অর্থ ও বাণিজ্য

  • সিএনজি স্টেশনে গ্যাস-সংকট, ভোগান্তি অব্যাহত

    সিএনজি স্টেশনে গ্যাস-সংকট, ভোগান্তি অব্যাহত

    রাজধানীতে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে এখনও দীর্ঘ যানবাহনের সারি কাটেনি। পর্যাপ্ত চাপের অভাব এবং নির্ধারিত সময়ে গ্যাস না পাওয়ায় দিন-রাত ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে সিএনজি অটোরিকশা, বাস ও প্রাইভেট কার চালকদের।

    ফলে দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি নাগরিক জীবনে মারাত্মক চাপ তৈরি করেছে।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর মহাখালী, তেজগাঁও, কল্যাণপুর, শ্যামলী ও গাবতলী এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সংকট অব্যাহত রয়েছে। মাঝেমধ্যে গ্যাস আসলে স্টেশনগুলো যানবাহনে দিচ্ছেন, আবার চলে গেলে বসে থাকতে হচ্ছে। গতরাতে আসা গ্যাস প্রায় সকাল পর্যন্ত ছিল। কিন্তু সকালের পর অনেক স্টেশনে গ্যাস নেই।

    গত কয়েক সপ্তাহ ধরে টানা এ গ্যাসের সংকট চলছে। ভোরের আলো ফোটার আগেই গ্যাসের লাইনে এসে দাঁড়ান চালকরা, যা অনেক সময় দুপুর কিংবা বিকাল পর্যন্ত গড়ায়। চালকদের অভিযোগ, স্টেশনে গ্যাসের প্রেসার বা চাপ এতই কম যে, একটি গাড়িতে গ্যাস নিতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি সময় লাগছে। এতে করে সারাদিনের সিংহভাগ সময় লাইনেই কেটে যায়, যা তাদের দৈনিক আয়ে বড় ধরনের ধস নামিয়েছে।

    তেজগাঁও আকিজ সিএনজি পাম্পের বিক্রয়কর্মী তারেক বলেন, ‘‘রাত সাড়ে ৯ টার দিকে গ্যাসের সরবরাহ আসে। তখন আমরা গ্যাস দেওয়া শুরু করি। কিন্তু ভোর থেকে লাইনে আর কোনও গ্যাস নেই।’’

    চলমান এমন পরিস্থিতি ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাস ও সিএনজি অটোরিকশা আটকে থাকায় রাস্তায় গণপরিবহনের সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অফিস খোলা দিনগুলোতে যাওয়া-আসা এবং জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও যানবাহন না পেয়ে অনেকে হেঁটে বা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

    এদিকে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় এবং লাইনে স্বল্প চাপ থাকায় গ্রাহকদের দ্রুত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রেসার না থাকলে পাম্পের কমপ্রেসর চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, যার ফলে স্বাভাবিক সময়ে যে পরিমাণ গাড়িতে গ্যাস দেওয়া সম্ভব হতো, এখন তার অর্ধেক গাড়িতেও দেওয়া যাচ্ছে না।

    জ্বালানি সংকটের এই প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও পকেটে। চালক ও মালিক উভয় পক্ষই অতি দ্রুত সিএনজি স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত চাপসহ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

  • স্বর্ণের দাম ভরিতে কমেছে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা

    স্বর্ণের দাম ভরিতে কমেছে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি স্বর্ণালংকারের দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে।

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ মূল্য কার্যকর হয়েছে। এর আগে গতকাল একদিনেই প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার সকাল ৯টায় মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা। আগের মূল্য ছিল ২ লাখ ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।

    এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৪২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৪ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪৮ টাকা।

    স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা।

  • আ. লীগের আমলে অর্থ লোপাট, বিপাকে ২ কোটি আমানতকারী: গভর্নর

    আ. লীগের আমলে অর্থ লোপাট, বিপাকে ২ কোটি আমানতকারী: গভর্নর

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক খাতের এক-তৃতীয়াংশ অর্থ লোপাট হওয়ায় প্রায় ২ কোটি আমানতকারী বিপাকে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক আয়োজিত বাংলা কিউআর নিয়ে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    গভর্নর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়ে গেছে। ব্যাংকিং খাতের এক-তৃতীয়াংশ অর্থ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে যাকে খেলাপি ঋণ বলা হচ্ছে, সেটিকে তিনি প্রকৃতপক্ষে ‘চুরি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের এই পরিস্থিতির কারণে প্রায় ২ কোটি আমানতকারী ভোগান্তিতে পড়েছেন। এমন অবস্থায় ব্যাংকিং খাত সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা কঠিন। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের হার ৩৬ শতাংশ, যা এ খাতের জন্য বড় ধরনের সংকেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে ১৮ মাসের বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে গভর্নর বলেন, প্রথম ছয় মাসে বুলেট পেমেন্টের মাধ্যমে ঋণগ্রহীতাদের এক্সিটের সুযোগ দেওয়া হবে। পরবর্তী এক বছরে ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট আইন ও অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন দুটি আগামী সংসদ অধিবেশনেই পাস হতে পারে বলে জানান তিনি।

    বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার নতুন প্যাকেজ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।

    এ সময় জুলাই যোদ্ধাদের সহায়তায় দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৫ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

  • পোশাক শিল্পে গ্যাস সংকট, আন্তর্জাতিক বাজার হারাতে পারে বাংলাদেশ

    পোশাক শিল্পে গ্যাস সংকট, আন্তর্জাতিক বাজার হারাতে পারে বাংলাদেশ

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প আবারও এক কঠিন পরীক্ষার মুখে। বৈশ্বিক বাজারে দীর্ঘদিনের প্রতিযোগিতা, মূল্যচাপ, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্রেতাদের কঠোর কমপ্লায়েন্সের চাপ সামলে যখন নতুন প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল দেশের সবচেয়ে বড় রফতানি খাত, ঠিক তখনই তীব্র গ্যাস সংকট শিল্পকে নতুন এক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

    শিল্প উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা না গেলে ক্ষতি শুধু কয়েক সপ্তাহের উৎপাদন বা কিছু রফতানি চালানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। সময়মতো পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা নষ্ট হতে পারে, আর সেই আস্থা হারালে বহু বছরের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা বাজারের একটি অংশ প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    বর্তমানে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে অনেক কারখানায় উৎপাদন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। কোথাও কোথাও উৎপাদন আরও বেশি হারে কমেছে, আবার কিছু ডাইং ও প্রসেসিং ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধও রাখতে হয়েছে। বিশেষ করে গাজীপুর, সাভার, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের শিল্পকারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে তুলনামূলকভাবে পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয়।

    আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের উদ্বেগ বাড়ছে

    বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও রিটেইলার তৈরি পোশাক সংগ্রহ করে। এইচঅ্যান্ডএম, ইন্ডিটেক্স, মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার, প্রাইমার্ক, গ্যাপ, ওয়ালমার্ট, নাইকি, লেভিস, পিভিএইচ, নেক্সট, ম্যাঙ্গো, টার্গেট, আমেরিকান ঈগলসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর অনেকেই বর্তমানে বাংলাদেশের উৎপাদন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

    গ্যাস সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে পণ্য উৎপাদন ও শিপমেন্ট সম্ভব হবে কি না—এ প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের প্রধান উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। অনেক ক্রেতা ইতোমধ্যে কারখানাগুলোর কাছে ই-মেইলে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে চেয়েছেন। কেউ কেউ উৎপাদন সক্ষমতার তথ্য, বিদ্যুৎ ও জেনারেটর ব্যবহারের রেকর্ড সংগ্রহ করছেন। এমনকি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কমপ্লায়েন্স টিম সরাসরি কারখানা পরিদর্শন করেও বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করছে।

    শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্রেতারা এখন শুধু মৌখিক আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন। তারা জানতে চাইছেন, সংকট কতদিন থাকবে, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা পরিকল্পনা কী এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    বিজিএমইএ ও বায়ার্স ফোরামের জরুরি বৈঠক

    এই প্রেক্ষাপটে ঢাকায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সংগঠন বায়ার্স ফোরাম বাংলাদেশ–এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

    বৈঠকে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে জানানো হয়, মহেশখালীর বিকল ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) আগামী ৬ থেকে ৭ আগস্টের মধ্যে মেরামত সম্পন্ন হতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে গ্যাস সরবরাহের উন্নতি শুরু হবে এবং ৮ আগস্টের পর শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতির উন্নতির আশা করা হচ্ছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ১৪ আগস্টের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ অনেকটাই স্বাভাবিক হতে পারে।

    বিজিএমইএ আরও অনুরোধ জানায়, যেসব কারখানা এই সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এক থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত শিপমেন্ট বিলম্বের সুযোগ যেন ক্রেতারা কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে বিবেচনা করেন।

