অর্থ ও বাণিজ্য

  • ৪২ প্রতিষ্ঠানের বিদেশি সম্পদ খুঁজছে ৮ আইনি প্রতিষ্ঠান

    ৪২ প্রতিষ্ঠানের বিদেশি সম্পদ খুঁজছে ৮ আইনি প্রতিষ্ঠান

    শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর পর এবার ২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে এমন ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে বিদেশে তাদের সম্পদ অনুসন্ধান করছে আটটি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান। এসব সম্পদ শনাক্তের পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়ায় জব্দ বা অ্যাটাচ করে অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশে থাকা খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের সম্পদের অবস্থান, ধরন ও পরিমাণ শনাক্ত করছে এসব প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে সম্পদ উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

    এ কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রান্ট থর্নটন, আরআই কনসোর্টিয়াম, বেকার ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড পিডব্লিউসি, ডিএলএ পাইপার অ্যান্ড ক্রল, ইওয়াই অ্যান্ড ডেন্টনস, রহমান রাভেল্লি অ্যান্ড ইন্টারপাথ, বিসিজি অ্যান্ড এইচএইচআর এবং অ্যানিমাস অ্যাসোসিয়েটস।

    জানা গেছে, বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো অগ্রিম ফি বা খরচ নেবে না। তারা বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধার করতে পারলে উদ্ধারকৃত অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে পাবে। অর্থাৎ, ‘নো উইন, নো পে’ ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করবে।

    প্রাথমিকভাবে যেসব দেশে পাচার করা অর্থ বা সম্পদ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, সিঙ্গাপুর, বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড, হংকং, চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া।

    বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আলোচ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে বিদেশে থাকা সম্পদের অবস্থান, প্রকৃতি ও পরিমাণ শনাক্ত করছে। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

    কোনো সম্পদ শনাক্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জব্দ বা অ্যাটাচ করা সম্ভব হলে পরবর্তীতে তা বিক্রি বা নিষ্পত্তির মাধ্যমে পাওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে ব্যবহার করা হবে।

    এর আগে প্রথম পর্যায়ে শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০ গ্রুপের পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ কাজে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট ইউনিট এবং আয়কর বিভাগের সংশ্লিষ্ট ইউনিট কাজ করছে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোও বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিচ্ছে।

  • জাপানে কদর বাড়ছে ব্যবহৃত স্মার্টফোনের

    জাপানে কদর বাড়ছে ব্যবহৃত স্মার্টফোনের

    এর সরাসরি প্রভাবে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ব্যবহৃত বা পুরনো (সেকেন্ড হ্যান্ড) ফোনের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের জনপ্রিয় আইফোনের দাম বাড়ার পরই দেশটির স্মার্টফোন বাজারে ক্রেতাদের কেনাকাটার এ নতুন প্রবণতা স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। খবর দ্য জাপান টাইমস।

    গত ১৮ জুলাই জাপানের বাজারে আইফোনের সব মডেলের দাম একযোগে বাড়ানোর ঘোষণা দেয় অ্যাপল। এ ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দেশটির ব্যবহৃত স্মার্টফোনের জনপ্রিয় অনলাইন প্লাটফর্ম নিকোসুমায় অর্ডার অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। প্লাটফর্মটির তথ্য অনুযায়ী, দাম বাড়ানোর ঘোষণার পরদিন দুপুর নাগাদ তাদের ব্যবহৃত ফোন বিক্রির পরিমাণ আগের দিন এবং আগের সপ্তাহের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ে।

    জাপানের খুচরা বাজারে কোনো একটি সুনির্দিষ্ট পণ্যের কারণে কেনাকাটার এমন আকস্মিক ঊর্ধ্বগতিকে বেশ বিরল ঘটনা হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা। টোকিওভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ও আইতোচু করপোরেশনের সহযোগী সংস্থা বিলংয়ের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা ইউ তোমিতা বলেন, ‘জাপানি বাজারে এত কম সময়ে পুরনো ফোনের চাহিদা এভাবে বেড়ে যাওয়ার ঘটনা খুবই ব্যতিক্রমী। চার বছর আগে অ্যাপল যখন প্রথমবার আইফোনের দাম হুট করে অনেকটা বাড়িয়েছিল, ঠিক তখনই কেবল এমন চিত্র দেখা গিয়েছিল।’

    অনলাইন বাজারের এ তীব্র কেনাকাটার জোয়ার কেবল সাময়িক কোনো বিষয় নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। নতুন প্রযুক্তির ডিভাইসের আকাশছোঁয়া দাম সাধারণ মানুষকে তুলনামূলক সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে পুরনো বা রিফার্বিশড ফোনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অ্যাপল তাদের আইফোনের দাম মডেলভেদে ৮-২৫ হাজার ইয়েন পর্যন্ত বাড়িয়েছে। ফলে বর্তমানে তাদের সবচেয়ে সাশ্রয়ী সংস্করণ আইফোন ১৭ই-এর দামও ১ লাখ ইয়েন অতিক্রম করেছে।

