ষেপ করেছিল দেশ দুটি। এর পর এবারই প্রথম জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করল।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বলেন, বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে সহায়তা করতে জাপানকে ইয়েনের দর ধরে রাখতে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

    বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়ায় কৌশলগত মিত্র জাপানকে সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রেরও স্বার্থ রয়েছে। কারণ ইয়েনের অতিরিক্ত দুর্বলতা ট্রাম্প আরোপিত শুল্কের প্রভাব অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

    জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোয় ইয়েনের দামে অতিরিক্ত অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খল ওঠানামা দেখা গেছে। গত শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে ইয়েন কেনার মাধ্যমে তা মোকাবেলা করা হয়েছে।

    জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামা সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রয়োজনে আমরা আবারো সমন্বিতভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করব।’

    এ ঘোষণার পর বিনিময়হার ১ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ডলারে ১৫৫ দশমিক ২০ ইয়েনে পৌঁছায়। এটি মে মাসের শুরু থেকে ইয়েনের সর্বোচ্চ অবস্থান এবং গত মাসে স্পর্শ করা প্রায় ১৬৪ ইয়েনের ৪০ বছরের সর্বনিম্ন স্তর থেকে অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

    সোমবারও কর্তৃপক্ষ বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে কিনা—এ প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান কাতায়ামা।

    জাপানের শীর্ষ কারেন্সি ডিপ্লোমেট আতসুশি মিমুরা বলেন, ‘এই যৌথ হস্তক্ষেপ জাপান-যুক্তরাষ্ট্র জোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।’

    তিনি জানান, সরকার মুদ্রানীতির ক্ষেত্রে ব্যাংক অব জাপান (বিওজে)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখবে, যাতে ইয়েনের দরপতন নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

    মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও শুক্রবারের যৌথ হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র এমন যৌথ পদক্ষেপে অংশ নিতে প্রস্তুত।

    এসব মন্তব্যের ফলে এখন নজর পড়েছে বিওজের দিকে। গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি সুদহার অপরিবর্তিত রাখলেও সেপ্টেম্বরের বৈঠকেই হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।

    মিৎসুবিশি ইউএফজে মরগ্যান স্ট্যানলি সিকিউরিটিজের প্রধান বন্ড কৌশলবিদ নাওমি মুগুরুমা বলেন, মিমুরা ও বেসেন্টের মন্তব্য ব্যাংক অব জাপানের কড়া নীতির সমর্থকদের জন্য ইতিবাচক বার্তা। সেপ্টেম্বরেই সুদহার বাড়ার সম্ভাবনা এখন অনেক বেশি।

    এ প্রত্যাশায় আজ দুই বছরের জাপানি সরকারি বন্ডের ইল্ড বেড়ে ১ দশমিক ৫৪৫ শতাংশে পৌঁছায়, যা ১৯৯৫ সালের পর সর্বোচ্চ।

    দীর্ঘদিন ধরে ইয়েনের দরপতন ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে জাপান। দুর্বল ইয়েনের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ এবং প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির জনপ্রিয়তার ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।

    এপ্রিলের শেষ থেকে মে মাসের শুরুতে জাপান এককভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করলেও তার প্রভাব ছিল অল্প সময়ের জন্য। জুনে বিওজে ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ সুদের হার নির্ধারণ করলেও ইয়েনে স্থায়ী শক্তি হয়ে ফেরেনি।

    শুক্রবারের যৌথ হস্তক্ষেপের আগের দিন নিউইয়র্কের বাজারে জাপান প্রায় ৫৮ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে ইয়েন কিনে থাকতে পারে। ব্যাংক অব জাপানের তথ্য থেকে এ ধারণা করা হচ্ছে।

    জাপান-যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ের আরেকটি ইঙ্গিত দিয়ে স্কট বেসেন্ট জানান, আগামী মাসগুলোয় প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের রেপো সুবিধার পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এর মাধ্যমে প্রয়োজনে জাপান সাময়িকভাবে ডলার তারল্য সংগ্রহ করতে পারবে।

    ২০২০ সালে কভিড-১৯ মহামারির সময় চালু হওয়া এ সুবিধা জাপানকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ড বিক্রি না করেই ডলারের তারল্য সংগ্রহের সুযোগ দেয়, যা বাজারে হস্তক্ষেপের সময় অর্থায়নের চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

    তবে অনেক বিশ্লেষকের মতে, যৌথ হস্তক্ষেপের প্রভাব থাকলেও ইয়েন দুর্বল হওয়ার মূল কারণগুলো এখনো রয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে জ্বালানির উচ্চ মূল্য এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সুদহারে বড় ব্যবধান।

    এনএলআই রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ সুশিয়োশি উয়েনো বলেন, যৌথ হস্তক্ষেপের ঘোষণার প্রভাব এককভাবে জাপানের পদক্ষেপের তুলনায় অনেক বেশি। তবে ইয়েন দুর্বল হওয়ার মৌলিক কারণগুলো বদলায়নি। তাই শুধু এ হস্তক্ষেপের কারণে ইয়েনের দর একমুখীভাবে বাড়তে থাকবে—এমনটি আশা করা ঠিক হবে না।