    সবচেয়ে বড় সংকট উৎপাদন নয়, আস্থার

    বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেছেন, গ্যাস সংকটের কারণে পোশাক কারখানাগুলোর উৎপাদন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গেছে। কোথাও উৎপাদন ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

    তার মতে, আর্থিক ক্ষতির চেয়েও বড় উদ্বেগ হলো আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখা।
    কারণ, অতিরিক্ত উৎপাদন ব্যয় কোনো না কোনোভাবে সমন্বয় করা সম্ভব হলেও সময়মতো পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হলে ক্রেতারা সহজেই বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারেন। একবার কোনো ব্র্যান্ড অন্য দেশে সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুললে সেই বাজার পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

    ডাইং ও ফিনিশিং খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত

    গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় আঘাত লেগেছে ডাইং, ওয়াশিং ও ফিনিশিং খাতে। এই প্রক্রিয়াগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চচাপের গ্যাস অপরিহার্য। কিন্তু অনেক শিল্পাঞ্চলে যেখানে অন্তত ১৫ পিএসআই চাপ প্রয়োজন, সেখানে গ্যাসের চাপ নেমে এসেছে ১ থেকে ৩ পিএসআই, অনেক সময় শূন্যের কাছাকাছি।

    ফলে বয়লার সচল রাখা যাচ্ছে না, ডাবল ডাইং, কমপ্যাক্টিং, ফিনিশিং ও স্টিমিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন ধাপ ব্যাহত হচ্ছে। এতে আধা-প্রস্তুত কাপড় জমে যাচ্ছে, উৎপাদন চক্র দীর্ঘ হচ্ছে এবং পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা ধীর হয়ে পড়ছে।

    শিল্প উদ্যোক্তাদের ভাষায়, শুধু সেলাই কারখানা সচল থাকলেই হবে না; ডাইং ও ফিনিশিং বন্ধ থাকলে শেষ পর্যন্ত শিপমেন্ট সময়মতো দেওয়া সম্ভব নয়।

    বিকল্প জ্বালানির খরচ বাড়াচ্ছে উৎপাদন ব্যয়

    গ্যাসের অভাবে অনেক কারখানাকে ডিজেলচালিত জেনারেটর, এলপিজি বা সিএনজির মতো ব্যয়বহুল বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
    এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের দাম আগেই নির্ধারিত থাকে। ফলে এই অতিরিক্ত ব্যয় উদ্যোক্তাদেরই বহন করতে হচ্ছে, যা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    নারায়ণগঞ্জে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ

    নারায়ণগঞ্জের পোশাক ও নিটওয়্যার শিল্পে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, জেলার প্রায় ১ হাজারের বেশি রফতানিমুখী কারখানা গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হতে পারছে না।

    অনেক ডাইং কারখানা কার্যত বন্ধ। অনেক প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমে গেছে। কিছু কারখানায় মাত্র কয়েক ঘণ্টা উৎপাদন চালানো সম্ভব হচ্ছে।

    বিকেএমইএর নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে আরও বহু ডাইং কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে শুধু উৎপাদন নয়, হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

    আন্তর্জাতিক বাজার হারানোর বাস্তব ঝুঁকি

    বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক পোশাক বাজারে এখন প্রতিযোগিতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।ভিয়েতনাম, ভারত, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো নতুন ক্রয়াদেশ আকর্ষণে সক্রিয়। ফলে বাংলাদেশ যদি ধারাবাহিকভাবে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারে, তাহলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকতে পারে।

    পোশাক শিল্পে একটি অর্ডার হারানো মানেই শুধু একটি চালান হারানো নয়; অনেক ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্কও ঝুঁকির মুখে পড়ে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন শুধু কম দামের পণ্য চান না; তারা নির্ভরযোগ্য সরবরাহ, সময়নিষ্ঠ শিপমেন্ট এবং স্থিতিশীল উৎপাদন পরিবেশকে সমান গুরুত্ব দেন। তাই জ্বালানি নিরাপত্তা এখন বাংলাদেশের রফতানি সক্ষমতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচকে পরিণত হয়েছে।

    বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বর্তমানে পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় সংকট উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখা। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রধান শক্তি হলো নির্ধারিত সময়ে মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহ করার সক্ষমতা। গ্যাস সংকটের কারণে যদি সেই সক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে এর প্রভাব কয়েক সপ্তাহের উৎপাদন ক্ষতির চেয়েও অনেক বেশি হবে।

    তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো এখন তাদের সরবরাহ ব্যবস্থায় ঝুঁকি কমানোর কৌশল অনুসরণ করছে। কোনও একটি দেশে উৎপাদনে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে তারা খুব দ্রুত বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ভিয়েতনাম, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া কিংবা পাকিস্তানের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো সেই সুযোগ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ফলে সময়মতো শিপমেন্ট দিতে না পারলে শুধু একটি অর্ডার নয়, ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্কও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

    মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা শুধু কম দামের পণ্য খোঁজেন না; তারা উৎপাদনের ধারাবাহিকতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সময়নিষ্ঠ ডেলিভারিকে সমান গুরুত্ব দেন। তাই গ্যাস সংকটকে শুধু জ্বালানি সমস্যার দৃষ্টিতে দেখলে হবে না। এটি এখন বাংলাদেশের রফতানি প্রতিযোগিতা, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে দেশের বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

    তিনি আরও বলেন, স্বল্পমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোকে সময়মতো গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে নিয়মিত ও স্বচ্ছ যোগাযোগ বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে নতুন এলএনজি অবকাঠামো, স্থলভিত্তিক গ্যাস সংরক্ষণ ব্যবস্থা, জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ বিশ্ববাজারে আস্থা হারানো খুব সহজ, কিন্তু সেই আস্থা পুনরুদ্ধার করতে অনেক বছর সময় লাগে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে তাই জ্বালানি নিরাপত্তাকে এখন জাতীয় অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    দীর্ঘমেয়াদি সমাধান ছাড়া ঝুঁকি কাটবে না

    শিল্পমালিকদের মতে, সাময়িকভাবে এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের মাধ্যমে বর্তমান সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী সমাধান জরুরি।

    তারা নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল দ্রুত স্থাপন, স্থলভিত্তিক এলএনজি সংরক্ষণাগার নির্মাণ, গ্যাস সরবরাহ অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।

    তাদের মতে, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প শুধু দেশের প্রধান রফতানি খাত নয়; এটি কোটি মানুষের কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম ভিত্তি। সেই খাত যদি জ্বালানি অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা হারাতে শুরু করে, তাহলে এর প্রভাব শুধু শিল্পেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; পুরো অর্থনীতির ওপরই তার দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    বর্তমান সংকট তাই কেবল একটি জ্বালানি সমস্যা নয়; এটি বাংলাদেশের রফতানি সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক সুনাম এবং বৈশ্বিক বাজারে অবস্থান ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এখন দ্রুত, কার্যকর ও টেকসই সমাধানই নির্ধারণ করবে—বাংলাদেশ বিশ্ব পোশাক বাজারে তার শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পারবে, নাকি দীর্ঘদিনের অর্জিত বাজারের একটি অংশ প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে হারাতে শুরু করবে।

  • সংস্কার চলছে, সংকট কাটেনি ব্যাংক খাতে

    সংস্কার চলছে, সংকট কাটেনি ব্যাংক খাতে

    ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ব্যাংক খাত জিম্মি ছিল কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর হাতে। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দুই বছর এসব শিল্পগোষ্ঠীর ব্যাংকগুলো থেকে অর্থ লুটপাটের তীব্রতা আরো বেড়ে যায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দেশের ব্যাংক খাতে সংস্কার শুরু করে। সেই ধারাবাহিকতা এখনো চলমান আছে।

    গত দুই বছরে খেলাপি ঋণ কমাতে নীতি সহায়তা, দখল হওয়া ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন করার পাশাপাশি দুর্বল পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একইসঙ্গে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার কার্যক্রমেও হাত দিয়েছে।

    নানা সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকে সৃষ্ট খেলাপি ঋণ, মূলধন সংকট, প্রভিশন ঘাটতি ও তারল্য সংকটের ভার এখনো বহন করছে ব্যাংক খাত। তবে গত দুই বছরে রিজার্ভ, ডলার বাজার স্থিতিশীল, রেমিট্যান্স ও আমানত প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে।

    ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত দেড় দশকে রাজনৈতিক প্রভাব, নিয়ন্ত্রণহীন ঋণ বিতরণ এবং অর্থ পাচারের মাধ্যমে ব্যাংক খাতে যে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা অল্প সময়ে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের শুরু করা সংস্কার কার্যক্রম বর্তমান সরকারও অব্যাহত রেখেছে। তবে সংকটের গভীরতা এত বেশি যে এ খাত ঘুরে দাঁড়াতে আরো কয়েক বছর লেগে যাবে। যদি সংস্কার কার্যক্রম চলমান রাখা না যায় তাহলে খাতটি আরো গভীর সংকটে পড়বে।

    জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের ব্যাংক খাত ছিল তীব্র সংকটে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত কমছিল, ডলারের বাজার ছিল অস্থির, উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ ছিল অর্থনীতিতে এবং কয়েক ডজন ব্যাংক তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতেও হিমশিম খাচ্ছিল।

    পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক একের পর এক সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেয়। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু, খেলাপি ঋণ তুলে আনা এবং খেলাপি নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন, দুর্বল ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন প্রস্তাব, দেউলিয়া আইন সংস্কার, অ্যাসেস্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন প্রস্তাব এবং পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমান সরকারও এসব সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

    রিজার্ভ বেড়েছে ১১ বিলিয়ন

    গত দুই বছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে বাজারে ডলারের স্থিতিশীলতা ফিরেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ২৫ বিলিয়ন ডলার। গত জুলাই শেষে তা বেড়ে হয়েছে ৩৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে রিজার্ভ বেড়েছে ১১ বিলিয়ন ডলার।

    এ সময় ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় ডলার বাজার অস্থিতিশীলতা শুরু হয়। অস্থিতিশীল এমন পর্যায় পৌঁছায় যে আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করতে হয়েছিল। আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ডলার বিক্রি করতে হয়। এসব কারণে রিজার্ভের দ্রুত পতন হয়।

    তবে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৫ সালের ১৪ মে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের শর্তানুযায়ী বাজারভিত্তিক মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা চালু করেছে। এই পদক্ষেপ বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে স্থিতিশীল ফেরে। খোলাবাজারের দামের সঙ্গে অফিসিয়াল দামের পার্থক্য কমে আসায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক ঋণদাতারা অর্থছাড় করতে শুরু করেছে।

    রেমিট্যান্স বৃদ্ধি

    গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রতি মাসে যেটি ২ বিলিয়ন ডলারের আশেপাশে ছিল। এখন তা আড়াই থেকে তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

    বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে মোট ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছিল, যা তার আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৬ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছিল ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে আসে।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ থেকে টাকা পাচারের পথ অনেকটাই সংকুচিত হয়ে এসেছে। এ কারণে বিদেশে হুন্ডি কারবারিদের চাহিদাও কমেছে। কালোবাজারে চাহিদা কমলে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ে। বর্তমানে ব্যাংক খাতে রেমিট্যান্স প্রবাহে যে উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে, এটি তারই প্রভাব।

    আমানতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি

    আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে ব্যাংকগুলোতে আমানত রাখার প্রবণতা কমে যায়। ওই সময়ে আমানতের প্রবৃদ্ধি ৭ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যেই ছিল। সরকার পরিবর্তনের পর ব্যাংক খাত সংসারের উদ্যোগের ফলে ব্যাংক খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধি বেড়ে সাড়ে ১১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির সুবিধা সব ব্যাংক সমানভাবে পায়নি। তুলনামূলক শক্তিশালী ব্যাংকগুলোতে আমানত বাড়লেও দুর্বল ব্যাংকগুলো এখনো দৈনিক জমার অর্থ দিয়ে দৈনিক উত্তোলনের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। ফলে তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংক থেকে ধার করে তারল্য চাহিদা মেটাতে হচ্ছে।

    মূল্যস্ফীতি কমেছে

    আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ বছরগুলোতে দেশে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল, যার পেছনে অতিরিক্ত টাকা ছাপানো, ডলারের সংকট এবং বড় অঙ্কের ব্যাংক ঋণ প্রধান ভূমিকা রেখেছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। চলতি বছরের জুনে তা কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমেছে। সুদহার কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পলিসি রেট কয়েক ধাপে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করেছে। এতে ব্যাংক ঋণের সুদহারও ঊর্ধ্বমুখী। ফলে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি সর্বনিম্ন।

    খেলাপি ঋণ ঊর্ধ্বমুখী

    ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখনও খেলাপি ঋণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল দুই লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে প্রভিশন ঘাটতি ছিল ২৪ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় ব্যাংক খাতের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা আড়াল করা হয়েছিল। খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি এবং জালিয়াতির প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

    অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকগুলোর প্রকৃত আর্থিক চিত্র প্রকাশ হতে শুরু করে। এর ফলে এতদিন গোপন থাকা বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতির তথ্য সামনে আসে। চলতি বছরের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায়। একই সময়ে প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে হয়েছে দুই লাখ ৫ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা।