    প্রাথমিক দাম বাড়ার সংবাদের ধাক্কা কিছুটা সামলে উঠলেও অনলাইন প্লাটফর্মগুলোয় পুরনো ফোন বিক্রির গতি এখনো বেশ ঊর্ধ্বমুখী। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা এতদিন নতুন নাকি পুরনো ফোন কিনবেন, তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন, দাম বাড়ার খবরে তারা চটজলদি পুরনো ফোন কেনার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এছাড়া নতুন ফোনের দাম বাড়লে সেকেন্ড হ্যান্ড ফোনের বাজারেও দাম বেড়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেও অনেক গ্রাহক তড়িঘড়ি করে ব্যবহৃত ফোন কিনছেন।

    অর্থনীতিবিদ ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, জাপানি ইয়েনের রেকর্ড দরপতনই মূলত এ মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। গত মাসের বড় একটা সময়জুড়ে প্রতি ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় হার ১৬২ অতিক্রম করেছিল, যা ১৯৮৬ সালের পর সর্বনিম্ন। ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর এবারই প্রথম জাপানের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে ফোনের দাম বাড়াল অ্যাপল। তখন প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১৩৫-১৩৯ ইয়েনের মধ্যে।

    টোকিওভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমএম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্যানুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বরে আইফোন ১৭ সিরিজ উন্মোচনের পর বিশ্বের মধ্যে কেবল জাপান ও তুরস্কেই ফোনগুলোর দাম বাড়ানো হয়েছে। সংস্থাটির প্রধান গবেষক কেনসুকে হারা জানান, এক বছরের ব্যবধানে ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েন এবং তুর্কি লিরার দর ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। মুদ্রার এ বড় ধরনের দরপতনই কোম্পানিকে এসব দেশে পণ্যের দাম বাড়াতে বাধ্য করেছে।

    জাপানের স্মার্টফোন বাজারে আইফোনের প্রভাব বেশ সুদৃঢ়। টানা ১৫ বছর ধরে দেশটির সবচেয়ে বিক্রি হওয়া ফোনের তালিকার শীর্ষে রয়েছে মার্কিন ব্র্যান্ডটি। ২০২৫ অর্থবছরে জাপানে অ্যাপলের মোট ফোন সরবরাহ আগের বছরের চেয়ে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার ইউনিটে পৌঁছায়। এর মাধ্যমে দেশটির মোট স্মার্টফোন বাজারের ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ হিস্যাই অ্যাপলের দখলে ছিল।

    উদ্বেগের বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক বাজারে মেমোরি চিপ ও প্রসেসরের উৎপাদন খরচ যেভাবে বাড়ছে, সে তুলনায় কেবল মুদ্রার বিনিময় হার হিসাব করে দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে আগামী দিনগুলোয় চিপের দাম না কমলে আইফোনের মূল্য আরো এক দফা বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। এটি ঘটলে দেশের সাধারণ ক্রেতারা নতুন ডিভাইস ছেড়ে আরো বেশি মাত্রায় বাজেটবান্ধব সেকেন্ড হ্যান্ড ফোনের দিকে ঝুঁকবেন।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জাপানে ব্যবহৃত ফোনের বাজার টানা সাত বছর ধরে বাড়ছে। ২০২৫ অর্থবছরে দেশটিতে প্রায় ৩৬ লাখ ১০ হাজার ইউনিট পুরনো ফোন বিক্রি হয়েছে, যা মোট স্মার্টফোন বাজারের প্রায় ১০ শতাংশ। এমএম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৯ অর্থবছর নাগাদ ব্যবহৃত ফোনের বিক্রি ৫০ লাখ ইউনিট ছাড়িয়ে যাবে এবং এটি মোট ফোন বাজারের ১৫ শতাংশের বেশি হিস্যা দখল করবে।

    কেবল মূল্যস্ফীতি বা মূল্যবৃদ্ধিই নয়, দেশটির টেলিকম খাতের নীতিগত পরিবর্তনও পুরনো ফোনের চাহিদা বাড়াতে সাহায্য করেছে। আগে জাপানি ক্রেতারা টেলিকম অপারেটরদের কাছ থেকে দুই বছরের চুক্তিতে বাধ্যতামূলকভাবে নতুন নেটওয়ার্ক সংযোগসহ ফোন কিনতেন। কিন্তু ২০২০ সাল থেকে সরকারি উদ্যোগে টেলিকম খাতে প্রতিযোগিতা বাড়াতে এবং ইন্টারনেটের খরচ কমাতে নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কে ফোন ‘লক’ করে রাখার নিয়ম নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে গ্রাহকরা নিজেদের পছন্দমতো ফোন ও সিম কার্ড ব্যবহারের পূর্ণ স্বাধীনতা পান এবং সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কেনাকে সাশ্রয়ী পথ হিসেবে বেছে নেন।

    বর্তমানে জাপানের প্রধান টেলিকম অপারেটরগুলো নিজস্ব ই-কমার্স প্লাটফর্মে সার্টিফায়েড বা মানসম্মত পুরনো ফোন বিক্রি করছে। তবে ব্যবহৃত ফোনের বাজারকে ধরে রাখতে হলে ফোনের বাহ্যিক অবস্থার পাশাপাশি ভেতরের যন্ত্রাংশ সঠিক আছে কিনা, তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন বিলংয়ের কর্মকর্তা ইউ তোমিতা। গ্রাহকের আস্থা বাড়াতে নিকোসুমা নিজেদের প্লাটফর্মে গুগল অনুমোদিত মেরামতের মাধ্যমে মান নিশ্চিত করা পিক্সেল ফোনও বিক্রি করছে।

    পাশাপাশি সেকেন্ড হ্যান্ড বাজারে বহুবিধ ব্যবহারের সুযোগ থাকায় এর পরিধি দিন দিন বড় হচ্ছে। ফ্ল্যাগশিপ ফোন অনেক দামি হওয়ায় অনেকেই অল্প বাজেটে আগের প্রজন্মের ভালো মানের ফোন খুঁজছেন। অনেকে আবার গেমিং কিংবা অফিসের কাজের জন্য দ্বিতীয় ডিভাইস হিসেবে কম দামি স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন। খাবার পরিবেশন করার রেস্তোরাঁগুলোয় ডিজিটাল অর্ডারের কাজেও বিপুল পরিমাণে সাশ্রয়ী পুরনো ফোন কেনা হচ্ছে। সর্বোপরি, জাপানি সমাজে এখন পুরনো জিনিস পুনর্ব্যবহারের প্রতি এক ধরনের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে, যা ব্যবহৃত প্রযুক্তি পণ্যের বাজারকে টেকসই ভিত্তি দিচ্ছে।

  • চট্টগ্রামে ২০০ বন্ধ কারখানা চালুর মাধ্যমে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে

    চট্টগ্রামে ২০০ বন্ধ কারখানা চালুর মাধ্যমে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসে গতকাল এক মতবিনিময় সভায় উত্থাপিত এ-সংক্রান্ত একটি কনসেপ্ট পেপারে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। ‘এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য: চট্টগ্রাম অঞ্চলের সম্ভাবনা’ শীর্ষক এ সভায় জানানো হয়, বন্ধ কারখানাগুলোর কারণে এরই মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ কর্মী বেকার হয়ে পড়েছেন এবং প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার খেলাপি ও অবাণিজ্যিক ঋণ জমেছে। তবে জ্বালানি সংকট, দীর্ঘমেয়াদি পুঁজির অভাব এবং দক্ষ অপারেটরের ঘাটতিকে এ খাত পুনরুদ্ধারের প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসের নির্বাহী পরিচালক মো. হানিফ মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ এবং প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম। সভায় উপস্থাপিত কনসেপ্ট পেপারে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সামষ্টিক অর্থনীতি, শিল্পায়ন ও ব্যাংক খাতের প্রধান প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে তা উত্তরণের রূপরেখা তুলে ধরা হয়। এতে আরো উল্লেখ করা হয়, জাতীয় অর্থনীতিতে দেশের মোট রফতানির ১৮ শতাংশ, আমদানির ২১ শতাংশ, রেমিট্যান্সের ২৮ শতাংশ, মোট আমানতের ১৯ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং মোট ঋণের ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ এ অঞ্চল থেকে জোগান দেয়া হয়।

    সভায় গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এসএমই ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি; ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন এবং ব্লু-ইকোনমি, সামুদ্রিক সম্পদ, আইটি খাত এবং ম্যানমেড ফাইবারে দীর্ঘমেয়াদি ও সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা প্রদান নিশ্চিতের আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি প্রবাসী শ্রমিকদের অদক্ষ হিসেবে না পাঠিয়ে সুনির্দিষ্ট চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ করে বিদেশে প্রেরণ এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের কার্যক্রম জোরদার করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেন। পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেন ত্বরান্বিত করা ও ক্যাশলেস বাংলাদেশ গঠনের জন্য বাংলা কিউআরের সম্প্রসারণ এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    গভর্নর বলেন, ‘ব্যাংক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না।’ ব্যাংকের অনিয়মের বিষয়ে সর্বোচ্চ শাস্তির সুপারিশ করে পরিদর্শন প্রতিবেদন তৈরি করার জন্য তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শকদের নির্দেশনা দেন।

    সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি চাপে থাকবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য আঞ্চলিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে হবে।’ পাশাপাশি তিনি আর্থিক ও আয় বৈষম্য কমানোর ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

  • ১৪ বছরের ব্যবধানে চিংড়ি রফতানি কমেছে ৬২%

    ১৪ বছরের ব্যবধানে চিংড়ি রফতানি কমেছে ৬২%

    আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চ উৎপাদনশীল ও কম দামের ‘ভেনামি’ জাতের চিংড়ির ক্রমবর্ধমান চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ এখনো প্রথাগত ‘বাগদা’ চিংড়ির ওপর নির্ভরশীল। ফলে ১৪ বছরের ব্যবধানে দেশের চিংড়ি রফতানি কমেছে প্রায় ৬২ শতাংশ।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), মৎস্য অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) তথ্যানুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে দেশ থেকে প্রায় ৫০ হাজার টন চিংড়ি রফতানি হয়েছিল, যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৫৭ কোটি ডলার। আর সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে মাত্র ১৯ হাজার টনে, যা থেকে আয় হয়েছে ২৮ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ ১৪ বছরের ব্যবধানে চিংড়ির রফতানি কমেছে প্রায় ৩১ হাজার টন বা ৬২ শতাংশ এবং বৈদেশিক মুদ্রার আয় কমেছে ২৮ কোটি ৪৪ লাখ ডলার।

    ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৯ কোটি ৬২ লাখ ৯০ হাজার ডলারের ২৩ হাজার ২৩৮ টন চিংড়ি রফতানি হয়েছিল, যা আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের চেয়ে ৪ হাজার ৭ টন ও ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার বেশি ছিল। তবে সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আবার বড় পতন ঘটেছে। এক বছরের ব্যবধানে রফতানি কমেছে ৪ হাজার ২৩৮ টন এবং আয় কমেছে ১ কোটি ৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

    সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে মোট ৪৪ কোটি ৩৪ লাখ ২০ হাজার ডলার মূল্যের হিমায়িত মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রফতানি হয়েছে, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৪৪ কোটি ১৫ লাখ ৮০ হাজার ডলারে তুলনায় মাত্র ১৮ লাখ ৪০ হাজার ডলার বা দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি। এ অর্থবছরে ২৮ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার ডলারের হিমায়িত চিংড়ি, ৯ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলারের হিমায়িত মাছ এবং ৬ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার ডলারের মৎস্যজাত পণ্য রফতানি হয়। অর্থাৎ মৎস্যজাত পণ্য বাদ দিলে হিমায়িত মাছ রফতানি আয়ের প্রায় ৭৫ দশমিক ২১ শতাংশই এসেছে চিংড়ি থেকে।

    রফতানিকারকরা বলছেন, দেশের চিংড়ি রফতানি মূলত বাগদাকেন্দ্রিক। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ভেনামি চিংড়ি ছাড়া অন্য চিংড়ির চাহিদা কম। বিশেষত চীন, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, পর্তুগাল, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির মতো দেশে বাগদার সামান্য চাহিদা থাকায় তারা চাহিদা অনুযায়ী তা আমদানি করেন। তবে ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে বাগদা আমদানি প্রতি বছরই কমছে। ভেনামি জাতের চিংড়ির বাজারমূল্য কম ও হেক্টরপ্রতি উৎপাদন বেশি হওয়ায় ইউরোপের বাজারে চাহিদার পাশাপাশি গ্রাহক চাহিদাও বাড়ছে। তবে বাংলাদেশে সুযোগ থাকলেও পুরনো বাগদা চিংড়ি নিয়েই পড়ে আছেন ব্যবসায়ীরা। যদি ভেনামি জাতের চিংড়ির উৎপাদন ও রফতানির উদ্যোগ না নেয়া হয়, তাহলে দেশের চিৎড়ি রফতানি খাত ধ্বংস হয়ে যাবে বলে মনে করছেন তারা।

    রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান এমইউ সি ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্যামল দাস বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বৈশ্বিক বাজারে চিংড়ি রফতানির কর্তৃত্ব অনেক আগেই হারিয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক বাজারে ভেনামি জাতের চিংড়ির চাহিদা বেশি থাকলেও আমরা সেই সুযোগ নিতে পারিনি। বাগদা চিংড়ি রফতানি নিয়েই এখনো পরিকল্পনা চলছে। সরকার এরই মধ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সেগুলো মাঠে প্রয়োগ না হওয়ায় রফতানিতে খুব বেশি আশার জায়গা তৈরি করতে পারেনি মৎস্য খাত।’ সরকার নজর না দিলে মৎস্য খাতের প্রধান রফতানি পণ্য চিংড়ি শুধু দেশের বাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ভেনামি চিংড়ি উৎপাদনে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি দেশ উদ্যোগ নিয়েছে, এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া অন্যতম। দেশটির পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের পূর্ব সুম্বা জেলায় প্রায় ২ হাজার ১৫০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করে সরকারিভাবে ওয়াইংগাপু সমন্বিত চিংড়ি চাষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এ প্রকল্পে বছরে প্রায় ৫২ হাজার টন চিংড়ি উৎপাদন ও সাত হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। প্রকল্পটিতে সরকারের বিনিয়োগ ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন রুপিয়া (ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা) বা ৩৯ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে চালুর পরিকল্পনা আছে। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন রুপিয়া বা ২২ কোটি ১৪ লাখ ডলারের উৎপাদনমূল্য অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ইন্দোনেশীয় সরকারের।

    অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য অধিদপ্তরের আওতাধীন কক্সবাজার জেলার চকোরিয়া-রামপুরা মৌজায় চিংড়ি জোন হিসেবে ঘোষিত সাত হাজার একর অনাবাদি জমিতে কোনো চিংড়ি উৎপাদন হয় না। জমিগুলো রফতানিকারকদের দীর্ঘমেয়াদে লিজ দিয়ে চিংড়ি চাষের সুযোগ দেয়া হলে দেশের রফতানি চিত্র পুরোপুরি বদলে যেত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    বিএফএফইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারিকুল ইসলাম জহির বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ইউরোপের বাজারে আমরা যেসব বাগদা চিংড়ি রফতানি করি তার দাম বেশি হওয়ায় সেখানে ভেনামি চিংড়ির চাহিদা বাড়ছে। এ কারণে সেখানে আমরা রফতানিতে পিছিয়ে পড়ছি। অন্যদিকে ছোট আকারের চাকা চিংড়ি (কেজিতে ৩০ পিস) ভারত, ইন্দোনেশিয়া বা ভিয়েতনাম ৪-৫ ডলারে বিক্রি করলেও আমাদের স্থানীয় বাজারে তা ৭ ডলারের বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে দেশীয় চিংড়ির চাহিদা বেশি। সে কারণে আমাদের উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।’

    সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে মৎস্য খাতে ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। এখন কীভাবে ও কোন প্রক্রিয়ায় অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।’

    বিএফএফইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বলেন, ‘জমি কিনে বিনিয়োগ করার সুযোগ আমাদের নেই। এজন্য সরকার যদি জমি লিজ দেয়, তাহলে আমরা সেখানে বিনিয়োগ করে উৎপাদন বাড়াতে কাজ করব। পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা মাঠ পর্যায়ের চাষীদের সব ধরনের লজিস্টিক সুযোগসহ বিনিয়োগ করবেন এবং চাষীদের নিশ্চয়তা দেয়া হবে তাদের থেকে ব্যবসায়ীরা সেই উৎপাদিত পণ্য কিনে নেবে। এভাবে না হলে চিংড়ি খাতে উন্নতি করা সম্ভব না।’ এছাড়া কক্সবাজারের চিংড়ি চাষের জন্য ঘোষিত সাত হাজার একর জমি প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বরাদ্দ দিলে খাতটি আবারো ঘুরে দাঁড়াবে বলেও দাবি করেন তিনি।

    জানা যায়, দেশে আগে ১২২টি প্রতিষ্ঠান চিংড়ি ও মৎস্য জাতীয় পণ্য রফতানির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এখন তা ৩০-৩৫টিতে নেমে এসেছে। বাকিগুলো হয় বন্ধ হয়ে গেছে বা কারখানা ভাড়া দিয়ে দিয়েছে। এসব কারখানার বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা চার লাখ টনের বেশি ছিল। অন্যদিকে দেশে সব মিলিয়ে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের চিংড়ির চাষাবাদ হয়। ভেনামি চিংড়ির হেক্টরপ্রতি উৎপাদন বাগদার তুলনায় ১০-১২ গুণ বেশি। অথচ দেশে ভেনামি চিংড়ির উৎপাদন এখনো সম্ভব হয়নি। ফলে বড় আকারে বাগদা রফতানির ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশের রফতানি খাত। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদের কারণে হেক্টরপ্রতি বাগদার উৎপাদনও কমে আসছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় অভ্যন্তরীণ বাজারে ভালো দাম থাকলেও চিংড়িকে বিশ্ববাজারে টিকিয়ে রাখতে সনাতন চাষাবাদ থেকে সরে এসে বৃহৎ পরিসরে সরকারি নীতি প্রণয়ন ও ভেনামি চাষ নিশ্চিত করা জরুরি।

  • জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান কমেছে, কী প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে

    জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান কমেছে, কী প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে

    জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান কমেছে। গত মাসে সেখানে কর্মসংস্থান কমেছে ২৩ হাজার। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস ছিল, জুলাই মাসে ৯৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

    এদিকে জুলাই মাসে কর্মসংস্থান কমলেও একই সময় বেকারত্বের হার সামান্য কমেছে। জুন মাসে যা ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ, জুলাই মাসে তা ৪ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, মার্কিন শ্রমবাজারের প্রভাব বিশ্বের অন্যান্য দেশের অর্থনীতিতেও অনুভূত হবে। খবর সিএনএনের

    কর্মসংস্থানের এই পরিসংখ্যান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার সম্পর্কে বিপরীতমুখী চিত্র পাওয়া যায়। একদিকে নতুন কর্মসংস্থান বৃদ্ধি না পেয়ে উল্টো কমেছে, অন্যদিকে বেকারত্বের হার তুলনামূলক নিম্ন পর্যায়েই রয়ে গেছে। ফলে শ্রমবাজারের প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, জুলাই মাসে কর্মসংস্থানের এই প্রতিবেদন হতাশা ও উদ্বেগজনক। আবার কেউ মনে করছেন, নিয়োগ কমলেও ছাঁটাইও কমছে। অর্থাৎ শ্রমবাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি না হলেও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমে গেছে।

    জুলাইয়ের কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আগের দুই মাসের পরিসংখ্যান সংশোধন করা হয়েছে। মে ও জুনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে যত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছিল বলে আগে ধারণা করা হয়েছিল, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে মোট ১ লাখ ৩ হাজার কম ছিল।

    তবে এসব তথ্যের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের মন্দা বা ব্যাপক ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা আছে। ভোক্তা ব্যয় এখনো অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী খাত। যুদ্ধ, শুল্ক ও দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও মার্কিন অর্থনীতি মন্দায় পড়েনি, যে অর্থনীতির আকার প্রায় ৩১ ট্রিলিয়ন ডলার।

    এদিকে শ্রমবাজারের কিছু দুর্বলতাও দেখা যাচ্ছে। বেকারত্বের হার কমার একটি কারণ হলো, হাজারো মানুষ চাকরি খোঁজা বন্ধ করে দিয়েছেন। তাঁরা আর বেকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন না, অর্থাৎ পরিসংখ্যানে তাঁদের কথা উঠে আসছে না। একই সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত আয়ও চাপের মধ্যে আছে।

    এদিকে অবকাশ ও আতিথেয়তা খাতে জুলাই মাসে কর্মসংস্থান কমেছে। বিশ্বকাপ চলাকালে সাধারণত এ খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কথা, কিন্তু এবার উল্টো চিত্র দেখা গেছে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিস্তার শ্রমবাজারে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এআইয়ের প্রভাবে কিছু মানুষ প্রযুক্তির প্রভাব থেকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ চাকরি খুঁজছেন কি না, কিংবা এআই ইতিমধ্যে কিছু চাকরি কমিয়ে দিচ্ছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