    এদিকে মূলধন পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বিপরীতে ব্যাংক খাতের মূলধন পর্যাপ্ততার হার গত বছর ঋণাত্মক দুই দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমে গেছে। যেখানে আন্তর্জাতিকভাবে চর্চিত ব্যাসেল-৩ নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর সিআরএআর সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ থাকার কথা। কার্যকর অর্থনীতির কোনো দেশের ব্যাংক খাতের গড় মূলধন ঋণাত্মক ধারায় চলে যাওয়াকে আধুনিক বিশ্বের বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, খেলাপি কমাতে বিশেষ নীতি সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। এক শতাংশ অর্থ দিয়ে গ্রাহকরা ঋণ পুনঃতফসিল করতে পারে। একই সঙ্গে সুদ মওকুফ করে এক্সিট সুবিধাও দেওয়া হয়। এসব সুবিধা দেওয়া হলেও খেলাপি ঋণ প্রত্যাশিত হারে কমছে না। কারণ বড় অংশের অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে ঋণ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে। খেলাপি ঋণের কারণে প্রভিশন ও মূলধন ঘাটতি বাড়ছে।

    সমস্যাগ্রস্ত ঋণ বেড়েছে

    ব্যাংক খাতে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ আরো বেড়েছে। গত বছর রেকর্ড এক লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিলের পরও বেশিরভাগ সূচকের অবনতি হয়েছে। বছর শেষে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকায়, যা মোট ঋণের ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এক বছরে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বেড়েছে তিন লাখ ৩১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকায়। এর মধ্যে খেলাপি হিসেবে দেখানো হয় পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। পুনঃতফসিলের পর অনাদায়ী রয়েছে চার লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। আর অবলোপন করা অনাদায়ী স্থিতি রয়েছে ৮৩ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা।

    এক বছর আগে মোট ঋণ স্থিতি ছিল ১৭ লাখ ১১ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে পুনঃতফসিল করা অনাদায়ী ঋণ তিন লাখ ৪৮ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত ছিল তিন লাখ ৪৬ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। এছাড়া অবলোপন করে অনাদায়ী ঋণ স্থিতি বেড়ে ২০২৪ সাল শেষে ৬২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ওই সময় পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণের যা ছিল ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা বা ৪৪ দশমিক ২১ শতাংশ।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্দশাগ্রস্ত এসব ঋণের বড় অংশই আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সৃষ্ট। তবে ওই সময় এসব ঋণ কৌশলে নিয়মিত দেখানো হতো। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে প্রকৃত চিত্র দেখাতে শুরু করে। এদিকে অনিয়ম-জালিয়াতিতে সম্পৃক্ত প্রভাবশালী ব্যবসায়ী অনেকেই পালিয়েছেন। কেউ কেউ কারাগারে। ব্যবসায়ীদের খুশি করতে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগ থেকে একের পর এক সুবিধা দেওয়া শুরু হয়। কখনো নামমাত্র ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল, কখনো দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় ১২ বছরের জন্য ঋণ নবায়ন কিংবা পুনর্গঠন করা হয়। তবে সেসব ঋণের বড় অংশই এখন খেলাপি হওয়ায় পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। অবশ্য অস্বাভাবিক খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পর গত বছর শেষদিকে বিশেষ সুবিধায় ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়া হয়।

    সংস্কার

    ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি কমানো, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনরুদ্ধারে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। জানা গেছে, প্রচলিত কমপ্লায়েন্সভিত্তিক তদারকির পরিবর্তে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা, যাতে আগেভাগেই দুর্বলতা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। একই সঙ্গে সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন, দুর্বল পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ বা অবসানের জন্য ব্যাংক রেজল্যুশন ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এছাড়া দুর্বল ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নিয়ন্ত্রক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, গত দুই বছরে ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে খেলাপি ঋণ আদায়, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, মূলধন ঘাটতি পূরণ এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন ছাড়া এই খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংকট কাটানো সম্ভব হবে না। তাদের মতে, গণঅভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকাই এখন ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

  • আগস্টের প্রথম ৫ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৬০ কোটি ২০ লাখ ডলার

    আগস্টের প্রথম ৫ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৬০ কোটি ২০ লাখ ডলার

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাসের ধারাবাহিকতায় আগস্টের প্রথম পাঁচ দিনেও প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। এ সময় দেশে ৬০ কোটি ২০ লাখ (৬০২ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৩ দশমিক সাত শতাংশ বেশি।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এ কথা জানানো হয়।