    কর্মসংস্থানের দুর্বল তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে কী প্রভাব ফেলবে, সেটিও এখনো পরিষ্কার নয়। শ্রমবাজারের নতুন তথ্যের ভিত্তিতে ফেড সুদের হার বাড়ানো বা কমানোর বিষয়ে তার নীতি পরিবর্তন করবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের জুলাইয়ের পরিসংখ্যান পরবর্তী সময়ে আবার সংশোধিত হতে পারে।

    সব মিলিয়ে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির মৌলিক শক্তি এখনো অটুট। তবে জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন, শিশুর যত্নের ব্যয় ও মজুরি বৈষম্যের মতো কাঠামোগত সমস্যার কারণে মানুষের অর্থনৈতিক বাস্তবতা কঠিন হয়ে গেছে।

    সংবাদে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন থেকে মার্কিন অর্থনীতির পরস্পরবিরোধী চিত্র উঠে এসেছে। অর্থনীতি এখনো বড় ধরনের মন্দায় পড়েনি, কিন্তু শ্রমবাজারে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি যে দুর্বল হয়ে পড়েছে, সেই সংকেত উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

    বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব

    যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি। ফলে সেখানকার অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়বে, এটাই স্বাভাবিক।

    বিশ্লেষকেরা বলেন, জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার প্রভাব দুই রকম হতে পারে। একদিকে মার্কিন শ্রমবাজার দুর্বল হলে মানুষের আয় ও ভোগ ব্যয় কমতে পারে। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি চাহিদা কমবে, ফলে রপ্তানিনির্ভর দেশগুলো চাপে পড়বে। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

    অন্যদিকে শ্রমবাজার দুর্বল হওয়ায় ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অর্থনীতিতে তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধিতে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে তারা। এতে ডলার দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি উদীয়মান বাজারে পুঁজি প্রবাহ বাড়তে পারে, কমতে পারে বৈদেশিক ঋণের ব্যয়। ফলে এই প্রতিবেদন যেমন বৈশ্বিক চাহিদার জন্য সতর্কবার্তা, তেমনি আর্থিক বাজারের জন্য স্বস্তির সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

  • স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা

    স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা

    দেশের বাজারে ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

    শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শনিবার সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। গতকাল এই দাম ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা।

    ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকা।

    স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা।

    এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা।

  • পাকিস্তানে রফতানি হবে বাংলাদেশের আনারস

    পাকিস্তানে রফতানি হবে বাংলাদেশের আনারস

    পাকিস্তানে বাংলাদেশের তাজা আনারস রফতানির অনুমতি দিয়েছে দেশটির সরকার। শুক্রবার (৭ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইসলামাবাদস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন।

    বাংলাদেশ হাইকমিশন, ইসলামাবাদ, উপ-হাইকমিশন, করাচি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, কৃষি মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে কয়েক বছর যাবৎ ক্রমাগত যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে এ সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে বাংলাদেশ হাই কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    পাকিস্তানে বাংলাদেশের আনারসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পাকিস্তানে বাংলাদেশের আনারস রফতানির সুযোগ তৈরি হওয়ার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে অন্যান্য কৃষিপণ্য ও ফলের আমদানি-রফতানি প্রসার এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির পথ সুগম হয়েছে।

  • ‎এসএমই খাতে ঋণ কমেছে, খেলাপি বেড়েছে

    ‎এসএমই খাতে ঋণ কমেছে, খেলাপি বেড়েছে

    দেশের কুটির, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি থমকে গেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে এ খাতে মোট বকেয়া ঋণ আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৮৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকায়। একই সঙ্গে উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে খেলাপি ঋণের হার, যা আগের প্রান্তিকের ২৪ দশমিক ০৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৬ দশমিক ০৪ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সিএমএসএমই ঋণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, “সিএমএসএমই খাত কর্মসংস্থান ও উৎপাদনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। কিন্তু খেলাপি ঋণের উচ্চ হার ব্যাংকগুলোকে নতুন ঋণ বিতরণে নিরুৎসাহিত করছে। কেবল পুনঃঅর্থায়ন তহবিল বাড়ালেই হবে না, ঋণের সুশাসন ও আদায় সক্ষমতা বাড়াতে হবে।”

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ মাস শেষে সিএমএসএমই খাতের ঋণ দেশের মোট ঋণের মাত্র ১৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ, যেখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার লক্ষ্য ২৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে ব্যাংকিং খাত।

    খেলাপি ঋণের চাপ বাড়ছে:

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, সিএমএসএমই ঋণের শ্রেণিকৃত বা খেলাপি ঋণের হার এক প্রান্তিকেই ২ দশমিক ০১ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। একই সময়ে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণের হারও বেড়ে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে যে, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণ পুনরুদ্ধারে চাপ বাড়ছে এবং ব্যাংকগুলোর ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ঋণ পুনরুদ্ধার জোরদার করা, কার্যকর তদারকি এবং টেকসই ঋণ বিতরণ অব্যাহত রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

    বিতরণ বেড়েছে, কিন্তু কমেছে বকেয়া ঋণ:

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৪৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫২ হাজার ১০৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণ বিতরণের পরিমাণ ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং অর্থায়ন পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। তবে একই সময়ে মোট বকেয়া ঋণ কমেছে, যা ঋণ পরিশোধ, শ্রেণিকরণ এবং নতুন ঋণের ধীরগতির প্রভাব নির্দেশ করে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ মাস শেষে সিএমএসএমই খাতের ঋণ দেশের মোট ঋণের মাত্র ১৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ, যেখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার লক্ষ্য ২৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে ব্যাংকিং খাত।

    খেলাপি ঋণের চাপ বাড়ছে:

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, সিএমএসএমই ঋণের শ্রেণিকৃত বা খেলাপি ঋণের হার এক প্রান্তিকেই ২ দশমিক ০১ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। একই সময়ে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণের হারও বেড়ে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে যে, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণ পুনরুদ্ধারে চাপ বাড়ছে এবং ব্যাংকগুলোর ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ঋণ পুনরুদ্ধার জোরদার করা, কার্যকর তদারকি এবং টেকসই ঋণ বিতরণ অব্যাহত রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

    বিতরণ বেড়েছে, কিন্তু কমেছে বকেয়া ঋণ:

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৪৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫২ হাজার ১০৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণ বিতরণের পরিমাণ ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং অর্থায়ন পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। তবে একই সময়ে মোট বকেয়া ঋণ কমেছে, যা ঋণ পরিশোধ, শ্রেণিকরণ এবং নতুন ঋণের ধীরগতির প্রভাব নির্দেশ করে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ মাস শেষে সিএমএসএমই খাতের ঋণ দেশের মোট ঋণের মাত্র ১৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ, যেখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার লক্ষ্য ২৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে ব্যাংকিং খাত।

    খেলাপি ঋণের চাপ বাড়ছে:

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, সিএমএসএমই ঋণের শ্রেণিকৃত বা খেলাপি ঋণের হার এক প্রান্তিকেই ২ দশমিক ০১ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। একই সময়ে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণের হারও বেড়ে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে যে, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণ পুনরুদ্ধারে চাপ বাড়ছে এবং ব্যাংকগুলোর ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ঋণ পুনরুদ্ধার জোরদার করা, কার্যকর তদারকি এবং টেকসই ঋণ বিতরণ অব্যাহত রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

    বিতরণ বেড়েছে, কিন্তু কমেছে বকেয়া ঋণ:

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৪৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫২ হাজার ১০৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণ বিতরণের পরিমাণ ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং অর্থায়ন পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। তবে একই সময়ে মোট বকেয়া ঋণ কমেছে, যা ঋণ পরিশোধ, শ্রেণিকরণ এবং নতুন ঋণের ধীরগতির প্রভাব নির্দেশ করে।

    বেসরকারি ব্যাংকের দখলে অর্ধেকের বেশি বাজার:

    সিএমএসএমই ঋণের সবচেয়ে বড় অংশ এখনও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে। মোট বকেয়া ঋণের ৫১ দশমিক ৯৫ শতাংশ তাদের দখলে। ইসলামী ব্যাংকগুলোর অংশ ২০ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের অংশ ১৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

    অন্যদিকে মোট ঋণের তুলনায় সিএমএসএমই ঋণের অনুপাত সবচেয়ে বেশি ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর, যা ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ। এরপর রয়েছে বিশেষায়িত ব্যাংক, ২১ দশমিক ১৯ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকের অনুপাত সবচেয়ে কম, মাত্র ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ।

    শীর্ষে ব্র্যাক ব্যাংক:

    চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে সিএমএসএমই ঋণ বিতরণে শীর্ষে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, যারা একাই ৭ হাজার ৪৫৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বিতরণ করেছে। এরপর রয়েছে পূবালী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ এবং আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক। পাঁচটি ব্যাংক মিলেই মোট বিতরণের প্রায় ৪০ শতাংশ সম্পন্ন করেছে।

    বাণিজ্য খাতে অতিরিক্ত নির্ভরতা:

    খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট সিএমএসএমই ঋণের ৪৪ দশমিক ৯৩ শতাংশই বাণিজ্য খাতে গেছে, যদিও নিয়ন্ত্রক সীমা সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ। উৎপাদন খাতের অংশ ৩৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ, যা নির্ধারিত ন্যূনতম ৪০ শতাংশের নিচে। সেবা খাতের অংশ ২০ দশমিক ১১ শতাংশ, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে।

  • ১৫ আগস্টের মধ্যেই একীভূত পাঁচ ব্যাংক থেকে সরছেন প্রশাসকরা

    ১৫ আগস্টের মধ্যেই একীভূত পাঁচ ব্যাংক থেকে সরছেন প্রশাসকরা

    বাংলাদেশ ব্যাংক ১৫ আগস্টের মধ্যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অধীনে থাকা বাকি চারটি ব্যাংক থেকে তাদের নিয়োগ করা প্রশাসকদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন ব্যবস্থাপনার কাছে ব্যাংকটির পুরো পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ব্যাংকটি নিয়মিত ব্যবস্থাপনা কাঠামোর অধীনেই পরিচালিত হবে।