    এদিকে, ৪ ও ৫ আগস্ট এই দুই দিনেই প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে তিন দশমিক ৪৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল দুই দশমিক ৮০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত এক বছরের ব্যবধানে মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ ২৩ দশমিক তিন শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় পাঠানোর প্রবণতা অব্যাহত থাকায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ আরো শক্তিশালী হচ্ছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

  • বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া বাণিজ্যে নতুন গতি

    বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া বাণিজ্যে নতুন গতি

    বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষে বাণিজ্য আলোচনা (Trade Negotiation) সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণা সহযোগিতা, শিক্ষা, কৃষি, পশুসম্পদ এবং বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিশেষ করে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO)-এর আইন ও বাণিজ্য আলোচনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে একটি গবেষণা ও স্টাডি সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক পর্যায়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়নে প্রকল্প পরিচালকদের (Project Directors) দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    জবাবে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল জানান, এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে সহযোগিতা করতে অস্ট্রেলিয়া আগ্রহী। তিনি বলেন, অতীতে বিচ্ছিন্নভাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এবার আরও পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এসব কর্মসূচিতে বাণিজ্য আলোচনা, আন্তর্জাতিক চুক্তির আইনগত বিষয় এবং নীতিনির্ধারণী দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাকেও এ উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।

    আলোচনায় বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (LDC) মর্যাদা থেকে উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্য সুবিধা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ বাজারে প্রবেশাধিকারের বিষয়েও মতবিনিময় হয়। উভয় পক্ষই এ বিষয়ে নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষা, ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগের মতো খাতে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, অস্ট্রেলিয়ার একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা করছে, যা দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া থেকে উচ্চমানের গরুর মাংস বাংলাদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা এবং এ লক্ষ্যে হালাল সার্টিফিকেশন, পশুর ট্রেসেবিলিটি (Traceability) ও আধুনিক লাইভস্টক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষই বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ককে আরও বহুমাত্রিক, টেকসই ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • শেয়ার কেলেঙ্কারির মামলায় সাকিবসহ ১৫ জনের নামে চার্জশিট শিগগির

    শেয়ার কেলেঙ্কারির মামলায় সাকিবসহ ১৫ জনের নামে চার্জশিট শিগগির

    শেয়ারবাজারে কারসাজি ও জালিয়াতির মাধ্যমে ২৫৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের নামে দ্রুতই চার্জশিট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

    বৃহস্পতিবার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম।

    তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে কারসাজির মাধ্যমে ২৫৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের নামে দ্রুতই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

    এর আগে, ২০২৫ সালের ১৭ জুন দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

  • বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে সৌদি আরবের বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

    বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ খাতে সৌদি বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ খাতে সৌদি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ দুই দেশের জন্যই লাভজনক হবে।

    মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিদ এল-খেরেইজির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, বৈঠকে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এল-খেরেইজি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারে সৌদি আরব আন্তরিকভাবে আগ্রহী।

    তিনি বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সৌদি সরকারের আগ্রহের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

    এছাড়া সৌদি আরবের উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

    শাহরিয়ার পামির জানান, সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। বর্তমান সরকার সৌদি আরবের সঙ্গে একটি কৌশলগত, বহুমাত্রিক ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায়।

    জবাবে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, সি-ফুড, ট্রপিক্যাল ফুড, কৃষিভিত্তিক শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী।

    বৈঠকের শেষে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান।

    প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে সৌদি আরব সফরের আশা প্রকাশ করেন বলে সহকারী প্রেস সচিব জানান।

    সৌদি প্রতিনিধি দলে ছিলেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুলাইমান বিন আবদুল আজিজ আল-ইয়াহইয়া, কনস্যুলার বিষয়ক উপমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আল-শাম্মারি, মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ইসা, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন আবিয়াহ এবং দেশটির পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

    বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

  • ৮ ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিমে মাত্রাতিরিক্ত মার্কারি, মারাত্মক ঝুঁকিতে কিডনি-স্নায়ুতন্ত্র ও অনাগত শিশু

    ৮ ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিমে মাত্রাতিরিক্ত মার্কারি, মারাত্মক ঝুঁকিতে কিডনি-স্নায়ুতন্ত্র ও অনাগত শিশু