    এর আগে ৩০ জুলাই এক্সিম ব্যাংক থেকে প্রথম প্রশাসক সরিয়ে নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর ধাপে ধাপে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক থেকেও প্রশাসকদের প্রত্যাহার করা হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের পর অস্থায়ীভাবে প্রশাসকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাদের মূল দায়িত্ব ছিল পাঁচটি ব্যাংকের ঋণ, আমানত ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা একীভূত করার কাজ সমন্বয় করা।

    তিনি বলেন, এখন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়িত্ব নিয়েছেন। একই প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকলে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই প্রশাসকদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, পাঁচটি ব্যাংকের কার্যক্রম একীভূত করা এবং নতুন ব্যবস্থাপনার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য প্রশাসকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এই কাজের বেশিরভাগ অংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তাই এখন ধাপে ধাপে ব্যাংকের পরিচালনার দায়িত্ব সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনার কাছে দেওয়া হচ্ছে।

    তবে ব্যাংকগুলোর প্রযুক্তিগত একীভূতকরণের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। পাঁচটি ব্যাংকের মূল ব্যাংকিং সফটওয়্যার, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের হিসাব ব্যবস্থার সংযুক্তির কাজ চলছে।

    এ কারণে কিছু কার্যক্রম এখনো আগের ব্যাংকগুলোর নামেই পরিচালিত হচ্ছে। প্রযুক্তিগত একীভূতকরণ শেষ হলে পুরো ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নামেই পরিচালিত হবে।

    কর্মকর্তারা আরও জানান, একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়িত্ব নেওয়ার পর একই প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক রাখার আর কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ দুই পদের দায়িত্বের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।এ কারণেই পর্যায়ক্রমে প্রশাসকদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এক্সিম ব্যাংক থেকে প্রথম প্রশাসক সরানো হয়েছে, কারণ নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওই ব্যাংকের কার্যালয় থেকে প্রধান কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তাই এক্সিম ব্যাংকের দায়িত্ব হস্তান্তর আগে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি চারটি ব্যাংকও ১৫ আগস্টের মধ্যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনার অধীনে চলে আসবে।

  • বন্ধের পথে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক বসছে রোববার

    বন্ধের পথে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক বসছে রোববার

    দুর্বল পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে আগামী রোববার এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রশাসক নিয়োগের দিনই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ স্থগিত করা হবে। একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) চুক্তিও বাতিল করা হবে। সরকার ইতোমধ্যে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    বন্ধ হতে যাওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে পিপলস লিজিং ছাড়া বাকি চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রোববার প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। পিপলস লিজিংকে ঘিরে মামলা-সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। এ বিষয়ে আদালতের আদেশ এখনো পাওয়া যায়নি। আগামী সপ্তাহে আদালতের আদেশ পাওয়া গেলে প্রতিষ্ঠানটিতেও প্রশাসক বসানো হবে।

    জানা গেছে, গত বছরের মে মাসে গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ ২০টি এনবিএফআইয়ের নিবন্ধন সনদ বা লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সে সময় কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়। পরে ২০টির মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানকে প্রথম ধাপে বন্ধের জন্য বেছে নেওয়া হয়, কারণ তাদের জবাব সন্তোষজনক ছিল না। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাকি চারটিকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে তারা পরিস্থিতির উন্নতি করতে না পারলে সেগুলোকেও বন্ধ করা হবে।

    ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সময় পাওয়া চারটি প্রতিষ্ঠান হলো—প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসি) এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, প্রাথমিকভাবে চারটি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে ৯টি প্রতিষ্ঠানের জন্যই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিন মাস সময় পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো এ সময়ের মধ্যে ঘুরে দাঁড়াতে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার আওতায় চলে যাবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। শিগগিরই এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। আর পিপলস লিজিংয়ের ক্ষেত্রে যে আইনি জটিলতা রয়েছে, সেটিও দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।

    খেলাপি ঋণ প্রায় শতভাগ

    বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে। তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

    খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণেই এসব প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এত বেড়েছে। উদাহরণ হিসেবে, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের (বর্তমানে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিকে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

    বর্তমানে বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে মোট আমানতের পরিমাণ ১৬ হাজার ৭৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে পিপলস লিজিংয়ে রয়েছে ৩ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৩ হাজার ১২ কোটি টাকা, আভিভা ফাইন্যান্সে ৫ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা, এফএএস ফাইন্যান্সে ১ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্সে ৪৪৯ কোটি টাকা।

    জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি আমানতকারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। একজন ব্যক্তি আমানতকারী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন। পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি আমানতের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

    বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন বা বন্ধ হলে একজন আমানতকারীর জমা যতই থাকুক না কেন, আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা ফেরত পাওয়া যায়। পরবর্তী ধাপে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণ আদায় বা সম্পদ বিক্রি করে আনুপাতিক হারে অর্থ পরিশোধ করা হয়। তবে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা আনতে এসব প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের সরকার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হবে।

    অন্যদিকে, ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সময় পাওয়া চারটি প্রতিষ্ঠানে মোট আমানতের পরিমাণ ২ হাজার ৪০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডে ৬৩৫ কোটি টাকা, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডে ২৬০ কোটি টাকা, বিআইএফসিতে ৫৪০ কোটি টাকা এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেডে ৯৭৬ কোটি টাকা।