    দেশের বাজারে অবৈধভাবে বিক্রি হওয়া একাধিক ত্বক ফর্সাকারী (ফেয়ারনেস) ক্রিমে ভয়াবহ মাত্রার বিষাক্ত ধাতু মার্কারির উপস্থিতি পেয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। সংস্থাটির পরীক্ষায় ৮টি ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিমে বাংলাদেশ মানদণ্ডে অনুমোদিত মাত্রার বহু গুণ বেশি মার্কারি শনাক্ত হয়েছে। এসব প্রসাধনী বিক্রি, বিতরণ, মজুদ ও ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএসটিআই।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই জানায়, বাজার থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করে এসব উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ মান (বিডিএস-১৩৮২) অনুযায়ী প্রসাধনীতে মার্কারির সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা ১.০০ পিপিএম হলেও পরীক্ষায় কয়েকটি পণ্যে এর চেয়ে শতগুণেরও বেশি মার্কারি পাওয়া গেছে।

    বিএসটিআই জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাজারে বিভিন্ন বিদেশি ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমের বিক্রি বেড়েছে। এসব পণ্যের বড় একটি অংশ বৈধভাবে আমদানি না হয়ে যাত্রীদের লাগেজ কিংবা চোরাইপথে দেশে প্রবেশ করছে। ফলে এসব পণ্যের মান ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের সুযোগ থাকছে না। এ অবস্থায় বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা চালায় সংস্থাটি।

    পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, পাকিস্তানের এস.জে. এন্টারপ্রাইজের চাঁদনি হোয়াটেনিং ক্রিমে ১২০.৩৯ পিপিএম মার্কারি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পাকিস্তানের ক্রিয়েটিভ কসমেটিকসের ডিউ বিউটি ক্রিমে ১২৩.৩৭ পিপিএম, নুর এন্টারপ্রাইজের নুর হোয়াটেনিং ক্রিমে ৮২.৭৬ পিপিএম, লোয়া ইন্টারন্যাশনালের নাভিয়া হোয়াটেনিং ক্রিমে ৭৯.৭০ পিপিএম এবং নাভিয়া বিউটি ক্রিমে ৫৯.৮২ পিপিএম মার্কারি শনাক্ত হয়েছে।

    এ ছাড়া পাকিস্তানের কিউসিআই কোম্পানির নিউ ফেস বিউটি ক্রিমে ৪৪.৭২ পিপিএম, গৌরি কসমেটিকস প্রাইভেট লিমিটেডের গৌরি বিউটি ক্রিমে ৫৬.৯৩ পিপিএম এবং চীনের জিএলডিজেবি (হারবিন) কসমেটিকস কোম্পানির ন্যাচারাল পার্ল স্কিন ক্রিমে ৬৭.৪৯ পিপিএম মার্কারি পাওয়া গেছে।

    বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, ‘‘জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনও ধরনের আপসের সুযোগ নেই। ভোক্তার জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাই বিএসটিআইয়ের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত প্রসাধনী উৎপাদন, আমদানি কিংবা বাজারজাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

    তিনি জানান, বাজারে নিরাপদ পণ্য নিশ্চিত করতে বিএসটিআই নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ, বাজার তদারকি, সার্ভিল্যান্স এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

    একই সঙ্গে ভোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘অজ্ঞাত উৎস বা অনুমোদনহীন ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম কেনা ও ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রসাধনী কেনার আগে অবশ্যই বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ও পণ্যের বৈধতা যাচাই করতে হবে। কোনও সন্দেহজনক পণ্য সম্পর্কে তথ্য থাকলে তা বিএসটিআইকে জানানোরও আহ্বান জানান তিনি।

    কেনবিপজ্জনকমার্কারি?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কারি একটি অত্যন্ত বিষাক্ত ভারী ধাতু। দীর্ঘদিন মার্কারিযুক্ত স্কিন ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে ত্বক অস্বাভাবিকভাবে পাতলা হয়ে যায়, স্থায়ী দাগ, অ্যালার্জি ও বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ দেখা দিতে পারে।

    শুধু ত্বকই নয়, শরীরে ধীরে ধীরে জমতে থাকা মার্কারি কিডনির মারাত্মক ক্ষতি, স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতা এবং স্মৃতিশক্তি ও শারীরিক সক্ষমতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এই বিষাক্ত উপাদান অনাগত শিশুর স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত করার ঝুঁকি তৈরি করে।

    এ কারণে বিএসটিআই সংশ্লিষ্ট ৮টি ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিম ব্যবহার না করার পাশাপাশি অবৈধভাবে আমদানি হওয়া প্রসাধনী কেনা থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।